<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:blogger='http://schemas.google.com/blogger/2008' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd="http://schemas.google.com/g/2005" xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-7221434730492019409</id><updated>2026-06-11T17:56:34.001+05:30</updated><category term="আলোচনা"/><category term="আর্য"/><category term="vaidic science"/><category term="ঋগ্বেদ"/><category term="যজুর্বেদ"/><category term="বই"/><category term="শঙ্কা সমাধান"/><category term="বই(religion)"/><category term="অথর্ববেদ"/><category term="শ্রীমদ্ভগবতগীতা"/><category term="মনুস্মৃতি"/><category term="ইসলাম"/><category term="উপনিষদ"/><category term="বিজ্ঞানরহস্য"/><category term="বেদ"/><category term="দর্শন"/><category term="বেদের মিথ্যাচার"/><category term="ইসলামে বর্বরতা ও হিংসা"/><category term="পুরাণ"/><category term="আত্মচরিত"/><category term="ইতিহাস"/><category term="সামবেদ"/><category term="বৈদিক"/><category term="ভাঁওতাবাজি"/><category term="ঈশ্বর"/><category term="প্রথাগত ধান্দাবাজি"/><category term="আয়ুর্বেদ"/><category term="মূর্তি পূজা"/><category term="হিন্দু"/><category term="ধর্ম্ম"/><category term="মুহাম্মদ"/><category term="কৃষ্ণ চরিত্র"/><category term="কোরান"/><category term="লেখক ও রচনাবলী"/><category term="महेन्द्रपाल आर्य"/><category term="কৃষ্ণ vs ঈশ্বর"/><category term="ব্রাহ্মণ গ্রন্থ"/><category term="বৈষ্ণব"/><category term="খ্রিস্ট মত"/><category term="জিহাদ"/><category term="ইসকন"/><category term="জাকির নায়েক ও মিথ্যাচার"/><category term="বাইবেল"/><category term="বৌদ্ধধর্ম"/><category term="মন্ত্র"/><category term="নাস্তিকতা"/><category term="নীতিকথা"/><category term="আধ্যাত্মবাদ"/><category term="কোরআনে বৈপরীত্য"/><title type='text'>ধর্ম্মতত্ত্ব</title><subtitle type='html'>ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default?max-results=3&amp;redirect=false'/><link rel='alternate' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><link rel='next' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default?start-index=4&amp;max-results=3&amp;redirect=false'/><author><name>Unknown</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>2137</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>3</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7221434730492019409.post-63460450017884042</id><published>2026-06-09T18:34:15.528+05:30</published><updated>2026-06-09T21:15:54.322+05:30</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="vaidic science"/><title type='text'>ঈশ্বরের প্রথম উপদেশ কোনটি ও কেন ?</title><content type='html'>&lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEitaxGqecve7dtdEoxB7uZtRMLFJq5op9tkDzoZ6iJaWeERmPh9DNBylAUSBBrm3ijUfckAMMsY3zqLZX_BTgIweoqNg4qwVmu_Nuf32ONUroKcG6h3bdpTeaZoZubAxTxORWXG6HtNLWb8O06aiZhcsrL2ACxpl7NQxUEM24qOkDJDTy8eTlHK65TU6KpE&quot; style=&quot;margin-left: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img alt=&quot;ঈশ্বরের প্রথম উপদেশ কোনটি ও কেন ?&quot; data-original-height=&quot;285&quot; data-original-width=&quot;637&quot; height=&quot;143&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEitaxGqecve7dtdEoxB7uZtRMLFJq5op9tkDzoZ6iJaWeERmPh9DNBylAUSBBrm3ijUfckAMMsY3zqLZX_BTgIweoqNg4qwVmu_Nuf32ONUroKcG6h3bdpTeaZoZubAxTxORWXG6HtNLWb8O06aiZhcsrL2ACxpl7NQxUEM24qOkDJDTy8eTlHK65TU6KpE=w320-h143&quot; title=&quot;ঈশ্বরের প্রথম উপদেশ কোনটি ও কেন ?&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;যারা সৃষ্টিকে বিচার না করে কেবল আস্থা, বিশ্বাস বা ঐতিহ্যের নামে ঈশ্বরের পূজা করে, তারা মানবজাতিকে অন্ধবিশ্বাসের গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয় আর যারা বিচার না করে অহংকারের বশবর্তী হয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, তারা মানুষকে লাগামহীন ভোগবাদী বানিয়ে পশুর চেয়েও অধম করে তোলে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অন্যদিকে, আমাদের বৈদিক বিজ্ঞান উভয়কেই সত্যের পথে এনে মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। বৈদিক বিজ্ঞান আধুনিক বিজ্ঞানের বিরোধী নয়, বরং এটি হল আধুনিক বিজ্ঞানের বাস্তব ও অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করতে সহায়ক।&quot;- আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক&lt;/p&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;b&gt;সম্পাদকীয়&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;পৃথিবীর অনেক সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মগ্রন্থগুলোকে ঈশ্বরের বাণী বলে দাবি করে এবং মানবজাতিকে সেই অনুযায়ী পরিচালনা করার যথাসম্ভব চেষ্টা করে। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের ধর্মগ্রন্থ কেবল সেটিই হতে পারে, যার মধ্যে সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞান-বিজ্ঞান আছে, যার মাধ্যমে মানুষসহ সকল প্রাণী সুখে বসবাস করতে পারে এবং যার বাইরে অন্য কোনো জ্ঞানের প্রয়োজন থাকে না। এমন জ্ঞান কেবল তিনিই দিতে পারেন, যিনি আমাদের সকলকে সৃষ্টি করেছেন, এই সৃষ্টির রচনা করেছেন এবং যিনি এর সঞ্চালক ও প্রলয়কর্তাও বটে। বেদ ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থ কি এই কষ্টিপাথরে উত্তীর্ণ হয়? না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বেদ কী? পূজ্য আচার্যশ্রী কর্তৃক প্রতিপাদিত &#39;বৈদিক রশ্মি সিদ্ধান্ত&#39; অনুযায়ী সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড (সূক্ষ্ম কণা থেকে শুরু করে বিশাল নক্ষত্র পর্যন্ত) বেদের মন্ত্রের ঋচাগুলো দ্বারা নির্মিত এবং এটিই আমাদের প্রাচীন ঋষি-মুনিদের অভিমত ছিল। এই মন্ত্রগুলো বাণীর পশ্যন্তী অবস্থায় সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডে বিদ্যমান আছে। যখন মানব সৃষ্টি শুরু হয়, তখন চার ঋষি (অগ্নি, বায়ু, আদিত্য ও অঙ্গিরা) এই তরঙ্গগুলোকে ব্রহ্মাণ্ড থেকে সরাসরি নিজেদের মনে গ্রহণ করেন। এতে পরমপিতা পরমাত্মার প্রেরণা অনিবার্যভাবে থাকে, অথবা এভাবে বলা যায় যে পরমাত্মা এই চার ঋষির মাধ্যমে মানুষকে জ্ঞান প্রদান করেন। এই ক্রমে সর্বপ্রথম জ্ঞান তরঙ্গরূপে অগ্নি ঋষি যেটি প্রাপ্ত করেছিলেন, সেটি হল&lt;/p&gt;&lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;b&gt;অ॒গ্নিমী॑ळे পু॒রোহি॑তং য॒জ্ঞস্য॑ দে॒বমৃ॒ত্বিজ॑ম্।&amp;nbsp;&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;b&gt;হোতা॑রং রত্ন॒ধাত॑মম্॥&lt;/b&gt; (ঋগ্বেদ ১।১।১)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই মন্ত্রটি হল সমগ্র বেদ অর্থাৎ সৃষ্টি বিজ্ঞান, লোকব্যবহার এবং আধ্যাত্ম বিজ্ঞানের ভূমিকা স্বরূপ। এতে ঈশ্বর প্রথম প্রজন্মের মানুষদের জন্য উপদেশ দিয়েছেন যে, সর্বপ্রথম তাঁদের কী করা উচিত এবং কেমন রাজা বা গুরু করা উচিত এবং কেন নিজেকে জানা প্রয়োজন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একটি বেদ মন্ত্রের ব্যাখ্যা কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা পাঠকরা এই পুস্তকে দেখতে পাবেন। যদিও এই ব্যাখ্যাটিও সংক্ষিপ্তই, কারণ বেদে অনন্ত জ্ঞান আছে। এই কারণেই দেবরাজ ইন্দ্র বলেছিলেন- অনন্তা বৈ বেদাঃ; এই পুস্তকে আপনি একটি বেদ মন্ত্রেরই তিন ধরণের ভাষ্য (আধিদৈবিক, আধিভৌতিক এবং আধ্যাত্মিক) পড়তে পারবেন। বেদ ভাষ্যের যে শৈলীটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, আচার্য শ্রী তাকে পুনর্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই পুস্তকটি আচার্যশ্রীর প্রবচনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আমার সহধর্মিণী শ্রীমতী মধুলিকা আর্যা সংকলন করেছেন এবং ভাষাগতভাবেও একে অনেক মার্জিত করেছেন। এই পুস্তকটির ইক্ষ্যবাচনেও তাঁর অনেক বড় অবদান আছে। এই পুস্তকটিতে &#39;অগ্নিমীঠ পুরোহিতম্...&#39; মন্ত্রের ত্রিবিধ ভাষ্য করা হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গ্রন্থসমূহের প্রথম-প্রথম বাক্যগুলির নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করার পর, বেদ সম্পর্কে বিদেশী বিচারকদের মতামতও উদ্ধৃত করা হয়েছে। এর পরে এই মন্ত্রের বিস্তৃত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পুস্তকের শেষে প্রবুদ্ধ শ্রোতাদের অনেক শঙ্কার সমাধান করা হয়েছে। পাঠকদেরও এই ধরণের কিছু শঙ্কা হতে পারে, তাই এই অধ্যায়টিও অপরিহার্য রূপে পঠনীয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পাঠকদের কাছে বিনীত নিবেদন যে, তারা যেন এই পুস্তকটি সমস্ত পূর্বগ্রহ থেকে মুক্ত হয়ে সমাপ্তি পর্যন্ত পড়ার প্রয়াস করেন। তারপর তারা নিরপেক্ষ হৃদয়ে বিচার করবেন যে কোনটি সঠিক। যদি তাদের আত্মা এতে বলা কথাগুলোকে স্বীকার করে, তবে ঈশ্বরের এই প্রথম উপদেশ দ্বারা নিজের জীবনকে অগ্নিরূপ বানানোর প্রয়াস করবেন।- বিশাল আর্য&lt;span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;a name=&#39;more&#39;&gt;&lt;/a&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p style=&quot;text-align: center;&quot;&gt;&lt;b&gt;ভূমিকা&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চারটি বেদ একই সময়ে চারজন ঋষির অন্তঃকরণে সমাধি অবস্থায় প্রকাশিত হয়েছিল অর্থাৎ, সেই ঋষিরা সমাধি অবস্থায় ব্রহ্মাণ্ড থেকে বেদমন্ত্র রূপী ছন্দ-রশ্মিগুলোকে তাঁদের য়োগস্থ মনের দ্বারা চয়ন করে গ্রহণ করেছিলেন। সেই ছন্দ-রশ্মিগুলোর পদসমূহের অর্থ এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত পদার্থের জ্ঞান ঈশ্বর তাঁদেরকে একই সাথে প্রদান করেছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;চারটি বেদের মধ্যে ঋগ্বেদ হল সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ। এতে সৃষ্টির বিভিন্ন পদার্থের গুণ, কর্ম ও স্বভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চারটি বেদের প্রথম মন্ত্রগুলোর রচনাকে দেখে আমার অভিমত হল, যদিও চারটি বেদ হল সমকালীন, তবুও বেদমন্ত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্ভবত ঋগ্বেদ থেকেই শুরু হয়েছিল, যদিও এগুলোর সমাপ্তি একসাথেই হয়েছিল। তাছাড়াও মনুস্মৃতি আদি শাস্ত্রগুলোতে গায়ত্রী মন্ত্র (সাবিত্রী মন্ত্র)-কে ব্যাহৃতিসহ উচ্চারণ করার মহিমাকে সর্বোপারি স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্য অনেক শাস্ত্রের মধ্যেও এই মন্ত্রের মহিমা বর্ণিত আছে। এর সমান মহিমা অন্য কোনো মন্ত্রের কোথাও শোনা ও পড়া যায় না। মহর্ষি দয়ানন্দের মহান গুরু দণ্ডী স্বামী বিরজানন্দ সরস্বতী ঘন্টার পর ঘন্টা এই মন্ত্র জপ করতেন। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী জীর কাছে &#39;বিশ্বানি দেব সবিত...&#39; এই মন্ত্রটি প্রিয় ছিল, কিন্তু জপের জন্য তিনিও গায়ত্রী মন্ত্রকেই প্রাধান্য দিতেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখানে প্রশ্ন জাগে যে, ঋগ্বেদের প্রথম মন্ত্রে এমন কী বিশেষত্ব আছে যে এই মন্ত্রটিই সবার আগে আবির্ভূত হল? যদি এই মন্ত্রটি বিশেষ হয়, তবে এর অর্থ কী?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আসুন, আমরা পৃথিবীতে মানব উৎপত্তির সময়ের পরিস্থিতির ওপর কিছু স্কুল বিচার করি। মানুষের প্রথম প্রজন্ম এখনই ভূমি থেকে যুবাবস্থায় আবির্ভূত হয়েছে। এর পূর্বে সম্পূর্ণ পৃথিবী জলচর, নভচর, থলচর সকল প্রাণী, বনস্পতি, ফুল ও ফলের সাথে অত্যন্ত শুদ্ধ বায়ুমণ্ডল, নদী ও সরোবরে অত্যন্ত পবিত্র জল আদিতে পূর্ণ ছিল। ভূমি-আকাশ সবকিছু ছিল পূর্ণ শুদ্ধ, সর্বত্র অক্সিজেনের ভরপুর মাত্রা, ফল ও মূলের প্রচুর পৌষ্টিকতা- এই ছিল সেই সময়ের পৃথিবীর পরিবেশ। সবকিছু পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সকল প্রাণী ও বনস্পতি ছিল পূর্ণ নিরোগ, বিশালকায় ও বলবান।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেই সময়ের প্রথম প্রজন্ম যদিও নৈমিত্তিক জ্ঞানহীন ছিল, তবুও তাঁরা বর্তমানের জন্মানো শিশুদের তুলনায় অথবা জন্মানোর পর যুবাবস্থা পর্যন্ত একান্তে রাখা কোনো যুবকের তুলনায় অনেক বেশি পবিত্র ছিল। এই কারণে তাঁদের বুদ্ধি ছিল খুব সূক্ষ্ম ও গম্ভীর। তবুও তাঁদের নৈমিত্তিক জ্ঞানের পরম আবশ্যকতা ছিল, কিন্তু পশু-পাখি ছাড়া এমন কোনো প্রাণী ছিল না, যার কাছ থেকে প্রথম প্রজন্মের মানুষ কোনো জ্ঞান লাভ করতে পারতো এবং পশু-পাখিদের থেকে তাঁদের জ্ঞান নেওয়ার কোনো প্রয়োজনও ছিল না, কারণ তাঁরা তাদের তুলনায় জ্ঞানের দিক থেকে অনেক উন্নত হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নটি স্বাভাবিক যে, সর্বপ্রথমে কোন ছন্দ রশ্মি গ্রহণ করা হয়েছিল এবং নৈমিত্তিক জ্ঞানের উৎস পরমাত্মা সেই মন্ত্রের কী অর্থ বুঝিয়েছিলেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর মন্ত্রের ভাষ্য থেকেই পাওয়া সম্ভব হবে।&lt;span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;!--more--&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আসুন, মন্ত্রটি নিয়ে আলোচনা করি-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ঋষি, দেবতা ও ছন্দ&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই মন্ত্রের ঋষি হলেন মধুচ্ছন্দা। [মধু প্রাণই মধু (শ.6.4.3.2), মধু ধমতেবিপরীতস্য (নি.10.31), ছন্দ ধমতি অর্চতিকর্মা (নিঘ.3.14), গতিকর্মা (নিঘ.2.14), বধকর্মা (নিঘ.2.19)]&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর অর্থ হল, এই ছন্দ রশ্মি এমন এক বিশেষ প্রাণ রশ্মি, যা আলোকোজ্জ্বল হয়ে বিচরণ করে এবং যেকোনো বাধক পদার্থকে ধ্বংস করে; এটি প্রাণ নামক প্রাণ রশ্মি দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে উৎপন্ন হয়। এর দেবতা হল অগ্নি এবং ছন্দ হল গায়ত্রী। এই কারণে এর দৈবত ও ছান্দস প্রভাবে অগ্নি তত্ত্ব তেজস্বী ও বলবান হয়। এখানে অগ্নি তত্ত্বের মাধ্যমে অনেক পদার্থের বোধ হয়, এটি জেনে রাখা উচিত, সে বিষয়ে আমি ভাষ্যে আলোচনা করবো, কারণ মন্ত্রের মধ্যেও অগ্নি পদ বিদ্যমান আছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আমি এই মন্ত্রের দুই প্রকার ভাষ্য প্রদর্শন করবো, যার মধ্যে সর্বপ্রথমে আধিদৈবিক ভাষ্য করবো। কারণ এই ভাষ্য যেকোনো মন্ত্ররূপ ছন্দ রশ্মির এই সৃষ্টিতে হতে থাকা তার প্রভাব এবং সৃষ্টির পদার্থসমূহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;আধিদৈবিক ভাষ্য&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(য়জ্ঞস্য) [য়জ্ঞম্ = ক্রিয়াকাণ্ডজন্যম্ সংসারম্ (ম. দ. য়. ভা. 