<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:blogger='http://schemas.google.com/blogger/2008' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd="http://schemas.google.com/g/2005" xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192</id><updated>2026-03-08T16:26:56.070-07:00</updated><category term="ব্যবসা বানিজ্য"/><category term="উদ্যোগ"/><category term="হ্যাকিং ক্লাস"/><category term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category term="প্রতিবেদন"/><category term="আমার লেখা"/><category term="কৃষি জিজ্ঞাসা"/><category term="চমকপ্রদ তথ্য"/><category term="আত্ম-উন্নয়ন"/><category term="কুটির শিল্প"/><category term="স্বরচিত কবিতা"/><category term="স্বরচিত গল্প"/><category term="ধর্ম কথা"/><category term="চিকিৎসা বিজ্ঞান"/><category term="চিত্তাকর্ষক সংবাদ"/><category term="ডাউনলোড"/><category term="রিসোর্স ডাউনলোড"/><category term="ই-বুক"/><category term="হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড"/><category term="অনুবাদ"/><category term="এস.ই.ও"/><category term="ডাউনলোড"/><category term="রূপান্তর"/><category term="অটোক্যাড টিউটোরিয়াল"/><category term="অটোক্যাড ফান্ডামেন্টাল"/><category term="অনলাইন আয়"/><category term="অফিস ম্যানেজমেন্ট"/><category term="ওয়েবসাইট ডিজাইন"/><category term="টিপস ও ট্রিকস"/><category term="বাণী চিরন্তনী"/><category term="মাইক্রোসফট এক্সেল"/><category term="সায়েন্স ফিকশন"/><category term="স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং"/><category term="অ্যামব্রোজ বিয়ার্স"/><category term="আত্মকথন"/><category term="আবদুল্লাহ সিরিজ"/><category term="আমের আচার তৈরি"/><category term="ইন্টারনেটে আয় করুন"/><category term="চাকরির বিজ্ঞাপন"/><category term="চাকরীদাতা সাইট লিস্ট"/><category term="জানা-অজানা"/><category term="টিউটোরিয়াল"/><category term="ডা. মোসলেম ফাউন্ডেশন"/><category term="ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন"/><category term="প্রয়োজনীয় সাইট"/><category term="ফাউন্ডেশন"/><category term="বাংলাদেশের সব ব্যাংক"/><category term="ব্যাক্তিগত"/><category term="ভ্রমন কাহিনী"/><category term="রান্নাবান্না"/><category term="লর্ড ডানসানি"/><category term="ল্যাফক্যাডিও হার্ন"/><category term="স্টারিয়ণ লিমিটেড"/><category term="স্পন্সরড পোষ্ট"/><title type='text'>মেহেদী হাসান-এর বাঙলা ব্লগ | আমার স্বাধীনতা</title><subtitle type='html'></subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://imahedihasan.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><link rel='next' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default?start-index=26&amp;max-results=25'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>161</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>25</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-3600202823067599583</id><published>2026-02-10T23:18:00.000-08:00</published><updated>2026-02-10T23:18:19.947-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="অনুবাদ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="রূপান্তর"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ল্যাফক্যাডিও হার্ন"/><title type='text'>ল্যাফক্যাডিও হার্ন এর দ্য সোল অব দ্য গ্রেট বেল (The Soul of the Great Bell) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjab9z3329nBh4ZrulIOdaBfpyZrk0T5F2Leq-g-PKxeIw9aY5lnaVGDL5AYRCFSAlrpFbl7HK5vq1lo3jqTWAWJlF1Vb7wmIyj5Io1bB8bV8BLvi3Ne44zNW9YTnFCBzksLviZenIvMnTO3zXDcylZeHabKYkQNKS28pkqGw_iPVzZdLPcOTaiW5z1MYs/s1120/The%20Soul%20of%20the%20Great%20Bell.png&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;640&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjab9z3329nBh4ZrulIOdaBfpyZrk0T5F2Leq-g-PKxeIw9aY5lnaVGDL5AYRCFSAlrpFbl7HK5vq1lo3jqTWAWJlF1Vb7wmIyj5Io1bB8bV8BLvi3Ne44zNW9YTnFCBzksLviZenIvMnTO3zXDcylZeHabKYkQNKS28pkqGw_iPVzZdLPcOTaiW5z1MYs/w512-h640/The%20Soul%20of%20the%20Great%20Bell.png&quot; width=&quot;512&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্যাট্রিক ল্যাফক্যাডিও হার্ন ছিলেন গ্রিসে জন্মগ্রহণকারী একজন লেখক যিনি পশ্চিমা পাঠকদের কাছে পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন। গ্রিক মা ও আইরিশ বাবার সন্তান হার্ন আমেরিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৮৯০ সালে তিনি জাপানে পাড়ি জমান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। জাপানে তিনি বিভিন্ন শহরে ইংরেজি ভাষা পড়াতেন, অতঃপর একটি সামুরাই পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন এবং দেশটির সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৮৯৬ সালে তিনি জাপানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে &quot;কোইজুমি ইয়াকুমো&quot; নাম গ্রহণ করেন। তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প &quot;দ্য সোল অব দ্য গ্রেট বেল&quot; ১৮৮৭ সালে তাঁর &#39;সাম চাইনিজ ঘোস্টস&#39; গল্পসংকলনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;---------------------------------------------------------&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;b&gt;দ্য সোল অব দ্য গ্রেট বেল&lt;/b&gt;&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;- ল্যাফক্যাডিও হার্ন&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;‘তা-চুং জ’ বা মহাঘণ্টার মিনারে রাখা জলঘড়িটি সময়ের সংকেত দিচ্ছে; আর ঠিক তখনই সেই ধাতব দানবের ঠোঁটে আঘাত করার জন্য হাতুড়িটি উত্তোলিত হলো—যে বিশাল ঘণ্টাটির গায়ে পবিত্র ফা-হোয়া-কিং এবং লিং-ইয়েন-কিং-এর বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের শ্লোক খোদাই করা আছে! শুনুন, মহাঘণ্টাটি কেমন প্রতিধ্বনি তুলছে! তার কোনো জিহ্বা নেই, তবুও কী তার জোরালো কণ্ঠস্বর! &quot;কো-নগাই!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সবুজ ছাদের উঁচু কার্নিশে থাকা ছোট ছোট ড্রাগনগুলোর সোনালী লেজের ডগা পর্যন্ত সেই গভীর শব্দের ঢেউয়ে কাঁপছে; চীনামাটির তৈরি সব গার্গয়েল বা ভাস্কর্য তাদের কারুকাজ করা বেদিতে থরথর করে কাঁপছে; প্যাগোডার শত শত ছোট ঘণ্টাও যেন কথা বলার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় অস্থির হয়ে উঠছে। &quot;কো-নগাই!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মন্দিরের সব সবুজ ও সোনালি টাইলস কাঁপছে; তাদের ওপরের কাঠের সোনালি মাছগুলো যেন আকাশের গায়ে ছটফট করছে; ধূপের নীল ধোঁয়ার ভেতর ভক্তদের মাথার ওপর বুদ্ধের উত্তোলিত আঙুলও কাঁপছে! &quot;কো-নগাই!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কী বজ্রকঠিন সেই সুর! প্রাসাদের কার্নিশে রাখা সব বার্নিশ করা অপদেবতাগুলো তাদের আগুন রঙের জিভ নাড়াতে শুরু করেছে! আর প্রতিটি বিশাল আঘাতের পর, সেই প্রতিধ্বনির কী অদ্ভুত শব্দ—যেন এক বিশাল সোনালি গোঙানি; এবং সবশেষে কানে ভেসে আসে এক আকস্মিক ফিসফিসানি কান্না, যখন সেই বিশাল গর্জন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে রুপালি ফিসফিসানিতে মিলিয়ে যায়—যেন কোনো নারী কেঁদে বলছে, &quot;হিয়াইইই…!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গত প্রায় পাঁচশো বছর ধরে মহাঘণ্টাটি প্রতিদিন ঠিক এভাবেই বেজে চলেছে—&quot;কো-নগাই&quot;: প্রথমে সেই প্রচণ্ড ঝনঝনানি, তারপর অপরিমেয় সোনালি গোঙানি, আর সবশেষে সেই রুপালি ফিসফিসানি—&quot;হিয়াইইই…!&quot; আর এই পুরনো রঙিন চীনা শহরের অলিগলিতে এমন কোনো শিশু নেই যে এই মহাঘণ্টার গল্প জানে না যে আপনাকে বলতে পারবে না কেন এই ঘণ্টাটিকে &quot;কো-নগাই&quot; বলে ডাকে!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই সেই মহাঘণ্টার ইতিকথা যা &#39;তা-চুং জ&#39;-এ সংরক্ষিত আছে এবং যা কুয়াং-চাউ-ফু শহরের পণ্ডিত ইউ-পাও-চেন তার &#39;পে-হিয়াও-তু-চোন&#39; গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে গেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রায় পাঁচশো বছর আগের কথা। মিং রাজবংশের স্বর্গীয় মহানুভব স্বর্গপুত্র ইয়াং-লো তার বিশ্বস্ত আমলা কুয়ান-ইউকে আদেশ দিলেন এমন বিশাল আকারের একটি ঘণ্টা তৈরি করতে, যার আওয়াজ একশো &#39;লি&#39; (চীনা মাইলের একক) দূর পর্যন্ত শোনা যাবে। তিনি আরও নির্দেশ দিলেন যে, ঘণ্টার আওয়াজকে পিতল দিয়ে শক্তিশালী, সোনা দিয়ে গভীর এবং রুপা দিয়ে মিষ্টি করতে হবে; আর এর গায়ে এবং বিশাল ঠোঁটে পবিত্র গ্রন্থের আশীর্বাদপুষ্ট বাণী খোদাই করতে হবে। ঘণ্টাটি ঝোলানো হবে সাম্রাজ্যের রাজধানীর ঠিক মাঝখানে, যেন পিকিং শহরের রঙিন পথঘাট এর সুরে মুখরিত হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অতএব, মান্যবর ম্যান্ডারিন কুয়ান-ইউ সাম্রাজ্যের সেরা ছাঁচ-নির্মাতা এবং বিখ্যাত সব কামার ও ঢালাই-শিল্পীদের ডেকে পাঠালেন। তারা সংকর ধাতুর পরিমাপ করল, নিপুণভাবে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করল এবং ছাঁচ, চুল্লি ও ধাতু গলানোর জন্য দানবীয় সব হাঁড়ি তৈরি করল। তারা দৈত্যের মতো পরিশ্রম করতে লাগল—নিদ্রা, বিশ্রাম বা জীবনের আরাম-আয়েশ সব তুচ্ছ করে দিনরাত তারা কুয়ান-ইউর আদেশে খাটতে লাগল, আর তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্বর্গপুত্রের আদেশ পালন করা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু যখন ধাতু গলিয়ে ছাঁচ থেকে বের করা হলো, দেখা গেল তাদের এত কঠোর পরিশ্রম আর যত্ন সত্ত্বেও ফলাফল শূন্য। কারণ ধাতুগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে—সোনা পিতলের সঙ্গে মিশতে ঘৃণাভরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, আর রুপা গলানো লোহার সঙ্গে কিছুতেই মিশবে না। তাই আবার নতুন করে ছাঁচ তৈরি করতে হলো, আগুন জ্বালাতে হলো, ধাতু গলাতে হলো এবং পুরো ক্লান্তিকর প্রক্রিয়াটি আবারও পুনরাবৃত্তি করতে হলো। স্বর্গপুত্র সব শুনে ক্রুদ্ধ হলেন, কিন্তু মুখে কিছু বললেন না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দ্বিতীয়বার ঘণ্টাটি ঢালাই করা হলো, কিন্তু ফলাফল হলো আরও ভয়াবহ। ধাতুগুলো আবারও এক হতে জেদ ধরে বেঁকে বসল; ঘণ্টাটির কোথাও সামঞ্জস্য রইল না। এর গায়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিল এবং ঠোঁটগুলো ভেঙেচুরে গেল। ফলে কুয়ান-ইউকে অত্যন্ত হতাশ হয়ে তৃতীয়বারের মতো পুরো কাজটা শুরু করতে হলো। যখন স্বর্গপুত্র এই খবর পেলেন, তিনি আগের চেয়েও ভীষণ রেগে গেলেন। আর তিনি লেবু-রঙের রেশমি কাপড়ের ওপর লেখা, ড্রাগনের সিলমোহর মারা একটা চিঠি কুয়ান-ইউ-র কাছে পাঠালেন, তাতে লেখা ছিল:&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;পরাক্রমশালী ইয়াং-লো, মহান তাই-সুং, স্বর্গীয় এবং মহিমান্বিত—যাঁর রাজত্ব &#39;মিং&#39; নামে পরিচিত—তার পক্ষ থেকে ফুহ-ইইন কুয়ান-ইউকে: দুবার তুমি আমাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছ, যা আমরা দয়া পরবশ হয়ে তোমার ওপর অর্পণ করেছিলাম। যদি তৃতীয়বার তুমি আমাদের আদেশ পালনে ব্যর্থ হও, তবে তোমার ধড় থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হবে। ভয় পাও এবং মান্য করো!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কুয়ান-ইউর একটি মেয়ে ছিল, নাম কো-নগাই। সে ছিল চোখধাঁধানো রূপসী, কবিদের মুখে মুখে ফিরত তার নাম; আর তার মন ছিল তার রূপের চেয়েও সুন্দর। কো-নগাই তার বাবাকে এতই ভালোবাসত যে, সে শত শত যোগ্য পাত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল শুধু এই ভয়ে যে, তার অনুপস্থিতিতে বাবার ঘর শূন্য হয়ে যাবে। যখন সে ড্রাগন-সিলযুক্ত সেই ভয়ানক হলুদ চিঠিটি দেখল, বাবার আসন্ন বিপদের কথা ভেবে সে ভয়ে জ্ঞান হারাল। জ্ঞান ও শক্তি ফিরে পাওয়ার পর, বাবার বিপদের চিন্তায় তার চোখে ঘুম নেই। সে গোপনে নিজের কিছু গয়না বিক্রি করল এবং সেই টাকায় এক জ্যোতিষীর কাছে ছুটে গেল। জ্যোতিষীকে অনেক অর্থ দিয়ে সে জানতে চাইল, কীভাবে তার বাবাকে এই আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জ্যোতিষী আকাশের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করলেন, মিল্কি ওয়ের (যাকে আমরা আকাশগঙ্গা বলি) গতিবিধি দেখলেন, রাশিচক্রের চিহ্ন বা &#39;হলুদ পথ&#39; পরীক্ষা করলেন এবং মহাবিশ্বের পাঁচটি মূলনীতি বা &#39;হিন&#39;-এর তালিকা ও রসায়নবিদদের রহস্যময় বইগুলো ঘাঁটলেন। দীর্ঘ নীরবতার পর তিনি উত্তর দিলেন: &quot;সোনা এবং পিতল কখনোই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে না, রুপা এবং লোহা কখনোই একে অপরকে আলিঙ্গন করবে না, যতক্ষণ না কোনো কুমারীর রক্ত-মাংস সেই গলিত ধাতুর পাত্রে আহুতি দেওয়া হয়; যতক্ষণ না কোনো কুমারীর রক্ত সেই সংকর ধাতুর সঙ্গে মিশে যায়।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কো-নগাই বিষণ্ণ হৃদয়ে বাড়ি ফিরল; কিন্তু সে যা শুনেছে তা গোপন রাখল এবং কাউকেই বলল না সে কী করতে যাচ্ছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অবশেষে সেই ভয়ানক দিনটি এল, যেদিন তৃতীয় এবং শেষবারের মতো মহাঘণ্টাটি ঢালাই করার চেষ্টা করা হবে। কো-নগাই তার এক পরিচারিকাকে নিয়ে বাবার সঙ্গে ঢালাইশালায় গেল। তারা এমন একটি উঁচু মঞ্চে দাঁড়াল যেখান থেকে নিচে কর্মরত শ্রমিকদের এবং গলিত ধাতুর লাভাস্রোত দেখা যাচ্ছিল। শ্রমিকরা নিঃশব্দে তাদের কাজ করে যাচ্ছিল; আগুনের গর্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছিল না। সেই আগুনের গর্জন ক্রমশ গভীর হয়ে ধেয়ে আসা টাইফুনের মতো শোনাতে লাগল। রক্তিম ধাতুর হ্রদটি ধীরে ধীরে ভোরের সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল, সেই সিঁদুরবরণ আভা বদলে গিয়ে সোনালি দ্যুতি ছড়াতে লাগল, আর সবশেষে সেই সোনা চোখের ধাঁধাঁ লাগানো পূর্ণিমার চাঁদের মতো রুপালি ও সাদা হয়ে উঠল। তখন শ্রমিকরা সেই উন্মত্ত আগুনে জ্বালানি দেওয়া বন্ধ করল এবং সবাই কুয়ান-ইউর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল সংকেতের অপেক্ষায়। কুয়ান-ইউ ঢালাই শুরু করার সংকেত দিতে প্রস্তুত হলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু তিনি আঙুল তোলার আগেই, একটি চিৎকার শুনে মাথা ঘুরালেন। আগুনের সেই প্রচণ্ড গর্জন ছাপিয়ে পাখির গানের মতো তীব্র অথচ মিষ্টি একটি কণ্ঠস্বর সবার কানে বাজল—&quot;শুধু তোমার জন্য, ও বাবা আমার!&quot;—এবং কথাটি বলতে বলতেই কো-নগাই সেই ধবধবে সাদা ধাতব স্রোতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। চুল্লির লাভাস্রোত তাকে গ্রাস করতে গর্জন করে উঠল, আর ছাদ পর্যন্ত দৈত্যাকার আগুনের ফুলকি ছিটিয়ে দিল এবং মাটির পাত্র উপচে নানা রঙের আগুনের ফোয়ারা সৃষ্টি করে ভূমিকম্পের মতো কাঁপতে কাঁপতে বিদ্যুৎ, বজ্রপাত আর গোঙানিসহ শান্ত হয়ে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কো-নগাইয়ের বাবা শোকে পাগল হয়ে মেয়ের পিছু পিছু ঝাঁপ দিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু শক্তিশালী শ্রমিকরা তাকে জাপটে ধরল এবং দৃঢ়ভাবে ধরে রাখল যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি জ্ঞান হারালেন; শেষে তাকে মৃতপ্রায় অবস্থায় বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হলো। আর কো-নগাইয়ের সেই পরিচারিকা যন্ত্রণায় হতভম্ব আর বাকরুদ্ধ হয়ে চুল্লির সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তার হাতে ধরা ছিল শুধু একটি জুতো; মুক্তো আর ফুল দিয়ে নকশা করা সেই ছোট্ট, শৌখিন জুতো—যা একসময় তার সুন্দরী মালকিনের ছিল। কো-নগাই যখন ঝাঁপ দিচ্ছিল দাসীটি তার পা ধরার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে শুধু জুতোটিই ধরতে পেরেছিল; আর সে পাগলের মতো সেটির দিকে তাকিয়ে রইল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এত কিছুর পরেও, স্বর্গীয় মহানুভবের আদেশ পালন করতেই হলো এবং ঢালাইয়ের কাজ শেষ করতে হলো—তা সে ফলাফল যত হতাশাজনকই হোক না কেন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ধাতুর উজ্জ্বলতা আগের চেয়ে অনেক বেশি খাঁটি আর সাদা মনে হলো। ভারী ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলো। আর কী আশ্চর্য! ধাতু ঠান্ডা হওয়ার পর দেখা গেল, ঘণ্টাটি দেখতে যেমন অপূর্ব, গঠনেও তেমনি নিখুঁত এবং এর রং অন্য সব ঘণ্টার চেয়ে বিস্ময়কর। কো-নগাইয়ের দেহের কোনো চিহ্নই পাওয়া গেল না, কারণ তা সেই মূল্যবান সংকর ধাতুর সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গিয়েছিল—সোনা, পিতল, রুপা আর লোহার সেই অপূর্ব মিলনের সাথে একাকার হয়ে গিয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আর যখন তারা ঘণ্টাটি বাজাল, তখন দেখা গেল তার আওয়াজ অন্য যেকোনো ঘণ্টার চেয়ে গভীর, মধুর এবং শক্তিশালী—এমনকি একশো &#39;লি&#39; দূর থেকেও তা শোনা গেল, যেন গ্রীষ্মের বজ্রপাতের গর্জন; আর তবুও সেই আওয়াজ যেন কোনো এক বিশাল কণ্ঠস্বর, যা একটি নাম উচ্চারণ করছে, এক নারীর নাম—&quot;কো-নগাই!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আর আজও, সেই প্রতিটি শক্তিশালী আঘাতের মাঝখানের বিরতিতে এক দীর্ঘ ও চাপা হাহাকার শোনা যায়; আর সেই গোঙানি শেষ হয় এক ফোঁপানি ও অভিযোগের সুরে, ঠিক যেন কোনো কান্নারত নারী ফিসফিস করে বলছে, &quot;হিয়াইইই…!&quot; আজও যখন মানুষ সেই বিশাল সোনালি গোঙানি শোনে, তখন তারা নীরব হয়ে যায়; কিন্তু যখন বাতাসে সেই তীব্র, মিষ্টি শিহরণ ভেসে আসে এবং &quot;হিয়াইইই…!&quot; শব্দের ফোঁপানি শোনা যায়, তখন পিকিং শহরের রঙিন গলিগুলোর সব চীনা মায়েরা তাদের ছোট শিশুদের কানে ফিসফিস করে বলে—&quot;শোনো! ওই যে কো-নগাই তার জুতোর জন্য কাঁদছে! ওই যে কো-নগাই তার হারানো জুতো ফেরত চাইছে!&quot;&lt;/p&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/3600202823067599583'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/3600202823067599583'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2026/02/The-Soul-of-the-Great-Bell.html' title='ল্যাফক্যাডিও হার্ন এর দ্য সোল অব দ্য গ্রেট বেল (The Soul of the Great Bell) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjab9z3329nBh4ZrulIOdaBfpyZrk0T5F2Leq-g-PKxeIw9aY5lnaVGDL5AYRCFSAlrpFbl7HK5vq1lo3jqTWAWJlF1Vb7wmIyj5Io1bB8bV8BLvi3Ne44zNW9YTnFCBzksLviZenIvMnTO3zXDcylZeHabKYkQNKS28pkqGw_iPVzZdLPcOTaiW5z1MYs/s72-w512-h640-c/The%20Soul%20of%20the%20Great%20Bell.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-3064415466931652472</id><published>2026-02-10T23:14:00.000-08:00</published><updated>2026-02-10T23:14:42.368-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="অনুবাদ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="রূপান্তর"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="লর্ড ডানসানি"/><title type='text'>লর্ড ডানসানি এর দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস (The Hoard of the Gibbelins) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjIlsGpKgZgxX5sxtxQZtiDDwbLEzyjrf8z7G_J4wucBvA2tISZSgOilDPxKpsfs9xI5BwA7d18QT6unj5C603j7k4P9EONz8oFJ20ieoKUhFiHL4dduymopLa3WRlfaUzvEy13JF5a_5puNGXWXqTN5_1_Lpzz0VAxUkwBnoWq5EZxcS278BHC1hiZ-1A/s1120/The%20Hoard%20of%20the%20Gibbelins.png&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;640&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjIlsGpKgZgxX5sxtxQZtiDDwbLEzyjrf8z7G_J4wucBvA2tISZSgOilDPxKpsfs9xI5BwA7d18QT6unj5C603j7k4P9EONz8oFJ20ieoKUhFiHL4dduymopLa3WRlfaUzvEy13JF5a_5puNGXWXqTN5_1_Lpzz0VAxUkwBnoWq5EZxcS278BHC1hiZ-1A/w512-h640/The%20Hoard%20of%20the%20Gibbelins.png&quot; width=&quot;512&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এডওয়ার্ড জন মোরটন ড্র্যাক্স প্লাঙ্কেট (যিনি সাহিত্যজগতে লর্ড ডানসানি নামে পরিচিত) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ লেখক, নাট্যকার এবং আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্যের পথিকৃৎদের একজন। আয়ারল্যান্ডের প্রাচীনতম অভিজাত বংশগুলোর একটিতে জন্মগ্রহণকারী ডানসানি ট্রিনিটি কলেজ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেন। &quot;দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস&quot; লর্ড ডানসানির রচিত একটি ফ্যান্টাসি ছোটগল্প। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় লন্ডনের দ্য স্কেচ পত্রিকায় ১৯১১ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯১২ সালে তাঁর বিখ্যাত সংকলন দ্য বুক অব ওয়ান্ডার-এ অন্তর্ভুক্ত হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;---------------------------------------------------------&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;b&gt;দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস&lt;/b&gt;&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;- লর্ড ডানসানি&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবলিনরা যে মানুষ ছাড়া আর কিছুই খায় না এ কথা সবাই জানে। তাদের সেই অশুভ দুর্গটি আমাদের চিরচেনা পৃথিবীর সাথে শুধুমাত্র একটি সেতুর মাধ্যমে যুক্ত আছে। তাদের ধনসম্পদের কোনো হিসাব নেই; এত বেশি যে লোভের বশবর্তী হয়েও এই পরিমান সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব নয়। পান্নার জন্য আলাদা গুদাম, নীলকান্তমণির জন্য আলাদা গুদাম; এমনকি তারা একটি গর্ত সোনা দিয়ে ভর্তি করে রেখেছে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন খুঁড়ে বের করে। আর তাদের এই বিশাল সম্পদের একটাই ব্যবহার, তা হলো—মানুষকে ফাঁদে ফেলা। দুর্ভিক্ষের সময় তো তারা আরও ভয়ংকর কাজ করত। তারা কোন একটি শহরে মানুষদের চলার পথে রুবি বা চুনি পাথর ছড়িয়ে দিত, ফলে মানুষেরা লোভের বশবর্তী হয়ে তাদের ফাঁদে পা দিত; আর বলাই বাহুল্য, শীঘ্রই গিবলিনদের খাবারের গুদাম পুনরায় ভরে উঠত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হোমার যে নদীকে &#39;পৃথিবী বেষ্টনকারী মহাসমুদ্র&#39; বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই নদীর ওপারেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের দুর্গ। যেখানে নদীটা সরু আর হেঁটে পার হওয়া যায় সেখানেই গিবলিনদের পেটুক পূর্বপুরুষরা এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিল; কারণ তারা চাইত রত্ন চোরেরা সহজে নৌকা বেয়ে এসে তাদের সিঁড়ির গোঁড়ায় পৌঁছাক।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই দুর্গেই গিবলিনরা বসবাস করত আর জঘন্যভাবে মানুষ খেয়ে বেঁচে থাকত। আলডেরিক, যিনি ছিলেন &#39;অর্ডার অফ দ্য সিটি অ্যান্ড দ্য অ্যাসল্ট&#39; এর একজন নাইট—রূপকথার গল্পকারদের কাছে যিনি বেশ পরিচিত নাম। গিবলিনদের সেই গুপ্তধনের কথা এত দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেছেন যে, এখন তিনি সেগুলো নিজের সম্পত্তি বলেই মনে করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হায়! গভীর রাতে কোন এক সাহসী মানুষ যে ভয়ানক অভিযানে নেমেছিল, তার পেছনের একমাত্র কারণ ছিল নিছক লোভ—এ কথা ভাবতেই খারাপ লাগে! কিন্তু গিবলিনরা তাদের খাবারের গুদাম পূর্ণ রাখতে মানুষের এই লোভের ওপরই ভরসা করত। প্রতি একশো বছরে একবার তারা মানুষের শহরে গুপ্তচর পাঠাত এটা দেখতে যে মানুষের লোভের অবস্থা কেমন; আর প্রতিবারই গুপ্তচরেরা দুর্গে ফিরে এসে জানাত যে সব ঠিকঠাক আছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মনে হতে পারে যে, বছরের পর বছর ধরে ওই দুর্গের ভেতরে মানুষের এমন ভয়ানক পরিণতির কথা জানাজানি হওয়ার পর গিবলিনদের খাবার টেবিলে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ার কথা; কিন্তু গিবলিনদের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার উল্টো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যৌবনের উন্মাদনায় আলডেরিক সেই দুর্গে আসেননি। তিনি বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন, কীভাবে চোরেরা তাদের নিজের বলে দাবি করা সেই সম্পদের খোঁজে গিয়ে অকালমৃত্যুর মুখে পড়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা দরজা দিয়েই প্রবেশ করেছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যারা এই অভিযানের বিষয়ে পরামর্শ দিত, তিনি তাদের সাথে শলাপরামর্শ করলেন; প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় টুকে নিলেন এবং হাসিমুখে তাদের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিলেন। কিন্তু মনে মনে ঠিক করলেন, তারা যা পরামর্শ দিয়েছে তার কোনোটাই তিনি করবেন না। কারণ তাদের মক্কেলদের বর্তমান অবস্থা কী? বরং তারাতো এখন গিবলিনদের সুস্বাদু খাবারে পরিনত হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই অভিযানের জন্য ওই উপদেষ্টারা সাধারণত যেসব জিনিসের পরামর্শ দিত তা হলো: একটি ঘোড়া, একটি নৌকা, লোহার বর্ম আর অন্তত তিনজন সৈনিক সাথে নিতে। কেউ বলত, &quot;দুর্গের দরজায় গিয়ে শিঙায় ফুঁ দিও&quot;; আবার কেউ বলত, &quot;খবরদার, ওটা স্পর্শ কোরো না।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আলডেরিক তাই সিদ্ধান্ত নিলেন: তিনি নদীর পাড় পর্যন্ত কোনো ঘোড়া নিয়ে যাবেন না, নৌকায় করে নদী পাড়ি দেবেন না, এবং তিনি একাই যাবেন—যে পথে কেউ যায় না, অর্থাৎ সেই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের পথ ধরে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যা দুর্ভেদ্য বা পার হওয়া অসম্ভব, তা তিনি পার হবেন কী করে? তার পরিকল্পনা ছিল এরকম: তিনি এমন এক ড্রাগনের কথা জানতেন যে শুধু অসংখ্য কুমারীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার জন্যই নয়, বরং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করার জন্যও সে কুখ্যাত ছিল; সে ওই পুরো অঞ্চলকে তছনছ করে দিয়েছিল। মূলত সে পুরো রাজ্যের জন্য ছিল অভিশাপ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আলডেরিক এবার সেই ড্রাগনের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাই তিনি ঘোড়া আর বর্শা নিয়ে ছুটলেন যতক্ষণ না ড্রাগনটির মুখোমুখি হলেন, আর ড্রাগনটিও তিক্ত ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে তাকে আক্রমণ করতে বেরিয়ে এল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তাকে দেখে আলডেরিক চিৎকার করে বললেন, &quot;কোনো পিশাচ ড্রাগন কি কখনো কোনো সাচ্চা নাইটকে হত্যা করতে পেরেছে?&quot; ড্রাগনটি ভালো করেই জানত যে এমনটা কখনো ঘটেনি, তাই সে মাথা নিচু করে চুপ করে রইল; কারণ ইতোপূর্বে রক্তপানে তার তৃষ্ণা মিটে গিয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর নাইট বললেন, &quot;শোনো, যদি তুমি আবার কখনও কোনো কুমারীর রক্তের স্বাদ পেতে চাও, তাহলে আজ থেকে তুমি হবে আমার বিশ্বস্ত বাহন—আমার ঘোড়া। আর যদি তা না চাও, তবে এই বর্শার শপথ করে বলছি, তোমার জাতির যে ভয়ংকর পরিণতির কথা গায়করা বলে বেড়ায়, সেই সবকিছুই তোমার ওপর নেমে আসবে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কথাটি শুনে সে রাগান্বিত হল না, কিংবা আগুনের শ্বাস ফেলতে ফেলতে নাইটকে আক্রমণ করতেও ধেয়ে এল না। কারণ যারা এসব দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদের কী পরিণতি হয়েছে তা সে ভালো করেই জানত। তাই সে নাইটের দেওয়া সব শর্ত মেনে নিল এবং শপথ করে বলল যে আজ থেকে সে তার বিশ্বস্ত বাহন হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই ড্রাগনের পিঠে জিন চড়িয়েই আলডেরিক পরে সেই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে তিনি তার সেই সূক্ষ্ম পরিকল্পনাটি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি এক কামারকে হুকুম দিলেন, আর সেই কামার তার জন্য একটি লোহার কোদাল বানিয়ে দিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আলডেরিকের এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। কারণ সবাই জানত তিনি একজন অত্যন্ত সতর্ক মানুষ, তাই তাদের বিশ্বাস ছিল তিনি সফল হবেন এবং পৃথিবীকে ধনসম্পদে ভরিয়ে দেবেন। এই মহৎ দানের কথা ভেবে শহরের লোকেরা খুশিতে হাত ঘষতে লাগল। তার দেশে শুধু সুদখোররা বাদে প্রায় সবাই খুশি ছিল। তারা ভয় পাচ্ছিল কারণ আলডেরিক ফিরে এলে হয়তো তাদের পাওনা টাকা শোধ হয়ে যাবে। আরও একটা কারণে সবাই খুশি ছিল—যদি গিবলিনদের ধন লুট হয় তবে তারা হয়তো তাদের উঁচু সেতু ভেঙে ফেলবে আর নিজেদের দুর্গসহ যেখান থেকে তারা এসেছিল সেখানে অর্থাৎ চাঁদে ফিরে যাবে। গিবলিনদের প্রতি মানুষের ভালোবাসার লেশমাত্র ছিল না, যদিও সবাই তাদের গুপ্তধনের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তাই যেদিন তিনি ড্রাগনের পিঠে চড়লেন, সেদিন সবাই এমনভাবে উল্লাস করতে লাগল যেন তিনি ইতিমধ্যেই বিজয়ী হয়ে ফিরেছেন। আর লোকদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়েছিল এই দেখে যে, তিনি যাত্রাপথে সোনা ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, গিবলিনদের গুপ্তধন পেলে এসবের আর দরকার হবে না; আর যদি তিনি গিবলিনদের খাবারে পরিণত হন, তবে তো এগুলোর চিন্তা করা একদমই বৃথা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যখন লোকেরা শুনল যে তিনি উপদেষ্টাদের কথা শোনেননি, তখন কেউ বলল নাইট পাগল হয়ে গেছেন; আবার কেউ বলল তিনি পরামর্শদাতাদের চেয়েও বড় মাপের মানুষ। কিন্তু কেউই তার পরিকল্পনার আসল মাহাত্ম্য বুঝতে পারল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তার যুক্তি ছিল এই রকম: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে সবচেয়ে চতুর পথে সেখানে গেছে। এদিকে গিবলিনরাও অভ্যাস করে ফেলেছে যে মানুষ নৌকা করেই আসবে, আর যখন তাদের খাবারের গুদাম খালি হবে তখন তারা দরজার দিকেই তাকিয়ে থাকবে—যেমন করে কোন শিকারি জলাভূমিতে কাদা-খোঁচা পাখির খোঁজ করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু আলডেরিক বললেন, &quot;যদি পাখিটি কোনো গাছের মগডালে বসে থাকে, তবে কি মানুষ তাকে খুঁজে পাবে? কখনোই না!&quot; তাই আলডেরিক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নদী সাঁতরে পার হবেন এবং দরজা দিয়ে ঢুকবেন না, বরং কোদাল দিয়ে দেয়ালের পাথর খুঁড়ে দুর্গের ভেতরে ঢুকবেন। তাছাড়া তার পরিকল্পনা ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে কাজ করা। তার উদ্দেশ্য ছিল, দেয়ালে ফুটো করলেই যেন পানি হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়ে গিবলিনদের ভড়কে দেয় এবং তাদের বিশ ফুট গভীর ভূগর্ভস্থ গুদামগুলো বন্যায় ভাসিয়ে দেয়; আর তখন তিনি মুক্তার সন্ধান করা ডুবুরির মতো পান্না কুড়িয়ে নেবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেদিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার ঘোড়া (বা বলা ভালো ড্রাগন) ছুটিয়ে বাড়ি থেকে দুহাতে সোনা ছড়াতে ছড়াতে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি অনেক রাজ্য পার হলেন; পথে ড্রাগনটা কুমারী মেয়েদের দেখে কামড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু মুখের লাগামের কারণে খেতে পারছিল না। এর বদলে তাকে খেতে হচ্ছিল নাইটের বর্শার খোঁচা। এভাবে তারা সেই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের কালো, গগনচুম্বী দেয়ালের মতো গাছের সারির কাছে এসে পৌঁছাল। ডানার ঝাপটানি দিয়ে ড্রাগনটি উঁচুতে উঠে গেল। পৃথিবীর প্রান্তে বসবাসকারী অনেক কৃষক গোধূলির আলোয় ওপরে তাকাতেই এক আবছা, কালো, আঁকাবাঁকা রেখা দেখতে পেল। তারা ওটাকে সমুদ্র থেকে উড়ে আসা বুনো হাঁসের সারি ভেবে ভুল করল এবং শীত আসছে, শীঘ্রই বরফ পড়বে—এই ভেবে হাত ঘষতে ঘষতে হাসিমুখে ঘরে ঢুকে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিছুক্ষণ পর গোধূলি মিলিয়ে গেল আর তারা যখন পৃথিবীর কিনারায় নামল তখন রাত হয়ে গেছে এবং আকাশে চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। সেই প্রাচীন মহাসাগর নিঃশব্দে বয়ে যাচ্ছিল। গিবলিনরা ভোজসভায় মত্ত ছিল নাকি দরজায় পাহারা দিচ্ছিল—তা বোঝার উপায় ছিল না, কারণ তারাও কোনো শব্দ করছিল না। আলডেরিক ড্রাগন থেকে নামলেন এবং তার বর্ম খুলে ফেললেন। তারপর নিজের প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে একবার প্রার্থনা করে কোদাল হাতে সাঁতরে নদী পার হলেন। তলোয়ারটি হাতছাড়া করলেন না, পাছে কোনো গিবলিনের সাথে দেখা হয়ে যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ওপারে পৌঁছে তিনি সাথে সাথেই কাজ শুরু করলেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক মতোই এগোতে লাগল। কোনো জানালা দিয়ে কেউ উঁকি দিল না; সবগুলো জানালাই আলোকিত ছিল, ফলে ভেতরের আলোয় থাকা কেউ বাইরের অন্ধকারে তাকে দেখতে পাচ্ছিল না। কোদালের আঘাতের শব্দ মোটা দেয়ালে&amp;nbsp; চাপা পড়ে যাচ্ছিল। সারা রাত তিনি কাজ করলেন, কোনো শব্দ তাকে বিরক্ত করল না। ভোরের আলো ফুটতেই শেষ পাথরটি নড়ে উঠে ভেতরের দিকে পড়ে গেল, আর তার পেছন পেছন নদীর পানি হুড়মুড় করে ঢুকতে লাগল। তখন আলডেরিক একটা পাথর নিলেন এবং নিচের ধাপের দিকে গিয়ে সেটা সজোরে দরজার দিকে ছুড়ে মারলেন। তিনি শুনলেন পাথরের প্রতিধ্বনি দুর্গের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে; এরপর তিনি দৌড়ে ফিরে এসে দেয়ালের সেই গর্ত দিয়ে ভেতরে ডুব দিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তিনি পান্নার গুদামে এসে পরলেন। তার মাথার ওপরের উঁচু ছাদের নিচে কোনো আলো ছিল না, কিন্তু বিশ ফুট পানির নিচে ডুব দিয়ে তিনি অনুভব করলেন মেঝেটা পান্নায় ভর্তি হয়ে আছে, আর সেখানে খোলা সিন্দুকগুলোও রত্নে ঠাসা। চাঁদের আবছা আলোয় তিনি দেখলেন পান্নার আভায় পানি সবুজ হয়ে আছে। সহজেই তিনি একটি থলি ভর্তি করে আবার পানির ওপরে ভেসে উঠলেন; আর ঠিক তখনই দেখলেন গিবলিনরা হাতে মশাল নিয়ে কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আছে! তারা কোনো কথা বলল না, এমনকি হাসলও না। তারা খুব নিপুণভাবে তাকে বাইরের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিল—আর বলাই বাহুল্য, এই গল্পের শেষটা খুব একটা সুখকর ছিল না।&lt;/p&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/3064415466931652472'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/3064415466931652472'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2026/02/The-Hoard-of-the-Gibbelins.html' title='লর্ড ডানসানি এর দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস (The Hoard of the Gibbelins) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjIlsGpKgZgxX5sxtxQZtiDDwbLEzyjrf8z7G_J4wucBvA2tISZSgOilDPxKpsfs9xI5BwA7d18QT6unj5C603j7k4P9EONz8oFJ20ieoKUhFiHL4dduymopLa3WRlfaUzvEy13JF5a_5puNGXWXqTN5_1_Lpzz0VAxUkwBnoWq5EZxcS278BHC1hiZ-1A/s72-w512-h640-c/The%20Hoard%20of%20the%20Gibbelins.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-7203990665773565631</id><published>2025-09-05T22:59:00.000-07:00</published><updated>2025-09-12T09:47:50.579-07:00</updated><title type='text'>হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর লিটল ফ্লাওয়ার (Little Flower) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjaaIXSTBNBIgjU3s1i0APFKoPBuasqVDRzAVvPaIj8NJ26iPAOlX_4IGFYLKl8FVThtNtdSdx4tqHWw24fUygQjOx4hO81bdMykfvj7gSamkv0rw_bKzapX5xoFPWoXFRIXzekuW6h_YQAu5PDioa3dhNT0fxyVXszKfPHYYEz4ZYKqTcSPvtbRrZxw4U/s1120/%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%20-%20%E0%A6%8F%E0%A6%B0.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;594&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjaaIXSTBNBIgjU3s1i0APFKoPBuasqVDRzAVvPaIj8NJ26iPAOlX_4IGFYLKl8FVThtNtdSdx4tqHWw24fUygQjOx4hO81bdMykfvj7gSamkv0rw_bKzapX5xoFPWoXFRIXzekuW6h_YQAu5PDioa3dhNT0fxyVXszKfPHYYEz4ZYKqTcSPvtbRrZxw4U/w475-h594/%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%20-%20%E0%A6%8F%E0%A6%B0.png&quot; width=&quot;475&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: large;&quot;&gt;লিটল ফ্লাওয়ার (Little Flower)&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: large;&quot;&gt;হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: large;&quot;&gt;রূপান্তরঃ মেহেদী হাসান&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“লিটল ফ্লাওয়ার” গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২০ সালে। এটা স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস, অ্যান্ড আদার টেলস&#39; বইয়ের একটি গল্প। এই সংগ্রহে মোট ছয়টি গল্প আছে। গল্পগুলো হলো: &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস&#39;, &#39;মাগেপা দ্য বাক&#39;, &#39;দ্য ব্লু কার্টেন্স&#39;, &#39;দ্য লিটল ফ্লাওয়ার&#39;, &#39;ওনলি আ ড্রিম&#39; এবং &#39;বারবারা হু কেম ব্যাক&#39;। বইটিতে &#39;লিটল ফ্লাওয়ার&#39; হচ্ছে চতুর্থ গল্প। পূর্বের তিনটি গল্প আমার টাইমলাইনে পাবেন। পড়ে দেখতে পারেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;----------------------------------------------&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ এক&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রেভারেন্ড থমাস বুল ছিলেন পাথরের মত দৃঢ় চরিত্রের একজন মানুষ, তার কল্পনাশক্তি ছিলো না বললেই চলে। ভালো বংশের, ভালো মেধার, ভালো নীতির এবং ভালো খ্যাতির অধিকারী এই মানুষটির নাম থমাসের বদলে জন বুল হওয়া উচিত ছিল কারণ তিনি ছিলেন ব্রিটিশ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একজন আদর্শ প্রতিনিধি। স্বভাবগতভাবে তিনি ছিলেন সত্যিকারের একজন ধার্মিক মানুষ এবং তার মনের ভারসাম্যের কারণে অন্যদের মতো তিনি নানান দুর্বলতায় ভুগতেন না। জীবনের একেবারে শুরুতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো পার্থিব বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর যেহেতু অনন্তকাল সময়ের চেয়ে অনেক দীর্ঘ, তাই আধ্যাত্মিকতার প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করা এবং জাগতিক বিষয়গুলোকে নিজের পথে চলতে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। পুরস্কার এবং ধর্মীয় মতবাদে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এমন অনেক ভালো মানুষ আছেন যারা এই বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। তাদের জন্য,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হাজার গুণে ফিরে আসবে প্রতিদান।&quot; — এটা তাদের প্রিয় স্তোত্রের একটি প্রিয় পংক্তি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এটা সত্যি যে আধ্যাত্মিকতার ব্যাপারে তার ধারণা ছিল সীমিত! না, বরং বলা উচিত, এটা ছিল অসীম কারণ তার চারপাশে থাকা যা কিছুই তাকে শেখানো হোক না কেন, তিনি কোনরূপ সন্দেহ বা প্রশ্ন ছাড়াই তা গ্রহণ করতেন। বাল্যকালে বড় বড় পিল গিলে ফেলার দক্ষতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ভেবো না,&quot; তিনি তার দুর্বল ভাই-বোনদের বলতেন, বিশেষত একটি বোনকে যার গলার গঠন এমন ছিল যে তাকে এই পিলগুলো কাঁচি দিয়ে কেটে নিতে হতো, &quot;ভেবো না, গিলে ফেলো!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রেও থমাস একই কাজ করতেন; তিনি ভাবতেন না, গিলে ফেলতেন। এইভাবে বিশ্বাসের বিষয়গুলোতে সন্দেহ পোষণ করে যদি অন্য সকল তরুণরা &quot;রূপকথা&quot; নিয়ে কথা বলত অর্থাৎ যখন তারা তাদের আদিমাতা হাওয়া (আঃ)-এর এই পৃথিবীতে আগমনের সঠিক পদ্ধতি, ইয়ুশা ইবনে নুন (আঃ) এর জন্য সূর্য আসলেই স্থির ছিল কিনা বা নূহ (আঃ) তার নৌকায় অগণিত জীবজন্তুর জোড়া নিয়ে আরারাত পর্বতের চূড়ায় ভেসে উঠেছিলেন কিনা, অথবা ইউনুস (আঃ) পাচন রসকে অগ্রাহ্য করে তিমির পেটে তিন দিন বেঁচে থাকার মতো বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করত, থমাস তখন করুণার হাসি দিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে মন্তব্য করতেন যে, মূসা (আঃ) আর অন্যান্য স্বীকৃত নবীদের লেখাই তার জন্য যথেষ্ট।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আসলে স্কুলে থাকার সময় তার সম্পর্কে একটা গল্প প্রচলিত ছিল যেটা তার এই মনোভাবের চমৎকার উদাহরণ হতে পারে। পড়াশোনার বোঝা হালকা করার জন্য একজন খুব বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদকে তার হাউসে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। তিনি তরুণ শ্রোতাদের আগ্রহী করে তোলা আর পৃথিবীর শিলাগুলিকে তাদের নিজস্ব ধর্মনিরপেক্ষ গল্প বলার শিল্পে পারদর্শী ছিলেন। এই বিশিষ্ট মানুষটি অসাধারণভাবে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে কোনো সন্দেহ ছাড়াই প্রমাণিত হয় যে আমরা পৃথিবীতে বাস করি। কোটি কোটি বছর ধরে টিকে থাকা মহাকাশের সমুদ্রে ভাসমান একটি ধূলিকণার ন্যায় আমাদের এই পৃথিবী কীভাবে অগণিত যুগের বিবর্তনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে এটা শেষ পর্যন্ত মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠেছে। যারা সম্ভবত নিজেরাই কমপক্ষে দশ লাখ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে, চলাফেরা করেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আকর্ষণীয় এই গল্পের শেষে ছেলেদের প্রশ্ন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো। থমাস বুল নামে একজন বড়সড়, ভুরু কুঁচকানো যুবক সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল আর তাদের বিখ্যাত ও বয়স্ক অতিথি সেই বিশ্বব্যাপী খ্যাতিসম্পন্ন মানুষটির কাছে জানতে চাইলো, তিনি কেন রূপকথার গল্প বলে তাদের হাসানোর চেষ্টা করছেন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বৃদ্ধ ভদ্রলোক খুব আগ্রহ নিয়ে তার চশমা লাগিয়ে এই অদ্ভুত ছেলেটিকে পর্যবেক্ষণ করে বললেন, &quot;আমি নিজেও স্পষ্টভাষী, আর আমি তাদের পছন্দ করি যারা দৃঢ় বিশ্বাস থেকে স্পষ্ট কথা বলে; কিন্তু, আমার তরুণ বন্ধু, তুমি কেন মনে করো যে আমি রূপকথার গল্প বলছি?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কারণ বাইবেল তাই বলেছে,&quot; থমাস নির্ভীকভাবে উত্তর দিল। &quot;বাইবেল আমাদের বলেছে পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্ট হয়েছে, লক্ষ কোটি বছরে নয়, আর সূর্য চাঁদ তারা আকাশে রাখা হয়েছে পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য; এছাড়া মানুষ সৃষ্ট হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছরে। তাই হয় আপনি ভুল, স্যার, নয়তো বাইবেল ভুল, আর আমি বাইবেলের পক্ষে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তার চশমা খুলে সাবধানে রেখে দিলেন, তারপর বললেন:&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ কথা। অনুরোধ করি যুবক, আমার বা অন্যদের নগণ্য অনুমানগুলো যেন তোমার বিশ্বাসে বাধা না দেয়। তবে আমি মনে করি, পৃথিবী খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছরে শুরু হয়েছিল বলে যিনি বলেছিলেন, সেটা বাইবেল নয় বরং আর্চবিশপ উশার ছিলেন। আমার মনে হয় তুমি একদিন নিজের পথে একজন মহান মানুষ হতে পারবে। তবে আমি পরামর্শ দেব, বিতর্কে একটু ভদ্রতার মিষ্টতা মাখালে ভালো হয়।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর আর কোনো প্রশ্ন করা হল না, আর সভাটি বিশৃঙ্খলভাবে ভেঙে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এসব থেকে বোঝা যায়, যেহেতু আমরা কেউই নিখুঁত নই, থমাসের মধ্যেও দুর্বলতা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, তার ছিল তথাকথিত &quot;বদমেজাজ&quot;, এছাড়া নিজের এবং নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে তার একটা উঁচু ধারণা ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যথাসময়ে থমাস বুল ধর্মতত্ত্বের ছাত্র হলেন। এমন ছাত্র খুব কমই ছিল। তিনি ডানে বামে তাকাতেন না, দিনে আট ঘন্টা পড়াশোনা করতেন আর প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছিলেন। তারপর তিনি পুরোহিত পদে নিযুক্ত হলেন। এই সময়ে তিনি হঠাৎ করে একজন কলোনিয়াল বিশপের ধারাবাহিক কিছু উপদেশ শুনলেন যা তার মনকে মিশনারি কাজের দিকে উৎসাহিত করলো। এটা ঘটেছিল যখন তিনি ইস্ট এন্ডের একটি প্যারিশে ডিকন হিসেবে কাজ করছিলেন এবং পশ্চিমা বর্বরতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তিনি তার বন্ধুবান্ধব ও উর্ধ্বতনদের সাথে পরামর্শ করলেন যে তার সত্যিকারের কাজ পৃথিবীর দূর দূরান্তে পৌঁছে দিলে কেমন হয়? সবাই একবাক্যে উত্তর দিলেন, তারা তাই মনে করে; তাদের এই একতা দেখে মনে হল যে তারা আন্তরিকভাবে সম্মত হয়নি বরং তার থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে আছে। হয়তো তারা সত্যিই তাই চেয়েছিল; অথবা হয়তো তারা মনে করেছিল এই প্রচণ্ড জ্ঞানী মানুষটির জন্য এই সংকীর্ণ দেশ উপযুক্ত নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু আরেকজনের সঙ্গেও পরামর্শ করতে হয়েছিল কারণ এতদিনে রেভারেন্ড থমাস বুল লন্ডনের একজন মৃত ব্যবসায়ীর একমাত্র কন্যার সঙ্গে বাগদান করেছিলেন—আসলে তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের দোকানদার। এই সম্মানিত নাগরিক, মিস্টার হামফ্রিজ, জীবনের শেষ দিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন এবং বেছে নিয়েছিলেন তার চেয়ে কিছুটা উঁচু শ্রেণীর একজন সুন্দরী আর বেশ ফ্যাশনেবল মহিলাকে, যিনি নিজেও ছিলেন বিধবা। দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে তার কোনো সন্তান হয়নি, তার কন্যা ডরকাস ছিল প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান। মিস্টার হামফ্রিজ একটি অদ্ভুত উইল করেছিলেন; তিনি তার বিপুল সম্পত্তির সবটাই তার তরুণী বিধবা স্ত্রীর জন্য রেখে গিয়েছিলেন, আর তার কন্যা ডরকাসের জন্য বছরে মাত্র তিনশো পাউন্ডের একটি ভাতা নির্ধারণ করেছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তবে মৃত্যুর একদিন আগে তিনি উইলে একটা শর্ত যোগ করেছিলেন যা মিসেস হামফ্রিজকে খুব রাগিয়েছিল, শর্তে বলা হয়েছিলো, যদি তিনি পুনরায় বিয়ে করেন তাহলে সম্পত্তির তিন-চতুর্থাংশ তৎক্ষণাৎ ডরকাসের কাছে চলে যাবে এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুর পরে ডরকাস বা তার উত্তরাধিকারীরা পুরো সম্পত্তি পাবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই উইলের ব্যবস্থাপনার ফলাফল ছিল একটি বাড়ি, যদিও সেটা বেশ বড়ই ছিল, কিন্তু মিসেস হামফ্রিজ এবং তার সৎ মেয়ে ডরকাসের জন্য সেটা যথেষ্ট হলো না। ডরকাস ছিল উল্টানো নাক, হালকা খয়েরী রঙের নরম চুল আর অস্পষ্ট মুখাবয়বের একটি নম্র মেজাজের ভীরু মেয়ে। তবুও তার মনের মধ্যে সৎ মায়ের ফ্যাশনেবল চলাফেরার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদের চেতনা জাগ্রত ছিল। শেষ পর্যন্ত সে তার তিনশো পাউন্ড বার্ষিক আয় নিয়ে ইস্ট এন্ডে গিয়ে ভালো কাজকর্ম করার সিদ্ধান্ত নিল—দৃঢ়ভাবে স্থির করেছিল নিজের জন্য একটা পেশা গড়ে তুলবে, যদিও এ কাজের জন্য সে মোটেও উপযুক্ত ছিল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এভাবেই ডরকাসের সঙ্গে রেভারেন্ড থমাস বুলের পরিচয় হল। প্রথমবার সে তার ভবিষ্যৎ স্বামীকে দেখেই সম্পূর্ণরূপে মুগ্ধ হয়ে গেল। তিনি তখন মিম্বরে ছিলেন, আর সত্যিই সেখানে তার বলিষ্ঠ দেহ, বড় কালো চোখ, আর দৃঢ় চেহারা নিয়ে তাকে খুব সুদর্শন লাগছিল। তাছাড়া সে তার নিজস্ব জোরালো ভঙ্গিতে চমৎকার বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বক্তৃতায় তিনি আধুনিক মহিলাদের—বিশেষ করে উচ্চশ্রেণির আধুনিক মহিলাদের চারিত্রিক দোষত্রুটি আর ক্ষুদ্র মন-মানসিকতার নিন্দা করছিলেন, যাদের সম্পর্কে তার আসলে কোনো ধারণাই ছিল না। এই বিষয়টি ইস্ট এন্ডের জনসাধারণের কাছে বেশ আকর্ষণী ছিল। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে এই বিলাসী ধরনের মহিলারা মূল্যহীন, তারা পোশাক আর অন্যান্য আরও নিষিদ্ধ আনন্দের প্রতি কতটা মনোযোগ দেয়। তিনি তাদের তুলনা করেছিলেন ফ্লোরেন্সের মহিলাদের সঙ্গে, যাদের স্যাভোনারোলা (যদিও মনে মনে থমাস নিজের সাথে সেই সংকীর্ণ মানুষগুলোর মিল খুঁজে পেত) বলে তিরস্কার করেছিলেন যতক্ষণ না তারা অনুতপ্ত হয়ে কাঁদতে লাগলো এবং তাদের অলংকার ও সাজসজ্জা পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্তূপ করে রাখল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারা তাদের জীবন নিয়ে কী করে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন। তাদের দশ হাজারের মধ্যে একজনও কি এমন আছে যে বিলাসিতা ত্যাগ করে পৃথিবীর অন্ধকার স্থানে আলো ছড়াতে যাবে বা অন্তত নিজেকে কষ্ট দিয়ে হলেও অন্যদের সাহায্য করবে? এভাবে তিনি তিরিশ মিনিট ধরে বলে গেলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডরকাস শুনতে শুনতে তার সৎ মায়ের কথা ভেবে মনে করছিল এসব কথা কতটা আশ্চর্যজনকভাবে সত্য। রেভারেন্ড যদি ডরকাসের সৎ মাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, তবে এর চেয়ে নিশ্চয়ই ভালো বর্ণনা দিতে পারতেন না। এটাও নিশ্চিত যে মিসেস হামফ্রিজ আর তার বন্ধুরা কোনো ধরনের আলো ছড়ানোর কোনো ইচ্ছা রাখেন না, যদি না সেটা তাদের নিজেদের চোখ আর গয়নার ঝলকানি হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তিনি যে উচ্চতর জীবনের ছবি আঁকলেন তা কত মহৎ, আত্মত্যাগ আর উঁচু লক্ষ্যের জীবন! সে এই উচ্চতর জীবন যাপন করতে চায়, কারণ সত্যি বলতে সে ছিল ধার্মিক প্রেরণায় পূর্ণ একটি ভালো হৃদয়ের মেয়ে; শুধু দুর্ভাগ্যবশত সে জানত না কীভাবে সেটা সম্ভব।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তখনই তার মনে একটা অনুপ্রেরণা এল; সে মিস্টার বুলের সাথে পরামর্শ করবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সে তাই করল, আর এর ফলাফল তিন মাসের মধ্যে তারা বাগদান করল, আর ছয় মাসের মধ্যে বিয়ে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাগদানের সেই উত্তেজনাপূর্ণ সপ্তাহগুলোতে তারা একমত হল (যদিও ডরকাসের কিছুটা দ্বিধা ছিল) যে যথাসময়ে তারা মিশনারি হয়ে পৌত্তলিকদের ধর্মান্তরিত করতে আফ্রিকা যাবে; যাকে ডরকাস &quot;কালো আফ্রিকা&quot; বলে চিনত। তবে তার আগে তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে; তাদের দুই জনকেই দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে; সোয়াহিলি আর জুলুর মতো বিভিন্ন বর্বর ভাষা শিখতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ওহ! বেচারি ডরকাস। সে খুব একটা বুদ্ধিমতী ছিল না এবং ভাষা শেখার কোনো প্রতিভাও তার মধ্যে ছিল না। একসময় সে সেই বর্বর উপ-ভাষাগুলোকে ঘৃণা করতে আরম্ভ করল। তবুও অনিচ্ছাসত্ত্বেও সে বীরাঙ্গনার মতো সেগুলো শিখতে থাকল এবং শেষ পর্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবহারিক দূরদর্শিতায় শুধু গৃহস্থালীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় শব্দ ও বাক্যগুলো শিখে ফেলল, যেমন, &quot;আগুন জ্বালাও&quot;, &quot;কেটলিতে পানি ফোটাও&quot;, &quot;বোন, তুমি কি কাঠ কেটেছ?&quot;,&amp;nbsp; &quot;রান্নাঘরের কুঁড়েতে এত হৈচৈ বন্ধ করো।&quot;, &quot;সিংহ যদি আমাদের গরু খায়, তাহলে আমাকে জাগিয়ো&quot; ইত্যাদি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিয়ের পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রাথমিক প্রস্তুতি চলতে থাকল। থমাস ঘোড়ার মতো খাটতেন, যদিও এটা সত্য যে ডরকাস আনুসাঙ্গিক কাজের চাপে সোয়াহিলি আর জুলু ব্যাকরণের প্রতি তার মনোযোগ কমিয়ে দিয়েছিল। বিশেষভাবে যখন তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হল—মায়ের মতোই খয়েরী চুলের ফুটফুটে একটি মেয়ে, থমাস তার নাম রাখল তাবিথা এবং পরবর্তী বছরগুলোতে সে এই গল্পের &quot;লিটল ফ্লাওয়ার বা ছোট্ট ফুল&quot; হয়ে উঠল। তারপর চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে আরেকটি ঘটনা ঘটল। ডরকাসের সৎ মা মিসেস হামফ্রিজ, লেন্টের সময় একটি নাচের অনুষ্ঠানে গিয়ে ঠান্ডা লাগিয়ে ফুসফুসে প্রদাহে আক্রান্ত হলেন এবং মারা গেলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;থমাস যাকে প্রভুর ইচ্ছা বলেছিলেন, এই ঘটনার ফলে ডরকাস হঠাৎ ধনী হয়ে গেল। বছরে তার আয় প্রায় দুই হাজার পাউন্ড, কারণ তার বাবা তার ধারনার চেয়েও অনেক বেশি ধনী ছিলেন। এখন প্রলোভন তাকে পেয়ে বসল। সে নিজেকে প্রশ্ন করল, কেন থমাসকে আফ্রিকায় গিয়ে কালো মানুষদের শিক্ষা দিতে হবে, যখন তার প্রতিভা আর সম্পদ কাজে লাগিয়ে সে ঘরেই আরামে থেকে খুব শীঘ্রই একজন বিশপ, অথবা অন্তত একজন ডিন হতে পারে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;খুব সাহস করে সে এই বিষয়টি তার স্বামীর কাছে তুলল, কিন্তু বুঝল যে তার মাথা দিয়ে পাথরের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করা তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করানোর চেয়ে সহজ হত। তিনি ধৈর্য সহকারে তার কথা শুনলেন—তারপর ঠান্ডা গলায় বললেন যে তিনি তার কথায় বিস্মিত হয়েছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;যখন তুমি গরিব ছিলে&quot; তিনি বলে চললেন, &quot;তুমি এই সেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলে, আর এখন আমরা ধনী হয়েছি বলে, তুমি বিশ্বাসঘাতক হয়ে মিশরের মাংসের হাঁড়ির পিছনে ছুটতে চাও? আমাকে আর কখনো এই বিষয়ে কিছু বলতে যেওনা।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কিন্তু আমাদের মেয়ের কথা একবার ভাবো&quot; ডরকাস চেঁচিয়ে উঠল। &quot;আফ্রিকা গরম, ওর জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;স্বর্গ তার দেখাশোনা করবে,&quot; তিনি উত্তর দিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি ঠিক সেই ভয়টাই পাচ্ছি,&quot; ডরকাস কাঁদতে কাঁদতে বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর তাদের প্রথম ঝগড়া হল, যার মধ্যে স্বীকার করতেই হবে, সে দুয়েকটি কটু কথা বলে ফেলেছিল। উদাহরণস্বরূপ, সে বলল যে তিনি বিদেশে যেতে চান তার আসল কারণ হল তিনি দেশে তার সহকর্মী পাদ্রিদের, বিশেষ করে তার ঊর্ধ্বতনদের কাছে অপ্রিয়, যাদের তিনি ক্তৃতা আর তিরস্কার করতে পছন্দ করতেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই ঝগড়ার শেষ হল তার সম্পূর্ণ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে, ভাঙা ডানার প্রজাপতির মতো যা বাগানের রোলারের পথে পড়ে যায়। তিনি দাঁড়িয়ে তার ওপরে ঝুঁকে পড়লেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ডরকাস,&quot; তিনি বললেন, &quot;তুমি যা ইচ্ছে করো। চাইলে এখানে থাকো, তোমার টাকা আর বিলাসিতা উপভোগ করো। আমি পরের মাসের প্রথমেই আফ্রিকার উদ্দেশ্যে জাহাজে চড়ব। তুমি দুর্বল বলে কি আমি শক্তিশালী হওয়া বন্ধ করে দেব?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;না, তা মনে করি না,&quot; সে কাঁদতে কাঁদতে উত্তর দিল, আর পরাজয় মেনে নিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অবশেষে তারা জাহাজে চড়লেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তোমাকে নিজের সন্তানের দেখাশোনা করা শিখতে হবে,&quot; তিনি বললেন; এই মন্তব্যে ডরকাস একটু মুখ বাঁকাল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ দুই&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিস্টার এবং মিসেস বুলের পরবর্তী আট বছরের জীবনযাত্রা তেমন কোনো মন্তব্যের দাবি রাখে না। তাবিথা প্রথমদিকে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল ছিল এবং প্রায় সর্বদাই ডাক্তারের সংস্পর্শে থাকতে হতো। তারা ঘুরে ঘুরে আফ্রিকার বিভিন্ন উপকূলীয় শহরে বাস করতে থাকে, যেখানে থমাস তার স্বাভাবিক উৎসাহ ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতেন। তিনি বিভিন্ন ভাষা শিখে যথেষ্ট নিখুঁতভাবে বলতে পারতেন (যদিও ডরকাস তা কখনোই পারেনি) এবং মিশনারি কাজের সাথে সম্পর্কিত স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে ভালোভাবে পরিচিত করাতেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অন্য কিছুতে তার তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না; এমনকি আদিবাসীদের ইতিহাস বা তাদের অদ্ভুত সংস্কৃতির প্রতিও না কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নিজস্ব একটি গোপন সংস্কৃতি ছিল। &quot;সবকিছু শেষ হয়ে গেছে,&quot; তিনি বলতেন, &quot;এই আদিবাসীরা হচ্ছে কালো ও বর্বর অতীতের একটি উল্টানো পাতা,&quot; এখন তার কাজ হচ্ছে নতুন পাতায় নতুন কিছু লেখা। সম্ভবত এই কারণেই থমাস বুল সত্যিকার অর্থে কখনই জুলু, বাসুতো, সোয়াহিলি বা অন্য কোনো কালো চামড়ার পুরুষ, মহিলা, বা শিশুর মনের গভীরে প্রবেশ করতে বা তাদের বুঝতে পারেননি। তার কাছে তারা ছিল শুধুই আগুনে পোড়া কাঠ এবং পাপী, যাদের উদ্ধার করতে হবে এবং তিনি ভয়ানক উদ্যমের সঙ্গে তাদের উদ্ধারের কাজে লেগে যেতেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তার স্ত্রী, যদিও তার শব্দভাণ্ডার এখনো খুব সীমিত ছিল এবং প্রায়শই ইংরেজি বা ডাচ শব্দ দিয়ে বাক্য&amp;nbsp; পূর্ণ করতে হতো—এই কালো মানুষদের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে পারতো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;জানো থমাস,&quot; সে বলত, &quot;তাদের নানা রকম সুন্দর ধারণা আছে যা আমরা বুঝি না, আর তারা তাদের মতো করে বেশ ভালো, শুধু তাদের পথটা কী সেটা তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি খুঁজে বের করেছি,&quot; তিনি কঠিন গলায় বলতেন; &quot;এটা একটা খুবই মন্দ পথ, ধ্বংসের পথ। আমি চাই না তুমি সেই ধূর্ত কালো পরিচারিকা মেয়েটার সাথে এত বন্ধুত্ব করো যে তিনবার মুখ খুললে অন্তত একবার মিথ্যা বলে।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাকি সময়ে ডরকাস মোটামুটি আরামেই ছিল, কারণ তাদের সম্পদের দরুন যে শহরেই তারা থাকতো সেখানে সবসময় একটা সুন্দর বাড়ি ভাড়া নিতে পারত; যেখানে সে টেনিস পার্টি এবং এমনকি ছোটখাটো লাঞ্চ বা ডিনারের আয়োজন করতে পারত। বিশেষ করে যদি তার স্বামী দূরে যেতেন—যেমন তিনি প্রায়ই উপ-দেশীয় অঞ্চল পরিদর্শনে যেতেন অথবা অসুস্থ বা ছুটিতে থাকা অন্য কোনো মিশনারির দায়িত্ব পালন করতেন। সত্যি বলতে আফ্রিকাকে ডরকাসের বেশ ভালো লাগতে শুরু করেছিল কারণ সে ছিল একটা শীতকাতর মেয়ে যে আফ্রিকার প্রচুর সর্বব্যাপী রোদকে ভালোবাসত এবং সে অনেক বন্ধু বানিয়েছিল; বিশেষত যুবকদের মধ্যে, যাদের কাছে তার অসহায়ত্ব ও কিছুটা বিষণ্ণ মুখ বেশ আকর্ষণীয় ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহিলারাও তাকে পছন্দ করত কারণ সে ছিল দয়ালু এবং দারিদ্র্য বা অন্য কোনো দুর্দশার ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতো। ভাগ্যক্রমে, সে ছিল নিজের মালিক কারণ তার সম্পত্তি কোনো বিয়ের চুক্তি দ্বারা বাঁধা ছিল না। তাছাড়া, এটি ট্রাস্টিদের হাতে ছিল, তাই মূল সম্পত্তি অন্য কোথাও হস্তান্তর করা যেত না। অতএব তার নিজস্ব হিসাব ও চেকবুক ছিল এবং অতিরিক্ত অর্থ সে যেমন চাইত তেমন খরচ করত। একাধিক গরিব মিশনারির স্ত্রী এটা জানত এবং তাকে আশীর্বাদপ্রাপ্ত বলত, কারণ তার দানের ফলে তারা আবার ইংল্যান্ডের উপকূল দেখতে পেত অথবা অসুস্থ সন্তানকে চিকিৎসার জন্য দেশে পাঠাতে পারত। কিন্তু এই ভালো কাজগুলোর কথা ডরকাস তার স্বামীর কাছে সবসময় গোপনই রাখত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বছরের পর বছর এভাবেই কেটে গেল, তারা সামগ্রিকভাবে খুব একটা অসুখী ছিল না কারণ সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিশু তাবিথা পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হয়ে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠল। এতদিনে, যদিও ডরকাস তার স্বামীকে ভালোবাসত, সব বিষয়ে অথবা অন্তত বেশিরভাগ বিষয়ে তার আদেশ-নিষেধ মানত—সে বুঝতে পেরেছিল যে তার এবং তার স্বামীর মধ্যে গঠনগত পার্থক্য অনেক। সে জানত যে সে নিজে প্রকৃতপক্ষে তার স্বামীর চেয়ে এমনকি বেশিরভাগ মানুষের চেয়েও উঁচু জাতের। সবার মতো সেও তার ন্যায়পরায়ণতা, উদ্দেশ্যের দৃঢ়তা এবং তার অপ্রতিরোধ্য শক্তির প্রশংসা করত এবং বিশ্বাস করত যে তার ভাগ্যে মহান কিছু রয়েছে। তবুও সত্যি বলতে, যা সে প্রায়শই হাঁটু গেড়ে অনুতাপের সাথে স্বীকার করত, সামগ্রিকভাবে সে তার স্বামীর মাঝে মাঝে অনুপস্থিতির সময় অনেক বেশি খুশি বা অন্তত আরাম বোধ করত। যার উল্লেখ আগে করা হয়েছে, এই সময়ে সে তার বন্ধুদের চায়ের আমন্ত্রণ জানাতে পারত এবং তাদের সাথে গল্পগুজবে মেতে উঠতে পারত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এটা শুধু বলা বাকি যে তার ছোট্ট মেয়ে তাবিথা, যাকে সে সংক্ষেপে ট্যাবি বলে ডাকতো—এই ছোট্ট মেয়েটি তার অবিরাম আনন্দের উৎস ছিল; বিশেষত যেহেতু তার আর কোনো সন্তান ছিল না। ট্যাবি ছিল ফর্সা চুলের বুদ্ধিমতী একটি উজ্জ্বল ছোট্ট মেয়ে; কৌশল ও নিজস্ব ইচ্ছাশক্তিতে সে ছিল তার মায়ের একটি উন্নত সংস্করণ, কিন্তু সব দিক থেকেই বাবার সঙ্গে তার কোনো মিল ছিল না। সবাই তাবিথাকে ভালোবাসত, এবং তাবিথাও সবাইকে ভালোবাসত। এমনকি আদিবাসীরা তাকে পূজাও করত। কাফ্রিদের এবং তাবিথার মধ্যে ছিল কোনো শক্তিশালী প্রাকৃতিক সহানুভূতির বন্ধন। তারা একে অপরকে বুঝত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অবশেষে আঘাতটি এল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জুলুল্যান্ডের সীমানার কাছাকাছি দেশটি পর্তুগিজ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, সেখানে ছিল মিশ্র জুলু এবং বাসুতো রক্তের একটি উপজাতি যাদের বলা হত আমা-সিসা, অর্থাৎ সিসার মানুষ। এখন জুলু ভাষায় &quot;সিসা&quot; শব্দটির একটি বিশেষ অর্থ আছে যার অনুবাদ হতে পারে &quot;দূরে পাঠানো&quot;। বলা হয় যে তারা এই নামটি পেয়েছিল কারণ জুলু রাজারা যখন এই পুরো অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব করত তখন তারা রাজকীয় গবাদি পশুর বড় বড় পাল অন্য মানুষদের তত্ত্বাবধানে পাঠাত বা তাদের ভাষায় সিসা করত, অর্থাৎ আমরা ইংরেজিতে যাকে বলি &quot;অ্যাজিস্টেড বা লালন-পালনের জন্য অন্যের তত্ত্বাবধানে রাখা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তবে কেউ কেউ এর আরেকটি কারনের কথাও বলত। এই উপজাতি অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল যার কথা আমরা পরে আরও শুনব, যেখানে এই জুলু রাজারা তাদের আইন বা রীতিনীতির বিরুদ্ধে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতেন। এই ধরনের লোকদেরও গবাদি পশুর মতো &quot;দূরে পাঠিয়ে দেওয়া&quot; হতো। এই দুটি কারণের যেকোনো একটি থেকে, বা হয়তো দুটো থেকেই গোষ্ঠীটি মূলত তার এই নাম পেয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এটা খুব বড় উপজাতি ছিল না, সম্ভবত এতে তিনশো পঞ্চাশটি পরিবার ছিল, বা সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের কম মানুষ। এরা সম্ভবত শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী বাসুতো বংশের বংশধর যাদের উপর কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী জুলু যোদ্ধা প্রতিহিংসাবসত পুরুষদের হত্যা করে বাসুতো মহিলা ও তাদের গবাদি পশুগুলো দখল করে নিয়েছিল। ফলস্বরূপ, এই ছোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুটি ধারা হয়ে যায়। একটি যুদ্ধবাজ ধরনের, যারা প্রকৃতপক্ষে জুলুই রয়ে গিয়েছিল এবং অন্যটি নম্র এবং প্রগতিশীল বাসুতো ধরনের, যারা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই সিসা উপজাতির মধ্যে মিশনারিরা কয়েক বছর ধরে কাজ করে আসছিল এবং সামগ্রিকভাবে ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। তাদের অর্ধেকেরও বেশি খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। একটি গির্জা তৈরি হয়েছিল; কমবেশি আধুনিক কৃষিব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল আর বেশিরভাগ মানুষ লিঙ্গ অনুযায়ী প্যান্ট বা স্কার্ট পরত। তবে সম্প্রতি বহুবিবাহের পুরানো প্রথায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মিশনারিরা একাধিক স্ত্রী রাখার পক্ষপাতি ছিলেন না যেখানে এই উপজাতির জুলুরা তাদের বহুবিবাহের পুরানো অধিকার নিয়ে জেদ ধরেছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিরোধটি শেষ পর্যন্ত প্রকৃত যুদ্ধে গড়ায়, যার ফলে গির্জা ও স্কুল পুড়ে যায়, সেই সঙ্গে মিশনারির বাড়িও। এই সমস্যার কারণে ভদ্রলোকটি বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হয় কারণ তখন বর্ষাকাল চলছিল। ঠাণ্ডা লেগে হঠাৎ করে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান, ইতোপূর্বে তিনি বাতজ্বরে ভুগছিলেন। মৃত্যুটা হয়েছিল তার নতুন বাসস্থানে যাওয়ার পর পরই, যেটা ছিল কিছুটা উন্নত ধরনের আঞ্চলিক কুঁড়েঘর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই ঘটনার পরে গোত্রপ্রধান কোসার কাছ থেকে একটি আবেদন এল। তার নামটা সম্ভবত জুলু শব্দ কুস থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রধান বা সেনাপতি। আবেদনটি গির্জার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে নতুন একজন শিক্ষক পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল যিনি মৃত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং গির্জা ও স্কুল পুনর্নির্মাণ করবেন। দূতেরা বলেছিল, এটা না হলে গোত্রটি আবার পৌত্তলিকতায় ফিরে যাবে, কারণ মেনজি নামে এক বুড়ো ওঝার নেতৃত্বে জুলু ও খ্রিস্টান-বিরোধী দল শক্তিশালী হচ্ছে এবং দিন দিন তাদের প্রভাব বাড়ছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই আবেদন উপেক্ষা করা যেত না, কারণ এতদিন সিসারা ছিল অন্ধকার জগতে একটি আলোর বিন্দু। আশেপাশের জুলু বংশোদ্ভূত বেশিরভাগ মানুষ এখনও পৌত্তলিক রয়ে গেছে। সেই আলো নিভে গেলে সম্ভবত তারা পৌত্তলিকই রয়ে যাবে, কিন্তু আলো জ্বলতে থাকলে হয়তো অন্য ফলাফল আশা করা যেত—কারণ ছোট্ট একটি স্ফুলিঙ্গ থেকেও বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই এই জটিল ও নাজুক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির খোঁজ করা হল, আর শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পরল রেভারেন্ড থমাস বুলের ওপর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথমবার তার নাম উঠতেই সবাই সমর্থন জানাল। তারা বলল, উনিই সবচেয়ে উপযুক্ত—সাহসী, দৃঢ়চেতা, জেসুইটদের মতো আগুনঝরা উদ্দীপনায় ভরপুর (যদিও বলার অপেক্ষা রাখে না যে তিনি জেসুইটদের ঘৃণা করতেন, যেমনটা বিড়াল সরিষাকে ঘৃণা করে)। কোনো ওঝাই তাকে ভয় দেখাতে পারবে না। তার ওপর, পৃথিবীতেই তিনি অনেক সম্পদের মালিক হওয়ায় হয়তো কোনো পারিশ্রমিক চাইবেন না, বরং গির্জা পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থ অনুদান দেবেন। এটা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন যে মিশনের নিজেরই তেমন কোনো সঞ্চয় ছিল না, তাই এই বিষয়টি উপেক্ষা করার উপায় নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাবতীয় সমস্যা ও অসুবিধার কথা সততার সাথে কিন্তু কূটনৈতিকভাবে বোঝানোর পর থমাসকে ডেকে পদটির প্রস্তাব দেওয়া হল। তিনি এক মিনিটও দ্বিধা করলেন না, অথবা বড়জোর পাঁচ মিনিট; প্রায় সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। মনে হল এতদিন তিনি যা খুঁজছিলেন সেই আহ্বান এসে গেছে। পর্তুগিজ অঞ্চলের সেই নির্জন স্থানে তিনি কারও হস্তক্ষেপ ছাড়া একজন ছোট বিশপের মতো সম্পূর্ণ নিজের মতো থাকবেন। সব বিষয়ে নিজের মতো করে চলতে পারবেন, যা সভ্য এলাকায় তিনি পারেন না। এখানে কিছু বয়স্ক ভদ্রলোক আছেন যারা সবসময় তাদের আদিবাসী অভিজ্ঞতার কথা বলতেন, তারা ক্রমাগত তার কাজে বাধা দেওয়া সহ তার সাহসী পরিকল্পনাগুলো নস্যাৎ করে দিতেন। ওখানে অবস্থা ভিন্ন হবে। তিনি নিজের চাকা বানাবেন আর ওঝা ও তার অনুসারীদের সেই লোহার চাকার তলায় পিষে গুঁড়ো করে দেবেন। তিনি জানালেন যে তিনি এখনই যেতে চান। আর শুধু তাই নয়, গির্জা ও অন্যান্য পোড়া ভবনগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য এক হাজার পাউন্ড দান করারও প্রতিশ্রুতি দিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বুল চলে যাওয়ার পর ডিন মন্তব্য করলেন, &quot;বুলের পক্ষে দানটা বেশ উদার।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হ্যাঁ,&quot; অন্য একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বললেন, &quot;তবে আমার মনে হয় এই অঙ্গীকারটা শর্তসাপেক্ষ ভাবতে হবে। আমি জানি যে, টাকাটা মিসেস বুলের।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;সম্ভবত তিনি এই বন্ডে সই করে দেবেন কারণ তিনি একজন উদারমনা মহিলা,&quot; ডিন বললেন, &quot;আর যাই হোক আমাদের ভাই বুল নিশ্চয়ই সেই বিপজ্জনক মেনজি আর তার দলবলের পেট থেকে হাওয়া বের করে দেবেন।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আপনি কি তাই মনে করেন?&quot; অন্যজন জিজ্ঞাসা করলেন। আমি ততটা নিশ্চিত নই। আমি বুড়ো মেনজির সাথে দেখা করেছি, সে খুব শক্ত একটা বাদাম—যার খোসা ভাঙা সহজ নয়। বরং সে-ই হয়ত তার পেট থেকে হাওয়া বের করে দেবে। বুল যতই ভালো আর দুর্দান্ত হোক, আমার মনে হয় তিনি আদিবাসীদের ঠিকমতো বোঝেন না, বা এটা বোঝেন না যে তাদের তাড়ানোর চেয়ে নেতৃত্ব দেওয়াটা সহজ।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হয়তো আপনার কথাই ঠিক,&quot; ডিন বললেন, &quot;কিন্তু এই সিসাদের ক্ষেত্রে এটা বরং হবসনের পছন্দের মতো ব্যাপার, তাই না?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হল, আর যথাসময়ে থমাস সিসা স্টেশনের প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিয়োগপত্র পেলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কয়েকদিন পর তিনি বাড়ি ফিরলেন—যদিও তার পরের সপ্তাহে ফেরার কথা ছিল। থমাস এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে তিনি তার স্ত্রীর স্নেহপূর্ণ অভিবাদন খুব একটা লক্ষ্য করলেন না। এমনকি তার স্ত্রী ও তাবিথা দুজনেই যে চমৎকার আর মিশনারি-অনুপযোগী পোশাক পরে আছে সেটাও তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেল। ডরকাসকেও বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিল, আসলে সে বিকেলে কয়েকজন তরুণ-তরুণী, স্থানীয় অফিসার আর মেয়েদের টেনিস খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আর কয়েকজনকে রাতের খাবারের জন্য থাকতে বলেছিলো। এখন সে ভাবছিল তার কঠোর স্বামী এই খবরটি কীভাবে নেবেন। তিনি হয়তো রেগে যাবেন আর বক্তৃতা দেবেন; রাগ আর বক্তৃতা—দুটো একসাথে হলে সেটা মোটেই মনোরম হয় না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্বাস্থ্য আর একজন অসুস্থ ব্যক্তি নিয়ে কিছু আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদ হল। ডরকাস তাকে আশ্বস্ত করল যে তারা দুজনেই বেশ ভালো আছে, বিশেষত তাবিথা, আর নির্দেশ মতো সে অসুস্থ মহিলাকে দেখতেও গেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আর সে কেমন আছে, প্রিয়?&quot; তিনি জিজ্ঞেস করলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;জানি না, প্রিয়,&quot; সে উত্তর দিল। &quot;আসলে, বাড়িতে গিয়ে দরজায় রেক্টরের স্ত্রী মিসেস টমলির সাথে দেখা হল, আর তিনি বেশ স্পষ্ট করেই বললেন যে তিনি আর তার স্বামী এই ব্যাপারটা দেখভাল করছেন। তোমার দেওয়া সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ হলেও তারা মনে করেন আমাদের আর কষ্ট করার প্রয়োজন নেই, কারণ রোগীটি তাদেরই প্যারিশের।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তাই নাকি?&quot; থমাস ভ্রু কুঁচকে বললেন। &quot;সব মিলিয়ে দেখতে গেলে—আচ্ছা, ঠিক আছে থাক।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডরকাস এতেই বেশ খুশি হল, কারণ সে জানত যে স্বামীর সদয় হৃদয়কে কেউ কেউ অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বলে মনে করত—আসলে অঞ্চলটা ছিল বেশ বিপজ্জনক।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আজ বিকেলের একটা ব্যবস্থা নিয়ে তোমাকে কিছু বলার আছে,&quot; সে নার্ভাসভাবে বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিস্টার বুল তখন এক গ্লাস পানি খাচ্ছিলেন (তিনি মদ্যপান ও ধূমপান করতেন না, তার একটি অভিযোগ ছিল যে তার স্ত্রী পলিনের কারণে সামান্য ওয়াইন পান করা জরুরি মনে করত)—গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বললেন:&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তোমার বিকেলের ব্যবস্থার কথা থাক, প্রিয়; এগুলো পরেও করতে পারবে। আসলে আমার তোমাকে কিছু বলার আছে, খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু। আমার আহ্বান এসেছে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তোমার আহ্বান, প্রিয়। কী আহ্বান? আমি জানতাম না তুমি কাউকে আশা করছ—আর যাইহোক——।&quot; সে আর বলতে পারল না, কারণ স্বামী তার কথায় বাধা দিয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;বোকামি কোরো না, ডরকাস। আমি বলেছি আহ্বান—কোন ব্যক্তির কথা বলিনি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ওহ! আমি বুঝেছি, আমাকে মাফ করো, আমি এত বোকা হয়েছি। তারা কি তোমাকে বিশপ বানিয়েছে?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;একজন বিশপ——?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;মানে একজন ডিন, বা আর্চডিকন, বা এ জাতীয় কিছু!&quot; সে বিভ্রান্তভাবে বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;না, ডরকাস, তারা তা করেনি। এখনও পদোন্নতির আশা করা ঠিক হবে না, যদিও আমি ভেবেছিলাম—কিন্তু থাক, নিশ্চয়ই অন্যদের আরও ভালো দাবি আর দীর্ঘ সময়ের সেবা আছে। তবে আমাকে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সম্মানিত করা হয়েছে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;সত্যিই, প্রিয়। কী দায়িত্ব?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমাকে সিসা স্টেশনের প্রধান পুরোহিত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ও-ওহ! আর সেটা কোথায়? এটা কি ডারবানের কাছাকাছি, নাকি ম্যারিটজবার্গের কাছাকাছি কোথাও?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি এখনও ঠিক জানি না, তবে শুনেছি জুলুল্যান্ডের এশোয়ে থেকে প্রায় ছয় দিনের পথ, কিন্তু পর্তুগিজ অঞ্চলের সীমানার ওপারে। আসলে নিশ্চিত নই যে পুরো পথটাই পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় কিনা, অন্তত যখন নদীতে বন্যার পানি থাকে। তখন দড়িতে ঝোলানো ঝুড়িতে করে একটা নদী পার হতে হয়, অথবা নদীতে খুব বেশি পানি না থাকলে ছোট নৌকায় কাজ চলে যায়। যদিও এই মৌসুমে ঝুড়ি বেশি ব্যবহৃত হয়।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হায় আল্লাহ! থমাস, তুমি কি আমাকে আর ট্যাবিকে সেন্ট পলের মতো ঝুড়িতে করে পার করাতে চাও? আর তুমি কি ভুলে গেছ যে আমরা এই বাড়িটা আরেক বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছি?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;অবশ্যই চাই। মিশনারিদের পরিবারকে কষ্টসহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়, যদিও এটা সত্য যে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি তোমাকে এসব থেকে দূরে রেখেছে। তাই এখন শুরু করাটাই ঠিক হবে, যখন তাবিথা তার বয়সী যে কোনো শিশুর মতোই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বাড়ির ব্যাপারে আমি একদম ভুলেই গিয়েছিলাম। এটা আবার ভাড়া দিতে হবে নতুবা লোকসানটা আমাদেরই সহ্য করতে হবে, যেটা সৌভাগ্যক্রমে আমরা সহজেই বহন করতে পারি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডরকাস তার দিকে তাকিয়ে আর কিছুই বলল না কারণ সে কোন কথা খুঁজে পাচ্ছিল না, তাই তিনি তাড়াতাড়ি বলে চললেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, প্রিয়, তোমার নাম করে আমি একটু স্বাধীনতা নিয়েছি। শুনেছি সিসার গির্জাটা বেশ সুন্দর ছিল এবং আমার একজন পূর্বসূরি ইংল্যান্ড থেকে প্রভাব বা সম্পর্কের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করে সেটা তৈরি করেছিলেন। সেটা সম্প্রতি মিশন হাউসের সঙ্গে পুড়ে গেছে। এখন নতুন বাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হবে; অবশ্য এক বা দুই বছর স্থানীয় কুঁড়েঘরে কোনোরকমে থাকতে পারব, কিন্তু স্পষ্টতই আমাদের একটা গির্জা দরকার, এবং মিশনের অর্থাভাব থাকায় তারা এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে আমি এক হাজার পাউন্ড দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা গির্জা এবং বাড়ি পুনর্নির্মাণের খরচ মেটাবে বলে ধারণা করা যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উত্তরের অপেক্ষায় তিনি থামলেন, কিন্তু ডরকাস এখনও কিছু না বলায় তিনি আবার শুরু করলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তোমার কি মনে আছে, তুমি খুব সম্প্রতি আমাকে বলেছিলে যে তোমার কাছে দেড় হাজার পাউন্ড জমা আছে। তাই আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তুমি এর মধ্যে এক হাজার পাউন্ড দিতে কার্পণ্য করবে না যাতে আমি এই ঐশ্বরিক দায়িত্ব পালন করতে পারি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ওহ!&quot; ডরকাস বলল। &quot;আসলে আমি সেই এক হাজার পাউন্ড বা তার বেশিরভাগটাই অন্য কাজে খরচ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। এখানে কিছু মানুষ আছে যাদের আমি সাহায্য করতে চেয়েছিলাম, তবে সৌভাগ্যবশত তাদের এ কথা বলিনি; এক্ষেত্রে তাদের টাকা এবং ছুটি ছাড়াই কাটাতে হবে। আর বাচ্চাদেরও স্কুলে পাঠানো যাবে না। আর যাইহোক, এই দূরের জায়গায় ট্যাবির শিক্ষাটা কীভাবে হবে?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;দুঃখিত, প্রিয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত বিলাসিতা, দানশীলতাসহ সব কিছু পবিত্র প্রয়োজনের কাছে নতি স্বীকার করতে হবে, তাই আমি ডিনকে লিখব যে প্রয়োজনের সময় অর্থ পাওয়া যাবে। আর আমরা দুজন মিলে অন্তত আগামী কয়েক বছরের জন্য ট্যাবির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেব।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হ্যাঁ, থমাস, যেহেতু তুমি তোমার কথা দিয়েছ, টাকা আমি দেব কিন্তু যদি তুমি আমাকে বাকি ৫০০ পাউন্ড রেখে দিতে বল তাহলে আমি পরামর্শ দেব যে আমি ট্যাবিকে নিয়ে এখানেই থাকি যেন সে কলেজে পড়তে পারে; আর তুমি এই বর্বরদের মধ্যে আমাদের থাকার জন্য একটি জায়গা তৈরি করো।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;প্রিয়,&quot; টমাস উত্তর দিলেন, &quot;তুমি কী চাইছ সেটা ভেবে দেখো। তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ আর আমাদের সন্তানও তাই। তাহলে এটা কি চরম কেলেঙ্কারি হবে না যে তুমি এখানে বিলাসিতায় থাকবে আর তোমার স্বামী সিসাদের মধ্যে গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে যাবে? কারণ আমি তোমাকে এখনই বলে দিচ্ছি যে সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুতর। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে মেনজি নামে এক কুখ্যাত ওঝা আছে, যে সম্ভবত মিশন হাউস পুড়িয়েছে, এবং সম্ভবত গির্জাও কারণ সে বলেছিল যে একজন অবিবাহিত পুরোহিতের জন্য এত বড় বাড়িতে একা থাকাটা হাস্যকর। এটা অবশ্যই তার বর্বর ক্রোধের জন্য একটা ধূর্ত অজুহাত; কিন্তু যদি আরেকজন আপাতদৃষ্টিতে অবিবাহিত মানুষ আসে, সে হয়তো আবার এই যুক্তি ও তার প্রয়োগ দেখাবে। এছাড়া প্রায়ই এই বর্বররা মনে করে যে যে অবিবাহিত পুরুষ অবশ্যই পাগল! তাই একেবারে শুরু থেকে তুমি এবং শিশুটির আমার সঙ্গে থাকা একান্ত জরুরি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ওহ! তাই নাকি?&quot; ডরকাস রাগে লাল হয়ে বলল। &quot;ঠিক আছে, আমি দুঃখিত যে এই মুহূর্তে আমাকে একটু যেতে হবে কারণ আজ বিকেলে আমার একটা টেনিস পার্টি আছে। গ্যারিসনের অফিসাররা আসছেন সাথে প্রায় আধা ডজন মেয়ে, আর আমাকে চায়ের ব্যবস্থা করতে যেতে হবে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;একটা টেনিস পার্টি! সেই প্রভুবিমুখ অফিসার এবং মেয়েদের জন্য টেনিস পার্টি?&quot; তার স্বামী চিৎকার করে বললেন। &quot;আমি তোমার জন্য লজ্জিত, ডরকাস; তোমার উচ্চতর বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকা উচিত।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;জানো, থমাস,&quot; সে লাফিয়ে উঠে উত্তর দিল, &quot;আমিও তোমার জন্য লজ্জিত হতে চাই, তোমার মনে হয় নিজের রাগ সামলানো নিয়ে ব্যস্ত থাকা উচিত। তুমি আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে কিছু অদ্ভুত মিশন গ্রহণ করেছ, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে আমার এক হাজার পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, আর এখন তুমি আমাকে তিরস্কার করছ কারণ আমি কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে টেনিস খেলতে এবং রাতের খাবারে খেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এটা অখ্রিস্টান, এটা নিষ্ঠুর, এটা—অত্যন্ত খারাপ!&quot; এবং আবার বসে পড়ে সে কান্নায় ফেটে পড়ল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রেভারেন্ড থমাস যিনি ততক্ষণে সত্যিই প্রচণ্ড রাগে ফুঁসছেন, কী বলবেন বা করবেন বুঝতে না পেরে চারদিকে তাকালেন। দুর্ভাগ্যবশত তার চোখ পড়ল ম্যান্টেলপিসের ওপর রাখা একটা সিগারেটের প্যাকেটের ওপর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এই জিনিসগুলো এখানে কী করছে?&quot; তিনি জিজ্ঞেস করলেন। &quot;আমি ধূমপান করি না, তাই এগুলো আমার জন্য হতে পারে না। আমাদের টাকা—দুঃখিত, তোমার টাকা, যা অন্য দিকে এত প্রয়োজন, সেই অফিসারদের এবং অলস মেয়েদের জন্য এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনতে নষ্ট হচ্ছে? ওহ ধিক্কার—সব শয়তানের কাছে যাক।&quot; তিনি সিগারেটগুলো বের করে খোলা জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেললেন, সাদা টিউবগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল যা বাইরের কিছু কাফ্রি সঙ্গে সঙ্গে কুড়ানো শুরু করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর তিনি বাড়ি থেকে ছুটে বেরিয়ে গেলেন, আর ডরকাস তার পার্টির জন্য প্রস্তুত হতে গেল। কিন্তু প্রথমে সে একজন চাকরকে পাঠাল আরেকটা সিগারেটের প্যাকেট কিনে আনতে। এটা ছিল রেভারেন্ড থমাস বুলের কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে তার প্রথম বিদ্রোহ।&lt;/p&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/7203990665773565631'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/7203990665773565631'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2025/09/little-flower.html' title='হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর লিটল ফ্লাওয়ার (Little Flower) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjaaIXSTBNBIgjU3s1i0APFKoPBuasqVDRzAVvPaIj8NJ26iPAOlX_4IGFYLKl8FVThtNtdSdx4tqHWw24fUygQjOx4hO81bdMykfvj7gSamkv0rw_bKzapX5xoFPWoXFRIXzekuW6h_YQAu5PDioa3dhNT0fxyVXszKfPHYYEz4ZYKqTcSPvtbRrZxw4U/s72-w475-h594-c/%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%20%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%20-%20%E0%A6%8F%E0%A6%B0.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-5964006906615703329</id><published>2025-07-11T05:13:00.000-07:00</published><updated>2025-08-21T23:02:23.494-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড"/><title type='text'>হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর দ্য ব্লু কার্টেনস (The Blue Curtains) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEihQFoSurM-RYpaD89rUTGhtoLqJUvKSUEmXE0M8NvHBwedmRinme6jJ2KOY6NH548cP4pQ-gtmGv_6bw1mfzjFM9iT3O-zQQALZBQVSwVp9doeezzH9VwsixOXbOfRFDCM7w9-ScEbnM_KEplaLN_NKeOuxPZdFu649IVYFigvEsX8P1GdhA-z5MdMAvw/s1120/the%20blue%20curtains%20cover.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;697&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEihQFoSurM-RYpaD89rUTGhtoLqJUvKSUEmXE0M8NvHBwedmRinme6jJ2KOY6NH548cP4pQ-gtmGv_6bw1mfzjFM9iT3O-zQQALZBQVSwVp9doeezzH9VwsixOXbOfRFDCM7w9-ScEbnM_KEplaLN_NKeOuxPZdFu649IVYFigvEsX8P1GdhA-z5MdMAvw/w557-h697/the%20blue%20curtains%20cover.png&quot; width=&quot;557&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“দ্য ব্লু কার্টেনস” গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২০ সালে। এটা স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস, অ্যান্ড আদার টেলস&#39; বইয়ের একটি গল্প। এই সংগ্রহে মোট ছয়টি গল্প আছে। গল্পগুলো হলো: &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস&#39;, &#39;মাগেপা দ্য বাক&#39;, &#39;দ্য ব্লু কার্টেন্স&#39;, &#39;দ্য লিটল ফ্লাওয়ার&#39;, &#39;ওনলি আ ড্রিম&#39; এবং &#39;বারবারা হু কেম ব্যাক&#39;। বইটিতে &#39;দ্য ব্লু কার্টেনস&#39; হচ্ছে তৃতীয় গল্প।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;---------------------------------------------------------&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ এক&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তার রেজিমেন্টে সবাই তাকে &#39;বোতল&#39; বলে ডাকত, যদিও কেউ জানতো না ঠিক কি কারনে তাকে এই নামে ডাকা হয়। তবে গুজব ছিল হ্যারো স্কুলে তার নাকের আকৃতির জন্য তাকে এই ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও তার নাকটা বোতলের মতো ছিল না, শুধু নাকের ডগাটা গোলাকার, বড় আর মোটা ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে এই ডাকনাম আরও পুরনো—অর্থাৎ নামটা তার শৈশব থেকেই ছিল। যখন কাউকে ডাকনাম দেওয়া হয় তখন দুটো জিনিস বোঝায়। প্রথমত সে মিশুক আর হাসিখুশি এবং দ্বিতীয়ত সে খুব ভালো মানুষ। আমাদের গল্পের নায়ক বোতলের মধ্যে এ দুটো গুণই রয়েছে। তার আসল নাম জন জর্জ পেরিট। এখানে তার রেজিমেন্টের নাম বলার প্রয়োজন নেই। তার মতো দয়ালু আর ভালো মানুষ খুব কমই দেখা যায়। তবে তার চেহারা? মোটা গোল নাক, ঝোপালো ভ্রুর নিচে বসানো হালকা ধূসর বর্ণের ছোট ছোট চোখ আর বড় একটি মুখ—এগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কিন্তু সে ছিল লম্বা ও শক্তিশালী এবং শান্ত স্বভাবের।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বহু বছর আগে বোতল প্রেমে পড়েছিল; পুরো রেজিমেন্টই তা জানত কারণ তার প্রেম ছিল স্পষ্ট আর গভীর। তার সুন্দর করে গোছানো কোয়ার্টারের বিছানার উপরে এক তরুণীর ছবি ঝুলত; সবাই জানত এটাই সেই মেয়ে। রেজিমেন্টের সদস্যরা যখনই এই ছবিটি দেখত, তাদের মনে কোন সন্দেহ থাকত না যে তাদের সহযোদ্ধার রুচি কতটা চমৎকার। সেই রঙ্গিন ছবিটা ঝাপসা হলেও বোঝা যেত মিস ম্যাডেলিন স্পেন্সারের একটি সুন্দর চেহারা এবং একজোড়া বিস্ময়কর চোখ রয়েছে। তবে শোনা যেত তার কাছে একটি পয়সাও নেই এবং আমাদের নায়কেরও খুব বেশি কিছু ছিল না, তাই ব্যাটালিয়নের বিবাহিত মহিলারা প্রায়ই বলত &quot;মিস্টার পেরিট বিয়ে করলে কীভাবে সংসার চালাবেন?