<?xml version="1.0" encoding="UTF-8" standalone="no"?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:blogger="http://schemas.google.com/blogger/2008" xmlns:gd="http://schemas.google.com/g/2005" xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:openSearch="http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/" xmlns:thr="http://purl.org/syndication/thread/1.0"><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302</id><updated>2024-11-08T07:02:11.255-08:00</updated><category term="Short Story"/><category term="Love"/><category term="Romantic Love Story"/><category term="Relationship"/><category term="Comics"/><category term="Golpo"/><category term="Other"/><category term="Mysterying Story"/><category term="Sad Story"/><category term="Fiction"/><category term="Thriller Story"/><category term="Quote"/><category term="History"/><category term="Islam"/><category term="Poetry"/><category term="Ghost Story"/><category term="Inspiration"/><category term="Book Review"/><category term="Logical Discussion"/><category term="Movie Review"/><category term="Popular Book Pdf"/><category term="Science And Technology"/><category term="Education"/><category term="True Story"/><category term="Health"/><category term="Heart Touching Story"/><category term="Meye Potanor Therapy"/><category term="SSC - HSC -JSC RESULT"/><category term="Shayari"/><category term="Bangla Funny Jokes"/><category term="Bangla Funny Sms"/><category term="Bangla Romantic Sms"/><category term="Kurulus Osman"/><category term="Make Money Online"/><category term="Write Story"/><title type="text">Romantic Story | Boipoka354</title><subtitle type="html">Boipoka365</subtitle><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/posts/default" rel="http://schemas.google.com/g/2005#feed" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/" rel="alternate" type="text/html"/><link href="http://pubsubhubbub.appspot.com/" rel="hub"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default?start-index=26&amp;max-results=25" rel="next" type="application/atom+xml"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><generator uri="http://www.blogger.com" version="7.00">Blogger</generator><openSearch:totalResults>2012</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>25</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-4368100053714574333</id><published>2023-09-05T06:57:00.003-07:00</published><updated>2023-09-05T07:07:19.066-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Quote"/><title type="text">বিবাহ বার্ষিকীর সেরা হৃদয় ছোঁয়া ৩০টি স্টাটাস | বিবাহ বার্ষিকির শুভেচ্ছা বার্তা | Bangla Anniversary Status </title><content type="html">&lt;h2 style="text-align: left;"&gt;বিবাহ বার্ষিকীর সেরা হৃদয় ছোঁয়া ৩০টি স্টাটাস&lt;/h2&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;/p&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhumfW9vg0MZ1vfi1Y1HEvC8GJpMUcgGMdBMh8g4OvdsUkunTxSSZ6xmvCFYPUsbY20aX1B0UTUNOIaajo_Lljc4Dc9Ef-696ZrlbY7zsxxCC2IpI8dpq8mBd0vB9H11CZu51ntlQ_jkCw/s1600/1693922227564226-0.png" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhumfW9vg0MZ1vfi1Y1HEvC8GJpMUcgGMdBMh8g4OvdsUkunTxSSZ6xmvCFYPUsbY20aX1B0UTUNOIaajo_Lljc4Dc9Ef-696ZrlbY7zsxxCC2IpI8dpq8mBd0vB9H11CZu51ntlQ_jkCw/s1600/1693922227564226-0.png" width="400" /&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১. শুভ বিবাহ বার্ষিকী ভাই এবং ভাবী, আপনাদের বিবাহ বার্ষিকীতে জানাই- অন্তর থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;ভালোবাসা স্ট্যাটাস দিয়ে হয় না, ভালোবাসাটা হৃদয়ের গহীনে থাকে। আপনাদের বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা&lt;br /&gt;
বার্তা লিখতে বসে, আপনাদের জন্য মন&lt;br /&gt;
থেকে দোয়া এভাবেই চলে আসলো।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;বিবাহ বার্ষিকীর অনেক অনেক শুভেচ্ছা&lt;br /&gt;
ও প্রাণঢালা অভিনন্দন, সুন্দর হোক আপনাদের আগামীর পথচলা, বন্ধন টিকে থাকুক যুগ থেকে যুগান্তর&lt;br /&gt;
এই বিশেষ দিনে আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল&lt;br /&gt;
থেকে জানাই, শুভ বিবাহ বার্ষিকী, সবসময় হাঁসি খুশিতে কাটুক আপনাদের জীবন -এই কামনা করি।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২. শুভ বিবাহ বার্ষিকী অর্ধাঙ্গিনী।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সূখ-দুঃখ আর মান অভিমান ভাগাভাগি করে পথ চলতে চলতে ২টি বছর অতিক্রম করলাম। শুকরিয়া মহান আল্লাহর কাছে । আজ আমাদের ২য় বিবাহ বার্ষিকী।&lt;br /&gt;
তোমাকে জানাই শুভ বিবাহ বার্ষিকীর অফুরন্ত ভালোবাসা। সংসারের সুখে&amp;nbsp; দুঃখে বিরহ আর ব্যথা-বেদনার বৈচিত্র্যময় আলপনায় ২টি বছর পার করে দিলাম।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমাকে নিয়ে কখনো কিছু লেখা হয়নি বা বলতে পারো লিখিনি, কখনো তোমাকে নিয়ে লিখতে গেলে মনে হয় কি যেন বাদ পড়ে যাবে আসলে তোমাকে কখনো কিছু লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চাইনি। মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় হোক। পূর্ণ করুক আমাদের প্রতিটা স্বপ্ন।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সুন্দর ও প্রাণবন্ত হোক তোমার আমার আগামীর প্রতিটা সুর্যদয়। চাঁদের আলোর উদ্ভাসিত হোক আমাদের&amp;nbsp; প্রত্যেকটি মুহূর্ত। আর তোমার সাথে হাতে হাত&amp;nbsp; মিলিয়ে যেন কেটে যায় জীবনের শেষ মুহূর্ত।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী আমার অর্ধাঙ্গিনী।&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৩. শুভ বিবাহ বার্ষিকী,&lt;br /&gt;
 প্রিয় বান্ধুবী ও আঙ্কেল&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমাদের&amp;nbsp; জানাই শুভ বিবাহ বার্ষিকীর অফুরন্ত ভালোবাসা, সংসারের সুখ-দুঃখ, বিরহ আর ব্যাথা- বেদনার বৈচিত্র্যময় আল্পনায় ভালো কাটুক তোমাদের বাকী জীবনের সময়টা - তোমাদের&amp;nbsp; ভালোবাসায় লেখা হোক সংসারের সুখ-দুঃখের গল্প - কবিতা। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আগামী দিন গুলো এই ভাবে ভালোবাসার পতাকা হাতে নিয়ে যেনো এগিয়ে যেতে পারো এই দোয়া করি মহান আল্লাহর কাছে হাতে হাত রেখে তোমাদের এই বন্ধন টিকে থাকুক যুগ থেকে যুগান্তর।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো প্রাণের আঙ্কেল ও বান্ধুবীর জন্য।&lt;br /&gt;
শুভ বিবাহ বার্ষিকী️&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৪. আজ ১৪ই আগষ্ট। &lt;br /&gt;
দেখতে দেখতে কেটে গেলো আমাদের বিবাহিত জীবনের ৫টি বছর।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আজ আমাদের ৫ম বিবাহ বার্ষিকী তোমাকে জানাই শুভ বিবাহ বার্ষিকীর অফুরন্ত ভালোবাসা। হাসি আনন্দ, সুখ দুঃখ, আর মান অভিমান ভাগাভাগি করে পথ চলতে চলতে ৫ বছর অতিক্রম করলাম।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;যতই মান অভিমান ঝগড়া থাকুক না কেনো, দিন শেষে কিন্তুু তোমাকে ভালোবাসি। শুভময় হোক&amp;nbsp; আমাদের আগামীর পথ চলা,এই বন্ধন টিকে থাকুক দুনিয়ায় ও পরকালে। তোমাকে নিয়ে কখনো কিছু লেখা হয়নি আসলে তোমাকে কখনো কিছু লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চাইনি।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আগামী দিন গুলো যেনো হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে পারি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি। সত্যি ই তুমি আমার জীবনের সেরা উপহার, চলার পথে বউ হিসাবে নয় বরং তোমাকে পেয়েছি কঠিন সময়ে শক্ত হাত&amp;nbsp; হিসেবে। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমায় নিয়ে লিখতে গেলে লেখা শেষ হবে না। শুধু বলবো এভাবেই পাশে থেকো সবসময়। মহান আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া আগামী দিন গুলো যেন&amp;nbsp; সুখে দুঃখে একে অপরের পাশে থাকতে পারি।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রিয়তমা&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style="text-align: left;"&gt;বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা বার্তা&lt;/h3&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৫. শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রিয়&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;মহান আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে আজকের এই দিনে একে অপরের হাত ধরে বিয়ে করে ছিলাম আমরা। &lt;br /&gt;
দেখতে দেখতে কিভাবে চলে গেলো দুইটি বছর।&lt;br /&gt;
অচেনা ভাবে শুরু হয়েচিলো আমাদের জীবন, কিন্তু এখন তুমি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছ আমার জীবনের একটি বিশাল অংশ, আজ তোমায় ছাড়া জীবনের পথ চলা অসম্ভব, তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই বহুবছর, তোমাকে ভালোবাসতে চাই তোমার ভালোবাসা পেতে চাই। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমার মতো জীবন সঙ্গিনী পেয়ে নিজে কে ধন্য মনে হয়। অসাধারণ মনের একজন মানুষ তুমি। তোমাকে নিয়ে কখনো কিছু লেখা হয়নি, আসলে তোমাকে কখনো কিছু লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চাইনি। আজকের এমন একটা দিনে আমি তোমার পাশে নেই কতটা কষ্ট আর মন খারাপ তা প্রকাশ করতে পারবো না। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সব শেষ বলতে চাই তোমার কাছে যা পেয়েছি তা প্রকাশ করা দুষ্কর। ভালোবাসি তোমায় অনেক বেশি, শেষ নিশ্বাস পযন্ত যেন এমন করে থাকে আমাদের এই ভালোবাসা, যেন শেষ নিশ্বাস পযন্ত থাকতে পারি তোমার সাথে।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৬. শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রিয়তমা&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমাকে জানাই শুভ বিবাহ বার্ষিকীর অফুরন্ত&amp;nbsp; ভালোবাসা আজকে এই দিনেই আমরা দুজন একটা পবিত্র। ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই জন্য আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাই।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt; সংসারের সুখ, দুঃখসহ আনন্দময়-আল্পনায় একটি বছর পাড়ি দিলা, আমাদের ভালোবাসায় লেখা হোক সংসারের সুখ দুঃখের গল্প কবিতা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আগামী দিন গুলো যেন এইভাবে&amp;nbsp; ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি, সকলের কাছে এই পার্থনা ও দোয়া কামনা করছি, হাতে হাত রেখে এই বন্ধন টিকে থাকুক যুগ যুগান্তর। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা &lt;br /&gt;
প্রিয়তমা বউ&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৭. আজকে আমাদের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী, তোমাকে তেমন করে বলা হয়নি কতটা ভালোবাসি, তুমি আমার জীবনে না আসলে বুঝতে পারতাম না ভালোবাসা কাকে বলে। তুমি আমার হৃদয় এর ষ্পন্দন।পথ চলার সঙ্গী। বাকিটা জীবন সুখে দুঃখে এ ভাবেই কাটাতে চাই প্রিয়তম। তোমাকে নিয়ে লিখতে বসলে দিন শেষ হবে রাত ফুরিয়ে যাবে লেখা শেষ হবে না প্রিয়তম। আজকে আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিনে বলতে চাই আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি প্রিয়। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই এ জীবনে, পর জীবনে যেন তোমাকে পাই। শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রিয়তম।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৮. শুভ বিবাহ বার্ষিকী, সঙ্গিনী&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুরুতেই শুকরিয়া সেই মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে, যিনি সৃষ্টির সমস্ত বিষয়ের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকারী। &lt;br /&gt;
আলহামদুলিল্লাহ দেখতে দেখতে বিবাহিত জীবনের ১০টি বছর অতিবাহিত হয়ে গেলো।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;লিখে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় তেমন কোনো শব্দ আমার জানা নেই। ভালোবাসা হৃদয়ে লালন করতে হয় উপলব্ধিও করতে হয় হৃদয় থেকে। তোমাকে নিয়ে কখনো তেমন লেখা হয়নি, আসলে দু লাইনের কবিতা, চার লাইনের গদ্যে তোমাকে আবদ্ধ করতে চাইনি। তুমি জীবনে আসার পর আর কোন কিছুই আমাকে আসক্ত করতে পারেনি, আমি কেবল তোমাতেই আসক্ত।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা নিও প্রিয়।&lt;br /&gt;
জীবনের অন্তিমলগ্ন পর্যন্ত সুখে দুঃখে এভাবেই এক সাথে &lt;br /&gt;
থাকতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;ভালোবাসা অবিরাম&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৯. দেখতে দেখতে ১ টা বছর কেটে গেল, আজ আমাদের ১ম বিবাহবার্ষিকী আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভাল আছি।এমন ভাল জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত যেন আল্লাহ রাখেন।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমার তুলনা শুধুই তুমি, তাই তোমাকে নিয়ে বেশি কিছু বলার নাই। ভাল থেকো ভাল রেখো।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহবার্ষিকী প্রিয়তমা&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১০. শুভ বিবাহ বার্ষিকী&amp;nbsp; প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;পৃথিবীর সবকিছুই সম্পদ।&lt;br /&gt;
তার মধ্যে নেক্কার স্ত্রী হল সর্বসেরা।&lt;br /&gt;
মিথ্যে কোন প্রতিশ্রুতি বা দামী কোন উপহার ও নয়! আল্লাহর উপর ভরসা রাখো, আর আমার প্রতি বিশ্বাস। ইনশাআল্লাহ, সকল আলো আধারের মাঝে আলোকিত রঙিন হবে আমাদের আগামী দিনগুলি।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আমার সকল সুখ-দুঃখের সারথি - আছো আমার মনে, আছো আমার অস্থি–মজ্জার চিন্তা-চেতনার জগৎজুড়ে। আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিল তোমাকে বিয়ে করা এবং নিঃশর্তভাবে তোমাকে ভালবাসার আর কিছুই নেই।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী&amp;nbsp; প্রিয় বউ আমার&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h4 style="text-align: left;"&gt;বিবাহ বার্ষিকির লিখা&lt;/h4&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১১. আজ সেই বিশেষ দিন। এই দিনে আমরা দুজন দুজনার হয়েছিলাম চিরতরে। দেখতে দেখতে দুইটা বছর চলে গেল। আমি চাইনা খুব দ্রুত আমার আর তোমার এই দিনগুলো চলে যাক।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;অনেক ভালোবাসি তোমায় প্রিয় তো একটা কথা বলতে চাই সেটা হচ্ছে এই দুই বছরে আমার হাবলা সোহা সে হাবলাই রয়ে গেল, যাইহোক আমার এই হাবলাটাকে হাবলামি করলেই ভালো লাগে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আশা করছি ভবিষ্যতে জীবনের পথ চলায় প্রতিটা মুহূর্তে তোমাকে পাশে পবো আমার প্রিয় ইতি তোমার নাদু তুমি আমার জীবনে সুখের ছায়া হয়ে নেমে এসেছিলে আমি এ জীবনে তোমাকে কখনো ভুলিতে পারিব না। না পারিবো তোমার ঋণ শোধ করিতে, জীবন যৌবন সব তোমারই নামে উৎসর্গ করিলাম যতদিন রবো ততদিন তোমারই হব। শুভ বিবাহ বার্ষিকী। জীবনে তোমাকে নিয়ে অনেক সুখে আছি আমি বাকি জীবনটাও সুখে পার করতে চাই তোমারই সাথে। সবাই আমাদের জন্য বেশি বেশি করে দোয়া করবেন বেশি বেশি সাপোর্ট করবেন আপনাদের ভালোবাসা আমাদের খুব প্রয়োজন।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১২. দেখতে দেখতে এক এক করে পাঁচটা বছর তোমার সাথে কাটালাম প্রিয়তমা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;পৃথিবীতে সবচেয়ে আশ্চর্যময় সম্পর্ক হলো স্বামী স্ত্রীর। সৃষ্টি কর্তা কত সুন্দর করে তৈরী করেছেন এই সম্পর্ক। আজকের এই সুন্দর মুহূর্তে তোমাকে বিবাহ বার্ষিকীর অজস্র ভালবাসা ও শুভকামনা জানাই।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রিয়তমা&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৩. শুভ বিবাহ বার্ষিকী পলাশ ও নাফিসা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;দেখতে দেখতে আমাদের পলাশ ছেলে সন্তানের বাবা হয়ে গেল,বউ-বাচ্চা নিয়ে অনেক অনেক সুখে থাক এই দোয়া করি।আর আমি যতদিন জীবিত আছি ছায়া হয়ে তোদের পাশে আছি।তোদের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৪. তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;জানিনা কিভাবে এই তিনটা বছর পার করলাম। মনে হচ্ছে সে দিন আমাদের বিয়ে হলো আজ নাকি তিন বছর হয়ে গেলো। তোমার মত এমন একজন মানুষ পেয়েছি আমি, আমি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ, অনেক ভাগ্য করে আমি তোমাকে পেয়েছি ভালোবাসি তোমায়, আগলে রেখো আমার এই দুই হাত। ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখো সারাটা জীবন, ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবেসে যাবো।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;br /&gt;
&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;br /&gt;
শুভ বিবাহ বার্ষিকী আমার প্রিয় ভালোবাসা।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style="text-align: left;"&gt;Bangla Anniversary Status&lt;/h3&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৫. আলহামদুলিল্লাহ - 1st Anniversary।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সর্বপ্রথম স্মরণ করছি এই সুন্দর পৃথিবীর মালিক মহান আল্লাহ তায়ালাকে। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের একসাথে করে দিয়েছে। প্রিয়, দেখতে দেখতে কেটে গেলো আমাদের বিবাহিত জীবনের ১ টি বছর।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তোমার আমার বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা বার্তা লিখতে গিয়ে তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো কেন জানি&amp;nbsp; স্বরণে ও ফিরে যেতে ইচ্ছে করছেl জীবনে প্রতিটা মুহূর্তে তোমাকে পাশে পেয়েছি সেটা হোক ভালো বা খারাপ মুহূর্তে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য আল্লাহ পাক যেনো সব সময় আমাদের একসাথে সুখে শান্তিতে রাখে এটাই চাওয়া।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৬. শুভ-বিবাহ বার্ষিকী&lt;br /&gt;
আমার মামুনির (আম্মু)&lt;br /&gt;
জীবন আমাকে হয়ত আরও&lt;br /&gt;
অনেক কারণ দিয়েছে খুশি থাকার।&lt;br /&gt;
কিন্তু আমি সব থেকে খুশি কারণ&lt;br /&gt;
জীবন আমাকে তোমার মতন&lt;br /&gt;
একট প্রিয়সি উপহার দিয়েছে।&lt;br /&gt;
ধৈর্য্য, সম্মান, ভরসা - ভালোবাসা মান অভিমান ভাগা-ভাগি করে পথ চলতে চলতে আল্লাহর রহমতে ২টা বছর পার করলাম, আর ২ বছরের আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার দেওয়া আমার শ্রেষ্ট উপহার হলো।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আমার (রামিসা) মামুণি।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আর বাকি জীবনটাও যেন আমরা এক সাথে এভাবে&amp;nbsp; কাটাতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৭. প্রিয়তম বিবাহিত জীবনের প্রথম তোমার সাথে একটি বছর কাটিয়েছি। আমি ভাগ্য গুনে তোমায় পেয়েছি। তাই বিধাতার কাছে পরম শুকরিয়া। ধন্য তোমায় পেয়ে। এই&amp;nbsp; ভাবেই পাসে থেকো জান শুভ বিবাহ বার্ষিকী।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৮. বিবাহ বার্ষিকী নয় &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আমাদের দেখা হওয়ার ১০ বছর পূর্ণ হওয়া।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২০১২ , ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল&lt;br /&gt;
প্রেম নিবেদন কেও কাওকে করিনি আমাদের সম্পর্কটা প্রেম থেকে বিবাহিত জীবন পর্যন্ত পৌঁছেছে কিন্তু কেও কাওকে এখনো পর্যন্ত প্রপোজ করিনি, কিন্তু শুরুর দিকে আমি বলেছিলাম।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;"ভালোবাসো আমায়"&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;উত্তর টা ছিল" হ্যাঁ "&lt;br /&gt;
তারপর আমাদের গল্প শুরু।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;১৯. চাইলে তোমাকে নিয়ে লেখা যায় কত কিছু, কত কবিতা, কত গান।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;না থাক, ওগুলো কিছুই লিখবো না - সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই চাওয়া এভাবেই যেন আমরা দুজনে মিলে একসাথে থাকতে পারি, বছরের পর বছর। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আমার একমাত্র আপন বউকে ১৪তম বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২০. শুভ বিবাহবার্ষিকী।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;বিবাহ বার্ষিকীর এই দিনে&lt;br /&gt;
খুশিতে মাতি সবজনে।&lt;br /&gt;
ফিরে আসুক বারে বারে&lt;br /&gt;
আনন্দের এই মহাক্ষণে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;বিশ্বাসের উপর ভর করে&lt;br /&gt;
ভালোবাসার হাত ধরে।&lt;br /&gt;
সন্দেহ অবিশ্বাস দূর করে&lt;br /&gt;
পরম প্রভুর কৃপাতে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;হৃদয়ের সাথে হৃদয় হোক&lt;br /&gt;
চোখের উপরে চোখ।&lt;br /&gt;
সুখে দুখে জীবন হোক&lt;br /&gt;
দীর্ঘ দিনের পথ চলা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;দুটি প্রান্তের দুটি মন&lt;br /&gt;
মিলুক মমতা ভরে।&lt;br /&gt;
ফুলের মতো সুন্দর হোক&lt;br /&gt;
আকাশ উজার করে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;দাম্পত্য হোক সুখের জীবন&lt;br /&gt;
চলার পথে দুজনার।&lt;br /&gt;
অচেনা পথ মসৃন হোক&lt;br /&gt;
ভালোবাসায় সৃজনার।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;স্রষ্টা যেন ভালো রাখে&lt;br /&gt;
সব সময়ে জুটিকে।&lt;br /&gt;
শত বছর বেঁচে থাকুক&lt;br /&gt;
একই বৃন্তের বৃক্ষেতে।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২১. সারাজীবন থাইক&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সারাজীবন থাইক গো বন্ধু&lt;br /&gt;
আমার বুকের মাঝে,&lt;br /&gt;
যতন কইরা রাইখ আমায়&lt;br /&gt;
সকাল বিকাল সাঁঝে।।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;যুগযুগ ধইরা বন্ধু করলা&lt;br /&gt;
সুখের ঘর,&lt;br /&gt;
একমুহুর্তেও হইলানারে&lt;br /&gt;
একটুখানি অপর।।&lt;br /&gt;
তাইতো তুমি চির সুন্দর&lt;br /&gt;
আমার সকল কাজে।&lt;br /&gt;
সারাজীবন থাইক গো বন্ধু&lt;br /&gt;
আমার বুকের মাঝে,&lt;br /&gt;
যতন কইরা রাইখ আমায়&lt;br /&gt;
সকাল বিকাল সাঁঝে।।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;যুগযুগ ধইরা বন্ধু গড়লা&lt;br /&gt;
সুখী সংসার,&lt;br /&gt;
একদিনও হইলানারে&lt;br /&gt;
একটুখানি অসার।।&lt;br /&gt;
তাইতো তুমি চির ভাস্বর&lt;br /&gt;
আমার সকল সাজে।&lt;br /&gt;
সারাজীবন থাইক গো বন্ধু&lt;br /&gt;
আমার বুকের মাঝে,&lt;br /&gt;
যতন কইরা রাইখ আমায়&lt;br /&gt;
সকাল বিকাল সাঁঝে।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২২. Happy Anniversary&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;a href="tel:06042012"&gt;০৬/০৪/২০১২&lt;/a&gt; সালের এই দিনে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তোমার আর আমার আজকে তার ৯ টি বছর পূর্ণ হলো।&lt;br /&gt;
৯টি বছর সময় কোন দিক দিয়ে গড়িয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। তোমার আমার বিবাহ বার্ষিকীর​ শুভেচ্ছা বার্তা লিখতে বসে তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো স্মৃতির সাঁপলুডু খেলে এক এক করে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আমার মনের সুপ্ত অনুভূতির সুক্ষ্ম সেল গুলো সেদিন হঠাৎ করে চেতনা ফিরে পেলো - যেদিন তুমি আমার সাথে বিবাহ বন্ধনে জড়ালে আমি পেলাম তোমায় আমার করে।&lt;br /&gt;
সেদিন আমার হৃদয় আকাশে শ্রাবণের ধারার মতো অঝোরে ঝরতে লাগলো খুশির বৃষ্টি।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তুমি এসে সংসারের সুখ- দুঃখ, মিলন- বিরহ আর ব্যাথা- বেদনার বৈচিত্র্যময় আল্পনায় ভরিয়ে দিলে।&lt;br /&gt;
লেখা হলো সংসারের সুখ- দুঃখের অনেক গল্প, কবিতা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আজ আমি শেখ উজ্জ্বল হুসাইন, নোভা ইসলাম ৯ তম বিবাহ বার্ষিকী শেষ করে দাম্পত্য জীবনের ১০ তম বছরে পা বাড়ালাম সকল প্রিয়জনের শুভেচ্ছা ও দোয়াপ্রার্থী।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;Happy Anniversary Dear&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৩. আজ আমাদের&amp;nbsp; প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা।&lt;br /&gt;
&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;br /&gt;
স্মরণীয় একটি দিন।&amp;nbsp; সাতপাকে ঘুরে, মালা বদল করে তোমার সিঁথিতে সিঁদুরের লাল ভালোবাসা নিয়ে এসেছিলে আমার কাছে। সেই দিন টা আজ আবার ঘুরে এলো &lt;br /&gt;
যেদিন আমি&amp;nbsp; তোমায় আমার করে পেয়েছিলাম সারাজীবন এর মত। যেদিন ভালোবাসার রঙে রঙিন করে দিয়েছিলে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;সংসারের সুখ- দুঃখ,মিলন- বিরহ আর ব্যথা- বেদনার বৈচিত্র্যময় আল্পনায় ০১টি&amp;nbsp; বছর পার করে দিলাম।&lt;br /&gt;
তোমার আমার ভালবাসায় লেখা হলো সংসারের সুখ- দুঃখের গল্প, কবিতা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আগামী দিন গুলো এই ভাবে হাতে হাত রেখে যেনো এগিয়ে যেতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৪. আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী &lt;br /&gt;
ছিলো আমার জানা,&lt;br /&gt;
বিবাহ বার্ষিকীর উপহার&lt;br /&gt;
হিসেবে আমার এই কবিতা খানা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;হাজার বছর বেঁচে থাকো&lt;br /&gt;
হাসি খুশি থাকুক ঘরে,&lt;br /&gt;
আমাদের সুখের সংসার &lt;br /&gt;
ভরে উঠুক ভালোবাসার তরে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;এভাবে প্রতি বছর আসবে&lt;br /&gt;
আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর দিন,&lt;br /&gt;
আমরা দুজন একই সাথে &lt;br /&gt;
বাজাবো সুখের বীন।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ কামনা রইল &lt;br /&gt;
থাকবি তুমি সুখে-&lt;br /&gt;
হাজারো সুখের হাসি ফুটে&lt;br /&gt;
উঠুক তোমার মিষ্টি মুখে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;ℍ&#120146;&#120161;ℙ&#120144; &#120120;ℕℕ&#120154;&#120141;&#120124;ℝ&#120138;&#120120;ℝ&#120144;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;"ভালো আছি, সুখে আছি&lt;br /&gt;
&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; দুজনার দুজনার সাথে আছি।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৫. সংসার করতে গিয়ে সবসময় নিজের &lt;u&gt;ভূলটা&lt;/u&gt; কার ঘাড়ে চাপাবো, ভাবতেই যার কথাটা সবার আগে মাথায় আসে সে আর কেও না একমাত্র তুমি - বর!&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;(ইচ্ছে আর উপায়&amp;nbsp; না থাকলেও তাকে মেনে নিতেই হয় যখন সেই আসল দোষী)&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;মুখ ফুটে কিছু বলার আগেই যে আমার মনের সব কথা&amp;nbsp; বুঝতে পেরে যায়, সে আর কেও না একমাত্র তুমি- বর।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;(মাঝেমাঝে ভয় হয় রেগে গেলে মনে মনে যে ওকে গালাগালি করি সেটাও না ব্যাটা কোনদিন শুনে ফেলে)&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;পুরো week অফিস করেও weekend এ গোটা বাড়ির ক্লিনিং এর দায়িত্ব যে নিজের ঘাড়ে নিয়েছে - সে আর কেও না একমাত্র তুমি- বর।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আজ আমাদের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে অনেক কষ্টে তোমার তিনটে গুন ই খুজে পেলাম।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আর বিবাহ বার্ষিকীর গিপট হিসেবে চাই, বাকি জীবনটা এই ভাবেই কাটিয়ে দিতে পারি, তোমার সাথে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;Happy Marriage Anniversary Dear Husband&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৬. হাত খালি গলা খালি কুন্যার নাকে নাক ফুল।&lt;br /&gt;
দুনিয়ার সব কিছু মনে থাকে দুইটা জিনিস আমি কখনো মনে রাখতে পারিনি। (১) তার জন্মদিন এর কথা। (২)আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর কথা। হাজারও চেষ্টা করেও মনে রাখতে পারিনা। এইটা কি আমার দোষ? যাই হোক ছয়টা বছর তুমি যে ভাবে আমার পাশে ছিলে ঠিক এই ভাবেই মরার আগ পর্যন্ত আমার পাশে থেকো বউ। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;শুভ বিবাহ বার্ষিকী&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৭. প্রথমে প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর ভালোবাসা নিও।&amp;nbsp;&amp;nbsp; তোমাকে নিয়ে আমার অনেক কিছু বলার আছে, তবে বেশি কিছু বলব না, ছোট করে কটা কথা বলছি। জীবনে&amp;nbsp; অনেক সমস্যা আসে আমার, তোমার কাছে বুদ্ধি নিয়ে চলি কারণ তোমার কাছে ভালো আইডিয়া পাই। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তুমি আমার বউ না, আমার বন্ধু তোমার সঙ্গে কথা বলে&amp;nbsp;&amp;nbsp; অনেক শান্তি পাই। তোমাকে জোর করি ভালো জিনিসটা কেনাে, কিন্তু তুমি বল বেশি ভালো লাগবে না ওই টাকাটা দিয়ে তুমি কিছু ভালো কাজ করো, তোমার সম্পর্কে যদি বলতে যাই শেষ হবে না, তবে রাগটা একটু কমাও, অনেক ভালোবাসি তোমাকে যতটা তুমি আইডিয়া করো তার থেকে অনেক বেশি।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৮. বরাবরের মতো এবার ও ভুলে গিয়েছিলাম আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর কথা।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;কিন্তু সে যে কি করে মনে রাখে এত সব কিছু আমি ভেবেই উঠতে পারি না।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আমার জীবনে ওকে যেমন হঠাৎ করে পাওয়া,&lt;br /&gt;
সেরকম ও সব জিনিস ই আমাকে হঠাৎ করেই সারপ্রাইজ দিয়ে দেয় আমার অজান্তেই।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;২৯. বন্ধুর জন্য বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা "আশা করি তোমার ভালবাসা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং এই বিবাহ বার্ষিকীতে বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে, বন্ধু। &lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;এই বিশেষ দিনে তোমাকে সর্বকালের সেরা বার্ষিকী কামনা করছি। তোমার বিবাহিত জীবন জুড়ে ভালবাসার অটুট বন্ধন থাকুক।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;আর দোয়া করি তোমাদের এই ভালোবাসা আজীবন থাকুক।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;ওকে ভালো থাকিস তোরা দুইজনে।&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir="ltr"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;৩০. এভাবেই দশকের পর দশক কেটে যাক, পুনঃজন্মেও যদি রাজনৈতিক হয়ে জন্মাই, বউ হিসেবে তোমাকেই চেয়ে নেবো, দুঃসময়ে সাহস যোগানোর জন্য।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;কততম বলবো না, বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা বউ।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তুমি কাছে না থাকলে, বুকের ভিতরে&lt;br /&gt;
হুল্লোড় করে ঢুকে পড়ে একটা ভিখিরি স্বভাব।&lt;br /&gt;
মনে হয় এই ঘর আমার নেই,&lt;br /&gt;
এই আকাশ আমার নেই,&lt;br /&gt;
রাস্তা, মাঠঘাট, কোথাও যাবার তাড়া,&lt;br /&gt;
এ সবকিছু অন্য মানুষের।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তুমি কাছে না থাকলে,&lt;br /&gt;
সাত জন্মের অন্ধকার নিয়ে লাফিয়ে আসে রাত।&lt;br /&gt;
দিনগুলোকে শূন্য মনে হয়।&lt;br /&gt;
মনে হয় এই ব্যস্ত জনপদ, এই হকারের মতো চাঁদ,&lt;br /&gt;
ট্রেন ছেড়ে যাওয়া প্ল্যাটফর্ম,&lt;br /&gt;
মানুষের জিজ্ঞাসার শব্দ, এরা সব এক একটা খুনে।&lt;/p&gt;
&lt;p dir="ltr"&gt;তুমি কাছে না থাকলে&lt;br /&gt;
পা দুটো দাঁড়িয়ে থাকে অনড়,&lt;br /&gt;
ঠোঁট দুটো বন্ধ তালার মতো থাকে চুপ।&lt;br /&gt;
বলতো, এতগুলো অভাব নিয়ে&lt;br /&gt;
একটা মানুষ সত্যি করে কি ভিখিরি হবে না?&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/4368100053714574333/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/09/bangla-anniversary-status.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/4368100053714574333" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/4368100053714574333" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/09/bangla-anniversary-status.html" rel="alternate" title="বিবাহ বার্ষিকীর সেরা হৃদয় ছোঁয়া ৩০টি স্টাটাস | বিবাহ বার্ষিকির শুভেচ্ছা বার্তা | Bangla Anniversary Status " type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhumfW9vg0MZ1vfi1Y1HEvC8GJpMUcgGMdBMh8g4OvdsUkunTxSSZ6xmvCFYPUsbY20aX1B0UTUNOIaajo_Lljc4Dc9Ef-696ZrlbY7zsxxCC2IpI8dpq8mBd0vB9H11CZu51ntlQ_jkCw/s72-c/1693922227564226-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-1840509462336357358</id><published>2023-07-27T02:29:00.001-07:00</published><updated>2023-07-27T02:29:53.981-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Quote"/><title type="text">মেহেদী হাসান শুভ্রের সেরা ২১টি জনপ্রিয় লিখনী</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi87z0uqmZRYqDI7_K_v08wqi0nK6fEHNClrwhmgEme_Y0m3sV4ADoUsChTMFGc5zr9FVvXDA3bzfYdXz_u1D-c5w-nEE0gQON05ioeMhGOinBLuKcBve8kys1Q9fny9Um4lC8feTdhwyU/s1600/1690450187548954-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi87z0uqmZRYqDI7_K_v08wqi0nK6fEHNClrwhmgEme_Y0m3sV4ADoUsChTMFGc5zr9FVvXDA3bzfYdXz_u1D-c5w-nEE0gQON05ioeMhGOinBLuKcBve8kys1Q9fny9Um4lC8feTdhwyU/s1600/1690450187548954-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১. এই মহাশূন্যে এমন একটা মানুষ থাকুক বিধ্বস্ত হয়ে, ভেঙে পড়ে, হতাশার চরমে ডুবে গিয়ে যাকে একটাবার জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারলে মনের ভিতর প্রশান্তি অনুভব হবে। মনে প্রাণে আসবে সজীবতা; চোখে মুখে ফোঁটে উঠবে বেঁচে থাকার আজন্ম সাধ।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটা মানুষ থাকুক যার কাছে সবটা বলা যাবে অবলীলায়। কত কথা জানানো বাকি। বলতে গেলে বুকের কাছটায় দলা পাকিয়ে আসে আমার নিঃসঙ্গতার গল্পগুলো। বলা হয়ে উঠে না আর! একটা মানুষ থাকুক যে শীতল চোখ দেখেই বুঝে নিবে বুকের ভেতরটার নিঃঙ্গতা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটা মানুষ থাকুক বিধ্বস্ত পৃথিবীর এক টুকরো জমিনে দাঁড়িয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাকে পাওয়ার তীব্র আকুতি জানাক। একজোড়া হাত আমার জন্য প্রার্থনারত থাকুক। আমাকে পাওয়ার আনন্দে অশ্রুসিক্ত হোক একজোড়া পবিত্র চোখ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শুধু ভালোবাসা নয় কেউ একজন থাকুক যে পুরো আমিটার মায়ায় পড়বে। যে শেষ পর্যন্তু আমার সাথে থেকে যাবে। ছন্নছাড়া, এলোমেলো এই আমিটাকে গভীর যত্নে আগলে রাখবে বুকের মাঝে। শুধু স্বপ্ন নয় আজন্ম পথচলার সঙ্গী হয়ে কেউ একজন আসুক।♡︎&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২. চারপাশে তাকালে দেখবেন আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো এখন আর আগের মতো নেই। আগে যেমন কাজিনরা সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়া হতো, গল্প করা হতো, নানারকম মজার মজার খেলা হতো, আনন্দ হতো এখন আর এগুলো হয় না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আগে যেকোন উৎসবে সবাই মিলে একসাথে নানুর বাড়ি যাওয়া হতো। সবাই মিলে নানুর বাড়িতে তখন অনেক মজা হতো। 'নানুর বাড়ি রসের হাড়ি' যেন সত্যিই আনন্দ আর খুশিতে একদম টইটম্বুর ছিলো। সবাই অপেক্ষায় থাকত কবে নানুর বাড়ি বেড়াতে যাবে। এখন এসব কিছু কেমন যেন হয়ে গেছে। ঠিকমতো যোগাযোগই হয় না, কথা হয় না। আর দেখা হলেও আগের মতো গল্প জ্বমে না, মজা হয় না। সবাই সেই মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত হয়ে থাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভার্চুয়াল জগৎ আমাদের যা দিয়েছি আর চেয়ে অনেক বেশি কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে সম্পর্কের প্রতি টান, কমিয়ে দিয়েছে সম্পর্কের গভীরতা, জীবনে এনে দিয়েছি ব্যস্ততা নামক এক কঠিন সময়, ডিপ্রেশনের মতো ভয়ংকর অসুখ। এখন আমরা সবসময় ব্যস্ত আমাদের ভার্চুয়াল জগত আর ভার্চুয়াল জগতের বন্ধু বান্ধবদেরকে নিয়ে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক, বাবা মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক, ভাই বোনের সম্পর্ক এগুলো যেন দিনকে দিন প্রাণ হারাচ্ছে। দূরুত্ব বাড়ছে, গভীরতা- মায়া, টান কমে যাচ্ছে। কেমন যেন হয়ে যাচ্ছি আমরা, আমাদের সম্পর্কগুলো! তাই মাঝে মাঝে রবীন্দ্রনাথের মতো আক্ষেপ নিয়ে বলতে ইচ্ছে করে- 'আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি!'&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩. জীবনে 'আবেগ' ব্যাপারটা আসলে একটা বাঁধা। আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে জীবনে অনেক পিছিয়ে পড়তে হয়। বেসামাল আবেগ জীবনটাকে বিদ্ধস্ত করে দেয়। খেয়াল করলেন দেখবেন জীবনে যারা আপনাকে সবচেয়ে বেশি ঠকিয়েছে সেটা নিয়ে তাদের মাঝে বিন্দু পরিমাণ&amp;nbsp; অপরাধবোধ নেই। আবার যারা ছাড়া আপনাকে ছেড়ে গেছে তাদের আপনাকে হারিয়ে ফেলার সামান্যতম আফসোস নেই। এমনটা হয়ত প্রায়ই হয় অন্যরা আপনাকে কষ্ট দিয়ে ভালো থাকলেও আপনি তাদের জন্য খুব কষ্ট পান। হয়ত আপনি অনেক বেশি ইমোশনাল তাই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইমোশন ব্যাপারটা ভালো।মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা থাকবে, টান থাকবে, মায়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখনকার এইসময়ে এই স্বাভাকিক নিয়মে আমাদের জীবনে চলে না। দিনশেষে এমন মানুষগুলোকে জীবনের পদে পদে ঠকতে হয়। চারপাশের সবাই খুব সূক্ষ্ম ভাবে তাদেরকে ঠকিয়ে দেয়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখে অাঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আবেগটা কমাও, অল্পতেই মায়ায় জাড়িয়ে যেও না, খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে অবহেলিত হইয়ো না। সবার জন্য বাঁচতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলো না। জীবনে ভালো থাকতে হলে একটু শক্ত হও, কিছুটা স্বার্থপর হও।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তবে শূন্য আবেগে কখনো পূর্ণ হওয়া যায় না। জীবনের কিছু কাজ আবেগ দ্বারাই করতে হয়। আবেগ থাকবেই, তবে আবেগ যেন তোমাকে নিয়ন্ত্রণ না করে। তুমি আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখো, তুমি আবেগের নিয়ন্ত্রক হও। দেখবে সেদিন তুমি সম্পূর্ণ রুপে তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে এগিয়ে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যেতে শিখে যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪. আমি আমার এই ছোট্ট জীবনে আমাকে বুঝার চেয়ে আমাকে ভুল বুঝার মানুষগুলোকে বেশি পেয়েছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেউ আমাকে ভুল বুঝে ছেড়ে চলে গেছে, আর কাউকে আমি বুঝাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ছেড়ে চলে এসেছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে আমার পরিস্থিতিটা কেউ কখনো বুঝতে চায় নি। সবাই শুধু দূর থেকে আমাকে ভুল বুঝে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেড়ে চলে গেছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি যখন কারও সাথে রাগ করেছি সে আমার রাগটাই দেখেছে। রাগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসাটা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বুঝতে পারেনি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে আমি যখন হেসেছি, সবাই তখন আমার হাসিটাই দেখেছে। হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলোকে কেউ কখনো বুঝেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খুব মন খারাপের দিনে যার কাছে সময় নিয়ে আমি সবকিছু বলতে চেয়েছি, সে বুঝেছে আমি তাকে প্রয়োজনে ব্যবহার করেছি। ব্যাস, ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে সে তার মতো চলে গেছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সবার দেওয়া আঘাত সইতে সইতে আমি যখন না পেরে অসহায়ের মতো নিভৃতে চোখের জল ফেলেছি। সেটা নিয়েও তারা উপহাস করতে তারা ছাড়েনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আসলেই আমি একজন অভিনেতা। ভালো থাকার মিথ্যে অভিনেতা। শুধু আমি নই প্রত্যেকেই তার জীবনের এক একজন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- অভানেত্রী। ভালো থাকার মিথ্যে অভিনয়ে আমরা প্রত্যেকেই সেরা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫. মানুষের পক্ষে কাউকে পুরো পুরি ভুলে যাওয়া সম্ভব না। হয়ত কয়েক মাস, কয়েক বছর, নয়তো কয়েক যুগ তারপর হুট করে আবার মনে পড়বে। মনে তাকে পড়বেই। হয়ত ৬০ বছর পরও হুমায়ুন ফরিদীর মতো আক্ষেপ নিয়ে বলবে- 'আমি এখনও একটা মানুষকে অসম্ভব ভালোবাসি।'&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬. জীবনকে বৃথা ভেবে লাভ নাই। জীবনে অনেক কিছুই পাওয়ার কথা থাকে কিন্তু পাওয়া হয় না। আবার কিছু জিনিসের পাওয়ার কোন কথাই থাকে না, তবুও সেই মূল্যবান জিনিসগুলো আমাদের হয়ে যায়। মাঝে মাঝে চারপাশে এমন সব ঘটনা ঘটে মনে হয় জীবনের আসলে কোন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানেই নাই। জীবন একটা প্যারা; শুধুই বিষাদময়। আশাপাশের এইসব মানুষগুলোরে ভাল্লাগবেনা। মানুষের সাথে কথা বলার, গল্প করার মন উঠে যাইবো। নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে মন চাইবো না। সবার থেকে দূরে গিয়ে একলা বাঁচতে মন চাইবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এইভাবে চলে যাবে অনেক দিন। তারপর একদিন দেখবেন মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া আপনার শখের গাছে গোলাপ ফুটেছে। বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস, শীতের নরম রোদ, ভরা পূর্ণিমায় আকাশের চাঁদ দেখে খুশিতে মন ভরে যাবে। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে একদিন অসময়ে ঝুম বৃষ্টি নামবে। সেই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আপনি ভাববেন জীবনটা আসলে বৃথা নয়,&amp;nbsp; জীবনটা সুন্দর, মেলা সুন্দর!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭. যাকে দেখতে আপনার বিশ্রী লাগে, ঘৃণা হয়। তাকে দেখেই&amp;nbsp; কেউ কেউ হয়ত মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। মায়ায় পড়ে যায়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যার সাথে কথা বলতে আপনার বিরক্ত লাগে, তার সাথে একটুখানি কথা বলার জন্য কেউ কেউ হয়ত সারাদিন অপেক্ষা করে থাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যার সহজ- সরলতা দেখে আপনার তাকে ব্যাকডেটেড কিংবা খ্যাত মনে হয়। অন্য কারও কাছে তাকে ভালোলাগার একমাত্র কারণই হয়ত তার এই 'সহজ-সরলতা'।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কালো রঙের মানুষটাকে দেখে আপনি যখন মুখ ফিরিয়ে নেন, ভালো লাগেনা। অন্য কারও কাছে হয়ত এই কালো মানুষটাই প্রিয়। সাদা তো আর সবার পছন্দের হয় না। কালো মানুষটাই হয়ত কারও প্রথম পছন্দ।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপনার কাছে যেমন গুড লুক, ড্রেসঅাপ, গ্লেমার প্রথম প্রায়োরিটি পায়, অন্য কারও কাছে হয়ত মনের সৌন্দর্যটাই প্রথম প্রায়োরিটি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আসলে একটা কথা জানেন কি- একটা মানুষ কখনো সবার কাছে ভালো হতে পারে না, আবার একই সাথে এটাও সত্যি একটা মানুষ কখনো সবার কাছে খারাপ হয় না। সবার অপছন্দের হয় না। প্রত্যেকটা মানুষই কারও না কারও কাছে তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যে যেমন তাকে ঠিক তেমনভাবেই ভালো লাগার কেউ না কেউ ঠিকই আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাই কেউ যদি আপনাকে খারাপ বলে কিংবা অপছন্দ করে তাতে কষ্ট পাবেন না। কারণ আপনি একটা মানুষ, আপনি কখনো সবার পছন্দের হতে পারবেন না। এটা খুব স্বাভাবিক। শুধুমাত্র আপনি কেন পৃথিবীতে কেউই সবার কাছে পছন্দের হতে পারে না। কেউ না। তাই যারা আপনাকে ভালো ভাবে, যারা আপনাকে পছন্দ করে তাদেরকে নিয়েই ভাবুন। আর যার আপনাকে অছন্দ করে কিংবা খারাপ ভাবে তাদেরকে তাদের মতো করে ভাবতে দিন। নিশ্চয়ই কোন একিদন তারা নিজেরাই নিজেদের উত্তরটা পেয়ে যাবে। অপেক্ষা করুন!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮. আমাদের সবার বুকের ভিতর মস্ত বড় একটা আকাশ থাকে। সে আকাশে উড়ে বেড়ায় শত রঙের প্রজাপতি। ছোট্ট একটা নদী থাকে। যে নদীতে পালতোলা নৌকা চলে। স্নিগ্ধ শীতল বাতাস দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নির্দিষ্ট একটা মানুষ থাকে। তার জন্য সবসময় বুকের ভিতর ফাঁকা একটা জায়গা থাকে। তাকে ঘিরে হাজারো বাচ্চামো, পাগলামো, মান- অভিমানের গল্প থাকে। খুব সাজানো গোছানো ছোট্ট একটা সংসার থাকে। সেই ছোট্ট সংসারে অভাব থাকে কিন্তু কোন অপূর্ণতা থাকে না। বৃষ্টি এলে একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা, কোলে মাথা রেখে চাদের স্নিগ্ধ আলোয় ভেসে যাওয়া, শেষ বিকালে হুট খোলা রিকশায় পুরো শহর ঘুরে বেড়ানো, টঙ&amp;nbsp; দোকানে এককাপ চায়ের আড্ডা, ফুচকার খুনসুটি, এমন আরও কতশত বাহানা আর সুন্দর মুহূর্ত নিয়ে আমাদের স্বপ্নের সেই ছোট্ট সংসার। কত সুখ, কত আনন্দ নিয়ে আমাদের দিনরাত্রি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সবার বুকের ভিতর এমন একটা মানুষ থাকে, এমন কিছু স্বপ্ন থাকে। জীবন সুন্দর সেই সব অনিন্দ্য কল্পনায়। মিনতি এই আমাদের বাস্তবতাটাও সুন্দর হোক। আসুক এমনই চিরচেনা মুহূর্ত, ছোট ছোট সুখ। বেঁচে থাকা হোক স্বপ্নের চেয়েও অনাবিল আনন্দের।♡︎&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯. কে তোমার জীবনে কতদিন থাকবে সেটা সবসময় তোমার গুরুত্বের উপর নির্ভর করে না। একপাক্ষিক গুরুত্ব দিয়ে কোন কিছু খুব বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। দেখো কাউকে হয়ত তুমি অনেক বেশিই গুরুত্ব দিয়েছো। তারপরও তুমি তাকে ধরে রাখতে পারোনি। আসলে যারা ছেড়ে যাবার তারা ছেড়ে যাবেই। তাদেরকে তুমি কখনোই ধরে রাখতে পারবে না। আবার যারা থেকে যাবার তারা হাজারো ঝগড়া, রাগ,&amp;nbsp; অভিমান শেষে কোন না কোন কারণ খুঁজে ঠিকই তোমার সাথে রয়ে যাবে। তাই কে পাশে থাকলো আর কে থাকলো না সেসব নিয়ে ভেবো না। নিজেকে গুরুত্ব দাও। কিছু মুখ ও মুখোশকে চিনতে শিখো। তোমার জীবন যে জিনিসগুলো তোমাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয় আস্তে আস্তে সেগুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দাও। ব্যাস নিজের মতো শান্তিতে থাকো, আনন্দ নিয়ে বাঁচো।♡︎&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০. আমাদের চারপাশের সব মেয়েরা কিন্তু শুধু ভালোবাসার অভাবে ভোগে না। কারও কারও গল্পটা ব্যতিক্রমও হয়। দিনের শেষে তাদের স্বপ্নটা থাকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের বাবা মায়ের জন্য কিছু করতে পারার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাদের খুব ইচ্ছে হয় নিজে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্বটা নিতে। তাদের ইচ্ছে হয় নিজের টাকা দিয়ে বাবাকে একটা নতুন পাঞ্জাবী কিংবা মাকে একটা নতুন শাড়ি কিনে দেবার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাদের ইচ্ছে হয় একটা ছেলের মতো বাবার হাতে কিছু টাকা দিয়ে বলতে বাবা নিজের প্রতি খেয়াল রেখো। আরেএ কিছু হবে না, আমি তো আছি বাবা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এরকম মেয়েগুলোর কাছে ভালোবাসা শুধুই জীবনের একটা অংশ মাত্র। তাই নিজের ভালোবাসার কথা চিন্তা করে অশ্রু ফেলার মতো সময় তাদের থাকে না। তারা সবসময় পরিবারের মানুষগুলোর কথা চিন্তা করতে করতে নিজের ভালোথাকা কিংবা নিজের ভালোবাসার কথাই ভুলে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাদের কাছে বয়ফ্রেন্ডের সাথে বসে দামী কোন রেস্টুরেন্টে&amp;nbsp; খাওয়ার চেয়ে খুব ছোটখাটো একটা হোটেলে বাবার পাশে বসে খাওয়ার আনন্দটা অনেক বেশি। তারা স্বপ্ন দেখে খাবার শেষে বাবা যখন বিল দিতে যায় তখন বাবাকে বলতে- 'বাবা আজকের বিলটা আমি দেই?'&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এরকম মেয়েগুলোর কাছে বয়ফ্রেন্ডের দেওয়া দামী শাড়ি পরে তার সাথে ঘুরতে যাওয়ার চেয়ে নিজে কষ্ট করে টিউশনি করে নিজের মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনে নিজ হাতে মাকে সেই শাড়িটা পড়িয়ে দেওয়ার আনন্দটা অনেক&amp;nbsp; বেশি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আর ঠিক সেই মেয়েটাকে নিয়ে যখন সমাজের মানুষগুলো&amp;nbsp; কানাঘুষা করতে থাকে এতো বয়স হয়ে গেছে তারপরও কেনো মেয়েটা বিয়ে করছে না বলে তাকে নিয়ে যখন বাজে কটুক্তি করা হয়, কিংবা একটা মেয়ে হয়ে তার কেন এতো কিছু ভাবতে হবে বলে তাকে নিয়ে যখন বাজে মন্তব্য করা হয় তখন মেয়েটা অসহায়ের মতো রাতের আঁধারে অশ্রু ভেজায়। কষ্টের এক প্রবল তীব্রতা তাকে ভীষণ ভাবে অাঘাত করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখন তার খুব করে বলতে ইচ্ছে করে আমি আমার পরিবারের মানুষগুলোর দায়িত্বটা নিতে চাই। আমি আমার ছোট ভাইটার জন্য কিছুু করতে চাই। আমি আমার নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমি আমার স্বপ্নগুলোর বাস্তবে পূর্ণতা দিতে চাই। আমিও এই সমাজে মাথা উঁচু করে নিজের অধিকার নিয়ে একটুখানি বাঁচতে চাই!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হয়ত এমন আরও অনেক কিছুই তাদের বলার থাকে। কিন্তু বলতে পারার সেই স্বপ্নের জায়গাটাই সব মেয়েরা পৌঁছাতে পারে না। তার আগেই কারও কারও জীবন নামক ঘড়িটা থেমে যায়। খুব বাজে ভাবে হেরে যায় সেই মেয়েগুলো আর সেই সাথে মৃ*ত্যু হয় মনের ভিতর গেঁথে রাখা তাদের প্রত্যেকটা স্বপ্নের!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১. কারও মন ভেঙে দিয়েন না, কাউকে স্বপ্ন দেখিয়ে ঠকাবেন না। কথা না রাখতে পারলে কাউকে কথা দিবেন না। জীবনে এমন কিছুই করবেন না যেন দিনশেষে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানুষ খারাপ বলুক, ভুল বুঝক, ছেড়ে যাক যে যাই করুক নিজের কাছে নিজে সৎ থাকবেন। নিজের কাছে নিজে সৎ থাকতে পারাটা ভীষণ আনন্দের এবং গর্বের। হ্যাঁ অনেকেই আপনাকে ঠকিয়েছি কিন্তু আপনি প্রতারক নন। যে যাই বলুক দিনশেষে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে কখনো অপরাধী মনে হবে না। মানসিক শান্তি নিয়ে ঘুমাতে যেতে পারবেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছু কথা সবসময় মনে রাখবেন কারও জন্য ভালো কিছু করতে না পারেন, খারাপ কিছু করবেন না। কারও সুখের কারণ না হোন, আজন্ম মন খারাপের কারণ হবেন না। কারও প্রশংসা করতে না পারেন, কারও দুর্নাম করবেন না। কাউকে ভুল না বুঝে, সমালোচনা না করে পারলে পাশে থেকে তাকে শিখিয়ে দেন। তা না পারলে চুপ থাকুন। জীবনের এই বিষয়গগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন দেখবেন যে যাই বলুক আপনার কাছে আপনি কখনো অপরাধী হবেন না, মানসিক অশান্তিতে ভুগবেন না।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অন্যদের চেয়ে আনন্দে থাকতে পারবেন, ভালো থাকতে পারবেন।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১২. একটা সময়ে গিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি মানুষের কাছ থেকে যত দূরে থাকবেন আপনি আসলে তত ভালো থাকবেন। মানুষের কাছাকাছি গেলে প্রথম দিকে মানুষ খুব আগ্রহ দেখায়, গুরুত্ব দেয়। কিন্তু আস্তে আস্তে আগ্রহ কমে, গুরুত্ব কমে। অবহেলা বেড়ে যায়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানুষ আসলে এমনই যেটাকে সে হারিয়ে ফেলে, বা যেটা তার হাতের নাগালের বাহিরে সবসময় সে সেটাকেই মূল্যবান মনে করে। আর যেটা খুব সহজে পেয়ে যায় তার মূল্যায়ন করে না। তাই মানুষের কাছ থেকে রেসপেক্টেবল দূরুত্বে থাকা ভালো । এতো গুরুত্ব থাকে, সম্মান থাকে। বহুদিন পর হঠাৎ দেখা হলে আদর যত্ন পাওয়া যায়। খাতির করে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সবার কাছে নিজেকে খুব বেশি সহজলভ্য করে তুলবেন না। আবার অতিরিক্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্নও হতে যাবেন না। সবার সাথে মিশবেন, কিন্তু সবাইকে আপন ভাবতে যাবেন না।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আর যত সম্ভব একটু কম বলবেন, কম বুঝবেন দেখবেন জীবনে অনেক সমস্যাকেই পাশ কাটিয়ে আসতে পারবেন। ঝামেলায় কম পড়বেন, ভালো থাকতে পারবেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৩. একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এটা আসলে চরম মিথ্যে কথা। একদিন কোন কিছুই ঠিক হয় না। হয়ত ক্ষত মুছে যায় কিন্তু দাগটা ঠিকই রয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিচ্ছু ঠিক হয় না। শুধু আমরা অভিনয় করাটা শিখে যাই। যে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। আসলে কোন কিছুই ঠিক হয়না। তবুও আমরা মানিয়ে নেই। অভিযোগ করা বন্ধ করে দেই। প্রত্যাশা কমিয়ে ফেলি। নিজেকে নিজের মাঝে বন্দী করে ফেলি। এমন ভাবে থাকি যেন কিছুই হয়নি। সবকিছুই ঠিকঠাক!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানুষ তার জীবনের বড় একটা অংশ শুধু অভিনয় করে কাটায়। যার অভিনয় যত সুন্দর জগৎ সংসারে সে তত বেশি সুখী মানুষ। অনেক কিছু ঠিক নেই তবুও আপনাকে অভিনয় করে যেতে হবে সবকিছু ঠিক আছে। আপনার ভিতরটা ভেঙে চুরে যাচ্ছে তবুও আপনাকে ঠিকই হাসতে হবে। আপনি বলতে পারবেন না আমার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমরা শুধু ঠুনকো কিছু আশা নিয়ে একটা জীবন বেঁচে থাকি। যে একটা সময় আসবে যখন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এক জীবনের যতসব অপ্রাপ্তি- দীর্ঘশ্বাস সব পূর্ণতা পাবে। আমরা অভিনয়হীন হাসতে পারব; বাঁচতে পারব। কিন্তু সবার জীবনে এই স্বর্ণালী সময়টা আসে না। প্রার্থনা করি সেই দিনটা সবার জীবনে আসুক।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৪. আমি খুব স্বার্থপর মানুষ! কেউ আমাকে গুরুত্ব না দিলে আমিও তাকে গুরুত্ব দেই না। কেউ আমাকে মনে না রাখলে আমিও তাকে মনে রাখি না। কেউ আমার মেসেজের রিপ্লাই তাড়াতাড়ি করলে আমিও চেষ্টা করি তাকে দ্রুত রিপ্লাই করতে। কেউ মেসেজ সিন না করে রেখে দিলে আমিও তাকে উপেক্ষাই রেখে দেই। এবার আমি যতই ফ্রি থাকি না কেন! আমি ছাড়া যদি আপনার জীবন স্বাভাবিক ভাবে চলে যায়। তাহলে আপনি ছাড়াও আমার জীবন স্বাভাবিক ভাবে চলে যাবে। আমার কাছে প্রায়োরিটি ম্যাটার করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপনি আমাকে যতটুকু প্রায়োরিটি দিবেন আমিও আপনাকে ঠিক ততটুকুই প্রায়োরিটি দিবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখা- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৫. যে মানুষটা তোমাকে ছেড়ে গেছে সে মানুষটার কাছে তুমি ভীষণ ভাবে ঋণী । কারণ সেই মানুষটা ছেড়ে না গেলে তুমি হয়ত আজ নিজেকে এতটা পরিবর্তন করতে না। দেখো পরিবর্তনটা আমাদের সবার জীবনেই আসে। কারও না কারও কাছ থেকে প্রচন্ড আঘাত পাওয়ার পর কিংবা কষ্ট পাওয়ার পরই আমরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করে নেই। স্বাভাবিক ভাবে কখনো আমাদের জীবনে পরিবর্তন আসে না!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কারও কাছ থেকে ভীষণ আঘাত পাওয়ার আগে, কাউকে বিশ্বাস করে খুব বাজে ভাবে ঠকে যাওয়ার আগে আমরা আমাদের চারপাশের সবাইকেই বিশ্বাস করি। আমরা ভাবি আমাদের চারপাশের সবাই আমাদেরকে ভালোবাসে। সবাই আমাদের ভালো চায়। কিন্তু কারও কাছে ঠকে যাওয়ার পর, বিশ্বাস করে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলার পর আমরা বুঝতে পারি আসলে চারপাশের সবাই আমাদের ভালো চায় না, সবাই আমাদেরকে ভালোবাসে না, সবাই বিশ্বাসের মর্যাদা দেয় না। তখন আমরা আমাদের চারপাশের মানুষগুলোকে চিনতে শিখি, বুঝতে শিখি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জীবনে কারও কাছ থেকে ভীষণ ভাবে আঘাত না পেলে, কাউকে বিশ্বাস করে খুব বাজে ভাবে না ঠকলে আজ হয়ত আমরা এতো বড় হয়ে উঠতে পারতাম নাহ। হয়ত কাছের মানুষগুলোকেও খুব ভালো ভাবে চিনতে পারতাম না কখনো। তাই যে মানুষটাকে তোমাকে ছেড়ে গেছে, তোমাকে খুব বাজে ভাবে আঘাত দিয়েছে, তোমাকে ঠকিয়েছে সেই মানুষটার কাছে তুমি ভীষণ ভাবে ঋণী। সেই মানুষটাকে তুমি ধন্যবাদ দাও। তাকে অতীত নয়, তাকে অভিজ্ঞতা বানিয়ে নাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৬. আমার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ নিজেকে&amp;nbsp; ভালোবাসতে পারা! আমরা কেউই নিজেকে পরিপূর্ণ ভালোবাসতে পারি না। কেউ আমাদেরকে ছেড়ে ছুড়ে চলে গেলে আমরা নিজেদেরকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেই,&amp;nbsp; অবহেলা করি। অথচ খোঁজ নিলে হয়ত দেখা যাবে নিজের সবটা দিয়েই আমরা তাদেরকে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। তবুও আমরা নিজেদেরকেই গুরুত্বহীন ভেবে বসে থাকি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেউ অসুন্দর বললে আয়নায় তাকিয়ে নিজের খুঁত বের করতে ব্যস্ত হয়ে যাই। অথচ আমরা এটা জানিনা সুন্দরের প্রতীক চেহারার চেয়ে মনে বেশি প্রতিফলিত হয়। যারা কাউকে অসুন্দর বলে ছোট করে প্রকৃত অর্থে তারাই অসুন্দর, কুৎসিত।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেউ নিজেদের ব্যাপারে দুটা মন্দ কথা বললে আমাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে গুড়িয়ে যায়। যাচাই করে দেখিনা আসলে আমরা সেই মানুষটা কি না যেটা অন্যরা বলে, অন্যরা দেখে। ঐ যে একপলক দেখে অল্পটুকু জেনে অন্যরা আমাদেরকে জাজ করে ফেলে আসলেই কি আমরা সেই মানুষটা! তা আমরা খুঁজে দেখিনা। বরং সেটা ভেবে মন খারাপ করে বসে থাকি, থেমে যাই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমাদের আশেপাশের মানুষগুলো আমাদেরকে যতটা ঠকায়, যতটা ক্ষতি করে তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি আমরা নিজেরা নিজেদেরকে ঠকাই; নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমরা আজন্মকাল অন্যের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি ভালোবাসার কাঙাল হয়ে। এ দুয়ারে ও দুয়ারে ভালোবাসা খুঁজে ফিরি অথচ নিজের জন্য নিজেকে যতটা ভালোবাসা দরকার ছিলো তা আমরা কেউই ভাসতে পারিনা। তাই দিনশেষে অন্য কারও ভালোবাসা পাওয়া, না পাওয়ার থেকে নিজেকে নিজে ভালোবসাসতে না পারার আফসোসটাই বেশি পুড়ায়!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৭. জীবনে কখনো কারও প্রতি কোন অভিযোগ, কষ্ট পুষে রাখা উচিৎ না। জীবন নামক গল্পটা হুট করে কখন থেমে যায় তা আমরা কেউ জানি না। তাই সবাইকে ক্ষমা করে দিয়ে হাসি মুখে জীবনটা কাটানো উচিৎ। হ্যাঁ অনেকেই আপনাকে ঠকিয়েছে, আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, অবহেলা করেছে, অাঘাত দিয়েছে। তবুও তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। ক্ষমার চেয়ে নিঃস্বার্থ প্রতিশোধ আর কিছুই নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখা- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৮. প্রতিটি মানুষেরই কিছু ব্যক্তিগত দুঃখবোধ আছে। যার সাথে পৃথিবীর আর অন্য কারও যোগাযোগ নেই; জানা- শুনা নেই।&amp;nbsp; যা তার একেবারেই একান্ত ব্যক্তিগত। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সেই দুঃখবোধ সে বয়ে নিয়ে বেড়ায়। তারপর একটা সময় আসে যখন সেই দুঃখটাকেও সুখের মতো মনে হয়। কেমন যেন নিজের সাথে মিশে যায়। আপন আপন লাগে। কষ্ট পেলেও ছাড়া যায় না, ভুলা যায় না, নিজের সাথেই আজীবন রয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখা- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৯. কে পাশে থাকবে- না থাকবে সেটা সময়ই বলে দিবে। প্রতিশ্রুতি তো অনেকেই দেয় পরিস্থিতি আসল মানুষ চিনিয়ে দেয়। তাই কেউ পাশে আছি বললেই খুশিতে গদগদ হয়ে যাবেন না। খারাপ পরিস্থিহিতে দেখবেন সেই মানুষটা পাশে নাও থাকতে পারে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পাশে আছি বলা আর পাশে থাকা দুটির মাঝে কিন্ত অনেক প্রার্থক্য আছে। কিছু মানুষ শুধু বলার জন্য বলে আমি তোমার পাশে আছি কিংবা পাশে থাকব। কিন্তু খারাপ সময় আসলে তারা কেউই পাশে থাকে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাই সবসময় কাউকে পাশে পাওয়ার আশা না করাই ভালো। কেউ যদি পাশে থাকে তাহলে তো ভালো, আর না থাকলে আরও ভালো। নিজের জন্য নিজেই যথেষ্ট। এইভাবে ভাবতে পারলে জীবনটা সহজ হয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জীবনে সমস্যা আসবে, কাছের মানুষ দূরে যাবে, আপন পর হবে। জীবনে এমন অনেক কিছুই হয়। কাউকে পাশে পাইনি, বা কেউ পাশে নেই এগুলা ভেবে আক্ষেপ করে বসে থাকলে কিছুই হয় না। বরং কাউকে ছাড়াই এগিয়ে যেতে শিখতে হয়। ব্যাস আর কিচ্ছু না!!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২০. দিন দিন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছি আমরা তাই না? জীবনের আনন্দগুলো কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ব্যস্ততা, বাস্তবতা, অভাব, শূন্যতা সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে নিতে আজ আমরা বড্ড ক্লান্ত। জীবনের এতটুকুতেই যেন আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি। মনে হয় কার কাছে যাই, কি করি, কোথায় একটু শান্তি মিলবে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হন্যে হয়ে ঘুরছি, ফিরছি, খাচ্ছি, চলছি কিন্তু আসলেই আমরা ভালো নেই। যেন নিজের কাছেই নিজে অচেনা কেউ। চারপাশের এতো মানুষজন কিন্তু সবাই কেমন জানি। কারও মাঝে কোন মায়া নেই, টান নেই, সবাই যেন ঠকাতে ব্যস্ত।&amp;nbsp; রোজ রোজ এসব দেখতে দেখতে কেমন যেন সবার থেকে বিশ্বাসটা উঠে যাচ্ছে। হয়ত একটা সময় আসবে যখন আমরা খুব সহজে কাউকে আর বিশ্বাসই করতে পারব না!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কখনো কখনো দম বন্ধ হয়ে আসে। জীবনটা আর চলে না। তবুও আমরা চালিয়ে নেই। কারণ আমরা জানি আমাদেরকে এভাবেই বাঁচতে হবে। কিন্তু মাঝে মাঝে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে। বলতে ইচ্ছে করে আমরা এভাবে বাঁচতে চাই না। আমরা একটু মানসিক শান্তি নিয়ে সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই। কিন্তু কে শুনবে? হয়ত শুনার মানুষগুলোও হন্যে হয়ে আমাদের মতোই কাউকে খুঁজছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমরা বেঁচে অাছি। কিন্তু ভালো আছি কিনা এই প্রশ্নটা করা অবান্তর! কোথাও কেউ ভালো নেই! এই ভালো না থাকার গল্পটা আমাদের একার না; সবার। বাহিরে থেকে আমরা মানুষটাকে যেটা দেখছি সেটা একটা আবরণ মাত্র। অভিনয়! বেঁচে থাকার অভিনয়, সুখে থাকার অভিনয়। কি সুনিপুণ অভিনয় করে যাচ্ছে মানুষ। বুঝার উপায় নেই। অভিনয় করেই জীবন চলছে। চলুক.....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২১. যেটা আমাদের হওয়ার নয় সেটাকাই আমরা সবচেয়ে বেশি চাই। যারা আমাদেরকে মূল্য দেয় না তাদের কাছেই আমরা নত হয়ে থেকে যেতে চাই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেউ গুরুত্ব দিলে তাকে দূরুত্বে ঠেলে দেওয়া আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি। আবার দিনশেষে অন্য কারও কাছে গুরুত্বহীন হয়ে অসহায় হয়েই আমরা বাঁচি। সকল আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে তার কাছে গুরুত্ব পেতে চাই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানুষ বরাবরই এমন! আকাশ ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখার আনন্দকে সবসময়ই ছোট করে দেয়। বেঁচে থাকার আনন্দের চেয়ে জগতের সুখ দুঃখ এগুলোই আমাদের কাছে বড়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পুরো পৃৃথিবী আমাকে ভালোবাসে তবুও ঐ যে নির্দিষ্ট একজন আমাকে উপেক্ষা করলো। আমাদের সব অপেক্ষা শুধু তার জন্য। উপেক্ষিত স্থানে মায়ার প্রলেপ দিয়ে আমরা ডেকে দিতে চাই আমাদের সহস্র দুঃখবোধ, আমাদের সব না পাওয়া! গুরুত্ব না পেলেও সেখানেই সহসা মায়াজাল বুনে যাই আমরা। এমন কেন আমরা!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেখক- মেহেদী হাসান শুভ্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/1840509462336357358/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_94.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1840509462336357358" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1840509462336357358" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_94.html" rel="alternate" title="মেহেদী হাসান শুভ্রের সেরা ২১টি জনপ্রিয় লিখনী" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi87z0uqmZRYqDI7_K_v08wqi0nK6fEHNClrwhmgEme_Y0m3sV4ADoUsChTMFGc5zr9FVvXDA3bzfYdXz_u1D-c5w-nEE0gQON05ioeMhGOinBLuKcBve8kys1Q9fny9Um4lC8feTdhwyU/s72-c/1690450187548954-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-6623902640772981826</id><published>2023-07-27T01:31:00.001-07:00</published><updated>2023-07-27T01:31:49.879-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Relationship"/><title type="text">তুমিময় অনুভূতি</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgPJbjCdqX49Lh30qt0gWsTGnJa6gRGTI5rpHE5Mq8mCbXCVaG7bczsHw_sqaKbrNqq52WNluQGS0wkYyNezngadk7MKG-rssJoj1kE_wkNiFw0Z-wrmkyfJEgbYGT1MLP-F3wO7ZORgAc/s1600/1690446703252146-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgPJbjCdqX49Lh30qt0gWsTGnJa6gRGTI5rpHE5Mq8mCbXCVaG7bczsHw_sqaKbrNqq52WNluQGS0wkYyNezngadk7MKG-rssJoj1kE_wkNiFw0Z-wrmkyfJEgbYGT1MLP-F3wO7ZORgAc/s1600/1690446703252146-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাঁতপাচ না ভেবেই হুট করে রিকশায় উঠে গেলাম আমি। পাশের টং দোকানে চা খাচ্ছে আমার একমাত্র ক্রাশ ।ক্রাশের সামনে আসলেই আমার হার্টবিট উসাইন বোল্টের ন্যায় দৌড়াতে থাকে।কেমন অসার অসার লাগে।লুকিয়ে লুকিয়ে দেখার সময় মনে হয়,এই মনে হয় ধরা পড়ে গেলাম।উফফ!!কি জ্বালা!!শান্তিতে একটু দেখতেও পারিনা ক্রাশটাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তো আমি আসলে এখন কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলাম।বাসার কাছাকাছি আসতেই দেখি সয়ং ক্রাশ মহাশয় পাড়ার টং দোকানে চা খাচ্ছেন।এমনেই আমি দেখতে সুন্দর না।তার উপর কলেজ থেকে ফিরছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ক্লান্তিতে চেহারার বিধস্ত অবস্থা।আয়না নেই সাথে,নয়তো নিশ্চিত বলে দিতে পারতাম আমাকে ঠি ক ভূতের মতো লাগছে।এখন এই বিধস্ত অবস্থায় তো আর ক্রাশের সামনে থাকা যায়না।তাই নিজেকে আড়াল করতেই সামনে থাকা রিকশায় উঠে গিয়েছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পাশ থেকে কেউ ডাকছে বুঝতে পারছি কিন্তু আমি এখন ক্রাশকে দেখতে ব্যস্ত আশে পাশে কে ডাকছে সেসব নিয়ে মাথাব্যাথা নেই।রিকশা একটু এগিয়ে যেতেই ক্রাশকে আর দেখা গেলো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এইযে,কে আপনি? আশ্চর্য তো!!হুট করে রিকশায় উঠে গেলেন।এত ডাকছি শুনতে পাচ্ছেন না,বধির নাকি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কারো রাগী কন্ঠে ধমক শুনে এবার পাশ ফিরে তাকালাম।একজন সুদর্শন যুবক আমার পাশে বসে আছে।আরে!!এ কে!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনি আমার পাশে কি করছেন?বেশ জোরেই বলে উঠলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উচ্চস্বরে কথা বলায় রাস্তার বেশ কিছু মানুষ সোজা আমাদের রিকশার দিকে তাকালো।এমনকি রিকশা আলাও একবার ঘাড় ঘুড়িয়ে পরখ করে নিলো।