2.21), সংগতঃ সংসারঃ (ম. দ. ঋ. ভা. 1.18.7)] &#39;য়জ্ঞ&#39; শব্দটি &#39;য়জ দেবপূজাসঙ্গতিকরণদানেষু&#39; ধাতু থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে অর্থাৎ যার মধ্যে বিভিন্ন দেব পদার্থের পূজা অর্থাৎ সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার, পারস্পরিক সঙ্গতিকরণ এবং সেগুলোর গ্রহণ ও বিসর্জন আদি কর্ম সম্পাদিত হয়, তাকেই যজ্ঞ বলা হয়। এই সৃষ্টিতে সর্বত্র এমনই ঘটছে। এই কারণে এই সম্পূর্ণ সৃষ্টি হল যজ্ঞস্বরূপ, যা ঋষি দয়ানন্দের এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে স্পষ্ট। সেই এমন সৃষ্টি-যজ্ঞের মুখ্য সাধক পদার্থ এই সেই প্রথম শব্দ, যা মানুষের মস্তিষ্কে সর্বপ্রথম উদিত হয়েছিল। এই পদের বিষয়ে ঋষিদের বক্তব্য হল-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(অগ্নিম্) [অগ্নিঃ অগ্নিঃ কস্মাদগ্রণীর্ভবতি। অগ্রম্ য়জ্ঞেষু প্রণীয়তে। অঙ্গম্ নয়তি সম্মমমানঃ। (নি. 7.14), অগ্নির্বৈ দেবানাম্ বসিষ্ঠঃ (ঐ. 1.28), অগ্নির্বৈ দেবানাম্ মুখম্ প্রজনয়িতা স প্রজাপতিঃ (শ. 3.9.1.6), অগ্নিরেব ব্রহ্মা (শ.10.4.1.5), বাগেবাগ্নিঃ (শ.3.2.2.13), মন এবাগ্নিঃ (শ.10.1.2.3), আত্মৈবাগ্নিঃ (শ.6.7.1.20)] এই বচনগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এটি সেই পদার্থ, সৃষ্টি রচনায় যার সর্বপ্রথম প্রয়োজন হয়। সৃষ্টি নির্মাণের বিভিন্ন স্তরে &#39;অগ্নি&#39; পদের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হয়, কারণ ভিন্ন ভিন্ন স্তরে প্রাথমিক উপাদান ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই যখন মূল উপাদান কারণ প্রকৃতিই কেবল বিদ্যমান থাকে, সেই সময় &#39;অগ্নি&#39;র অর্থ বাক্ তত্ত্ব অর্থাৎ পরা &#39;ওম&#39; রশ্মি বলে মানা উচিত, কারণ এই রশ্মিই প্রকৃতিতে প্রাথমিক স্পন্দন উৎপন্ন করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দ্বিতীয় চরণে &#39;অগ্নি&#39;র অর্থ মনস্তত্ত্ব (মহৎ) বলে মানা উচিত, কারণ এটিই হল সৃষ্টির সর্বপ্রথম পদার্থ, যাকে ছাড়া পরবর্তী সৃষ্টি অসম্ভব।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তৃতীয় চরণে &#39;অগ্নি&#39; পদের অর্থ হল আত্মা অর্থাৎ সূত্রাত্মা বায়ু, যা পদার্থকে ঘনীভূত করতে শুরু করে। &#39;অগ্নি&#39; পদের চতুর্থ অর্থ হল- &#39;প্রাণ&#39;, যার প্রাণাপান আদি দশটি ভেদ আছে। &#39;অগ্নি&#39;র পঞ্চম অর্থ হল ব্রহ্ম এবং এখানে &#39;ব্রহ্ম&#39; শব্দের অর্থ হল বল (শক্তি), যেমনটি মহর্ষি তিত্তিরি বলেছেন- বলম্ বৈ ব্রহ্মা (তৈ.ব্রা. 3.8.5.2), বল হল সেই গুণ, যা সৃষ্টি রচনার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন হয়। &#39;ওম্&#39; রশ্মি উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথেই বল গুণ উৎপন্ন হয়ে যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই সমস্ত পদার্থ সকল দেব পদার্থকে বসাতে এবং উৎপন্ন করতে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়, তাই অগ্নিকে দেবতাদের বসিষ্ঠ বলা হয়েছে। এই পদার্থগুলোই বিভিন্ন দেব পদার্থের মূল রূপও হয়, কারণ সকল প্রকার দেব পদার্থ ছন্দ, কণা, বিকিরণ, আকাশ আদি এই পদার্থগুলো থেকেই উর্জা লাভ করে এবং এইগুলোই সবাইকে উৎপন্ন, সঞ্চালিত ও সংরক্ষিত করে। এই পদার্থগুলো থেকে স্কুল অগ্নির আরও দুটি পদার্থ আছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথম অর্থাৎ পঞ্চম অর্থ হল &#39;বিদ্যুৎ&#39;, যার উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথে সমস্ত কণা-বিকিরণ আদি উৎপন্ন হতে শুরু করে। বিদ্যুতের উৎপত্তি হওয়া ছাড়া এদের উৎপত্তি সম্ভব নয়। যদিও আমি বলকে পঞ্চম পদার্থ হিসেবে লিখেছি, কিন্তু বল দ্রব্য না হয়ে গুণ হয়, এই কারণে তাকে পৃথক বিবেচনা করে বিদ্যুৎকে পঞ্চম পদার্থ হিসেবে লেখা হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দ্বিতীয় অর্থাৎ ষষ্ঠ অর্থ হল- &#39;উষ্মা&#39; (তাপ), এর উৎপত্তি ছাড়া সৃষ্টিতে কোনো পদার্থই নির্মিত হতে পারে না। এখানে ছন্দ ও রশ্মির আলোচনা এই কারণে করা হয়নি, কারণ এদের গ্রহণ বাক্ তত্ত্ব থেকেই হয়ে যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এইভাবে এই ছয়টি পদার্থ রূপী অগ্নি তত্ত্ব, যার বিশেষণগুলোর আলোচনা এই মন্ত্রে ক্রমশ নিম্নলিখিতভাবে করা হয়েছে-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;1. পুরোহিতম্ - [পুরোহিতঃ য়ঃ পুরস্তাত্ সর্বম্ জগদ্ দধাতি, ছেদন ধারণাऽऽকর্ষণা দিগুণীশ্চাপি তম্ (অগ্নিম্ পরমেশ্বরম্ ভৌতিকম্ বা), পুরোহিতঃ পুর এনম্ দধতি (নি.2.12), প্রথমঃ পুরোহিতমিতি পুর এব বা এনমেতদ্ দধতে। য়দগ্নিমাদধতে। (জৈ.3.63)] অর্থাৎ যে পদার্থকে অন্য পদার্থ সম্মুখে ধারণ করে বিভিন্ন প্রকারের বল প্রাপ্ত করে, সেই পদার্থগুলোকে পুরোহিত বলে। অগ্নি নামক উপরোক্ত সব পদার্থ কেন পুরোহিত নামে পরিচিত হয়? এ বিষয়ে আমরা ক্রমানুসারে বিচার করবো -(ক) বাক্ তত্ত্ব - সৃষ্টির সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর পদার্থ, তা কোনো রশ্মি হোক অথবা কোনো তরঙ্গ&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আদি, সেগুলো যখন নিজেদের সম্মুখে অথবা নিজেদের সাথে &#39;ওম&#39; রশ্মিকে ধারণ করে, তখনই সেগুলো সৃষ্টির সূক্ষ্মতম বল প্রাপ্ত করে অগ্রিম য়জন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। স্থূল পদার্থ, যা স্বয়ং রশ্মি আদি সূক্ষ্ম পদার্থ দিয়ে গঠিত হয়, সেগুলো নিজেদের অবয়বভূত সূক্ষ্ম রশ্মিগুলোর মাধ্যমে সূক্ষ্মতম &#39;ওম&#39; রশ্মিকে ধারণ করেই বিভিন্ন প্রকার বল প্রাপ্ত করতে পারে, অন্যথায় সৃষ্টিতে কোনো বল উৎপন্নই হতে পারবে না। মহর্ষি দয়ানন্দ বেদ ভাষ্যে &#39;পুরোহিত&#39; পদ থেকে আটটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন রূপ, দাহ, প্রকাশ, বেগ, ছেদন, ধারণ এবং আকর্ষণ আদি। এখানে &#39;আদি&#39; শব্দ থেকে বিকর্ষণ গুণকে গ্রহণ করা উচিত। এই আটটি গুণের মধ্যে একটি গুণও ততক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে না, যতক্ষণ না কোনো পদার্থ &#39;ওম&#39; রশ্মিযুক্ত হচ্ছে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রত্যেক পদার্থের ভেতরে &#39;ওম&#39; রশ্মি ব্যাপ্ত থাকে, এরপরও যতক্ষণ না সেই পদার্থ অন্য পদার্থের &#39;ওম&#39; রশ্মিকে নিজের সাথে ধারণ করার সুযোগ পাবে, ততক্ষণ তাদের মিলন সম্ভব হবে না অর্থাৎ ততক্ষণ কোনো বল উৎপন্ন হবে না। এই কারণে বাক্ রূপ অগ্নিকে এখানে পুরোহিত বলা হয়েছে। অন্য ছন্দ রশ্মিগুলোর বিষয়েও একইভাবে পুরোহিত গুণের সম্বন্ধ বুঝতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(খ) মন - এই সৃষ্টিতে পরা &#39;ওম&#39; রশ্মি ব্যতীত অন্য সব রশ্মিগুলো মনস্তত্ত্ববের মধ্যেই উৎপন্ন হয়। মনস্তত্বের মধ্যে রশ্মিগুলো ঠিক সেভাবেই উৎপন্ন বা স্পন্দিত হয়, যেভাবে জলে ঢেউ উৎপন্ন হয়। এই কারণে বাক্ রশ্মির সকল কার্যই আসলে মনস্তত্বের কার্য হয়। এজন্যই মহর্ষি জৈমিনিকে বলতে হয়েছে &#39;বাগিতি মনঃ&#39; (জৈ.উ. 4.11.1.11) এবং মহর্ষি ঐতরেয় মহীদাস বলেছেন- &#39;বাক্ চ বৈ মনশ্চ দেবানাম্ মিথুনম্&#39; (ঐ. 5.23), এইভাবে বাক্ তত্ত্ব মনস্তত্ব ছাড়া উৎপন্ন হতেই পারে না, তাই মনস্তত্ব রূপ অগ্নিকেও &#39;পুরোহিত&#39; রূপ বলা হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(গ) আত্মা (সূত্রাত্মা বায়ু)- এই সৃষ্টিতে যেখানেই দুটি রশ্মির সংযোগ ঘটে, সেখানে &#39;ওম্&#39; রশ্মির পর যদি কোনো রশ্মির সবচেয়ে প্রধান ও প্রাথমিক ভূমিকা থাকে, তবে তা হল সূত্রাত্মা বায়ু রশ্মি। এটি ছাড়া বলের কল্পনা করা সম্ভব নয়। যখন কোনো কণা, তরঙ্গ বা রশ্মি অন্য কোনো কণা, তরঙ্গ বা রশ্মির সাথে মিলিত হয়, তখন তাদের ভেতরে বিদ্যমান সূত্রাত্মা বায়ু সামনে উপস্থিত পদার্থের বাইরে বিদ্যমান সূত্রাত্মা বায়ু রশ্মির সাথেই সংযুক্ত হয়। &#39;পুরোহিত&#39; শব্দ দিয়ে অগ্নির যে আটটি গুণের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই সূত্রাত্মা বায়ু ছাড়া কখনো প্রকাশিত হতে পারে না। তাই সূত্রাত্মা বায়ু রূপ অগ্নিও পুরোহিত নামে পরিচিত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(ঘ) প্রাণ- দুটি পদার্থের সংযোগ ও বিয়োগের প্রক্রিয়ায় সূত্রাত্মা বায়ুর পরে যে পদার্থের স্থান হয়, তা হল প্রাণ তত্ত্ব অর্থাৎ প্রাণ, অপান, ব্যান, সমান, উদান, নাগ, কুর্ম, কৃকল, দেবদত্ত এবং ধনঞ্জয়েরই ভূমিকা থাকে। পূর্বোক্ত আটটি গুণের প্রত্যেকটির উৎপত্তিতে কোনো না কোনো প্রাণ রশ্মির উপস্থিতি অনিবার্য হয়। এই রশ্মিগুলো বিভিন্ন পদার্থের য়জন প্রক্রিয়ায় সর্বদা সেই পদার্থগুলোর সামনে উপস্থিত হয়ে সেই ক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(ঙ) বিদ্যুৎ- এই সৃষ্টিতে প্রত্যেক য়জন ক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিদ্যুতের অনিবার্য ভূমিকা আছে। সেই বিদ্যুৎ ধনাত্মক আবেশ, ঋণাত্মক আবেশ অথবা উদাসীন যেকোনো রূপেই হতে পারে। বৈদিক বিজ্ঞানে &#39;বিদ্যুৎ&#39; শব্দের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক, যা আধুনিক বিজ্ঞানে নেই। গুরুত্বাকর্ষণ বলও বিদ্যুতেরই একটি রূপ হয়। এইভাবে সকল পদার্থ বিদ্যুতের কোনো না কোনো রূপ অবশ্যই ধারণ করে থাকে। পূর্বোক্ত আটটি গুণের উৎপত্তিও বিদ্যুৎ ছাড়া সম্ভব নয়। এই কারণে এটিও একটি পুরোহিত রূপ হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(চ) উষ্মা (তাপ)- সকল পদার্থের সকল প্রকার ক্রিয়া তাপের উপস্থিতিতেই ঘটে থাকে, যদিও সেই তাপের পরিমাণ অনেক কম হতে পারে। অত্যন্ত শীতল প্রকৃতিতে কোনো ক্রিয়া বা বলের অস্তিত্ব সম্ভব নয় এবং এগুলো ছাড়া পূর্বোক্ত আটটি গুণের প্রকাশও সম্ভব নয়। এই কারণে উষ্মাকেও পুরোহিত বলা হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;2. দেবম্ - [ দেবম্ দেবো দানাদ্বা। দীপনাদ্ধা। দ্যোতনাদ্বা। দ্যুস্থানো ভবতীতি বা। য়ো দেবঃ সা দেবতা। (নি. 7.1.5)] অর্থাৎ, যে পদার্থ বল আদি দেয়, নিজে প্রকাশিত হয়ে অন্যকে প্রকাশিত করে এবং দ্যুস্থানে অবস্থান করে, তাকে দেব বলা হয়। এখানে &#39;দ্যু&#39; এর অর্থ [দ্যোঃ = বাগিতি দ্যোঃ (জৈ.উ. 4.22.11), দ্যৌরেবাত্মা (শ. 6.3.3.15), ঐন্দ্রী দ্যৌঃ (তাং, 15.4.8), আপো বৈ দ্যোঃ (শ. 6.4.1.9), প্রাণো বৈ দিবঃ (শ. 6.7.4.3)] প্রকরণ অনুযায়ী পৃথক-পৃথক হয়। যা অগ্নিবাচক সকল ছয়টি পদার্থের সাথে ঘটতে পারে। যেমন &#39;ওম্&#39; রশ্মি পরমাত্মার মধ্যে বিদ্যমান হয়। মনস্তত্ব &#39;ওম্&#39; রশ্মি এবং পরমাত্মার মধ্যে বিদ্যমান হয়। প্রাণ রশ্মিগুলোও সূত্রাত্মা বায়ুর মধ্যে বিদ্যমান হয়, সূত্রাত্মা বায়ু রশ্মি বাক্ অর্থাৎ &#39;ওম্&#39; রশ্মির মধ্যে বিদ্যমান হয়, বিদ্যুৎ প্রাণ রশ্মিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান হয় এবং উষ্মা (তাপ) বিদ্যুতের মধ্যে বিদ্যমান হয়। এই কারণে দেবরূপী অগ্নিকে দ্যুস্থানী বলা হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;3. ঋত্বিজম্ - [ঋত্বিক্ ঋত্বিক্ কস্মাৎ। ঈরণঃ। ঋগ্যষ্টা ভবতীতি শাকপূণিঃ। [ঋতুয়াজী ভবতীতি বা।] পূর্বোক্ত অগ্নিবাচী সকল ছয়টি পদার্থই ঋত্বিক্, এই কারণে বলা হয়, কারণ এরা পরবর্তী পর্যায়ের পদার্থগুলোকে প্রেরিতকারী হয়। এর পাশাপাশি, এই সকল পদার্থ সূক্ষ্ম থেকে বড় ছন্দ রশ্মিগুলোর য়জনকারী হয়। এই য়জন থেকেই সকল পদার্থ ক্রমশ উৎপন্ন হয়। এই সকল পদার্থ যথাসময়ে প্রকট হয়ে য়জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই কারণে সকল পদার্থকে ঋত্বিক বলা হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;= 4. হোতারম্ - [হোতা হোতারম্ হ্রাতারম্ (নি. 7.15), আত্মা বৈ যজ্ঞস্য হোতা (কৌ. 9.6), বাগ্নৈ হোতা (কৌ. 13.9.17.7), মনো হোতা (তৈ. ব্রা. 2.1.5.9) প্রাণো বৈ হোতা (ঐ. 6.8), ক্ষত্রম্ বৈ হোতা (ঐ. 6.21)]&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পূর্বোক্ত অগ্নিবাচী সকল পদার্থই হোতারূপ হয়, কারণ এই সকল পদার্থ অন্য পদার্থকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে। &#39;ওম&#39; রশ্মি, মনস্তত্ত্ব, সূত্রাত্মা বায়ু এবং প্রাণ রশ্মি- এরা সবাই আকর্ষণ গুণসম্পন্ন হয়। বিদ্যুৎ ও তাপও আকর্ষণ অথবা ভেদন কিংবা উভয় গুণসম্পন্ন হওয়ার কারণে ক্ষত্ররূপ বলে পরিচিত হয়। এই কারণেই সেগুলো হোতারূপও হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;5. রত্নধাতমম্ - [রত্নম্ রময়তি হর্ষয়তীতি রত্নম্ (উ. কো. 3.14), রত্নম্ ধননাম (নিঘ. 2.10)] অগ্নিবাচী পূর্বোক্ত সকল পদার্থ রত্নধাও বলা হয়, কারণ এই সকল পদার্থ নিজের থেকে সূক্ষ্ম অন্য পদার্থগুলোকে ধারণ করতে শ্রেষ্ঠ হয়। আমি এখানে পর্যায়ক্রমে এই বিষয়টি স্পষ্ট করছি-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(ক) &#39;ওম&#39; রশ্মি - এই রশ্মি সকল পদার্থকে উৎপন্ন ও তৃপ্ত করে এবং মূল উপাদান পদার্থ প্রকৃতিকে ধারণ করে, তাই একে রত্নধাতম বলা হয়। এরথেকে অধিক নিকট থেকে প্রকৃতিকে ধারণকারী অন্য কোনো পদার্থ এই সৃষ্টিতে নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(খ) মনস্তত্ত্ব- ওম্ রশ্মি যা সবার তৃপ্তিদায়ক হয়, সেগুলোকে ধারণকারীদের মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠতম হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(গ) সূত্রাত্মা বায়ু - এই রশ্মি সবার তৃপ্তিদায়ক &#39;ওম&#39; রশ্মি এবং মনস্তত্বকে ধারণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(ঘ) প্রাণ - পূর্বোক্ত তিনটি পদার্থ, যা আগামী পদার্থগুলোকে তৃপ্ত করে, তাদের ধারণকারীদের মধ্যে প্রাণ হল শ্রেষ্ঠতম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(ঙ) বিদ্যুৎ- পূর্বোক্ত সকল পদার্থ, যা নিজেদের থেকে স্থূল পদার্থগুলোকে তৃপ্ত করে, তাদের সবাইকে ধারণকারীদের মধ্যে বিদ্যুৎ হল শ্রেষ্ঠতম।