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই সময়ে রেজিমেন্টটি নাটালের ম্যারিটজবার্গে ছিল এবং যেহেতু তাদের বিদেশি দায়িত্ব শেষ হয়ে এসেছিল তাই তারা ভেবেছিল হয়ত শিগগিরই দেশে ফিরে যাবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এক সকালে বোতল ম্যারিটজবার্গ গ্যারিসনের সেই সময়কার অস্থায়ী সেনা দলের শিকারি কুকুরের দল নিয়ে হরিণ শিকারে গিয়েছিল। শিকারটা বেশ উপভোগ্য ছিল! খোলা মাঠে সাত-আট মাইল দৌড়ে তারা সত্যিই একটা সুন্দর ওরিবে হরিণ শিকার করে ফেলল। এমনটা খুব কমই হত তাই বোতল খুব আনন্দ আর গর্ব নিয়ে হরিণটা স্যাডেলের পেছনে বেঁধে ফিরছিল। শিকার শুরু হয়েছিল ভোরে। শিকারি দলটি সকাল ন’টার সময় ধুলোমাখা চার্চ স্ট্রিটের ছায়াযুক্ত পথে ঘর্মাক্ত আর ক্লান্ত অবস্থায় ঘোড়া দৌড়িয়ে ফিরছিল আর তখনই হঠাৎ গভর্নমেন্ট হাউসের পেছনের কেল্লা থেকে একটি বন্দুকের আওয়াজ ইংরেজ মেইলের আগমন ঘোষণা করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এক চিলতে হাসি মুখে নিয়ে বোতল তার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। তার কাছে ইংরেজ মেইল মানেই ম্যাডেলিনের একটা বা দুইটা চিঠি আর সম্ভবত দেশে ফেরার খুশির খবর! সে নিজের কোয়ার্টারে চলে গেল—গোসল করে পোশাক পাল্টাল; তারপর নাস্তার জন্য মেস-হাউসে নামল। সে আশা করছিল হয়ত চিঠিগুলো ইতোমধ্যে এসে গেছে। কিন্তু মেইলটা বেশ ভারী ছিল ফলে সে আরাম করে নাস্তা শেষ করে বারান্দায় বসে একটা পাইপ ধরাল। বাঁশ আর ক্যামেলিয়া গাছের ছায়ায় বারান্দাটা ছিল বেশ আরামদায়ক। অবশেষে অর্ডারলি চিঠির ব্যাগ নিয়ে হাজির হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বোতল সাথে সাথেই বারান্দা সংলগ্ন ঘরে ঢুকে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে রইল কারণ সে কখনোই নিজের আবেগ প্রকাশ করত না। আর মেস সার্জেন্ট ধীরে ধীরে, বেশ অগোছালোভাবে চিঠিগুলো বাছাই করছিল। অবশেষে বোতল তার প্যাকেট হাতে পেল যার মধ্যে শুধু কিছু খবরের কাগজ আর একটা মাত্র চিঠি। সে কিছুটা হতাশ মনে আবার বারান্দায় চলে এলো। সে আশা করেছিল শুধু তার প্রেমিকা নয় বরং তার একমাত্র ভাইও তার কাছ চিঠি লিখবে। ধীর ও সুচিন্তিত মনের মানুষ বোতল পাইপটি আবার ধরাল—কারণ সে জানে আনন্দকে একটু বিলম্বিত করালে তা বরং আরও বেড়ে যায়। লাল ফুলে ফুলে উজ্জ্বল ক্যামেলিয়া গাছের সামনে বড় চেয়ারে গা এলিয়ে বসে বোতল চিঠিটা খুলে পড়তে আরম্ভ করল:&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমার প্রিয় জর্জ——&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হায় আল্লাহ!” মনে মনে চমকে উঠল সে, &quot;এটা কী হলো? ও তো আমায় সবসময় &#39;ডার্লিং বোতল&#39; বলে ডাকে!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমার প্রিয় জর্জ,&quot; সে আবার পড়তে শুরু করল, &quot;আমি জানি না কিভাবে এই চিঠি শুরু করব—আমি কাঁদতে কাঁদতে কাগজটাই দেখতে পাচ্ছি না; আর যখন ভাবি তুমি এই ভয়ানক দেশে বসে এটা পড়ছ, তখন আরও বেশি কান্না পায়। থাক! বরং সোজাসুজিই বলি—সব শেষ, আমাদের মধ্যে সব শেষ, আমার প্রিয়, প্রিয় বুড়ো বোতল।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;সব শেষ!&quot; বোতল নিজের মনে ফুঁপিয়ে উঠল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি সত্যিই জানি না কীভাবে এই করুণ গল্পটি বলব&quot; বোতল আবার চিঠিতে ফিরে এলো &quot;কিন্তু বলতেই হবে তাই আমি মনে করি শুরু থেকেই বলা ভাল। এক মাস আগে আমি, বাবা ও খালার সাথে অ্যাথার্টনের হান্ট বল-এ গিয়েছিলাম এবং সেখানে আমার দেখা হয় স্যার আলফ্রেড ক্রস্টনের সঙ্গে—একজন মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক যিনি আমার সঙ্গে কয়েকবার নাচলেন। আমার তাকে তেমন একটা পছন্দ হয়নি। তবে তিনি নিজেকে খুবই আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে খালা (তুমি তো তার বিরক্তিকর অভ্যাস সম্পর্কে জানো) আমাকে বললেন যে আমি তাকে জয় করে নিয়েছি। পরদিন ভদ্রলোক বাড়িতে এলেন। বাবা তাকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানালেন এবং তিনি আমার পাশের চেয়ারেই বসলেন। যাওয়ার আগে বললেন হ্রদে ট্রাউট মাছ ধরার জন্য তিনি জর্জ ইনে থাকতে আসছেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি এখানে আসতে লাগলেন আর আমি যখনই হাঁটতে বেরুতাম—তিনি সবসময় আমার সাথে দেখা করতেন আর সত্যি বলতে বেশ ভালো ব্যবহার করতেন। অবশেষে একদিন তিনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। আমি খুব রেগে গিয়ে তাকে বললাম যে আমি একজন আর্মি অফিসারের সঙ্গে বাগদান করেছি যিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন। তিনি হেসে বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকা এখান থেকে অনেক দূরে। সেদিন সন্ধ্যায় বাবা আর খালা আমাকে বোঝাতে শুরু করলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয় বোতল, তুমি জানো তারা কেউই আমাদের বাগদান পছন্দ করত না আর তারা বলল—আমাদের সম্পর্কটা একদমই হাস্যকর এবং এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা মানে আমি পাগল হয়ে গেছি। এভাবে চলতেই থাকলো কারন তিনি নাছোড়বান্দা আর শেষ পর্যন্ত প্রিয়, আমাকে হার মানতেই হলো কারণ ওরা আমাকে একটুও শান্তি দেয়নি। বাবা কেঁদে কেঁদে বললেন এই বিয়ে তার জীবন বদলে দেবে। তাই আমি রাজি হয়েছি আর এখন মনে হয় আমি বাগদান করেছি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয়, প্রিয় জর্জ, আমার ওপর রাগ কোরো না। এটা আমার দোষ নয় আর আমি মনে করি আমরা শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে পারতাম না কারণ আমাদের টাকাপয়সার পরিমান অনেক কম। আমি তোমাকে ভালোবাসি কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। আমাকে ভুলে যেও না। অন্য কাউকে বিয়ে করো না—অন্তত এখনই নয় কারন এটা ভাবলেই আমার কষ্ট হয়। আমাকে চিঠি লিখে জানিও তুমি আমাকে ভুলবে না এবং তুমি আমার উপর রাগ করোনি। তুমি কি তোমার চিঠিগুলো ফেরত চাও? যদি তুমি আমার চিঠিগুলো পুড়িয়ে ফেলো তাহলেই হবে। বিদায়, প্রিয়! আমি কত কষ্ট পাচ্ছি তুমি যদি তা জানতে! খালার মতো সম্পত্তি ও হীরের কথা বলা সহজ কিন্তু সেগুলো তোমার অভাব পূরণ করতে পারবে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিদায়, প্রিয়। মাথা এতটাই ধরেছে যে আর লিখতে পারছি না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তোমারই,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“ম্যাডেলিন স্পেন্সার।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জর্জ পেরিট ওরফে বোতল, চিঠিটা পড়া শেষ করে আবারও একবার পড়ল তারপর অভ্যস্ত নিয়মে সযত্নে ভাঁজ করে পকেটে রাখল। অতঃপর লাল ক্যামেলিয়া ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো—মনে হচ্ছে সেগুলো হাতের নাগালে নয় বরং অনেক অনেক দূরে। একদম কুয়াশাচ্ছন্ন ও ঘোলাটে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এটা অনেক বড় আঘাত&quot; সে মনে মনে বলল। &quot;বেচারি ম্যাডেলিন! ও কত কষ্ট পাচ্ছে!&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিছুক্ষণ পর সে উঠে দাঁড়াল এবং কিছুটা অস্থিরভাবে কোয়ার্টারের দিকে হেটে গেল। তাকে খুবই বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল। নিজের ঘরে গিয়ে এক টুকরো চিঠির কাগজ নিয়ে দ্রুত লিখতে শুরু করল কারন আউটগোয়িং মেইলটা ধরতে হবে:&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমার প্রিয় ম্যাডেলিন,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তোমার চিঠি পেয়েছি যেখানে তুমি আমাদের বাগদান ভেঙে দিয়েছ। তুমি নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পাচ্ছ তাই আমি নিজের কথা বলতে চাই না তবু বলতেই হয় এটা আমার জন্য বড় এক আঘাত। আমি এত বছর ধরে তোমাকে ভালোবেসেছি, মনে হয় ছোটবেলা থেকেই; আর এখন তোমাকে হারানো সত্যিই কষ্টের। আমি ভেবেছিলাম দেশে ফিরলে হয়তো কোনো মিলিশিয়া রেজিমেন্টে অ্যাডজুট্যান্টের পদ পাব এবং তখন আমরা বিয়ে করতে পারব। বছরে পাঁচশো পাউন্ডে হয়তো চালিয়ে নিতাম যদিও তোমাকে তোমার অভ্যস্ত আরাম-আয়েশ ছেড়ে দিতে বলার কোনো অধিকার আমার নেই কিন্তু প্রেমে পড়লে মানুষ একটু স্বার্থপর হয়েই যায়। যাই হোক, এখন সব শেষ কারণ তোমার জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কথা আমি ভাবতেও পারি না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয় ম্যাডেলিন, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি আর তুমি এত সুন্দর ও নাজুক যে একজন দরিদ্র সাব-অলটার্নের স্ত্রী হওয়া তোমার জন্য যুতসই নয়। আমি সত্যি বলছি, আমি চাই তুমি সুখী হও। তোমাকে বেশি বেশি আমার কথা ভাবতে বলব না কারণ তাতে হয়তো তোমার কষ্টই বাড়বে। তবে কখনো কখনো একা থাকলে যদি পুরনো এই প্রেমিকের কথা একটু মনে পড়ে, আমি খুশি হব—কারণ আমি নিশ্চিত যে কেউই তোমাকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পারবে না। কথা দিলাম, আমি তোমায় ভুলব না এবং অন্য কাউকে বিয়েও করব না। মেইল ধরতে হলে এখনই চিঠিটা শেষ করতে হবে; আমার আর কিছু বলার নেই। এটা খুব কঠিন একটি পরীক্ষা—খুবই; কিন্তু দুর্বল হলে চলবে না। আর এই ভেবে আমি সান্ত্বনা পাই যে তুমি নিজের উন্নতি করছ। বিদায়, প্রিয় ম্যাডেলিন। আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন, এটাই আমার চিরদিনের প্রার্থনা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;জে. জি. পেরিট।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চিঠিটা শেষ করে তাড়াহুড়োয় পাঠিয়ে দিয়েছে এমন সময় বাইরে জোরে একটা ডাক শোনা গেল, &quot;বোতল, বোতল, বন্ধু আমার, আয়, আনন্দ কর—আদেশ এসে গেছে—আমরা দু&#39;সপ্তাহের মধ্যে রওনা হবো!&quot; এই কথাগুলো বলতে বলতে সেই কণ্ঠের মালিক ঘরে ঢুকল। সেও একজন সাব-অলটার্ন আর বোতলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কিরে, তোকে তো আনন্দিত দেখাচ্ছে না&quot; বলল সে। বোতলের মুখটা মলিন আর হতভম্ব দেখাচ্ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;না, তেমন কিছু না। তাহলে তুই দুই সপ্তাহ পরে যাচ্ছিস?&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot; &#39;তুই যাচ্ছিস?&#39; মানে কী? আমরা সবাই যাচ্ছি! কর্নেল থেকে ড্রামার ছেলে পর্যন্ত!&quot; বন্ধুটা বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি মনে হয় না যাব, জ্যাক&quot; বোতল একটু ইতস্তত উত্তর দিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কী বলছিস, বন্ধু? তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? নাকি বেশি গিলে ফেলেছিস?&quot; জ্যাক জিজ্ঞেস করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;না, মোটেও না। আমার মাথা ঠিক আছে। অন্য কিছুও খাইনি!&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তাহলে কী বলতে চাস?&quot; জ্যাক জানতে চাইল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;মানে, সংক্ষেপে বললে, আমি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি। এই জায়গার আবহাওয়া আমার ভালো লাগে। আমি চাষবাস করব।&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;চাকরি ছাড়বি? চাষবাস করবি? এই ভয়ানক জায়গায়? তুই নিশ্চয় মাতাল!&quot; জ্যাক বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;না, সত্যিই।&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আর বিয়ের কী হবে? তোর বাগদত্তা মেয়েটির কী হবে? তুই তো তাকে দেখার জন্য এত উৎসুক ছিলিস। সেও কি চাষবাস করবে?&quot; জ্যাক উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বোতলের মুখটা আরও মলিন হয়ে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;না, দেখ, আমাদের সম্পর্ক শেষ। আমি এখন আর বাগদান করা নই।&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ওহ, তাই&quot; জ্যাক অস্বস্তিতে চলে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h2 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ ২&lt;/h2&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চাকরি ছাড়ার পর আজ প্রায় বারো বছর হতে চলল; আর এই বারো বছরে বোতলের জীবনে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। এর মধ্যে সম্প্রতি এমনও হয়েছে, তার একমাত্র বড় ভাই অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যারোনেট উপাধি আর বছরে আট হাজার পাউন্ড পেয়ে গেল এবং বোতল নিজেও পেল কয়েকশো পাউন্ডের একটি মাঝারি কিন্তু তার একার জন্য যথেষ্ট সম্পত্তি। খবরটা যখন তার কাছে পৌঁছায়, তখন সে কেপ কলোনির বাসুটো যুদ্ধের একটিতে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিল। সে যুদ্ধে তার দায়িত্ব শেষ করে বড় ভাইয়ের অনুরোধে এবং নিজ দেশ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় প্রায় চৌদ্দ বছর পর কমিশন ছেড়ে ইংল্যান্ডে ফিরে আসে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আর এভাবেই এই গল্পের পরের দৃশ্যগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে বা আধা-শহুরে ঔপনিবেশিক কলোনির কোন সাদা বাড়িতে নয় বরং চিত্রায়িত হবে অ্যালবানির সবচেয়ে আরামদায়ক কোন ঘরে যেখানে বাস করেন বোতলের সেই অবিবাহিত বড় ভাই, স্যার ইউস্টেস পেরিট।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কোন এক নভেম্বরের রাতে উষ্ণ ফায়ারপ্লেসের সামনে একটি আরামদায়ক চেয়ারে বসে আছে বোতল। চেহারাটা আগের তুলনায় আরও বড়, আরও কুৎসিত আর লাজুক হয়েছে—উপরন্তু গালে রয়েছে আসেগাই-এর আঘাতের দাগ। ঠিক বিপরীতে বসে মাঝে মাঝে স্নেহময় কৌতূহলে চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাকে দেখছে তার ভাই। স্যার ইউস্টেস পেরিটের বয়স ত্রিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে হবে, লন্ডন-সুলভ চেহারার একদম আলাদা ধাঁচে গড়া একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক। অত্যন্ত উজ্জ্বল চোখ আর চমৎকার দৈহিক গড়ন দেখে মনে হয় তার বয়স ত্রিশের কাছাকাছি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু যখন আপনি তাকে কাছে থেকে চিনতে পারবেন; তার জীবনের অভিজ্ঞতা জানতে পারবেন, বিশ্বজগত সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান মাপতে পারবেন এবং তার কথায় ছড়িয়ে থাকা মজার অথচ গভীর সাইনিক হাস্যরস বুঝতে পারবেন—ঠিক তখনই আপনার মনে হবে তার জন্ম আরও অনেক আগে হয়েছে। বাস্তবে তার বয়স চল্লিশের কম তো হবেই না এবং তিনি জীবনের সুযোগগুলো বিচক্ষণতার সাথে ব্যবহার করে নিজেকে তরুণ আর অভিজ্ঞ রেখেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;প্রিয় জর্জ&quot; স্যার ইউস্টেস তার ভাইকে সম্বোধন করে বললেন, &quot;অনেক বছর এমন আনন্দ হয়নি&quot;—তিনি ঠিক করেছেন এই দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর &quot;বোতল&quot; ডাকনামটা আর ব্যবহার করবেন না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কী—কীসের আনন্দ?&quot; বোতল জিজ্ঞেস করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;অবশ্যই তোকে আবার দেখার আনন্দ। জাহাজে তোকে দেখেই চিনে ফেলেছিলাম। তুই একটুও বদলাসনি, যদি না ওজন বাড়াকে বদলানো বলে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তুমিও তো বদলাওনি, ইউস্টেস। যদি না ওজন কমাকে বদলানো বলে। তোমার কোমর আগে অনেক প্রসস্থ ছিল, জানো তো।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আহ জর্জ, তখন তো আমি বিয়ার খেতাম;&quot; ইউস্টেস বললেন, &quot;এখন বুঝি, সেটা কতটা বোকামি ছিল। আসলে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সকল বোকামিই আমি বুঝতে পেরেছি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;শুধু জীবন ছাড়া, তাই না?&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ঠিক বলেছিস—জীবন ছাড়া। আমি আমাদের হতভাগা কাজিনদের মতো হতে চাই না&quot; ইউস্টেস দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন। তারপর হেসে যোগ করলেন, &quot;তবে তাদের দয়ার জন্যই আমরা এখন এত ভালো আছি।&quot; তারপর দুজন চুপ করে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;চৌদ্দ বছর অনেক দীর্ঘ সময়, জর্জ&quot; ইউস্টেস বললেন, &quot;তোর নিশ্চয় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হ্যাঁ, বেশ কষ্টই করেছি। জানো তো, আমি অনেক যুদ্ধে লড়েছি&quot; বোতল বলল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এবং সম্ভবত কিছুই অর্জন করতে পারিসনি?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ওহ, হ্যাঁ; আমি খাবার আর থাকার জায়গা পেয়েছি—এতটুকুই তো আমার যোগ্যতা।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্যার ইউস্টেস চশমা দিয়ে তার ভাইয়ের দিকে সন্দিগ্ধ চোখে তাকালেন। &quot;তুই বড্ড বিনয়ী&quot; তিনি বললেন, &quot;এটা ঠিক না। জীবনে উন্নতি করতে চাইলে নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হয়।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি উন্নতি চাই না। আমি শুধু খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারলেই খুশি আর আমি বিনয়ী কারণ অনেক ভালো মানুষকে আমি আরও খারাপ অবস্থায় দেখেছি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কিন্তু এখন তোর রোজগারের দরকার নেই। তুই কী করতে চাস? শহরে থাকবি? আমি তোকে সম্ভ্রান্ত মানুষদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি। তোর গালের ওই দাগ নিয়ে তুই সবার কাছে হিরো হয়ে যাবি। শোন, দাগের গল্পটা আমাকে একদিন বলিস। আর যদি আমার কিছু হয়, তুই উপাধি আর যাবতীয় সম্পত্তি সব পাবি। এটাই তোর জন্য যথেষ্ট হবে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বোতল অস্বস্তিতে চেয়ারে নড়েচড়ে বসল। &quot;ধন্যবাদ, ইউস্টেস; কিন্তু সত্যি বলতে আমি এসব চাই না। আমি বরং আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যোগ দেব। সত্যি বলছি। অচেনা মানুষ আর সমাজ আমি পছন্দ করি না। আমি তোমার মতো এর জন্য উপযুক্ত নই।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তাহলে কী করবি? বিয়ে করে গ্রামে গিয়ে থাকবি?&quot; ইউস্টেস জিজ্ঞেস করলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বোতলের রোদে পোড়া তামাটে মুখটা একটু লাল হল—ইউস্টেসের সতর্ক দৃষ্টি সেটা লক্ষ্য করলো। &quot;না, আমি বিয়ে করব না; নিশ্চয়ই না।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ওহ, মনে পড়ল&quot; ইউস্টেস অন্যমনস্কভাবে বললেন, &quot;গতকাল তোর পুরোনো প্রেমিকা লেডি ক্রস্টনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমি বলেছি, তুই দেশে ফিরছিস। সে এখন খুব সুন্দরী একজন বিধবা।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কী!&quot; বোতল বিস্ময়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। &quot;তার স্বামী মারা গেছে?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হ্যাঁ, মারা গেছে। এক বছর হলো, তাতে ভালোই হয়েছে। সে আমাকে তার সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিল; জানি না কেন, আমরা তো একে অপরকে পছন্দও করতাম না। আমার দেখা সবচেয়ে অপ্রীতিকর লোক ছিল সে। শুনেছি, সে তার স্ত্রীর সাথে মাঝে মাঝে বেশ খারাপ ব্যবহার করত। যদিও ওটা ওর প্রাপ্যই ছিল।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কেন, ওর প্রাপ্য কেন?&quot; বোতল জিজ্ঞেস করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্যার ইউস্টেস কাঁধ ঝাঁকালেন। &quot;যখন একটি নির্লজ্জ মেয়ে টাকার জন্য তার বাগদত্তাকে ছেড়ে কোন বুড়োর কাছে নিজেকে বিক্রি করে, তার এটাই প্রাপ্য। ম্যাডেলিন যা পেয়েছে তা তার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বোতল আবার চুপচাপ বসে পড়ল, তারপর সংযত কণ্ঠে বলল &quot;তুমি কি মনে করো না ইউস্টেস, তুমি ওর প্রতি একটু বেশি কঠোর হচ্ছো?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কঠোর? না, একটুও না। আমি যত মেয়েকে চিনি, ম্যাডেলিন ক্রস্টন তাদের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যহীন। তুই কি ভুলে গেছিস সে তোর সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিল?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;ইউস্টেস&quot; প্রায় তীক্ষ্ণ স্বরে বোতল বলল, &quot;দয়া করে তার সম্পর্কে এমন কথা বোলো না। আমি—আমি এটা পছন্দ করি না।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্যার ইউস্টেস বিস্ময়ে চোখ এতটাই বড় করলেন যে তার চশমাটি চোখ থেকে পড়ে গেল। &quot;কী বলছিস, তুই কি বলতে চাস তুই এখনও ওই নারীকে ভালোবাসিস?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বোতল তার বিশাল দেহটি চেয়ারে অস্বস্তিতে এপাশ-ওপাশ নাড়ল। জানি না, সত্যি ভালোবাসি কি না কিন্তু তোমার মুখে ওর সম্পর্কে এমন কথা শুনতে ভালো লাগছে না।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্যার ইউস্টেস হালকা স্বরে শিস বাজালেন। &quot;তোকে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত, জর্জ&quot; তিনি বললেন। &quot;আমি ভাবিনি এটা তোর কাছে এতটা স্পর্শকাতর। দক্ষিণ আফ্রিকায় তুই নিশ্চয় খুব বিশ্বস্ত মানুষ ছিলি। এখানে মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি বারো বছরে অনেকবার বদলায়।&quot;&lt;/p&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;h2 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ ৩&lt;/h2&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে রাতে বোতল অনেক দেরি করে ঘুমোতে গেল। এমনকি সর্বদা নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান স্যার ইউস্টেস হাই তুলতে তুলতে চলে যাওয়ার অনেক পরেও বোতল বসে রইল এবং পাইপের পর পাইপ টানতে টানতে ভাবতে লাগলো। ঠিক এমনভাবেই সে বহুবার দক্ষিণ আফ্রিকার ভেল্ডে কোনো ওয়াগনের বাক্সের ওপর কিংবা চাঁদের আলো রূপার স্রোতে পরিণত হওয়া সেই জাম্বেসি নদীর জলপ্রপাতে অথবা তার নিজের তাবুতে যখন শিবিরের সবাই ঘুমিয়ে পড়ত—তখনো সে এভাবেই বসে বসে ভাবত। এই অদ্ভুত চুপচাপ মানুষটার অভ্যাস ছিল রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ভাবা, যা মূলত তার অনিদ্রার ফল ছিল। এটাই ছিল তার শরীরের অন্যতম দুর্বলতা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার বিচিত্র সেই ধ্যানধারণাগুলোর বেশিরভাগই তার স্বভাবের এক কৌতূহলী কল্পনাপ্রবণ দিক থেকে উৎসারিত যা সে বাইরের জগতে কখনো প্রকাশ করত না। এমন এক সুখস্বপ্ন, যার কোনো ঝলকও তার কঠিন জীবনে কখনো আসেনি; আধা-রহস্যময়, ধর্মীয় ধ্যান আর মানবজাতির পুনর্জন্মের মহৎ পরিকল্পনা—সবই তার ভাবনার অংশ ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বরং বলা ভালো, তার মনের মধ্যে স্থির নক্ষত্রসদৃশ একটি কেন্দ্রীয় চিন্তার চারপাশে অন্য সকল চিন্তাগুলো গ্রহ-উপগ্রহের মত অবিরাম ঘুরত; আর সেটা ছিল ম্যাডেলিন ক্রস্টনের চিন্তা যার সাথে তার একসময় বাগদান হয়েছিলো। তাকে দেখার পর বহু বছর কেটে গেছে কিন্তু সর্বদাই মনে হত ম্যাডেলিন তার সামনেই আছে। কিছু সামাজিক পত্রিকায় মাঝে মাঝে তার নামের উল্লেখ পাওয়া যেতো যার কারনে বোতল বছরের পর বছর ধরে এসব কাগজ নিয়মিত কিনে ম্যাডেলিনের নাম নিষ্ঠার সাথে খুঁজতে থাকতো। সে তাকে ছেড়ে অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করেছে—কিন্তু তাতে তার ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। ম্যাডেলিন একবার তাকে ভালোবেসেছিল আর এতেই তার জীবনের সবটুকু ভালোবাসার দাম পরিশোধ হয়ে গেছে। তার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না বরং ম্যাডেলিনই ছিল তার একমাত্র বড় আকাঙ্ক্ষা; সেটা ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে সবকিছুই ধুলোয় মিশে গেছে। দোষের ভয় বা প্রশংসার আশা ছাড়াই তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সে নিজের কাজ করত; পুরুষদের এড়িয়ে চলত এবং যতটা সম্ভব কোনো নারীর সাথে কথা বলতো না। খেয়ে-পরে বাঁচতে পারলেই খুশি থাকত আর বাকি জীবনটা ছিল তার গোপন ও করুণ ভালোবাসার কারণে বিবর্ণ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আর এখন জানা গেল ম্যাডেলিন বিধবা—মানে, তার হৃদয় দ্রুত ধুকপুক করতে লাগল—সে এখন মুক্ত নারী। ম্যাডেলিন এখন স্বাধীন আর সে তার থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটার দূরত্বে অবস্থান করছে। এখন আর তাদের মাঝে হাজার হাজার মাইল সমুদ্র নেই। সে উঠে টেবিলের দিকে গিয়ে একটি রেড বুক খুলে দেখল। কয়েক সেকেন্ড খুঁজতেই ঠিকানাটা পেয়ে গেল—গ্রোসভেনর স্ট্রিটের একটি বাড়ি। এক অদম্য তাড়নায় সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। নিজের ঘরে গিয়ে রেইনকোট আর গোল টুপি পরে চুপচাপ বাড়ি ছাড়ল। তখন রাত দুইটার বেশি, বাইরে প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া বইছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছোটবেলায় সে কিছুদিন লন্ডনে ছিল, তাই প্রধান সড়কগুলো তার মনে ছিল। ফলে পিকাডিলি ধরে পার্ক লেনে যেতে তার বিশেষ অসুবিধা হল না; রেডবুকে গ্রোসভেনর স্ট্রিট পার্ক লেনের আশেপাশে দেখাচ্ছিল কিন্তু গ্রোসভেনর স্ট্রিট সহজে খুঁজে পাওয়া গেল না। আর এই গভীর রাতে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে কাউকে জিজ্ঞেস করারও উপায় ছিল না—পুলিশ তো দূরের কথা। অবশেষে সে রাস্তাটি খুঁজে পেল আর সাথে সাথেই যেন বুকের ধুকপুকানো আরও বেড়ে গেল। সে দ্রুত এগিয়ে গেল; এতো তাড়াহুড়ো কেন করছে সেটা সে নিজেও জানত না, তবু সেই অদম্য তাড়না তাকে আরও দ্রুত চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেই মুহূর্তে হঠাৎ সে থমকে দাঁড়িয়ে নিকটতম ল্যাম্পের অস্পষ্ট ও দুর্বল আলোয় একটা বাড়ির নম্বর দেখল। এটাই ছিল সেই বাড়ি; এখন তাদের মাঝে কেবল কয়েক ফুট দূরত্ব আর চৌদ্দ ইঞ্চির একটি ইটের দেয়াল ছাড়া কিছুই নেই। সে রাস্তার অন্য পাশে গিয়ে বাড়িটির দিকে তাকাল কিন্তু ঝড়ো বৃষ্টিতে সবকিছু ঝাপসা দেখাচ্ছিল। বাড়িটি অন্ধকারে ডুবে রয়েছে, কোথাও কোন আলো জ্বলছিল না আর রাস্তায়ও কোনো প্রাণের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু এই দাঁড়ানো মানুষের মনে আলো আর প্রাণ দুই-ই ছিল। তার মনের ব্যাকুলতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শরীরের সমস্ত রক্তস্রোত উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তীব্র শীতল হাওয়া আর মুষলধারে বর্ষণ উপেক্ষা করে সে ঝাপসা বাড়িটির দিকে তাকিয়ে রইলো। বোতল অনুভব করল তার জীবন ও আত্মা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কোনো অজানা রাজ্যে প্রবেশ করছে। বাইরের ঝড় তার অন্তরের উত্তাল ঝঞ্ঝার তুলনায় কিছুই না বরং সেই অস্থিরতা আর উন্মত্ততার মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত সুখকর। কিন্তু যেমন তাড়াতাড়ি ঝড়টা এসেছিল ঠিক তেমনি তাড়াতাড়ি শান্ত হয়ে গেল। বোতল তখনো দাঁড়িয়ে রইলো তার বোকামির এক শীতল অনুভূতি আর দেহে তীব্র শীতের যন্ত্রণা নিয়ে; কারণ এমন রাতে একটি রেইনকোট আর গোল টুপি কোনো প্রেমিকের দেহকে উষ্ণ রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না। সে কাঁপতে কাঁপতে অ্যালবানিতে ফিরে এলো। নিজের এই মাঝরাতের ভ্রমণে নিজেই লজ্জা পেল কিন্তু পরক্ষনেই খুশি হল এই ভেবে যে এই সম্পর্কে কেউ কিচ্ছুটি জানে না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরদিন বোতলের বিশেষ ব্যস্ততা ছিল—তার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে একজন আইনজীবীর সাথে দেখা করতে হল। স্টিমারে হারিয়ে যাওয়া একটি বাক্স খুঁজে বের করতে হল; এছাড়া একটি লম্বা টুপি কিনল। ফলে একাজ ওকাজ করতে করতে বিকাল সাড়ে চারটা নাগাদ অ্যালবানিতে ফিরে এলো। এখানে সে সদ্য ক্রয়কৃত টুপিটি মাথায় দিল যদিও তা খুব একটা ভালো ফিট হচ্ছিল না। নতুন কালো কোটটা এত টাইট হয়ে চেপে বসেছিল যে তার বড় শরীরে ব্যথা করছিল এবং নতুন একজোড়া গ্লাভস পরতে গিয়ে হিমশিম খেতে খেতে সে গ্রোসভেনর স্ট্রিটের উদ্দেশে রওনা দিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যেহেতু এবার সে রাস্তাটি চিনত তাই মিনিট পনের হাটার পরেই বাড়িটির কাছে পৌঁছে গেল। গতরাতে সে যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখান থেকে কিছুক্ষন বাড়িটি দেখে অবশেষে সিঁড়ি বেয়ে উঠে বেল বাজাল। বাহ্যিকভাবে তাকে যথেষ্ট সাহসী দেখাচ্ছিল—বরং তার প্রশস্ত কাঁধ এবং তামাটে মুখের ওপর বড়ো কাটা দাগটি তাকে আরও প্রতাপশালী করে তুলেছিল কিন্তু তার হৃদয় ছিল আতঙ্কে পরিপূর্ণ। তবে এই আতঙ্ক বেশিক্ষণ স্থায়ী হলনা কারণ প্রতীকী শোক সাজে সজ্জিত একজন ভৃত্য অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দরজা খুলে তাকে অভ্যর্থনা জানাল এবং তাকে উপরে একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত সুসজ্জিত কক্ষে নিয়ে গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কক্ষটিতে ম্যাডেলিন ছিল না তবে একটি নিচু চেয়ারের পাশে মেঝেতে পড়ে থাকা লেসের রুমাল এবং একটি ছোট বেতের টেবিলের ওপর রাখা খোলা উপন্যাস থেকে বোঝা যাচ্ছিল যে সে এই কক্ষ থেকে বেশিক্ষণ আগে যায়নি। &quot;লেডি ক্রস্টনকে তার ব্যাপারে জানানো হবে&quot; গম্ভীর ফিসফিসে কণ্ঠে কথাগুলো বলে ভৃত্যটি চলে গেল। অস্থির অপেক্ষমাণ মানুষের মতো সে ঘরের ছবিগুলো দেখতে দেখতে একজোড়া খুব ভারী নীল মখমলের পর্দার দিকে এগিয়ে গেল—যা স্পষ্টতই অন্য একটি কক্ষের সাথে যুক্ত ছিল এবং সে চোরের মত সেই রুমে উঁকি দিয়ে দেখল যে রুমটি অনেক বড় আর সে রুমে ব্যাগে মোড়া আসবাবপত্রগুলো ভূতুড়ে দেখাচ্ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই ভূতুড়ে বিষণ্ণ দৃশ্য থেকে সরে এসে সে ফায়ারপ্লেসের সামনের কার্পেটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো। &quot;ম্যাডেলিন কি তার আসার জন্য রাগ করবে?&quot; সে ভাবল, &quot;এটা কি তাকে পুরোনো কথা মনে করিয়ে দেবে যা সে ভুলতে চায়? কিন্তু হয়তো সে ইতিমধ্যেই সব ভুলে গেছে—এততো বছর কেটে গেছে। সে কি খুব বদলে গেছে? হয়তো সে তাকে চিনতেই পারবে না। হয়তো...&quot; ঠিক এমন সময় সে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখল সেই দুটি নীল মখমলের পর্দার মাঝখানে ম্যাডেলিন দাঁড়িয়ে আছে—একজন পূর্ণ দীপ্তিমান রূপের অসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারিণী নারী; অন্তত এই নভেম্বরের নিষ্প্রভ সন্ধ্যায় তার বয়সের কোনো ছাপই পড়েনি। সে তার বড় বড় কালো দুটি চোখে কৌতূহল আর একটু ব্যথাভরা দৃষ্টিতে বোতলের দিকে তাকিয়ে ছিল। এইতো তার সুগঠিত ঠোঁট দুটি কথা বলার জন্য যেন একটু ফাঁক হল আর প্রবল কোন বেদনায় তার বুক ধীরে ধীরে ওঠানামা করছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বেচারা বোতল! এই এক নজরই যথেষ্ট ছিল। তার মন শান্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। পাঁচ সেকেন্ডে সে আরও গভীর প্রেমের সমুদ্রে ডুবে গেল। ম্যাডেলিন বুঝল, বোতল তাকে দেখেছে। সে চোখ নামাল। তার লম্বা বাঁকা চোখের পাপড়িগুলো গালে ঠেকল। সে ধীরপায়ে এগিয়ে এল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কেমন আছ?&quot; ম্যাডেলিন নরম স্বরে বলে তার স্নিগ্ধ ঠাণ্ডা হাতটি বাড়িয়ে দিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল মন্ত্রমুগ্ধের মত তার হাতটি ধরে ঝাঁকিয়ে দিল কিন্তু প্রাণান্ত চেষ্টা করেও কিছু বলতে পারল না। সে যে কথাগুলো ভেবে রেখেছিল, একটাও মনে এল না। তবু কিছুতো বলতেই হবে। &quot;কেমন আছ?&quot; সে হঠাৎ বলে ফেলল। &quot;খুব—খুব ঠাণ্ডা পরেছে, তাই না?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কথাটা এত হাস্যকর ছিল যে লেডি ক্রস্টন হেসে ফেলল। &quot;তোমার লাজুকতা এখনো কাটেনি দেখছি&quot; সে বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;অনেক দিন পর আমরা দেখা করছি&quot; বোতল বলে উঠল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তোমাকে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি&quot; ম্যাডেলিন সহজভাবে বলল। &quot;বোসো, আমার সঙ্গে কথা বলো। তোমার সম্পর্কে সব কথা বলো। দাড়াও—কি অদ্ভুত ব্যাপার! তুমি জানো, আমি গত রাতে তোমায় স্বপ্ন দেখেছিলাম—একটা অদ্ভুত ও বেদনাদায়ক স্বপ্ন। আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি আমার ঘরে ঘুমাচ্ছি—যা সত্যিই ছিল; আর বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে—যা বাস্তবেও ছিল, তাই এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে আমি স্বপ্নে দেখলাম তুমি বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছো, যদিও অন্ধকারে থাকার কারনে তোমার মুখ দেখা যাচ্ছিলো না, কিন্তু আমি জানতাম সেটা তুমি। তারপর আমি চমকে উঠে জেগে গেলাম। স্বপ্নটা খুব স্পষ্ট ছিল। আর আজ এত বছর পর তুমি আমাকে দেখতে এসেছ।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল অস্বস্তিতে পা নাড়ল; এই স্বপ্নের কথা তাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। কারণ সে তো সত্যিই গতরাতে এসেছিল। সৌভাগ্যবশত, ঠিক সেই মুহূর্তে সেই ভৃত্যটি চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হলো এবং জিজ্ঞাসা করল আলো জ্বালানো হবে কিনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;না,&quot; লেডি ক্রস্টন বলল; &quot;আগুনে কাঠ দাও।&quot; সে জানত এই ম্লান আলোয় তাকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারপর সে বোতলকে চিনি ছাড়া চা দিল। বোতল যে চায়ে চিনি পছন্দ করে না এই কথা ম্যাডেলিন মনে রেখেছে—এই ব্যাপারটা তার মন ভরিয়ে দিল। সে তাকে তার বুনো জীবনের গল্প বলতে বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ওহ মনে পড়ল&quot; ম্যাডেলিন বলল, &quot;কয়েকদিন আগে আমি আমার ছেলের জন্য একটা বই কিনেছিলাম।&quot; (তার দুটি সন্তান ছিল) &quot;সেই বইতে সাহসী কাজকর্ম আর এসব বিষয় নিয়ে গল্প ছিল এবং তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার একজন স্বেচ্ছাসেবক অফিসারের গল্প ছিল যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছিল, যদিও সেখানে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তুমি কি এই গল্প শুনেছ? গল্পটা এমন:- একজন অফিসার একটি দুর্গের দায়িত্বে ছিলেন যেখানে একটা বাহিনী স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে যখন তিনি বাহিরে গেলেন, নেতাটি একটি শান্তিপতাকাসহ দুর্গে দূত পাঠাল কিন্তু দুর্গের কিছু স্বেচ্ছাসেবক তাদের প্রতি বিদ্বেষবশত সেই দূতদের উপর গুলি চালাল। কিছুক্ষণ পর অফিসার ফিরে এসে এই কাজে প্রচণ্ড রেগে গেলেন, বললেন ইংরেজদের কর্তব্য সমগ্র বিশ্বকে সম্মান শেখানো—এমন কাজ তাদের শোভা পায় না।”&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এবার আসলো গল্পের সাহসী অংশ। আর কোনো কথা না বলে এবং তার সৈন্যদের অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি একা বেরিয়ে পড়লেন। তার সৈন্যরা জানত তিনি সম্ভবত একটি নৃশংস মৃত্যুর দিকে যাচ্ছেন কারণ তিনি এতই সাহসী ছিলেন যে স্থানীয়রা তাকে হত্যা করে তার দেহ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইত, যাতে তারা তার মতো সাহসী হতে পারে। সেই অফিসার একজন দোভাষী ও একটি সাদা রুমাল নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিলেন এবং শেষ পর্যন্ত নেতার ঘাঁটিতে পৌঁছালেন। স্থানীয়রা যখন তাকে সাদা রুমাল উঁচু করে আসতে দেখল, তারা তার দলের মতো গুলি করল না, কারণ তার সাহস দেখে তারা ভেবেছিল তিনি হয়তো পাগল বা ঐশ্বরিক শক্তিধর। এভাবে তিনি নিরাপদে দুর্গের প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছে নেতার কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং নিরাপদে ফিরে এলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুদিন পর, নেতাটি সেই অফিসারের কয়েকজন সৈন্যকে বন্দী করল যাদের সাধারণত সে নির্যাতন করে মেরে ফেলত; কিন্তু এবার তাদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাঠাল, এই বার্তা দিয়ে যে সে ইংরেজ অফিসারকে দেখিয়ে দেবে যে শুধু তিনিই একমাত্র মানুষ নন যিনি &#39;ভদ্রলোকের মতো&#39; আচরণ করতে পারেন।”&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;“আমি সেই মানুষটিকে জানতে চাই। তুমি কি জানো সে কে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল অস্বস্তি বোধ করল, কারণ এটা তার নিজের গল্প ছিল কিন্তু ম্যাডেলিনের প্রশংসা ও উচ্ছ্বাসে গর্বে তার মুখ লাল হয়ে উঠল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সম্ভবত এটা বাসুটো যুদ্ধের কারো ঘটনা&quot; সে কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তাহলে এটা সত্যি গল্প?&quot; ম্যাডেলিন জিজ্ঞেস করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, মানে, কিছুটা সত্যি। এতে বীরত্বের কিছু নেই। আমাদের সম্মান বাঁচাতে এটা করা দরকার ছিল।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কিন্তু সেই মানুষটি কে?&quot; সে তার কালো চোখ দুটি সন্দেহভরে তার দিকে স্থির করে জিজ্ঞেস করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সেই মানুষ!&quot; বোতল হাঁপিয়ে উঠল, &quot;ওহ, সেই মানুষ—আসলে, সংক্ষেপে—&quot; এবং সে থেমে গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সংক্ষেপে, জর্জ,&quot; ম্যাডেলিন প্রথমবারের মতো তার নাম ধরে ডাকল, &quot;সেই মানুষটি তুমি এবং আমি তোমার জন্য গর্বিত, জর্জ।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এটি তার জন্য একদিক থেকে খুবই অস্বস্তিকর ছিল কারণ সে এমন প্রশংসা ঘৃণা করত, এমনকি ম্যাডেলিনের কাছ থেকেও। সে এতটাই বিনয়ী ছিল যে সে এই ঘটনাটি কখনই রিপোর্ট করেনি; কিন্তু কোনোভাবে এটি ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তবুও সে খুশি হল যে ম্যাডেলিন তাকে চিনতে পেরেছে। তার এই আবেগপ্রবণতা তার জন্য অনেক বড় কিছু ছিল এবং তার চোখের জ্বলজ্বলে ভাব ও দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস দেখে বোঝা যাচ্ছিল সে আবেগাপ্লুত হয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল মাথা তুলে তাকাতেই তাদের চোখাচোখি হল; ঘরটি এখন প্রায় অন্ধকার হয়ে এসেছিল কিন্তু ভৃত্য যে কাঠ আগুনে দিয়েছিল তার উজ্জ্বল শিখা তার মুখে খেলা করছিল। উভয়ে উভয়ের দৃষ্টিতে আটকে গেল; তার চোখে এমন একটা দৃষ্টি ছিল যা থেকে বোতল পালাতে পারল না। ম্যাডেলিন তার মাথা পিছনে হেলান দিল যাতে তার চকচকে চুলের মুকুটটি নিচু চেয়ারে ঠেকল। সে সোজা বোতলের মুখের দিকে তাকাল। বোতল উঠে ম্যান্টেলপিসের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো। ম্যাডেলিনের নিখুঁত মুখে একটি ধীর ও মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল এবং কালো চোখ দুটি কোমল ও উজ্জ্বল হয়ে উঠল, যেন অশ্রুতে ভিজে আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরের মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল, ম্যাডেলিন ভেবেছিল এমনটাই হবে বরং সে চেয়েছিল এটা হোক। সেই বিশাল শক্তিশালী মানুষটি নিচে—হ্যাঁ, তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল; একটি কাঁপতে থাকা হাত তার চেয়ারের হাতলে জড়িয়ে ধরল এবং অন্যটি তার সুগঠিত কোমল আঙুলগুলোকে চেপে ধরল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখন তার মধ্যে কোনো দ্বিধা বা অস্বস্তি ভাব ছিল না। দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেগ তাকে অনুপ্রাণিত করলো এবং সে তাকে সব বলল একটানা—সে তার জন্য যতো কষ্ট সহ্য করেছে সেই সব বছর ধরে, তার সমস্ত হতাশা, কিছুই লুকাল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাডেলিন অনেক কিছু বুঝল না; এমন গভীর আবেগ তার অগভীর মনের সীমার বাইরে ছিল। এমন উচ্চ হৃদয়ের কথা তার সঙ্কীর্ণ কল্পনায় ধরা মুশকিল। তার উঁচু চিন্তাগুলো কখনো কখনো তাকে হাসিয়ে ফেলল। সে ভাবল, এমন পৃথিবীতে কোনো পুরুষের কোনো নারী সম্পর্কে এমন চিন্তা করা হাস্যকর।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল যখন তার কথা শেষ করল, তখন ম্যাডেলিন কোনো উত্তর দেয়নি কারন সে বুঝতে পেরেছিল যে নীরবতাই তার শক্তি বস্তুত এই প্রেমের সমুদ্রে তার অবস্থান বেশ দুর্বল ছিল। তবে সে শুধু একটি নারীসুলভ কার্যকর যুক্তি ব্যবহার করল; সে তার সুন্দর মুখটি বোতলের দিকে ঝুঁকাল আর বোতল তাকে বারবার চুমু খেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;h2 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ চার&lt;/h2&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ডিনারের জন্য প্রস্তুত হতে বোতল দ্রুত অ্যালবানির দিকে ফিরে চলল—কারণ সেই রাতে তার ভাইয়ের সাথে একটি ক্লাবে ডিনারে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। তার মনের আনন্দ এবং একইসাথে ঘৃণা এতই প্রবল ছিল যে সে যেন হাঁটতে পারছিল না। এত বছর ধরে প্রেমে নিরন্তর ব্যর্থতার সাথে তার মন এতই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো যে এই সৌভাগ্যকে এখনও সে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারছিল না। হারানো ম্যাডেলিনকে ফিরে পাওয়া এতটাই সুখকর যে তা সত্যি বলে বিশ্বাস করাই কঠিন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘটনাচক্রে, স্যার ইউস্টেস ডিনারে আরও দুই-একজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন কলোনিয়াল আন্ডার সেক্রেটারি। যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিষয়ে পার্লামেন্টে একটি কঠোর জেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আর তাই একজন যথেষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তির থেকে যতটা সম্ভব তথ্য নিতে তিনি মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু এই প্রত্যাশার বিপরীতে বোতলের কাছ থেকে কোনো উপকারী তথ্য বের হলো না। ডিনারের বেশিরভাগ সময় সে নীরব বসে থাকল, শুধুমাত্র সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তর দিল আর সেগুলো এতই এলোমেলো ছিল যে আন্ডার সেক্রেটারি দ্রুত উপলব্ধি করলেন স্যার ইউস্টেসের ভাই হয়তো বোকা নয়তো বেশি মদ গিলে ফেলেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস নিজেও বুঝতে পারলেন তার ভাইয়ের এই চুপ থাকা তার ছোট্ট ডিনারটি নষ্ট করে দিয়েছে এবং এতে তার মেজাজ খারাপ হলো। ডিনার নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন না, আর তিনি অনুভব করলেন আন্ডার সেক্রেটারির কাছে তিনি একটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;প্রিয় জর্জ,&quot; অ্যালবানিতে ফিরে এসে একটু বিরক্ত স্বরে চিবিয়ে চিবিয়ে তিনি বললেন , &quot;আমি ভাবছি তোর কী হয়েছে? আমি আথারলিকে বলেছিলাম যে তুই এই বেচুয়ানা জটিলতা সম্পর্কে তাকে পুরো ব্যাপারটা বলতে পারবি কিন্তু বেচারা তোর কাছ থেকে একটি শব্দও বের করতে পারেনি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল অন্যমনস্কভাবে পাইপে তামাক ভরতে ভরতে উত্তর দিল: &quot;বেচুয়ানা? ওহ, হ্যাঁ, আমি তাদের সম্পর্কে সব জানি। তাদের সঙ্গে এক বছর ছিলাম।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তাহলে কেন তুই তাকে কিছু বললি না? তুই আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিলি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি খুবই দুঃখিত, ইউস্টেস&quot; বোতল নম্রভাবে উত্তর দিল, &quot;তুমি চাইলে আমি কাল তাঁর কাছে গিয়ে সব পরিষ্কার করে বলব। আসল কথা হলো, তখন আমি অন্য কিছু ভাবছিলাম।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকালেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি ভাবছিলাম,&quot; সে ধীরে ধীরে বলল, &quot;ম্যাড—মানে লেডি ক্রস্টনের কথা।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ওহ!&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আজ বিকেলে তার সাথে দেখা করেছি, আর আমি মনে করি মানে আশা করছি যে আমি তাকে বিয়ে করবো।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যদিও বোতল আশা করেছিল যে তার বড় ভাই এই সুসংবাদটিকে সাদরে গ্রহণ করবে অর্থাৎ তাকে অভিনন্দন জানাবে কিন্তু দ্রুতই সে হতাশ হল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সর্বনাশ!&quot; স্যার ইউস্টেস অকস্মাৎ বলে উঠলেন, তার চশমাটি খসে পড়ল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেন এমনটা বলছো, ইউস্টেস?&quot; বোতল কিছুটা অস্বস্তিতে প্রশ্ন করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কারণ, কারণ&quot; তার ভাই জোর দিয়ে বলল &quot;তুই পাগল হয়ে গেছিস, তাই এমন ভাবছিস।&quot;—কথাটি বোতলের কাছে অশ্রাব্য ভাষার সমতুল্য।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কেন পাগল হব?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কারণ তুই এখনও তরুণ, তোর সারা জীবন পড়ে আছে; অথচ তুই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে একজন মধ্যবয়স্কা মহিলার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে চাস? দিনের আলোয় তাকে বুড়ি মনে হয়, জানিস? সে ইতিমধ্যেই তোর সাথে কুকুরের মতো ব্যবহার করেছে, আবার তার আছে দুই-তিনটা সন্তান। আর সে বিয়ে করলে, শুধু তার বিলাসী অভ্যাস ছাড়া কিছু আনবে না। তবে আমি এটা আশা করছিলাম। আমি জানতাম সে তার সেই মায়াবী কালো চোখ দিয়ে তোকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবে। তুই প্রথম না; আমি তাকে ভালোভাবে চিনি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;যদি&quot; বোতল রেগে উঠলো, &quot;তুমি ম্যাডেলিনকে আমার সামনে গালি দিতে শুরু করো, তাহলে আমি মনে করি বিছানায় যাওয়াই ভালো হবে কারণ এই বিষয়ে আমি তোমার সাথে ঝগড়া করতে চাই না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস কাঁধ ঝাঁকালেন। আল্লাহ যাদের ধ্বংস করতে চান, প্রথমে তাদের পাগল করেন,&quot; হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে তিনি ফিসফিস করে বললেন, &quot;এটা দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘ সময় কাটানোর ফল।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু বাস্তববাদী স্যার ইউস্টেসের প্রিয় মন্ত্র ছিল &quot;বাঁচো এবং বাঁচতে দাও&quot;; এবং পরের দিন সকালে দীর্ঘক্ষণ দাড়ি কাটার সময় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে অনিচ্ছাসত্ত্বেই বোতলকে নিজের ইচ্ছেমত চলতে দেয়া উচিত। যেহেতু সে অনেকটা একরোখা তাই সবচেয়ে ভালো হবে তার ইচ্ছাকে মেনে নেওয়া এবং ভাগ্যের উপর ভরসা রাখা যে হয়তো কিছু না কিছু ঘটবে আর এই পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস, তার বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি আর ব্যঙ্গাত্মক ভাব সত্ত্বেও অন্তরে একজন ভালো মানুষ ছিলেন এবং তার লাজুক ও চুপচাপ ভাইকে খুব ভালোবাসতেন। তবে লেডি ক্রস্টনকে তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না—বিশেষ করে যখন তার চরিত্র তিনি ভালোভাবেই জানতেন। অবশ্য তিনি লেডির সাথে প্রায়ই দেখা করতেন কারণ তিনি তার স্বামীর উইলের এক্সিকিউটর ছিলেন এবং তিনি যখন ব্যারনেট হয়েছিলেন তখন লক্ষ করেছিলেন যে লেডি ক্রস্টন তার সান্নিধ্য পছন্দ করতে শুরু করেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার ভাই আর তার পুরনো প্রেমিকা ম্যাডেলিনের বিয়ে সব দিক থেকে তার একদম অপ্রিয় ছিল। প্রথমত, তার স্বামীর উইল অনুযায়ী ম্যাডেলিন যদি আবার বিয়ে করে তবে সে তুলনামূলকভাবে খুব কমই সম্পদ নিয়ে আসবে যা একটা সমস্যা। আরেকটা বড় সমস্যা হল এই বয়সে ম্যাডেলিন সম্ভবত পেরিট পরিবারে কোন উত্তরাধিকারীর জন্ম দিতে পারবে না। স্যার ইউস্টেসের নিজে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছাও ছিল না। তার মতে বিবাহ সামাজিক মর্যাদার জন্য খুবই জরুরী একটি প্রতিষ্ঠান হলেও সেটার সাথে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তিনি উৎসাহী নন। তাই যদি তার ভাই বিয়ে করেই, তবে তার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল যে ঐ সম্পর্ক থেকে সন্তান হবে যারা পদবী ও এস্টেটের উত্তরাধিকারী হবে। এই দুটি চমৎকার কারণের চেয়েও বেশী ছিল তার সেই নারীর প্রতি গভীর অবিশ্বাস ও ঘৃণা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যাইহোক, ম্যাডেলিন নামক শয়তান যখন জোর করে, তখনতো মানতেই হয়। তিনি তার একমাত্র ভাই এবং সম্ভাব্য উত্তরাধিকারের সাথে ঝগড়া করতে চাননি শুধুমাত্র এই কারণে যে সে এমন একজন মহিলাকে বিয়ে করতে চায় যাকে তিনি পছন্দ করেন না। তাই তিনি কাঁধ ঝাঁকালেন, তার শেভিং এবং চিন্তা একসাথে শেষ করে ঠিক করলেন এখন থেকে হতাশা লুকিয়ে হাসিমুখে থাকবেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;span style=&quot;white-space: pre;&quot;&gt;	&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আচ্ছা, জর্জ&quot; সকালের নাস্তায় তিনি তার ভাইকে বললেন, &quot;তাহলে তুই লেডি ক্রস্টনকে বিয়ে করতে যাচ্ছিস?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল অবাক হয়ে তাকাল। &quot;হ্যাঁ, ইউস্টেস,&quot; সে উত্তর দিল, &quot;যদি সে আমাকে বিয়ে করে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস তাকে এক নজর দেখলেন। &quot;আমি ভেবেছিলাম বিষয়টা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে&quot; তিনি বললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল চিন্তিতভাবে তার বড় নাক হাতের মুঠো দিয়ে ঘষতে ঘষতে উত্তর দিল, &quot;না, বিয়ের কথা হয়নি। কিন্তু আমার মনে হয়, সে আমাকে বিয়ে করতে চায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, অন্য কিছু ভাবার প্রশ্নই আসেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, অনুমান করতে পারলেন কী ঘটেছে। তাহলে এখনও পুনরায় কোনো বাগদান হয়নি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তুই কবে আবার তার সঙ্গে দেখা করবি?&quot; তিনি জিজ্ঞেস করলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আগামীকাল। সে আজ সারাদিন ব্যস্ত।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস তার পকেটবুক বের করে চোখ বুলালেন। &quot;তাহলে আমি তোর চেয়ে ভাগ্যবান&quot; তিনি বললেন, আমি আজ রাতে ডিনারের পর লেডি ক্রস্টনের সাথে দেখা করব। ঈর্ষা করিস না, ভাই। এটা শুধুমাত্র উইল এক্সিকিউটর সম্পর্কিত কাজ। তোকে বলেছি তো, আমি তার স্বামীর উইল এক্সিকিউটর। তোর প্রেমিকা একজন স্বতন্ত্র মহিলা এবং শপথ করে বলেছে যে সে তার আইনজীবীদের বিশ্বাস করে না, তাই আমাকে সমস্ত নোংরা কাজ নিজে করতে হয়, কি দুর্ভাগ্য। তুইও আয়।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি কি অসুবিধার কারণ হব না?&quot; বোতল সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞেস করল, মনে মনে সে প্রলোভন এড়াতে চাইছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তুই বাধা হবি না, ভাই&quot; স্যার ইউস্টেস বললেন। &quot;আমি কাগজপত্রগুলো সই করিয়ে চলে যাব। এমন সুযোগ দেওয়ার জন্য তোর উচিত আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া। ঠিক আছে। আমরা একসঙ্গে ডিনার করব এবং তারপর গ্রোসভেনর স্ট্রিটে যাব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল রাজি হয়ে গেল। যদি সে ঘুণাক্ষররেও তার ভাইয়ের মাথায় ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা ছোট্ট পরিকল্পনাটি জানতে পারতো তাহলে হয়তো এত সহজে রাজি হত না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;গতকাল যখন তার প্রাক্তন প্রেমিক অনিচ্ছাসহকারে ডিনারের জন্য প্রস্তুত হতে গেল, ম্যাডেলিন ক্রস্টন বসে ভাবতে লাগল। যদিও তার ভাবনা পুরোপুরি সন্তোষজনক ছিল না। বোতলকে দেখে খুব ভালো লেগেছিল আর তার দীর্ঘস্থায়ী প্রেমের আবেগজনিত স্বীকারোক্তি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, এমনকি তার নিজের হৃদয়েও একটা অনুরণন জাগিয়েছিল।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ভাবতেই গর্ববোধ হচ্ছিল যে এই মানুষটি—যে কিনা তার কদর্যতা ও বিশ্রী ভাব সত্ত্বেও তার প্রবল অনুভূতির উপর ভিত্তি করে তার প্রতি ভালোবাসা কোনোদিন হারায়নি। বেচারা বোতল! একসময় সে তাকে খুব পছন্দ করত। তারা একসাথে বড় হয়েছিল, আর যখন নিজের দায়িত্ব এবং পরিবারকে ভেবে সে তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, তখন সত্যিই তার মন ভেঙেছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আজ সন্ধ্যায় বসে সে মনে করছিলো, সিদ্ধান্তটা কি সত্যিই সঠিক ছিল? যদি সে তার প্রেমিকের পাশে থেকে জীবন সংগ্রামে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে জীবনের রং কি আরও উজ্জ্বল এবং সুখী হতো না? এখন সে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল, যদিও সে তার স্বামীকে পছন্দ করত না তবে সামগ্রিকভাবে সে ভালো সময় কাটিয়েছিল, প্রচুর অর্থ উপভোগ করেছিল এবং অর্থের সাথে আসা ক্ষমতা ভোগ করেছিল। তার পরিণত বয়সের জ্ঞান তার যৌবনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল। বোতলের ব্যাপারে, সে দ্রুতই সেই আবেগ কাটিয়ে উঠেছিল; বছরের পর বছর সে তাকে প্রায় ভুলেই গিয়েছিল যতক্ষণ না স্যার ইউস্টেস তাকে বলেছিলেন যে বোতল ফিরে আসছে এবং তারপর সেই অদ্ভুত স্বপ্নটি দেখেছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখন সে এসে তাকে প্রেম নিবেদন করছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;না, এটা সাধারন কোন নিয়মে নয় বরং আগুন যেমন নিজেকে উজার করে দেয় তেমনি বোতল যেন সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছে—এটা এমন এক অদ্ভুত আর মিশ্র অনুভূতি যেখানে সুখ ও ব্যথা একসাথে ছিল; যখন সে একবার স্প্যানিশ বুলফাইটে একজন মানুষকে ষাঁড়ের শিংয়ের গুঁতো খেয়ে উড়তে দেখে শিহরিত হয়েছিল, অনেকটা সেরকম অদ্ভুত এবং কিছুটা ভয়ঙ্কর এক অনুভূতি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখন আবার সেই পুরানো প্রশ্ন উঠে এসেছে, কী করা উচিত? দুপুরে সে প্রশ্নটি কোনভাবে এড়িয়েছিলো কিন্তু সে নিশ্চিত যে বোতল তাকে বিয়ে করতে চাইবে। যদি সে রাজি হয়, তাহলে তারা কী দিয়ে জীবনযাপন করবে? তার নিজের আয়? যদি সে আবার বিয়ে করে সেটা চার হাজার থেকে এক হাজার পাউন্ডে নেমে আসবে—এখন চার হাজারে সে হিমশিম খাচ্ছে। আর স্যার ইউস্টেসের কথা মত বোতলের আয় আটশো পাউন্ড। এটা সত্য, সে ব্যারনেট পদবী পাওয়ার পরবর্তী উত্তরাধিকারী কিন্তু স্যার ইউস্টেসকে দেখে ক্ষণজন্মা মনে হয় না আর হয়তো তিনি শেষ পর্যন্ত বিয়েও করতে পারেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কয়েক মিনিটের জন্য লেডি ক্রস্টন ভাবল—আঠারোশো পাউন্ডে কীভাবে জীবনযাপন সম্ভব এবং কেঞ্চিংটনের কোনো ছোট্ট বাড়িতে তার সন্তানদের অভিভাবক হিসেবে আদালত তাকে কী দেবে? শিগগিরই সে বুঝল বোতলকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;স্যার ইউস্টেস যদি তার জন্য কিছু না করেন, তাহলে এটা খুব স্পষ্ট যে আমরা বিয়ে করতে পারব না,&quot; সে নিজেকে বলল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। &quot;তবে এখনই ওকে এটা বলার দরকার নেই, ও তখন শীঘ্রই দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যাবে অথবা অন্য কিছু করে বসতে পারে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ পাঁচ&lt;/h3&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস ও তার ভাই তাদের পরিকল্পনা মতো কাজ করল। তারা একসঙ্গে ডিনার করে রাত প্রায় সাড়ে নয়টার দিকে গ্রোসভেনর স্ট্রিটে পৌঁছাল। সেখানে গম্ভীর ফিসফিসে কণ্ঠের ভৃত্যটি তাদের ড্রয়িং রুমে নিয়ে গেল আর স্যার ইউস্টেসকে জানাল যে লেডি ক্রস্টন ওপরে নার্সারিতে রয়েছেন আর তিনি বার্তা দিয়েছেন, শিগগিরই নামবেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ঠিক আছে, কোনো তাড়া নেই,&quot; স্যার ইউস্টেস অন্যমনস্কভাবে বললেন। দাসী নিচে চলে গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল নার্ভাস ভঙ্গিতে ঘরে এদিক-ওদিক ঘুরঘুর করছিল আর তার ভাই একেবারে স্বাচ্ছন্দ্যে চিন্তামগ্ন হয়ে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে চারিদিক তাকাচ্ছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল নীল মখমলের পর্দার দিকে যেটা ড্রয়িং রুমকে বড় হলরুম থেকে আলাদা করে রেখেছে—ম্যাডেলিনের বিধবা হওয়ার পর থেকে সম্ভবত সেটা আর ব্যবহার করা হয় না। তার মাথায় ঘুরঘুর করা একটা ভাবনা হঠাৎ স্পষ্ট রূপ নিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;জর্জ&quot; তিনি দ্রুত নিচু স্বরে বললেন, &quot;আমার কথা শোন আর এক মুহূর্তের জন্যও বাধা দিস না। তুই জানিস, আমি লেডি ক্রস্টনকে বিয়ে করার ব্যাপারটা একদম পছন্দ করি না। আমি তাকে তুচ্ছ মনে করি, সে মূল্যহীন—না, দাড়া, বাধা দিস না; আমি শুধু আমার মত বলছি। তুই তাকে বিশ্বাস করিস। তুই মনে করিস, সে তোকে ভালোবাসে আর তোকে বিয়ে করবে। এ বিশ্বাসের পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে, তাই না?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল মাথা নাড়ল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;বেশ। ধর, আমি যদি আধ ঘণ্টার মধ্যে তোকে দেখাতে পারি যে সে অনায়াসেই অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি—যেমন ধর আমাকেই—তাহলেও কি তুই তাকে বিশ্বাস করবি?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতলের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। &quot;এটা অসম্ভব,&quot; সে বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এটা প্রশ্ন নয়। তখনো কি তুই তাকে বিশ্বাস করবি? তাকে বিয়ে করবি?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হায় আল্লাহ! না,&quot; বোতল বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ভালো। তাহলে শোন আমি তোর জন্য কী করব। আর এতে তুই বুঝতে পারবি আমি এ ব্যাপারে কতটা গভীরভাবে ভেবেছি; আমি নিজেকে বলি দেব।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;নিজেকে বলি দেবে মানে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ। আমি আজ সন্ধ্যায়, তোর সামনে, ম্যাডেলিনকে বিয়ের প্রস্তাব দেব। আমি পাঁচ পাউন্ড বাজি ধরে বলছি সে রাজি হবে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;অসম্ভব,&quot; বোতল আবার বলল। &quot;তাছাড়া, সে যদি রাজি হয়, তুমি নিশ্চয়ই তাকে বিয়ে করতে চাইবে না।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;বিয়ে করব? একেবারেই না। আমি পাগল নই। আমাকে যেকোনো উপায়ে এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে—অবশ্য যদি মহিলা সম্পর্কে আমার ধারণা সঠিক হয়।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আচ্ছা ইউস্টেস,&quot; বোতল হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, আমাকে জানতে হবে—সংক্ষেপে, ম্যাডেলিনের সাথে তোমার কি কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কখনোই না,আমার সম্মানের দিব্যি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তবুও গতকাল আমার সাথে যা ঘটেছে তারপরেও তুমি ভাবছো যদি তুমি তাকে প্রস্তাব দাও সে তোমাকে বিয়ে করবে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কেন?&#39;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কারণ, ভাই,&quot; স্যার ইউস্টেস একটা বিদ্রুপাত্মক হাসি দিয়ে বললেন, &quot;বছরে আমার আয় আট হাজার পাউন্ড আর তোর মাত্র আটশো। আমার একটা উপাধি আছে, তোর কিছুই নেই। নিঃসন্দেহে তুই আমার চেয়ে ভালো মানুষ কিন্তু সেটা এই ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারবে না।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল হাতের ইশারায় তার ভাইয়ের এই ভদ্রতাপূর্ণ প্রশংসা উড়িয়ে দিল, তারপর মুখ শক্ত করে তার দিকে ফিরল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না, ইউস্টেস,&quot; সে বলল। ম্যাডেলিনকে তুমি অপমান করছ অথচ গতকাল আমাকে চুমু খেয়ে বলেছে সে আমাকে ভালোবাসে—আর আজই তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস কাঁধ ঝাঁকালেন। &quot;আমার মনে হয়, এই মহিলা আগেও এরকম কিছু করেছে, জর্জ।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সেটা বহু বছর আগে চাপের মুখে করেছে। এখন ইউস্টেস, তুমি এই অভিযোগ তুলেছ; তুমি ম্যাডেলিনের প্রতি আমার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছ, যাকে আমি বিয়ে করতে চাই। আমি বলছি, প্রমাণ করো—যদি পারো, প্রমাণ করো। আমি আমার জীবন বাজি রেখে বলছি, তুমি পারবে না।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;উত্তেজিত হোস না, ভাই,&quot; স্যার ইউস্টেস বললেন। &quot;আর বাজি ধরার কথা বললে, আমি পাঁচ পাউন্ডের বেশি ঝুঁকি নেব না। এখন দয়া করে ওই মখমলের পর্দার পেছনে গিয়ে দাঁড়া আর চুপচাপ আমার আর লেডি ক্রস্টনের কথাবার্তা শোন। সে জানে না যে তুই এখানে আছিস, তাই তোর উপস্থিতি টের পাবে না। যখন তুই যথেষ্ট শুনে ফেলবি, তখন ইচ্ছে করলে পালাতে পারিস—ওই পর্দার পেছনে সিঁড়ির দিকে একটা দরজা আছে, আমরা যখন উঠছিলাম, আমি লক্ষ্য করেছি সেটা একটু খোলা ছিল। অথবা, ইচ্ছে করলে ক্রুদ্ধ স্বামীর মতো পর্দার আড়াল থেকে মঞ্চে উপবিষ্ট হয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী যে ভূমিকা দরকার সেটা পালন করতে পারিস। আসলেই পরিস্থিতিটা একটু হাস্যকর। আমিও যদি পর্দার পেছনে থাকতাম, খুব মজা পেতাম। যা, ভেতরে যা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল দ্বিধা করল। &quot;আমি লুকোব না,&quot; সে বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;বাজে কথা! ভেবে দেখ, এটার ওপর কত কিছু নির্ভর করছে। প্রেম আর যুদ্ধে সবই জায়েজ। তাড়াতাড়ি কর, ওই যে সে আসছে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল ঘাবড়ে গিয়ে ঠিক কি করতে যাচ্ছে তা না বুঝেই শেষ পর্যন্ত রাজি হল। পরক্ষণেই সে অন্ধকার ঘরে পর্দার পেছনে চলে গেল, যেখান থেকে পর্দার ফাঁক দিয়ে সামনের আলোকিত দৃশ্যটা দেখা যাচ্ছিলো। স্যার ইউস্টেস আগুনের সামনে নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে ভাবতে লাগলেন, তার ভাইকে এই আত্মঘাতী বাগদান থেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজেই বেশ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন। যদি ম্যাডেলিন তাকে গ্রহণ করে, তাহলে তার ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে, সম্ভবত এই মহিলার হাত থেকে বাঁচতে তাকে বিদেশে পালাতে হবে; আর যদি ম্যাডেলিন তাকে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তিনি বোকা সাজবেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এদিকে ম্যাডেলিন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছিলো আর সাথে তার পোশাকের ঝিরঝির শব্দ ক্রমশ জোরাল হচ্ছিল। পরক্ষণেই সে ঘরে ঢুকল। রূপালি-ধূসর রেশমি পোশাকে তাকে অপূর্ব সুন্দরী দেখাচ্ছিল, কালো লেসের প্রচুর কারুকাজে সাজানো, সামনে-পিছনে চৌকো কাটা যাতে তার গোলাকার কাঁধ দুটো দেখা যায়। সে কোনো গয়না পরেনি—এমন মহিলা খুব কমই আছে যাকে গয়না ছাড়াই এত সুন্দর লাগে। শুধু তার পোশাকের সামনে একটা লাল ক্যামেলিয়া ফুল পিন করা ছিল, সেটাকে নিশ্চয় গয়না বলা যায় না। পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে লজ্জায় আর সন্দেহে কাঁপতে কাঁপতে বোতল সেই লাল ক্যামেলিয়ার দিকে তাকাল, এটা তাকে কী যেন একটা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎ একঝটকায় মনে পড়ে গেল অনেক বছর আগেকার সেই দৃশ্য—দূর নাটালের এক বারান্দায় হাতে একটা খোলা চিঠি নিয়ে সে বসে আছে, আর তার চোখের সামনে ফুলে ভরা একটা ক্যামেলিয়া গাছ। ম্যাডেলিনের বুকের ক্যামেলিয়া ফুলটি তার কাছে অশুভ লক্ষণ বলে মনে হল। পরক্ষণে ম্যাডেলিন কথা বলা শুরু করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ওহ, স্যার ইউস্টেস, আমি আপনার কাছে হাজারবার ক্ষমা চাইছি। আপনি নিশ্চয়ই এখানে দশ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছেন, কারণ আপনি আসার সময় আমি সদর দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনেছি। কিন্তু আমার ছোট মেয়ে এফির গলা ব্যথা আর জ্বর এসেছে, উপরন্তু আমার হাত না ধরে সে কিছুতেই ঘুমোতে রাজি হচ্ছিলো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ভাগ্যবতী এফি,&quot; স্যার ইউস্টেস অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, আমি তার এই আবদার পুরোপুরি বুঝতে পারি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে মুহূর্তে তিনি নিজেই ম্যাডেলিনের হাত ধরে ছিলেন, আর কথাগুলোর ওপর জোর দেওয়ার জন্য হাত ছাড়ার সময় মৃদু চাপ দিলেন। কিন্তু তার এই অভ্যাসের কথা জানা থাকায় ম্যাডেলিন তেমন গুরুত্ব দিল না। স্যার ইউস্টেস যখন কারো সঙ্গে হাত মেলান, তখন অনেক সময় অপরিচিতরা বুঝতে পারে না তিনি বিয়ের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন নাকি আবহাওয়া নিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছেন। কিন্তু হায়! সবসময়ই শেষ পর্যন্ত আবহাওয়ার কথাই হতো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এছাড়াও আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এসেছি, আর ব্যবসায়ীরা তো অপেক্ষা করতে অভ্যস্ত&quot; তিনি বলে চললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আপনি সত্যিই খুব ভালো, স্যার ইউস্টেস, আমার কাজকর্মের জন্য এত কষ্ট করছেন।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এটা আমার জন্য আনন্দের, লেডি ক্রস্টন।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আহ, স্যার ইউস্টেস, আপনি কি মনে করেন আমি এটা বিশ্বাস করব?&quot; তার পাশে দাঁড়ানো উজ্জ্বল ম্যাডেলিন হেসে বলল। &quot;কিন্তু আমি উকিলদের কতটা ঘৃণা করি আর আপনি কষ্ট করে আমাকে কী থেকে রেহাই দিচ্ছেন সেটা যদি জানতেন, নিশ্চয়ই আপনার সময় দিতে কার্পণ্য করতেন না।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এসব কথা বোলো না, লেডি ক্রস্টন। আমি তোমার জন্য এর চেয়ে অনেক বেশি করতে পারি,&quot; এখানে তিনি গলা একটু নামিয়ে বললেন, &quot;আসলে, ম্যাডেলিন, তোমার জন্য এমন কিছুই নেই যা আমি করতে পারি না।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাডেলিন তার নাজুক ভ্রু দুটো তুলল যেন সেগুলো প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো দেখাল, তার মুখে হালকা লজ্জার রঙ ফুটল। স্যার ইউস্টেসের এই ধরনের কথা তার কাছে একেবারেই নতুন। তিনি কি সত্যি বলছেন? ম্যাডেলিন ভাবল। না, এটা অসম্ভব!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এখন ব্যবসার কথায় আসি,&quot; তিনি এগিয়ে গেলেন, &quot;যদিও খুব বেশি কিছু নয় তবে আমার বোঝা মতো, আপনাকে শুধু এই কাগজে সই করতে হবে, যেটায় আমি ইতিমধ্যে সাক্ষী হিসেবে সই দিয়েছি; তাহলেই শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে।”&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেসের একটা বড় খামে করে আনা কাগজে প্রায় না দেখেই ম্যাডেলিন সই করে দিল, তার মন তখনও ইউস্টেসের আগের কথায় আটকে ছিল। সই করে সে কাগজটা আবার খামে ভরে রাখলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এইটুকুই, স্যার ইউস্টেস?&quot; সে জিজ্ঞেস করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, এইটুকুই। আমার কর্তব্য যেহেতু শেষ, তাই এখন মনে হয় আমার চলে যাওয়া উচিত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আল্লাহর দোহাই, সে চলে যাক!&quot; পর্দার পেছনে বোতল নিজের মনে গজগজ করল। তার ভাইয়ের এই আদুরে আচরণ আর ম্যাডেলিনের সেটা মেনে নেয়া তার মোটেও পছন্দ হচ্ছিল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;না, না, আপনি বরং বসুন আর আমার সঙ্গে গল্প করুন—অবশ্য যদি আপনার এর চেয়ে আনন্দদায়ক কিছু করার না থাকে,&quot; ম্যাডেলিন বলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেসের তৎক্ষণাৎ প্রশংসাসূচক উত্তর আর ম্যাডেলিনের হাসিমুখে সেটা গ্রহণ করার দৃশ্য আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি। সে একটা নিচু চেয়ারে বসল—ঠিক সেই চেয়ারে, যেখানে সে গতকালও বসেছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এবার তাহলে শুরু করা যাক,&quot; স্যার ইউস্টেস মনে মনে বললেন। &quot;জর্জ এখন কী করছে কে জানে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমার ভাই বলছিল, সে গতকাল তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল,&quot; তিনি শুরু করলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ,&quot; ম্যাডেলিন আবার হেসে জবাব দিল, কিন্তু মনে মনে ভাবল সে তাকে কতটুকু বলেছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সে খুব বদলে গেছে—এরকম কি মনে হয়েছে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;না, তেমন কিছু নয়।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;তোমরা তো একসময় পরস্পরকে খুব ভালোবাসতে, যদি ঠিক মনে থাকে?&quot; তিনি বললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, একসময়।&quot; ম্যাডেলিন উত্তর দিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি প্রায়ই ভাবি, এটা কত অদ্ভুত,&quot; স্যার ইউস্টেস চিন্তিত স্বরে বলে চললেন, &quot;সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত রকম পরিবর্তন আসে, বিশেষ করে ভালোবাসার ক্ষেত্রে। সমুদ্র সৈকতে শিশুরা বালির ছোট ছোট ঢিবি তৈরি করে, আর যদি তারা খুব ছোট হয়, তাহলে তারা ভাবে কালও এই ঢিবিগুলো ঠিক এখানেই থাকবে; কিন্তু তারা জোয়ারের কথা ভাবে না। আগামীকাল বালুগুলো একই রকম সমান হয়ে যাবে, আর ছোট শিশুদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আমাদের যৌবনের প্রেমের ব্যাপারগুলোও এরকমই, তাই না? সময়ের জোয়ার এসে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়, আর সেটা আমাদের জন্য ভালোই। যেমন তোমার ক্ষেত্রে, আমার মনে হয় তোমাদের দুজনের জন্যই ভালো হয়েছে যে তোমাদের সেই বালির ঘর টিকে থাকেনি। তাই না?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাডেলিন মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলল। &quot;হ্যাঁ, বোধহয় তাই,&quot; সে উত্তর দিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পর্দার আড়ালে দাঁড়ানো বোতল দ্রুত অতীতের কথা মনে করল, আর তার মনে হল এর উত্তর একেবারেই ভিন্ন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;যাক, সেসব তো শেষ হয়ে গেছে,&quot; স্যার ইউস্টেস হালকা গলায় বললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাডেলিন তার কথার প্রতিবাদ করল না; এই মুহূর্তে সেটা করার উপায়ও দেখতে পাচ্ছিল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারপর একটা নীরবতা নেমে এল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ম্যাডেলিন,&quot; স্যার ইউস্টেস কিছুক্ষণ পরে গলার স্বর বদলে বললেন, &quot;তোমার সাথে কিছু কথা আছে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সত্যিই, স্যার ইউস্টেস,&quot; সে আবার প্রশ্নবোধক ভাবে ভ্রু তুলে জবাব দিল, &quot;কী কথা?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ব্যাপারটা হল, ম্যাডেলিন—আমি চাই তুমি আমার স্ত্রী হও।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নীল মখমলের পর্দা হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি দিল, যেন কোনো আধ্যাত্মিক সভায় অংশ নিচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;স্যার ইউস্টেস সতর্ক চোখে পর্দার দিকে তাকালেন। ম্যাডেলিন কিছু দেখল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সত্যিই, স্যার ইউস্টেস!&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি জানি এটা তোমাকে অবাক করছে,&quot; এই উত্সাহী প্রেমিক বলে চললেন, “&quot;আমার প্রস্তাব হয়তো হঠাৎ মনে হচ্ছে, কিন্তু আসলে তা নয়।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হায় আল্লাহ, কী মিথ্যে কথা!” পর্দার আড়ালে বিপর্যস্ত বোতল নিজের মনে গোঙাল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমার মনে হয়েছিল, স্যার ইউস্টেস,&quot; ম্যাডেলিন তার মিষ্টি নীচু গলায় বলল, &quot;আপনি তো কিছুদিন আগেই বলেছিলেন যে আপনি কখনো বিয়ে করবেন না।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ঠিকই ম্যাডেলিন, কারণ আমি ভেবেছিলাম&amp;nbsp; তোমাকে বিয়ে করার কোনো সম্ভাবনা নেই&quot; (তিনি মনে মনে বললেন, &quot;যদিও এখনো আমি সেটাই মনে করি।&quot;) &quot;কিন্তু—কিন্তু, ম্যাডেলিন, আমি তোমাকে ভালোবাসি।&quot; (তিনি ভাবলেন, &quot;আল্লাহ আমাকে এই মিথ্যের জন্য ক্ষমা করুন!&quot;) &quot;ম্যাডেলিন, জবাব দেওয়ার আগে আমার কথা শোনো,&quot; তিনি তার চেয়ারটা ম্যাডেলিনের কাছাকাছি টেনে এনে বললেন। &quot;আমি আমার একাকিত্ব অনুভব করি, আর আমি বিয়ে করতে চাই। মনে হয় আমরা একসাথে ভালো থাকব। আমাদের এই বয়সে আমরা কেউই হয়তো আমাদের চেয়ে অনেক কম বয়সী কাউকে বিয়ে করতে চাইব না। ম্যাডেলিন, তোমার চরিত্রের সৌন্দর্য দেখার অনেক সুযোগ পেয়েছি আর তোমার রূপের সৌন্দর্য কোনো পুরুষের চোখ এড়াতে পারে না। আমি তোমাকে দিতে পারি ভালো অবস্থান, ভালো সম্পত্তি, আর আমি নিজে, যেমনই হই না কেন। তুমি কি আমাকে গ্রহণ করবে?&quot; তিনি ম্যাডেলিনের হাতে হাত রেখে তার চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকালেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;সত্যিই, স্যার ইউস্টেস,&quot; ম্যাডেলিন মৃদু স্বরে বলল, &quot;এটা খুবই অপ্রত্যাশিত আর হঠাৎ।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, ম্যাডেলিন, আমি জানি। এভাবে ঝড়ের মতো আসার কোনো অধিকার আমার নেই, কিন্তু আশা করি আমার এই তাড়াহুড়োটা আমার বিপক্ষে যাবে না। একটু ভেবে দেখার সময় নাও—ধরো এক সপ্তাহ&quot; (&quot;ততদিনে,&quot; তিনি মনে মনে ভাবলেন, &quot;আমি আলজিয়ার্সে থাকব।&quot;) &quot;শুধু, যদি পারো, ম্যাডেলিন, আমাকে বলো যে আমি আশা রাখতে পারি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ম্যাডেলিন তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দিল না বরং হাত দুটো কোলে ফেলে রেখে সোজা সামনে তাকিয়ে রইল। তার সুন্দর চোখ দুটো শূন্যে স্থির, আর মন পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়ল পরিস্থিতির ভালো-মন্দ বিবেচনায়। তখন স্যার ইউস্টেস সাহস পেলেন; নিচু হয়ে তিনি ম্যাডেলিনকে চুমু খেলেন। তবু কোনো প্রতিক্রিয়া এল না। শুধু খুব আলতো করে সে তাকে ঠেলে দিয়ে ফিসফিস করে বলল:&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, ইউস্টেস, মনে হয় তোমাকে বলতে পারব যে তুমি আশা রাখতে পারো।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;বোতল আর দেখতে পারল না। দাঁতে দাঁত চেপে, দু চোখে আগুন আর ভাঙা মন নিয়ে সিঁড়ির দরজা দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে হলঘরে পৌঁছল। দেয়ালের পেরেকে ঝুলছিল তার হ্যাট আর কোট; সেগুলো নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি একটা লজ্জাজনক কাজ করেছি,&quot; সে মনে মনে ভাবল, &quot;আর তার মাশুলও দিয়েছি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দরজা বন্ধ হওয়ার হালকা শব্দও স্যার ইউস্টেস শুনতে পেলেন; তারপর তিনিও ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। মৃদু গলায় বললেন, &quot;আমি শীঘ্রই আমার উত্তরের জন্য ফিরে আসব, ম্যাডেলিন।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;রাস্তায় পৌঁছানোর পর দেখলেন তার ভাই চলে গেছে।&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;চলবে.................&lt;/p&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5964006906615703329'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5964006906615703329'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2025/07/the-blue-curtains.html' title='হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর দ্য ব্লু কার্টেনস (The Blue Curtains) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEihQFoSurM-RYpaD89rUTGhtoLqJUvKSUEmXE0M8NvHBwedmRinme6jJ2KOY6NH548cP4pQ-gtmGv_6bw1mfzjFM9iT3O-zQQALZBQVSwVp9doeezzH9VwsixOXbOfRFDCM7w9-ScEbnM_KEplaLN_NKeOuxPZdFu649IVYFigvEsX8P1GdhA-z5MdMAvw/s72-w557-h697-c/the%20blue%20curtains%20cover.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-5146829703961569420</id><published>2025-06-16T04:06:00.000-07:00</published><updated>2025-06-22T01:12:21.958-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="অনুবাদ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="অ্যামব্রোজ বিয়ার্স"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="রূপান্তর"/><title type='text'>অ্যামব্রোজ বিয়ার্স এর অ্যান অকারেন্স অ্যাট আউল ক্রিক ব্রিজ (An Occurrence at Owl Creek Bridge) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgNa3zaSjT21CY5Oynp86fKVayZhzQLvYLttHchbUR4F6MWAgw7YUpiUK6vdbmGo11IjoO2UwSkirLOL4zDcmWbjDgtvFMtsSJ5TBOJRBY9TaugjhfG7XUTmkNMNdYFoUIKY8s8-7t7fNwp02d72G-ryo7d8unpco5jXFPEaxRvD9AXSy9Rj4wJHSWsTTI/s1120/An%20Occurrence%20at%20Owl%20Creek%20Bridge.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;719&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgNa3zaSjT21CY5Oynp86fKVayZhzQLvYLttHchbUR4F6MWAgw7YUpiUK6vdbmGo11IjoO2UwSkirLOL4zDcmWbjDgtvFMtsSJ5TBOJRBY9TaugjhfG7XUTmkNMNdYFoUIKY8s8-7t7fNwp02d72G-ryo7d8unpco5jXFPEaxRvD9AXSy9Rj4wJHSWsTTI/w575-h719/An%20Occurrence%20at%20Owl%20Creek%20Bridge.png&quot; width=&quot;575&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অ্যামব্রোজ গুইনেট বিয়ার্স ছিলেন একজন আমেরিকান ছোটগল্প লেখক, সাংবাদিক, কবি এবং আমেরিকান সিভিল ওয়ারের সৈনিক। তার বিখ্যাত গল্প &quot;অ্যান অকারেন্স অ্যাট আউল ক্রিক ব্রিজ&quot; প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালের ১৩ই জুলাই দ্য সান ফ্রান্সিসকো এক্সামিনার পত্রিকায় এবং পরে &quot;টেলস অফ সোলজার্স অ্যান্ড সিভিলিয়ান্স&quot; (১৮৯১) সংকলনে এটি স্থান পায়। এই সংকলনটি দুটি ভাগে বিভক্ত—&quot;সোলজার্স&quot; এবং &quot;সিভিলিয়ান্স&quot;। এই নির্দিষ্ট গল্পটি &quot;সোলজার্স&quot; অংশের অন্তর্ভুক্ত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;____________________&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h2 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;অ্যান অকারেন্স অ্যাট আউল ক্রিক ব্রিজ&lt;/h2&gt;&lt;h4 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;— অ্যামব্রোজ বিয়ার্স&lt;/h4&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ এক&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমেরিকার উত্তর আলাবামার এক রেলসেতুর উপর দাঁড়িয়ে একজন লোক তার নিচের বিশ ফুট দূরে দ্রুত প্রবাহমান পানির দিকে তাকিয়ে ছিল। লোকটির হাত পিছনে নিয়ে কব্জিগুলো দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। তার গলায় শক্ত করে পেঁচানো একটি দড়ি যা তার মাথার উপরকার একটি মোটা ক্রসবারের সাথে যুক্ত এবং দড়ির ঢিলে অংশ তার হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রেললাইনের ওপর রাখা কিছু আলগা তক্তা দিয়ে তার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারীদের জন্য দাঁড়ানোর জায়গা তৈরি করা হয়েছে। বেসামরিক জীবনে ডেপুটি শেরিফ হিসেবে কর্মরত থাকা একজন সার্জেন্ট, ফেডারেল সেনাবাহিনীর দুইজন প্রাইভেট সৈনিককে বিভিন্ন নির্দেশ দিচ্ছিলেন। একই অস্থায়ী প্ল্যাটফর্মে কিছুটা দূরে বিশেষ পদমর্যাদার ইউনিফর্ম পরিহিত একজন সশস্ত্র অফিসার দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি একজন ক্যাপ্টেন। সেতুর দুই প্রান্তে একজন করে প্রহরী তাদের রাইফেল তাক করে দাঁড়িয়ে ছিল অর্থাৎ বাম কাঁধের সামনে উল্লম্বভাবে, রাইফেলের হাতল সোজা বুকের উপর প্রসারিত বাহুর উপর রাখা—এটি একটি আনুষ্ঠানিক ও অস্বাভাবিক ভঙ্গি যা দেহকে সম্পূর্ণ সোজা রাখতে বাধ্য করে। সেতুর দুই প্রান্ত অবরোধ করে রাখাই তাদের দায়িত্ব—মাঝখানে কী ঘটছে তা তাদের জানার প্রয়োজন নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একজন প্রহরী ছাড়া আর কাউকে দেখা যাচ্ছিল না; রেললাইনটি সোজা একশ গজ বনের মধ্যে চলে গিয়ে বাঁক নিয়ে চোখের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেছে। সম্ভবত আরও দূরে কোনো আউটপোস্ট ছিল। নদীর অপর পাড়ে খোলা মাঠের মধ্যে ঢালের ওপরে খাড়াখাড়ি গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি একটি বেড়া যার মধ্যে রাইফেলের লুপহোল করা আর একটি মাত্র ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আছে সেতুর দিকে তাক করা পিতলের কামানের নল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কৌতূহলী দর্শকরা সেতু ও দুর্গের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। পদাতিক বাহিনীর একটি দল প্যারেড রেস্ট অবস্থায় রাইফেলের বাট মাটিতে; ব্যারেলগুলি ডান কাঁধের উপর পিছনে হেলান দিয়ে আর হাতগুলো স্টকের উপর আড়াআড়ি রেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সারির ডানদিকে বাম হাত ডান হাতের উপর আর তলোয়ারের ডগা মাটিতে গেঁথে একজন লেফটেন্যান্ট দাঁড়িয়ে আছেন। সেতুর মাঝখানে থাকা চারজন ছাড়া একটি মানুষও নড়ছিল না। সমস্ত জটলা সেতুর দিকে মুখ করে পাথরের মতো স্থির নিস্পলক তাকিয়ে ছিল। নদী পাড়ের দিকে মুখ করে থাকা প্রহরীগুলো মূর্তির মতো নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।&amp;nbsp; ক্যাপ্টেন বাহু গুটিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে অধীনস্থদের কাজ পর্যবেক্ষণ করছিলেন—কোনো সংকেত দিচ্ছিলেন না। মৃত্যু যেন এক মর্যাদাসম্পন্ন অতিথি যার আগমন ঘোষণা করা হলে তাকেও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হয়—এমনকি যারা তার সাথে সবচেয়ে বেশি পরিচিত তারাও। সামরিক শিষ্টাচারের নিয়মে নীরবতা ও নিশ্চলতা হচ্ছে শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যে লোকটির ফাঁসি কার্যকর হতে চলেছিল তার বয়স সম্ভবত পঁয়ত্রিশের মতো। বেশভূষা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি একজন বেসামরিক ব্যক্তি—সম্ভবত একজন চাষী। সোজা নাক, দৃঢ় মুখমণ্ডল ও প্রশস্ত কপালের একজন সুশ্রী পুরুষ। পিছনের দিকে আঁচড়ানো লম্বা কালো চুলগুলো কানের পাশ দিয়ে তার সুবিন্যস্ত ফ্রক কোটের কলার পর্যন্ত নেমে এসেছে। গোঁফ ও সূঁচালো দাড়ি থাকলেও কোন জুলফি নেই। গাঢ় ধূসর বর্ণের বড় বড় চোখ দুটুতে এক সদয় অভিব্যক্তি ফুটে উঠছিল যা সাধারণত ফাঁসির দড়িতে ঝুলন্ত ব্যক্তির মধ্যে আশা করা যায় না। স্পষ্টতই ইনি কোনো সাধারণ খুনি ছিলেন না। উদার সামরিক বিধিমালায় অনেক প্রকারের লোকের ফাঁসির ব্যবস্থা আছে এবং ভদ্রলোকরাও এর বাইরে নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর দুইজন সৈনিক একপাশে সরে দাঁড়িয়ে আলগা তাক্তাগুলো সরিয়ে নিল। সার্জেন্ট ক্যাপ্টেনের দিকে ঘুরে স্যালুট করল এবং সেই অফিসারের ঠিক পিছনে গিয়ে দাঁড়াল। এই গতিবিধির ফলে দণ্ডিত লোকটি এবং সার্জেন্ট একই তক্তার দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে রইল যেটা সেতুর তিনটি আড়াআড়ি কাঠকে সংযুক্ত করে ছিল। বেসামরিক ব্যক্তি যে প্রান্তে দাঁড়িয়েছিল সেটা চতুর্থ ক্রসবার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এই তক্তাটি ক্যাপ্টেনের ওজনে এতক্ষণ স্থির ছিল; এখন সেটি সার্জেন্টের ওজনে স্থির রইল। ক্যাপ্টেনের ইশারায় সার্জেন্ট সরে গেলে তক্তাটি কাত হয়ে যাবে এবং দণ্ডিত লোকটি দুটি ক্রসবারের মাঝখান দিয়ে নিচে পড়ে যাবে। এই ব্যবস্থা তার বিচার অনুযায়ী সহজ এবং কার্যকর মনে হয়েছিল। তার মুখ বা চোখ কোনটাই বাঁধাও হয়নি। সে এক মুহূর্ত তার পায়ের নিচ দিয়ে উন্মত্ত বেগে বয়ে চলা নদীর ঘূর্ণায়মান পানির দিকে তাকাল। কাঁপতে থাকা ভাসমান কাঠের একটি টুকরো তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং তার চোখ স্রোতের সাথে সেটাকে অনুসরণ করল। কত ধীর গতিতে এটি চলছিল! কী অলস স্রোত!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্ত্রী ও সন্তানদের কথা শেষবারের মতো স্মরণ করার জন্য সে চোখ বন্ধ করল। ভোরের সূর্যের স্পর্শে সোনালি হয়ে ওঠা জলরাশি, নদীতীরের কিছু দূরবর্তী স্থানে জমে থাকা ঘন কুয়াশা, কেল্লা, সৈন্যদল, আর সেই ভাসমান কাঠের টুকরো - সবকিছুই তার মনোযোগে বাধা দিচ্ছিল। এবার সে নতুন এক গোলমালের আভাস পেল; প্রিয়জনের স্মৃতির মাঝেই হঠাৎ একটি তীক্ষ্ণ স্পষ্ট ধাতব শব্দ কানে এল—যেন কামারের হাতুড়ি নেহাইয়ের উপর পড়ছে। সে ভাবল এটা কী? খুব দূরে নাকি একেবারে কাছে? যদিও দুটোই মনে হচ্ছিল। শব্দটি মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনির মত ধীরে ধীরে কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে হচ্ছিল। প্রতিবার নতুন শব্দের জন্য সে অধৈর্য হয়ে অপেক্ষা করছিল এবং কেন জানি না—ভয়ে শঙ্কিত হচ্ছিল। নীরবতার বিরতি ক্রমশ দীর্ঘ হতে লাগল; প্রতীক্ষা তাকে পাগল করে তুলছিল। শব্দের ধারাবাহিকতা কমার সাথে সাথে সেটা আরও জোরালো ও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠছিল। এগুলো ছুরির আঘাতের মতো কানে খোঁচা মারছিল; তার মনে হচ্ছিল সে চিৎকার করে উঠবে। আসলে সে তার নিজের ঘড়ির টিকটিক শব্দ শুনছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চোখ খুলে আবার সে নিচের জলরাশির দিকে তাকাল। &quot;যদি হাত ছাড়াতে পারতাম&quot; সে ভাবল, &quot;তাহলে হয়ত ফাঁস খুলে নদীতে ঝাঁপিয়ে পরতাম। ডুব দিয়ে গুলি এড়িয়ে সজোরে সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে পারতাম। তারপর জঙ্গলে ঢুকে বাড়ি পালাতে পারতাম। আল্লাহকে ধন্যবাদ যে আমার বাড়ি এখনও শত্রুদের সীমানার বাইরে; আমার স্ত্রী ও ছোট্ট সন্তানরা এখনও আক্রমণকারীদের শেষ সীমান্তেরও ওপারে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই ভাবনাগুলো সেই দণ্ডিত লোকটির মস্তিষ্কে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো খেলে গেল আর ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যাপ্টেন সার্জেন্টের দিকে ইঙ্গিত করায় সার্জেন্ট একপাশে সরে দাঁড়াল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;div&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ দুই&lt;/h3&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেইটন ফারকুহার ছিলেন আলাবামার একটি প্রাচীন ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের একজন স্বচ্ছল জমিদার। দাসমালিক এবং অন্যান্য দাসমালিকদের মতোই একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন মূল বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দক্ষিণের আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ ভক্ত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এখানে বলা অপ্রয়োজনীয় এমন কিছু জরুরি পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই বীর সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারেননি যে সেনাবাহিনী করিন্থের পতনের মাধ্যমে শেষ হওয়া দুর্ভাগ্যজনক অভিযানে লড়েছিল। এই অগৌরবজনক নিষেধাজ্ঞায় তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন; বস্তুত সৈনিকের বৃহত্তর জীবন ও খ্যাতি অর্জনের সুযোগের জন্য তিনি ব্যাকুল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যুদ্ধের সময় যেভাবে সবার জীবনে সুযোগ আসে—তারও আসবে। এদিকে তিনি যা পারতেন তাই করতেন। দক্ষিণের পক্ষে কোনো কাজই তার কাছে তুচ্ছ ছিল না এবং কোনো দুঃসাহসিক কাজই তার পক্ষে খুব বেশি বিপজ্জনক মনে হতো না যদি তা একজন বেসামরিক ব্যক্তির চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তিনি মনেপ্রাণে একজন সৈনিক ছিলেন এবং আন্তরিকভাবে খুব বেশি দ্বিধা ছাড়াই অন্তত আংশিকভাবে সেই নৃশংস উক্তিতে সম্মতি দিয়েছিলেন যে প্রেম ও যুদ্ধে সবকিছুই ন্যায্য।