এবার আমি একটু মিইয়ে গেলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আরে আস্তে,আপনিতো আমাকে গণধোলাই খাওয়াবেন দেখছি।রিকশায় উঠলেন আপনি আর বলছেন আমি আপনার পাশে কি করছি?অদ্ভুত পাগল তো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এবার ব্যাপারটা বুঝলো মিহু।তাড়াহুড়ো করে তখন এই লোকের রিকশায় উঠে বসেছে সে।তবুও দমে গেলে তো হবেনা।তার উপর লোকটা ওকে পাগল বলেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কনফিডেনস নিয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই,পাগল কাকে বলেন?রিকশায় উঠেছিতো কি হয়েছে হ্যাঁ?আমিতো ওতো মোটা না যে সব জায়গা নিয়ে বসেছি।আপনিতো আর জায়গায় অভাবে রিকশা থেকে পড়ে যাচ্ছেন না,তাইনা?তো এত সমস্যা কিসের?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সমস্যা কিসের মানে?আপনি এরকম যার তার রিকশায় উঠে পরবেন নাকি?একটা ছেলের সাথে বাড়ি ফিরছেন আপনার বাসার লোক কিছু বলবে না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটু চিন্তায় পরে গেলো মিহু।লোকটা অবশ্য ঠি কই বলেছে। একহাত দিয়ে মাথা চুলকে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা,যান ঠিকাছে।আমার বাসা সামনেই,আমি তার একটু আগেই নেমে যাব।আর ভাঁড়াটাও দিয়ে দিব।এবার খুশি?কিপটা কোথাকার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মেয়েটার কথায় অবাক না হয়ে পারলোনা অভি।ও কিপটা?লাইক সিরিয়াসলি?তবুও কিছু বললোনা।এই মেয়ের সাথে যতো কথা বলবে ততোই কথা বাড়বে।চুপ থাকাই ভালো।সামনে নেমে গেলেই ঝামেলা শেষ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষণ চুপ থেকে কৌতুহল নিয়ে প্রশ্নটা করেই ফেললো অভি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনি এত কি দেখছিলেন ওই ছেলেটাকে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হকচকিয়ে যায় মিহু।আমতা আমতা করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কোন ছেলে?আমিতো কাউকেই দেখছিলাম না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি নি:শব্দে হেসে দেয়।সন্ধিহান গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ক্রাশ নাকি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ধ্যাত্ বেশি বুঝেন কেন?ওই ছেলে আমার ক্রাশ হবে কেন?উলটা আমিই ওর ক্রাশ।দেখলে ডিসটার্ব করবে তাইতো আপনার রিকশায় উঠে গেলাম বুঝলেন।হুহ্।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিজের টেলেনট দেখে নিজেই মুগ্ধ মিহু।কি সুন্দর করে বানিয়ে কথা বলতে পারে।বাহ্।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হুম,বুঝলাম তো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মেয়েটার বাচ্চামো কথায় না হেসে পারেনা অভি।সে খুবই রাগী।অন্য কেউ হলে এতক্ষণে সে কি করতো তা সে নিজেও জানেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একবার আড়চোখে সচেতনভাবে মেয়েটার দিকে তাকায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রিকশার একদম পাশ ঘেঁষে বসে আছে সে।একটু হলেই পরে যাবে।চোখের দৃষ্টি বাইরের দিকে।ঘন পাপড়ির আড়ালে গভীর কালো চোখদুটো যেন ঢেকে গেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হাল্কা বাতাসে মাথায় থাকা ওড়না পড়ে যায় মিহুর।দৃষ্টি সরিয়ে নেয় অভি।একটা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকা মোটেও কোন শোভনীয় কাজ নয় সেটা সে জানে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু দ্রুত ওড়না টেনে নেয়।আজকে সকালে তাড়াহুড়োয় হিজাবটাও পরতে পারেনি সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আঙ্কেল থামান।আমি এখানেই নামব।রিকশা থামলে মিহু দ্রুত নামতে যেয়ে হোঁচট খায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মৃদু ধমকের সরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আরে আসতে,এত ছটফট করেন কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু একপলক তার দিকে দৃষ্টি দেয়।চোখাচোখি হয়ে যায় তাদের।অভি চাইলেও দৃষ্টি সরাতে পারে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চোখ নামিয়ে নেয়।অসস্তি হয় তার।আমতা আমতা করেও কিছু না বলে ব্যাগ থেকে টাকা বের করতে নিলেই অভি বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হয়েছে।আপনার ভাড়াঁ দিতে হবেনা ভাড়াঁ দেয়াই আছে।আপনি বাসায় যান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কিন্তু.&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ইশারায় যেতে বলে।মিহু কথা বাড়ায় না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাসার গেট দিয়ে ঢুকতেই পিছে ফিরে দেখে ছেলেটা রিকশা থেকে ওর বাসার সামনেই নামছে।এমনকি গেট দিয়েও ঢুকে গিয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দ্রুতপায়ে এগোতে এগোতে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সমস্যা কি আপনার?এখন কি বাসায় এসে কমপ্লেন করবেন নাকি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর কথায় ভ্রু কুচকে তাকায় অভি।শান্ত গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি এখানেই এসেছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিরক্তি নিয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে মিহু।ভাবে হয়তো কোনো ভাড়াটিয়ার বাসায় এসেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একসাথেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে তারা।তৃতীয় তলায় এসে অভি বেল বাজালেই বিস্মিত কন্ঠে মিহু বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনার ভুল হচ্ছে।এটা আমার বাসা।আপনি হয়তো অন্য কোনো..এটুকু বলতেই গেট খুলে দিলো সাদিফ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মিহুর বড় ভাই।মিহুর থেকে প্রায় ছয় বছরের বড়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অভি,আয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ভেতরে ঢুকতেই মিশুকে দেখে সাদিফ।অভির পিছে এতক্ষন দেখাই যাচ্ছিলো না মেয়েটাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই দাড়িয়ে আসিছ কেন?ভেতরে ঢুক।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ধীরপায়ে ভেতরে ঢুকে মিহু।মনে মনে তার হাজার চিন্তা।লোকটা কি তার ভাইকে কিছু বলে দিবে নাকি।ধুর..সব ছেড়ে এর রিকশায়ই উঠতে হলো।আর উনারই ভাইয়ার বন্ধু হতে হলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উফফ..পৃথিবাটা গোল।আসলেই পৃথিবীটা গোল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিজের ঘরে যেয়ে দরজা আটকে দেয় মিহু।বিছানায় ব্যাগটা রেখে জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফ্রেশ হয়ে বের হতেই রান্নাঘর থেকে মায়ের ডাক শুনে রুমের বাহিরে পা বাড়ায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাইয়ের রুম কাটিয়ে যাওয়ার সময় হাসাহাসির শব্দ শুনে মনে মনে সস্তি পায় সে।অভি কিছু বলেনি এই ভেবেই চিন্তাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রান্না ঘরে ঢুকতেই দেখে মা বিরিয়ানি রান্না করছে।ভ্রু কুচকে ফেলে মিহু।সন্ধিহান কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এসব রান্না করছো কেনো?কেউ আসবে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পিছন ফিরে তাকায় নাজিফা বেগম।মিহুর উদ্দেশ্য বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যাঁ,তোর বড় মামা আসবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বড় মামার কথা শুনে মনটাই ভালো হয়ে গেলো মিহুর।এই মানুষটা মিহুর খুব বেশি প্রিয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মায়ের ডাকে ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো মিহু।নাজিফা বেগম মেয়ের হাতে একটা ট্রে ধরিয়ে দিয়ে বললেন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এটা যেয়ে সাদিফের রুমে দিয়ে আয়।ওর বন্ধু আসছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ইতস্তত করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমেনা খালা যেয়ে দিয়ে আসেন।আমি পারবোনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-দেখছিস না আমেনা কাজ করছে।ও পারবেনা।তুই যা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিরক্তিকর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ট্রে টা হাতে নেয় মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফের রুমে যেয়ে দরজায় দাড়িয়ে করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া দরজা খুলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ যেয়ে দরজা খুলে দেয়।মিহুর হাতে খাবার দেখে সাইড দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-টেবিলে রেখে দে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ধীরপায়ে ভেতরে ঢুকে সাবধানে ট্রে টা রেখে দেয়।আড়চোখে একবার অভির দিকে তাকায়।অভিকে গভীরভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে পরক্ষনেই চোখ নামিয়ে নেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিছানায় হেলান দিয়ে একহাতে ফোন নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মিহুকে পর্যবেক্ষন করছিল অভি।যদিও মুখের ভাব নির্বিকার।মিহু চলে যেতেই স্বাভাবিকভাবে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কোন ক্লাসে পরে তোর বোন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ইন্টারে।সেকেন্ড ইয়ার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি বাঁকা হাসে।বিরবির করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওহহো।বাচ্চা মেয়ে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কিছু বললি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নাহ্,ভালো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ড্রইংরুমে বসে খোশমেজাজে আড্ডা দিচ্ছে সবাই।মিহু বসে আছে তার বড় মামার পাশে।মিহুর পাশে তার মামাতো বোন ফারিয়া।তাদের মুখোমুখি সোফায় বসেছে সাদিফ আর অভি।আর একটা সোফায় বসে আছে মিহুর বাবা ইমতিয়াজ আহমেদ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি হাসিমুখে আফতাব হোসেন এর সাথে কথা বলছে।আফতাব হোসেন রীতিমতা মুগ্ধ তার কথা-বার্তায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অনেকক্ষন যাবত ফারিয়া মিহুর মাথা খেয়ে যাচ্ছে।অভির ব্যাপারে হাজারটা প্রশ্ন করে তার প্রশংসায় মিহুর মাথা ব্যাথা বানিয়ে ফেলছে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি কিছু জানিনাতো ফারিয়া।উনি ভাইয়ার ফ্রেন্ড শুধু এটাই জানি আর কিছু জানিনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জানিসনা তো কি হয়েছে?জানবি।ছেলেটা যে কি সুন্দর দেখতে।কথা বলার স্টাইলটা কি সুন্দর।মিহুরে আমিতো ক্রাশ খেয়ে গেলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু বিরক্তি নিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোর কয়জনকে ভালো লাগে?যাকে দেখিস তার উপরই ক্রাশ খাস।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ধ্যাত্ তুই বুঝবিনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কিছু বলেনা।এই মেয়েকে বুঝিয়ে লাভ নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_______________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সন্ধ্যাবেলা মিহু রুমে বসে ফোন চালাচ্ছে।ফারিয়াও তার সাথেই আছে।হঠাৎই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো নাফিসা বেগম।ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলল,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মিহু,সাদিফ ডাকে তোকে।ওর রুমে যা।...আর ফারিয়া নিচে চল মা নাস্তা খেয়ে নে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু উঠে যায়।সাদিফ কেন ডাকছে ভেবে পায়না সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গুটিগুটি পায়ে ভাইয়ের কাছে যেতেই সাদিফ গম্ভীরভাবে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোকে নাকি কোন ছেলে ডিসটার্ব করে রাস্তায়?কে?আমাকে আগে বলিস নাই কেনো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চুপ হয়ে যায় মিহু।অভির দিকে তাকিয়ে দেখে তার মুখে দুষ্টামি ভরা হাসি।দুই আঙ্গুল দিয়ে থুতনি চেপে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার ভাইকে চিনে সে।খুব রাগী।আমতা আমতা করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না মানে হ্যাঁ.....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ ভ্রু কুচকে তাকায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমাকে আগে বলবি না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আ..আসলে...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার কথা টেনে নিয়েই অভি বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোর কাছে বলতে লজ্জা পায় হয়তো..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু দাঁতে দাঁত চেপে তার দিকে তাকায়।অভি যে তাকে রাগানোর জন্য এমন করছে সেটা সে ভালো করেই বুঝতে পারছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা,ঠিকাছে।যা তুই।আর কালকে আমার সাথে যাবি কলেজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মাথা নাড়িয়ে বের হয়ে যায়।মেজাজটা প্রচন্ড পরিমাণে গরম হয়ে আছে।এই ব্যাটা এতো অসভ্য কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার কি দরকার ছিল ভাইয়াকে বলার?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শেষে কিনা তার ভাইয়ের হাতেই তার ক্রাশ মার খাবে?উফ!!জাসট অসহ্যকর!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাইরে বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছে সাদিফ।কানে ফোন নিয়ে কার সাথে যেন কথা বলছে।পরণে ব্লু জিনস আর ব্ল্যাক শার্ট।চোখে কালো সানগ্লাস।হাত দিয়ে বারবার সামনের চুলগুলো পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুকে বের হতে দেখে চোখের ইশারায় বসতে বলে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মাথা নাড়িয়ে বাইকে উঠে বসে।মনে মনে বারবার দোয়া করছে তার ক্রাশ অর্থ্যাৎ অনিক যেন আজকে না থাকে যাওয়ার পথে।কোনোভাবেই যেন না থাকে!!থাকলে যে তাকে কি একটা পরিস্থিতিতে পরতে হবে তার জানা নেই।দুই দিক দিয়েই ফেঁসে যাবে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বড় রাস্তার মোড়ে যেয়ে বাইক থামায় সাদিফ।মাথাটা হাল্কা ঘুড়িয়ে জিজ্ঞেস করে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওই না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফের ডাকে হুঁশ ফেরে মিহুর।অন্যমনস্ক হয়ে অতিরিক্ত চিনতায় ডুবে ছিলো সে।মাথা তুলে দেখে অনিক দাড়িয়ে আছে রাস্তার ওপাশে।সাদিফ কেমনে চিনলো বুঝে উঠে না সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যাঁ,তুমি কেমনে চিনলে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অভি বললো কালকে।আর আমি চিনিতো ওকে।বলতে বলতেই বাইক থেকে নেমে দাড়ায় সাদিফ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হাত ধরে বোনকে নামিয়ে দেয়।হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে মুখের ঘাম মুছে মিহু।কোনোভাবে আজকে সামাল দিতে পারলেই হয়।আর কোনোদিনও অনিকের দিকে ফিরেও তাকাবে না সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গুটিগুটি পায়ে ভাইয়ের পিছে দাঁড়ায় মিহু।সাদিফ শান্ত গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অনিক তুমি ওকে ডিসটার্ব করো?এই বয়সেই এসব শিখছো?তোমার বয়স পার করে এসেছি আমি।এই বয়সে ধমকে কাজ হয়না।হিতে বিপরীত হয়।তাই আমি ভালো করেই বলছি তোমাকে এসব ছাড়ো।আমি যেন আর কখনো না শুনি তুমি এসব করছো।গট ইট্?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু অনিকের রিয়েকশন দেখার জন্য অপেক্ষা করেছিলো।তবে সে যা ভেবেছিলো তেমন কিছুই হলোনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বরং হলো তার উল্টো।অনিক মাথা নিচু করে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সরি ভাইয়া আর কখনো হবেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু হতবাক,চমকিত।হলোটা কি?ভ্রু কুচকে নিজেকে চিমটি কাটলো সে।নাহ্,ব্যাথা তো পাচ্ছে।তারমানে সত্যি!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অনিকের দিকে তাকায় সে।অনিক স্বাভাবিকভাবে দাড়িয়ে আছে।তাকে দেখে মনে হচ্ছে যা হচ্ছে তাই যেন হবার ছিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;__________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চলে যেতেই একটা বাইক এসে থামে সেখানে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হেলমেট খুলে চুলগুলোতে হাত চালাতে চালাতে অভি বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-গুড জব,অনিক।যেমনটা বলেছিলাম ঠি ক তেমনটাই করেছো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জি ভাইয়া।আপনি বলেছেন আমি না করবো নাকি?বলেই হাসলো অনিক।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অভি হেলমেটটা পরতে পরতে বললো,হুম গুড।কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবা।আজকে আসি।আল্লাহ হাফেজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আল্লাহ হাফেজ ভাইয়া।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাইক স্টার্ট দিলো অভি।মুখে তার দুষ্টু হাসি।মিহুর চিন্তিত চেহারাটা দেখে যে তার কি পরিমাণ হাসি পাচ্ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অনিককে সে আগেই বলে রেখেছিল যেন সাদিফ আসলে সে দোষটা নিজের বলেই স্সিকার করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুকে অপমান করার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা তার।সে শুধু এটাই বোঝাতে চেয়েছিলো যে মিথ্যা বললে কতটা ঝামেলায় পরতে হয়।আর মিহুর চেহারা দেখে সে এতটুকু আশ্বস্ত হয়েছে মিহু অন্তত মিথ্যা বলবে না আর কখনো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;__________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কলেজের সামনে বাইক থামায় সাদিফ।হাত বাড়িয়ে মিহুকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সাবধানে নাম।পরিস না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাইক থেকে নামতে নিলে সবসময়ই হোঁচট খায় মিহু।দু তিনবার পরে ব্যাথাও পেয়েছে সে।এজন্যই সাদিফের এক্সট্রা সতর্কতা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু নামতেই পাশে এসে দাড়ায় ইপসা।মিহুর একমাত্র বান্ধবী সে।মিহুর হাত টেনে ধরে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এত দেরি হলে কেন তোর?জানিসনা আজকে ইমপোর্টেনট ক্লাস আছে।আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল সে তবে সাদিফকে দেখে থেমে যায়।সাদিফ তখন হাতের ঘড়ি ঠি ক করতে ব্যস্ত।একনজর ইপসাকে দেখে সে।তারপর মিহুর দিকে তাকিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-একা আসতে পারবিনা?নাকি আমি নিতে আসবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না না।আমি একাই পারবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"আচ্ছা"বলে দ্রুত বাইক ছুটিয়ে চলে যায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু দীর্ঘ:শ্বাস ফেলে।আজকের ঘটনায় সে খুবই দিধা গ্রস্থ।এখনো তার মাথায় কিছুই ঢুকছেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা বাহু ঝাঁকিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই কি হলো তোর?চল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হুম যাচ্ছি।চল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ক্লাস রুমে বসে আছে তারা।এখন ব্রেক টাইম।ইপসা গালে হাত রেখে মনোযোগী হয়ে মিহুর কথা শুনছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু একহাত দিয়ে তুড়ি বাজিয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই কি আদো আমার সব কথা বুঝতে পারছিস ইপসা?এমন ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছিস কেনো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-পারছি রে দোস্ত পারছি।শুধু সব না একটু বেশিই বুঝতে পারছি আমি....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কলেজ থেকে বাসায় ফিরে সোফায় ধপ করে বসে পরে মিহু।ক্লান্তিতে ঘুম আসছে তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এতক্ষন ইপসার ননস্টপ বকবকানি শুনে কানগুলো পর্যন্ত ব্যাথা হয়ে গেছে ।হিজাবটা খুলে সোফায়ই গা এলিয়ে দেয়।কিছুক্ষনের মধ্যে ঘুমিয়েও যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘুম ভাঙে সাদিফের ডাকে।চোখগুলা ছোট ছোট করে বিরক্তিমাখা কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কি সমস্যা তোমার?দেখছো না ঘুমাচ্ছি?ডাকো কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই ভরদুপুরে তুই ঘুমাচ্ছিস?তাও বসার ঘরের সোফায়?বাড়িতে কি জায়গা কম হয়ে গেছে?যা নিজের রুমে যা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু একহাতে চোখ কচলায়।হাই তুলে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ধ্যাত্।তুমি কি এখন সোফায় বসে বসে সার্কাস করবে হ্যাঁ?একটু ঘুমালে কি হয়?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"থাকনা ওকে ঘুমাতে দে"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেছন থেকে কারো পুরুশালী কন্ঠে চমকে উঠে মিহু।ঘুম উড়ে যায় নিমিষেই।জলদি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে নিলেই প্রচন্ড জোরে চিৎকার করে উঠে।ঘাড়ে হাত দিয়ে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে তার।অনেকক্ষন এককাত হয়ে শুয়ে ছিল তাই হঠাৎ করে ঘাড় ঘুরানোতে ঘাড়ের পেশিতে টান পরেছে তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ দ্রুত ধরে মিহুকে।চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে অস্থির কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কি হলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর চিৎকারে নাজিফা বেগম রান্নাঘর থেকে ছুটে এসেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেও চিন্তিত গলায় বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কি হলো?ঘাড়ে ব্যাথা করছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু অস্পষ্ট সরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি এগিয়ে যায়।কিছুটা অপ্রস্তুতভাবে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হঠাৎ নড়ে যাওয়ায় পেশিতে টান পরেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ তাকায়।বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তাহলে এখন?ঠি ক হবে কিভাবে? ডাক্তার ডাকবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ম্যাসাজ করে দিলেই ব্যাথা কমে যাবে।তারপর কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে,আমি করবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ দ্রুত উঠে দাড়ায়।অভিকে নিজের জায়গায় বসতে বলে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কর তাড়াতাড়ি কর।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুর পাশ ঘেঁষে বসে।নরম গলায় মিহুকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হাতটা সরাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ঘাড়ে রাখা হাত সরিয়ে নেয়।চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে আছে সে।অনেক জায়গায় দেখেছে কোথাও মচকে গেলে একটানে ঘুরিয়ে দেয় আর মচকানো জায়গা ঠি ক হয়ে যায়।এখন যদি এই লোকও ম্যাসেজের নাম করে ধুম করে তার ঘাড় ঘুরিয়ে দেয়?ভেবেই শিঁউরে উঠে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার ভাবনাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমান করে অভি এমন কিছুই করেনা।সে আলতো করে ঘাড়ে হাত দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ম্যাসেজ করতে থাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর অসস্তি হয়।অভি তার অনেকটা কাছে বসে আছে।অভির ঠান্ডা হাতের ছোঁয়ায় ভিতরে ভিতরে বারবার কম্পিত হচ্ছে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছু পোড়ার গন্ধ নাকে আসতেই দ্রুত রান্নাঘরে ছুট লাগায় নাজিফা বেগম।তরকারি না নামিয়ে গ্যাস জালিয়েই চলে এসেছিল সে।নিশ্চিত সব পুড়ে শেষ!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বেশ কিছুক্ষন ম্যাসেজ করার পরও মিহুর কোনো পরিবর্তন দেখতে পেলোনা সাদিফ।সে এখনো চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে।না পেরে অধৈর্য গলায় অভিকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অভি?ব্যাথা তো কমেনি মনে হয়।ওকে হসপিটালে নিয়ে যাই?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আরে না রে।..মিহু ঘাড়টা ঘুরাওতো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মৃদু কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নাহ্,ব্যাথা করবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-করবেনা তুমি ঘুরিয়েতো দেখো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চোখ খুলে।আড়চোখে একবার অভিকে দেখে।ধীরে ধীরে ঘাড়টা ঘুরায়।নাহ্,কোনো ব্যাথা নেই।সে অবাক হয়।উৎফুল্ল কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া সত্যিই ব্যাথা নেই।আবার আগের মতো হয়ে গেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফের ঠোঁটের কোঁণে হাসি ফুটে উঠে।হাসিমুখে অভির দিকে তাকায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ব্যাথার মলম থাকলে নিয়ে আয়।লাগিয়ে দিলে ভালো হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আনছি।বলে দ্রুতপায়ে নিজের ঘরে যায় সাদিফ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি নি:শব্দে হেসে দেয়।সাদিফের মতো রাগী মানুষও বোনের সামান্য ব্যাথায় কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর পাশ থেকে কিছুটা দূরে সরে বসে অভি।পকেট থেকে ফোনটা বের করে আড়চোখে মিহুর দিকে তাকায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কোমড় পর্যন্ত লম্বা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে আছে পিঠে।ওড়নাটা যে মেঝেতে পরে আছে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মেয়েটা হয়তো খেয়াল করেনি।অস্থিরতায় ভরা দৃষ্টি সরিয়ে ফোনের দিকে তাকায় অভি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কি করবে বুঝতে পারেনা।হঠাৎ মেঝেতে চোখ পরতেই আবারও চমকে উঠে।তার ওরনা মেঝেতে পরে আছে!!তারমানে অভির সামনে সে এতোক্ষণ ওড়না ছাড়া ছিলো?আল্লাহ্!অভি না জানি কি মনে করেছে।একটানে ওরনাটা উঠিয়ে টনের্ডোর গতিতে নিজের রুমে যেয়ে দরজা আটকে দেয় মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি হাসলো।মেয়েটা আসলেই বাচ্চা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মলম নিয়ে আসে।মিহুকে না দেখে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কই গেলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওই রুমে।অভি হাত দিয়ে ইশারা করে।তারপর বলে,পরে লাগিয়ে দিস মলম।সমস্যা হবেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;______________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া, আমার ফোনের চার্জার কোথায়?তুমি নিয়েছো?বলতে বলতেই সাদিফের রুমে ঢুকে মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্টাডি টেবিলে এতগুলা কাগজপত্র নিয়ে অভিকে বসে থাকতে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে যায়।এরা যে এত পড়াশোনা করে কি মজা পায় এটাই ভেবে পায়না মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একবার ঘরে চোখ বুলিয়ে দেখে সাদিফ নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি দ্রুত বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সাদিফ ওয়াশরুমে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওহ্ আচ্ছা।বলে নিজেই যেয়ে ড্রয়ারে খুঁজতে থাকে।পেয়েও যায়।চার্জার নিয়ে বের হতে গেলে অভি বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কোথায় গিয়েছিলে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু বুঝতে পারেনা অভির কথা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জি মানে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মানে তখন যে এত জোরে দৌড় দিলে,মনে তো হচ্ছিলো তোমার রুমে কোন রেল স্টেশন আছে আর তোমার ট্রেন ছুটে যাচ্ছে।তাই বলছি,ট্রেনে করে কোথায় গিয়েছিলে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর রাগ হয়।মুখ ভেংচিয়ে রাগী কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনার শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম।আপনিও যাবেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে যায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি একা একাই হাসে।এক আঙ্গুল দিয়ে কপালের সাইডে ঘঁষতে ঘঁষতে বিরবির করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমিতো আমার শ্বশুরবাড়িতেই আছি।.....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মুষুলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।সাথে তুমুলবেগে বাতাস।গ্রীষ্মকালের এই কালবৈশাখীর সময় কোনো আগাম বার্তা ছাড়া এমন হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি&amp;nbsp; অস্বাভাবিক কিছু নয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটা দোকানের সামনে টি নের সামান্য ছাউনির নিচে জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে আছে মিহু।ভেজা শরীরে ঠান্ডা শীতল বাতাসের স্পর্শ সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পরতেই থরথর করে কাঁপছে সে।ক্রমশ বৃষ্টির ঝাপটা এসে আরো নিপুণভাবে ভিজিয়ে দিচ্ছে তাকে।পরণে হাল্কা গোলাপি রংয়ের থ্রিপিস।জামার হাল্কা রং ভেদ করে সবকিছুই প্রায় দৃশ্যমান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ওড়নাটা মাথা থেকে নামিয়ে ভালোমতো গায়ে জড়িয়ে নিল।ভেজা চুলগুলো কোনরকম হাত দিয়ে গুছিয়ে নেয়।আঁশে পাশে আরো অনেকগুলো লোক দাড়িয়ে আছে।একরাশ অসস্তি নিয়ে এককোণায় নিজেকে আরো একটু গুটিয়ে নিয়ে দাড়িয়ে রইলো সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষণ আগে কলেজ থেকে হেঁটেই বাড়ি ফিরছিলো মিহু।আজকাল হাঁটতে বেশ ভালোলাগে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আকাশে মেঘ করছে দেখে দ্রুত পা চালায়।তবে তার আগেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে যায়।দৌড়ে এখানে আসতে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আসতেই অনেকটা ভিজে যায়।বৃষ্টির সময় রিকশা পাওয়া যায় না।যাও দু একটা আছে সেগুলো রাস্তার ওপারে ।আর এই ভেজা অবস্থায় রাস্তার ওপারে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় মিহুর পক্ষে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মিহু না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরিচিত কারো কন্ঠে মুখ তুলে তাকায় মিহু।সামনে থাকা ব্যক্তিটি তার জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর হওয়া সত্তেও তাকে দেখে এখন বিরক্ত লাগছেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;প্রশ্নের উওরে মৃদু মাথা নাড়ায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সামনে বাইক থামিয়ে দাড়িয়ে আছে অভি।সেও ভিজে চুপচুপে।গায়ের শার্ট লেপটে আছে শরীরের সাথে।হেলমেটটা খুলে চুলগুলো ঝাড়তে ঝাড়তে দ্রুত মিহুর পাশে এসে দাড়ালো সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এখানে দাড়িয়ে আছো কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিলাম।বৃষ্টি নামে মাঝপথেই.....মিহুর কন্ঠ ঈষৎ কেঁপে কেঁপে উঠে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুর দিকে আপাদমস্তক একবার চোখ বুলায়।মেয়েটা ভিজে একাকার।শরীরের প্রতিটি ভাঁজ স্পষ্ট।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দৃষ্টি সরিয়ে আশেপাশের লোকগুলোর বিশ্রী চাহনি দেখে মুহুর্তেই মুখ গম্ভীর হয়ে যায়।কিছু না ভেবেই&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একহাতে কাছে টেনে অন্যপাশে নিয়ে জড়িয়ে ধরে নিজের বলিষ্ঠ দেহ দিয়ে লোকগুলোর চাহনি থেকে মিহুকে আড়াল করে দাড়ায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু সচকিত হয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া কি করছেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি সামনে দিকে তাকিয়েই কাঠকাঠ কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-চুপচাপ এভাবেই থাকো।বৃষ্টি কমলে বাসায় পৌছে দিব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কাঁচুমাচু করে।কিছু বলতে চেয়েও অভির দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মনে মনে শান্তি পায় সে।লোকগুলোকে মোটেও সহ্য হচ্ছিল না তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভির সপর্শে আর যাই হোক কোন খারাপ ছোয়াঁ নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভির শরীর ভিজে বরফ ঠান্ডা হলেও তার সংস্পর্শে এসে কাঁপাকাঁপি কমে গেছে মিহুর।উষ্ম উষ্ম আভাস পাচ্ছে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বৃষ্টি হাল্কা কমেছে।মিহুকে এই অবস্থায় নিয়ে বাইকে যাওয়া যাবে না।তাই রিকশা ঠিক করার জন্য বের হতে নিলেই মিহু ইতস্তত কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনি যেয়ে রিকশা নিয়ে আসেন।আমি এখানেই দাড়াই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুকে আরো একটু শক্ত করে ধরে সহজ গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কেউ কিছু দেখতে পাবেনা।আমি আছিতো.....চলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুকে রিকশায় উঠিয়ে রিকশার পলিথিনটা দিয়ে সুন্দর করে ঢেকে দিল অভি।তারপর নিজেও উঠে বসল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রিকশা চলছে দ্রুত গতিতে।ঠান্ডা বাতাস সাঁই সাঁই করে ছড়িয়ে পরছে তাদের নাকেমুখে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু আবারও কাঁপছে।দাঁতে দাঁত লেগে মৃদু আওয়াজ হচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি শার্টের হাতা ফোল্ড করে চেপে চেপে পানি ঝাড়ছিল।মিহুকে এভাবে কাঁপতে দেখে একহাত পিঠের পিছন দিয়ে মিহুর হাতের বাহুতে রাখে।মধ্যেকার দুরত্ব কমিয়ে আনে।মিহুর গা গরম।জর আসবে বোধহয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু গুটিশুটি হয়ে লেগে থাকে অভির সাথে।শীত সহ্য হয়না তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-খুব ঠান্ডা লাগছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু অস্পষ্ট সরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রিকশার ঝাকুনিতে নড়েচড়ে উঠে মিহু।তাল সামলাতে অভির হাত খাঁমছে ধরে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নখের আঁচরে ব্যাথা লাগে অভির তবুও কিছু বলেনা।মিহুর দিকে আর একবারও তাকায়না সে।মুখ ঘুড়িয়ে কঠিন দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে থাকে।মনের মধ্য বিচরণ করা নিষিদ্ধ অনুভূতিগুলো ঝেড়ে ফেলার তীব্র চেষ্টায় অব্যাহত সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওয়াশরুমে ঢুকে গিজার অন করে দেয় অভি।শার্টটা খুলে ঝুলিয়ে রাখে।মেয়েলি ঘ্রান আসছে তার শার্টটা থেকে।এমনকি তার শরীর থেকেও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি হাসে।আনমনেই বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"এমন নেশাময় পারফিউম তুমি কোথায় পাও মিহুপাখি?"এই ঘ্রানে আসক্ত হয়ে যাবোতো আমি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে লাল হয়ে নখের দাগ বসে গেছে।মুখে পানির ঝাপটা দেয় সে।চোখ বন্ধ করতেই মিহুর স্নিগ্ধ&amp;nbsp; মুখটা,কাঁপাকাঁপা ঠোঁটগুলো,ভেজা পাপরিতে ঢাকা কালো কালো চোখদুটো ভেসে উঠে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখ খুলে জোরে জোরে দুটো শ্বাস নেয় অভি।এ কেমন ঝামেলায় পড়লো সে!!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শাওয়ার নিয়ে মাত্রই বেরিয়েছে মিহু।বের হতেই দেখে বিছানায় নাজিফা বেগম বসে আছে।হাতে তার খাবারের প্লেট।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু হাল্কা হেসে পাশে বসল।মেয়ের হাতে খাবারটা দিয়ে তোয়ালেটা নিয়ে নিলো নাজিফা।মাথা মুছিয়ে দিতে দিতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ছেলেটা খুব ভালো তাইনা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হুম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোদের মধ্য কিছু আছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চমকায়।মায়ের কথার ইঙ্গিত বুঝতে পেরেছে সে।মায়ের সাথে বেশ ফ্রেন্ডলি সে।তাই সহজ গলায় বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কি থাকবে মা?কিছুই নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফা বেগম আর কিছু বলেনা।মেয়ের প্রতি যথেষ্ট বিশ্বাস আছে তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উনি চলে যেতেই দরজা লাগিয়ে দেয় মিহু।পাশে থাকা জরের ওষুধটা খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখটা বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করে।মনে মনে চিন্তা করে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই প্রথম কারো এতটা কাছে ছিলো সে!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মুখের সামনে বই খুলে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে মিহু।মাথায় যদিও কিছু ঢুকছেনা তবুও পড়তে হবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দুইমাস পর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা।পড়াশোনায় ভীষন চাপ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গায়ে মোটা কাঁথা জড়ানো তার।এখনো হাল্কা শীত শীত করছে।ওষুধ খেয়ে নিয়েছিলো বলে হয়তো জরটা আর আসেনি।একবার চোখ তুলে দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকায়,সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা বাজে।সারাটা বিকাল ঘুমিয়েই কাটিয়েছে।আধো আধো ঘুমের ঘোরে কিশোরী মনে অভিকে নিয়ে নানান ভাবনা আসছিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই বয়সটা স্পর্শকাতর।একটু কিছু হলেই আবেগে ভেসে যায় মেয়েদের মন।একফোঁটা আবেগি রং ই যথেষ্ট&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাদের ছোট দুনিয়াটাকে রঙবেরঙে করার জন্য।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দ্রুতবেগে মিহুর রুমে ভিতরে ঢুকে সজোরে দরজা লাগিয়ে দেয় সাদিফ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চোখ তুলে তাকায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফের মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে।চোখ মুখ ফোলা।গভীর ঘুম থেকে ঢেকে তোলা হয়েছে তাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হুড়মুড় করে মিহুর বিছানায় এসে সটান হয়ে শুয়ে পরলো সে।দুই সেকেন্ড পর টান দিয়ে মিহুর কোলে রাখা বালিশটা নিয়ে মাথার নিচে দিতে দিতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কোনো শব্দ করবিনা।নি:শব্দে পড়বি।আমি ঘুমাবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ভ্রু কুচকায়।তেড়ে উঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুমি এখানে ঘুমাবে কেনো?তোমার ঘরে যাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ পাশ ফিরে মিহুর গায়ের কাঁথা টেনে নিয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমার রুমে মা আর আমেনা খালা।পরিষ্কার টরিষ্কার করছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু দীর্ঘ:শ্বাস ছাড়ে।ভাইকে কিছু বলে লাভ নেই।সে এখন ঘুমাবে মানে ঘুমাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ধ্যাত্।এত মোটা করে কাঁথা নেয় কেউ?গন্ডারের চামড়া নাকি তোর!!গরম লাগে না নাকি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কাঁথাটা ধরে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কাঁথাটা ছাড়ো।আমি ভাঁজ খুলে গায়ে দিয়ে দিচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কাঁথাটা সাদিফের গায়ে দিয়ে লাইট অফ করে আলতো করে দরজা ভিড়িয়ে বের হয়ে যায় মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রান্নাঘরে যাওয়ার পথে ভাইয়ের রুমে একবার উঁকি দেয়।মা বিছানা ঝাড়াঝাড়ি করছে আর আমেনা খালা বড় একটা লাঠির মতো ঝাড়ু দিয়ে দেয়ালের কোণের ঝুল ঝাড়ছে।ছোট করে একটা শ্বাস ফেলে মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার মা অতিরিক্ত সুচিবাই টাইপের মানুষ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর ফোন অনবরত বেজেই চলেছে।সাদিফ কানে বালিশ চেপে রাখা সত্তেও শব্দটা তার কানে এসেই চলেছে।এই মিহুটা ফোন রেখে কই গেলো কে জানে!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অধৈর্য হয়ে না দেখেই ফোনটা রিসিভ করে সাদিফ।হ্যালো বলার আগেই ওপাশ থেকে মিষ্টি কন্ঠে ঝাঁঝালো ভাবে ভেসে আসে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওই কই মরছিলি তুই?কতক্ষণ যাবত ফোন করছি।...আচ্ছা শোন আমি একটু তোর বাসায় আসতেছি হ্যাঁ?আমার বায়োলজি প্র্যাকটিকাল খাতাটা তোর কাছে না?কালকে জমা দিতে হবেতো।আমারটা কমপ্লিট হয়নি।ওইটা একটু বের করে রাখ আমি এসে নিয়ে....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ অবাক হয়।ফোনটা কান থেকে সরিয়ে স্ক্রীনের নামটা দেখে,নাম্বারটা "ইপসা চুন্নি" দিয়ে সেভ করা।সাদিফ ঠোট বাকিয়ে হাসে।ভাবে,একটা মানুষ এক নি:শ্বাসে এত কথা কিভাবে বলতে পারে।হাহ্।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে ঘুম জড়ানো ভরাট গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি ওর ভাই।...তুমি আসো,আমি মিহুকে বলে দিচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ ইপসার জবাবের অপেক্ষা করে।কোন উওর না পেয়ে আবার বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ইপসা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে।বুকের ভেতর মনে হয় হাতুরি পিটাচ্ছে কেউ।তবুও গলার সর নামিয়ে কোনমতে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জি ঠিকাছে ভাইয়া।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ ফোন কেটে দেয়।ইপসার মন খারাপ হয়।সাদিফ এমন মুখের উপর ফোনটা কেটে দিতে পারলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটু কথা বললে কি হয়?সে কি এতই খারাপ?আবার পরক্ষনেই ভাবে,কন্ঠ শুনে বোঝা গেল উনি ঘুমিয়ে ছিলেন।ওর ফোন করাতে বিরক্তবোধ করেনিতো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ গলা চড়িয়ে মিহুকে ডাক দেয়।মিহু সবেমাত্র চুলা থেকে কফিটা নামিয়েছে।মগে না ঢেলেই রুমে যায় মিহু।দরজার সামনে দাড়িয়েই বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কি হয়েছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মৃদু ধমকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ফোন নিয়ে যেতে পারিসনা?তোর বান্ধবী ফোন করছিলো।ওর বায়োলজি প্র্যাকটিকাল খাতা বের করে রাখতে বললো।ও নিতে আসতেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু সামনে যেয়ে ফোনটা নেয়।সাদিফ আবারও বালিশে মুখ গুঁজে দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফ্ল্যাশলাইট জালিয়ে খাতাটা বের করে মিহু।লাইট জালায়না বিধায় সাদিফের ঘুমে ডিসটার্ব হয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;___________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ল্যাপটপের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অভি।আমেরিকার পড়াশোনা নিয়ে একটা আর্টিকাল পরছে।মাস্টার্ট ফাইনাল ইয়ারটা শেষ হলেই আমেরিকায় পি এইচ ডি করতে যাবে সে।এরকমটাই প্ল্যান তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ধনী পরিবারের ছেলে ও।চাইলেই বাবার অফিসের কাজে হাত দিতে পারে সে।কিন্তু না শুধু সেটা করতে তার মন সায় দেয় না।নিজেই কিছু করার ইচ্ছা তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আগে নিজে প্রতিষ্ঠিত হবে তবেই বাবার কাজে হাত দিবে।তার আগে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দরজায় নক করার শব্দে ধ্যান ভাঙে তার।ল্যাপটপের থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"আসো"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো নিশাত।পরণে টাইট জিনস আর পাতলা ফিনফিনে একটা টপস্।সোনালি কালার করা চুলগুলো উঁচু করে বাঁধা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি একবার তাকায়।তারপর চোখ নামিয়ে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোর এখানে কি কাজ নিশাত?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশাত উওর দেয়না।দৌড়ে এসে অভিকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে।অভি চমকায় না।নিশাত এমনই গায়ে পড়া সভাবের।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে ধমকে উঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নিশাত ছাড়।তোকে কতবার বলেছি হুটহাট এমন করবিনা।ছাড় বলছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশাত ছাড়েনা।অভি নিজেই জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেয়।নিশাত গা ঘেঁষে বসে পরে।ওর গা থেকে তীব্র পারফিউমের গন্ধ আসছে।গন্ধটা সহ্য হচ্ছেনা অভির।মাথা ধরে যাচ্ছে।কই মিহুর গা থেকে তো কতো মিষ্টি ঘ্রান আসে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একহাত দিয়ে কপাল চেপে ধরে অভি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই যাচ্ছিস না কেনো?দেখতে পাস না কাজ করছি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশাত অভির হাত ধরে।হাতের বাহুতে মাথা ঠেকিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুমি এমন করো কেনো ভাইয়া?দেখো আমি কতো সুন্দর করে সেজে এসেছি তোমার জন্য।দেখো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি তাকায়না।গম্ভীর কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই আমার জন্য সাজবি কেনো?পাগলামো না করে যা প্লিজ।আমাকে রাগতে বাধ্য করিসনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশাত হতাশ হয়।সরে বসে অভির থেকে।অভিকে রাগাতে চায়না ও।খটখট করে হীল জুতার শব্দ তুলে বের হয়ে যায় রুম থেকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি দরজার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ:শ্বাস ছাড়ে।নিশাতের পাগলামির কারণ সে জানে,বুঝে।মেয়েটা তাকে ভালোবাসে।কিন্তু তার কিছুই করার নেই।সে যে তাকে ভালোবাসেনা।মনে বিরুদ্ধে কার জোর খাটে?নিশাতের শরীরের প্রতি বিনদু মাত্র আকৃষ্ট হয়না সে।জোর করে তো ভালোবাসা যায় না।সে ভেবেছিলো সে কখনোই কাউকে ভালবাসতে পারবে না।কখনো কারো জন্য এমন অনুভূতি তৈরিই হবেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু না,সে ভালোবেসেছে,প্রবলভাবে ভালোবেসেছে।প্রকৃতি তাকে ভালোবাসার জালে ফাঁসাতে সক্ষম হয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে ভালোবেসেছে তার প্রাণপ্রিয় মিহুপাখি কে....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ এর বিছানায় পা গুটিয়ে বসে আছে ইপসা আর মিহু।সামনে দুটো বাটিতে পেঁয়াজু আর বিস্কিট রাখা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সন্ধ্যে হয়ে গেছে তাই ইপসা খাতা টা নিয়েই চলে যেতে চেয়েছিলো।কিন্ত নাজিফা বেগমের জোড়াজোড়িতে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষনের জন্য থেকে গিয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর রুমে সাদিফ শুয়ে আছে এজন্যই সাদিফের রুমে এসে বসেছে তারা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা খানিকক্ষণ আশেপাশে চোখ বুলিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-উনি খুব শৌখিন।খুব গোছানো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু একটা পেঁয়াজু মুখে নিয়ে চিবাতে চিবাতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়ার কথা বলছিস?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসার হুঁশ ফিরে।সে অসস্তিভরা কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না মানে হ্যাঁ,রুমটা...রুমটা খুব সুন্দর করে সাজানো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু অদ্ভুতভাবে হাসে।ইপসা সচেতন চোখে তাকায়।মিহুর কি হলো?সে তো কখনো এতো সিরিয়াস থাকে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে সন্ধিহান কন্ঠে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোর আবার কি হলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কিছু বলবে তার আগেই দরজা খোলার শব্দে দুজনেই সেদিকে ফিরে তারায়।নাজিফা বেগম হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন।দ্রুত গলায় বললেন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মিহু,যা সাদিফকে ডেকে বল ইপসাকে বসায় পৌছে দিতে।দেরি হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা হচকচিয়ে যায়।সাদিফের সাথে বাসায় ফিরবে সে!!তাড়াহুড়ো করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না আন্টি।আমি একাই যেতে পারবো।সমস্যা হবেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফা বেগম আপোত্তি করে বলেলেন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না না।এই সন্ধ্যা বেলা একা একা যাওয়া যাবেনা।বিপদ-আপদ বলে কয়ে আসে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা চুপ করে যায়।এই কথার পিঠে কিছু বলার মতো যৌক্তিক যুক্তি পেলো না সে।অগত্যা রাজি হওয়া ছাড়া কোন উপায়ান্তর পেলোনা ও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ধীরপায়ে সাদিফের পিছে উঠে বসল ইপসা।সাদিফের পরণে ট্রাওজার আর হাফ হাতা গেনজি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিজের হেলমেটটা পরে ইপসার দিকে আরেকটা হেলমেট এগিয়ে দিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-পরো।বাতাস অনেক...ঠান্ডা লেগে যাবে।আর ট্রাফিকেও থামিয়ে দিবে হেলমেট না পরলে।জানোইতো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জি।বলে হেলমেটটা নিয়ে পরে নিলো ইপসা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমাকে ধরে বসো ইপসা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা কিছু বললোনা।সাদিফ যতবারই তাকে নাম ধরে ডাকে ততবারই একটা অদ্ভুত ভালোলাগে তার।সে একটা হাত আলতো করে সাদিফের কাঁধে রাখলো।সাদিফ একনজর তাকিয়ে বাইক চালানোয় ধ্যান দিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পথিমধ্য আর একটা কথাও বলেনি কেউ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসার বাসার সামনে বাইক থামালো সাদিফ।হেলমেটটা খুলে উসকো খুসকো চুলগুলোতে হাত চালাতে চালাতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-পৌছে গেছি।নামো সাবধানে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা নামছেনা দেখে ঘাড় ঘুড়ায় সাদিফ।দেখে দুহাত উঠিয়ে পিছনে নিয়ে মাথা নিচু করে হেলমেটের লক খোলার চেষ্টা করছে ইপসা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-চুলে আঁটকে গেছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মৃদু হেসে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হাত সরাও।আমি খুলে দিচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা হাত সরায় না।দ্রুত চুলগুলো ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি পারবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-পারবেনা।বলে ইপসার হাতের উপরই হাত রাখে সাদিফ।এক ঝটকায় হাত সরিয়ে নেয় ইপসা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ খুব যত্ন করে লকটা থেকে আটকে যাওয়া চুলগুলো ছাড়িয়ে নেয়।হেলমেটটা খুলে দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হয়ে গেছে।যাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা নেমে যায়।মিষ্টি হেসে হাত নাড়িয়ে বিদায় দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ধন্যবাদ ভাইয়া।আল্লাহ হাফেজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ হেসে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আল্লাহ হাফেজ।যাও বাসায় ঢুকো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা না ঢোকা পর্যন্ত ওখানেই দাড়িয়ে থাকে সাদিফ।ইপসা চলে যেতেই একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলে বাইক স্টার্ট দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;________________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কখন থেকে মিহুর ফোনে কল দিয়েই যাচ্ছে অভি।রিসিভ করার নামই নাই মিহুর।সাদিফকে কল করছে সেও ধরছে না।মেয়েটার আবার জর এলো নাতো।কম তো ভিজেনি!!আবার ভেজা শরীরে কতক্ষণ দাড়িয়েও ছিলো..টেনশনে মাথা ধরে যাচ্ছে তার!!আরেক বার কল করতেই রিসিভ হলো।ওপাশ থেকে ঝাঁঝালো কন্ঠে শোনা গেলো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই কে তুই?বারবার কল দিচ্ছিস কেনো?মেয়েদের নাম্বার পেলেই ডিসটার্ব করতে মন চায় না?অসভ্য কোথা..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ফোনটা কান থেকে একটু সরিয়ে নেয়।দুই সেকেন্ড পরে আবারো কানে লাগিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি অভি..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু দাঁত দিয়ে জিভ কাটে।মৃদু কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আ..আপনি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ব্যঙ্গ করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এখন আপনি?একটু আগেতো তুই তুকারি করছিলা।আর কি যেনো..মেয়েদের ডিসটার্ব করি,অসভ্য?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমিতো জানতাম না আপনি ফোন করেছেন..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা ফাইন।এবারের মতো মাফ করে দিলাম।এখন বলো এতক্ষন কই ছিলো ফোন রিসিভ করনি কেনো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আননোন নাম্বার রিসিভ করিনা।আপনি এতবার ফোন দিচ্ছেন তাই ধরলাম..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-গুড।সাদিফ কই?ওকেও তো ফোন দিচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এতক্ষনে বুঝে মিহু।অভি আসলে সাদিফের সাথে কথা বলার জন্য তাকে কল দিয়েছে।তাই তো বলে,অভি তাকে ফোন দিবে কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনি ভাইয়ার সাথে কথা বলবেন তাইনা?আসলে ভাইয়া বাসায় নেই।বাইরে গেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি কখন বললাম ওর সাথে কথা বলবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না মানে...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি কন্ঠে কোমলতা নিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুমি ঠি ক আছো?জর টর আসেনি তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর অদ্ভুত লাগে।অভি কন্ঠ কেমন অন্যরকম শোনায়।সে আমতা আমতা করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জি ঠি ক আছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা রাখছি।আল্লাহ হাফেজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-শোনেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ফোন কাটতে যেয়েও কাটেনা।জিজ্ঞাসু কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কিছু বলবা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেলেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সেটা কি খুব কঠিন কিছু?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু জবাব দেয়না।ভাবে,আসলেইতো..কি বোকার মতো একটা প্রশ্ন করলো সে।অভি হেসে ফোন কেটে দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখন শান্তি লাগছে তার।খুব শান্তি....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সময় প্রবহমান।কারো জন্য থেমে থাকেনা।ঘড়ির কাঁটার সাথে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট গতিতে চলতে থাকে আমাদের জীবন।দেখতে দেখতে কেটে গেছে আড়াই মাস।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আজকেই শেষ হয়েছে মিহুর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা।ব্যস্ত সময় কেঁটেছে তার।পড়াশোনায় সে মাঝামাঝি ধরণের স্টুডেনট।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বস্তুত ভালো করতে হলে পড়তেই হবে এই কথায় বিশ্বাসী সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরীক্ষা দিয়ে কলেজ থেকে ফিরেই গোসলে ঢুকেছে।একঘন্টার যাবত শান্তিময় গোসল দিয়ে চুলে তোয়ালে পেচিয়ে বেরিয়ে এলো সে।পরীক্ষা বেশ ভালো হয়েছে আজকে,মনটা ফুরফুরে।আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল মুছছে আর গুনাগুন করে গাইছে-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"ও বেবি কাম কাম কাম কাম কাম কাম টু মি..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ও বেবি কাম কাম কাম কাম কাম কাম টু মি..ওওওওও&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি তোমার হিরো হলে তুমি সুপারহিট...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ও বেবি...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আরো গাওয়ার আগেই সাদিফের ধমকে চমকে পিছে ফিরলো সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"ওই কি বলোস তুই এইগুলা?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ফিচলে হেসে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"এটাতো গান ভাইয়া।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ চোখমুখ কুচকে তাকায়।মৃদু ঝাড়ি দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"এটা কেমন গোঁছের গান?...বাদ দে,তুই যেমন তোর গানও সেরকমই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু তেড়ে উঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"আমি কেমন হ্যাঁ?তোমাকে কেউ বলসে আমার গান শুনতে?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ এসে কান টেনে ধরে মিহুর।মিহু চিল্লিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"মাআআআ,দেখে যাও তোমার ছেলে আমাকে মারে"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ দিগুন চিল্লিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"হ্যাঁ আসো,দেখো তোমার মেয়ে "বেবি বেবি"গান গায়।আবার কাম টু মি কাম টুমি করে।আরো কি সব যে বলে!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফা বেগম রান্নাঘর থেকেই চিল্লিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"তোরা থামবি?সাদিফ তুই না বড়?মারিস কেনো?ছাড়বি নাকি আমি আসবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ একটা মোচর দিয়ে ছেড়ে দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"না থাক আসা লাগবেনা।ছেড়ে দিসি।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু একহাতে কান ঘঁষতে থাকে।ব্যাথা হয়ে গেছে।বিরবির করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"ফালতু,অসহ্যকর।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"কি বললি?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ঝামটা দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"কিছুনা।...তুমি কি কাজে এসেছো?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"ওহ্,হ্যাঁ।আমি বলতে আসছিলাম যে,রাতে রেডি থাকিস তুই।আমার সাথে একটা দাওয়াতে যাবি।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"কিসের দাওয়াত?আমি যাবোনা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মিহুর মাথায় চাঁটি মেরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-"তুই যাবি,তোর বাপ যাবে।...না থাক বাপ যাওয়ার দরকার নাই।তুই গেলেই হবে।এন্ড ইটস্ ফাইনাল।বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মুখ ভেংচিয়ে চুল মুছতে থাকে।।এই কয়েকমাস পড়তে পড়তে ক্লান্ত সে।এখন একটা শান্তির ঘুম দিবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সন্ধ্যা ৭ টা...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু রেডি হচ্ছে।একটু আগেই গভীর ঘুম থেকে টেনেটুনে তাকে তুলেছে সাদিফ।চোখে এখনো ঘুম ঘুম ভাব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটা কালো রংয়ের লং গাউন পরে নিলো ও।জামার ওড়নাটা লাল রংয়ের।তাই মিলিয়ে একটা লাল হিজাব&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পড়লো।হালকা একটু পাউডার দিয়ে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে নিল।ফোনটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হলো সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ সোফায় বসে ওর জন্য অপেক্ষা করছে।মিহু কাছে যেয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি রেডি।চলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ একনজর তাকিয়ে উঠতে উঠতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-বাহ্।তোর তো খুব কম সময় লাগে তৈরি হতে।মেয়ে দের তো সাজ গোজ করতেই ঘন্টা পার হয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর মুখে চওড়া হাসি ফুটে ওঠে।সাদিফ তার প্রশংসা বরাবরই খুব কম করে।হাসি হাসি মুখ নিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল সে।তার আগেই সাদিফ বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোকে তো ভালোই দেখাচ্ছে।কি রে পেত্নী?মেক-আপ করেই ঘুমিয়েছিলো নাকি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দপ করে নিভে যায় মিহু।কিছু না বলে রাগী ফেস নিয়ে হন হন করে বেরিয়ে যায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ হাসে।বোনটা তার বাচ্চাই রয়ে গেলো!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আম্মু,আজকে কিন্তু ও আসবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রুবিনা আহমেদ ছেলের কথায় ফিরে তাকায়।মৃদু হেসে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আর কয়বার বলবি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ঠোঁটের কোঁণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ও কিন্তু বাচ্চা মেয়ে মা।উল্টা পাল্টা কিছু বললে তুমি কিছু মনে করোনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মনে করবোনা মানে?আমার ছেলেকে পাগল করে ফেলেছে।ওকে তো আমি আচ্ছা মতোন বকে দেবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা বকে দিও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি চলে যেতেই রুবিনা আহমেদ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে।মেয়েটাকে দেখার খুব শখ তার।অভির মতো বদমেজাজি রাগী ছেলেও যে কাওকে এতটা ভালোবাসে ভাবতেই অবাক লাগে রুবিনার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কোথায় যাচ্ছি আমরা?মানে কার বাসায়?কিসের দাওয়াতে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ শান্ত কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অভির বাসায়।ওর মায়ের জন্মদিন আজকে।সেখানেই যাচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু থমকে যায়।অভির সাথে তার দেখা হয়না প্রায় দুইমাস।কতবার অভির ফোনে কল করতে যেয়েও করেনি সে।ভাবত কল করে কি বলবে?"আপনাকে মনে পরছিলো"।একটু কেমন শোনায় না?তাই আর করা হতো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আজকে এতোদিন পরে দেখা হবে।কেমন অদ্ভুত লাগছে মিহুর।আচ্ছা,এমন কেনো লাগছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;মিহুর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অভি।মিহুর দৃষ্টি নিচের দিকে।উপরের ঠোঁট দিয়ে নিচের ঠোঁটটা কামড়াছে সে।অভির রাগ হয়।ঠোঁটটার উপর এমন অত্যাচার চালাচ্ছে কেন মেয়েটা?পাশেই দাড়িয়ে আছে সাদিফ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ হাল্কা গলা ঝেড়ে অভির দিকে তাকিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভেতরে ঢুকতে দিবি না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভির হুঁশ ফিরে।দ্রুত সামনে থেকে সরে দাড়িয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যাঁ,হ্যাঁ,আয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মুচকি হেসে ভিতরে ঢুকে।মিহুও ঢুকে তার সাথে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভিদের বাসাটা বেশ বড়ো।উপরতলার একদম কোণার ঘরটা অভির।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু সাদিফের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে।আশেপাশে মেহমান।সবাই অচেনা।মিহু সহজে মিশতে পারেনা মানুষের সাথে।তার সময় লাগে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রুবিনা আহমেদ কয়েকজন এর সাথে কথা বলছিলেন।সাদিফ তার দিকে এগিয়ে যায়।হাসিমুখে সালাম দিতেই উনি তাকায়।মিহুও সালাম দেয়।উনি সালামের উওর দিয়ে বলেন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কেমন আছো বাবা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আলহামদুলিল্লাহ আন্টি।আপনি কেমন আছেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভালো আছি।মিহুর গালে হাত রেখে বলেন,মিহু তাই না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু অবাক হয়।ভদ্রমহিলা ওর নাম জানল কি করে?মৃদু সরে উওর দেয়,"জি"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভারি মিষ্টি দেখতে তুমি।অভির পছন্দ আছে...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চমকায়।কথার মানে বুঝতে না পেরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-জি আন্টি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রুবিনা বেগম দাঁত দিয়ে জিভ কাটেন।অভি তাকে এসব বলতে মানা করেছিল।তবুও সে বলে ফেলেছে।তাই কথা কাটানোর জন্য বলেন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মিহু তো আগে কখনো আসোনি।সাদিফ তো চিনোই সব।ওকে বাগানটা ঘুরিয়ে দেখাও।ওর ভালো লাগবে।অভিও যা সাথে।এখানে সব বড় মানুষদের আড্ডাখানা।বুড়ো মানুষের জন্মদিনতো!!তোমরা বাচ্চারা বোর হবা।বলেই হাসেন উনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মুগ্ধ হয়।ভদ্রমহিলা এতো সুন্দর করে কথা বলে।দেখতেও বেশ সুন্দরী।চেহারায় বয়সকের ছাপ আছে তাও সুন্দরী।মিহু মনে মনে বলে,"এজন্যই মনে হয় উনিও এতো সুন্দর"।কিসব ভাবছে সে!!হুহ্!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;__________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাগানে এসে দেখে ঘুটঘুটে অন্ধকার।অভির ভ্রু কুচকে আসে।সব লাইট তো জ্বালানো ছিলো।বন্ধ করলো কে!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু সাদিফের গা ঘেঁষে দাড়ায়।সাদিফ একহাতে জড়িয়ে ধরে তাকে।অন্ধকার ভয় পায় মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি"একটু দাড়া,আমি দেখছি"বলে ভেতরে যায়।কিছুক্ষনের মধ্যেই সব লাইট জ্বলে উঠে।মিহু পিটপিট করে তাকায়।চোখে আলো সয়ে যেতেই অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে তাকায়।এতো বড় ফুলের বাগান!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু এগিয়ে যায়।সাদিফ পকেট থেকে ফোন বের করে।হাঁটতে হাঁটতে ফোন চালায় সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুর পাশে পাশে হাঁটে।একটা গাছ দেখে দাড়িয়ে পরে মিহু।হলুদ রংয়ের বেশ সুন্দর ফুল ফুঁটে আছে সেটায়।মিহু হাত দিয়ে ধরে কৌতুহলী কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এটার নাম কি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি সাদিফের দিকে তাকায়।তাদের থেকে কিছুটা দুরে দুরে হাঁটছে সে।চোখের দৃষ্টি ফোনের মধ্য আবদ্ধ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুর দিকে কিছুটা ঝুকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এটার নাম আলমান্ডা।বাংলায় বলে অলকানন্দা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর&amp;nbsp; উচ্ছ্বসিত কন্ঠস্বর,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-বাহ্,বাংলা নামটাতো অনেক সুন্দর।অলকানন্দা!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি তীর্যক গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুমি নিবে?ছিঁড়ে দিব?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু অভির দিকে তাকায়।অভিকে এত কাছে দেখে হৃদস্পন্দন দৌড়াতে থাকে তার।আমতা আমতা করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নাহ্,ফুল গাছেই সুন্দর লাগে।ছিঁড়ে নিলে সৌন্দর্যের ব্যাঘাত ঘটে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুর এমন ফেস দেখে সরে দাড়ায়।তার মুখে তার প্রশস্ত হাসি।হাত দিয়ে চুলগুলো পেছনে ঠেলে দেয় সে।মিহু অদ্ভুতভাবে তাকায়।