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(চ) উষ্মা - উষ্মা যুক্ত পদার্থ এই পাঁচটি পদার্থকে ধারণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উল্লেখ্য যে, এখানে যে পদার্থগুলোকে তৃপ্তিকারী বলা হয়েছে, তারা সেই সকল পদার্থকে ক্রিয়াশীলও করে। এই কারণে তারা &#39;রত্ন&#39; নামে পরিচিত। সেই রত্নরূপী পদার্থগুলোকে যারা ধারণ করে তারা রত্নধা এবং অনেক রত্নধা পদার্থের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ, তাকে রত্নধাতম বলা হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(মী॑ळे) স্তবে য়াচে অধীচ্ছামি প্রেরয়ানি বা অর্থাৎ আমি এই উপযুক্ত অগ্নিকে, যা উপর্যুক্ত বিশেষণগুলোতে বিভূষিত, তাকে প্রকাশিত করছি, তাকে আকৃষ্ট করার জন্য বারবার ইচ্ছা প্রকাশ করছি। এখানে এই কাজটি সম্পাদনকারী কর্তা হলেন এই মন্ত্রের ঋষি মধুচ্ছন্দা, যাঁর ব্যাখ্যা আমি শুরুতেই করেছি। অর্থাৎ এই মধুচ্ছন্দা রশ্মিগুলো অগ্নির ছয়টি রূপের মধ্যে কাউকে প্রকাশিত করে, কাউকে আকর্ষিত করে এবং কাউকে প্রেরিতও করে। এই ঋষি রশ্মিগুলো থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিগুলোও এই সমস্ত কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;ভাবার্থ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সম্পূর্ণ সৃষ্টি বিভিন্ন সূক্ষ্ম তত্ত্বের মিলনে তৈরি হয়েছে, এই কারণে এটি হল যজ্ঞস্বরূপ। এই যজ্ঞের প্রধান ঘটক অগ্নি তত্ত্ব হল বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন-ভিন্ন স্তরের পরিচায়ক। এই পদার্থ ক্রমানুসারে এভাবে মানা যেতে পারে- &#39;ওম্&#39; রশ্মি, মনস্তত্ত্ব, সূত্রাত্মা বায়ু, প্রাণ তত্ত্ব, বিদ্যুৎ এবং উষ্মা। এই সকল তত্ত্ব প্রত্যেক পদার্থকে নিজের সম্মুখে ধারণ করে তার মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের প্রয়োজনীয় বলকে উৎপন্ন করে। রূপ, দাহ, প্রকাশ, বেগ, ছেদন আদি গুণের জন্যও এই তত্ত্ব নিজ-নিজ স্তরে প্রথম উত্তরদায়ী হয়। এই পদার্থই নিজের তুলনায় সূক্ষ্ম পদার্থে স্থিত হয়ে নিজের গুণ ও কর্মকে প্রকট করে। সৃষ্টির বিভিন্ন ক্রিয়াতে যখনই যে পদার্থের প্রয়োজন হয়, এগুলো প্রকট হতে থাকে। এই পদার্থগুলোই নিজেদের চেয়েও সূক্ষ্ম পদার্থকে সর্বদা নিজেদের ভেতরে ধারণ করে রাখে। এই ছন্দ রশ্মিকে উৎপন্নকারী ঋষিরূপ রশ্মিগুলো এমন সব পদার্থের মধ্যে কয়েকটিকে আকর্ষণ করে, আবার কয়েকটিকে প্রেরণা দিতে থাকে। সম্পূর্ণ সৃষ্টি এই ছয়টি প্রধান পদার্থের মাধ্যমে খেলা করা ঈশ্বরের একটি খেলা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই মন্ত্রের মধ্যে সৃষ্টি নির্মাণের মুখ্য ঘটক, তাদের প্রেরক আদির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের প্রথম প্রজন্ম যখন এই পৃথিবীতে জন্ম নেয় অথবা ব্রহ্মাণ্ডে কোথাও জন্ম নেয়, তখন সেই সময় মানুষ কৌতূহলপূর্বক এই সৃষ্টিকে দেখে; তখন তার এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না এবং তাকে বলার মতো অর্থাৎ তার চেয়ে বুদ্ধিমান অন্য কোনো প্রাণীও ছিল না। সেই সময় অগ্নি ঋষি ব্রহ্মাণ্ড থেকে যে রশ্মিগুলোকে সমাধি অবস্থায় গ্রহণ করেছিলেন, সেই রশ্মিগুলোর মধ্যে এটিই ছিল প্রথম রশ্মি, যা সৃষ্টির সারকথা জানানোর জন্য অনিবার্য ছিল এবং এই শব্দগুলোর জ্ঞান অগ্নি ঋষিকে ঈশ্বর দিয়েছিলেন, যা আমি আগেই লিখেছি। মানুষ সৃষ্টিতে কীভাবে থাকবে, সৃষ্টির পদার্থকে কীভাবে ব্যবহার করবে এবং সৃষ্টিকে জেনে ঈশ্বরকে কীভাবে জানবে ও প্রাপ্ত করবে, এই সবকিছুর জন্য সৃষ্টির জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আমি এর আধিভৌতিক অর্থ প্রস্তুত করছি-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;আধিভৌতিক ভাষ্য&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;য়জ্ঞস্য [য়জম্ = অনেকবিধব্যবহারম্ (ম.দ.য়. ভা.29.36), বিদ্যাপ্রজ্ঞাপ্রবর্ধকম্ (ম.দ.ঋ.ভা. 4.34.1)] এই সৃষ্টির সম্পূর্ণ বিজ্ঞান জানতে এবং প্রজ্ঞাকে বৃদ্ধিকারী এবং সব প্রকারের লৌকিক ব্যবহার যারা জানেন। (অগ্নিম্) [অগ্নিঃ অগ্নিরেব ব্রহ্ম (শ. 10.4.1.5), বিশ্বোপকারক (ম.দ.ঋ.ভা. 1.76.2)] বেদ অর্থাৎ সম্পূর্ণ সৃষ্টির বিজ্ঞান এবং ব্রহ্মকে জানার যোগ্য, সমস্ত প্রাণিজগতের হিতাকাঙ্ক্ষী মহাবিদ্বান। (পুরোহিতম্) যিনি নিজের সামনে আসা যে কোনো মানুষ বা প্রাণীর সর্বদা হিত সাধনে প্রবৃত্ত থাকেন। (দেবম্) [দেবঃ দিব্যগুণসম্পন্না বিদ্বান্ (ম.দ.ঋ.ভা. 1.68.1), য়ো বৈ দেবানাম্ পথৈতি ঋতস্য পথৈতি (শ. 4.3.4.16)] যিনি দিব্য গুণসম্পন্ন এবং সর্বদা ঈশ্বরের আজ্ঞার অনুকূল পথে চলা বিদ্বান হন। (ঋত্বিজম্) যিনি সর্বদা সকলের সাথে সঙ্গতি এবং সৃষ্টির প্রত্যেক পদার্থ সর্বহিতে ব্যবহার করার ভাবনা রাখেন। (হোতারম্) যিনি দেওয়ার যোগ্য পদার্থ ও তাদের যথার্থ বিজ্ঞানের দাতা এবং নেওয়ার যোগ্য পদার্থের গ্রহীতা অর্থাৎ সমস্ত লোকহিতকর ব্যবহারের জ্ঞাতা এবং সেই অনুযায়ী আচরণকারী হন। (রত্নধাতমম্) যিনি তিন প্রকারের সুখ প্রদানকারী পদার্থসমূহকে ধারণকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হন, সেই এমন মহান পুরুষের (ঈডে) খোঁজ করো, তাকে খোঁজার ও জানার ইচ্ছা করো এবং এমন পুরুষ প্রাপ্ত হলে তার কাছ থেকে সম্পূর্ণ সৃষ্টি ও লোকব্যবহার শেখার য়াচনা করো ও শিক্ষা গ্রহণ করো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;ভাবার্থ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই সৃষ্টির সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও তার সঠিক ব্যবহার এবং সাংসারিক ব্যবহারগুলোকে বিশুদ্ধভাবে জানা, সকল প্রাণীকুলের হিতাকাঙ্ক্ষী, দিব্যগুণসম্পন্ন এবং সর্বদা ঈশ্বরের আজ্ঞা অনুযায়ী আচরণকারী, সকল প্রকার সুখ প্রদানকারী ত্যাগী-তপস্বী গুরুকে পুরুষার্থের সাথে খুঁজে বের করে লৌকিক ও পারলৌকিক জ্ঞান লাভের পূর্ণ চেষ্টা করা উচিত। এর মাধ্যমেই সকল মানুষ একে অপরের সুখ বাড়িয়ে আনন্দে থাকতে পারে। একইভাবে সব মানুষের উচিত এই সকল সদ্গুণ সম্পন্ন তেজস্বী রাজাকেও নির্বাচন করা, যাতে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে সুখ ও শান্তির সাম্রাজ্য স্থাপিত হতে পারে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;জ্ঞাতব্য&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখানে এই মন্ত্রের দ্বারা পৃথিবীতে উৎপন্ন প্রারম্ভিক প্রজন্মের সকল মানুষকে সংসারে থাকার জন্য এমন গুরু খোঁজার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে, যিনি বেদের সাক্ষাৎ করেছেন; অর্থাৎ অগ্নি আদি চার মহর্ষিদের পরে অন্যান্য ব্রহ্মাদি ঋষিদের খোঁজার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সকল মানুষকে চার ঋষি বা ব্রহ্মাদি থেকে সম্পূর্ণ বিদ্যা ও ব্যবহার শেখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই উপদেশ গ্রহণ করাও অনিবার্য ছিল। এখানে শিক্ষক পুরুষের সাথে-সাথে রাজপুরুষকেও গ্রহণ করা যেতে পারে, তাহলে অর্থে কিছুটা পার্থক্য হবে। মহর্ষি দয়ানন্দ জী যে ভৌতিক ও আধ্যাত্মিক অর্থ করেছেন, সেগুলোকেও এখানে যুক্ত করে দেখা উচিত। এইভাবে মন্ত্রের মোট চারটি অর্থ আছে। এখানে আমি দুটি অর্থ দিয়েছি এবং বাকি দুটি ঋষি দয়ানন্দের ভাষ্য থেকে পড়ে নিবেন। যদি ঋষির ভাষ্য উপলব্ধ না হতো, তাহলে আমি এইভাবে আরও দুটি অর্থ করতাম। ঋষি দয়ানন্দ অর্থের মধ্যে ভৌতিক অগ্নিকে খুঁজে বের করে বিভিন্ন ধরণের ভৌতিক অনুসন্ধানের (গবেষণার) প্রেরণা দিয়েছেন, যা এই পৃথিবীতে সুখদায়ক জীবনযাপনের জন্য অনিবার্য। এই জ্ঞানও প্রথম প্রজন্মের জন্য অনিবার্য ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;পরিশেষে, ঋষি দয়ানন্দ &#39;অগ্নি&#39; পদের মাধ্যমে পরমেশ্বরকে গ্রহণ করে তাঁকে সাক্ষাৎ করে জানার প্রেরণা প্রদান করেছেন। এটাই হল মানব জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য, এই কারণে এই জ্ঞান সবচেয়ে বেশি অনিবার্য ছিল কিন্তু সৃষ্টিকে না জেনে সৃষ্টি নির্মাণকারী পরমাত্মার বিজ্ঞান কখনো সম্ভব নয়, এই কারণে এই মন্ত্রের আধিদৈবিক ভাষ্য অনিবার্য।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এইভাবে এই মন্ত্র মানুষের লৌকিক ও পারলৌকিক সকল ধর্ম বা কর্তব্য এবং সম্পূর্ণ সৃষ্টিকে জানার সারসংক্ষেপ উপদেশ দেয়, যা হল সম্পূর্ণ বেদের মুখ্য প্রতিপাদ্য বিষয়। এই কারণে এই মন্ত্র চারটি বেদের প্রস্তাবনা এবং সেইজন্যই এটি হল প্রথম মন্ত্র।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;1. বাস্তবে ঈশ্বরীয় গ্রন্থ কোনটি হবে?&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: #ff00fe;&quot;&gt;&lt;b&gt;অ॒গ্নিমী॑ळे পু॒রোহি॑তং য॒জ্ঞস্য॑ দে॒বমৃ॒ত্বিজ॑ম্। হোতা॑রং রত্ন॒ধাত॑মম্॥&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয় শ্রোতাগণ! আজ আমি বিশ্বের সমস্ত মানব সমাজের সাথে কিছু কথা বলতে চাইবো। আজ থেকে পৌরাণিক হিন্দু সমাজের 9 দিনের একটি উৎসব &#39;নবরাত্রি&#39; শুরু হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন ধরণের পূজা-পাঠ, কর্মকাণ্ড আদির আয়োজন করা হবে। এমনকি যেসব মানুষের ধর্মে অগাধ আস্থা নেই, তারাও এই ৭ দিনে নিজেদের মধ্যে কিছু ধর্মীয় অনুভূতি অনুভব করতে শুরু করবেন। এমন হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তিক্ত সত্য হল যে, ধর্মের এই আপাত প্রবাহে না তো প্রকৃত ধর্ম কোথাও দেখা যায়, আর না বেদ। একইভাবে আমাদের ইসলাম বন্ধুদের রোজার সময় এবং খ্রিষ্টান বন্ধুদের তাদের উৎসবের সময় এমন মনে হয় যে তারা খুব ধার্মিক হয়ে উঠেছেন। হিন্দু ভাইদেরও আজ থেকে তেমনই মনে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সকলেই জানেন যে সমগ্র বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রক্তপাত যদি হয়ে থাকে, তবে তা ধর্মের নামেই হয়েছে এবং আজও হয়ে চলেছে। বিশ্বের প্রায় 56 টি দেশে ইসলাম এবং 100 টি দেশে খ্রিষ্ট মতের বিস্তার কি রক্তপাত এবং ছল-চাতুরি ও সরল মানুষকে প্রলোভন দেখানোর মাধ্যমে হয়নি? তবে কি একে ধর্ম বলা হবে? আজ যেসব সমস্যা দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের মধ্যে যে দেশগুলো নতুন-নতুন এজেন্ডা নিয়ে আসছে, তাদের পেছনে কোথাও-না-কোথাও এই উদ্দেশ্য থাকে যে আমার ধর্মই যেন এই বিশ্বের উপর সাম্রাজ্য বিস্তার করে। তারা একথা মুখে বলবে না, কিন্তু আসল এজেন্ডা এটাই যে আমাদেরই রাজত্ব হোক, আমাদেরই সম্প্রদায়ের রাজত্ব হোক। মনে হয় যেন এই মানুষ সব কিছু হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত মানুষ হতে পারেনি। তাই আজ মানুষ মানুষের রক্তের তৃষ্ণার্ত। এটি এই কারণে হয়েছে কারণ মানুষ মনুষ্যধর্মকে ভুলে গেছে। আগে কখনও এক ধর্ম, এক ভাষা এবং ভাবনা এক ছিল, কিন্তু এখন সমস্ত মানব সমাজ খণ্ডিত হয়ে গেছে। তারমধ্যেও সবথেকে বেশি হিন্দু সমাজের খণ্ড-বিখণ্ড হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাস্তবে ঈশ্বরপ্রদত্ত ধর্ম তো গঙ্গোত্রী এবং তারও আগে গোমুখ থেকে নির্গত বিশুদ্ধ পবিত্র জল ছিল, কিন্তু যখন গঙ্গা নদী সুন্দরবন ডেল্টায় গিয়ে মেশে, তখন তার জল কেমন হয়, তা সকলেই জানেন। সেই পবিত্র গঙ্গাজলে এই অশুদ্ধিগুলো কোথা থেকে এলো? এর উত্তর হল-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;- নদী-নালা এবং শহরের বর্জ্য থেকে। তেমনই ধর্ম তো একটাই ছিল শুদ্ধ, পবিত্র এবং সকলের জন্য হিতকর, কিন্তু তাতে অনেক রোগব্যাধি চলে এসেছে। তাতে অনেক চিন্তাধারার নদী-নালা মিশেছে এবং সেগুলো থেকে আরও অনেক নদী-নালা ও খাল বেরিয়েছে। সেগুলো সবই অপবিত্র ছিল, তাতে অনেক ভেজাল ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বর্তমানে যারা দাবি করেন যে তাদের ধর্ম সেই শক্তি উৎপন্ন করেছে যিনি সংসার রচনা করেছেন, এমন চারটি ধর্মের কথা আমি বলবো। বাস্তবে ধর্ম একটাই হয়, সেটি হল মানব ধর্ম। আমি &#39;ধর্ম&#39; শব্দটি এই জন্য ব্যবহার করছি কারণ লোকে একে ধর্ম বলে। বস্তুতঃ এগুলো সবই হল সম্প্রদায়। কিন্তু যখন এইসব সম্প্রদায়ের লোক নিজের-নিজের সম্প্রদায়কে মানব ধর্ম বলতে শুরু করে এবং সম্পূর্ণ মানব জাতিকে সেই পতাকার নিচে আনার প্রাণপণ চেষ্টা করে, তখন এক বিবেকবান পুরুষের সামনে এই প্রশ্ন উপস্থিত হয় যে এদের মধ্যে ধর্ম কোনটি? এদের মধ্যে মানব ধর্ম কোনটি? এদের মধ্যে কোন আদর্শটি এমন, যেটিকে নিয়ে চললে সংসারে সুখ-শান্তি স্থাপিত হবে? তাদের মধ্যে প্রথম সম্প্রদায় হল- হিন্দু। যদি &#39;হিন্দু&#39; শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে হিন্দুরাই তা জানে না। কিছু লোক &#39;হিন্দুত্ব&#39;-কে একটি আদর্শ বা জীবনশৈলী বলে, কিন্তু তারা সেই জীবনশৈলীর তর্কসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারে না। কিছু লোক এটিকে বিদেশিদের দেওয়া নাম বলে মনে করেন, যারা সিন্ধু নদীর এই পাড়ে থাকতেন তাদের হিন্দু বলতে শুরু করেছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এটি অত্যন্ত শোকের বিষয় যে তাদের নিজেদের নাম পর্যন্ত জানার জন্য বিদেশিদের আশ্রয় নিতে হয়, এর চেয়ে বড় বৌদ্ধিক দাসত্ব আর কী হতে পারে? নিজেদের শাস্ত্র ও ঐতিহাসিক গ্রন্থে দেওয়া &#39;আর্য&#39; নামটি তাদের পছন্দ হয় না। যারা খুব শিক্ষিত মানুষ, তারাও কেবল এটাই জানেন যে হিন্দু হল একটি ধর্ম বিশেষ। তারা এমনটা মনে করেন যে বেদ হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ, কিন্তু এটিও পূর্ণ সত্য নয়। বেদ কেবল হিন্দুদের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য। বেদ মানুষের মতো প্রতিটি বুদ্ধিমান প্রাণীরও, যারা ব্রহ্মাণ্ডের যেকোনো স্থানে বসবাস করে। সবার জন্য বেদ একই, এটি আমাদের দাবি অবশ্যই, তবে এখন আমরা এমনটা বলবো না, তার আগে পরীক্ষা করবো। তবে হ্যাঁ, এই প্রসঙ্গে এটুকু বলাও আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে, আজ হিন্দুত্বের অনেক ধ্বজাধারী বেদের পরিবর্তে উপনিষদ, ভাগবত পুরাণ, গীতা, বিশেষ করে গীতাকেই হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে ঘোষণা করছেন। যখন এই তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীরাই বেদকে উপেক্ষা করতে শুরু করবেন, তখন তাদের অন্য সম্প্রদায়ের উপহাসের পাত্র হওয়া থেকে কীভাবে বাঁচানো সম্ভব?