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এক সন্ধ্যায় ফারকুহার ও তার স্ত্রী তাদের বাড়ির প্রবেশপথের কাছে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলেন। এমন সময় ধূসর পোশাকে একজন সৈনিক ঘোড়ায় চড়ে গেটের কাছে এসে এক গ্লাস পানি চাইল। মিসেস ফারকুহার খুশি মনে নিজ হাতে তাকে পানি দিলেন। তিনি যখন পানি আনতে যাচ্ছিলেন তখন তার স্বামী সেই ধুলোমাখা অশ্বারোহীর কাছে গিয়ে উৎসুকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের খবর জিজ্ঞেস করলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ইয়াঙ্কিরা রেললাইন মেরামত করছে&quot; সৈন্যটি বলল &quot;এবং আরেকটি আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আউল ক্রিক ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে সেটি ঠিকঠাক করেছে এবং উত্তর পাড়ে একটি বেড়া (স্টকেড) তৈরি করেছে। কমান্ডেন্ট এর জারি করা একটি আদেশ সর্বত্র টাঙানো হয়েছে—যাতে ঘোষণা করা হয়েছে যে রেলপথ, সেতু, টানেল বা ট্রেনে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে কোনও বেসামরিক নাগরিক ধরা পড়লে তাকে তৎক্ষণাৎ ফাঁসি দেওয়া হবে। আমি সেই আদেশ দেখেছি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আউল ক্রিক ব্রিজটি এখান থেকে কত দূরে?&quot; ফারকুহার জিজ্ঞেস করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;প্রায় ত্রিশ মাইল।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ক্রিকের এপারে কি কোনও সৈন্যবাহিনী নেই?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;শুধু রেললাইনের উপর আধমাইল দূরে একটা পিকেট পোস্ট, আর সেতুর এ মাথায় একজন প্রহরী।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ধরুন বেসামরিক এবং ফাঁসির ব্যাপারে অভিজ্ঞ একজন লোক—পিকেট পোস্ট এড়িয়ে এবং হয়তো প্রহরীকেও কাবু করতে পারল,&quot; ফারকুহার হেসে বললেন, &quot;তাহলে সে কী করতে পারবে?&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সৈনিক খানিকটা ভেবে বলল &quot;আমি এক মাস আগে সেখানে ছিলাম। দেখেছি গত শীতের বন্যায় সেতুর এ মাথার কাঠের খুঁটির সাথে প্রচুর ভাসমান কাঠ জমে আছে। এখন সেগুলো শুকনো এবং বারুদের মতো জ্বলবে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ততক্ষণে ভদ্রমহিলা পানি নিয়ে এসেছেন, সৈনিকটি তা পান করল। সে বিনীতভাবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার স্বামীকে কিঞ্চিৎ বাউ করে ঘোড়া নিয়ে চলে গেল। এই ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর রাতের অন্ধকারে সেই বাড়ী পেরিয়ে সৈনিকটি যে দিক থেকে এসেছিল সেই উত্তর দিকে চলে গেল। মূলত সে ছিল একজন ফেডারেল গুপ্তচর।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পর্বঃ তিন&lt;/h3&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেইটন ফারকুহার সেতু থেকে সোজা নিচের দিকে পড়তে পড়তে জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন, যেন মরেই গেছেন। মনে হলো যেন বহুযুগ পরে এই অবস্থা থেকে তিনি জেগে উঠলেন। গলায় এক তীব্র ব্যথা এবং এর পরে শ্বাসরোধের অনুভূতি হলো। তীব্র, তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা তার গলা থেকে শরীরের প্রতিটি তন্তু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে নেমে যেতে লাগল। এই ব্যথাগুলো স্পষ্ট শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত পথ ধরে বিদ্যুতের মতো ছুটে বেড়াচ্ছিল এবং অবিশ্বাস্য গতিতে স্পন্দিত হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন জ্বলন্ত আগুনের স্রোত তাকে অসহনীয় তাপমাত্রায় পুড়িয়ে দিচ্ছে। মাথার ভেতর রক্ত জমাট বাঁধার মতো এক ধরনের শিরশির অনুভূতি হচ্ছিল। এই অনুভূতিগুলোর সাথে কোন চিন্তা জড়িত ছিল না। তার বুদ্ধিবৃত্তিক অংশ ইতিমধ্যেই লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; তার কেবল অনুভব করার ক্ষমতা অবশিষ্ট ছিল আর তা ছিল এক ভয়াবহ যন্ত্রণা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তিনি নিজের গতিবিধি উপলব্ধি করতে পারছিলেন। এক উজ্জ্বল মেঘে আবৃত হয়ে তার জ্বলন্ত হৃদয় অকল্পনীয়ভাবে একটি বিশাল পেন্ডুলামের মতো দুলছিলো। তারপর হঠাৎ এক ভয়াবহ আকস্মিকতায় তার চারপাশের আলো একটি জোরে ছপাঁছ শব্দ করে উপরের দিকে ছুটে গেল; তৎক্ষণাৎ তার কানে ভেসে এল এক ভয়ঙ্কর গর্জন—তারপর সবকিছু ঠাণ্ডা ও অন্ধকারে ঢেকে গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;চিন্তার ক্ষমতা ফিরে এলে বুঝতে পারলেন যে তিনি দড়িটি ছিঁড়ে নদীতে পরে গেছেন। অতিরিক্ত কোন শ্বাসরোধ হচ্ছিল না; তার গলার ফাঁস ইতিমধ্যেই তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছিল এবং ফুসফুসে পানি ঢুকতে বাঁধা দিচ্ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নদীর তলায় ফাঁসিতে মরা!—ব্যাপারটা তার কাছে হাস্যকর মনে হলো। তিনি অন্ধকারে চোখ খুলে উপরে এক ঝলক আলো দেখতে পেলেন কিন্তু কত দূরে আর কতই না দুর্গম! তিনি তখনও ডুবে চলেছেন কারণ আলো ক্রমশ ম্লান হয়ে হয়ে শুধু একটা ক্ষীণ আভায় পরিণত হলো। তারপর আলো আবার বাড়তে ও উজ্জ্বল হতে শুরু করল এবং বুঝতে পারলেন যে তিনি পানির উপরের দিকে উঠছেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ফাঁসিতে ঝুলে ডুবে মারা&quot; তিনি ভাবলেন &quot;এটা তেমন খারাপ না; কিন্তু গুলি খেয়ে মরতে চাই না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;না; গুলি খেতে চাই না; এটা ন্যায়সঙ্গত হবেনা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যদিও তিনি সচেতনভাবে কোন চেষ্টাই করছিলেন না কিন্তু কবজিতে তীব্র ব্যথা জানিয়ে দিল যে তিনি অবচেতনভাবে হাত মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। বাঁধন খুলতে পারবেন কি পারবেন না এই ফলাফলের ব্যাপারে চিন্তা না করেই তিনি হাত মুক্ত করার কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কী দুর্দান্ত প্রয়াস!—কী চমৎকার, কী অতিমানবীয় শক্তি!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আহ, এটা ছিল এক দারুণ প্রচেষ্টা! শাবাশ!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দড়িটি খুলে গেল; তার বাহুগুলো আলাদা হয়ে উপরে ভাসল। ক্রমবর্ধমান আলোয় হাত দুটি অস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। নতুন আগ্রহ নিয়ে তিনি দুই হাত দিয়ে গলায় ফাঁসের দড়ি খুলতে লাগলেন। কিছুক্ষণের প্রচেষ্টায় সেটা ছিঁড়ে গেল এবং তিনি সজোরে সেটাকে দূরে ছুড়ে মারলেন। দড়িটাকে তখন জলসাপের মত দেখাচ্ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এটাকে ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও!&quot; মনে হলো তিনি হাত দুটোর দিকে চিৎকার করে এই কথা বললেন কারন ফাঁসটি খোলার পরেই তিনি জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা অনুভব করলেন। তার গলা ভয়ানকভাবে ব্যথা করতে লাগল; মগজ জ্বলছিল আর মৃদুভাবে স্পন্দিত হৃদয় একটা বিশাল লাফ দিয়ে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার সমস্ত শরীর এক অসহনীয় যন্ত্রণায় মোচড় দিচ্ছিল! কিন্তু তার অবাধ্য হাত দুটো আদেশের তোয়াক্কা করল না। তারা দ্রুত নিচের দিকে স্ট্রোক দিয়ে প্রবলভাবে পানিতে আঘাত করে তাকে উপরের দিকে ঠেলে দিল। অবশেষে মাথা ভেসে উঠলো; মনে হলো প্রবল সূর্যালোক চোখ ঝলসে দিয়েছে। তার বুক কাঁপতে লাগল আর সর্বোচ্চ যন্ত্রণায় তার ফুসফুস বিশাল এক শ্বাস নিল যা তৎক্ষণাৎ এক চিৎকারে বের করে দিল!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার শারীরিক ইন্দ্রিয়গুলো এখন পুরোপুরি সচেতন হয়ে উঠেছে। বরং সেগুলো অস্বাভাবিক রকমের তীক্ষ্ণ আর সতর্ক হয়ে গেছে। তার শরীরের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে এমন কিছু ঘটেছে যা তাঁর ইন্দ্রিয়গুলিকে এতটাই উন্নত ও পরিশীলিত করেছে যে তারা এমন সব জিনিসের রেকর্ড রাখছিল যা আগে কখনো অনুভূত হয়নি। তিনি তার মুখে ঢেউয়ের স্পর্শ অনুভব করতে পারছেন এমনকি প্রতিটি ঢেউ আঘাত করার আলাদা আলাদা শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি নদীতীরের বনভূমির দিকে তাকিয়ে প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পাতার শিরা-উপশিরা—এমনকি পাতার উপর বসে থাকা কীটপতঙ্গগুলোও দেখতে পেলেন। সেখানে রয়েছে পঙ্গপাল, চকচকে শরীরের মাছি এবং ধূসর রঙের মাকড়সাগুলো ডাল থেকে ডালে তাদের জাল বুনছিল। এইতো লক্ষ কোটি ঘাসের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুর রংধনুর মতো রং তিনি দেখতে পাচ্ছেন। নদীর ঘূর্ণায়মান পানিতে নেচে বেড়ানো মশার গুঞ্জন, ফড়িংদের ডানার ঝাপটানি, নৌকার দাঁড় টানা শব্দের মত জলমাকড়শার সাঁতার—এ সবই তাঁর কানে শ্রুতিমধুর সুরের মতো বাজছিল। একটি মাছ তাঁর চোখের সামনে দিয়ে সাঁতার কাটল এবং মাছের দেহে জল কাটার শব্দ তিনি শুনতে পেলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নদীর স্রোতের দিকে মুখ করে তিনি যখন পানির উপর ভেসে উঠলেন মুহূর্তের মধ্যেই দৃশ্যমান জগতটি ধীরে ধীরে ঘুরতে লাগল যেন তিনিই সেই ঘূর্ণনের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি দেখতে পেলেন সেই সেতু, কেল্লা, সেতুর উপর দাঁড়ানো সৈন্যরা, ক্যাপ্টেন, সার্জেন্ট, দুজন প্রহরী—যারা তাঁর ফাঁসির দায়িত্বে ছিল। নীল আকাশের পটভূমিতে তাদের অবয়ব কালো ছায়ার মতো দেখাচ্ছে। তারা তাঁর দিকে আঙুল তুলে চিৎকার ও ইশারা করছিল। ক্যাপ্টেন তার পিস্তল বের করেছিলেন কিন্তু গুলি করেননি; বাকিরা নিরস্ত্র ছিল। তাদের নড়াচড়া ছিল উদ্ভট ও ভয়ঙ্কর।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎ একটি তীক্ষ্ণ গুলির শব্দ শুনে তিনি চমকে উঠলেন এবং কিছু একটা তাঁর মাথার কয়েক ইঞ্চি কাছেই পানিতে সজোরে আঘাত করে তাঁর মুখে জলকণা ছিটিয়ে দিল। দ্বিতীয় গুলির শব্দ শুনে তিনি দেখলেন সেতুর এক প্রান্তে একজন প্রহরী রাইফেল কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং রাইফেলের নল থেকে নীল ধোঁয়ার একটি হালকা মেঘ উঠছে। তিনি দেখলেন সেতুর উপর দাঁড়ানো লোকটি রাইফেলের টার্গেটের মাধ্যমে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি লক্ষ্য করলেন সেটা একটি ধূসর রঙের চোখ এবং তাঁর মনে পড়ল তিনি পড়েছিলেন যে ধূসর চোখই সবচেয়ে তীক্ষ্ণ হয় এবং সকল বিখ্যাত নিশানাবাজদের এমন চোখই থাকে। তবুও এই লোকটির নিশানা লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছিলো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;একটি বিপরীত ঘূর্ণিস্রোত ফারকুহারকে ধরে নিয়ে অর্ধেক ঘুরিয়ে দিল; তিনি আবার কেল্লার বিপরীত তীরের জঙ্গলের দিকে তাকালেন। তার পিছন থেকে একটি স্পষ্ট উচ্চ কণ্ঠস্বরের একঘেয়ে সুরেলা ধ্বনি ভেসে এল এবং পানির উপর দিয়ে এমন স্পষ্টতার সাথে আসল যা অন্য সমস্ত শব্দকে, এমনকি তার কানে ঢেউয়ের শব্দকেও স্তব্ধ করে দিল। যদিও তিনি সৈনিক নন তবুও ক্যাম্পে এতটা সময় কাটিয়েছেন যে সেই ধীর, টানা, উচ্চারিত সুরের ভয়াবহ তাৎপর্য বুঝতে একটুও দেরি হলোনা। তীরে থাকা লেফটেন্যান্ট কতটা ঠাণ্ডা মাথায় ও নিষ্ঠুরভাবে—কতটা শান্ত স্বরে নিখুঁত মাপা বিরতিতে সেই নিষ্ঠুর শব্দগুলো উচ্চারণ করছিলঃ&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কোম্পানি!... অ্যাটেনশন!... শোল্ডার আর্মস!... রেডি!... এইম!... ফায়ার!&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফারকুহার যতটা সম্ভব গভীরে ডুব দিলেন। তাঁর কানে পানির গর্জন নায়াগ্রার মতই প্রবল শোনালো তবুও তিনি গুলির মন্থর বজ্রধ্বনি শুনতে পেলেন। আবার উপরের দিকে উঠতে গিয়ে দেখলেন অদ্ভুতভাবে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া কতগুলো চকচকে ধাতুর টুকরো ধীর গতিতে নিচে নেমে যাচ্ছে। কিছু টুকরো তাঁর মুখ ও হাতে স্পর্শ করল, তারপর পিছলে দূরে সরে গিয়ে তাদের পতন অব্যাহত রাখল। একটা টুকরো তাঁর কলার এবং ঘাড়ের মাঝখানে আটকে গেল; সেটা অস্বস্তিকর গরম ছিল তাই দ্রুত সেটাকে বের করে ফেলে দিলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শ্বাস নেওয়ার জন্য পানির উপরে উঠে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে দেখলেন তিনি অনেকক্ষণ পানির নিচে ছিলেন। তিনি স্রোতের টানে বেশ খানিকটা দূরে নিরাপদ স্থানের আরও কাছাকাছি চলে এসেছেন। সৈন্যরা পুনরায় গুলি ভরা শেষ করেছে। ব্যারেল থেকে বের করে বাতাসে ঘুরিয়ে সকেটে ঢোকানোর সময় ধাতব রামরডগুলো একসাথে রোদে চকচক করে উঠলো। দুজন প্রহরী আবার গুলি করল। এক নিষ্ফল প্রচেষ্টা।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পলায়নরত মানুষটি স্রোতের সাথে প্রবলভাবে সাঁতার কাটতে কাটতে তার কাঁধের উপর দিয়ে এই সব দেখতে পেলেন। তার হাত-পায়ের মত মাথাটাও সক্রিয় ছিল; তিনি বিদ্যুতের গতিতে চিন্তা করলেন:&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;অফিসারটি&quot; তিনি যুক্তি দিলেন, &quot;সেই প্রহরীটির মত দ্বিতীয়বার ভুল করবেন না। একটি গুলিকে এড়ানো সহজ। তিনি সম্ভবত ইতিমধ্যেই ইচ্ছামতো গুলি করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করুন, আমি সবগুলো গুলি এড়াতে পারব না!&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তার মাথার কাছাকাছি প্রায় দুই গজ দূরে একটা ভয়ানক ছপাৎ শব্দ হল তারপর একটা জোরালো গর্জন যেন ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে বাতাসে ভেসে কেল্লার দিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হলো যা নদীর গভীরতম অংশকেও কাঁপিয়ে দিল! পানির একটি উঁচু ঢেউ তার ওপর আছড়ে পরে তাকে প্রায় একইসঙ্গে অন্ধ ও শ্বাসরোধ করে ফেলল। কামান এবার খেলায় অংশ নিয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত পানির আলোড়ন থেকে মাথা উঠাতেই শোনা গেল বিচ্যুত গোলাটি বাতাসে গুঞ্জন করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং মুহূর্তেই সেটা ওপারের জঙ্গলে গাছের ডালপালা ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ওরা আর এটা করবে না&quot; তিনি ভাবলেন, &quot;পরের বার ওরা গ্রেপশট ব্যবহার করবে। আমাকে কামানের ওপর নজর রাখতে হবে; ধোঁয়া আমাকে সতর্ক করবে—গর্জনটা তো গোলার পেছনে পেছনে দেরি করে আসে। ভালো কামান বটে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হঠাৎ অনুভব করলেন তিনি চারপাশে লাটিমের মতো ঘুরছেন। পানি, তীর, জঙ্গল, অনেক দূরের সেতু, কেল্লা আর মানুষগুলো সব মিলেমিশে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। জিনিসগুলো শুধু তাদের রঙ দিয়ে চেনা যাচ্ছিলো। তিনি একটা ঘূর্ণিস্রোতে আটকে গেছেন এবং এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন আর ঘুরছেন যে তার মাথা ঘুরে উঠল এবং বমি পেতে লাগল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি নদীর দক্ষিণ পাড়ের পাদদেশে নুড়িপাথরের ওপর ছিটকে পড়লেন এবং একটা বেরিয়ে থাকা শিলার পিছনে এসে পড়লেন যা তাকে শত্রুদের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিল। আকস্মিক গতি থামায় আর নুড়িতে একটা হাতের ছড়ে যাওয়ায় তার হুঁশ ফিরল এবং তিনি আনন্দে কেঁদে ফেললেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আঙুল দিয়ে বালিতে খোঁচা দিলেন, মুঠো মুঠো করে নিজের ওপর ছিটিয়ে দিলেন আর চিৎকার করে সেই বালিকে ধন্যবাদ জানাতে লাগলেন। বালিগুলো দেখতে হীরে, মানিক, পান্নার মতো লাগছিল; সুন্দর বলতে যা কিছু আছে তার সবকিছুর সাথেই তিনি বালির মিল খুঁজে পেলেন। তীরের গাছগুলো দেখতে লাগছে বিশাল বাগানের গাছের মতো। তাদের সাজানোর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ক্রম লক্ষ করলেন, বুকভরে তাদের ফুলের সুগন্ধ নিলেন। গাছের কাণ্ডের ফাঁক দিয়ে একটা অদ্ভুত গোলাপি আলো ঝলমল করছিল আর বাতাস তাদের ডালপালায় বাতাসী বীণার সুর তুলছিল। তার পালাতে ইচ্ছে করছিলো না—পুনরায় ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত এই মোহনীয় জায়গায় থেকে যেতে পারলেই তিনি খুশি হতেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাথার ওপর গাছের ডালপালার মধ্যে গ্রেপশটের শোঁ শোঁ শব্দ আর খটখট আওয়াজে তার স্বপ্নভঙ্গ হলো। হতাশ কামানের গোলন্দাজ তাকে বিদায় জানাতে এলোমেলোভাবে গোলা ছুঁড়ছিল। তিনি লাফিয়ে উঠে ঢালু তীর দিয়ে দৌড়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়লেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেদিন সারাটাদিন তিনি সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে পথ চললেন। বন যেন অন্তহীন; কোথাও কোনো ফাঁকা স্থান নেই—এমনকি কাঠুরের রাস্তা পর্যন্ত না। এতটা বুনো অঞ্চলে বাস করেন এটা তিনি এতদিন জানতেনই না। এই আবিষ্কারে কেমন যেন অদ্ভুত কিছু অশুভ ব্যাপার ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ফোস্কা পড়া পায়ে ক্ষুধায় কাতর ফারকুহার সন্ধ্যা নাগাদ প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পরলেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি শত কষ্টের মাঝেও এগিয়ে চললেন। অবশেষে একটি রাস্তা খুঁজে পাওয়া গেল—তিনি জানতেন এটা তাকে সঠিক দিকে নিয়ে যাবে। যদিও এটা শহুরে রাস্তার মতোই চওড়া ও সোজা তবু মনে হচ্ছিল কেউ এপথে চলাচল করে না। কোথাও কোনো জমি বা বাড়িঘর দেখা যাচ্ছিলো না। এমনকি কুকুরের ডাক পর্যন্ত শোনা গেল না যা শুনে তিনি অন্তত বুঝতে পারতেন আশেপাশে কোথায় মানব বসতি রয়েছে। গাছের কালো কাণ্ড দুই পাশে সোজা দেয়াল তৈরি করে দিগন্তে একটা বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয়েছে—যেন দৃষ্টিবিজ্ঞান পাঠের আঁকা কোন ছবি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাথার ওপর গাছের ফাঁক দিয়ে তাকাতেই অদ্ভুত নক্ষত্রপুঞ্জে সাজানো উজ্জ্বল সোনালী তারার ঝলমলে আলো দেখা গেল । তিনি নিশ্চিত যে এদের এভাবে সাজানোর নিশ্চয়ই একটা গোপন আর অশুভ তাৎপর্য রয়েছে। দুপাশের বন বিচিত্র শব্দে পরিপূর্ণ—তার মধ্যে একবার, দুবার, এইতো আবারও তিনি যেন একটি স্পষ্ট অজানা ভাষার ফিসফিসানি শুনতে পেলেন!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঘাড় প্রচণ্ড ব্যথা করছিলো; হাত তুলে স্পর্শ করলে দেখা গেল সেটা ভয়ানকভাবে ফুলে রয়েছে। তিনি জানতেন দড়ির ঘষায় সেখানে একটি কালো দাগের বৃত্ত তৈরি হয়েছে। চোখ দুটো ভারি হয়ে উঠায় সেগুলো তিনি বন্ধ করতে পারছিলেন না। তৃষ্ণায় জিহ্বা ফুলে উঠেছে; তিনি দাঁতের ফাঁক দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাসে জিহ্বা বের করে সেই জ্বালা কমানোর চেষ্টা করলেন। নরম ঘাস কি দারুণভাবে অচেনা পথটিকে মখমলের মতো ঢেকে রেখেছিল—তিনি এখন তার পায়ের নিচে রাস্তার স্পর্শ অনুভব করতে পারছিলেন না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এতো কষ্টের মধ্যেও তিনি হাঁটতে হাঁটতে ঘুমিয়ে পড়লেন কারণ এখন তিনি ঘোরের মধ্যে অন্য একটি দৃশ্য দেখছেন—&quot;হয়তো তিনি কেবল প্রলাপ থেকে সেরে উঠেছেন। তিনি নিজ বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে আছেন। সব কিছু তেমনই আছে যেমনটি তিনি রেখে গিয়েছিলেন আর সকালের রোদে সবকিছু উজ্জ্বল ও সুন্দর দেখাচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি সারারাত হেঁটেছেন। গেট ঠেলে সাদা চওড়া পথ ধরে এগোতেই মেয়েলি পোশাকের একটি ঝলক দেখতে পেলেন; সতেজ শান্ত ও মিষ্টি দেখতে মিসেস ফারকুহার তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বারান্দা থেকে নিচে নেমে এলেন। অতুলনীয় মর্যাদা আর সৌন্দর্যের ভঙ্গিতে মুখে অপার্থিব আনন্দের হাসি নিয়ে তিনি সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আহ, সে কত সুন্দরী!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তিনি বাড়ানো বাহু নিয়ে সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেন। ঠিক যখন তাকে আলিঙ্গন করতে যাবেন তখনই তার ঘাড়ের পিছনে এক তীব্র আঘাত অনুভব করলেন; অন্ধকারের মাঝে কামানের বিস্ফোরণের মতো সাদা আলোয় চারপাশ ঝলসে ওঠে—তারপর সবকিছু অন্ধকার ও নিস্তব্ধ!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পেইটন ফারকুহার মারা গিয়েছিলেন; তার দেহ, ভাঙা ঘাড় নিয়ে আউল ক্রিক সেতুর কাঠের নিচে মৃদুভাবে দুলছিল।&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;[সমাপ্ত]&lt;/div&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5146829703961569420'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5146829703961569420'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2025/06/occurrence-at-owl-creek-bridge.html' title='অ্যামব্রোজ বিয়ার্স এর অ্যান অকারেন্স অ্যাট আউল ক্রিক ব্রিজ (An Occurrence at Owl Creek Bridge) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgNa3zaSjT21CY5Oynp86fKVayZhzQLvYLttHchbUR4F6MWAgw7YUpiUK6vdbmGo11IjoO2UwSkirLOL4zDcmWbjDgtvFMtsSJ5TBOJRBY9TaugjhfG7XUTmkNMNdYFoUIKY8s8-7t7fNwp02d72G-ryo7d8unpco5jXFPEaxRvD9AXSy9Rj4wJHSWsTTI/s72-w575-h719-c/An%20Occurrence%20at%20Owl%20Creek%20Bridge.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-185675286441739887</id><published>2025-05-25T02:23:00.000-07:00</published><updated>2025-06-09T08:33:29.359-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড"/><title type='text'>হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস (Smith and the Pharaohs) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjBTudSSgAEnfLSmHyYgPiW4nImpSTlAnjaV8YPlGlx_IBAJWZA99Q6Juyasm7TU2j9AF8z0-Q-5V1tezrfAmHxDwS2wVDhKVWgn07wEtU3EELAE_WxHWMcnqYhXnHCMecJsue5w6rJb_bXljbSjFnZLya7LxXLGTkUw06VLtvaxbzigGGANcNFLXsHu_s/s1120/smith1.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;813&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjBTudSSgAEnfLSmHyYgPiW4nImpSTlAnjaV8YPlGlx_IBAJWZA99Q6Juyasm7TU2j9AF8z0-Q-5V1tezrfAmHxDwS2wVDhKVWgn07wEtU3EELAE_WxHWMcnqYhXnHCMecJsue5w6rJb_bXljbSjFnZLya7LxXLGTkUw06VLtvaxbzigGGANcNFLXsHu_s/w650-h813/smith1.png&quot; width=&quot;650&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;“স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস” গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২০ সালে। এটা স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস, অ্যান্ড আদার টেলস&#39; বইয়ের একটি গল্প। এই সংগ্রহে মোট ছয়টি গল্প আছে। গল্পগুলো হলো: &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস&#39;, &#39;মাগেপা দ্য বাক&#39;, &#39;দ্য ব্লু কার্টেন্স&#39;, &#39;দ্য লিটল ফ্লাওয়ার&#39;, &#39;ওনলি আ ড্রিম&#39; এবং &#39;বারবারা হু কেম ব্যাক&#39;। বইটিতে &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস&#39; হচ্ছে প্রথম গল্প।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;………………………………………………………….&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ভুমিকা&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মাঝে মাঝে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ হলেও অধিকাংশরা বলেন তারা মানুষ সম্পর্কে সব জানেন। মানুষ কোথা থেকে এসেছে সেটা তারা খুঁজে বের করেছেন। তারা দেখিয়েছেন কিভাবে মানুষের কঙ্কালের বিবর্তন ঘটেছে। এছাড়াও দেখিয়েছেন কিভাবে প্রয়োজন ও আবেগের টানে এক সময়ের সরল মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সাধারণ অবস্থা থেকে বিকশিত হয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে মানুষের সবকিছুই ব্যবচ্ছেদ টেবিলে কাটা-ছেড়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তাদের মতে মানুষের পরকাল নিয়ে ভাবনার পেছনে মূলত আছে মৃত্যুভয়। আবার কেউ কেউ বলেন এটা ভূমিকম্প বা বজ্রপাতের ভয় থেকে আসে। তারা বলেন অতীতের সাথে মানুষের সম্পর্ক তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যারা হয়তো লক্ষ লক্ষ বছর আগে এই পৃথিবীতে বসবাস করতেন। আর তার সব মহৎ গুণ শুধু নিজের সুবিধার জন্য গড়ে তোলা আচরণ মাত্র। অন্যদিকে সব খারাপ দিকগুলো এসেছে তার আদিম বা বন্য স্বভাব থেকে। সংক্ষেপে বললে মানুষও একপ্রকার প্রাণী যে তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাদের (অন্তত কিছু গবেষকের) দাবি এইগুলোই বাস্তব; বাকি সবই আজেবাজে কল্পনা।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কখনও কখনও এসব জ্ঞানীদের কথায় বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় বিশেষ করে যখন তাদের কারো বক্তৃতা শোনার সুযোগ হয় আমাদের। কিন্তু তারপর হঠাৎ জীবনে এমন কিছু ঘটে যা আমাদের থামিয়ে দেয় ও ভাবিয়ে তোলে। মনে আবার সেই পুরনো ঈশ্বর সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো দানা বাঁধে। আর সেই প্রশ্নেগুলোর সাথে জেগে ওঠে আরও এক গভীর, আরও এক আশাজাগানিয়া ঐশ্বরিক অনুভূতি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সব কথা ভেবে চিন্তে কখনও কখনও মনে হয় মানুষ বোধহয় শুধু একটি প্রাণী নয় বরং এর চেয়েও বেশি কিছু। হয়তো সে অতীতকে চিনেছে - সুদূর অতীতকে। আর ভবিষ্যতেও সে একদিন পৌঁছাবে - অনেক, অনেক দূরের ভবিষ্যতে। হয়তো যে কল্পনাকে আমরা &quot;স্বপ্ন&quot; বলি, সেটাই সত্যি। হয়তো মানুষের মধ্যে সত্যিই আছে এক অমর আত্মা । এই আত্মা বিভিন্ন রূপে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে। এটা যুগ যুগ ঘুমিয়ে থাকতে পারে। তবুও ঘুমন্ত হোক কিংবা জাগ্রত - আসলে এটা সরুপেই থাকে যা মহাবিশ্বের পদার্থের মতো অবিনশ্বর।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;h3&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;পর্বঃ এক&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;h3&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;_______________________________________&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;যদি কেউ মিঃ জেমস এবেনেজার স্মিথের জীবনের বিস্তারিত ঘটনাগুলো জানতেন তাহলে নিঃসন্দেহে এটি তার মনে গভীর চিন্তার উদ্রেক করত। কিন্তু এই লেখাটি প্রকাশের আগে পর্যন্ত এর বিস্তারিত কেউই জানতো না। তবে স্মিথ এমন একজন ব্যক্তি যিনি কখন চুপ থাকতে হয় তা ভালোই বুঝেন। তবুও এই ঘটনাটি স্বয়ং স্মিথকেই গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। আসলে, জেমস এবেনেজার স্মিথ এখনও এই ঘটনা নিয়ে অত্যন্ত গভীরভাবে ভাবছেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ ছিলেন সুশিক্ষিত ও ভালো পরিবারের সন্তান। কলেজে থাকাকালীন তিনি একজন সুদর্শন ও মেধাবী যুবক ছিলেন। কিন্তু ডিগ্রি নেওয়ার আগেই তার জীবনে সমস্যা দেখা দিল এবং তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও বন্ধুহীন অবস্থায় জগতের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তবে তাকে একেবারে বন্ধুহীন বলা যাবেনা। তার একজন গডফাদার ছিলেন। এই ভদ্রলোক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার নাম ছিল এবেনেজার। শেষ ভরসা হিসেবে স্মিথ তার কাছেই গেলেন, এই ভেবে যে বাপ্তিস্মে তাকে যে অদ্ভুত নামটি দেওয়া হয়েছিল তার বিনিময়ে এবেনেজার হয়ত তার কাছে কিছুটা ঋণী।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এবেনেজার কিছুটা দায়িত্ববোধ দেখালেন। তিনি বড় কোনো সাহায্য না করলেও স্মিথকে তার পরিচালিত একটি ব্যাংকে সাধারণ ক্লার্কের চাকরি দিলেন। এছাড়াও এক বছর পর তিনি মারা গেলে স্মিথের জন্য একশ পাউন্ড রেখে গেলেন স্মারক হিসেবে খরচ করার জন্য।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ব্যবসায়িক বুদ্ধিসম্পন্ন স্মিথ সেই টাকা স্মারকের পেছনে নষ্ট না করে একটি লাভজনক ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেন। সৌভাগ্যক্রমে তার ধারণা সঠিক প্রমাণিত হলো এবং বিনিয়োগ দশ গুণ হয়ে ফিরে এল। তিনি আবারও বিনিয়োগ করলেন এবং এইবারও সাফল্য পেলেন। ত্রিশ বছর বয়সে তার সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়াল পঁচিশ হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এরপর তিনি এই ফটকা ব্যবসা বন্ধ করে টাকাটা নিরাপদ জায়গায় রেখে বছরে চার শতাংশ হারে আয় করতে লাগলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই সময়ে স্মিথ ব্যাংকের একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন। যদিও তিনি ক্লার্কই ছিলেন তবে বছরে বেতন ছিল চারশ পাউন্ড। তিনি চাইলে বিয়ে করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বিয়ে করতে চাননি। হয়তো পরিচিত মহিলাদের কেউই তাকে আকর্ষণ করেনি অথবা অন্য কোনো কারণ ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;লাজুক ও সংরক্ষণশীল স্বভাবের স্মিথ কাউকে নিজের কথা বলতেন না। ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা পরিচালনা পর্ষদও জানতেন না যে তিনি কতটা সম্পদশালী। পুটনির কাছে তার ফ্ল্যাটে কেউই যেত না এমনকি তিনি কোনো ক্লাবের সদস্য ছিলেন না এবং তার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিল না। জীবনের প্রথম দিকে জগতের কাছ থেকে পাওয়া কঠিন আঘাত, প্রত্যাখ্যান ও রূঢ় ব্যবহার তার সংবেদনশীল মনে এত গভীর দাগ কেটেছিল যে তিনি কখনও আর মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাননি। এমনকি অল্প বয়সেই তিনি এক ধরণের পরিশীলিত একাকীত্বপূর্ণ জীবনযাপন শুরু করেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বিনিয়োগ বন্ধ করার পর স্মিথ শীঘ্রই অনুভব করলেন যে মানুষের মনেরও কোনো না কোনো কাজের প্রয়োজন। তিনি জনহিতকর কাজ করার চেষ্টা করলেন কিন্তু অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে গিয়ে নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে দেখলেন। শেষমেশ তিনি নিজের সাথে একটি সমঝোতায় এলেন—তার আয়ের একটি বড় অংশ উপযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেনামে বিতরণের জন্য আলাদা করে রাখলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এক শীতের দিনে ব্যাংক বন্ধ থাকায় স্মিথ ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ঢুকে পড়লেন। মূলত বাইরের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থেকে বাঁচতেই তিনি মিউজিয়ামে চলে আসেন। এলোমেলোভাবে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মিশরীয় পাথরের জিনিসপত্র ও ভাস্কর্যের জন্য সংরক্ষিত বিশাল গ্যালারিতে এসে উপস্থিত হলেন। মিশর সম্পর্কে অজ্ঞ স্মিথ এই সমস্ত দেখে কিছুটা অবাকই হলেন। তিনি ভাবলেন, নিশ্চয়ই অত্যন্ত বিচক্ষণ কোনো সভ্যতা ছিল যারা এমন শিল্পকর্ম তৈরি করেছিল। এই চিন্তার সাথে তাদের সম্পর্কে আরও জানার আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিল। তবুও তিনি চলে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার চোখ পড়ল দেওয়ালে ঝোলানো একটি নারীর মুখের ভাস্কর্যের উপর।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ নারী মুখের ভাস্কর্যটির দিকে ভালভাবে তাকালেন। একবার, দুবার, তিনবার তাকানোর পর অজান্তেই তিনি যেন প্রেমে পড়ে গেলেন। সেই খোদাই করা মুখচ্ছবি তাকে এমনভাবে টেনে নিল যে তিনি কখনোই তা ভুলতে পারবেন না। হয়তো সাধারণ দৃষ্টিতে এটি অত সুন্দর ছিল না। হয়তো এর ঠোঁটগুলো বড্ড মোটা ছিল এবং নাকের ছিদ্রগুলোও বেশি প্রসস্ত ছিল। শুধু তার রহস্যময় হাসিই ছিল অসাধারণ। তবুও তার কাছে সেই মুখটি ছিল সৌন্দর্যের প্রতীক যে তাকে এক অদৃশ্য শক্তিতে টানছিল এবং তার মনে নানান কল্পনার জন্ম দিচ্ছিল যার কিছু ছিল এতটাই অদ্ভুত ও আবেগঘন যেন সেগুলো স্মিথের নিজের স্মৃতিরই অংশ। তিনি সেই মূর্তির দিকে তাকিয়ে রইলেন আর মূর্তিটিও তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসছিল ঠিক যেমনটি হেসেছিল জীবিত অবস্থায়। প্লাস্টারের নকল মূর্তিটি সত্যিকার অর্থেই আসল মনে হচ্ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এমন সময় একজন খাটো, মোটা ভদ্রলোক ব্যস্তভাবে এগিয়ে এলেন এবং কর্তৃত্বপূর্ণ সুরে কয়েকজন শ্রমিককে কিছু নির্দেশ দিলেন যারা কাছাকাছি একটি মূর্তির বেদি সাজাচ্ছিল। স্মিথের মনে হলো ইনি নিশ্চয়ই এই বস্তুগুলো সম্পর্কে জানেন। স্বভাবসিদ্ধ লাজুকতা কাটিয়ে টুপি তুলে তিনি ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইলেন এই মুখোশের আসল মানুষটি কে ছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ভদ্রলোক ছিলেন মিউজিয়ামের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি স্মিথের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বুজতে পারলেন এই ব্যাপারে সত্যিই স্মিথের আগ্রহ আছে। তিনি বললেন-&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি জানি না। কেউই জানে না। এই মূর্তিটিকে বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই প্রমানিত নয়। হয়তো একদিন মূর্তির বাকি অংশ খুঁজে পাওয়া যাবে তখন আমরা জানতে পারব। অবশ্য যদি তাতে কোনো লিপি থাকে। তবে সম্ভবত অনেক আগেই এটিকে চুন তৈরির জন্য পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তাহলে আপনি এর সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবেন না?&quot; স্মিথ জিজ্ঞাসা করলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আচ্ছা, অল্প কিছু বলতে পারি। প্রথমত, এটি একটি প্রতিরূপ। আসল মূর্তি কায়রো মিউজিয়ামে আছে। ম্যারিয়েট এটাকে কার্নাকে খুঁজে পেয়েছিলেন বলে আমার ধারণা এবং তিনি তার মতো করে এর একটি নাম দিয়েছিলেন। সম্ভবত এটি একজন রানীর মূর্তি – মুকুটের কারুকাজ দেখে মনে হয় অষ্টাদশ রাজবংশের। ভাঙা ইউরিয়াস দেখে আপনি তার মর্যাদা নিজেই বুঝতে পারবেন।&quot; (স্মিথ তাকে থামিয়ে বলেননি যে ইউরেয়াস কী হতে পারে সে সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। কারণ তিনি মিশরীয় রাজপরিবারের সাপের মাথাওয়ালা প্রতীক সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন।) &quot;আপনার উচিত মিশরে গিয়ে মাথাটা নিজে দেখে আসা। এটা এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে সুন্দর নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি। আচ্ছা, আমাকে এখন যেতে হবে। শুভ দিন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই বলে তিনি ব্যস্তভাবে দীর্ঘ গ্যালারি ধরে চলে গেলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ উপরের তলায় গিয়ে মমি এবং অন্যান্য নিদর্শন দেখলেন। সেই মিষ্টি মায়াবী মুখের অধিকারীনী যে আজ থেকে বহু শতাব্দী আগে খ্রিস্টের জন্মেরও পূর্বে মমিতে পরিণত হয়েছেন—এই ভাবনা তাকে ব্যথা দিল। মমিগুলো তার কাছে মোটেও আকর্ষণীয় মনে হল না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি আবার ভাস্কর্যের গ্যালারিতে ফিরে এলেন এবং সেই প্লাস্টারের নারী মুখটির দিকে একদৃষ্টে এমনভাবে তাকিয়ে রইলেন যতক্ষণ না একজন শ্রমিক তার সঙ্গীকে মন্তব্য করল যে, &quot;যদি আমি এই ভদ্রলোক হতাম, তাহলে এরকম জীবন্ত কাউকে দেখতে যেতাম!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;লজ্জিত হয়ে স্মিথ সেখান থেকে চলে এলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি বইয়ের দোকানে গিয়ে মিশরবিদ্যা সংক্রান্ত সবচেয়ে ভালো বইগুলো অর্ডার দিলেন। কয়েকদিন পর যখন একটি প্যাকিং কেসে করে বইগুলো এলো তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বইগুলো পড়তে আরম্ভ করলেন। বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী স্মিথ তিন মাসের মধ্যেই বিষয়টির উপর ভালো রকমের জ্ঞান অর্জন করলেন, এমনকি হায়ারোগ্লিফিক্সেরও সামান্য জ্ঞান লাভ করলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সেই তিন মাস পর অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে স্মিথ তার ব্যাংক ডিরেক্টরদের অবাক করে দিয়ে দশ সপ্তাহের ছুটির আবেদন করে বসলেন। অথচ তিনি এর আগে বছরে মাত্র দুই সপ্তাহ ছুটিতে সন্তুষ্ট থাকতেন। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ব্যাখ্যা দিলেন যে - তিনি ব্রঙ্কাইটিসে ভুগছেন এবং ডাক্তার তাকে মিশরে গিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;খুব ভালো,&quot; ম্যানেজার বললেন; &quot;কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে আপনার অনেক খরচ হয়ে যাবে। মিশরে তারা মানুষকে ঠকায়।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি জানি,&quot; স্মিথ উত্তর দিলেন; &quot;কিন্তু আমি কিছু সঞ্চয় করেছি এবং তা খরচ করার মত আমি ছাড়া আর কেউ নেই।&quot;&lt;/span&gt;&lt;div&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj_cJ2aizblRAeixMoCn8hGyZ7TpbaaDC0ckcPqdoagyw9rF5iWqR7hNDqaITcykpbwNaf9WtRHDdG9VmcXdfxRjJvL31xNKme6UDp69f1SHb7_Ka0OmQrii7S9knkhPGtaARSSjJ3YmHgrGN1UMOtLRmqnzNu5wJq-XTCI9SNtfC5RtHs0hGUXibP3Cvc/s1120/smith2.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;800&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEj_cJ2aizblRAeixMoCn8hGyZ7TpbaaDC0ckcPqdoagyw9rF5iWqR7hNDqaITcykpbwNaf9WtRHDdG9VmcXdfxRjJvL31xNKme6UDp69f1SHb7_Ka0OmQrii7S9knkhPGtaARSSjJ3YmHgrGN1UMOtLRmqnzNu5wJq-XTCI9SNtfC5RtHs0hGUXibP3Cvc/w640-h800/smith2.png&quot; width=&quot;640&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;h3&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;পর্বঃ &lt;/span&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;দুই&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;_______________________________________&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;div&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;অবশেষে স্মিথ মিশরে গিয়ে সেই সুন্দরী মূর্তির আসল মুখাবয়ব সহ হাজারো চিত্তাকর্ষক নিদর্শন দেখলেন। শুধু তাই নয়, কিছু প্রত্নতাত্ত্বিকের সাথে যুক্ত হয়ে তিনি প্রাচীন থিবসের আশেপাশে এক মাস খনন কাজেও অংশ নিলেন যদিও তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কিছুই পেলেন না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এর বছর দুয়েক পরই তিনি তার মহান আবিষ্কারটি করলেন যা আজও স্মিথের সমাধি নামে পরিচিত। এখানে বলে রাখা ভালো যে স্বাস্থ্যগত কারণে প্রতি বছর মিশরে যাওয়া তার জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছিল—অন্তত তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটাই বিশ্বাস করতেন। তবে যেহেতু তিনি গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য আবেদন করতেন না এবং সবসময় সহকর্মীদের কাজে সহায়তা করতেন যার ফলে শীতকালীন এই ভ্রমণগুলো তার পক্ষে সহজেই সম্ভব হচ্ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মিশরে তার এই তৃতীয় সফরে স্মিথ কায়রোর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালকের কাছ থেকে নিজের উদ্যোগে খননের অনুমতি পেলেন। ইতিমধ্যেই একজন দক্ষ মিশরতত্ত্ববিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় তাকে স্বাভাবিক শর্তেই এই অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ আবিষ্কৃত বস্তুগুলোর যেকোনোটি বা চাইলে সবগুলোই নেওয়ার অধিকার রাখবে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে স্মিথ কায়রো মিউজিয়ামে কয়েকদিন কাটিয়ে লুক্সরের রাতের ট্রেনে চড়ে বসলেন। সেখানে তিনি তার প্রধান সহকারী মাহমুদ (একজন সাবেক ড্রাগোম্যান বা পর্যটক পথপ্রদর্শক) এবং ভাড়া করা শ্রমিকরা তার জন্য অপেক্ষা করছিল। যেহেতু এটা ছিল একটি ছোট আকারের উদ্যোগ তাই মাত্র চল্লিশ জন শ্রমিক নিয়ে এই খননকাজ শুরু হলো। তিনি মাত্র তিনশ পাউন্ড বাজেট নির্ধারণ করেছিলেন যা প্রত্নতাত্ত্বিক খননের জন্য খুবই অপ্রতুল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;গত বছর মিশর সফরে স্মিথ খননের জন্য একটি স্থান চিহ্নিত করে রেখেছিলেন। এটি ছিল প্রাচীন থিবসের কবরস্থানে মেডিনেট হাবু মন্দিরের কাছে কুইন্স ভ্যালি বা রানীদের উপত্যকা নামে পরিচিত একটি নির্জন স্থান। এই স্থানটি থেকে রাজাদের সমাধিস্থল একটি পাহাড় দ্বারা পৃথক করা। মিশরের অনেক মহিয়সী রানী এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এবং তাদেরই কোনো সমাধি খুঁজে বের করার লক্ষ্য ছিল স্মিথের। তিনি ভালো করেই জানতেন এর মধ্যে কিছু সমাধি এখনো আবিষ্কার হওয়া বাকি আছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কে বলতে পারে? ভাগ্য সাহসী মানুষের পক্ষেই থাকে। হয়তো তিনি সেই সুন্দরী, অজানা রাজকীয় নারীর সমাধি খুঁজে পাবেন, যার মুখ গত তিন বছর ধরে তাকে আবিষ্ট করে রেখেছিল!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;একটি পূর্ণ মাস ধরে তিনি খনন করেও সামান্যতম সাফল্য পেলেন না। অবশেষে নির্বাচিত স্থানটি সত্যিই একটি সমাধির প্রবেশপথ হিসেবে প্রমাণিত হলো। পঁচিশ দিনের কঠোর পরিশ্রমের পর সেটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হলো এবং তিনি একটি রুক্ষ ও অসম্পূর্ণ গুহার সামনে দাঁড়ালেন। যে রানীর জন্য এই সমাধি প্রস্তুত করা হয়েছিল তিনি সম্ভবত অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন এবং অন্য কোথাও তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছিলো। অথবা তিনি নিজেই হয়তো অন্য কোনো সমাধি বেছে নিয়েছিলেন কিংবা পাথুরে শিলার গুণগত মান সমাধির জন্য উপযুক্ত ছিল না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ কাঁধ ঝাঁকিয়ে এগিয়ে গেলেন। এখানে সেখানে পরীক্ষামূলক গর্ত ও খাদ খনন করতে লাগলেন কিন্তু তবুও কিছুই পেলেন না। যখন সময় ও অর্থের দুই-তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে গেল তখন ভাগ্য তার সহায় হলো। একদিন সন্ধ্যায় স্মিথ তার দক্ষ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে যখন কাজ থেকে খালি হাতে ফিরছিলেন তখন পাহাড়ের গায়ে একটি ছোট খাদ বা বালিয়াড়ির দিকে তার দৃষ্টি আটকে গেল—যেটি ছিল এলোমেলো পাথর ও বালিতে ভরা। যদিও এখানে এমন শত শত জায়গা আছে। তবুও এই স্থানটি তাকে আকর্ষণ করল। সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে তিনি সেটি অতিক্রম করে বিশ পা এগিয়েই আবার ঘুরে দাঁড়ালেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কোথায় যাচ্ছেন, স্যার?&quot; তার প্রধান সহকারী মাহমুদ জিজ্ঞাসা করল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ পাহাড়ের খাঁড়িটির দিকে ইশারা করলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওখানে কিছু নেই, স্যার,&quot; মাহমুদ বলল। &quot;সমাধি থাকলে এখানে শিলাস্তর বেশি উপরে থাকত না। বন্যার পানি এখানে ঢোকে। মৃত রানীরা শুকনো জায়গায় থাকতে ভালোবাসেন!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিন্তু স্মিথ এগিয়ে গেলেন এবং অন্যরা বাধ্য হয়ে তাকে অনুসরণ করল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি বালি ও পাথরের ছোট ঢাল বেয়ে নিচে নেমে খাড়া পাথরটি পরীক্ষা করতে লাগলেন। এটি ছিল অক্ষত একটি পাথরখণ্ড—কোনো মানুষের হাতের ছাপই দেখা যাচ্ছিল না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শ্রমিকরা চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন সময় এক অদ্ভুত অনুভূতি তাকে আবারও সেই স্থানের দিকে টেনে আনল। তিনি একজন শ্রমিকের কাছ থেকে বেলচা নিয়ে পাথর থেকে বালি সরানো শুরু করলেন। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মনিবকে কাজ করতে দেখে শ্রমিকরাও কাজে লেগে পড়লো। শুধুমাত্র স্মিথকে খুশি করার জন্যই প্রায় বিশ মিনিট ধরে তারা আনন্দচিত্তে খুঁড়তে লাগল কারণ সকলেই নিশ্চিত ছিল যে এখানে কোনো সমাধি নেই। শেষ পর্যন্ত স্মিথ তাদের থামতে বললেন কারণ ছয় ফুট গভীরে খনন করেও পাথরের দেয়ালটি সেই অক্ষতই দেখা যাচ্ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বিরক্তি নিয়ে স্মিথ শেষ এক বেলচা বালি ছুঁড়ে ফেললেন। একটু উঁচু হয়ে থাকা কিছুর উপর বেলচার ধারালো প্রান্ত আঘাত করলো। আরও কিছু বালি সরাতেই দেখা গেল একটি গোলাকার কার্নিসের মতো অংশ। শ্রমিকদের ডেকে তিনি এটি দেখালেন এবং কোনো কথা ছাড়াই তারা আবার খুঁড়তে আরম্ভ করল। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেল এটি সত্যিই একটি কার্নিস এবং আধ ঘণ্টা পর একটি সমাধিদ্বারের উপরের অংশ দেখা গেল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মাহমুদ বদ্ধ দরজার দিকে ইশারা করে বলল, &quot;প্রাচীন লোকেরা এটাকে বালি পাথর আর কাদা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।&quot; তিনি সমতল পাথরের দিকে ইশারা করলেন। এই পাথরগুলো কাদার মর্টার দিয়ে জোড়া লাগানো ছিল। এই কাদার উপর ছিল স্কারাব সিলের ছাপ। যেসব কর্মকর্তার উপর রাজপরিবারের মৃতের সমাধিস্থল চিরকালের জন্য বন্ধ করার দায়িত্ব ছিল তারা এই সিল দিয়ে রেখেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হয়তো রানী এখনও ভেতরে অক্ষত অবস্থায় আছে,&quot; আগের মন্তব্যের কোনো উত্তর না পেয়ে মাহমুদ আবার বলল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হয়তো,&quot; স্মিথ সংক্ষেপে উত্তর দিলেন। &quot;খোঁড়ো, বাবা, খোঁড়ো! কথা বলে সময় নষ্ট করো না।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তারা দ্রুত খনন চালিয়ে যেতে লাগল। হঠাৎ স্মিথ কিছু দেখে জোরে আর্তনাদ করে উঠলেন। গাঁথুনিতে মধ্যে একটা গর্ত ছিল অর্থাৎ সমাধিটি আগেই লুটপাট হয়েছে। মাহমুদও এটা দেখল এবং তার অভিজ্ঞ দৃষ্টিতে ফোকরটির উপরের অংশ পরীক্ষা করল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;খুব পুরনো চোর,&quot; সে বলল। &quot;দেখুন, সে আবার দেয়াল তোলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ করার আগেই পালিয়ে গেছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই বলে সে কিছু চ্যাপ্টা পাথরের দিকে ইঙ্গিত করল যা অগোছালো ও তাড়াহুড়ো ভাবে বসানো হয়েছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;খোঁড়ো—খোঁড়ো!&quot; স্মিথ আদেশ দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আরও দশ মিনিটের মধ্যে প্রবেশপথটি একজন মানুষের শরীর প্রবেশ করার মতো বড় করা হল। এতক্ষণে সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। পশ্চিমের পাহাড়শ্রেণীর উপর সূর্য লাল আগুনের গোলকের মতো কিছুক্ষণ ঝুলে থাকল তারপর মুহূর্তেই অদৃশ্য হয়ে গেল। সবুজ আভার একটি ঝলক দেখা দিল এবং তাও মিলিয়ে গেল। হঠাৎ করেই মরুর বুকে মিশরের রাত নেমে এল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করতে লাগল। কেউ কেউ অজুহাত দেখিয়ে সরে যেতে শুরু করল। বাকিরা তাদের সরঞ্জাম ফেলে দিয়ে স্মিথের দিকে তাকিয়ে রইল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওরা এখানে থাকতে চায় না। ভূতের ভয় পাচ্ছে! এই সমাধিগুলোতে অনেক আফ্রিত (অশরীরী আত্মা) থাকে। ওরা বলছে কাল সকালে আলো থাকতে এসে কাজ শেষ করবে। এই সাধারণ শ্রমিকরা খুব বোকা মানুষ,&quot; মাহমুদ তার স্বাভাবিক কর্তৃত্বপূর্ণ সুরে মন্তব্য করল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ঠিক আছে,&quot; স্মিথ উত্তর দিলেন, তিনি ভালোভাবেই জানতেন যে সূর্যাস্তের পর সমাধি খোলার কাজে শ্রমিকদের কোনোভাবেই রাজি করানো যাবে না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তাদের যেতে দাও। তুমি আর আমি এখানে সকাল পর্যন্ত পাহারা দেব।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;দুঃখিত স্যার&quot; মাহমুদ বলল, &quot;আমার শরীরটা ভাল লাগছে না, মনে হচ্ছে জ্বর এসেছে। আমি ক্যাম্পে গিয়ে কম্বলের নিচে শুয়ে প্রার্থনা করব।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ঠিক আছে, যাও,&quot; স্মিথ বললেন; &quot;কিন্তু যদি কোনো সাহসী লোক থাকে, সে যেন আমার বড় কোট, কিছু খাবার-পানীয় আর তাঁবুতে ঝোলানো লন্ঠনটা নিয়ে আসে। আমি উপত্যকায় তার সাথে দেখা করব।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মাহমুদ অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলো এবং স্মিথকে তাদের সাথে যেতে অনুরোধ করল—যাতে সমাধির ভূত রাতে কোনো ক্ষতি করতে না পারে। তারপর তারা দ্রুত চলে গেল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ পাইপ ধরিয়ে বালিতে বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন। আধঘণ্টা পর অন্ধকার উপত্যকা থেকে গানের আওয়াজ ও আলো আসতে দেখলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমার সাহসী লোকেরা&quot; তিনি মনে মনে ভাবলেন এবং ঢাল বেয়ে তাদের সাথে দেখা করতে এগিয়ে গেলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি ঠিকই অনুমান করেছিলেন। তার বিশজন শ্রমিক আসছিল। এর কম সংখ্যায় তারা রাতের উপত্যকার ভূতদের মুখোমুখি হতে সাহস পায়নি। হঠাৎ একজন শ্রমিকের (মাহমুদ নয়, তার অসুস্থতা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল) হাতের লন্ঠনের আলো স্মিথের লম্বা দেহের উপর পড়ল। সাদা ইউনিফর্ম পরে তিনি পাথরে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে লন্ঠন নিচে পড়ে গেল এবং ভয়ে আর্তনাদ করে সাহসী দলটি পালিয়ে গেল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কাপুরুষের দল!&quot; স্মিথ আরবিতে জোরালো গর্জন করে উঠলেন, &quot;আমি তোমাদের মনিব, কোনো আফ্রিত নই।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তারা শুনতে পেয়ে আস্তে আস্তে ফিরে এল। তখন স্মিথ লক্ষ্য করলেন যে তারা সংখ্যায় ভারি হওয়ায় প্রত্যেকেই কিছু না কিছু জিনিস বহন করে এনেছে। একজন রুটি, আরেকজন লন্ঠন, কেউ সার্ডিনের টিন, কেউ টিন খোলার যন্ত্র, কেউ দেশলাইয়ের বাক্স, কেউ বিয়ারের বোতল ইত্যাদি। এমনকি এভাবেও সবার কাছে দেওয়ার মতো যথেষ্ট জিনিস ছিল না তাই দুজন তার বড় কোটটি ভাগাভাগি করে বহন করছিল—একজন হাতা ধরে অন্যজন নিচের দিক ধরে, যেন এটি একটি স্ট্রেচার।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এগুলো নামাও,&quot; স্মিথ বললেন, এবং তারা তা-ই করল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এখন,&quot; তিনি যোগ করলেন, &quot;প্রাণ নিয়ে পালাও; আমি শুনতে পেয়েছি দুটি আফ্রিত উপরে আলোচনা করছিল যে, যদি কেউ রাতের বেলা তাদের পবিত্র স্থানে এসে শান্তি ভঙ্গ করে তাহলে তারা তাদের দেবতাদের অপমানের শাস্তি দেবে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই সদয় পরামর্শটি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে গৃহীত হলো। এক মিনিটের মধ্যেই স্মিথ নক্ষত্রখচিত আকাশ ও মরুভূমির মৃদু বাতাসের সাথে একা হয়ে পড়লেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বড় কোটের পকেটে ভরে সমাধির মুখে ফিরে এলেন। এখানে তিনি লন্ঠনের আলোয় সামান্য খাবার খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঘুমাতে পারলেন না। কোন অদৃশ্য কারনে একের পর এক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে লাগল। প্রথমে শেয়ালের ডাক, তারপর একটি স্যান্ড ফ্লাই তার গোড়ালিতে এমন তীব্রভাবে কামড় দিল যে তিনি ভাবলেন নিশ্চয়ই বিছায় কামড়েছে। তারপর গরম কোট পরা সত্ত্বেও ঠান্ডা লাগতে শুরু করল কারণ ভেতরের পোশাক ঘামে ভিজে গিয়েছিল। তিনি বুঝতে পারলেন কিছু না করলে হয়তো জ্বর বা ঠাণ্ডা লেগে যাবে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি উঠে পায়চারি করতে লাগলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ততক্ষণে চাঁদ উঠে গেছে। যার আলো মরুভূমির সমস্ত বিষাদময় ও বন্য দৃশ্য স্পষ্ট করে তুলছে। মিশরের রহস্য তার হৃদয়ে প্রবেশ করে তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। যে পাহাড়ের উপর তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানে কত মৃত মহিমা শায়িত আছে? তিনি ভাবলেন, তারা কি সত্যিই সবাই মৃত নাকি সেই শ্রমিকদের কথাই ঠিক? তাদের আত্মারা কি এখনো রাতে বেরিয়ে এসে ঘুরে বেড়ায় যেখানে তারা একসময় শাসন করত? মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, &#39;কা&#39; বা আত্মা চিরকাল সেই স্থানেই ঘুরে বেড়ায় যেখানে তার মরণশীল দেহ সমাহিত আছে। তবু মিশরীয় বিশ্বাসে এমন কিছু আছে যা খ্রিস্টান হিসেবে অবিশ্বাস করা কঠিন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;উদাহরণস্বরূপ, মুক্তিদাতার মাধ্যমে পরিত্রাণ অথবা দেহের পুনরুত্থান। স্মিথ কি ইতিমধ্যেই এই মিলগুলো নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেননি যা তিনি একদিন নিজের নামে নয় বরং অন্য নামে প্রকাশ করার প্রস্তাব করেছিলেন? কিন্তু এখন এসব ভাবার সময় নয়; পরিস্থিতি একদমই উপযুক্ত নয়—এসব চিন্তা খুবই তীব্রভাবে আঘাত করে এমন একজন মানুষকে যে কিনা এই মুহূর্তে একটি সমাধি লুণ্ঠনের কাজে ব্যস্ত!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথের মন তথা তার কল্পনাশক্তি এক নতুন দিকে ছুটে চলল। হাজার হাজার বছর আগে এই স্থানটিতে কি ঘটেছিল? একদা হাজার বছর পূর্বে একটি শোভাযাত্রা বর্তমানে বালির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া সেই রাস্তা বেয়ে এই সমাধির অন্ধকার প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। পাথরের ফাঁক দিয়ে ভেতরে বাইরে চলাচলকারী সেই শোভাযাত্রাটি তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন। সাদা আলখাল্লা কিংবা চিতা বাঘের চামড়া পরিহিত মাথা কামানো পুরোহিতেরা তাদের রহস্যময় প্রতীকসমূহ হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ষাঁড়ে টানা শবযাত্রার রথ তার উপর বিশাল আয়তাকার কাঠের বাক্স যার ভেতরে কফিন আর তাতে মোড়া কোনো মৃত রানির মমি (মিশরীয় রীতিতে যে বাজপাখি ডানা মেলে মৃত্যুর দেবতা ওসাইরিসের কোলে উড়ে গেছে)। পিছনে শোকাহত পরিবারের ক্রন্দনে বাতাস বিদীর্ণ হচ্ছে। তারপর শেষকৃত্যের উপকরণ ও নৈবেদ্য বহনকারীরা হাঁটছে। তাদের পেছনে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আমেনসহ অন্যান্য দেবতাদের প্রধান পুরোহিতগণ। তারপর রাজার অন্য সকল রানীরা কৌতূহলী কয়েকজন শিশুকে হাত ধরে নিয়ে হাঁটছে। তাদের পেছনে ফারাওয়ের পুত্রগণ তাদের পদমর্যাদার প্রতীকসহ হাঁটছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সবশেষে একা হেঁটে চলেছেন ফারাও নিজে তার আনুষ্ঠানিক পোশাকে। তার অ্যাপ্রন, সোনালি সাপ দিয়ে সজ্জিত তার লিনেনের মুকুট, তার খোদাই করা ব্রেসলেট এবং তার ভারী ঝনঝনে কানের দুল যা চলার সময় টুংটাং শব্দ করে। ফারাও তার নতমস্তক ও ক্লান্ত পায়ে এগিয়ে চলেছেন আর তার হৃদয়ে কী ভাবনা চলছে? হয়তো তার চলে যাওয়া রানীর জন্য দুঃখ। তবুও তার আরও অগণিত রানি ও সুন্দরী রক্ষিতা ছিল। নিঃসন্দেহে যে চলে গেছে সে মিষ্টি ও সুন্দরী ছিল কিন্তু মাধুর্য ও সৌন্দর্য কেবল তার একারই ছিল না। বরং সে তো ফারাওয়ের ইচ্ছাকে অমান্য করত, তার দেবত্বে সন্দেহ করত! না, নিশ্চয়ই ফারাও শুধু তাকে নিয়ে ভাবছেন না যার জন্য তিনি এই চমৎকার সমাধি প্রস্তুত করেছিলেন দেবতাদের সাথে তাকে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু দিয়ে। নিশ্চয়ই তিনি নিজের কথাও ভাবছেন এবং পাহাড়ের ওপারে সেই সমাধির কথাও যেখানে শিল্পীরা বহু বছর ধরে কাজ করছে। সেই সমাধির দিকে তো তাকেও একদিন যাত্রা করতে হবে ঠিক এমনিভাবে—মৃত্যুর দরজা পেরিয়ে সেই স্থানে পৌঁছাতে হবে যেখানে রাজা-রানী-দাস-দাসী সবার জন্য মৃত্যুর হাত সমানভাবে প্রসারিত।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কল্পনার ঝলক মিলিয়ে গেল। এটা এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে স্মিথ ভাবলেন তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সম্পূর্ণ জেগে আছেন এবং আগের চেয়েও বেশি ঠাণ্ডা লাগছে। উপরন্তু শেয়ালের সংখ্যা বেড়ে গেছে। একদল শেয়াল কাছাকাছিই ঘুরাঘুরি করছে। এইতো একটি হলদে শেয়াল লন্ঠনের আলোর গণ্ডির মধ্যে দিয়ে ঘেঁষে গেল সম্ভবত সে খাবারের গন্ধ পাচ্ছিল। অথবা হয়তো স্মিথের নিজের গন্ধ পেয়েছে। এছাড়াও এই পাহাড়গুলোতে খারাপ লোকজনও ঘোরাফেরা করে আর তিনি এখন একা এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্র। হয়তো লন্ঠনের আলো নিভিয়ে দেওয়া উচিত যা তার অবস্থান জানান দিচ্ছে। এটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে কিন্তু এবার তিনি এই বুদ্ধি প্রত্যাখ্যান করলেন। শেষমেশ এই আলোই তো তার একমাত্র সঙ্গী।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ঘুম আসবে না বুজতে পেরে তিনি তার শরীরে উষ্ণতা আনবে এমন একটি কাজে মনোনিবেশ করার কথা ভাবলেন। বেলচা হাতে নিয়ে তিনি সমাধির প্রবেশপথে খুঁড়তে শুরু করলেন আর আশ্চর্য হয়ে শেয়ালের দল আরও জোরে চেঁচাতে লাগল। তারা এমন দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত নয়। হাজার হাজার বছর ধরে কোনো মানুষ—অন্তত একা কোনো মানুষ এমন অসময়ে সমাধি লুট করার সাহস করেনি। প্রায় বিশ মিনিট ধরে খনন করার পর তার বেলচায় কিছু একটা ধাতব শব্দ করল নিস্তব্ধতায় যেটা খুবই জোরালো শোনালো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;একটা পাথর যা হয়তো শেয়াল তাড়ানোর কাজে লাগবে,&quot; তিনি ভাবলেন, ধীরে ধীরে বেলচা থেকে বালি ঝেড়ে ফেলতে লাগলেন যতক্ষণ না বস্তুটি দেখা গেল। এটা খুব বড় নয় তবু তিনি সেটি তুলে নিলেন এবং হাতে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করলেন। যখন হাত খুললেন, দেখলেন এটি পাথর নয়—বরং একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওসাইরিস,&quot; স্মিথ ভাবলেন, &quot;সমাধির সামনে পুঁতে রাখা হয়েছে জায়গাটিকে পবিত্র করার জন্য। না, আইসিস দেবী। না, আসলে এটি একটি চমৎকার ছোট মূর্তির মাথা অন্তত চাঁদের আলোতে তো তাই মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে সোনার প্রলেপ দেওয়া ছিল।&quot; লন্ঠনটা হাতে নিয়ে তিনি বস্তুটির উপর আলো ফেললেন। পরের মুহূর্তেই তিনি এক হাতে লন্ঠন আর অপর হাতে মূর্তির মাথাটি ধরে গর্তের তলায় বসে পড়লেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মুখোশের রানি!&quot; তিনি হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলেন, &quot;এটাই-একই রকম! হায় আল্লাহ, ঠিক একই রকম!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ওহ, ভুল হওয়া সম্ভব ছিল না। এইতো পুরু ঠোঁট, হুবহু চওড়া নাকের ছিদ্র, বাঁকানো ভ্রু ও সমান দূরত্বে অবস্থিত সপ্নিল চোখগুলো। সর্বোপরি একই মায়াবী ও রহস্যময় হাসি। তবে এই প্রাচীন শিল্পকর্মটির মাথায় ছিল ইউরিয়াসের একটি পূর্ণ মুকুট। মুকুটের নিচে এবং কানের পিছনে চেপে বসানো ছিল একটি সম্পূর্ণ উইগ বা রাজকীয় শিরস্ত্রাণ যার প্রান্তগুলো বুক পর্যন্ত নেমে এসেছে। সোনার প্রলেপ দেয়া ছোট মূর্তিটি ঠিক মাঝ বরাবর ভাঙা। সম্ভবত জোরে আঘাতের ফলে এমনটি ঘটেছে কারণ ভাঙার দাগটি ছিল খুব স্পষ্ট।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথের মনে হলো কোনো চোর এটি সমাধি থেকে সোনার তৈরি ভেবে চুরি করেছিল। সমাধির বাইরে এসে সন্দেহ হলে সে এটি পাথরে আঘাত করে ভেঙে ফেলেছিল। ভাঙ্গার পর স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল যে এটি শুধু সোনার প্রলেপ দেওয়া ব্রোঞ্জ, তাই টুকরোগুলো ফেলে দিয়েছিল। স্মিথ প্রথমে অন্য অংশটি খুঁজতে লাগলেন। অনেকক্ষণ খোঁজার পরও সাফল্য মেলেনি। তখন বা পরে কখনও এটি পাওয়া যায়নি। তার ধারণা চোরটি নিচের অংশটি হাতে রেখে বিরক্তিতে দূরে ছুঁড়ে মেরেছিল আর মাথাটি যেখানে পড়েছিল সেখানেই রেখে গিয়েছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আবার স্মিথ মাথাটি পরীক্ষা করলেন, এবার আরও গভীরভাবে। এবার তিনি দেখতে পেলেন বুকের ঠিক নিচে একটি সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা কার্তুজ রয়েছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;হায়ারোগ্লিফিক্সে এখন দক্ষ হয়ে উঠেছেন স্মিথ। তাই কার্তুজটি পড়তে তার কোনো সমস্যা হলো না। এতে লেখা ছিল: &quot;মা-মি, রাজকীয় মহান রমণী। প্রিয়——&quot; এখানে কার্তুজটি ভাঙা ছিল। তাই তিনি আর পড়তে পারলেন না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মা-মে, অথবা এটা মা-মি হতে পারে,&quot; তিনি ভাবলেন। &quot;ইতিহাসে আমি &#39;মা-মে&#39;, বা &#39;মা-মি&#39;, বা &#39;মা-মু&#39; নামের কোনো রানীর কথা শুনিনি। ইতিহাসের জন্য এ একেবারেই নতুন নাম। আমি অবাক হচ্ছি তিনি কার প্রিয় ছিলেন-কে তাকে ভালোবাসতো? স্মিথ বিড়বিড় করলেন। সম্ভবত আমেন, বা হোরাস, বা আইসিস। নিশ্চয়ই কোনো দেবতার প্রিয় ছিলেন, এই ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি হাতে থাকা সুন্দর মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে রইলেন ঠিক যেমনটি একদা তিনি মিউজিয়ামের দেয়ালে ঝোলানো প্রতিকৃতির দিকে তাকিয়েছিলেন। গম্ভীর চাঁদের আলোয় হাজারো বছরের জমে থাকে ধুলো বালির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা সেই সুন্দর প্রতিকৃতিটি স্মিথের দিকে তাকিয়ে সেখানে হাসল যেমনটা একবার মিউজিয়ামের দেয়াল থেকে প্রতিকৃতি হেসেছিল। তবে সেটি ছিল নকল, আর এটি আসল। এটা সেই মৃতের সাথে ঘুমিয়েছিল যার মুখাবয়ব এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে মৃতদেহ এখানে বা একসময় এখানে শায়িত ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ হঠাৎ এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি এখনই সম্পূর্ণ একাকী এই সমাধির ভেতরে প্রবেশ করবেন। প্রথমবারের মতো এই সমাধিতে তিনিই সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন যদিও এটা হবে এক ধরনের ধর্মদ্রোহিতা।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কেন প্রবেশ করবেন না? যেহেতু তার লন্ঠনটি বেশ উজ্জ্বল ও দীর্ঘক্ষণ জ্বলবে। তদুপরি তারা যে গর্তটি পরিষ্কার করেছিল তার ফোঁকর দিয়ে ইতোমধ্যে বিষাক্ত বাতাস বেরিয়ে গেছে। সবশেষে মনে হলো কিছু একটা যেন তাকে ডাকছে। স্মিথ ব্রোঞ্জের মাথাটি বুক পকেটে রেখে লন্ঠন নিয়ে ফাঁক দিয়ে নিচে উঁকি দিলেন। বালি জমে প্রবেশপথ প্রায় ভরাট ছিল তাই নিচে নামতে সমস্যা হলো না। ভেতরে ঢুকে দেখলেন বালি ও কাদামাটিতে প্রায় ভরাট হয়ে আছে সমাধিপথ।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মাহমুদ ঠিকই বলেছিল। এই শিলাস্তরে তৈরি সমাধিটি নিশ্চয়ই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। প্রাচীন কোনো বন্যায় এখানে কাদামাটি ঢুকেছে এবং শক্ত হয়ে গেছে। সমাধি তৈরি করার সময়ই সম্ভবত এটা হিসাব করে নিচে একটি গর্ত রাখা হয়েছিল যাতে কাদা ঢুকে সমাধিপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু হিসাবের ভুলে কাদার স্তর সমাধির ছাদ পর্যন্ত পৌঁছায়নি তাই সমাধিটি এখনও খোলা রয়ে গেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;প্রায় চল্লিশ ফুট শক্ত কাদার উপর দিয়ে হামাগুড়ি দেবার পর স্মিথ হঠাৎ একটি উঁচু সিঁড়ির গোঁড়ায় পৌঁছালেন। তখনই তিনি ব্যাপারটি বুঝতে পারলেন—সমাধিটি আসলে আরও উঁচু স্তরে অবস্থিত।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এখান থেকেই শুরু হয়েছিল দেয়ালচিত্র। রানী মা-মি&#39;কে তার মুকুট ও স্বচ্ছ পোশাকে সজ্জিত করে বিভিন্ন দেবতার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেবতা ও রানীর মূর্তির মধ্যবর্তী স্থান হায়ারোগ্লিফিক্সে পূর্ণ, যা আজও ততটাই স্পষ্ট যেন শিল্পী সেগুলো এইমাত্র এঁকেছে। এক নজরেই তিনি বুঝলেন এগুলো &quot;বুক অফ দ্য ডেড&quot; থেকে নেওয়া অংশ।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সম্ভবত দাফনের অল্প কিছুদিন পরেই সেই চোর সমাধিতে ঢুকেছিল। তখন এই কাদা এখনকার মতো শক্ত হয়নি। সিঁড়িতে তার পায়ের ছাপ ও দেয়ালে হাতের দাগ থেকে এটা বোঝা যায়। দুষ্ট চোর নিশ্চয়ই কাঁদা থেকে উঠে দেয়ালের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিল যার ফলে তার হাতের ছাপ চিত্রগুলোয় দাগ ফেলেছিল। এক জায়গায় তার হাতের পুরো ছাপ এমনকি ত্বকের রেখাগুলোও দেখা যাচ্ছিলো!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সিঁড়ির ধাপগুলোর শীর্ষে আরেকটি করিডোর শুরু হয়েছে যা কখনও পানিতে প্লাবিত হয়নি। ডান-বামে অসমাপ্ত কক্ষগুলো দেখে বোঝা যায় রানী অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন। রানীর বা রাজার পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি করা সমাধিটির ডিজাইন অসমাপ্তই রয়ে গেছে। কয়েক পা এগুতেই করিডোরটি প্রায় ত্রিশ ফুট বর্গাকার একটি হলঘরে পরিণত হলো। ছাদটি দানা ছড়ানো ও শিকলে ঝোলানো শকুনের চিত্র দিয়ে সজ্জিত ছিল। এক দেয়ালে রানী মা-মি&#39;কে দেখা যাচ্ছে আনুবিসের দাঁড়িপাল্লায় তার হৃদয় ও সত্যের পালক ওজন করতে আর লিপিকার থোথ ফলাফল লিপিবদ্ধ করছেন। রানীর সব উপাধি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন-&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মহান রাজকীয় উত্তরাধিকারী&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;রাজকীয় বোন&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;রাজকীয় পত্নী&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;রাজকীয় মা&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;দুই ভূমির কর্ত্রী&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;অসীম সুন্দরী&quot; ইত্যাদি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ লক্ষ্য করলেন কোথাও তার স্বামী রাজার নাম উল্লেখ নেই। মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য দেয়ালে মা-মি ও তার &#39;কা&#39; (আত্মা) বিভিন্ন দেবতাকে নৈবেদ্য দিচ্ছেন বা পাতালের ভয়ঙ্কর দানবদের শান্ত করছেন। তাদের নাম উচ্চারণ করে বাধ্য করছেন বলতে: &quot;এগিয়ে যাও। তুমি পবিত্র!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;অবশেষে শেষ দেয়ালে তার সব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিজয়ী রূপে দণ্ডায়মান যেখানে ওসাইরিস তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন অথবা বলা ভালো তার আত্মাকে গ্রহন করছেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;লন্ঠন দোলাতে দোলাতে স্মিথ সবকিছু দ্রুত পর্যবেক্ষণ করলেন। হঠাৎ তার চোখ পড়ল আরেকটি ভয়াবহ দৃশ্যের দিকে। সমাধিকক্ষের মেঝেতে কফিন থাকার জায়গায় কয়লার মতো কালো কিছু টুকরো ছড়িয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারলেন চোর তার কাজ শেষ করে মমিকেস সহ রানীর দেহটিও পুড়িয়ে ফেলেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই কারণ ছাইয়ের মধ্যে কিছু পোড়া হাড় পড়ে আছে আর ছাদ পর্যন্ত ধোঁয়ায় কালো ও আগুনের তাপে ফেটে গেছে। তার আবিষ্কারের জন্য এখানে আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;গুমোট আবহাওয়ায় ক্লান্ত হয়ে তিনি পাথরে খোদাই করা একটি ছোট বেঞ্চ বা টেবিলের উপর বসলেন যেখানে মৃতের জন্য নৈবেদ্য রাখা হতো। সেখানে এখনও কিছু পোড়া ফুলের অবশেষ পড়ে আছে। পায়ের নিচে লন্ঠন রেখে তিনি কিছুক্ষণ বসে সেই পোড়া হাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন। ওইতো নিচের চোয়াল আর তাতে কিছু ছোট, সাদা, সুবিন্যস্ত ও কম ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত। হ্যাঁ, রানী অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন। হতাশা এবং স্থানটির পবিত্রতা স্মিথকে আচ্ছন্ন করেছিল। তিনি আর সেখানে থাকতে পারলেন না। লন্ঠন দুলিয়ে সমাধিকক্ষ ছেড়ে তিনি রঙিন চিত্রযুক্ত করিডোর ধরে ফিরতে লাগলেন। চিত্রগুলো আগামীকাল লিপিবদ্ধ করতে হবে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলেন। কাদার ঢালের নিচে পৌঁছাতেই তার চোখ পড়ল বালির মধ্যে আটকে থাকা একটি বেতের বাক্সের দিকে। বালি সরাতেই দেখা গেল আসলেই এটি একটি বাক্স। প্রায় এক ফুট লম্বা। প্রাচীন মিশরীয়রা যাতে উশাবতি মূর্তি বা মৃতের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য জিনিস রাখত। মনে হচ্ছিল এটি পড়ে গিয়েছিল কারণ এটি একপাশে কাত হয়ে ছিল। আশাহত মনে স্মিথ এটি খুললেন কারণ এমন জায়গায় কোনো মূল্যবান জিনিস পড়ে থাকার কথা নয়।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;প্রথমেই যে জিনিসটি তার চোখে পড়ল সেটি ছিল একটি মমিকৃত হাত, কব্জি থেকে ভাঙা। এটি ছিল অক্ষত অবয়বের একটি নারীর ছোট হাত—অত্যন্ত সুগঠিত, শুকনো ও কাগজের মতো সাদা। লম্বা আঙুলগুলো সম্পূর্ণ  নিখুঁত ছিল। মমিকরণের রীতি অনুযায়ী বাদাম আকৃতির নখগুলো মেহেদি দিয়ে রাঙানো ছিল। হাতে ছিল দুটি সোনার আংটি। এই আংটিগুলোর জন্যই হাতটি চুরি হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেলে দেওয়া হয়েছিল (নিশ্চয়ই এর মধ্যে এমন কিছু ঘটেছিল যার ফলে চোর হাতটি ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছিলো)।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ দীর্ঘক্ষণ সেই হাতের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার হৃদয় ভরে উঠল—এই তো সেই স্বপ্নের রাজকীয় রমণীর হাত!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ শুধু তাকিয়েই থাকেননি তিনি সেটাতে চুমু খেলেন। ঠোঁট স্পর্শ করার মুহূর্তেই তার মনে হলো একটি ঠাণ্ডা সুগন্ধি বাতাস তার কপাল স্পর্শ করলো। এই অদ্ভুত অনুভূতিতে ভীত হয়ে তিনি দ্রুত নিজেকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনলেন এবং বাক্সটি পরীক্ষা করতে লাগলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বাক্সের ভেতরে তিনি আরও কিছু জিনিস পেলেন যা রানীর দেহ থেকে ছেঁড়া মমি কাপড়ের টুকরো দিয়ে অগোছালোভাবে মোড়ানো ছিল। এই গয়নাগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই কারণ সেগুলো এখন মিউজিয়ামের গোল্ড রুমে প্রদর্শিত হচ্ছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;যার লেবেলে লেখা আছে: &quot;রানী মা-মি&#39;র গয়না, ১৮তম রাজবংশ, থিবেস (স্মিথের সমাধি)&quot;। তবে উল্লেখ্য এই সেটটি অসম্পূর্ণ ছিল। যেমন— ডালিম ফুলের গুচ্ছের মতো বিশাল আকৃতির সোনার কানের দুলের একটি মাত্রই ছিল যেখানে এক জোড়া থাকার কথা। এছাড়াও সবচেয়ে সুন্দর হারটি দু&#39;ভাগে ছিঁড়ে গিয়েছিল যার অর্ধেক অংশই অনুপস্থিত।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ বুঝতে পারলেন মমির সাথে সমাধিস্থ করা মূল্যবান বস্তুগুলোর মাত্র একটি অংশ এই বাক্সে রাখা হয়েছিল। তাহলে চোরটি কেন ফেলে গেল? একটু চিন্তা করতেই সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেল। চোরটি সম্ভবত তার অপরাধ লুকানোর জন্য মমি ও কফিন পুড়িয়ে ফেলেছিল কিন্তু ভুলে গিয়েছিল যে মমি এবং তাদের পোশাক কতটা দ্রুত পুড়তে পারে অথবা তার লন্ঠন থেকে দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগে গিয়েছিল। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় চোর কাদার পিচ্ছিল ঢাল বেয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তাড়াহুড়োয় সে বাক্সটি ফেলে যায় কিন্তু ফিরে তা নেওয়ার সাহস পায়নি। ভেবেছিল পরদিন আগুন নিভে গেলে এবং বাতাস বিশুদ্ধ হলে ফিরে এসে নিয়ে যাবে—কিন্তু সেই পরদিন কখনও আসেনি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;যখন স্মিথ সমাধি থেকে বেরিয়ে এলেন তখন ভোরের আলোয় তারাগুলো ম্লান হয়ে আসছিল। এক ঘণ্টা পর সূর্য পুরোপুরি উঠে গেলে মাহমুদ (হঠাৎ তার অসুস্থতা সেরে গিয়েছিল) এবং অন্যান্য শ্রমিকরা হাজির হল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শ্রমিকদের ভাঙা ব্রোঞ্জের মূর্তিটি আর মমিকৃত হাতটি দেখিয়ে স্মিথ বললেন &quot;তোমরা ঘুমাচ্ছিলে আর আমি ব্যস্ত ছিলাম&quot;। যদিও স্মিথ আঙুল থেকে আংটিগুলো ইতোমধ্যে খুলে নিয়েছেন এবং তার পকেটে লুকানো অমূল্য গয়নাগুলোর কথাও তিনি তাদের বলেননি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;পরবর্তী দশ দিন তারা অবিরত খনন কাজ চালিয়ে সমাধি ও তার প্রবেশপথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলল। সিঁড়ির ধাপগুলোর মাথার কাছে তারা এক ব্যক্তির কঙ্কাল পেল যাকে স্পষ্টতই তাড়াহুড়োয় সমাহিত করা হয়েছিল। কপালে কুঠারের আঘাতের চিহ্ন আর মাথার খুলিতে লেগে থাকা চুল থেকে বোঝা গেল সে সম্ভবত একজন পুরোহিত ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মাহমুদের ধারণা যা স্মিথও সমর্থন করলেন &quot;এটিই সেই চোর।&quot; সে যখন পালাচ্ছিল তখন সমাধিস্থলের প্রহরীরা তাকে ধরে ফেলে। সে প্রবেশের ফাঁকাটি ঢেকে রেখেছিল যাতে পরে ফিরে আসতে পারে। প্রহরীরা তাকে বিচার ছাড়াই হত্যা করে ও লুটের মাল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। অথবা তার সঙ্গীরাই তাকে মেরে ফেলেছিল। মাহমুদের এই তত্ত্ব সঠিক কি না তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। হয়তো কঙ্কালটি চোরের নয় কিন্তু সম্ভাবনা বিপরীত দিকেই ইঙ্গিত করে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সমাধিতে আর কিছুই পাওয়া গেল না এমনকি একটি মমির পুঁতিও নয়। স্মিথ বাকি সময় কাটালেন দেয়ালচিত্রের ছবি তোলা ও শিলালিপিগুলো নকল করে যা নানান কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষে রানীর পোড়া হাড়গুলি সমাধির একটি গোপন স্থানে সমাহিত করে তিনি স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব রক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। মাহমুদ ও শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে তিনি কায়রোর উদ্দেশে রওনা হলেন। তার সাথে ছিল সেই অমূল্য গয়নাগুলো যার কথা তিনি কাউকে জানাননি এবং আরও একটি অনন্য নিদর্শন—রানী মা-মি&#39;র সেই হাত যা তার কাছে ছিল সবচেয়ে মূল্যবান।&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhKsF0hW4DUy9TnvttcdM4O2tiyz8LW2BDXY8RLEd56zynjor12k-PXBjD1JbmC0jp_v8o5giQQ9aJuVzXxttoZ5uS_LNGzKytqjWDcpOulWmp8EsnkGH3tkTmQfjWUMFo6leSOCkkk8GglGRl9zEA9P0-xl7P3VVZRokdRm3DI5QutslXyDictqYtqcM4/s1120/smith3.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;770&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhKsF0hW4DUy9TnvttcdM4O2tiyz8LW2BDXY8RLEd56zynjor12k-PXBjD1JbmC0jp_v8o5giQQ9aJuVzXxttoZ5uS_LNGzKytqjWDcpOulWmp8EsnkGH3tkTmQfjWUMFo6leSOCkkk8GglGRl9zEA9P0-xl7P3VVZRokdRm3DI5QutslXyDictqYtqcM4/w616-h770/smith3.png&quot; width=&quot;616&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;পর্বঃ তিন&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;_______________________________________&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ কায়রোর নতুন জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রখ্যাত পরিচালকের ব্যক্তিগত কক্ষে বসে ছিলেন। ঘরটা ছিল খুবই আকর্ষণীয়। মেঝেতে বইয়ের স্তূপ, এখানে-ওখানে ছড়িয়ে আছে সমাধি থেকে আনা নানান জিনিসপত্র। টেবিলের ওপর আছে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সদ্য খুঁজে পাওয়া টলেমীয় যুগের রূপার কয়েন—যেগুলো দু&#39;হাজার বছর ধরে একটি মাটির পাত্রে লুকানো ছিল। ঘরের এক কোণে সম্প্রতি আবিষ্কৃত ছয় বা সাত বছর বয়সী এক রাজকুমারীর মমি রাখা যার কাপড়ে কিছু শিলালিপি আঁকা রয়েছে। আর মমির কাপড়ের গোলাপি বাঁধনের নিচে ঠাঁই পেয়েছে ভালোবাসার শেষ উপহার—শুকিয়ে যাওয়া একটি পদ্মফুল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কী স্পর্শকাতর জিনিস,&quot; স্মিথ মনে মনে ভাবলেন। &quot;আসলে, ছোট্ট মেয়েটিকে শান্তিতে থাকতে দিলেই পারত।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কোমল হৃদয়ের স্মিথ এটা ভাবতে ভাবতেই তিনি টের পেলেন তার ওয়েস্টকোটের ভেতরের পকেটে লুকানো গয়নাগুলো তার গায়ে খচখচ করছে। তার বিবেকটাও ছিল নরম।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ঠিক তখনই পরিচালক ঘরে ঢুকলেন। ভদ্রলোক একজন ফরাসি পণ্ডিত—চনমনে, প্রাণবন্ত ও কৌতূহলী।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আহ, প্রিয় মিস্টার স্মিথ!&quot; চমৎকার ইংরেজিতে বললেন তিনি। &quot;আপনাকে আবার দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে যখন শুনেছি আপনি এবার খুব খুশি মনে ফিরেছেন এবং অনেক সাফল্য নিয়ে এসেছেন। তারা বলছে আপনি একজন রানীর সমাধি খুঁজে পেয়েছেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আচ্ছা তার নাম কী—মা-মি? বেশ অদ্ভুত নাম।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বাড়তি স্বরবর্ণটা কোথা থেকে এল?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শব্দটা সুন্দর শোনানোর জন্য?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আপনি যে কত বড় পণ্ডিত সেটা না জানলে তো ভাবতাম হয়তো নামটা ভুল পড়েছেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মে-মি, মা-মি! ফরাসিতে তো বেশ মিষ্টি শোনায়, তাই না?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মা মি&quot;—মানে &quot;আমার প্রিয়&quot;। হয়তো তার সময়ে সে কারও প্রিয়ই ছিল। যাক, এবার গল্পটা বলুন তো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ তাকে সংক্ষেপে ও পরিষ্কারভাবে পুরো ঘটনা বললেন; এছাড়াও তিনি তার তোলা ছবি এবং শিলালিপির অনুলিপিগুলো বের করে দেখালেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ছবি ও নথিগুলো দেখার পর পরিচালক বললেন &quot;সত্যিই চমৎকার—অত্যন্ত আকর্ষণীয়&quot;।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আপনি এগুলো আমার কাছে রেখে যাবেন আমি সময় নিয়ে দেখব।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আর আপনি নিশ্চয়ই এগুলো প্রকাশ করবেন, তাই না?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;হয়তো কোনও সোসাইটি খরচ বহনে সাহায্য করবে কারণ এগুলো প্রতিলিপি আকারে প্রকাশ করা উচিত। এই ভিগনেটটা দেখুন! খুব অদ্ভুত। ওহ, কী দুর্ভাগ্য সেই বদমাশ পুরোহিত গয়নাগুলো নিয়ে পালিয়েছে আর রানীর দেহ পুড়িয়ে ফেলেছে!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;সে সব গয়না নিয়ে পালাতে পারেনি।&quot; স্মিথ ঘোষণা করলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কী বলছেন, মিস্টার স্মিথ? আমাদের পরিদর্শক আমাকে জানিয়েছিল আপনি কিছুই পাননি।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হয়তো, স্যার; কিন্তু আপনার পরিদর্শক জানত না আমি কী পেয়েছি।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আহা, আপনি তো বেশ বিচক্ষণ মানুষ! তাহলে দেখা যাক।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ ধীরে ধীরে তার ওয়েস্টকোটের বোতাম খুলে ফেললেন। ভেতরের পকেট ও শরীরের অন্যান্য জায়গা থেকে মমির কাপড়ে মোড়ানো গয়নাগুলো বের করলেন—ঠিক যেভাবে তিনি সেগুলো পেয়েছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;প্রথমে তিনি ডালিমের আকৃতির সোনার একটি রাজদণ্ডের মাথা বের করলেন। এর উপর রানি মা-মি&#39;র সিংহাসন নাম এবং উপাধি খোদাই করা আছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কী সুন্দর বস্তু!&quot; পরিচালক বললেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;দেখুন! হাতলটি হাতির দাঁতের ছিল আর সেই চোর পুরোহিত সেটি সকেট থেকে ভেঙে নিয়েছে। তখন হাতলটি নতুন ছিল; মূলত লুটপাট কবর দেওয়ার অল্পকাল পরেই ঘটেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;দেখুন, এই ম্যাগনিফাইং গ্লাসে এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আর কিছু আছে?”&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ তার হাতে সেই অসাধারণ হারটির অবশিষ্ট অর্ধেকটি তুলে দিলেন যা দুইভাগে ছিঁড়ে গিয়েছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি এটি আবার সুতোয় গেঁথেছি,&quot; তিনি ফিসফিস করে বললেন, &quot;কিন্তু প্রতিটি পুঁতি ঠিক তার জায়গায় আছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওহ, হায় আল্লাহ! কী সুন্দর! হাথরের কর্নেলিয়ানের মাথাগুলোর কারুকার্য আর মাঝের সোনার পদ্মফুলগুলো দেখুন–হ্যাঁ, আর নিচে এনামেল করা মাছিরাও আছে। আমাদের জাদুঘরে এর মতো কিছুই নেই।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আর কিছুকি আছে?&quot; অবশেষে পরিচালক হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলেন। ঝুড়ির সমস্ত জিনিস টেবিলের ওপর ঝলমল করছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ,&quot; স্মিথ বললেন। আমি সমাধির বাইরে বালির মধ্যে একটি ভাঙা ছোট মূর্তি খুঁজে পেয়েছিলাম। রানীরই মূর্তি কিন্তু আমি ভেবেছিলাম হয়তো আপনি আমাকে এটা নিজের কাছে রাখতে দেবেন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;অবশ্যই, মিস্টার স্মিথ; এটা আপনারই। আমরা এতটা লোভী নই।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তবুও, যদি আমি একবার দেখতে পেতাম——&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আরেকটি পকেট থেকে স্মিথ মূর্তির মাথাটি বের করলেন। পরিচালক একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন, তারপর আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন:&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি এইমাত্র বলেছিলাম আপনি বিচক্ষণ, মিস্টার স্মিথ, এবং আমি ভাবছিলাম আপনি সৎ। কিন্তু এখন আমি যোগ করতে বাধ্য হচ্ছি - আপনি অত্যন্ত চালাক। যদি আপনি আমাকে এই ব্রোঞ্জের মূর্তিটি আপনার বলে প্রতিশ্রুতি না করাতেন তাহলে এটা আর কখনোই আপনার পকেটে ফেরত যেত না। আর জনস্বার্থে আপনি কি আমাকে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে মুক্তি দিতে পারবেন?&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;না,&quot; স্মিথ বললেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আপনি সম্ভবত জানেন না&quot; পরিচালক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগলেন, &quot;এটি মারিয়েট এর সেই অজ্ঞাত রানীর প্রতিকৃতি যাকে আমরা এখন শনাক্ত করতে পেরেছি। দুটোকে আলাদা করাটা দুঃখজনক ব্যাপার হবে তাই আমরা আপনাকে একটি প্রতিরূপ দিতে পারি।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি ভালো করেই জানি,&quot; স্মিথ বললেন, &quot;আর আমি অবশ্যই আপনাকে ছবিসহ নকলটি পাঠাবো। এছাড়াও আমি ইচ্ছাপত্রে আসলটি কোনও মিউজিয়ামে দান করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;পরিচালক সযত্নে মূর্তিটি জড়িয়ে ধরে আলোর দিকে তুলে ধরলেন এবং বুকের নিচে ভাঙা কার্তুজটি পড়লেন:&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মা-মি, রাজকীয় মহান রমণী। প্রিয়——&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কার প্রিয়? আচ্ছা, স্মিথের প্রিয় একজন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;নিন মশাই, দ্রুত লুকিয়ে ফেলুন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আর ন্যায়ের খাতিরে যে মিউজিয়াম এটি পাবে তা যেন ব্রিটিশ না হয়ে কায়রোর হয় কারণ এই রানী মিশরের সম্পত্তি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;হ্যাঁ, আমি শুনেছি আপনার ফুসফুস দুর্বল। এখন আপনার স্বাস্থ্য কেমন?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আমাদের ঠাণ্ডা বাতাস খুব কষ্টদায়ক।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বেশ ভালো? আহ, চমৎকার!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আমার মনে হয় আপনার কাছে আর কোনো জিনিস নেই যা আমাকে দেখাতে পারেন!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;গয়নার ঝুড়ির মধ্যে পাওয়া একটি মমি করা হাত ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই নেই। এর থেকে দুটি আংটি খুলে নেয়া হয়েছে। হয়তো সেই ব্রেসলেটটা পাওয়ার জন্য হাতটা সরানো হয়েছিল। আমি ধারণা করছি হাতটি রাখলে আপনি কিছু মনে করবেন না——&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;স্মিথের প্রিয়তমার হাত,&quot; পরিচালক রসিকতা করে বললেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;না, আমার মনে হয় না যদিও আমি নিজে এতটা পুরোনো হাত পছন্দ করি না। তবুও বস্তুটি এক ঝলক দেখাতে হয়তো আপনি আপত্তি করবেন না। আপনার সেই পকেটটি এখনও কিছুটা ফোলা দেখাচ্ছে; আমি ভেবেছিলাম তাতে বই আছে!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ একটি সিগার বাক্স বের করলেন; তার মধ্যে তুলোয় মোড়ানো হাতটি ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আহ,&quot; পরিচালক বললেন, &quot;একটি সুন্দর, সুগঠিত হাত।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;নিঃসন্দেহে এই মা-মি সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ফারাও সম্ভবত নিম্ন বংশের কেউ ছিলেন, হয়তো সৎভাই...&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তাকে &#39;রাজকীয় বোন&#39; বলা হয়েছে, আপনার মনে আছে নিশ্চয়ই...&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সম্ভবত ফারাও কোনও দাসীর পুত্র হবে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;অদ্ভুত যে তিনি সমাধিতে তার কথা কখনো উল্লেখ করেননি। মনে হচ্ছে জীবনে তাদের বনিবনা ছিল না এবং মৃত্যুর পরেও তিনি তার থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই হাতেই সেই আংটিগুলো ছিল, তাই না?&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি আংটি দুটি আবার আঙুলে পরালেন, তারপর একটি খুলে নিলেন। এটা একটা কার্তুজ যার মধ্যে খোদাই করা রয়েছে রাজকীয় সিলমোহর। অন্য আংটিতে লিখা রয়েছে: &#39;বেস আংক, আংক বেস&#39;—&#39;বেস দ্য লিভিং, দ্য লিভিং বেস&#39;।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আপনার মা-মি&#39;র মধ্যে কিছু মানবীয় অহংকার ছিল,&quot; তিনি যোগ করলেন। &quot;যেমনটি আপনি জানেন, &#39;বেস&#39; ছিলেন সৌন্দর্য ও নারীসজ্জার দেবতা। মা-মি এই আংটি পরতেন যাতে চিরসুন্দরী থাকতে পারেন। তার পোশাক যেন সবসময় মানানসই থাকে এবং দেবতাদের সামনে নাচার সময় তার গালের আভা যেন ম্লান না হয়ে যায়। মা-মি&#39;র প্রিয় আংটিটি কেড়ে নেওয়া উচিত হবে না। আমাদের জন্য রাজকীয় সিলমোহরটাই যথেষ্ট।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;একটু মাথা নুইয়ে তিনি হাতটি স্মিথকে ফেরত দিলেন। বেস এর আংটিটি তখনো সেই আঙুলেই রয়ে গেল। তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে আংটিটি এই একই আঙ্গুলে পরা ছিল। পরিচালক হাতটি ফেরত দেয়ার সময় স্মিথ এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে এটি বেসের আংটিটাই হবে যার ফলে তিনি সেই মুহূর্তে আর চেক করেন নি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তারপর স্মিথ পরদিন ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় নিলেন—যদিও পরবর্তী ঘটনাবলীর কারণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি।