অভির এই হাত দিয়ে চুল সরানো টাও একদম পারফেক্ট ভাবে করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ ততক্ষনে মিহুর পাশে এসে দাড়িয়েছে।পকেটে ফোনটা ঢুকাবো ঢুকাতে সে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হলো তোর ফুল-ফল দেখা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ভ্রু কুঁচকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এখানে ফল নেই ভাইয়া।শুধু ফুল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ ফিচেল হাসে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই আছিস না?আসত একটা কঁদবেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু তেড়ে উঠে।গলা উঁচিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া!!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওর সাথে না লাগলে হয় না তোর?চল ভেতরে চল।কেক কাটবে এখন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি আগে ঢুকে।পিছে পিছে ঢুকে সাদিফ মিহু।একটা জায়গায় দাঁড়াতেই মিহুকে ধাক্কা দিয়ে সামনে যায় একটা মেয়ে।সাদিফ ধরে ফেলে বিধায় সামলে নেয় মিহু।নয়তো নির্ঘাত এতগুলা মানুষের সামনে পরে গিয়ে মান-সমমান যেতো তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সামনে যেয়ে অভিকে জড়িয়ে ধরে নিশাত।অভি চকিতে তাকায়।এতগুলা মানুষের সামনে নির্লজ্জের মতো নিশাত জড়িয়ে ধরেছে তাকে।অভির প্রচন্ড অসস্তি হয়।সাথে তুমুল রাগ।মিহুর দিকে তাকায় সে।মেয়েটা মাথা নিচু করে রেখেছে।আচ্ছা ও ভুল বুঝলো না তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মায়ের এত স্পেশাল একটা দিন সিন ক্রিয়েট করে নষ্ট করতে চায়না সে।তাই চাপা সরে ধমকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নিশাত,ছাড় আমাকে।নির্লজ্জের মতো এগুলা কেমন ব্যবহার?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশাতের কোনো হেলদোল নেই।সে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুমি কই ছিলে?কতক্ষন যাবত তোমাকে খুঁজছি আমি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি জোরে একটা শ্বাস নিয়ে রাগ দমনের চেষ্টা করে।নিশাতের বাহু ধরে ছাড়িয়ে নেয় নিজের থেকে।ভাগ্য ভালো আশেপাশের মানুষ খেয়াল করেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নিজের ভালো চাইলে ফারদার এমন করবিনা নিশাত।গট ইট?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশাত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে।রাগে অপমানে চোখে পানি চলে আসে তার।কেন তাকে অভি পছন্দ করেনা?কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;________________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেদিনের পর আবারও মিহুর সাথে অভির দেখা হয়না প্রায় অনেকদিন।কথায় আছে না "দুরত্বে প্রেম বাড়ে"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেটাই হচ্ছে মিহুর সাথে।ভালোলাগাটা তুমুল বেগে ভালবাসায় রুপ নিচ্ছে।তবে বলার সাহস নেই মিহুর।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার মধ্য জড়তা কাজ করে।সাদিফ,তার বাবা,মা কেমন ভাবে নিবে বিষয়টা?জানা নেই তার।তার উপর ওইদিনের মেয়েটার ওইরকম একটা কাজ।হয়তোবা মেয়েটা অভির কিছু হয়!খুব ঘনিষ্ট কেউ!!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একদিন সকালে নাস্তা করছিলো সে।সাদিফ তার পাশেই বসে খাচ্ছে।মাস্টার্স এর কনভোকেশন ছিলো তার একসপ্তাহ আগে।পড়াশোনা শেষ।পি এইচ ডি করার জন্য আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে এপলাই করেছে সে আর অভি।মাসখানেক লাগবে হয়তো কনফার্মেশন মেইল পেতে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎ করেই মিহুর প্রচন্ড মাথাব্যাথা শুরু হয়।দুহাতে মাথা চেপে ধরে ও।সাদিফ হকচকিয়ে মিহুর মাথায় হাত রেখে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কি হলো মিহু?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কোনমতে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মাথাব্যাথা করছে ভাইয়া।খুব মাথাব্যাথা।আমি..বলতে বলতেই সাদিফের গায়ে ঢলে পরে সে।অজানা আতঙ্কে বুক ভারি হয়ে যায় সাদিফের...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর রিপোর্ট হাতে নিয়ে বসে আছে সাদিফ।চোখ লাল হয়ে আছে তার।মুখে উদ্ভ্রানতের আভাস।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেবিনের বাইরে তার মা অঝোর ধারায় কাঁদছে।বড়মামী সামলাচ্ছে তাকে।সাদিফ তাদের কি বলে সান্তনা দিবে জানা নেই।তার নিজেরই কেমন হিসেবছাড়া লাগছে ।কয়দিন যাবত এত মাথা ব্যাথা হতো মিহুর।ওরা ভাবত নরমাল মাইগ্রেনের ব্যাথা হয়তো।কিন্তু তাদের ধারনা সম্পূর্ণ ভুল ছিলো।মিহুর ব্রেইন টি উমার ধরা পরেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডাক্তারের কথাগুলো মনে মনে আওড়াতে আওড়াতে বেরিয়ে এলো সাদিফ।মাকে দেখে একটা দীর্ঘ-শ্বাস ছাড়ে সে।বলা বাহুল্য মিহুর বাবা বিদেশ থাকে।তাই সবটাই সাদিফের দায়িত।সে বড়-মামার দিকে তাকিয়ে যথাসম্ভব কঠিন গলায় বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মামা,ডাক্তার বলেছেন সপ্তাহ খানেকের মধ্য অপারেশনটা করিয়ে ফেললেই ভালো হবে।তবে বাংলাদেশে নয়,ইন্ডিয়ায়।মিহুর তো পাসপোর্ট নেই।তুমি কোনোভাবে সেটা ম্যানেজ করতে পারবেনা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-অবশ্যই।সেটা কোনো ব্যাপার না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওকে।ইন্ডিয়ায় কোথায় কি করতে হবে সেগুলো আমি দেখে নেব।সেটা নিয়ে টেনশন করার কোনো কারণ নেই।এখন একটু বাইরে যাচ্ছি।মিহুর কিছু ওষুধ আনতে হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ বেরিয়ে যায়।মিহু এখনো অচেতন।মূলত ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে তাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোধকরি স্ট্রেস নিলে তার মাথায় চাপ পরবে।তাই ঘুমিয়ে থাকাই শ্রেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রিকশা থেকে দ্রুত নেমে হসপিটালে ঢুকে ইপসা।অনেকবার মিহুকে কল দেয়ার পরও যখন সে ধরেননি তখন সে বাধ্য হয়েই তার মাকে কল করে। ফোন রিসিভ করে মিহুর মামি।তার থেকেই মিহুর এই অবস্থা জানতে পেরেছে ও।একমুহূর্তও দেরি না করে হসপিটালের নাম জেনেই ছুটে এসেছে সে।রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মিহু যে তার কাছে কি সেটা শুধু সে আর সৃষ্টিকর্তা জানে।জীবনের একপর্যায়ে যখন সে সুইসাইডের মতো জঘন্য কাজ করতে গিয়েছিল।তখনো ফ্যামিলির মানুষ নয় বরং মিহুই তাকে সামলেছিলো।তাকে বুঝিয়েছিলো।এজন্যই হয়তো আজও বেঁচে আছে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রিসিপসনিসট এর থেকে কেবিন নম্বর জেনে সিঁড়ি দিয়ে উঠার পথে সাদিফকে চোখে পরে তার।তাকে বোধহয় খেয়াল করেনি ,পাশ কাটিয়ে দ্রুত নিচে নেমে যায় সাদিফ।ইপসা ছোট্ট করে একটা শ্বাস ফেলে উপরে উঠে যায়।সে সাদিফের প্রতি দূর্বল।সেটা সে জানে এবং মানেও।তবে দূর্বলতা টাকে প্রশয় দেয়না ও।দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"একপাক্ষিক ভালোবাসায় প্রশান্তি থাকে না,থাকে শুধু না পাওয়ার প্রবল যন্ত্রনা ও হাহাকার।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিছানায় হেলান দিয়ে ল্যাপটপে কাজ করছিলো অভি।হাতে ধোঁয়া উঠা কফির মগ।একটা চুমুক দিয়ে কিছু একটা ভেবে সাদিফকে কল দেয় সে।প্রথমবারে রিসিভ হয়না।ভ্রু কুচকে আবারো কল করে।এবার রিসিভ হয়।ওপাশ থেকে সাদিফের ভাঙা কন্ঠে ব্যস্ত গলা শোনা যায়,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যাঁ,অভি বল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই কি ব্যস্ত?তোর গলা এমন শোনাচ্ছে কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ একটা ফাঁকা ঢোক গিলে নিজেকে সামলে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মিহু হসপিটালে।ওর....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ওয়াট!!কেনো?কি হয়েছে ওর?Is she okay?ও ঠি ক আছে তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-নাহ্ ও ঠি ক নেই অভি।আমার এতটুকু বোনটার ব্রেইন টি উমার হয়েছে।(কন্ঠ ভার হয়ে আসে সাদিফের)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি স্তব্দ হয়ে যায়।কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে তার।ধাক্কাটা নিতে পারেনা সে।কথা বের হয়না মুখ দিয়ে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা রাখছি হ্যাঁ?অভি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফোন কেটে যায়।সাদিফ কান থেকে নামাতেই আবার রিং হয়।রিসিভ করে সাদিফ।অভি শুধু বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কোন জায়গায় আছে ও?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ হসপিটালের নাম বলে।অভি"ওকে"বলে কেটে দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফা বেগম মিহুর পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।ইপসা একপাশে বসে হাত ধরে রেখেছে।মিহু বারবার তাদের দিকে তাকাচ্ছে।মাথায় ব্যাথাটা এখন নেই।তবে বুঝতে পারছে তার হয়তো কোন বড় অসুখ হয়েছে।সে স্লান কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা আমার কি হয়েছে?আমাকে বলবা তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ইপসা তুই তো বল?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা মৃদু হাসার চেষ্টা করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কিছু হয়নি তোর।একদম পারফেক্ট আছিস তুই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর বিশ্বাস হয় না।চোখ বন্ধ করে সে।কিছুক্ষন পর চোখ খুলে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া কোথায়?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা কিছু বলার আগেই সাদিফ ঢুকে কেবিনে।হাতে তার ওষুধের প্যাকেট।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া এখানে মিহু।মিহু তাকায়।হাসি ফুটে তার মুখে।ইপসা দাড়িয়ে যায়।সাদিফকে বসার জায়গা দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ মিহুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নাজিফা বেগমকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মা,তুমি যেয়ে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নাও।তোমার বিপি লো হয়ে যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফা যেতে চায়না।সাদিফ জোর করে ইপসার সাথে পাঠিয়ে দেয় তাকে।এখন মা ও অসুস্থ হয়ে পরলে কয়জনকে সামলাবে সে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারা বেরিয়ে যেতেই সাদিফ মিহুর দিকে তাকায়।হাল্কা হাসার চেষ্টা করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মাথা ব্যাথা করছে নাতো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মাথা নাড়িয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-উহু।করছেনা।...আমার কি হয়েছে?কেউ কিছু বলেছেনা কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ একটা লম্বা দম ফেলে।নার্স কিছু খাবার নিয়ে ঢুকে।সাদিফ সেগুলো নিয়ে বলে,"আপনি যান,আমি খাইয়ে দিব।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নার্স চলে যেতেই মিহুকে উঠিয়ে হেলান দিয়ে বসাতে বসাতে বলে,"আমি বলছি"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর মুখে খাবার তুলে দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-দেখ মিহু,আমি যা বলবো তুই কিন্তু একদম ভয় পাবিনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।সাদিফ আরেক গাল খাবার তুলে দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোর মাথায় একটা ছোট্ট টি উমার হয়েছে।ভয়ের কিছু নেই।একটা ছোট্ট অপারেশন করতে হবে জাস্ট।বাংলাদেশেও করানো যাবে।বাট তোর সেইফটির জন্য আমরা ইন্ডিয়ায় করাবো।ওখানের চিকিৎসা খুব উন্নত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কোনো রিস্ক থাকবেনা।বুঝলি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু নির্বিকার।তার কেমন রিয়্যাক্ট করা উচিত বুঝতে পারছেনা।সে কি কাঁদবে?কিন্ত কান্না আসছেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে স্বাভাবিক গলায় বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি কি মারা যাবো ভাইয়া?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফের বুকটা ধক করে উঠে।সে শক্ত কন্ঠে বলে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এসব কি বলিস?ব্রেইন টিউমারে কেউ মারা যায় নাকি?কত মানুষের হয় এমন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু হাসে।সে জানে,"অধিকাংশই বাঁচেনা"।এতোটা ছোট সে নয় যে কিছু বুঝেনা।তবে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলেনা।চুপচাপ খেতে থাকে।তারপর ওষুধ খেয়ে শুয়ে পরে।ঘুমের ওষুধের ডোজ বেশি হওয়ায় কিছুক্ষনের মধ্যই ঘুমিয়ে পরে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর ঘুমন্ত মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকায় সাদিফ।খুব কাঁদতে ইচ্ছা করছে তার।চোখের পানি আটকে রেখে শক্ত হওয়ার চেষ্টা করে।নি:শব্দে তার পাশে এসে দাড়ায় ইপসা।সাদিফ বুঝতে পারে।মাথাটা কিছুটা ঝুকিয়ে ফেলে সে।কাঁদতে চাচ্ছেনা সে।ইপসা পাশে বসে একহাত সাদিফের কাঁধে রাখে।সাদিফ আর আটকাতে পারেনা।ইপসাকে জাপটে ধরে ফুপিয়ে উঠে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা থমকে যায়।কি হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করে।খানিকক্ষণ পর কাঁধে চোখের পানির অস্তিত্ব পেতেই বুঝে সাদিফ কাঁদছে।সে ধীর কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-শান্ত হন ভাইয়া।মিহু ঠিক হয়ে যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ তাকে ছাড়েনা।ইপসাও আর কিছু বলেনা।সাদিফকে বাঁধা দিতে ইচ্ছা করেনা তার।কেমন আপন আপন অনুভব হয় তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছু সময় পরে সাদিফ নিজেই ছেড়ে দেয় তাকে।উঠে দাড়িয়ে অপ্রস্তুতভাবে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আ'ম সরি।আ'ম রিয়েলি সরি।আই কান্ট কন্ট্রোল মাইসেলফ।রিয়েলি সরি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা চাপা সরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ইটস্ ওকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ দ্রুত বেরিয়ে যায়।এরকম লজ্জায় সে কখনো পরেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;__________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হনহনিয়ে কেবিনের সামনে যায় অভি।সাদিফকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মিহু ভেতরে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যাঁ।ঘুমাচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কাঁচের দরজা দিয়ে তাকায় অভি।মিহু ঘুমিয়ে আছে।তার হাত ধরে পাশেই মাথা ঠেকিয়ে শুয়ে আছে ইপসা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভেতরে যা সমস্যা নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি ভেতরে ঢুকে।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বের হয়ে আসে।মনে তার এক টাই প্রশ্ন,"আমার মিহুপাখির সাথেই কোনো এমন হলো?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি বেরিয়ে আসতেই সাদিফ বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই এতো চিন্তা করছিস কেনো?বোনটা তো আমার।বন্ধুর বোনের জন্য এতোটা চিন্তা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি স্লান হেসে শান্ত সরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ইউ নো, আই লাভ হার...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ব্যস্তময় শহর।প্রকৃতিতে যেন নেমে এসেছে বিষাদময় পূর্বাভাস।বাতাস গুলোও কেমন তেতো ঠেকছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এয়ারপোর্টে সবাই ব্যস্ত নিজ নিজ কাজে।পিনপতন নিরবতা নয় তবে কোলাহলের মাত্রা খুবই কম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টিকিটের যাবতীয় কাজগুলো শেষ করে ফিরে এলো সাদিফ।নাজিফা বেগম এখনো মিহুকে জাপটে ধরে ফোপাচ্ছেন।উপস্থিত সবার চোখই পানিতে পরিপূর্ণ।ইপসা,ফারিয়া,তার বড়মামি সবাই ই বারবার চোখ মোছার বৃথা চেষ্টা করছে।মিহুর কোনো ভাবান্তর নেই।সে কেমন যেন অনুভূতিহীন।উল্টো পাশ থেকে সাদিফকে ফিরে আসতে দেখে সে মুচকি হেসে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-কাঁদছো কেনো মা?তোমার কি মনে হচ্ছে আমি মারা যাব?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নাজিফার কলিজা কেঁপে উঠলো।এত আদরের মেয়ে তার!যদি খারাপ কিছু হয়ে যায়?প্রতিউওরে কিছু বলার আগেই সাদিফ এসে কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোকে না বলেছি উল্টা পাল্টা প্যাঁচাল পারবি না?চুপ করে থাক।মা তুমি কান্না বন্ধ করো।আমাদের ফ্লাইটের সময় হয়ে গেছে।যেতে হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মামার কাছে যেয়ে লাগেজগুলা পরখ করে নেয়।সবার দৃষ্টির অগোচরে ক্ষীণ সরে ইপসাকে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মায়ের খেয়াল রেখো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইপসা মাথা কাত করে।যতদিন ওরা ফিরছেনা ততদিন মিহুর মায়ের সাথেই থাকবে সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ নিজের লাগেজটা একহাতে ধরে আরেকহাতে মিহুর হাতটা শক্ত করে ধরে সে।মিহু আরেকবার চারপাশটায় চোখ বুলায়।ঘন পল্লবে ঢাকা চোখগুলো দিয়ে বারদুয়েক পলক ফেলে অতি আকাঙক্ষিত ব্যক্তিটাকে খুঁজে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু নাহ্,যতদূর তার দৃষ্টি যায় ততটুকুতে নাই সে।আবারও চোখ বন্ধ করে সে।ভাবে খুললেই হয়তো দেখবে অভি তার সাথে দেখা করতে এসেছে।হয়তোবা শেষ দেখা।তবুও দেখা তো হোক।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হাতে টান পরতেই সম্ভিৎ ফিরে তার।সাদিফ তাকে হাঁটার জন্য ইশারা করছে।দীর্ঘ:শ্বাস ফেলে পা বাড়ালো সে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখের মনি এদিক ওদিক ঘোরাচ্ছে বারংবার।চোখের কোঁণে জমা হচ্ছে অভিমানের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিক্ত কণা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাহলে কি অভি তাকে শুধুই বন্ধুর বোন মনে করে?আর কিছুইনা?তার অসুস্থতার কথা শুনে একটিবারের জন্যও কি তার সাথে দেখা করা যেতো না?নাকি উনি আমার অসুস্থতার কথা জানেই না?পরক্ষনেই ভাবে,নাহ,ভাইয়া অবশ্যই তাকে বলেছে।হয়তো উনিই প্রয়োজনবোধ করেনি অথবা তার ইচ্ছাই হয়নি দেখা করার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই একসপ্তাহে নিজের মনকে শক্ত করেছে মিহু।পৃথিবীতে শুধু বেঁচে থাকাটাই যে কতটা সুখের সেটা ক্ষনে ক্ষনে বিস্তরভাবে উপলদ্ধি করতে শিখেছে।যদিও বেশিরভাগ সময়ই ঘুমিয়ে থাকত সে।মূলত ঘুম পাড়িয়ে রাখা হতো তাকে।যেন মাথায় চাপ না পরে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বড়মামা,সাদিফ আর সে যাচ্ছে ইন্ডিয়ায়।তার বাবা দেশে আসতে চেয়েছিলো তবে ভিসা পায়নি তাই আসা সম্ভব হয়নি।মিহু মুখ ঘুরিয়ে পিছে তাকায়।তার অতি প্রিয় মানুষগুলোর ছলছল নয়নের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে।জানে না আবার আসতে পারবে নাকি দেশে,দেখতে পারবে নাকি প্রিয় মানুষগুলোকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;প্লেনে উঠার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সে ভেবেছিলো অভি সাথে হয়তো দেখাটা হবে।কিন্তু নাহ্!!আসলেই দেখাটা হলোনা!!সিটে মাথা এলিয়ে দিলো মিহু।চোখ বন্ধ করে মনে করলো সেদিন অভির মায়ের জন্মদিনের দিন তাদের শেষ দেখার হওয়ার সময়টা।চোখের কোঁণ ঘেঁষে দু ফোটা অবাধ্য অশ্রু গড়িয়ে পরলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ তাকে কাঁদতে দেখে ব্যস্ত কন্ঠে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-মাথা ব্যাথা করছে তোর?ওষুধ নিয়েছিলি না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু সন্তর্পণে পানিটা মুছে মৃদু হেসে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ব্যাথা করছেনা ভাইয়া।তুমি চিন্তা করোনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফের চোখেমুখে বিস্ময়।এই এক সপ্তাহে মিহুকে একবারও কাঁদতে দেখেনি সে।কোথাও হালকা কেটে গেলেও বাড়িঘর মাথায় তুলে বসতো মিহু।আজ পর্যন্ত মাকে ছেড়ে একা কোথাও বেড়াতে পর্যন্ত যায়নি।অথচ আজকে...এই নির্ভীক মিহুকে নতুন করে দেখছে সে।নিজের ছোট্ট বোনটাকে নতুন করে চিনছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;___________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘন্টাখানেক পরে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হবে মিহুকে।সাদিফের কাঁধে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে সে।বাবার সাথে কথা হয়েছে কিছুক্ষন আগে।বাবার কন্ঠ টা কেমন যেন ভেজা ভেজা শোনাচ্ছিল..বাবাকে কখনোই কাঁদতে দেখেনি মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখ না খুলেই একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমার খুব ভয় করছে ভাইয়া।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদিফ বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভয় পাবি কেনো?কত রেয়ার কেস আছে জানিস,মানুষ বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করে বলে বেঁচে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মনের জোরটাই আসল।এই ভয় তোর বেঁচে থাকার ইচ্ছা টাকে গ্রাস করে ফেলবে বোন।মনে সাহস রাখ।আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু উওরে কিছু বলার আগেই কেবিনে কারও ঢোকার শব্দে মুখ তুলে তাকায়।সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে বিস্ময়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে যায় সে।মুখটা কিনচিত ফাঁক হয়ে যায়।একটু আওয়াজ করেই বলে উঠে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনিইইই?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি কাছে এগিয়ে যায়।সাদিফ উঠে ,"আমি একটু ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসি"বলে বেরিয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি যেয়ে মিহুর পাশ ঘেঁষে বসে।একহাত দিয়ে বাহু জড়িয়ে ধরে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমার মিহুপাখি ভয় পাচ্ছে কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভির মুখে "আমার মিহুপাখি"ডাক শুনে লজ্জারাঙা হয়ে যায় মিহু।সেগুলোকে পাশে রেখে দৃঢ় অভিমানি কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আপনি আমাকে দেখতে আসেননি কেনো?আমাকে কি আপনার মনে পরে না?নাকি আমি আপনার কেউ নই?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই সময়ও মিহুর ছেলেমানুষি কথা শুনে অবাক হয় সে।আবার খুশিও হয় এই ভেবে যে মিহুর নার্ভাসনেসটা একটু হলেও কমেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি কিছুটা ফিসফিসিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি রোজ তোমাকে দেখতে আসতাম।তুমি ঘুমিয়ে থাকতে বিধায় আমাদের দেখা হতোনা।আর শোনো,তুমি আমার মনেই থাকো তাই আর মনে করার দরকার পরে না।আর কি যেন বললে,তুমি আমার কেউ না?তুমিই তো আমার সব।আলাদা করে বলতে হবে মিহুপাখি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মাথা নাড়ায় অর্থ্যাৎ "আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই।সে বুঝতে পারছে"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি মিহুর হাতজোড়া নিজের হাতের মুঠোয় আবদ্ধ করে।একহাতের উল্টোপিঠে আলতো করে ঠোঁট ছুইয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তোমাকে আমার জন্য হলেও বাঁচতে হবে মিহুপাখি।তোমায় ছাড়া আমি সত্যিই অপূর্ন।এই অপূর্ন আমার সঙ্গে পূর্নতা প্রাপ্তির পথটুকু চলার জন্যে হলেও আমার তোমাকে প্রয়োজন।একটু বেশিই প্রয়োজন মিহুপাখি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু মাথা নিচু করে রেখেছে।ভাবছে কেনো এই মুহূর্ত গুলো তার জীবনে আর একটু আগে এলোনা?এই অনুভূতিগুলো উপভোগ করার সময়টুকুও কি পাবে না সে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎই বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙক্ষা জেগে উঠলো মিহুর হৃদয়ে।হ্যাঁ,তাকে বাঁচতেই হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খানিক পরেই নার্স এলো।মিহুর পোশাক বদলে অপারেশনের পোশাক পরিয়ে দেয়ার জন্য।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অগত্যা অভি বেরিয়ে যায়।বেরোনোর সময় একবার মিহুর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মুখে হাসি দিলেও মনে মনে দীর্ঘ:শ্বাস ছাড়ে মিহু।আদৌ কি বাঁচবে সে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘন্টা দুয়েক যাবত অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে মিহুকে।সাদিফ একদৃষ্টিতে থিয়েটারের বাইরে জলতে থাকা লাল রংয়ের বাল্ব টার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।ভাবছে,এই বাল্ব টার রং লাল কেনো?লাল রং তো বিপদের আভাস দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহুর বড়মামা সামনেই বসে আছে।আড়চোখে অভিকে দেখছে সে।নিচের দিকে দৃষ্টি দিয়ে পাথরের ন্যায় বসে আছে অভি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই একটা সপ্তাহ ছেলেটা কি না করেছে মিহুর জন্য?একদিন আগেই ইন্ডিয়ায় চলে এসেছিলো সে।এখানের হসপিটাল,ওদের থাকার জায়গাসহ সবকিছু ম্যানেজ করেছে।মিহুর প্রতি তার ভালোবাসাটা ঠি ক কতখানি গভীর সেটা উনিসহ বাসার সবাই ইতিমধ্যেই বুঝে গেছে।ছেলেটা মুখে কিছু না বলেও কতকিছু প্রমান করে দিয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎই একজন ডাক্তার হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসে।সাদিফ কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-পেশেন্টের মস্তিষ্কে খুব রক্তক্ষরণ হচ্ছে।ইটস্ নট আ গুড সাইন।তবুও আমরা আমাদের সর্বোচচ চেষ্টা করবো।ডোন্ট ওয়ারি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই ডাক্তারটা চলে যায়।সাদিফ স্তব্দ হয়ে যায়।অভি তখনো ঠায় বসে আছে।দুহাতে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মস্তিষ্ক বলছে,খারাপ কিছু হবে।আবার মন বলছে,আল্লাহ এতটা নিষ্ঠুর হবেননা ওর প্রতি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;__________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছয় বছর পর....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হসপিটালের সামনে থামানো একটা গাড়িতে বসে আছে মিহু।গাড়ির জানালাটা দিয়ে চেয়ে আছে বাইরের দিকে।তাকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে অভি ভেতরে গেছে রিপোর্ট আনতে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফিরে এলো অভি।ড্রাইভিং সিটে বসে রিপোর্টটের প্যাকেটটা পেছনের সিটে রাখলো।মিহুর সিটবেল্ট বেঁধে দিয়ে জানালার কাঁচ তুলে দিয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-গ্লাস আটকে দিয়ে গিয়েছিলাম আমি। শীতের মধ্যেও তোমার হাওয়া না লাগালে চলেনা না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ভেংচি কেটে অভির দিকে তাকিয়ে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-না চলে না।জানালা খোলাই থাকবে।আটকালেন কেন?খুলেন বলছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি চোখ গরম করে তাকায়।মিহু মুখ ফুলিয়ে চোখ নামিয়ে পেটে হাত রেখে বিরবির করে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি কতবার বললাম,আমার আসতে ইচ্ছা করছে না হসপিটালে।না তাও আনতেই হবে।চেকআপ করাতেই হবে।এত জেদি তোর বাবা।বুঝলি,তোর বাবা আমাকে কত অত্যাচার করে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি এক ভ্রু উচিয়ে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু চারমাসের অন্ত:সত্তা।গোলগাল হয়ে গেছে মেয়েটা।ফোলা গালগুলো আরো ফুলিয়ে রেখেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি তার একগালে আঙ্গুল দিয়ে টোঁকা দিয়ে পকেট থেকে একটা বড় চকলেটের প্যাকেট বের করে এগিয়ে দিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-চেকআপ করানো জরুরি ছিলো বলেই করিয়েছি।এখন গাল না ফুলিয়ে এটা খাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু ভ্রু কুচকে টান দিয়ে চকলেটটা নেয়।প্যাকেটটা খুলে এমন একটা ভাব করে যেন সে খুব বিরক্ত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি হেসে গাড়ি স্টার্ট দেয়।মিহু তার অমূল্য সম্পদ।হারাতে হারাতেও ফিরে পেয়েছে তাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেদিনের অপারেশনে মিহু বেঁচে গিয়েছিলো।আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে তাকে।এতগুলা মানুষের দোয়া ফিরে দেয়নি আল্লাহ।অবস্থা ক্রিটিকাল হওয়া সত্তেও ধীরে ধীরে রিকোভার হয়েছিলো।৭২ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরেছিলো তার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই গাড়ি থামান।আমি চা খাবো।পাশের চায়ের দোকানের দিকে ইশারা করে মিহু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি গাড়ি না থামিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এখন এইসব চলবেনা।রাত হয়েছে অনেক।আরেকদিন নিয়ে আসবোনে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু একহাত দিয়ে অভিকে হাত ঝাঁকিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-থামান না প্লিজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গাড়ি থামিয়ে দেয় অভি।দীর্ঘ:শ্বাস ফেলে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা বসো।আমি নিয়ে আসি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহু কিছুটা সাহস নিয়ে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-বাইরে যেয়ে খাই?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি সোজা মানা করে দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-একদম না।আমি এনে দিচ্ছি।এরপর গাড়ির দরজা লক করতে করতে বলে,"তোমার ভরসা নাই।গাড়ি লক করে দিয়ে যাই।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিচু হয়ে মাথা ঢুকিয়ে মিহুর দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয় অভি।মিহু মুখ বাঁকা করে সেটা নেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি নিজের কাপটা নিয়ে বসতেই মিহু বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-সিটবেল্টটা খুলে দেন না।আরাম পাচ্ছিনা বসতে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভি সিটবেল্টটা খুলে দিতেই তার ফোন বেজে উঠে।হাতে নিয়ে দেখে সাদিফের ফোন।রিসিভ করতেই সাদিফের ব্যস্ত স্বর শোনা যায়,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যালো অভি, ইপসার খুব বমি হচ্ছে।কিছু খেতে পারছেনা।ওর ডাক্তারটাও ফোন ধরছে না।মিহুর ডাক্তার টার নাম্বার টা দে তো।ওনাকে ফোন করি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এই সময় এমন হয়েই থাকে।তুই এতো চিন্তা করিস না।আমি নাম্বার মেসেজ করে দিচ্ছি তুই ফোন করে দেখ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফোন কেটে নাম্বারটা মেসেজ করে দেয় অভি।সাদিফ-ইপসার বিয়েটা ওদের বিয়ের সাথেই হয়।দুইবছর আগে তাদের পি এইচ ডি শেষ করে দেশে ফেরার পরই বিয়েটা করে নেয় ওরা।বলা বাহুল্য,ইপসাও এখন তিনমাসের অন্ত:সত্তা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চায়ে চুমুক দিয়ে মিহুর গায়ের শালটা ঠি ক করে জড়িয়ে দেয় অভি।গাড়ির লাইট নিভানো।চাঁদের আলোতে স্নিগ্ধ দেখা যাচ্ছে সবকিছু।অভি মাথা ঝুকিয়ে মিহুরপেটে একটা চুমু খায়।মিহুর লজ্জায় লালবর্ণ ধারণ করা গালদুটো চোখ এড়ায়না তার।সে মিহুর কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে নেশাতুর কন্ঠে বলে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"আমার সবটা জুড়েই শুধু তুমি আছো মিহুপাখি।আর এখন তোমার মাঝেও আমার অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে।আমার সকল অনুভূতিতে শুধু তুমি এবং তুমিই।আমার ভালোলাগা,খারাপলাগা সবকিছুতেই শুধু তুমিই বিরাজ করো।আমার সকল অনুভূতির একটাই নাম-"তুমিময় অনুভূতি"।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;______সমাপ্ত______&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;Writer:- মালিহা খান&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/6623902640772981826/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_99.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/6623902640772981826" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/6623902640772981826" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_99.html" rel="alternate" title="তুমিময় অনুভূতি" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgPJbjCdqX49Lh30qt0gWsTGnJa6gRGTI5rpHE5Mq8mCbXCVaG7bczsHw_sqaKbrNqq52WNluQGS0wkYyNezngadk7MKG-rssJoj1kE_wkNiFw0Z-wrmkyfJEgbYGT1MLP-F3wO7ZORgAc/s72-c/1690446703252146-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-5455943214282095192</id><published>2023-07-27T01:15:00.001-07:00</published><updated>2023-07-27T01:15:53.664-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Golpo"/><title type="text">বিচ্ছেদ</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgjg1M56yzDWvFImSl6FPtMN50u_Std3tBtlJsNG50jWWws0EI_PDbkgmyO9bYpm-rrgxwTWKc3oSQVjjsNr2Uq9NP7Ar7nnWJq3tg5aztzU5hQ3ZdglHMveoLdUJWtZKHDXMKaP5Y3SMs/s1600/1690445748971637-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgjg1M56yzDWvFImSl6FPtMN50u_Std3tBtlJsNG50jWWws0EI_PDbkgmyO9bYpm-rrgxwTWKc3oSQVjjsNr2Uq9NP7Ar7nnWJq3tg5aztzU5hQ3ZdglHMveoLdUJWtZKHDXMKaP5Y3SMs/s1600/1690445748971637-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দোতালা বাড়িটা সাদা মরিচ বাতি দিয়ে সাজানো। সাদা কেনো? সাদা যে উনার ভীষণ প্রিয়। বিয়ের গেটটা কি সুন্দর দেখাচ্ছে! অপূর্ব সাজবাতি!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইশশ...আমার চোখে এত বিঁধছে কেনো আলোগুলো? কেন মনে হচ্ছে ছোট্ট ছোট্ট মরিচ বাতি বিদ্রুপ করে হাসছে এই জন্ম দু:খিনীর দিকে চেয়ে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রেলিংবিহীন খোলা ছাদে হলুদের স্টেজ। গাঁদা ফুলের গন্ধ এখান থেকেও স্পষ্ট। সবার কি একটা উত্তেজনা, আনন্দ। চারিদিকে রংমহলের খেলায় আমি এমন ফিকে হয়ে দাড়িয়ে আছি কেনো? ভালবাসার মানুষের ভালো থাকাটাই তো সবচেয়ে প্রিয় হওয়া উচিত। আমি এতো স্বার্থপর কেনো? ভালোবাসলে কি সবাই স্বার্থপর হয়ে যায়? নাকি হওয়া উচিত?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বারান্দা থেকে চলে এলাম। ফ্লোরে বসে হাঁটুতে মাথা চেপে বসে রইলাম বেশ কিছুক্ষণ। সাউন্ড স্পিকারের শব্দ শোনা যাচ্ছে। গানবাজনা হচ্ছে! প্রিয় মানুষটার অন্যের হয়ে যাওয়ার উৎসব!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হাঁটুর কাপড়টা ভিজে গেছে। দেখবোনা দেখবোনা করেও উঠে দাড়ালাম। বারান্দা থেকে খুব কাছাকাছি উনাদের ছাদটা। আমি গেলে যে কেও দেখে ফেলবে। তখন ছাদ খালি ছিলো। এখনতো নিশ্চয় মানুষে ভরপুর।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের বাসার পরিস্থিতি নিত্যদিনের মতোই। মা টিভি দেখছে। দাদুর ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলাম ঘুমাচ্ছে। বাবা বাসায় নেই। যৌথ পরিবার আমরা। চাচারা দোতালায় থাকেন। ল্যান্ডফোনের পাশে সোনালী রংয়ের বিয়ের কার্ডটা রাখা। প্রতিবেশি হিসেবে দেয়া হয়েছে। দাওয়াত রক্ষা করতে হয়তো বাবা- চাচারা যাবে কাল। সবার ঘটা করে যাওয়ার মতো আত্মীয় তো নন উনারা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি মাথায় ওড়না টেনে নিলাম। রান্নাঘর থেকে দুপুরের মাছের কাঁটা জমানো বাটিটা নিয়ে আসলাম।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গলা ঝেড়ে স্বাভাবিক করলাম। বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"ছাদের বিড়ালটাকে কাঁটাগুলো দিয়ে আসি মা। জোরে জোরে চিল্লাচ্ছে। দুপুরে তো আসেনি। কাঁটাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। পরে আর খেতে পারবেনা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মা তাকালো।। জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখে বললো,"রাত হয়ে গেছে তো। একা একা যাবি? বোনকে নিয়ে যা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি দরজা খুলতে খুলতে বললাম,"না থাক, ও ঘুমাচ্ছে বোধহয়। আমি একাই দিয়ে আসি। বেশিক্ষণ লাগবেনা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি চলে আসলাম। মা পিছু ডাকেনি। জানে আমি শুনবোনা।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাদা বিড়ালটা আসলেই ট্যাংকির সামনে শুয়ে আছে। আমি ডেকে খাবার দিলাম। বিড়ালটা খাচ্ছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উনাদের ওখানে জোরে গান বাজছে। হিন্দি গান! বাড়ির একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি বিষাক্ত একটা শ্বাস ছাড়লাম। কষ্টগুলো কি বাতাসে ছড়িয়ে গেলো? বাতাসটাও কি বিষাক্ত হয়ে উঠলো? হ্যাঁ মনেহয়, শ্বাস নিতে পারছি না তো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গুটি গুটি পায়ে রেলিংয়ে হাত রেখে দাড়ালাম। কি যেনো চাপাতি দিয়ে কুঁচি কুঁচি করে ফেললো হৃদপিন্ডটা। ভালবাসা নাকি? আহ্! সহ্য হচ্ছেনা কেনো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওইতো আহসান বসে আছেন স্টেজে। খালি গা। রোমশ বুক। চওড়া কাঁধ। ফর্সা দেহে সাদা ধুতিটা কি দারুন মানিয়েছে! ইশশ...লোকটা এতো সুন্দর কেনো? গালে, গলায় হলুদ মাখানো। কি সুন্দর করে হাসছেন উনি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এতো সুন্দর হাসিটা। এত সুন্দর! সব ভুলিয়ে দেয় যেন। তিনতলার ছাদে দাড়িয়ে আছি। অন্ধকার বলে কেউ দেখতে পারবেনা। তাছাড়া এদিকে তাকানোর সময় কই কারো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কে যেনো দুষ্টুমি করে সাড়া বুকে হলুদ মাখিয়ে দিলো। সেই বুকটা! ইশশিরে...একবার যদি মাথা রাখতে পারতাম। একটু যদি ছুঁয়ে দিতে পারতাম। এ জন্মে হলোনা আর। আহসান নিচের ঠোঁট কামড়ে হাত দিয়ে মারার ভঙ্গি করলো। আমি হেসে ফেললাম। চোখে পানি মুখে হাসি। আমাকে কি অদ্ভুত দেখাচ্ছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেছন থেকে কে যেনো কাঁধে হাত রাখলো। পিলে চমকে উঠলো। কে আছে পিছে? কান্না লুকাবো কি করে? অন্ধকারে কি দেখা যাবে চোখ? ও আল্লাহ! জান যেনো হাতে চলে এসেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপুর গলা শোনা গেলো,"কাঁদলে ভালো করে কাঁদ। ভালোওবাসলি লুকিয়ে লুকিয়ে। কাঁদবিও লুকিয়ে লুকিয়ে। এতো লুকোচুরি কবে শিখলি রে?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি হাঁফ ছাড়লাম। কলিজায় পানি এলো। চোখ মোছার চেষ্টা করলাম। মুছলো আর কই? আবার ভিজে গেলো সব।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু পাশাপাশি দাড়ালো। আমি দাঁতে দাঁত চেপে ধরলাম। বেহায়া চোখ আহসানের দিকে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"সুন্দর লাগছে তাইনা?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি কেমন নির্বোধের মতো উওর দিলাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"খুব সুন্দর লাগছে। কেও একটু কানের পাশে কাজল দিয়ে দিচ্ছেনা কেনো আপু? নজর লেগে যাবে তো।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু হাসলো। আমি কাঁদলাম। যত কান্না এই ভালবাসাতেই। কেউ যদি বলতো,"তুমি যদি কখনো সময় পিছিয়ে নিতে পারো তবে কোন সময়টায় নিবে?" আমি একবাক্য উওর দিতাম,"যেদিন থেকে উনাকে ভালবাসি ঠি ক ততদিন পিছিয়ে দিন।" আমি আর ভালোবাসতে চাইনা। একদম চাইনা। আবার খুব করে চাই বোধহয়?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু হাত টেনে ধরলো,"নিচে চল মা ডাকছে।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি হু হু করে বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"আর একটু দেখি আপু। আর একটুখানি দেখি। কাল থেকে দেখবোনা তো। সত্যি বলছি আর দেখবোনা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু অদ্ভুত স্বরে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"না দেখে থাকতে পারবি?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি একপলক তাকালাম। মূহুর্তেই হেঁচকি তুলে বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"উনাকে না দেখলে আমি কিভাবে বাঁচবো আপু? এও সম্ভব? আমি মরে যাইনা কেনো? আল্লাহ আমাকে নেয়না কেনো?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু চেতে গেলো। থাপ্পড় মারার জন্য হাত উঠিয়েও আমাকে দু'হাতে বুকে টেনে নিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"কেন এত পাগল তুই? এতো ভালো কেনো বাসতে হলো তোর?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি উওর দিতে পারলামনা। ব্যাথায় ব্যাথায় কন্ঠ আটকে গেছে। কুঁচি কুঁচি করা হৃদপিন্ডটায় ওই হাসিটা বোধহয় লবণ মাখাচ্ছে। কাতরে কাতরে মরে যাচ্ছি। এতো যন্ত্রনা!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু চোখমুখ মুছিয়ে দিলো। জোর করে বললো,"চল, নিচে চল। আর দেখা লাগবেনা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি নেমে আসলাম। আসার আগে উনার সেই হাসিমাখা চেহারাটা মনে গেঁথে আনলাম। হইনা এবার উনার খুশিতে আমিও খুশি। উনাকে না পেয়েও?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_____________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘড়িতে এগারোটা...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গানের আওয়াজ এখনো চলছে। এদিকে মাথাব্যাথায় শিরা- উপশিরা ফাঁটছে আমার। মাথায় যেনো উল্টোপাল্টা কি সব ঘুরছে। কি কি যেন দেখলাম ঘোরের মাঝে। বুঝতে পারছিনা। বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম। বারান্দার দিকে পা বাড়াতেই আপু ঠান্ডা গলায় বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"আবার যাচ্ছিস কেনো?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি দাড়িয়ে গেলাম। ঘর অন্ধকার। আপু পাশে ছিলো? বুঝিনি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি সেখানে দাড়িয়েই আবার কাঁদলাম। আপু উঠে আসলো। মুখের চুল সরিয়ে দিলো। আমি অসহায়ের মতো বলেই ফেললাম,"একবার যাইনা আপু। উনাকে একটু জড়িয়ে ধরি গিয়ে। শক্ত করে শুধু একবার। কি হবে? বাবা মেরে ফেলবে আমাকে? বেঁচে থেকেও কি? আমিতো মরেই গেছি।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপু এবার রাগলো না। গালে হাত রেখে বললো,"সত্যি যাবি?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি উপরনিচে মাথা নাড়লাম। মনে হলো, খুব ভারি একটা পাথর নেমে গেলো বুক থেকে। শান্তি লাগলো। অনেক শান্তি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাসা থেকে নামলেই উনাদের বাসা। তিনকদম পেরোলেই বিয়ের গেট। রাস্তা আলোকিত। বাইরে মানুষ আছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখ ফাঁকি দিয়ে যাওয়া অসম্ভব। রাতের খাবার খেলাম কোনোমতে। আপু আশ্বাস দিয়েছে নিয়ে যাবে। সবাই ঘুমিয়ে পড়লো বারোটার দিকে। উনাদের গানবাজনা একটু নিভেছে। বারোটা দশের দিকে আপু আমাকে নিয়ে বেরোলো। বারান্দা দিয়ে দেখেছে আহসান ছাদে নেই। জানালা দিয়ে তাকালেই উনার রুম দেখা যায়। রুমের বাতি জালানো ছিলো। পর্দা টানা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়েও উত্তেজনায় কাঁপছে হাত- পা। মানুষটার সামনাসামনি দাড়ালে আমার জ্ঞান থাকবে তো? ভুলবশত উনার চোখে কখনো চোখ পড়লেই তো মরে যাই যাই অবস্থা হয় আমার। তার সাথে আমি কথা বলবো কি করে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমাদের নিজের বাড়ি। গেট খোলা নিয়ে সমস্যা হলোনা। চাবি ছিলো সাথে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"আপু? কেউ দেখে ফেললে? থাক, চলো ফিরে যাই।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"ভালোবেসে এতো ভয় পেলে চলেনা চৈতি।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি চুপ হলাম। অপেক্ষা করলাম। গেটের সামনে একেবারে খালি হলেই ভেতরে ঢুকবো। মনের কাঁপাকাঁপি বন্ধ হলোনা। জীবনে প্রথমবারের মতো ভাগ্য সহায় হলো। লোডশেডিং হলো পুরো এলাকায়। কিছু বুঝার আগেই আপু ছুট লাগালো আমার হাত ধরে। আমি কাঁপছি। খুব কাঁপছি। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। ও বাড়ির গেট খোলাই ছিলো। লোকজন আসছে যাচ্ছে। এর আগে কখনো আসিনি। অন্ধকারেই আপু কিভাবে যেনো দোতালায় নিয়ে গেলো। বাসা অনেকটাই খালি। সবাই ছাদে। কখনো না আসলেও আহসানের রুম চিনতে কষ্ট হলোনা। আপু দেরি করলোনা। দরজা ঠেলে ঢুকে গেলো ভেতরে। দরজা কেনো খোলা ছিলো কে জানে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমরা ঢুকতেই সেই চিরচেনা কন্ঠস্বর,"আম্মা? গোসলের পানি এনেছো? আচ্ছা দাড়াও। ফোনটা যে কই? লাইট জ্বালাই। আবার গায়ে ফেলে দিওনা। গরম পানি কিন্তু।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উনি ফোন খোঁজার আগেই কারেন্ট চলে এলো। আলোতে মায়ের বদলে আমাদের দেখে উনি যেনো ভুত দেখার মতো চমকে গেলেন। থমকে গেলাম আমিও। কাছ থেকে লোকটা এত সুন্দর? আমি হাত বাড়ালেই তাকে ছুঁতে পারবো? সত্যি? আপু দরজার ছিটকিনি আটকে দিলো। বললো,"আমি বারান্দায় আছি।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আহসান যেনো কিছু বলতে পারছেন না। শব্দ ফুরিয়ে গেছে। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আবার। উনার মায়ের ডাক শোনা গেলো,"দরজা খোল। পানি এনেছি। আর কতক্ষণ হলুদ গায়ে থাকবি? জলদি খোল।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি ফুঁপিয়ে উঠলাম। উনি বাহু ধরে দরজার সামনে থেকে নিয়ে আসলেন আমাকে। লোকটার স্পর্শ। সত্যি তো? একদম সত্যি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উনি গলা বাড়িয়ে বললেন,"লাগবেনা আম্মা। তুমি যাও। আমি ঠান্ডা পানি দিয়েই গোসল করবো।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"সে কি জ্বর আসবে তো।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"আসবেনা, যাও তুমি।" একরোখা কন্ঠে উনার আম্মা বিরবির করতে করতে চলে গেলেন। উনি বাহু ছেড়ে দিলেন। আমি আর পারলামনা। দিন দুনিয়ায় সকল বারণ তুচ্ছ করে ঝাপিয়ে পড়লাম উনার হলুদমাখা বুকে। দু'হাতে জাপটে ধরলাম পিঠ। উনি স্হির হয়ে দাড়িয়ে রইলেন। কাঁদতে কাঁদতে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে আমার। একটুপর বুঝলাম, আমার মাথার পিছে একটা হাত। আমার যেনো মনে হলো সব পেয়ে গেছি। পৃথিবীতে আর কিছু চাওয়ায় বাকি নেই। সব পেয়ে গেছি আমি। সব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"কেনো আসলে চৈতি?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি কথা বলতে পারলামনা। উনার গলায় আমার নামটা কেমন অপরুপ শোনালো না? এত সুন্দর আমার নামটা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখেমুখে হলুদ মেখে একাকার। উনার গায়ের হলুদ। উনার বুকের হলুদ। বিশ্বাস হচ্ছেনা, এই বুকে আমি মাথা রাখতে পারলাম? সপ্ন নয়তো? ভেঙে যাবে এক্ষুণি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আহসান কেনো যেনো একটা চুমু খেলেন আমার মাথায়। ছোট্ট একটা চুমু। কয়েক সেকেন্ড হয়তো। এতেই যেনো সব পুড়ে গেলো। ছারখার হলো। আগুন ধরলো আগে থেকেই দগ্ধ হওয়া হৃদয়ে। এতো কষ্ট! এতো যন্ত্রনা! এমন বিচ্ছেদ!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি শেষপর্যন্ত কথা বলতেই পারলামনা। আহসান ছাড়িয়ে নিলেন নিজের থেকে। আপুকে ডেকে বললেন,"কেন নিয়ে এলে ওকে?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি তখনো কাঁদছি। আপু বললো,"ও মারাই যেতো।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উনি শ্বাস ফেললেন। বললেন,"ফিরবে কিভাবে? আচ্ছা দাড়াও, আমি দেখে আসি বাইরেটা।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আহসান কিভাবে যেনো সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের বাসার নিচে নিয়ে আসলেন। আপুকে বললেন,"ওর খেয়াল রেখো।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি তাকালাম উনার চোখে। উনি চোখ নামিয়ে শুধু বললেন,"সম্ভব না।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেটাই শেষ কথা। উনি চলে গেলেন। আমি এসে আয়নার সামনে দাড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। ইশশ.. উনার গায়ের হলুদ। না ধুলে হয়না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরের দিন নিয়মমতো বিয়ে হয়ে গেলো। আমরা কেউই যাইনি। মেঝোচাচা আর বাবা গিয়েছিলেন শুধু।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাতের বেলা বারান্দায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমি শুধু দেখলাম একটা লাল টুকটুকে বউ নিয়ে এসেছেন উনি। সবাই কি খুশি! আহা! মেয়েটা কান্না করেছে। আমি এতো কেঁদেও উনাকে পেলামনা আর এই মেয়েটা পেয়েও কাঁদছে। বোকা!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেদিনের পর কেটে গেলো সময়। দেড় বছরের মাথায় আমার বিয়ে হয়ে গেলো। সংসার হলো একটা।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পৃথিবীর অন্তরালে হারিয়ে গেলো এক মেয়ের পাগলাটে ভালোবাসা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জানালায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে উনাদের বাড়ির দিকে তাকিয়েই পুরনো কথা ভাবছিলাম। বাড়িটা এখনো দোতালাই আছে। ছাদে কাপড় শুকানো। জামাইসহ বেড়াতে এসেছি। বিয়ের পর প্রথম। আপুও এসেছে। আপুর বিয়ে হয়েছিলো আমার বিয়ের ছ'মাস আগেই।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎ উনার জানালার পর্দাটা সরিয়ে দিলো কেউ। উনার বউ। কোলে একটা লাল ফ্রক পড়া টুকটুকে মেয়ে। আমি আপুকে ডাকলাম। আপু পাশে এসে দাড়ালো। আমি চোখ দিয়ে ইশারা করে বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;---"দেখ, উনার একটা মেয়ে হয়েছে।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কন্ঠটা একটু কেঁপে গেলো বোধহয়। একটু? নাকি অনেকটা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;_______ সমাপ্ত_______&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;Writer:- মালিহা খান&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/5455943214282095192/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_27.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5455943214282095192" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5455943214282095192" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_27.html" rel="alternate" title="বিচ্ছেদ" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgjg1M56yzDWvFImSl6FPtMN50u_Std3tBtlJsNG50jWWws0EI_PDbkgmyO9bYpm-rrgxwTWKc3oSQVjjsNr2Uq9NP7Ar7nnWJq3tg5aztzU5hQ3ZdglHMveoLdUJWtZKHDXMKaP5Y3SMs/s72-c/1690445748971637-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-1378730917781184101</id><published>2023-07-27T00:26:00.001-07:00</published><updated>2023-07-27T00:26:53.929-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Quote"/><title type="text">বিখ্যাত ব্যক্তিদের বলে যাওয়া সেরা বাঁচাইকৃত ১২০ উক্তি - Bangla Quote - বাংলা বাণী - বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEicz9lCC-xLQ1RBvRBPiEj_YKxDQBQ3nKspTtt-xhyphenhyphenWKJyeXgBWqKxRw7CTpS-p5wBJ-QHLKYHPnMIEFivuMMC2rGFPrOqzKyHZoSO7SuHl6zQjV0itJPKh5sN4OyyM5OJk4wiR77zlOLQ/s1600/1690442807910370-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEicz9lCC-xLQ1RBvRBPiEj_YKxDQBQ3nKspTtt-xhyphenhyphenWKJyeXgBWqKxRw7CTpS-p5wBJ-QHLKYHPnMIEFivuMMC2rGFPrOqzKyHZoSO7SuHl6zQjV0itJPKh5sN4OyyM5OJk4wiR77zlOLQ/s1600/1690442807910370-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১. সফল মানুষেরা কাজ করে যায়। তারা ভুল করে, ভুল শোধরায় – কিন্তু কখনও হাল ছাড়ে না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কনরাড হিলটন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২. পোষাক হলো বাইরের আবরণ, মানুষের আসল সৌন্দর্য হচ্ছে তার জ্ঞান।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সক্রেটিস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩. অন্যের সৎ কর্মের দিকে তাকাও আর নিজের দুস্কর্মের দিকে তাকাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪. সূর্য নিজেও ভোরবেলা দুর্বল থাকে, এরপর ধীরে ধীরে শক্তি আর সাহস সঞ্চয় করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চার্লস ডিকেন্স&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫. সাফল্য মানে ৯ বার পড়ে গিয়ে ১০ম বার উঠে দাঁড়ানো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বন জোভি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬. ব্যর্থতার ছাই থেকে সাফল্যের প্রাসাদ গড়ো। হতাশা আর ব্যর্থতা হলো সাফল্যের প্রাসাদের দুই মূল ভিত্তি|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডেল কার্নেগী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭. অপেক্ষা হলো শুদ্ধতম ভালোবাসার একটি চিহ্ন। সবাই ভালোবাসি বলতে পারে। কিন্তু সবাই অপেক্ষা করে সেই ভালোবাসা প্রমাণ করতে পারে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হুমায়ূন আহমেদ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮. যদি মুখে বলো যে তুমি কিছু করবে, তবে অবশ্যই তা করো। কাজে হাত না দিলে আশপাশের মানুষ তোমার ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ব্রোক ব্লোহেম, সফল উদ্যোক্তা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯. ভালোবাসা এই এক আশ্চর্য মাদক,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেড়ে গেলেও যার নেশা ছাড়ে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রুদ্র গোস্বামী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০. একজন মানুষ এখন কতটা উপরে আছে, তা দিয়ে আমি তার সাফল্য মাপি না। একদম নিচে পড়ে যাওয়ার পর সে নিজেকে কতটা ওপরে তুলতে পারে – সেটাই আসল কথা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জর্জ এস, প্যাটন (২য় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান সেনাবাহিনীর জেনারেল)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১. যার মাঝে সীমাহীন উ‌ৎসাহ, বুদ্ধি ও একটানা কাজ করার গুণ থাকে, তবে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডেল কার্নেগী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১২. মৃত্যু কি সহজ, কি নিঃশব্দে আসে অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সমরেশ মজুমদার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৩. বিশ্বাস জীবনকে গতিময়তা দান করে, আর অবিশ্বাস জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিল্টন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৪. আমি ব্যর্থতা কে মেনে নিতে পারি কিন্তু আমি চেষ্টা না করাকে মেনে নিতে পারিনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাইকেল জর্ডান&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৫. আমি ভেড়ার নেতৃত্বে সিংহ বাহিনীকে ভয় পাই না, কিন্তু সিংহের অধীনে ভেড়ার পালকে ভয় পাই।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আলেকজান্ডার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৬. বন্ধুত্ব অনেক সময় ভালোবাসায় পর্যবসিত হয়, কিন্তু বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও ভালোবাসা থাকে না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চার্লস কনটন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৭. সত্য কথা বলা এবং সুন্দর করে লেখা অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাসকিন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৮. সবাই অনেকদিন বাঁচতে চায়, কিন্তু কেউই বুড়ো হতে চায় না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জোনাথন সুইফট&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৯. ভাগ্য বলে কিছুই নেই, প্রত্যেকের চেষ্টা ও যত্নের উপর তা গড়ে উঠে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্কট&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২০. প্রত্যেককে বিশ্বাস করা বিপদজনক, কিন্তু কাউকে বিশ্বাস না করা আরো বেশী বিপদজনক|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আব্রাহাম লিংকন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২১. দুর্ভাগ্যবান তারাই যাদের প্রকৃত বন্ধু নেই|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অ্যারিস্টটল&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২২. একবার পরীক্ষায় কয়েকটা বিষয়ে আমি ফেল করেছিলাম, কিন্তু আমার বন্ধু সব বিষয়েই পাশ করে। এখন সে মাইক্রোসফটের একজন ইঞ্জিনিয়ার আর আমি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিল গেটস।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৩. মানুষ জন্মসূত্রে কারো গায়ের রং, দেশ ও&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ধর্মের জন্য অন্যকে ঘৃনা করতে শেখে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানুষেরা তাকে ঘৃনা করতে শেখায়। যেহেতু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাকে ঘৃনা করতে শেখানো যায় তাই তাকে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভালোবাসতেও শেখানো সম্ভব। কারন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভালোবাসাটা ঘৃনার চেয়ে আরো সহজ ও&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্বতস্ফুর্তভাবে আসে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নেলসন ম্যান্ডেলা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৪. মেয়েরা পুরুষের হৃদয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এক নিমিষেই চিনে নিতে পারে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এটি বিধাতার দেয়া শক্তি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওরা নিজেদের হৃদয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিজেরা চিনতে পারে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়য়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৫. সুন্দরী মেয়ে বহু পাওয়া যায় কিন্তু ভালো মেয়ে পাওয়া কষ্টকর।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভিক্টর হুগো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৬. সবাইকে ভালোবাসো, বিশ্বাস করো অল্প কয়েক জনকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শেক্সপীয়ার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৭. তুমি আকাশ সমান বড় হও,কিন্তু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তোমার পা যেন মাটিতে থাকে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাহথির মোহাম্মদ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৮. স্কুলে যা শেখানো হয়, তার সবটুকুই ভুলে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যাবার - পর যা থাকে; তাই হলো শিক্ষা|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অ্যালবার্ট আইনস্টাইন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৯. একজন আহত ব্যক্তি তার যন্ত্রনা যত সহজে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভুলে যায়, একজন অপমানিত ব্যক্তি তত সহজে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অপমান ভোলে না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জর্জ লিললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩০. যে তোমায় আঘাত করেছে ভুলে যাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু সেই আঘাত থেকে তুমি যা শিক্ষা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেয়েছো তা কখনো ভুলে যেও না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এ পি জে আব্দুল কালাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩১. মাত্র দুটি পন্থায় সফল হওয়া যায়! একটি হচ্ছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা, ঠিক যা তুমি করতে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চাও। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সেই লক্ষ্যে কাজ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;করে, যাওয়া|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মারিও কুওমো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩২. নরম কাঁদা একবার পুড়ে যদি ইট হয়ে যায়, তারপর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যতই পানি ঢালা হোক না কেন, তা আর গলে না বরং&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শক্তিশালী হয়। মানুষের মনও একই রকম, একবার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কষ্ট পেলে এরপর শত আবেগেও তার কোন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরিবর্তন হয় না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টার্মস টমাস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৩. প্রতিদিন আমাদের এমনভাবে কাটানো উচিত, যেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আজ জীবনের শেষ দিন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেনেকা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৪. একশত জনকে খাওয়াতে হবে না,কিন্তু চোখের সামনে একজনকে অভুক্ত দেখলে অন্তত একমুঠো অন্ন দিয়ো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাদার তেরেছা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৫. একজন সফল দলনেতা আরো অনেকগুলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দলনেতা তৈরি করে। আর একজন ব্যর্থ দলনেতা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শুধু একদল অনুসরণকারী রেখে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রালফ নাডের&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৬. ইতিবাচক মনোভাব থাকলে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্বপ্ন সত্যি হতে পারে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডেভিড বেইলি (ইংরেজ ফটোগ্রাফার)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৭. আমরা যখন আমাদের কর্তব্য –&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কর্মে অবহেলা দেখাই, কোন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দায়িত্বকে নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রহন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;করিনা, তখনই অকৃতকার্যতা আসে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডেল কার্নেগী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৮. অসুস্থতা ঘোড়ায় চড়ে আসে কিন্তু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যায় পায়ে হেঁটে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডোনাল্ড জি মিচেলল&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৯. নিচুশ্রেনীর লোকেরা অপরকে কষ্ট&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দিতে হাতিয়ার হিসেবে তাদের&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অশ্লীল, বাক্যকে ব্যবহার করে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এডগার এ্যালান পো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪০. সাফল্যের ৩টি শর্ত&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অন্যের থেকে বেশী জানুন!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অন্যের থেকে বেশী কাজ করুন!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অন্যের থেকে কম আশা করুন!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উইলিয়াম শেক্সপিয়ার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪১. শত্রু মরে গেলে আনন্দিত হবার কারন নেই। শত্রু সৃষ্টির কারনগুলো এখনও মরেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওল পিয়ার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪২. আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আস্থা ছিল। আর আমি কাজটা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভালোবাসতাম। ফেসবুক বিফল হলেও&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার ভালোবাসাটা থাকত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জীবনে একটা স্বপ্ন থাকতে হয়, সেই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্বপ্নকে ভালোও বাসতে হয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মার্ক জুকারবার (ফেইসবুকের নির্মাতা)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৩. যদি সর্বোচ্চ আসন পেতে চাও তাহলে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সর্বনিম্ন স্থান থেকে আরম্ভ কর|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাইরাস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৪. ভালবাসতে শেখ, ভালবাসা দিতে শেখ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাহলে তোমার জীবনে ভালবাসার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অভার হবেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টমাস কুলার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৫. শুধু ভিক্ষা করে কথনো স্বাধীনতা লাভ করা যায়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;না । স্বাধীনতা অর্জন করতে হয় শক্তি দিয়ে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;,সংগ্রাম করে ।স্বাধীনতার মূল্য দিতে হয় রক্ত&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দিয়ে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৬. যখন একটি দরজা বন্ধ হয়ে যাবে তখন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিশ্চয়ই জানবে যে, খুব শীঘ্রই তোমার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জন্য আর একটি দরজা খুলে যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কার্ভেন্টিস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৭. আমি বিশ্বের সব ইহুদী মারতাম, কিন্তু কিছু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইহুদী বাঁচিয়ে রাখলাম যাতে পুরো বিশ্ব&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বুঝতে পারে যে কেন আমি তাদের মেরেছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হিটলার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৮. সত্যি সত্যিই কিছু করতে চাইলে একটা রাস্তা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খুঁজে পাবেন আপনি, আর না চাইলে পাবেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অজুহাত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জিম রন (মার্কিন উদ্যোক্তা)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৯. আমি যতই মানুষ চিনেছি, ততই কুকুরকে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভালোবেসেছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মার্ক টোয়েন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫০. তোমার বন্ধু হচ্ছে সে, যে তোমার সব&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খারাপ দিক জানে; তবুও তোমাকে পছন্দ করে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অ্যালবার্ট হুবার্ড&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫১. আমার বয়স যখন পাঁচ বছর, আমার মা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমাকে বলেছিলো সুখই হলো জীবনের&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চাবিকাঠি। যখন আমি স্কুলে গেলাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমাকে লিখতে বলা হলো আমি বড় হয়ে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কি হতে চাই। আমি লিখলাম, আমি বড়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হয়ে সুখি হতে চাই। তারা বলেছিলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি প্রশ্নটা ঠিক মতো বুঝিনি, এবং&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি বলেছিলাম তারাই জীবনের অর্থটা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখনো বোঝেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জন লেলন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫২. যে তোমাকে কষ্ট দেয় তাকে তুমি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভালবাসো। আর যে তোমাকে ভালবাসে তাকে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তুমি কষ্ট দিওনা। কারণ পৃথিবীর কাছে হয়তো তুমি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুই নও, কিন্তু কারো কাছে হয়তোবা তুমিই তার পৃথিবী।