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বাস্তবে এমন মানুষ বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী লোকদের দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ আছে। বিদেশিরা জানে যে বেদকে মিটিয়ে দিলেই সনাতন ধর্ম ও ভারতের আদর্শকে মুছে ফেলা সম্ভব, অন্যথায় নয়। এই কারণেই সেই সব লোকেদেরই ভারতের মহাপুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়, যাদের বেদের কোনো জ্ঞানই ছিল না। যখন তাদের আদর্শে বেদের জ্ঞান ছিল না, তখন তাদের ভক্তদের সাথে বেদের কী সম্পর্ক থাকতে পারে? আর বেদহীন ভারত কীভাবে কখনো মহান হয়ে উঠবে? প্রকৃতপক্ষে বেদের উপেক্ষা করা মানে কেবল ভারতের উপেক্ষা নয়, বরং সমগ্র মানব ও প্রাণিকুলের উপেক্ষা এবং এটিই হল সব দুঃখের মূল কারণ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দ্বিতীয় সম্প্রদায় হল- খ্রিস্টান, যারা নিউ টেস্টামেন্টকে তাদের ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করে। তারা একে ঈশ্বরীয় গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করে। তারা বিশ্বাস করে যে যিশু খ্রিস্ট ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন এবং তিনি নতুন নিয়ম &#39;নিউ টেস্টামেন্ট&#39; লিখেছিলেন, যারমধ্যে তাঁর শিক্ষা আছে। তাদের চেয়েও প্রাচীন হল- ইহুদি, যারা ওল্ড টেস্টামেন্টকে নিজেদের ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করে এবং ইসলাম, যারা কুরআনকে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মানে। আমি এই চারটি গ্রন্থের বিষয়ে আলোচনা করবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আজ থেকে প্রায় 30 বছর আগে আমার সামনে একটি পুস্তক আসে, যখন আমি মথুরা গুরুকুলে পড়তে গিয়েছিলাম। সেই পুস্তকটির নাম ছিল &#39;বেদ ও কুরআন&#39;; শ্রীমদ্ আচার্য প্রেমভিক্ষু জী আমাকে এই পুস্তকটি দিয়ে বলেছিলেন যে এর উপর কিছু লিখতে। আমি সেই পুস্তকটি দেখি, তার লেখক বলছেন যে বেদ হল ঈশ্বরীয় বাণী যা সবার আগে প্রকাশিত হয়েছে এবং কুরআন হল অন্তিম বাণী যা খোদার মাধ্যমে সবার শেষে প্রকাশিত হয়েছে। তারপর সেই লেখক লিখছেন যে কোনো লেখকের শেষ গ্রন্থটিই অধিক প্রামাণিক হয়। আজ ডঃ জাকির নায়েকের মতো ইসলামি স্কোলারও একই কথা বলেন এবং বেদের অনেক প্রমাণ দিয়ে বলেন যে বেদও ঈশ্বরীয় এবং কুরআনও ঈশ্বরীয়। পার্থক্য শুধু এই যে, বেদ শুরুতে বলা হয়েছে এবং কুরআন শেষে, আর কোনো লেখকের অন্তিক গ্রন্থটিই অধিক প্রামাণিক হয়। এই ধরণের বিদ্বানরা এই পৃথিবীতে এক নতুন ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত করছেন, বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে। অনেক হিন্দু বা সনাতন ধর্মী তাদের বাজালে ফেঁসে যান। তারা এই কথাটি ভুলে যান যে এমন কথা বলে তারা এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত বন্ধুরা নিজেরা উপহাসের পাত্র হচ্ছেন এবং ঈশ্বরকেও উপহাসের পাত্র বানাচ্ছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি: প্রশ্ন হল ডঃ জাকির নায়েক বা তার সমান বিচারধারার অন্য কোনো বিদ্বান, যারা এই ধরণের কথা বলেন যে বেদ পরমাত্মার প্রথম পুস্তক এবং কুরআন হল অন্তিম পুস্তক। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য কেন আছে? যদি তারা মনে করেন যে কুরআন অন্তিম পুস্তক, তাই এটি অধিক প্রামাণিক; লেখক সংশোধন করেন। হ্যাঁ, আমি মানি যে মানুষ সংশোধন করে কারণ মানুষ অল্পজ্ঞ, তার ভুল হয়ে যায়। সে ভুল সংশোধন করে, আবার ভুল করার পর আবার সংশোধন করে এবং এভাবে সে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। যেমন আমি নিজেও আমার কোনো গ্রন্থ লিখছি, তো প্রেসে পাঠানোর আগে আমি নিজেই অনেকবার সংশোধন করে নিই বা করতে হয়, কারণ কোনো মানুষই পূর্ণ নয়। তাহলে যাকে খুদা বলা হয় বা যাকে ঈশ্বর বলা হয়, তিনিও কি আমাদের মতোই অপূর্ণ বা অল্পজ্ঞানী? যিনি বেদের জ্ঞান দিয়েছিলেন, তারপর কি তিনি ভুলে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে যে অন্য মজহবী গ্রন্থগুলো এসেছে, সেগুলোতে সংশোধন করা হয়েছে এবং কুরআনে এসে তা ফাইনাল বা চূড়ান্ত হয়েছে। এর থেকে তো এটাই প্রমাণিত হয় যে, কুরআন বা বেদ রচনাকারী অদক্ষ ছিলেন অথবা অল্পজ্ঞ অর্থাৎ কম জ্ঞানী ছিলেন। এইজন্য নিজের ভুলগুলোকে বারবার সংশোধন করে তিনি কুরআনে তা ফাইনাল করেছেন। এখন এটা জানার চেষ্টা করা যাক যে কুরআনে ফাইনাল কী হয়েছে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বৈদিক মানুষেরা বিশ্বাস করেন যে বেদের মধ্যে সমস্ত বিদ্যা আছে। বেদের উপর ভিত্তি করে সুখপূর্বক জীবন যাপন করা সম্ভব। বেদের উপর ভিত্তি করে রাজনীতিও করা যেতে পারে। বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা, কৃষিশাস্ত্র, অর্থনীতি, আধ্যাত্মিকতা আদি সবই বেদ থেকে শেখা সম্ভব। কুরআনে কি এসব আছে? বেদের উপর ভিত্তি করে কোনো আয়ুর্বেদের বিদ্বান অথর্ববেদ থেকে কোনো ব্যক্তির চিকিৎসা করতে পারেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তি কি কুরআন বা বাইবেলের উপর ভিত্তি করে কারও চিকিৎসা করতে পারেন? বেদের উপর ভিত্তি করে মানুষ বাড়ি তৈরি করতে পারে। অন্য গুলোকে যে ধর্মগ্রন্থ কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর উপর ভিত্তি করে কি কেউ বাড়ি তৈরি করতে পারে? অন্য ধর্মীয় গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে কি কেউ কৃষি কাজ করতে পারে? অন্য ধর্মীয় গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে কি অর্থশাস্ত্র চালানো যেতে পারে? অন্য ধর্মীয় গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে কি দেশ চালানো যেতে পারে? কী কী কাজ করা যেতে পারে? বিচার করে দেখুন। বেদের উপর ভিত্তি করে সমগ্র সৃষ্টিকে জানা সম্ভব, বাইবেল ও কুরআন আদির উপর ভিত্তি করে কি এমনটা হওয়া সম্ভব?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বেদের পক্ষের লোকেরা বিশ্বাস করেন যে মানুষ বেদের ওপর ভিত্তি করে সব কাজ করতে পারে এবং সব কাজ করেও আসছে। এই বিষয়ে ইঞ্জিল, তৌরেত এবং কুরআনের পক্ষের লোকেরা কী বলবেন? তাদের বিদ্বানরা এই বিষয়ে বিচার করে দেখুন যে যদি সংসার থেকে সমস্ত বিদ্যা লুপ্ত করে দেওয়া হয় এবং যাকে তারা তাদের ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করে, শুধু সেগুলোই বেঁচে থাকে, তবে কি তারা বেঁচে থাকতে পারবে? সৃষ্টি সম্পর্কে কি কিছু জানতে পারবে? লোকেরা কি লৌকিক ব্যবহার শিখতে পারবে? তারা কতটা জানতে পারবে? যদি এই সবকিছুই না জানতে পারে, তবে তো খোদা সংশোধন করার পরিবর্তে আরও উল্টোটা করেছেন। বেদে অনেক কিছু ছিল এবং সবকিছু ভুলে গিয়ে এমন গ্রন্থ তৈরি করেছেন, যারমধ্যে সমস্ত বিদ্যাই নেই, তবে জীবন চলবে কীভাবে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সৃষ্টির আদিতে পরমাত্মা বেদের জ্ঞান দিয়েছিলেন, জীবন চালানোর জন্য সম্পূর্ণ বিদ্যা দিয়েছিলেন, কারণ সম্পূর্ণ সৃষ্টি পরমাত্মাই তৈরি করেছেন। ঈশ্বর যখন মানুষ ও অন্য প্রাণীদের তৈরি করেছেন, তখন কি মানুষ বানিয়ে তাদের এভাবেই নিরাশ্রয় ও মূর্খ হিসেবে ছেড়ে দিয়েছেন? তাকে তো নিশ্চয়ই জ্ঞান দিয়েছিলেন যে এতে কীভাবে থাকতে হয়? কীভাবে বাঁচতে হয়, কীভাবে সৃষ্টিকে জানতে হয়, কীভাবে নিজের শরীরকে জানতে হয়, কীভাবে নিজেকে জানতে হয়, কীভাবে ঈশ্বরকে জানতে হয়? যদি এই সব জ্ঞান দেওয়ার না হতো, তবে কোনও পুস্তকের প্রয়োজনীয়তাই থাকতো না। তবে কি কোরআনে এসে সব ভুলে গেছেন? সংশোধন কোথায় হল? বেদ ছাড়া অন্য ধর্মগ্রন্থগুলোতে কোন-কোন বিদ্যা আছে? ইসলাম ও বাইবেলের স্কোলাররা এই বিষয়ে বিচার করুন। বাইবেলকে যারা বিশ্বাস করেন তারা বলুন যে, বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে অগ্রগতি হচ্ছে, তার উৎস কি কোথাও বাইবেল আছে? যখন বাইবেল রচিত হয়েছিল, তখন জেরুসালেম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিদ্যা ও ধন-সম্পদের অবস্থা কী ছিল? যখন কোরআন রচিত হয়, তখন আরবে বিদ্যা ও সমৃদ্ধির অবস্থা কী ছিল?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এদিকে ভারতের বৈদিক কালের দিকে তাকালে, সম্পূর্ণ বিশ্ব এটি স্বীকার করে যে, আর্যাবর্ত (ভারত) ছিল সম্পূর্ণ বিদ্যা ও ধন-সম্পদের কেন্দ্র। তবে কীভাবে বিশ্বাস করবো যে, ঈশ্বর বেদের মধ্যে সংশোধন করে অন্য গ্রন্থগুলোর জ্ঞান দিয়েছেন? তারা কি জানে না যে, তারা ভারত থেকে কত পুস্তক নিয়ে গেছে এবং সেই পুস্তকগুলোতে যে জ্ঞান আছে, তার মূলও বেদের মধ্যে আছে। এটি আমি বলছি না, আমি অনেক বিদ্বান ব্যক্তির প্রমাণ দিতে পারি। আমার কাছে একটি পুস্তক আছে- &#39;বেদের যথার্থ স্বরূপ&#39;; এর লেখক পণ্ডিত ধর্মদেব বিদ্যামার্তণ্ড, যিনি আর্য সমাজের একজন অত্যন্ত জ্ঞানী বিদ্বান ছিলেন। তিনি খ্রিস্টান, মুসলিম, জৈন এবং বৌদ্ধদের অনেক বিদ্বানদের মত উল্লেখ করেছেন যে বেদ আসলে কী? বাইবেল ও কোরআন সম্পর্কেও কি এমন কোনো মত আছে যে এগুলোর মধ্যে সব বিদ্যা বা সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান নিহিত আছে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ঈশ্বরীয় জ্ঞান সেটাই হবে, যার মধ্যে সম্পূর্ণ সৃষ্টির জ্ঞান-বিজ্ঞান থাকবে। আর দ্বিতীয় কথা হল, যা ঈশ্বরীয় জ্ঞান হবে, তাতে কোনো মানুষের কাহিনী থাকবে না; কারণ ঈশ্বর মানুষের কাহিনী লেখেন না। আমি এ বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা করবো না, শুধু একটি বিষয়ে চর্চা করবো। আপনারা আমার অনেক বক্তৃতায় &#39;বৈদিক রশ্মি সিদ্ধান্ত&#39;-এর মাধ্যমে বেদ আসলে কী, তা শুনেছেন। আমি সেটির পুনরাবৃত্তি করবো না, তবে যে চারজন ঋষি মহাকাশ থেকে বেদের জ্ঞান লাভ করেছিলেন, তাঁদের কাছে প্রথম উপদেশটি কী ছিল, সেটি আমি দেখবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লেখকের প্রথম বাক্য সাধারণত গ্রন্থের ভূমিকা হয়, যাতে সারসংক্ষেপ থাকে। সবার আগে আমি তাদের প্রথম বাক্যটি নিচ্ছি, যারা বলেন যে আমাদের পুস্তকটি অন্বিম। আসুন সেই সর্বশেষ পুস্তকের প্রথম বাক্য বা প্রথম আয়াতটি দেখি। কোরআনের প্রারম্ভ হয়- &#39;সূরা আল-বাকারা: মাদানি&#39; দিয়ে; এতে 286 টি আয়াত এবং 40 টি রুকু আছে। &#39;শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময় ও অত্যন্ত দয়ালু&#39;-এটি কে বলছেন? তাঁদের মতে, এটি স্বয়ং খোদা (আল্লাহ) বলছেন। আমি মুসলিম যুবকদের এটি ভেবে দেখার অনুরোধ করবো যে, যদি এই কথা খোদাই বলে থাকেন, তবে তিনি কেন এমন বলছেন যে &#39;শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময় ও অত্যন্ত দয়ালু&#39;?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি আমার পুস্তক &#39;বেদবিজ্ঞান-আলোকঃ&#39;-এ যদি লিখতাম &#39;অগ্নিব্রতের নামে শুরু করছি, যিনি একজন মহান লেখক&#39;, আমি কি আমার পুস্তক এইভাবে শুরু করতাম? এটি নিয়ে চিন্তা করুন। এতে তারপর লেখা আছে- &#39;আলিফ লাম মীম&#39;, এর অর্থ কেউ জানে না। আমার কাছে যে কুরআন শরীফ আছে তা মুম্বাইয়ের মারোল পাইপলাইনের &#39;মেহমুদ অ্যান্ড কোম্পানি&#39; থেকে প্রকাশিত এবং এর তর্জমা (অনুবাদ) করেছেন মাওলানা ফতেহ মুহাম্মদ খাঁ সাহেব জালন্ধরি। তসহী কী জিনিস, আমি জানি না। মাওলানা আব্দুল মজিদ সর্বর সাহেব এর ফুটনোটে লিখেছেন যে, &#39;আলিফ লাম মীম&#39;-এর অর্থ মুহাম্মদ সাহেব (সা.) বলেননি, তাই আমাদের এর উপর কিছু না বলে ইমান (বিশ্বাস) স্থাপন করা উচিত। আমাদের কি এর অর্থ জানার চেষ্টা করাও উচিত নয়? এরপর তিনি প্রথম আয়াতে লিখেছেন-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এটি সেই কিতাব (পুস্তক), যারমধ্যে কোনো সন্দেহ নেই, এটি খোদাভীরুদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা এর উপর ইমান নিয়ে আসে, আদাবের সাথে নামাজ কায়েম করে এবং আমি যা তাদের দিয়েছি, তা থেকে তারা খরচ করে আর যে কিতাব তোমার উপর নাজিল হয়েছে এবং তোমার পূর্ববর্তী নবীদের উপর যা নাজিল হয়েছে, সবার উপর বিশ্বাস করে এবং পরকালের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;তোমার উপর নাজিল হয়েছে এবং তারপূর্বে যে আসমানী কিতাবগুলো এসেছে, আমরা সে সবগুলোর উপরই বিশ্বাস রাখি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অর্থাৎ, কুরআনের আগে যেসব গ্রন্থ এসেছে, সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি এক ধরণের সততা বা সম্ভাবনা যে, এর আগে যেসব আসমানী কিতাব এসেছে সেগুলো সঠিক ছিল এটাই এদের বক্তব্য। এখান থেকেই কুরআন শুরু হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথম প্রশ্ন হল, এটি স্বয়ং খোদা শুরু করছেন এবং খোদার নাম নিয়েই শুরু করছেন। এখন আমি এর পেছনের দিকে যাবো। নিউ টেস্টামেন্ট, যাকে ইঞ্জিল বলা হয়, এমন পণ্ডিত ধর্মদেব বিদ্যামার্তণ্ড লিখেছেন যে এর প্রথম আয়াত হল &quot;ইব্রাহিমের সন্তান, দাউদের সন্তান, যীশু খ্রীষ্টের বংশতালিকা, ইব্রাহিম থেকে ইসহাক জন্মগ্রহণ করেন, ইসহাক থেকে ইয়াকুব জন্মগ্রহণ করেন এবং ইয়াকুব থেকে ইহুদা ও তার ভাইয়েরা জন্মগ্রহণ করেন।&quot; এখান থেকেই নিউ টেস্টামেন্ট শুরু হয়। আপনার কি মনে হচ্ছে যে এটি কোনো আসমানী কিতাব বা ঈশ্বরীয় গ্রন্থ? এতে তো বংশতালিকা শোনানো হচ্ছে। সৃষ্টির রচয়িতা, যিনি কোটি-কোটি গ্যালাক্সি তৈরি করেছেন, যিনি কোটি-কোটি সৌরজগৎ সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি ইব্রাহিমের বংশতালিকা শোনাবেন? এখান থেকে শুরু করবেন? বংশতালিকা তো মানুষ শোনায়। যারা বেদের মধ্যে কোনো মহাপুরুষের কাহিনী, কোনো নদী, পর্বত বা দেশের নামের কথা বলেন, তারা যেন এই বিষয়টি ভেবে দেখেন যে ঈশ্বর কেন এই কাহিনীগুলো লিখলেন? বেদ আগে নাকি মহাপুরুষ? প্রকৃতপক্ষে এটি বেদের প্রতি অজ্ঞতারই চরম সীমা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন তৌরেত, যাকে ওল্ড টেস্টামেন্ট বলা হয়, এতে তবুও কিছু সৃষ্টি সম্পর্কে লেখা আছে যে, &quot;আদিতে ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন এবং পৃথিবী ছিল আকারহীন ও জনশূন্য এবং গভীর জলের উপরে অন্ধকার ছিল এবং ঈশ্বরের আত্মা জলের উপরে ভাসমান ছিল।” ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর ভাসমান ছিল, কিন্তু ঈশ্বর তো সপ্তম আকাশে থাকেন, তবুও জলে আসবেন না আর চতুর্থ আকাশে থাকলেও আসবেন না। জল কোন আকাশে আছে? আমাদের ইহুদি ভাইয়েরা এই কথাটি ভেবে দেখুন যে জল কোন আকাশে আছে এবং ঈশ্বর কি এক জায়গায় থাকেন নাকি সর্বত্র থাকেন? সবার আগে শুরুটা কী ছিল? যদি ঈশ্বরই শুরু করতেন, তবে তিনি বলতেন যে &#39;আমার আত্মা অথবা আমি জলের উপরে ভাসমান ছিলাম&#39;, এরথেকে এই অর্থ বের হয় যে অন্য কেউ উপদেশ দিচ্ছে, ঈশ্বর নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই তিনটি গ্রন্থকে আমি নিয়েছি, যা পৃথিবীর এক বিশাল অংশ মেনে চলে এবং এই লোকেরা নিজেদের খুব সভ্য ও বিদ্বান মনে করে, বড় বিজ্ঞানী মনে করে এবং তারা চায় যে তারা পৃথিবী শাসন করুক, কিন্তু তারা এটাই জানে না যে পৃথিবী কীভাবে তৈরি হল। যখন সৃষ্টি নির্মাণই হয়নি, তখন পৃথিবী কীভাবে তৈরি হয়ে গেল? এমন লেখা উচিত ছিল যে ঈশ্বর পৃথিবী ও আকাশ উৎপন্ন করেছেন এবং উৎপন্ন হওয়ার পর পৃথিবী শূন্য ও আকারহীন ছিল। জল কিসের উপর ছিল, তা স্পষ্ট লেখা নেই। ঈশ্বরের আত্মা জলের উপর ভাসমান ছিল, এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে হয় ঈশ্বর জলের উপর ভাসছিলেন অথবা ঈশ্বর জলের উপর উড়ছিলেন, ঠিক যেমন জলচর পাখিরা জলের উপর ঘুরপাক খায় যাতে মাছ খেতে পায়। ঈশ্বর কেন জলের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলেন? সেখানে কি ঈশ্বরের আবাস ছিল? এর উপর বিচার করুন। তিনি জলের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলেন, এর অর্থ কি এই হল যে অন্য কোথাও ঈশ্বর ছিলেনই না, কারণ তিনি তো জলের উপর ঘুরপাক খাচ্ছিলেন এবং সরাসরি কি জল হয়ে গিয়েছিলেন? তারা যদি জলকে H₂O মনে করেন, যাকে ওয়াটার বলা হয়, তবে সেটি তো অনেক পরে তৈরি হয় এবং এতে এটাও বলা হয়নি যে এগুলো সব কীভাবে তৈরি হল? মূলরূপে কী ছিল, তাও কোথাও বলা হয়নি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আমি বেদের একটি মন্ত্র নিচ্ছি। তিনটি মজহবী গ্রন্থ, যাদের আসমানী কিতাব বলা হয়, তাদের প্রারম্ভিক বাক্যগুলো নেওয়ার পর এবং এই তিনটির অনুসারী সকল ভাই, বোন ও মায়েদের কাছে এই আবেদন করছি যে, তারা যেন নিজেদের মজহবী গ্রন্থ বা আসমানী কিতাবগুলোর শুরুর বাক্যগুলো নিয়ে বিচার করেন যে, এই শুরুর বাক্যগুলো কি তাঁর হতে পারে যিনি সম্পূর্ণ সৃষ্টি রচনা করেছেন। সম্পূর্ণ সৃষ্টি কত বড়, তা আপনারা জানেন। এখন আর সেই পোপের সময় নেই, যারা গ্যালিলিওকে দণ্ড দিয়েছিলেন, যারা ব্রুনোকে জীবন্ত পুড়িয়ে ছিলেন। এখন তো হয়তো পোপরাও বিজ্ঞানের ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। বিজ্ঞানীদের ফাঁসি দেওয়ার দিন চলে গেছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আজ আপনি বাইবেলের বিরুদ্ধে অনেক আবিষ্কার করেছেন, তৌরেত ও ইঞ্জিলের বিরুদ্ধে অনেক আবিষ্কার করেছেন এবং মুসলিম ভাইয়েরা কুরআনের বিরুদ্ধে অনেক আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু তবুও সবার নিজেদের আসমানী কিতাবের উপর বিশ্বাস অটুট আছে, এটি বড়ই আশ্চর্যের বিষয়। আমাদের হিন্দুদের মধ্যেও এমনটি হয়, মন্দিরে কিছু বলেন আর বিজ্ঞানের পুস্তকে অন্য কিছু পড়েন। যেমন- সূর্য পৃথিবী থেকে তেরো লক্ষ গুণ বড়, এটি বিজ্ঞানের পুস্তকে পড়া হয় এবং বাচ্চাদেরও পড়ানো হয়, কিন্তু মন্দিরে বলেন- &#39;বাল সময় রবি ভক্ষ লিয়ো, তব তিনই লোক ভয়ো আঁধিয়ারো&#39; (শৈশবে সূর্যকে গিলে নিয়েছিলেন, তখন তিন লোক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল)। মন্দিরে সূর্য ছোট হয়ে যায়, যাকে হনুমান জী মুখে নিয়ে নেন। বাস্তবে এদের মধ্যে কোনোটিই কম নয়, এই বিষয়ে সবাই ভাই-ভাই। যখন মজহবী উন্মাদনা জেঁকে বসে, তখন বিজ্ঞানকে ভুলে যায় এবং যখন বিজ্ঞানে মগ্ন থাকে, তখনও মজহব তাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ধর্ম হল সেটি, যা মস্তিষ্ক এবং হৃদয়- উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকে। আমি এ কথা&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বলছি না যে, এই মজহবী গ্রন্থগুলোকে হৃদয় থেকে বের করে দাও, তবে এগুলোকে মস্তিষ্কের (যুক্তি) সাথেও যুক্ত করো। যখন মস্তিষ্কও সাক্ষ্য দেয় যে বিষয়টি সত্য, তর্কসংগত, সর্বজনীন এবং চিরন্তন, তবেই তা গ্রহণ করো; আর যদি আত্মা বলে যে কথাটি সত্য বলে মনে হচ্ছে না, তবে তা একদম গ্রহণ করো না এবং তা ত্যাগ করো। আমি আমার মজহবের সাথে যুক্ত আছি, তাই আমাকে এটি মেনে নিতেই হবে, এমন কথা অনেকের মনেই আসে। তখন তাদের উচিত সেই মজহবী খুঁটি থেকে বেরিয়ে এসে আলাদাভাবে দেখা। কেউ যেকোনো মজহবের সাথে যুক্ত হতে পারে, কিন্তু আমরা হলাম মানুষ, পশু নই। পশুকে কোনো খুঁটিতে বেঁধে দিলে সে কেবল তার চারপাশেই ঘুরবে, নিজে থেকে মুক্ত হয়ে কোথাও যেতে পারবে না। কিন্তু আমাদের বৌদ্ধিক স্বাধীনতা আছে, নিজস্ব বিচারশক্তি আছে; তাই তা দিয়ে ভাবা উচিত। এখন যারা দাবি করেন যে বেদ ঈশ্বরপ্রদত্ত বাণী, সেই বেদের প্রথম মন্ত্রটি আমি বলছি-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অ॒গ্নিমী॑ळे পু॒রোহি॑তং য॒জ্ঞস্য॑ দে॒বমৃ॒ত্বিজ॑ম্। হোতা॑রং রত্ন॒ধাত॑মম্॥&lt;/p&gt;&lt;p&gt;2. &lt;i&gt;&lt;b&gt;বেদ সম্পর্কে বিশ্ব কী বলে?&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রিয় পাঠকগণ! বেদের প্রথম মন্ত্র ব্যাখ্যা করার আগে আমি অন্য কিছু বিচারকদের মতামত উপস্থাপন করতে চাইবো, কারণ বর্তমানে আমাদের দেশের তরুণ ও বিদ্বানদের স্বভাব এমন হয়েছে যে, কোনো বিদেশি কিছু বলে, তাহলে তারা সেটাকেই বেশি বিশ্বাস করে। যেমন কোনো লেখাপড়া জানা ব্যক্তি, যার কাছে অনেক ডিগ্রি আছে বা অন্য মজহবের কোনো প্রাচীন ব্যক্তি, তাদেরই বেশি গুরুত্ব দেয়। এটি আমাদের বৌদ্ধিক পতন ও দাসত্বের অত্যন্ত দুঃখজনক চরম পর্যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আমি &#39;বেদের যথার্থ স্বরূপ&#39; নামক পুস্তক থেকে কিছু প্রমাণ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;আরব দেশের বিদ্বান লাবী কর্তৃক বেদের গুণগান&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরব দেশের একজন বিদ্বান ছিলেন লাবী এবং তাঁর সময়কাল ছিল হজরত মুহাম্মদ সাহেবের জন্মের প্রায় 2400 বছর আগে। তিনি আরবি ভাষায় বেদের বিষয়ে যা লিখেছেন সেটি হল একটি কবিতা এবং এটি হারুন রশিদের রাজসভার কবি আসমাই মালেকুস শরা দ্বারা সংগৃহীত &#39;সীরুল-উকুল&#39; নামক পুস্তকে পাওয়া যায়। এর অনুবাদ আরবি, ইংরেজি এবং হিন্দিতেও দেওয়া হয়েছে। হিন্দি অনুবাদটি নিম্নরূপ-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;হে হিন্দুস্তানের ধন্য ভূমি! তুমি শ্রদ্ধার যোগ্য, কারণ ঈশ্বর তোমার মধ্যেই সত্য জ্ঞানের আলো প্রকাশ করেছেন। ঈশ্বরীয় জ্ঞানস্বরূপ এই চারটি পুস্তক (বেদ) আমাদের মানসিক দৃষ্টিকে কী এক আকর্ষণীয় ও শীতল উষার জ্যোতি প্রদান করে। পরমেশ্বর হিন্দুস্তানে তাঁর পয়গম্বর অর্থাৎ ঋষিদের হৃদয়ে চার (বেদের) আলোকপাত করেছেন এবং তিনি পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল জাতিকে এই উপদেশ দেন যে আমি বেদে যে জ্ঞান আলোকিত করেছি, তোমরা তা তোমাদের জীবনে বাস্তবায়িত করো এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করো। নিশ্চয়ই পরমেশ্বরই বেদের জ্ঞান দিয়েছেন।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর লাবী লিখছেন যে- &quot;সাম এবং য়জুর্ হল সেই ভাণ্ডার (কোষ), যা পরমেশ্বর দিয়েছেন। হে আমার ভাইয়েরা! তোমরা এগুলোকে সম্মান করো, কারণ এগুলো আমাদের মুক্তির সুসংবাদ দেয়। এই চারটির মধ্যে বাকি দুটি ঋক্ এবং অথর্ব আমাদের বিশ্বভ্রাতৃত্বের পাঠ পড়ায়। এই দুটি জ্যোতিস্তম্ভ, যা আমাদের সেই লক্ষ্য (বিশ্বভ্রাতৃত্ব) থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দারাশিকোহ-র বেদের জ্ঞানকে ঈশ্বরীয় মানা&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দারাশিকোহ, যিনি আওরঙ্গজেবের বড় ভাই ছিলেন, তিনি কুরআনের একটি আয়াতের অনুবাদ এভাবে করেছেন- &quot;কুরআন শরীফ হল একটি পুস্তক এবং সেই পুস্তকটি গুপ্ত আছে। তার জ্ঞান কেবল তারই হয় যার হৃদয় পবিত্র আছে এবং সেই পুস্তকটি জগতের পালনকর্তা ঈশ্বরের পক্ষ থেকে প্রকট হয়েছে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আপনারা ধ্যান দিন যে আসল কুরআন গুপ্ত আছে, তবে এর থেকে সিদ্ধ হয় যে মুহাম্মদ সাহেবের কাছে এমন কোনো গ্রন্থ ছিল যা তিনি বুঝতেন না, কিন্তু সেটিকে আসল কুরআন বলে সম্মান জানাতেন। এখন মুসলিম বন্ধুরা ভেবে দেখুন, তাহলে এই কুরআন কি আসল নয়? কুরআনে অনেক জায়গায় &#39;রওশন কিতাব কি কসম&#39; (উজ্জ্বল কিতাবের শপথ) বাক্যটি এসেছে। সেই উজ্জ্বল কিতাব বেদ ছাড়া আর কী হতে পারে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আমি আরও কিছু বিদ্বানদের কথা উপস্থাপন করবো-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রো. হীরেন নামক খ্রিস্টান বিদ্বানের বেদ বিষয়ক নিবন্ধ&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বেদ হল সংস্কৃতের প্রাচীনতম গ্রন্থ। বিদ্যমান প্রাচীনতম সংস্কৃত গ্রন্থগুলোর মধ্যেও সেগুলোর উপস্থিতির স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায়। সেগুলো মানবজাতির উন্নতির জন্য তার অদ্ভুত জ্ঞানের মাধ্যমে দিব্য আলোক-স্তম্ভের কাজ করে।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লিও ডেলবো নামক ফরাসি বিদ্বানের অভিমত&lt;/p&gt;&lt;p&gt;14 জুলাই 1884 সালে প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য সভায় প্রবন্ধ পাঠ করার সময় লিও ডেলবো নামক সুপ্রসিদ্ধ ফরাসি বিদ্বান ঘোষণা করেছিলেন যে- &quot;ঋগ্বেদ হল মানবজাতির উচ্চ প্রগতি এবং আদর্শের উচ্চতম কল্পনা।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মেটারলিঙ্কের অভিমত&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুপ্রসিদ্ধ দার্শনিক মেটারলিঙ্ক, স্টাইনার নামক বিদ্বানের ভাষায় বেদের গুরুত্ব নিম্নলিখিত শব্দে প্রকাশ করেছেন-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কেবল সূক্ষ্মদর্শীর অন্তদৃষ্টিই বেদে থাকা সূক্ষ্ম জ্ঞানকে প্রকট করতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হল, আমাদের প্রাগৈতিহাসিক কালের পূর্বপুরুষেরা যাঁদের সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে তাঁরা ঘোর অজ্ঞতার ভয়ানক অবস্থায় ছিলেন- তাঁরা কোথা থেকে সেই অসাধারণ অন্তজ্ঞান লাভ করেছিলেন, যা আমরা পুনরায় অর্জন করার চেষ্টা করছি?&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমেরিকার সুপ্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ থোরোর সম্মতি&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি বেদের যে উদ্ধৃতিগুলো পড়েছি, সেগুলো আমার উপর এক উচ্চ এবং পবিত্র জ্যোতিঃপুঞ্জের আলোর মতো পড়ে, যা এক উৎকৃষ্ট মার্গের বর্ণনা দেয়। বেদের উপদেশ সরল, দেশ বা জাতিবিশেষের ইতিহাস বর্জিত এবং সার্বভৌম। এছাড়া তাতে ঈশ্বর বিষয়ক যুক্তিযুক্ত বিচার দেওয়া হয়েছে।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আয়ারল্যান্ডের ডাঃ জেমস কাজিন্সের শ্রদ্ধাঞ্জলি&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ডাঃ জেমস কাজিন্স নামক আয়ারল্যান্ডের সুপ্রসিদ্ধ কবি এবং দার্শনিক &#39;শান্তির পথ&#39; নামক পুস্তকে বৈদিক আদর্শের উচ্চতা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;অর্থাৎ প্রেম করা, বিচার করা এবং কাজ করা, এগুলো বৈদিক বিচারানুসারে ক্ষণিক হতাশাপূর্ণ ব্যর্থ ক্রিয়া নয়, বরং এগুলো বিশ্বব্যাপী ক্রিয়ারই অংশ, যা নিত্য পরমেশ্বরের আনন্দে পরিপূর্ণ এবং অনুকরণ মাত্র।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রাশিয়ার বিদ্বান বুল্যাঙ্গরের বেদের প্রতি শ্রদ্ধা&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;প্রো, ম্যাক্সমুলারের অনুবাদে যে বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত আশ্চর্য করেছে তা হল, তাতে অনেক বেহুদা, অশ্লীল এবং অস্পষ্ট কথা আছে। যতটুকু আমি বেদের শিক্ষা বুঝতে পারি, আমার কাছে সেটি এত অধিক উচ্চ মনে হয় যে রুশ জনতাকে একটি বিশৃঙ্খল এবং খারাপ অনুবাদ দ্বারা তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়াকে আমি অনেক বড় অপরাধ মনে করি, কারণ এর ফলে তারা সেই আধ্যাত্মিক লাভ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে, যা বৈদিক শিক্ষা জনতাকে দিয়েছে।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মি. ব্রাউন ইংরেজি লেখকের শ্রদ্ধাঞ্জলি&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;বৈদিক ধর্ম কেবল এক ঈশ্বরকে প্রতিপাদন করে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ধর্ম, যেখানে ধর্ম এবং বিজ্ঞান হাত মিলিয়ে চলে। ধর্মীয় সিদ্ধান্তগুলো এখানে বিজ্ঞান এবং তত্ত্বজ্ঞান বা ফিলোসফির উপর আশ্রিত আছে।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জার্মান দার্শনিক শোপেনহাওয়ারের বেদমূলক উপনিষদ-বিষয়ক বচন&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;সারা বিশ্বে উপনিষদের মতো এত লাভদায়ক এবং উন্নত আর কোনো গ্রন্থ নেই। এটি আমার জীবনে শান্তিপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে ছিল এবং মৃত্যুর সময়েও এটি আমাকে শান্তি প্রদান করবে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফরাসি শ্রী জ্যাকোলিয়ট-এর গুরুত্বপূর্ণ বচন&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;কী আশ্চর্যজনক সত্য! হিন্দুদের ঈশ্বরীয় জ্ঞান (বেদ) এমনই এক বিষয়, যা মানুষের মন্দ ও ক্রমিক রচনাকে ব্যক্ত করে; এটি সকল ঈশ্বরীয় জ্ঞানের মধ্যে এমন এক জ্ঞান, যার কল্পনাগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে পূর্ণরূপে মিলে যায়।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমেরিকান বিদুষী নারী মিসেস হুইলার উইলকক্স লিখেছেন-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আমি প্রাচীন ভারতের ধর্ম সম্পর্কে শুনেছি এবং পড়েছি। এটি সেই মহান বেদের ভূমি, যা অত্যন্ত অদ্ভুত গ্রন্থ। এতে কেবল পূর্ণাঙ্গ জীবনের জন্য উপযোগী ধর্মীয় তত্ত্বই বলা হয়নি, বরং সেইসব তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে যা সমগ্র বিজ্ঞান সত্য বলে প্রমাণ করেছে।