তিনি চলে যাওয়ার পর যখন দরজা বন্ধ হয়ে গেল তখন নিজের মনে পরিচালক বললেন, “আহ!” তিনি খুব তাড়াহুড়ো করে চলে গেলেন। মনে হচ্ছে আমি যেন সেই আংটি নিয়ে মত না বদলাই সেই ভয়ে আছেন। আর ব্রোঞ্জের মূর্তিটার কথাও তো আছে।
মিস্টার স্মিথ এখানে বেশ চালাকি করেছেন। ওই ব্রোঞ্জের মূর্তিটার দাম হাজার পাউন্ড তো হবেই। তবে আমার বিশ্বাস টাকার কথা তার মাথায় ছিল না।
আমার মনে হয় সে মা-মি&#39;র প্রেমে পড়েছে আর তার ছবি নিজের কাছে রাখতে চায়। কঠিন প্রেম।
তবুও, সে সৎ—আমি নিশ্চিত, একদম সৎ।
আরে বাবা, চাইলে তো সব গয়নাই নিজের কাছে রাখতে পারত, কেউ কিচ্ছুটি জানত না।
আর কি জিনিস! কী আবিষ্কার! সিয়েল! কত বড় আবিষ্কার! বহু বছর পর এমন জিনিস পাওয়া গেছে। অদ্ভুত স্মিথের মাথায় আশীর্বাদ বর্ষিত হোক!”