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নেপোলিয়ান&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫৩. তুমি যদি কোনো লোককে জানতে চাও, তা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হলে তাকে প্রথমে ভালবাসতে শেখো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেলিন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫৪. দক্ষতা অর্জনের পথ হল&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অপরের অভিজ্ঞতা মনে রাখুন।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিজের উদ্দেশ্য সামনে রাখুন।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাফল্যের জন্য মন কে তৈরি করুন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যতটা সম্ভব অভ্যেস করুন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডেল কার্নেগীর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫৫. জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত থেমো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্বামী বিবেকানন্দ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫৬. প্রত্যেকটা মধুর সম্পর্ক নষ্ট হয় তৃতীয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ব্যক্তির আগমনে। দু জনের কানাকানি কথার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মধ্যে অন্য কেউ এসে হানাহানি করলে হৃদয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিয়ে আসলেই টানাটানি লেগে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আলবার্ট রুর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫৭. অন্যকে বারবার ক্ষমা কর কিন্তু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিজেকে কখনোই ক্ষমা করিও না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সাইরাস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;58. আপনি যদি গরীব হয়ে জন্ম নেন তাহলে এটা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপনার দোষ নয়, কিন্তু যদি গরীব থেকেই মারা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যান তবে সেটা আপনার দোষ|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিল গেটস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫৯. সন্ত্রাস, নাশকতা, হত্যা এবং&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিস্ময়ের মধ্য দিয়ে শত্রুর মনোবল&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভেঙে দাও, এটাই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হিটলার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬০. আলো ছড়ানোর দু’টি উপায় আছে। এক – নিজে মোমবাতি হয়ে জ্বলো, দুই – আয়নার মত আলোকে প্রতিফলিত করো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এডিথ ওয়ারটন (বিখ্যাত লেখিকা)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬১. সব ধরনের অনিশ্চয়তা, হতাশা আর বাধা সত্ত্বেও নিজের সবটুকু দিয়ে সফল হওয়ার চেষ্টাই শক্তিমান মানুষকে দুর্বলদের থেকে আলাদা করে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;থমাস কার্লাইল (স্কটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬২. সৎ পরামর্শের চেয়ে কোনো উপহার অধিক মূল্য নয়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ইমারসন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৩. বিশ্বাস মানে হল সামনে কিছু না দেখেও সামনে এগিয়ে যাওয়া, সময়ে সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যানি হ্যাল (বিখ্যাত লেখিকা)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৪. তোমার দেশ তোমাকে কি দিয়েছে সেটি জিজ্ঞেস করোনা, তুমি দেশকে কি দিতে পেরেছো সেটি জিজ্ঞেস করো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জন এফ কেনেডি (সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৫. ভবিষ্যৎকে যারা ভালবেসেছে, তাদের কাছে বর্তমানের&amp;nbsp; সুখ বলে কিছু নেই। আদর্শের জন্যে সমস্ত ব্যক্তিগত সুখকে বিসর্জন দিতেই হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাক্সিম গোর্কি (মা উপন্যাস)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৬. যদি হিমালয় আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একদিন গলেও যায়, তবুও তুমি আমার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যদি নায়াগ্রা জলপ্রপাত&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একদিন সাহারার কাছে চলেও যায়,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তবুও তুমি আমার।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গৌরী প্রসন্ন মজুমদার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৭. হ্যাঁ এবং না কথা দুটো সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে ছোট। কিন্তু এ কথা দুটো বলতেই সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পীথাগোরাস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৮. নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো! নিজের যোগ্যতার ওপর ভরসা রাখো! নিজের শক্তির ওপর বিনয়ী, কিন্তু যথেষ্ঠ আস্থা ছাড়া তুমি সফল বা সুখী হতে পারবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নরম্যান ভিনসেন্ট পীল (লেখক, দার্শনিক)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬৯. মানুষের নৈতিকতার জন্য তো ধর্মের কোনও দরকার নেই। দরকার মানবিকতা, সহমর্মিতা, শিক্ষা আর সামাজিকতার। মানুষ যদি পরকালের শাস্তির কথা ভেবে নৈতিক হয়, সেই নৈতিকতার মধ্যে মহত্ত্ব কোথায় ?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আলবার্ট আইনস্টাইন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭০. বেশিরভাগ ব্যার্থ পুরুষ হাল ছেড়ে দেওয়ার আগে বুঝতেই পারেনা তারা সফলতার ঠিক কতটুকু কাছাকাছি ছিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টমাস আলভা এডিসন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭১. ভবিষ্যৎকে যারা ভালবেসেছে,তাদের কাছে বর্তমানের সুখ বলে কিছু নেই।আদর্শের জন্যে সমস্ত ব্যক্তিগত সুখকে বিসর্জন দিতেই হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাক্সিম গোর্কি (মা উপন্যাস)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭২. আমি যার শিয়রে রোদ্দুর এনে দেবো বলে কথা দিয়েছিলাম সে আঁধার ভালোবেসে রাত্রি হয়েছে। এখন তার কৃষ্ণ পক্ষে ইচ্ছের মেঘ জোনাকির আলোতে স্নান করে, অথচ আমি তাকে তাজা রোদ্দুর দিতে চেয়েছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৩. যেখানে পরিশ্রম নেই, সেখানে সাফল্যও নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উইলিয়াম ল্যাংলয়েড&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৪. যতদিন বেঁচে থাকা ততদিন কত আপনজন পর হয়ে যাবে, কত বিশ্বাসী ভেঙে দেবে বিশ্বাস, কত স্নেহের ধন ধরবে রুদ্রমূর্তি, কত চেনা হয়ে যাবে অচেনা।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৫. তোমার জীবনের সেরা মূহুর্ত সেটাই যখন তুমি বুঝবে যে, তোমার সমস্যার দায় তোমার একার। যখন তুমি বুঝবে তোমার সমস্যার জন্য তোমার অভিভাবক, সমাজ বা সরকার দায়ী নয়। যখন তুমি বুঝবে, তোমার স্বপ্ন তোমাকেই পূরণ করতে হবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আলবার্ট ইলেস (বিশ্বখ্যাত মনোবিজ্ঞানী)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৬. চরিত্র হারিয়ে গেলে সব হারিয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বিলি গ্রাহাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৭. তুমি যদি মন থেকে সত্যি কাউকে ভালোবেসে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;থাকো তবে এক শতাব্দী পরও তুমি তার ডাকে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সারা দিতে বাধ্য!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৮. আমরা যদি সময়ের যত্ন নিই, তবে সময় আমাদের জীবনের যত্ন নেবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মারিয়া এজগ্লোথ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭৯. আমার সব থেকে ভালো বন্ধু হল আয়না, কারন আমি যখন কাঁদি তখন সে হাঁসে না।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চার্লি চ্যাপলিন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮০. এমন কাউকে বিয়ে করুন, যাকে অনুকরণ করতে ইচ্ছে হয়; যাকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং যার থেকে ক্ষমা করা শেখা যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮১. একজন গড়পড়তার মানুষ কথা বলে। একজন ভাল মানুষ ব্যাখ্যা করে। একজন উর্ধ্বতন মানুষ কাজ করে দেখায়। একজন সেরা মানুষ অন্যদেরকে প্রেরণা যোগায় যাতে তারা নিজেরাই কাজকে নিজের মত করে দেখতে পারে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হার্ভি ম্যাকে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮২. যে সকল শিশু নিজের উপর আত্মবিশ্বাসী তারা সর্বপ্রথম তাদের বাবা মা কে বিশ্বাস করে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এমবার ডুসিক&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৩. আমরা কোনোভাবেই ভালোবাসার ওপর মূল্য নির্ধারণ করতে পারি না, কিন্তু ভালোবাসার জন্য দরকারি সব উপকরণের ওপর মূল্য নির্ধারণ করতেই হবে।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যালানি ক্লার্ক, আইরিশ অভিনেত্রী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৪. যতক্ষণ আমি শ্বাস নিচ্ছি, আমি চেষ্টা করে যাবো। কারণ এখন আমি সাফল্যের সবচেয়ে বড় উপায়টি জানি: আমি যদি যথেষ্ঠ চেষ্টা করি, আমি জিতবোই|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওজি ম্যাডিনো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৫. যদি সন্তুষ্টি নিয়ে ঘুমাতে যেতে চাও, তবে একটি লক্ষ্য নিয়ে সকাল শুরু করো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জর্জ লরমির&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৬. সমস্যা তোমাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য আসে না, তোমাকে পথ দেখাতে আসে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রবার্ট এইচ. স্কুলার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৭. জ্ঞান, দয়ামায়া, এবং সাহস এই তিনটি মানুষের সবচেয়ে বড় মানবিক গুণ|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কনফুশিয়াস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৮. বড় অর্জনের জন্য শুধু কাজ করলেই হবে না, সাথে স্বপ্নও দেখতে হবে। পরিকল্পনার সাথে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এনাটল ফ্রান্স&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮৯. সাফল্য তখনই আসে যখন একজন মানুষ তার নিজের ক্ষমতার পুরোটা কোনও কাজে বিলিয়ে দেয়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জন উডেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯০. যদি তোমার সমালোচনা করার মত কেউ না থাকে, তবে তোমার সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যালকম এক্স&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯১. সাফল্য আসলে কাজ করে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত। সফল মানুষেরা সব সময়ে কাজ করে যান। তাঁরা ভুল করেন, কিন্তু কখনও সেই কারণে থেমে যান না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কনরাড হিলটন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯২. সন্তানের সাফল্য চাইলে তাকে মাছ খেতে দেয়ার বদলে মাছ ধরতে শেখাও|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাও সে তুং&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৩. তুমি যদি তোমার সময়ের মূল্য না দেও তাহলে অন্যরাও দিবে না। নিজের সময় ও প্রতিভাকে বাজে বিষয়ে নষ্ট করা বন্ধ করো তাহলেই সফল হবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিম গ্রাস্ট&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৪. যেখানে আশা নেই,সেখানে লক্ষ্যও নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জর্জ কারভার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৫. সাধারণ মানুষ যতোখন ভালো লাগে, ততক্ষণ কাজ করে। আর অসাধারণ সফল মানুষেরা ভালো না লাগলেও যতোখন না কাজ শেষ হয়, ততক্ষণ কাজ বন্ধ করে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ব্রায়ান ট্রেসি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৬. যদি তুমি কারো সাথে তোমার ভাষায় কথা বলো,তার কাছে যেতে পারবে;যদি তার ভাষায় কথা বলো,তার হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নেলসন ম্যান্ডেলা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৭. যদি উড়তে না পারো, তবে দৌড়াও; যদি দৌড়াতে না পারো তবে হাঁটো, যদি হাঁটতে না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পারো তবে হামাগুড়ি দাও, যে অবস্থাতেই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;থাকো এগিয়ে যাওয়া বন্ধ করবে নাহ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৮. গতকাল আমি চতুর ছিলাম, তাই পৃথিবীকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। আজ আমি বুদ্ধিমান হয়েছি, তাই নিজেকেই বদলে দিচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জালালুদ্দিন রুমী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯৯. পা না ভিজিয়ে হয়তো সাগর পাড়ি দেওয়া যায়,কিন্তু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখ না ভিজিয়ে জীবন পাড়ি দেওয়া অসম্ভব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টার্মস টমাস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০০. তুমি যদি কাউকে ভালোবাস, তবে তাকে ছেড়ে দাও। যদি সে তোমার কাছে ফিরে আসে, তবে সে তোমারই ছিল। আর যদি ফিরে না আসে, তবে সে কখনওই তোমার ছিল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০১. তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেই জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কাজী নজরুল ইসলাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০২. প্রেম হল অন্ধ। প্রেমিকরা তাদের প্রিয়জনের দোষগুলো দেখতে পায় না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;উইলিয়াম শেক্সপিয়র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৩. লোকে বলে মেয়েদের নিজের কোন বাড়ি হয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;না। কিন্তু সত্যি কথা হলো তাদের ছাড়া কোন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাড়িই সম্পূর্ণ হয় না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফ্রান্সিস বেকন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৪. খারাপ মানুষের সাথে তর্কে জড়াবেন না,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারা আপনাকে টেনে হিঁচড়ে তাদের&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লেভেলে নিয়ে যাবে, এবং এরপর তাদের&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খারাপ অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনাকে পরাজিত&lt;/div&gt;&lt;div&gt;করবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মার্ক টোয়েন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৫. যদি কোনো মানুষ সবসময় নীরব থাকে। এর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানে এটা না যে সে মজা করতে পারে না। তার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানে এইটা যে জীবন তাকে এমন কিছু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শিখিয়েছে যা তাকে নীরব বানিয়ে দিয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হেনরি মার্কিন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৬. ইতিহাস পড়ে দেখ, প্রেমিকরা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চিরকাল ফ্যা ফ্যা করে বেড়ায়। কিন্তু লম্পটদের কখনও মেয়ের অভাব হয় না। মেয়েরা মাইরি লম্পটদেরই ভালবাসে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৭. জীবন তৃপ্তি দেয় যতটুকু,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অতৃপ্তি দেয় তার চেয়ে বেশি|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ক্রিস্টিনা রসের্ট&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৮. পৃথিবীতে কোনো মেয়েই ছয়টা গাড়ীর মালিক ছেড়ে সিক্স প্যাক ওয়ালা ছেলের সাথে যাবে না, তাই জিমে যাওয়া বন্ধ করে কাজে যাও|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রবার্ট মুগাবে (স্বাধীন জিম্বাবুয়ের জনক, &amp;amp; প্রধানমন্ত্রী)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০৯. যে মনের দিক থেকে বৃদ্ধ নয়, বার্ধক্য তার জীবনে আসে না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফিলিপ ম্যাসিঞ্জার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১০.&amp;nbsp; সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নিজেকে চেনা এবং সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে অন্যদেরকে উপদেশ দেয়া|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;থেলিস&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১১. যারা বলে অসম্ভব,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অসম্ভব তাদের দুয়ারেই বেশি হানা দেয়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জন সার্কল&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১২. কৃতজ্ঞ কুকুর অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে শ্রেয়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শেখ সাদী&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৩. অসহায়কে অবজ্ঞা করা উচিত নয়, কারণ মানুষ মাত্রেই জীবনের&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কোন না কোন সময় অসহায়তার শিকার হবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গোল্ড স্মিথ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৪. একজন ভালো মানুষ একজন ভালো মানুষ তৈরি করতে পারে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মোনান্ডার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৫. প্রথম দিন যিনি অতিথী, দ্বিতীয় দিনে তিনি বোঝা, এবং তৃতীয় দিনে তিনি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ল্যাবোলাই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৬. আমি পরীক্ষা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কারণ পরীক্ষার খাতার কয়েকটি পৃষ্ঠা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার ভবিষ্যত নির্ধারন করতে পারে না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টমাস আলভা এডিসন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৭. ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া জীবনেরই একটা অংশ।কিন্তু নিজের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অন্যকে দোষারোপ করা অপরিপক্কতার পরিচয়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ড্যামোলিয়াম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৮. আপনি যদি অন্যদের অনুসরন করে তাদের সাহায্য নিয়ে চলতে থাকেন তবে হয়তো একদিন তার জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের পথটা নিজেই তৈরী করে চলেন তাহলে হয়তো এমন এক সাফল্যমন্ডিত যায়গায় পৌঁছাবেন যেখানে আজ পর্যন্ত কেউই পৌঁছাতে পারেন নি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আলবার্ট আইনস্টাইন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১৯. মানুষ যতটা সুখী হতে চায়, সে ততটাই হতে পারে । সুখের কোনো পরিসীমা নেই। ইচ্ছে করলেই সুখকে আমরা আকাশ অভিসারী করে তুলতে পারি|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আব্রাহাম লিংকন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১২০. গর্ব না করাই গর্বের বিষয় । বড় হয়েও নিজেকে ছোট মনে করা গৌরবজনক|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;প্লেটো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/1378730917781184101/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/bangla-quote.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1378730917781184101" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1378730917781184101" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/bangla-quote.html" rel="alternate" title="বিখ্যাত ব্যক্তিদের বলে যাওয়া সেরা বাঁচাইকৃত ১২০ উক্তি - Bangla Quote - বাংলা বাণী - বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEicz9lCC-xLQ1RBvRBPiEj_YKxDQBQ3nKspTtt-xhyphenhyphenWKJyeXgBWqKxRw7CTpS-p5wBJ-QHLKYHPnMIEFivuMMC2rGFPrOqzKyHZoSO7SuHl6zQjV0itJPKh5sN4OyyM5OJk4wiR77zlOLQ/s72-c/1690442807910370-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-3869397427761135611</id><published>2023-07-24T03:36:00.001-07:00</published><updated>2023-07-24T03:36:46.149-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Quote"/><title type="text">Bangla Caption - Sad Caption - Bangla Top 50 Sad Caption</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgH_xx4M-tkh-C0vlI7Dae1gVfhRY7Tx1dL3NmKvIazbhOXEol8Xk3Mi83qxu_pbXuizp3OFGIyB9N6F9E_4LWSJmkJi-6ufgvNXDok_7M-9uPOuCyKL-6In8qli3vxBPkCK2tqOwiB3Oc/s1600/1690195000693146-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgH_xx4M-tkh-C0vlI7Dae1gVfhRY7Tx1dL3NmKvIazbhOXEol8Xk3Mi83qxu_pbXuizp3OFGIyB9N6F9E_4LWSJmkJi-6ufgvNXDok_7M-9uPOuCyKL-6In8qli3vxBPkCK2tqOwiB3Oc/s1600/1690195000693146-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১. হারানো সময়টাকে শুধু মিস&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;করা যায়, কিন্তু কখনো ফিরে পাওয়া যায় না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যে তোমায় ভালোবাসেনি সে অকারণে ছেড়ে যাবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যে তোমায় ভালোবাসে সে হাজারটা কারণ দেখিয়ে থেকে যাবে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২. চাইলেই আগলে. রাখা যায় কিন্তু, আটকে রাখা যায় না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩. শূন্যস্থান আজীবন শূন্যই থাক, তবুও ভুল মানুষ দ্বারা কখনো&amp;nbsp; পূর্ণতা না পাক|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪. ঘড়ি মানুষকে সময় দেখায়, আর সময় মানুষের আসল রুপ দেখায়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫. নীরবতা কথা বলে, যখন শব্দ নিজের থেকে চুপ, হয়ে যায়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৬. স্বপ্ন যখন যন্ত্রণা দেয় বাস্তবতা তখন মানুষ, চেনায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৭. কাউকে কাদিয়ে নয়, সবাই হাসিয়ে বেঁচে থাকতে চায়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৮. তারপর একটা সময়, সবাই হারিয়ে যায়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৯. যে মানুষগুলো অনলাইনে বেশি সময় কাটায়, তাদের অধিকাংশই বাস্তব জীবনে খুব একা হয়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১০. ছুঁয়ে দেখার সাধ্য নাই , তবুও অনুভবে রাখি তারে, দুরত্ব যতই হোক,আমি ভীষণ ভালোবাসি তারে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১১. কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসেই মজা নিতে, আর আমরা তাদের seriously ভেবে নেই|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১২. দুনিয়ার নিয়ম বড়'ই অদ্ভুত,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপনি যাকে মন থেকে চাইবেন থাকে কখনো সহজে পাবেন না| কিন্তু যাকে মন থেকে না চাইবেন থাকেই সহজে পেয়ে যাবেন|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৩. ভালোবাসা বি'শ্বা'স না করা প্রতিটা ব্যা'ক্তি হয়তো কোনো এক সময় নিজের স'ব'টা দিয়ে কাউকে ভালোবেসেছিলো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৪. যে মানুষটা সারাদিন অন্যদের হাসায়,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বেলাশেষে সেই মানুষটাকে হাসানোর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;জন্য কেউ থাকেনা|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৫. কখনো কাউকে কথা বলার জন্য বারবার অনুরোধ করার দরকার নেই, কারণ যার কাছে তোমার সত্যি কারের মূল্য থাকবে, সে হাজার ব্যস্ততার মাঝেও তোমাকে সময় দেবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৬. স্রষ্টা কিছু মানুষকে সুখী হওয়ার ক্ষমতা দেয়নি, তবে প্রচন্ড হাসিখুশি থাকার ক্ষমতা দিয়েছে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৭. তার একজোড়া চোখের বর্ণনায় গোটা এক উপন্যাস লেখা সম্ভব|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৮. রাস্তায় পড়ে থাকা ছেড়া কাগজটাও একদিন কোনো, দরকারি বইয়ের পৃষ্ঠা ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আজ প্রয়োজন শেষে পড়ে রয়েছে রাস্তায়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;১৯. অর্থ থাকলে গোটা পৃথিবী সাক্ষাৎকার নিতে চায়। না থাকলে আপনজনও পরিচয় দিতে লজ্জা পায়!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২০. দিনের আলোতে যারা বেশি হাসে, রাতের আধাঁরে তারাই বেশি কাঁদে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২১. তুমি না হয়&amp;nbsp; আমার কল্পনার&amp;nbsp; বিলাসিতা&amp;nbsp; হয়ে থেকে যেও|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২২. যে মানুষগুলো খারাপ সময় হাত ছেড়ে দেয়, আর ভালো সময়ে আবার কাছে আসে সেই মানুষগুলোর থেকে দূরে থাকাটাই ভালো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৩. অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও যে নারী শক্ত করে হাত ধরে থাকবে, সফলতার পরে সেই নারী পুরুষের সত্যিকার ভালোবাসার স্বাদ পাবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৪. শেষ বেলায় আমিও শূন্য, যাকে চেয়েছিলাম সে অন্যকাউকে নিয়ে পরিপূর্ণ|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৫. প্রিয় মানুষটার আইডি সার্চ দিয়ে দেখার অ'ভ্যাস টা হয়তো কখনো যাবেনা!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৬. অল্পতেই মাথা গরম করে ফেলি পরে নিজেই কষ্ট পাই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটুতেই বিশ্বাস করে ফেলি পরে নিজেই ঠকে যাই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অল্পতেই অন্যকে আপন ভাবি,পরে বুঝতে পারি কেউ কারোর নয়!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৭. অবহেলায় দূরত্ব বাড়ে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৮. দিনশেষে নিজেকে ভালো রাখতে গেলে নিজের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন| তারমধ্যে অন্যতম হলো কম কথা বলা, অন্যের সাথে নিজেকে কম জড়ানো|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;২৯. কিছু মানুষ অনেক সময় নিজে সঠিক হওয়া সত্ত্বেও ত'র্কে জিততে পারে না!কেননা তাদের ঠোঁটে যুক্তি আসার আগেই চোখে পানি চলে আসে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩০. প্রতিশোধ নেওয়ার দরকার নেই, সময় তোমার হয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নিবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩১. হারিয়ে ফেলেছি মানসিক শান্তি|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩২. স্মৃতির মাঝে আটকে থাকে অদৃশ্য এক ছায়া|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মানুষ টা হারিয়ে গেলেও ফুরায় না তার মায়া|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৩. কারো সৌন্দর্যের প্রেমে পড়লে হয়তো better কাউকে পেলে তাকে ভুলে যাবে! কারোর মায়ায় পরে দেখো, কারোর ব্যক্তিত্ত্বের প্রেমে পড়ে দেখো আজীবন তার কাছেই আটকে যাবে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৪. কিছু মানুষ আছে যারা একটু কিছু হইলেই টেনশন কইরা নিজেকে অ!সুস্থ বানিয়ে ফেলে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাদের জন্য পৃথিবীটা বড্ড কঠিন!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৫. ক'ষ্ট পেতে পেতে ভালেবাসার অভাবে একটা সময় মানুষ প্র'চন্ড ভাবে অ'সুস্থ হয়ে পড়ে!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৬. বেশিরভাগ সময় আমরা কোনো মানুষকে, খুব বেশি প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে তাদের চোখে স'স্তা হয়ে যাই!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৭. নিজেকে এমনভাবে তৈরি করো, যে পাবে সে গর্ব করবে, যে হারাবে সে আফসোস করবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৮. অভিমান ভুলে গেলেও, অপমান কোনোদিন ভুলে যেতে নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৩৯. অধিকারের জায়গাটা যেখনে শূন্য, অভিমান করা-টা সেখানে বোকামি!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪০. নিজের দুঃখ নিজের কাছে পাহাড় সমান, অন্যর কাছে কেবল মা’ত্র দুই লাইনের গল্প|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪১. পরিস্থিতি যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, জীবনে কাউকে কষ্ট দিও না, আজ হয়তো তুমি শক্তি শালী কিন্তু, সময় তোমার থেকেও বেশি শক্তি শালী|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪২. মানুষের প্রিয় হতেও অর্থনৈতিক যোগ্যতা লাগে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অর্থ শূন্য মানুষ কখনো কারো প্রিয় হতে পারে না|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৩. নীরবতা এবং হাসি দুটোই জীবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। হাসি যেমন সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে, নীরবতা সেই সমস্যাগুলিকে এড়িয়ে চলতে শেখায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৪. এখনকার মানুষের ইগো বেশি, ছাড় দেওয়ার প্রবনতা কম! মানিয়ে নেওয়া জিনিসটা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে! এজন্যই তো আজকাল বন্ধুত্ব হোক বা ভালোবাসা টিকে না বেশিদিন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৫. সবাই জানে ভালোবাসলে কাঁদতে হবে, না খেয়ে থাকতে হবে, না ঘুমিয়ে কাটাতে হবে,&amp;nbsp; পরিবারের সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে। কি অদ্ভুত! তবুও মানুষ ভালোবাসে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৬. একা থাকার মতো শান্তি আর কোথাও নেই! না আছে expectations hurt, না আছে কারো ইগনোর, আর না আছে কারো অবহেলা|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৭. মন খারাপ থাকলেও হাসতে হয় কারণ, রোদের দিনেও তো বৃষ্টি হয়|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৮. পরিস্থিতি আর সময় যত বেশি জটিল হবে, ততই তুমি মানুষ চিনতে শিখবে|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৪৯. অপেক্ষার শেষটা একদিন সুন্দর হবে,ক্লান্ত হৃদয়টাও একদিন প্রশান্ত হবে| প্রার্থনার আওয়াজ গুলোও একদিন কবুল হবে ইনশা"আল্লাহ|&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;৫০. যারা মন খারাপের সময় আমায় হাসানোর চেষ্টা করে, তারা আমার জীবনে শেষ পর্যন্ত থাকুক!&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/3869397427761135611/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/bangla-caption-sad-caption-bangla-top.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3869397427761135611" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3869397427761135611" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/bangla-caption-sad-caption-bangla-top.html" rel="alternate" title="Bangla Caption - Sad Caption - Bangla Top 50 Sad Caption" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgH_xx4M-tkh-C0vlI7Dae1gVfhRY7Tx1dL3NmKvIazbhOXEol8Xk3Mi83qxu_pbXuizp3OFGIyB9N6F9E_4LWSJmkJi-6ufgvNXDok_7M-9uPOuCyKL-6In8qli3vxBPkCK2tqOwiB3Oc/s72-c/1690195000693146-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-3672582136376511125</id><published>2023-07-10T00:51:00.001-07:00</published><updated>2023-07-10T00:51:57.258-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Thriller Story"/><title type="text">চন্দ্ররাতের মায়া পর্ব ৯, ১২ এবং সর্বশেষ পর্ব</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhrs6HUbT7UOfxWZQUvd_V4MOi_l9_Q4DDVJ8UBR-65mokI6OFctWYfKwPu8GMbUbxNitziwlcNrlQavZxfuQL5_cEKcHTltDgu5FfU5CPGEl6QFcxD9hDRKYvsb6bq8emnRqaQruq3UEk/s1600/1688975511871190-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhrs6HUbT7UOfxWZQUvd_V4MOi_l9_Q4DDVJ8UBR-65mokI6OFctWYfKwPu8GMbUbxNitziwlcNrlQavZxfuQL5_cEKcHTltDgu5FfU5CPGEl6QFcxD9hDRKYvsb6bq8emnRqaQruq3UEk/s1600/1688975511871190-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষণ পর তীব্র নন্দিতাকে ছেড়ে দিলো।নন্দিতা এক হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে।লজ্জায় দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে পাশ ফিরে দারিয়ে রইলো।&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চোখ খুলে দেখলো তীব্র বাইক নিয়ে হাজির।চোখের ইশারায় বাইকে উঠতে বললো।নন্দিতাও বাধ্য মেয়ের মতো বাইকে উঠলো।উঠে তীব্রর ঘাড়ে এক হাত রাখলো।ফুসকাওয়ালা মামার দিকে তাকাতেই দেখলো সে মুচকি হাসছে।নন্দিতা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।তীব্রও একটু লাজুক হাসি দিয়ে বাইক নিয়ে চললো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কোথায় যাচ্ছি আমরা? (নন্দিতা)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাড়িতে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কার বাড়িতে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কার বাড়ি মানে? আমার বাড়ি কি তোমার না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি সেটা বলিনি,ধুর তুমি সারাক্ষণ ঝগড়া করো।কথা বলবো না যাও তো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোমার শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার বাড়িতে একটা কথা বললে কি হতো,বাবা মা তো চিন্তা করবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি ফোন করে বলে দিয়েছি যে আপনাদের মেয়ে আমার সাথে আসবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কেনো বলতে গেলে? তুমি জানো যে আমি আসবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম।তোমায় তো আমার থেকে ভালো কেউ বুঝবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে ঠান্ডা বাতাস।নন্দিতার শীত শীত হতে লাগলো।তবে ভালোই লাগছে তার। পেছন থেকে তীব্রকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে থাকলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাড়িতে ঢুকেই তীব্র নিজের মতো ঘরে গেলো।নন্দিতা জীর্ণ পায়ে এগুচ্ছে। ভেজা শাড়ি লেপ্টে যাওয়ায় হাটতে সমস্যা হচ্ছে। শেখর চৌধুরী সেখানে উবু হয়ে খবেরে কাগজ পড়ছে।নন্দিতা কাছে যেতেই তিনি বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বৌমা চলে এসছো,হাহাহাহা, কেনো ঝগড়া করতে যাও বলোতো।জানোই তো রাগ করে যতবার ই বাবার বাড়িতে যাবা ততবার ই তীব্র গিয়ে নিয়ে আসবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা লজ্জা পেলো।মুচকি হেসে মাথা নিচ করে রইলো।শেখর চৌধুরী বললেন&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বৌমা যাও,ঘরে গিয়ে ভেজা কাপর পাল্টে নাও।আর আমার জন্য একটু চা করতে পারবে? তোমার হাতের চা না খেলে আমার তৃপ্তি আসে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা বাবা আমি এক্ষুনি চেঞ্জ করে আসছি।দুই মিনিট দারান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একপ্রকার হনহন করেই নিজের ঘরে গেলো নন্দিতা।ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে শাড়িটা খুলে ওয়াসরুমে চলে গেলো।ওয়াসরুমে গিয়ে দেখে তীব্র সারা শরীরে বডিওয়াস দিয়ে ফেলায় ভরিয়ে ফেলেছে।নন্দিতা পিছু পা হয়ে মনে মনে ভাবলো " এই লোকটা এমন কেন,দরজাও লাগায় না,প্রাইভেসি বলতে কিচ্ছু নাই"।নন্দিতা বেড় হয়ে আসতেই তীব্র নন্দিতার হাত ধরে টেনে ওয়াসরুমে নিয়ে যায়। নিয়ে গিয়ে নিজের সাথে শক্ত করে ধরে রাখলো।নন্দিতা লজ্জিত ভঙ্গিতে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি? হ্যা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিছুনা,একটু আদর করতে মন চাচ্ছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ধুর,তুমি স্নান করো।আমি বাইরে আছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা চেঞ্জ করে নিচে গেলো চা বানাতে।যেতেই আরোহীর বাবা আহনাফ চৌধুরী নন্দিতাকে ডাকলো।তিনি বই পড়ছেন।বইয়ে চোখ রেখেই বললেন-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কেমন আছো নন্দিতা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আরেহ চাচা,কেমন আছেন, কখন এসেছেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসেছি সকালে।তোমাদের ছেলে হয়েছে না মেয়ে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।এই প্রশ্ন তাকে জ্বালিয়ে পুরিয়ে শেষ করে দেয়।ক্ষত বিক্ষত মনটা যেনো নির্জীবিত হয়ে ওঠে।নন্দিতা চোখের জল মুছতে মুছতে চলে গেলো সেখান থেকে।আহনাফ চৌধুরী কিছুটা অবাক হলেন।তিনি শেখর চৌধুরীর কাছে গেলেন।এই বিষয়ে জানতে চাইলে শেখর চৌধুরী তাকে সবটা খুলে বললো।শুনে আহনাফ চৌধুরী মনে মনে নিজের কাছে নিজেই ছোট বোধ করলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র বিছানায় বসে ফোন স্ক্রোল করছিলো।নন্দিতা দরজা খুলে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়েই হাউমাউ করে কান্না করতে লাগলো।তীব্র ফোনটা রেখে নন্দিতার পাশে গিয়ে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হয়েছে নন্দিতা?কাঁদছো কেন? কেউ কিছু বলেছে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা কিছুই বললো না।তীব্রকে জরিয়ে ধরে অনেকক্ষণ কান্না করলো।অনেক্ক্ষণ কান্নার পর তীব্রকে বলে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র, তুমি কি আমায় নিয়ে খুশি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি তো তোমায় বাবা হওয়ার সুখ দিতে পারলাম না এখনো।আচ্ছা তুমিও কি মনে মনে এজন্য আমাকে ঘৃণা করো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোমার কি সেটাই মনে হয়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না,আমি জানি তুমি আমায় কখনো ঠকাবে না।কিন্তু আমার জন্য তুমি,তোমার মা বাবা কষ্ট পাচ্ছে।একটা কথা বলবো,রাখবা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি কথা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি বিয়ে করো নাও।প্লিজ আমার কথাটা শুনো।আমার জন্য তুমি সারাজীবন বাবা ডাক থেকে বঞ্চিত হবা,এটা আমি মানতে পারবো না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিত লা থামো তুমি।আমিতো বলেছিই, বাবা না হতে পারায় আমায় কোনো সমস্যা নেই,তবুও কেন এসব বলো তুমি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দেখো এখন হয়তো তুমি বলছো।কিন্তু যখন আমাদের বয়স হবে,তখন তো আমাদের কাউকে লাগবে তাই না?জীবন তো সব সময় একই থাকে না।পাল্টায়,সাথে মন মানষিকতাও।এখন তোমার মনে হচ্ছে এরকম।কিন্তু কিছুদিন পর গিয়ে ঠিকি তুমি বুঝতে পারবে।তখন আমায় ঘৃনা করবে।আমি এটা সহ্য করতে পারবো না।সারা জীবন আমি এই দোষের ভাগী হয়ে থাকতে পারবো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন আমায় কি করতে বলছো তুমি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- যা করার সব আমিই করবো। তুমি শুধু সেটাতে হ্যা বলবে।কথা দাও তুমি আমার কথা শুনবে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর হাত নন্দিতা ওর মাথায় রেখে কথাটা বললো।তীব্র হতভম্ব হয়ে গেলো।এই মুহুর্তে তার কি করা উচিৎ সে বুঝতে পারছে না।হাত সরিয়ে নিলেও নন্দিতার প্রবল জোরে সে রাজি হয়ে গেলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাতে সবাই ডিনার করতে ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত। নন্দিতা সবাইকে খাবার সার্ভ করছে।আরোহী গুনগুন করতে করতে তীব্রর পাশের চেয়ারটায় বসলো।নন্দিতার খুব&amp;nbsp; ঈর্ষা হতে লাগলো। তীব্রর পাশে কাউকে সে সহ্য করতে পারে না। তীব্র বিষয়টা লক্ষ্য করেও এড়িয়ে গেলো।নন্দিতার শাশুড়ী রাবেয়া চৌধুরী নাক ছিঁচকাচ্ছে।সব রান্না নন্দিতা করেছে।আহনাফ চৌধুরী খাবারের প্রসংশা করছেন।এটা রাবেয়া চৌধুরীর সহ্য হচ্ছে&amp;nbsp; না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খাওয়া শেষে নন্দিতা ছাঁদে গেলো।একাকিত্ব কিছু সময় কাটাতে।উঠে দেখলো সেখানে আগে থেকেই শেখর চৌধুরী দারিয়ে আছেন।ওনার খাওয়া শেষে হাটাহাটি করার অভ্যাস।নন্দিতা কাছে গেলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কে বৌমা? তুমি এতো রাতে ছাদে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- একটু আসলাম ভালোলাগছে না।আপনাকে কিছু বলার ছিলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বলো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিভাবে যে বলবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বৌমা, আমার কাছে কিছু বলতে তো তুমি কখনো সংকোচ বোধ করোনি।তাহলে আজ সংকোচ বোধ করছো যে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা আমি চাই তীব্র আবার বিয়ে করুক।ওকে আমি বাবা হওয়ার সুখ দিতে পারিনি।এর দায় আমায় সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।আমি এটা চাই না বাবা।আপনাদের বয়স হয়েছে।আপনারাও তো চান আপনাদের নাতি নাতনির মুখ দেখতে।তাদের সাথে সময় কাটাতে।আমি সেটাতো অক্ষম বাবা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বৌমা তুমি যা বলছো ভেবে বলছো তো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা বাবা।আমি ভেবেই বলেছি।আমি সারা জীবন আপনাদের এরুপ না পাওয়ার কারন হতে চাই না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই নন্দিতা চোখ মুছতে মুছতে নিচে নেমে গেলো।কেন যাবি আজ ওর প্রচুর কষ্ট হচ্ছে। কেন হচ্ছে সেটা ওর অজানা নয়।তীব্রকে হারিয়ে ফেলার ভয় তাকে ক্রমশ ঘিরে ধরছে।কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সকালে তীব্রর ডাকে ঘুম ভাঙলো।ঘুমঘুম চোখে তীব্রকে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কয়টা বাজে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দশটা&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিহ? এতে বেলা হয়ে গেছে আর আমি টের ই পাই নি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি উঠে ফ্রেশ হও।ডাক্তারের কাছে যাবো আমরা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাক্তার কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দীর্ঘদিন হয়ে গেলো।কিন্তু তুমি সন্তান সম্ভবা হচ্ছো না।এটা নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতার বুকটা ধুক করে উঠলো।এই বিষয়ে যেকোনো কথাই নন্দিতার কেমন কাটার মতো বুকে বাঁধে। ফ্রেশ হয়ে রওনা হলো ডাক্তারের চেম্বারে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কয়েকটা টেস্ট করে রিপোর্ট হাতে ডাক্তার বসে আছে।সামনের চেয়ারে নন্দিতা তীব্র বসে আছে।দু'জনই চিন্তায় সংকুচিত হয়ে আছে।ডাক্তার হাতে রিপোর্ট নিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাদের দিকে তাকালো।ভারি ভারি স্বরে বললেন.......&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কয়েকটা টেস্ট করে রিপোর্ট হাতে ডাক্তার বসে আছে।সামনের চেয়ারে নন্দিতা তীব্র বসে আছে।দু'জনই চিন্তায় সংকুচিত হয়ে আছে।ডাক্তার হাতে রিপোর্ট নিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাদের দিকে তাকালো।ভারি ভারি স্বরে বললেন..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র,আপনাদের বিয়ের কতদিন হলো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ছয় বছর&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ছয় বছরে আপনার স্ত্রী দুইবার প্রেগন্যান্ট হয়,আর কোনো কারনে বেবি দুইটা বেঁচে নেই&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কেন?কারনটা কি বলুন তো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- একবার ও মৃত বেবির জন্ম দেয়,আরেকবার জন্মের পর বেবিটাকে খুজে পাওয়া যায়নি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- লাস্ট কবে আপনার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হয়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দুবছর আগে,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সেই বেবি কোথায়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সাত মাস পর জানতে পারি ওর পেটে কোনো বেবি ছিলো না।টিউমারের জন্য পেটের আকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছিলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তাহলে প্রেগ্ন্যাসি টেস্টে হয়তো ভুল ছিলো।কোথায় করিয়েছিলেন টেস্ট?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হসপিটালে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সম্ভাবনা আছে প্রেগন্যান্সির রিপোর্ট কারোর সাথে বদল হয়েছে।সে যাই হোক।টিউমার অপারেশন করিয়েছিলেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জি&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কতদিন আগে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্রায় দুই-বছর আগে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র আপনি কাল একবার আসুন।আজ তেমন কিছু বলবো না।আপনি কাল দেখা করুন আমার সাথে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই ফাইলটা রেখে দিয়ে একটা সিগারেট ধরালেন।বেলে চাপ দিতেই তার পি এ আসলো।তাকে বললো " আজ আর রোগী দেখবো না।তাদের বলো কাল আসতে"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র আর নন্দিতা কেবিন থেকে বেড় হলো।হসপিটালে আসলে নন্দিতার খুব কান্না পায়।কেননা এখানে আসলেই নবজাতকের দেখা মেলে।যা নন্দিতার মনকে কাচের ন্যায় ভেঙে গুড়িয়ে দেয়।তীব্র বিষয়টি লক্ষ্য করে।কিন্তু তার কিছু করার উপায় থাকে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারা বাড়িতে আসলে রাবেয়া চৌধুরী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নন্দিতাকে দেখে।তীব্রকে কর্কষ গলায় বললো" কি,ডাক্তার কি কোনো আশা দিলো?আমার দীর্ঘ বিশ্বাস, এই মেয়ের দ্বারা আমাদের বংশে নতুন কেউ আসবে না. "। রাবেয়া চৌধুরীর কথায় তীব্রর অনেক রাগ হয়।সে কিছু বলে না।মায়ের ওপর দিয়ে কথা বলার অধিকার তার নেই।মা বলতেই পারে।মা বলবে না তো কে বলবে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাতে খাওয়ার পর তীব্র ছাঁদে গিয়ে সিগারেট ধরালো।এক হাতে ছাদের কার্নিশ আরেক এক হাতে জলন্ত সিগারেট। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের আলোয় কানায় কানায় ভয়ে গেছে ছাঁদ।কারোর পায়ের শব্দ কানে এলো।তীব্র মগ্ন হয়ে চাঁদ দেখতে থাকলো।যে এসেছে তাকে তীব্র চিনে ফেলেছে।তার শরীরের গন্ধ তার চেনা।যদিও অনেক বছর আগেই তাদের বিচ্ছেদ হয়, তবুও ভালোবাসার মানুষ কখনো পুরোনো হয় না।তীব্র করুন স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিহিতা (তীব্রর ভাবী)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি ভালো নেই,জানিনা কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছি আমি&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- একই তাপে পুরছি আমি নিজেও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি তোমায় ঠকাইনি মিহিতা।তোমার ভালো চেয়েছি আমি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই ভালো তো আমি চাইনি তীব্র,বলো চেয়েছিলাম?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তখন আমি কেবল ভার্সিটি উঠি।আমার নিজের জীবনের নিশ্চয়তা নেই,তোমায় কিভাবে ভালো রাখতাম বলো ? আমি ভালোবাসার মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারিনা।ভাইয়া তখন মোটামুটি স্যাটেল হয়ে গেছে।তোমার অন্তত দেখতে পারবো এই আশায় ভাইয়ার সাথে তোমার বিয়ের ব্যাবস্থা করেছিলাম।তোমায় আমি ঠকাইনি মিহিতা,বিশ্বাস করো,আমি তোমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম,তাই এমনটা করেছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি জানি তীব্র।কি করবো বলো,আমি যে ভুলতে পারছি না।কিন্তু আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।তুমি কাউকে এতোটা কিভাবে ভালোবাসতে পারো,? পরিবারের এতো কথা,বাইরের মানুষের কথা, নন্দিতার বাচ্চা না হওয়া,এর পরেও তুমি ওকে এতোটা ভালোবাসো।কিভাবে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;(তীব্র সিগারেট মুখে দিলো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার খুব হিংসে হয় জানো,এই ভালোবাসা আমার প্রাপ্য ছিলো, কি ছিলো না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভালোবাসা জিনিসটা কত অদ্ভুত!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমায় ক্ষমা করে দিও তীব্র, তোমার ওপর রাগে,ঘৃণায় আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।একটা মেয়ে সব সহ্য করে,ভালোবাসার মানুষকে অন্য কারোর সাথে দেখলে তা সহ্য করতে পারে না।অনেক রাত হয়েছে।ঘরে যাও,নন্দিতা অপেক্ষা করছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মিহিতা চলে গেলো।তীব্র সিগারেটটা শেষ করে নিজের রুমে গেলো। নন্দিতা শুয়ে পড়েছে,চোখের কোনে জল বেঁধে আছে।কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেছে হয়তো।তীব্র অনেকক্ষণ ঘুমন্ত নন্দিতাকে দেখলো।মুচকি হেসে নন্দিতার কপালে একটা চুমু দিয়ে শরীরে কাঁথাটা জরিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরেরদিন সকালে তীব্র নাস্তা না করেই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বেড়িয়ে গেলো।ডাক্তারের চেম্বারে বসে আছে।তিনি একটা পান মুখে দিলেন।তীব্রর দিকে সিগারেটের প্যাকেট এগিয়ে দিলেন। তীব্র না সূচক মাথা নাড়লো।ডাক্তার তার পি এ কে ডাকলো।ডেকে কি যেন বললো।কিছুক্ষণ পর একজন লোক আসলো চেম্বারে।তীব্র কিছুটা অবাক হলো।ডাক্তার তীব্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র, দেখুনতো,ইনিই কি আপনার স্ত্রীর পেটের টিউমারের অপারেশন করিয়েছিলেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র অস্ফুট স্বরে বললো " হ্যা "।ডাক্তার তখন বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাঃ সিহাব,আপনি কি জানেন ডাক্তার প্যাশনটা কি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সিহাব- জ্বি স্যার (ভয়ার্ত কন্ঠে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনি যে এরকম একটা কাজ করলেন,নিজেকে ক্ষমা করতে পেরেছেন তো ?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র কিছুটা হতভম্ব হচ্ছে। কি হচ্ছে তার বোধগম্য হলো না।সে যে ডাক্তারের কাছে এসেছে তার নাম ডাঃহাবিব।ডাঃহাবিব তীব্রর উদ্দেশ্য বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র, সরি টু সে,আপনার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।মুহুর্তেই সারা শরীর ঘামতে শুরু করলো।তীব্র নিজের শার্টের ওপরের বোতাম খুলে ফেললো।ডাঃ হাবিব তার দিকে জলের গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে বললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনি উত্তেজিত হবেন না।নিজেকে সামলাম।আপনি ভেঙে পড়লে আপনার স্ত্রীকে শক্তি জোগাবে কে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাঃ আপনি এটা কি বললেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা মি তীব্র, আপনার স্ত্রী আর কখনো মা হতে পারবে না। কারন বাচ্চা হওয়ার যে নাড়ি থাকে সেটা কেটে ফেলা হয়েছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠলো।কাজটা কে করেছে সেটা বুঝতে বাকি রইলো না।লাথি মেরে চেয়ার থেকে উঠে ডাঃসিহাবের শার্টের কলার ধরে গালে ঠাস ঠাস করে চড় দিতে দিতে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলো।এসব গালির সাথে সে পরিচিত নয়।নিজেকে যেনো হারিয়ে ফেলেছে।মাথার চুল মুঠ করে ধরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো তীব্র। ডাঃসিহাবের সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত পড়ছে।সাদা এফ্রোন লাল টকটকে হয়ে গেছে।ডাঃহাবিব বেল চাপতেই বাইরে থেকে ৪জন এসে তাদের সরিয়ে দেয়।প্রথমে ২ জন আসে।তারা তীব্রর হিংস্রতার কাছে টিকতে না পেরে ডাঃহাবিব আবার দুজনকে ডেকে পাঠায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;থানায় অফিসারের সামনে মুখোমুখি হয়ে বসে আছে ডাঃহাবিব। ডানে বসে আছে তীব্র।ডাঃসিহাব কে রাখা হয়েছে ডাঃহাবিবের বাম দিকে।তার মাথায় ব্যান্ডেজ করা।তীব্রর চোখ লাল রক্ত বর্ণ হয়ে আছে।হাতের মুঠ শক্ত।সে কোনো কথা বলছে না।ভেতরে ভেতরে এক পাহাড় কষ্ট নিয়ে বসে আছে।অফিসার গম্ভীর স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাঃসিহাব,নিজের করা অপরাধ কি শিকার করবেন? না ডলামলা দিতে হবে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সিহাব- স্যার আমি আমার অপরাধ শিকার করবো।আমি নিজ ইচ্ছেয় করিনি স্যার&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার- সেটা তো জানি,কার কথা বলেছেন বলুন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সিহাব- আমি যখন ওনার স্ত্রীর অপারেশন করছি তখন কেউ একজন আমার ফোনে ফোন করে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার- থিয়েটারে ফোন সাথে কেন আপনার?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সিহাব- স্যার আমার কাছে সবসময় একটা ফোন থাকে,সেখানে অতিপ্রয়োজনীয় ছাড়া ফোন করেনা কেউ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ফোন করে কি বললো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ফোন করে বললো নন্দিতা যেন কোনোদিনও মা হতে না পারে সে ব্যাবস্থা করতে।আমি রাজি না হলে একটা ভিডিও পাঠায়।সেই ভিডিওতে দেখলাম কেউ একজন আমার মেয়ের মাথায় পিস্তল তাক করে ধরে আছে।তারা বললো যদি না করি তাহকে আমার মেয়েকে তারা মেরে ফেলবে।বাবা হয়ে মেয়ের এরুপ অবস্থা দেখে তাদের কথা মতো আমি পাপ কাজটা করি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র ক্ষিপ্ত হয়ে ডাঃসিহাববের ওপর তেড়ে যেতেই কয়েকজন কনস্টেবল মিলে তীব্রকে আটকালো।অফিসার তীব্রকে বললো " মিঃতীব্র আপনি শান্ত হোন,আমরা বিষয়টা দেখছি।এর সাথে যুক্ত সবাই শাস্তি পাবে "&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র চেয়ারে বসতেই পোন আসলো।ফোন স্ক্রিনে ভাবী নামটা ভেসে এলো।রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কান্নামিশ্রিত আওয়াজ আসলো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র,তোমার ভাইয়াকে পুলিশ এরেস্ট করে নিয়ে যাচ্ছে।তুমি কিছু একটা করো,প্লিজ ওকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো, প্লিজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র,তোমার ভাইয়াকে পুলিশ এরেস্ট করে নিয়ে যাচ্ছে।তুমি কিছু একটা করো,প্লিজ ওকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো, প্লিজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে মানে? কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি জানিনা।ওর শুধু ফোন করে বললো ওকে নাকি পুলিশ ঘিরে ফেলেছে।তারপর হঠাৎ ফোনটা কেটে গেলো।তারপর ফোন করলাম ফোন বন্ধ&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাইয়াকে পুলিশ কেন ঘিরে ধরবে,কি এমন করেছে ভাইয়া। আচ্ছা তুমি চিন্তা করিও না, আমি দেখছি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্লিজ কিছু একটা করো,আমার খুব টেনশন হচ্ছে। কি হয় আমায় জানাও প্লিজ,আমি অপেক্ষা করে থাকবো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&amp;nbsp;তীব্র চেয়ার ছেড়ে উঠে থানা থেকে বেড় হতেই হতভম্ব হয়ে গেলো।পুলিশের জিপ এসে থানার সামনে থামলো।সেখান থেকে ভাইয়া নামছে।হাতে হাতকড়া।পড়নে শর্ট প্যান্ট।একজন পুলিশ তার গেঞ্জি ধরে টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে আসছে।তীব্র হাত তুলে বাঁধা দিলো।পুলিশ গেঞ্জি ছেড়ে দিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র অফিসারের সামনে বসে আছে।একেই তো তার একটা সমস্যা নিয়ে কথা হচ্ছে তার মধ্যে ভাইয়া।যে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে এসেছে তিনি অফিসারকে বললো " স্যার,আবাসিক হোটেল থেকে এনারে নিয়ে এসেছি।ব্যাটায় একটা...."।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাকিটুকু বলতেই অফিসার হাতের ইশারায় থামতে বললো।তীব্রর বুঝতে বাকি রইলো না কেনো তার ভাইয়াকে থানায় নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য করলো ভাইয়ার দিকে তাকাতেই চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। মনে মনে লজ্জা, ভয় তাকে ঘিরে ধরেছে।তীব্রর মনে মনে ঘৃণা হতে লাগলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার হাতের ইশারায় তাকে লকাপে ঢুকাতে বললো।তীব্র কিছু বললো না।অফিসার ডাঃসিহাবের দিকে তাকিয়ে বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনি থামলেন কেন, বলুন,শুরু করুন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডাঃসিহাব- স্যার যা বললাম সব সত্যি। আপনি চাইলে আমার ফোন চেক করে দেখতে পারেন।সেইদিনের ভিডিওটা আমি সেইভ করে রেখেছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই ফোনটা অফিসারের কাছে এগিয়ে দিলো ডাঃসিহাব।অফিসার কিছুক্ষণ ফোনে সব চেক করলো।তারপর বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মানলাম আপনাকে বাধ্য করা হয়েছে।কিন্তু সে জন্য আপনি আইনের সাহায্য নিতেন।নইলে প্রয়োজনে মিথ্যে বলতেন।সে এসে তো দেখতো না যে নাড়িটা কে'টে'ছে'ন কি না!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- স্যার আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। একমাত্র মেয়ে।অনেক ভালোবাসি আমি।যদি পরে জানতে পারে আমি কাজটা করিনি,তাহলে আবার যদি আমার মেয়ের ক্ষতি করে দেয় এই ভয়ে আমি কাজটা করেছি স্যার।আমি পাপ করেছি স্যার,আমার শাস্তি আমি মাথা পেতে নিবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র- অফিসার,আমি ভিডিওটা কি দেখতে পারি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার- সিওর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র ভিতিওটা ওপেন করতেই চমকে উঠলো।আরেহ্ এই ভিডিওটা তো ভাইয়ার সেই পেনড্রাইভে দেখেছিলাম যখন নন্দিতার অপারেশন হয় তখন।তার মানে এসবের পেছনে ভাইয়ার হাত আছে? কেনোই বা সে এসব করতে যাবে?।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর নিজের ভাই যে তার এতো বড় ক্ষতি সে করতে পারে এটা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।বোবটের মতো ফোনটা টেবিলে রাখলো।লকাপের দিকে তাকাতেই তীব্রকে দেখে ওর ভাইয়া চোখ সরিয়ে নেয়।তীব্রর ইচ্ছে করছে তার ভাইয়াকে উচিৎ শিক্ষা দিতে।কিন্তু সে সেটা পারবে না।মনে মনে ভাইয়ার মুখে থুথু দিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখনি ফোনটা আবার বেজে উঠলো। তীব্র রিসিভ করলো না।পরপর কয়েকবার বাজতেই তীব্র রিসিভ করে রাগি কন্ঠে বললো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হয়েছে? রিসিভ করছি না দেখেও বারবার ফোন দেওয়ার কি আছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র কি হয়েছে,রেগে আছো কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তো কি আনন্দে থাকবো?আনন্দে থাকতে দিচ্ছে কেউ?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হলো তোমার,আচ্ছা তোমার ভাইয়ার কি কোনো খবর পেলে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার সামনেই লকাপে দারিয়ে আছে। চোরের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে তামাশা দেখছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- লকাপে মানে? কি করেছে ও?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন রাখছি,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই ফোন বন্ধ করে রাখলো তীব্র। অফিসার বললো" মিঃতীব্র আপনি কি এনাকে চেনেন? "।উত্তরে তীব্র কিছু বললো না।রাগি চোখে একবার ওই কালপ্রিটটার দিকে তাকালো।অফিসার তীব্রকে উদ্দেশ্য করে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র, আমরা এর তদন্ত শুরু করে দিয়েছি,খুব শীঘ্রই আমরা অপরাধীকে খুজে বেড় করবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- অপরাধীকে খুজতে হবে না।সে সামনেই আছে।তাই না ভাইয়া?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর কথা শুনে ওর ভাইয়া গায়ের গেঞ্জি খুলে ফেললো।মাথার চুল টানতে লাগলো।বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে লকাপের ফ্লোরেই পড়ে গেলো।বিষয়টি দেখে তীব্র কোনো রিয়েকশন করলো না।তার মনের যে ঘৃনা তা ক্রমশ বাড়তেই থাকলো।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লকাপ খুলে তীব্রর ভাইয়াকে বেড় করা হলো।ডাক্তার এসে প্রেশার চেক করে বললো সব ঠিক আছে।তীব্র অট্টহাসি দিতে দিতে বললো " হাহাহা,অভিনয়ে তুমি বরাবরই সেরা ছিলে ভাইয়া। না হলে আমার ঘরেই আমার বিশ্ব শত্রু, সেটা জানতেই পারলাম না"।অফিসার তীব্রকে উদ্দেশ্য করে বললো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার- মিঃ তীব্র আপনি একটু আগে বললেন যে অপরাধী আপনার সামনে।কে সে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র- এই যে সামনে বসে আছে,নাটল জগতের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- একটু পরিষ্কার করে বলবেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- অফিসার আমার স্ত্রীর অপারেশনের পরের দিন আমি বাড়িতে আসি।ওর জন্য স্যুপ করে আর একটু বিশ্রামের জন্য।তখন কোনো কারনে ওর ঘরের লকারে একটা পেনড্রাইভ পাই।সেখানে এই ভিডিওটা পেয়েছিলাম।যখন এই কালপ্রিটটাকে বললাম এটা কিসের ভিডিও, তখন বললো এটা নাকি তার নতুন একটা সিরিজের কনসেপ্ট।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র ওর ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাইয়া, তোমায় আমার অভিভাবক মানতাম।ভাবতাম তুমিই তো আমার আপন মানুষগুলির মধ্যে একজন।আর সেই তুমিই আমার সাথে এরকম একটা জঘন্য কাজ করতে পারলে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমায় মাফ করে দে তীব্র। আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।তোর প্রতি প্রতিশোধ নিতেই আমি এরকম একটা কাজ করেছি।একটা অপরাধ ঢাকতে গিয়ে অনেক অপরাধে জরিয়ে গেছি&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি? আমার ওপর প্রতিশোধ মানে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা তোর ওপর প্রতিশোধ। মিহিতা যে তোর প্রেমিকা ছিলো সেটা আমায় আগে বলেছিলি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হঠাৎ এসব বিষয়ে কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বিয়ের পর থেকেই মিহিতা আমার থেকে দুরে দুরে থাকতো।আমি কারনটা জানতাম না।আর যখন জানলাম যে তুই আমার জীবন নিয়ে ছেলে ফেলা করেছিস তখন আমি এরকমটা করি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই সামান্য কারনে তুমি এতো বড় পাপ করেছো আমার সাথে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার ক্ষমা করে দে তীব্র,আমার মাফ করে দে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই তীব্রর পা জরিয়ে ধরলো।তীব্র ঝটকা দিয়ে পা ছাড়িয়ে নিলো।কর্কষ স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- যে মেয়েকে নিয়ে হোটেলে গেলে,সেটা কে? রাস্তায় যারা রংচং মেখে থাকে তারা নিশ্চই?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ও একজন কো-আর্টিস্ট।একসাথে আমরা কাজ করি।কাজ করতে করতে আমাদের মধ্যে ভালোলাগার সম্পর্ক তৈরী হয়।তারপর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- চুপ,একদম চুপ।লজ্জা লাগছে না এসব বলতে? মুখে একটুও বাঁধছে না? ভাবীকে রেখে এসব করে বেড়াচ্ছো, চরিত্রহীন&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আর তুই কি? দুধে ধোঁয়া তুলসি পাতা? মিহিতার সাথে তুই শারীরিক সম্পর্ক করিস নি? ওহহ,,,তাতে কোনো দোষ নেই তাই না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বললে? কে বলেছে তোমায় এসব কথা? বলো কে বলেছে ( শার্টের কলার ধরে চেচিয়ে বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি নিজ চোক্ষে দেখেছি।তোরা ওই পুরোনো আসবাব পত্র রাখায় ঘরটায় সময় কাটাচ্ছিলি। সে ভিডিও আছে আমার কাছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এটা যে মিহিতা করেছে তাকে ফাসানোর জন্য এটা বুঝতে পারলো তীব্র।তবে কিছু বললো না,কারন একসময় মিহিতা তার বিরুদ্ধে স্বরযন্ত্র করলেও এখন সে শুধরেছে।সত্যিটা সবার সামনে আসবেই।ওর সাথে যে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয়নি এটা মিহিতা নিজের মুখেই শিকার করবে,এটা ভেবে চুপ করে রইলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তবে বেশিক্ষন থাকতে পারলো না।ঘৃনায় থানা থেকে বেড় হয়ে বাহিরের বট গাছটায় বসে রইলো।একটা সিগারেট ধরালো।বেড়িয়ে না আসলে হয়তো সে নিজেকে সামলে নিতে পারতো না। নিজের ভাইয়াকেই রক্তাক্ত করে দিতো।সিগারেট খেতে খেতে হঠাৎ একটা কথা মনে হয়।সিগারেটটা ফেলে দিয়ে দৌড়ে ভেতরে যায়।ওর ভাইয়ার শার্টের কলার ধরে গম্ভীর স্বরে বললো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার দুই সন্তানকে তুমিই শেষ করেছো তাই না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর কন্ঠটা গম্ভীর হলেও সেখানে যে ওর ভাইয়াকে ভষ্ম বানিয়ে দেওয়ার মতো এতো পরিমান তেজ আছে সেটা ওর ভাইয়া বুঝতে পারলো।নিচু স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্রথম সন্তানটা মৃত জন্ম দিয়েছিলো।তারপরের সন্তানটা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তারপরের টা কি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর কন্ঠটা গম্ভীর হলেও সেখানে যে ওর ভাইয়াকে ভষ্ম বানিয়ে দেওয়ার মতো এতো পরিমান তেজ আছে সেটা ওর ভাইয়া বুঝতে পারলো।নিচু স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্রথম সন্তানটা মৃত জন্ম দিয়েছিলো।তারপরের সন্তানটা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ২য় সন্তানের সাথে কি করেছো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- যেদিন তোর ২য় সন্তানটা হলো সেদিন নার্সকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ি।তারপর একটা এতিমখানায় রেখে চলে এসেছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তার মানে আমার সন্তান এখনো বেঁচে আছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা,তুই চিন্তা করিস না,আমি ওকে কোনো কষ্টে রাখিনি,সবরকম সুযোগ সুবিধা দিয়েছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুই যদি আমার নিজের ভাই না হইতি তাহলে এতোক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকতি না।বাবা,মাকে সন্তানের থেকে আলাদা করে সুযোগ,সুবিধা করে দিয়েছিস তাই না।তোর সাথে কথা বলতেও ঘৃণা হচ্ছে। কোন এতিমখানায় আমার ছেলে?বল কোথায়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার জিপে তীব্র এবং তার ভাইয়াকে তুললো।তীব্রর সন্তানকে যে এতিমখানায় রাখা হয়েছিলো সেখানে।তীব্র শুধু ছটফট করছে।চোখ গড়িয়ে টপটপ করে অশ্রু গাল বেয়ে পড়ছে।তখনি নন্দিতার ফোন আসলো।রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নন্দিতা বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র কোথায় তুমি? সকাল থেকে তুমি নেই,জানো বাড়িতে..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতার কথা থামিয়ে দিয়ে তীব্র বললো,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা আমাদের দ্বিতীয় সন্তান এখনো বেঁচে আছে।