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(বেদের যথার্থ স্বরূপ, ধর্মদেব বিদ্যামর্তণ্ড)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এগুলো ছাড়াও আরও অনেক প্রমাণ আছে। এখানে আমার উদ্দেশ্য শুধু এটুকুই ছিল যে আপনারা ভাবুন, যারা বৈদিক মতাবলম্বী নন, সেই বিদ্বান ব্যক্তিরা বেদ সম্পর্কে কী ভেবে এসেছেন। কিন্তু আমার কাছে এই প্রমাণগুলোর খুব একটা গুরুত্ব নেই। এগুলো আমি তাদের জন্য বলছি, যারা বিদেশিদের প্রমাণকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং এমনটা করে নিজেদের আধুনিক ও প্রগতিশীল ভাবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন ঋগ্বেদের প্রথম মন্ত্র নিয়ে আলোচনার আগে এই বিষয়টি বিবেচনা করবো যে, মানুষ যখন পৃথিবীতে এসেছিল, তখন এখানকার অবস্থা কেমন ছিল। সমগ্র পৃথিবীর কিছু অংশই ভূ-ভাগ ছিল, বাকিটা জলময় ছিল। সেই সময় বায়ু, জল, মাটি আদি খুব পবিত্র ছিল। ফল, শাক, অন্ন আদি সবই প্রাকৃতিক রূপে উৎপন্ন হয়েছিল। মানুষ ভূমির গর্ভ থেকে বের হয় এবং বের হয়ে সম্পূর্ণ সৃষ্টি দেখে। বৈদিক বিচারধারা এটি বিশ্বাস করে যে, প্রথম প্রজন্মের মধ্যে আমাদের তুলনায় স্বাভাবিক জ্ঞান অনেক বেশি থাকে। তারা সবাই এই যোগ্য হয় যে যাতে তারা নিজেদের লালন-পালন করতে পারে এবং বংশ চালাতে পারে। আর এমনটা কখন হতে পারে? এমনটা তখনই সম্ভব যখন মানুষ যুবাবস্থায় জন্ম নেয়। কিন্তু তবুও, এমন মানুষও কারো শেখানো ছাড়া নিজের জীবনকে খুব বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না, খুব উন্নতও হতে পারে না। মানুষ অন্যদের থেকে শেখে, তো কোন অন্যদের থেকে শিখবে? সেই সময় তো অন্য বলতে কেবল পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গই ছিল। যদি এদের থেকে শিখতো, তাহলে এদের মতোই হাঁটু গেড়ে চলতো অথবা হাত ও পা ব্যবহার করে হাঁটতো। পশুরা যেমন শিকার করে খায় বা ঘাস খায়, তেমনই খেতো; কিন্তু মানুষ তেমন নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আজও যদি কোনো মানুষের শিশুকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তার ভেতরে বাবা-মায়ের জিন থাকা সত্ত্বেও সে পশুদের মতোই জীবনযাপন করবে। তাই শুরুতে মানুষের অন্য কোনো জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল। সেই সময় চারজন ঋষি অর্থাৎ সেই প্রথম প্রজন্মের মানুষরা -যারা পূর্ব সৃষ্টির সংস্কার ও জ্ঞানের কারণে শ্রেষ্ঠ ছিলেন- য়োগ-সাধনার বলে সমাধি লাভ করে আকাশ বা মনস্তত্ব থেকে কিছু ধ্বনি গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধ্বনিগুলো পশ্যন্তী ও মধ্যমা অবস্থায় ছিল, বিশেষ করে পশ্যন্তী ও পরা অবস্থার ধ্বনিগুলো তাঁরা গ্রহণ করেন এবং সেই ধ্বনিগুলোই বেদ মন্ত্র নামে পরিচিত হয়। ওই চারজন ঋষি যতগুলো ধ্বনি গ্রহণ করেছিলেন, তা ছাড়াও ব্রহ্মাণ্ডে আরও কিছু ধ্বনি ও মন্ত্র বিদ্যমান ছিল; কিন্তু তাঁদের যতটা সামর্থ্য ছিল, তাঁরা ততটাই গ্রহণ করেছিলেন। আর এটা নিশ্চিত যে, সেই চারজন পুরুষ এতটাই সামর্থ্যবান ছিলেন যে তাঁদের চেয়ে বড় সামর্থ্যবান ব্যক্তি এই পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত আর কেউ হয়নি। জগতের মানুষদের জন্য যতটুকু জ্ঞান প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত, তাঁরা সেই পরিমাণ জ্ঞানের তরঙ্গই গ্রহণ করেছিলেন। জ্ঞানের সেই তরঙ্গ বা ধ্বনির মাধ্যমে তাঁরা যে জ্ঞান লাভ করেছিলেন, সেই জ্ঞানের কোন ধ্বনির কী অর্থ, তা পরমেশ্বরই তাঁদের জানিয়েছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথম ধ্বনি হিসেবে প্রথম ছন্দ কী বেরিয়েছিল? সেই ছন্দটি হল-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;অ॒গ্নিমী॑ळे পু॒রোহি॑তং য॒জ্ঞস্য॑ দে॒বমৃ॒ত্বিজ॑ম্। হোতা॑রং রত্ন॒ধাত॑মম্॥&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;স্বর সহিত পদ পাঠ&lt;br data-end=&quot;99&quot; data-start=&quot;96&quot; /&gt;
অ॒গ্নিম্ । ঈ॒লে॒ । পু॒রঃऽহি॑তম্ । য॒জ্ঞস্য॑ । দে॒বম্ । ঋ॒ত্বিজ॑ম্ । হোতা॑রম্ । র॒ত্ন॒ऽধাত॑মম্ ॥&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখানে &#39;অগ্নি&#39;র কিছু বিশেষণ বলা হয়েছে- পুরোহিত, দেব, ঋত্বিক্, হোতা, রত্নধাতম। এগুলো হল অগ্নির বিশেষণ এবং সেই অগ্নির গুণাবলির প্রকাশ করা হয়েছে। বেদের প্রথম শব্দ হল &#39;অগ্নি&#39;, ঐতরেয় ব্রাহ্মণেও প্রথম শব্দ হল &#39;অগ্নি&#39; এবং চার ঋষির মধ্যে প্রথম ঋষি হলেন-অগ্নি। এই &#39;অগ্নি&#39; শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভবত চারটি বেদে &#39;অগ্নি&#39; পদটিই সবচেয়ে বেশিবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে অর্থাৎ সবচেয়ে বেশিবার এসেছে। এই অগ্নির মধ্যে এমন কী আছে? এই অগ্নি এবং অগ্নির বিশেষণ অন্যান্য শব্দগুলো কি সমগ্র সৃষ্টির জ্ঞানের ভূমিকা? এই অগ্নি এবং তার বাচক বিশেষণবাচক শব্দগুলো কি সমগ্র সৃষ্টিতে বসবাসের জন্য লোকব্যবহারের ভূমিকা? অগ্নি এবং তার বিশেষণবাচক শব্দগুলো কি সমগ্র সৃষ্টির আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের ভূমিকা?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জ্ঞান তিন প্রকারের হয়-&lt;/p&gt;&lt;p&gt;1. আধিদৈবিক জ্ঞান- সৃষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;2. আধিভৌতিক জ্ঞান- লোকব্যবহারের জ্ঞান অর্থাৎ সংসারে কীভাবে থাকা উচিত, তার সঙ্গে সম্পর্কিত জ্ঞান।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;3. আধ্যাত্মিক জ্ঞান- চেতন বিজ্ঞান।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই তিনটি ছাড়া চতুর্থ আর কোনো জ্ঞান সম্পূর্ণ সংসারে নেই। চতুর্থ জ্ঞান যেটাই হবে তা এই তিনটির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হবে। এই মন্ত্রটি কি আমাদের এই সৃষ্টিতে বসবাস করা, সৃষ্টিকে জানা, স্রষ্টা এবং নিজের স্বকীয় অর্থাৎ আত্মার জ্ঞানের ভূমিকার নির্দেশ করে? যদি তাই হয়, তাহলে বেদই ঈশ্বরীয় হবে; আর যদি তা না হয়, তাহলে বেদও ঈশ্বরীয় নয় এবং এর অর্থও তেমনই হবে, যেমনটা কোরআন বা বাইবেলের আয়াতের আছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বিশ্বের সকল ইহুদি, ইসলামি ও খ্রিস্টান বন্ধুদের কাছে আমি অনুরোধ করছি যেন তারাও তাদের নিজ-নিজ প্রথম আয়াতগুলো আমাকে জানান এবং তার অর্থ কী তাও বলেন। যদি তারা আমাকে জানান যে তাতে সৃষ্টিবিজ্ঞান, লোকব্যবহার ও আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের কী ভূমিকা আছে, তাহলে আমি এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত আছি এবং যদি বলতে না পারেন, তাহলে এই ভূমিকাটি শুনুন। যদি আপনার আত্মা বলে যে হ্যাঁ, এই ভূমিকা ঠিক আছে, তাহল্ট আমার সাথে আসুন। এটা তো আপনিও মানেন যে বেদ সবচেয়ে প্রাচীন। এর অর্থ এই যে আমাদের পূর্বপুরুষরা পথভ্রষ্ট হয়েছিলেন। আমাদের তো ঋষি দয়ানন্দ সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছেন এবং এর জন্য বলিদানও দিয়েছেন। তিনি কেবল হিন্দু বা আর্যসমাজীদের একার ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির। এটি বড়ই দুর্ভাগ্য যে বিশ্ব তাঁকে আজও বুঝতে পারলো না। কী করা যাবে যখন ভারতের কর্ণধাররাই তাঁকে ভুলে যান, বিদ্বান সমাজ ভুলে যায়, তখন অনেক তথাকথিত দেশপ্রেমিক যদি তাঁর নিন্দা করে, তবে অন্য দেশগুলোর দোষ আর কী হবে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মনস্তত্ত্ব, অহঙ্কার ও মহৎ-এর বিস্তার কতটা, তা কেউ জানে না। এদের চেয়েও বড় বিস্তার প্রকৃতিরূপী পদার্থের এবং তার চেয়েও বড় বিস্তার স্বয়ং পরমাত্মার। এই সবকিছুর মধ্যে পরমাত্মা হলেন চেতন। পরমাত্মা প্রকৃতিকে বিকৃত (রূপান্তর) করে সৃষ্টি তৈরি করেছেন। কোনো পদার্থকে বিকৃত করেই অন্য পদার্থ তৈরি করা যায়। নির্বিকার কখনো পদার্থের অংশ হয় না। জীবাত্মা ও পরমাত্মা দুটোই হল নির্বিকার, তাই তারা কোনো পদার্থ বা সৃষ্টির অংশ নয়, বরং তারা এর নির্মাতা হয়। যেমন রাঁধুনি স্বয়ং মিষ্টি, ডাল-ভাত বা রুটির অঙ্গ হয় না, সে এগুলো তৈরি করে মাত্র। ভোজনের অঙ্গ তো জল, আটা, তেল, ঘি, লবণ, মশলা আদি হয়। প্রকৃতি হল সৃষ্টির অঙ্গরূপ এবং তা থেকে তৈরি হয় পদার্থগুলো। তেমনি সৃষ্টিতে পরমাত্মা আছেন, যিনি সৃষ্টি রচনা করছেন, তাই সম্পূর্ণ সৃষ্টিই হল একটি যজ্ঞ। বেদের মধ্যে বলা হয়েছে- &#39;অয়ম্ হোতা প্রথমঃ পশ্যত ইদম্&#39; অর্থাৎ দেখো! এই পরমাত্মাই সৃষ্টির সবচেয়ে প্রথম &#39;হোতা&#39; অর্থাৎ আহুতি দানকারী। তাঁকে দেখো অর্থাৎ বোঝো। এটি সৃষ্টিযজ্ঞ এবং এর হোতা হলেন অগ্নি, অগ্নি ছাড়া যজ্ঞ হতে পারে না। যেমন হবনকুণ্ডের অগ্নি ছাড়া যজ্ঞ সম্ভব নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;-মহর্ষি য়াস্ক &#39;অগ্নি&#39; শব্দের ব্যুৎপত্তি ব্যাখ্যা করে লিখেছেন &#39;অগ্নিঃ কস্মাৎ? অগ্রণীর্ভবতি। অগ্রম্ য়জ্ঞেষু প্রণীয়তে। অঙ্গম্ নয়তি সন্নমমানঃ।&#39; অর্থাৎ যিনি সবার আগে চলেন, সবার নেতৃত্ব দেন, সবাইকে নিজের পেছনে নিয়ে যান, তিনিই অগ্নি নামে পরিচিত। যেকোনো যজ্ঞে অর্থাৎ সংযোগ ও বিয়োগের প্রক্রিয়ায়, তা কসমোলজিকাল, রাসায়নিক, ভূ-গর্ভস্থ বা জৈবিক আদি যাই হোক না কেন, সবকিছুর আগে অগ্নির প্রয়োজন হয়। &#39;অঙ্গম্ নয়তি সন্নমমানঃ&#39; অর্থাৎ অগ্নি অন্য যেকোনো পদার্থকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিজের মতো করে নেয় বা নিজের দিকে ঝুঁকিয়ে নেয়। এমন অগ্নি কী হতে পারে? অগ্নির অনেক অর্থ আসবে, যার আমি একে-একে ব্যাখ্যা করবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অগ্নির বিষয়ে ঐতরেয় ব্রাহ্মণে মহর্ষি ঐতরেয় মহীদাস বলেছেন- &#39;অগ্নির্বৈ দেবানাম্ বসিষ্ঠঃ&#39; অর্থাৎ অগ্নি সকল দেব পদার্থের মধ্যে সবকিছুর উৎপত্তিকারী এবং ধারণকারী হয়। ধারণকারীদের মধ্যে অগ্নি হল সর্বশ্রেষ্ঠ। মহর্ষি য়াজ্ঞবল্ক্য বলেন- &#39;অগ্নির্বৈ দেবানাম্ মুখম্ প্রজনয়িতা স প্রজাপতিঃ।&#39; অগ্নি বিভিন্ন দেব পদার্থ যথা- কণা, তরঙ্গ, আকাশ আদিকে উৎপন্নকারী অর্থাৎ সবার মুখ স্বরূপ হয়। সেই অগ্নির সাহায্যেই এই দেব পদার্থগুলো জীবিত থাকে অর্থাৎ অগ্নি ছাড়া এদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, তাই এর নাম হল অগ্নি। সবাইকে উৎপন্ন করার কারণে অগ্নিকে প্রজাপতিও বলা হয়। অগ্নি কী? এর উত্তর মহর্ষি য়াজ্ঞবল্ক্য শতপথ ব্রাহ্মণে দিয়েছেন- &#39;বাক্ এবাগ্নিঃ&#39; অর্থাৎ বাক্ তত্ত্ব বা রশ্মিসমূহ অর্থাৎ ছন্দ রশ্মিগুলোই হল অগ্নি। এগুলো অগ্নি হওয়ার কারণ হল, সর্বপ্রথম এই বাক্ তত্ত্বই কম্পন হিসেবে উৎপন্ন হয় এবং তারপর এটিই অন্যান্য কম্পনকে সৃষ্টি করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&#39;অগ্রণীর্ভবতি&#39; অর্থাৎ একটি রশ্মি অন্য রশ্মিগুলোকে সামনে নিয়ে যায় অথবা নিজের পেছনে নিয়ে আসে এবং যখন সংযোগ-বিয়োগের প্রক্রিয়া ঘটে, তখন রশ্মির এই গুণের কারণেই রশ্মিগুলোর বিনিময় হয়। আজ ভৌতিক বিজ্ঞান সম্পর্কে যারা জানেন তারা বলবেন যে মৌলিক বল চারটি হয়, সেগুলোর মধ্যে সংযোগ-বিয়োগের ক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বল কাজ করে। কিন্তু এই বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বল কী? এর স্বরূপ কী? এটি কীভাবে কাজ করে? কেন উৎপন্ন হয়? আদি প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না। কেউ জানলে আমাদের জানাবেন। মিডিয়েটর কণাগুলো কীভাবে তৈরি হয়, এদের ক্রিয়াবিজ্ঞান কী? এটাও কেউ জানে না। কিন্তু আমি বলতে পারি যে এগুলোও বাক্ রশ্মি দ্বারা গঠিত। বাক্, ছন্দ এবং প্রাণ আদি রশ্মির কারণেই মিডিয়েটর কণাগুলোর একে অপরের মধ্যে বিনিময় হতে থাকে অর্থাৎ এগুলো এক্সচেঞ্জ হতে থাকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যদি কেউ বলে যে ছন্দ রশ্মিগুলো তো মন অর্থাৎ সমষ্টি মনের ভেতরে উৎপন্ন হয়। এই বিষয়ে মহর্ষি য়াজ্ঞবল্ক্য লিখেছেন- &#39;মন এবাগ্নিঃ&#39; অর্থাৎ ছন্দ রশ্মিগুলোরও আগে তাদের সামনে নিয়ে যাওয়ার মতো মনস্তত্ব আছে। আবার শতপথ ব্রাহ্মণে মহর্ষি য়াজ্ঞবন্ধ্য বলেন-&#39;অগ্নিরেত ব্রহ্মা&#39; অগ্নিই হল ব্রহ্মা অর্থাৎ এই বাক্ রশ্মিগুলোই সবচেয়ে ব্যাপক এবং শক্তিশালী হয়, এদের বলই সর্বাধিক ব্যাপক হয়। মহর্ষির এদের বিষয়ে আরও একটি বক্তব্য হল-আত্মৈবাগ্নিঃ। আত্মার এখানে দুটি অর্থ আছে একটি হল পরমাত্মা যাকে আমরা আধ্যাত্মিক অর্থে নিবো। আত্মার দ্বিতীয় অর্থ হল সূত্রাত্মা বায়ু। সূত্রাত্মা বায়ু রশ্মিগুলো সমস্ত প্রাণ এবং ছন্দ রশ্মিগুলোর থেকেও সূক্ষ্ম হয়। এইভাবে অগ্নির বাক্, মন, আত্মা আদি অনেক অর্থ হতে পারে। সৃষ্টি নির্মাণে বিভিন্ন স্তরে অগ্নির ভিন্ন-ভিন্ন রূপ থাকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন আমরা প্রথম পর্যায়টি দেখবো। প্রথম পর্যায়ে অগ্নি কী? বাক্। কোন্ বাক্? পরা ওম্। পরা &#39;ওম্&#39; রশ্মিই হল অগ্নির প্রথম রূপ। পরা &#39;ওম্&#39; রশ্মি হল মনেরও আগের অগ্নি, কারণ এটি প্রকৃতিতে উৎপন্ন হয়। এটি প্রকৃতিতে উৎপন্ন হওয়ার পর পরা &#39;ওম্&#39; রশ্মিযুক্ত প্রকৃতি পদার্থই মহৎ নামে পরিচিত হয়, যেটি হল মনস্তত্বের পূর্ববর্তী একটি অবস্থা। সৃষ্টিতে সবার আগে অগ্নি অর্থাৎ পরা &#39;ওম&#39; রশ্মি ছাড়া কোনো কিছুই সৃষ্টি হতে পারে না, তাই সেটিই হল সবার অগ্রণী অর্থাৎ সবাইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি। এই রশ্মি উৎপন্ন হওয়ার পরেই চাঞ্চল্য শুরু হয় এবং তারপরই প্রকৃতিতে বিকার শুরু হয় ও সৃষ্টি প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দ্বিতীয় অগ্নি কী? দ্বিতীয় অগ্নি হল- সমষ্টি মন। যখন সমগ্র সৃষ্টি বা প্রকৃতি পদার্থের মধ্যে পরা &#39;ওম্&#39; রশ্মি সর্বত্র উৎপন্ন হয়ে যায়, প্রকৃতির সেই অবস্থার নাম হল মহৎ, যার অগ্রিম পর্যায় হল- অহংকার এবং তার পরবর্তী পর্যায় হল- মন। এই তিনটিকে ক্রমান্বয়ে এভাবে বোঝা যেতে পারে- যেমন একটি কাঁচা আম, একটি আধাপাকা আম এবং একটি সম্পূর্ণ পাকা আম। এখানে মনস্তত্বকেও অগ্নি বলা হয়েছে, কারণ যতক্ষণ মনস্তত্ব তৈরি হবে না, ততক্ষণ তাতে কোনো রশ্মি উৎপন্ন হতে পারে না। এখন তৃতীয় অগ্নি কী? সেটি হল- আত্মা। আধিদৈবিক ভাষ্যে এর অর্থ পরমাত্মা হিসেবে না নিয়ে আধ্যাত্মিক অর্থে নেওয়া হবে। এখানে আমরা এর অর্থ সূত্রাত্মা বায়ু হিসেবেই গ্রহণ করবো। যদিও মনস্তত্বের পর আরও অনেক রশ্মি উৎপন্ন হয়, যেমন- &#39;ভূঃ&#39;, &#39;ভুবঃ&#39;, &#39;স্বঃ&#39; আদি, কিন্তু এগারোটি প্রাণ রশ্মির মধ্যে সূত্রাত্মা বায়ু সবার আগে উৎপন্ন হয়, তাই এটিও অগ্নি হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর পরবর্তী অগ্নি কাকে বলা হয়েছে? চতুর্থ অগ্নি হল- প্রাণ। সূত্রাত্মা বায়ুর পর প্রাণ নামক প্রাথমিক প্রাণই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়। মহর্ষি য়াজ্ঞবল্ক্য বলেছেন- &#39;প্রাণো বৈ সম্রাট্ পরমম্ ব্রহ্ম&#39; অর্থাৎ প্রাণতত্ত্বই হল ব্রহ্ম বা ব্রহ্মা। অন্যদিকে মহর্ষি তিত্তির বলেছেন- &#39;বলম্ বৈ ব্রহ্মা&#39; অর্থাৎ বলই হল ব্রহ্মা অর্থাৎ প্রাণরূপ অগ্নিই হল ব্রহ্মা। এটি হওয়ার কারণ হল, যতক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টির মধ্যে বল উৎপন্ন হবে না, ততক্ষণ সৃষ্টি এগিয়ে যেতে পারে না। আধুনিক বিজ্ঞান কেবল চার প্রকারের বলের কথা জানে, যেখানে বৈদিক ভৌতিকীর মধ্যে নয়টি বলের কথা বলা হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, আমি আধুনিক বিজ্ঞানের অনুকরণ করছি না। আধুনিক বিজ্ঞানের পক্ষাবলম্বীরা শুনে রাখুন যে, একদিন আপনাদের বৈদিক ভৌতিকীর কাছে আসতেই হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা তা না করবেন, ততক্ষণ এগিয়ে যেতে পারবেন না। আমি কাউকে অনুকরণ করতে বলছি না, আমি শুধু এটুকুই বলছি যে, আপনারা বৈদিক বিজ্ঞান গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করুন। যদি আপনাদের মনে হয় আমার কথাগুলো যুক্তিযুক্ত, আপনাদের ভৌতিকী এবং আপনাদের জন্য তা লাভজনক হয়, আপনাদের কোনো নতুন দিশা দেখাতে পারে এবং এমন পরিণাম দিতে পারে, যা আপনাদের বড়-বড় ল্যাবরেটরিগুলো দিতে পারছে না, তাহলে আমার কথাগুলো একবার ভেবে দেখবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সৃষ্টির সর্বপ্রথম এবং মূল বল বা শক্তি হল ঈশ্বরের, সেটি এখানে আলোচ্য নয়, কারণ তা আধ্যাত্মিকতার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। পরা ওম্ রশ্মির দ্বারা যে বল উৎপন্ন হয়, সেই বল হল অগ্নি। অগ্নির একটি অর্থ হল বিদ্যুৎ। যতক্ষণ বিদ্যুৎ আবেশ উৎপন্ন হবে না, ততক্ষণ কণাগুলো নিজেদের মধ্যে মিলবে না। অগ্নির আরও একটি অর্থ হল- তাপ। অগ্নির বিভিন্ন অর্থ বিভিন্ন স্তরে আলাদা-আলাদা হয়।