এরপর তিনি মূল্যবান জিনিসগুলো একত্র করে নিজের সিন্দুকের ভেতরের আলাদা খোপে রেখে ডবল তালা দিলেন। ঘড়িতে তখন প্রায় পাঁচটা বাজে তাই আর বিলম্ব না করে জাদুঘর থেকে নিজের বাসভবনে চলে গেলেন। সেখানে স্মিথের নকল করা শিলালিপির কপি ও ছবি নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তাছাড়া বন্ধুদেরকে এই অসাধারণ ঘটনাগুলোও তো বলতে হবে।

স্মিথ দরজার বাইরে বৃদ্ধ প্রহরীকে পাঁচ পিয়াস্ট্রি বকশিশ দিলেন। তারপর ডানদিকে কয়েক কদম এগিয়ে দেখতে পেলেন কিছু স্থানীয় শ্রমিক অস্থায়ী ট্রামলাইনে বসিয়ে একটি বিশাল সারকোফেগাস টানছে। টানতে টানতে তারা গলা মিলিয়ে ছন্দে ছন্দে গান গাইছিল, যার প্রতিটি লাইন শেষ হতো আল্লাহর নামে।

&quot;ঠিক এভাবেই&quot; স্মিথ ভাবলেন, হাজার হাজার বছর আগে তাদের পূর্বপুরুষরাও গান গেয়েছিল যখন তারা এই একই সারকোফেগাসটা খনির পাহাড় থেকে নীল নদের দিকে, আবার সেখান থেকে সমাধিতে টেনে নিয়ে গিয়েছিল—যেখান থেকে আজ আবার বের করা হয়েছে। কিংবা যখন তারা পিরামিডের পাথরের ব্লকগুলো বিশাল র‍্যাম্প আর মসৃণ বালির ঢালে গড়িয়ে তুলেছিল শুধু তখন শ্রমের সেই চিরন্তন গানের প্রতিটি লাইনের শেষে &#39;আমেন&#39; এর নাম থাকত আর এখন সেখানে &#39;আল্লাহ&#39; এর নাম স্থান দখল করেছে। প্রাচ্য তার শাসক আর দেবতা বদলালেও রীতিনীতিগুলো কখনোই বদলায় না!