হসপিটাল থেকে চুরি করেছিলো আমার নিজের মায়ের পেটের কালপ্রিট ভাই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বললে আবার বলো? প্লিজ আবার বলো না কি বললে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা নন্দিতা,আমাদের সন্তান বেঁচে আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খট করে শব্দ হয়ে ফোনটা কেটে গেলো।তীব্রর বিষয়টা খটকা লাগলেও সন্তানকে খুঁজে পাওয়ার প্রবল সুখ তাকে অন্য সকল চিন্তা থেকে বিরত রাখলো।প্রায় ৩ ঘন্টা রাস্তা অতিক্রম করার পর যেই এতিমখানা পাওয়া গেলো।তীব্র ঝাপ দিয়ে জিপ থেকে নামলো,জিপটা তখনো থামেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাইয়া কোথায় আমার ছেলে? কোথায়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর ভাইয়া "সমুদ্র" বলে ডাক দিতেই একটা ফুটফুটে একটা বাচ্চা ছেলে গুটিগুটি পায়ে কাছে এলো।তীব্র নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলো না।নিজের ছেলেকে জরিয়ে ধরে মুখে চুমু দিতে দিতে কান্না করতে লাগলো।অফিসার ওর ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন " একটা বাবার কাছ থেকে তার সন্তানকে কেড়ে নিয়েছেন,এতো বড় পাষান কিভাবে হতে পারলেন।দেখুন ছেলেকে কাছে পেয়ে বাবার আর্তনাতটা একবার দেখুন।এ যে এক স্বার্থহীন ভালোবাসা "&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই দৃশ্য দেখে ওর ভাইয়ার চোখেও জল এলো।বাচ্চা ছেলেটা হঠাৎ এরুপ কর্মকান্ঠে ভয় পেয়ে গেলো।কেউ এলজন এসে তাকে জরিয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে, জরিয়ে ধরে কান্না করছে,এটার কারন সে জানেনা।তীব্রর ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে তোতলানো স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুপার মেন,ইনি কে?আমায় দলিয়ে ধরে আতে, আমাল ভয় লাগতে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমায় চিনোনি? আমি যে তোমার বাবা,তোমার বাবা, একবার বাবা বলে ডাকো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি আমাল বাবা না।তুপার মেন,আমি তোমাল কাতে যাবো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর ভাইয়া দুহাত বাড়াতেই সমুদ্র ওর ভাইয়ার কোলে লাফিয়ে পড়লো।এবং গলা জরিয়ে ধরে থাকলো।তীব্রকে উদ্দেশ্য করে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই হলো তোর সন্তান। আমি এতোটাও খারাপ না ভাই আমার,ওকে রোজ আমি দেখতে আসি।যখন যা লাগে সব কিনে দিই।ওর বাবা মায়ের অভাব পূরণের সকল চেষ্টা আমি করেছি।ও আমায় ভালোবেসে সুপার ম্যান বলে ডাকে।সুপার ম্যান তো বলতে পারে না, বলে তুপার মেন।সমুদ্র ইনি হলো তোমার বাবা,"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র এবং নন্দিতার সন্তান "সমুদ্র"।নন্দিতা এখন তাকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরে বসে আছে।তীব্র বসে নন্দিতার সাথেই।এতিমখানা থেকে সোজা তীব্র বাসাতে চলে আসে।সাথে তার সন্তান, ভাইয়া এবং পুলিশ অফিসার ও ছিলো।জিপ বাড়ির সামনে দারাতেই তীব্র ওর সন্তান সমুদ্রকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেই "নন্দিতা,নন্দিতা কোথায় তুমি,দেখো আমাদের ছেলে।দেখবে না নিজের ছেলেকে?&amp;nbsp; বলে ডাকতে ডাকতে সোফায় বসলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এদিকে নিজের সন্তান বেঁচে আছে এই খবর যখন তীব্র ফোন করে নন্দিতাকে জানায় তৎক্ষনাৎ সে জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।এতোবড় ধাক্কা সামলাতে পারেনি।কাজের মেয়েটা দেখতে পেলো নন্দিতা ফ্লোরে পড়ে আছে।তারপর মাথায় জল ঢালার পর নন্দিতার শ্বশুর ডাক্তার ডাকলে নন্দিতাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছিলো।জ্বান ফিরতেই তীব্রর সেই "নন্দিতা,নন্দিতা কোথায় তুমি,দেখো আমাদের ছেলে।দেখবে না নিজের ছেলেকে? " কথাটা শুনে স্যালাইনের লাইনটা হাত থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে পাগলের মতো নিচে ছুটতে থাকে।নিজের ছেলেকে দেখতে পেয়ে বুকে জরিয়ে ধরে বসে আছে।কান্না করতে করতে তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার তীব্রর ভাইয়াকে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- চলুন,আপনার শাস্তির এখনো অনেক বাকি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি সব শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি অফিসার। আমার মনে আর কোনো কষ্ট নেই।একটা অপরাধ ঢাকতে আরেকটা অপরাধ করেছিলাম।জরিয়ে গিয়েছিলাম। এখন আমি কিছুটা মুক্ত। শাস্তি আমি মাথা পেতে নিবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হাতে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতেই তীব্র বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- অফিসার দারান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিসার দারালো।তীব্র উঠে চোখের জল মুছলো।কাছে গিয়ে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাইয়া, তুমি যে অপরাধ করেছো তার কোনো ক্ষমা নেই। কিন্তু তুমি তোমার ভুলটা বুঝতে পেরেছো।আর তার থেকে বড় কথা আমি আমার সন্তানকে ফেরত পেয়েছি।আজ যে আমার বড়ই খুশির দিন।এই দিনে আমি চাইনা তোমার জন্য মিহিতা,বাবা,মা মনে মনে কষ্ট পাক।মানুষ ভুল করে তুমিও করেছো&amp;nbsp; এবং ভুলটা বিঝতে পেরেছো।এটাই অনেক।যতোই হোক,তুমি তে আমার ভাইয়া।ছোট থেকে তোমার আদরে বড় হয়েছি।কিভাবে তোমার শাস্তি দেখবো বলো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাই আমার,একটু জরিয়ে ধরতে দিবি তোর এই পাপী ভাইটাকে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&amp;nbsp;তীব্রকে জরিয়ে ধরে কান্না করছে।মিঃশেখর তার দুই ছেলেকেই জরিয়ে ধরে তিনিও কান্না করছেন।আজ যে মান অভিমানের পালা শেষ হতে চলেছে।নিজের রক্তের সম্পর্কের ভাইকে রেখে তার সুখের দিনে যে একটা অপূর্নতা রয়ে যাবেই।তাঁদের মান অভিমানের পালা দেখে অফিসার চোখের জল মুছে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এমন ভালোবাসার সম্পর্ক আমি আগে কখনো দেখিনি।সত্যিই তো,এতো অভিমান রেখে কি হবে।ভুলটা বুঝতে পেরে একসাথে থাকাই তো জীবন।আমরা বাঁচিই বা কয় দিন।এই কটা দিন যদি হিংসা,অভিমান করেই চলে যায় তাহলে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ হয় না।আপনাদের পরিবারের ব্যাপার আপনারা বুঝে নিন।আমি আসও তাহলে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র- কোথায় যাচ্ছেন অফিসার,মিষ্টি মুখ করে যান।আজ আমার সবথেকে খুশির দিন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাবেয়া বেগমকে বেজায় খুশি লাগছে আজ।তিনি অফিসারকে শুধু মিষ্টি খাইয়েই রেহায় দেননি।সাথে পাঁচটা প্যাকেটে মিষ্টি দিয়েছে।নন্দিতাকে জরিয়ে ধরে বললো, " বৌমা,আমাকেও তুমি মাফ করে দিও,অনেক কথা শুনিয়েছি তোমায়"।নন্দিতা উত্তরে বললো " মা কি বলছেন আপনি? আপনি তে মা,মা বলবে না তো কে বলবে? আমার নিজের মাকে তো ছেড়ে এসেছি,এখন আপনিই তে আমার আরেক মা"।শেখর চৌধুরী আহ্লাদে গদোগদো হয়ে বললেন " কই আমার দাদুভাই,দাদুভাই চলো তো আমরা খেলি, তোমার জন্য কতো শত খেলনা কিনে রেখেছি দেখবে চলো"।সমুদ্র আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে শেখর চৌধুরীর সাথে বাগানে গেলো।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সমুদ্র ব্যাট হাতে দারিয়ে আছে।বল করছে শেখর চৌধুরী। নন্দিতা সমুদ্রের হাত ব্যাটের সাথে ধরে আছে।ছোট বাচ্চাদের যেভাবে হাত ধরে ক্রিকেট খেলায় সেভাবে।আর তীব্র আছে স্টাম্পের পেছনে। রাবেয়া বেগম আশেপাশের সবাইকে মিষ্টি খাওয়াতে ব্যাস্ত।তার মুখে যেন হাসি সরছেই না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শেখর চৌধুরী বল করলেন, নন্দিতা সমুদ্রের হাত দিয়ে ধরে থাকা ব্যাট দিয়ে বলে মারতেই বলটা উড়ে দুরে গিয়ে পড়ে।সমুদ্র খিলখিল করে হাসছে।তাকে জরিয়ে ধরে হাসছে নন্দিতা।পাশে দারিয়ে চোখে টলমলে জল নিয়ে তীব্র তাকিয়ে আছে।শেখর চৌধুরী তীব্রর কাধে হাত রাখলেন।মা ছেলের এই ভালোবাসা উপভোগ করছে।মায়ের ভালোবাসা কত সুন্দর।সমুদ্র নন্দিতার দিকে তাকিয়ে মিনমিনিয়ে বললো " তুমি দলিয়ে ধললে আমাল এতো ভালোলাগে কেনো? কেউ দলিয়ে ধললে আমার এতো ভালোলাগে না,কিন্তু তুমি দলিয়ে ধরলে আমাল খুব ভালোলাগে"।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সন্তানের মুখে এরুপ কথা শুনে একটি মায়ের মনের অবস্থা কিরুপ হতে পারে সেটা বর্নণা করা যায় না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এভাবেই দিন কাটতে লাগলো।সমুদ্র এখন বড় হয়েছে।ক্লাস টু'য়ে পড়ে। একদিন স্কুল থেকে এসে দেখলো তীব্র দারিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। এটা দেখে কোনোরকমে ব্যাগটা রেখে রান্নাঘর থেকে নন্দিতার হাত ধরে টানতে টানতে ওপরে তীব্রর পাশে নিয়ে এসে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;" বাবাই,দেখো মা কে নিয়ে এসছি,লুকিয়ে লুকিয়ে এ্যা খাও তাই না,এবার মজা বুঝবে "।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সমুদ্রের কথা শুনে তীব্র নন্দিতা দু'জনই&amp;nbsp; হাসছে।তীব্র সিগারেটটা ফেলে দিয়ে বললো, "সরি বাবু,এই যে দেখো কান ধরছি,এই যে নাক মুলছি,আর কখনো এসব এ্যা জিনিস ছুয়েও দেখবো না,খুশি?"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;" খুব খুতি "&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সমুদ্রের এরুপ তোতলানো কথা শুনে তীব্র আর নন্দিতা আবারো হাসলো।তীব্র সমুদ্রকে কোলে নিয়ে নন্দিতাকে জরিয়ে ধরলো।তাদের সুখের জীবন শুরু।একটা ছেলে ফিরে পেলো তার পরিবার।বাবা,মা পেলো তার সন্তান। আর কি চাই? এটাই কি যথেষ্ট নয়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সমাপ্ত...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;Writer:- জয়ন্ত কুমার জয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/3672582136376511125/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_13.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3672582136376511125" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3672582136376511125" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_13.html" rel="alternate" title="চন্দ্ররাতের মায়া পর্ব ৯, ১২ এবং সর্বশেষ পর্ব" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhrs6HUbT7UOfxWZQUvd_V4MOi_l9_Q4DDVJ8UBR-65mokI6OFctWYfKwPu8GMbUbxNitziwlcNrlQavZxfuQL5_cEKcHTltDgu5FfU5CPGEl6QFcxD9hDRKYvsb6bq8emnRqaQruq3UEk/s72-c/1688975511871190-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-1070348637701112388</id><published>2023-07-10T00:46:00.001-07:00</published><updated>2023-07-10T00:46:03.495-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Thriller Story"/><title type="text">চন্দ্ররাতের মায়া পর্ব ৫, ৮</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjJbQ_mXMdn1Eq1l3tuMFld8QjekL2jA9hd2MXYaCW1m-j-3DGuPkiA4xQAuWfeBuIO9PxpDj2qC_8hTnqaPm86hneJfq_N9_7FHFk5EdBq_CLbGI6-GSBoDS18dYjxB7-sGSN_QMJoTZE/s1600/1688975158129737-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjJbQ_mXMdn1Eq1l3tuMFld8QjekL2jA9hd2MXYaCW1m-j-3DGuPkiA4xQAuWfeBuIO9PxpDj2qC_8hTnqaPm86hneJfq_N9_7FHFk5EdBq_CLbGI6-GSBoDS18dYjxB7-sGSN_QMJoTZE/s1600/1688975158129737-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেনড্রাইভটা কম্পিউটারে ওপেন করতেই দেখলাম হাত, পা বাধা একটা বাচ্চা মেয়ে চেয়ারের সাথে বাঁধা অবস্থায়।ভাইয়া বাচ্চা মেয়েটার মাথায় বন্দুক তাক করে ধরে আছে।বাচ্চা মেয়েটার চোখ বাঁধা,ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে।ভাইয়ার মধ্যে কোনো মমতা লক্ষ্য করছি না।ভাইয়াকে এরুপ হিংস্র রুপে কখনো দেখিনি আমি।ভিডিওর সাথে সাউন্ড কানে ভেসে এলো&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- যা বলছি সেটা কর,নইলে তোর মেয়েকে আজীবন ঘুম পাড়াতে দুই বার ভাববো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাইয়া এসব কি বলছে?যে ভাইয়া একটা তেলাপোকা দেখলে ভয়ে আড়াল হয়ে থাকে,বাড়িতে থাকা বিড়ালগুলিকে নিজে না খেয়ে সেই ভাত ওদের খাওয়ায়,এতোটাই কোমল স্বভাব,সে কি না এসব বলছে? তাও এতো ফুটফুটে একটা বাচ্চা মেয়েকে বেঁধে রেখে? কে এই মেয়ে? ভাইয়া কি কোনো দূর্নীতিতে যুক্ত হচ্ছে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এসব ভাবতে ভাবতে নিচ থেকে শেখর চৌধুরী তীব্র তীব্র বলে ডাকতে লাগলেন।তীব্র তরিঘরি করে পেনড্রাইভটা আবার লকারে রেখে লকারটা বন্ধ করে নিচে আসলো।শেখর চৌধুরী তীব্রকে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই কাগজ আনতে এতোক্ষন লাগে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা অনেক কাগজের ভিড়ে খুজতে দেরি হয়ে গেলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আচ্ছা দাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র হাত বাড়িতে দলিলটা দিলো।শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে ওখান থেকে রুমে চলে আসলো।বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিয়ে ভাবতে লাগলো,"মাথায় অনেক প্যাচ জমা হয়েছে।এগুলা ছুটানো খুব দরকার"।ভাবতে ভাবতেই সে ঘুমে তলিয়ে গেলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘুম ভাঙলো বিকেলে।ঘুমের মাঝে ধরফর করে উঠে চশমটা চোখে দিয়ে ফ্রেশ হতে ওয়াসরুমে গেলো।ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে কাজের বুয়াকে স্যুপ বানাতে বলে ডাইনিং টেবিলে বসে অপেক্ষা করতে থাকলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বারবার ঘড়িতে সময় দেখছে তীব্র। "রহিমের মা,তারাতারি করো,সময় নেই " বলে কয়েকবার চিল্লাচিল্লি করে মাথায় হাত রেখে বসে রইলো।তখনই লক্ষ্য করলো মিহির ভাইয়া সদর দরজা খুলে হাতে ক্যামেরায় কিছু একটা গভীর আগ্রহে দেখতে দেখতে লাগলো হেলেদুলে হাটছে।এক পা এগুচ্ছে, তারপর থামছে,আবার এগুচ্ছে এভাবেই নিজের মতো আসছে।মিহির ভাইয়ার উদ্দেশ্য তীব্র বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ভাইয়া,আজকাল শুটিং নিয়ে অনেক ব্যাস্ত মনে হচ্ছে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা রে,প্রচুর কাজ।নতুন একটা ওয়েব সিরিজ বানাচ্ছি।নাম শুনেই তুই পাগল হয়ে যাবি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নাম শুনতে চাচ্ছি না।পাগল হওয়ার ইচ্ছে নেই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আরে শোন,অনেক ইন্টারেস্টিং সিরিজ।সিরিজের নাম " কিডন্যাপারের পেটে ইঁদুরের বিষ "।নামটা কেমন লাগলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- অনেক ইন্টারেস্টিং নাম।ভাইয়া তোমায় একটা কথা বলার ছিলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি কথা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না মানে আমার মনে হচ্ছে তাই বললাম,কিছু মনে করবে না প্লিজ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মনে করার মতো কি আর বলবি,বলে ফেল&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি অনৈতিক কোনো কাজে লিপ্ত হচ্ছো না তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বলতে চাচ্ছিস তুই তীব্র&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ক্যামেরার থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো ভাইয়া।আমি স্বাভাবিক স্বরেই বললাম-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দেখো ভাইয়া,আমি এতোটা ভেঙ্গে বলতে পারছি না।বাবার কথাটা মাথায় রেখে কাজ করিও।বাবার অপমান হবে এমন কাজ করবে না এটা আমার বিশ্বাস।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আম..আম..আমি কিছু করিনি,আমায় এসব কেন বলছিস,? আমি তো কিছুই করিনি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোমার ঘরে লকারের মধ্যে পেনড্রাইভে একটা ভিডিও পেয়েছি আমি।একটা বাচ্চা মেয়ের মাথায় বন্দুক তাক করে রেখেছে কাউকে হুমকি দিচ্ছো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা,ওটাতো আমার শুটিং ছিলো।কিডনাফ করে মুক্তিপণ চাইবে,শেষে ইঁদুরের বিষ খেয়ে মারা যাবে এটাই আমার নতুন সিরিজটার কনসেপ্ট।অভিনয় কেউ করতে পারছে না।তাই আমি দেখিয়ে দিয়েছিলাম কিভাবে করতে হয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ওহহ আচ্ছা,সরি ভাইয়া।আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো অন্যায় পথে চলছো।তাই তো বলি,আমার ভাইয়ার মতো ভালো মানুষ একটাও নাই অভিনয় জগতে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাইয়া মুচকি হেসে ক্যামেরায় চোখ দিয়ে নিজের রুমে গেলো।নিজের কাছে নিজেই লজ্জিতবোধ হচ্ছে। সত্যিই তো,ভাইয়া শুটিংয়ের অনেক কনসেপ্ট রেকর্ড করে রাখতেই পারে। সেটা দেখে ভাইয়াকে সন্দেহ করা ঠিক হয়নি।এসব ভাবতে ভাবতে কাজের বুয়া স্যুপটা টিফিনবাক্সে করে দিলো।বক্সটা হাতে নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্য রওনা হবো তখনি মা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে এসে বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা মা,তোমার শরীরের অবস্থা কেমন? নিচে আসতে গেলে কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার আর শরীর।কই যাচ্ছিস?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হসপিটালে যাচ্ছি মা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ওই অপয়া মেয়েকে দেখতে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মা কিসব বলছো তুমি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নয় তো কি? অপয়া না হলে তিন তিন বার পর্ভপাত হয়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব এখন থাক মা,আমি আসি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দ্বারা,আমার একটা কথা আছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম বলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার,তোর বাবার তো বয়স হয়েছে,আমাদের তো ইচ্ছে করে নাতি নাতনির মুখ দেখতে? তাদের সাথে খেলা করতে,তাদের আদর করতে,বল মন চায় না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোর বড় ভাইয়া তার ও কোনো সন্তান নাই।এখন শেষ ভরসা তুই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব নিয়ে পড়ে কথা বলি মা,এখন...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না রে,বলতে দে আমায়।জানিস তোর বাবা রাতে ঘুমায় না এসব ভেবে।সারাক্ষণ ছটফট করে।পারে না বলতে,পারে না সইতে।বুড়ো বাপ,মার দিকে তাকিয়ে তোর কিছু একটা করা দরকার আছে কি না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি করতে বলছো তোমরা বলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুই আরেকটা বিয়ে কর বাবা।আমি জানি তুই নন্দিতাকে অনেক ভালোবাসিস, কিন্তু একটা সন্তান তো প্রয়োজন তাই না? আমাদের ইচ্ছের কথা বাদ দে।তোর নিজেরও তো ইচ্ছে করে বাবা ডাক শুনতে।আমাদের কথাটা একটু শোন বাবা,আরেকটা বিয়ে করে নে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর কাছে এই বিষয়ে কোনো উত্তর নেই।সে মাথা নিচু করে চোখের কোনে অশ্রু নিয়ে প্রস্থান করলো।এরুপ প্রশ্ন উঠলেই সে নিরব থাকে।ইচ্ছে করে দূর কোথাও চলে যেতে। যেখানে তার থাকবে না কোনো পিছুটান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এরপর কেটে গেলো দুইটি বছর।তীব্র লক্ষ্য করলো নন্দিতা এখন তাকে আর আগের মতো সময় দেয় না।অফিস থেকে বাসায় আসলে সে আর অধির আগ্রহে বসে থাকে না।রাতে বেশিরভাগ সময় ই কোনো কারন ছাড়াই সোফায় গিয়ে ঘুমায়।আগের মতো কথাও বলে না।এরকম আচরণ তিলে তিলে তীব্রকে জ্বালিয়ে দেয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসতেই দেখলো নন্দিতা আয়নার সামনে বসে চুল আচরাচ্ছে।তীব্র মনে শয়তানটা ভর করে বসলো।টাওয়ানটা ঘাড়ে রেখে পেছন থেকে নন্দিতাকে জরিয়ে ধরে ঘাড়ে গাঢ় একটা চুমু খায়।কোমড় থেকে তীব্রর হাতটা নন্দিতার পেটে স্পর্শ করলো।নন্দিতা কেঁপে উঠলো।মুহুর্তেই নন্দিতাকে কোলে নিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়।তীব্রর সারা শরীর নন্দিতার ওপর।নন্দিতার নড়াচড়া করার মতো কোনো অবস্থা নেই।তীব্র ওর হাত দিয়ে নন্দিতার হাত দুটো শক্ত করে ধরে ঠোঁট গাঢ় চুমু খেতে থাকে।নন্দিতা ছটফট করছে,কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।তীব্র&amp;nbsp; ইচ্ছে করেই নন্দিতার ঠোঁটে একটা কামড় বসিয়ে দেয়।নন্দিতা ব্যাথায় শুধু উহু উহু করতে থাকে।ঘাড় থেকে চুলগুলি সরিয়ে ঘাড়ে নাক ডুবাতেই নন্দিতা একটা ঝটকা দিয়ে তীব্রকে সরিয়ে দেয়।তীব্র এবার নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না।কশিয়ে একটা চড় মেরে বসলো নন্দিতর গালে।চড়ের তাল সামলেতে না পেরে সোফায় ধপ করে পড়ে যায়।তীব্র ওর কাছে গিয়ে গালে চাপ দিয়ে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি সমস্যা কি তোমার? এভাবে এড়িয়ে চলো কেন আমায়? যখনি আদর করতে চাই তখনি এভাবে সরিয়ে দিচ্ছো।কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র গাল ছাড়ো,আমার লাগছে।আর কত বার বলবো আমার ভালোলাগে না এসব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভালোলাগে না মানে কি? কি ভালো লাগে তোর? এখন আমার স্পর্শ ভালোলাগেনা? অন্য কাউকে পেয়েছিস নাকি? যে আমার স্পর্শ এখন আর ভালোলাগে না।অনেক সহ্য করেছি,আর না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই তীব্র নন্দিতাকে সোফায় ধাক্কা দিয়ে হনহন করে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো।বেড়িয়ে যেতেই কেউ একজন তীব্রর হাত ধরে টেনে স্টোর রুমে নিয়ে গেলো।তীব্র কিছু বোঝার আগেই নিয়ে গিয়ে দেয়ালের সাথে তীব্রকে চেপে ধরেই তীব্রর ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দেয়,সে নিজের হাত দিয়ে তীব্রর হাত শক্ত করে ধরে তার তল'পেটে স্পর্শ করায়।তীব্রর শরীরে শিহরণ জেগে উঠলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র নন্দিতাকে সোফায় ধাক্কা দিয়ে হনহন করে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো।বেড়িয়ে যেতেই কেউ একজন তীব্রর হাত ধরে টেনে স্টোর রুমে নিয়ে গেলো।তীব্র কিছু বোঝার আগেই নিয়ে গিয়ে দেয়ালের সাথে তীব্রকে চেপে ধরেই তীব্রর ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দেয়,সে নিজের হাত দিয়ে তীব্রর হাত শক্ত করে ধরে তার তল'পেটে স্পর্শ করায়।তীব্রর শরীরে শিহরণ জেগে উঠলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অন্ধকার ঘরে জানালা দিয়ে চাঁদের আলো প্রবেশ করছে।তীব্র মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।চাঁদের আলোয় আবছা আবছা তার মুখ দৃশ্যমান হতেই তীব্র হতভম্ব হয়ে যায়।মেয়েটি আর কেউ নয়,তার নিজের ভাবী।তীব্র রেগেমেগে বলে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এটা কিরকম অসভ্যতামি ভাবী?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র,আমি নিরুপায় হয়ে এটা করতে বাধ্য হচ্ছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাধ্য মানে,কি বলতে চাচ্ছো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম,কি করবো বলো,তোমার ভাইয়ার আমার জন্য সময় কোথায়,সেতো সারাদিন পড়ে থাকে শুটিং নিয়ে।আমার নিজেরও তো চাহিদা আছে,তাই না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবী চুপ করো,এাব বলার মানে কি, তুমি কিন্তু ভুলে গেছো আমি তোমার দেবর&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দেবরের আগে, আমি তোমার প্রেমিকা,কি ছিলাম না প্রেমিকা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবীর মুখে এরুপ&amp;nbsp; কথা শুনে তীব্র চুপ করে রইলো।ভাবী বলতে লাগলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মনে পড়ে সেই দিনগুলির কথা? যখন আমরা হাতে হাত রেখে রিক্সায় ঘুরেছি,রাস্তায় রাস্তায় হেটেছি,তুমি আদর করে চুলে বেলী ফুলের মালা দিয়ে দিতে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব কথা এখন কেনো তুলছো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুলছি কারন তোমার জন্য আমি আজ ভালো নেই,আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছো তুমি,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি কি করেছি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি করেছো? হাহহাহা,ভুলে গেছো সব তাইনা? বউ বানাবে বলে ছিলে,সেখানে...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবী চুপ করো প্লিজ।এখন এগুলো বলে কি বুঝাতে চাইছো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র, আমার আবদার তুমি আমাকে একটা সন্তানের সুখ দেবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটা শুনে তীব্রর সারা শরীর হিরহির করতে লাগলো।মনে হতে লাগলো কষে কয়েকটা চড় মারতে।তীব্র কখনো তাকে খারাপ নজরে দেখেনি।হ্যা হতে পারে একসময় সে তার প্রেমিকা ছিলো,কথার ছলে হাতটুকু ধরতে ইতস্ততবোধ হতো তীব্রর।সে নন্দিতাকে ছাড়া আর কাউকে নিয়ে কখনো এসব স্বপ্নেও ভাবতে পারেনা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার ইচ্ছে করছে তোমার গালে ঠাসঠাস করে কষে চড় মারতে, শুধু বড় ভাবী হও এজন্য কিছু বলতে পারছি না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি যাই করো,প্লিজ আমার অবস্থাটা একবার ভেবে দেখো।তোমার যেমন বাবা না হতে পারার কষ্ট হয়,তেমনি তো আমারো ইচ্ছে করে মা হতে,মা ডাক শুনতে।আমি কথা দিচ্ছি এসব আমাদের নিজেদের মধ্যেই থাকবে।কেউ কিচ্ছু জানবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না।ঠাস করে একটা চড় মেরে স্টোর রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো।বেড় হয়ে সামনে নন্দিতাকে দেখতে পেয়ে তীব্র চরমভাবে একটা ধাক্কা খেলো।মনে হচ্ছে সব ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তীব্র তলিয়ে যাচ্ছে তলন সমুদ্রে।নন্দিতা চোখের কোনে অশ্রু নিয়ে চোখ লাল করে কাঠ দারিয়ে আছে।তীব্র আমতা আমতা করতে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন..নন..নন্দিতা,তু..তু..তুমি এখানে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসেতো অন্যায় করে ফেলছি বোধহয়।তাই না মিঃতীব্র&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা তেমন কিছুই নয়,যেমনটা তুমি ভাবছো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার ভাবার কিছু বাকি নেই।বিশ্বাস করেছিলাম তোমায়,সেটার এই মূল্য? বাহ্&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা আমার কথা শুনো (নন্দিতার কাছে এগিয়ে যেতে যেতে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার কাছে আসবে না, একদম আসবে না।চরিত্রহীন পুরুষ। লজ্জা করলো না এসব করতে? তাও বড় ভাবীর সাথে,,ওহহ সরি উনিতো তোমার ভাবী না,পুরোনো প্রেমিক। প্রেম জেগেছে মনে,তা যাও না যা করছিলো তা করো না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার কথা একটু শু..&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- স্টোপ।আই সে স্টপ।ভূল ভেবেছিলাম আমি,ভেবেছিলাম কেউ আমার পাশে থাকুক না থাকুক তুমি থাকবে,কিন্তু এই সময়টাও যে দেখতে হবে,,,আমি আর থাকবো না,এল মূহুর্ত থাকবো না বাড়িতে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা আমায় একটা সুযোগ দাও বলার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটা বলতেই ভাবী মিহি সুরে কান্না করতে করতে ঘর থেকে বেড় হলো।তীব্র তাকালে যা দেখতে পায় সেটা সে কখনো ভাবতে পারেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবীর শরীরে শাড়ীটা নেই।পরনে ব্লাউজ আর পেডিকোট।ব্লাউজটাও বুকের অংশে ছেঁড়া।চোখের কাজল লেপ্টে সারা গাল হয়ে আছে।তীব্র এমন অবস্থা দেখে নিজের চোখ ভাবীর ওপর থেকে সরিয়ে নিলো।নন্দিতা রেগেমেগে নিজের রুমে চলে গেলো।তীব্রর বলার মতো কিছুই রইলো না।ভাবীকে শুধু বললো " কাজটা তুমি মোটেও ঠিক করোনি,এর মাশুল তোমায় গুলতেই হবে"। উত্তরে ভাবী বললো " সোজা আঙ্গুলে যখন ঘি উঠলোই না তখন না হয় আঙুল বাঁকালাম,দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়,আমার জীবনতো এমনিতেও নরক হয়ে গেছে।তুমি শান্তিতে থাকো কিভাবে সেটাও দেখবো।"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র রুমে এসে দেখলো নন্দিতা শুধু ফোনটা,আর ছোট্ট একটা ব্যাগে নিয়ে রুম থেকে বেড় হচ্ছে। তীব্র আটকাতে গেলে নন্দিতা অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে তীব্রর ওপর।যে দৃষ্টিতে রয়েছে এক সাগর ঘৃনা,রাগ,অভিমানে ভর্তি।তীব্র কিছু বলতে পারলো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিচে শেখর চৌধুরী খবরের কাগজ পড়ছে আর চা খাচ্ছে। নন্দিতার হাতে ব্যাগ নিয়ে নামতে দেখে তিনি বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কোথাও যাচ্ছো বউমা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জ্বি বাবা ( ব্যাগটা ফ্লোরে ধপাস করে রেখে দিয়ে সালাম করতে করতে বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আরে থাক থাক, সুখী হও।কিন্তু এতো রাত্রে কোথায় যাচ্ছো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এ বাড়িতে আমার দিন শেষ বাবা।এই বাড়ির কাউকে তো কোনোদিন আপন করতে পারিনি। রাত জাগবেন না বাবা।আসি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বউমা এসবের মানে কি?দারাও আ....&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্লিজ বাবা আমায় আটকাবেন না।আমি আপনার কথা রাখতে পারবো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শেখর চৌধুরী আর আটকালেন না।স্বামী,স্ত্রীর ঝগড়া হয়,তাদের মাঝেও হয়।নন্দিতা রেগে বাবার বাড়িতে গেলে তীব্র নিয়ে আসে।বরাবর এমনটাই হয়।তাই শেখর&amp;nbsp; চৌধুরী তেমন জোর করলেন না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সারারাত তীব্র নেশায় কাটালো। একটার পর একটা সিগারেটের প্যাকেট শেষ করে।ঘরের মেঝেতে প্যাকেটগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।নন্দিতার প্রতি তার ভালোবাসার কমতি ছিলো না কখনো,তবুও নন্দিতা তার কথা না শুনেই এরকম করবে এটা তীব্র কখনো ভাবে নি।পরোক্ষণে নিজেই নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো,নন্দিতাতো ঠিকি করেছে। নিজের স্বামীকে এরুপ অবস্থায় দেখলে কোনো স্ত্রীই ভালোভাবে নিবে না সেটা।কাল সকালে ওর রাগ ভাঙ্গিয়ে নিয়ে নিয়ে আসবে,এসব ভাবতে ভাবতেইফ্লোরেই ভোর রাতে ঘুমিয়ে গেছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘুম ভাঙ্গলো চেচামেচিতে।বাইরে বেড় হয়ে দেখতে পেলো সারা বাড়ি সাজানো হচ্ছে। মুহূর্তেই তীব্রর সারা শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো।মনে পড়ে গেলো কাল রাতের কথা।ভাবী কি আবার কোনো ফাঁদ পেতেছে তাকে বিপদে ফেলার জন্য?এসব ভাবতে ভাবতে নিচে নামলো তীব্র।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেছন ফিরতেই ভাবী তীব্রকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় চোখ টিপে মুচকি হাসলো।তীব্র শক্ত করে তার হাত ধরে সাইডে নিয়ে গিয়ে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হচ্ছে বাড়িতে? সাজানো হচ্ছে কেন?তুমি কোনো ঝামেলা করলে কিন্তু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আরেহ কুল, কুল।আমি কি করতে পারি সেটাতো এখনো দেখাইনি তোমায়,এখন দেখাবো।রেডি থাকো।আমার ওপর দেওয়া প্রতিটি কষ্টের হিসেব আমি নিবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন বুঝেছি, আমার আগের দুই সন্তান নষ্ট হওয়ার পেছনে তোমার কারসাজি আছে।তোমায় আমি ছাড়বো না, (কটকটে গলায় বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ছিহ্, এতোটা নিচ ভাবনা তোমার?কিভাবে ভাবলে তুমি?যে কিনা পৃথিবীর আলোই দেখেনি তার ওপর আমি প্রতিশোধ নিবো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সেটা তুমিই ভালো জানো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিচ থেকে রাবেয়া চৌধুরী চেচিয়ে ডাকতে লাগলেন " তীব্র, এই তীব্র, দেখে যা কে এসেছে।বড় বউমা দেখে যাও কে এসেছে,আমার ঘরের লক্ষী এসছে"&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাবেয়া চৌধুরীর ডাক শুনে তীব্র হন্তদন্ত হয়ে নিচে নামলো।নিচে নামতেই দেখলো একজন মাঝবয়সী লোক হাতে বই নিয়ে সোফায় বসে বই পড়ছে।সাথেই বসে আছে একটা মেয়ে। মেয়েটা সুন্দরী। বেশ সুন্দরী।গায়ের গড়ন, রং-বিন্যাস সবকিছু যেন প্রকৃতি তাকে ঢেলে দিয়েছে।&amp;nbsp; &amp;nbsp;খোলা চুল,মাথায় ফুলের গাজরা।চোখে নীল রঙ্গের চশমা।হাল্কা লাল লিপস্টিকের রং ঠোঁটে আভাস দিচ্ছে। অবশ্য এটা লিপস্টিক নাকি মেয়েটার ঠোঁটের রং ই এরকম বোঝায় উপায় নেই।তীব্র ওর পাঞ্জাবীর হাতা গোটাতে গোটাতে নিচে নামলো।রাবেয়া চৌধুরী তীব্রর হাত ধরে টেনে ওদের সামনে নিয়ে গেলেন।অতি উৎসুক কন্ঠে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আরোহী,দেখ তো চিন্তে পারিস কি না,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মেয়েটা কিঞ্চিৎ হেসে উঠলো।ঠোঁটের কোনে হাসির আভা ফুটে উঠলো।বাহ্ মেয়েটকে হাসলে দারুন মানায়।হাসি হাসি কন্ঠে বললো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র ভাইয়া না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাবেয়া চৌধুরী- সেই ছোট থাকতে দেখেছিলি, আমিতো ভাবলাম চিন্তেই পারবি না&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আরোহী-কি যে বলো না,তীব্র ভাইয়াকে চিনবো না? তাও আবার আমি,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র-কেমন আছিস আরোহী&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আরোহী-ভালো আছি, তুমি কেমন আছো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;" তোরা কথা বল।আমি চা নিয়ে আসি" বলেই রাবেয়া চৌধুরী চা বানাতে চলে গেলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র-হুম ভালো।তো এবার ক'দিনের ছুটি পেয়েছিস?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- পুরো এক মাস,একা বসে বসে বোর হচ্ছিলাম।তাই চলে আসলাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- খুব ভালো করেছিস।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাইয়া,নন্দিতা ভাবী কোথায়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ও একটু কাজে বাবার বাড়িতে গেছে।চলে আসবে কাল পরশু ( মিথ্যা বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- চলো ছাঁদে যাই,এখানে ভালো লাগছে না বসে থাকতে।তোমাদের ছাঁদের পাশে ওই ছাতিম গাছটা আছে না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম আছে।ওই গাছটার কথা এখনো মনে আছে তোর?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- থাকবে না মানে,ওখানেই তো আমার... বাদ দাও চলো ঘুরে আসি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আঙ্কেলের সাথে একটু কথা বলতে দে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা এখন কথা বলবে না,গভীর মনোযোগে বই পড়ছে।ডিস্টার্ব করা নিষেধ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আরোহী তীব্রর হাত ধরে টেনে ছাঁদে যেতে লাগলো।আরোহীর বাবা আহনাফ চৌধুরী বইয়ে মুখ গুজেই রইলেন।তিনি প্রচুর বই পড়েন।রিটায়ারের পর বই পড়া তার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে।খাওয়া,ঘুম ও প্রকৃতির সাড়া দেওয়া ছাড়া বাকিটুকু সময় বই পড়ে কেটে দেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দুপুরের কড়া রোধ ভেঙে কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।আশেপাশে ঠান্ডা বাতাসে ছেয়ে গেলো।আরোহী ছাঁদের কার্নিশ ধরে দারিয়ে আছে।তীব্র পকেটে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে ছাতিম গাছটার দিকে।আরোহী বলে উঠলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র ভইয়া&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মনে আছে এই গাছটার কথা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব কথা এখন তুলছিস কেন৷আচ্ছা তোর পড়াশোনা কেমন চলছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মোটামুটি চলছে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখনি পেছন থেকে " আরোহী, কখন আসলে তুমি" বলতে বলতে সামনে আসলো আরহা ভাবী।আরোহী জরিয়ে ধরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এইতে ভাবী এখনি আসলাম।তুমি তো এখন আরো সুন্দরী হয়ে গেছো ভাবী,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হাহাহা,দেখতে হবে না কার ভাবী?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নিচ থেকে রাবেয়া চৌধুরী আরোহীকে ডাকলেন।আরোহীর ইচ্ছে করছে না যেতে।তবুও বাধ্য হয়ে নিচে গেলো।আরহা তীব্রর একদম পাশাপাশি দাড়ালো।তাচ্ছিল্যর স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি ছোট দেবর জি, বউকে আনোনি এখনো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;(তীব্র চুপ করে রইলো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আহারে,, তোমাকে দেখে না আমার খুব কষ্ট হয় জানো? ভালোবাসার মানুষকে তুমি কখনো ধরে রাখতে পারলে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র পাশ কাটিয়ে নিচে চলে গেলো।বাইকের চাবিটা নিয়ে রওনা হলো নন্দিতার রাগ ভাঙ্গানোর একটা চেষ্টা করতে। রাগ হলে সেটা ভাঙ্গা যায়,ভুল ধারনার শেখর যে অনেক গভীর, সেটা কি এতো সহজে ভাঙতে&amp;nbsp; পারবে তীব্র?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দৃশ্যপট-২&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দরজায় মিহি টোকা পড়ছে।আসমা বেগম দরজা খুলতেই নন্দিতাকে দেখে তার আনন্দের সীমা রইলো না।নিজের মেয়েকে অনেকদিন পর দেখে জরিয়ে ধরলেন।নন্দিতাও নিজের কষ্টকে কিছুটা আড়াল করে মায়ের সাথে আহ্লাদী হয়ে যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিরে মা,হঠাৎ করে? জামাই কোথায়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ও আসেনি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আসেনি মানে? কেনো?তুই একাই এসেছিস নাকি ?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আয় ভেতরে আয়।শরীরের কি অবস্থা করেছিস।খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিস বোধহয়।হাত,মুখ ধুয়ে আয়,আজ আমি খাইয়ে দিবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা কিছু না বলে চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেলো।ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসতেই আসমা বেগম হাতে প্লেটে খাবার সাজিয়ে উপস্থিত হলেন।কাছে এসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কতদিন হলো খাইয়ে দিই না।নন্দু,তোর ঠোঁট ফুলা কেন? ব্যাথা পেয়েছিস?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ও কিছু না মা।এমনিই একটু লেগেছে।তুমি খাইয়ে দাও তো।তোমার হাতে অনেকদিন খাইনা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আসমা বেগম যত্ন করে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।নন্দিতা এই স্নেহে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো।আসমা বেগম নন্দিতার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।কিছুক্ষণ পর নন্দিতা নিজেকে সামলে নেয়।আসমা বেগম মিহি স্বরে বলেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোকে কি ও বাড়িতে কষ্ট দেয় নন্দু?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-(নন্দিতা নিরব)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হলো বল? ওরা কি তোকে কষ্ট দেয়? হঠাৎ এখানে আসলি,সাথে জামাই এলো না।ঘটনাটা কি?বলবি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা কোথায় মা? (বিষয়টা এড়িয়ে গিয়ে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাজারে গেছে।এখনি চলে আসবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলতে বলতেই রহিম মিয়া খরচের ব্যাগটা রেখে ডাকছে,"আসমা,আসমা"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আসমা বেগম বললেন " ঘরে এসো গো,দেখো কে এসেছে "।" কে এসছে "&amp;nbsp; বলতে বলতে রহিম মিয়া ঘরে ঢুকতেই নন্দিতাকে দেখে চকচক চোখে বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দু মা,কখন এসেছিস মা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই তো এখনি আসলাম বাবা,তুমি তে ঘেমে গেছো।এখানে বসো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জামাই আসেনি? ( বিছানায় বসতে বসতে বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না ( নন্দিতা নিরব কন্ঠে বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা শুয়ে শুয়ে চোখের জল ফেলছে,।ফোনে রিং বেজেই চলেছে।নন্দিতা ফোন&amp;nbsp; তুলছে না।ফোনের স্ক্রিনে তীব্র নামটা বারবার জ্বলে উঠছে।বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বেলকনিতে গেলো নন্দিতা।বেলকনি দারিয়ে ফোনটা রিসিভ করে নিচে রাস্তায় তাকালো।দেখলো তীব্র রাস্তায় পাশে চায়ের দোকানটায় বসে চা খাচ্ছে আর ফোন কানে রেখে বেলকনির দিকে তাকিয়ে আছে।নন্দিতা ফোন রিসিভ করে রাগি কন্ঠে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি সমস্যা কি?ফোন দিচ্ছো কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার বউকে ফোন দিয়েছি,এতে সমস্যা কি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- লজ্জা করছে না এসব বলতে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা তুমি যা ভাবছো তেমন কিছুই না।আমায় বলতে দিলে তবেই তো বলবো তাই না?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার শোনার কিছু নেই।কখনো ফোন করবা না আর,,নেভার এভার&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই&amp;nbsp; এই ফোন কাটবা না বলে দিলাম,নইলে কিন্তু&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নইলে কি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নইলে আমি কি করবো তাতো জানোই,এখান থেকে এসোজা একটা গাড়ির সামনে দারিয়ে যাবো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব বলে আর আমায় প্রভাবিত করতে পারবে না।সব অধিকার শেষ হওয়ার দিন এসে গেছে তীব্র ।সব কিছু থেকে আপনাকে মুক্তি দিবো আমি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই ফোনটা কেটে দিলো নন্দিতা।কেটে দিয়ে ঘরে আসলো।যতবার নন্দিতা রাগ করে বাবার বাড়িতে এসেছে ততবার ই তীব্র এসে তার রাগ ভাঙ্গিয়ে নিয়ে গেছে।কিন্তু এবারেরটা যে রাগ না।এটা সন্দেহ।সন্দেহ সহজে যায় না।থেকে যায়,একটু একটু করে ভাবায়,কষ্ট দেয়,শেষ করে মনের সকল অনুভূতি।একটু পর কিছু লোকের চেঁচামেচি অস্ফুট শব্দ তার কানে এলো।মনে মনে ভাবলো, তীব্র আবার কোনো পাগলামি করলো না তো? বিছানা থেকে ধরপর করে উঠে ব্যালকোনিতে দারাতেই দেখলো নিচে কিছু মানুষ গোল হয়ে দারিয়ে আছে।রাস্তার পাশ দিয়ে লাল তরল বেয়ে যাচ্ছে। রক্ত নয় তো? তীব্রর কিছু হয়ে গেলো না তো? মুহুর্তেই বুকটা ধক করে উঠলো।চারিদিকে শূন্যতা অনুভব করলো।দৌড়ে নিচে নামলো।যে দোকানটায় তীব্র বসে চা খাচ্ছিলো সেখানে যেতেই, সেখানে থাকা লোকগুলি এক এক করে সরে দারালো।নন্দিতা কাছে যেতেই দেখলো তীব্র মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে।মাথার পাশ দিয়ে রক্তের স্রোত বইছে।নন্দিতার সারা শরীর হিম হয়ে আসলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে।মাথার পাশ দিয়ে রক্তের স্রোত বইছে।নন্দিতার সারা শরীর হিম হয়ে আসলো।এক এক করে মুহুর্তেই সবাই চলে গেলো।নন্দিতা ধুম মেরে বসে আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র হাতে ভর করে উঠলো।উঠে গায়ের লেগে থাকা ধুলো ঝেরে ফেলছে,চুল ঠিক করছে।নন্দিতা চরম হতবাক হয়ে হা করে চেয়ে চেয়ে সেসব দেখছে।নন্দিতা রোড থেকে উঠে তীব্রর ওপর অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো,রেগে গজগজ করে পেছন ফিরে যেতেই তীব্র দৌড়ে গিয়ে নন্দিতার হাত ধরে নন্দিতাকে নিজের বাহুদ্বয় দারা শক্ত করে বুকের সাথে জরিয়ে নিলো।নন্দিতা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে আর তীব্রর বুকে কিল,ঘুষি মেরেই চলেছে।তীব্র তবুও হেসে হেসে তাকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে থাকলো।একটু পর তীব্র ছেড়ে দিলেও দেখলো নন্দিতা তাকে খামচে ধরে আছে।তীব্র চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চেয়ারে বসে নন্দিতা এখনো নাক ছিঁচকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।কান্নার গতি এখন কিছুটা কম।তবে নাকের ছিঁচকানিটা বেশি।তীব্র তার রুমালটা এগিয়ে দিলে নন্দিতা খপ করে সেটা হাতে নিয়ে নাকে ধরে 'ইয়ে' করলো।রুমালটা আবার তীব্রর দিকে এগিয়ে দিলো।তীব্র নাক,মুখ কুচকে রুমালটা নখের আগাল দিয়ে ধরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এক হাতে ফুসকা, আরেক হাত গালে রেখে অসহায় দৃষ্টিতে নন্দিতার সম্মুখের চেয়ারে বসে আছে তীব্র।আধাঘন্টা ধরে ফুসকার প্লেটটা হাতে ধরে থাকতে থাকতে হাত অবস হয়ে গেছে।এদিকে নন্দিতার থামার নাম গন্ধ নেই। সে কেঁদেই চলেছে।তীব্র কয়েকবার চোখের জল মুছে দিতে হাত বাড়াতেই নন্দিতা হাত সরিয়ে দিয়েছে।তাই তীব্র অসহায় দৃষ্টির মতো অসহায় স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আর কত কান্না করবা? এবার তো থামো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুই চুপ থাক।জলহস্তি,ঘোড়া,ইঁদুর, বিড়াল (চোখের জল মুছতে মুছতে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুই তোকারি করতেছো কেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তা কি করবো? আদর করবো?চুমু খাবো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখানে চুমু খাবে? কেউ দেখে ফেললে লজ্জা...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-চুপ, একদম চুপপপ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আচ্ছা চুপ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ থাকার পর নন্দিতা রাগি স্বরে বললো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব করে আমায় কষ্ট দিয়ে খুব মজা পাও তাই না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি কষ্ট পেয়েছো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হু&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি করবো বলো,তুমি তে আনার কথাই শুনতে চাচ্ছিলে না।তুমি যে জেদি তাই এমনটা করতে হলো।তাছাড়া তো নিচে আসতেই না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সে জন্য এরকম একটা ঘটনা তৈরী করবা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আচ্ছা সরি,আর এমন হবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আর যদি কোনোদিন এমন করেছো তো আমিই তোমায় মেরে ফেলবো, বলে দিলাম।মনে থাকে যেন&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম থাকবে থাকবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- রক্তগুলি পাইছো কিভাবে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হাহাহাহাহা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হাসছো কেন?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এগুলা রক্ত না তো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আ্যা? রক্ত না তো কি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- চা।রং চা।রক্তের বদলে চা কিন্তু মন্দ কিছু না।দোকানির কাছে এক কেতলি রং চা কিনে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলাম।যেনো তুমি রক্ত মনে করো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- চা রাস্তায় ঢেলে সেখানে শুয়ে পড়লে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হু,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাহ্, আমি এই প্রথম কাউকে এরকম পাগলামি করতে দেখলাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোমার জন্যই তো সব পাগলামি,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম আমার জন্যই তো।অন্য কারোর জন্য করার ইচ্ছে আছে নাকি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- থাকলে কি হবে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হবে সেটা ভাবতেও পারবে না।মেরে না ঘরে হুইলচেয়ারে বসিয়ে রাখবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এ্যা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম।তোমার সব পাগলামি শুধু আমাতেই যেন সীমাবদ্ধ থাকবে সারা জীবন।বুঝেছো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম বুঝলাম।এখন হা কি হা করবা? আমার হাত তো ব্যাথা হয়ে গেলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- রাগ করছি,রাগ ভাঙ্গেনি, তাতেই খাবো? হুহ&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তো কি করলে রাগ ভাঙ্গবে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সামনে দারাও।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র বাধ্য ছেলের মতো নন্দিতার সামনে দারালো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন মনে করো মাউথপিস হলো তোমার হাত।হাত মুখের সামনে দাও&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বলছো, এসব করবো এখন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- যা বলছি করো&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আচ্ছা।তারপর ( হাত মুখের সামনে এনে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- একটা কবিতা বলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন কবিতা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম,এখনি,বলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এহেম,মাইক টেস্ট,ওয়ান,টু,থ্রি,মাইক টেস্ট&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ঢং বাদ দাও,কবিতা বলো (একটু চিল্লিয়ে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বলছি তো,মনে করতে দাও?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম এক মিনিট সময় দিলাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-এখন, এখানে কিভাবে&amp;nbsp; একটা কবিতা বলবো।উফফ,কি যে করো তুমি।মনে পড়েছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অতন্দ্রিলা,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘুমোওনি জানি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাই চুপি চুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলি, শোনো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সৌরতারা-ছাওয়া এই বিছানায়,সূক্ষ্মজাল রাত্রির মশারি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কত দীর্ঘ দুজনার গেলো সারাদিন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আলাদা নিশ্বাসে,এতক্ষণে ছায়া-ছায়া পাশে ছুঁই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কী আশ্চর্য দু-জনে দু-জনা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অতন্দ্রিলা,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎ কখন শুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোত্স্না,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দেখি তুমি নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- খুব সুন্দর।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন খাও।হা করো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র নন্দিতার মুখে ফুসকা তুলে দিলো।ঝালে নন্দিতা চোখ ছোট করে তীব্রর দিকে তাকায়।ঝাল ঝাল করে চেচাতে লাগে।ফুসকায় প্রচুর ঝাল দিয়েছে।দিয়েছে বললে ভুল হবে।তীব্রই বলেছে ঝাল দিতে।এই সুযোগে তীব্র নন্দিতার ঠোঁটে একটা ভালোবাসার পরশ একে দিলো।নন্দিতা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো তীব্রর দিকে।তীব্র স্বাভাবিক ভাবেই আরেকটা ফুসকা হাতে নিয়ে নন্দিতার মুখের কাছে ধরলো।নন্দিতার এমন চাহনিতে তীব্র হেসে ফেললো।হাসি দেখে নন্দিতার রাগ হলেও ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারা দু'জনই শব্দ করে হাসছে।বাহ্!&amp;nbsp; ভালোবাসা কত সুন্দর। তীব্রর হাতে হাত রেখে নন্দিতা হেসেই চলেছে।তীব্র মুগ্ধ হয়ে নন্দিতার চোখে তাকিয়ে রইলো। কতো মায়াবী চোখ।নন্দিতা যেন আরো তরুণী হয়ে উঠছে।নাকি ভালোবাসার মানুষের বয়স চোখে পড়ে না? কিছু একটা হবে হয়তো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আকাশে মেঘের দল ছোটাছুটি করছে।কাকের ডিম হয়ে আসছে আকাশের রং।আশেপাশে বইছে শীতল বাতাস।তীব্র আর নন্দিতা বসে আছে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে।গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফুটেছে।বাতাসের ঝাপটায় কিছু ফুল ঝরে পরছে রোডে।তীব্র হাতে ফুসকার প্লেটটা থেকে একটা একটা করে নন্দিতাকে খাইয়ে দিচ্চে।নন্দিতা চুপটি করে খাচ্ছে। বাতাসে নন্দিতার চুলগুলি সরে গেলে তীব্র এলোমেলো চুলগুলি কানের কাছে গুজে দিচ্ছে।তাদের সামনেই একটা নেড়ি কুকুর বসে বসে&amp;nbsp; লেজ নারাচ্ছে।তাদের এই ভালোবাসা উপভোগ করছে হয়তো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দু-এক ফোঁটা করে বৃষ্টির কণা পড়তে শুরু করলো।তীব্র&amp;nbsp; আন্দোলিত হয়ে জোরালে স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বৃষ্টিতে ভিজবে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি বৃষ্টিতে ভেজার কথা বলছো,? ( অবাক হয়ে চেয়ে থেকে বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম,কেন বলতে পারিনা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমিতো আমায় ভিজতেই দাও না।সেই তুমিই আজ বলছো বৃষ্টিতে ভিজতে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম,চলো আজ বৃষ্টিতে ভিজবো দুজনে। এই বৃষ্টিটা আজ আমাদের&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঝুম বৃষ্টি থেকে এবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো।সারা রাস্তা ফাঁকা।তারা দারিয়ে আছে বড় কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে ফুসকার দোকানের সামনে। তীব্র নন্দিতার হাত ধরে রাস্তার মাঝে নিয়ে গেলো।বৃষ্টির জল তাদের সারা শরীর স্পর্শ করছে।নন্দিতা দুই হাত তুলে আকাশের পানে চেয়ে বৃষ্টি উপভোগ করছে।তীব্র চেয়ে চেয়ে দেখছে তার ভালোবাসাকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বৃষ্টির পরিমান আরো বাড়লো।নন্দিতার শাড়ি বৃষ্টির জলে ভিজে সারা শরীরে লেপ্টে আছে।তীব্র এক পা এক পা করে এগিয়ে গেলো।পেছন দিক থেকে নন্দিতার পেটে হাতের স্পর্শ লাগায়।আরেক হাত পিঠ বেয়ে গলায় স্পর্শ করলো।নন্দিতা কেঁপে কেঁপে উঠছে। পেছন থেকে জরিয়ে ধরে তীব্র নন্দিতার ঘারের চুলগুলি সরিয়ে জোরালো একটা কিস করে।নন্দিতা প্রতিবার নড়েচড়ে উঠছে।ওকে পাশ ঘুরিয়ে মুখোমুখি করে নিলো তীব্র।নন্দিতাকে বিকের সাথে লেপ্টে নিলো।নন্দিতার গরম শ্বাস পড়ছে তীব্রর মুখের ওপর।চোখে বৃষ্টি পড়ায় টিপটপ চোখ বন্ধ করছে নন্দিতা।তীব্রর হাত নন্দিতার গালে রাখলো।নিজের ঠোঁট আস্তে আস্তে নন্দিতার ঠোঁটের কাছাকাছি আনলো।নন্দিতা লজ্জায় চোখ বন্ধ করলো।গোলাপি ঠোঁট গুলো পিট পিট করে কাপছে।তীব্র নন্দিতার আঁচল দিয়ে তাদের ঢেকে নিয়ে নন্দিতার ঠোঁটে গভীর একটা চুমু খায়।নন্দিতাও নিজেকে আর আড়াল করতে পারলো না।সেও তীব্রর ঠোঁটে ভালোবাসার স্পর্শ একে দিচ্ছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চলবে...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;Writer:- জয়ন্ত কুমার জয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/1070348637701112388/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_66.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1070348637701112388" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1070348637701112388" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_66.html" rel="alternate" title="চন্দ্ররাতের মায়া পর্ব ৫, ৮" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjJbQ_mXMdn1Eq1l3tuMFld8QjekL2jA9hd2MXYaCW1m-j-3DGuPkiA4xQAuWfeBuIO9PxpDj2qC_8hTnqaPm86hneJfq_N9_7FHFk5EdBq_CLbGI6-GSBoDS18dYjxB7-sGSN_QMJoTZE/s72-c/1688975158129737-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-5288442261688713528</id><published>2023-07-10T00:38:00.001-07:00</published><updated>2023-07-10T00:46:32.675-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Thriller Story"/><title type="text">চন্দ্ররাতের মায়া পর্ব ১, ৪</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhLvX9QafE-7vqNhyRB3xQSw7E42PALrvWbLbinUPTEl70XQZcQiljSrH8kkc8rj4HJLJI5Rco9m88iPxzHTaEYscBJRsAji-NiOU9uLbBf2Jg65ucFu-M51dmcZyVE2aETKeofds5gx6w/s1600/1688974730240668-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhLvX9QafE-7vqNhyRB3xQSw7E42PALrvWbLbinUPTEl70XQZcQiljSrH8kkc8rj4HJLJI5Rco9m88iPxzHTaEYscBJRsAji-NiOU9uLbBf2Jg65ucFu-M51dmcZyVE2aETKeofds5gx6w/s1600/1688974730240668-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার পেটের বেবিটা মনে হয় আর বেঁচে নেই তীব্র।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাঝরাতে শরীর ঝাকিয়ে ডেকে তুলে আমার স্ত্রী নন্দিতা কথাটি বললো।আমার ঘুমঘুম চোখে ওর দিকে তাকিয়ে অনেকটা রেগে গিয়েই বললাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এসব কি কথা বলছো নন্দিতা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি সত্যিই বলছি।বেবিটা নড়াচড়া করছে না গতকাল থেকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এবার আমি একটু অবাক হলাম।বিছানায় বসে চশমাটা চোখে দিলাম।নন্দিতা কাঁদো কাঁদো চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি পর পেটে কিছুক্ষণ হাত দিয়ে দিয়ে রাখলাম।মুহুর্তেই আমার শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো।সারা শরীর দিয়ে ঘাম ঝরতে থাকলো।নন্দিতা ঠিকই বলছে।পেটের বেবি টা সত্যি'ই নড়াচড়া করছে না।নন্দিতা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ওরা আবার আমার বেবিটাকে মেরে ফেলেছে তীব্র,ওরা আবার আমার সন্তানকে মেরে ফেলেছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই আমায় জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।আমি কাঠ হয়ে বসে রইলাম।আমার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরুচ্ছে না।নন্দিতার কান্নার শব্দে সারা বাড়ির লোকজন জেগে গেলো।বাবা,মা,বড় ভাই,ভাবী সবাই আমার রুমে আসলো।ভাবী এসে নন্দিতাকে ধরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবী- কি হয়েছে নন্দিতা? কাঁদছিস কেনো?এই অবস্থায় কাঁদা তো ঠিক না,এতে বেবির সমস্যা হবে তো বোন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মা- কি হয়েছে বৌ মা? এতোরাতে কাঁদছো কেনো? বলো আমাদের? তীব্র কিছু বলেছে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাবা- তীব্র কি হয়েছে রে? বৌমাকে কিছু বলেছিস নাকি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সবার প্রশ্ন যেনো আমার মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এখন আমি কিছুই ভাবতে পারছি না।ভয়ে আমার শরীর হিম হয়ে আসছে।নিজের সন্তানকে এভাবে প্রত্যকবার হারানো একটা বাবার কাছে যে কতোটা কষ্টদায়ক সেটা একজন বাবাই জানেন।নন্দিতা ভাবীকে উদ্দেশ্য করে কান্না করতে করতে বললো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবী,আমাদের বেবি আর বেঁচে নেই,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটা শুনে মা,বাবা,ভাইয়া,ভাবী সবাই চমকে উঠলো।মা কান্নামিশ্রিত&amp;nbsp; কন্ঠে&amp;nbsp; বললেন-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বললে বৌ মা? আমার দাদুভাই আর নেই মানে, কি অলক্ষুণে কথা বললে তুমি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবী- নন্দিতা শান্ত হয়ে বোস তো। কিভাবে বুঝলি বেবিটা বেঁচে নেই?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা- ও নড়াচড়া করছে না ভাবী।কাল সকাল থেকে ও নড়াচড়া করা বন্ধ করে দিয়েছে।আমি ভেবেছিলাম পরে ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু এখন"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতার কথা শুনে ভাবী নন্দিতার পেটে কিছুক্ষণ হাত রাখলেন।রেখেই চোখ সংকুচিত করে ভাইয়ার দিকে তাকালেন।এর অর্থ নন্দিতা যা বলছে সেটা সত্যি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাইয়া বলে উঠলেন-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ওসব চিন্তা ভাবনা বাদ দাও,ওই রকম কিছুই হয় নি। তোমরা মিছেই চিন্তা করছো।আমি এমবুলেন্স কে ফোন করছি।মেডিকেলে পরিক্ষা করলেই বুঝা যাবে আসল সত্যি কি। কিরে তীব্র তুই কিছু বল?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা,?হ্যা হসপিটালে নিয়ে গিয়ে পরিক্ষা করলেই সব বুঝা যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাইয়া এম্বুলেন্স কে ফোন করলো।আমি নন্দিতার মাথায় হাত বুলাচ্ছি আর ওকে শান্তনা দিচ্ছি।ভেতরে ভেতরে আমার আবারো সেই অজানা ভয় কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।মা দরজার কাছে গিয়ে কান্না করছে আর বলছে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সব এই অপয়া মেয়েটার দোষ।ও আমার ছেলেটার জীবনে একটা খুশির সংবাদ এনে দিতে পারলো না।অলক্ষুণে মেয়ে।বিয়ের সময় বার বার বলেঋিলাম এই মেয়েকে বিয়ে করিস না,একে দেখে আমার সুবিধার ঠেকছে না।এখন হলো তো? সর্বনাশের কিছু বাকি রইলো? এক বার নয় দুই বার নয়,,তিন তিন বার।এই নিয়ে তিনবার হলো বাচ্চা নষ্ট হওয়ার।এই সব এই কুলাঙ্গার মেয়ের দোষ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাকে উদ্দেশ্য করে বাবা বললেন-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি চুপ করবে? এখন এসব কথা না বললেই কি নয়?একে দেখছোই এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে কিসের কি তুমি শান্তনা দিবে তা না করে উল্টো পাল্টা বকে যাচ্ছো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি চুপ থাকো।ওই অপয়া মেয়ের দিকে হয়ে কথা বলবে না একদম।ওই মেয়েকে আমি আর বাড়িতে রাখবে না।আমার ওমন সুন্দর একটা ছেলের জীবন এই মেয়ের পাল্লায় পড়ে নষ্ট হতে দিবো না। আমি তীব্র কে আবার বিয়ে করাবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ইউ ব্লাডি ও-ম্যান,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটি বলেই বাবা মায়ের দিকে তেড়ে গেলো।ভাইয়া তখন বাবাকে থামিয়ে দিয়ে মা কে বললো&amp;nbsp; "মা তুমি প্লিজ এখন চুপ করো।এসব কথা এখন বলার মানে হয় না"। বাইরে সাইরেন বাজার শব্দ হচ্ছে।নন্দিতাকে এম্বুলেন্সে তুলে আমি ভাইয়া আর ভাবী গেলাম সাথে। বেডে আধশোয়া হয়ে আছপ নন্দিতা।তার পাশেই বসে আছি আমি।ও অনবরত কেদেই চলেছে।আমি ওর হাত শক্ত করে ধরে বসে আছি।নন্দিতা আমার দিকে করুন দৃষ্টি নিয়ে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র, আমি তোমায় কখনো বাবর সুখ দিতে পারবো না।তুমি আবার বিয়ে করে নাও প্লিজ।আমার জন্য তোমার কষ্ট আমি মেনে নিতে পারছি না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্লিজ নন্দিতা চুপ করো তুমি। ডাক্তাররা এখনি চলে আসবে।রিপোর্ট আসলে দেখা যাবে আমরা যেমন ভাবছি তেমন কিছুই হয় নি।তুমি মনে সাহস রাখো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিছুই ঠিক হবে না তীব্র। আমি জানি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি জানো তুমি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম গত পরশুদিন&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি স্বপ্ন? আগে তো বলোনি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আগে বলিনি কারন তোমার মন খারাপ হবে এজন্য বলিনি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন বলো,কি দেখে ছিলে স্বপ্নে তুমি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি দেখলাম একটা বাচ্চা মেয়ে আমার চার দিক দৌড়ে বেড়াচ্ছে।&amp;nbsp; মেয়েটার পরনে শাদা ধবধবে একটা ফ্রগ ছিলো।চোখ দুটি নীল।কি সুন্দর চুল। একটা প্রজাপতির পেছন পেছন ছুটে বেড়াচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আর কি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আর মেয়েটা হঠাৎ হঠাৎ আমার দিকে তাকাচ্ছে আর মা,মা বলে ডাকছে।আর আমি প্রত্যেকবার তার মা ডাকে চমকে উঠছি,।তখনই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা থেমে গেলো।হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছে বললো কিছুনা,বাদ দাও।আমি জোর করে বলতে বললাম-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তখনই? তখনই কি নন্দিতা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তখন কোথা থেকে যেনো তুমি এলে।মেয়লটা তোমায় দেখে বলতে লাগলো মা, আমায় বাঁচাও মা,মা ওই লোকটা আমায় নিয়ে যেতে এসেছে মা।প্রত্যেকবার এই লোকটাই আমায় মেরে ফেলে মা।আমার তুমি বাঁচাও।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমায় দেখে মেয়েটা এরকম বললো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তারপর?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি এসে মেয়েটাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছো।আমি শত চেষ্টার পরেও আটকাতে পারছি না।তোমার পা ধরে ওকে ভিক্ষা চাইলাম, তুমি আমায় লাথি মেরে ওই মেয়েটাকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছো।আমি মাটিতে পড়ে কাঁদতে লাগলাম।তুমি তখন মেয়েটাকে নিয়ে যাচ্ছো বর বলছো," আমি থাকতে তোর কোনো সন্তান হতে দিবো না আমি।এবারেও মেরে ফেললাম।বলেই একটা বিকট হাসি দিলে"&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতা এবার বলা শেষ করে আমায় জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না কেনো নন্দিতা এরকম স্বপ্ন দেখলো।আর কেনোই বা আমায় সেখানে এরুপ পাষানের মতো কাজ করতে দেখলো।আমিই কি না প্রত্যেকবার নিজের সন্তানকে মেরে ফেলি?।ভাবনার অবসান ঘটিয়ে ডাক্তার আসলো।তারা নন্দিতাকে নিয়ে গেলো এক্স রে করাতে।নিয়ে যাওয়ার সময় নন্দিতা আমায় দেখে আনেক কাদলো।আমি শুধু তাকে অভয় দিলাম, "সব ঠিক হয়ে যাবে" কথাটা বলে।আমি আর ভাইয়া বাহিরে অপেক্ষা করতে লাগলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মনে মনে ভাবলাম পুরনো সেসব কথা। আমাদের বিবাহের সাত বছর অতিবাহিত হয়েছে।এই নিয়ে তিনবার নন্দিতা সন্তানসম্ভবা হলো।কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রত্যেকবারই কোনো না কোনো ভাবে আমাদের সন্তানটা নষ্ট হয়ে যায়।প্রথমবার সে একটা মৃত শিশু জন্ম দিলো।এরপর জন্মের পর কাছে গিয়ে দোলনায় দেখলাম কোনো সন্তান নেই। আর এখন!!&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এর ব্যাখ্যা আমাদের কাছে আজো নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডাক্তাররা রিপোর্ট দেখতে গিয়ে মনে হলো চরম আতঙ্কে পড়ে গেলেন।তারাও হাতের পিঠ দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে নন্দিতার দিকে ভীতু নজরে তাকালো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এরপর আমায় সাইডে এনে বললেন-&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র,আপনার স্ত্রীর পেটে কোনো সন্তান নেই।কখনো ছিলোও না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র,আপনার স্ত্রীর পেটে কোনো সন্তান নেই।কখনো ছিলোও না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র অনেকটা চমকে উঠলো। এটা কিভাবে সম্ভব? নন্দিতা তো সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।ওরা সবাই এতোদিন এটাই জানতো যে নন্দিতার গর্ভে তীব্রর সন্তান বেড়ে উঠছে।ডাক্তারের কথায় তীব্র ক্ষিপ্র কন্ঠে বলে ওঠে-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনারা এসব কি বলছেন ডাক্তার সাহেব? আমার স্ত্রী গর্ববতী।আর আপনারা কি না বলছেন তার পেটে কোনো সন্তান নেই।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দেখুন মিঃতীব্র আমরা ডাক্তাররা কখনো শুধু কথায় বিশ্বাসী না।আমরা সবসময় রিপোর্টে বিশ্বাসী হই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- রিপোর্টে কি লেখা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনি নিজেই দেখুন।তাহলে নিজেই বুঝতে পারবেন।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটা বলে ডাক্তার সাহেব তার হাতের রিপোর্টটা তীব্রকে দেয়।তীব্র হাতে নিয়ে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো রিপোর্টের পানে।এই জীবনে এতোটা বিষ্ময় হয়তো সে হয়নি।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লাগলো।চোখের চশমাটা হাতে নিয়ে পাঞ্জাবির পকেটের কাছে হাল্কা&amp;nbsp; স্লাইড করে পরিষ্কার করে আবারো চোখে দিয়ে রিপোর্টের দিকে তাকালো। নাহ্,রিপোর্ট সে প্রথমে যেটা দেখেছিলো সেটাই আছে।রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা,প্রেগন্যান্সি কোয়ালিটি নেগেটিভ। তীব্র কপালের ঘাম মুছতে মুছতে মনে মনে ভাবছে,তাহলে এতোদিন ধরে নন্দিতার গর্ভে কি বেড়ে উঠছে? ওর গর্ভে কি আমার সন্তান বেড়ে উঠছে না? সেখানকার একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে সে।হঠাৎ ফোনে রিং বেজে উঠলো।ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ আসলো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা বাবা বলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বউমার কি অবস্থা? আমাদের তো জানালেও না,আমরা কতোটা চিন্তায় আছি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা একটা বিরাট সর্বনাশা কান্ড ঘটে গেছে&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হয়েছে?তোমার গলা এমন শোনাচ্ছে কেন তিব্র? বউমা ঠিক আছে তো? কি হলো চুপ করে আছো কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা,এতোদিন আমরা যা ভেবেছিলাম তা সম্পুর্ন মিথ্যে ছিলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিহ্? কোনটা মিথ্যে ছিলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতার গর্ভে কোনো সন্তান নেই বাবা।ডাক্তাররা আলট্রাসনোগ্রাফি করে দেখেছে ওর পেটে কোনো বাচ্চা নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটা শোনা মাত্র শেখর চৌধুরী থম মেরে কানে ফোন ঊরে দারিয়ে রইলো।তার মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরুচ্ছে না।তার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে মিসেস রামেয়া চৌধুরী বললেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র কি হয়েছে রে?কি বললি তোর বাবাকে?উনি এভাবে ভয় পেয়ে গেলেন কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সেটা বাবার কাছেই শুনে নিও মা।এখন রাখি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টুট টুট শব্দে ফোনটা কেটে দিয়ে মাথায় হাত রেখে বসে রইলো তীব্র।রিপোর্টটা হাতে নিয়ে বসে থাকা ঠিক হবে না।ভাইয়া,ভাবিকে জানা দরকার ঘটনাটা।এক পা দু পা করে সে তার স্ত্রীকে যে রুমে রাখা হয়েছে সেখানে গেলো।গিয়ে দেখলো নন্দিতা একাই শুয়ে আছে।তার ভাবীকে দেখা যাচ্ছে না।তীব্র নন্দিতার কাছে গেলো।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা তোমার কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না,হচ্ছে না (মলিন কন্ঠে বললো)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবী কোথায় নন্দিতা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জানিনা তো,আমি তখন থেকে এখানে একা-একা শুয়ে আছি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি বলছো।ভাবী ছিলো না রুমে?কোথায় গেলো ভাবী?ওয়াসরুমে নেই তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ওখানে নেই।থাকতে তো এতোক্ষন থাকার কথা না&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতা তোমাকে একটা সংবাদ দেওয়ার আছে।আমি নিজেও বিষয়টা মানতে পারছি না এখনো।আদৌ এরকম ঘটনা কখনো ঘটেছে কিনা জানিনা আমি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি হয়েছে তীব্র,আমার সন্দেহ কি ঠিক?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই নন্দিতার চোখের কোনে জল চলে এলো।এই অবস্থায় যদি ওকে বলি যে তোমার গর্ভে কোনো সন্তান আদৌ ছিলো না,তাহলে সে এই ব্যাথা সইতে পারবে না।বরং ওকে পড়ে জানাই বিষয়টা।অনেক মিথ্যে অজিহাত দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে অন্য কথায় ফাঁদে ফেলিয়ে তীব্র এই ভয়ংকর সত্যটা নন্দিতাকে জানালো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখনি কোথা থেকে যেনো ভাবী তোরজোর করে ছুটে এসে আমায় বললো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র ডাক্তার সাহেব তোমায় ডাকছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি কোথায় ছিলে ভাবী?নন্দিতাকে এভাবে একা রেখে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাক্তার এই ঔষধ গুলি আনতে বলেছিলো।তুমি তো কোথায় যেনো ছিলে,তোমার ভাইয়াও নেই।তাই বাধ্য হয়ে আমিই নিয়ে আসলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ও আচ্ছা। তুমি এখানে ওর সাথে থাকো।আমি শুনে আসি ডাক্তার কি বলে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রুম থেকে বেড় হয়ে ডাক্তারের কেবিনে গেলাম।দরজায় কড়া নাড়লাম -&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাক্তার সাহেব আসতে পারি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম আসুন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র ভেতরে ঢুকে চেয়ারটায় বসলো।রুমে ফিনাইলের তীব্র গন্ধ নাকে আসছে।ডাক্তারের দিকে চোখ পড়তেই তীব্র লক্ষ করলো ডাক্তার আলোয় কি যেনো একটা ফেলে গভীর মনোযোগ দিয়ে ইকুয়েশন করছে।তীব্র হাল্কা কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতি বোঝাতে চাউলেও ডাক্তারের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ ই নেই।তিনি বারবার টিস্যু পেপার দিয়ে মুখ মুছছেন। তাকে অনেক চিন্তিত,এবং হতাশ লাগছে।তবে কি ডাক্তার নন্দিতার বিষয়ে কোনো জটিল বিষয়ে কথা বলবে?সেটাই এতো মনোযোগ দিয়ে ইকুয়েশন করছে?। তার চিন্তার অবসান ঘটিয়ে ডাক্তার বললেন-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিঃতীব্র,আপনি তো মিস নন্দিতার হাসবেন্ড তাই না?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জ্বি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমরা তার পেটে একটা অস্বাভাবিক কিছুর উপস্থিতি লক্ষ্য করছি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র একটু ভয় পেয়ে গেলো।বিষন্ন কন্ঠে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিরকম অস্বাভাবিক ডাক্তার সাহেব ?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- গর্ভে শিশু থাকলে যেরকম একটি মাংসপিণ্ড বুঝা যায়,সেরকম একটি বস্তু আপনার স্ত্রীর পেটে রয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র চেয়ার থেকে দারিয়ে চরম উত্তেজনায় ফেটে পড়ে ডাক্তারের দিকে অনেকটা ঝুকে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তাহলে কি ডাক্তার সাহেব নন্দিতার গর্ভে আমার সন্তান আছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমাদেরও তো সেরকমই মনে হচ্ছে। আমাদের জীবনে এটাই প্রথম ঘটনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র ডাক্তারের সাথে কথা বলছে এমন সময় হঠাৎ ভাবী এসে তীব্রকে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র,মা বিষ খেয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মা বিষ খেয়েছে মানে?কি বলছো তুমি ভাবী?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা, সত্যিই মা বিষ খেয়েছে। বাবা এখনি ফোন করে বললো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মা এখন কোথায়?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা বললো এখানে নিয়ে আসছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবী আমি আর পারছি না।এইদিকে এই চিন্তা আবার ওদিকে মা এরকম একটা কাজ করে বসলো।আমি পাগল হয়ে যাবো ভাবী,আমি পাগল হয়ে যাবো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি চিন্তা করোনা।সব ঠিক হয়ে যাবে।আমি দেখি ওরা এখন কোথায়।তুমি ডাক্তারের সাথে কথা বলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- চলো আমিও যাবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডাক্তারের রুম থেকে বেড় হতেই ডাক্তার বললো,"মিঃতীব্র, আপনার স্ত্রীকে অপারেশন করাতে হবে খুব শীঘ্রই। সেটার বিষয়ে বলে যান"। তীব্র মাথা ঘুরিয়ে শুধু বললো " যদি অপারেশন করা লাগে তাহলে করুন।আমার স্ত্রীর যেনো কোনো ক্ষতি না হয়।আর হ্যা,আমি আসার পর তবেই করবেন"।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো।বেড় হতেই তীব্রর বাবা শেখর চৌধুরীর সাথে মুখোমুখি দেখা।তীব্র মূহুর্তেই বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা, মা কোথায়?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এতো অস্থির হওয়ার কিছু নেই তীব্র। তোমার মা'কে ওটিতে নিয়ে গেছে।তেমন বিষক্রিয়া ছড়াতে পারেনি।ওই মহিলা কি খেয়েছে শুনতে চাও?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি খেয়েছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- গত পরশুদিন আমি যে আরশোলা মারার বিষ এনেছিলাম সেটা খেয়েছে।একটু মুখে ঢেলে দিতেই আমি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই।তারপর এখানে নিয়ে আসলাম।গাধা মহিলা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবি- কিন্তু মা বিষ কেন খেতে গেলো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাবা-কেন আবার।আমার বিপক্ষে চলতে হবে না? আমি ভাবলাম পরিবারে অশুভ ছায়া নেমে এসছে।একটা পূর্ণ্যর কাজ করা দরকার।অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রাইমারি স্কুলের পাশে যে পুকুরটা আছে,ওটা ভরাট করে ওখানে একটা বৃদ্ধাশ্রম তুলে দিবো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবি- এজন্যই বিষ খেলো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাবা- হ্যা।গাধা মহিলা বলে কিনা কোনো বৃদ্ধাশ্রম হবে না।এভাবে দু,এক কথা হতে হতে সে বিষ খেয়ে নিলো।এসব বাদ দাও।বৌ'মার কি খবর তীব্র?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা ডাক্তার বলেছে ওর অপারেশন করাতে হবে যত তারাতাড়ি সম্ভব। সেই বিষয়েই কথা বলছিলাম তখন ভাবী এসে বললো মা বিষ খেয়েছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এখন যাও ডাক্তারের সাথে কথা বলো তুমি।আমি এদিকে আছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র কিছুটা চিন্তামুক্ত হয়ে পুনরায় ডাক্তারের ঘরে গেলো।দরজায় কড়া নাড়তেই ডাক্তার সাহেব একটা বইয়ে চোখ রেখেই বললো " ইয়েস কাম "&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাক্তার সাহেব,অপারেশনটা কি এখনি করাবেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম,যত সময় যাবে ব্যাপারটা তত জটিল হবে।বাই দ্যা ওয়ে।আপনার স্ত্রীর রিপোর্টটা এসে গেছে।ওনার পেটে&amp;nbsp; টিউমার হয়েছে।তাও একটা না,দু দুইটা।রীতিমতো সেগুলা অনেক বৃহদাকার ধারন করেছে।এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র ডাক্তারের কথা শুনে তীব্র চমকে উঠলো। নন্দিতার পেটের টিউমারকে এতোদিন নিজের সন্তান ভেবে রেখেছিলো সে।অজান্তেই চোখের কোন বেয়ে অশ্রু গাল বেয়ে মাটিতে পড়লো।হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছে করুন স্বরে বললো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নন্দিতার পেটে দু,দুটো টিউমার?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হায় রে ভাগ্যর পরিহাস।আমরা ভেবে বসলাম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমার একটা কথা বিশ্বাস হচ্ছে না মিঃতীব্র।এতে বড় ভুল আপনারা করলেন কিভাবে? সন্তান গর্ভে ধারনের ব্যাপারটা আর টিউমার ধারনের ব্যাপারটা তো একই না।এই পার্থক্যটুকু কি মিস নন্দিতা বুঝতে পারেনি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি জানিনা ডাক্তার সাহেব।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সেসব বাদ দিন।হিউম্যান নিউরন অনেক পাওয়ারফুল একটা জিনিস বুঝলেন। আপনি যদি দৃঢ় ভাবে ভেবে বসে থাকেন যে আপনার ডান হাত অবশ হয়ে আছে।তাহলে দেখবেন আপনি সত্যিই হাত নাড়াতে পারছেন না।আমার মতে মিস নন্দিতার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।মানষিক ভাবে তিনি দূর্বলচিত্তের।চা খাবেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না, চা খাবো না।আপনারা তাহলে অপারেশনের ব্যাবস্থ করুন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাক্তার, আমার স্ত্রীর কি কোনো সমস্যা হবে? আই মিন সে সুস্থ হবে তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হ্যা,আমরা আশাবাদী। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি তাহলে আসি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-হ্যা আসুন।আর কাউন্টারে পঞ্চাশ&amp;nbsp; হাজার টাকা জমা করুন।আমরা ব্যাবস্থা করছি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- জ্বি আচ্ছা&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো তীব্র।নন্দিতার কাছে যেতেই দেখলো সেখানে বাবা,ভাইয়া,ভাবী সবাই। ওদের দেখে নিজের মনে কিছুটা সস্তির আভাস ফুটে উঠলো।মৃদু স্বরে সবার উদ্দেশ্য বললো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা,ভাইয়া,ভাবী তোমরা একটু বাইরে যাবে প্লিজ?আমার কিছু কথা ছিলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবী- হ্যা বলো বলো।আমরা বাইরেই আছি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সবাই বাইরে গেলে তীব্র নন্দিতার কাছে বসলো।পর কপালে হাত বুলিয়ে দিলো।কপালে একটা ভালোবাসার ছোঁয়া একে দিয়ে কাছাকাছি বসলো।নন্দিতা তীব্রর গালে আলতো ভাবে হাত রেখে করুন স্বরে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুমি খেয়েছো? সকাল থেকে কিছুই খাওনি তাই না? এভাবে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি সুস্থই আছি নন্দিতা।শুধু তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো প্লিজ&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলেই নন্দিতাকে জরিয়ে ধরে কান্না করছে তীব্র। তার ধৈর্য্যর বাধ ভেঙ্গে গেছে।নন্দিতা ওর চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এই পাগল,কি হয়েছে? কাঁদছো কেনো?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোমাকে অনেক ভালোবাসি গো,তোমার কিছু হলে আমি সহ্য করতে পারবো না।মরে যাবো আমি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর এরুপ আচরনে নন্দিতার চোখে জল চলে এলো।সে মৃদু স্বরে তীব্রর কানে কানে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- একবার যখন হাত ধরেছি,তখন মরনের আগ পর্যন্ত ছাড়বো না।তুমি শুধু এভাবেই আমায় ভালোবেসো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখন বাজে দুপুর বারোটা।নন্দিতাকে অপারেশন করানোর জন্য ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তীব্র এক মূহুর্ত স্থির নেই।এখানে,ওখানে পায়চারি করছে আর বিড়বিড় করে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছে।শেখর চৌধুরী বসে আছে চিন্তিত গম্ভীর মুখ নিয়ে।তিনি গালে হাত রেখেই তীব্রকে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তোমার ভাই,ভাবী কোথায় তীব্র? দেখতে পাচ্ছি না যে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা ওরা বাসায় গেছে।মাঝরাত থেকে ভাবীর ঘুম হয়নি। মাথা ধরেছে।তাই ভাইয়াকে বলে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ও আচ্ছা। তুমি খেয়েছো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- মিথ্যে বলো কেন,যাও কিছু খেয়ে এসো নিচ থেকে।আমি আছি এখানে,কিছু প্রয়োজন হলে তোমায় ডেকে নিবো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-আমি থাকি না বাবা। খাওয়ার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে নেই।নন্দিতার ভালোয় ভালোয় অপারেশনটা হলেই হয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেলের এই ভালোবাসায় শেখর চৌধুরী মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলেন।মনে মনে ভাবলেন,ছেলেটা দায়িত্ব নিতে শিখে গেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;__________&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডাক্তার সিহাব অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন শুরু করে দিয়েছে।তার একটা আলাদা ফোন থাকে সাথে সবসময়। খুবই প্রয়োজন না হলে সেই ফোনে ফোন দেয় না কেউ।এই নাম্বারটাও সবার কাছে নেই।তার খুব কাছের পরিচিত এবং হসপিটালের কিছু স্টাফের কাছে নাম্বারটা দেওয়া আছে।বারবার করে বারন করা আছে,সেই নাম্বারে ফোন দেওয়ার কারনটা হবে মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ।কেননা সেই নাম্বারে ফোন দিলে ডাঃ সিহাবকে ধরতেই হবে। সেই মিনি ফোনটা পকেটে বাজতে থাকলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডাঃসিহাব সাইডে এসে রিসিভ করতেই একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কেমন আছেন ডাঃসিহাব?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কুশল বিনিময় না করে কাজের কথা বলুন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনি এখন আমার হাতের পুতুল ডাঃ সিহাব।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- রসিকতা করছেন?ফোন রাখুন।আমি এখন থিয়েটারে আছি।রসিকতার জন্য পরে দেখে নিবো আপনাকে।রাবিশ ওম্যান&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বলে ফোনটা কেটে দিয়ে পকেটে রাখতেই টুং করে একটা মেসেজের আওয়াজ আসলো।ওপেন করতেই দেখলো একটা ভিডিও। ভিডিওটা ওপেন করতেই ডাঃ সিহাব চমকে উঠলেন।সারা শরীর ঘামতে শুরু করে।যে নাম্বারে ফোন এসেছিলো সেই নাম্বারে ডাঃসিহাব ফোন করলো।ওপাশ থেকে ধরতেই অট্টহাসির আওয়াজ ভেসে এলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি মিঃসিহাব।ভয় পেয়ে গেলেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি চান আপনি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তেমন কিছুই না।এখন যে অপারেশনটা করছেন সেখানে হাল্কা একটা কাজ করতে হবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি কাজ&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আর কোনোদিন ও যেন নন্দিতা মা হতে না পারে,সেই ব্যাবস্থা করবেন আপনি&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিহ? কি বলছেন এসব?একজন ডাক্তার হয়ে এসব আমি কখনোই করবো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- না করলে আমি কি করতে পারি,দেখাবো সেটা?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- নাহ্ প্লিজ,আমার মেয়েকে কিছু করবেন না।আমি করবো,যা বলবেন তাই করবে আমার মেয়েকে ছেড়ে দিন প্লিজ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনারা যা বলবেন আমি তাই করবো,আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি করবেন না প্লিজ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- গুড।এমন ব্যাবস্থা করবেন যেনো নন্দিতা আর কখনোই মা হতে না পারে।আর যদি এর বেতিক্রম করেছেন তো নিজের মেয়ের মুখের বাবা ডাক শুনতে পারবেন না। গট ইট।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি করবো।যা বলবেন তাই করবো।আপনারা আগে আমার মেয়েকে ছেড়ে দিন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হা হা হা,যা বলেছি সেটা করবি,তা না করে তোর মুখে এতো কথা ফুটছে কেন?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখনই ডাঃসিহাব ফোনের অপর পাশ থেকে চিৎকারের আওয়াজ পায়।এটা যে তার আদুরে মেয়ের গলা সেটা বুঝায় অভিপ্রায় রইলো না।ডাঃসিহাব আকুতি-মিনতি করতে লাগলো-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- প্লিজ এরকম করবেন না।আমি আর কিছু বলবো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- গুড।কাজ শেষে তোর মেয়ে ঠিকি বাড়িতে পৌঁছে যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;টুট টুট শব্দ করে ফোনটা কেটে গেলো।ডাঃসিহাবের সারা শরীর কাঁপতে লাগলো। এটা কিভাবে করবে সে? এর মতো বড় পাপ যে আর হয় না।কিন্তু নিজের মেয়েকে বাঁচাতে এটা তাকে করতেই হবে।একরাশ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে অপারেশনটা শেষ করলো।নিজেই নিজেকে ধিক্কার জানালো।আজ তার জন্য একটা মেয়ে মা ডাক শুনতে পারলো না,একটা ছেলে বাবা হতে পারলো না,বাবা ডাক শুনতে পারলো না।বাবা,মা ডাক শুনার মতো এতো সুন্দর অনুভূতি সে নিজের হাতে কেটে ফেললো।এই পাপ কিভাবে খেয়া করবে? এর শাস্তি যে তাকে পেতেই হবে।শুধু অপেক্ষা।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অপারেশন শেষে নন্দিতার মায়াবী মুখখানা দেখে ডাঃসিহাব নিজেকে আর ক্ষমা করতে পারলো না।অজ্ঞানরত নন্দিতার পা ছুঁয়ে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি অন্যায় করেছি আপনার সাথে।মাতৃসত্তাকে আমি শেষ করে দিয়েছি।একটা মেয়ের জীবনে সব থেকে বড় পাওয়া হলো সন্তানের মুখে মা ডাক শুনা।আমি সেই পথ আজ নিজ হাতে বন্ধ করে দিয়েছি।আমার কোনো ক্ষমা নেই।আমার কোনো ক্ষমা নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কয়েক ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে নন্দিতার পায়ের ওপর পড়লো।ডাঃসিহাব স্বাভাবিক হয়ে&amp;nbsp; অ্যাফ্রোন দিয়ে বেড় হতেই দেখলো তীব্র দরজার সামনে দারিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে দারিয়ে আছে।তাকে দেখতে পেয়েই তীব্র বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাঃ আমার স্ত্রী কেমন আছে?ও ঠিক আছে তো?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আপনি চিন্তা করবেন না মিঃতীব্র। উনি একদম ঠিক আছে।এখন ঘুমাচ্ছে।ওনাকে এখন ডিস্টার্ব না করলেই ভালো হয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাঃ আমি কি দেখতে পারি? আমি কোনো কথা বলবো না শুধু দেখবো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- হুম।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নন্দিতাকে দেখার অনুমতি পেয়ে যেনো তীব্রর ভেতর খুশির বাঁধ ভেঙ্গেছে। সে এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে ওটির ভেতরে গেলো।দূর থেকেই নন্দিতাকে দেখে চোখের জল বিসর্জন দিয়ে বাহিরে বেড় হয়ে আসে।বেড় হয়ে দেখে সামনের ওয়েটিং চেয়ার গুলিতে ভাবী বসে আছে। তীব্রকে দেখে সে বললো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তীব্র, মা এখন সুস্থ।ডাক্তার রিলিজ করে দিয়েছে।দ্রুত ডাক্তারের কাছে আনায় তেমন বিষক্রিয়া ছড়াতে পারেনি। বাবা,মা নিচে আছে।তুমি ওনাদের নিয়ে বাড়িতে যাও,বাড়িতে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।সারারাত ঘুমাও নি।তোমার ঘুম দরকার&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আমি যাবো না ভাবী।নন্দিতা জেগে উঠলে আমায় না পেলে মন খারাপ করবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ডাক্তার বলেছে ১২ ঘন্টার আগে ওর ঘুম ভাঙ্গবে না।এতক্ষণ করবা কি? বরং তুমি যাও,আমি আছি এখানে।আসার সময় রহিমের মা কে বলে স্যুপ নিয়ে আসিও।নন্দিতাকে এখন বাইরের খাবার খাওয়ানো যাবে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবী, তোমাকে কি বলে যে কৃতজ্ঞতা জানাবো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এইই,আমি কি বাইরের কেউ নাকি হ্যা? এখন যাও তো।তেমাকে দেখে আমার হিংসা হয়,নন্দিতাকে কত্ত ভালোবাসো।আর আমারটাকে দেখো, সারাদিন ওয়েব সিরিজ,নাটকের শুটিং করতেই যায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আচ্ছা ভাবী আমি আসি থাহলে।তুমি খেয়াল রেখো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র নিচে আসতেই দেখলো তার বাবা শেখর চৌধুরী,মা রামেয়া চৌধুরী দারিয়ে আছে।তীব্র দৌড়ে গিয়ে তার মাকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।আর অভিমানী সুরে বলে " তুমি এমনটা কেন করলে মা,আমার কথা মনে পড়লো না? তোমাদের কিছু হলে আমি যে সহ্য করতে পারিনা"। ছেলের এরুপ মায়াবী ভালোবাসার সুর শুনে রামেয়া চৌধুরীর চোখে জল চলে এলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বাড়িতে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে তীব্র নাশতার জন্য নিচে আসলো।সকাল থেকে কিছুই পেটে যায়নি তীব্রর।সে নিচে এসে ডাইনিং টেবিল থেকে একটা আপেলে কামড় দিয়ে খাবার আনতে বললো।শেখর চৌধুরী খবরের কাগজ হাতে নিয়ে তীব্রর সাথেই টেয়ায়টায় বসলেন।খবরের কাগজ টেবিলে ঠাস করে রেখে তীব্রকে বলতে লাগলো&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- দেশটার কি হচ্ছে দিন দিন? ছেলে-মেয়েরা নিজেদের বাবা-মাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে? তাহলে এই শিক্ষা দিয়ে করবেটা কি? যদি বৃদ্ধ বাবা মায়ের যায়গা না দিতে পারে,তেমন ছেলের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।পাষাণ হয়ে গেছে সবাই&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা,তুমি এসব নিয়ে খেবে কিছু করতে পারবে?শুধু শুধু মাথা গরম করছো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- করবো,আমাকে কিছু একটা করতেই হবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কি করবে শুনি?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- শোন তীব্র,আমাদের পুকুরটা ভরাট করে সেখানে বৃদ্ধাশ্রম করে দিতে কেমন হয়? কত অসহায় বাপ-মায়ের যায়গা হবে সেখানে ভাবো একবার?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- বাবা, তোমায় নিয়ে আমার গর্ব হয়।তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।মানুষের জন্য এতোকিছু করেও তোমার শান্তি নেই।এই বয়সেও তুমি অন্যর কথা ভাবছো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ভাবতে হয় রে বাপ।সৃষ্টিকর্তা দিয়েছে, সেগুলো ভালো কাজে না লাগালে তাকে যে অপমান করা হবে&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আচ্ছা বাবা মা কোথায়,? এসব শুনে আবার বিষ খেয়ে বসলে কি করবে? হাহাহহা&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- গাধা মহিলাকে জানাবো না।কথাটা আমাদের মধ্যে থাকবে,ওকে? ( ডান হাতটা তীব্রর দিকে এগিয়ে দিয়ে)&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ওকে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- আরেকটা কাজ করো ঝটপট।ওই গাধা মহিলা আসার আগেই। তোমার বড় ভাইয়ার রুম থেকে লকারে রাখা দলিলটা নিয়ে আসো,দেখি ওখানে কতটুকু যায়গা আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ঘরে তো কেউ নেই।ভাবী হসপিটালে।ভাইয়া নতুন নাটকের শুটিং করতে ব্যাস্ত।না বলে যাওয়াটা কেমন দেখায় না বাবা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- ধুর,বড় ভাইয়ের ঘরে যাবে,সেখাবে এতো ভাবার কি আছে, যাও নিয়ে এসো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্র তার ভাইয়ার ঘরের দিকে গেলো।দরজা লক করা নেই।দরজাটা সামান্য আটকে রাখা।দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে লকারটা খুললো।এই লকারের একটা পিন আছে।যেটা শুধু শেখড় চৌধুরী, তীব্র আর তার ভাইয়া জানে।আর কেউ জানেনা। লকারটা খুলতেই সেখানে অনেক কাগজের মধ্যে সেই পুকুরের দলিলটা খুজতে বেশ সময় লেগে গেলো।অবশেষে খোঁজা খুজি শেষে দলিলটা পাওয়া গেলো।দলিলটা হাতে নিয়েই দলিলের ভাজ থেকে একটা পেনড্রাইভ ফ্লোরে পড়ে গেলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আরেহ? লকারের মধ্যে এই পেনড্রাইভটা কেন? এটাতো ভাইয়ার কম্পিউটারের সাথে থাকে সবসময়। এখানে তার করা শুটিং এর ভিডিওগুলি রেখে দেয়।এটা এখানে থাকার কথা নয় তো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তীব্রর মনে একটু খটকা লাগলো।পেনড্রাইভে কি আছে সেটা দেখার প্রবল ইচ্ছে জাগলো।আবার অন্যর জিনিস দেখা কেমন এটা ভেবেও পিছুপা হচ্ছে। কিন্তু না মনকে মানাতে এর ভেতরে এমন কি আছে সেটা দেখতেই হবে।নিশ্চয়ই কিছু একটা আছে,নইলে লকারে রাখার তো কারন নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দলিলগুলি বিছানায় রেখে তীব্র ওর ভাইয়ার কম্পিউটার ওপেন করলো।কম্পিউটারে কোনো পাসওয়ার্ড দেওয়া নেই।পাসওয়ার্ড না দেওয়ার কারন হলো ভাইয়া পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারেনা।যাইহোক,পিসিতে পেনড্রাইভটা ঢুকিয়ে ভেতরে থাকা ফাইলে যেতেই তীব্র একটা ভিডিও পায়।পেনড্রাইভে শুধু একটা ভিডিও দেখে তীব্রর খটকাটা বেড়ে যায়।ভিডিওটা ওপেন করতেই যা দেখতে পেলো সেটা দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না।চোখ বড় বড় করে মনিটরের দিকে চেয়ে রইলো। ভাইয়ার পেনড্রাইভে এই ভিডিও কিভাবে??&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চলবে...&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;Writer:- জয়ন্ত কুমার জয়&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/5288442261688713528/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_10.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5288442261688713528" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5288442261688713528" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post_10.html" rel="alternate" title="চন্দ্ররাতের মায়া পর্ব ১, ৪" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhLvX9QafE-7vqNhyRB3xQSw7E42PALrvWbLbinUPTEl70XQZcQiljSrH8kkc8rj4HJLJI5Rco9m88iPxzHTaEYscBJRsAji-NiOU9uLbBf2Jg65ucFu-M51dmcZyVE2aETKeofds5gx6w/s72-c/1688974730240668-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-6467752241523203264</id><published>2023-07-10T00:25:00.001-07:00</published><updated>2023-07-10T00:25:19.353-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Golpo"/><title type="text">হেরে যাওয়া মানুষ</title><content type="html">&lt;div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhlKJLmwkfZNxurp8xFazdfeuTWUs-wexU0LoLZCjNCtu2ehDdCf7-p4dFeAtkFBXaRjuEOTC82AD2PFyua4jApwfq46Yegb1UuA5vTE1PuWSKVUBUCYnZTjhxrDqIM8GcpkmQoBFOnZ-E/s1600/1688973913849551-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhlKJLmwkfZNxurp8xFazdfeuTWUs-wexU0LoLZCjNCtu2ehDdCf7-p4dFeAtkFBXaRjuEOTC82AD2PFyua4jApwfq46Yegb1UuA5vTE1PuWSKVUBUCYnZTjhxrDqIM8GcpkmQoBFOnZ-E/s1600/1688973913849551-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;“যে শহরে ১০০টাকায় নারীদেহ পাওয়া যায় সেই শহরে নারীর জন্য কান্না করতে যাবো কেন?”&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেলেটার কথা শুনে একটু অবাক হলাম। ল্যাম্পপোস্টের হলুদ সোডিয়ামের আলোতে খেয়াল করলাম ছেলেটা চোখের জল আটকানোর বারবার বৃথা চেষ্টা করছে। অর্ধখাওয়া সিগারেটটা ছেলেটার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- টানার অভ্যাস আছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেলেটা আমার হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে নিকোটিনের ধোঁয়া আকাশে ছাড়তে ছাড়তে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- “মালিহার সাথে আমার ৩ বছরের প্রেম।&amp;nbsp; অথচ ১৫ দিনের পরিচয়ে সে অন্য একটা ছেলের সাথে রাত কাটালো। আচ্ছা সে যখন অন্য একটা ছেলের সামনে ন*গ্ন হচ্ছিলো তখন কি একবারও আমার কথা মনে হয় নি? মনে হয় নি সেই সব দিনের কথা? যাকে এক পলক দেখার জন্য সারাদিন ওর বাসার সামনের কদম গাছে বানরের মতো ঝুলে থাকতাম। এলাকার মানুষজন তো আমার নামও দিয়েছিলো “কদম গাছের বান্দর”। ছেলেটা যখন ওর উন্মুক্ত বুকে নাক ঘষছিলো তখন তার একবারও মনে হয় নি আমার কথা? তার থেকে দূরে থাকতে হবে বলে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও ভর্তি হই নি।&amp;nbsp; &amp;nbsp;ছেলেটা যখন লালসার চিহ্ন ওর সারা গায়ে একে দিচ্ছিলো তখন কি তার একবারও মনে হয় নি আমার কথা? আমার চুম্বন তো শুধু ওর কপালেই আটকে ছিলো। কখনো তো কপাল থেকে ঠোঁট অব্দি পৌছায় নি। তাহলে কি এটাই আমার ভুল ছিলো?”&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেলেটার প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারি নি। শুধু যাওয়ার সময় সিগারেটের প্যাকেটটা ছেলেটার হাতে দিয়ে বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-যদি পারো কষ্টগুলো নিকোটিনের ধোঁয়ার সাথে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করো। যদি কষ্ট উড়াতে পারো তাহলে হয়তো বেঁচে যেতে পারো…&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাত কয়টা বাজে জানি না। বাসা থেকে বের হবার সময় ঘড়ি, ফোন কোনটাই সাথে আনি নি। দিন হলে হয়তো সূর্য দেখে বলে দেওয়া যেতো কয়টা বাজতে পারে । চাঁদ দেখে বলা সম্ভব না। পিছনে যে ছেলেটাকে ফেলে এসেছি সে হয়তো আজ সারারাত সিগারেটের সাথে নিজেও পুড়বে। বারবার চোখের জল মুছবে আর নিজেই নিজেকে বুঝাবে, “যে শহরে ১০০টাকা দিয়ে নারীদেহ পাওয়া যায় সেই শহরে নারীর জন্য কাদবো কেন?”&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একসময় হয়তো নিজের কাছে নিজেই হেরে যাবে…&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছি একটা কুকুর আমার পিছন পিছন হাটছে। আমি কুকুরটাকে জিজ্ঞেস করলাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- কিরে, তুই কি কোন কুত্তীর মায়ায় আটকেছিলি?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কুকুরটা আমার দিকে তাকিয়ে কয়েকবার ঘেউঘেউ করলো। আর অর্থ হলো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;“ কারো মায়াতে আটকানোর সময় নাই। ভাদ্র মাসে সবাই সমান”&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কুকুরটা ঠিকিই বলেছে। এই শহরে এখন ভাদ্রমাস চলছে। কেউ বা ৩ বছরের প্রেম ভুলে অন্যের সামনে কাপড় খুলছে আর কেউ বা—---&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘেউ ঘেউ ( যার অর্থ, তুই কি কারো মায়াতে আটকেছিস?”)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই প্রশ্নের কোন উত্তর দেই নি। হাঁটতে হাঁটতে&amp;nbsp; ব্রীজের উপর এসে যখন দাঁড়ালাম তখন খেয়াল করি&amp;nbsp; এক তরুণী&amp;nbsp; ব্রীজের রেলিংয়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আমি পিছন থেকে মেয়েটাকে বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-ঝাঁপ দিয়ে লাভ নেই। মরবেন না। নদীতে এখন হাটু পানি।&amp;nbsp; উল্টো কাঁদায় মাখামাখি হবেন&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&amp;nbsp;মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মনমরা ভাবে হেসে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- “ যার সর্বাঙ্গে কাঁদা লেগে আছে তার শরীরে নতুন করে আর কি কাঁদা লাগবে?”&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মরে যাবেন সেহেতু একটু সময় নিয়ে মরুন। দেখা গেলো মরার জন্য ঝাঁপ দিলেন অথচ মরলেন না। উল্টো নদীর দূষিত পানি খেয়ে পেট খারাপ হয়ে গেলো।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা নিচু করে বললো,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- “এই সময়টা যে আমার হাতে নেই। ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে নিজের শরীরটা বিলিয়ে দিলাম। যখন বুঝতে পারলাম আমার শরীরের মাঝে অন্য একটা শরীরের অস্তিত্ব প্রকাশ পাচ্ছে তখন ভালোবাসার মানুষের হাতে পায়ে ধরে বললাম, চলো বিয়েটা করে ফেলি। সে বিয়ে করে নি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য। বরং আমাকে বাধ্য করেছে এমন একজনকে খু*ন করতে যার এখনো জন্মই হয় নি। ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে এটাও করলাম। কিন্তু যার জন্য এতো পাপ করলাম তাকে পেলাম না। সরকারী বড় পোস্টে জব পেয়ে যাবার পর মানুষটা আমায় বলে দিলো তার সাথে নাকি আমাকে মানায় না। আজ অন্য একটা মানুষকে&amp;nbsp; বিয়ে করে নিলো। অন্য একটা নারীর চোখের দিকে যখন সে তাকাবে তখন কি আমার কথা ওর একবারও মনে পড়বে না? ও কি ভুলে যাবে ওর যখন শূন্য পকেট ছিলো তখন আমি কোনদিন ৩ বেলা খাবার খাই নি। একবেলা খেয়ে বাকি দুইবেলার খাবারের টাকা ওর হাতে তুলে দিয়েছি। ঐ নারীর হাতটা যখন স্পর্শ করবে তখন কি ওর একবারও মনে পড়বে না আমার কথা? যে আমি ২০ টাকা বাস ভাড়া বাচানোর জন্য&amp;nbsp; রোদে পুড়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করেছি।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;অন্য মেয়ের শাড়ির আঁচলটা যখন ও সরাবে তখন ও কি ভুলে যাবে আমি রঙ জ্বলে যাওয়া সালোয়ার কামিজ পড়তাম শুধু ওর পরিহিত জামাটা যেন চকচক করে?”&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি মেয়েটার প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারি নি। শুধু যাবার আগে এটাই বললাম,&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- সাঁতার না জানলে হাটু পানিতেও মৃত্যু হতে পারে। যদি সাঁতার জানেন তাহলে বেঁচে যেতে পারেন…&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কুকুরটা এখনো আমার পিছন পিছন হাটছে।&amp;nbsp; আমি কুকুরটা বললাম,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই জানিস ছেলেটা সিগারেটের প্যাকেটটা শেষ করে নিজের দেহ থেকে নিজেকে বিসর্জন দিবে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করলো যার অর্থ হলো ( চলে যাওয়ার জন্যই আমরা জন্মেছি। আমাদের চলে যেতেই হবে)&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- তুই এটা জানিস,&amp;nbsp; মেয়েটা সাঁতার জানার পরেও মেয়েটা মারা যাবে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কুকুরটা আবারও ঘেউঘেউ করলো, যার অর্থ হলো ( বেঁচে থাকার ইচ্ছে শক্তি ফুরিয়ে গেছে বলেই মেয়েটার মৃত্যু হবে)&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-তুই এটা জানিস, কিছুক্ষণ পর চলন্ত একটা গাড়ি আমার এই দেহটাকে থেতলে দিয়ে চলে যাবে? কুকুরটা এইবার নিশ্চুপ হয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। এইবার মনে হলো কুকুরটা সত্যি সত্যি আমায় কিছু বলতে চাইছে কিন্তু কথা বলার ক্ষমতা নাই দেখে সে বলতে পারছে না। যদি তার কথা বলার ক্ষমতা থাকতো তাহলে সে বলতো, “কেন নিজেকে নিজে শেষ করে দিতে চাইছিস।”&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার উত্তর হতো তখন,&lt;/div&gt;&lt;div&gt;- এক জোড়া সোনার বালার কাছে ১ ডজন কাঁচের চুড়ির মূল্য নিতান্তই কম। আচ্ছা আমার স্ত্রী যখন অন্য একটা পর পুরুষের খোলা পিঠে নখের আঁচড় কাটছিলো তখন কি তার একবারও আমার কথা মনে হয় নি? সে কি ভুলে গিয়েছিলো সেইসব দিনের কথা? প্রতিদিন বাসায় ফেরার সময় তার জন্য বুক পকেটে করে বেলীফুলের মালা আনা। শাড়ির কুচি গুলো ঠিক করে তার বাঁকা টিপটা সোজা করে দেওয়ার কথা কিংবা মাঝরাতে দুইজনের ঝুম বৃষ্টিতে ভিজা?&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ঝপসা চোখে তাকিয়ে দেখি র*ক্তে ভিজে আছে কাচের চুড়ি গুলো। কুকুরটা সমানে ঘেউঘেউ করছে। হয়তো সে বলতে চেষ্টা করছে, “ কেন এমনটা করলি? মানুষতো এর চেয়েও বেশি কষ্ট নিয়ে বাঁচে।”&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার নিথর দেহটা রাস্তায় পড়ে রইলো। কুকুরটা আমার পাশে বসে ঘেউ ঘেউ&amp;nbsp; করতে লাগলো যার অর্থ হলো, ( আমি অভিশাপ দিলাম এই শহরের সেই সব প্রেমিক-প্রেমিকার মৃত্যু হোক, যারা শুধু একজনকেই নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে ঠকেছিলো)।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;Writer:- আবুল বাশার পিয়াস&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/6467752241523203264/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/6467752241523203264" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/6467752241523203264" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2023/07/blog-post.html" rel="alternate" title="হেরে যাওয়া মানুষ" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhlKJLmwkfZNxurp8xFazdfeuTWUs-wexU0LoLZCjNCtu2ehDdCf7-p4dFeAtkFBXaRjuEOTC82AD2PFyua4jApwfq46Yegb1UuA5vTE1PuWSKVUBUCYnZTjhxrDqIM8GcpkmQoBFOnZ-E/s72-c/1688973913849551-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-3216425248735946846</id><published>2022-11-05T02:59:00.001-07:00</published><updated>2022-11-05T02:59:25.933-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Mysterying Story"/><title type="text">বিড়াল | Mystery Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjpB1R6kS6MAYHTR9Re3XXEc3JDUcS53cbGGwzR3p1m3TeGqBsxliwjtkmffT4Qpw5_dU5YzaPwn4-hoL7cnyRJlXm3--Az81YzzeOsd7ijP4QKZH-ZG3_oMo6aP_4hjQ9fthi2Qg3upyB-d155eE0K_Q3dQDbp0upcY-BQ2c6-_rf8KP8tT6MOOEs_/s1920/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1280" data-original-width="1920" height="213" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjpB1R6kS6MAYHTR9Re3XXEc3JDUcS53cbGGwzR3p1m3TeGqBsxliwjtkmffT4Qpw5_dU5YzaPwn4-hoL7cnyRJlXm3--Az81YzzeOsd7ijP4QKZH-ZG3_oMo6aP_4hjQ9fthi2Qg3upyB-d155eE0K_Q3dQDbp0upcY-BQ2c6-_rf8KP8tT6MOOEs_/s320/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;আমি বিড়াল খুব অপছন্দ করি। ছোট্ট তুলতুলে শরীর, সাদা-কালো কিংবা খোয়রি লোম, ছোট্ট ছোট্ট পা আমাকে অসহ্য করে তোলে। বিশেষ করে কালো বিড়াল। এই বস্তুটির নাম শুনলেও মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠে। কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় যদি কালো বিড়াল দেখি, আমি বাসায় ফিরে যাই। না, এমন নয় যে আমার জন্ম থেকেই বিড়ালের প্রতি ঘৃনা ছিলো। আমি বিড়াল ভালবাসতাম। খুব ভালবাসতাম এই প্রাণীটি কে। কিন্তু এক বিভৎস ঘটনা আমার এই ভালোবাসাকে ঘৃণায় পরিবর্তন করে। ঘটনাটা আপনাদের বলি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তখন আমি ক্লাস ফোরে পরি। বাবা মা আর আমি একটা পুরনো বাড়ির তিনতলায় ভাড়া থাকতাম। দোতলায় থাকতেন বিধবা বাড়িওয়ালী। বয়স ষাটোর্ধ্ব হবে। বেশ মিশুক মহিলা। মা আর আমি প্রায়ই উনার ফ্ল্যাটে দেখা করতে যেতাম। বেশ সুন্দর ছিমছাম করে সাজানো মহিলার ফ্ল্যাট। মা আর উনি যখন গল্প করতো আমি তখন দেওয়ালে ঝোলানো ছবি, শোকেসে সাজানো আকর্ষণীয় নানান জিনিস পত্র অনেক মনোযোগ নিয়ে দেখতাম। আরেকটি জিনিস আমার নজর কাড়লো এই ফ্ল্যাটে আসার দ্বিতীয় দিন। লিভিং রুমের পাশের ঘরে অন্ধকারে কি যেনো জল জল করছে। সবুজ দুটো চোখ। আমি এগিয়ে গেলাম। প্রাণীটিও এগিয়ে আসলো। একটি কালো বিড়াল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মায়া ভরা চোখে চেয়ে আছে আমার দিকে। ওর হলদেটে সবুজ চোখ জোড়া দেখে বড় মায়া হয়। আমি হাত বাড়াতেই কোলে উঠে পড়ল বিড়ালটা। সেদিনের পর প্রায়ই বাড়িওয়ালীর ফ্ল্যাটে যেতে শুরু করলাম। উদ্দেশ্য শিমির সাথে খেলা করা। মাও কিছু বলতেন না। বৃদ্ধ বাড়িওয়ালিও খুব খুশি হতেন আমাকে দেখে। নানান গল্প শোনাতেন। তবে কিছুদিন ধরে শিমি কে কেমন অদ্ভুত লাগতে শুরু করলো। ওর চোখে কিছুদিন যাবত সেই মায়া ভরা ভাবটা খুঁজে পাই না। সেখানে যেনো হিংস্র একটা চাহনী। ওকে কোলে নিতে ভয় হতে শুরু করলো। মনে হতো এই বুঝি মুখটা খামচে র'ক্তা'ক্ত করে দেবে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলো। স্কুলে পরীক্ষা চলছিল। পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকায় বাড়িওয়ালীর সাথে দেখা হয়নি। শেষ পরীক্ষাটা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর মা বললো বাড়িওয়ালী খুব অসুস্থ। নড়াচড়া করতে পারছেন না তাই রান্নাবান্নাও করছেন না। শুনে খুব মন খারাপ হলো। গতকাল মা দু বেলার খাবার দিয়ে এসেছিল। তিনি বললেন আমি যেনো সন্ধায় রাতের খাবারটা দিয়ে আসি। সন্ধায় খাবারের বাটি নিয়ে মহিলার দরজায় কড়া নাড়লাম দরজা কেউ খুললো না। কিছুক্ষন অপেক্ষা করে দরজায় হালকা ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো। ভেতরে উকি দিয়ে দেখি জমাট অন্ধকার। দেওয়াল হাতড়ে লাইটের সুইচ জ্বালালাম। ভেতরে কারো সারা শব্দ নেই।&amp;nbsp; বারিওয়ালির ঘরে ঢুকতেই নাকে বিকট দুরগন্ধ এলো আমি তাড়াতাড়ি বাড়িওয়ালির ঘরে সুইচ হাতড়ে লাইট জ্বালালাম। তারপর যে দৃশ্য দেখলাম সেটা দেখার পর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। বিকট চিৎকার করে জ্ঞান হারালাম।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জ্ঞান ফিরতে দেখলাম আমি আমার বিছানায়, মা পাশে বসে আছে। মনে পড়ে গেল ওই ভয়ানক দৃশ্যটি আল্লাহ কি করে যে আপনাদের বলি! সে বিভৎস দৃশ্য আমার এখনো মনের গেঁথে আছে। বাড়িওয়ালির ঘাড়ের দিক থেকে বেশ কিছু অংশের মাং'স কেউ যেন খুবলে খেয়েছে। র'ক্ত ঝরছে এবং পচা গন্ধ আসছিল তারই থেকে। মহিলাটি যে বেঁচে নেই তা তার খোলা চোখ দেখেই বোঝা যায়। মহিলা যে রকিং চেয়ারের উপর এক দিকে ঘাড় কাত করে বসেছিলেন তার পেছন থেকেই সেই কালো বিড়ালটি হেঁটে আসে। তখন বুঝতে পারিনি তার মুখের কাছে কি যেন চকচক করছিল হয়তো তার কালো রঙের জন্যই বুঝতে পারিনি। ওটা ছিল র'ক্ত। মা বললেন, তারা আমার চিৎকার শুনে দৌড়ে যায়। বাড়িওয়ালির ফ্লাটে গিয়ে দেখে আমি জ্ঞান হারিয়ে বেডরুমের দরজার সামনে পড়ে আছি। পুলিশকে ফোন করতেই তারা দ্রুত এসে বাড়িওয়ালীর লাশটি নিয়ে যায় ও ঘরে বিভিন্ন পরীক্ষা করে সিল করে দেয়। যেন কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে। পরবর্তীতে জানা যায় অতিরিক্ত খিদের কারণেই বাড়িওয়ালির বেড়ালটি বাড়িওয়ালির ঘাড়ের কাছটার মাং'স খুবলে খেয়েছে। বাড়িওয়ালী অসুস্থ হওয়ার কারণে চলাফেরা করতে পারছিল না। তাই বিড়াল কেউ ঠিকমতো খাবার দিতে পারছিল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই ঘটনাটার আমার মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাবের ফলেই আমি এখন পর্যন্ত কোন বিড়ালই সহ্য করতে পারি না। কালো বেড়াল তো একদমই না। কিন্তু দেখুন আমার কপালটা! যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হলো আমার কলিগ, তার বিড়াল খুবই পছন্দ যা আমি আগে জানলে তাকে কখনোই বিয়ে করতাম না।&amp;nbsp; বিয়ের প্রথম রাতে ঘরে ঢুকে দেখি আমার যেখানে বসার কথা ঠিক সেখানেই একটা কালো বিড়াল ঘুমিয়ে আছে। আমি চেঁচিয়ে ওঠার আগেই পেছন থেকে সজীব এসে হাসতে হাসতে বলল,"আমার বিড়াল খুব পছন্দ তোমাকে বলা হয়নি। এটা আমার পোষা বিড়াল ক্যাথি।" নিজের রাগ সংযত করে চুপ করে রইলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এক সপ্তাহ কেটে গেল। আমার স্বামীর প্রতি আমার বিরক্তি যেন বেড়েই চলেছে। তার কারণ ওই বিড়ালটাই। সারাদিন পর অফিস থেকে ফিরে সজীব তার প্রিয় প্রাণীটিকে নিয়েই খুনসুটি করতো,তার যত্ন আঁত্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। ক্যাথিকে আমি ঠিকসময় মতো খাবার না দিলে আমার উপর বেশ বিরক্ত হত। অথচ আমি তার নববিবাহিতা স্ত্রী। আমার দিকে তার কোন নজরই নেই। দিন দিন সহ্যের সীমা আমার ক্রমেই কমে চললো। আমার স্বামীকে আমার একদম অসহ্য মনে হতে লাগলো। আমাকে বিশেষ পছন্দ করত না তা ওর আচরণে বুঝতে পারতাম। মনে হতো লাগলো এই বিড়ালটাই যত নষ্টের মূল। যদি বিড়ালটাকে কোনোভাবে সরিয়ে দিতে পারি তবেই আমি আমার স্বামীর কাছে আদর ভালোবাসা পাবো। মনে মনে একটা ফোনদি এটে ফেললাম। যখনই সজীব বাসায় থাকবে না তখনই এ বিড়ালটার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। আর কি ব্যবস্থা করব সেটাও ঠিক করে রাখলাম। সকালে সজীব অফিসে চলে যাওয়ার পর আমি দ্রুত তৈরি হয়ে নিলাম হাতে একটা বড় চটের ব্যাগ। জোর করে কালো বিড়ালটার মুখ বেধে ওকে ব্যাগের ভেতর ভরে নিলাম। ব্যাগের মুখটাও শক্ত করে রশি দিয়ে আটকে নিলাম। তারপর চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে বস্তা খুলে দিতেই ক্যাথি দৌড়ে আমার দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গেল। মনে মনে হাসলাম ভয় পেয়েছে বেচারা। ও আর ফিরছে না কারণ ওই বাড়ির উল্টো পথে দৌড়ে পালিয়েছে। বাড়িতে এসে নিশ্চিন্তে আমার স্বামীর পছন্দের খাবারগুলো রান্না করতে শুরু করলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সন্ধ্যার পর ও বাড়ি ফিরল। বেশ ক্লান্ত। হাত মুখ ধুয়ে একটু পরে ও ক্যাথিকে খুঁজতে শুরু করল। আমাকে প্রশ্ন করতেই আমি নিরীহর মতন জবাব দিলাম,"কই জানিনা তো কোন দিকে গেছে! দোতলা বাড়ি, হয়তো জানালা দিয়ে বেরিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে আবার ফিরে আসবে চিন্তা করো না।" ও আর কিছু বলল না রাতের বেলা সজীব টেবিলে বসে ল্যাপটপে কি যেন কাজ করছিল। আমি ওর পাশে বিছানায় বসে চুপচাপ বই পড়ছি। খানিক বাদেই হঠাৎ বিড়ালের ডাক শুনতে পেলাম। চেয়ে দেখি ওর কোলে ক্যাথি নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে! আমার বিস্ময়ের আর সীমা রইল না। এত দূর থেকে ও রাস্তা চিনে এলো কি করে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কখন ফিরে এলো ক্যাথি?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বেশ কিছুক্ষণ হয়েছে তো খেয়াল করোনি?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি আর কিছু না বলে একরাশ বিরক্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝ রাতে ঘুম ভাঙতেই হাতে লোমস কিছু একটার ছোঁয়া পেতেই আঁতকে উঠলাম। দেখলাম ক্যাথি আমার আর ওর মাঝখানেই শুয়ে আছে। রাগে আমি ওকে জোরে টেনে মাটিতে ছুড়ে মারতে যাব এমন সময় ও আচমকা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। খামচে র'ক্তা'ক্ত করে দিল আমার মুখ। আমার চিৎকারে আমার স্বামী ঘুম ভাঙতেই দ্রুত উঠে আমাকে বাঁচানোর জন্য ক্যাথিকে আমার উপর থেকে সড়ালো। আমি রাগে দুঃখে কাঁদতে শুরু করলাম। আমার স্বামীও ক্যাথির উপর বিরক্ত হলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়ে মুখে সেভ্লন লাগিয়ে দিল। এই প্রথমবার যেন মানুষটার স্পর্শ পেলাম। তার ওপর থেকেও রাগটা যেন কমতে শুরু করল। আর যাই হোক তাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। এখনই বিড়ালটাই যত নষ্টের মূল ও আমার সংসার থেকে গেলে আমরা অনেক ভালো থাকবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর মাঝেই আমি অনেকবার অনুরোধ করেছিলাম সজীবকে ক্যাথিকে যেন কোথাও ফেলে আসে কিংবা কাউকে দিয়ে দেয় । ও কোন ভাবেই রাজি হয়নি ক্যাথি আমাকে এভাবে আঘাত করলো তারপরও। একপর্যায়ে আমার মাথা বেশ গরম হয়ে গেল স্বামীর সঙ্গে যে কোন বিষয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়ে যেত। আমি জানিনা ক্যাথিকে দু-দুবার বস্তা বন্দি করে দূরে ফেলে আসার পরও কি করে ফিরে আসতো। তৃতীয়বার যখন ফিরে এলো তখন বুঝতে পারলাম আর কোন উপায় নেই ওকে খুন করা ছাড়া। সেদিন রাতে সজীব বাসায় ছিল না অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে ছিল। এটাই যেন আমার সুযোগ। হাসপাতাল থেকে ব্যাগেই এককৌটো ক্লোরোফরমেনে রেখেছিলাম যেন ক্যাথিকে ধরে বেঁধে মারতে কষ্ট না হয়। ওর নাকে একটু ক্লোরোফরম লাগিয়ে দিলেই খানিক পরে ঘুমিয়ে পড়বে তখনই কেচি দিয়ে ওর গলায় একটা ছিদ্র করে দেব সিদ্ধান্ত নিলাম। তারপর ওকে একটা বস্তায় আটকে নিয়ে দূরে কোন খালে ফেলে দিব ভেবে নিলাম। তবে সারাদিন রোগী দেখে ক্লান্ত ছিলাম তাই একটু বিশ্রাম নিলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&amp;nbsp;ঘুম ভাঙতেই দেখি ঘর একদম অন্ধকার কোন আলো আলো জ্বালতে গিয়ে দেখি কারেন্ট নেই। আবছা আলোয় পাশে তাকিয়ে দেখলাম ক্যাথি শুয়ে রয়েছে। এই জানোয়ার টার সঙ্গে আমি এতক্ষন ঘুমাচ্ছিলাম ভাবতে গা ঘিন ঘিন করে উঠলো। রাগের মাথায় এই অন্ধকারে ব্যাগ থেকে কেচিটা বার করে নিলাম। তারপর সজোরে কেচির ধারালো অংশ দিয়ে ক্যাথির শরীরে আঘাত করতে শুরু করলাম। অনবরত যেন মৃ'ত্যু নিশ্চিত হয়। হয়তো ঘুমের ঘোরেই মৃ'ত্যু ঘটছে ওর এই ভেবে হাসলাম। হঠাত একটা পুরুষের ক্ষীণ আর্তনাদ যেন কানে&amp;nbsp; ভেসে এলো। বুকের ভেতর ছ্যাঁৎ করে উঠলো। অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না দ্রুত খুঁজে ফোনটা হাতে নিয়ে ফ্লাশ লাইট জ্বালালাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হে আল্লাহ! এ আমি কি করলাম সজীব এখানে কি করে এলো ক্যাথির বদলে আমি সজীব কে মে'রে ফেললাম?! পাগলের মত দেখতে লাগলাম সজীব এখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছে কিনা। হাতের শিরা পরীক্ষা করলাম। না ওর দেহে আর প্রাণ নেই। এখন আমি কি করবো! কি করে বাঁচবো আমি? এই পৃথিবীতে তো একমাত্র সজীবই ছিল আমার আপনজন। বাবা মাকে তো কবেই মে'রে ফেলেছি। ফোনের স্ক্রিনে একটা মেসেজ দেখতে পাচ্ছিলাম, সজীব লিখেছিল রাত আটটার দিকে, "কাজ আগেই শেষ হয়ে গেল তাই সন্ধ্যায় গাড়িতে উঠলাম রাত বারোটার মধ্যে পৌঁছে যাব তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।" আমার সজীব! চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম। ফ্লাশ লাইটের হালকা আলো তখনও জ্বলছিল। বারান্দার দিকে&amp;nbsp; চোখ পড়তেই দেখলাম ক্যাথির হলদেটে সবুজ চোখ জোড়া আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। মনে হলো ওর ঠোঁটে একটা আনন্দের হাসি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;( সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;span style="font-size: medium;"&gt;Writer: Fatema Tasnim&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/3216425248735946846/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/mystery-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3216425248735946846" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3216425248735946846" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/mystery-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="বিড়াল | Mystery Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjpB1R6kS6MAYHTR9Re3XXEc3JDUcS53cbGGwzR3p1m3TeGqBsxliwjtkmffT4Qpw5_dU5YzaPwn4-hoL7cnyRJlXm3--Az81YzzeOsd7ijP4QKZH-ZG3_oMo6aP_4hjQ9fthi2Qg3upyB-d155eE0K_Q3dQDbp0upcY-BQ2c6-_rf8KP8tT6MOOEs_/s72-c/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B2.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-7905746831415144953</id><published>2022-11-05T02:53:00.000-07:00</published><updated>2022-11-05T02:53:48.954-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Ghost Story"/><title type="text">ভৌতিক গল্প | Bangla Horror Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjahlyWYyJbjXYB_Hq-TL6MB13SGo1V4qcSw1K72FMoZdJh8RFi1M-0o9tZgHd229-kDWRdfpt0tVub10Idj_oSmw6hHKFp6R6bTziAff06qIEcnhBAt8-NNUHRT2Z7-K_HmvJsd0M39b8ss4Gk8roPi29BgB50aopTzFRtDD5cqQQAGL4yO_Sq_HDY/s1920/%E0%A6%AD%E0%A7%8C%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1280" data-original-width="1920" height="213" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjahlyWYyJbjXYB_Hq-TL6MB13SGo1V4qcSw1K72FMoZdJh8RFi1M-0o9tZgHd229-kDWRdfpt0tVub10Idj_oSmw6hHKFp6R6bTziAff06qIEcnhBAt8-NNUHRT2Z7-K_HmvJsd0M39b8ss4Gk8roPi29BgB50aopTzFRtDD5cqQQAGL4yO_Sq_HDY/s320/%E0%A6%AD%E0%A7%8C%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;১.&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'বাহ, নেকলেসটাতো বেশ সুন্দর। কোথা থেকে কিনলে?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'কিনি নি। আমার মায়ের নেকলেস এটা।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'ওহ আচ্ছা। খুব সুন্দর, অসাধারণ।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রশংসা করতে করতে অর্পার গলার নেকলেসটার দিকে তাকিয়ে থাকে রুনা। এরকম একটা নেকলেস কেনার খুব শখ ছিলো তার। বোঝাই যাচ্ছে অর্পা নেকলেসটা বিক্রি করবে না, মৃত মায়ের শেষ স্মৃতিচিহ্ন কেই বা বিক্রি করতে চায়? তবুও এই নেকলেসটা তার চাই, যে কোনো ভাবেই হোক।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পার্টি থেকে ফেরার সময় রুনা অর্পাকে জড়িয়ে ধরে বললো, 'যাই এখন। অনেক সুন্দর একটা পার্টি দিলে। অনেক এনজয় করলাম।' অর্পা টেরও পেল না, এই ফাঁকেই রুনা তার গলা থেকে নেকলেসটা খুলে লুকিয়ে ফেলেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নিজের ঘরে এসে নেকলেসটা নেড়েচেড়ে দেখতে লাগলো রুনা। কি অদ্ভুত সুন্দর নেকলেসটা, এমন সুন্দর এক নেকলেস যে এখন কেবল তার সেটা ভাবতেই বুকটা আনন্দে ভরে গেলো। এই নেকলেসটা এখন আর সে কিছুতেই হাতছাড়া করবে না। নেকলেসটা বিছানার পাশে রেখে রুনা শুয়ে পড়লো, সকালে উঠে সূর্যের চকচকে আলোয় আবার সে নেকলেসটাকে দেখতে চায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাঝরাতে রুনার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে উঠেই বিছানার পাশে তাকালো নেকলেসটা দেখার জন্য, দেখলো ওটা জায়গামতোই আছে। কিন্তু ঘরে কেমন একটা পঁচা, বাজে গন্ধ। গা গুলিয়ে উঠলো রুনার, ভাবলো ঘরের কোন কোণে মনে হয় ইঁদুর মরে পড়ে আছে। সকালে উঠে সাফ করতে হবে, এখন খুব ঘুম পাচ্ছে ওর। ঘুমানোর চেষ্টাতেই বাম পাশ থেকে ডানপাশে ফিরলো সে, কিন্তু যা দেখলো তাতে ভয়ে জমে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ও দেখতে পেল এক বুড়ি মহিলা মশারিতে ভর দিয়ে ঝুঁকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার মুখের মাংস যেন পঁচে গলে পড়ছে, চোখ দুটো টকটকে লাল। সে রাগী গলায় রুনাকে বললো, 'তোর এতো লোভ? আমার মেয়ের কাছ থেকে আমার দেয়া জিনিস&amp;nbsp; চুরি করেছিস। তোকে আমি ছাড়বো না।' রুনা কিছুই বলতে পারলো না, ভয়ে তার সমস্ত শরীর কাঁপতে লাগলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পরেরদিন অর্পা তার স্বামী সাহেদের কাছে গিয়ে হাসিমুখে বলতে লাগলো,'জানো, কাল রাতে মা এসেছিলেন। পার্টিতে যে নেকলেসটা হারিয়ে ফেলেছিলাম, সেটা ফেরতে দিতে।' সাহেদ দীর্ঘশ্বাস ফেললো। অর্পার পাগলামিটা আবার বেড়েছে। ওকে আবার সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যেতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ওদিকে রুনা আহমেদের বাসায় ততক্ষণে কান্নার রোল পড়ে গেছে। কাল রাতে মারা গেছে রুনা। ডাক্তার সন্দেহ করছেন স্ট্রোক, নয়তো হার্ট অ্যাটাক। তবে সবাই বলাবলি করতে লাগলো, সকালে যখন রুনাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, তখন নাকি তার চোখদুটো সম্পূর্ণ খোলা ছিলো, আর মুখে ছিলো ভয়ানক আতংকের ছাপ। যেন কাল রাতে ভয়ঙকর কিছু একটা দেখে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলো সে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;২.&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কয়েকদিন ধরেই আনিস সাহেব বাসার ছাদে মার্বেল খেলার আওয়াজ পান। আজও পাচ্ছেন। আজ আর তিনি কৌতূহল সামলাতে পারলেন না, সিঁড়ি বেয়ে চুপিচুপি ছাদে উঠে গেলেন কে ছাদে আছে দেখার জন্য।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দেখলেন দুটো বাচ্চা ছেলে মার্বেল খেলছে, এদের তিনি আগে কখনো দেখেননি। এরাই তবে প্রতিদিন বিরক্ত করে? আজ তবে এদের একটা শিক্ষা দিতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আনিস সাহেব আড়াল থেকে বেরিয়ে ধমক দিয়ে বললেন, 'এই, কি হচ্ছে? এটা মার্বেল খেলার সময়?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ছেলে দুটো তাকে দেখে ভয়েই আধমরা। একজন কোনোরকমে আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে কাঁপতে বললো, 'ভাইয়া, তুই না বলেছিলি এ বাসায় কেউ থাকে না? তাহলে এ লোকটা এলো কোথা থেকে?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আনিস সাহেব রাগী গলায় বললেন, 'ভূত হয়ে এসেছি। আরেকদিন যদি তোদের এখানে দেখেছি তো ঘাড় মটকে রক্ত চুষে খাব। যা, পালা এখন।' বলতে না বলতেই ছেলে দুটো দৌড়ে এ বাড়ির লাগোয়া পাশের বাড়ির ছাদে লাফিয়ে চলে গেল। সেখান থেকে এক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আনিস সাহেব সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ভাবতে লাগলেন, তিনি যখন জীবিত ছিলেন তখনও বাচ্চারা তাকে ভীষণ জ্বালাতো। মরার পরও এদের জ্বালাতন থেকে রেহাই পাওয়া গেল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;৩.&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'এটা কি রেনুদের বাসা?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কলিংবেল বাজানোর পর যে মহিলা দরজাটি খুললেন তাকেই মিলি প্রশ্নটা করলো। মহিলাকে সে আগে কখনো দেখেনি। মহিলার চেহারাটি কেমন যেন, দেখেই কেমন একটা ভয় লাগা অনুভূতি তৈরি হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহিলাটি একটু হাসার চেষ্টা করলেন, কিন্তু উনার কঠিন মুখে হাসি ফুটলো না। তিনি বললেন, 'হ্যাঁ হ্যাঁ, ও তো ভেতরেই আছে। তুমি ভেতরে এসো।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একটু ইতস্তত করেই ঘরে ঢুকলো মিলি ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ঘরের ভেতরে কেমন যেন একটু অন্ধকার অন্ধকার ভাব, কম পাওয়ারের বাতির জন্যই হয়তো। মিলি সোফায় বসে বললো, 'রেনুকে একটু ডেকে দিন না। আমার একটু তাড়া আছে। তাড়াতাড়ি যেতে হবে।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহিলাটি বললেন, 'আরে ওতো তাড়া কিসের? বাসায় যখন এসেছো,&amp;nbsp; একটু জিরিয়ে নাও। আমি রেনুকে ডেকে দিচ্ছি।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'মাফ করবেন, আপনাকে ঠিক চিনতে পারছি না। আগে হয়তো দেখি নি...'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'হ্যাঁ আমাকে দেখোনি আগে। আমি রেনুর খালা হই।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহিলাটি চলে গেলেন। মিলি বসে রেনুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। রেনুর কাছে কিছু নোটস নিতে এসেছে, আজকেই ফটোকপি করে আবার ফেরত দিয়ে যেতে হবে। কাল এক্সাম আছে এগুলোর ওপর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এটা রেনুদের নতুন বাসা, আগে এখানে আসেনি মিলি । বাসার লোকেশনটা রেনু বলে দিয়েছিলো ফোনে, বলেছিলো বাসার নিচে এসে কল দিতে, রেনু এসে ওকে নিয়ে যাবে। কিন্তু ঠিকানায় পৌঁছে রেনুকে ফোন দিয়ে রেনুর নম্বর বন্ধ পায় মিলি। শেষে বাধ্য হয়েই তিনতলাতে উঠে পড়ে ও, রেনুর কাছে কবে যেন শুনেছিলো তিনতলায় ফ্ল্যাট নিচ্ছে ওরা। আর তিনতলায় উঠেই এই মহিলার সাথে দেখা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু রেনু এখনো আসছে না কেন? মহিলাটিরও তো কোনো দেখা নেই। মহিলাটি যে ঘরে ঢুকেছিলেন তার সামনে গিয়ে মিলি বললো, 'খালা, রেনুকে একটু তাড়াতাড়ি ডেকে দিন না প্লিজ। আমার এখনই যাওয়া লাগবে।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'হ্যাঁ মা, একটু বসো, ও এখনি আসছে।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিলি আবার গিয়ে সোফায় বসলো। কি করবে বুঝতে পারছে না। এরমধ্যেই ওর মোবাইলে কল আসলো। ও অবাক হয়ে দেখলো রেনু ফোন দিয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফোন ধরতেই রেনু বললো, 'স্যরি রে, ফোনে চার্জ ছিলো না। তুই কি নিচে দাঁড়িয়ে আছিস?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'না তো। আমি তো তোদের বাসায়।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'আমাদের বাসায়? কি বলিস!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;' হ্যাঁ। তোদের বাসার ড্রয়িংরুমে বসে আছি। তোদের বাসা তিনতলায় না?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'না তো। আমাদের বাসা তো চারতলায়। তিনতলাতো পুরো খালি, ওখানে তো কেউ থাকে না। তুই কোথায় আছিস বলতো..'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কথাটা শুনেই মিলির মেরুদন্ড বেয়ে ভয়ের এক শীতল স্রোত নেমে গেল। ও তাহলে কোথায় আছে? ওকে এক্ষুণি এখান থেকে পালাতে হবে, যতো দ্রুত সম্ভব।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দরজার দিকে দৌড়ে গেল মিলি। দরজা খোলার চেষ্টা করলো, কিন্তু খুললো না দরজা। এসময়ই ওর পিছে কেমন একটা অদ্ভুত ভয়ঙকর গর্জন শুনতে পেলো। ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকালো ও।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দেখলো মহিলাটি বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন। তার চেহারা বদলে গেছে। চুলগুলো খোলা, চোখদুটো রক্তের মতো টকটকে লাল। মহিলাটি এগোতে লাগলেন মিলির দিকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিলির চিৎকার সেদিন তিনতলার বন্ধ দরজার বাইরে কেউ শুনতে পায়নি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখা: সোয়েব বাশার&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/7905746831415144953/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-horror-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/7905746831415144953" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/7905746831415144953" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-horror-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="ভৌতিক গল্প | Bangla Horror Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjahlyWYyJbjXYB_Hq-TL6MB13SGo1V4qcSw1K72FMoZdJh8RFi1M-0o9tZgHd229-kDWRdfpt0tVub10Idj_oSmw6hHKFp6R6bTziAff06qIEcnhBAt8-NNUHRT2Z7-K_HmvJsd0M39b8ss4Gk8roPi29BgB50aopTzFRtDD5cqQQAGL4yO_Sq_HDY/s72-c/%E0%A6%AD%E0%A7%8C%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-7943319387994126672</id><published>2022-11-05T02:47:00.001-07:00</published><updated>2023-01-29T11:27:45.373-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Golpo"/><title type="text">অবেলায় বসন্ত পর্ব ১ | Bangla Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjMjV20GiAIjnJPNzfQ_zCFyuItgsTnVEm4I739i7T1jjZI8OZQx55Dv8cq03GvPrV26-A2hZOo8U9o--iBWNF0PyvxKuHXr6D5Q7V4Z3F2Lq-KXzVlPYIntxj7Eh8UV1gui3WIqICdVckxkh1Qz-0PoRnn4n_svwBUqxb9Hf1LOQoxdQfQvQigptpe/s1920/%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20(%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20-%20%E0%A7%A7).jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1440" data-original-width="1920" height="240" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjMjV20GiAIjnJPNzfQ_zCFyuItgsTnVEm4I739i7T1jjZI8OZQx55Dv8cq03GvPrV26-A2hZOo8U9o--iBWNF0PyvxKuHXr6D5Q7V4Z3F2Lq-KXzVlPYIntxj7Eh8UV1gui3WIqICdVckxkh1Qz-0PoRnn4n_svwBUqxb9Hf1LOQoxdQfQvQigptpe/s320/%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20(%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20-%20%E0%A7%A7).jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;দুহাতে চোখের পানি মুছতে মুছতে চিত্রা অফিসে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিল। চুলগুলো কোনোমতে পিছমোড়া করে বেঁধে ব্যাগটা কাধে ঝুলিয়ে নাশতা না করে সমস্ত পৃথিবীর উপর এক বুক অভিমান নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। পেছন থেকে চিত্রার মা জাহানারা বেগম একবার ডাকলেন খেয়ে যাবার জন্য, তবে সে ডাকে ভালোবাসা নয় বিরক্তির প্রাধান্য ছিল। ভালোবাসা যেমন উপেক্ষা করা যায় না তেমন বিরক্তি সহ্য করা যায় না। তাই চিত্রা মায়ের ডাকের পরোয়া না করে চলে গেল। অফিস যেতে তার প্রায় ঘন্টাখানেক লাগে। রাস্তায় বের হয়ে নিজেকে ধাতস্ত করার চেষ্টা করল। অফিস বাসে উঠে সে মনের যত ব্যথা আওড়াতে লাগল। আজকাল প্রায় রোজই তাকে না খেয়ে বের হতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে রাগ করে রাতেও না খেয়ে থাকে। সে কী ধীরেধীরে খুব বেশি রাগী হয়ে যাচ্ছে নাকি ইমোশনাল আর অভিমানী হয়ে যাচ্ছে? সে তো এমন ধারার মেয়ে নয়... এই পৃথিবীর নিম্ন মানসিকতা তাকে এমন করে দিচ্ছে। একটু একটু করে রোজ তাকে আরও বেশি অভিমানী করে তুলছে। জীবন সম্পর্কে আজকাল সে খুব বেশিই অসহায় বোধ করে। এই অসহায়ত্বের পরিসমাপ্তি কবে কোথায় গিয়ে ঘটবে কে জানে? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা বাবা মায়ের ২য় সন্তান। বড় ভাই আর ছোট একটা বোন আছে। ছাত্র হিসেবে তারা সবাই ভালো ছিল। তার ভাইয়া চঞ্চল হাসান পাবলিক ভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করে বের হয়ে এখন সরকারি চাকুরিজীবি। নিজের পছন্দে বিয়ে করেছে। ভাবী হাউজ ওয়াইফ। সংসারে ভাবীর প্রধান কাজ চিত্রাকে ছোট করে নানান উছিলায় কথা শোনানো। মানুষ পারেও বটে! নিজে একজন নাড়ী হয়ে অন্য একজনের প্রতি এমন মনোভাব নিয়ে কীভাবে বাস করে তা চিত্রা বুঝে উঠতে পারে না। ছোট বোন চন্দ্রা রাজশাহী মেডিকেলের ছাত্রী, সেই সাথে দেখতে সুন্দরী। তাই তার প্রতিনিয়তই ভালো বিয়ের প্রস্তাব আসত। কিন্তু চিত্রার বিয়ে না হবার কারণে তাকে বিয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? দেখতে দেখতে চন্দ্রা মেডিকেল পাস করে ঢাকা মেডিকেলে ইন্টারনি শুরু করে দিল। তাই এক সময় চিত্রাকে রেখেই চন্দ্রার বিয়ে দেওয়া হল। ছেলে ডাক্তার সাথে বিত্তশালী পরিবার। যাদের গা থেকে আভিজাত্য ঠিকরে বেরোয়। PHD করতে স্বামী-স্ত্রী দু'জন জাপান চলে গেছে। চন্দ্রার যেন রাজ কপাল। আর চিত্রা... চিত্রা তো তার পরিবারের দীর্ঘশ্বাস কেবল! তার গায়ের রঙ একটু চাপা... না, ঠিক "একটু চাপা" নয় অনেক বেশিই চাপা। এত সুন্দর পরিবারে সে এক অন্ধকার অপ্রয়োজনীয় অংশ। গায়ের রঙ এর কারণে সেই ছোট্ট থেকেই তাকে তিরষ্কার বাণী শুনে আসতে হয়েছে। যত বড় হয়েছে তত সে নিজেকে নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেছে, অসহায় বোধ করেছে। নিজেকে সব সময় গুটিয়ে রাখতে হয়েছে গভীর হীনমন্যতায়। কখনোই প্রজাপতির মত পাখা মেলে ওড়া হয়নি ওর। পড়াশোনাটাকে একমাত্র প্রিয় সঙ্গী করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছে স্বপ্নের পথে। আজ সে একজন সফল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং কন্সাল্টেন্সি ফার্মে কাজ করছে ৩বছর ধরে। যখন যে প্রজেক্টে হাত দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। মোটা অংকের মাইনে পায়। কিন্তু তার এই মেধা, ক্রিয়েটিভিটি, উপার্জন, সাফল্য সবই দিন শেষে তার গায়ের কালো বর্ণের কাছে হেরে গিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায় ভোজবাজির মত! সমাজের চোখে একজন নারীর সফলতা তো কেবল তার রূপ আর ভালো পাত্রস্থ হওয়ার মাঝে! তাই যখন থেকে চিত্রা বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই নি*র্বোধ সমাজের উপর একটু একটু করে অভিমান জমেছে। বিন্দু বিন্দু করে জমা সে অভিমান আজ সিন্ধুতে পরিনত হয়ে গিয়েছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা অফিসে এসে তার কেবিনে ঢুকে আরাম করে বসল। আজ তার কর্ম ব্যস্ততা রয়েছে অথচ কোনো কাজ করতে তার মন চাইছে না। খেয়ে না আসার কারণে খিদেটা কেমন ছটফট করছে পাখির ছানার মতন। চাইলেই অফিস ক্যান্টিন থেকে নাশতা আনিয়ে খাওয়া যায় কিন্তু তার ইচ্ছে হল না। সে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হ্যালান দিয়ে পড়ে রইল। তার এই শরীরটারই তো যত দোষ! থাকুক সে অভুক্ত... শরীরের কারণে শুধু মন কেন একা কষ্ট নেবে শরীরের নিজেরও তো উচিৎ এই ভার বহন করা? তারপর আজ অফিসে কী কী কাজ আছে মনে মনে সেসব গুছিয়ে নিল। দু'দিন হল গুলশানের একটা এ্যাপার্টমেন্টে নতুন একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আজ সেটা তার সরেজমিনে দেখতে যাবার কথা। সে সেখানে যাবার প্রস্তুতি নিল। অফিসের টুকটাক কাজ ছিল সেটা ২০ মিনিটে শেষ করে বের হয়ে গেল গুলশানের উদ্দেশ্যে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গুলশানের যে এ্যাপার্টমেন্টে কাজ চলছে সেটা খুঁজে বের করে তার সামনে এসে রিকশা থেকে নামল চিত্রা। রিকশাটা বিল্ডিং এর গেটের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছে। চিত্রা ভাড়া দিচ্ছিল, এমন সময় গেট থেকে একটা গাড়ি বের হচ্ছিল। গাড়িটা হর্ণ দিল, চিত্রা বিরক্ত হল। আশ্চর্য, ভাড়া দিতে কতই বা সময় লাগবে এত অস্থির কেন? রিকশায় এসেছে বলে কী তার কোন মান নেই নাকি? সে তখন ইচ্ছে করে দেরি করল। টাকা বের করার নামে অনেক্ষণ ধরে ব্যাগ ঘাটাঘাটি করল তারপর ১হাজার টাকার একটা নোট বের করল খুচরো টাকা থাকা সত্যেও। রিকশাচালক বলল তার কাছে এত বড় নোটের ভাংতি নেই। ওদিকে গাড়ি হর্ণ দিয়েই যাচ্ছে। এক সময় গাড়িচালক গাড়ি থেকে মাথা বের করে বলল- excuse me... can't you leave the road and stand back a little?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা তখন পেছনে তাকিয়ে ছোটখাটো একটা ধাক্কা খেল... এত সুদর্শন পুরুষ হয়? ঝকঝকে কালো মার্সিডিজ গাড়ি, রেড পোলো টিশার্ট, চোখে হালকা ফ্রেমের চশমা সবই যেন লোকটার জন্যই তৈরি হয়েছে! একে দেখে যে কারোই বুকে ব্যথা শুরু হবার কথা। না জানি ব্যাটার বউ কী করে এমন সৌন্দর্য সহ্য করে? তার তো দিনে হাজারবার মরে যাবার কথা! লোকটা তখন আবার হর্ণ বাজাল... চিত্রা তখন লোকটার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল- আপনার কাছে ১হাজার টাকার নোটের ভাংতি হবে?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-what?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-আমার কাছে ভাংতি নেই, রিকশা ভাড়া দিতে হবে। থাকলে দিন না? মাত্র ৫০ টাকা... আমি পরিশোধ করে দিব ডোন্ট ওয়ারি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-but I don't know you, so how do you pay?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-I will manage...&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লোকটা কিছুক্ষণ অদ্ভুত দৃষ্টিতে চিত্রার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর ড্যাশবোর্ডের উপর রাখা ওয়ালেট থেকে ১০০ টাকা বের করে বলল- I don't have 50 tk.&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-no problem... চিত্রা ১০০ টাকার নোটটা নিয়ে রিকশাচালকে দিয়ে বলল- পুরোটা আপনার যান। রিকশাচালক খুশি হয়ে চলে গেল।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লোকটা তখন অবাক হয়ে বলল- the rent is 50 tk. why did you pay 100 tk?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা গাড়ির কাছে এগিয়ে এসে মুচকি হেসে বলল- ওটা ওকে খুশি হয়ে দিয়েছি। তারপর ব্যাগ থেকে ৫০ টাকা বের করে বলল- এই নিন আপনার ৫০ টাকা। আমি কখনো ঋণ রাখি না। পরিশোধ করে দিলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লোকটা আগের চেয়েও বেশি অবাক হয়ে বলল- oh God! you had money, but why did you take it from me? আর ১০০ টাকা নিয়ে ৫০ টাকা কেন ফেরত দিচ্ছেন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-বাহ্ আপনি দেখছি ভালো বাংলা জানেন! তো এতক্ষণ ইংলিশ কেন আওড়াচ্ছিলেন?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-এটা আমার প্রশ্নের উত্তর হল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-আমি আপনার কাছে ৫০ টাকাই চেয়েছিলাম তো ৫০ টাকা ফেরত দিব না?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-কিন্তু নিয়েছেন তো ১০০ টাকা?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-বাকিটা তো রিকশাচালকের বকশিস ছিল সেটা কেন আমি ফেরত দিব?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-you are a strange creature, did you know that?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা হাসতে হাসতে বলল- yes, I know, তারপর সে বিল্ডিং এ ঢুকে পড়ল।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা যে এ্যাপার্টমেন্টের কাজ পেয়েছে সেটা ৭ তলায়, ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটের মালিক এক ভদ্রমহিলা। মহিলা দু'মাস হল অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন একমাত্র ছেলেকে নিয়ে। এখানে তাদের স্থায়ী হবার ইচ্ছে নেই তবু যত দিন আছেন ফ্ল্যাটটাকে গুছিয়ে নিতে চান। সে কারণেই চিত্রার এখানে আসা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সাজানো গোছানো বিশাল ড্রইং রুমে চিত্রা বসে আছে। মিনিট পাঁচেক পর ভদ্রমহিলা উপর থেকে নেমে এলেন। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় চিত্রা মহিলাকে ভালো করে খেয়াল করল... ভদ্রমহিলার চেহারা, পোশাক আর চলনে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। অতি রূপবতীদের চেহারায় মায়াভাবটা থাকে না তাদের চেহারায় থাকে রূপের অহংকার, কাঠিন্য আর আভিজাত্যের ছাপ। কিন্তু এই মহিলার চেহারায় মায়াভাব আছে এবং বেশ ভালোভাবেই আছে। চেহারাটা কোথায় যেন দেখেছে বলে মনে হল চিত্রার... কোথায় দেখেছে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভদ্রমহিলা ততক্ষণে চিত্রার সামনে এসে সরাসরি বসে অবাক হয়ে বলল- কী অদ্ভুত!!!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা বুঝতে পারল না এখানে "কী অদ্ভুত" বিষয়টা কী? মহিলা এই বয়সেও যথেষ্ট রূপবতী সে কারণেই কী সে চিত্রার রূপ দেখে এভাবে বলল? সেটাই স্বাভাবিক... সেই ছোট্ট বেলা থেকেই তো তাই হয়ে আসছে। কিন্তু এখানে সে কাজে এসেছে, এখানে তাকে এধরণের কথার সম্মুখীন কেন হতে হবে? চিত্রার রাগ হল তাই সে কিছুটা বিরক্ত মাখা গলায় বলল- sorry...?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-মানে, তোমার চোখ। কী অদ্ভুত মায়াময় চোখ... এত সুন্দর চোখ আমি আগে কখনো দেখিনি!&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা একটু বিষম খেল যেন। এভাবে কেউ কখনো কোনদিন তাকে বলেনি। সে নিজে যখন আয়নায় নিজেকে দেখে তখন সে তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার খুব আফসোস হয় এই সুন্দর চোখ জোড়ার জন্য। তার গায়ের রঙের কারণে এত সুন্দর চোখ দুখানা সব সময় আড়াল হয়ে যায়... আজ প্রথম সে ছাড়া অন্য কারো কাছে এই সৌন্দর্য ধরা পড়ল! চিত্রার চোখে ততক্ষণে পানি চলে এসেছে। চিত্রা ভদ্রমহিলাকে হৃদয়ের গহীন থেকে ধন্যবাদ জানাল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রার মুখের অভিব্যক্তি দেখে ভদ্রমহিলা কী বুঝলেন জানি না তবে তিনি চিত্রার প্রতি অন্য রকম এক অনুভূতি অনুভব করলেন। বললেন- যদিও প্রফেশনালি তোমার সাথে আমার দেখা তবু তুমি আমার সন্তানের বয়সী তাই "তুমি" করে বলছি। আসলে তুমি শব্দটায় আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, শব্দটায় একটা ম্যাজিক আছে খুব সহজেই মানুষকে আপন করে ফেলা যায়। আর তাছাড়া...&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-তাছাড়া?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-আসলে ব্যাপারটা ঠিক বোঝাতে পারছি না... তোমার সাথে ক'দিন গেলে হয়ত বোঝাতে পারব।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা বুঝল মহিলা একাকীত্ব ফিল করেন, তার আশেপাশে হয়ত মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কোথাও না কোথাও এই ভদ্রমহিলার সাথে তার মিল রয়েছে! কারণ সে নিজেও একা! সে বলল- আন্টি আপনি খুব অন্য রকম। আমাকে আপনি "তুমি" বলতেই পারেন সমস্যা নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভদ্রমহিলা খুশি হয়ে বললেন- চলো চা খেতে খেতে আমরা গল্প করি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা এসেছে এ বাড়ির ইন্টেরিয়র কাজের অগ্রগতি দেখতে ভদ্রমহিলা হয়ত সেটা ভুলে বসে আছেন! চিত্রার ইচ্ছে হল না তাকে কাজের কথা মনে করিয়ে দিতে। আজ নাহয় গল্পই হোক।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রার অনেকদিন পর আজকের দিনটা ভালোই কাটল। মিসেস চৌধুরীর সাথে অনেক গল্প হয়েছে। ভদ্রমহিলা দুপুরে চিত্রাকে নিয়ে একসাথে খেলেন। তবে কথার ফাঁকেফাঁকে নিজের ছেলের খুব গল্প করছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্নে ছিলেন তারা। সেখানে তাদের নিজেদের বাড়ি আছে। উনার ছেলে ফাইজ চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অফ মেলবর্নে প্রকৌশল বিভাগের জনপ্রিয় প্রফেসর। ছেলের বয়স বাড়ছে কিন্তু এখনো বিয়ে করেনি। তিনি একা থাকেন ছেলের বউ এলে অন্তত কথা বলার একজন মানুষ হত। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই? এমনও হয়েছে মেয়ে বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে ফাইজের জন্য কিন্তু ফাইজ কাউকে পাত্তাই দেয় না। মিস্টার ফাইজের এসব গল্প শুনে চিত্রার মনে হয়েছে ভদ্রমহিলা হয়ত বাড়িয়ে বলছেন। নিজের ছেলে তার উপর যোগ্যতাও ভালো তাই মা হিসেবে একটু রঙচঙ মেখেই হয়ত বলছেন। তবে একটা ব্যাপার কী ভদ্রমহিলা নিজের, নিজের ছেলের এত গল্প করছেন অথচ একবারও ছেলের বাবার কথা কিছু বললেন না! চিত্রার অনেকবারই ইচ্ছে হয়েছে জিজ্ঞেস করতে কিন্তু অভদ্রতা হতে পারে ভেবে আর করেনি। আর তাছাড়া সময় আছে পরেও জানা যাবে। ওদিকে দুপুরের পর থেকে চিত্রার মা ফোন দিয়েই যাচ্ছে কিন্তু চিত্রা ফোন ধরছে না। ব্যাপারটা এক সময় মিসেস চৌধুরী খেয়াল করলেন বললেন-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-আমি তো আসলে সুযোগ পেলেই গল্প নিয়ে বসে পরি। তোমার হয়ত জরুরী কোন ফোন আসছে, তুমি কথা বলো?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-না আন্টি সমস্যা নেই, আপনি বলুন আমার ভালো লাগছে শুনতে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-ফোনটা রিসিভ করো অনেক্ষণ ধরে বাজছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা উঠে গিয়ে ফোন পিক করল। তার মা ফোন করছিল। কেন করছিল চিত্রা জানে সেকারণেই ধরতে চাইছিল না কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরল। ফোন ধরতেই ওর মা কড়া গলায় বললেন-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-ফোন কেন ধরছিস না? তোকে না বলেছি আজ তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-মা আমি একটা প্রাইভেট জব করি সেটা ভুলে যাও কেন? চাইলেই বের হওয়া যায় না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-কী করা যায় না যায় আমাকে শেখাতে আসবি না। পৃথিবীর এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে কোন মেয়েকে বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু সময়ের জন্য ছুটি দিতে পারে না। ফোন রাখছি তুই তাড়াতাড়ি বাসায় আয়।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা বিরক্তির সাথে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। দু'দিন আগে তার মা তাকে একটা ছেলের বায়োডাটা দিয়েছিল আজ সেই ছেলের তাকে দেখতে আসবার কথা। কিন্তু চিত্রার আজকাল দেখতে আসার কথা হলেই রাগ এবং হতাশ লাগে। তার গায়ের রঙ আর বয়সের কারণে যে কোন ছেলেকেই পাত্র হিসেবে তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। যেন ছেলে হলেই হল কোয়ালিফিকেশ কী দরকার? বিয়ে হওয়াটাই মূল বিষয়। কিন্তু চিত্রা এমন জীবন চায় না। বিয়ে করে শুধু রান্নাবান্না আর বাচ্চা পয়দা করার জীবন তার কাছে কোন জীবন নয়। বিয়ে মানে প্রথমত এমন একজন মানুষ তার জীবনে আসুক যে তার মানসিক শান্তির জায়গা হবে। সে চায় একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন গোছানো মানুষ যার সাথে সকাল সন্ধ্যা কথা বলা, সময় কাটানোটা হবে প্রিয় অভ্যাস। বহমান শান্ত অথচ স্রোতস্বিনী নদীর মত কলকল ছন্দ তুলে সময় বয়ে যাবে। ইচ্ছে হবে সময়গুলো ধরা থাকুক হাতের মুঠোয়। আর আক্ষেপ হবে "সময় এত দ্রুত কেন চলে যায়?" বন্ধুত্বের প্রাচীরে আগলে রাখুক। কিন্তু তেমন পুরুষ কই? যারা তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী তারা কেবল তার চাকরির পদবী বা বেতন স্কেল দেখে আসে। নাহয় পাত্রের কোন দিক থেকে বড় কোন কমতি আছে। এসব তেলতেলে মানুষ চিত্রার কাছে অসহ্য মনেহয়। এমন মানুষের সাথে জীবন কাটাবার চেয়ে একলা থাকা বেস্ট অপশন। সে আছে তো, বেশ আছে তার এই একলা জীবনে। জগতে তার মতন হয়ত আরও অনেকে আছে যাদের কষ্ট, অপ্রাপ্তি, কান্নাগুলো অন্ধকারের নৈঃশব্দে মিলিয়ে যায়। তারা কখনো শব্দ বা ভাষা হয়ে উঠতে পারে না। তার এই অনুভূতি, চাওয়া, ইচ্ছেগুলো তার পরিবারকে কিছুতেই বোঝাতে পারছে না সে। কারো নিজের পরিবার যখন এভাবে বুঝতে চায় না, পাশে থাকতে চায় না তখন এর চেয়ে দুর্বিষহ জীবন আর কারো হতে পারে না। তার এখন ইচ্ছে করে মরে গিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে দিতে... এসব ভাবতে ভাবতে চিত্রা লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিসেস চৌধুরীকে বলল-&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-আন্টি আমি যাচ্ছি। কাজ তো দেখলাম ডিরেকশন আর প্ল্যান তো সব দেয়া আছে এরপরেও হয়ত আমাকে ২/১ দিনের মধ্যে আবার আসতে হবে। আর যে কোন প্রয়োজনে ফোন তো আছেই, কল করবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-ঠিক আছে। কিন্তু তুমি অবশ্যই আসবে। তোমাকে আমি হাঁসের মাংস রান্না করে খাওয়াব। আমার ছেলের খুব পছন্দ তোমারও পছন্দ হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা মনে মনে বলল- হাঁসের মাংস আমার একদমই পছন্দ না আর উনার ছেলের পছন্দ দিয়ে আমি কী করব? কিন্তু ভদ্রমহিলার খুশি দেখে বলল- ঠিক আছে আন্টি খাব একদিন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা বের হবার জন্য দরজার কাছে আসতেই কলিং বেল বেজে উঠল। দরজা খুলতেই যে এসেছে চিত্রা তার মুখোমুখি হয়ে গেল। আগুন্তুকের চেহারা দেখে চিত্রা চোখ বন্ধ করে ফেলল! ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখলে আমরা যেমন করে জেগে উঠি সেটা থেকে বের হয়ে আসতে তেমন করে জেগে থাকা অবস্থায় ভয়ংকর কিছু দেখলে চোখ বন্ধ করে ফেলি সেটা থেকে লুকানো যাবে বলে! যদিও দৃশ্যটা ভয়ংকর নয় তবু এই মুহূর্তে এটাকে ভয়ংকরই বলা যায়... ততক্ষনে আগুন্তুক তাকে দেখে চমকে উঠে বলে উঠল-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-you!!?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা লম্বা শ্বাস নিয়ে চোখ খুলে বলল- জ্বী, আমি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-what are you doing here?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-ভাবলাম ৫০ টাকা দিয়ে খসানো শুরু সেটাকে যদি ৫লাখে নেয়া যায় তো মন্দ কী? ট্রাই করে দেখি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আগন্তুক স্তম্ভিত চোখে তাকিয়ে রইল। তখন মিসেস চৌধুরী এসে বললেন- ফাইজ এসে পরেছিস, ভালো হয়েছে। এ হচ্ছে চিত্রা, আমাদের বাসার ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও-ই করছে। আজ কাজ দেখতে এসেছিল। আর একটু দেরি হলেই তো ওর সঙ্গে তোর দেখা হত না। তোর না কী কী ডিরেকশন দেয়ার ছিল তাহলে আলাপ করে নে। মেয়েটা খুব ভালো। তবে আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি ওর চোখ দেখে, এত সুন্দর চোখ আমি আগে কখনো দেখিনি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফাইজ দিশেহারা চোখে চিত্রার দিকে তাকিয়ে আছে। তার কাছে মনে হচ্ছে এই মেয়ে মহা ধড়িবাজ আর তার মা অতি সহজ সরল খোলামেলা মনের। একদিনেই এ তাকে আর তার মাকে যে রূপ দেখিয়েছে তাতে একে মানুষ হিসেবে বিচার করা কঠিন হয়ে গেল। তবে এই মেয়ে যেমনই হোক সে আসলেই তার পকেট থেকে লাখ টাকা খসিয়ে ছাড়বে। এখন কাজ কেমন করে সেটাই দেখার বিষয়। সে চিত্রাকে উদ্দেশ্য করে বলল-&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-Are you an interior designer? I had some instructions to give...&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা ফাইজকে থামিয়ে দিয়ে বলল-এটা আপনার অস্ট্রেলিয়া নয়, বাংলা যেহেতু বলতেই পারেন সেহেতু বাংলায় বলুন। শুনতে ভালো লাগে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফাইজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল চিত্রার দিকে তারপর বলল- ইংরেজিতে বলাটা আমার দীর্ঘদিনের অভ্যেস। তাই ওটাতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-কিন্তু বাংলায় বললে আপন লাগে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-ঠিক আছে I will try. আমরা কী এবার আলোচনায় বসতে পারি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-না। আমার হাতে আজ সময় নেই আপনি বরং ওয়েট করুন আমি এরপর যেদিন আসব সেদিন যা বলার বলবেন। নতুবা আমার কার্ডটা রাখুন ফোন করবেন। আজ আসি। তারপর ফাইজের মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল- আন্টি আসি তাহলে, আপনার হাতের হাঁসের মাংস খেতে অবশ্যই আসছি। ভালো থাকবেন। আর আপনার যদি গল্প করতে ইচ্ছে হয় অবশ্যই ফোন করবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ, বলে চিত্রা চলে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পুরো ব্যাপারটায় ফাইজ হতভম্ব হয়ে গেল! মেয়েটা তাকে এভাবে ইগনোর করে চলে গেল? মেয়েরা যেখানে তার এতটুকু সঙ্গ পেতে মরিয়া সেখানে এই মেয়েটা তাকে পাত্তাই দিল না! সে একটু অপমান বোধ করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিত্রা চাইলেই কিছুক্ষণ সময় দিতে পারত মিস্টার ফাইজকে কিন্তু ইচ্ছে করেই ইগনোর করল। তার মতে এইসব হ্যান্ডসাম হাঙ্কদেরও যে কেউ পাত্তা না দিতে পারে সেই অনুভূতি তাদের থাকা উচিৎ। তাছাড়া কাউকে পাত্তা না দেয়াটাকে স্মার্টনেস আর নিজের প্রতি অন্যের আকর্ষণ তৈরি হয় বলেই লোকের বিশ্বাস। কিন্তু সমস্যা হল, এই হ্যান্ডসাম হাঙ্কের বাড়িতেই তাকে কাজ করতে হচ্ছে! মাঝে মাঝেই হয়ত তার সাথে দেখা হবে, কথা হবে? এখন একে দেখলে বুকের ভেতরে যে প্রলয়ঙ্করী ঝড় উঠে যায় সেটা কী করে সামলাবে চিত্রা? এর অবিবাহিত থাকাটা কী এতই জরুরী ছিল? আচ্ছা এসব কী ভাবছে সে? কী সব শব্দ তার মাথায় আসছে? মনে হচ্ছে ১৬ বছরের কিশোরী হয়ে গেছে! এ তো ভয়ংকর! চিত্রা জীবনে কম পুরুষ দেখেনি, তাদের কাউকে যে তার ভালো লাগেনি তাও নয়। কিন্তু প্রকাশের সাহস কখনোই সে করে উঠতে পারেনি। তার নিজেরও যে একটা সুন্দর মন আছে, কাউকে উজার করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে সেটা সে কোনদিন কাউকে বুঝতেও দেয়নি। নিজেকে বুঝিয়েছে সবার জীবনে সব কিছু থাকতে নেই! সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়ের ঠিক করা পাত্রের সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিল...&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চলবে.....&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখাঃ শামীমা জামান&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/7943319387994126672/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/7943319387994126672" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/7943319387994126672" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="অবেলায় বসন্ত পর্ব ১ | Bangla Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjMjV20GiAIjnJPNzfQ_zCFyuItgsTnVEm4I739i7T1jjZI8OZQx55Dv8cq03GvPrV26-A2hZOo8U9o--iBWNF0PyvxKuHXr6D5Q7V4Z3F2Lq-KXzVlPYIntxj7Eh8UV1gui3WIqICdVckxkh1Qz-0PoRnn4n_svwBUqxb9Hf1LOQoxdQfQvQigptpe/s72-c/%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F%20%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%20(%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%20-%20%E0%A7%A7).jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-8292328636251605807</id><published>2022-11-05T02:37:00.001-07:00</published><updated>2022-11-05T02:37:52.430-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Sad Story"/><title type="text">জবাব | Bangla Sad Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi-KnGbQDHUJGeOAfeWiUqAJR27-_T5QAzNCTFuJ7VA_GbPPXr8JESPecjir5VX0wmW8IkmHK3sM2_FATCje_glliXaKlD90UMGRER5wpCCdQzh321-_2wEnIB2kyTHWNdRn3r1tmzj9uGT5vrKt3ZKyY_pekskMX0kT_pe8iq0lLd-16ILh1u9Au0A/s1920/%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1277" data-original-width="1920" height="213" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi-KnGbQDHUJGeOAfeWiUqAJR27-_T5QAzNCTFuJ7VA_GbPPXr8JESPecjir5VX0wmW8IkmHK3sM2_FATCje_glliXaKlD90UMGRER5wpCCdQzh321-_2wEnIB2kyTHWNdRn3r1tmzj9uGT5vrKt3ZKyY_pekskMX0kT_pe8iq0lLd-16ILh1u9Au0A/s320/%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমরা কী পৃথিবীর সব শাক খেয়ে ফেলছি না আম্মু?''&lt;/p&gt;&lt;p&gt;" কেন এমন মনে হলো বাবা?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"এই যে আমরা প্রতিদিন শাক দিয়ে ভাত খাই না,না, ভাত দিয়ে শাক খাই।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ছেলের কথা শুনে চুপ করে রইল মিতু।কথাটা ভুল নয়।গত কয়েকমাস ধরে বাড়ির পেছনের অল্প একটু জমিতে হওয়া কলমি শাক,আলু শাক,পুইশাক এসব খেয়েই বেচে আছে মা-ছেলে।মাছ-মাংস শেষ কবে খেয়েছে তা মনে করতে পারে না ও।ভাত যোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয় সেখানে মাছ-মাংসের আশা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।মাকে চুপ করে থাকতে দেখে হৃদয় আবার বলে ওঠে,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আচ্ছা আম্মু, আমরা যদি পৃথিবীর সব শাক খেয়ে ফেলি তাহলে অন্য মানুষেরা কী খাবে?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ছেলের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ভাষা খুজে পায় না মিতু।ছেলেটার দিকে তাকালে ওর বড় মায়া হয়।রিয়াদ বেচে থাকলে তো ওদেরকে এই দুর্দিন দেখতে হতো না।মৃত্যুর আগে তো ও রিয়াদকে কথা দিয়েছিল হৃদয়কে ভালো রাখবে।কিন্তু মিতু তো পারছেনা হৃদয়কে ঠিকমত খাওয়াতে,পরাতে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&amp;nbsp;হাজারো কষ্টের মাঝে এই ছেলেই মিতুর আশার আলো।ছেলে বড় হয়ে মানুষ হলে তবেই তো মিতুর সুদিন ফিরবে!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;________________________&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভাতের থালায় থাকা শাক ভাজি দেখে মিতুর চোখে অতীত ভেসে ওঠে।নিজের নিয়তির উপর ভীষন হাসি পায় ওর।পঁচিশ বছর পরও এই শাক ওর পিছু ছাড়লো না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রিয়াদকে কী জবাব দেবে তা ভাবলে আজও আৎকে ওঠে মিতু।রিয়াদ তো বলেছিল ওর ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করতে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখা: সাজিদ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/8292328636251605807/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-sad-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="1 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/8292328636251605807" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/8292328636251605807" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-sad-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="জবাব | Bangla Sad Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi-KnGbQDHUJGeOAfeWiUqAJR27-_T5QAzNCTFuJ7VA_GbPPXr8JESPecjir5VX0wmW8IkmHK3sM2_FATCje_glliXaKlD90UMGRER5wpCCdQzh321-_2wEnIB2kyTHWNdRn3r1tmzj9uGT5vrKt3ZKyY_pekskMX0kT_pe8iq0lLd-16ILh1u9Au0A/s72-c/%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC.jpg" width="72"/><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-86795755081561358</id><published>2022-11-05T02:31:00.002-07:00</published><updated>2022-11-05T02:31:50.938-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Poetry"/><title type="text">জানি দেখা হবে | Bangla Poetry | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgyIFybZroEaz838sN4Tl2YE80G5Bvq7HjKdjc3DPNtU2kwcQEI1p3CnCjPdfai1gjKosOfi5KpdYajegKIO3eDnjB8Ub6H12ELC0KeW0WHTfZtvpIz9nofPo4BxNV6ZMda1_Yev5lXf_Esr5RXPIx9cTVQfFnp2fteVr51_Rya3zzkgFRlnD9vllwT/s1920/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1041" data-original-width="1920" height="174" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgyIFybZroEaz838sN4Tl2YE80G5Bvq7HjKdjc3DPNtU2kwcQEI1p3CnCjPdfai1gjKosOfi5KpdYajegKIO3eDnjB8Ub6H12ELC0KeW0WHTfZtvpIz9nofPo4BxNV6ZMda1_Yev5lXf_Esr5RXPIx9cTVQfFnp2fteVr51_Rya3zzkgFRlnD9vllwT/s320/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;শেষ হয়েছিল চোখের আকুল আবেদনের শুনানি,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;না পাওয়ার অপারগতা ঘিরে ধরেছিল আমায়,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কয়েদীর অন্তিম আকাঙ্ক্ষার মতোই অমূল্য তুমি ,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তবু বৃথা আমার এতো ভালোবাসার আয়োজন,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি তোমার অস্পৃশ্যতার কারাবাসে বন্দি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অভিযোগে ছিলে তুমি, গলায় অভিমানের স্বর,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অপ্রকাশিতটুকু বুঝে নিও প্রিয়,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিংবা ছন্দে মেতে "অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর"।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তোমার প্রাক্তন তোমার স্মৃতিময়,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সাদাকালো এই মিথ্যের শহরে,যদি মনে পড়ে আবার আমায়, হারিয়ে ফেলার আফশোষ,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তোমার কাব্যে ফিরতে রাজি,হয়ে অবেলার বেলা বোস।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অতীত আলিঙ্গনে সুখ খুঁজে যাই উত্তরের ধ্রুবতারায়,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেলফোনে আলাপি প্রেম, ছুঁতে না পারার সাধ,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফেলে যায় টুকরো স্মৃতির পাতায় অজস্র আঁচড়ের চিহ্ন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্থগিত হয়েছিল মধ্যরাতের নিঃশব্দে তোমার সঙ্গ,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাঝে মধ্যে একটা-দুটো মন্তব্য,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তুমি বোধহয় আমি'তেই পরিশ্রান্ত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নির্জন রাতের স্তব্ধ অলসতায় মোড়া তোমার উদাসীনতা--&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার ব্যার্থতার প্রতিশব্দ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ধূসরতার মলিন অভিব্যক্তি তোমার অবয়বে,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তবুও আলোকবর্ষের দূরত্বে আমি অপেক্ষার মূল্য দিয়ে প্রতি প্রহরে,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জানি দেখা হবে কোনো এক অচেনা,অজানা শহরে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখা: অনন্যা&amp;nbsp;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/86795755081561358/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-poetry-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/86795755081561358" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/86795755081561358" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-poetry-boipoka365.html" rel="alternate" title="জানি দেখা হবে | Bangla Poetry | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgyIFybZroEaz838sN4Tl2YE80G5Bvq7HjKdjc3DPNtU2kwcQEI1p3CnCjPdfai1gjKosOfi5KpdYajegKIO3eDnjB8Ub6H12ELC0KeW0WHTfZtvpIz9nofPo4BxNV6ZMda1_Yev5lXf_Esr5RXPIx9cTVQfFnp2fteVr51_Rya3zzkgFRlnD9vllwT/s72-c/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%20%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-2671943446095744213</id><published>2022-11-04T01:25:00.002-07:00</published><updated>2022-11-04T21:16:46.319-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Love"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Sad Story"/><title type="text">ভেজা চোখ দেখাইনি তোমায় | An unfinished Love Story | Bangla Sad Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgEUT4I3v_R-uSNCXyNThyRS5QYVn40lVHRe9zsq-z7Mzpo0QyE6jJWAS1qi781Y4_s56kN5xXunlBPUPoyxkYc57eblmnQHTNr40JOFUbkgdcs41863_jyKPQStCC2J32J0jTrKDB_CsCXHYecieXscwWuV04TRyNuwF6R-iSWga4F_Dbn_l4WICSL/s1282/%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE%20%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F...jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1054" data-original-width="1282" height="263" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgEUT4I3v_R-uSNCXyNThyRS5QYVn40lVHRe9zsq-z7Mzpo0QyE6jJWAS1qi781Y4_s56kN5xXunlBPUPoyxkYc57eblmnQHTNr40JOFUbkgdcs41863_jyKPQStCC2J32J0jTrKDB_CsCXHYecieXscwWuV04TRyNuwF6R-iSWga4F_Dbn_l4WICSL/s320/%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE%20%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F...jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;"তোরে হারানোর পর আমি অনেক কেঁদেছি, জানিস?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"সে তো তুই লিপস্টিক হারিয়ে গেলেও কাঁদিস। এ আর নতুন কী?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নিজের সমস্ত দুর্বলতা মিহি যখন বন্ধুর দিকে তুলে ধরলো, বন্ধুর ঠাট্টার কাছেই ফিঁকে হলো অনুভূতি। মিহি হাসলো, গাল ফুলিয়ে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"লিপস্টিক হারানোর কান্না আর মানুষ হারানোর কান্না এক হলো বুঝি!"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বান্ধবীর কথায় হাসলো মাহবুব। ঠাট্টা করে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আচ্ছা! এক না? আমি তো দেখি সব কান্নাতেই চোখের পানির রঙ থাকে না, বিবর্ণ হয়। তোরটাই আলাদা কী ছিলো? সবুজ রঙ বের হয়ে ছিলো নাকি?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বন্ধুর ঠাট্টায় খিলখিল করে হেসে উঠলো মিহি। মাহবুবের হাতে আলতো চ*ড় দিয়ে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কবে শুধরবি তুই? বয়স তো হলো অনেক।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"তোর কী কম হয়েছে? তুই ও তো আগের মতনই আছিস।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কই আগের মতন আছি? ত্রিশের বুড়ি আমি। আগের মতন থাকলে কি আর দৃষ্টির শক্তি কমতো না কালো চুলের ফাঁকফোকরে খুব গোপনে সাদা চুলের দেখা মিলতো? বদলে গেছি অনেক।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাহবুব হাসলো। ক্ষীণ স্বরে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"এটা তো বাহ্যিক বদল। তা,বিয়ে করবি কবে? মেয়েদের তো সন্ন্যাসী থাকার নিয়ম নেই। এখন কী তুই ইতিহাস বদলাবি নাকি?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"তোর মতন কাউকে পেলে আজই করে ফেলবো।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাহবুবের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেই খিলখিল করে হেসে উঠলো মিহি। মাহবুব বিরক্তিতে কপাল কুঁচকালো। অধৈর্য কণ্ঠে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"ঠাট্টা করছিস কেনো? আমি সিরিয়াস।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিহির ততক্ষণে হাসতে হাসতে চোখের কোণে জল গড়িয়ে পড়লো। ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলের মাধ্যমে সেই জলটা মুছে নিয়ে পেট ফাঁটা হাসি থামিয়ে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বিয়ে করার হলে আগেই করতাম। বিয়ের বয়স পার হওয়ার আশায় বসে থাকতাম না। যার মা-বাবা নেই, তাকে কে বিয়ে করবে বল?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"তোর বাবা-মা নেই দু'বছর হলো, এর আগে তো করার কথা ছিলো, তখন করিস নি কেন?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাহবুবের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই মাহবুবের স্ত্রী রুমি ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ঘুমিয়ে ছিলো মেয়েটা। সোফায় বসে থাকা ফর্মাল পোশাকে পড়া মিহিকে দেখেই সে মিষ্টি হাসি উপহার দিলো। চুল গুলো খোঁপা করে সোফার কাছটাতে এসে, উচ্ছ্বাসিত কণ্ঠে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আপনি মিহি আপু না? আপনাকে দেখার অনেক ইচ্ছে ছিলো আমার। কেমন আছেন আপু?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুমির দিকে পূর্ণদৃষ্টি দিলো মিহি। গোলগাল, ছোট্ট মিষ্টি মুখমন্ডলে আটকে গেলো মিহির নেত্র যুগল। প্রশংসার স্বরে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বাহ্ মাহবুব, দারুণ বউ এনেছিস তো? এত মিষ্টি! এ জন্য ই তো বলি আমার বন্ধু হুট করে বিয়ে কেনো করেছে। কি দারুণ মেয়ে!"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কই হুট করে বিয়ে করলাম? তোদের জানিয়েই তো করেছি। দাওয়াত ও দিয়েছিলাম। আসিস নি তুই। বরং হুট করে জানতে পারলাম তুই শহর ছেড়েছিস। একদম উধাও হয়ে গেলি।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিহির অকৃত্রিম হাসিটা ততক্ষণে মিলিয়ে গিয়েছিলো কিন্তু ভদ্রতার জন্য মিছে হাসি ঝুলিয়ে রেখেছে ঠোঁটের কোণে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুমি আবার বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"মিহি আপু, আপনার গল্প অনেক শুনেছি। আপনাকে তো দেখেছি অনেক ছবিতে। আমাদের ঘরে বড় করে আপনার আর উনার একটা ছবি টানানো আছে। সরাসরি যে দেখতে পাবো ভাবিই নি।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুমির কথায় অবাক হলো মিহি। মাহবুব তাদের ছবি টানিয়ে রেখেছে নিজের বেডরুমে? ছেলেটা অবশ্য পার্ফেক্ট ছিলো বন্ধুত্বের দায়িত্বে। কোথাও স্বার্থপর টা মিহিই ছিলো। ভাবতেই হতাশার দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো মিহির। নিজের মন খারাপ টা কিনারে রেখেই হাসি হাসি মুখে রুমির উদ্দেশ্যে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আসলে জরুরী প্রয়োজনে শহর ছাড়তে হয়েছিলো। পরে আর যোগাযোগ করতে পারি নি। ব্যস্ত হয়ে গিয়ে ছিলাম নিজের জীবনে। আজ হুট করে মনে হলো তোমাদের দেখতে আসা উচিৎ তাই সাত ঘন্টার পথ পাড়ি জমিয়ে চলে এলাম।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"পাঁচ টা বছর লেগে গেলো আমাদের মনে পড়তে? বাহ্ ভালোই তো স্বার্থ*পর হয়েছিস।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিহি স্মিত হেসে ক্ষীণ স্বরে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কিছুটা আর কি।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হঠাৎ মিহির নজর গেলো রুমির ফুলে উঠা পেটটার দিকে। অজান্তেই ধক্ করে উঠলো হৃদয়। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"সুখবর আছে বলিস নি তো?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"এলি ই তো মাত্র। জানাতাম পরে।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিহির হৃদয় কাঁপলো। ছোট বেলা থেকেই তার হৃদয়ের বড় অংশ জুড়ে মাহবুবের বসবাস ছিলো কিন্তু মাহবুব কখনো বুঝে নি। মাহবুব কোনো একদিন বুঝবে ভেবে কত বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে সে। মেয়েদের বয়স কুড়ি পেরুলেই যে সমাজ তাদের বুড়ি বানিয়ে দেয়, সে সমাজে মিহি পঁচিশ বছর অব্দি টিকে ছিলো। মাস্টার্স পাশ করেছে একসাথে। হুট করেই একদিন মাহবুব বললো তার বিয়ে। এত বড় সারপ্রাইজ মিহি মানতে পারে নি, তাই দীর্ঘ বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে সে সবার থেকে দূরে চলে গিয়ে ছিলো। এতে অবশ্য মাহবুবের দোষ নেই, মিহির ভালোবাসা টা একপাক্ষিক ছিলো। মাহবুব বন্ধু হিসেবে তো অগাধ ভালোবাসা দিয়েছে, জীবন সঙ্গিনীর জায়গায় হয়তো নিতে পারে নি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আফসোসের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হলো মিহির বুক। চোখের জল লুকাতে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিহিকে উঠে দাঁড়াতে দেখে মাহবুবও উঠে দাঁড়ালো। অবাক কণ্ঠে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কিরে, মাত্রই তো এলি। চলে যাবি নাকি?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিহি আলতো হেসে উত্তর দিলো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"হ্যাঁ রে, একটা কাজ আছে এখানে। আবার আসবো, আজ যেতেই হবে।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"থাকুন না, আপু। ভালোই তো লাগছিলো।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুমির কথায় আরেকবার রুমির দিকে দৃষ্টি দিলো মিহি। মিষ্টি কণ্ঠে বললো,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে। ভালো থেকো। আমার বন্ধু খুবই ভালো মানুষ৷ অনেক দায়িত্ববান। আগলে রেখো। তুমি অনেক ভাগ্যবতী গো।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আর কথা বলতে পারলো না মিহি। কোনো মতে চোখের জল লুকিয়ে বের হয়ে গেলো। ভেজা চোখ সে মাহবুবকে যে দেখাবে না, কিছু অশ্রু একান্তই নিজের।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে মিহি তাচ্ছিল্য হেসে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"লিপস্টিক হারানো আর মানুষ হারানোর কান্না তো এক না মাহবুব। তুই বুঝবি না সে কান্না। লিপস্টিক হারিয়ে আমি এক ঘন্টা কাঁদতাম। তোকে হারিয়ে আমি আমরণ কেঁদে যাবো। এই কান্নার জল রঙহীন না, এই কান্নার রঙ নীল। কারণ বিষাদের রঙ নীল।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;খোলা দরজার দাঁড়িয়ে মিহির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাসলো মাহবুব। আপনমনেই বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমি জানি মিহি, তুই আর কখনো আসবি না। আমি জানি। সত্যিই আমি দায়িত্ববান। তাইতো দায়িত্বের বেড়াজালে আটকে আজ অন্য কারো সঙ্গে ঘর বেঁধেছি, সে ঘরও করে যাচ্ছি।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাহবুবের ভেজা চোখও মিহি দেখে নি। গোপনে রইলো সে বিরহ অশ্রু।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দুই জনের দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো রুমি। সেও তো কাঁদছে। মিহি বলছে সে ভাগ্যবতী, অথচ মিহি জানেনা সবচেয়ে ভাগ্যবতী তো সে নিজেই। যার জন্য প্রতিনিয়ত একজন পুরুষ দহনে পুড়ে, সে নারীর চেয়ে ভাগ্যবতী কী কেউ আছে! রুমি মাহবুবকে পেয়েও পায় নি আর মিহি না পেয়েও পেয়ে গেছে। রুমির অবশ্য আফসোস নেই। সবাইকে কি আর এক জনমে পাওয়া হয়! মাহবুবকেও নাহয় তার না পাওয়ায় রাখলো। তবুও ভেজা চোখ দেখাবে না কাউকে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;( সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখিকা: মম সাহা&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/2671943446095744213/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/unfinished-love-story-bangla-sad-story.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/2671943446095744213" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/2671943446095744213" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/unfinished-love-story-bangla-sad-story.html" rel="alternate" title="ভেজা চোখ দেখাইনি তোমায় | An unfinished Love Story | Bangla Sad Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgEUT4I3v_R-uSNCXyNThyRS5QYVn40lVHRe9zsq-z7Mzpo0QyE6jJWAS1qi781Y4_s56kN5xXunlBPUPoyxkYc57eblmnQHTNr40JOFUbkgdcs41863_jyKPQStCC2J32J0jTrKDB_CsCXHYecieXscwWuV04TRyNuwF6R-iSWga4F_Dbn_l4WICSL/s72-c/%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE%20%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%20%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F...jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-5899429708809578969</id><published>2022-11-04T00:51:00.003-07:00</published><updated>2022-11-04T00:51:56.884-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Heart Touching Story"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Sad Story"/><title type="text">মুক্তি | Bangla Heart-touching Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEij4MuRoMuv0Y786d8hF1kHSmZA25bJh579gFFawvj43Xm4v2m47K0wRstzjg4lXSYCSmq03S2Z_gZPPYw5UV5SIItf2UR6ZSaKnBeQzTFO3MIIF9ZMEHLRzoqXxHlQSMtzNt4F2zMF8KUhPpdd3jxM5vRRKy5b7aANhvrc5AdYKvhBpM27tFNuORA1/s1920/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1280" data-original-width="1920" height="213" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEij4MuRoMuv0Y786d8hF1kHSmZA25bJh579gFFawvj43Xm4v2m47K0wRstzjg4lXSYCSmq03S2Z_gZPPYw5UV5SIItf2UR6ZSaKnBeQzTFO3MIIF9ZMEHLRzoqXxHlQSMtzNt4F2zMF8KUhPpdd3jxM5vRRKy5b7aANhvrc5AdYKvhBpM27tFNuORA1/s320/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;আজ আমার বিয়ে। ফেসবুকে আংকেল বলে সম্বোধন করা লোকটার সাথে আমার বিয়ে। শয্যাশায়ী স্ত্রীর জন্য একজন পরিচারিকা তার ভীষণ প্রয়োজন অথবা ছেলে মেয়ে দুটির বিকল্প মায়ের প্রয়োজন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&amp;nbsp;গর্ভধারিণী উপন্যাসে পড়েছিলাম, সুদীপের বাবা মাসে মাসে গৃহ পরিচারিকা&amp;nbsp; বদলায়, আমার গল্পটাও সেরকমই। এই লোকটি সামাজিকতার ভয়ে গৃহ পরিচারিকার ঘরে ঢুকতে না পারলেও&amp;nbsp; কখনো বা নিজের প্রয়োজনে আমার ঘরে ঢুকে গেলেও আমি না করবো না কারণ আমি তার বিবাহিতা স্ত্রী হতে চলছি আর কিছুক্ষণ পর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি আয়নার সামনে বসে আছি। চোখ ছলছল করছে, কাজল লেপ্টে গেছে সেই কখন। আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে আমার মা, চোখ দুটি কী সুন্দর লাগছে দেখতে। কষ্টের সাথে কি কিছু আনন্দ আছে আজ? হয়তো আছে, আজ আমার মায়ের মুক্তি হচ্ছে অনেক কিছু থেকেই। আমি বেশিক্ষণ মায়ের দিকে না তাকিয়ে নিজের সাজের দিকে মনোযোগ দিলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শফিক সাহেব পাশের ঘরে বসে আছেন। ভদ্র লোকের মাথার চুলে কিছুটা পাক ধরেছে, মুখের চামড়াতেও বয়সের ছাপ বেশ বুঝা যায়। উনার সাথে উনার ছেলে মেয়েও এসেছে। ছেলের বয়স বারো এবং মেয়েটির আট বছর। মেয়েটির বয়স যখন চার শফিক সাহেবের স্ত্রী তখন থেকেই শয্যাশায়ী। মেয়েটি একটু আগে এ ঘরে এসেছিলো বেশ অবাক হয়ে আমার শাড়ি পরা দেখছিলো। আচ্ছা, বিয়ের পর এরা আমাকে কী বলে ডাকবে? ছোট মা ডাকবে হয়তো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার ভাইয়া আজ সারাদিন একবারো আমার আমার সামনে আসেনি। সময় পায়নি বলে অথবা লজ্জায় আসেনি। ভাইয়ার চোখে কি আনন্দ আছে আসলে একবার দেখতে পারতাম। আমার চোখে কি আনন্দ দেখা যাচ্ছে? আম্মাকে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারতো হয়তো, থাক ইচ্ছে হচ্ছে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিয়ের পর শফিক আংকেলকে কি আংকেল ডাকবো নাকি অন্যকিছু? উনাকেই জিজ্ঞেস করে নিবো।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আম্মা কান্না করছে, আমি আয়নায় তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আমি আম্মাকে থামাবো না, কাঁদতে থাকুক যতোটা পারুক। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের দিনের কথা আমার মনে আছে। নয় বছর বয়সী আমি কোর্টের সামনের বারান্দায় দৌড়াচ্ছিলাম। মা বাবা একসাথেই বের হয়ে এলেন। আমি যখন মায়ের সাথে চলে আসছিলাম, তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম- "আব্বু যাবে না?" বেশ সহজ কণ্ঠেই আম্মা বলেছিলো- "তোমার আব্বু নতুন বিয়ে করেছে সেখানেই থাকবে এখন থেকে, আর আমি তোমাদের সাথে, আজ থেকে আমিই তোমাদের মা আর আমিই বাবা।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একদিন স্কুল থেকে ফিরে এসে শুনি আম্মা স্ট্রোক করেছে, রাস্তায় পড়ে ছিলো, কয়েকজন পথচারী তাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে গেলো। তখন কেবল দশম শ্রেণীতে পড়ি। আমার ভাই বয়সে বড় হলেও আমরা ছিলাম সহপাঠী। ভাইয়া সেদিন আমার হাত দুটো শক্ত করে ধরে বলেছিলো, " বোন, আমি লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে হলেও তোকে পড়াবো, তোর জন্য আমি সবকিছু করতে পারবো, দোকানে কাজ করবো, রিক্সা চালাবো, যা পারি তবুও তুই পড়বি।" তখন থেকে ভাইয়াকে দেখতাম এই বাড়ি ঐ বাড়ি ঘুরে ছাত্র পড়াতে। ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে এসে আমার সাথে তার অনেক গল্প করার ছিলো। আমি তখনও ভালো রান্না পারি না, কিন্তু আমার রান্নাই যেন ভাইয়ার কাছে ছিলো অমৃত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার মা সেই বছর থেকেই বিছানা নিলেন, তবুও আমার বাবার কাছে খরচের জন্য হাত পাতেনি কখনো। ভাইয়া লেখাপড়াটা চালিয়ে গেলো সবকিছুর মাঝেই। মাস শেষে কষ্টের পারশ্রমিকের সিংহভাগটা আমার খরচের জন্য পাঠিয়ে দিতো। বারবার বলতো তোকে পড়তে হবে, ভালো ফলাফল করতে হবে, অনেক কিছু করতে হবে। যেন আমার সাফল্যটাই ভাইয়ার সাফল্য।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বন্ধু মহলে আমি কৃপণ হিসেবে পরিচিত। সবাই যখন কাউকে দান করার জন্য পকেট থেকে একটা মোটা অংকের টাকা বের করে ফেলে তখন আমার সামান্য টাকাটা বের করতেও লজ্জায় পড়ে যাই বলে আর করা হইনা। সারাদেশে যখন করোনা মহামারী, বন্ধুরা যখন সাহায্যের যখন বিকাশ, রকেট নাম্বার শেয়ার করে তখনো আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। কিন্তু আমি তো বলতে পারি না, আজ তিন মাস ধরে আমার ভাইয়ার কোন টিউশন নেই, আমার তিন মাসে মেস ভাড়া জমা হয়ে আছে কতো, টাকার জন্য মায়ের ওষুধ কেনা হচ্ছে না, আমাদের ঘরে বাজার নেই, আমার লেখাপড়াটাও যে আর চলবে না একটা সময়ের পর। আমার কথাটা শোনার জন্য কেউ নেই, কোথাও নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সৌরভের সাথে চার বছরের সম্পর্কটাও শেষ করে দিতে হলো কিছুদিন আগে। যার জন্য বুকের ভেতর আজন্ম ভালোবাসা পুষেছিলাম তার কাছেও আশ্রয় খুঁজেছিলাম। ঠোঁটের স্বাদ আর বুকের মাংসের গন্ধ ছাড়া সৌরভ কিছুই বুঝেনি, প্রেম তো নয়ই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আশ্রয় পেলাম একজন মাঝবয়েসী মানুষের কাছে। মন্দ নয় তো সে। তার যতোটুকু প্রয়োজন আমি ততোটুকু পূরণ করতে পারবো, আমার প্রয়োজনটাও সে পারবে। প্রয়োজনের জন্য একটি সম্পর্কে আবদ্ধ হতে&amp;nbsp; আর কিছু সময় বাকি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লকডাউন শেষে আমার মা মুক্তি পাবে, ভাইয়ের মুক্তি হবে। আমার জন্য বাড়তি কিছুই করতে হবে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডার পর চায়ের বিলটা দিতে পারবো, কিংবা কোন দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে পারবো। ভালো পোশাকের জন্য ভার্সিটির আর কোন প্রোগ্রাম মিস হবে না আমার, যেকোন আর্থিক সাহায্য করতে পারবো।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি লেপ্টে যাওয়া চোখের কাজলটা ঠিক করে নিলাম। আয়নায় নিজেকে দেখতে বেশ মোহনীয় লাগছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;span style="font-size: medium;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;span style="font-size: medium;"&gt;Writer: Esrat Emu&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/5899429708809578969/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-heart-touching-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5899429708809578969" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5899429708809578969" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-heart-touching-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="মুক্তি | Bangla Heart-touching Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEij4MuRoMuv0Y786d8hF1kHSmZA25bJh579gFFawvj43Xm4v2m47K0wRstzjg4lXSYCSmq03S2Z_gZPPYw5UV5SIItf2UR6ZSaKnBeQzTFO3MIIF9ZMEHLRzoqXxHlQSMtzNt4F2zMF8KUhPpdd3jxM5vRRKy5b7aANhvrc5AdYKvhBpM27tFNuORA1/s72-c/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-8355090165320977851</id><published>2022-11-04T00:43:00.000-07:00</published><updated>2022-11-04T00:43:03.918-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Short Story"/><title type="text">শাসন | Bangla Short Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjb4ewoECe8cLOQRiGbURTGzdNDv_iGIllTk1XZ3vD5d0UUNDJ4rCJudroXLPlqyYU3GP81EsL17ggzpKae-D0kaQIl8qfjLD8kmC2iPszc3B6ZEBqoRMdb04Vh0pQYrbiWpcjkdNlwY3LmF_nsmevja3PefDT-6K0Ogqt9SsjsHmeWX8kYuKnPtPGf/s1280/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="905" data-original-width="1280" height="226" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjb4ewoECe8cLOQRiGbURTGzdNDv_iGIllTk1XZ3vD5d0UUNDJ4rCJudroXLPlqyYU3GP81EsL17ggzpKae-D0kaQIl8qfjLD8kmC2iPszc3B6ZEBqoRMdb04Vh0pQYrbiWpcjkdNlwY3LmF_nsmevja3PefDT-6K0Ogqt9SsjsHmeWX8kYuKnPtPGf/s320/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;রিশাকে আমি চড় মারার সাথেই ওর দাদু মানে আমার শাশুড়ী মা আমার সাথে চিৎকার করে উঠল,তুমি এটা কি করলা বৌমা, এত্ত বড় মেয়ের গালে এক ঘর মানুষের সামনে চড় মারলা তাও আমার সামনে? কান্ডজ্ঞান হারিয়ে বসে আছ নাকি?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রাগে আমার গা কাঁপতে থাকে আমি রিশার হাত ধরে টেনে ওকে ঘরে এনে দরজা লাগিয়ে দেই। আমার শাশুড়ী,ননদ দরজা ধাক্কাতে থাকে আমি পাত্তা দেইনা।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মেয়েকে চিরুনি দিয়ে মারতে মারতে বলতে থাকি, অসভ্য মেয়ে, তুমি বড় হইছ না? সবে ক্লাস নাইনে উঠেছ এত্ত বড় তুমি হয়েছ যে স্কুলে না গিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াও? আজ আসুক তোমার বাবা তখন তোমার ব্যবস্থা করব। লেখা পড়ার তো এইনা ছিরি ভাইকে দেখেতো শেখনাই কিছু। আমার ছেলের নখের ও যোগ্যি না তুই। আমাদের মান সম্মান ডোবানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিস।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রিশা কাঁদতে থাকে আমি ওকে রেখে বের হয়ে আসি।&amp;nbsp; ওর রুমে গিয়ে সব তোলপাড় করি। টেবিলের ড্রয়ার, আলমারী,তোশকের নিচে, ব্যাগের ভেতর, বইয়ের তাকে। কিছু না কিছুতো আছেই। ইদানিং প্রায়ই&amp;nbsp; টাকা চায় এই সেই উছিলায়। ছোট মানুষ গুরুত্ব দেইনাই। এখন বুঝতেছি ও টাকা চায় কেন,কিছু একটা তো আছেই।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার শাশুড়ী ডাকতে থাকেন, বৌমা দুপুর তিনটা বাজে বাড়িতে মেহমান সে খেয়াল আছে তোমার? ভাত দাওনা কেন টেবিলে? জামাইকে কি না খাওয়াইয়া রাখবা?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি খাবার দিতে যাই। আমার ননদ বলে ভাবি, রিশাকে ডাক।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-নাহ্ ওর ভাত বন্ধ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-বৌমা জিদ করোনা। রিশাকে ডাক দাও।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-মা বেয়াদবী নিবেন না, আর নিলেও আমি নিরুপায় আজ দুপুরে রিশার ভাত বন্ধ। ওর বাবা আসুক। রাফি বাবা টেবিলে আয় সোনা।&amp;nbsp; পরে পড়িশ। না খেলে পড়াশোনা করবি কি করে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার ননদ রাগ করে খাবার রেখে উঠে যায়। সব কিছুতে বাড়াবাড়ি। আমার মেয়েকে আমি শাসন করব না আদর করব সেটা আমার ব্যাপার,বেড়াতে আসছে দু দিন থাকবে চলে যাবে। তানা সব কিছুতে নাক গলানো চাই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রাফি-রিশার বাবা ফিরল রাত আট টা নাগাদ। রিশার রুমের আলমারীর কাপড়ের নিচে একটা ডায়েরী পেয়েছি। ডায়েরি টা বের করে নিয়ে এসে ওকে ওর রুমে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওর দাদু খাবার নিয়ে অনেক সাধাসাধি করেছে উনি খাবেন না।&amp;nbsp; বেয়াদ্দপ হয়েছে মেয়েটা। রাগ দেখায়, জীদ করে। আজ ওর একটা ব্যবস্থা করব৷ চাকরী করলাম না শুধু মাত্র ছেলে মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে আর এই মেয়ে কিনা তলে তলে আমার চোখ ফাঁকি দিচ্ছে! আজ বাড়ীতে ননদ,ননদাই&amp;nbsp; আসায় আমি স্কুল থেকে আনতে যেতে পারিনি। রাফিকে পাঠিয়েছিলাম ও নাকি গিয়ে রিশাকে পায় নি। মিনিট দশেক পর রিক্সায় ফিরতে দেখা যায় ওকে ওর বান্ধবীর সাথে। এত্ত চালাক হয়েছে মেয়েটা, জানে যে আজ মা নিতে যাবেনা এই সুযোগ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ওর বাবাকে নাস্তা দিয়ে ডায়রীটা নিয়ে বসি। নীল রং এর ডায়েরী,কখন লিখে ও আমার তো চোখে পড়েনা। এত চোখে চোখে রেখেছি ছেলে মেয়েকে তাও চোখ ফাঁকি দিল। ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলেও বোধয় মেয়েটাকে পারলামনা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি ব্যস্ত হাতে ডায়েরী টা খুলি। প্রায় মাঝামাঝির দিকে একটা কবিতা। কবিতা লেখা হচ্ছে তাহলে আজকাল অথচ পড়তে বসতে বললেই নানান বাহানা শুরু হয় তার, ঘুম পায়,মাথা ব্যথা, মনে রাখতে পারেনা। কি করব আমি এই মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা লাগে আমার।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পাতা উল্টাই ছোট একটা লাইন,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'আমার রাতে ঘুম আসেনা''&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পড়তে বসলে ঘুমে নাকি পড়ে যায় অথচ লিখেছে তার নাকি&amp;nbsp; রাতে ঘুম আসেনা। প্রেম করছে নাতো? শুনেছি প্রেমে পড়লে এমন অস্বাভাবিক অনেক কিছুই হয়, আমাদের সময় বাবা এসব ছিলনা, আজকাল কার ছেলে মেয়েদের তো এমন ভাব যেন বয়ফ্রেন্ড নাই বলতে লজ্জা হয়!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি আবারো পাতা উল্টাই,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;''বাবাকে বললাম বাবা আজ বাইরে খেতে নিয়ে যাবে? বাবা বলল পড়াশোনায় মন দাও আমি ফেরার সময় নিয়ে আসব, কি আনতে হবে মাকে বলে দিও আমাকে জানিয়ে দিতে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কেন কি এমন হত সবাই মিলে একটু বের হলে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্কুল আর বাসা, বাসা আর স্কুল। দম বন্ধ লাগে আমার। "&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি পরের পেজে যাই,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'"মা কে আজ বললাম আমার কাছে ঘুমাও, মা রাজি হলনা অথচ প্রায়ই রাতে মা বাবার সাথে রাগারাগী করে আমার ঘরে এসে ঘুমায় মাঝে মাঝে কান্না করে আমি বুঝতে পারি, আমার ইচ্ছে করে মাকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু আমি জেগে আছি জানলে যদি বকা দেয় তাই সাহস পাইনা"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি পাতা উল্টাতে থাকি,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার পড়তে খুব কষ্ট হয়, মনোযোগ থাকেনা পড়লে কিছু মনেও থাকেনা, যত দিন যাচ্ছে ততই সমস্যাটা বাড়ছে,মাকে বললে মা বলে পড়ায় মন নাই তাই এসব অজুহাত দেখাই।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"ফুপি এসেছে জেনি আপু ও এসেছে আমার খুব ইচ্ছে করে আমি জেনি আপুর সাথে গল্প করি কিন্তু মা&amp;nbsp; বেশীক্ষণ মিশতে দেয়না বলে বড় বোনদের সাথে এত কিসের কথা তুমি ছোট মানুষ এখন পড়াশোনা করার সময় আড্ডা দেওয়ার অনেক সময় পরে পাবে।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার রাজু আঙ্কেলদের সাথে মিশতে ভাল লাগেনা একদম, উনার ছেলে জনি খুব অসভ্য ইঙ্গিত করে কিন্তু আমি বাবাকে বলতে পারিনা বাবার ধারনা আমি তার বন্ধুদের সামনে নিজেকে অসামাজিক প্রমানিত করতে চাই তাই যেতে চাইনা।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"মা আজ দাদুর সাথে খুব ঝগড়া করল,তারা কেউ কাউকে দেখতে পারেনা সব সময় বাসায় একটা অশান্ত পরিবেশ, ফুপি আসলে ভাল লাগে আমার, কিন্তু ফুপিতো বেশীদিন থাকেন না। দাদু ফুপি আসলে মায়ের সাথে আরো ঝগড়া করে। মা প্রায়ই মামা বাড়ী চলে যেতে চায়, আচ্ছা মা কি সত্যিই চলে যাবে?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"ভাইয়াকে বাবা মা অনেক ভালবাসে আমাকেও বাসে কিন্তু ভাইয়াকে বেশী বাসে। আমারো ইচ্ছে করে আমিও ভাইয়ার মত ভাল রেসাল্ট করি কিন্ত আমার তো পড়া মনে থাকেনা।"&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার সারাদিন ঘুম পায় কিন্তু সারা রাত ঘুম আসেনা,ক্লাসে মন বসেনা শুধু ঘুম পায়। "&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"সেদিন তন্বিদের বাসায় সবাই গেল কিন্তু আমি যেতে পারলাম না, বন্ধুরা নাকি সব নষ্টের গুরু। আচ্ছা ওদের মায়েরাও একি কথা ভাবে? তাহলে আমরা সবাই কি সবাইকে নষ্ট করে দিব কিন্তু কিভাবে?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"সারা ফোন করেছিল, মা পাশে বসে থাকে কি যে অস্বস্তি হয়, একদিন না করেছিলাম বলে পুরা একটা সপ্তাহ ফোন ধরতে দিলনা।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"মা আমাকে কিসব পোশাক পরায় আমার ভাললাগেনা কিন্তু মা, বাবা কেউই বুঝতে চায়না বলে আমি বেশী বোঝা শুরু করেছি,আচ্ছা আমি কবে আমার পছন্দের পোশাক গুলো পরতে পারব?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার কবিতা লিখতে ভাললাগে, মাঝে মাঝে চুরি করে লিখি যেন মা দেখে না ফেলে, কিন্তু আমার খুব ইচ্ছে করে আমি বাবা, মা, দাদু, ফুপি সবাই কে দেখাই কিন্তু সাহস হয়না।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"ফিজিক্স আমার একদম ভাললাগেনা, আর সেদিন নাম্বার কম পাওয়ায় মা যখন চৈতীর সামনে চড় মারল সেদিন থেকে বইটা দেখলেই আমার টুকরা টুকরা করে ফেলতে ইচ্ছে করে।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার এ বাড়ীতে একদম ভাল লাগেনা, আমাকে কেউ বোঝেনা কেউনা।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"মাঝে মাঝে মন চায় দূরে কোথাও চলে যাই কিন্তু কোথায় যাব?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;" ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করেনা একটুও,&amp;nbsp; ইস্ আমি যদি সকাল দশটা পর্যন্ত ঘুমতো পারতাম, যদি চাইলেই বস্তা বস্তা কবিতা লিখতে পারতাম, যদি বন্ধুদের সাথে&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয় সিরিয়াল গুলা দেখতে পারতাম!"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বাবা আজ ভাইয়াকে ল্যাপটপ কিনে দিয়েছে আমি বলেছিলাম আমাকে একটা মোবাইল কিনে দিতে, সিম লাগবেনা শুধু একটু গান শুনব,গেম খেলব, বাবা রাজী হলনা বলল সময় হলে দিবে, রেজাল্ট ভাল হলে দিবে কিন্তু আমি জানি দিবেনা কারন আনার রেজাল্ট ভাইয়ার মত ভাল হবেনা।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার ভীষন অস্থির লাগে, কিচ্ছু ভাললাগেনা।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আজ ক্লাস থেকে বের হয়ে পুরা একঘন্টা লাইব্রেরিতে বসে ছিলাম আমার ক্লাস করতে অসহ্য লাগে।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার খুব কান্না পায় খুব। "&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আজ চৈতী বলল আমি নাকি ডিপ্রেশন এ পড়েছি ওর এক কাজিনেরও এমন হতো ডাক্তার দেখিয়ে ছিল। আমাকে নিয়ে যাবে ডাক্তার এর কাছে। সুস্থ হয়ে গেলে নাকি আমার আবার সব ভাল লাগবে স্কুল,বন্ধু,পড়াশোনা,বাসা....সব"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কাল মাকে মিথ্যা বলে টাকা নিয়েছি মা সন্দেহ করলেও টাকাটা দিয়েছে, আগামী পরশু ফুপি আসবে মা স্কুল থেকে আনতে যাবেনা তখন চৈতীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবো,খুব ভয় করছে। ইস্ মা যদি নিয়ে যেত আমাকে।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বাবা কে, মা কে অনেক ভালবাসী ওরাও আমাকে ভালবাসে কিন্তু ওরাতো জানেনা যে আমি কি করতে ভালবাসি ওরা শুধু জানে ওরা কি ভালবাসে ওরা আমাকে দিয়ে সেটাই করাতে চায় ওরা যা ভালবাসে। আমি তো আজকাল ভুলেই যাই যে আমি কি ভালবাসি।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আচ্ছা আমি যদি সবাই কে ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাই তাহলে কি মা, বাবা, দাদু, ভাইয়া কষ্ট পাবে,ওরা কি কাঁদবে আমার জন্য?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"বাবার ড্রয়ার থেকে একটা ব্লেড নিয়েছি জ্যামিতি বক্সের ভেতর লুকিয়ে রেখেছি, এর পর যদি কোনদিন আমার গায়ে হাত তুলেনা আমি কিছু একটা করব অবশ্যই করব।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি আর পড়তে পারিনা চোখের পানিতে ডায়েরীর পাতা গুলো ভিজে যেতে থাকে। বনি ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আমি ডায়রিটা ওর হাতে দিয়ে রিশার ঘরে যাই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অন্ধকার ঘরে রিশা ঘুমচ্ছো আমি ওকে জড়িয়ে ধরে শুই," হয়তবা অনেক দেরী করে ফেলেছি তা বলে কি একেবারেই দেরী হয়ে গেল রে মা?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রিশা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, শেষ কবে মেয়ে কে এমন দৃঢ় আলিঙ্গন করেছি মনে করতে পারছিনা, তবে মাতৃত্ব কে অনুভব করতে পারছি, যে মাতৃত্ব শুধু সন্তানের সুখ ছাড়া কিছুই বুঝেনা। নিজের&amp;nbsp; সন্তান কে অবচেতন মনে দূরে দিয়েছি কখন বুঝতেই পারিনি। না হল মেয়েটা আমার সবার সেরা, না হল সভ্য শান্ত, হল না হয় একটু দূরন্ত থাকল না হয় একটু পিছিয়ে তাতে কি খুব ক্ষতি হবে? বাঁচার মত করে না বেঁচে প্রতিনিয়ত একটু একটু করে শেষ হয়ে যাওয়া থেকে কি হেসে খেলে কৈশরটা ওকে কাটাতে দেওয়াটা কি আমার খুব অন্যায় হবে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রিশা আমার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে, "মা তুমি কি ভয় পেয়েছিলে? আমার না তোমাদেরকে ছেড়ে কোথাও যেতে ইচ্ছে করেনা, কষ্ট হয় মা, তোমার জন্য তোমাদের সবার জন্য...."&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার বুকটা কেঁপে ওঠে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আচ্ছা আজ যদি রিশা একটা ভুল করে বসত তাহলে আমরা হয়তবা ভাবতাম বাবা মায়েরাতো একটু শাসন করবেই তা বলে সুইসাইড?? অথচ আমি কিনা নিজের অজান্তেই...... একি করছি বাবা মা হয়ে সন্তান কে শেষ করে দিচ্ছি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রিশার মত এমন হাজারো স্বেচ্ছায় হারিয়ে যাওয়া প্রাণ গুলোর ভেতরের গল্প আমাদের অজানাই রয়ে যায়। আমরা সুইসাইড টাই জানি সত্যটাকে জানিনা জানতে চাইওনা যে জীবন স্বেচ্ছায় গিয়েছে তাকে জেনে কি লাভ? এভাবেই লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট হতাশা থেকে প্রতিনিয়ত তৈরী&amp;nbsp; হয় নিত্য নতুন হারিয়ে যাবার সংবাদ। আর আমরা মেতে উঠি সেই ভুল করা মানুষটার ভুল গুলা ধরার কাজে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি মেয়ের কপালের চুলগুলা সরিয়ে পরম আদরে চুমু খাই, না ভুল বললাম মেয়ের কপালে না, চুমু খাই আমি আমার সন্তানের কপালে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখিকা: তারানা তাবাসসুম&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/8355090165320977851/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-short-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/8355090165320977851" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/8355090165320977851" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-short-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="শাসন | Bangla Short Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjb4ewoECe8cLOQRiGbURTGzdNDv_iGIllTk1XZ3vD5d0UUNDJ4rCJudroXLPlqyYU3GP81EsL17ggzpKae-D0kaQIl8qfjLD8kmC2iPszc3B6ZEBqoRMdb04Vh0pQYrbiWpcjkdNlwY3LmF_nsmevja3PefDT-6K0Ogqt9SsjsHmeWX8kYuKnPtPGf/s72-c/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-2957503484462832366</id><published>2022-11-04T00:37:00.000-07:00</published><updated>2022-11-04T00:37:16.767-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Comics"/><title type="text">অটোগ্রাফ | Bangla Funny Story | Comics | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj6I8Qz6plHVP9QVnpcFTym7UtbUJ33hVRPGK7OWXtxm5DmURtFy0JLjjExduZh8P-3yTc-Ijj3SoGYlpcHzcWMllfFXh4lb1R4aoDkTFuFNlEDlKSHy8f9QAznobJ_FTUy9kwQ_CahYM6YacsxC2isrWOLAQWYOTFrT5kHXQKotuQpDCwuX-ojd6aj/s1920/%E0%A6%85%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AB.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1271" data-original-width="1920" height="212" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj6I8Qz6plHVP9QVnpcFTym7UtbUJ33hVRPGK7OWXtxm5DmURtFy0JLjjExduZh8P-3yTc-Ijj3SoGYlpcHzcWMllfFXh4lb1R4aoDkTFuFNlEDlKSHy8f9QAznobJ_FTUy9kwQ_CahYM6YacsxC2isrWOLAQWYOTFrT5kHXQKotuQpDCwuX-ojd6aj/s320/%E0%A6%85%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AB.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;যখন আমি প্রচুর বিখ্যাত একজন লেখক তখন একদিন আমার বাসায় এক মেয়ে আসলো। সে পাকা ফ্লোরে জুতার খসখস শব্দ করতে করতে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, 'স্যার একটা অটোগ্রাফ হবে?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি বললাম, 'হ্যা কেনো নয়? দিন।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সে একটি ডাইরি বাড়িয়ে দিলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি ডাইরির মধ্য পৃষ্টায় লিখলাম, 'অনেক বছর আগে আমার দেয়া প্রেমপত্রটা যদি তোমার বান্ধবী নীলাকে না দিতে, তাহলে আজকে এভাবে গেট দিয়ে ঢুকতে গেটম্যান এত সমস্যা করত না। আমাকে স্যার স্যারই বা বলার দরকার পড়ত না। তখন বলতে, 'ওগো! একটা অটোগ্রাফ দাও না। সবাইকেই দাও, কই কোনোদিন তো আমাকে একটা দিলেনা।' তখন আমি আমার অটোগ্রাফে ভর্তি একটি বই বের করতাম। যেখানে শুধুই থাকতো আমার অটোগ্রাফ। তুমি কি ভেবেছো আমি তোমাকে চিনতে পারবো না? লেখকদের চোখ হচ্ছে শকুনের চোখের মত!&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এতটুক লিখে নিচে অটোগ্রাফ দিয়ে বললাম, 'নিন আপনার ডাইরি।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-'ধন্যবাদ!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মেয়েটি ডায়েরিটি হাতে নিয়ে পড়ল। তার চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে, সে খানিকটা চিন্তিত খানিকটা অবাক খানিকটা আফসোস এর মধ্যে আছে। পড়া শেষ করে একসময় বলল, 'আপনি আগের মতই ছ্যাচড়া রয়ে গেছেন। যত্তসব!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি মুচকি একটা হাসি দিলাম। যার অর্থ এমনটাও হতে পারে যে, 'হ্যা ঠিক বলেছো মেয়ে।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর আমি উঠে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে আমার স্ত্রীকে ডাক দিয়ে বললাম, 'নীলা! তোমার বান্ধবী আসছে, তাকে নাস্তা টাস্তা কিছু দাও।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;span style="font-size: medium;"&gt;Writer: Riaz Ahmed Sayem&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/2957503484462832366/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-funny-story-comics-boipoka365_4.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/2957503484462832366" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/2957503484462832366" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-funny-story-comics-boipoka365_4.html" rel="alternate" title="অটোগ্রাফ | Bangla Funny Story | Comics | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj6I8Qz6plHVP9QVnpcFTym7UtbUJ33hVRPGK7OWXtxm5DmURtFy0JLjjExduZh8P-3yTc-Ijj3SoGYlpcHzcWMllfFXh4lb1R4aoDkTFuFNlEDlKSHy8f9QAznobJ_FTUy9kwQ_CahYM6YacsxC2isrWOLAQWYOTFrT5kHXQKotuQpDCwuX-ojd6aj/s72-c/%E0%A6%85%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AB.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-5034011948107959374</id><published>2022-11-04T00:30:00.000-07:00</published><updated>2022-11-04T00:30:04.620-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Comics"/><title type="text">জব | Bangla Funny Story | Comics | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgmX5-Y4v30kYptiXxooCS7NxU3Kg6OAYf2auraWRvFwZ9xlj-y9WZaxk6mAqxDcLZX8b_K-jPcOwtMRA2hIA6u9voyR_ZVTnv_hG5qiRLk6UKDL-ocmNCtU1hGjiTyrdk4StzhbvIcZ7sEmq1XPf3w9u8tXOMhkIOwvmuAY9FRJxOXt2yv2txsuzv3/s1920/%E0%A6%9C%E0%A6%AC.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1459" data-original-width="1920" height="243" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgmX5-Y4v30kYptiXxooCS7NxU3Kg6OAYf2auraWRvFwZ9xlj-y9WZaxk6mAqxDcLZX8b_K-jPcOwtMRA2hIA6u9voyR_ZVTnv_hG5qiRLk6UKDL-ocmNCtU1hGjiTyrdk4StzhbvIcZ7sEmq1XPf3w9u8tXOMhkIOwvmuAY9FRJxOXt2yv2txsuzv3/s320/%E0%A6%9C%E0%A6%AC.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;হোয়াটসঅ্যাপে একটা জব অফার এসেছে..&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“এখন থেকে আপনিও ঘরে বসেই পারবেন ইনকাম করতে। দিনে নূন্যতম পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা উপার্জনের সুযোগ।&amp;nbsp; সাথে থাকছে উইকেন্ড বোনাস। আজই যোগাযোগ ০১৭......”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হিসাব করে দেখলাম, বোনাস টোনাস বাদ দিয়ে দিনে গড়ে সাত হাজার ধরলেও ত্রিশ দিনে দুই লাখ দশ হাজার টাকা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বেকারত্বের এই আকালের দিনে মাসের দুই লাখ টাকার সুযোগ কে ছাড়ে? সাথে সাথে যোগাযোগ করলাম। ওই প্রান্ত থেকে এক রূপালী কন্ঠের তরুনী বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“স্যার প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি আমাদের সাথে যোগাযোগের জন্য। আপনি জেনে খুশি হবেন আমরা দৈনন্দিন কলের ভিত্তিতে বেছে বেছে শুধুমাত্র অল্প কয়েকজনকেই রিক্রুট করেছি৷ আপনি তাদের মধ্যে একজন”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;... জ্বী আচ্ছা। কিন্তু আমার তো ডিগ্রী নাই। আমি কি পাবো চাকরিটা?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“কোন অসুবিধা নেই স্যার। আমাদের এমডি ডিগ্রিতে নয় কাজে বিশ্বাসী। আপনার শুধু দু'কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি-কার্ডের ছবি, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার, বিকাশ নাম্বার লাগবে। আমাদের একটা ফর্ম আছে। মূল্য সাড়ে তিনশ টাকা। সেটা পূরণ করলেই চাকরির জন্য এলিজেবল হবেন।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;..আচ্ছা ব্যাপারটা আমার ভাইয়াকে বুঝিয়ে বলবেন? তাহলে আমরা দুই ভাই একসাথে ফর্ম পূরন করবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“চমৎকার, সেক্ষেত্রে কিন্তু স্যার ফর্মের দাম কমে আসবে। দুজনের ৬০০ টাকা মাত্র”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;..বলেন কি? এতো এলাহি কান্ড। আপনি রাতে একবার কল দিতে পারবেন? ও আচ্ছা,আপনার নাম জানা হলো না?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রূপালি কন্ঠের অধিকারিনী তার নাম বললেন। উনার নাম রুপা। তিনি কথামতো রাতে কল দিলেন। প্রায় মিনিট বিশেক কথা বলার পর বললাম, রুপা ভাইয়া তো এখন বাসায় নেই। আমি সকালে টাকা পাঠাবো। সকালে ফোন দিয়েন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তিনি সকালে ফোন দিলেন। আমি তখন ভার্সিটি যাচ্ছি। যেতে যেতে কথা বললাম। আমার প্রথম বাক্যটাই ছিলো, রুপা তুমি কি জানো তোমার কন্ঠ রুপালি?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুপা হেসে বললো, কি যে বলেন না আপনি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;.. আরে না সত্যিই বলছি। তোমার কণ্ঠ রুপার কাসার মতো ঝনঝনিয়ে বাজে। কি যে ভালো লাগে শুনতে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুপা খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;... আচ্ছা রুপা বলেন তো মানুষের সবচাইতে আদিম প্রবৃত্তি কোনটা?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“জানি না ত স্যার.. উম.. কি?”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;..বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকে, সে টিকে থাকে। তবে বাঁচার জন্য সব সময় টাকার প্রয়োজন হয় না। মাঝে মধ্যে রূপালি কন্ঠের প্রয়োজন হয়, যে কন্ঠ জীবন দান করে, যে কন্ঠটা তোমার..&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“কি যে বলো না তুমি.. ওপস, মানে স্যার”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;..আরে না না, স্যার ডাকার কি প্রয়োজন। আমি তো জবটা পেলেই তোমার কলিগ হবো। নাম ধরেই ডাকো। আর শুনো, দুপুরে টাকা পাঠাচ্ছি। দুপুরে কল দিও কেমন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেদিন দুপুরেও টাকা পাঠাতে পারলাম না। তবে রাতে আমাদের অনেকক্ষণ কথা হলো। ইতিমধ্যে আমি আপনি থেকে তুমি তে নেমে এসেছি। রুপাও আমাকে স্যার থেকে নেমে নাম ধরে ডাকছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুপা ধৈর্য্য সহকারে আমাকে চাকরি দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে আছে। আমিও ধৈর্য্য সহকারে তার সেই চাকরি নেওয়ার চেষ্টায় আছি। আমাদের কথা বলার পরিমাণ বেড়ে গেলো। মাঝে মধ্যে আমরা আহ্লাদ করি। সে অভিমান করে, আমি অভিমান ভাঙ্গাতে বসে নিজে অভিমান করি। সে তখন উল্টো আমার অভিমান ভাঙ্গায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একমাস পরের কথা, রুপার সাথে আমার প্রেম জমে উঠেছে। ইতিমধ্যে, তার থেকে প্রায় হাজার পাঁচেক টাকা ধার নিলাম। তবে একবারে নয়, ধাপে ধাপে। আমার হাজারো বিপদ দেখাচ্ছি তাকে। কখনও মাকে হসপিটালে পাঠাচ্ছি, তো কখনও ভাইকে জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছি। টাকার প্রয়োজন আমার। বেঁচে থাকা প্রয়োজন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রুপা আমাকে বাঁচাচ্ছে। নিঃসংকোচে টাকা দিচ্ছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কারণ, রুপা এখনও বিশ্বাস করে আমি ছয়শ'ত টাকা বিকাশ করে ফর্ম ফিলাপ করবো।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমিও বিশ্বাস করি চাকরিটা আমি পাবোই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;span style="font-size: medium;"&gt;Writer:&amp;nbsp; Nahid Ashraf Uday&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/5034011948107959374/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-funny-story-comics-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5034011948107959374" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/5034011948107959374" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/bangla-funny-story-comics-boipoka365.html" rel="alternate" title="জব | Bangla Funny Story | Comics | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgmX5-Y4v30kYptiXxooCS7NxU3Kg6OAYf2auraWRvFwZ9xlj-y9WZaxk6mAqxDcLZX8b_K-jPcOwtMRA2hIA6u9voyR_ZVTnv_hG5qiRLk6UKDL-ocmNCtU1hGjiTyrdk4StzhbvIcZ7sEmq1XPf3w9u8tXOMhkIOwvmuAY9FRJxOXt2yv2txsuzv3/s72-c/%E0%A6%9C%E0%A6%AC.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-3794284066842426824</id><published>2022-11-01T05:24:00.003-07:00</published><updated>2022-11-04T21:05:53.231-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Love"/><title type="text">তনিমা | A One-sided Love Story | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;span style="letter-spacing: 0.2px;"&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;