ভাবতে ভাবতে স্মিথ সেই সারকোফেগাস আর নীল পোশাক পরা কালো চামড়ার শ্রমিকদের পাশ কাটিয়ে হাজারো ভাস্কর্যে ভরা লম্বা করিডোর ধরে দ্রুত সরে গেলেন। পথিমধ্যে রানী আমেনার্তাসের অপূর্ব সাদা মূর্তির সামনে এক মুহূর্ত দাঁড়ালেন, তারপর মনে পড়ল হাতে সময় কম—তাড়াহুড়ো করে করিডোরের পাশের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে ঢুকে পড়লেন।

কক্ষটির এক কোণে দেয়ালের ওপর অনেক সুন্দর জিনিসের মাঝে ছিল সেই মাথাটি যা মারিয়েট খুঁজে পেয়েছিলেন আর ব্রিটিশ মিউজিয়ামে যার প্রতিরূপ দেখে স্মিথ বহু বছর আগেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। এখন তিনি জানেন এটি কার মাথা; তারই সমাধি খুঁজে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে স্মিথের। এমনকি তার আসল হাত এখন স্মিথের পকেটে—হ্যাঁ, সেই হাত যা একদিন ওই মার্বেল ছুঁয়েছিল। ভাস্করকে তার ভুল দেখিয়ে দিচ্ছিল, হয়তো বলেছিল কিভাবে খোঁদাই করলে তাকে আরও বেশি সুন্দর দেখাবে।
স্মিথ ভাবলেন, সেই ভাস্কর কে ছিলেন? নিশ্চয়ই তিনি খুব সুখী মানুষ ছিলেন।
আবার ভাবলেন, ছোট মূর্তিটিও কি সেই শিল্পীরই কাজ? অবশ্য তার তাই মনে হচ্ছিল, তবে তিনি নিশ্চিত হতে চাইলেন।

ঘরের একদম শেষে গিয়ে স্মিথ চোরের মতো চারপাশে তাকালেন। পুরো ঘরে তিনি একা; কোনো ছাত্র বা পর্যটক নেই, আর প্রহরীও যেন কোথাও চলে গেছে। তিনি মমির হাত রাখা বাক্সটি বের করলেন। ধীরস্থিরভাবে আঙ্গুল থেকে আংটিটি খুলে ফেললেন। যদিও সিলমোহরওয়ালা আংটিটা তার বেশি পছন্দ ছিল কিন্তু ব্রোঞ্জের মূর্তির ঘটনার পর সেটা তো আর চাওয়া যায় না।

মমিকৃত হাতটা বাক্সে ভরে আবার পকেটে রেখে দিলেন। আশেপাশে দ্রুত একবার চোখ ভুলিয়ে দেখে নিলেন কেউ আছে কিনা। তারপর আংটিটা নিজের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে পরে নিলেন যা একদম ঠিকঠাক ফিট হল। মা-মি দুটো আংটিই তার বাম হাতের মধ্যমায় পরতেন। স্মিথের মনে হলো মা-মি&#39;র নিজের আংটি পরে তার মূর্তির সামনে দাঁড়ানো উচিত। এই মাত্রই তো মা-মির আংটি তার হাজার বছর পুরনো আঙ্গুল থেকে এখন স্মিথের আঙ্গুলে এসে পরেছে—এটাই কি কম অদ্ভুত ব্যাপার?

মাথাটি আগের যায়গাতেই আছে। শেষবার এটি দেখার পর কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে আর এখন তার চোখে এটা আগের চেয়েও সুন্দর মনে হচ্ছে। উপরন্তু হাসিটা ছিল আরও রহস্যময় এবং প্রাণবন্ত। তিনি ছোট মূর্তিটি বের করলেন এবং পয়েন্ট বাই পয়েন্ট বড়টার সাথে তুলনা করতে লাগলেন। কোনো সন্দেহ নেই, উভয়ই একই নারীর প্রতিকৃতি যদিও ছোট মূর্তিটা হয়তো বড়টার থেকে দুই-তিন বছর পরে তৈরি করা হয়েছিল। তার কাছে বড় মূর্তিটির মুখ একটু বেশি বয়সী এবং আধ্যাত্মিক মনে হচ্ছিল। হয়তো অসুস্থতা বা মৃত্যুর পূর্বাভাস তখন রাণীর উপর ছায়া ফেলেছিল। তিনি বারবার তুলনা করলেন। কিছু আনুমানিক মাপ ও স্কেচ করলেন তার পকেটবুকে এবং অনুপাতের একটি নিয়ম বের করার চেষ্টা করলেন।

এতই নিমগ্ন হয়ে তিনি কাজ করছিলেন যে মিউজিয়াম বন্ধ হওয়ার স্বাভাবিক সতর্কতা ঘণ্টাটি শুনতেই পেলেন না। স্মিথ দূরের এক অন্ধকার কোণে একটি বেদীর আড়ালে লুকিয়ে থাকায় কক্ষের প্রহরী শেষবারের মতো যখন চেক করতে এলো তাকে দেখতেই পেল না। এদিকে আগামীকাল শুক্রবার, মুসলমানদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ মিউজিয়াম বন্ধ থাকবে। তাই শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রহরীর আর আসার প্রয়োজন নেই। স্মিথকে একা রেখে সবাই চলে গেল। বিশাল দরজাগুলো শব্দ করে বন্ধ হলো–তালা ও বল্ট লাগানো হলো এবং বাইরে একজন প্রহরী ছাড়া সেই বিশাল প্রাঙ্গনে আর কেউ রইল না। এদিকে স্মিথ এক কোণে বসে স্কেচ ও মাপ নিয়ে ব্যস্ত।

ছায়া বাড়ার কারণে দেখতে অসুবিধা হওয়ায় তার নজর পড়ল যে সময় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে পাঁচটা বাজতে দশ মিনিট বাকি।

&quot;শীঘ্রই চলে যেতে হবে,&quot; মনে মনে ভাবলেন এবং আবার কাজে লেগে পড়লেন।

কী অদ্ভুত নীরবতা! কোথাও কোনো পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না, না কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি আবার ঘড়ি দেখলেন। এবার দেখা গেল ছয়টা বাজে, পাঁচটা নয়—অন্তত ঘড়িতে সেটাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এটা অসম্ভব কারণ মিউজিয়াম তো পাঁচটায় বন্ধ হয়; স্পষ্টতই মরুভূমির বালি ঘড়ির যন্ত্রের মধ্যে ঢুকে গেছে। স্মিথ &#39;আই&#39; নাম্বার রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একজন আরব প্রহরী প্রায়শই এই রুমের উপর দিয়ে রুম &#39;কে&#39; বা বাইরের গ্যালারিতে যাতায়াত করত। এখন তাকে খুঁজে বের করে সঠিক সময় জানতে হবে।

হাথরের মূর্তির পাশ কাটিয়ে স্মিথ দরজার কাছে এসে গ্যালারির দুই দিকে তাকালেন। কোথাও কেউ নেই। তিনি দৌড়ে &#39;রুম কে&#39;, &#39;রুম এইচ&#39; এবং অন্যান্য কক্ষগুলোতেও গেলেন। কাউকে দেখা গেল না। তখন তিনি যথাসম্ভব দ্রুত প্রধান প্রবেশদ্বারের দিকে ছুটলেন। দরজাগুলো তালাবদ্ধ ও বল্ট লাগানো।

&quot;ঘড়িটা ঠিকই আছে। আমি আটকে পড়েছি&quot; স্মিথ নিজের মনে বললেন।
&quot;তবুও আশেপাশে কোথাও কেউ তো থাকবে। সম্ভবত বিক্রয়কেন্দ্র এখনও খোলা আছে। দোকানপাট তো বাধ্য না হলে বন্ধ করে না।&quot;

সেখানে গিয়ে দেখলেন একইরকমভাবে এই দরজাটাও শক্তভাবে বন্ধ। তিনি দরজায় কড়া নাড়লেন কিন্তু শুধু একটি কর্কশ প্রতিধ্বনি ছাড়া কোনো উত্তর এলো না।

&quot;আমি জানি,&quot; তিনি ভাবলেন, &quot;পরিচালক নিশ্চয়ই এখনও তার কক্ষে আছেন। সব গয়না পরীক্ষা করে গুছিয়ে রাখতে তার অনেক সময় লাগবে।&quot;

তাই তিনি সেই কক্ষে যাওয়ার জন্য পথ ধরলেন। দুইবার পথ হারালেও শেষমেশ আরবরা যে সারকোফেগাস টানছিল তার সাহায্যে কক্ষটি খুঁজে পেলেন। সারকোফেগাসটি এখন সমাধির মতোই নিঃসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—ক্রমশ ঘনিয়ে আসা অন্ধকারে একটি বিষাদময় বস্তু। পরিচালকের দরজাও বন্ধ ছিল। কড়া নাড়ায় শুধু প্রতিধ্বনি ছাড়া কোনো সাড়া মিলল না। এরপর তিনি মিউজিয়ামের চারপাশে ঘুরতে শুরু করলেন। নিচতলা খুঁজে বের করে বড় সিঁড়ি দিয়ে উপরের গ্যালারিতে উঠলেন।

অবশেষে নিজেকে রাজকীয় মমিগুলোর প্রদর্শনীতে পেলেন আর ক্লান্ত হওয়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেন। তার সামনে, গ্যালারির মাঝখানে একটি কাঁচের বাক্সে বিশ্রাম নিচ্ছিল দ্বিতীয় রামেসিস। কাছাকাছি পাশের একটি বাক্সে ছিল রামেসিসের পুত্র মেনেপটাহ, আর তার উপরে তার পুত্র দ্বিতীয় সেটি, আর অন্যান্য বাক্সে মিশরের আরও অনেক রাজপরিবারের দেহাবশেষ ছিল। তিনি রামেসিসের গর্বিত মুখ এবং মমির মশলার কারণে হলদে হয়ে যাওয়া সাদা চুলের ছোট গোছা আর খানিকটা উঁচু করে রাখা বাম হাতটির দিকে তাকালেন।

তার মনে পড়ল পরিচালক তাকে বলেছিলেন &quot;এই পরাক্রমশালী রাজার মমি খোলার ফাঁকে এক প্রহরীকে দায়িত্বে রেখে তারা লাঞ্চ করতে গিয়েছিলেন। এর কিছুক্ষন পরই ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে প্রহরীটি তাদের কাছে দৌড়ে এসে বলেছিল যে মৃত রাজা হাত তুলে তার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করছে! প্রহরীটির চুল খাড়া হয়ে গিয়েছিল।

তারা ফিরে এসে দেখলেন সত্যিই হাতটি কিছুটা উঁচু হয়ে আছে; আর তারা কখনই সেটাকে পুরোপুরি আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল যে সূর্যের উষ্ণতা শুকিয়ে যাওয়া পেশীগুলোকে সংকুচিত করেছে, যা খুবই স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গত।

তবুও স্মিথ চাইল না সে এই গল্পটি এই মুহূর্তে মনে করুক—বিশেষ করে যখন সে দেখল যে হাতটি যেন একটু নড়ছে... খুব সামান্য, তবুও নড়ছে!