  &lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjSOrF8Etb55RRfVE1_PUoXPegH-AdpIUMtGUZZ96HMK73SEgKswZH4F_9vlZmtCCMHy64tOm06C4g36QMnC7NaOq_I2r__tSCAl-eucQiLAy9WfP9XpiPz_a71jHqan70UFL7tLUeRx6E/s1600/1667621145782333-0.png" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;
    &lt;img border="0"   src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjSOrF8Etb55RRfVE1_PUoXPegH-AdpIUMtGUZZ96HMK73SEgKswZH4F_9vlZmtCCMHy64tOm06C4g36QMnC7NaOq_I2r__tSCAl-eucQiLAy9WfP9XpiPz_a71jHqan70UFL7tLUeRx6E/s1600/1667621145782333-0.png" width="400"&gt;
  &lt;/a&gt;
&lt;/div&gt;&lt;br&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;span style="letter-spacing: 0.2px;"&gt;ঢাবিতে মাত্রই ভর্তি হয়েছি। ইতিহাস। প্রথম পছন্দ ছিল আইন। হয়নি। কলাভবনের পশ্চিম সারির একটা রুমে প্রথম ক্লাস। হারুন স্যারের। নানান হাঙ্কিপাঙ্কির ভেতর ক্লাস শেষ হতেই ঢুকল সিনিয়র স্টুডেন্টরা। তারা আমাদের ভার্সিটির নিয়ম শেখাতে শেখাতে বরণ করে নিচ্ছে। তখনই নজরে এলো চোখ দুটো।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;br&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;তনিমা। আমাদের সাথে একই ক্লাসে! টিভিতে অভিনয় করে ও। আয়ত চোখ দুটো আলাওলের পদ্মাবতীকে মনে করিয়ে দেয়। মাথায় রেশম কালো চুল। ঠোঁটে আলতো রঙের ছোঁয়া। এই মেয়ের জন্য অনায়াসে জীবন দেয়া যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একটা সুযোগের অপেক্ষায় থাকি। চোখে পড়ার। সুযোগ আর আসে না। মনে ভাবি, তোমার চোখে কত ধুলো পড়ে! আমি কি তবে ধুলোরও যোগ্য নই!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! ওর জন্মদিনের অনুষ্ঠান করবে। ওদের বনানির বাসায়। যেতে হবে সবাইকে। আমি ওর একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি চাই। চোখ বড় করে মেয়েটা বলে, ছবি দিয়ে কি করবে? বললাম, লাগবে। দিলে ভাল হয়। ও বলল, তুমি চাইলে আমার বাসায় না ও আসতে পার। অত বাধ্যবাধকতা নাই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কি কথার কি উত্তর! মানুষের সাথে কেমন করে কথা বলতে হয়- কেউ বুঝি শেখায়নি ওকে! পরের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকিয়ে ছবির প্রয়োজন মেটালাম। এবার নো চিন্তা। এতেই কাজ হবে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিপত্তি বাধল ফাইনাল লিস্টের সময়। দাওয়াত দিয়েছে বলেই ত আর পুরো ক্লাস গিয়ে একটা বাসায় উঠতে পারে না! ঠিক হল পনের জন যাব। লিস্টে আমার জায়গা হল না। কিন্তু আমরা যেহেতু ডোন্ট মাইন্ড ফ্যামিলির পোলাপান- সমস্যা হল না একটুও। অনুষ্ঠানের দিন পনের জনের সাথে আমিও রওয়ানা দিলাম। সাথে একান্ত ব্যক্তিগত একটা গিফট।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পাঁচিল দেয়া আলিশান বাড়ি ওদের। সবুজ মাঠে সাদা খরগোশ দৌড়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের দেখে তনিমা দৌড়ে এল। সবাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল। আমাকেও কি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ওর চোয়াল শক্ত হল। তুই কেন এখানে? তোকে না বলেছি, না এলেও চলবে? পাশ থেকে দিয়া বলে উঠল, তুই তো আমাদের লিস্টে ছিলি না। তাও এসেছিস? আজব! তনিমা বলল, ওখানে স্ন্যাকস রাখা আছে। খেয়ে দূর হ। এসব ম্যানারলেস পোলাপান থাকলে অনুষ্ঠানটাই পণ্ড হয়ে যাবে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তনিমা আর দিয়া চলে গেছে বেশ কিছুক্ষণ হল। আমি অচল পয়সার মত জায়গায় পড়ে রইলাম। লুৎফর এসে ডাক দিল, ওখানে কি করছিস? এদিকে আয়। লুৎফরের কাঁধে ব্যাগ। আমার গিফট ওর ব্যাগে চালান করে বললাম, কাউকে না জানিয়ে ওর গিফটের সাথে এটা রেখে দিস। আমাকে এখনি জরুরি কাজে যেতে হচ্ছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হাঁটতে হাঁটতে বনানি বাসস্ট্যান্ডে এলাম। সিনেমা হ'লে পরিচালক এখানে বৃষ্টির সিন রাখত, নিশ্চিত। আমার বুক ফেটে কান্না আসছে। অথচ কাঁদতে পারছি না। একটা গান মনে পড়ল, ভালবেসে আমি পাথরে ফোটাতে চেয়েছি ফুল- আমারই তো ভুল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একটা বাস এসে সামনে থামল। মধুপুর। কিছু না ভেবেই উঠে বসলাম। কখন ঘুমিয়েছি, মনে নাই। যখন ঘুম ভাঙল বাস দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে অন্ধকার। পকেট হাতড়ে টের পাই, মানিব্যাগ উধাও।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাস থেকে বেরিয়ে আশপাশে কাউকে পেলাম না। কেউ নেই কোথাও। হঠাৎ ভয় ধরল মনে, কিডন্যাপ হলাম না তো! এ সময় অন্ধকার ফুড়ে বেরিয়ে এল একজন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-ঘুম ভাঙল? এমন মরার ঘুম কেউ ঘুমায়? এই নেন মানিব্যাগ। ভাড়ার একশ’ বিশ টাকা রেখে দিছি। - হাত বাড়িয়ে মানিব্যাগ নিলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-রাতে কই থাকবেন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-এইটা কোন জায়গা ভাই?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-মধুপুর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-বাসস্ট্যান্ড কই?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-বাসস্টান্ডে সবাইরে নামায়া বাস নিয়া আসছি এইখানে। আপনারে কত ঠেললাম তখন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উঠলেন না তো!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-বাসস্ট্যান্ড কতদূর এইখান থেকে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-এক কিলো হবে। আপনে এক কাজ করেন রাইতটা আমার ঘরেই থাইকা যান। সকালে বাসস্ট্যান্ডে যাইয়েন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মধুপুরে আনারস ক্ষেতে কাজ করে একটা মাস কাটিয়ে দিলাম। চেনা দুনিয়া তখন আমার কাছে এক অর্থহীন বাস্তবতা। সাফল্য, প্রতিপত্তি, জৌলুস সবই মনে হচ্ছিল এক গাঢ় প্রহেলিকার নাম। সে রাতে বাস কন্ডাক্টর দুলালের বাড়ি ছিলাম। সকালে উঠে আর স্ট্যান্ডে যেতে ইচ্ছে করল না। ওদের গ্রামের কিছু লোক তখন দল&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বেঁধে যাচ্ছিল আনারস ক্ষেতে। আমিও সাথী হলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দিনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর রাত নামার সাথে সাথে দুটো খেয়ে ঘুম। কোন কোন রাতে হ্যাজাক বা হারিকেন জ্বালিয়ে গানের আসর। এক আসরে গান ধরলাম। বুক চিরে বেরিয়ে আসা সুরে মথিত হল দিগন্ত। আমার বুকের মধ্যিখানে মন যেখানে হৃদয় সেখানে। তারপর থেকে খাতির যত্ন একটু বেশি পেতে শুরু করলাম। আমার ভাগের কাজটুকু অন্যরা করে দিতে চাইত প্রায়। আমি সমানে পাল্লা দিয়ে করার চেষ্টা করতাম। পারতাম না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একদিন দুলাল খবর আনলো, পাশের গ্রামে মেলা বসেছে। গান আর নাচের আসরের সাথে আছে জুয়া আর মদের আসর। আমি চাইলে যেতে পারি। এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম। দুলালের বোন আম্বিয়া নিষেধ করল। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সন্ধ্যা হতেই&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমরা দু’জন দৌড়ে গেলাম মেলায়। দুলাল প্রথমেই আমাকে নিয়ে গেল, মদের আসরে। সেখানে কোমড় দুলিয়ে দুটো থার্ড ক্লাস নর্তকী নাচছে। ছ্যা! এগুলা দেখার মত নাচ! ওকে বললাম, গানের আসরে চল। এগুলো ভাল লাগছে না। ও বলল,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-একটু মদ খেয়ে নাও। তারপর গান শুনতে যাব।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-কিন্তু আমি তো মদ খাই না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-মদ না খেলে হালকা হবে কিভাবে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দুলালের বোন ওকে বলেছে, আমি অনেক কষ্ট পেয়ে বাড়ি পালিয়েছি। দুলাল বলেছিল, হয়ত খুন করে পালিয়েছি। আম্বিয়া বাজী ধরে বলেছে, ছ্যাকা খেয়েই পালিয়েছি আমি। দুলাল আমাকে মদ খাইয়ে মনের কথা শুনতে চায়। এতদিন চেষ্টা করেও পারেনি। আজ যদি মেলার উসিলায় সেটা হয়! কিন্তু আপনারাই বলেন, আমার সাথে যা ঘটেছে তা কি কাউকে বলবার মত কথা!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পরদিন কাজ থেকে ফিরে দেখি দুলালের বাসায় এক মেম বসে আছে। প্রথমে চিনতে পারলাম না। লুৎফরকে দেখে চিনলাম। তনিমা তুমি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেদিন সবার অগোচরে লুৎফর আমার গিফটটা তনিমার জন্মদিনে পাওয়া অন্যান্য গিফটের মধ্যে রেখে দিয়েছিল। সবাই যখন ডিনারে বসেছে, কি মনে করে গিফটগুলো খুলে খুলে দেখতে শুরু করল তনিমা। দেখতে দেখতে একটা গিফট দেখে চমকে উঠল। কেউ একজন ওর ছবি এঁকেছে। গ্রামীণ পটে আঁকা পৃথিবীর বয়সিনী এক নারীর ছবি। ছবির নীচে ক্যাপশন দেয়া-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সুরঞ্জনা ! আজো তুমি আমাদের পৃথিবীতে আছো, পৃথিবীর বয়সিনী তুমি এক মেয়ের মত। কালো চোখ মেলে ওই নিলীমা দেখেছ। গ্রীক হিন্দু ফিনিসীয় নিয়মের রূঢ় আয়োজন শুনেছ ফেনিল শব্দে তিলোত্তমা&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নগরীর গায়ে।- জীবনানন্দ দাশ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিফটটা তার এতই পছন্দ হয়েছে যে, সেটা সবাইকে দেখালো। তারপর জানতে চাইলো, কে এনেছে এই গিফট। কিন্তু কেউ স্বীকার করল না। এমনকি লুৎফরও। কারণ ও তো আর আমার গিফট খুলে দেখেনি। যখন কেউ স্বীকার করল না- লুৎফর বলল, দিপ্র আমাকে একটা গিফট দিয়ে বলেছিল, কাউকে না জানিয়ে অন্যান্য গিফটের মধ্যে রেখে দিতে। কিন্তু আমি নিশ্চিত না এটা ওর গিফট কিনা। অবশেষে সবার গিফটের লিস্ট করে ওরা নিশ্চিত হল, এটা আমারই গিফট।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দিন দুয়েক বাদে তনিমা ক্লাসে দাঁড়িয়ে আমার কাছে মাফ চাইল। আমাকে অপমানের জন্য নিজেকে ধিক্কার দিল। আমার আঁকা ছবিটা ওর জীবনে পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে উল্লেখ করল। কিন্তু আমি কোথায়? আমি তো ক্লাসে নেই। শুরু হল খোঁজ!&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জানা গেল, ওই দিনের পর আমাকে আর হলে দেখা যায়নি। তনিমাদের বাড়ির গার্ডের ছেলে জানালো, আমাকে এষা পরিবহণে উঠতে দেখেছে। গাড়িটি যাচ্ছিল, মধুপুর। এষা পরিবহণের প্রত্যেকটা বাসের সাথে কথা বলতে বলতে অবশেষে আবিষ্কার করেছে, আমার এই নিভৃতবাস!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তনিমা! আয়ত চোখের সেই অনিন্দ্য সুন্দরী! আমার সামনে এখন চুপ করে বসে আছে। চোখ গড়িয়ে নেমে আসছে অশ্রু। আমি লুৎফরের মুখের দিকে তাকাই। লুৎফর বলে, হলে চল দোস্ত! এই জীবন তোর জন্য না। কিন্তু লুৎফর কি জানে কার হৃদয়ের তন্ত্রী কোন সুরে জেগে ওঠে? আমার কাছে এখন আম্বিয়া আর তনিমার কোন ভেদ নেই। ভেদ নেই প্রাসাদ আর বটতলার। আমার কাছে এখন জীবন এক বহতা নদীর নাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বয়ে চলাই যার ধর্ম। এর বুকে নৌকা ভাসল নাকি জাহাজ ভাসল নাকি নিঃসীম শূন্যতা ঝুলে থাকল তাতে নদীর কি এসে যায়!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এক চোখ অশ্রু নিয়ে তনিমা ফিরে যাচ্ছে। চৌকাঠের ওপাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে আম্বিয়া। ও কি ভাবছে আমি ওর প্রেমে মজে থেকে যাচ্ছি? হায়রে মানুষ! এত সহজেই অন্যকে বিচার করা যায়?&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সূর্যটা গাঢ় হতে হতে টুপ করে জঙ্গলের ওপাশে হারিয়ে&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গেল। আমি এক পোশাকে দুলালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখক: দিপ্র হাসান&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/3794284066842426824/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/one-sided-love-story-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3794284066842426824" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/3794284066842426824" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/11/one-sided-love-story-boipoka365.html" rel="alternate" title="তনিমা | A One-sided Love Story | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjSOrF8Etb55RRfVE1_PUoXPegH-AdpIUMtGUZZ96HMK73SEgKswZH4F_9vlZmtCCMHy64tOm06C4g36QMnC7NaOq_I2r__tSCAl-eucQiLAy9WfP9XpiPz_a71jHqan70UFL7tLUeRx6E/s72-c/1667621145782333-0.png" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-1129268260009182399</id><published>2022-10-31T02:03:00.000-07:00</published><updated>2022-10-31T02:03:21.261-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Thriller Story"/><title type="text">Postpartum Psychosis | এক ভয়াবহ মানসিক রোগ | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjIJcmdX60_orrG7zhI8g-ShZJO09R-CJFXA25VouUtPQoUNKlgyzrK1ULtWe-BRDpzVar19LSyjfWWPRuEjFM_TiOJuaf3IaSQvje-7amUX0P3Q1ciVFln7UhtWdKkwrUcUnMCC75xFqbk8dqh6yPeXcXpGvHH2QdXCcmBum7ukKt2tO8hzOsch7J1/s1920/postpartum%20psychosis.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1280" data-original-width="1920" height="213" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjIJcmdX60_orrG7zhI8g-ShZJO09R-CJFXA25VouUtPQoUNKlgyzrK1ULtWe-BRDpzVar19LSyjfWWPRuEjFM_TiOJuaf3IaSQvje-7amUX0P3Q1ciVFln7UhtWdKkwrUcUnMCC75xFqbk8dqh6yPeXcXpGvHH2QdXCcmBum7ukKt2tO8hzOsch7J1/s320/postpartum%20psychosis.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;"চলো আমরা বাচ্চাটা মেরে ফেলি! তা না হলে এই বাচ্চা বড় হলে আমাদের একদিন মেরে ফেলবে!"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভেবেছিলাম লিমা কথাটা মজা করে বলেছে। কিন্তু বাচ্চার দিকে যখন সে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তখন আমি নিজেও কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার স্ত্রী লিমা প্রথমবার মা হয়েছে। আর মা হবার পর থেকেই তার মাঝে অদ্ভুত সব আচরণ লক্ষ্য করছি! সে সারারাত ঘুমায় না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সদ্যজাত সন্তানের প্রতি তার বিন্দু পরিমাণ মায়া কাজ করে না। কিভাবে নিজের সন্তানকে মেরে ফেলবে কিংবা ক্ষতি করবে এটা নিয়েই সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাঝরাতে কিছু একটার শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। খেয়াল করে দেখি লিমা বাচ্চাকে নিয়ে দরজা খুলে বাইরে বের হচ্ছে!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যখন জিজ্ঞেস করলাম- কোথায় যাচ্ছো তুমি? সে কিছু না বলে বাচ্চাকে নিয়ে দৌঁড়ে চলে গেলো। আমিও তার পেছন পেছন ছুটলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পুকুর পাড়ে এসে দেখি সে বাচ্চাকে পুকুরে ফেলে দিতে চাইছে! আমি জোর করে তার কোল থেকে বাচ্চাকে কেড়ে নিয়ে বললাম– কি হয়েছে তোমার? তুমি এমন করছো কেন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লিমা কিছু না বলে আমার কাছ থেকে বাচ্চা নেওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে লাগলো। আমি আর সহ্য করতে না পেরে তার গালে থাপ্পড় মেরে বললাম- আরে ও তোমার নিজের বাচ্চা। এই মাসুম বাচ্চাকে মারার এতো শখ কেন তোমার?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লিমা তখন জ্বিব বের করে কেমন জানি অস্বাভাবিক আচরণ করতে লাগলো। আমার চিৎকার-চেঁচামেচিতে মা- বাবাও ছুটে আসলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মা লিমার অবস্থা থেকে ভয় পেয়ে বললো- তোর বউয়ের গায়ে খারাপ বাতাস লেগেছে, ভূতে ভর করেছে তোর বউয়ের উপর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কতোবার বলেছি খোলা চুলে বাড়ির পিছনে না যেতে। কিন্তু তোর বউ তো আমার কোন কথাই শুনে না। ভূত তাড়ানোর জন্য এখনই বাড়িতে কবিরাজ আনতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যদিও আমি এসব ফকির-কবিরাজ বিশ্বাস করি না। কিন্তু এই মুহুর্তে লিমার অবস্থা দেখে আমার বিশ্বাস না করেও উপায় নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কবিরাজ এসে লিমাকে দেখে বললো- এই মেয়েকে তো দেখছি আবড়া পিশাচে ধরেছে। এজন্যই তো কথা বলতে পারছে না!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সমস্যা নেই, আমি হাতের তুড়িতেই এই পিশাচকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করছি। শুধু আমাকে একটা শক্ত দেখে লাঠি দেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কবিরাজকে লাঠি দিলে সে মনে মনে কিছু একটা বলে আমার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করলো। আমি রেগে গিয়ে কবিরাজকে বললাম- আপনি আমার স্ত্রীকে মারছেন কেন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কবিরাজ মুচকি হেসে বললো- বাবাজি, যে জিনিস বুঝো না সে জিনিস নিয়ে কোন কথা বলো না। আঘাত তো তোমার বউ পাচ্ছে না। তোমার বউয়ের উপর যে পিশাচ ভর করেছে আঘাত সব ওই পিশাচটাই পাবে!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কবিরাজের কথা শুনে বাবা রেগে আমাকে বললো- বউয়ের প্রতি তোর এতো পিরিত দেখাতে হবে না। তোর যদি সহ্য না হয়, তুই সামনে থেকে চলে যা। কবিরাজকে উনার মতো কাজ করতে দে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি আর কাউকে কিছু বলতে পারছিলাম না, কারণ এই মুহুর্তে কেউ আমার কথা শুনবে না। কবিরাজকে দেখলাম এলোপাতাড়ি আমার বউয়ের গায়ে আঘাত করছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বুঝতে পারছিলাম লিমার খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু ওর মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছিলো না। কবিরাজ একটা সময় কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললো- এটা তো দেখছি খুব তেন্দর পিশাচ। কিছুতেই গা থেকে নামছে না। ওরে এখন আমি জনমের শিক্ষা দিবো!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কবিরাজ তখন একটা মাটির পাত্রে ধূপ আর শুকনা মচির পুঁড়ে সেই ধোঁয়াটা জোর করে আমার স্ত্রীর নাকে মুখে দিচ্ছে। স্ত্রীর উপর এমন অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছিলাম না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাড়ির সামনে এসে আমার বাচ্চার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলাম- বাবরে আগে যদি জানতাম তোকে জন্ম দিলে তোর মায়ের এমন অবস্থা হবে, তাহলে তোকে কখনোই এই পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখাতাম না!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পরদিন সকালে খেয়াল করি আমার স্ত্রীর হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা। সারা হাতে ওর মারের দাগগুলো কালো হয়ে আছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি নিজের কান্নাটা কোন রকমে চেপে রেখে ওর এলো-মেলো চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম– তুমি একবার বলো তোমার কিছু হয় নি, বিশ্বাস করো কেউ তোমার গায়ে টোকা দেওয়ারও সাহস পাবে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লিমা তখন অন্য দিকে তাকিয়ে হাসছিলো আর বলছিলো- দেখো, এখানে কতোগুলো হাতি!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অথচ এখানে হাতির কোন অস্তিত্বই নেই! লিমা হাসছিলো আর ওর হাসি দেখে আমি আর কান্না চেপে রাখতে পারি নি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শহরে সবচেয়ে বড় সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে গিয়ে যখন আমার স্ত্রীর সমস্যাটা পুরোটা বললাম, তখন উনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন- আপনার স্ত্রীর POSTPARTUM PSYCHOSIS-এ আক্রান্ত (পোস্টপারটাম সাইকোসিস) হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এটা খুব বিরল ভয়াবহ মানসিক রোগ৷ সন্তান প্রসবের পর কিছু মায়ের এ রোগ দেখা দেয়৷ সদ্য সন্তান প্রসব করা মা তখন এমন কিছু জিনিস বিশ্বাস করে যার বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথমবার সন্তান প্রসবের পর প্রতিটা মহিলারই কিছুটা অস্বস্তি, দুর্বলতা, মানসিক চিন্তা কম-বেশি থাকে, যা অল্প সময়ে সেরে যায়৷ তবে Postpartum Psychosis ভয়াবহ জিনিস!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রোগটির সঠিক কারণ এখনও অজানা৷ তবে চিকিৎসাবিদদের মতে- সন্তান প্রসবের পর মাতৃদেহে বড় পরিবর্তন হয়, তখন কোনো আকস্মিক হরোমনীয় পরিবর্তনের কারণে এমন হতে পারে৷&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চোখের কোণে জমে থাকা জলটা মুছে ডাক্তারকে বললাম– এই রোগের চিকিৎসা কি নেই?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডাক্তার মুচকি হেসে বললেন- অবশ্যই আছে। আমরা আমদের যথাযথ চেষ্টা করবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;২ মাস পর…&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আজ আমার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ। যে সন্তানকে আমার স্ত্রী মেরে ফেলতে চেয়েছিলো, সেই সন্তান একটু কান্না করলেই আমার স্ত্রী অস্থির হয়ে পড়ে। সারাক্ষণ বাচ্চাকেই নিয়ে পড়ে থাকে। পরম মমতায় বড় করছে আমাদের সন্তানকে…&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া কোন মা যদি এমন অস্বাভাবিক আচরণ করে, তবে তাকে কোন ভন্ড কবিরাজ বা ফকির না দেখিয়ে ভালো কোন সাইক্রিয়াটিস্টের পরামর্শ নিন। কুসংস্কার বিশ্বাস করে স্ত্রী উপর অমানবিক অত্যাচার করবেন না—&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(&amp;nbsp;সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখা:&amp;nbsp;আবুল বাশার পিয়াস&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/1129268260009182399/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/postpartum-psychosis-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1129268260009182399" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1129268260009182399" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/postpartum-psychosis-boipoka365.html" rel="alternate" title="Postpartum Psychosis | এক ভয়াবহ মানসিক রোগ | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjIJcmdX60_orrG7zhI8g-ShZJO09R-CJFXA25VouUtPQoUNKlgyzrK1ULtWe-BRDpzVar19LSyjfWWPRuEjFM_TiOJuaf3IaSQvje-7amUX0P3Q1ciVFln7UhtWdKkwrUcUnMCC75xFqbk8dqh6yPeXcXpGvHH2QdXCcmBum7ukKt2tO8hzOsch7J1/s72-c/postpartum%20psychosis.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-4086004437469149510</id><published>2022-10-31T01:48:00.000-07:00</published><updated>2022-10-31T01:48:05.135-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Mysterying Story"/><title type="text">রহস্য | Mystery | Boipoka365</title><content type="html">&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhVrwl1f9gfuYIxK9fbwMgJ1mtQNV2ZX1PHgUdl-sH0IDTeoAtyCamjO_rG1RstKCtVw9MVNtDzw8At2e5TiCOg_UrHFx8c6RJH9-Gqw3UOmM5po08UYqlloKZ1xGNw_3FMTBBN4dHdnzeTinvrhe94aWz_VDysSBFI6laDGkWNiCTeFhgDL_XLT1VV/s1920/%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1348" data-original-width="1920" height="225" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhVrwl1f9gfuYIxK9fbwMgJ1mtQNV2ZX1PHgUdl-sH0IDTeoAtyCamjO_rG1RstKCtVw9MVNtDzw8At2e5TiCOg_UrHFx8c6RJH9-Gqw3UOmM5po08UYqlloKZ1xGNw_3FMTBBN4dHdnzeTinvrhe94aWz_VDysSBFI6laDGkWNiCTeFhgDL_XLT1VV/s320/%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার বড় বোনের নাম শম্পা।শম্পা আপুর বিয়ে হয়েছিল খুব ভালো ঘরে। ওখানে ছ'বছর সংসারও করেছে। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। আপুর এই ছ' বছরের বৈবাহিক জীবনে কোন সন্তান- সন্ততি হলো না।ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে অবশ্য দুলাভাই ভুল করেনি। কিন্তু ডাক্তার বলেছে আপুর সমস্যা আছে।তার সন্তান হবে না কখনো। শেষ মেষ একটা করুন কাহিনী ঘটেছে। আমার নম্র ভদ্র দুলাভাই তার মায়ের প্ররোচনায় একদিন আমার বোনকে তার বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দিয়েছে।আপু নাকি অপয়া এবং অলক্ষ্মী। তাকে ওই বাড়িতে রাখলে নাকি বাড়ির অমঙ্গল হবে। তাছাড়া দুলাভাই আরেকটা বিয়ে করবে। তার সন্তান প্রয়োজন। সুতরাং ওখানে উটকো ঝামেলা হিসেবে আপুকে রাখার কোন প্রশ্নই আসে না!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শেষমেষ বাবাকে খবর দিয়ে নিলো আপুর শাশুড়ি। তারপর এক রকম অপমান করেই বাবার সাথে আপুকে দিয়ে দিলো।বাবা ওখান থেকে যে দুঃখ পেয়ে এসেছেন তা তাকে কাবু করে বসে। এবং তিনদিন পর স্ট্রোক করে এই জগতের মায়া ত্যাগ করেন তিনি!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর থেকে আমি আপু আর মায়ের সংসার। খুব ভালো যাচ্ছিলো আমাদের দিনগুলো।আমরা সব সময় হাসি খুশি এবং আনন্দে রাখতাম আপুকে।কষ্টের কথা তাকে কিছুতেই মনে করতে দিতাম না। কিন্তু সমস্যাটা বাঁধলো আমার বিয়ের পর। বিয়ের পর প্রথম এক বছর আমার স্ত্রী ভূবন আপুর সাথে খুব ভালো আচরণ করতো। কিন্তু যখনই ওর গর্ভে সন্তান এলো তখন থেকেই দেখলাম ওর আচরণ বদলে যেতে। আপুর সাথে সে কথাই বলে না। আপুর হাত থেকে কিছু খেতে চায় না। একদিন আপু এক বাটি আচার নিয়ে গিয়ে বললো,'ভূবন, তোমার জন্য আচার এনেছি।খাও।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার স্ত্রী ভূবন সেই আচারের বাটি জানলা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়ে বললো,'আর কখনোই আপনি আমার কাছে আসার সাহস করবেন না! আমাকে কিছু খেতেও দিবেন না বলছি!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মা দৌড়ে এসে বললো,'কী হয়েছে বউ?কী সমস্যা?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভূবন বললো,'আপনার মেয়েকে আমার কাছে আসতে নিষেধ করবেন।মা বলেছে যেসব মেয়ের বাচ্ছা হয় না তারা যদি প্রেগন্যান্ট মেয়েদের কাছে আসে, কিছু খেতে দেয় তবে নাকি প্রেগ্নেন্সি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ওর মুখ থেকে এসব কথা শোনে আপু আর মা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সে রাতে ঘরে ফিরতেই মা আমার কাছে সব খুলে বললো।শুনে আমি রাগান্বিত হয়েছি। কিন্তু আমি জানি রাগ নিয়ে ভূবনকে কিছু বললে এর ফল শূন্যই হবে। ওকে বুঝাতে হবে কোমল ভাবে। নয়তো সে অনুভব করতে পারবে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেদিন আমি আর নিজ থেকে কিছু বললাম না। বরং ভূবন নিজেই আমার কাছে বললো,'শুনুন,মা বলেছে এই কদিন আপুর থেকে দূরে থাকতে। তার হাতের কিছু না খেতে। এই সময় নাকি একটু সেইফে থাকতে হয়!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসার চেষ্টা করে বললাম,'কেন দূরে থাকতে হয়?কেন ওর হাতের কিছু খাওয়া যাবে না?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'আপু যে বাজা! সন্তানহীন! এই জন্য!মা বলেছে।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম,'কুরান হাদিসে এসব আছে?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভূবন বললো,'আমি তো পড়িনি।জানি না। থাকতে পারে। নয়তো মা বললো কেন?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি হাসলাম। হেসে বললাম,'এসব কুসংস্কার। বিশ্বাস করলেও পাপ হবে। এখন থেকে আপুর কাছে যাবে।সে যা দেয় তা খাবে। সন্তান সুষ্ঠু ভাবে জন্ম দানের মালিক আল্লাহ!আর আপুকে তুমি বাজা বলতে পারো না।আমি আপুকে আবার বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।দেখো আপু ঠিক সন্তানের মা হবে।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর থেকে ভূবন আপুর সাথে আর খারাপ আচরণ করেনি। এবং সবচেয়ে সুন্দর ব্যপার হলো আপুর কাছে ভূবন সব সময় যাওয়া আসা করা এবং তার হাতের খাবার গ্রহণ করা সত্ত্বেও তার ঘর থেকে একটি সুস্থ সবল শিশুই জন্ম গ্রহণ করেছে। এরপর তাকে আমি বললাম,'ভূবন, বলেছিলাম এসব কুসংস্কার?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভূবন সেদিন খুব লজ্জিত হয়েছিল। এবং আপুর কাছে হাত ধরে মাফ চেয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আপুকে বিয়ে দেয়ার জন্য মনে মনে একজন পাত্র খুঁজছিলাম আমি। কিন্তু পাত্র কিছুতেই যেন মিলছিলো না।একে তো আপু সন্তানহীনতার অভিযোগে স্বামীর কাছ থেকে তালাকপ্রাপ্তা হয়েছে। দ্বিতীয় হলো তার বয়স ত্রিশ পেরিয়ে পয়ত্রিশের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে। এমন মেয়েকে কে বা যেচে বিয়ে করতে চায়!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু আল্লার কী অসীম কৃপা! একদিন বিকেল বেলা শহরের এক হুজুর এলেন আমাদের ঘরে।তার পরনে লম্বা জুহ্বা। মাথায় সাদা পাগড়ি। চেহারা উজ্জ্বল ফর্সা। বয়সে নিতান্তই যুবক। তাকে সাথে নিয়ে এসেছেন আমাদের গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তাদেরকে বসতে দেয়া হলো।চা শরবত দেয়া হলো।এক পর্যায়ে ইমাম সাহেব শহুরে হুজুরকে দেখিয়ে বললেন,'বাবা মাহমুদ,ইনি হলেন ডাক্তার ফররুখ মিসবাহ। শিশু বিশেষজ্ঞ।'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইমাম সাহেবকে আর বলতে হলো না।আমি বললাম,'উনার নাম কতো শুনেছি। ময়মনসিংহ বিভাগে উনার চেয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ বড় ডাক্তার আর কেউ নাই!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইমাম সাহেব গাঢ় হাসলেন। তারপর বললেন,'ডাক্তার সাহেব কীভাবে যেন তোমার বোনের বিষয়ে শুনেছেন। তারপর খোঁজ খবর নিয়ে এখানে এসেছেন। আমার সাথে কথা বলেছেন।উনি এখনও অবিবাহিত। ভালো মেয়ে খুঁজছিলেন। কিন্তু কার কাছে যখন শুনলেন তোমার বোনের বিষয়ে যে সন্তান হয়নি বলে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে এবং আর কোথাও তার বিয়েও হচ্ছে না এটা শোনার পর থেকেই নাকি তিনি অনেক চিন্তা ভাবনা করেছেন।উনি তার মায়ের সাথে পরামর্শ করেছেন। পরামর্শ করে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শম্পার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবেন। এসেছেনও তিনি। এখন তোমাদের যদি কোন অমত না থাকে তবে আলহামদুলিল্লাহ!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি সবকিছু শোনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলাম। কোন কথা বলতে পারছিলাম না।বোকার মতো আমি গিয়ে ডাক্তার ফররুখ মিসবাহের হাত ধরে কেঁদে ফেললাম। কাঁদতে কাঁদতে বললাম,'আপনি আমার বোনের এতো বড় উপকার করবেন! আপনি মহান মানুষ!মহৎ মানুষ!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডাক্তার ফররুখ মিসবাহ আমায় তার বুকে জড়িয়ে নিলেন। তারপর বললেন,'আমাদের নবীজি সাঃ এর বেশিরভাগ স্ত্রীগণই ছিলেন বিধবা এবং সমস্যাগ্রস্থ । তাদেরকে তিনি বিয়ে করে আমাদের শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। তাছাড়া আমি এটা কখনোই বিশ্বাস করি না যে সন্তানহীনতার জন্য শুধুমাত্র আপনার বোন দায়ী। সন্তান দানের মালিক মহান আল্লাহ। তিনি হযরত ইব্রাহীম আঃ এর স্ত্রীকে শেষ বয়সে সন্তান দান করেছিলেন। সুতরাং যে আল্লাহ ইব্রাহিম আঃ এবং তার স্ত্রীকে শেষ বয়সে সন্তান দান করতে পারেন সেই আল্লাহ অবশ্যই আপনার পয়ত্রিশ বছর বয়সী বোনকে সন্তান দান করতে পারেন।আর যদি তার ইচ্ছে না হয় তবে সন্তান দিবেন না। সন্তান না হলেই একটা সংসার ভেঙ্গে দিতে হবে?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শম্পা আপুর বিয়ের কোন রকম সম্ভাবনাই ছিল না।পাড়া প্রতিবেশীরাও বলতো কোনদিন তার বিয়ে হবে না। কিন্তু শেষমেষ তার এমন ছেলের কাছে বিয়ে হলো যে কি না ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে বড় নামকরা ডাক্তারদের একজন। এবং এরচেয়ে আশ্চর্য জনক বিষয় হলো বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই আমরা খুশির সংবাদ শুনলাম।আপু কনসিভ করেছে।সবাই শুনে অবাক। আনন্দে আত্মহারা। সময় পেরিয়ে আপু একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানও জন্ম দিয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমরা সবাই আপুদের বাসায় গিয়েছি।আপুর আজ বড় আনন্দের দিন। আমাদের দেখে আপু কাঁদতে শুরু করলো। এই কান্না দুঃখের নয়। আনন্দের। এই সময় দুলাভাইও এখানে এসে উপস্থিত হলো। এবং আমায় উদ্দেশ্য করে বললো,'কী মাহমুদ, বলেছিলাম না যে আল্লাহ ইব্রাহিম আঃ কে বৃদ্ধ বয়সে সন্তান দান করতে পারে সেই আল্লাহ তোমার পয়ত্রিশ বছর বয়সী বোনকেও সন্তান দান করতে পারেন?'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি দুলাভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলাম। হাসতে গিয়ে আমি টের পেলাম আমার চোখ ভিজে উঠেছে জলে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সে রাতে আবার ভূবনের সাথে কথা হলো আমার। ভূবন আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো,'মাহমুদ, আল্লাহর রহস্য বোঝা সত্যিই দায়!'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;( সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখা: অনন্য শফিক&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/4086004437469149510/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/mystery-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/4086004437469149510" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/4086004437469149510" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/mystery-boipoka365.html" rel="alternate" title="রহস্য | Mystery | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhVrwl1f9gfuYIxK9fbwMgJ1mtQNV2ZX1PHgUdl-sH0IDTeoAtyCamjO_rG1RstKCtVw9MVNtDzw8At2e5TiCOg_UrHFx8c6RJH9-Gqw3UOmM5po08UYqlloKZ1xGNw_3FMTBBN4dHdnzeTinvrhe94aWz_VDysSBFI6laDGkWNiCTeFhgDL_XLT1VV/s72-c/%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-4652463807280695533</id><published>2022-10-31T01:35:00.000-07:00</published><updated>2022-10-31T01:35:12.953-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Relationship"/><title type="text">নক্ষত্রের গল্প | Relationship | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh_SQUVG6ER9ZDkmlEO9qTxhtFnBnC4HFzGMZ43F7RSbuSyqkkJ8-q9JuPEbzxDqaAB-Cv54ctzyGJ_68PxyaCl22Ux5Onuy53pd6qRyaccpmPh17mdFEKwg9j6Vk9CCz7JRd3Y1AWvi5nfvPfRrG1mhU-fzE4J253WN_9Okq1nUmnhk0UokqZWa14p/s1920/%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1280" data-original-width="1920" height="213" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh_SQUVG6ER9ZDkmlEO9qTxhtFnBnC4HFzGMZ43F7RSbuSyqkkJ8-q9JuPEbzxDqaAB-Cv54ctzyGJ_68PxyaCl22Ux5Onuy53pd6qRyaccpmPh17mdFEKwg9j6Vk9CCz7JRd3Y1AWvi5nfvPfRrG1mhU-fzE4J253WN_9Okq1nUmnhk0UokqZWa14p/s320/%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;তোমার সাথে আমি আর এক মুহূর্তও থাকবো না। ৬ মাস হয়েছে বিয়ের এই ৬ মাসে কয়বার বাহিরে নিয়ে গিয়েছো? আমার কি মন চায় না স্বামীর সাথে বাহিরে ঘুরতে সময় কাটাতে? বন্ধের দিনেও তোমার অফিস যাওয়া লাগে?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"দেখো কথা বাড়িও না। সকাল বেলা ঝগড়া করার কোনো ইচ্ছাই আমার&amp;nbsp; নেই।&amp;nbsp; দেরী হয়ে যাচ্ছে দরজা থেকে সরো।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর কোনো মতে ঠেলে-ঠুলে বের হয়ে গেলো রহিম। পিছনে&amp;nbsp; নীলা চিৎকার-চেঁচামেচি করেই যাচ্ছে " আমি বলে এতোদিন তোমার সাথে থেকেছি অন্য কেউ হলে ৩ মাসও থাকতো না। অনেক সহ্য করেছি আর না গেলাম আমি বাপের বাড়ি। "&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নীলা রাগে গজগজ করতে করতে ব্যাগ গুছাচ্ছে। আজ শুক্রবার নিয়ম মতো ছুটির দিন। ভেবেছিলো অনেক দিন পর আজ রহিমের সাথে বাহিরে বের হবে নীলা।&amp;nbsp; তা আর হলো কই গত সাপ্তাহের মতো আজও কাজের জন্য অফিসে গেলো রহিম। বিয়ের আগে অন্য আট-দশটা মেয়ের মতো কত আশা মনে বুঁনেছিলো নীলা। ছুটির দিনে বরের সাথে ঘুরতে যাবে নিজেদের মতো সময় কাটাবে কত কি। কিন্তু তার বরের সময় হয় না এমনি দিনগুলোতে সকালে অফিসে যায় রাতে ফিরে ক্লান্ত শরীর ঠিকভাবে কথা বলারও সময় পায় না।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আনমনে ব্যাগ গুছাচ্ছে নীলা তখন তার শাশুড়ি ডাক দেয় তাকে '" বউ, ও বউ। কই তুই শুনে যা মা।"'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ব্যাগ রেখে শাশুড়ির রুমে যায় সে।,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"&amp;nbsp; মা ডাকছেন কেন,কিছু লাগবে?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তিনি উলেরকাঁটা নাড়তে নাড়তে বললেন,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আমার সামনে বসতো দেখি। আমি বুড়ো মানুষ একা একা আর কত কাঁটা নাড়ানাড়ি করবো? আয় কিছুক্ষণ গল্প করি।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"মা আমি বসতে পারবো না।&amp;nbsp; আমি বাবার বাড়ি চলে যাচ্ছি, ব্যাগ গুছানো শেষ।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"সে না হয় যাবি।&amp;nbsp; এখন বস ঘন্টা দুই দেরি করে গেলেও যেতে পারবি তোর বাবার বাড়ি তো আর উড়ে যাচ্ছে না"&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বসার ইচ্ছা না থাকায়ও তাকে বসতে হলো। এমন না যে নীলা তার শাশুড়িকে পছন্দ করে না। সে তার শাশুড়িকে ভয়ংকর রকম পছন্দ করে নীলার শাশুড়িও নীলাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;" তা বেটি নিজের ঘর নিজের সংসার ফেলে বাপের বাড়ি চলে গেলে হবে? আমি তোকে বাপের বাড়ি যেতে নিষেধ করছি না।&amp;nbsp; কিন্তু তুই এখন ঝগড়া করে যেতে চাচ্ছিস যা ঠিক না।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নীলা কিছু বলছে না। চুপচাপ বসে শাশুড়ির কথা শুনছে। শাশুড়ির দেখা দেখি সেও&amp;nbsp; উলেরকাঁটা হাতে নিয়ে সুতো গাথার চেষ্টা করেছে। তার চেষ্টায় কাজ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;" শুন মা ঝগড়া সংসারের একটা অংশ। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হবে আবার মিল হবে এটাই নিয়ম।&amp;nbsp; কিন্তু ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে আবার বাপের বাড়ি বসে ঝগড়া বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।"&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"ছোট ঝগড়া ছোট থাককালে মিটমাট করে ফেলাই ভালো। ছোট ঝগড়া বড় করলে দেখা যায় বড় কোনো অঘটন ঘটে যায়। যেমন আমার কথাই ধর :- রহিম যখন ৫ বছরের তখন আমার আর তোর শশুড়ের মাঝে ছোট একটা বিষয় নিয়া ঝগড়া হয়।&amp;nbsp; অনেক ছোট্ট বিষয় কিন্তু তোর শশুড়ের রাগ ছিলো বেশি বেটায় রাগ কইরা না খেয়েই বের হয়ে যায়। আমারো কি রাগ কম ছিলো?&amp;nbsp; আমিও রাগ কইরা তোর মতোন ব্যাগট্যাগ গুছাইয়া হাটা দিলাম বাপের বাড়ি। আমার বাপের বাড়ি বাসে কইরা গেলে আধাঘণ্টা লাগে।&amp;nbsp; সকালে ঝগড়া করলাম দুপুর হইতে হইতে বাপের বাড়ি।ওইযে ঝগড়া কইরা বাপের বাড়ি আসলাম এরপর আবার স্বামীর সংসারে ফিরলাম সাদা কাপড় পইড়া। বিকেলে হয়তো তোর শশুড়ের রাগ কমছে বেটায় হয়তো আমারে নিতে আমার বাপের বাড়ি রওনা দিছে তার সাইকেলে কইরা। সাইকেল নিয়া বেটায় পড়ছে বাসের তলে। ওই যে সকালে মানুষটার সাথে রাগ কইরা বাপের বাড়ি আসছিলাম সেই কত বছর হইলো এখনো আমাদের ঝগড়া মিটমাট হইলো না। একটা বাসের ধাক্কায় সব শেষ।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এতোটুকু বলে নীলার শাশুড়ি শাড়ির আচলে চোখ মুছলেন। " তখন তো আর মোবাইল ছিলো না।&amp;nbsp; টেলিফোন ছিলো তাও বড়লোকদের বাসায়।&amp;nbsp; মানুষটা এক্সিডেন্ট করছে&amp;nbsp; বিকালে আর আমি খবর পাইছি রাতে। রাতে হাসপাতলে আইসা দেখি বেটায় আমার সাথে রাগ কইরা ঘুমাইতাছে।&amp;nbsp; অনেক আরাম কইরাই ঘুমাইছে অনেক ডাকছি কিন্তু উঠে নাই।" "কিরে কাদোস কেন?&amp;nbsp; দেখ পাগল মেয়ে তুই কাদোস কেন চোখ মুছ। তারপর শুন কি হইছে,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমার তো বিয়ে হইছিলো কম বয়সে যখন তোর শশুড় মারা গেছে তখন আমার বয়স সবে ২২।&amp;nbsp; ভরা যৌবন কেউ দেখলে বিশ্বাস করতো না যে আমার ৫ বছরের বাচ্চা আছে। তোর শশুড়ের মৃত্যুর ৪০ দিনো হয় নাই।&amp;nbsp; আমার মামা আমার জন্য পাত্র নিয়া আসছে। আমার গেলো মাথা খারাপ এর মতো হইয়া বটি নিয়া দুই কু*বাচ্চারে দিছি দৌড়ানি। সবাইকে বললাম আমি আর বিয়া-শাদি করমু না।&amp;nbsp; বাকি জীবন ছেলে মানুষ করতে করতে কাটায়া দিমু।"&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"আরেকবার কি হইছে শুন ঘটনা মনে পরলে এখনো হাসি পায়। রহিমের আব্বু মানুষটা অনেক ভালোছিলো কিন্তু কোন জায়গায় কি বলতে হয় তা জানতো না। আমার তখন নতুন নতুন বিয়ে।&amp;nbsp; একদিন লজ্জা লজ্জা মুখ করে জিজ্ঞাস করলাম 'আচ্ছা তোমার জীবনে আমার গুরুত্ব কতটুকু বা কেমন' বেটায় উত্তরে কি বলছে জানোস?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"কি বলছে আঁধার ঘরে বাতির মতো?"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;" আরে না এটা বললে তাও মানা যাইতো। বেটায় বলে,'তার জীবনে আমার গুরুত্ব নাকি বাথরুমে রাখা বদনার মতো" তুই বল কেমডা লাগে। রাগে বেটারে ১ দিন না খাওয়াইয়া রাখছি। শেষে কিনা বদনা"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শাশুড়ির কথা শুনে নীলা শব্দ করে হেসে উঠলো।&amp;nbsp; তার শাশুড়ি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো। " এখন হাসি বন্ধ কর আর এটা হাতে পরে দেখতো কেমন লাগে" বলেই তার দিকে মোঁজা জোড়া বাড়িয়ে দিলো।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মোঁজা জোড়া পড়ে তার মনের দুঃখী ভাবটা পুরোপুরি কেটে গেলো। সে লক্ষ করলে মোঁজায় সুতোর কাজে ছোট করে ইংরেজি আর লিখা তার ঠিক নিচে এন লিখা।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;"শুন মা। ভালোবাসার মানুষরে কখনো কষ্ট দিতে নাই। তাদের আগলায়া রাখতে হয় সবসময় তাদের আাশেপাশে থাকতে হয়।&amp;nbsp; এখন যা বেলা অনেক হইছে রান্না বসা।"&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;" আচ্ছা মা। যাচ্ছি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নীলা খুশি মনে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নীলার শাশুড়ি বিছানার কোণা থেকে উনার স্বামীর সাদাকালো ছবি বের করে দেখতে লাগলেন। ছবির দিকে তাকিয়ে আনমনে বলে উঠলে "তুমি কি এখনো রাগ কইরা আছো? আমি মইরা কোনো রকম বেহেস্ত যাইয়ানি তখন তোমার আর রাগ থাকবো না। ।"&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;( সমাপ্ত )&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখক: শাহাদাত হোসাইন&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/4652463807280695533/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/relationship-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/4652463807280695533" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/4652463807280695533" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/relationship-boipoka365.html" rel="alternate" title="নক্ষত্রের গল্প | Relationship | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh_SQUVG6ER9ZDkmlEO9qTxhtFnBnC4HFzGMZ43F7RSbuSyqkkJ8-q9JuPEbzxDqaAB-Cv54ctzyGJ_68PxyaCl22Ux5Onuy53pd6qRyaccpmPh17mdFEKwg9j6Vk9CCz7JRd3Y1AWvi5nfvPfRrG1mhU-fzE4J253WN_9Okq1nUmnhk0UokqZWa14p/s72-c/%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-867027118378718302.post-1417271297295750382</id><published>2022-10-31T01:29:00.000-07:00</published><updated>2022-10-31T01:29:10.385-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="Comics"/><title type="text">দুঃখ'ই যেনো সুখের কারণ! | Bangla Comics | Boipoka365</title><content type="html">&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEg6ciQyU-3Eq2GtmrOhjX7DmETXPcRjMH9i7mzQiK3zqBSEejNfq95pTl9OLIdEh2fUAu_LKAkVaCmWSTw2sYc3ch4D7PYXGjJn91rn2YwMLb5qwtwmtXuIpCLWJdAMpKWqKgthX2jZQPUm7Z9QKMHWRGvAGl6FRPQ6OIAPc_5EM3vvMhbW3Xf95yIw/s1920/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%83%E0%A6%96'%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3!.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" data-original-height="1080" data-original-width="1920" height="180" src="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEg6ciQyU-3Eq2GtmrOhjX7DmETXPcRjMH9i7mzQiK3zqBSEejNfq95pTl9OLIdEh2fUAu_LKAkVaCmWSTw2sYc3ch4D7PYXGjJn91rn2YwMLb5qwtwmtXuIpCLWJdAMpKWqKgthX2jZQPUm7Z9QKMHWRGvAGl6FRPQ6OIAPc_5EM3vvMhbW3Xf95yIw/s320/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%83%E0%A6%96'%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3!.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;ফেসবুকের একটা ভাইরাল পোস্ট দেখছিলাম। "আমি হাত দিয়ে যা ছুঁই তা দুঃখ হয়ে যায়"। হাত দিয়ে কোনো কিছু স্পর্শ করলে সর্বোচ্চ একটু ময়লা হবে। বিদ্যুতের তার অথবা ক্ষতিকর কেমিকেল হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু দুঃখ কেনো হবে! এসব হাবিজাবি ভাবছিলাম। এমন সময়ে একটা কল আসলো। মাসুদের কল। রিসিভ করতেই বললো, "মামা এলাকায় তো সেই একটা জিনিস আসছে"। কোন জিনিস এর কথা বলছে আমি ভালো করেই বুঝছি। তার সাথে ভার্সিটিতে দেখা হয়ে গেছে। আমার সাথেই ভর্তি হইছে। বললাম, "ভাষা ঠিক কর বেদ্দপ, জিনিস আবার কি?" মাসুদ বললো, "আরে বাদ দে, শুনলাম তোর ডিপার্টমেন্টেই নাকি ভর্তি হইছে?" আমি "হ্যাঁ" বলে কল কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দিলাম। নাহলে খুব জ্বালাবে। মাসুদ বলে কথা। তার ভালো হওয়ার চান্স নাই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মেয়েটা সুন্দর। নাম ঝুমুর। একেবারে নায়িকাদের মত গর্জিয়াছ সুন্দর না। স্নিগ্ধ সুন্দর। দেখলে মনে হয় কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখছি। আমি এমনিতেই প্রকৃতি প্রেমি। মানুষের মাঝেই যদি সেই প্রকৃতির ছোঁয়া খুজে পাই তাহলে তো আর কথা'ই নাই। কথাবার্তা ও খুব আস্তে আস্তে বলে। চালচলনে যেনো কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ক্লাস শেষে বই এমন ভাবে ব্যাগে ঢুকায় ব্যাগ নিজেও বুঝতে পারেনা তার ভেতরে কিছু একটা ঢুকতেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ক্লাসে মোটামুটি সবার সাথেই আমার ভালো বন্ধুত্ব আছে। একমাত্র ঝুমুর ছাড়া। অন্য কেউ সামনে দিয়ে গেলে হয়তো আমি জিজ্ঞেস করি কোথায় যাচ্ছে অথবা সে জিজ্ঞেস করে। ঝুমুর সামনে দিয়ে গেলে একপাশে সরে দাড়াই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একদিন ক্লাসে ম্যাডাম আসতে দেরি হচ্ছিলো। মেয়েরা একে অপরের সাথে কথা বলে হাসাহাসি করে মজা করতেছিলো। মজা করতে করতে সামিয়া থাপ্পড় দিলো নাদিয়ার পিঠে নাদিয়া দিলো ঝুমুরের পিঠে। ঝুমুর বেচারি চুপচাপ বসে আছে। তাদের খুনসুটি দেখতে ভালোই লাগছিলো আবার ঝুমুরের জন্য খারাপ লাগলো। ভাবলাম কিছু একটা করা দরকার। ম্যাডাম আসতেই ম্যাডামের কাছে বিচার দিলাম। বললাম, "ম্যাম আপনি আসার আগে এখানে রেসলিং খেলা হচ্ছিলো", সামিয়াকে আর নাদিয়াকে দেখিয়ে বললাম, "রোমান রেইন্স আর জন সিনার বউ মিলে তানভীরের বউকে মে'রেছে"। ম্যাডাম বললো, "রোমান রেইন্স আর জন সিনাকে তো চিনলাম, তানভীর কে?" তানভীর আমিই। পুরো ক্লাস তানভীরের বউ বলতে কাকে বুঝিয়েছি বুঝে গেছে। ম্যাডাম ও বুঝছে তবুও না বুঝার ভান করতেছে। বললাম, "ম্যাম এটা নতুন প্লেয়ার। অনেক ভালো খেলে"। যাদের নামে বিচার দিলাম তাদেরকে শা'স্তি না দিয়ে ম্যাডাম আমার এটেন্ডেন্স কে'টে দিলো। ভাবলাম কি আর করা, আমিও মন থেকে কারো উপকার করতে গেলে তা দুঃখ হয়ে যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমাদের খেলার মাঠ ঝুমুরদের বাসার পাশেই। এইজন্য আজকাল খেলতে যেতে অনেক অস্বস্তি লাগে। মনে হয় ওই বাসা থেকে কেউ একজন তাকিয়ে আছে। ফুটবলে ঠিকঠাক কিক দিতে পারিনা। পাঁ কাঁপে। অস্বস্তি দূর করার জন্য একটা সিদ্ধান্ত নিলাম। খেলা'ই বাদ দিয়ে দিলাম। খেলার টাইমে মাসুদ সহ কয়েকজন মিলে ঝুমুরদের বাসার নিচে আড্ডা দিতাম। একদিন ঝুমুরের মা বাসা থেকে বের হয়ে এসে এমন ভাবে সামনে দাঁড়ালো আমাদের পালানোর কোনো পথ ছিলো না। মনে হচ্ছে শুধু হাত না, পাঁ নিয়ে যেখানে দাড়াই সেটাও দুঃখ হয়ে যায়। বাকি সবাই পিছনের দিকে দৌড় দিলো। আমি সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। ঝুমুরের মা যখন এক পা এক পা করে সামনে আসছিলো আর আমার বুক থেকে হৃদপিন্ড যেনো বেরিয়ে আসতে চাইছিলো। সামনে এসে বললো, "ওরা দৌড় দিছে কেনো?" উনার প্রশ্ন শুনে আমার ভয় কিছুটা কমেছে। মা'রতে আসেনি এতটুকু শিওর হলাম। বললাম, "মসজিদে শিন্নি দিতেছে শুনে দৌড় দিছে।" ঝুমুরের মা সন্দেহের স্বরে জিজ্ঞেস করলো, "তো তুমি যাওনি কেনো?" বললাম, "আমার এসবে লোভ নাই আন্টি"। উনার চেহারা দেখে মনে হলো আমার উত্তর খুব বেশি একটা পছন্দ করে নাই। বললো, "যাইহোক শোনো, তুমি তো ঝুমুরের ক্লাসে পড়ো তাই না?" হঠাৎ ঝুমুরের কথা বলায় আবার ভয় পেতে শুরু করলাম। আস্তে করে "জ্বি আন্টি" বললাম। আমার হাতে একশো টাকা আর একটা নাম্বার দিয়ে বললেন, "বাসায় ছেলে মানুষ নাই। রিচার্জের দোকান ও অনেক দূরে। এই নাম্বারে একশো টাকা দিও।" তারপর নিজে নিজে বকবক করতেছিলো। ফোনে টাকা প্রচুর কাটে। রিচার্জ করলেই থাকে না। হঠাৎ ধমক দিয়ে বললো, "যাও, তাড়াতাড়ি দিবা টাকা"। আচ্ছা আন্টি বলে কোনোরকম জান নিয়ে কে'টে পড়লাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাসুদের ফ্লেক্সিলোডের দোকানে গেলাম। মাসুদকে বললাম, "শাশুড়ি আম্মা ফোনের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যায় দেখে চিন্তায় আছে। কিছু একটা ব্যবস্থা কর।" মাসুদ বললো, "মিনিট কিনে দে তাহলেই হয়।" ভালো আইডিয়া। নিরানব্বই টাকার মিনিট প্যাকেজ রিচার্জ করে দিলাম। বাকি এক টাকা মাসুদের পকেটে। শাশুড়ি প্রথমবার টাকা দিয়েছে সেই টাকাও অন্য কারো পকেটে মেনে নিতে পারছি না। তার দোকানে এক টাকায় পাওয়া যাবে এমন কোনো জিনিসও নাই যে টাকার বিনিময়ে সেটা নিয়ে চলে যাবো। একমাত্র মাসুদ ছাড়া। তাকে বিক্রি করতে নিলে কেউ ফ্রিতেও নিবে না এক টাকা তো বহুদূর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেদিন ক্লাসে ঝুমুরকে বউ বলার পর থেকে খেয়াল করছিলাম ঝুমুর আরো বেশি চুপচাপ হয়ে গেছে। ভুলে কখনো চোখে চোখ পড়ে গেলে চোখ নামিয়ে নেয়। নিচের দিকে তাকিয়ে হাসি আটকানোর চেষ্টা করে। আমার কেনো জানি মনে হয় লজ্জা পায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একদিন সকাল বেলা একটা টিশার্ট পরেই বাজারে যাচ্ছিলাম। শীতকাল, রোদ উঠে গেছে তাই আর জ্যাকেট গায়ে দিইনি। ঝুমুরকে দেখলাম বিপরীত দিক থেকে আসতেছে। দেখে মনে হচ্ছে কাঁপতেছে। জ্যাকেট নাই আমার গায়ে কাঁপে অন্য কেউ। একেই মনে হয় মনের সাথে মন, দেহের সাথে দেহের কানেকশন বলে। সামনে আসতেই পথ আটকে দাঁড়ালাম। জিজ্ঞেস করলাম,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- শীত লাগে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উত্তর দিলো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- না&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- তাহলে এভাবে কাপতেছো কেনো?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সে একটু চুপ করে থেকে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- আমার লজ্জা লাগে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লজ্জায় মানুষ কাঁপে এই প্রথম দেখলাম। ঝুমুরের নরম স্বর হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে গেলো। বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- আপনি প্লিজ পালিয়ে যান।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লজ্জা লাগতেছে তার। পালালে সে পালাবে। আমি কেনো পালাবো! বললাম,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- কেনো?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- ওইদিন যে আপনি আম্মুর ফোনে নিরানব্বই টাকা দিছেন বাকি এক টাকার জন্য আম্মু আপনার উপর ক্ষেপে আছে। এইদিকেই আসতেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পেছনে তাকিয়ে দেখলাম একটু দূরে শাশুড়ি আম্মা পাঁ থেকে জুতা খোলার চেষ্টা করতেছে। একে তো এক টাকা কম দিয়েছি তার উপর মাঝ রাস্তায় তার মেয়ের পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছি। উনার হাতে পড়লে আজকে আর রক্ষা থাকবে না। দিলাম দৌড়। যত জোরে পারা যায় দৌড়াচ্ছি। যেনো আমার পেছনে বাঘ আছে আর আমি হরিণ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর কিছুদিন পরেই কোরবানির ঈদ ছিলো। বাসার গেইটের সামনে চাচাতো ভাইকে নিয়ে ক্রিকেট খেলছিলাম। বল শুধু মাত্র সামনে মারা ছাড়া বাকি যেদিকেই যাবে আউট। মনে হচ্ছিলো বল ব্যাটে লাগানোর চেয়ে না লাগানোটাই বেশি নিরাপদ। এমন সময় ঝুমুর সহ ঝুমুরের মা'কে আসতে দেখে ভুলে লেগ সাইডে মে'রে দিয়েছি। চাচাতো ভাই আউট হওয়ার সেলিব্রেশন করতেছে কিন্তু আমি আউট মেনে নিচ্ছি না। প্রস্তুত ছিলাম না ডট বল ছিলো আবার বল করতে বলছিলাম। আউট হয়েও না মেনে নেওয়া দেখে ঝুমুর হাসছে।কেমন জানি একটু অপ'মানিত বোধ করলাম। বৃষ্টি আসলে যেমন খেলা ক্যান্সেল হয়ে যায় তেমনি মেহমান আসায় খেলা ক্যান্সেল করে দিয়ে চলে আসলাম। আন্টিকে সালাম দিলাম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শাশুড়ি আম্মা আমার আম্মুকে খুজতে ভেতরে চলে গেলো। ঝুমুর ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমার হাতে গোস্তের পোটলা দিলো। বললাম,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- আমরা তো কোরবান দিয়েছি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- এটা গিফট।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাহ ইউনিক গিফট। সবাই চকলেট দেয় ঘড়ি দেয় সে দিচ্ছে গোস্ত। খারাপ না। কিছুক্ষণ পরেই আম্মুদের হাসাহাসি শুনে কান খাড়া করলাম। ঝুমুরের আম্মু বলছিলো, "জুতা বেশিদিন টিকেনা বুঝছেন ভাবি। মেয়েকে প্রায়ই বকাবকি করি তার পাঁয়ে লোহাও টিকে না, কিন্তু আমার নিজের পাঁয়ে যে ইস্পাত ও টিকে না"। এটা বলেই তারা আবার হাসছিলো। ঝুমুরের পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কালো জুতা পড়েছে। জুতার উপরে একটা ফুল আছে। সাদা পায়ে কালো জুতা দেখতে সুন্দর লাগছিলো। ঝুমুরের মা আবার বলতে লাগলো, "ওইদিন রাস্তায় জুতা ছিঁড়ে গেছিলো। তানভীরকে দেখলাম বাজারের দিকে যাচ্ছে। ঝুমুরও ওইদিক থেকে আসছিলো। পাঁ থেকে জুতা খুলতে খুলতেই ছেলে উধাও হয়ে গেলো। ঝুমুরকে জিজ্ঞেস করার পর বললো আমার জুতা খুলতে দেখে নাকি ভয়ে পালিয়েছে"। কথা শেষ করেই তারা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। ঝুমুরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মাথা নিচু করে মুচকি হাসছে। আমার সাথে ধোকা হয়ে গেছে। ঝুমুর সেদিন লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য ইচ্ছে করে সেখান থেকে আমাকে ভাগিয়ে দিয়েছিলো। এই মেয়ে এত চালাক হবে বুঝতে পারিনি। একদিনে এত অপমান সহ্য করা যাচ্ছে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সহ্য করে নিলাম একটা অদ্ভুত জিনিস দেখে। রাগ করে উঠে চলে যাবো এমন সময় ঝুমুর হাত ধরে টেনে বসালো। বললো পোটলা টা খুলে দেখতে। খুলে দেখলাম গরুর কলিজা নিয়ে এসেছে। কলিজা কে'টে খাওয়াতে চায় ভালো কথা, হোক সেটা গরুর কলিজা। কিন্তু কলিজা দেখে খু্শি হয়ে অপমান সহ্য করিনি। সহ্য করেছিলাম অন্য কিছু দেখে। কলিজার পিস গুলোর মধ্যে একটা পিস হার্ট শেপে কা'টা ছিলো। তার মাঝখানে আমার নাম লেখা ছিলো। এটা করতে তার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে দেখে বোঝা'ই যাচ্ছে। যে কেউ এত সুন্দর করে ডিজাইন করে কা'টতে পারবে না। তার উপর সবার থেকে লুকিয়ে আমার কাছে পর্যন্ত নিয়ে আসা কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো না। জিজ্ঞেস করলাম,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- অনলাইনে অর্ডার করছিলা নাকি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রাগ দেখিয়ে বললো,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- পছন্দ না হলে ফেরত দেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তাড়াতাড়ি করে এমন ভাবে পকেটে ঢুকিয়ে ফেললাম যেনো খুব মূল্যবান জিনিস। কিন্তু চিন্তা হচ্ছিলো এটা তো দু একদিনের মধ্যেই পঁচে যাবে। ফ্রিজে রাখলে আম্মু দেখে ফেলবে। খেয়ে ফেললে সকালে আবার বের হয়ে যাবে। সম্ভবত এর আগে কেউ কখনো গরুর কলিজার একটা ছোট টুকরা নিয়ে এত টেনশন করেনি। হাতের উপর ছোট কলিজার টুকরা একইসাথে আমার সুখ এবং দুঃখের কারণ। আমি হাত দিয়ে যা ছুঁই আসলেই তা দুঃখ হয়ে যায়। এক কলিজার টুকরা পরিমাণ দুঃখ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;( সমাপ্ত )&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;লেখা:&amp;nbsp;তানভীর আহমেদ হানিফ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;div class="tw-target-rmn tw-ta-container F0azHf tw-nfl" id="tw-target-rmn-container" style="background-color: #303134; color: #bdc1c6; font-family: arial, sans-serif; font-size: 0px; outline: 0px; overflow: hidden; position: relative;"&gt;&lt;/div&gt;</content><link href="https://boipoka365.blogspot.com/feeds/1417271297295750382/comments/default" rel="replies" title="Post Comments" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/bangla-comics-boipoka365.html#comment-form" rel="replies" title="0 Comments" type="text/html"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1417271297295750382" rel="edit" type="application/atom+xml"/><link href="https://www.blogger.com/feeds/867027118378718302/posts/default/1417271297295750382" rel="self" type="application/atom+xml"/><link href="https://boipoka365.blogspot.com/2022/10/bangla-comics-boipoka365.html" rel="alternate" title="দুঃখ'ই যেনো সুখের কারণ! | Bangla Comics | Boipoka365" type="text/html"/><author><name>Rahad</name><uri>http://www.blogger.com/profile/11116174786029073583</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image height="21" rel="http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail" src="//blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiaR8DkleoEGAkJah3FAiDzn28Iqi-CxywZM8C0r7pI9-mjOb2Weue9VihniFef4URGnTvVNJtJlCgj_VeaTPjJdUjqY6Piu5J5yvBn81ZPzKcMLR8XhFqrQzg70xVsrg/s150/rahad1.jpg" width="32"/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" height="72" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEg6ciQyU-3Eq2GtmrOhjX7DmETXPcRjMH9i7mzQiK3zqBSEejNfq95pTl9OLIdEh2fUAu_LKAkVaCmWSTw2sYc3ch4D7PYXGjJn91rn2YwMLb5qwtwmtXuIpCLWJdAMpKWqKgthX2jZQPUm7Z9QKMHWRGvAGl6FRPQ6OIAPc_5EM3vvMhbW3Xf95yIw/s72-c/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%83%E0%A6%96'%E0%A6%87%20%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8B%20%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3!.jpg" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry></feed>