&lt;/span&gt;&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEje6pT3X9Ri4VK9GGHzvoYGPFalAB3Li9XnVF2DLpxJo1veKEwS9BxtNRsFzEhS4B8-Cin8MgjZ4NW1IY7QOz_fLbdihU2LOWopq1hs27qpH37TPEczTI80U4smEWgcY73SfvUxnpBa_vc3uvK5pdkDS8OiShavHRb3THECUawbsI113ctbtmXH5nYNLMw/s1120/smith4.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;805&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEje6pT3X9Ri4VK9GGHzvoYGPFalAB3Li9XnVF2DLpxJo1veKEwS9BxtNRsFzEhS4B8-Cin8MgjZ4NW1IY7QOz_fLbdihU2LOWopq1hs27qpH37TPEczTI80U4smEWgcY73SfvUxnpBa_vc3uvK5pdkDS8OiShavHRb3THECUawbsI113ctbtmXH5nYNLMw/w644-h805/smith4.png&quot; width=&quot;644&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;পর্বঃ ৪&lt;/span&gt;&lt;/h3&gt;&lt;div style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;_______________________________________&lt;/span&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ ঘুরে মেনেপতাহের দিকে তাকালেন। মমির শুকনো চামড়ার মতো মুখের ওপর এলোমেলোভাবে জড়ানো কাপড়ের ফাঁক দিয়ে তার খালি চোখ দুটো যেন স্মিথের দিকে তাকিয়ে আছে। এই মুখই একদিন মুসার দিকে রাগে কুঁচকে উঠেছিল। এই হৃদয়ই আল্লাহ শক্ত করে দিয়েছিলেন। তার হার্ট একদম পাথরের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছিলো—ডাক্তাররা বলেছিলেন ধমনী শক্ত (ক্যালসিফিকেশন) হয়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছিল আর হার্ট এর নালীগুলো ছিল সাদা চুনে পরিপূর্ণ!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ একটি চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে উপরে &#39;দ্বিতীয় সেটির&#39; মমির দিকে তাকালেন। তার দুর্বল চেহারাটা শান্ত মনে হলেও যেন কোনো অভিযোগের ভাব ছিল। নিচে নামার সময় স্মিথ ভারী চেয়ারটা উল্টে ফেললেন। চেয়ার পতনের শব্দ এতই ভয়ানক ছিল যে তিনি ভাবতেই পারেননি একটা চেয়ারের পতনে এত আওয়াজ হতে পারে! এই রাজাদের মমিগুলোকে আগে যতবার দেখেছেন তার চেয়ে আজ একদম অন্যরকম লাগছিল—যেন তারা আরও বাস্তব এবং জীবন্ত হয়ে উঠেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ আবার জীবিত মানুষের সন্ধানে বের হলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি এগোতে থাকলেন—ডানদিকে মমি, বামদিকে মমি, নানা ধরণের ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ের। স্মিথ এতটাই বিরক্ত হলেন যে জীবনে তিনি আর কোনো মমি দেখতে চাইবেন না। মহান রানী তাইয়ার পিতা-মাতা—ইউইয়া ও তুইয়ো যে রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি সেখানে উঁকি দিলেন। তাদের উপর কাপড় টানা ছিল যা তাদেরকে আরও ভয়ানক করে তুলেছে—নগ্ন কালো অবয়বের চেয়েও আরও ভয়ংকর এবং রহস্যময় লাগছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তারপর তিনি গেলেন বিশ শতকের পুরোহিত-রাজাদের কফিনের কাছে। সেগুলো ছিল মানুষের মুখাকৃতির বড় বড় রঙিন কফিন। মনে হচ্ছিল এই পুরোহিত-রাজাদের সংখ্যা অনেক! তবে এরা সম্ভবত টলেমীয় যুগের রাণীদের সেই সোনার মুখোশগুলোর চেয়ে ভালো যেগুলো গোধূলির আলোয় ঝলমল করছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সত্যি বলতে, উপরের তলায় তার আর দেখার ইচ্ছা রইল না। নিচের তলার মূর্তিগুলো এই সব মৃতদেহের চেয়ে ভালো—যদিও মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রতিটি মূর্তি চিরকাল আত্মা বা &#39;কা&#39; দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে। তিনি বড় সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এটা কি কল্পনা, নাকি সত্যি?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সিঁড়ির নিচের ধাপে কিছু একটা যেন তার সামনে দিয়ে ছুটে গেল?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কোনো প্রাণী আর তার পিছনে একটা অস্পষ্ট দ্রুতগামী ছায়া?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;যদি তাই হয়, তাহলে এটা নিশ্চয়ই মিউজিয়ামের বেড়াল যা কোন ইঁদুর তাড়া করছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিন্তু তাহলে সেই অদ্ভুত এবং অপ্রীতিকর ছায়াটি কী ছিল?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি ডেকে উঠলেন, &quot;বিলি! বিলি! বিলি!&quot;। বেড়ালের সঙ্গ এখন তার খুব প্রয়োজন কিন্তু কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ &quot;মিয়াউ&quot; শোনা গেল না। হয়তো সেটা বিড়ালের &#39;কা&#39; ছিল আর ছায়াটা?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আহ, সেটার ব্যাপারে চিন্তা করা ঠিক হবেনা। মিশরীয়রা বেড়াল পূজা করত আর এখানে তাকজুড়ে তাদের প্রচুর মমি রয়েছে। কিন্তু ওই ছায়া?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;একবার তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইলেন কারণ কোনো জানালা দিয়ে বেরোনোর উপায় ছিল না। এই একবারই—পরবর্তীতে তিনি আর চিৎকার করলেন না কারণ মনে হলো হাজার হাজার কণ্ঠস্বর এই বিশাল ভবনের প্রতিটি কোণ ও ছাদ থেকে তাকে জবাব দিচ্ছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ঠিক আছে, তাকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে। সে তো মিউজিয়ামে আটকে পড়েছে আর এখন ভাবতে হবে রাতটা কোথায় কাটাবে। তাছাড়া অন্ধকার দ্রুত বাড়ছে, তাই এই সমস্যার সমাধান এখনই করতে হবে। তিনি আজ ডিরেক্টরের কাছে যাওয়ার আগে দুপুরে এক আরব প্রহরীর সাহায্যে যে টয়লেটে হাত ধুয়েছিলেন সেটার কথা ভাবলেন। প্রহরীটি দরজা পাহারা দিত আর বিনিময়ে পিয়াস্ট্রি বখশিশ নিত। কিন্তু এখন সেই আরব নেই আর টয়লেটের দরজাটাও এই অভিশপ্ত জায়গার বাকি সব দরজার মতো তালাবদ্ধ। তিনি প্রবেশদ্বারের দিকে এগিয়ে গেলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এখানে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল মহান রানী হাতশেপু এবং তার ভাই ও স্বামী তৃতীয় থটমেস এর লাল গ্রানাইটের সারকোফেগাস। স্মিথ তাদের দিকে তাকালেন। এই দুটির মধ্যে কোনো একটিতে রাত কাটানো যায় না?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এগুলো গভীর ও শান্ত আর মানুষের শরীরের জন্য একদম উপযুক্ত।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিছুক্ষণ স্মিথ ভাবলেন—এই দুইজনের মধ্যে কে তার এমন ব্যবহার দেখে রাগ করতে পারেন? সাধারণ যুক্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে রানীর দয়ার উপর নিজেকে ছেড়ে দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তার এক পা ইতিমধ্যেই সেই কফিনের কিনারা অতিক্রম করেছে আর তিনি তার শরীরকে কাঠের ব্লকের উপর রাখা বিশাল ঢাকনার নিচে প্রবেশ করাচ্ছিলেন—ঠিক তখনই তার মনে পড়ল থিবসের রাজাদের উপত্যকায় দ্বিতীয় আমেনহোটেপ এর সমাধির পাশের কক্ষে এক ছোট নগ্ন, শুকনো ও দীর্ঘ কেশের মমিটির কথা। যাকে অনেকেই রানি হাতশেপুর আসল দেহ বলে বিশ্বাস করে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;একটু কল্পনা করুন তো, স্মিথ যখন এই সারকোফেগাসের তলায় শুয়ে থাকবে তখন এই ছোট্ট ভুতুড়ে মুখটি কফিনের কিনারা থেকে উঁকি দিয়ে যদি জিজ্ঞেস করে—&quot;এখানে তুমি কী করছ?&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;অবশ্য ভাবনাটা হাস্যকর; স্মিথ ক্লান্ত আর তার স্নায়ুগুলো দুর্বল ছিল। তবুও আসল ব্যাপারটি হলো শতাব্দী ধরে রানী হাতশেপুর মমি যেখানে শুয়েছিল যেখানে সে অর্থাৎ একজন আধুনিক মানুষ শুতে চাচ্ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ তৎক্ষণাৎ কফিন থেকে নেমে এসে চারপাশে তাকালেন। মূল প্রবেশদ্বারের বিপরীতে ছিল মিউজিয়ামের বিশাল কেন্দ্রীয় হল। তিনি জানতেন এই হলের ছাদ সংস্কারের কাজ চলছিল। পরিচালক তাকে জানিয়েছিলেন এই কাজ শেষ হতে কয়েক বছর লাগবে। যার ফলে পুরো এলাকাটি কাঠের বোর্ড দিয়ে ঘেরা শুধু একটি ছোট দরজা খোলা ছিল শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য। কিছু মূর্তি যেমন দ্বিতীয় সেটি এবং অন্যান্য বড় বড় মূর্তি, যেগুলো সরানো সম্ভব নয়—সেগুলো মোটা কাঠ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রবেশদ্বারের দুপাশে রাখা ছিল প্রাচীন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকাগুলো। ২০০ ফুট লম্বা এই বিশাল হলঘরটি প্রায় খালি—শুধু দূর প্রান্তে গ্যালারির নিচে দাঁড়িয়ে আছে তৃতীয় আমেনহোটেপ ও রানি তাইয়ার দুটি বিরাট মূর্তি। অন্ধকারে তাদের ছায়া যেন আরও বড় হয়ে উঠেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওটা ছিল ঘুমানোর জন্য এক ভয়ংকর জায়গা&quot; স্মিথ ভাবলেন, যদি ওই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকাগুলোর একটির চারপাশে লাগানো বোর্ডের পেছনে লুকনো যায় তাহলে বেশ আরামদায়ক হবে। অন্তত সারকোফেগাস বা মমির ঘরের চেয়ে এটা অনেক ভালো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সন্ধ্যার অন্ধকার নামতে আরম্ভ করেছে—তিনি পর্দা সরিয়ে হলের ভেতর প্রবেশ করলেন। শুধু স্কাইলাইটগুলো আর দূরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দৈত্যাকার মূর্তির রূপরেখা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে আছে সকালে দেখা সেই দুইটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নৌকা। ডানদিকের নৌকাটির দিকে হাতড়ে হাতড়ে এগোলেন। দেখা গেল স্মিথ ঠিক ধারণাই করেছিলেন। নৌকার ধনুকের দিকের কাঠের বোর্ডগুলো একটু ফাঁকা। ফাঁক গলে হামাগুড়ি দিয়ে নৌকার মাঝখানে গিয়ে শুয়ে পড়লেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শোয়ার প্রায় সাথে সাথেই ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পরলেন—তবে কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন তা তিনি নিজেও জানেন না। হটাৎ জেগে উঠলেন, চারপাশ তখন ঘন অন্ধকার। যেহেতু হাত ঘড়িটি অটোমেটিক না তাই সময় দেখার উপায় নেই। পকেটে অবশ্য কয়েকটি দেশলাইয়ের কাঠি ছিল যার অন্তত একটা জ্বালিয়ে হয়তো পাইপ ধরানো যেতো। কিন্তু স্মিথ তা করলেন না কারণ তিনি জানতেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান মিউজিয়ামগুলোর একটিতে তিনি এখন অতিথি হিসেবে রাত্রিযাপন করছেন এবং আগুন লাগার ব্যাপারে সাবধান থাকা তার দায়িত্ব। পাঁচ হাজার বছরের পুরনো শুকনো কাঠের নৌকার নিচে দেশলাই জ্বালানো নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ এখন সম্পূর্ণ সজাগ। মনে হয় সারাজীবনে তিনি কখনো এত সতর্ক অনুভব করেননি—তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুহূর্তেও নয়। তার স্নায়ুগুলো যেন বীণার তারের মতো টানটান—প্রতিটি ইন্দ্রিয় অসম্ভব রকম তীক্ষ্ণ। এমনকি তিনি উপরের গ্যালারি থেকে আসা মমিগুলোর গন্ধও পাচ্ছিলেন সাথে এই নৌকার মাটির ঘ্রাণতো রয়েছেই যা মিশরীয় পঞ্চম রাজবংশের কোনো এক পিরামিডের পাদদেশে হাজার বছর ধরে বালির নিচে চাপা পড়ে ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;উপরন্তু তিনি নানারকম অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন—ক্ষীণ ও দূরবর্তী আওয়াজ যেগুলো প্রথমে মনে হয়েছিল কায়রো শহর থেকেই আসছে। তবে শীঘ্রই তিনি নিশ্চিত হলেন যে এসব শব্দ আসলে অনেক কাছাকাছি কোনো জায়গা থেকেই আসছে। নিঃসন্দেহে গ্যালারির সিমেন্ট ও কাঠের কেসগুলো ফাটছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই অপ্রীতিকর শোনাচ্ছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিন্তু এসব সাধারণ ব্যাপার এতটা শব্দ করছে কেন আর কেনই বা তার মধ্যে এত অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করছে? সত্যিই মনে হচ্ছিল যেন চারদিকে কারা ঘুরঘুর করছে। আরও অবাক ব্যাপার হচ্ছে তিনি যেন নিশ্চিত ছিলেন যে তার নিচে থাকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিশাল নৌকাটিতে আবার সেই পুরনো নাবিকরা ফিরে এসেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি তাদের কাজের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। কারও পায়ের শব্দ আর ভারী জিনিস ডেকের উপর রাখার মতো আওয়াজ—যেমনটা হয়েছিল যখন ফারাওয়ের মমিটা শেষ যাত্রার জন্য নীল নদের পশ্চিম পাড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় নৌকায় তোলা হয়েছিল। হ্যাঁ, এবার তো মনে হলো সেই পুরোহিত নাবিকরা বৈঠা বের করছে!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ ভাবলেন, &quot;এখান থেকে পালিয়ে যাওয়াই ভালো হবে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আর ঠিক তখনই একটা ঘটনা দেখে সেখানে আঠার মত আটকে গেলেন। তিনি নড়ার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেললেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;দেখলেন বিশাল হলঘরটা আলোকিত হচ্ছে কিন্তু তা ভোরের আলো নয়—ফ্যাকাসে ভুতুড়ে তীব্র নীলচে আলো যা তিনি আগে কখনও দেখেননি। প্রথমে হলঘরের একদম শেষ প্রান্ত থেকে একটা পাখার কিংবা ঝর্ণার মতো আলো উঠতে লাগলো এবং সিঁড়িগুলো আর তাদের ওপরে বসে থাকা দুই বিশাল মূর্তিকে আলোকিত করে তুললো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিন্তু সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই জ্যোতির্ময় ব্যক্তিটি কে? &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;হায় আল্লাহ! এ তো স্বয়ং ওসাইরিস বা মৃতদের দেবতা ওসাইরিসের মূর্তি—মিশরীয়দের বিশ্ব ত্রাণকর্তা!&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি তার মমির কাপড়ে আবৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। মাথায় পালকের মুকুট আর হাত দুটো কাপড়ের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আছে —এক হাতে রাজদণ্ড, আরেক হাতে চাবুক।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি জীবিত নাকি মৃত?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ বুঝতে পারলেন না কারণ ওসাইরিস নড়ছিলেন না—শুধু শান্ত ভীতিকর ও করুণ মুখে শূন্যের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ বুঝতে পারলেন যে দেবতা ও তার মাঝের অন্ধকার স্থান এখন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে—এক বিশাল জনসমাবেশ ঘটেছে। নীল আলো আরও বাড়তে লাগল। দীর্ঘ শিখাগুলো একত্রিত হয়ে সমগ্র হলঘরটিকে আলোকিত করে তুলল।&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এবার তিনি সমাবেশটিকে স্পষ্ট দেখতে পেলেন। তার সামনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন মিশরের ফারাও ও রানিরা। যেন কোনো অদৃশ্য সংকেত পেয়ে তারা সবাই একসাথে ওসাইরিসের উদ্দেশ্যে মাথা নত করলেন এবং তাদের অলংকারের মৃদু ঝংকার থেকে যাওয়ার আগেই হঠাৎ—ওসাইরিস অদৃশ্য হয়ে গেলেন। কিন্তু পরক্ষনেই তার স্থান দখল করলেন আরেকজন—দেবী আইসিস, রহস্যের জননী। তার গভীর চোখ দুটি রত্নখচিত শকুনের মুকুটের নিচ থেকে জ্বলজ্বল করছিল। আবারও সবাই মাথা নত করলেন আর সাথে সাথেই তিনিও অদৃশ্য হয়ে গেলেন। এবার তার জায়গায় এলেন আরও একজন দেবী—উজ্জ্বল, মোহনীয়, হাতে জীবনচিহ্ন আর মাথায় উজ্জ্বল সূর্যচক্রের প্রতীক। ইনি প্রেমের দেবী হাথোর। তৃতীয়বারের মতো সবাই নত করলেন আর তিনিও মিলিয়ে গেলেন—এবার আর কেউ তার জায়গায় এলো না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এরপর ফারাও ও রানিরা একে অপরের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন। স্মিথের মনে হল তাদের সকলের কণ্ঠস্বর মিলেমিশে এক মিষ্টি গুঞ্জনে পরিণত হয়েছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বিস্ময়ে স্মিথ ভয় পেতে ভুলে গিয়েছিলেন। লুকানো জায়গা থেকে তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে তাদের দেখছিলেন। তাদের কয়েকজনকে তিনি মুখ দেখে চিনতে পারলেন। যেমন ওই যে লম্বা গলার খু-এন-আতেন—কিছুটা রাগান্বিত ভঙ্গিতে কথা বলছেন সম্রাট দ্বিতীয় রামেসিসের সাথে। স্মিথ আশ্চর্যভাবে তাদের কথাবার্তা বুঝতে পারছিলেন—যেন এই ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছে। খু-এন-আতেন এক তীক্ষ্ণ কিন্তু দুর্বল কণ্ঠে অভিযোগ করছিলেন যে বছরের এই একটিমাত্র রাতে যখন তারা সবাই মিলিত হতে পারেন, তখন দেবতারা বা তাদের পূজার জন্য দেবতাদের যে মূর্তিগুলো রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে তার দেবতা অর্থাৎ সূর্যচক্র &#39;আতেন&#39;-এর কোনো মূর্তি রাখা হয়নি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আপনার দেবতার কথা আমি শুনেছি&quot; রামেসিস উত্তর দিলেন, &quot;পুরোহিতরা আমাকে তার কথা বলত আর এটাও বলত যে আপনি স্বর্গে চলে যাওয়ার পর তিনি বেশিদিন টিকেননি। আমেনের পুরোহিতরা আপনাকে ধর্মদ্রোহী বলে বদনাম দিয়েছিল আর আপনার নামের কার্তুজও মুছে দিয়েছিল। আমার সময়ে সেগুলো বড়ই দুর্লভ ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আহ, রাগ করবেন না! আমাদের অনেকেই তো বিধর্মী ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;যেমন আমার নাতি সেতি—এই বলে তিনি একজন নম্র, চিন্তাশীল চেহারার লোককে ইঙ্গিত করলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শুনেছি, সে নাকি সত্যিই সেই হিব্রু দাসদের দেবতাকে পূজা করত যাদের দিয়ে আমি আমার শহর বানাতাম। ওর সাথের মহিলাটার দিকে তাকান—সুন্দরী, না? তার বড় বড় বেগুনি রঙের চোখগুলো দেখুন! আসলে এই মহিলাই সব গণ্ডগোল করেছিল, সে নিজেও ছিল হিব্রু। অন্তত তারা আমাকে তাই বলেছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি তার সাথে কথা বলব,&quot; খু-এন-আতেন জবাব দিলেন। &quot;একেবারেই সম্ভব যে আমাদের কিছু বিষয়ে মিল আছে। তবে এখনই আপনাকে আমি কিছু ব্যাখ্যা করতে পারি—&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওহ, দয়া করে এখন নয়। ওই তো আমার স্ত্রী আসছেন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আপনার স্ত্রী?&quot; খু-এন-আতেন সোজা হয়ে দাঁড়ালেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কোন স্ত্রী? শুনেছি আপনার অনেক স্ত্রী ছিল এবং আপনি একটি বিশাল পরিবার রেখে গেছেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;সত্যিই, আজ রাতে তাদের শত শত জনকে আমি এখানে দেখতে পাচ্ছি। “তবে আসুন” খু-এন-আতেন বললেন, আপনাকে আমার নেফারতিতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। তিনি আমার একমাত্র স্ত্রী ছিলেন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ, আমি তাই শুনেছি। আপনার শরীর তেমন ভালো যেত না, তাই না? অবশ্য এমন পরিস্থিতিতে একজন বিশ্বস্ত নার্সই বেশি পছন্দনীয় হওয়ার কথা।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ওহ, দয়া করে ভুল বুঝবেন না! নেফারতারি, আমার ভালোবাসা—ওহ, মাফ করবেন! আস্তনেফারত—নেফারতারি তার কিছু সন্তানের সাথে কথা বলতে গেছেন। আমি আপনাকে আপনার পূর্বসূরি চতুর্থ আমেনহোটেপের স্ত্রী রানি নেফারতিতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। (মানে চতুর্থ আমেনহোটেপ আর খু-এন-আতেন একই ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তার নাম পরিবর্তন করে নামের অর্ধেক অংশ দেবতাদের পিতার নামে রেখেছিলেন।) এই রানি বহুবিবাহে আগ্রহী ছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আচ্ছা বিদায়! আমি আমার দাদু প্রথম রামেসিসের সাথে কথা বলতে চাই। ছোটবেলায় তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই মুহূর্তে স্মিথের সেই অদ্ভুত কথোপকথনের প্রতি আগ্রহ চলে গেল কারণ হঠাৎই তিনি তার স্বপ্নের রানি মা-মি-কে দেখতে পেলেন! হ্যাঁ, সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই তিনিই দাড়িয়ে আছেন। স্মিথ যেমনটি কল্পনা করেছিলেন তিনি তার চেয়েও কমপক্ষে দশগুণ বেশি সুন্দরী।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মা-মি লম্বা এবং কিছুটা ফর্সা—গভীর তন্দ্রাচ্ছন্ন কালো চোখ আর মুখে সেই রহস্যময় হাসি যা স্মিথ এত ভালোবাসতেন। তিনি একটি সাধারণ সাদা পোশাক এবং বেগুনি সূচিকর্ম করা অ্যাপ্রন পরেছিলেন। তার কালো চুলে সাজানো ছিল সেই সোনার ইউরিয়াসের মুকুট—মূর্তির মতই তাতে ফিরোজা পাথরে তৈরি চোখওয়ালা সাপের আকৃতি খোঁদাই করা। তার বুক ও হাতে ছিল সেই একই হার ও বালা যা স্মিথ তার সমাধি থেকে উদ্ধার করেছিলেন। তিনি কিছুটা বিষণ্ণ বা বলা ভালো চিন্তিত মনে একা একটি রেলিংয়ের ওপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে সমাবেশের দিকে তার খুব একটা আগ্রহ নেই।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই সময়ে কালো ভ্রুওয়ালা পুরু ঠোঁটের একজন ফারাও এগিয়ে এলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তোমাকে অভিবাদন জানাই,&quot; তিনি বললেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মা-মি চমকে উঠলেন এবং উত্তর দিলেন, &quot;ওহ, আপনি! আমি আপনার মাহাত্ম্যকে সম্মান জানাই—বলেই তিনি বিনয়ের সঙ্গে মাথা নত করলেন কিন্তু তার ভঙ্গিতে একটু বিদ্রূপের ছাপ ছিল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মনে হচ্ছে তুমি আমাকে খুঁজে বের করার জন্য খুব একটা উৎসুক ছিলে না, মা-মি; যদিও আমাদের খুব কমই দেখা হয়—&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি দেখলাম আপনি আমার বোন অন্য রানীদের সাথে ব্যস্ত ছিলেন,&quot; তিনি গম্ভীর, মৃদু স্বরে বাধা দিয়ে বললেন, &quot;এবং গ্যালারিতে আরও কিছু মহিলা ছিলেন যাদের মুখ আমার চেনা মনে হচ্ছে কিন্তু মনে হয় তারা রানী ছিলেন না। অথবা হয়তো আমার চলে যাওয়ার পর আপনি তাদের বিয়ে করেছেন।”&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আত্মীয়স্বজনের সাথে তো কথা বলতেই হয়,&quot; ফারাও উত্তর দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;নিশ্চয়ই। কিন্তু দেখুন, আমার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই—অন্তত যাদের আমি ভালো করে চিনি। আপনার মনে আছে নিশ্চই আমার বাবা-মা আমি ছোট থাকতেই মারা গিয়েছিলেন। আমাকে মিশরের উত্তরাধিকারী করে রেখে গেছেন আর আমার উপদেষ্টাদের পরামর্শে আমি যে বিয়ে করেছিলাম তা নিয়ে তারা এখনও বিরক্ত।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিন্তু বলুন তো, এটা কি বিরক্তিকর নয়? আমার একটা আংটি হারিয়ে গেছে যেটায় দেবতা বেসের ছবি ছিল। পৃথিবীর কেউ একজন আজ সেটা পরে আছে আর সেই জন্যই আমি তার কাছ থেকে সেটা ফিরে পাচ্ছি না।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তার কাছ থেকে! কোন ব্যক্তির কথা বলছ?—আচ্ছা চুপ; কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কী কাজ?&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওহ, আমাদের সমাধি লুণ্ঠনের বিষয় নিয়ে মনে হয়।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;সত্যিই! এটা একটা বড় বিষয়। আচ্ছা বলুন তো, ওই মহিলাটি কে?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মা-মি অগ্রসরমান খুবই চমৎকার সাজে সজ্জিত এক মহিলার দিকে ইঙ্গিত করলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;গ্রিক ক্লিওপেট্রা,&quot; তিনি উত্তর দিলেন, &quot;মিশরের শেষ সম্রাজ্ঞী—টলেমি বংশের একজন। ওই যে রোমান লোকটাকে তার পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়ানো দেখেই তাকে চেনা যায়।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কোন রোমান?&quot; মা-মি জিজ্ঞেস করলেন। আমি তো বেশ কয়েকজনকে দেখছি—অন্যান্য পুরুষও আছে। এই কি সেই হতভাগী যে মিশরকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল এবং বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আহ, যদি এই শান্তির নিয়ম না থাকত যা আমাদের এই সম্মেলনে মেনে চলতে হয়!&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তুমি বলতে চাচ্ছ যে তাকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলা হত, মা-মি? আর তার আত্মাকে ওসাইরিসের অঙ্গের মতো ছড়িয়ে দেওয়া হত?&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ফারাও ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বললেন, &quot;এই শান্তির নিয়ম না থাকলে আমাদের অনেকেরই একই পরিণতি হত কারণ এই শতাধিক রাজার মধ্যে আমি এমন একজনকেও শুনিনি যে তার পূর্ববর্তী বা উত্তরসূরিদের সম্পর্কে পুরোপুরি ভালো কথা বলেছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;বিশেষ করে যারা তাদের আগে এসেছে এবং স্মৃতিস্তম্ভ দখলের পাশাপাশি তাদের কার্তুজগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে&quot; মা-মি ফারাও এর চোখে চোখ রেখে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বললেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই সরাসরি আঘাতে ফারাও যেন একটু কুঁকড়ে গেলেন। কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি সেই রাজকীয় মহিলার দিকে ইঙ্গিত করলেন যিনি হলের শেষ প্রান্তের সিঁড়িতে দাঁড়িয়েছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;রানি ক্লিওপেট্রা তার হাত তুলে কিছুক্ষণ সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি এতটাই অপরূপ ছিলেন যে নৌকার কাঠের আড়ালে হাঁটু গেড়ে বসে স্মিথ তার ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিলেন। এই আধুনিক যুগে একমাত্র তারই এই জীবন্ত সৌন্দর্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি ঝলমল করছিলেন—যিনি পৃথিবীর ভাগ্য পরিবর্তন করেছিলেন এবং জীবনে যতই ভুল করুন না কেন অন্তত কীভাবে মরতে হয় তা জানতেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style=&quot;white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ফারাও-রানিদের সেই ঝলমলে সমাবেশ এবং হলঘরের চারপাশে গ্যালারির দুই স্তরে ভিড় করা তাদের শত শত সন্তান-সন্ততি, নারী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপর নীরবতা নেমে এলো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span id=&quot;docs-internal-guid-aa47efdb-7fff-fb39-8e57-d19ab85b3642&quot;&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মিশরের রাজপরিবারের সদস্যগণ&quot; মিষ্টি ও স্পষ্ট কণ্ঠে ক্লিওপেট্রা শুরু করলেন যার আওয়াজ হলের সর্বপ্রান্তে পৌঁছে গেল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি ক্লিওপেট্রা—এই নামের ষষ্ঠ এবং শেষ সম্রাজ্ঞী। মিশর দাসদের বাসভূমিতে পরিণত হওয়ার পূর্বে আমি উচ্চ ও নিম্ন ভূমিতে শাসন করেছিলাম। আজ আপনাদের ফারাওদের কিছু কথা বলতে চাই যারা জীবদ্দশায় সবাই সেই সিংহাসন যথাযোগ্য মর্যাদায় পূর্ণ করেছিলেন যেখানে একসময় আমি বসেছিলাম।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আমি মিশর ও তার নিয়তি অথবা আমাদের পাপের কথা বলছি না যদিও সেই পাপগুলোর প্রায়শ্চিত্ত আমি ও অন্যরা অন্যত্র করছি এবং যুগে যুগে আমরা সেগুলো সম্পর্কে যথেষ্ট শুনেছি। কিন্তু বছরের এই একটি মাত্র রাতে যাকে আমরা ওসাইরিসের উৎসব বলি—আমাদের আরও একবার এক ঘণ্টার জন্য জীবন দেওয়া হয়েছে। যদিও আমরা শুধু ছায়া তবুও আমাদের দীর্ঘকাল বিলীন হয়ে যাওয়া দেহের ভালোবাসা ও ঘৃণাকে আমরা পুনরুজ্জীবিত করতে পারি। এই এক ঘণ্টার জন্য আমরা আমাদের পূর্বের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন নিয়ে আবারও মেতে উঠি—আমাদের মাথায় আবারও সেই মুকুট শোভা পায় এবং আমরা যেন আবারও আমাদের প্রজাদের প্রশংসা শুনতে পাই।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আমাদের আশা এখন নশ্বর জীবনের আশা আর আমাদের শত্রুরা সেই শত্রু যাদের আমরা ভয় পেতাম। আমাদের দেবতারা আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে আর আমাদের প্রেমিকেরা কানে ফিসফিস করে। আরও একটি আনন্দ আমাদের দেওয়া হয়েছে—যৌবনে আমরা যেমন ছিলাম তেমনটি এখনো থেকে দেবতাদের মত জানার ক্ষমতা ও ক্ষমা প্রদর্শন করার—যদিও আমরা কখনও কখনও ঘৃণা ও অবজ্ঞা করি। আমার কথা শেষ। আমি প্রাচীন মিশরের সর্বকনিষ্ঠ শাসক, এখন মিশরের প্রথম রাজাকে আমার স্থান নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তিনি মাথা নত করলেন এবং সমাবেশও প্রতিউত্তরে মাথা নত করে তাকে সম্মান জানালো। তারপর তিনি সিঁড়ি দিয়ে নেমে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন। তার স্থানে এলেন সাধারণ পোশাকে সজ্জিত লম্বা দাড়িওয়ালা জ্ঞানী চেহারার এক বৃদ্ধ—তার ধূসর চুলে সাপের মাথা খোঁদাই করা একটি সাধারণ সোনার বেল্ট ছাড়া আর কোনো মুকুট নেই।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমার পরবর্তী ফারাওগণ&quot; বৃদ্ধ লোকটি বললেন, &quot;আমি মেনেস। যদিও আমার আগে অনেকেই আমার চেয়েও প্রকৃত অর্থে রাজা ছিলেন তারপরেও আমিই মিশরের প্রথম স্বীকৃত ফারাও। কারন আমিই প্রথম উচ্চ ও নিম্ন ভূমিকে একত্রিত করেছিলাম, রাজকীয় পদবী ও উপাধি গ্রহণ করেছিলাম এবং যথাসাধ্য শাসন করেছিলাম। সেই কারণে আজকের এই বিশেষ রাতে আমাকে আপনাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত আনন্দের যে আমাদের আত্মারা সর্বোচ্চ জগতের সর্বপ্রান্ত থেকে একত্রিত হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হতে পেরেছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;প্রথমে আসুন আমরা দেবতাদের রহস্য এবং তার অর্থ নিয়ে কথা বলি। এরপর আসুন আমাদের জীবনের রহস্য নিয়ে কথা বলি—সেগুলো কোথা থেকে আসে, পথে কোথায় থামে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়। তারপর আমরা মুখোমুখি বসে অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলব যেমনটা আমরা মানুষ থাকাকালীন সময়ে করতাম। অতঃপর আমাদের বার্ষিক উৎসব উদযাপন করতে থিবেসে যাব। এটাই কি আপনাদের ইচ্ছা?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এটাই আমাদের ইচ্ছা,&quot; তারা সবাই উত্তর দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথের মনে হল সেই স্থানটি ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে এক ভয়াবহ নিস্তব্ধতা নেমে এল। এ আঁধার ও নীরবতা কতক্ষণ স্থায়ী ছিল বলা মুশকিল—হয়তো কয়েক বছর কিংবা কয়েক মুহূর্ত স্মিথ স্থির বসে রইলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;অবশেষে আবার আলো ফিরে এল। উপরের দিকে একটি নীল স্ফুলিঙ্গের রশ্মি ছড়িয়ে পরে সমস্ত কিছু আলোকিত করে দিল। সেই একই রাজকীয় সমাবেশকে সামনে রেখে সিঁড়ির উপর মেনেস দাঁড়িয়ে ছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;রহস্যের পরিসমাপ্তি হয়েছে&quot; বৃদ্ধ ফারাও বললেন। &quot;এখন যদি কারও কিছু বলার থাকে তবে তা খোলাখুলি বলুক।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;প্রাচীন রাজবংশের পোশাক ও অলংকারে সজ্জিত এক যুবক এগিয়ে এসে মেনেস এবং তাঁর পরবর্তী সকল ফারাওদের মাঝখানে সিঁড়িতে দাঁড়ালেন। যৌবনের প্রতীকস্বরূপ ডান কানের পিছনে ঝুলে থাকা কেশগুচ্ছ দেখে স্মিথের তাকে চেনা মনে হল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কোথায় দেখেছিলেন? আহ মনে পড়ল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এইতো কিছুক্ষণ আগে মিউজিয়ামের এক কেসে ফারাও উনাসের হাড়গুলোর সাথে শায়িত অবস্থায় তাকে দেখেছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মহামান্য ফারাওগণ&quot; তিনি শুরু করলেন, &quot;আমি রাজা মেটেসুফিস। যে বিষয়টি আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই তা হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষ দ্বারা আমাদের সমাধির পবিত্রতা লঙ্ঘন। আজ রাতে এখানে সমবেত অনেকেরই মমিকৃত দেহ এই স্থানে পড়ে আছে কৌতূহলী মানুষের দ্বারা নিরীক্ষিত ও উপহাসিত হওয়ার জন্য।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ভাঙ্গা চোয়াল বিকৃত ও বীভৎস চেহারার আমি নিজেও তাদের একজন। দিনের পর দিন আমার &#39;কা&#39; কে পিরামিড থেকে ছিনিয়ে আনা আমার মমিকৃত দেহের পাশে বসে থাকতে হচ্ছে। এই তো সেই পিরামিড যা আমি অগণিত শ্রম ও ব্যয়ে নির্মাণ করেছিলাম আমার চিরন্তন আবাস হিসেবে যেন পুনরুত্থানের সময় পর্যন্ত লুকিয়ে থাকতে পারি। আমাদের মধ্যে অনেকে দূর দেশেও শুয়ে আছেন। যেমন, আমার পূর্বসূরী ম্যান-কাউ-রা যিনি নির্মাণ করেছিলেন তৃতীয় মহাপিরামিড &#39;পিরামিড অফ হের&#39;—তিনি এখন সমুদ্রপারের এক অন্ধকার নগরী লন্ডন নামক শহরে জাগ্রত কিংবা শায়িত আছেন। অন্যদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কারো কারো দেহ ছোট ছোট ধুলোয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমাদের অলঙ্কারগুলো চুরি হয়ে লোভীদের কাছে বিক্রি হয়েছে। আমাদের পবিত্র লেখাগুলো আর প্রতীকগুলো তাদের কাছে ঠাট্টার বিষয়। শীঘ্রই মিশরে লুণ্ঠিত হয়নি এমন একটিও পবিত্র সমাধি খুঁজে পাওয়া যাবেনা।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;সেটা ঠিক&quot; সমাবেশ থেকে একটি কণ্ঠস্বর বলে উঠলো। মাত্র চার মাস আগে সেফ্রেনের পিরামিডের ছায়ায় অবস্থিত আমার পিতার সমাধিস্থল খনন করা হয়েছে। সেখানে আমার জন্য নির্ধারিত কক্ষে দু হাতে দুই মুঠো সাদা হাড় নিয়ে আমি একা শুয়ে ছিলাম কারন আমার মৃত্যুর পর তারা আমার দেহটি মমিকরন করেনি। এখন আমি সেই হাড়গুলো দেখতে পাই যার পাশে আমার &#39;কা&#39; পাঁচ হাজার বছর ধরে পাহারা দিচ্ছিল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ঠিক তাই&quot; আরও শত শত কণ্ঠস্বর একসাথে প্রতিধ্বনিত হলো।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তাহলে&quot; তরুন রাজা ফারাও মেনেসের দিকে ফিরে বললেন &quot;আমি আপনার কাছে জানতে চাই যারা আমাদের এইরকম নিকৃষ্টভাবে অপমান করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো উপায় কি নেই?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;যার জ্ঞান আছে সে কথা বলুক&quot; বৃদ্ধ ফারাও বললেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মিশরের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ও আমেনের মহাযাজকের পালক ও প্রতীক পরিহিত এবং হাতে একটি দণ্ড নিয়ে খর্বকায় গম্ভীর চেহারার একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে এলেন। স্মিথ তাকে সঙ্গে সঙ্গেই তার মূর্তি থেকে চিনতে পারলেন। তিনি তিনি ছিলেন খায়েমুয়াস—রামেসিস দ্য গ্রেটের পুত্র এবং মিশরের সর্বশ্রেষ্ঠ যাদুকর যিনি সিংহাসনে বসার সময় আসার আগেই স্বেচ্ছায় পৃথিবী ত্যাগ করেছিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমার জ্ঞান আছে, ফারাওগণ এবং আমি উত্তর দেব&quot; তিনি বললেন। &quot;সময় ঘনিয়ে আসছে যখন মৃত্যুভূমি অর্থাৎ জীবন—যাকে আমরা আমেনটি বলি, সেখানে আমাদের অন্যায়গুলো বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবো এবং তারা এর প্রতিশোধ নেবেন। বছরের এই বিশেষ রাতেও যখন আমরা আমাদের পুরনো রূপ ফিরে পাই, তখন আমাদের কিছু প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকে—বলতে গেলে ন্যায়বিচার কার্যকর করার ক্ষমতা। কিন্তু আমাদের সময় কম এবং সূর্যদেবতা রা উদিত হওয়ার আগে আমাদের অনেক কিছু বলার ও করার আছে। তারপরই আমাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে ফিরে যেতে হবে। তাই এটাই উত্তম মনে হয় যে আমরা এই দুষ্টদের তাদের দুষ্টতার মধ্যেই ছেড়ে দিই যতক্ষণ না পৃথিবীর বাইরে আমরা তাদের মুখোমুখি হচ্ছি।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ এতক্ষন কিছুতা উদ্বেগ নিয়ে খায়েমুয়াসের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন এবং আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালেন এই ভেবে যে এই প্রয়াত ফারাওদের এত ব্যস্ততা ও জরুরি কাজ রয়েছে যে তার দিকে নজর দেওয়ার সময়টুকুও তাদের নেই। তবুও অতিরিক্ত সাবধানতার জন্য তিনি পকেট থেকে মা-মি’র হাত সম্বলিত সিগার বাক্সটি বের করে যতদূর সম্ভব নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এটা ছিল অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি কাজ।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;হয়তো সিগার বাক্সটি মেঝেতে ঘষা লেগে শব্দ করেছিলো নয়তো এই মমির অংশ স্পর্শ করার কারণে তিনি এই সমস্ত আত্মাদের সাথে আধ্যাত্মিক যোগাযোগে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। যাই হোক, তিনি অনুভব করলেন সেই ভয়ঙ্কর যাদুকরের চোখ দুটি তার দিকে আটকে গেছে। তার অশুভ দৃষ্টি থেকে নিজেকে লুকানো একেবারেই অসম্ভব।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;যাই হোক&quot; খায়েমুয়াস শীতল কণ্ঠে বলে চললেন, &quot;আমি এখন দেখতে পাচ্ছি এই স্থানেই লুকিয়ে আছে ওই নিকৃষ্ট চোরদের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য একজন। আমি তাকে ওই শেষকৃত্যের নৌকার নিচে লুকিয়ে থাকতে দেখছি আর এই মুহূর্তেই তার কাছে রয়েছে আপনাদেরই একজন মহিমান্বিত রানীর মমিকৃত হাত যা থিবেসে তার সমাধি থেকে সে চুরি করেছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এবার সমাবেশের সকল রানী দৃশ্যত উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। স্মিথ লক্ষ করলেন মা-মি তার হাত দুটি উঁচু করে তাকিয়ে দেখছেন আর সকল ফারাও একসঙ্গে তাদের আঙুল তুলে গর্জন করে বললেন:&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তাকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে আসা হোক!&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;খায়েমুয়াস তার যাদুদণ্ড উঠিয়ে স্মিথ যেখানে লুকিয়ে ছিল সেই নৌকার দিকে ইশারা করে বললেন:&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওহে দুষ্ট লোক, তুমি যা চুরি করেছ তা নিয়ে এসো।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ যেখানে ছিলেন সেখানেই বসে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন। তার গোড়ালি মেঝেতে শক্ত করে আটকে রাখলেন। পাঠক যেমনটা জানেন, স্বভাবগতভাবে তিনি সবসময় লাজুক ও অন্তর্মুখী ছিলেন এবং এই মুহূর্তে তার সেই স্বভাব তাকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;শৈশবে তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন ছিল যে একজন জুরি ফোরম্যান তাকে কোনো ভয়ঙ্কর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছিলো। এখন তিনি বুঝতে পারলেন সেই দুঃস্বপ্ন আসলে কীসের পূর্বাভাস দিচ্ছিল। সে এমন এক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হতে চলেছে যেখানে মিশরের সকল রাজা-রানিই জুরি, মেনেস প্রধান বিচারপতি, আর যাদুকর খায়েমুয়াস ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকায়।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ যতই শক্ত করে বসে থাকার চেষ্টা করুক না কেন, কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে ফেলল। প্রথমে তার হাত নিজে থেকেই সিগার বাক্সটা তুলে নিতে বাধ্য হল। এরপর সেই শক্তি তাকে নৌকার কাঠের আড়াল থেকে টেনে বের করে আনল।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এবার স্মিথ উঠে দাঁড়ালেন এবং মেনেস যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার থেকে অনেক দূরে বিপরীত দিকের সিঁড়িগুলো বেয়ে নিচে নামতে লাগলেন। তিনি সমাবেশের ঠান্ডা ও বিস্মিত চোখের মালিকদের মাঝ দিয়ে পথ করে এগিয়ে গেলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;তারা সবাই ছিলেন রাজকীয় আত্মা; শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাদের রাজকীয় মর্যাদা একটুও কমেনি। তবে একজন ছাড়া, তাদের কেউই তার দুর্দশার প্রতি কোনো করুণা দেখাচ্ছিল না। সে ছিল এক ছোট্ট রাজকুমারী যে তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল—সেই একই ছোট্ট রাজকুমারী যার মমি স্মিথ পরিচালকের ঘরে দেখেছিলেন এবং যার মমির কাপড়ের গোলাপি বাঁধনের নিচে একটি পদ্ম ফুল গোঁজা দেখে তার মায়া হয়েছিল। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্মিথ তাকে বলতে শুনলেন:&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এই দুষ্ট লোক ভয় পেয়েছে। সাহসী হও, দুষ্ট লোক!&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথের আত্মসম্মান তাকে সাহায্য করল। আধুনিক বিশ্বের একজন ভদ্রলোক হয়ে তিনি প্রাচীন মিশরীয় আত্মাদের সামনে দুর্বলতা দেখাবেন না। শিশুটির দিকে ফিরে কিঞ্চিৎ হেঁসে তিনি সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়ালেন এবং শান্তভাবে হেঁটে চললেন। উল্লেখ্য, স্মিথ ছিলেন লম্বা খুবই সুদর্শন একজন তরুন—গাঢ় মায়াবী চোখ ও ছোট কালো দাড়ির সুগঠিত দেহের অধিকারী।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;অন্তত সে একজন সুশ্রী চোর&quot; একজন রানি অন্যজনকে বললেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ&quot; উত্তর দিলেন দ্বিতীয় রানী, &quot;আমি অবাক হচ্ছি যে এমন একজন অভিজাত চেহারার মানুষ সমাধি নষ্ট করতে এবং মৃতদের নৈবেদ্য চুরি করতে যায় কী করে!&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এই কথাগুলো স্মিথকে গভীর চিন্তায় ফেলে দিল। তিনি বিষয়টি এভাবে কখনো বিবেচনা করেননি।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এখন তিনি মা-মির সামনে এসে দাঁড়ালেন। তার পাশে সেই কালো ভ্রুওয়ালা ফারাও স্বামী দাঁড়িয়ে আছে। কোনো অদৃশ্য শক্তি স্মিথকে সেই সিগার বাক্সটি বুকের সাথে চেপে ধরে রাখতে বাধ্য করছে—সোনার তৈরি বেসের আংটিটি তখনো জ্বলজ্বল করছিলো।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মাথা ঘুরিয়ে মা-মি&#39;র দিকে তাকালেন। তাদের চোখাচোখি হওয়ামাত্র মা-মি ভীষণভাবে চমকে উঠলেন। তারপর যখন তার হাতের আংটিটি দেখলেন তখন আরও বেশি চমকে উঠলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;মহারানীর কী হয়েছে?&quot; ফারাও প্রশ্ন করলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ও কিছু না&quot; তিনি উত্তর দিলেন। &quot;তবে এই পৃথিবীবাসী কি আপনাকে কারো কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ, দিচ্ছে&quot; ফারাও উত্তর দিলেন। &quot;সে আমাকে সেই অভিশপ্ত ভাস্করের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যার সঙ্গে আমাদের বিবাদ হয়েছিল।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আপনি কি রাজসভার শিল্পী সেই হোরুর কথা বলছেন যিনি সমাধিতে আমার মূর্তি তৈরি করেছিলেন আর যাকে আপনি কুশের মরুভূমিতে আপনার মূর্তি খোদাই করার জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বেচারা জ্বরে অথবা বিষপ্রয়োগে মারা গিয়েছিল?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ; হোরুই—অন্য কেউ নয়, সেত তাকে নিয়ে যাক!&quot; ফারাও গর্জন করলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;আর কিছু শোনার অপেক্ষা না করে স্মিথ এগিয়ে গেলেন। এখন তিনি সম্মানিত মেনেসের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি তাকে এই ফারাওর প্রতি মাথা নত করতে বাধ্য করল—বিনিময়ে ফারাও তার প্রতি মাথা নত করলেন। তারপর তিনি ঘুরে রাজকীয় সমাবেশের প্রতি মাথা নত করলেন এবং তারাও শীতল কিন্তু বিনীতভাবে প্রত্যুত্তর দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হে পৃথিবীর বাসিন্দা—যেখানে একসময় আমাদের স্থান ছিল এবং সেই সূত্রে তুমি আমাদের মৃতদের ভাই&quot; মেনেস শুরু করলেন, &quot;এই পুরোহিত ও যাদুকর&quot;—তিনি খায়েমুয়াসের দিকে ইশারা করলেন—দাবি করছেন যারা আমাদের সমাধি লুণ্ঠন করে আমাদের মমিকে অবমাননা করে তুমি তাদের একজন। তিনি আরও বলেন এই মুহূর্তে তোমার কাছে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মমিদেহের একটি অংশ রয়েছে যার আত্মা এখানে বর্তমানে উপস্থিত রয়েছে। বলো, এই অভিযোগগুলো কি সত্য?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;স্মিথ বিস্মিত হয়ে দেখলেন যে তিনি অত্যন্ত সহজেই সেই মধুর প্রাচীন ভাষায় উত্তর দিতে পারছেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হে রাজা, অভিযোগগুলো একইসাথে সত্য এবং মিথ্যা। মিশরের শাসকগণ আমার কথা শুনুন—এটা সত্য যে আমি আপনাদের সমাধি অনুসন্ধান করেছি কারণ আমার হৃদয় আপনাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং আমি আপনাদের সম্পর্কে সব জানতে চেয়েছিলাম। কারণ এখন আমার মনে হচ্ছে যে একসময় আমি আপনাদেরই একজন ছিলাম—রাজা না হলেও হয়তো রাজবংশের রক্ত বহন করেছি। এছাড়াও আমি এতদিন ধরে বিশেষ একটি সমাধির সন্ধান করছিলাম।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;ওহে মানুষ, কেন? বিচারক প্রশ্ন করলেন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;কারণ একটি মুখ আমাকে আকর্ষণ করেছিল, পাথরে খোদাই করা একটি মোহনীয় মুখ।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;বিশাল সমাবেশ তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকাল, তার কথায় যেন তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পরেছে।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;তুমি কি সেই পবিত্র সমাধি খুঁজে পেয়েছিলে?&quot; মেনেস জিজ্ঞাসা করলেন। &quot;যদি পেয়ে থাকো, তাহলে সেখানে কী পেয়েছ?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ, ফারাও এবং সেখানে আমি এগুলো পেয়েছি&quot; বলে স্মিথ বাক্স থেকে শুকনো হাতটি, পকেট থেকে ভাঙ্গা ব্রোঞ্জের মূর্তিটি এবং আঙুল থেকে আংটিটি খুলে দেখালেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি আরও কিছু জিনিস পেয়েছি যা এই স্থানের পরিচালককে দিয়েছি এবং কিছু গহনা যা আজ রাতে আমি আপনাদের মধ্যে উপস্থিত একজনের গায়ে দেখতে পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এই মূর্তির মুখটি কি সেই মুখ যা তুমি খুঁজছিলে?&quot; বিচারক প্রশ্ন করলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এটাই সেই মোহনীয় মুখ&quot; তিনি উত্তর দিলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মেনেস ব্রোঞ্জের মূর্তিটি হাতে নিয়ে এর বুকের নিচে খোদাই করা কার্তুজটি পড়লেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;যদি আমাদের মধ্যে এখানে এমন কেউ থাকেন&quot;—তিনি কিছুক্ষণ পর বললেন, &quot;যিনি আমার সময়ের অনেক পরে মিশরের রানী হিসেবে শাসন করেছিলেন এবং যিনি মা-মি নামে পরিচিত, তিনি এগিয়ে আসুন।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মা-মি যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন সেখান থেকে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে স্মিথের সামনে দাঁড়ালেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;বলুন, হে রানী&quot; মেনেস জিজ্ঞাসা করলেন, &quot;আপনি কি এই বিষয়ে কিছু জানেন?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;আমি এই হাতটিকে চিনি; এটি আমার নিজের হাত ছিল&quot; তিনি উত্তর দিলেন। &quot;আমি এই আংটিটিকে চিনি; এটি আমারই আংটি ছিল। আমি ব্রোঞ্জের এই মূর্তিটিকে চিনি; এটি আমারই মূর্তি ছিল। আমার দিকে তাকিয়ে নিজেরাই বিচার করুন যে এটি সত্য কিনা। একজন ভাস্কর এটি তৈরি করেছিলেন, রাজপুত্রের পুত্র হোরু। ভাস্করদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আমার রাজসভার প্রধান শিল্পী। ওই যে ওখানে অদ্ভুত পোশাকে সজ্জিত হয়ে সে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হোরু অথবা হোরুর প্রতিরূপ—যে আমার শাসনামলে এই মূর্তিটি তৈরি করেছিল সে-ই এই মূর্তিটি খুঁজে পেয়েছে এবং যে মানুষটি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে অথবা সম্ভবত একই ছাঁচে তৈরি তার প্রতিরূপ।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;ফারাও মেনেস যাদুকর খায়েমুয়াসের দিকে ফিরে বললেন—&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;এইসব কি সত্য, ও জাদুকর?&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&quot;হ্যাঁ, এগুলো সত্য&quot; খায়েমুয়াস উত্তর দিলেন। &quot;এই পৃথিবীবাসী হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে অনেক আগে ভাস্কর হোরু নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু এতে কী আসে যায়? সে পুনরায় জীবিত হয়ে মৃতদের সমাধি লুণ্ঠন করেছে। তাই আমি বলি তার দেহের উপর শাস্তি কার্যকর করা উচিত যাতে আগামীকাল সকালের আলো ফুটলে সে নিজেই মৃতদের সাথে মিলিত হতে পারে।&quot;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;br /&gt;&lt;p dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;line-height: 1.38; margin-bottom: 0pt; margin-top: 0pt;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;মেনেস তার বুক বরাবর মাথা ঝুঁকিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলেন। স্মিথ কিছুই বললেন না। তার কাছে পুরো ঘটনাটি এত কৌতূহলোদ্দীপক ছিল যে তিনি এর অগ্রগতিতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চাননি। যদি এই আত্মারা তাকে তাদের দলে নিতে চায় তাতে সে আপত্তি করবে না। পৃথিবীতে তার কোনো বন্ধন ছিল না এবং এখন যখন তিনি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হলেন যে এই পার্থিব জীবনের বাইরেও একটি জীবন আছে তখন তিনি এর রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। তাই তিনি তার বাহু বুকের উপর ভাঁজ করে রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;div&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Arial, sans-serif; font-size: 11pt; font-variant-alternates: normal; font-variant-east-asian: normal; font-variant-emoji: normal; font-variant-numeric: normal; font-variant-position: normal; vertical-align: baseline; white-space-collapse: preserve;&quot;&gt;কিন্তু মা-মি অপেক্ষা করলেন না। তিনি এত দ্রুত তার হাত তুললেন যে তার কব্জিতে চুড়িগুলো ঝনঝন করে উঠল এবং সাহসের সাথে স্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠলেন:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;রাজকুমার খায়েমুয়াস, যাদুকর&quot; তিনি বললেন &quot;আপনার মতো আমিও শতাব্দী আগে মিশরের উত্তরাধিকারী ছিলাম এবং ভালোভাবেই দুই ভূমির শাসন করেছিলাম যা আপনার ভাগ্যে কখনো জোটেনি। সব জ্ঞান কি শুধু আপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? আমাকে উত্তর দিন! জীবন-মৃত্যুর রহস্য কি শুধু আপনিই জানেন? আমাকে উত্তর দিন! আপনার দেবতা আমেন কি আপনাকে শিখিয়েছিলেন যে ক্ষমার আগে প্রতিশোধ নিতে হবে? আমাকে উত্তর দিন! তিনি কি আপনাকে শিখিয়েছিলেন যে মানুষকে না শুনেই বিচার করা উচিত? যে তাদের সময়ের আগেই হিংসাত্মকভাবে জোর করে ওসাইরিসের কাছে পাঠানো উচিত এবং এর ফলে তাদের প্রিয় মৃতদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই পাপিষ্ঠ পৃথিবীতে আবার জীবন যাপন করতে বাধ্য করা উচিত?&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;শুনুন: শেষ পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে আমার আত্মা রানীদের সমাধিক্ষেত্রে আমার সমাধিতে বসে ছিল। আমার আত্মা দেখেছিল এই লোকটি আমার কবরে প্রবেশ করে সেখানে সে কী করেছে। নত মস্তকে সে আমার সেই হাড়গুলো দেখল যা এক পুরোহিত চোর আমার দাফনের বিশ বছরের মধ্যেই চুরি করে পুড়িয়ে দিয়েছিল। আর এই মানুষটি যিনি একসময় হোরু ছিলেন, সেই হাড়গুলো নিয়ে কী করল? আমি বলছি, সে সেগুলো সমাধির মধ্যে এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখল যেখানে সেগুলো আর কেউ খুঁজে পাবেনা। তাহলে চোর এবং লুণ্ঠনকারী কে? যে আমার হাড়গুলো চুরি করে পুড়িয়েছিল নাকি যে সেগুলোকে শ্রদ্ধার সাথে দাফন করেছিল? আবার, সে সেই গহনাগুলো খুঁজে পেয়েছিল যা আপনার ব্রাদারহুডের পুরোহিত পালানোর সময় ফেলে গিয়েছিল যখন পোড়া মাংস ও মশলার ধোঁয়া তাকে কাবু করে ফেলেছিল আর সাথে ছিল সেই হাতটি যা সেই দুষ্ট চোর আমার মহিমান্বিত দেহ থেকে ভেঙে নিয়েছিল। এই মানুষটি তখন কী করল? সে গহনাগুলো নিল। আপনি কি চাইতেন সেগুলো রেখে দিক যেন কোনো কৃষক চুরি করে নিয়ে যায়? আর হাতটা? আমি বলছি, সে সেই মৃত হাতটিকে চুম্বন করল যা একদিন আমার রাজকীয় দেহের অংশ ছিল আর এখন সে এটিকে একটি পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করছে। আমার আত্মা তাকে এই কাজগুলো করতে দেখেছিল এবং আমাকে জানিয়েছিল। তাই আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি, রাজকুমার এবং সাথে আপনাদের সবাইকে; হে মিশরের রাজপরিবারের সদস্যবৃন্দ—এমন কাজের জন্য কি এই মানুষটির মৃত্যু হওয়া উচিত?&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবার প্রতিশোধের পক্ষপাতী খায়েমুয়াস কাঁধ ঝাঁকিয়ে অর্থপূর্ণ হাসি দিলেন কিন্তু রাজা-রানিদের সমাবেশ একসাথে গর্জন করে উত্তর দিল—&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;না!&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা-মি মেনেসের দিকে তাকালেন রায় দেবার জন্য। তিনি কথা বলার আগেই সেই কালো ভ্রূওয়ালা ফারাও যিনি তাকে স্ত্রী বলে সম্বোধন করেছিলেন, এগিয়ে এসে সবার উদ্দেশ্যে বললেন:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;মহারানী, মিশরের উত্তরাধিকারিণী, রাজকীয় স্ত্রী, দুই ভূমির অধিশ্বরী কথা বলেছেন, &quot;তিনি গর্জে উঠলেন। &quot;মহারানীর স্বামী হিসেবে এখন আমাকে বলতে দিন। এই মানুষটি কি সত্যিই একদিন হোরু ভাস্কর ছিল কিনা তা আমি জানি না। যদি তাই হয় তবে সেও একজন অপরাধী ছিল যাকে আমার আদেশে কুশের দেশে নির্বাসনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সে যাই হোক না কেন সে স্বীকার করেছে যে সে মহারানীর সমাধি লুণ্ঠন করেছে এবং পুরানো চোরদের ফেলে যাওয়া জিনিস চুরি করেছে। মহারানী আরও বলছেন এবং সে তা অস্বীকারও করেনি—যে সে তার হাতে চুমু খেয়েছে আর একজন পুরুষ যদি মিশরের বিবাহিত রানির হাতে চুমু খায় তবে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমি দাবি করছি এই মানুষটিকে সময়ের আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তাকে আবার পৃথিবীতে ফিরে এসে কষ্ট ভোগ করতে হয়। বিচার করুন, হে মেনেস।&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেনেস মাথা তুলে বললেন:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;আমাকে সেই আইনটি পুনরায় বলুন, হে ফারাও, যার অধীনে একজন জীবিত মানুষকে একটি মৃত হাতে চুম্বনের জন্য মরতে হবে। আমার সময়ে এবং আমার পূর্বপুরুষদের সময়ে মিশরে এমন কোনো আইন ছিল না। যদি একজন বিবাহিত রানীর জীবিত হাত তার স্বামী বা আত্মীয় ছাড়া অন্য কোনো জীবিত মানুষ আনুষ্ঠানিকতায় চুম্বন করত তাহলে হয়তো তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতো। হয়তো এমনই কোন কারণে একদিন হোরুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমাধিতে কোনো বিবাহ নেই—তাই যদি সে তাকে জীবিত অবস্থায় সমাধিতে পেত এবং তার হাত বা ঠোঁটে চুমু খেত তবে ভালোবাসার অপরাধে কেন তার মরতে হবে?&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;শুনুন সবাই; এই বিষয়ে এটাই আমার রায়। যেই পুরোহিত প্রথমে রানি মা-মি&#39;র সমাধি লুণ্ঠন করেছিল তার আত্মাকে ধরা হোক এবং ধ্বংসকারীর মুখে ফেলা হোক যেন সে মৃত্যুর সর্বশেষ গভীরতা জানতে পারে। কিন্তু এই মানুষটিকে আমাদের মধ্য থেকে নিরাপদে চলে যেতে দেওয়া হোক কারণ সে যা করেছে তা করেছে শ্রদ্ধা ও অজ্ঞতায় এবং কারণ প্রেমের দেবী হাথোর তাকে প্রাচীনকাল থেকেই পথ দেখিয়েছেন। ভালোবাসাই এই পৃথিবী শাসন করে—যেখানে আমরা আজ রাতে মিলিত হয়েছি এবং সেই সব জগত যেখান থেকে আমরা এসেছি বা যেখানে আমাদের যেতে হবে। কে এর শক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারে? কে এর রীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে? এখন থিবেসের দিকে চলুন!&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাজার হাজার ডানার শব্দের মতো একটি ঝড় উঠল এবং সবাই চলে গেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;না, সবাই নয়—কারণ স্মিথ তখনও দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই পর্দাবৃত দৈত্যাকার মূর্তি এবং খালি সিঁড়ির সামনে আর তার পাশে জ্যোতির্ময়, অলৌকিক মা-মি ঝলমল করছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;আমাকেও যেতে হবে&quot; তিনি ফিসফিস করে বললেন &quot;তবে যাওয়ার আগে তোমার সাথে একটি কথা বলতে চাই। মিশরের একজন ভাস্কর থাকাকালে তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলে এবং সেই ভালোবাসাই তোমার জীবন নিয়েছিল। তুমি একবার সাহস করে আমার এই হাতটি চুম্বন করেছিলে যা তুমি আবার সেই সমাধিতে চুম্বন করেছ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কারণ আমি ছিলাম নামমাত্র ফারাওয়ের স্ত্রী; ভালো করে বুঝে নাও, শুধু নামমাত্র; কারণ রাজকীয় মাতার যে উপাধিটা আমাকে দেওয়া হয়েছিল তা ছিল মিথ্যা খোদাই করা একটি উপাধি। হোরু, আমি কখনোই কারো স্ত্রী ছিলাম না আর যখন তুমি মারা গেলে, আমি দ্রুত তোমাকে অনুসরণ করে সমাধিতে গিয়েছিলাম। ওহ, তুমি ভুলে গেছ কিন্তু আমি মনে রেখেছি! আমি অনেক কিছু মনে রেখেছি। তুমি ভেবেছ সেই পুরোহিত চোরটি আমার এই মূর্তিটি ভেঙে ফেলেছিল যা তুমি আমার সমাধির বাইরে বালিতে পেয়েছিলে। তা নয়। আমি এটি ভেঙেছিলাম কারণ তুমি সাহস করে সেখানে লিখেছিলে &quot;প্রিয় হোরুর&quot; অথচ তোমার লেখার কথা ছিল &quot;প্রিয় দেবতা হোরাসের&quot;। তাই যখন আমাকে সমাধিস্থ করা হচ্ছিল, ফারাও সব জানতেন। তিনি আমার মোড়ক থেকে মূর্তিটি সরিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেললেন। আমি সেই মূর্তিটি তৈরির স্মৃতিও মনে রেখেছি এবং আমার পক্ষ থেকে তোমাকে দেয়া সোনার চেইনটা ব্রোঞ্জের সাথে গলিয়ে ফেলে বলেছিলে যে শুধু সোনাই আমাকে গড়ার উপযুক্ত ধাতু। আর এই সিলমোহরটি যা আমি ধরে আছি—এটি তুমিই তৈরি করেছিলে। এটা নাও, নাও, হোরু আর এর বদলে তোমার হাতে থাকা বেসের আংটিটি আমাকে ফিরিয়ে দাও। এটা নাও এবং যতদিন তুমি আবার মারা না যাও ততদিন পরে থেকো আর একদিন যখন তুমি আবার মরবে সেটাও তোমার সঙ্গে সমাধিতে যাবে যেমন একদিন আমার সঙ্গে গিয়েছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&quot;এখন শোন। যখন সূর্যদেবতা রা আবার উদিত হবেন এবং তুমি জেগে উঠবে তখন তোমার মনে হবে তুমি একটি স্বপ্ন দেখেছো। তোমার মনে হবে এই স্বপ্নে তুমি মিশরের একজন নারীকে দেখেছো এবং তার সাথে কথা বলেছো যে তিন হাজার বছরেরও বেশি আগে মারা গিয়েছিল কিন্তু পাথরে ও ব্রোঞ্জে খোদাই করা যার সৌন্দর্য আজ তোমার হৃদয়কে মুগ্ধ করেছে। তবে জেনে রেখো ও মানুষ, এই ধরনের স্বপ্ন অনেক সময় সত্যের ছায়া হয়। জেনে রেখো এই জ্যোতি যা তোমার সামনে ঝলমল করছে তা সত্যিই আমার, সেই দূর-নিকট ভূমিতে যেখানে আমি চিরকাল বাস করি এবং যা আমার তা তোমার ছিল, আছে এবং চিরকাল তোমারই থাকবে। দেবতারা হয়তো তাদের রাজ্য ও নাম বদলাবে; মানুষ বেঁচে থাকবে, মরবে, আবার বেঁচে উঠবে এবং আবার মরবে; সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পরবে এবং যারা শাসন করত তারা বিস্মৃত ধুলোয় পরিণত হবে। তবুও সত্যিকারের ভালোবাসা অমর আত্মাদের মতো অম্লান থাকে যাদের মধ্যে এটা জন্ম নিয়েছিল। আর এই দুঃখ ও বিচ্ছেদের রাত শেষে আসন্ন ভোরে তোমার ও আমার জন্য জন্ম নেবে মিলন ও শান্তির মহিমা। সেই পূর্বনির্ধারিত সময় না আসা পর্যন্ত আমাকে আর খুঁজো না—যদিও আমি চিরকাল তোমার কাছাকাছি থাকব, যেমনটি আমি সবসময় ছিলাম। সেই পরম সময় পর্যন্ত, হোরু, বিদায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি তার দিকে ঝুঁকে এলেন; তার মিষ্টি ঠোঁট স্মিথের কপালে স্পর্শ করল; তার নিশ্বাস ও চুলের সুগন্ধ স্মিথকে আচ্ছন্ন করল; তার আশ্চর্য চোখের আলো স্মিথের আত্মার গভীরে প্রবেশ করে সেখানে লেখা উত্তরটি পড়তে লাগল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্মিথ তাকে আলিঙ্গন করার জন্য বাহু বাড়িয়ে দিয়ে দেখেন—তিনি নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরদিন সকালে কায়রো মিউজিয়ামের কেন্দ্রীয় হলের একটি শেষকৃত্যের নৌকার নিচে সিমেন্টের মেঝেতে ঠাণ্ডায় জমে আড়ষ্ট হয়ে শুয়ে থাকা স্মিথের ঘুম ভাঙল। তিনি কাঁপতে কাঁপতে তার আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে এলেন এবং দেখলেন গোটা হলঘর গতরাতের মতোই সম্পূর্ণ খালি। ফারাও মেনেস বা সেই সব রাজা-রানীদের কোন চিহ্নই নেই যাদের সে এত স্পষ্টভাবে স্বপ্নে দেখেছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘুমে ক্লান্ত ও উত্তেজিত স্নায়ু মনের মধ্যে কত রকম অদ্ভুত কল্পনা আনতে পারে তা ভাবতে ভাবতে স্মিথ বড় দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং ছায়ায় দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন। যদিও সেদিন মুসলমানের ছুটির দিন ছিল তবুও কেউ হয়তো সবকিছু ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য জাদুঘর পরিদর্শনে আসবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাস্তবিকই একজন প্রহরী এসে অবহেলায় দরজা খুলে একটা ঘুঘু ও দুটি কাকের লড়াই দেখার জন্য কাঁধের উপর দিয়ে তাকাল। মুহূর্তের মধ্যে স্মিথ প্রহরীকে পেছনে ফেলে পোর্টিকোর নিচ দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পাথরের টুকরোগুলোর মধ্যে দিয়ে সাপের মতো সর্পিল গতিতে ছায়ায় লুকিয়ে গেটের দিকে এগিয়ে গেলেন। প্রহরীর হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি একেবারেই অনিচ্ছুক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রহরী তাকে দেখতে পেয়ে ভয়ে চিৎকার করে উঠল; কারণ হঠাৎ কোনো আফ্রিত (ভূত) দেখা অশুভ ব্যাপার। সে মাথা ঘুরিয়ে নিল। যখন আবার ফিরে তাকাল ততক্ষণে স্মিথ গেট পেরিয়ে বাইরের রাস্তায় ভিড়ের সাথে মিশে গেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্যাঁতসেঁতে পাথরের মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে সবচেয়ে খারাপ মিশরীয় ঠাণ্ডা লেগেছে বলে দুশ্চিন্তায় থাকা স্মিথের কাছে সূর্যের আলো খুবই মনোরম মনে হলো। তিনি শেফার্ডস হোটেলের দিকে হেঁটে চললেন এবং এক মাইলেরও কিছুটা দূরের পথে যেতে যেতে হোটেল পোর্টারকে বলার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য গল্প বানিয়ে ফেললেন। বলবেন যে কিভাবে তিনি পিরামিডের পাশে মেনা হাউসে ডিনার করতে গিয়েছিলেন এবং শেষ ট্রামটি মিস করার ফলে সেখানেই রাত কাটিয়েছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবে ব্যস্ত অবস্থায় চলার পথে হঠাৎ করেই তার বাম হাত পকেটে রাখা মা-মি&#39;র স্মৃতিচিহ্ন রাখা সিগার বাক্সের কোণে ধাক্কা খেল। ব্যথায় তিনি তার আঙুলগুলো পরীক্ষা করে দেখলেন আঘাত লেগেছে কিনা এবং দেখলেন তার এক আঙুলে সেই আংটিটি পরা আছে। পরিচালক যে আংটিটি তাকে দিয়েছিলেন নিশ্চয়ই এটা সেই আংটি নয় কারন সেই আংটিতে দেবতা বেসের ছবি খোদাই করা ছিল। আর এটিতে রয়েছে মহারানী মা-মি&#39;র কার্তুজ! আর সে যে স্বপ্ন দেখেছিল - ওহ, সে যে স্বপ্ন দেখেছিল...!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজও স্মিথ ভাবছেন হয়তো মুহূর্তের তাড়াহুড়োতে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে পরিচালক সেই আংটিগুলোর মধ্যে কোনটি তাকে রানিদের উপত্যকায় আবিষ্কৃত রাজকীয় সমাধির লুটের ভাগ হিসেবে দিয়েছিলেন। পরে স্মিথ জানতে চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন কিন্তু পরিচালক শুধু মনে করতে পারলেন যে তিনি তাকে দুটি আংটির একটি দিয়েছিলেন এবং তাকে আশ্বাস দিলেন যে &quot;বেস আংক, আংক বেস&quot; খোদাই করা আংটিটি মা-মি&#39;র অন্যান্য গহনার সাথে জাদুঘরের গোল্ড রুমে আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্মিথ আরও ভাবছেন, মিশরের প্রাচীন রাজপরিবারের অন্য কোনো ব্রোঞ্জের মূর্তিতে কি মা-মি&#39;র ভাঙা মূর্তির মতো এত বেশি সোনার অংশ থাকে? কারণ মা-মি যেন তাকে মূর্তি গড়ার সময় সোনার চেইন গলানোর গল্পটি বলেছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সবটাই কি কেবল স্বপ্ন ছিল নাকি এটি—আরও কিছু—দিনরাত তিনি শূন্যতার কাছে প্রশ্ন করেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু মা-মী, কাছে থাকুক বা দূরে, কোনো উত্তর দেয় না। যার গর্বিত উপাধিগুলো ছিল: &quot;মহারানী, ওসাইরিসের ন্যায়বিচারপ্রাপ্ত দেবী; আমেনের কন্যা, রাজকীয় উত্তরাধিকারিণী, রাজকীয় বোন, রাজকীয় স্ত্রী, রাজকীয় জননী; দুই ভূমির অধিশ্বরী; শ্বেত ও রক্তিম দ্বৈত মুকুটের ধারক; প্রেমের মিষ্টি ফুল, চিরসুন্দরী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাই আমাদের মতোই স্মিথকেও অনেক সত্য জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে—বিশেষ করে দুইটি প্রাচীন সোনার আংটির মধ্যে কোনটি পরিচালক তাকে কায়রোতে দিয়েছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটি একটি সামান্য ব্যাপার মনে হলেও তার কাছে এটা সমগ্র জগতের চেয়েও বেশি মূল্যবান!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার সহকর্মীদের বিস্মিত করে স্মিথ আর কখনো মিশরে ফিরে যাননি। তিনি তাদের বোঝান যে তার স্বাস্থ্য সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং তার আর বার্ষিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন প্রশ্ন হলো - মহারানী মা-মি&#39;র মমিকৃত হাতে পরিচালক স্মিথকে দুটি রাজকীয় আংটির মধ্যে কোনটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন?&quot;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;_______সমাপ্ত_______&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/185675286441739887'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/185675286441739887'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2025/05/smith-and-pharaohs.html' title='হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস (Smith and the Pharaohs) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjBTudSSgAEnfLSmHyYgPiW4nImpSTlAnjaV8YPlGlx_IBAJWZA99Q6Juyasm7TU2j9AF8z0-Q-5V1tezrfAmHxDwS2wVDhKVWgn07wEtU3EELAE_WxHWMcnqYhXnHCMecJsue5w6rJb_bXljbSjFnZLya7LxXLGTkUw06VLtvaxbzigGGANcNFLXsHu_s/s72-w650-h813-c/smith1.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-5363990648893412490</id><published>2025-05-19T07:03:00.000-07:00</published><updated>2025-05-19T07:20:21.444-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড"/><title type='text'>হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর মাগেপা দ্য বাক (Magepa the Buck) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgnmA7E2rcuFC2GSuQAv-cJuLTzeqFoGVHlQdiKteFhQdCV_I5f8bhUTBocd50_nz6LFvgcSe-_om53rIF4PLx876AkqojTQXeDgW0FoVcwRHtsmpDSSPu9j_W7bfCmHRtFBiazsqs5EcPjGb_LPrsWCtkwRl7WJUDFOcue9gB4i7aydLqD_rGq8eH3jRs/s1120/magepa%20the%20buck.png&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;879&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgnmA7E2rcuFC2GSuQAv-cJuLTzeqFoGVHlQdiKteFhQdCV_I5f8bhUTBocd50_nz6LFvgcSe-_om53rIF4PLx876AkqojTQXeDgW0FoVcwRHtsmpDSSPu9j_W7bfCmHRtFBiazsqs5EcPjGb_LPrsWCtkwRl7WJUDFOcue9gB4i7aydLqD_rGq8eH3jRs/w703-h879/magepa%20the%20buck.png&quot; width=&quot;703&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;মাগেপা দ্য বাক&#39; নামের গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১২ সালে। এটা স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস, অ্যান্ড আদার টেলস&#39; বইয়ের একটি গল্প। এই সংগ্রহে মোট ছয়টি গল্প আছে। গল্পগুলো হলো: &#39;স্মিথ অ্যান্ড দ্য ফারাওস&#39;, &#39;মাগেপা দ্য বাক&#39;, &#39;দ্য ব্লু কার্টেন্স&#39;, &#39;দ্য লিটল ফ্লাওয়ার&#39;, &#39;ওনলি আ ড্রিম&#39; এবং &#39;বারবারা হু কেম ব্যাক&#39;। বইটিতে &#39;ম্যাগেপা দ্য বাক&#39; হচ্ছে দ্বিতীয় গল্প।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-----------------------------------------------&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এটা প্রয়াত অ্যালান কোয়াটারমেইনের প্রথম জীবন নিয়ে লেখা &#39;মেরি&#39; নামের একটি গল্পের ভূমিকায় বলা হয়েছিলো। অ্যালান কোয়াটারমেইন আফ্রিকায় মাকুমাজান নামে পরিচিত ছিলেন। স্যার হেনরি কার্টিসের ভাই মিস্টার কার্টিস জানিয়েছেন কীভাবে তিনি ইয়র্কশায়ারে মি. কোয়াটারমেইনের বাড়িতে রাখা বেশ কিছু পুরনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছিলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেই পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি ছিল &#39;মেরি&#39;। সম্পাদক হিসেবে আমার কাছে এই পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশের জন্য আসার কথা ছিল। আমি কিন্তু সেগুলো ছাড়াও আরও কিছু সম্পূর্ণ লেখা এবং অনেক অগোছালো নোট আর কাগজপত্র খুঁজে পেয়েছিলাম। এই কাগজগুলোর মধ্যে কিছু ছিল খেলাধুলা বা শিকার বিষয়ক লেখা। কিছু রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে। কিছু লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনার স্মারক। আবার কিছুতে এমন সব অসাধারণ ঘটনার বিবরণ আছে যা তিনি নিজে দেখেছেন কিন্তু অন্য কোথাও উল্লেখ করেননি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খুব ময়লা, ছেড়া, একটি পুরনো বইয়ের মধ্যে এই নোটটি পাওয়া গেছে যা দেখে মনে হয় মালিক বহু বছর ধরে এটি সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন। তখন ইয়র্কশায়ারে মি. কোয়াটারমেইনের অতিথি থাকাকালীন অনেক আগের একটি আলোচনার কথা আমার মনে হয়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নোটটি ছোট। আমার ধারনা যে ঘটনার বিবরণী এটাতে বলা হয়েছে, সেটা ঘটার এক দুই ঘণ্টার মধ্যেই তিনি লিখে ফেলেছিলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নোটটি নিচে দেওয়া হলো:—&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি ভাবি, পরপারে খুব সাহস আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মত কাজের জন্য কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয় কিনা? – অনেকটা আধ্যাত্মিক ভিক্টোরিয়া ক্রসের মতো। যদি দেওয়া হয় তবে আমার মনে হয় বেচারা সেই বুড়ো আদিবাসী মাগেপাকে এটা দেওয়া উচিত। এই ব্যাপারে আমার যদি কোনো অধিকার থাকত তবে আমি এটাই করতাম। সত্যি বলতে, সে আমাকে মানবজাতি নিয়ে গর্বিত হতে শিখিয়েছে। অথচ সে ছিল কেবল একজন ‘নিগার’ বা কালো মানুষ, কাফ্রিদের মানুষ যে নামে ডাকতো তেমন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষণ আমি (এই গল্পের সম্পাদক) ভেবেছিলাম এই লেখাটা কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হঠাৎ আমার সব মনে পড়ে গেল। আমার মনে পড়ল আমি তখন যুবক। ইয়র্কশায়ারে কোয়াটারমেইনের বাড়িতে তার অতিথি হয়ে রয়েছি। ডিনার শেষে এক সন্ধ্যায় হলের ভেতর আমরা বসেছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন স্যার হেনরি কার্টিস আর ক্যাপ্টেন গুড। আমরা ধূমপান করছিলাম। কথা হচ্ছিল বীরত্বের নানা কাজ নিয়ে। আমাদের প্রত্যেকেই এমন কিছু সাহসিকতার কাজের কথা বললাম যা আমাদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। আমাদের বলা শেষ হলে বুড়ো অ্যালান বললেন —&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যদি আপনাদের আপত্তি না থাকে, আমি এমন একটি ঘটনার কথা বলব যাকে আমি আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী কাজগুলোর একটি মনে করি। এটা ঘটেছিল জুলু যুদ্ধের শুরুতে, যখন সৈন্যরা জুলুল্যান্ডে ঢুকছিল। তখন আমি সরকারের হয়ে মালপত্র আনা-নেওয়ার কাজ করতাম, যাকে ট্রান্সপোর্ট-রাইডিং বলে – আসলে সেনাবাহিনীর জন্য করতাম এই কাজ। আমি তাদের জন্য তিনটি ওয়াগনের ব্যবস্থা করেছিলাম। সেগুলোর সাথে দরকারি ফোরলুপার ও চালকরাও ছিল। প্রতিটি ওয়াগনের জন্য ছিল ষোলোটা ভালো তাগড়া ষাঁড়্র। আর পুরো দলটার দায়িত্বে আমি ছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারা আমাকে বেশ ভালো টাকা দিয়েছিল। আসলে কত দিয়েছিল তা আর নাই বললাম – বলতে গেলে একটু লজ্জা লাগে। আসলে সত্যিটা হলো, সেই জুলু যুদ্ধের সময় ইম্পেরিয়াল অফিসাররা অনেক বেশি দাম দিয়ে জিনিসপত্র কিনত। আমি এমন কিছু লোকের গল্প বলতে পারি, যাদের সবাই কিন্তু আমাদের কলোনির ছিল না, যারা কমিশন বা ঐ ধরনের কাজের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি ধনী হয়ে গিয়েছিল। তবে এ সব কথা মনে না রাখাই ভালো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমার কথা যদি বলেন, আমি আমার ওয়াগন ভাড়ার জন্য বেশ ভালো দাম চেয়েছিলাম এক ইউনিফর্ম পরা তরুণ ভদ্রলোকের কাছে। মাত্র তিন সপ্তাহ হলো তিনি এই দেশে এসেছিলেন। আর আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি সেই দাম দিতে রাজি হয়ে যান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু যখন আমি কমান্ডারদের কাছে গিয়ে তাদের সতর্ক করলাম যে তারা যেভাবে এগোচ্ছে তাতে বিপদ হতে পারে, তখন তাদের অহংকার এতটাই বেশি ছিল যে তারা এই বুড়ো শিকারী আর মাল আনা-নেওয়া করা লোকটার কথা শুনলই না। আমাকে ভদ্রভাবে বিদায় করে দিল। যদি তারা আমার কথা শুনত তাহলে ইজান্দলওয়ানা বিপর্যয় ঘটত না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কোয়াটারমেইন কিছুক্ষণ চুপ করে কী যেন ভাবলেন। আমি জানতাম, এটা তার জন্য একটা কষ্টের বিষয় ছিল। তিনি এটা নিয়ে খুব কমই কথা বলতেন। যদিও তিনি নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, তবে সেই ভয়াল যুদ্ধে কোয়াটারমেইনের কয়েকজন বন্ধু মারা গিয়েছিল। এরপর তিনি আবার বলতে আরম্ভ করলেন:—&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এবার সেই বুড়ো মাগেপার কথায় ফিরে আসি। আমি তাকে বহু বছর ধরে চিনতাম। আমাদের প্রথম দেখা হয় টুগেলার যুদ্ধে। আমি তখন রাজার ছেলে সুদর্শন উম্বেলাজির পক্ষে টুলওয়ানা রেজিমেন্টে লড়ছিলাম। যাই হোক, আগেই আপনাদের বলেছি, টুলওয়ানা রেজিমেন্ট প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় তিন হাজার লোকের মধ্যে মনে হয় মাত্র পঞ্চাশ জন বেঁচে ছিল। যদিও তারা সেটওয়ায়ো এর পাঠানো তিনটি রেজিমেন্টকে শেষ করে দিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য ভালো, মাগেপা তাদের মধ্যে একজন যে বেঁচে গিয়েছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরে রাজা পান্ডার গ্রামে তার সাথে আমার দেখা হয়। আমার মনে পড়ল সে আমার পাশেই লড়েছিল। যখন আমি তার সাথে কথা বলছিলাম, যুবরাজ সেটওয়ায়ো পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমার প্রতি তিনি বেশ নরম ছিলেন, কারণ তিনি জানতেন কী কারণে আমি সেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি মাগেপার দিকে তাকিয়ে কটমট করে দেখলেন আর বললেন:—&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;‘কী মাকুমাজান! তুমি কিছুদিন আগে টুগেলায় যাদের নিয়ে আমাকে কামড়ানোর চেষ্টা করেছিলে, এ কি সেই কুকুরগুলোর একজন নয়? এ নিশ্চয়ই খুব ধূর্ত কুকুর, খুব দ্রুত দৌড়াতেও পারে। নইলে এত লোক মারা যাওয়ার পরও সে কীভাবে বেঁচে আছে আর ফোঁস ফোঁস করছে? ইস! আমার ইচ্ছে হয়, ওর গলায় একটা চামড়ার ফালি খুঁজে দেই।’&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;না, যুবরাজ, তা নয়,’ আমি উত্তর দিলাম। ওর রাজার দেওয়া সুরক্ষা আছে ওর কাছে আর ও একজন সাহসী মানুষ। আমার চেয়েও বেশি সাহসী। কারণ আমি টুলওয়ানা রেজিমেন্ট ছেড়ে পালিয়েছিলাম, কিন্তু ও যেখানে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়েছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;‘তুমি বলতে চাও তোমার ঘোড়াটা ছুটে পালিয়েছিল, মাকুমাজান। ঠিক আছে, যেহেতু তুমি এই কুকুরটাকে পছন্দ করো, আমি ওকে আঘাত করব না।’ এই বলে কাঁধ ঝাঁকিয়ে তিনি চলে গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তবুও আজ হোক বা কাল, ও আমাকে আঘাত করবেই,’ যুবরাজ চলে গেলে মাগেপা বলল। সেটওয়ায়ো এর স্মৃতি সূর্যাস্তের সময় গাছের ছায়ার মতো লম্বা। তাছাড়া, সে ভালো করেই জানে যে আমি ছুটে পালিয়েছিলাম, মাকুমাজান। তবে সেটা সব শেষ হওয়ার পরেই, আর স্থির দাঁড়িয়ে থেকে যখন কিছু করার ছিল না। আপনার মনে আছে, আমরা সেটওয়ায়োয়ের প্রথম রেজিমেন্টকে শেষ করে দেওয়ার পর দ্বিতীয় রেজিমেন্টটা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আর আমরা সেটাও শেষ করে দিয়েছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;লড়াইয়ের সময় আমার মাথায় একটা লাঠির আঘাত লেগেছিল। এটা লেগেছিল আমার সদ্য লাগানো পুরুষদের আংটির উপর। আমি সম্ভবত সেই পুরনো যোদ্ধাদের দলের সবচেয়ে কমবয়সী ছিলাম। আংটিটা আমাকে বাঁচিয়েছিল। তবুও কিছুক্ষণ আমি জ্ঞান হারিয়ে মরা মানুষের মতো পড়ে ছিলাম। যখন আমার জ্ঞান ফিরল, দেখি লড়াই শেষ। আর সেটওয়ায়োয়ের লোকেরা আমাদের আহতদের খুঁজছে তাদের মেরে ফেলার জন্য। কিছুক্ষণ পর তারা আমাকে খুঁজে পেল। দেখল আমার শরীরে কোনো আঘাত নেই।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এই তো একজন মরা সেজে আছে, একটা মরা দুর্গন্ধযুক্ত বেড়ালের মতো। একটা বড়সড় লোক বর্শা উঁচিয়ে বলল।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখনই আমি লাফিয়ে উঠে দৌড় দিলাম। আমি সদ্য বিয়ে করেছিলাম আর বাঁচতে চেয়েছিলাম। সে আমাকে বর্শা দিয়ে মারতে গেল, কিন্তু আমি বর্শার উপর দিয়ে লাফিয়ে গেলাম। আর অন্যরা যে বর্শাগুলো ছুড়েছিল সেগুলো আমার শরীরে লাগেনি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারপর তারা আমাকে তাড়া করতে শুরু করল। কিন্তু মাকুমাজান, আমার নাম রাখা হয়েছে &quot;হরিণ&quot; কারণ আমি জুলুল্যান্ডের যে কোনো মানুষের চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারি। আমি তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে নিরাপদে পালিয়ে এলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;‘সাবাশ মাগেপা,’ আমি বললাম। তবুও তোমাদের লোকজনের একটা প্রবাদ মনে রেখো – &quot;শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী সাঁতারু স্রোতের সাথে ভেসে যায় আর দ্রুত দৌড়ানো লোকটা ধরা পড়ে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হ্যাঁ, এটা আমি জানি, মাকুমাজান,’ সে মাথা নেড়ে বলল। আর হয়তো ভবিষ্যতে কোনোদিন এটা আমি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেই সময় আমি তার কথাগুলো তেমন পাত্তা দেইনি। কিন্তু ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় পর আমার সেই কথাগুলো মনে পড়েছিল। মাগেপার সাথে আমার প্রথম পরিচয় এভাবেই হয়েছিল। এবার শুনুন বন্ধুরা, জুলু যুদ্ধের সময় কীভাবে আবার তার সাথে আমার দেখা হয়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপনারা তো জানেনই, আমি মূল সেনাদলের সাথে ছিলাম যারা বাফেলো নদীর ধারের রোর্ক&#39;স ড্রিফট হয়ে জুলুল্যান্ডে ঢুকছিল। যুদ্ধ ঘোষণার আগে, যখন হয়তো যুদ্ধটা এড়ানো যেত আর অনেকেই সেটা ভেবেছিল তখন আমি রোর্ক&#39;স ড্রিফট নামের সেই ছোট্ট স্টেশনটিতে মালপত্র নিয়ে যেতাম। সেটা পরে খুব বিখ্যাত হয়েছিল। আর ঐ সময়ে আমি সেটওয়ায়োয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে যতটা সম্ভব খবর জোগাড় করতাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;শুনেছিলাম নদীর অন্য পাড়ে এক মাইলের মতো দূরে একটা ক্রাল আছে। সেখানকার লোকেরা নাকি ইংরেজদের খুব পছন্দ করে। তাই আমি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। হয়তো ভাবছেন এটা একটা দুঃসাহসিক কাজ ছিল। কিন্তু আমি জুলুল্যান্ডে এতটাই পরিচিত ছিলাম যে রাজার বিশেষ অনুমতিতে আমি যেখানে খুশি যেতে পারতাম। কেউ আমাকে বিরক্ত করত না। আমি রাজকীয় সুরক্ষার মধ্যেই ছিলাম বলা যায়। তাই একা গেলে নিজের জন্য কোনো ভয় ছিল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সেই মতো এক সন্ধ্যায় আমি নদী পার হলাম এবং একটা গিরিপথের ভেতরের ক্রালের দিকে চললাম। আমাকে বলা হয়েছিল ক্রালটা সেখানেই আছে। মিনিট দশেক ঘোড়ায় চড়ার পর আমি গ্রামটা দেখতে পেলাম। এটা খুব বড় ক্রাল ছিল না। হয়তো ছয় কি আটটা কুঁড়েঘর ছিল আর একটা গরুর খোঁয়াড় ছিল যা সাধারণ বেড়া দিয়ে ঘেরা। জায়গাটা অবশ্য খুব সুন্দর ছিল। গিরিপথের জঙ্গল ঢাকা ঢালের সামনে একটু উঁচু জায়গায় গ্রামটা ছিল। আমি যখন কাছে গেলাম, দেখলাম মহিলা ও বাচ্চারা গ্রামের ভেতর ছুটে গিয়ে লুকিয়ে পড়ছে। আর আমি যখন গেটের কাছে পৌঁছলাম, কিছুক্ষণ কারো কোন সাড়াশব্দ ছিল না। শেষে একটা ছোট ছেলে বেরিয়ে এল এবং আমাকে জানাল গ্রামটা &#39;শুকনো লাউয়ের মতো খালি।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&#39;ঠিক আছে, আমি উত্তর দিলাম। তবুও যাও এবং মোড়লকে বলো মাকুমাজান তার সঙ্গে কথা বলতে চান।&#39;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেলেটি চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আমি গেটের পাশ থেকে একটি মুখ উঁকি দিতে দেখলাম যা আমার চেনা মনে হচ্ছিল। ভালো করে দেখার পর সেই লোকটা বাইরে বেরিয়ে এল। তিনি ছিলেন একজন লম্বা, রোগা মানুষ, বয়স বোঝা যাচ্ছিল না, হয়তো ষাট থেকে সত্তর বছরের মধ্যে হবে। সুন্দর গড়নের মুখ, ছোট ধূসর দাড়ি, দয়ালু চোখ এবং খুব সুন্দর হাত - পা। তার আঙুলগুলো ছিল অসাধারণ লম্বা এবং অনবরত নড়ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&#39;অভিবাদন মাকুমাজান,&#39; তিনি বললেন। দেখছি আপনি আমাকে মনে করতে পারছেন না। আচ্ছা, টুগেলা যুদ্ধের কথা মনে করুন। আর টুলওয়ানা বাহিনীর শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ের কথা। আর আমাদের প্রয়াত বাবা&#39;র (রাজা পান্ডা) গ্রামে একটি নির্দিষ্ট আলোচনার কথা। আর মনে করুন যিনি তার জায়গায় বসেছেন (মানে সেটওয়ায়ো) তিনি কীভাবে আপনাকে বলেছিলেন যে তার সুযোগ থাকলে একটি নির্দিষ্ট লোকের গলার জন্য চামড়ার দড়ি খুঁজে নিতেন!&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আহ! আমি বললাম, এখন আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি। তুমি মাগেপা হরিণ। তাহলে এখনো দৌড়বিদকে ধরা যায়নি!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&#39;না মাকুমাজান, এখনো যায়নি। তবে সময় এখনো আছে। আমার মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি অনেক দ্রুতগামী পা দৌড়াবে (যুদ্ধ শুরু হবে)।&#39;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তোমার জীবন কেমন চলছে?&#39; আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;‘ভালোই চলছে মাকুমাজান, সবদিক দিয়ে তবে একটি ছাড়া। আমার তিনজন স্ত্রী আছে। কিন্তু আমার ছেলেমেয়ে কম এবং তারা মারা গেছে। শুধু একটি মেয়ে বেঁচে আছে, যার বিয়ে হয়েছে আর সে আমার সঙ্গেই থাকে। কারণ তার স্বামীও মারা গেছে। একটি মহিষ তাকে মেরে ফেলেছিল। আর সে আর বিয়ে করেনি। আসুন ভেতরে এসে দেখুন।&#39;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাই আমি ভেতরে গিয়ে মাগেপার স্ত্রীদের দেখলাম। তারা সবাই ছিল বৃদ্ধা। এছাড়াও, তার মেয়ে গীতা আমাকে কিছু জমাট বাঁধা দুধ এনে দিল পান করার জন্য। সে ছিল সুন্দর গড়নের একজন মহিলা, দেখতে অনেকটা তার বাবার মতো, কিন্তু মুখটা ছিল বিষণ্ণ। হয়তো ভবিষ্যতে খারাপ কিছু হতে চলেছে এমন ভয় তার মুখে ছিল। তার আঙুল আঁকড়ে ধরে ছিল দু&#39;বছরের কম বয়সী একটি সুন্দর ছেলে। সে মাগেপাকে দেখে তার দিকে ছুটে গেল এবং ছোট্ট হাত দিয়ে তার পা জড়িয়ে ধরল। বুড়ো লোকটি শিশুটিকে কোলে তুলে আদর করে চুমু খেল এবং বলল-&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;এটা খুব ভালো যে এই ছোট্ট শিশুটি আর আমি একে অপরকে ভালোবাসি, মাকুমাজান। কারণ সে আমার বংশের শেষ ব্যক্তি। এখানে বাকি যে বাচ্চারা আছে তারা সবাই সেই সব লোকের সন্তান যারা আমার আশ্রয়ে থাকতে এসেছে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাদের বাবা কোথায়? আমি জিজ্ঞেস করলাম এবং বাচ্চাটির গালে হাত বুলিয়ে দিলাম। তার মা আমাকে বলল বাচ্চাটির নাম সিনালা। আমার আদর করাটা তার পছন্দ হলো না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;কাজের জন্য বাইরে গেছেন,&#39; সংক্ষেপে উত্তর দিল মাগেপা। আর আমি অন্য প্রসঙ্গ শুরু করলাম।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এরপর আমরা পুরনো দিনের কথা বলতে শুরু করলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তার কাছে বিক্রি করার মতো কোনো ষাঁড় আছে কিনা। আমি বললাম যে এই কারণেই আমি ক্রালে এসেছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;না মাকুমাজান,&#39; সে একটু অন্য সুরে উত্তর দিলেন। এ বছর সব গরু রাজার সম্পত্তি।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি মাথা নেড়ে বললাম যেহেতু এটাই নিয়ম, আমার বরং চলে যাওয়াই ভালো। তখন যেমনটা আমি আশা করছিলাম, মাগেপা ঘোষণা করল যে সে আমাকে নিরাপদে নদীর ধার পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। তাই আমি তার স্ত্রীদের এবং বিধবা মেয়েটির কাছ থেকে বিদায় নিলাম এবং রওনা হলাম। ক্রালের এলাকা ছাড়তেই মাগেপা আমার কাছে মন খুলে কথা বলতে শুরু করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;মাকুমাজান, সে আমার দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, যুদ্ধ হবে। আমি ঘোড়ার উপর বসে ছিলাম এবং সে আমার ঘোড়ার পাশে হাঁটছিল। সে বলল, কেপ থেকে আসা মহান শ্বেতাঙ্গ প্রধানের (স্যার বার্টল ফ্রেরের কথা বলছিল) দাবি সেটওয়ায়ো মানবে না। সে ইংরেজদের সঙ্গে লড়বে। তবে সে ইংরেজদেরই আগে শুরু করতে দেবে। সে ইংরেজদের জুলুল্যান্ডের ভেতরে টেনে আনবে এবং তারপর তার বাহিনী (ইম্পি) দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলবে। তাদের মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে আর শেষ করে দেবে। আর আমি যেহেতু ইংরেজদের ভালোবাসি, তাই খুব খারাপ লাগছে। হ্যাঁ, আমার বুক ফেটে যায়। এটা যদি বোয়ারদের সাথে হতো, আমি খুশি হতাম। কারণ আমরা জুলুরা বোয়ারদের ঘৃণা করি। কিন্তু ইংরেজদের ঘৃণা করি না। এমনকি সেটওয়ায়োও তাদের পছন্দ করে। তবুও, তারা যদি তাকে আক্রমণ করে, সে তাদের শেষ করে দেবেই।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাই নাকি, আমি উত্তর দিলাম। এরপর আমি আমার দায়িত্ব অনুযায়ী তার কাছ থেকে যত সম্ভব তথ্য বের করার চেষ্টা করলাম। এবং অনেক তথ্য পেয়েছি। যদিও সবটা বিশ্বাস করিনি, কারণ আমার সন্দেহ হয়েছিল যে মাগেপা যে খবরগুলো দিচ্ছে তা হয়তো তাকে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঠিক সেই সময়েই আমার মনে হলো পেছনের ঘন সবুজ ঝোপের ভেতর থেকে একটা শব্দ শুনতে পেলাম। শব্দটা এমন যেন কেউ কাশি চাপার চেষ্টা করছে। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ কোনো গুপ্তচর যদি আমাদের কথা শুনে ফেলত তাহলে মাগেপার আর বাঁচা হতো না, আর আমি যত তাড়াতাড়ি নদী পার হতে পারতাম ততই ভালো হতো।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ওটা কীসের শব্দ?&#39; আমি জিজ্ঞেস করলাম&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;ঝোপের হরিণ, মাকুমাজান। এখানে অনেক আছে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। যদিও এটা সত্যি যে হরিণ এভাবে কাশে, আমি আমার ঘোড়াটাকে ঝোপের দিকে ঘোরালাম, ভেতরে ঢোকার জায়গা খুঁজতে লাগলাম। তখনই কিছু একটা শব্দ করে সরে গেল এবং লম্বা ঘাসের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল। ঐ ছায়ায় যদিও আমি দেখতে পাইনি ওটা কী ছিল, কিন্তু যেটুকু আলো ছিল তাতে এমন কিছুর ডগায় আলো ঠিকরে পড়ল যা হয়তো একটা হরিণের শিংয়ের চকচকে ডগা অথবা একটা বর্শার ফলা হতে পারত।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;আমি তো বলেই ছিলাম ওটা একটা হরিণ, মাকুমাজান,&#39; মাগেপা বলল। তবুও যদি বিপদের গন্ধ পান চলুন আমরা ঝোপের কাছ থেকে সরে যাই। যদিও এখনো কোনো শ্বেতাঙ্গকে স্পর্শ না করার নির্দেশ আছে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তারপর আমরা নদীর অগভীর অংশটির দিকে হেঁটে চললাম। কাফ্রিরা যেমনটি করে তেমনি মাগেপা খুব বিস্তারিতভাবে বলল কীভাবে সে তার মেয়ে আর নাতীকে আমার দায়িত্বে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন সে পরদিন সকালে না পাঠিয়ে তার পরের দিন সকালে পাঠাতে চাইছে। সে উত্তর দিল কারণ তার ধারণা ছিল সেদিন রাতে তার গ্রামে সেনাদলের একদল স্কাউট আসবে। তারা হয়তো পরদিন এবং তার চেয়ে বেশি সময় সেখানে থাকবে। তারা গ্রামে থাকা অবস্থায় গীতা আর তার ছেলেকে বাইরে পাঠানো তার জন্য কঠিন হবে, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;নদীর ধারের কাছে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। আমি আমাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে ফিরে এলাম এবং যা যা জেনেছিলাম তার উপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট লিখলাম। যদিও এই রিপোর্টের উপর কেউ একটুও গুরুত্ব দিল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সকালের সময় গীতা ও ছেলেটির সাথে নদীর ধারে আমার দেখা করার কথা ছিল, তার আগের দিন ভোর হওয়ার একটু আগে আমি নদীতে গিয়েছিলাম মুখ ধুতে। ডুব দেওয়া হয়ে গেলে পোশাক পরার জন্য একটা চ্যাপ্টা পাথরের উপর উঠলাম। ঘন কুয়াশা নদীর সুন্দর মুক্তোর মতো ঢেউগুলো ঢেকে রেখেছিল। আমি সেই গভীর নীরবতার কথা ভাবলাম – প্রায় যেন শুনতে পাচ্ছিলাম সেই নীরবতা। তখনও কোনো জীবন্ত প্রাণী নড়াচড়া করছিল না।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওহ! যদি আমি জানতাম সেই ভয়ানক দৃশ্য আর আওয়াজগুলো খুব তাড়াতাড়িই শোনা যাবে এই একই শান্তিময় জায়গায়! সত্যি বলতে, ঠিক সেই মুহূর্তে একটা আভাস যেন ভেসে এল। হঠাৎ সেই সম্পূর্ণ নীরবতা ভেঙে চূর্ণ হয়ে গেল একটি বুক কাঁপানো আর্তনাদে। তারপর আরও কিছু আর্তনাদ আর চিৎকার শোনা গেল। দূরে হলেও পরিষ্কার শোনা যাচ্ছিল। তারপর আবার নীরবতা নেমে এল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখন আমার মনে হলো, ঐ শব্দটা হয়তো মাগেপার ক্রাল থেকেই এসেছিল। তবে কুয়াশার মধ্যে শব্দের উৎস বোঝা কঠিন। যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমি সূর্য ওঠা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করলাম। সূর্যের উজ্জ্বল আলো প্রথমে পড়ল যেখানে মাগেপার ক্রালটি ছিল সেখান থেকে আকাশের দিকে ওঠা এক বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলীর উপর!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি মর্মাহত হয়ে ওয়াগনগুলোর কাছে ফিরে গেলাম। এত কষ্ট লাগছিল যে নাস্তা খেতে পারছিলাম না। হেঁটে আসার সময় খুব করে ভাবছিলাম এক কি দু&#39;রাত আগে সেই সবুজ ঝোপের জায়গায় যেখানে মিষ্টি গন্ধের সাদা ফুল ফোটে, সেখানে কি আলোটা একটা হরিণের শিংয়ের ডগায় ঠিকরে পড়েছিল? নাকি হয়তো আমার গতিবিধি লক্ষ্য করা কোনো গুপ্তচরের বর্শার ফলার উপর পড়েছিল? যদি তাই হতো, তাহলে ঐ ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর তার আগের সেই ভয়ংকর চিৎকারগুলো বোঝা সহজ। কারণ আমি আর মাগেপা একসাথে গোপন কথা বলেছিলাম, তাও আবার জুলু ভাষায়!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;পরদিন সকালে ভোরবেলা আমি নদীর ধারে গেলাম ক্ষীণ আশা নিয়ে যে গীতা আর তার ছেলে হয়তো ব্যবস্থা মতো সেখানে এসে পৌঁছাবে। কিন্তু কেউ আসেনি। আর এটা অবাক করার মতো ছিল না। কারণ গীতা মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল, তাকে বর্শা দিয়ে গেঁথে ফেলা হয়েছিল, যেমনটা আমি পরে দেখেছিলাম। সে বাচ্চাটাকে বাঁচানোর জন্য খুব লড়াই করেছিল। আর তার আত্মা চলে গিয়েছিল যেখানে সাহসী মানুষের আত্মা যায়, সে সাদা হোক বা কালো। শুধু নদীর অন্য পাড়ে কিছু জুলু স্কাউট দেখলাম। মনে হচ্ছিল তারা আমার উদ্দেশ্য জানে। তারা আমাকে ঠাট্টা করে ডেকে জিজ্ঞেস করছিল সেই সুন্দরী মহিলা কোথায় যার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এরপর আমি এই ব্যাপারটা মন থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। আমার মন তখন নানা চিন্তায় ভরা ছিল। কারণ ততক্ষণে যুদ্ধের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ চলে এসেছিল। আর তার সাথে এসেছিল অনেক সৈন্য আর অফিসার।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ঠিক সেই সময়েই জুলুরা নদীর অন্য পাড় থেকে গুলি চালাতে শুরু করল আমাদের লোকদের দিকে। যদিও তারা নিশানা করে মারছিল, কিন্তু কারোর গায়েই লাগেনি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, রাইফেল হাতে আনাড়ি লোক তখনই বিপজ্জনক যখন সে কিছু নিশানা করে না, কারণ তখন গুলি নিজেই নিজের পথ খুঁজে নেয় এবং গায়ে লেগে যেতে পারে। এই ঝামেলা বন্ধ করতে আমাদের পক্ষের স্থানীয় লোকজনের একটি রেজিমেন্টকে – সংখ্যায় হয়তো কয়েকশো হবে – নির্দেশ দেওয়া হলো নদী পার হয়ে গিরিপথ ও পাথরের আড়াল থেকে জুলুদের সরিয়ে দিতে। আমি দেখলাম তারা সুন্দরভাবে চলে গেল। আর বিকেলে নদীর অন্য পাড়ে প্রচুর চিৎকার আর বন্দুকের আওয়াজ শুনতে পেলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সন্ধ্যার দিকে একজন এসে আমাকে বলল যে আমাদের &#39;ইম্পি&#39; (সেনাদল) জয়ী হয়ে ফিরছে। তখন আমার অন্য কিছু করার ছিল না। আমি নদীর ধার দিয়ে হেঁটে গেলাম এমন এক জায়গায় যেখানে পানি গভীর ছিল আর পাড় উঁচু ছিল। এখানে আমি পাথরের স্তূপের উপর উঠলাম। সেখান থেকে আমার দূরবীন দিয়ে জুলুল্যান্ডের দিকের বিস্তীর্ণ সমভূমি দেখতে পাচ্ছিলাম, যা দূরে পাহাড় আর ঝোপঝাড়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিছুক্ষণ পর আমাদের কিছু স্থানীয় লোককে দেখলাম। তারা দলছুট আর অগোছালোভাবে বাড়ির দিকে ফিরছিল কিন্তু স্পষ্টতই নিজেদের নিয়ে খুব গর্বিত দেখাচ্ছিল। তারা নিজেদের বর্শা নাড়াচ্ছিল আর যুদ্ধের গান গাইছিল। কয়েক মিনিট পর প্রায় এক মাইল দূরে একজন লোককে দৌড়াতে দেখলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দূরবীন দিয়ে তাকে দেখতে দেখতে আমি তিনটি জিনিস লক্ষ্য করলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;প্রথমত, সে লম্বা ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দ্বিতীয়ত, সে অসাধারণ দ্রুত গতিতে দৌড়াচ্ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আর তৃতীয়ত, তার পিঠের উপর কিছু একটা বাঁধা ছিল। তার দৌড়ানোর কারন বোঝা গেল। কারণ তাকে তাড়া করছিল আমাদের এখানকার অনেক লোক। তাদের মধ্যে আরও বেশি লোক এই তাড়া করার দলে যোগ দিচ্ছিল। সব দিক থেকে তারা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। চেষ্টা করছিল তার পথ আটকে তাকে মেরে ফেলতে। তারা যত কাছে আসছিল আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তাদের ছোঁড়া বর্শাগুলো সূর্যের আলোয় ঝলকে উঠছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;খুব তাড়াতাড়িই আমি বুঝলাম লোকটা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এবং একটি নির্দিষ্ট জায়গার দিকে দৌড়াচ্ছিল। সে নদীতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। এতগুলো লোক মিলে একটা বেচারাকে তাড়া করে মেরে ফেলছে – দৃশ্যটা আমার কাছে খুবই নিদারুন মনে হলো। এছাড়াও আমি ভাবছিলাম কেন সে পিঠের বোঝাটা ফেলে দিচ্ছে না। মনে হলো সে একজন ওঝা হবে, আর বোঝাটার ভেতর হয়ত তার মূল্যবান তাবিজ বা ওষুধপত্র আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;সে তখনও অনেক দূরে ছিল। কিন্তু যখন সে আরও কাছে এল প্রায় তিন-চারশো গজের মধ্যে, হঠাৎ করেই তার মুখের আদল চিনতে পারলাম। বুঝতে পারলাম সেটা মাগেপার মুখ!&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;‘হায় আল্লাহ! আমি মনে মনে বললাম। এটা সেই বুড়ো মাগেপা হরিণ, আর পিঠের মাদুরের ভেতরের বোঝাটা হবে ওর নাতী, সিনালা।’&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;হ্যাঁ, তখন আমি প্রায় নিশ্চিত ছিলাম যে সে বাচ্চাটাকে পিঠের উপর বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তখন আমার কী করার ছিল? আমার পক্ষে ঐ জায়গায় নদী পার হওয়া সম্ভব ছিল না। আর অগভীর জায়গা দিয়ে ঘুরে আসতে অনেক দেরি হয়ে যেত। আমি পাথরের উপর উঠে চিৎকার করে বললাম ঐ অসভ্য স্থানীয় লোকগুলোকে যেন বৃদ্ধকে ছেড়ে দেয়। তারা এতটাই উত্তেজিত ছিল যে আমার কথা শুনতে পায়নি। অন্তত তারা পরে শপথ করে বলেছিল যে তারা ভেবেছিল আমি নাকি লোকটাকে তাড়া করতে উৎসাহ দিচ্ছিলাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু মাগেপা আমার কথা শুনতে পেল। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল সে আর পারছে না কিন্তু আমাকে দেখে মনে হলো যেন সে নতুন শক্তি পেল। সে নিজেকে সামলে নিল এবং সত্যি অবাক করা গতিতে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এখন নদীটা তার থেকে তিনশো গজের বেশি দূরে ছিল না। আর প্রথম দুশো গজ সে তার তাড়াকারীদের থেকে এগিয়ে ছিল, যদিও তাদের বেশিরভাগই যুবক ছিল এবং তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। তারপর আবার তার শক্তি কমতে শুরু করল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;দূরবীন দিয়ে দেখতে দেখতে আমি বুঝতে পারছিলাম তার মুখ পুরোপুরি খোলা ছিল। আর ঠোঁটের উপর লালচে ফেনা। পিঠের বোঝাটা তাকে নিচে টেনে ধরছিল। একবার সে বোঝাটা খুলে ফেলার জন্য হাত তুলল যেন। তারপর একটা পাগলের মতো ইশারা করে হাত আবার নামিয়ে ফেলল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;যারা তাড়া করছিল তাদের মধ্যে দুজন যারা বাকিদের চেয়ে এগিয়ে ছিল, তারা তার কাছে এগিয়ে এল। তারা ছিল লম্বা, রোগা লোক, বয়স তিরিশের বেশি নয়। তাদের হাতে ছিল বর্শা। তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে একটু এগিয়ে গেল। তখন মাগেপা নদীর ধার থেকে পঞ্চাশ গজের বেশি দূরে ছিল না। প্রথম লোকটি ছিল তার প্রায় দশ কদম পেছনে এবং দ্রুত এগিয়ে আসছিল। মাগেপা কাঁধের উপর দিয়ে তাকিয়ে দেখল। তারপর তার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে চল্লিশ গজ তীরের মতো ছুটল। যারা তাড়া করছিল তাদের থেকে সোজা দূরে দৌড়ে গেল। নদীর ধার থেকে কয়েক ফুটের মধ্যে এসে সে হোঁচট খেল আর পড়ে গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&#39;এই শেষ,&#39; আমি বললাম। আমার হাতে যদি রাইফেল থাকত, তাহলে আমি ঐ রক্তপিপাসু লোকগুলোর এক বা দুজনকে গুলি করে থামিয়ে দিতাম আর যা হওয়ার হতো, সেটা মেনে নিতাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;কিন্তু না! ঠিক যখন প্রথম লোকটা তার চওড়া বর্শাটা তার পিঠে গেঁথে দেওয়ার জন্য তুলল, যার উপর বোঝাটা ছিল, মাগেপা লাফিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াল বুকের উপর আঘাত নেওয়ার জন্য। স্পষ্টতই, একটি বিশেষ কারণে সে পিঠে বর্শার আঘাত নিতে চায়নি। নিশ্চিতভাবে আঘাতটা লাগল। তবু এটা মাগেপাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করতে পারেনি। হয়তো কোনো হাড়ে লেগেছিল। সে বর্শাটা টেনে বের করল এবং লোকটার দিকে ছুড়ে মেরে তাকে আহত করল। তারপর টাল খেতে খেতে পেছনের দিকে গেল ছোট্ট খাড়া পাড়টার ধার পর্যন্ত। অবশেষে পৌঁছাল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;‘আমাকে বাঁচাও, মাকুমাজান!’ বলে চিৎকার করে ঘুরে দাঁড়াল, আর অন্য লোকটা তাকে বর্শা মারার আগেই সোজা গভীর পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সে ভেসে উঠল। হ্যাঁ, সেই সাহসী বুড়ো ভেসে উঠল আর অন্য পাড়ের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করল। তার পেছনে রক্তের একটা ছোট্ট রেখা দেখা গেল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি ছুটে গেলাম বা বলা ভালো লাফিয়ে আর গড়িয়ে নিচে নামলাম নদীর ধার পর্যন্ত। যেখানে নুড়িপাথরের একটা অংশ পানিতে ঢুকে গিয়েছিল। এটা ধরে এগিয়ে গেলাম আর এর পরেই কোমর পর্যন্ত পানিতে নামলাম। এখন মাগেপা আমার গা ঘেঁষে ভেসে যাচ্ছিল। আমি তার বাড়ানো হাতটা ধরলাম এবং তাকে পাড়ে টেনে তুললাম।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ছেলেটা! সে কষ্টে শ্বাস নিতে নিতে বলল। ও কি মরে গেছে?&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আমি মাদুরের বাঁধনগুলো কেটে দিলাম। এর ভেতরে ছিল ছোট্ট সিনালা। পানিতে ভিঝে গিয়েছিলো, কিন্তু স্পষ্টতই সে জীবিত এবং অক্ষত ছিল। কারণ কিছুক্ষণ পরেই সে চিৎকার করে উঠল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;না, আমি বললাম। সে বেঁচে আছে, আর বাঁচবে।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;তাহলে সব ঠিক আছে, মাকুমাজান। ঝোপের ভেতর গুপ্তচরই ছিল, হরিণ নয়। সে আমাদের কথা শুনে ফেলেছিল। রাজার ঘাতকরা এসেছিল। গীতা কুঁড়েঘরের দরজা ধরে রেখেছিল, আর আমি বাচ্চাটাকে নিয়েছিলাম। আমার বর্শা দিয়ে খর বা চালের ভেতর একটা গর্ত করলাম এবং পেছনের দিক দিয়ে সরে পড়লাম। মারা যাওয়ার আগে গীতার শরীরে অনেক বর্শা গেঁথে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি ছেলেটাকে নিয়ে সরে পড়তে পেরেছিলাম। আপনার এখানকার কাফ্রিগুলো আমাকে খুঁজে পাওয়ার আগে পর্যন্ত আমি ঝোপের ভেতর লুকিয়ে ছিলাম নাটাল পালিয়ে যাওয়ার আশা নিয়ে। তারপর নদীর দিকে দৌড় দিলাম আর অন্য পাড়ে আপনাকে দেখতে পেলাম। হয়তো আমি নিজে বেঁচে যেতে পারতাম, কিন্তু বাচ্চাটা ভারী ছিল।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&#39;ওকে খেতে দিন, মাকুমাজান, ওর নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;(কিছুক্ষণ চুপ থেকে) বিদায়।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;আপনার সেই কথাটা ভালো ছিল – দ্রুত দৌড়ানো লোকটা শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায়। আহ! তবুও আমার দৌড়ানো বৃথা যায়নি। তারপর সে এক হাতের উপর ভর দিয়ে উঠল। অন্য হাত দিয়ে প্রথমে সিনালাকে আর তারপর আমাকে অভিবাদন করল। বিড়বিড় করে বলল, &#39;আপনার প্রতিজ্ঞা মনে রাখবেন, মাকুমাজান।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এভাবেই মাগেপা হরিণ মারা গিয়েছিল। বোঝা নিয়ে ওর মতো ভালো দৌড়াতে পারত এমন কাউকে দেখিনি, এই বলে কোয়াটারমেইন মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। মনে হলো ঘটনাটার কথা মনে করে তিনি কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিলেন।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;বাচ্চা সিনালার কী হলো? কিছুক্ষণ পর আমি জিজ্ঞেস করলাম।&quot;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;ওহ! আমি তাকে নাটালের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আর পরে তার কিছু সম্পত্তি ফেরত এনে দিতে পেরেছিলাম। আমার বিশ্বাস, সে এখন অনুবাদক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5363990648893412490'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5363990648893412490'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2025/05/magepa-buck.html' title='হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর মাগেপা দ্য বাক (Magepa the Buck) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgnmA7E2rcuFC2GSuQAv-cJuLTzeqFoGVHlQdiKteFhQdCV_I5f8bhUTBocd50_nz6LFvgcSe-_om53rIF4PLx876AkqojTQXeDgW0FoVcwRHtsmpDSSPu9j_W7bfCmHRtFBiazsqs5EcPjGb_LPrsWCtkwRl7WJUDFOcue9gB4i7aydLqD_rGq8eH3jRs/s72-w703-h879-c/magepa%20the%20buck.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-1818611470604061950</id><published>2025-05-17T22:49:00.000-07:00</published><updated>2025-05-19T07:05:56.870-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড"/><title type='text'>হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর রক্তসন্ধ্যা (Red Eve) রূপান্তর মেহেদী হাসান</title><content type='html'>&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEif_Okxr_3-z56Rc3lOkUKlbhTnc4NeHq1yuQ1zj4AJTyWrmlgAsEwdPD59S2EuRpu92piGHnPlzqIsDLOmCAMyyplOaHmrkZp-Hio_0lfIVwpIKMq-DGCrCPw2nBtL5GuvUgQ7aSpuVPGrqoDCnKHTtieoroEBorzh7ZPSvxTObc1ktZQA7UboWYiOhlg/s1120/Red%20Eve%20-%200.png&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;1120&quot; data-original-width=&quot;896&quot; height=&quot;718&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEif_Okxr_3-z56Rc3lOkUKlbhTnc4NeHq1yuQ1zj4AJTyWrmlgAsEwdPD59S2EuRpu92piGHnPlzqIsDLOmCAMyyplOaHmrkZp-Hio_0lfIVwpIKMq-DGCrCPw2nBtL5GuvUgQ7aSpuVPGrqoDCnKHTtieoroEBorzh7ZPSvxTObc1ktZQA7UboWYiOhlg/w574-h718/Red%20Eve%20-%200.png&quot; width=&quot;574&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;div&gt;আসসালামু আলাইকুম। আমি মেহেদী হাসান। স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের লেখার বিশেষ ভক্ত। অনুবাদের কোয়ালিটি কেমন হয়েছে জানাবেন প্লিজ। এটা আমার প্রথম প্রচেষ্টা। আপনাদের ভালো লাগলে সম্পূর্ণ উপন্যাস রূপান্তরের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-----------------------------------------------------------------------------&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&quot;রেড ইভ&quot; হল স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের একটি কালজয়ী ঐতিহাসিক উপন্যাস, যা প্রথম প্রকাশ পায় ১৯১১ সালে। এই উপন্যাসটি চতুর্দশ শতাব্দীর এক অস্থির সময়কে চিত্রিত করে, যখন ইউরোপে ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু নামক ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রেসির যুদ্ধে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বেঁধে যায়।&amp;nbsp;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;এই উপন্যাসে ঐতিহাসিক কাহিনীর সাথে ফ্যান্টাসি (কাল্পনিক) এবং অতিপ্রাকৃত (সুপারন্যাচারাল) বিষয় মেশানো হয়েছে। এর মূল গল্পটি ইভ ক্লেভারিং নামে এক দৃঢ়চেতা মহীয়সী নারীকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তার প্রেম, যুদ্ধ এবং ভাগ্যের নানা জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;হ্যাগার্ডের অন্যান্য রচনার মতোই, &quot;রেড ইভ&quot;-এ রয়েছে নাটকীয় অ্যাডভেঞ্চার, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং রহস্যময় শক্তির উপস্থিতি—যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো &#39;মুর্গ&#39; নামের চরিত্রটি, যাকে মৃত্যু এবং ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই উপন্যাসের বিশেষত্ব হলো এর সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক বর্ণনা এবং প্রেম, ইতিহাস ও রূপক কাহিনীর অনন্য সমন্বয়। এটি হ্যাগার্ডের সাহিত্যকর্মের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র স্থান দখল করে আছে।&lt;/div&gt;&lt;div&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div&gt;-----------------------------------------------------------------------------&lt;/div&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;উৎসর্গ&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডিচিংহ্যাম, ২৭ মে, ১৯১১&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয় জেহু,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পাঁচটি দীর্ঘ কিন্তু শান্তিপূর্ণ বছর ধরে, রয়্যাল কমিশনার হিসেবে পাশাপাশি বসে এবং ভ্রমণ করে, আমরা চেষ্টা করেছি সমুদ্রের প্রচণ্ড ঢেউ থেকে আমাদের উপকূল রক্ষা করার, অনুর্বর জলাভূমিকে উর্বর জমিতে পরিণত করার এবং পাথুরে পাহাড়কে ঘন সবুজ বনে ঢেকে দেওয়ার উপায় বের করতে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই সমস্ত পরিশ্রমের পরিণতি কী হবে, তা আমি জানি না; জানি না গম্ভীর ভূতত্ত্ববিদেরা কখনো রোমাঞ্চকর গল্প পড়েন কি না - যদি না তা হয় কালের কলমে পাথরে লিখে যাওয়া সেই মহাকাব্য। তবে আমাদের এই যৌথ সাধনার স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ, এই কাজের অবসরে লিখিত একটি গল্প তোমায় উৎসর্গ করছি - অদম্য রেড ইভের আর দেবদূত মুর্গের কাহিনী, যার ভয়াল জাহাজ আজও পূর্ব থেকে পশ্চিমে, পশ্চিম থেকে পূর্বে নিরন্তর যাত্রা করে, এবং চিরকাল এমনি করেই যাত্রা করবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আপনার বন্ধু এবং সহকর্মী,&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এইচ. রাইডার হ্যাগার্ড।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রাপক&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডা. জেহু&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এফ.জি.এস., সেন্ট অ্যান্ড্রুজ, এন.বি.&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-----------------------------------------------------------------------------&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h2 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;রেড ইভ&lt;/h2&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;মার্ঘ: মৃত্যুদূত&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যখন তৃতীয় এডওয়ার্ড সিংহাসনে বসেছিলেন এবং ক্রেসি যুদ্ধ তখনও ইতিহাসের পাতায় ধ্বনিত হয়নি, সেই সময়গুলোতে, ইংল্যান্ড বা পশ্চিমের অন্য কোনো দেশে এ সম্পর্কে কেউ কিছুই জানত না। পূর্বাকাশ থেকে, যে দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়ের আলো, প্রাণের স্পন্দন, মৃত্যুর ছায়া আর ঈশ্বরের বিধান নেমে আসে, সেখান থেকে যে মহাবিপর্যয় পৃথিবীকে গ্রাস করেছিল, তার করুণ ইতিহাস বলবার মতো কোনো সাক্ষী তখন অবশিষ্ট ছিল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেই সময়ে সমগ্র ইউরোপের অগণিত মানুষের মধ্যে কেউই হয়তো কখনো শুনেনি সেই সুদূর ক্যাথাই নামের বিশাল রাজ্যের কথা - যেখানে বাস করত শত কোটি হলুদাভ চর্মের মানুষ, যাদের চোখে জমে থাকত হিমেল নিষ্পাপতা। সেই ভূখণ্ডে হাজার হাজার বছর আগেই গড়ে উঠেছিল এক পরিশীলিত সভ্যতা, যখন আমাদের পরিচিত সাম্রাজ্যগুলোর বীজও বপন হয়নি; যখন পাহাড় কেটে তৈরি হয়নি মহানগরী, বন উজাড় করে গড়ে ওঠেনি জনপদ - ছিল কেবল বুনোদের আশ্রয়ে ঢেকে থাকা এক বিস্তীর্ণ, ভীতসন্ত্রস্ত প্রান্তর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তবু যদি তাদের চোখ খোলা থাকত, যদি তারা দেখতে পেত, তবে নিশ্চয়ই কম্পিত হত সমগ্র ইউরোপ। রাজা থেকে যুবরাজ, পুরোহিত থেকে বণিক, সেনাপতি থেকে নাগরিক, এমনকি নিঃস্ব শ্রমজীবী মানুষ পর্যন্ত - যখন পূর্ব দিক থেকে আসে তার দান, তা কখনো শুধু সৌন্দর্যের নয়; বরং অনেক সময় তা হয়ে ওঠে মৃত্যুর বিভীষিকা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দেখো সেই ঘন অন্ধকারের পর্দার ওপার থেকে সারা বিশ্বটাকে। তোমার চোখের সামনে উন্মোচিত হবে এক অদ্ভুত নগরী, যেখানে বাড়িগুলো শীতের বরফে প্রায় ঢাকা পড়েছে। করাতের দাঁতের মতো মেঘের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া রক্তিম সূর্যাস্তের আলোয় শহরটা লালচে দেখাচ্ছে। মন্দিরের প্রাঙ্গণ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহে প্রজ্বলিত হচ্ছে অতিকায় অগ্নিকুণ্ড, যার জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সহস্রাধিক মানবদেহ – এক অলৌকিক ও ভয়াবহ দৃশ্য।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেই নগরীর একচ্ছত্র অধিপতি ছিল মহামারী - এক অজানা প্লেগ। অগণিত মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, আরও অগণিত প্রাণ এখনও মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে। সমগ্র প্রাচ্যভূমি স্তূপীকৃত শবদেহে পরিপূর্ণ - যাদের তারা কখনো ভালোবেসেছিল, কখনো ঘৃণা করেছিল। মৃতদেহ সৎকারের কর্তব্য শেষ করে, মানুষজন দাঁড়িয়েছিল সেই মহান নদীর তীরে, নিঃশব্দে প্রত্যক্ষ করছিল এই মৃত্যুর মহাযজ্ঞ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;h3 style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;মার্ঘ: মৃত্যুদূতের যাত্রা&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রাচীন সেই অদ্ভুত বাড়িগুলোর মাঝখান দিয়ে বিস্তৃত রাজপথ ধরে একটি শোভাযাত্রা এগিয়ে যাচ্ছিল বাদামী রঙের, বরফের ছোপ ছোপ দাগ থাকা নদীর দিকে। এগিয়ে চলেছে বরফে ছাওয়া বাদামি নদীর দিকে। প্রথমে এগিয়ে চলেছে কালো আলখেল্লা পরা ও কালো কাগজের লণ্ঠন হাতে পুরোহিতদের এক দল, যদিও তখনো সূর্য আলো দিচ্ছিল, লণ্ঠনগুলোও জ্বলছিল। তাদের পিছনে চলেছে শ্বেতবসনধারী পুরোহিতদের আরেক দল, যাদের হাতেও সমভাবে জ্বলছিল সাদা লণ্ঠন। কিন্তু কেউ তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি, না তাদের করুণ শোকগাথার বাণী শুনতে চেয়েছে। কারণ সবার দৃষ্টি স্থির ছিল মাঝখানের একজন ব্যক্তি এবং তার দুই সঙ্গীর উপর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথম সহচরী ছিলেন এক মোহিনী নারী, যার দেহ ঝলমলে গহনায় সুশোভিত, ছড়ানো কেশরাশিতে কৃত্রিম পুষ্পখচিত। তার উন্মুক্ত বক্ষের নিচে শুভ্র রেশমের বস্ত্র। তিনি ছিলেন প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রেমের মূর্ত প্রতীক, নৃত্যরত পদক্ষেপে এগিয়ে চলছিলেন, মায়াবী দৃষ্টিতে চারিদিকে তাকিয়ে ঝুলি থেকে শুষ্ক গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় সহচর ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, যে পিছনে ধীর পদক্ষেপে চলছিল; অতিশয় রোগা, লিঙ্গহীন যে পুরুষ না মহিলা বোঝা যাচ্ছিল না। শুষ্ক, লৌহ-ধূসর এলোমেলো কেশরাশি, ফ্যাকাসে মুখমণ্ডল, গভীর কোটরাগত চোখ, চর্মাচ্ছাদিত উঁচু কপাল; রোগা পাগুলো ছেঁড়া ন্যাকড়া দিয়ে অর্ধেক ঢাকা, আর নখরসদৃশ হস্ত যা নিরাশায় বাতাসকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছিল। তার রূপ ছিল ভয়ংকর, যেন সমস্ত ভয় নিয়ে মৃত্যু হাজির হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তাদের মাঝখানে নিঃস্পৃহ ভঙ্গিতে হেটে যাচ্ছিলেন একজন মানুষ, শুধু লাল রঙের একটা কোমরবন্ধ আর গলায় বাঁধা একটা লম্বা লাল চাদর ছাড়া তার গায়ে আর কিছু ছিল না, চাদরটা তার চওড়া কাঁধ থেকে নিচে ঝুলছিল। তাকে দেখে মনে হয় না সে বিশেষ কেউ, তীক্ষ্ণ হিমশীতল দৃষ্টির একজন শক্তিশালী হলুদ বর্ণের মানুষ, যার বয়স অনুমান করা দুষ্কর, কারণ লাল চাদরের টেনে-টানা হুড তার চুল ঢেকে রেখেছিল; যৌবনের প্রান্তরেখা থেকে দূরবর্তী বলে প্রতীয়মান হলেও কালের করাল গ্রাসে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অক্ষত। তিনি অবিচল, একাগ্রভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তার মুখমণ্ডল ছিল ভাবলেশহীন, কোনো কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাঝেমাঝেই তিনি সেই দীর্ঘ দৃষ্টি ফেরাতেন সেই জনতার দিকে যারা নতজানু হয়ে গম্ভীর নীরবতায় হাঁটু গেড়ে বসে তাকে পর্যবেক্ষণ করছিল। প্রতিবারই তার দৃষ্টি পতিত হত একক কোনো ব্যক্তির উপর - সে পুরুষ হোক বা নারী কিংবা শিশু—একান্তভাবে সেই একজনকের জন্যই নির্দিষ্ট সেই দৃষ্টি, অপর কারো জন্য নয়। আর যার উপরই সেই দৃষ্টি পতিত হত, সে তৎক্ষণাৎ হাঁটু থেকে উঠে দাঁড়াত, মাথা নত করত, এবং এমন এক উদ্দেশ্যে প্রস্থান করত যেন কোনো অলৌকিক আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কালো আলখেল্লা পরা পুরোহিতগণ, শ্বেতবসনধারী পুরোহিতগণ এবং রক্তিম চাদরাবৃত সেই ব্যক্তি সম্মুখে গোলাপের মতো প্রাণবন্ত নারী, পশ্চাতে ছাইরঙা মৃত্যুর প্রতিমূর্তি সকলেই নদীতীরের দিকে অগ্রসর হল।,তারা শ্মশানের অগ্নিশিখার মধ্য দিয়ে পথ করে এগিয়ে গেল, আর রক্তিম সূর্যাস্ত তাদের সবার উপর আলো ছড়াচ্ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নদীতীরের ঘাটের স্তম্ভগুলিতে দৃঢ়ভাবে বাঁধা ছিল এক অদ্ভুত উঁচু জাহাজ, যার মাস্তুলে টানানো ছিল রক্তিম পাল। শ্বেত ও কালো পোশাকধারী পুরোহিতেরা জাহাজের প্রশস্ত সিঁড়ির দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াল এবং সম্মান প্রদর্শনার্থে মাথা নত করল যখন রক্তিম চাদরাবৃত ব্যক্তি একাকী তাদের মধ্য দিয়ে জাহাজে উঠলেন, কারণ শুষ্ক গোলাপপাপড়ি হাতে থাকা সেই মোহিনী নারী এবং ছাইবর্ণা মৃত্যুরূপী সঙ্গী পিছনে পড়ে গিয়েছিল। সূর্যাস্তের মুহূর্তে, জাহাজের উচ্চ স্টার্নে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চারণ করলেন:&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এখানে আমার কার্য সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমি - ভক্ষক অগ্নি, আমি - বার্তাবাহক, পশ্চিমাভিমুখে যাত্রা করব। কিছুকালের জন্য আমি তোমাদের মধ্যে আমার দহনশক্তি স্তব্ধ রাখব; তবু আমাকে স্মরণ রেখো, কারণ আমি আবার ফিরে আসব।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তার কথা শেষ হতেই জাহাজের দড়িগুলো খুলে দেওয়া হল, বাতাস রক্তিম পালগুলোকে ফুলিয়ে তুলল, আর জাহাজটি রাতের অন্ধকারে বিলীন হয়ে গেল – কালোর বুকে এক রক্তিম বিন্দুর মতো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জনতা তাকে দেখতে থাকল যতক্ষণ না জাহাজটি দৃষ্টির বাইরে চলে গেল। তারপর তারা একসঙ্গে আনন্দ ও ক্রোধে ফেটে পড়ল। তারা উন্মাদের মতো হাসল। তারা অভিশাপ দিল সেই প্রস্থানকারীকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমরা বেঁচে আছি, বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!&quot; তারা চিৎকার করে উঠল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুর্গ চলে গেছে! মুর্গ চলে গেছে!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তার পুরোহিতদের হত্যা করো!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তার ছায়াদের বলি দাও।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুর্গ প্রাচ্যের অভিশাপ নিয়ে পশ্চিমের বুকে বয়ে নিয়ে গেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দেখো, সেটা তাকে অনুসরণ করছে! তারা ধোঁয়া বা বাষ্পের একটি মেঘের দিকে ইঙ্গিত করল, যার মধ্যে ভয়ঙ্কর আকৃতিগুলো অস্পষ্টভাবে নড়াচড়া করছিল, যা প্রস্থানরত রক্তিম-পালের জাহাজের পিছু পিছু যাচ্ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কালো আলখেল্লাধারী ও সাদা বসন পরিহিত পুরোহিতেরা এই কথা শুনল। কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ ছাড়াই, যেন এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানের অংশ, তারা সারিবদ্ধভাবে তুষারের উপর হাঁটু গেড়ে বসল। কোমর থেকে উর্ধ্বাংশ উন্মুক্ত করে, বিশাল তরবারিধারী জল্লাদরা আবির্ভূত হল। তারা ধীরে, নির্দয়তাহীনভাবে হাঁটু গেড়ে বসা সারিগুলোর দিকে এগিয়ে গেল এবং ধৈর্যশীল প্রসারিত ঘাড়গুলোর উপর ভারী তলোয়ার নামিয়ে তাদের ভয়াবহ কাজ সম্পন্ন করল যতক্ষণ না সবাই মারা গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর তারা ফিরে তাকাল সেই ফুলবাহিনী নারীর সন্ধানে, যে আগে নৃত্য করছিল, আর সেই জীর্ণ বস্ত্রাবৃতার খোঁজে, যে পিছনে অনুসরণ করেছিল, উদ্দেশ্য ছিল তাদের শ্মশানের আগুনে নিক্ষেপ করা। কিন্তু তারা উধাও হয়ে গিয়েছিল, যদিও কেউ তাদের যেতে দেখেনি। শুধু ঘনিয়ে আসা অন্ধকার থেকে কোনো মন্দির বা প্যাগোডার চূড়া থেকে এক করুণ হাওয়ার মতো কণ্ঠস্বর ভেসে এল -&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;নির্বোধেরা,&quot; সেই কণ্ঠস্বর বিলাপ করে বলল,&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এখনো তোমাদের সাথে আছে মুর্গ, সৃষ্টির দ্বিতীয় সত্তা;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুর্গ, যে মানবজাতির সেবক হয়ে এসেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুর্গ দূত আবার ফিরে আসবে সূর্যাস্তের ওপার থেকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তোমরা হত্যা করতে পারো না, ক্ষমা করতে পারো না। যেসব পুরোহিতদের তোমরা হত্যা করেছ বলে ভাবছ, তাদেরই সে দূরদেশে তার সহকারী হিসেবে ডেকেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নির্বোধেরা! তোমরা শুধু মুর্গেরই সেবা করছ—দেবতাদের দ্বাররক্ষী মুর্গের। জীবন ও মৃত্যু তোমাদের হাতে নেই, তার হাতেও নেই। এগুলো শুধু মুর্গের প্রভুর হাতে, যিনি মানবজাতির সাহায্যকারী, সেই প্রভু যাকে কেউ কখনো দেখেনি, কিন্তু যার আদেশ সবাই মেনে চলে - হ্যাঁ, পরাক্রমশালী মুর্গও, যার নামে তোমরা মূর্খের মতো ভয় পেয়েছ।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অন্ধকার থেকে এই কণ্ঠস্বর ভেসে এল, আর সেই রাতেই মহামারীর তরবারি প্রাচ্যের দেশ থেকে উঠে গেল—আর সেখানে শ্মশানের আগুন আর জলেনি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-----------------------------------------------------------------------------&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/1818611470604061950'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/1818611470604061950'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2025/05/red-eve.html' title='হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড এর রক্তসন্ধ্যা (Red Eve) রূপান্তর মেহেদী হাসান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEif_Okxr_3-z56Rc3lOkUKlbhTnc4NeHq1yuQ1zj4AJTyWrmlgAsEwdPD59S2EuRpu92piGHnPlzqIsDLOmCAMyyplOaHmrkZp-Hio_0lfIVwpIKMq-DGCrCPw2nBtL5GuvUgQ7aSpuVPGrqoDCnKHTtieoroEBorzh7ZPSvxTObc1ktZQA7UboWYiOhlg/s72-w574-h718-c/Red%20Eve%20-%200.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-1941591725531833611</id><published>2023-12-04T18:27:00.000-08:00</published><updated>2023-12-04T18:27:30.185-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="আমের আচার তৈরি"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="রান্নাবান্না"/><title type='text'>সবচেয়ে সহজে কাঁচা আমের আচার তৈরি করার পদ্ধতি</title><content type='html'>&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiTgSl0BoGJ0AOs9pspvBXx2FbAEkuicnJ_yjXNmk1UXHaw-G1mAHNDjQBadvp8fXbV-hL_ZhhmVOaycUU62ebxbhYFDOCfLchDHTZl1ypLlIfVzZUPxzY-Kuae4vB09SD_Q5hMnQdvU50M54UosGjM586q612bUVqL-qPAyt7xwSI2PWCbIKgTfwxKV6I/s1081/how-to-make-green-mango-pickle-at-home.PNG&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; data-original-height=&quot;612&quot; data-original-width=&quot;1081&quot; height=&quot;317&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiTgSl0BoGJ0AOs9pspvBXx2FbAEkuicnJ_yjXNmk1UXHaw-G1mAHNDjQBadvp8fXbV-hL_ZhhmVOaycUU62ebxbhYFDOCfLchDHTZl1ypLlIfVzZUPxzY-Kuae4vB09SD_Q5hMnQdvU50M54UosGjM586q612bUVqL-qPAyt7xwSI2PWCbIKgTfwxKV6I/w561-h317/how-to-make-green-mango-pickle-at-home.PNG&quot; width=&quot;561&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির যুগে সারাবছরই আমের আচার পাওয়া যায়। কিন্তু গরমকাল পড়লেই বা আমের মৌসুম&amp;nbsp;শুরু হলেই বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হয় আচার, চাটনি, জেলি থেকে আমসত্ত্ব। আজ দেখে নিন কীভাবে বাড়িতে খুব সহজেই তৈরি করে ফেলবেন কাঁচা আমের আচার।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমের আচার অত্যন্ত সুস্বাদু, মলশাদার হয়। আর তৈরি করাও খুব সহজ। ভাত, ডাল, রুটির সঙ্গেও দিব্যি খাওয়া যায়। আর অন্যান্য খাবারের স্বাদও বৃদ্ধি করে। আমের আচার তৈরি করার জন্য প্রথমে কাঁচা আমগুলি একটি পাত্রে ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে। এবার ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে তাতে এক চামচ লবন মিশিয়ে আলাদা করে রাখুন। অন্তত ঘণ্টা তিনেক রেখে দিতে হবে এভাবেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লবন মাখিয়ে আমের টুকরো রেখে দেওয়ার পর দেখতে পাবেন তা থেকে পানি বেরিয়েছে। এবার সেই পানি ছেঁকে ফেলে দিন। এবার আস্ত সরষে, মৌরি, মেথি, জিরে মিক্সিতে ভালো করে বেটে নিন। সমস্ত মশলা ভালো করে বাটা হলে আলাদা করে রাখুন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এবার একটি কাচের পাত্রে আমের টুকরোগুলি নিন। মুখ বন্ধ কোনও জার হলে সবথেকে ভালো হয়। এবার সেই পাত্রে আমের টুকরোগুলি দিয়ে তার মধ্যে বেটে রাখা মশলা, রসুন বাটা, আদা বাটা, লাল মরিচ গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, অল্প চিনি, লবন, সরষের তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কাচের জারের মধ্যে আমসহ সমস্ত উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। অন্তত টানা ৭ দিন জারটিকে রোদের মধ্যে রাখতে হবে। ৭ দিন রোদে রাখার পর দেখবেন আপনার আমের আচার একেবারে তৈরি হয়ে গিয়েছে। মনে রাখবেন প্রতিদিন রোদে দেওয়ার সময় একবার করে নাড়াচাড়া করে দিতে ভুলবেন না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এবার আচারের বয়ামটিকে অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায় রাখুন। সঠিকভাবে রাখলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে আচার। ফ্রিজেও সঠিকভাবে আচার রাখতে পারেন। তাতে ১ বছরও আচার ভালো থাকতে পারে।

&lt;/p&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;iframe allow=&quot;accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share&quot; allowfullscreen=&quot;&quot; frameborder=&quot;0&quot; height=&quot;315&quot; src=&quot;https://www.youtube-nocookie.com/embed/iuxQ1-SGQno?si=9EiUU7FUIor0NQK1&amp;amp;controls=0&quot; title=&quot;YouTube video player&quot; width=&quot;560&quot;&gt;&lt;/iframe&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সোর্স&amp;nbsp;ঃ &lt;a href=&quot;https://bengali.abplive.com/photo-gallery/lifestyle/how-to-make-green-mango-pickle-at-home-know-in-details-884182&quot; rel=&quot;nofollow&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;এখানে&lt;/a&gt;&lt;/p&gt;</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/1941591725531833611'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/1941591725531833611'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2023/12/how-to-make-green-mango-pickle-at-home.html' title='সবচেয়ে সহজে কাঁচা আমের আচার তৈরি করার পদ্ধতি'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiTgSl0BoGJ0AOs9pspvBXx2FbAEkuicnJ_yjXNmk1UXHaw-G1mAHNDjQBadvp8fXbV-hL_ZhhmVOaycUU62ebxbhYFDOCfLchDHTZl1ypLlIfVzZUPxzY-Kuae4vB09SD_Q5hMnQdvU50M54UosGjM586q612bUVqL-qPAyt7xwSI2PWCbIKgTfwxKV6I/s72-w561-h317-c/how-to-make-green-mango-pickle-at-home.PNG" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2418120166472521353</id><published>2016-07-14T05:18:00.003-07:00</published><updated>2016-07-14T05:18:55.193-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><title type='text'>বাড়ীর ছাদে সহজ পদ্ধতিতে সব্জী চাষ</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; height=&quot;175&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh_9DM8rsJFD36PmfLL6odlFTNfVAzeUVycy0kjK3UWa1r5nGzhKNY8PPXEBw93968yIIby0hBupenMTTSv1R55lgxS64Sd7RRBKXjVcORWAKay3mRqC88vTxmgSP2YDIEYpGQsTbD4kE4/s400/roof+plant.png&quot; width=&quot;400&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে ভার্টিক্যাল (লম্বালম্বী) চাষাবাদের দিকে ঝুকছে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব। তাই দেশের বিজ্ঞানীরা হরাইজন্টাল (সমান্তরাল) চাষাবাদের পাশাপাশি নতুন ওই চাষাবাদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পরামর্শ দিচ্ছেন সরকারকে। &amp;nbsp; এক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ উপযুক্ত স্থান। ইতিমধ্যেই গবেষকরা বাড়ির ছাদে সবজি চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবণ করলেও একইসাথে মাছ-সবজির সমন্বিত চাষের কথা কেউ ভাবেননি আগে। জিরো কস্ট বা প্রায় বিনা খরচেই এমনি এক পদ্ধতির বাস্তব দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড.এম এ সালাম।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা ও লন্ডন-নিউয়র্কের মত উন্নত শহরে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে উদ্ভাবণ করেছেন পরিবেশ বান্ধব একোয়াপনিক্সের মাধ্যমে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ পদ্ধতি এবং উৎপাদনও পেয়েছেন প্রায় তিনগুন। একোয়াপনিক্স হচ্ছে হাইড্রোপনিক্স ও একোয়াকালচারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যেখানে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা যায়। প্রয়োজন পড়ে না কোনো মাটির। অল্প জায়গায় শুধুমাত্র সামান্য পানি ব্যবহার করে একইসাথে প্রচুর শাক-সবজি ও মাছ উৎপাদন করা যায়। এই পদ্ধতি খড়া ও উপকূলীয় লবনাক্ত অঞ্চলের জন্য &amp;nbsp;খুবই উপযোগী কারন এতে প্রায় ৯৭ শতাংশ পানি কম লাগে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত ট্যাঙ্কের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙ্গে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিনত করে &amp;nbsp;ফলে গাছের জন্য আলাদা কোনো খাবার বা সারের প্রয়োজন হয় না। অপরদিকে গাছ মাছের ট্যাঙ্কের পানিকে দূষণমুক্ত করে পুনরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে ফলে মাছের উৎপদানও বেড়ে যায় অনেক। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাছের খাবার সরবরাহ করা প্রয়োজন পড়ে। তবে কেউ ইচ্ছা করলে বিনা খরচেই সেই খাবারও তৈরি করতে পারে ঘরে বসে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ির ছাদে কাজ শুরু করেন ড. সালাম। এলক্ষ্যে এক টনের একটি প্লাষ্টিকের ট্যাঙ্কে ৮০০ লিটার পানিতে ৬০টি তেলাপিয়া ছাড়েন তিনি। পাশাপাশি সাড়ে পাচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি কাঠের আলনা তৈরী করে তাতে তিন সারিতে মোট ৩৬ টি প্লাস্টিকের পানির বোতল যুক্ত করেন। বোতলগুলির তলার কাছাকাছি দুই পাশ দিয়ে কেটে জানালার মত রাখা হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; height=&quot;197&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEizzr7-NSEWx65IKtowd4jS5USHMw0qOQhW98LMpXSBZy01Z_kx8AIgkXMtOiM36aPNEN_sf8Mn0yB4UES81WnOVSaUAPC_b31l9XRIEqPBcCTBWdKymLZEj_U69pt62hmHdbGpwbE_hPw/s400/roof+plant2.png&quot; width=&quot;400&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
বোতলগুলিকে উল্টাটা করে ভিতরে একটু করা স্পঞ্জ দিয়ে তার উপর নুড়ি পাথর স্থাপন করে বোতল প্রতি দুটি করে গাছ লাগান। এতে একটি আলনায় ৩৬ টি বোতলে ৭২টি গাছ লাগানো সম্ভব হয়। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানি ৭ ফুট উঁচুতে একটি ৩০ লিটারের বালতিতে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোটাফোটা করে উপরের ১২টি বোতলে পানি দেওয়া হয়। এই পানি পর্যায়ক্রমে উপর থেকে নিচে আরও দুটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয় যা পুনরায় মাছের ট্যাঙ্কে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রতি দিন ১৬-১৮ ঘন্টা পানি প্রবাহের প্রয়োজন। &amp;nbsp;একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য কোন প্রকার সার বা মাটির প্রয়োজন হয় না। তবে মাছকে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। বাজার থেকে কিনে মাছকে যাতে খাদ্য দিতে না হয় তার জন্য কালো সৈনিক (Black Soldier Fly) পোকার লার্ভার উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎদ্ভাবন করেছেন তিনি যা মাছের খুব প্রিয় খাদ্য। এ পোকা পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় মাত্র ৫-৮ দিন বাঁচে। পূর্ণবয়স্ক পোকার কোন মুখ থাকে না এবং এরা কোন রোগ জীবাণুর বাহক হিসাবেও কাজ করে না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রাপ্ত বয়স্ক পোকা শুধুমাত্র প্রজননে অংশ গ্রহণ করে তার জীবন শেষ করে ফলে মানুষের জন্যও এটি ক্ষতিকর নয়। এই পোকার ডিম ও লার্ভা লালন-পালনের জন্য একটি বিশেষ চেম্বার তৈরী করে তার মাঝে রান্না ঘরের তরিতরকারীর খোসা ও গম পচা রেখে এই পোকাকে ডিম দেওয়ার জন্য আকৃষ্ঠ করা হয়। ফলে দলে দলে এই পোকা এসে এই চেম্বারে ডিম দেয়। ডিম থেকে লার্ভা বের হয়ে পচনশীল বর্জ্য খেয়ে বড় হয় এবং লার্ভা দশার শেষ পর্যায়ে চেম্বার হতে বের হয়ে কোকন অবস্থায় কিছুদিন থাকার পর পূর্ণাঙ্গ পোকাড় উদ্ভব হয়। এই পূর্ণাঙ্গ পোকাকে একটি মশারির সাহয্যে আটকে রেখে এদের বড় কলোণীর সৃষ্টি করা হয়েছে। এই কালো সৈনিক পোকার লার্ভা মাছের খুব প্রিয় খাদ্য যাতে ১৭-১৮ শতাংশ প্রোটিন, ১১ শতাংশ লিপিড এবং বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবন রয়েছে যা মাছের দ্রুত বর্ধনে সাহায্য করে। খুব সহজের এই পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রাম বাংলার বেকার যুবক-যুবতীগণ সহজেই আত্নকর্ম সংস্থান করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাছাড়া এই পদ্ধতিতে খুব কম খরচে বাড়ির আঙ্গিনায় মাছ ও শাকসবজির চাষ করে পারিবারিক প্রোটিনের চাহিদাও মিটানো সম্ভব। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে কোনো রাসায়নিক সার বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না বলে এটি মানব দেহের জন্য সম্পূর্ণ ঝুকিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি। সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি আগ্রহী কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন অধ্যাপক ড.এম এ সালাম।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তথ্যসূত্র : বিডি উদ্যোক্তা&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2418120166472521353'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2418120166472521353'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2016/07/roof-vegetable-cultivation.html' title='বাড়ীর ছাদে সহজ পদ্ধতিতে সব্জী চাষ'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh_9DM8rsJFD36PmfLL6odlFTNfVAzeUVycy0kjK3UWa1r5nGzhKNY8PPXEBw93968yIIby0hBupenMTTSv1R55lgxS64Sd7RRBKXjVcORWAKay3mRqC88vTxmgSP2YDIEYpGQsTbD4kE4/s72-c/roof+plant.png" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-5673351059232698637</id><published>2016-07-14T05:12:00.000-07:00</published><updated>2016-07-14T05:12:55.738-07:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><title type='text'>শূন্য পুঁজিতে শুরু করা একজন সফল উদ্যোক্তা</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; height=&quot;257&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgVoj6yDXV3_7u1QpgKHIF40D3FeeuxWsrAsXHxTHLOZHUK4ktyPR0lyrTiWNeRrxi-5jAKS45ipamcJB5Vv-f5T-yYBa80MS77Iec6PKON7KjyVPr6GVvsha-h2gb1UR3XWDySZJO9tzQ/s400/BD+Entrepreneur+Mahediblog.jpg&quot; width=&quot;400&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
ঘটনাটা ৩১ বছর আগের। এক তরুণী জীবিকার তাগিদে কাজ নেন পোশাক কারখানায়। মাননিয়ন্ত্রণকর্মী হিসেবে ৮০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু। কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় যেতেই নিজের ভেতরই যেন পরিবর্তনের ডাক পেলেন—এভাবে হবে না। এগোতে হলে শিখতে হবে মেশিনের কাজ। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ধরলেন মেশিন। কাজের দক্ষতায় পেতে থাকেন পদোন্নতি। এবার সচল হলো স্বপ্নও। পোক্ত হয়ে একসময় কাজ ছেড়ে নিজেই গড়লেন প্রতিষ্ঠান। শূন্য হাতে শুরু করে তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর নাম বেবি হাসান। বিএস অ্যাপারেল নামের একটি বায়িং হাউসের কর্ণধার তিনি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে সফল উদ্যোক্তাদের একজন হয়েছেন বেবি হাসান। তাঁর অধীনেই কাজ করছেন প্রায় অর্ধশত কর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানির কাজ করে তাঁর প্রতিষ্ঠান। বছরে লেনদেন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।&lt;br /&gt;
সফল ব্যবসায়ী হবেন, এমন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মজীবন শুরু করেননি বেবি। অনেকের মতো তাঁরও শুরুটা জীবিকার তাগিদেই। এসএসসি পাস করার পর পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১৯৮১ সালে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। বিয়ের পরবর্তী বছর জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। স্বামীর আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে নিজেই চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে পরিবারের কেউ উৎসাহ না দেখালেও পরে অবশ্য মেনে নিয়েছেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পোশাক কারখানায় কাজ করেন বেবি। একসময় উৎপাদন পরিচালকের দায়িত্বও পান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সে সময়গুলোর কথা উঠতেই বেবি হাসানের চেহারায় দৃঢ়তা। বললেন, ‘দিনে ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করতাম। সকাল আটটায় কাজ শুরু হতো, ফিরতাম রাত ১০টার দিকে। কোনো দিন কাজে অবহেলা করিনি। শুরুতে অনেক দূর যেতে হবে এমন লক্ষ্য ছিল না, তবে যখন কাজটাকে ভালোবেসে ফেললাম, তখন স্থির করলাম একটা পর্যায়ে যেতে হবে।’&lt;br /&gt;
নব্বইয়ে দশকের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠান বদলে একটি বায়িং হাউসে যোগ দেন বেবি। পাশাপাশি টুকটাক এ–সংক্রান্ত ব্যবসাও শুরু করেন। ২০০০ সালে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের একটি সংগঠনের সদস্য হন তিনি। হাতে তেমন নগদ টাকা ছিল না, তাই দ্বারস্থ হন ব্যাংকের। দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে হালিশহর কে ব্লকে ‘বিতনু’ নামের একটি বুটিকের শোরুম খোলেন। ওই বছরই চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইম্যান এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন (উই)। ওই সংগঠনের সদস্য হন বেবি। ২০০০ সালের শেষের দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জন অংশ নেন কলকাতার একটি কুটিরশিল্প মেলায়। সেখানে গিয়েই চোখ খুলে যায় তাঁর। তিনি বলেন, ‘ওই মেলায় গিয়েই ব্যবসা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। কী করে জানি সেদিনই ব্যবসার পোকা ঢুকে যায় মাথায়। মনস্থির করি, আমাকে ব্যবসায় সফল হতে হবে।’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
২০০২ সালে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি বায়িং হাউস দাঁড় করানো শুরু করেন। এরপর ২০০৯ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বিএস অ্যাপারেল নামের পৃথক বায়িং হাউস। বছর বছর এই প্রতিষ্ঠানের কলেবর বাড়ছে। মা বেবি হাসানের সঙ্গে ছেলে সালাহউদ্দিন চৌধুরীও সম্প্রতি ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রায় শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে আসার কৃতিত্বের ভাগ বেবি হাসান দিতে চান আরও দুজন নারীকে। একজন তাঁর মা ফরিদা খাতুন, অন্যজন ব্যবসায়ী নেতা মনোয়ারা হাকিম আলী। ১৯৯৮ সালে অসুস্থতায় ভুগে বেবি হাসানের মা মারা যান। মেয়ের চূড়ান্ত সাফল্য মা দেখে যেতে পারেননি, এই কষ্টই এখন তাড়িয়ে বেড়ায় তাঁকে। বেবি হাসানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
চাকরির পাশাপাশি সংসারের দেখভাল করতে হয়েছে। ফলে অবসর বলে কিছু ছিল না। কিন্তু তাতে দুঃখ নেই বেবির। তিনি বলেন, চাকরি বা ব্যবসা মেয়েদের জন্য খুব কঠিন, এমনটি কখনো মনে হয়নি। চেষ্টা থাকলে যেকোনো নারীই ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন।’ এসব কথা যখন বলছিলেন, তখন বেবির মুখে সাফল্যর তৃপ্তির হাসি। বললেন, ‘পরিচিত কোনো মেয়ে যখন চাকরি করার কথা বলেন, আমি তাঁদের উৎসাহ দিই ব্যবসা করো। কারণ, আমাদের একটাই লক্ষ্য, চাকরি করব না, চাকরি দেব।’&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : প্রথম আলো&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5673351059232698637'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5673351059232698637'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2016/07/Zero-to-Hero-Business-Entrepreneur.html' title='শূন্য পুঁজিতে শুরু করা একজন সফল উদ্যোক্তা'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgVoj6yDXV3_7u1QpgKHIF40D3FeeuxWsrAsXHxTHLOZHUK4ktyPR0lyrTiWNeRrxi-5jAKS45ipamcJB5Vv-f5T-yYBa80MS77Iec6PKON7KjyVPr6GVvsha-h2gb1UR3XWDySZJO9tzQ/s72-c/BD+Entrepreneur+Mahediblog.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-9222397455906876800</id><published>2014-02-23T04:00:00.002-08:00</published><updated>2014-02-23T04:00:29.731-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="বাংলাদেশের সব ব্যাংক"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>বাংলাদেশের সব ব্যাংকের লিস্ট একসাথে (ঠিকানাসহ)</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhQsHYEtFV69whJZq7Xd4fVrsEAlh4HlBxMCww_iSmy1Axehcw2KotmtVBoZDQ_9AE0FkJuJ6rkEEh02nE_x86MFG0kX6Pcbsyv__jYY2qSPBDqjgsVMOUPNNSR-Fc9nfjlQtlTvVQgSqQ/s1600/All+Bangladeshi+Bank+Collection+by+Mahedi.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhQsHYEtFV69whJZq7Xd4fVrsEAlh4HlBxMCww_iSmy1Axehcw2KotmtVBoZDQ_9AE0FkJuJ6rkEEh02nE_x86MFG0kX6Pcbsyv__jYY2qSPBDqjgsVMOUPNNSR-Fc9nfjlQtlTvVQgSqQ/s1600/All+Bangladeshi+Bank+Collection+by+Mahedi.jpg&quot; height=&quot;228&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
ব্যবসায়িক কার্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে রাখার জন্য উদ্যোক্তাদের ব্যাংক থেকে ঋন নিতে হয়। তাই কোন ব্যাংক কোথায় সেটা তাদের জন্য জানা অত্যাবশ্যক। আর সেই সকল পরিশ্রমী উদ্যোক্তাদের জন্য আজ আমার এই প্রয়াস। কোন ব্যাংক বাদ পরলে কমেন্ট করবেন। পরবর্তীতে যোগ করা হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEirtamfXvKOJ6xyLbBge3KReV2SVl32hm_P-DEhLPvRdcUnmZ6l7OwjttbOdFw4uAJGT-jtaiMPgtHX7BOLK-0X4vpbDfn9q1paW5R8ISXJLzb5wzVhfwxMehlCdSyrE9rSRHgNtSkVK78/s1600/Omni+Banner.png&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEirtamfXvKOJ6xyLbBge3KReV2SVl32hm_P-DEhLPvRdcUnmZ6l7OwjttbOdFw4uAJGT-jtaiMPgtHX7BOLK-0X4vpbDfn9q1paW5R8ISXJLzb5wzVhfwxMehlCdSyrE9rSRHgNtSkVK78/s1600/Omni+Banner.png&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;b&gt;Central Bank&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Bangladesh Bank&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Governor&lt;br /&gt;
Street: Bangladesh Bank, Head Office, 2nd Annex Building , Motijheel, Dhaka-1000.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 16236,&lt;br /&gt;
Fax: 88-02-9511771&lt;br /&gt;
Email: bb.cipc@bb.org.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.bangladesh-bank.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;b&gt;State-owned Commercial Banks&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Agrani Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 9D, Dilkusha Commercial Area, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +802 9566153-54 +8802 9566160-69,+8802 9566074-75&lt;br /&gt;
Fax: (+8802) 956 2346, 956 3662&lt;br /&gt;
Email: agrani@agranibank.org&lt;br /&gt;
Website: http://www.agranibank.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Sonali Bank Limited (SBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 35-42,44 Motijheel Commercial Area, Dhaka-1000, Bangladesh.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 88-02-9550426-31, 88-02-9550433, 88-02-9550434, 88-02-9552924&lt;br /&gt;
Fax: 88-02-9561410, 88-02-9552007&lt;br /&gt;
Email: sblch@sonalibank.net.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.sonalibank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Rupali Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Head Office, Rupali Bhaban, 34 Dilkusha Commercial Area, Post Box Number:719 Dhaka-1000,Bangladesh.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 9551525, 9551624, 9551625, 9551840, 9552214, 9552746, 9555093, 9555094&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-9564148&lt;br /&gt;
Email: info@rupalibank.org&lt;br /&gt;
Website: http://www.rupalibank.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Janata Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 110, Motijheel Commercial Area, Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2- 9552078, 880-2- 9564640, 880-2- 9567477,880-2- 9566094, 880-2- 9565003, 880-2- 9566089, 880-2- 9560219,880-2- 9564375&lt;br /&gt;
Fax: 88-02-9564644&lt;br /&gt;
SWIFT: JANBBDDH&lt;br /&gt;
Email: jbcomp@janatabank-bd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.janatabank-bd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;b&gt;Private Commercial Banks&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Uttara Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Uttara Bank Bhaban, 47, Bir Uttom Shahid Ashfaq-us-samad Road, (90, Motijheel Commercial Area), P.O. Box No# 217 &amp;amp; 818 ,Dhaka-1000, Bangladesh.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2-9551162-3, 880-2-9553085-6, 880-2-9558656, 880-2-9566067-9, 880-2-9565732, 880-2-9568941&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-7168376, 880-2-9572102, 880-2-9561392&lt;br /&gt;
SWIFT : UTBLBDDH&lt;br /&gt;
Email: ublidgen@uttarabank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.uttarabank-bd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Mutual Trust Bank Limited (MTBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Corporate Head Office, MTB Centre, 26 Gulshan Avenue, Plot 5, Block SE(D), Gulshan -1, Dhaka -1212&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880 (2) 882 6966, 882 2429&lt;br /&gt;
Fax: 880 (2) 882 4303&lt;br /&gt;
SWIFT: MTBL BD DH&lt;br /&gt;
Email: info@mutualtrustbank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.mutualtrustbank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Dhaka Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Biman Bhaban (1st Floor). 100, Motijheel C/A, Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9554514&lt;br /&gt;
Fax: +8802 9556584, +8802 95710130&lt;br /&gt;
Other Address:&lt;br /&gt;
SWIFT: DHBLBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@dhakabank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.dhakabankltd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Eastern Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 10, Dilkusha C/A ,Jiban Bima Bhaban, Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: + 88 02 9556360, + 88 02 9558392&lt;br /&gt;
Fax: + 88 02 9558392&lt;br /&gt;
Swift Code: EBLDBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@ebl.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Dutch-Bangla Bank Limited (DBBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Sena Kalyan Bhaban, 4th Floor 195 Motijheel Commercial Area Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: (8802) 9574196-97&lt;br /&gt;
Fax: (8802) 9561889&lt;br /&gt;
DBBL Swift Code: DBBL BDDH&lt;br /&gt;
Email: info@dutchbanglabank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.dutchbanglabank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Pubali Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Head Office, 26 , Dilkusha Commercial Area, Dhaka - 1000, Bangladesh. G . P . O. Box. Number : 853.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2-9551614&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-9564009&lt;br /&gt;
SWIFT CODE : PUBABDDH&lt;br /&gt;
Email: info@pubalibankbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.pubalibangla.com/&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;International Finance Investment and Commerce Bank Limited (IFIC Bank)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: BDBL Building (8th - 10th &amp;amp; 16th – 19th Floor) 8, Rajuk Avenue, G.P.O. Box – 2229, Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2-9563020, 880-2-9562060, 880-2-9562062, 880-2-9562068&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-9562015 880-2-7161644&lt;br /&gt;
Swift: IFICBDDH&lt;br /&gt;
Website : http://www.ificbank.com.bd/&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;National Bank Limited (NBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 18 Dilkusha Commercial Area, Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 88-02-956-3081,88-02-966-6584&lt;br /&gt;
Fax: 88-02-956-3953, 88-02-966-9404&lt;br /&gt;
SWIFT :NBLBBDDH&lt;br /&gt;
Email: ho@nblbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.nblbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;The City Bank Limited (CBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: City Bank Center, 136, Gulshan Avenue, Gulshan-2, Dhaka-1212, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802-8813483, +8802-8814375, +8802-8813126&lt;br /&gt;
Fax: +8802- 9884446&lt;br /&gt;
Email: info@thecitybank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.thecitybank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;National Credit and Commerce Bank Limited (NCC Bank)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 7-8, Motijheel C/A, Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880 2 9561902-4, 880 2 9566283, 880 2 9563981-3&lt;br /&gt;
Fax: 880 2 9566290&lt;br /&gt;
Other Address:&lt;br /&gt;
Cable: NATCREDIT DHAKA&lt;br /&gt;
Telex: 642821 NCL BJ&lt;br /&gt;
Email: info@nccbank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.nccbank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Prime Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Adamjee Court Annex Building-2, 119-120, Motijheel C/A, Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2-9567265, 880-2-9570747-8&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-9567230, 880-2-9560977, 880-2-9566215, 880-2-9560960&lt;br /&gt;
SWIFT: PRBLBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@primebank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.primebank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Mercantile Bank Limited (MBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 61, Dilkusha Commercial Area, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +88-02-9559333, 9553892&lt;br /&gt;
Fax: +88-02-9561213&lt;br /&gt;
Swift: MBLBBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@mblbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.mblbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Southeast Bank Limited (SBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Eunoos Trade Center, 52-53, Dilkusha, C/A (Level - 2, 3, 4 &amp;amp; 16), Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 88-02-9571115, 88-02-7160866, 88-02-9555466, 88-02-7173793&lt;br /&gt;
Fax: 88-02-9550093&lt;br /&gt;
SWIFT : SEBDBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@southeastbank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.southeastbank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Standard Bank Limited (SBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Metropolitan Chamber Building (3rd Floor) 122-124 , Motijheel C/A, Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 88-02-7175698, 88-02-7169134, 88-02-9558375&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-7176367&lt;br /&gt;
Email: info@standardbankbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.standardbankbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;ONE Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Company Secretary&lt;br /&gt;
Street: HRC Bhaban (2bd -6th floors), 46 Kawran Bazar C/A, Dhaka-1215&lt;br /&gt;
Postcode: 1215&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9137241, 9+8802 18161,+8802 9138361,+8802 8126173-6+8802 ,9564249&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-9134794&lt;br /&gt;
Email: info@onebank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.onebank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Bangladesh Commerce Bank Limited (BCBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Eunoos Trade Centre, (Level-22), 52-53, Dilkusha C/A ,Motijheel, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9571581,+8802 9559831-2, +8802 9563757&lt;br /&gt;
Fax: +880-2-9568218&lt;br /&gt;
Email: info@bcblbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.bcblbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Premier Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: IQBAL CENTRE, 42 Kamal Ataturk Avenue, Banani, Dhaka-1213&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2-9820844-8, 01711826047, 01711595718&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-8815393, 880-2-9889153&lt;br /&gt;
Email: info@premierbankltd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.premierbankltd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Bank Asia Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Rangs Tower(2nd to 6th Floor), 68,Purana Paltan, Dhaka-1000.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802- 7110042,+8802- 7110062,+8802- 7110147,+8802- 7110173,+8802- 7110177,+8802- 7110218&lt;br /&gt;
Fax: 88-02-7175524&lt;br /&gt;
Email: bankasia@bankasia.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.bankasia-bd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Trust Bank Limited (TBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Peoples Insurance Bhaban, 36, Dilkusha C/A (2nd, 16th &amp;amp; 17th Floor), Dhaka-1000,Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2- 9570261, 880-2-9570263, 880-2-9572012-3,09678016201&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-9572315&lt;br /&gt;
Email: info@trustbanklimited.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.trustbank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Jamuna Bank Limited (JBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 2, Dilkusha C/A, Dhaka - 1000, Bangladesh.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9570912, +8802 9555141, Ext. 130&lt;br /&gt;
Fax: info@jamunabank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.jamunabankbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Arab Bangladesh Bank Limited (AB Bank)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Street: AB Bank Limited, BCIC Bhaban, 30-31 Dilkusha C/A, Dhaka 1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +880-2-9560312&lt;br /&gt;
Fax: +880-2-9555098&lt;br /&gt;
Other Address:&lt;br /&gt;
CORPORATE OFFICE&lt;br /&gt;
BCIC Bhaban, 30-31 Dilkusha C/A&lt;br /&gt;
Dhaka 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Phone: +88-02-9560312&lt;br /&gt;
Fax: +88-02-9564122, 23&lt;br /&gt;
SWIFT: ABBLBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@abbank.com.bd&lt;br /&gt;
Email: info@abbank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.abbank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;NRB Commercial Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Street: 114, Motijheel C/A, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 88 02 9573426&lt;br /&gt;
Fax: 88 02 9573421&lt;br /&gt;
Email: info@nrbcommercialbank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.nrbcommercialbank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;NRB Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Corporate Head Office&lt;br /&gt;
Richmond Concord (7th Floor),68 Gulshan Avenue&lt;br /&gt;
Gulshan Circle -01,Dhaka-1212,Bangladesh&lt;br /&gt;
Tel:+880-2-9855161-164&lt;br /&gt;
Fax:+880-2-9855001&lt;br /&gt;
Website : http://www.nrbbankbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Meghna Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Doreen Tower (Level 07-08), 6-A North Avenue C.A., Gulshan-2, Dhaka-1212&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +(880 2) 9857251&lt;br /&gt;
Fax: +(880 2) 9857124, 9857128&lt;br /&gt;
Email: info@meghnabank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.meghnabank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;The Farmers Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Street: Jabbar Tower, Plot-42, Road-135, Gulshan Avenue [Circle 1], Dhaka-1212, Dhaka, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +(88) 02 888 888 8, +(88) 017 00 000 000&lt;br /&gt;
Email: info@farmersbanklimited.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.farmersbanklimited.com &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Modhumoti Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
DCCI building,3rd Floor,&lt;br /&gt;
65-66,Motijheel C/A&lt;br /&gt;
Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Phone : +8802 9583808, +8802 9583809&lt;br /&gt;
Swift Code: MODHBDDH&lt;br /&gt;
E-mail : info@modhumotibankltd.com&lt;br /&gt;
Website : http://www.modhumotibankltd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;South Bangla Agriculture and Commerce Bank (SBAC) Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 47 Dilkusha, Zaman Chamber, Dhaka - 1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
https://www.facebook.com/SBACbank&lt;br /&gt;
Email: info@sbacbank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.sbacbank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Midland Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: N. B. Tower, 40/7, North Avenue Gulshan-2, Dhaka-1212,Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +88028836864&lt;br /&gt;
Fax: +88028836865&lt;br /&gt;
Email: info.mdbl@midlandbankbd.net&lt;br /&gt;
Website: http://www.midlandbankbd.net &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;United Commercial Bank Limited (UCBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Bulus Center, Plot # CWS- (A)-1, Road No# 34 , Gulshan avenue, Dhaka-1212&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +88-02-8852500&lt;br /&gt;
Fax: +88-02-8852500-6000, +88-02-8852504&lt;br /&gt;
E-mail : trg@ucbl.com&lt;br /&gt;
Website : http://www.ucbl.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;BRAC Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 1, Gulshan Avenue, Gulshan -1, Dhaka - 1212&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +880-2-885 9202&lt;br /&gt;
Fax: +880-2-986 0395&lt;br /&gt;
Other Address:&lt;br /&gt;
For Overseas Callers: +880 2 8852233&lt;br /&gt;
24 Hour Call Center: 16221&lt;br /&gt;
SWIFT : BRAKBDDH&lt;br /&gt;
Email: enquiry@bracbank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.bracbank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;Islamic Commercial Banks&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Islami Bank Bangladesh Limited (IBBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Islami Bank Tower 40, Dilkusha C/A, Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 9560099, 9567161,9567162, 9569417&lt;br /&gt;
Fax: 880- 2- 9564532, 880 -2- 9568634&lt;br /&gt;
SWIFT: IBBLBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@islamibankbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.islamibankbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Shahjalal Islami Bank Limited (SJIBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Uday Sanz, Plot No# SE (A) 2/B , Gulshan South Avenue Gulshan – 1, Dhaka-1212, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: + 88-02-8825457, + 88-02-8828142,+ 88-02- 8824736, + 88-02-8819385, + 88-02-8818737&lt;br /&gt;
Fax: + 88-02-8824009&lt;br /&gt;
Email: sblho@shahjalalbank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.shahjalalbank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;First Security Islami Bank Ltd. (FSIBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: House- SW(I) 1/A, Road-8, Gulshan-1, Dhaka-1212, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 88-02-9888446&lt;br /&gt;
Fax: 88- 02-9891915&lt;br /&gt;
Email: info@fsiblbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.fsiblbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Export Import Bank of Bangladesh (EXIM) Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: &quot;SYMPHONY&quot;, Plot # SE (F): 9, Road # 142, Gulshan Avenue, Dhaka- 1212&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 880-2-9889363, 9891489&lt;br /&gt;
Fax: 880-2-8828962&lt;br /&gt;
Email: info@eximbankbd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.eximbankbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Al-Arafah Islami Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Company Secretary&lt;br /&gt;
Street: People Inssurance Bhaban (6th-9th Floors), 36 Dilkusha C/A, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9569354,+8802 9569352, +8802 9569353,+880-2-7123255-7&lt;br /&gt;
Fax: +8802 9569351&lt;br /&gt;
SWIFT : ALARBDDH&lt;br /&gt;
Email: aibl@al-arafahbank.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.al-arafahbank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Social Islami Bank Limited (SIBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 103, Motijheel Commercial Area ,Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: 09612001122&lt;br /&gt;
SWIFT : SOIVBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@sibl-bd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.siblbd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;ICB Islamic Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: T.K. Bhaban (15th floor), 13 Kazi Nazrul Islam Avenue, Kawran Bazar, Dhaka -1215, Bangladesh&lt;br /&gt;
Postcode: 1215&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9143361-5, 88 01841 242 242&lt;br /&gt;
Fax: +8802 9111994&lt;br /&gt;
Email: info@icbislamic-bd.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.icbislamic-bd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Union Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Bahela Tower,72 Gulshan Avenue,Gulshan 1, Dhaka-1212, Bangladesh.&lt;br /&gt;
Postcode: 1212&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Email: info@unionbank.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.unionbank.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;b&gt;Specialized Banks&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;BASIC Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Sena Kalyan Bhaban, (5th Floor) 195, Motijheel C/A, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802-9568190,+8802- 9564830, +8802-9590548, +8802-9590549, +8802-9556616&lt;br /&gt;
Fax: +8802-9564829, +8802-7115612, +8802-7124911,+8802- 7125653&lt;br /&gt;
SWIFT: BKSIBDDH&lt;br /&gt;
Email: info@basicbanklimited.com&lt;br /&gt;
Website: http://www.basicbanklimited.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Rajshahi Krishi Unnayan Bank (RAKUB)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: Rajshahi Krishi Unnayan Bank, Head Office, 272, Banolata C/A, Airport Road, Rajshahi ,Bangladesh&lt;br /&gt;
City: Rajshahi&lt;br /&gt;
Phone: +88-0721-862431,+88-0721-862432,+88-0721-862441,+88-0721-862439,+88-0721-862453&lt;br /&gt;
Email: info@rakub.org.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.rakub.org.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Bangladesh Development Bank Limited (BDBL)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person: Managing Director&lt;br /&gt;
Street: 8, Rajuk Avenue, Dhaka-1000, Bangladesh.&lt;br /&gt;
Postcode: 1000&lt;br /&gt;
City: Dhaka&lt;br /&gt;
Phone: +8802 9555151-59&lt;br /&gt;
Email: info@bdbl.com.bd&lt;br /&gt;
Website: http://www.bdbl.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Probashi Kallyan Bank&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact Person : Managing Director&lt;br /&gt;
Head Office&lt;br /&gt;
Probashi Kallyan Bhaban&lt;br /&gt;
71-72 Old Elephant Road, Eskaton, Dhaka-1000&lt;br /&gt;
Tel. : +88-02-8321979, 01711-565699. &lt;br /&gt;
Fax : +88-02- 8322328&lt;br /&gt;
E-mail: info@pkb.gov.bd&lt;br /&gt;
Web: http://www.pkb.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Bangladesh Krishi Bank&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Krishi Bank Bhaban&lt;br /&gt;
83-85 Motijheel Commercial Area&lt;br /&gt;
Dhaka - 1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Tel. : (+88 02) 956 0021 PABX&lt;br /&gt;
Fax : (+88 02) 956 1211&lt;br /&gt;
Swift : BKBABDDH&lt;br /&gt;
Email : info@krishibank.org.bd &lt;br /&gt;
Website : http://www.krishibank.org.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/List-of-banks-in-Bangladesh-Govt-Local-Commercial-Islamic-Commercial-Foreign-Commercial-Banks.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;u&gt;&lt;b&gt;বাংলাদেশের সব ব্যাংকের লিস্ট একসাথে (ঠিকানাসহ)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
You are reading, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/List-of-banks-in-Bangladesh-Govt-Local-Commercial-Islamic-Commercial-Foreign-Commercial-Banks.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;u&gt;&lt;b&gt;List of Banks in Bangladesh&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;b&gt;Foreign Commercial Banks&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Citibank NA&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Motijheel Office Citibank, N.A. 23, Motijheel C/A &lt;br /&gt;
Dhaka-1000 Bangladesh &lt;br /&gt;
PABX: +880 2 9550060 &lt;br /&gt;
Tel.: +880 2 9562236, 9570858 &lt;br /&gt;
Telex: 642611 CITIBJ &lt;br /&gt;
SWIFT: CITIBDDX&lt;br /&gt;
Website: https://www.asia.citibank.com/bangladesh/corporate&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;The Hongkong and Shanghai Banking Corporation Limited (HSBC)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
HSBC, Bangladesh&lt;br /&gt;
Management Office: Level 4, Shanta Western Tower&lt;br /&gt;
186 Bir Uttam Mir Shawkat Ali Road&lt;br /&gt;
Tejgaon Industrial Area, Dhaka 1208&lt;br /&gt;
Ph. : 880 2 9660547 &lt;br /&gt;
Email : contact@hsbc.com.bd&lt;br /&gt;
Website : http://www.hsbc.com.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Standard Chartered Bank&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Motijheel Branch&lt;br /&gt;
Alico Building, 18-20 Motijheel C/A &lt;br /&gt;
Banking Hours (Sun - Thu): 10:00 am to 4:00 pm&lt;br /&gt;
Saturday Banking: 10:00 am to 4:00 pm&lt;br /&gt;
Tel : 02 8332272&lt;br /&gt;
Website : sc.com/bd/en&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Commercial Bank of Ceylon&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Hadi Mansion, 2 Dilkusha C/A,&lt;br /&gt;
Dhaka 1000.&lt;br /&gt;
Telephone : +88 02 7114125 (General)&lt;br /&gt;
Fax : +88 02 9565707, +88 02 9566574&lt;br /&gt;
SWIFT Code - CCEYBDDH&lt;br /&gt;
E-mail : email@combankbd.com&lt;br /&gt;
Website : http://www.combank.net&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;State Bank of India&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
24-25, Dilkusha C/A, Dhaka-1000, Bangladesh&lt;br /&gt;
Telephone: +88-02-9563992, +88-02-9570566&lt;br /&gt;
Fax: +88-02-9563991&lt;br /&gt;
Website : http://www.sbibd.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Habib Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
South Avenue Tower,&lt;br /&gt;
7, Gulshan Avenue, Gulshan -1,&lt;br /&gt;
Dhaka -1212. Bangladesh.&lt;br /&gt;
Phone: +88 02 9883505&lt;br /&gt;
Fax:&amp;nbsp; +88 02 9883064&lt;br /&gt;
URL:http://www.hbl.com/bangladesh&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;National Bank of Pakistan (NBP)&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
79, Motijheel Commercial Area, &lt;br /&gt;
Dhaka - 1000, Bangladesh. &lt;br /&gt;
Phone: +880-2-9560248, 9560249&lt;br /&gt;
Fax: +880-2-9560247&lt;br /&gt;
Email: nbp@agni.com&lt;br /&gt;
Website : http://www.nbp.com.pk/&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Bank Al-falah Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
168, Gulshan Avenue, Gulshan North&lt;br /&gt;
1212, Dhaka&lt;br /&gt;
Bangladesh&lt;br /&gt;
Telephone:+88 02 8861848&lt;br /&gt;
Fax:+88 02 8850714&lt;br /&gt;
SWIFT CODE:ALFHBDDH&lt;br /&gt;
Website www.bankalfalah.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Woori Bank&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Suvastu Imam Square (1st, 4th floor) 65 Gulshan Avenue, &lt;br /&gt;
Dhaka - 1212, Bangladesh&lt;br /&gt;
Phone No. 880-2-881-3270~3&lt;br /&gt;
Fax No. : 880-2-881-3274, 3241&lt;br /&gt;
SWIFT CODE : HVBKBDDHXXX&lt;br /&gt;
Email: wbd@wooribank-dhaka.com&lt;br /&gt;
Website : http://www.bd.wooribank.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;h2 style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;span style=&quot;font-size: x-large;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;b&gt;Land Development Bank&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Progoti Co-operative Land Development Bank Limited&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
Contact person : Chairman&lt;br /&gt;
Elora Complex (3rd Floor), Main Road,&lt;br /&gt;
Kapasia Bazar, Gazipur-1730.&lt;br /&gt;
Mobile : 01920710418, 01718154571&lt;br /&gt;
Phone : 0682452285&lt;br /&gt;
Fax : 0682451034&lt;br /&gt;
Email : info@progotibank.com.bd&lt;br /&gt;
Website : http://www.progotibank.com.bd&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/9222397455906876800'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/9222397455906876800'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/List-of-banks-in-Bangladesh-Govt-Local-Commercial-Islamic-Commercial-Foreign-Commercial-Banks.html' title='বাংলাদেশের সব ব্যাংকের লিস্ট একসাথে (ঠিকানাসহ)'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhQsHYEtFV69whJZq7Xd4fVrsEAlh4HlBxMCww_iSmy1Axehcw2KotmtVBoZDQ_9AE0FkJuJ6rkEEh02nE_x86MFG0kX6Pcbsyv__jYY2qSPBDqjgsVMOUPNNSR-Fc9nfjlQtlTvVQgSqQ/s72-c/All+Bangladeshi+Bank+Collection+by+Mahedi.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-8849494095225354144</id><published>2014-02-18T04:48:00.002-08:00</published><updated>2014-02-18T04:48:54.612-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের লিংকসমূহ</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgI8YYNjv_Q42Dh5b2prCNEviMMYNiVWzDpjdogt6ZqYupdDZdThAcPl_iLlrLzUi9TOOfBO4qTzR3Ew7SGSuNaZYYnmC8rxbWXCEjIcAsZOKIjGe80rR-WDaO_7tMTsRT3UQcL47C86-s/s1600/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F+%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%95.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgI8YYNjv_Q42Dh5b2prCNEviMMYNiVWzDpjdogt6ZqYupdDZdThAcPl_iLlrLzUi9TOOfBO4qTzR3Ew7SGSuNaZYYnmC8rxbWXCEjIcAsZOKIjGe80rR-WDaO_7tMTsRT3UQcL47C86-s/s1600/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F+%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%95.jpg&quot; height=&quot;240&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
ব্যবসা শুরু করতে গেলে নানান রকমের লিগ্যাল কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়ে। এসব কাগজপত্র কোথা থেকে করব, কিভাবে করব এইসব নিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের থাকে নানান রকম প্রশ্ন থাকে। একজন উদ্যোক্তাকে সর্বপ্রথম যে গুণটি অর্জন করা উচিত তা হলো “তার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক তথ্যগুলো খুঁজে বের করার ক্ষমতা” ! ইন্টারনেটের দৌরাত্ত্বে আজকাল তথ্য পাওয়া আর কোনো জটিল বিষয় নয়। এরপর ঐ উদ্যোক্তার উচিত হবে তার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত সমূহ যথাযথভাবে স্ট্যাডি করা এবং যে বিষয়গুলো সে বুঝবে না সেগুলো মার্ক করে কোনো বিশেষজ্ঞ’র পরামর্শ নেয়া।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কারো কাছে কোনো ভুলভ্রান্তি নজরে এলে বা নতুন কোনো তথ্য উপাত্ত পেলে তা সংশোধন ও সংযোজন করে দেয়ার জন্যে বিশেষ অনুরোধ থাকল। নতুন প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত আমি পরবর্তীতে এই পোষ্টে নিয়মিত ভাবে সংযোজন করতে চেষ্টা করব।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;ট্রেড লাইসেন্স এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.dhakacity.org/index.php&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;কোম্পানি রেজিষ্ট্রেশন এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.roc.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.roc.gov.bd:7781&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;নেম ক্লিয়ারেন্স যাচাই এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.roc.gov.bd:7781/psp/nc_search?p_user_id=&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;VAT, TAX &amp;amp; Customs সংক্রান্ত তথ্য ও সহযোগিতার জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.nbr.gov.bd/Portal/HomePage.aspx?lg=bangla&lt;br /&gt;
http://www.nbr-bd.org/index.html&lt;br /&gt;
http://www.nbrepayment.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;Export-Import বিষয়ক তথ্য সহায়তা ও লাইসেন্স এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.epb.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.ccie.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.bsbk.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.bdtariffcom.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;চেম্বার অব কমার্স বিষয়ক তথ্যঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.fbcci-bd.org&lt;br /&gt;
http://www.dhakachamber.com&lt;br /&gt;
http://www.mccibd.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বীমা সংক্রান্ত তথ্য সহায়তার জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.sbc.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.jbc.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.idra.org.bd/idra-org/index.htm&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Essential-Resources-Weblinks-for-New-Entrepreneur-in-Bangladesh.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;b&gt;নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের লিংকসমূহ&lt;/b&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;কপিরাইট সংক্রান্ত সহায়তার জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://copyrightoffice.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;ডিজাইন, পেটেন্ট ও ট্রেড মার্ক সংক্রান্ত সহায়তার জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.dpdt.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;ফায়ার লাইসেন্স এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.fireservice.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;পরিবেশ অধিদপ্তর এর লাইসেন্স এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.doe-bd.org&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বিএসটিআই রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্স এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.bsti.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;হালাল ও অর্গানিক সার্টিফিকেট এর জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.halalbangladesh.org&lt;br /&gt;
http://bopma.org&lt;br /&gt;
http://www.sgs.es/en.aspx&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহায়তার জন্যেঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.ictd.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.bcc.net.bd&lt;br /&gt;
http://www.basis.org.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;সমবায় অধিদপ্তরঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.coop.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.rdcd.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বানিজ্য মন্ত্রনালয়ঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.mincom.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;শিল্প মন্ত্রনালয়ঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.moind.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;অর্থ মন্ত্রনালয়ঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.mof.gov.bd/en&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.mosict.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.bcsir.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;কৃষি মন্ত্রনালয়ঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.moa.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.mofl.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বাংলাদেশ ব্যাংকঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.bb.org.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;কর্মসংস্থান ব্যাংকঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.karmasangsthanbank.gov.bd&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.supremecourt.gov.bd/scweb&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;আরো কিছু প্রয়োজনীয় সাইটঃ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
http://www.bangladesh.gov.bd&lt;br /&gt;
http://www.legalsteps.com.bd/index.html&lt;br /&gt;
http://www.smef.org.bd&lt;br /&gt;
http://www.bscic.gov.bd&lt;br /&gt;
http://bangladesh.smetoolkit.org/south-asia/en&lt;br /&gt;
http://www.bplans.com&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক পরিচালিত &quot;চাকরি খুজব না দেব&quot; নামব উদ্যোক্তা ব্লগে সাজ্জাত হোসাইনের লিখিত পোষ্ট।&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/8849494095225354144'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/8849494095225354144'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Essential-Resources-Weblinks-for-New-Entrepreneur-in-Bangladesh.html' title='নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের লিংকসমূহ'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgI8YYNjv_Q42Dh5b2prCNEviMMYNiVWzDpjdogt6ZqYupdDZdThAcPl_iLlrLzUi9TOOfBO4qTzR3Ew7SGSuNaZYYnmC8rxbWXCEjIcAsZOKIjGe80rR-WDaO_7tMTsRT3UQcL47C86-s/s72-c/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F+%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%95.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-7419903027453790252</id><published>2014-02-15T04:29:00.001-08:00</published><updated>2014-02-15T04:29:53.333-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>বিদ্যুৎ ছাড়াই জ্বলবে বাতি</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgnuNQdW-nxJS1ljw8aI9HpJW9CJjP8xSj54tPEywRt8ii9rd34RaT1u74QJa3A1hP-5Ck-IJ1dhfvDWN0fbxze_ATZWPSs1q7bP0cV-vky01I5K3IhPsEQs9MIJE-dxLuyLDUwF8vXnQo/s1600/%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgnuNQdW-nxJS1ljw8aI9HpJW9CJjP8xSj54tPEywRt8ii9rd34RaT1u74QJa3A1hP-5Ck-IJ1dhfvDWN0fbxze_ATZWPSs1q7bP0cV-vky01I5K3IhPsEQs9MIJE-dxLuyLDUwF8vXnQo/s1600/%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg&quot; height=&quot;180&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
বিদ্যুৎ সংকট ও বিভ্রাটের মাঝে আশার আলো দেখিয়েছে কাপ্তাই সেনা জোন-৭ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটেলিয়ন। প্রায় বিনা খরচে বিদ্যুৎ ছাড়াই বাতি জ্বালানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে তারা। মাত্র ৩০ টাকা খরচ করে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ এক ধরনের সোলার বোতল বাল্ব তৈরি করা হয়েছে, যা ৫৫ ওয়াট বাল্বের সমপরিমাণ আলো দেয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বোতলে বিশুদ্ধ পানি ও ৩ চামচ (১০ মিলিলিটার) ব্লিচ কিংবা তরল ক্লোরিন দ্রবণ মিশ্রিত করে বোতলের মুখ ভালোভাবে গালা দিয়ে বন্ধ করা হয়। এরপর ১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১ ফুট প্রস্থ আয়তনবিশিষ্ট একটি টিন মাঝখানে ছিদ্র করে বোতলের গায়ে লাগাতে হবে। বাড়ি বা বাসার ছাদের টিনটি বোতলের পরিমাপে ছিদ্র করে ওই স্থানে বোতল স্থাপন করতে হবে। এটি স্থাপনের সময় বোতলের ১ তৃতীয়াংশ টিনের উপরিভাগে এবং ২ তৃতীয়াংশ ঘরের ভিতর রেখে বোতলটি বসাতে হবে। বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশ না করার জন্য বোতলের চতুর্দিকে গালা দিয়ে শক্ত করে আটকে দিতে হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Light-Without-Electricity-in-Bangladesh.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;বিদ্যুৎ ছাড়াই জ্বলবে বাতি&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দিনের বেলায় সূর্যের আলো বোতলের উপরের অংশে পড়লে সে আলো প্রতিফলিত হয়ে বোতলের পানির সাহায্যে ঘরের ভিতর সমানভাবে আলো ছড়িয়ে পড়বে, যা ৫৫ ওয়াটের একটি এনার্জি বাল্বের আলোর সমতুল্য। রাতের বেলায় বোতলের মধ্যে রাস্তার কোন বাতির আলো পড়লে তাও প্রতিফলিত হয়ে ঘর আলোকিত করবে। বোতলে ক্লোরিন অথবা ব্লিচ মিশ্রিত পানি পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত বদলাতে হবে না। তিনি বলেন, একটি বোতল বাল্ব তৈরি করে বাড়িতে স্থাপন করলে সূর্যের আলো থেকে এই বাল্বটি কোন খরচ ছাড়াই টানা ৫ বছর পর্যন্ত নিয়মিত আলো দিয়ে যাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কাপ্তাই সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শাখাওয়াত হোসেন উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশে এই সোলার বাল্ব প্রযুক্তি প্রথম উদ্ভাবিত হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই বাল্ব তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা খরচ হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত করলে ২০ টাকায় করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই বাল্ব ব্যবহারে কোন বিদ্যুত্ খরচ নেই। সূর্যের আলোই এই বাল্বের মূল বিদ্যুত্ শক্তি। এ প্রযুক্তি প্রস্তুতকরণে প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো সহজলভ্য। এটি পরিবেশবান্ধব ও কোন প্রকার দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : উদ্যোক্তা ওয়েবসাইট&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/7419903027453790252'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/7419903027453790252'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Light-Without-Electricity-in-Bangladesh.html' title='বিদ্যুৎ ছাড়াই জ্বলবে বাতি'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgnuNQdW-nxJS1ljw8aI9HpJW9CJjP8xSj54tPEywRt8ii9rd34RaT1u74QJa3A1hP-5Ck-IJ1dhfvDWN0fbxze_ATZWPSs1q7bP0cV-vky01I5K3IhPsEQs9MIJE-dxLuyLDUwF8vXnQo/s72-c/%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2975492678252133230</id><published>2014-02-15T04:21:00.001-08:00</published><updated>2014-02-15T04:21:14.788-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>কবুতর পালন : কম সময়ে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh5OLsmPS1sMku-WPLi9_OXDtkJi5RWU2cEgXaYHnpsCzetAm-qN1Ph7A5wQXMJebZQGBf1IDFvnnKe-C7EWiUKNjQbtYLeG5ihOgQLOY8TUPH18hxocb0UjDa8TZQUmyZ1-xOX-XLa64s/s1600/%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh5OLsmPS1sMku-WPLi9_OXDtkJi5RWU2cEgXaYHnpsCzetAm-qN1Ph7A5wQXMJebZQGBf1IDFvnnKe-C7EWiUKNjQbtYLeG5ihOgQLOY8TUPH18hxocb0UjDa8TZQUmyZ1-xOX-XLa64s/s1600/%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8.jpg&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
আমাদের দেশে হাঁস-মুরগির মতো অনেক বাড়িতেই কবুতর পালন করা হয়ে থাকে। এখনও পুরনো পদ্ধতিতে কবুতর পালন করা হচ্ছে। তবে ইদানীং জনসাধারণের মাঝে উন্নত পদ্ধতিতে কবুতর পালনে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। বসতবাড়িতে অল্প শ্রমে ও স্বল্প ব্যয়ে অবসর সময়ে কবুতর পোষা যায়। কবুতর পুষে একদিকে পরিবারের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, অপরদিকে বাড়তি আয়েরও সুযোগ হয়। বাচ্চা কবুতরের মাংস সুস্বাদু ও বলকারক হওয়ায় বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;জীবন চক্র&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়া বেঁধে একসঙ্গে বাস করে। এদের জীবনকাল ১২ বছর। স্ত্রী-পুরুষ উভয় মিলে খড়কুটা সংগ্রহ করে ছোট জায়গায় বাসা তৈরি করে। ডিম পাড়ার স্থান ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে স্ত্রী কবুতর ডিম পাড়া শুরু করে। এরা ২৮ দিন অন্তর ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ (দুই)টি ডিম দেয় এবং পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত দেয়া ডিমে বাচ্চা উত্পাদান ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম থেকে বাচ্ছা ফুটতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। ডিমে তা দেয়ার ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরের খাদ্য থলিতে দুধ জাতীয় বস্তু তৈরি হয় যা খেয়ে বাচ্চারা ৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়েই ১০ দিন পর্যন্ত এদের বাচ্চাকে ঠোঁট দিয়ে খাওয়ায়, এরপর বাচ্চারা দানাদার খাদ্য খেতে আরম্ভ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;কবুতরের জাত&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
পৃথিবীতে প্রায় দুশ’ থেকে তিনশ’ জাতের কবুতর আছে। মাংস উত্পাদনের জন্য সিলভারকিং, হামকাচ্চা, ডাউকা, কাউরা, গোলা, গোলী, পক্কা, লক্ষা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। চিত্তবিনোদনের জন্য ময়ুরপঙ্খী, সিরাজী, লাহোরী, ফ্যানটেইল, জেকোডিন, মুক, গিরিবাজ, টেম্পলারলোটন—এসব জাতের কবুতর রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দেশে উল্লেযোগ্য কবুতরের একটি জাত হচ্ছে ‘জালালী কবুতর’। &lt;br /&gt;
এ নামটি হজরত শাহ্জালাল (রহ.) এর পুণ্য স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Pigeon-Farming-in-Bangladesh.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;কবুতর পালন : কম সময়ে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;পালনের সুবিধা&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
কবুতর পালন আনন্দদায়ক। কবুতরের গোশত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রতিমাসে গড়ে ২টি বাচ্চা পাওয়া যায় এবং ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। তাদের রোগবালাই কম। খাবার করচ কম এবং থাকার ঘর তৈরি করতে খরচ কম লাগে। স্বল্প পুঁজি ও শ্রমে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;কবুতরের বাসস্থান&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
কবুতরের থাকার ঘরটি উঁচু করে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে ক্ষতিকর প্রাণী ও পাখিদের নাগালের বাইরে থাকে। ঘরে প্রচুর আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। হালকা কাঠ, পাতলা টিন, বাঁশ বা প্যাকিং কাঠ দিয়ে কবুতরের ঘর বানানো যায়। প্রতিজোড়া কবুতরের জন্য ৩০ সেমি. চওড়ার এবং উচ্চতায় ৩০ সেমি. মাপের খোঁপ বানাতে হবে। কবুতরের ঘর পাশাপাশি বা কয়েকতলা বিশিষ্ট করা যেতে পারে। প্রতিটি খোপের জন্য একটি করে দরজা থাকবে। অধিক কবুতর পুষলে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকটি খোপ বেশি রাখতে হবে। প্রতিমাসে ১-২ বার করে ঘরে কবুতরের বিষ্টা পরিষ্কার করতে হবে এবং যাতে কবুতরের ঘর পরিষ্কার ও শুকনো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাবার ও পানির পাত্র কবুতরের ঘরের কাছেই রাখতে হবে। এছাড়াও কবুতরের গোসলের জন্য পানি ও ধূলি এবং বাসা বানানোর জন্য খড়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;খাদ্য &lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
কবুতর সাধারণত গম, মটর, খেসারি, সরিষা, ভুট্টা, কলাই, ধান, চাল, কাউন, জোয়ার—এসব শস্যদানা খেয়ে থাকে। এরা মুক্ত আকাশে বিচরণ করে এবং পছন্দমত স্থান থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষা, দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির জন্য এদের খাবারের শতকরা ১৫ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ আমিষ থাকা প্রয়োজন। তবে মুরগির জন্য নির্ধারিত তৈরি সুষম খাবার খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি কবুতর দৈনিক গড়ে ৩৫ থেকে ৬০ গ্রাম দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে। কবুতর ছানার দ্রুত বৃদ্ধি, হাড়শক্ত ও পুষ্টি এবং বয়স্ক কবুতরে সুস্বাস্থ্য এবং ডিমের খোসা শক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের চূর্ণ, চুনাপাথর, শক্ত কাঠকয়লার চূর্ণ, হাড়ের গুঁড়ো, লবণ এসব মিশিয়ে ‘গ্রিট মিকচার’ তৈরি করে খাওয়ানো প্রয়োজন। এছাড়াও প্রতিদিন কিছু কিছু কাঁচা শাক-সবজি কবুতরকে খেতে দেয়া ভালো। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;খরচ &lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
১০ জোড়া কবুতরের জন্য ১টি ঘর বানাতে (খাবারের পাত্র, পানির পাত্রসহ) আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জোড়া কবুতরের ক্রয়মূল্য প্রায় ১০০০ টাকা এবং ১০ জোড়া থেকে মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যাবে। এগুলো বিক্রি করে মাসে গড়ে ৬০০ টাকা আয় করা যাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : উদ্যোক্তা ওয়েবসাইট&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2975492678252133230'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2975492678252133230'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Pigeon-Farming-in-Bangladesh.html' title='কবুতর পালন : কম সময়ে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh5OLsmPS1sMku-WPLi9_OXDtkJi5RWU2cEgXaYHnpsCzetAm-qN1Ph7A5wQXMJebZQGBf1IDFvnnKe-C7EWiUKNjQbtYLeG5ihOgQLOY8TUPH18hxocb0UjDa8TZQUmyZ1-xOX-XLa64s/s72-c/%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-1465559727959321618</id><published>2014-02-15T04:00:00.000-08:00</published><updated>2014-02-15T04:00:23.375-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>আমিরের ধানকাটা যন্ত্র : দু’ঘণ্টায় কাটা যাবে এক একর জমির ধান</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi16jnTcLaUUGbwQBe_fGEBmhTI6D_Hxpyea1q6aGN-MguLyN0-t67mVDjFo0wjOOXMM5gObonIiIhEtgklzxxnGGJbkqsxcapL-kdv87hOsbRDSvPjnlGPDv4DeKrJBVPIaTOlNNjwNFg/s1600/%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi16jnTcLaUUGbwQBe_fGEBmhTI6D_Hxpyea1q6aGN-MguLyN0-t67mVDjFo0wjOOXMM5gObonIiIhEtgklzxxnGGJbkqsxcapL-kdv87hOsbRDSvPjnlGPDv4DeKrJBVPIaTOlNNjwNFg/s1600/%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8.jpg&quot; height=&quot;199&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
আসাদুজ্জামান ফিরোজ, বগুড়া&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বগুড়ার প্রকৌশলী আমির হোসেন এবার হালকা ও সস্তা ধানকাটা মেশিন তৈরি করেছেন। এ মেশিন দিয়ে ধান-গম-ভুট্টা-পাট ও আখ কাটা যাবে। এর আগে তিনি ব্যাটারি ও সোলার পাওয়ার চালিত মোটরগাড়িসহ অর্ধশতাধিক সস্তা কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছেন। এই ধানকাটা মেশিন তৈরি করে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন তিনি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আমির হোসেনের তৈরি এ মেশিনে দু’ঘণ্টায় এক একর জমির ধান কাটা যাবে। এজন্য খরচ হবে ২ লিটার পেট্রোল। ১ দশমিক ৫ হর্স পাওয়ারের মেশিন খুব হালকা, ১০/১৫ কেজি ওজন। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী যে কেউ সহজেই যন্ত্রটি চালিয়ে ধান-পাট-গম-ভুট্টা-তিল-আখ গাছ কাটতে পারবেন। আপাতত পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরি করলেও তিনি পরে এটিকে সোলার পাওয়ার মেশিনে রূপান্তরিত করবেন বলে জানান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
একজন কৃষক মাত্র ৮/১০ মণ চাল বিক্রি করে এ মেশিন ৮/১০ হাজার টাকায় কিনতে পারবেন। ইঞ্জিনের বিশেষত্ব, ধান-পাট-গম যে অবস্থায় থাকুক, যে অবস্থায় লাগানো হোক, খাড়া থাক বা মাটিতে হেলে পড়ুক, সহজেই এসব কাটা যাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Peddy-Cutter-Machine-in-Bangladesh.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;আমিরের ধানকাটা যন্ত্র : দু’ঘণ্টায় কাটা যাবে এক একর জমির ধান&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ মেশিন দিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে এক বিঘা জমির ধান কেটে দেখিয়েছেন আমির হোসেন বগুড়া পৌর এলাকার ধরমপুর গ্রামের মাঠে। এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হবে মাত্র ৬০/৭০ টাকা। বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া রহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী আমির হোসেন দাবি করেছেন—চীন, জাপান, ভারত, থাইল্যান্ড কোনো দেশ এখনও তার মতো হালকা, টেকসই ও সস্তা শস্যকাটার মেশিন তৈরি করতে পারেনি। তারা যা তৈরি করেছে, তা অনেক ভারি, দামি ও ব্যয়বহুল। ওইসব যন্ত্র ব্যবহার করতে হলে ধান-পাট-গম লাইন করে লাগাতে হয় এবং খাড়া হয়ে থাকতে হয়। কিন্তু মাটিতে ধান-পাট-গমের গাছ হেলে পড়লেও আমিরের তৈরি মেশিন দিয়ে সহজেই কাটা যাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বোরো মৌসুমে একসঙ্গে লাখ লাখ একর জমির ধান পেকে যায়। শ্রমিকের অভাবে কৃষক ধান কাটতে পারে না। সে সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় শঙ্কিত থাকে কৃষক। অনেকেই শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে না পারায় ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে যায়। একথা চিন্তা করে আমির হোসেন হালকা ও সস্তা এ ধানকাটার মেশিন তৈরি করেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এ মেশিন আরও সস্তা ও আধুনিক করার জন্য কৃষিমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সহযোগিতা চেয়েছেন আমির হোসেন। সোলার পাওয়ারে এ মেশিন চালানো গেলে শস্য কাটতে কোনো খরচ লাগবে না। এ প্রযুক্তির ওপর তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ৬ বিভাগের ৬শ’ কৃষকের মধ্যে তার এই সস্তা ধানকাটা মেশিন নামমাত্র মূল্যে তৈরি করে দিতে চান। কৃষিকে যান্ত্রিক ও আধুনিকীকরণের জন্য এটি তার আর একটি নতুন পদক্ষেপ।&lt;br /&gt;
এ ব্যাপারে বগুড়ার কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রোস্তম আলী সাংবাদিকদের বলেন, এই যন্ত্র ব্যবহার করে কৃষককুল উপকৃত হবে। ধান কাটতে খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : উদ্যোক্তা ওয়েবসাইট&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/1465559727959321618'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/1465559727959321618'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Peddy-Cutter-Machine-in-Bangladesh.html' title='আমিরের ধানকাটা যন্ত্র : দু’ঘণ্টায় কাটা যাবে এক একর জমির ধান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi16jnTcLaUUGbwQBe_fGEBmhTI6D_Hxpyea1q6aGN-MguLyN0-t67mVDjFo0wjOOXMM5gObonIiIhEtgklzxxnGGJbkqsxcapL-kdv87hOsbRDSvPjnlGPDv4DeKrJBVPIaTOlNNjwNFg/s72-c/%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2972131693630306024</id><published>2014-02-13T06:00:00.000-08:00</published><updated>2014-02-13T00:41:02.337-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ডা. মোসলেম ফাউন্ডেশন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ফাউন্ডেশন"/><title type='text'>একটি মানবিক আবেদন</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgpc5DDUTaceG3JQvtg5agZmoHrtrssndQc41TqLQ4kfutcEyNFXDrF6w-R0z9m_yBsvXydY4i02xwzFFAA3Oh-vqP21IWfrsFrKLSiRKQ84ui4BDHTHMxOEaHHT6vnv_T_PIUHxiqO1ts/s1600/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95+%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8.jpg&quot; height=&quot;195&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
আসসালামু আলাইকুম। &lt;b&gt;ডা. মোসলেম ফাউন্ডেশনের&lt;/b&gt; (ডিএমএফ) পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। এই যে আপনি প্রস্তাবনাটি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ছেন, এটা প্রমান করে আপনি ইহকাল ও পরকালের কল্যানের জন্য কিছু করতে চান, আপনি বিশ্বের সকল সমাজসেবীদের নামের পাশে আপনার নামটিও দেখতে চান, আপনি মহান আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টির সেবা করার মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
রাতের নিস্তব্দতায় কখনও আকাশের বিশালতার নীচে তারাদের দিকে তাকিয়ে ভেবেছেন কি, পৃথিবীতে আপনার আগমনের হেতু কী? কেন আপনি পৃথিবীতে এসেছেন, কি আপনার কর্তব্য? সহজ উত্তর, “স্রষ্টা আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য।“ আর কিছু কি নয়? সৃষ্টিকর্তার হক আদায়ের সাথে সাথে তার সৃষ্ট সৃষ্টির হক ও তো আদায় করতে হবে, কথাটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমরা কি তাই করি?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjM8jBa02I89gBQCDwU_YA5VcWUBDkyBlwqCtiVcanyTcKdkdNlzAOgMmfoSI6OL9q45O-Vm95rDFbPrIXnU4K_ufpre8DLmHZpVLVePDjmbOk-VDPzqlcPzuKuIFgFYGPttYS-CWGaQUQ/s1600/Dr.+Moslem+Facebook+Banner.png&quot; height=&quot;146&quot; width=&quot;400&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
পৃথিবীতে জন্মেছেন, বড় হবেন, লেখাপড়া-বিয়ে-সন্তান লালন পালন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর জীবনের পরিসমাপ্তি। ইহজগৎ ত্যাগ করার সাথে সাথে আপনি কি চান পৃথিবী আপনাকে ভুলে যাক? না, তা নিশ্চয়ই আপনি চান না। সমস্ত পৃথিবী না হোক অন্তত সারা দেশ, দেশ না হোক অন্তত আপনি যে সমাজে প্রতিপালিত হয়েছেন সেই সমাজের সকলে আপনার কথা স্বরন রাখবে তাহলে আপনাকে আরেকবার স্বাগতম জানাচ্ছি &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Dr-Moslem-Foundation-Bangla-Article.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;ডা. মোসলেম ফাউন্ডেশন&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt; পরিবারে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আমরা চাই আপনার ভালো কর্মের দ্বারা আপনি অমর হয়ে থাকুন চিরকাল। মানুষ আপনাকে নিজেদের মনে স্থান দিবে, আপনার অনুপস্থিতিতে দু:খ পাবে-কাঁদবে, আপনার কল্যানে সর্বদা সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া প্রার্থনা করবে, এটাই আমরা চাই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhWsLujYjB1TBztc6d1D0_xMGe7ZNnXRbrd4SvukhbyK6ytWG4E1KhoQq5Tttz7nUHk8wKECW9e0IHPlEW33B06omGZMZyRUIRC9l69z_z71HzeJ-i5rBfUPKOfHHUZ4n1g6GkHZdKA9xk/s1600/Bengali+Problem.png&quot; height=&quot;64&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আপনার ভালোবাসার সঠিক পরিস্ফুটন ঘটাতেই গঠিত হয়েছে “ডিএমএফ”। ১৯৮০ সাল থেকে পথচলা আরম্ভ করে আজ পর্যন্ত &quot;ডিএমএফ&quot; &lt;span style=&quot;color: red;&quot;&gt;&lt;u&gt;&lt;b&gt;৬,৩৭,৯২০&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;/span&gt; এরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এসেছে। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি সেবার পরিধি শুধুমাত্র চিকিৎসায় বেধে রাখলে চলবে না, করন মৌলিক চাহিদার প্রতিটিতেই মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। আর তাই “ডিএমএফ” কে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। যুক্ত করা হয়েছে &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Dr-Moslem-Foundation-Bangla-Article.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span style=&quot;color: magenta;&quot;&gt;&lt;u&gt;নতুন নতুন সেবামূলক কার্যক্রম&lt;/u&gt;&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/a&gt;।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
বর্তমানে আমরা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি দরিদ্র সহায়তা ও বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম আরম্ভ করতে চলছি। প্রাথমিক পর্যায়ে স্টারিয়ণ লিমিটেড থেকে প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি সচ্ছল মানুষ আমাদের সাথে কাজ করুক। নিজের স্থান থেকে আপনি আপনার আশপাশে সমাজ সেবামূলক কাজ করুন। বন্ধুদের সাথে মিলে ফান্ড তৈরী করতে পারেন। আপনাদের কর্মতৎপরতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজে (www.fb.com/moslemfoundation).&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এছাড়াও “ডিএমএফ” কমিউনিটির সাথে যুক্ত হয়ে আপনি বড় কোন সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। আমরা আমাদের কার্যক্রমগুলো বিস্তারিত আমাদের ফেসবুক পেজে (www.fb.com/moslemfoundation) আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhEz0VR1zETXNXKzJY-7kp9A3pTnxwXLz33towYzDsu_hzkvnIax_wcLmnSVFkR5oo-Cbyc9LJKFSZKdkGoDDUZLOzDOiMunEbg8kYsRpQ0DbU1cthZfY-4E_ZM-koQBo3p7QnEdWPjS_M/s1600/DMF+Donor+ID+CarD.png&quot; height=&quot;242&quot; width=&quot;400&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;ফাউন্ডেশনের কাজে স্বচ্ছতা একটি বিরাট ফ্যাক্টর&lt;/b&gt;। অনেক ক্ষেত্রে শোনা যায়, ফাউন্ডেশনের টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। খুব দু:খজনক ঘটনা। দান গোপন রাখা ভাল কিন্তু অন্যকে দান করতে উৎসাহিত করতে হলে এর প্রকাশ করার গুরুত্বও রয়েছে। যারা যারা অর্থ দান করবেন তাদের প্রত্যেকের ফাউন্ডেশন প্রদত্ত একটি আইডি থাকবে। বৎসর শেষে কোন আইডি কত অর্থ প্রদান করেছেন তার একটি লিস্ট সকল আইডিধারীদের মেইল করে জানানো হবে। এছাড়াও প্রাপ্ত ও প্রকল্প খরচের বিস্তারিত বিবরন আমাদের ওয়েবসাইটে (www.stareongroup.com/foundation.html) ও ফেসবুক পেজে (www.fb.com/moslemfoundation) পাবলিশ করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন গোপনে অর্থ দিতে আগ্রহীদের মনও রক্ষা হবে, অন্যদিকে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhQr6P6uOaKUf9dxhuibrNFNII2Bd0MPpbpT9ikedeNXpV0Xvf-qUIGftLXOIxe-iIYy_0klExb0KcGhx_Y-q1lymQL3ydHMx76t0g2pleJLTouSUMaoj6NiJvQ62-uQln-5U2Dsk9hLhQ/s1600/Sebok.png&quot; height=&quot;320&quot; width=&quot;214&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;&lt;span style=&quot;font-size: large;&quot;&gt;ফান্ড ব্যবহার :&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
আমাদের প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা আলাদা কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হবে। বাংলাদেশে গ্রাম সংখ্যা ৮৭৩১৯ টি। উপজেলা ৫৫০ টি এবং ইউনিয়ন ৪৪৮৪ টি। প্রথমে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক ভলান্টিয়ার কমিটি গঠন করা হবে। তারপর ঐ থানাধীন সবগুলো গ্রাম সার্ভে করে দেখতে হবে কোন গ্রাম থেকে কাজ আরম্ভ করা যাবে। গ্রাম নির্দিষ্ট হয়ে গেলে ১টি দরিদ্র পরিবারকে নির্বাচন করতে হবে যেই পরিবারে কমপক্ষে ১জন কর্মঠ ব্যক্তি রয়েছে। তারপর তার সাথে আলোচনা করে দেখতে হবে সে কোন কাজটি করতে আগ্রহী। অত:পর ভলান্টিয়ারগণ ডা. মোসলেম ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। যাতে করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, উক্ত ব্যক্তিকে যত টাকা সহায়তা করা হবে সেটা ১০০% ফেরতযোগ্য। ফেরত টাকা দিয়ে অন্য আরেকটি পরিবারকে সহায়তা করা হবে অথবা যে সকল পরিবারে কর্মঠ ব্যক্তি নেই, সেই পরিবারের জন্য ১টি অবলম্বনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে সহায়তার পর ভলান্টিয়ারগণ তার সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত মনিটরিং করবেন। এভাবে কয়েকটি পরিবার স্বাবলম্ভী হয়ে গেলে উক্ত ইউনিয়ন বা থানায় বড় কোন প্রকল্প আরম্ভ করা হবে আর তাতে ইউনিয়নের অন্যান্য দরিদ্র পরিবরের কর্মঠ ব্যক্তিরা কাজ করে নিজেদের পরিবার ভরন-পোষণ করতে পারবেন। ঐ প্রকল্পের অর্জিত টাকায় ঐ থানায় ১টি পাবলিক লাইব্রেরী, কয়েকটি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র, ১টি বৃদ্ধাশ্রম, ১টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, মাদ্রাসা-মসজিদে দানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে। চূড়ান্তভাবে প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিকমানের ১টি জেনারেল হাসপাতাল নির্মান করা হবে যেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। আপাতত এই হচ্ছে আমাদের প্রকল্প প্ল্যান। যেকোন সময় এ প্ল্যানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিয়োজন করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষন করে। &lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উল্লেখ্য : ভলান্টিয়ারগণ তাদের নিজ নিজ ইউনিয়ন/উপজেলায় প্রকল্পগুলের দায়িত্বে থাকবেন। এক্ষেত্রে তাদের জন্য সম্মানজনক পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করা হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiN6w1FKPVJgpkHpEiK45IydQb4ZFg3AzoHiiduTeoFhj3BLVpx4ohQ_77WUJX5uQRKvpPJBvdmq7ffartTDHkkhMuvQN6pmlp5oS87JeSRVY6hIPCqXAn4R-l4eUo7Wbp4xQGJnUChyxA/s1600/Dr.+Moslem+Foundation+Rashid.png&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;span style=&quot;font-size: large;&quot;&gt;&lt;b&gt;অনুদান পাঠানোর উপায় :&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
আমাদের কাছে টাকার অংক বড় নয়, কল্যানের উদ্দেশ্যে আপনার দান করার মনোমানসিকতই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। আপনি নিজের স্থান থেকে এই মহৎ উদ্দেশ্য পরিচালনা করতে পারেন। “ডিএমএফ” কে দান করা শর্ত নয়। তবে আপনার পক্ষে হয়ত বড় কোন প্রকল্প করা সম্ভব হবে না আর এই কারনেই “ডিএমএফ”। যত ক্ষুদ্রই হোক, আপনার মূল্যবান দান অনেক বড় সাফল্যের সাথী হতে পারে। আপনি নিয়মিত, সাপ্তাহিক, মাসিক বা বাৎসরিক যাকাত হিসেবে “ডিএমএফ” এ আপনার দান পাঠিয়ে ফান্ড গঠন করতে পারেন। নিচের যেকোন পদ্ধতিতে প্রথমবার ফান্ড পাঠিয়ে “ডিএমএফ” থেকে একটি ডোনার আইডি নিন। পরবর্তীতে যেকোন অংকের দান করার পরেই আপনার আইডিসহ বিস্তারিত &lt;b&gt;moslemfoundation@gmail.com&lt;/b&gt; বরাবর ই-মেইল পাঠিয়ে দিন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিন। এছাড়াও আপনি আমাদের ফেসবুক পেজে (www.fb.com/moslemfoundation) আপনার প্রশ্ন, পরিকল্পনা, সাফল্য ও দান/ফান্ড বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;span style=&quot;color: magenta;&quot;&gt;&lt;b&gt;আমরা সৎ নিয়তে সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কাজ করতে চাই।&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjcNOX4vOIDYaXgmbjcW8NLe8dQK3Ztlzpxhy0qQZAnF4QfRV2U-3jm9yMIQIsXJjycfRCJrC9u1-sJg6NME_7OW3D-u1VdTv2hPpTbFh9L8ksC1_sUFZl_-U7JZx7UjP7DlpgteNwStyQ/s1600/Manob+Jonom.png&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;span style=&quot;color: #274e13;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;font-size: large;&quot;&gt;&lt;u&gt;&lt;b&gt;পদ্ধতিসমূহ :&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;ডাচ-বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং : ০১৯১৪১৬১৯৩১১&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;বিকাশ : ০১৯১৪১৬১৯৩১&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;u&gt;&lt;b&gt;Wire Transfer/Direct Deposit/ TT&lt;/b&gt;&lt;/u&gt;&lt;br /&gt;
A/C Name : Mahedi Hasan&lt;br /&gt;
A/C No. : 128.101.151144&lt;br /&gt;
Dutch-Bangla Bank Limited&lt;br /&gt;
Shimrail Branch&lt;br /&gt;
Swift : DBBLBDDH&lt;b&gt; &lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;img alt=&quot;http://www.stareongroup.com/foundation.html&quot; border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgwX_LSJkX1CPakKAlwBpJS-7RAeWHC6o7RdRdErjq2ZXf48N5UWBu2Iq6HaDFyxvV3jw9JiADCuOVhGqUydeUZWfbizWJvJfvBbmgLnH68kYXTKaDGDW4zkOZKIdAYyCki53CK-2eDCPI/s1600/Dr.+Moslem+Foundation+Banner.jpg&quot; /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2972131693630306024'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2972131693630306024'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Dr-Moslem-Foundation-Bangla-Article.html' title='একটি মানবিক আবেদন'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgpc5DDUTaceG3JQvtg5agZmoHrtrssndQc41TqLQ4kfutcEyNFXDrF6w-R0z9m_yBsvXydY4i02xwzFFAA3Oh-vqP21IWfrsFrKLSiRKQ84ui4BDHTHMxOEaHHT6vnv_T_PIUHxiqO1ts/s72-c/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95+%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-5617580121796100717</id><published>2014-02-13T00:40:00.000-08:00</published><updated>2014-02-13T00:40:11.738-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>সাফল্যের সাত সোপান : শচীন টেন্ডুলকার</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgdcHTHponfQq3bjbczfXUgbxfjTim_63d3mdIzxUXD8dthTESGZN5p6H3NsxHYYchFqIA2yeEhAH6eF9rTDlt0WR4DY_8FB0EHa5wEyUcwGn-8EypXfKKLc3jUEw36SYHYaJTB0TBFb68/s1600/sachin+tendulkar.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgdcHTHponfQq3bjbczfXUgbxfjTim_63d3mdIzxUXD8dthTESGZN5p6H3NsxHYYchFqIA2yeEhAH6eF9rTDlt0WR4DY_8FB0EHa5wEyUcwGn-8EypXfKKLc3jUEw36SYHYaJTB0TBFb68/s1600/sachin+tendulkar.jpg&quot; height=&quot;240&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;b&gt;১. নিজের কাজকে ভালোবাসো&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
খেলার প্রতি ভালোবাসাই আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে। আমি মনে করি, কেউ যখন অনেক দিন ধরে কোনো কাজ করে, সেই কাজই তার পরিচয় হয়ে ওঠে। আমি ভাগ্যবান এ কারণে যে আমি আমার পরিচয়কে এতটা ভালোবাসতে পেরেছি। আমার খেলার শুরুটা আসলে হয়েছিল ৯-১০ বছর বয়সে, যখন আমি আমার বড় দুই ভাই আর অ্যাপার্টমেন্টের অন্যদের খেলতে দেখতাম। আমার কল্পনার জগতে তখন তারাই ব্যাট ঘোরাত। আমি তাদের মতো খেলতে চাইতাম। সে সময় আমার স্বপ্ন ছিল, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলায় সবাইকে পেছনে ফেলা, যাতে করে আমার চেয়ে বয়সে বড়দের দলে খেলতে পারি, আর অ্যাপার্টমেন্টে আমার নাম ছড়ায়। এভাবে ১০ বছর বয়সেই আমি ২০-২২ বছর বয়সীদের সঙ্গে খেলতাম। সেই বছরই ভারত বিশ্বকাপ জেতে। এরপর আমার জীবনটাই একেবারে বদলে যায়। সে সময় ভারতের ৪০ লাখ তরুণ এক আশ্চর্য নেশায় আটকা পড়ে, একটি খেলার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসায় তারা সবকিছু ভুলে যায়। আমিও সেই সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রেমে পড়ি। এর আগে আমি অনেক খেলাই খেলতাম, ব্যাডমিন্টন, হকি, ফুটবল, টেনিস—কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি মুগ্ধতা ছিল আমার জীবনের সেরা ঘটনা। সেই মুগ্ধতা আমার কখনো কাটেনি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;২. নিজের ওপর ভরসা রাখা&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
ক্রিকেটে নিজের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটাই একজন ভালো খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন খারাপ খেলোয়াড়ের পার্থক্য গড়ে দেয়। প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বকীয়তা আছে, আছে নিজেকে মাঠে তুলে ধরার নিজস্ব স্টাইল। সমালোচকেরা আমাকে খেলতে শেখাননি। আমি মনে করি, তাঁরা জানেন না, মাঠে আমি কী চিন্তা করছি, কিংবা আমার শরীর আমাকে কতটুকু সাহায্য করছে। প্রতিটি বল খেলার জন্য আমার হাতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ সেকেন্ড সময় থাকে, কখনো বা তারও কম। সময়টা আসলে কোনো সমালোচক আমাকে কী বলেছেন, তা চিন্তা করার জন্য নয়। আমি স্বাভাবিকভাবে আমার নিজের অনুভূতিকে কাজে লাগাই, আমার অবচেতন মন জানে, আমার কী করা উচিত এবং আমি ঠিক সেই কাজই করি। কারণ, এই কাজ করার জন্যই আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছি। প্রতিটি বলকে দেখা এবং তাকে তার প্রাপ্য জবাব দেওয়া—সহজ এই কাজ করতে পারাই একজন ক্রিকেটারের মূল চ্যালেঞ্জ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৩. স্বপ্নকে ধাওয়া করা&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
খেলায় আমার উত্থান-পতন ছিলই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমি কখনোই হারতে পছন্দ করতাম না। বাস্তবে শুধু সন্তানদের সঙ্গে খেলার সময়ই আমি নিজেকে ছাড় দিই। কারণ, আমার স্ত্রী আমাকে বলেছে যে মাঝেমধ্যে সন্তানদের জিততে দিতে হয়। কিন্তু সব সময় আমি তাদের জিততে দিই না। কারণ, তাদের সামনে এখনো অনেকটা পথ পড়ে আছে এবং এই পথে তাদের লড়াই করে জিততে হবে। আমি সব সময়ই আমার সন্তানদের বলি, ‘তোমাকেই জীবনের পথে এগিয়ে যেতে হবে, অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং জীবনে জিততে হবে।’ আমি ১৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট শুরু করি এবং তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল একজন টেস্ট খেলোয়াড় হওয়া। দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছেটা আমার তখন থেকেই তীব্রতা পেতে শুরু করে। সেই স্বপ্নকে ধাওয়া করেই আমি এত দূর এসেছি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Seven-Pillars-of-Success-by-Sachin-Tendulkar.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;সাফল্যের সাত সোপান : শচীন টেন্ডুলকার&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৪. সফল নয়, চাই সেরা হওয়ার লড়াই&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
আমি কখনো নিজের জন্য কোনো শেষ ভেবে রাখিনি। ঠিক করিনি যে এই পর্যন্ত গিয়ে আমি থেমে যাব। আমার বাবার একটি উপদেশ সব সময়ই মনে রাখি, ‘জীবনে কখনো শর্টকাট খুঁজো না। এটা তোমাকে ক্ষণিক সাফল্য দেবে, কিন্তু তোমাকে সেরা বানাবে না। সেরা হওয়ার পথ সব সময়ই বন্ধুর ও কঠিন। কিন্তু তুমি যদি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো এবং ধৈর্য ধরো, কেউ তোমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’ আমি আমার সারা জীবনে কখনো এই উপদেশ ভুলিনি। আমি সফল হওয়ার জন্য নয়, সেরা হওয়ার জন্যই কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং স্বাভাবিক পথেই জীবনকে চালিয়ে নিয়ে এসেছি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৫. গতকালের কথা ভুলে যাও&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
ক্যারিয়ারের শুরুতে ম্যাচের আগের রাতে আমি ঘুমাতে পারতাম না। সারা রাত ধরে আমি টস করতাম, পরদিন ম্যাচে কী হবে। ঘুমানোর জন্য তখন আমাকে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হতো। কিন্তু এখন আমি আর তা করি না। কারণ, আমি জানি এটা কোনো ফল এনে দেয় না; বিশেষ করে ম্যাচের পরে আমি আর কখনো সেই ম্যাচ নিয়ে ভাবি না। আমি কারও সঙ্গে নিজের তুলনায় বিশ্বাসী নই। আমি কেবল আমার নিজের ভুলগুলো নিয়ে নেটে পরিশ্রম করি এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৬. একটি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
নিজেকে নিয়ে আমি কখনোই খুব বেশি দূর চিন্তা করি না। আমি আমার পরবর্তী কাজটিকেই সব সময় চিন্তায় রাখি। যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই এটা একটা চ্যালেঞ্জ, নিজের কাজ নিয়ে একাগ্র মনে সাধনা করে যাওয়া। নিজের চিন্তাকে একটি মাত্র ফ্রেমে বেঁধে রাখা। বাইরের জগতের হাজারো প্রলোভনকে উপেক্ষা করে নিজের কাজ করে যাওয়া। এগুলোই ছিল আমার কাছে ক্রিকেটের সাধনা। আমি ঠিক করে নিতাম, কখন কোন কাজটি করব। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমি ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবতাম না। গান শোনা, সন্তানদের সময় দেওয়া, বাইরে বেড়াতে যাওয়া—এভাবে নিজেকে একজন সাধারণ মানুষের কাতারে নিয়ে আসতাম। কিন্তু যখন মাঠে নামতাম, তখন আমার ভাবনায় শতভাগ ক্রিকেট ছাড়া আর কিছুই থাকত না। লক্ষ্য অর্জনের পথে মাঝেমধ্যে নিজেকে বিশ্রাম দেওয়া এবং পুনরায় খুব দ্রুত আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারা একজন খেলোয়াড়কে অনেক দূর নিয়ে যাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৭. হাল না ছাড়া&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
আমাদের জীবনটা আসলে কিছু পর্যায়ের সমন্বয়, যেখানে আমরা নিজেদের জন্য লক্ষ্য ঠিক করি, আর সেগুলো অর্জনের জন্য কাজ করি। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে মা-বাবার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। মা-বাবাই পারেন সন্তানকে শেখাতে, যাতে করে সে জীবনকে সহজভাবে নেয়, সঠিক পথেই নিজেকে নিয়ে যায় এবং সাহসের সঙ্গে জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়। আমার বাবা আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, যাতে করে আমি আমার স্বপ্নের পথে চলতে পারি। যে সময় আমি ক্রিকেটের জগতে নিজেকে মেলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম, তিনি তখন আমাকে বলেছিলেন, ‘হাল ছেড়ে দিয়ো না। প্রতিটি অন্ধকার টানেলের শেষেই আলো থাকে।’ আমি হাল ছেড়ে দিইনি। এ কারণেই আমি আজকে আলোর দেখা পেয়েছি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র: ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য অবলম্বনে লিখিত। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মনীষ দাশ | সূত্র: প্রথম আলো&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5617580121796100717'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/5617580121796100717'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Seven-Pillars-of-Success-by-Sachin-Tendulkar.html' title='সাফল্যের সাত সোপান : শচীন টেন্ডুলকার'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgdcHTHponfQq3bjbczfXUgbxfjTim_63d3mdIzxUXD8dthTESGZN5p6H3NsxHYYchFqIA2yeEhAH6eF9rTDlt0WR4DY_8FB0EHa5wEyUcwGn-8EypXfKKLc3jUEw36SYHYaJTB0TBFb68/s72-c/sachin+tendulkar.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2277182830049737283</id><published>2014-02-13T00:32:00.002-08:00</published><updated>2014-02-13T00:32:37.706-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>ব্যর্থতা জিন্দাবাদ : শাহরুখ খান</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjbCaiS_Jy0-qr-vFFDCc4bf6MyA7dbHC6ryrCuAV-uFH-IGAJDEo1fYOSZxkATV1b0nXbFP6XtP7-0Vt4xYcE9MMYSCLTwyH0Qnvf_5KE35ES46Yq99dWrjqs_YAYXVyCgwJS6Fm05-Ps/s1600/Shahrukh+Khan.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjbCaiS_Jy0-qr-vFFDCc4bf6MyA7dbHC6ryrCuAV-uFH-IGAJDEo1fYOSZxkATV1b0nXbFP6XtP7-0Vt4xYcE9MMYSCLTwyH0Qnvf_5KE35ES46Yq99dWrjqs_YAYXVyCgwJS6Fm05-Ps/s1600/Shahrukh+Khan.jpg&quot; height=&quot;240&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
শুভ সন্ধ্যা! আজকে এখানে আসার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। আজকে আমি তোমাদের আমার জীবনের সবচেয়ে সরল কথাগুলো বলে যাব। জানি না আমার কথায় তোমরা অনুপ্রাণিত হবে কি না। তবে এতটুকু বলতে পারি, এই সহজ সত্যগুলো তোমাদের টিকে থাকতে সাহায্য করবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
জীবনকে অনেকভাবেই মাপা যায়; বয়স, সময় কিংবা লক্ষ্য দিয়ে বোঝানো যায় জীবনের পথচলা। সময়ের পরিমাপ আমাকে প্রায়ই বিভ্রান্ত করে। যেদিন আমার বাবা মারা গিয়েছিলেন, সেই একটি দিন আমার কাছে সারা শৈশবের চেয়েও দীর্ঘ মনে হয়। আমার জীবনের গন্তব্য কোথায়, মনে হয় না এই প্রশ্নের উত্তর আমি কখনো জানতাম। আমি হেঁটেছি, প্রাণপণে দৌড়েছি আমার স্বপ্নের পথে, যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু এসেছে, সবই এসেছে নিজেদের নিয়মে। আমি বদলেছি, আমার চারপাশের মানুষেরা বদলেছে, পুরো পৃথিবীটা বদলেছে, এমনকি আমার স্বপ্নও বদলে গেছে। কোথায় পৌঁছাতে হবে, তা আমি সত্যি জানতাম না। আমি শুধু সেটাই করে গেছি, যা আমি জানতাম, আমি সবচেয়ে ভালো পারি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তাহলে আজকে আমি নিজের মতো করে আমার গল্প বলব। আমার মতে, জীবনের মাপকাঠি হলো হূদয়ের আর অভিজ্ঞতার পরিপূর্ণতা। এর বাইরে আর কিছুতেই তেমন কিছু যায়-আসে না। খ্যাতি, সাফল্য, সৌন্দর্য—এ সবকিছুর চেয়েও একটি পরিপূর্ণ হূদয়ের মূল্য অনেক বেশি।&lt;br /&gt;
আমি একজন অভিনেতা। জর্জ বার্নস বলেছিলেন, ‘অভিনয়ের মূলে রয়েছে সততা’। শুদ্ধ সততার সঙ্গে যখন আমি কোনো চরিত্র রূপ দিতে পারি, তখন সেটাই হয় প্রকৃত অভিনয়। শুদ্ধতম অভিব্যক্তিগুলো আসে অভিনেতার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এটা সত্যি যে সৃষ্টি যখন সবার সামনে উন্মোচিত হয়, তখনই তা স্রষ্টার থেকে আলাদা হয়ে জনগণের সম্পদ হয়ে যায়। এমন অনেক রাত গেছে, আমি হয়তো কোনো পুরস্কার পেয়ে প্রচণ্ড খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে বাড়ি ফিরেছি। আর তারপর আবিষ্কার করেছি কোনো সমালোচক লিখেছে যে আমাকে পুরস্কারের বদলে কাঁচা কলা দেওয়া উচিত ছিল! রাগে, ক্ষোভে তখন মনে হয়, কাঁচা কলা আর সমালোচক—এই দুটিরই চামড়া ছাড়িয়ে বাঁদরদের উপহার দেওয়া উচিত! এমন মুহূর্তগুলোতে আমি ক্ষণিকের জন্য হাল ছেড়ে দিই, কিন্তু তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যখন তুমি ভেঙে পড়বে, যখন সারা পৃথিবী তোমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে, তখন টিকে থাকার একটাই উপায়। আর তা হলো, তোমার প্রকৃত সত্তাকে আঁকড়ে ধরা। পৃথিবী তোমাকে না বুঝতে পারে, ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু অন্তত তোমার নিজেকে চিনতে হবে।&lt;br /&gt;
আমার বেলায় ব্যাপারটা একটা অদ্ভুত সমঝোতার মতো। আমি নিজের মতো অভিনয় করি, করতে চাই, আবার দর্শক আমার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে, সেটাও মাথায় রাখতে হয়। আমাকে একই সঙ্গে আমার সেরা কাজটা দিতে হয়, আবার আমি যাদের জন্য কাজ করছি, তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে যাতে আমি বিচলিত না হয়ে পড়ি, এটাও খেয়াল রাখতে হয়। আমি চেষ্টা করি লাইনচ্যুত না হতে। ভেতরে যা-ই চলতে থাকুক না কেন, বাইরে আমি ঠিকই হাসছি, অটোগ্রাফ দিচ্ছি। কখনো কখনো মনে হয়, আমি একটা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনয় করে চলছি। আমার দর্শক হচ্ছে পথচারীরা, যারা আমাকে হাততালি দিচ্ছে খানিকটা কৌতুকের বশে, খানিকটা দয়া করে আর খানিকটা তাচ্ছিল্যভরে। কিন্তু দর্শক যারাই হোক না কেন, আমি জানি আমার অন্তর্নিহিত সত্তা ঠিকই আমার অভিনয় দেখছে, ভালো কাজের জন্য বাহবা দিচ্ছে, আমার বোকামিগুলো দেখে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে। তাই আমি বলব, নিজেকে চিনতে শেখো, নিজের ওপর থেকে কখনো বিশ্বাস হারিয়ো না। নিজের জীবন নিয়ে কখনো হতাশ হয়ো না। জীবনের ওপর হতাশা আর বিতৃষ্ণা তোমার যত ক্ষতি করবে, তেমনটা আর কোনো কিছুই করতে পারবে না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Failures-are-the-Pillars-of-Success-by-Shahrukh-Khan.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;ব্যর্থতা জিন্দাবাদ : শাহরুখ খান&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখো।&lt;br /&gt;
সমালোচনা, নিন্দার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করতে ভয় পেয়ো না। একলা চলতে দ্বিধা কোরো না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তোমাদের বয়সে আমি যা চাইতাম, আজ আমার সেই সব কিছু আছে। আমি সাফল্য পেয়েছি, খ্যাতি পেয়েছি, আমার যথেষ্ট সম্পদ আছে। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই আমাকে এতটা সুখ দেয়নি, যা দিয়েছে আমার সন্তানেরা। তোমরা এখনো বাবা-মা হওনি, কিন্তু তোমাদের বাবা-মা আছেন, যাঁরা তোমাদের অপরিসীম ভালোবাসেন। পৃথিবীর কোনো কিছুর সঙ্গেই তাঁদের ভালোবাসার কোনো তুলনা চলে না। খেয়াল করে দেখবে, সত্যিকারের সুখ এমন সব জিনিসে থাকে, যা কখনো গোনা যায় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আর দেখ, এই ভালোবাসার বিনিময়ে তাঁরা তোমাদের কাছ থেকে কিছুই চান না। তোমরা তাঁদের অনুভূতিগুলোকে একটু শ্রদ্ধার চোখে দেখবে, এটাই তাঁদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি দুটো অসম্ভব দুষ্টু শিশুর বাবা হয়ে বলছি। সন্তান হিসেবে তোমরা যা-ই করো না কেন, যত বড় ভুলই করো না কেন, বাবা-মায়ের চেয়ে বড় বন্ধু আর নেই। তোমাদের হয়তো মনে হতে পারে, তাঁরা বিরক্তিকর, একঘেয়ে, একগুঁয়ে। আমার সন্তানরাও আমায় তা-ই মনে করে। কিন্তু যদি কখনো কোনো ঝামেলায় পড়ো, তোমার মা-বাবাকেই তুমি সবচেয়ে নিশ্চিন্তে বিশ্বাস করতে পারো। আমি অনেক কম বয়সেই মা-বাবাকে হারিয়েছি, আমি জানি, তাঁদের আমি কতটা মিস করি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
একটা কথা মনে রেখো, সাফল্য অনেক আকাঙ্ক্ষিত হলেও, বেশির ভাগ সময়ই তা আমাদের বড় কিছু শেখাতে পারে না। আর সেজন্যই সফল হওয়ার চাবিকাঠি-জাতীয় কোনো উপদেশ আমি দেব না। সত্য কথা হলো, আমি যতটা সফল হয়েছি, তা পেরেছি কারণ আমি ব্যর্থতা মানতে পারতাম না। সফল হওয়ার জন্য আমি কখনো এতটা প্রাণপণ চেষ্টা করিনি, যতটা না করেছি ব্যর্থতাকে এড়ানোর জন্য। আমি খুব সাধারণ এক নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। দারিদ্র্য কী জিনিস তা আমি খুব স্পষ্টভাবে চোখের সামনে দেখেছি। আমি জানি, তার আসল রূপ কতখানি নিষ্ঠুর। যখন আমার বাবা-মা মারা যান, দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতার সঙ্গে আর একটি শব্দ যোগ হয়—ব্যর্থতা। আমি কোনোমতেই আর দরিদ্র থাকতে চাইনি। তাই যখন আমি প্রথম অভিনয় শুরু করি, তার সঙ্গে সৃজনশীলতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি যেসব সিনেমা করতাম, তার বেশির ভাগই ছিল অন্যদের ফেলে দেওয়া চরিত্র, অথবা এমন কিছু, যাতে কেউই অভিনয় করতে রাজি হয়নি। আমি সেসব চরিত্রের প্রতিটিতে অভিনয় করেছি, শুধু একটা কারণে, যাতে আমাকে বেকার বসে না থাকতে হয়। এসব করতে করতেই একসময় আমি বড় অভিনেতা হলাম। সাফল্য তার নিজের নিয়মেই আমার জীবনে এসেছে, আমি আমার নিজের কাজটুকু করেছি মাত্র। তাই আমার মনে হয়, ব্যর্থতার যথেষ্ট ভয় না থাকলে, ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকলে সফল হওয়া কঠিন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি কিছু কথা বলতে পারি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
১. ব্যর্থতা না থাকলে সফল হওয়া কঠিন। ব্যর্থ হওয়ার পর তোমার প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করে তুমি এরপর সফল হবে কি না। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, যদি একটা উপায় কাজ না করে, তাহলে অন্য কোনো একটা নিশ্চয়ই করবে। তাই আমি চেষ্টা করে যাই।&lt;br /&gt;
২. একবার ব্যর্থ হলে আমি আরও বেশি কাজ করা শুরু করি, আরও বেশি চেষ্টা করতে থাকি। বেশির ভাগ সময় এতেই সাফল্য এসে ধরা দেয়।&lt;br /&gt;
৩. যখন একের পর এক ব্যর্থতা আসতে থাকে, তখন বুঝতে পারি, আমি হয়তো আমার নিজের সত্তাকে ভুলে আমি যা নই তা হতে চাইছি। তখন আমি আবার নিজের মধ্যে ফিরে আসি, যা আমার কাছে সত্যিকার অর্থেই গুরুত্ব বহন করে, আমি শুধু তাতেই মনোযোগ দিই।&lt;br /&gt;
৪. ব্যর্থতা তোমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে কে তোমার প্রকৃত বন্ধু আর কে নয়। সংকটের মুহূর্তগুলোতেই আমাদের সম্পর্কগুলোর পরীক্ষা হয়ে যায়।&lt;br /&gt;
৫. যখন আমি ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠি, তখন নিজেকে আরও ভালো করে চিনতে পারি। নিজের সম্ভাবনাগুলোকে আবার নতুন করে আবিষ্কার করি। এভাবেই আমার আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।&lt;br /&gt;
জীবনটা আসলে কতগুলো অর্জন, সাফল্য, যোগ্যতা আর পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনকে জানো, স্বপ্ন দেখো; ব্যর্থ হলে ঘুরে দাঁড়াও। তোমার যা আছে তার উপযুক্ত মূল্য দিতে শেখো। লোকের কথায় কান দিয়ো না আর ব্যর্থতাকে ভুলে যেয়ো না। নিষ্ঠুর হলেও সে-ই প্রকৃত বন্ধু।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার&lt;br /&gt;
(লেখাটি ১৮ এপ্রিল ২০১২ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত)&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2277182830049737283'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2277182830049737283'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Failures-are-the-Pillars-of-Success-by-Shahrukh-Khan.html' title='ব্যর্থতা জিন্দাবাদ : শাহরুখ খান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjbCaiS_Jy0-qr-vFFDCc4bf6MyA7dbHC6ryrCuAV-uFH-IGAJDEo1fYOSZxkATV1b0nXbFP6XtP7-0Vt4xYcE9MMYSCLTwyH0Qnvf_5KE35ES46Yq99dWrjqs_YAYXVyCgwJS6Fm05-Ps/s72-c/Shahrukh+Khan.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2836292448534939419</id><published>2014-02-13T00:24:00.000-08:00</published><updated>2014-02-13T00:24:02.410-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>সব সময় তাগাদা দিতে হবে নিজেকে : ওবামা</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjsM8POsNxrYZLyrwlcsfeFKLy8WIN2HWfZAvAlDBDGDm7ADO6o3Xx5FK_jPBCkygMccyvzFXAG6CxkjdolUBoEhqAz065O7-Oy0sQb5EqW6YKxiirp1pWnL3amgaI_f49QRlNPeG4cfec/s1600/Barack+Obama.jpeg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjsM8POsNxrYZLyrwlcsfeFKLy8WIN2HWfZAvAlDBDGDm7ADO6o3Xx5FK_jPBCkygMccyvzFXAG6CxkjdolUBoEhqAz065O7-Oy0sQb5EqW6YKxiirp1pWnL3amgaI_f49QRlNPeG4cfec/s1600/Barack+Obama.jpeg&quot; height=&quot;274&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
তোমরা জানো, প্রেসিডেন্ট হওয়াটা আসলে অনেক বড় একটা ব্যাপার। শুধু আমার ব্যবহারের জন্য একটা আস্ত বিমান আছে, আমার নিজের জন্য একটা থিম সং আছে! কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা ভালো লাগে, সেটা হলো তোমাদের মতো তরুণদের সঙ্গে এমনভাবে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়া। অতএব বুঝতেই পারছ, আমি এখানে এসে নিজেকে কতটা সৌভাগ্যবান মনে করছি আজ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আমরা আজ এখানে দর্শকসারিতে অনেক বড় মাপের অতিথিদের পেয়েছি। টেনেসির গভর্নর বিল হাসলাম রয়েছেন আমাদের মধ্যে। আসুন, সবাই তাঁকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানাই। আমাদের মধ্যে আরও রয়েছেন সিনেটর বব কর্কার, সিনেটর ল্যামার আলেক্সান্ডার এবং সিনেটর স্টিভ কোহেন। এমনকি মেমফিসের নিজের মানুষ সিনেটর হ্যারল্ড ফোর্ড জুনিয়রও রয়েছেন আমাদের মধ্যে। আরও রয়েছেন মেমফিসের মেয়র এ সি হুয়ারটন। তাঁদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আজকের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আজ তোমাদের প্রত্যেককে নিয়ে আমি গর্বিত। কারণ, তোমরা শেষ পর্যন্ত অনেক শ্রম দিয়ে এ পর্যন্ত এসেছ। এর জন্য ধন্যবাদ জানাতে হবে তোমাদের শিক্ষকদের। তাঁরা সব সময় তোমাদের পড়াশোনা করানোকে তাঁদের চাকরির অংশ হিসেবে নয়, বরং নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে চিন্তা করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ দেওয়া উচিত তোমাদের পরিবারকে। তোমাদের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী—সবার অবদান রয়েছে এতে। কারণ, তাঁরা তোমার ওপর আস্থা রেখেছেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সমাবর্তন অনুষ্ঠান মানেই হলো আনন্দের উপলক্ষ। কিন্তু আজকের এই সমাবর্তন যেন আরও বেশি আনন্দের। কারণ, আমি জানি, বুকার টি নিয়ে অনেকেই এতটা আশাবাদী ছিলেন না। অনেকেই মনে করত, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের কড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে কখনোই নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবে না। কারণ, এই এলাকাটা অনুন্নত, এখানকার রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ভাঙাচোরা। এককথায় এখানকার শিক্ষার্থীরা উন্নত সুযোগ-সুবিধা তেমন পায় না বললেই চলে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
কিন্তু তোমরা প্রমাণ করেছ, তোমাদের প্রত্যেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বলেছ, ‘ইয়েস, উই ক্যান’। হ্যাঁ, আমরাও পারি। আমরা শিখতে পারি, আমরাও পারি সফল হতে। কোথা থেকে এসেছ, সেটা নয়; বরং কোথায় যেতে চাও, সেটাই যে তোমাদের আসল পরিচয়, তা প্রমাণ করেছ তোমরাই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই তো বছর খানেক আগের কথা। এমন একটা সময় ছিল, যখন এই প্রতিষ্ঠানের মাত্র অর্ধেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনা শেষ করতে পারত। অনেক কাল ধরেই এই প্রতিষ্ঠানের মাত্র হাতে গোনা গুটিকয় শিক্ষার্থীই পারত পরবর্তী ধাপে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে। কিন্তু আজ তোমরা যে সবকিছু বদলে দিয়েছ!&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এই প্রতিষ্ঠানে যারা নতুন পড়তে আসবে, তাদের সামনে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছ তোমরা। তোমরা এমন একটা ধারা তৈরি করতে পেরেছ, যা কি না পরিশ্রমীদের সাফল্য নিশ্চিত করে। এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষকেরা আস্থা রেখেছেন। এবং তারই ফলে আজ তোমাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই তাদের পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পেরেছে সুন্দরভাবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের অনেকেই এখন তাদের নিজের পরিবারের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আমি আজ এখানে এসেছি, কারণ আমি মনে করি, এমন সাফল্য যদি বুকার টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পেতে পারে, তবে সেই সাফল্য মেমফিস এলাকাও অর্জন করতে পারে; এই সাফল্য যদি মেমফিস এলাকায় সম্ভব হয়, তাহলে তা সম্ভব হবে পুরো টেনেসি রাজ্যেও; আর টেনেসি রাজ্য যদি তা পারে, তাহলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রও পারবে সফল হতে।&lt;br /&gt;
তবে এর জন্য আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রতিটি মানুষই তার ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ করতে পারে। আমরা ‘রেস টু টপ’ প্রকল্প চালু করেছি এ জন্যই, যেন আমরা বুকার টির মতো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পাওয়া সাফল্যের জন্য উপযুক্ত সম্মান দিতে পারি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আজ আমি তোমাদের সামনে এমনি এমনিই এসে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি, তা কিন্তু নয়। আজ আমি এখানে তোমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি, তার কারণ হলো আমার শিক্ষা। আমার যখন বয়স মাত্র দুই বছর, তখন আমার বাবা আমাদের রেখে চলে যান। আমার অসহায় মা আমাকে আর আমার বোনকে নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন সেই সময়। কিন্তু একটা বিষয়ে আমার মা, আমার নানা-নানি কখনো ছাড় দেননি আমাকে। সেটা হলো পড়াশোনা। তাঁরা সব সময় আমার পেছনে লেগে থাকতেন। আমার কোনো অজুহাত দেওয়ার উপায় ছিল না। আমার শিক্ষকেরাও আমার পেছনে অবিরত লেগে থাকতেন পড়াশোনার জন্য। আমার সৌভাগ্য, তাঁরা কখনো আমাকে পড়াশোনার জন্য তাগাদা দেওয়া থামাননি। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল আমার স্ত্রী মিশেলের বেলায়ও। তার মা-বাবাও সব সময় তার পেছনে লেগে থাকতেন পড়াশোনার জন্য।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
একটা কথা বলে রাখি, দেশের সাফল্যের জন্য তোমাদের মধ্যে কয়েকজন ভালো করলেই হবে না, তোমাদের সবাই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলেই সম্ভব হবে দেশের উন্নতি। শিক্ষার মাধ্যমে তোমরা সব ধরনের সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবে। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমরা সব সময় আমাদের শিক্ষকদের প্রশ্ন করতাম, এসব ‘আলজেব্রা’ শিখে আমাদের কী লাভ? হ্যাঁ, এটা অবশ্যই সত্য যে কর্মজীবনে গিয়ে তোমাদের এক্স অথবা ওয়াইয়ের মান বের করতে হবে না। কিন্তু এসব অঙ্ক করার মাধ্যমে আসলে তোমাদের মস্তিষ্কের সব জট খুলে যাচ্ছে। এসব গণিতের সমস্যা সমাধান করে তোমরা সব ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন তথ্য, সমস্যা ঠান্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে সমাধান করা শিখছ। অঙ্কের শিক্ষকদের বলি, আপনারা আপনাদের শিক্ষার্থীদের বলবেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সবাইকে ভালোভাবে গণিত শিখতে হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Success-Stories-by-Obama.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;সব সময় তাগাদা দিতে হবে নিজেকে : ওবামা&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তোমাদের সবার নিজের নিজের গল্প আছে। অনেকেই অনেক কষ্ট করে এসেছ। দক্ষিণ মেমফিস অঞ্চল সব সময় ছিল অনুন্নত। এখানকার অধিবাসীরা হাত বাড়ালেই সবকিছু পেয়েছে, এমনটা কখনোই হয়নি। তোমরা যা চেয়েছ, তা চাওয়ামাত্র পেয়েছ, এটাও হয়নি কোনো দিন। কিন্তু এতে কষ্ট পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং এটা গর্বের ব্যাপার। কারণ, তোমরা যা কিছু পেয়েছ, যত লক্ষ্য অতিক্রম করেছ, যত সাফল্য অর্জন করেছ, যত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছ, তার সবই তোমাদের নিজের, একেবারে নিজেদের কৃতিত্ব, নিজেদের পরিশ্রমের ফসল। এসব কারও অনুগ্রহের ফসল নয়।&lt;br /&gt;
কিন্তু শিক্ষার্থীরা, একটা কথা মনে রাখবে, আজ তোমাদের যাত্রা শেষ হলো তা নয়, আরও অনেক পথ বাকি রয়েছে। যাত্রা কেবল শুরু হলো। পথের প্রতিটি বাঁকেই নিজেকে ভালো, আরও ভালো করার জন্য তাগাদা দেওয়াটা কখনোই থামাবে না। সামনের দিনগুলোতে তোমরা কতটা সফল হবে, তার নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি না; কিন্তু একটা কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, চলার পথে অনেক ভুল করবে তোমরা। অনেক কঠিন সময় আসবে। হয়তো হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু তোমরা যদি সব সময় নিজেকে তাগাদা দিতে থাকো, তাহলে সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে নিজেই। আজ তোমরা যদি এই সংকল্প করো যে সব সময় ভালো কিছু করার জন্য নিজেকে তাগাদা দিতেই থাকবে, তাহলে আমি তোমাদের ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলতে পারি, যে শিক্ষা, ভালোবাসা, সাফল্য তোমরা বুকার টি স্কুল থেকে পেয়েছ, তা দিয়েই সারা বিশ্বে নিজেদের চিহ্ন এঁকে দিতে পারবে তোমরা।&lt;br /&gt;
ধন্যবাদ সবাইকে। ধন্যবাদ তোমাদের নিজের আত্মবিশ্বাস আমার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ঈশ্বর তোমাদের সহায় হোন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত। অনুবাদ: ফয়সাল হাসান&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2836292448534939419'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2836292448534939419'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Success-Stories-by-Obama.html' title='সব সময় তাগাদা দিতে হবে নিজেকে : ওবামা'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjsM8POsNxrYZLyrwlcsfeFKLy8WIN2HWfZAvAlDBDGDm7ADO6o3Xx5FK_jPBCkygMccyvzFXAG6CxkjdolUBoEhqAz065O7-Oy0sQb5EqW6YKxiirp1pWnL3amgaI_f49QRlNPeG4cfec/s72-c/Barack+Obama.jpeg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2350191500051906861</id><published>2014-02-03T21:53:00.001-08:00</published><updated>2014-02-03T21:53:15.525-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন : সবুর খান</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgl6LvbeSt38MdABGkLWeV2vwAMeod92_WMWzbiSirAd9Eguxwa6wHtmNt9th6kOkvLC6Moc_bpmITjQ78kmZriCbzc3Vyjm5JQiPqSEg7tyJtvn6-ixGAdeWHVWVkC5N_x_S2AxuxpRQs/s1600/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgl6LvbeSt38MdABGkLWeV2vwAMeod92_WMWzbiSirAd9Eguxwa6wHtmNt9th6kOkvLC6Moc_bpmITjQ78kmZriCbzc3Vyjm5JQiPqSEg7tyJtvn6-ixGAdeWHVWVkC5N_x_S2AxuxpRQs/s1600/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8.jpg&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;b&gt;লেখকঃ এম এ জোবায়ের &lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান। বাংলাদেশের আইটি ব্যবসার প্রথম দিককার একজন ব্যবসায়ী তিনি। পরবর্তীতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা। একসময় আইটি ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিলেও ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হওয়ার সুবাদে এখন তিনি সাধারণ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ সব ধরনের ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অত্যান্ত সফলভাবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে পড়াশোনা শেষে ১৯৯০ সালে ব্যবসা শুরু করেন সবুর খান। ১৯৯২ সালে ড্যাফোডিল ডেস্কটপ পাবলিশিং সেন্টারকে আরো বড় আকারে গড়ে তোলেন এবং এই সময় থেকেই তিনি স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত কম্পিউটার অ্যাকসেসরিজ বিক্রি শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ দিয়ে তিনি সিডিকম ক্লোন পিসি অ্যাসেমব্লিং করে বাজারজাত শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে তার নেতৃত্বে ড্যাফোডিল কম্পিউটার কমটেক ফেয়ারে অংশগ্রহণ করে এবং সাড়া জাগাতে সমর্থ হয়। প্রাত্যহিক জীবনে কম্পিউটারের প্রয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তির ভবিষ্যত বিস্তৃতি, দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে ঢাকার ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার সুপার স্টোর গড়ে তোলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসাবে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট চালু হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সবুর খান ২০০২-২০০৩ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি ২০০৪-২০০৬ মেয়াদে ঢাকা চেম্বারের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০২-২০০৩ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টস ফোরামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। সম্প্রতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যা ও সম্ভাবনা, পোশাকের সমস্যা ও সম্ভাবনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, ঢাকা চেম্বারের কার্যক্রম, ড্যাফোবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মমুখী শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি মাসিক মসলিনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাসিক মসলিনের সহযোগী সম্পাদক এম এ জোবায়ের।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থাকে কিভাবে দেখছেন?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর: আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা অত্যান্ত মানসিক স্পৃহার সঙ্গে এগিয়ে আসছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বেশ কিছুদিন যাবৎ হরতালসহ রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে চলছে, তারপরও আমাদের উদ্যোক্তারা সাহসিকতার সঙ্গে সবকিছু মোকাবিলা করছে। তবে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকত তাহলে ব্যবসায়ীদের এ গতি আরো কয়েকগুণ বেড়ে যেত, অর্থনীতিও লাভবান হতো। হরতাল বা যে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল কাক্সিক্ষত হারে আসছে না বা আসতেও পারছে না। এতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া এ অস্থিরতায় একজন ব্যবসায়ী অর্থনৈতিকভাবে যতটা না ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি সে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্ম হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : জাতীয় নির্বাচনের বছরগুলোতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনীতিতে কিছুটা শ্লথ গতি দেখা যায়। এ থেকে উত্তরণে কার কি করণীয় রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর: অর্থনীতির শ্লথ গতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। আমাদের রাজনীতিবীদদের দেশের মানুষের কথা ভেবে রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে হবে। মানুষের জন্যই রাজনীতি, রাজনীতির জন্য মানুষ নয়। রাজনীতি হবে সব উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। ক্ষমতা নিয়ে হানাহানি, মারামারি কারও কাম্য নয়। দেশের ক্ষতি মানে দেশের মানুষের ক্ষতি এমনকি রাজনীতিবিদদেরও ক্ষতি, কারণ তারাও দেশের বাইরে নয়। রাজনীতিতে সমঝোতা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে, তবেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে। আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি প্রতিহিংসার রাজনীতি। নেতৃত্বের বড় গুণাবলি হচ্ছে ত্যাগ। জনমানুষের সঙ্গে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা কম বলে মনে হয়। মনে রাখতে হবে যে একজন ত্যাগী নেতাকে ইতিহাস হাজার বছর মনে রাখে। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে আসে। সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষমতা ছাড়ার আগের দিন পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : সাভার ট্র্যাজেডি পরবর্তী দেশের রফতানি বাণিজ্য বিশেষ করে পোশাক খাত কোন পথে যাচ্ছে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর: সাভার ট্র্যাজেডি বা রানা প্লাজার ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছুটা ক্ষতির কারণ হলেও আমি মনে করি এ ঘটনা আমাদের একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এখন আমাদের ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ বিপর্যয় থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এখন আমাদের কারখানার অভ্যন্তরে কমপ্লায়েন্স, নিরাপত্তা, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি এ দুর্ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসনে যদি আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে না পারি তাহলে তা বিশ্ব দরবারে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে। সাভারের একটি ঘটনা আমাদের অনেকগুলো বিষয়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। কোথায় কোথায় অনিয়ম, দূর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সবকিছুকে বের করে তা সমাধান করতে হবে। তাই আমি মনে করি এ ঘটনা আমাদের একটি সুযোগ করে দিয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : রফতানির নতুন বাজার তৈরি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ডিসিসিআইয়ের পদক্ষেপ ও কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : রফতানির নতুন বাজার তৈরি বা দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ডিসিসিআই সর্বদাই কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ডিসিসিআইতে আমরা একটি হেল্প ডেস্ক চালু করতে সক্ষম হয়েছি। ফলে একজন নতুন উদ্যোক্তাকে তার ব্যবসা নিবন্ধনের জন্য আর আরজেএসসি’তে যেতে হবে না। আমার ইতোমধ্যেই আরজেএসসি’র সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। এখন থেকে আরজেএসসির নিবন্ধন সেবা ডিসিসিআই থেকেই পাওয়া যাবে। তাছাড়া আমরা আমাদের অত্যন্ত রিসোর্সফুল ওয়েবসাইটিতে বিটুবি সার্ভিসের ব্যবস্থা রেখেছি যেখানে ডিসিসিআই’র সব সদস্যদের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাবে। এ ধরনের সেবা ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্যই। তাছাড়া ডিসিসিআই বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রেরণের মাধ্যমে সরকারকে নীতিসহায়তা দিয়ে আসছে। বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং রফতানির বাজার সম্প্রসারণে নিয়মিত সেমিনার, সাংবাদিক সম্মেলন, ওয়ার্কশপেরও আয়োজন করছি। এবছর ডিসিসিআই বাণিজ্য প্রতিনিধি দল মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে বাণিজ্যমেলা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, বাণিজ্য-আলোচনা অনুষ্ঠান, বিভিন্ন চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ডিসিসিআই বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাছাড়াও বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে ব্যবসা করছে। এসব এনআরবি ব্যবসায়ীকে কিভাবে দেশের মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা যায় সে লক্ষ্যেও ডিসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : ডিসিসিআইয়ের ২০০০ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রক্রিয়াটি কিভাবে হবে? কেমন সাড়া পাচ্ছেন এতে?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় এ বছর ২০০০ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এ মহতী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। উদ্যোক্তা তৈরির প্রক্রিয়াটি আমরা অত্যন্ত সহজ করে নির্ধারণ করেছি। আমরা এ লক্ষ্যে িি.িনঁংরহবংং.ড়ৎম.নফ নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছি। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী যে কেউ এ ওয়েবসাইটে লগইন করে তাঁর ইঁংরহবংং ওফবধ জমা দিতে পারবে। তাছাড়াও আগ্রহী যে কোন ব্যক্তি সরাসরি ডিসিসিআইতে এসে তাঁর বিজনেস আইডিয়ার হার্ড কপিও জমা দিতে পারবেন।&amp;nbsp; ডিসিসিআই পরবর্তীতে এ সকল জমাকৃত বিজনেস আইডিয়া যাচাই বাছাই করে সেরা ২০০০টি প্রকল্প উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরির জন্য নির্ধারণ করবে। আমরা উদ্যোক্তা তৈরির এ প্রকল্পে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। তবে আমরা এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘড়হ-ঞৎধফরঃরড়হধষ ও বহুমুখী বিজনেস আইডিয়াগুলোকে প্রাধান্য দিব।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : আপনি একজন আইটি ব্যবসায়ী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা। তারপর ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : আমি প্রথম থেকেই আমার যে কোনো কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আমি গঁষঃর উরসবহংরড়হধষ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কার্যকরভাবে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আমি আমার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে যে কোনো কাজে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি। আমি যে সকল উপদেশ পাই সেগুলোকেও আমার কাজে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Entrepreneur-Sabur-Khan-at-Daffodil.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন : সবুর খান&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে আপনার নিজের গল্পটা কেমন?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : যে কোনো ব্যবসার শুরুটা খুব মসৃণ হয় না। আমার ব্যবসার শুরুতেও তেমনি অনেক চ্যালেঞ্জ, প্রতিবন্ধকতা, বাধা, বিপত্তি, ঝুঁকি, অপর্যাপ্ত পুঁজির সমস্যা, প্রতিযোগিতা ছিল। তবে ধৈর্য, সততা, নেটওয়ার্কিং ইত্যাদির মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এখনো ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : নতুন উদ্যোক্তা হতে আমাদের দেশে কি কি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : এক্ষেত্রে আমি বলবো সর্বপ্রথম ক্যারিয়ার মাইন্ডসেট ঠিক করতে হবে। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য। আমরা অনেক সময় দেখতে পাই যে কেউ কেউ ব্যবসা শুরু করেই রাতারাতি ধনী হতে চায়। এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নতুন উদ্যোক্তা হতে হলে সর্বাগ্রে ধৈর্যশীল হতে হবে। তাছাড়া ঘাত, প্রতিঘাত, ক্ষতি, সমস্যা ইত্যাদি মোকাবিলা করার সাহসিকতা থাকতে হবে। তবে ধৈর্য সহকারে ব্যবসা ধরে রাখলে তাতে সফলতা আসবেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-কার্যক্রম কতটা বাস্তবসম্মত?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : ইতমধ্যে ঢাকা চেম্বার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিবিএ ইন লিডারশিপ অ্যান্ড ইন্ট্রাপ্রিনিউরশিপ নামের একটি কোর্স চালু করা যায় কিনা তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ কোর্সটি যথেষ্ট বাস্তবসম্মত হবে বলে আমি আশা করি এবং তা নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভবিষ্যতে কাজ করবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর করতে আপনার ও ডিসিসিআইয়ের ভূমিকা সম্পর্কে বলুন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : ঢাকা চেম্বারে পরিপূর্ণভাবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢাকা চেম্বারের ওয়েবসাইটটি এখন অনেক রিসোর্সফুল। এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিসিসিআই’র সকল সদস্যবৃন্দের তথ্য অনলাইনেই পাওয়া যাবে। তাছাড়া ডিসিসিআই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে বিটুবি সেবা গ্রহণ করা যাবে। ডিসিসিআই’র দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড এখন এর ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। ডিসিসিআই বিজনেস ইনস্টিটিউট (ডিবিআই) এর বার্ষিক ট্রেনিং ক্যালেন্ডার এ ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। তাছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিংক আমাদের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। আমি মনে করি ডিসিসিআই ওয়েবসাইট একজন ব্যবসায়ীকে তার সঠিক পার্টনার খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। কেন এই বিভাগ? টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগ থেকে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিভাগ কতটুকু কর্মমুখী বলে মনে করেন?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : আমাদের ডিপার্টমেন্টগুলোর সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি’র সম্পৃক্ততা আছে। ডিআইইউ’র কোর্স কারিকুলাম বাস্তবতার নিরিখেই ডিজাইন করা হয়। উত্তরোত্তর আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডিআইইউ’র টেক্সটাইল ডিপার্টমেন্টকে যথেষ্ট প্রতিযোগী সক্ষম করে গড়ে তোলা হয়েছে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
প্রশ্ন : টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলুন। বর্তমান যুগের ফ্যাশন ও টেকনোলজির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মূল্যায়ন কিভাবে করবেন?&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
উত্তর : বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। তাছাড়া বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প এখন যে অবস্থানে এসেছে প্রতিনিয়ত এর উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। তবে আমি বিশ্বাস করি একদিন বাংলাদেশ এ খাতে প্রথম স্থান দখল করে নিবে। পাশাপাশি অনেক ভেলুএডেড সার্ভিস চালু হচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইনে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা অনেক ভালো করছে। যখন ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি সম্পর্ক আরো উন্নত হবে তখন আমাদের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মান আরো উন্নত হবে। তার মানে এই নয় যে, আমাদের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মান খারাপ। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক ভালো বলে আমি মনে করি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : মাসিক মসলিন&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2350191500051906861'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2350191500051906861'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Entrepreneur-Sabur-Khan-at-Daffodil.html' title='নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন : সবুর খান'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgl6LvbeSt38MdABGkLWeV2vwAMeod92_WMWzbiSirAd9Eguxwa6wHtmNt9th6kOkvLC6Moc_bpmITjQ78kmZriCbzc3Vyjm5JQiPqSEg7tyJtvn6-ixGAdeWHVWVkC5N_x_S2AxuxpRQs/s72-c/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-2145772092234211208</id><published>2014-02-03T21:46:00.001-08:00</published><updated>2014-02-03T21:46:12.259-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>তরুণরা উদ্যোক্তা হলে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgKZGrza6yIXycZlS1Thzdpzy-TtB_-3qTT_NBgwm2ZjUsvrv0VGVy7uuF2sQ9utlLmVo7WwMcvQHC-BAZzPNpr9MJaMpHYlkGb5e2empsnnwLyqHi9OzLvG1RQLY-P6uP9TPEAACQCLCg/s1600/Young+Entrepreneur.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgKZGrza6yIXycZlS1Thzdpzy-TtB_-3qTT_NBgwm2ZjUsvrv0VGVy7uuF2sQ9utlLmVo7WwMcvQHC-BAZzPNpr9MJaMpHYlkGb5e2empsnnwLyqHi9OzLvG1RQLY-P6uP9TPEAACQCLCg/s1600/Young+Entrepreneur.jpg&quot; height=&quot;213&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শুরুতেই কমসংখ্যক গ্রাহক ধরে তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে পরে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারলে নিশ্চিত উন্নতি করা সম্ভব। তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠলে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
গতকাল ০৬ অক্টোবর ২০১৩, রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ওমেন ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউভিএ) মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্যোক্তা হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। হাটের উদ্বোধন করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি মো. সবুর খান।&lt;br /&gt;
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) উদ্যোগে এবং ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব’র আয়োজনে প্রথমবারের মতো এবার উদ্যোক্তা হাট চালু হলো। আয়োজনে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) ও মিডিয়া পার্টনার বণিক বার্তা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনুষ্ঠানে সবুর খান বলেন, ‘আমাদের দেশের জনসংখ্যার অধিকাংশই তরুণ। তাই আমরা যদি এ তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে পারি, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটই বদলে যাবে এবং দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।’ ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তার ব্যাপারে নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Young-Entrepreneur-for-Financial-Support-of-the-Country.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;তরুণরা উদ্যোক্তা হলে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, বেসিসের সাবেক সভাপতি মাহবুব জামান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের সভাপতি শওকত হোসেন প্রমুখ।&lt;br /&gt;
বক্তারা বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের শুরুতে সফল হতে হলে অল্প পুঁজি দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
এক্ষেত্রে শুরুতে ভালো কয়েকজন গ্রাহককে টার্গেট করে তাদের সন্তুষ্ট করে পরবর্তী সময়ে আরো গ্রাহকের ব্যাপারে কাজ করতে হবে।&lt;br /&gt;
তারা বলেন, বর্তমানে দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। প্রতি বছরই কর্মবাজারে নতুন ২১ লাখ তরুণ-তরুণী যুক্ত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী এগিয়ে যাওয়া ও অগ্রসরমাণ দেশগুলো বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করেছে উদ্যোক্তা তৈরি করে। এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা একই সঙ্গে দেশজ উৎপাদন যেমন বাড়ান, তেমনি তারা কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : বনিক বার্তা&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2145772092234211208'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/2145772092234211208'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Young-Entrepreneur-for-Financial-Support-of-the-Country.html' title='তরুণরা উদ্যোক্তা হলে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgKZGrza6yIXycZlS1Thzdpzy-TtB_-3qTT_NBgwm2ZjUsvrv0VGVy7uuF2sQ9utlLmVo7WwMcvQHC-BAZzPNpr9MJaMpHYlkGb5e2empsnnwLyqHi9OzLvG1RQLY-P6uP9TPEAACQCLCg/s72-c/Young+Entrepreneur.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-6193970343419485581</id><published>2014-02-03T21:40:00.003-08:00</published><updated>2014-02-03T21:40:42.239-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>তরুণ উদ্যোক্তা এরিক ফিজেলবর্গ</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjE9j0SIDM2K9Zdwd2-3wlpAmXJU8lSOMsMuW84AOfg_1PiB7ZkvLIUY7npu0YHOveLbWIOLind6TKFzFLxxHu5x4-DMgn0yONoG5_Li04fdtu_FJxS-FryVElzsrO3HrxyNoijRjsgJf8/s1600/Erik+Fjellborg.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjE9j0SIDM2K9Zdwd2-3wlpAmXJU8lSOMsMuW84AOfg_1PiB7ZkvLIUY7npu0YHOveLbWIOLind6TKFzFLxxHu5x4-DMgn0yONoG5_Li04fdtu_FJxS-FryVElzsrO3HrxyNoijRjsgJf8/s1600/Erik+Fjellborg.jpg&quot; height=&quot;213&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;লেখক: প্রাঞ্জল সেলিম&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
তখনো তিনি হাই স্কুলের গণ্ডি পার হননি, অথচ এর মধেই ১১টি ওয়েব বেইজড কোম্পানির মালিক হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ উদ্যোক্তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সাধারণত দেখা যায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা হাত খরচের টাকা দিয়ে শখের কোনো জিনিস কেনে। কিন্তু এরিক ছিলেন একটু অন্য রকমের। তিনি এই টাকা কখনও খরচ করতেন না। জমিয়ে রাখতেন। সেই সময় থেকেই তিনি চিন্তা করতেন ব্যবসা করার। আর সেজন্যই জমাতেন এই টাকা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ব্যস, গ্র্যাজুয়েশন শুরু করার আগেই আপলোড করে দিলেন তার ওয়েবসাইটগুলো। মোট ১১টি সাইট খুলেছিলেন তিনি। সেগুলোর সবই বলা যায় নন-প্রফিটেবল ছিল। তার প্রজেক্টগুলোর মধ্যে এমন সাইটও ছিল, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিস্টারের প্রজেক্ট ওয়ার্কের বিবরণ দেওয়া থাকত, এমনকি সেগুলোর সমাধানও থাকত। মূলত এই ধরনের কাজের জন্যই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। এ প্রজেক্টগুলো ভালোই চলছিল। একসময় তার কাছ থেকে একটি কোম্পানি তার ওয়েব সাইট কিনতে চাইল। তিনিও রাজি হলেন। ১১টি থেকে তিনটি ওয়েবসাইট বিক্রি করে দিলেন তিনি। ট্রিকার টক, রামানিয়া ফাউন্ডেশন এবং ক্লাসলিফ নামের সাইটগুলো বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
পোকাটা তার মাথায় ঢুকেছিল স্টিভ জবসের গল্প পড়ে ও শুনে। তাদের ক্লাসের আরও অনেকে অনুপ্রাণিত ছিলেন এই স্টিভ জবসের কাজে। কিন্তু তার মতো করে বুকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছে খুব কম মানুষই। বিখ্যাত আইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা জবসের জীবনের শুরুটাও খানিকটা এলোমেলো। পড়ালেখায় মন ছিল না, বাদ পড়ে গিয়েছিলেন কলেজ থেকে। এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র একুশ বছর বয়সে মনের মতো কম্পিউটার বানানোর চিন্তা থেকে অ্যাপলের শুরু।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
নিজের কম্পিউটার নেড়েচেড়ে সে রকমই কিছু করার ইচ্ছাটা হয়তো উঁকি দিয়েছিল ওয়েনসের মাথায়। ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দিয়ে যেটা করে বসল তাতে অন্তত একদিক থেকে শুধু জবস কেন, অন্য সবাইকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে হয়ে গেছে মিলিয়ন পাউন্ডের মালিক। মাত্র সাত বছর বয়সে তার হাতেখড়ি কম্পিউটার চালানোয়। প্রথমে সারাক্ষণ এ যন্ত্রটি নিয়েই মেতে থাকতেন। ফলে অল্প কয়েক দিনে ওয়েব ডিজাইনের মতো জটিল সব কারবার তার আয়ত্তে চলে আসে। ১০ বছর বয়সে পেয়েছিলেন একটি মেকিন্টোশ কম্পিউটার। তখন এতে ছোটখাটো প্রোগ্রাম বানাতে শুরু করেন তিনি। চার বছর পর ২০০৮ সালে হাতখরচের পয়সা বাঁচিয়ে নিজের একটি ওয়েবসাইট খোলেন। নাম দেয় ম্যাক বঙ্ বান্ডেল। সেখান থেকে তার তৈরি প্রোগ্রাম বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ কিনতে পারতেন টাকার বিনিময়ে। ব্যবসায়িক বুদ্ধি অবশ্য ভালোই খাটিয়েছেন ছোট্ট এরিক। নিজের পাশাপাশি অন্যান্য নির্মাতার বানানো প্রোগ্রামও বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছিলেন তার সাইটে। কেউ একসঙ্গে অনেক প্রোগ্রাম কিনতে চাইলে কখনো ১০ শতাংশ দামে বিক্রি করে দিতেন তিনি। আর প্রতিটি প্রোগ্রাম বিক্রির কিছু অংশ কোষাগারে জমা হতো সেবামূলক কাজে ব্যয়ের জন্য। এতে অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। একই সঙ্গে ভারি হতে থাকে তার টাকার ঝোলা। দুই বছরের মাথায় আয় পৌঁছে যায় ৭০ হাজার পাউন্ডে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আ্পনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Young-Entrepreneurs-2008-of-Europe-Erik-Fjellborg.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;তরুণ উদ্যোক্তা এরিক ফিজেলবর্গ&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দ্রুত সাফল্য পেয়ে থেমে যাননি তিনি। এরপর বেছে নিয়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কাজ। এরপর ব্রাঞ্চর নামে বিজ্ঞাপন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে নতুন একটি ওয়েবসাইট খোলেন তিনি। এখান থেকে মাসে অন্তত ৩০০ মিলিয়ন বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে যায় ইন্টারনেট ও আইফোনে। সেসব বিজ্ঞাপনে কেউ ক্লিক করামাত্র টাকা চলে আসে ওয়েনসের নামে। এরই মধ্যে এই ব্যবসা থেকে পাওয়া গেছে পাঁচ লাখ পাউন্ড। উইলিয়াম হিলের মতো বড় বড় কোম্পানি এখন তার সেবা গ্রহণ করে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
দুটি প্রতিষ্ঠানের হর্তাকর্তা তিনি নিজে। এর সদর দপ্তর তার ঘরে কম্পিউটারের সামনের জায়গাটুকু। এখানে তিনি আবার চাকরিও দিয়েছে আটজনকে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা কর্মীরা সবাই বয়সে তার চেয়ে বড়। তারা ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানাভাবে সাহায্য করে তাকে। স্কুল শেষে ও সপ্তাহান্তে অবসর পেলে তিনি বসে যান ব্যবসার কাজে। সামনের বছরে দুটো শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে তার। ব্যবসা নিয়ে কেউ কথা বলতে এলে বেশ ভারিক্কিভাব চলে আসে তার মধ্যে। নাকের ওপর চশমাটা পেছনে ঠেলে আরও শক্ত করে বসিয়ে নেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘১০ বছর পরে কেমন থাকব তা জানি না, কিন্তু ১০০ মিলিয়ন আয় না করা পর্যন্ত থামছি না।’ তিনি চান তার ছেলেবেলার নায়ক স্টিভ জবসের মতো তার নামও সবার মুখে মুখে প্রচারিত হোক।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সম্প্রতি তিনি একটি বিশাল প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৩-এর শেষ দিকে সেটার প্রকাশ ঘটবে বলে জানিয়েছেন তিনি, তবে কী নিয়ে কাজ করছেন সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই দিতে চাননি এই তরুণ প্রতিভা।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র: ইত্তেফাক&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/6193970343419485581'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/6193970343419485581'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/02/Young-Entrepreneurs-2008-of-Europe-Erik-Fjellborg.html' title='তরুণ উদ্যোক্তা এরিক ফিজেলবর্গ'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjE9j0SIDM2K9Zdwd2-3wlpAmXJU8lSOMsMuW84AOfg_1PiB7ZkvLIUY7npu0YHOveLbWIOLind6TKFzFLxxHu5x4-DMgn0yONoG5_Li04fdtu_FJxS-FryVElzsrO3HrxyNoijRjsgJf8/s72-c/Erik+Fjellborg.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-9105374250572208826</id><published>2014-01-30T21:57:00.002-08:00</published><updated>2014-01-30T21:57:47.253-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে খেয়াল রাখুন ১৪ বিষয়</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh-6F2cr1heCceBbCbgXeyek_VXKmXDvh26Ke4sdhssb2vrdi0jzEbcOVBkLdYxB0ZD9HxNQAWxvj7jZ1Hxee0fLyGzcIbLBtVoqyXN27BQXLE3Nvkto31u2zDDV2TONpdsGj0uqJT3Blc/s1600/Successful+Entrepreneur.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh-6F2cr1heCceBbCbgXeyek_VXKmXDvh26Ke4sdhssb2vrdi0jzEbcOVBkLdYxB0ZD9HxNQAWxvj7jZ1Hxee0fLyGzcIbLBtVoqyXN27BQXLE3Nvkto31u2zDDV2TONpdsGj0uqJT3Blc/s1600/Successful+Entrepreneur.jpg&quot; height=&quot;320&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;div style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;
&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;/div&gt;
শুধু জিনিয়াসরাই নিজের মত করে কাজ করতে পারে। আর যারা জিনিয়াস না তারা অন্যকে অনুসরণ করে। এখন আপনিই ভাবুন কোনটা বেছে নিবেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
- আপনি কি জানতে চান আপনি চলে যাওয়ার পর সবাই আপনাকে কতটুকু মিস করবে? এক গ্লাস পানিতে আঙ্গুল ডুবান। তারপর আঙ্গুল উঠিয়ে ফেলুন। আপনার আঙ্গুলের দ্বারা যে শূণ্য স্থান তৈরি হয়েছিল তা মুহুর্তেই পূর্ণ হয়ে যাবে। পানির শূণ্যস্থান পূর্ণ হতে যে পরিমাণ সময় লেগেছে আপনার শূণ্যতাও সেই পরিমাণই থাকবে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
- আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কখনোই কাজে লাগাই না। যদিও আমাদের কর্মক্ষমতা সীমিত, আমরা এই সীমিত ক্ষমতাকেই কাজে রূপ দেই না।&lt;br /&gt;
- আপনি নেতৃত্বে না আসলে পরিবর্তন কখনোই সম্ভব না। যদি অন্য মানুষকে অনুসরণ করে চলেন তবে আপনার পক্ষে সর্বোচ্চ অন্য কারও মত হওয়া সম্ভব। এর চেয়ে বেশি কিংবা এর চেয়ে ভিন্ন হওয়া সম্ভব না।&lt;br /&gt;
- দুই কারনে মানুষ ব্যথা পায়। এক, নিয়ম মেনে চলতে গেলে মানুষ ব্যথা পায়। দুই, নিজের ভুলের জন্য কিংবা অনিয়মের জন্য মানুষ ব্যথা পায়। মনে রাখবেন, নিয়ম মেনে চললে আপনি হয়তো এক আউন্স পরিমাণ ব্যথা পাবেন আর নিয়ম মেনে না চললে আপনি এক টন পরিমাণ ব্যথা পাবেন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন, &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/01/To-be-a-Successfull-Entrepreneur-Remember-14-Things.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে খেয়াল রাখুন ১৪ বিষয় &lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
- স্থূলকায়, মাতাল ও নির্বোধ লোক জীবনে কিছুই করতে পারে না।&lt;br /&gt;
- ভীরু কাপুরুষ মরে হাজার হাজার বার, কিন্তু সাহসী বীর মরে মাত্র একবার।&lt;br /&gt;
- আজকের ব্যথাই আগামীদিনের শক্তি। আজকে যত বেশি ব্যথা পাবেন আগামীকাল তত বেশি শক্তিশালী হবেন।&lt;br /&gt;
- ভয়কে জয় করতে পারার নামই সাহসিকতা।&amp;nbsp;&amp;nbsp; হয় কাজটি করুন, না হয় কাজটি ছেড়ে দিন। চেষ্টা করছি কখনোই বলা যাবে না।&lt;br /&gt;
- সময় হবে তারপর কাজ করবেন এমনটা কখনোই করা যাবে না। বার বার কাজ করার পর একদিন হয়তো সাফল্যের সেই কাংক্ষিত সময় আপনার কাছে ধরা দিবে।&lt;br /&gt;
- বিরক্তিভাব হচ্ছে বিষপানের মত, যা একদিন আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবে।&lt;br /&gt;
- জনহীন পতিত জমির মত সামনে বিশাল পথ। এ পথ পাড়ি দিতে হবে একা।&lt;br /&gt;
- অধ্যবসায়ি কোন দিন ব্যর্থ হয় না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : নিউজনেট&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/9105374250572208826'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/9105374250572208826'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/01/To-be-a-Successfull-Entrepreneur-Remember-14-Things.html' title='সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে খেয়াল রাখুন ১৪ বিষয়'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh-6F2cr1heCceBbCbgXeyek_VXKmXDvh26Ke4sdhssb2vrdi0jzEbcOVBkLdYxB0ZD9HxNQAWxvj7jZ1Hxee0fLyGzcIbLBtVoqyXN27BQXLE3Nvkto31u2zDDV2TONpdsGj0uqJT3Blc/s72-c/Successful+Entrepreneur.jpg" height="72" width="72"/></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-649342929063926192.post-7684713667847718674</id><published>2014-01-30T21:53:00.000-08:00</published><updated>2014-01-30T21:53:23.975-08:00</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা উন্নয়ণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="উদ্যোগ"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="প্রতিবেদন"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ব্যবসা বানিজ্য"/><title type='text'>যে পাঁচ বিষয় কখনোই অনলাইনে প্রকাশ করবেন না</title><content type='html'>&lt;div dir=&quot;ltr&quot; style=&quot;text-align: left;&quot; trbidi=&quot;on&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;
&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgFgS6U_BCoIp-Yhnj1RQC2FzJMnVXQMxPFM_R-xrKg-jJ1YhzqDqecOAgoO6Di-xIiwEpYEMaf_H5TzwM4M9QqYHrhpDPBYe1wSbVeJ8B2nNyUsADDdFgaASVNt0qwESh3s2Nd2cF2loM/s1600/Dont+Share+Online.jpg&quot; imageanchor=&quot;1&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img border=&quot;0&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgFgS6U_BCoIp-Yhnj1RQC2FzJMnVXQMxPFM_R-xrKg-jJ1YhzqDqecOAgoO6Di-xIiwEpYEMaf_H5TzwM4M9QqYHrhpDPBYe1wSbVeJ8B2nNyUsADDdFgaASVNt0qwESh3s2Nd2cF2loM/s1600/Dont+Share+Online.jpg&quot; height=&quot;211&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;
&lt;br /&gt;
অনলাইনে কোনোকিছু প্রকাশ করার পর তা কখনোই মুছে ফেলা যায় না। এমনকি তার ওপর আর পোস্টদাতার নিয়ন্ত্রণও থাকে না। আপনি অনলাইনে থাকতে ভালোবাসেন তার মানে এই নয় যে, আপনার সবকিছু ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। টাইমস অফ ইন্ডিয়া অনুসরণে পাঁচটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা হল। আপনার অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি যতই নিশ্চিদ্র হোক, যত বাছাই করা অনলাইন বন্ধু থাকুক না কেন, ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে এ লেখায় দেয়া কয়েকটা বিষয় কখনোই অনলাইনে প্রকাশ করবেন না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;১. অন্তরঙ্গ ফটো ও ভিডিও&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
আপনার বর্তমান সময়ে সঙ্গীর সঙ্গে দারুণ উত্তেজনায় যদি কোনো অন্তরঙ্গ ভিডিও বা ছবি অনলাইনে পোস্ট করেন তা শীঘ্রই আপনাকে ভোগানো শুরু করবে। অনলাইনের কোনোকিছু সম্পূর্ণ ডিলিট করা যায় না। যে মুহূর্ত আপনি কলিগ, বস, ভাইবোন বা পিতামাতাকে দেখাতে চান না, সেগুলো কখনোই ইন্টারনেটে দিবেন না।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;২. ফোন নম্বর ও বিস্তারিত ঠিকানা&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
অনলাইন বন্ধুদের খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করলেও এ ঝুঁকিটি নিতে যাবেন না কখনোই। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরল হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। ঠিক একইভাবে অনলাইনে কোনো ভুয়া প্রতিষ্ঠানের লাকি ড্রয়ের জন্য ফর্ম ফিলাপ এড়িয়ে চলবেন। ভুয়া লাকি ড্র আপনাকে আনলাকি করে দিতে পারে।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৩. কাউকে আক্রমণ করবেন না&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
আপনার যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা করাই ভালো। অনলাইন ব্যবহার করে কাউকে সরাসরি কোনো আক্রমণ করা উচিত নয়। কারণ তারা আপনাকে অনলাইন থেকে খুঁজে বের করতে পারবে সহজেই।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
আপনারা পড়ছেন,&amp;nbsp; &lt;a href=&quot;http://imahedihasan.blogspot.com/2014/01/Things-Avoid-to-Share-Online.html&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;&lt;i&gt;&lt;b&gt;যে পাঁচ বিষয় কখনোই অনলাইনে প্রকাশ করবেন না&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
আপনার বিল যদি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাংকের বা বিল গ্রহণকারীর নিজস্ব ওয়েবসাইটে করা যেতে পারে। কিন্তু কখনোই আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর, এটিএম কার্ডের বিস্তারিত, পিন নম্বর কিংবা এ ধরনের কোনো তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করবেন না। কেউ এ ধরনের তথ্য চাইলে তাকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখুন।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
&lt;b&gt;৫. প্রতি মুহূর্তের বিস্তারিত&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;
আপনার দৈনন্দিন অনুভূতি, ভালোলাগা, খারাপলাগা, হাস্যরস ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করায় কোনো বাধা নেই। কিন্তু যদি ওমুক দোকানে কেনাকাটা করতে গেলাম, চায়ের দোকানে বসলাম ইত্যাদি প্রতি মুহূর্তের বিস্তারিত প্রকাশ শুরু করেন তাহলে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ কারণে প্রতি মুহূর্তের বিস্তারিত অনলাইনে প্রকাশ করা অনুচিত।&lt;br /&gt;
&lt;br /&gt;
সূত্র : অলশেয়ারনিউজ&lt;/div&gt;
</content><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/7684713667847718674'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/649342929063926192/posts/default/7684713667847718674'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://imahedihasan.blogspot.com/2014/01/Things-Avoid-to-Share-Online.html' title='যে পাঁচ বিষয় কখনোই অনলাইনে প্রকাশ করবেন না'/><author><name>Admin</name><uri>http://www.blogger.com/profile/16977575964351358187</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgFgS6U_BCoIp-Yhnj1RQC2FzJMnVXQMxPFM_R-xrKg-jJ1YhzqDqecOAgoO6Di-xIiwEpYEMaf_H5TzwM4M9QqYHrhpDPBYe1wSbVeJ8B2nNyUsADDdFgaASVNt0qwESh3s2Nd2cF2loM/s72-c/Dont+Share+Online.jpg" height="72" width="72"/></entry></feed>