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;5. প্রথম বেদমন্ত্রের বৈজ্ঞানিক রহস্য&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ও৩ম্ অ॒গ্নিমী॑ळे পু॒রোহি॑তং য॒জ্ঞস্য॑ দে॒বমৃ॒ত্বিজ॑ম্।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হোতা॑রং রত্ন॒ধাত॑মম্॥&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ঋগ্বেদের প্রথম মন্ত্রে &#39;অগ্নি&#39;র ছয়টি অর্থ আছে এবং অগ্নির এই ছয়টি প্রকার পৃথক-পৃথক স্তরে সংযোগ-বিয়োগের প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে আগে প্রয়োজন হয়। আমি অগ্নির সর্বশেষ অর্থ হিসেবে উষ্মা (তাপ) বলেছিলাম। আধুনিক বিজ্ঞানও এই কথা জানে যে যতক্ষণ পর্যন্ত তাপ উৎপন্ন না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আধুনিক বিজ্ঞান স্বীকার করে যে যতক্ষণ পর্যন্ত এই ব্রহ্মাণ্ডে বিদ্যুৎ আবেশ উৎপন্ন হয় না, ততক্ষণ কোনো পদার্থ উৎপন্ন হয় না, কিন্তু তাপ অথবা ফোটন হল বৈদিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত স্থূল। যারা মনে করেন যে আমি আধুনিক বিজ্ঞানের পেছনে চলছি এবং সেইসব বিষয়ই খুঁজছি যা আধুনিক বিজ্ঞান ইতিমধ্যে খুঁজে পেয়েছে, তারা জেনে রাখুন যে আমি অগ্নির যে চারটি অর্থ- বাক্, মন, প্রাণ এবং সূত্রাত্মা বায়ু বলেছি, সেগুলো সম্পর্কে আধুনিক ভৌতিক বিজ্ঞান সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আধুনিক ভৌতিকীর সৃষ্টিকে বোঝার সীমা যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকে বৈদিক ভৌতিকী (পদার্থবিজ্ঞান) শুরু হয়। বৈদিক ভৌতিকী মূলকণাসমূহ থেকে ছয় স্তর সূক্ষ্ম পদার্থের ব্যাখ্যা করতে পারে। এইভাবে বৈদিক ভৌতিকী আধুনিক বিজ্ঞান থেকে ছয় স্তর এগিয়ে সৃষ্টিকে বুঝতে পারে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই মন্ত্রের মধ্যে অগ্নির বিশেষণ হিসেবে পুরোহিত, দেব, ঋত্বিজ, হোতা এবং রত্নধাতম বলা হয়েছে। এবার এই বিষয়ে আলোচনা করা করবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;1. পুরোহিত - অগ্নির সর্বপ্রথম বিশেষণ হল পুরোহিত। পুরোহিত কাকে বলে? আজকাল এই শব্দটি কথিত জাতিবাচক হয়ে গেছে। এক জায়গায় শুনেছি যে এই মন্ত্রটি দেখে লোক বলে যে এটি পুরোহিতের মন্ত্র। আমাদের দেশে এই ধরণের অশিক্ষিত মানুষের অনেক ধারণা প্রচলিত আছে। পুরোহিত শব্দের অর্থ হল য়ঃ পুরস্তাৎ সর্বম্ জগদ্ দধাতি ছেদনাকর্ষণগুণাভ্যাম্। এই নির্বচন ঋষি দয়ানন্দ করেছেন। এই মন্ত্রের ভাষ্যে তিনি বলেছেন- যা এই জগৎকে আগে থেকে ধারণ করে, যার ছেদন, ধারণ, আকর্ষণ, প্রতিকর্ষণ আদি গুণ আছে, তাকে পুরোহিত বলে।&amp;nbsp;নিরুক্তকার পুরোহিত শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন- &#39;পুরোহিতঃ পুর এনম্ দধতি&#39; অর্থাৎ যেটি কোনো পদার্থকে সম্মুখে ধারণ করে। মহর্ষি জৈমিনিও ঠিক এটাই বলছেন-&#39;প্রথমঃ পুরোহিতমিতি পুর এব এনমেতদ্ দধতে। য়দগ্নিমাদধতে&#39; অর্থাৎ যেটি কোনো পদার্থকে সামনে থেকে বা সম্মুখে ধারণ করে, তাকে পুরোহিত বলে। যেমন আমি কোনো পদার্থ বা কোনো ব্যক্তিকে ধরি, তাহলে আমি আমার সামনের দিক থেকে ধরবো, পেছন থেকে নয়। তেমনই অগ্নি পদার্থ অথবা বাক্, মন, প্রাণ, সূত্রাত্মা বায়ু, বিদ্যুৎ, তাপ যা-ই হোক না কেন, এগুলোর সামনে যে পদার্থই আসবে, এগুলো তাকে তার সম্মুখ থেকে গ্রহণ বা ধারণ করে, আকর্ষিত অথবা বিকর্ষিত করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথমে বাক্-কে নেওয়া যাক। বাক্ কী? সবচেয়ে প্রথম বাক্ হল- ওম্। যত বেদমন্ত্র ও ছন্দ রশ্মি আছে, সেগুলো সবই বাক্-এর রূপ, কিন্তু তাদের মধ্যে প্রথম বাক্ হল ওম্। এর আগে এই ব্রহ্মাণ্ডে কোনো কম্পন ছিল না। আধুনিক বিজ্ঞানীরাও মানেন যে ধ্বনি তরঙ্গ বা পদার্থের ফ্লাকচুয়েশন (কম্পন) থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনের কারণও শব্দ তরঙ্গ হয়। কিছু বিজ্ঞানী বলেন যে ডার্ক ম্যাটার থেকেও ধ্বনি তরঙ্গ নির্গত হয়। আমি বলি যে শুধু সেগুলো থেকেই নয়, প্রতিটি পদার্থ থেকেই ধ্বনি তরঙ্গ নির্গত হয়। ঐ বিজ্ঞানীদের জানা নেই যে সেই ধ্বনি তরঙ্গগুলো কোনগুলো? ধ্বনি তরঙ্গ যদি কোনো কণা থেকে নির্গত হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই সেগুলো বাণীর মধ্যমা অবস্থায় থাকবে। তার আগে সেগুলো পশ্যন্তী অবস্থায় থাকে। যখন কণা তৈরি হয় না, তখনও ধ্বনি তরঙ্গ থাকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কেউ মন্তব্য করেছিলেন যে ধ্বনি তরঙ্গ বা কম্পনের জন্য কোনো মাধ্যম থাকা প্রয়োজন। হ্যাঁ, বৈখরী তরঙ্গ বা ধ্বনিগুলোর জন্য মাধ্যম দরকার হয়, যেমন- হাওয়া, জল, ধাতু বা অন্য কোনো কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ। এগুলো ছাড়া আমরা বাণী শুনতে পাবো না, তবে এর অর্থ এই নয় যে বাণী উৎপন্নই হবে না। বৈখরীর পর বাণীর মধ্যমা অবস্থা আসে, তার জন্য এই সব মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না; কারণ সেগুলো ইলেকট্রিক সিগন্যাল রূপে গমন করে। মধ্যমা বাণী গমনের জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়? এর জন্য আকাশ তত্ত্ব অর্থাৎ স্পেস প্রয়োজন। বাণীর মধ্যমা থেকেও যে সূক্ষ্ম অবস্থা আছে, সেটি হল পশ্যন্তী। আমি বাণীকে ধ্বনি বা সাউন্ড বলি না, এর জন্য বৈদিক শব্দ &#39;বাক্&#39; আছে। বাণীর এই সূক্ষ্ম স্তরের জন্য আকাশেরও প্রয়োজন নেই। স্পেস অর্থাৎ আকাশ হল একটি নির্মিত পদার্থ, এর অর্থ শূন্যস্থান নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আকাশ হল এমন একটি পদার্থ, যা প্রসারিত ও সংকুচিত হয় এবং এর মধ্য দিয়ে কণা, তরঙ্গ আদি কোনো বাধা ছাড়াই এপার-ওপার চলে যায়। আকাশ সম্পূর্ণ শূন্য স্থান পূরণ করে আছে, কিন্তু সেটি নিজে শূন্য নয়। এটি আমাদের জন্য এবং কণা, তরঙ্গ আদির জন্য শূন্যতা বা খালি জায়গা হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও সূক্ষ্ম ছন্দ ও প্রাণ রশ্মি এবং মনের জন্য তা খালি নয়; কারণ মন, প্রাণ ও সূক্ষ্ম ছন্দ রশ্মি আদি দিয়েই সেই আকাশ তত্ত্ব (স্পেস) তৈরি হয়েছে। পশ্যন্তী বাণীর জন্য মনস্তত্ত্ব মাধ্যম হিসেবে প্রয়োজন, যা সম্পূর্ণ সৃষ্টিতে ভরে আছে। পরা বাণীর জন্য প্রকৃতি ছাড়া আর কিছুরই প্রয়োজন নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রকৃতি অর্থাৎ মূল পদার্থ, যে বিষয়ে আধুনিক বিজ্ঞান জানে না এবং তার ভৌতিক উপকরণের মাধ্যমে কখনো জানতেও পারবে না, সেই মূল পদার্থের মধ্যে সর্বপ্রথম যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি হল- পরা &#39;ওম&#39; রশ্মি অর্থাৎ সেই সময় সৃষ্টির প্রথম অগ্নি উৎপন্ন হয়েছিল এবং সেই অগ্নি কী করে? এই মন্ত্রের ভাষ্যে ঋষি দয়ানন্দ &#39;পুরোহিত&#39; শব্দের অর্থ করতে গিয়ে এই &#39;ওম্&#39; রশ্মি বা অগ্নির আটটি গুণের কথা বলেছেন, যা হল- রূপ (কোনো কিছুর দৃশ্যমান হওয়া), আকাশ (আকার), দাহ (গরম), প্রকাশ, বেগ, ছেদন, ধারণ এবং আকর্ষণ আদি। এখানে আদি বলতে আমরা বিকর্ষণ গুণকেও গ্রহণ করবো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন এই আটটি গুণের মধ্যে আলোক (প্রকাশ) কীভাবে উৎপন্ন হয়, তা কেউ জানে না। বর্তমান বিজ্ঞানীরা বলেন যে, ফোটন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসে, এ পর্যন্ত ঠিক আছে; কিন্তু ফোটনের মধ্যে এই গুণ কোথা থেকে এলো যে সে কোনো বস্তুর রূপ দেখাবে? তার মধ্যে আলোর গুণ কোথা থেকে এলো? তার মধ্যে তাপের গুণ কোথা থেকে এলো? তার সাথে অন্য কোনো কণার পার্থক্য কী বা এক্স-রে এবং রেডিও আদি তরঙ্গের সাথে পার্থক্য কী? সেই পার্থক্য কি কেবল কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সির হয়? যদি পার্থক্য ফ্রিকোয়েন্সির হয়, তাহলে ফ্রিকোয়েন্সিতে এই পার্থক্য কেন এলো?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একটি মোটরসাইকেল 100 কিমি প্রতি ঘন্টা গতিতে চলে এবং একটি বিমান 700-800 কিমি প্রতি ঘন্টা গতিতে চলে। দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী? উভয়ের গতির মধ্যে কী পার্থক্য আছে? পার্থক্য কি কেবল এটাই যে একটি বিমান আর অন্যটি মোটরসাইকেল? নাকি অন্য কোনো কারণে এই পার্থক্য? আপনারা জানেন যে, এর কারণ হল তাদের গঠনের পার্থক্য। যদি মোটরসাইকেল এবং বিমানের গঠনের মধ্যে পার্থক্য না থাকতো, তবে বিমান কখনোই মোটর-সাইকেলের চেয়ে দ্রুত চলতে পারতো না। দুটি গাড়ির স্পিডের মধ্যে পার্থক্য আছে, এর অর্থ হল তাদের গঠনের মধ্যেও পার্থক্য আছে। বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic wave) সেটি রেডিও তরঙ্গ হোক বা এক্স-রে বা গামা বা আল্ট্রা ভায়োলেট আদি যাই হোক না কেন, তাদের স্পিডের কোনো পার্থক্য নেই, কিন্তু তাদের গুণের মধ্যে পার্থক্য আছে। গুণের মধ্যে পার্থক্য অর্থাৎ তাদের কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে পার্থক্য আছে। কম্পাঙ্কের মধ্যে কেন পার্থক্য আছে? এটা স্পষ্ট যে কোথাও না কোথাও তাদের যে অভ্যন্তরীণ গঠন আছে, তাতে পার্থক্য আছে এবং সেই অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে কেউ জানে না। যদি কেউ জানেন, তাহলে আমাকে বলুন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমরা বলছি যে, এই তরঙ্গ বা যেকোনো কণার অভ্যন্তরীণ গঠন কী? এগুলো সবই ছন্দ এবং প্রাণ-রশ্মি বা কম্পন দিয়ে তৈরি এবং সেগুলো যা কিছু ক্রিয়া করে, তা অভ্যন্তরীণ গঠনের কারণেই করে। আমি কথা বলছি, তবে এতে কি আমার অভ্যন্তরীণ গঠনের কোনো ভূমিকা নেই? যদি আমার কণ্ঠনালি খারাপ হয়ে যায়, তবে আমি কথা বলতে পারবো না অথবা মস্তিষ্কের যে অংশটি কথা বলতে সাহায্য করে সেটি যদি খারাপ হয়ে যায়, তবে আমি কথা বলতে পারবো না। একজন ব্যক্তি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে, অন্য একজন হাঁটতেও পারে না, কারণ দুজনের গঠনের মধ্যে পার্থক্য আছে। যে দুটি কণা বা তরঙ্গের গুণের মধ্যে পার্থক্য আছে, সেগুলো নিশ্চিতভাবে ভিন্ন-ভিন্ন রশ্মি দিয়ে তৈরি, কিন্তু তাদের মধ্যে একটি বিষয় সমান যে উভয়ের মধ্যেই &#39;ওম্&#39; রশ্মি আছে। যখন কোনো ক্রিয়া হয়- যেমন ধরুন, আমি এই টেবিলে আঘাত করলাম এবং তা থেকে শব্দ বের হল। কেউ কি বলতে পারেন শব্দ কীভাবে এলো? আমি এর ব্যাখ্যা করবো না, তবে এখান থেকে যে তরঙ্গগুলো বের হয়েছে, তাদের ভেতরে যে রশ্মিগুলো আছে এবং সেই রশ্মিগুলোরও ভেতরে যে সবচেয়ে চূড়ান্ত রশ্মিটি আছে, যার এই ব্রহ্মাণ্ডে মৌলিক ভূমিকা আছে, সেটি হল- &#39;ওম্&#39; রশ্মি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&#39;ওম্&#39; রশ্মি ছাড়া এই ব্রহ্মাণ্ডে কোনো কাজ কখনো হয়নি এবং কখনো হতেও পারে না। তাই যারা বলেন যে ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, তা একেবারে সত্য। কিন্তু তাঁর ইচ্ছা আমাদের মানুষের ইচ্ছার মতো নয়। এর অর্থ এই নয় যে আমরা কিছুই নই, আমরাও সচেতন। আমাদের শরীরে যে ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা জাগে, তা আমাদের নিজেদের, ঈশ্বরের নয়। কিন্তু আমাদের শরীর যে কণাগুলো দিয়ে তৈরি, তার ভেতরে যে ক্রিয়াগুলো চলছে, তাতে চূড়ান্ত ভূমিকা এই &#39;ওম&#39; রশ্মিরই হয়। যেমন আমি এই পুস্তকটি তুললাম, এখানে হাতের ভূমিকা আছে, কিন্তু হাতের পেছনে কার ভূমিকা? মাংসপেশির। মাংসপেশির পেছনে কার ভূমিকা? বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের। তার পেছনে কি কোনো ভূমিকা আছে? অনেকগুলো ছন্দ রশ্মির। তাদের পেছনেও কি কোনো ভূমিকা আছে? এভাবে শেষ পর্যন্ত &#39;ওম্&#39; রশ্মিরই ভূমিকা আসবে। তাই, &#39;ওম্&#39; রশ্মিই যেকোনো পদার্থকে সামনে থেকে ধারণ করে, সেটি ফোটন হোক বা ইলেকট্রন অথবা অন্য যেকোনো ছন্দ রশ্মি। এজন্যই বাক্য তত্ত্ব (পরা &#39;ওম্&#39;)-ই হল অগ্নি এবং এটিই হল পুরোহিত। অগ্নির জন্য &#39;পুরোহিত&#39; শব্দটি এখানে সার্থক হচ্ছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন মন নিয়ে বিচার করা যাক। মন কী? মন হল একটি পদার্থ। বাক্ তো হল মন বা প্রকৃতির ভেতরের একটি কম্পন, কিন্তু মন হল সেই পদার্থ, যা কম্পিত বা স্পন্দিত প্রকৃতির রূপ হয়। মহৎ, অহঙ্কার ও মন- তিনটিই এক, শুধু স্তরের কিছুটা পার্থক্য আছে। মনের মধ্যে বাক্ আছে এবং বাক্-এর মধ্যে মন আছে। বিষয়টি এভাবে বোঝা যেতে পারে যেমন আপনি পুকুরের পাড়ে বা সমুদ্রের ঢেউ দেখছেন; তাহলে ঢেউ কী? ঢেউয়ের ভেতরে জল আছে এবং জলের ভেতরে ঢেউ আছে, অর্থাৎ ঢেউ জল থেকে আলাদা নয় এবং জলও ঢেউ থেকে আলাদা নয়। তাহলে ঢেউ এবং জলের মধ্যে পার্থক্য কী? পার্থক্য হল এই যে, যখন জলে স্পন্দন নেই, তখনও সেটি জল হয়। জল তখনই ঢেউ হয়, যখন তা স্পন্দিত হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একইভাবে স্পন্দিত হতে থাকা মনই হল বাক্ রূপ। এজন্যই মহর্ষি জৈমিনিকে বলতে হয়েছে- &#39;বাগিরিতি মনঃ&#39; অর্থাৎ এই বাক্-ই হল মন এবং মহর্ষি ঐতরেয় মহীদাস বলেছেন- &#39;বাক্ চ মনশ্চ দেবানাম্ মিথুনম্&#39; অর্থাৎ বাক্ এবং মন, এই দুটিরই যুগ্ম হয়। যতক্ষণ মনে স্পন্দন নেই, ততক্ষণ সেটি থেকে কিছু তৈরি হতে পারে না। স্পন্দন হলে তবেই সৃষ্টি হবে। যেমন আমরা যদি ঘুমিয়ে থাকি, আমাদের হাত-পা না নড়ে, তবে আমাদের থাকা বা না থাকার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু যখনই আমাদের মধ্যে নড়াচড়া আসবে, স্পন্দন হবে, তখনই আমরা কোনো কাজ করতে পারবো। একইভাবে, বাক্-যুক্ত মনই সৃষ্টির পরবর্তী পর্যায়ের পদার্থসমূহ উৎপন্ন করে। এই কারণে এই মনও অগ্নির একটি রূপ হয় এবং সেইজন্য একেও পুরোহিত বলা হয়েছে। মন ছাড়া বাক্ উৎপন্ন হতে পারে না। খেয়াল রাখবেন, এখানে পশ্যন্তী বাক্-এর কথা বলা হচ্ছে, পরা বাক্-এর নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অগ্নির তৃতীয় রূপ হল- আত্মা। মনের পর এগারো প্রকারের প্রাণ-রশ্মি উৎপন্ন হয়, তাদের মধ্যে প্রথম স্থান হল সূত্রাত্মা বায়ুর। সূত্রাত্মার অর্থ কী এবং এর গুণাগুণ কী? আধিদৈবিক অর্থে আত্মার অর্থ হল সূত্রাত্মা বায়ু। এই রশ্মি এগারোটি প্রাণ রশ্মির মধ্যে প্রথম রশ্মি এবং এর কাজ হল যেকোনো পদার্থকে আকর্ষণ করা। এই ব্রহ্মাণ্ডে যেখানেই আকর্ষণ বল আছে, সেখানে মন এবং বাক্ তো থাকেই, কিন্তু সূত্রাত্মা বায়ুও অবশ্যই বিদ্যমান থাকে। এর রশ্মিগুলো এমন হয় যে একটি রশ্মি থেকে আরেকটি বের হয়, যেমন গাছের কাণ্ড, তারপর ডালপালা এবং এরপর প্রশাখা। যখন দুটি কণা কাছে আসে, তখন তাদের থেকে অনেক রশ্মি বের হয়, কিন্তু সেই কণাগুলোকে বেঁধে রাখার কাজ সূত্রাত্মা বায়ু করে। যেমন একটি ঘড়ি আছে, ঘড়ির চারপাশেই সূত্রাত্মা বায়ুর বেষ্টনী থাকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সৃষ্টিতে যত লোক-লোকান্তর, গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র, কণা, ফোটন আদি আছে, সবই সূত্রাত্মা বায়ু দিয়ে ঘেরা থাকে। যেমন আমাদের শরীর চামড়া দিয়ে ঘেরা থাকে। কেবল সূত্রাত্মা বায়ুই নয়, এর থেকেও বড় কিছু রশ্মি আছে, তাদের মধ্যে বৃহতী নাম হল প্রধান। কিন্তু এখানে প্রথমটির কথা বলা হচ্ছে, তাই সূত্রাত্মা বায়ুকে অগ্নি বলা হয়েছে। যখন দুটি কণা সংযোগের জন্য কাছে আসে, তখন উভয়ের চারপাশেই সূত্রাত্মা বায়ুর ঘের থাকে। দুটি কণা নিকটে আসার পর সূত্রাত্মা বায়ু মাঝখান থেকে সরে গিয়ে একটি সংযুক্ত আবরণ তৈরি করে নেয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অগ্নির যে গুণগুলো আছে, সেগুলো সূত্রাত্মা বায়ুর মধ্যেও আছে। অগ্নিও সামনে থেকে ধরে এবং সূত্রাত্মা বায়ুও। যেমন দুটি সংযোজ্য কণা, এই দুটি থেকে রশ্মি বের হয়, এই রশ্মিগুলোকে সূত্রাত্মা বায়ু সামনে থেকে ধরে এবং এইভাবে দুই কণাকে আঁকড়ে ধরে সংযুক্ত করে দেয়, তাই সূত্রাত্মা বায়ু হল পুরোহিত এবং সূত্রাত্মা বায়ুরূপ অগ্নিও হল পুরোহিত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সূত্রাত্মা বায়ুর পর যে প্রথম প্রাণ রশ্মি উৎপন্ন হয়, তার নাম হল- ধনঞ্জয়। ধনঞ্জয়ের পরে উৎপন্ন হওয়া দশটি রশ্মি মিলিয়ে এগারোটি রশ্মিকে প্রাণ বলে, কিন্তু সেই এগারোটির মধ্যে একটি রশ্মির নিজের নামও হল প্রাণ। যখন পাঁচটি মুখ্য প্রাণের আলোচনা আসবে, তখন প্রাণ, অপান, ব্যান, উদান ও সমানকে গ্রহণ করা হবে। যখন সাতটি মুখ্য প্রাণ বলা হয়, তখন সূত্রাত্মা এবং ধনঞ্জয় আরও যুক্ত হয়ে যাবে এবং যখন এগারোটি প্রাণের কথা বলা হবে, তখন নাগ, কূর্ম, কৃকল, দেবদত্ত, ধনঞ্জয়- এই পাঁচটি উপপ্রাণও যুক্ত হবে। প্রাণ রশ্মির গুণ হল এরমধ্যে আকর্ষণ বল থাকে। অপানে বিকর্ষণ বল থাকে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমি &#39;বিগ ব্যাং থিওরি&#39; মানি না। &#39;বিগ ব্যাং থিওরি&#39;-র নামে বিশ্বে অনেক মিথ্যে চলছে। স্পেস প্রসারিত হচ্ছে, পদার্থ প্রসারিত হচ্ছে অথবা যা কিছু প্রসারিত হচ্ছে, তার আলোচনা আমি এখানে করবো না। বৈদিক ভৌতিকীর অনুসারে, যখন সৃষ্টির উৎপত্তি হয়, তখন পদার্থ প্রসারিত হয় না, বরং সংকুচিত হয়। প্রলয়াবস্থায় পদার্থ সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডে ছড়িয়ে ছিল, তারপর তা ঘনীভূত অর্থাৎ কন্ডেন্স হয়েছে। ঘনীভূত হওয়ার ফলেই সৃষ্টি তৈরি হয়। প্রসারিত হতে থাকা পদার্থ কীভাবে একে-অপরের সাথে ঘনীভূত হয়ে কোনো কণা বা নক্ষত্র হতে পারে? এই তথাকথিত সিদ্ধান্তের পিছনে কোনো যুক্তি নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন পদার্থ ঘনীভূত কীভাবে হল? তা ঠিক তেমনই, যেমন দই মন্থন করার আগে মাখন পুরো দইয়ের মধ্যেই থাকে, কিন্তু যখন মন্থন করা হয়, তখন দই থেকে ঘনীভূত হয়ে তার কণাগুলো একে-অপরের সাথে জুড়ে যায় এবং আলাদা হয়ে মাখন উপরে চলে আসে। একইভাবে যখন সৃষ্টিতে বিক্ষোভ বা চাঞ্চল্য তৈরি হয়, যখন মনস্তত্ত্বে কম্পন শুরু হয়, তখন বিভিন্ন ধরণের রশ্মি উৎপন্ন হয়, তা প্রাণ রশ্মিই হোক বা ছন্দ রশ্মি। এই ছন্দই হল বেদমন্ত্র, যার মধ্যে একটি হল- &#39;অ॒গ্নিমী॑ळे পু॒রোহি॑তং...&#39;; এই সবগুলোতে প্রাণ রশ্মির ভূমিকা অনেক বেশি থাকে। তাই এই প্রাণ রশ্মিও পুরোহিত হয়, কারণ এটি যে কোনো কণা অথবা ফোটনের আগে গমন করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যদি কোনো বিজ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে ফোটন কেন প্রতিনিয়ত চলে? তবে এর কোনো নিশ্চিত উত্তর তাদের কাছে নেই। আমি একটি পাথর তুলে নিয়ে ছুড়ে দিলাম। আমি পাথরটির সাথে কী করলাম যে এটি সামনে এগিয়ে যাচ্ছে? আপনি বলবেন যে গতিজ উর্জা। আবার প্রশ্ন উঠবে যে গতিজ উর্জা আসলে কী? এটি তো আপনি নাম দিয়েছেন। সেই গতিজ উর্জা আসলে কী, যা আমার হাত থেকে পাথরে স্থানান্তরিত হল? বস্তুতঃ প্রতিটি কণার সামনে প্রাণ এবং অপান রশ্মি পথ তৈরি করতে-করতে চলে। সামনে থেকে এই রশ্মিগুলো সেই কণাগুলোকে ধারণ করে নিয়ে চলে। যেমন যখন কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি যান, তখন পুলিশের গাড়ি সামনে রাস্তা খালি করতে-করতে চলে, ঠিক তেমনই কিছু রশ্মি আগে-আগে চলে, তাদের মধ্যে একটি প্রাণ রশ্মিও আছে। এইভাবে এই প্রাণও পুরোহিতের কাজ করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন পরবর্তী বিষয়টি হল- বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ কী? আধুনিক ভৌতিকীতে এর কোনো সংজ্ঞা নেই। রিচার্ড পি. ফাইনম্যান লিখেছেন যে বিদ্যুৎ কী, তা আমরা সংজ্ঞায়িত করতে পারি না এবং এর স্বরূপ কী, তা আমরা ঠিকঠাক বলতে পারি না। যখন আমি একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম, তখন আমি রুড়কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌতিক বিভাগকে প্রশ্ন করেছিলাম যে চার্জ কী? এটি কীভাবে উৎপন্ন হয়? সবার আগে এটিকে কে উৎপন্ন করে? তখন বিভাগের রিডার উত্তর দিয়েছিলেন যে চার্জ হল একটি মৌলিক রাশি, যাকে বিশ্বের কেউ জানে না। এটি কীভাবে এবং কে উৎপন্ন করে, এর উত্তর তো এটাই হতে পারে যে এটি ভগবান উৎপন্ন করেছেন। সেই চিঠিটি আজ অবধি আমার কাছে আছে। বিদ্যুতের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক হয়, এখানে তার আলোচনা করবো না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আধুনিক বিজ্ঞান বলে যে, যখন দুটি ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক আবেশযুক্ত কণার মধ্যে আকর্ষণ হয়, তখন মিডিয়েটর কণাগুলোর আদান-প্রদান হতে থাকে। ওই সংযোজক কণাগুলোও সেই কণাগুলোকে একই দিকে আকর্ষণ করে, যেদিকে ওই কণাগুলো অগ্রসর হচ্ছে। উভয় কণা থেকে রশ্মি নির্গত হতে থাকে, তাই মিডিয়েটর কণাও সেই দিক থেকেই আকর্ষিত করবে, অন্য দিক থেকে নয়। এই কারণে বিদ্যুৎও হল পুরোহিত, যা সবাইকে ধারণ ও পোষণ করে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি ছাড়া চার্জ বা আবেশ শেষ হয়ে যাবে। যদি ব্রহ্মাণ্ডে আবেশ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সংসার ভেঙে পড়বে, কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাই বিদ্যুৎ আবেশও পুরোহিতের কাজ করে এবং এটিও অগ্নি হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এখন পর্যন্ত আমি যা বলেছি, তা আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক উর্ধ্বে এবং এখন যা বলছি, সেখানে আধুনিক বিজ্ঞানের পৌঁছানোর ক্ষমতা থাকলেও তা অসম্পূর্ণ। কারণ তারা জানে না যে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বল, প্রবল নিউক্লীয় বল আদি কীভাবে কাজ করে, তাদের ক্রিয়া-বিজ্ঞান কী? গুরুত্বীয় বল কীভাবে কাজ করে, কেন করে- এসব তাদের জানা নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উষ্মার (তাপের) উপস্থিতিতেই সব কাজ সম্পন্ন হয়। যদি উষ্মা শেষ হয়ে যায়, তাহলে&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ব্রহ্মাণ্ডে কোনো ক্রিয়া হবে না। উষ্মা শেষ হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাপমাত্রা ০° সেন্টিগ্রেড হয়ে&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাবে, এটি তো আমরা পরিমাপ করেছি। অনন্ত শীতলতা নেমে এলে কোনো কম্পন থাকবে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এইভাবে এই অগ্নি পুরোহিতও হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;2. দেবম্ - অগ্নির দ্বিতীয় বিশেষণ হল- দেবম্। অগ্নিও দেব হয়। দেব-এর জন্য মহর্ষি য়াস্ক লিখেছেন- &#39;দেবো দানাদ্ধা। দীপনাদ্ধা। দ্যোতনাদ্ধা। দ্যুস্থানো ভবতীতি বা। য়ো দেবঃ সা দেবতা।&#39; (নি.7.15) অর্থাৎ, যে পদার্থ বল দান করে, অন্যকে আলোকিত করে এবং যা দ্যুস্থানীয় হয়, তাকে দেব বলে। দ্যুস্থানীয়-এর অর্থ হল যে দ্যুলোকে বাস করে, সে-ই হল দেব।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;u&gt;&lt;a href=&quot;https://www.ধর্ম্মতত্ত্ব.com/p/blog-page_09.html&quot; rel=&quot;nofollow&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;Cont..&amp;gt;&lt;/a&gt;&lt;/u&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/feeds/63460450017884042/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/2026/06/rigved1stmantra.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default/63460450017884042'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default/63460450017884042'/><link rel='alternate' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/2026/06/rigved1stmantra.html' title='ঈশ্বরের প্রথম উপদেশ কোনটি ও কেন ?'/><author><name>Unknown</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEitaxGqecve7dtdEoxB7uZtRMLFJq5op9tkDzoZ6iJaWeERmPh9DNBylAUSBBrm3ijUfckAMMsY3zqLZX_BTgIweoqNg4qwVmu_Nuf32ONUroKcG6h3bdpTeaZoZubAxTxORWXG6HtNLWb8O06aiZhcsrL2ACxpl7NQxUEM24qOkDJDTy8eTlHK65TU6KpE=s72-w320-h143-c" height="72" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7221434730492019409.post-8976204765468113791</id><published>2026-05-13T21:23:26.111+05:30</published><updated>2026-05-15T18:58:56.658+05:30</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="আলোচনা"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ইসলাম"/><title type='text'> ইসলামের পাঁচস্তম্ভ</title><content type='html'>&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;&lt;b&gt;ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;পাঁচটি মূল নীতি ও ধর্মাচরণের উপর ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে। এদেরকে বলা হয় ইসলামের ভিত্তি বা পাঁচ স্তম্ভ। এগুলো হলো (১) কলেমা, (২) নামাজ, (৩) রোজা, (৪) জাকাত ও (৫) হজ।&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;&lt;b&gt;প্রথম স্তম্ভ কলেমা:&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কলেমা হল ইসলামের ছয়টি মূল মন্ত্র, যথা (১) কলেমা তৈয়ব, (২) কলেমা শাহাদাৎ, (৩) কলেমা তৌহীদ, (৪) কলেমা তামজীদ, (৫) কলেমা রদ্দে কুফর এবং (৬) কলেমা তাহমীদ। এই ছয়টি কলেমায় বিশ্বাস স্থাপন করার নাম ঈমান। ঈমান শব্দের অর্থ হল বিশ্বাস। কাজেই কলেমায় দৃঢ় ও আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন না করলে কেউ ঈমানদার বা বিশ্বাসী মুসলমান হতে পারে না। উপরিউক্ত ছয়টি কলেমার মধ্যে প্রথম কলেমা বা কলেমা তৈয়ব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বলা যায় ইসলামের প্রাণ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEiihdmKgf97847KZqHWYJoGZtwJ3Os5OsiTbztDOR-XZq3jzzc_lO_-wTWhwvyXW351osjL7u-cdBTwcqREejc8n3QhpD9ad3VOiZVQ4HyE3M9JHFMOuI7CzhvKGfK9ibZ-Mz97OpdDUC4yvbMaAZyyDYgJ7ra_HNm-2Z8iCIVOmkWFNmn44vTqgdm7Uvpx&quot; style=&quot;clear: left; float: left; margin-bottom: 1em; margin-right: 1em;&quot;&gt;&lt;img alt=&quot;The Five Pillars of Islam&quot; data-original-height=&quot;1254&quot; data-original-width=&quot;1254&quot; height=&quot;320&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEiihdmKgf97847KZqHWYJoGZtwJ3Os5OsiTbztDOR-XZq3jzzc_lO_-wTWhwvyXW351osjL7u-cdBTwcqREejc8n3QhpD9ad3VOiZVQ4HyE3M9JHFMOuI7CzhvKGfK9ibZ-Mz97OpdDUC4yvbMaAZyyDYgJ7ra_HNm-2Z8iCIVOmkWFNmn44vTqgdm7Uvpx=w320-h320&quot; title=&quot;The Five Pillars of Islam&quot; width=&quot;320&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;text-base my-auto mx-auto pt-12 [--thread-content-margin:var(--thread-content-margin-xs,calc(var(--spacing)*4))] @w-sm/main:[--thread-content-margin:var(--thread-content-margin-sm,calc(var(--spacing)*6))] @w-lg/main:[--thread-content-margin:var(--thread-content-margin-lg,calc(var(--spacing)*16))] px-(--thread-content-margin)&quot;&gt;&lt;div class=&quot;[--thread-content-max-width:40rem] @w-lg/main:[--thread-content-max-width:48rem] mx-auto max-w-(--thread-content-max-width) flex-1 group/turn-messages focus-visible:outline-hidden relative flex w-full min-w-0 flex-col&quot;&gt;&lt;div class=&quot;flex max-w-full flex-col gap-4 grow&quot;&gt;&lt;div class=&quot;min-h-8 text-message relative flex w-full flex-col items-end gap-2 text-start break-words whitespace-normal outline-none keyboard-focused:focus-ring [.text-message+&amp;amp;]:mt-1&quot; data-message-author-role=&quot;user&quot; data-message-id=&quot;4a6e6697-cc7e-48d4-a982-d29494333955&quot; dir=&quot;auto&quot;&gt;&lt;div class=&quot;flex w-full flex-col gap-1 empty:hidden items-end rtl:items-start&quot;&gt;&lt;div class=&quot;flex flex-col w-fit max-w-(--user-chat-width,70%) items-start self-end rtl:items-end rtl:self-start&quot;&gt;&lt;div class=&quot;user-message-bubble-color corner-superellipse/0.98 relative min-w-0 overflow-hidden rounded-[22px] px-4 py-2.5 leading-6 w-full&quot;&gt;&lt;div class=&quot;A_HxFq_root&quot; data-custom-highlighting-behavior=&quot;boundary&quot; data-testid=&quot;collapsible-user-message-root&quot;&gt;&lt;div class=&quot;A_HxFq_content&quot; data-testid=&quot;collapsible-user-message-content&quot; id=&quot;_r_bv_&quot;&gt;&lt;div class=&quot;max-w-full min-w-0 [overflow-wrap:anywhere] whitespace-pre-wrap&quot;&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;কলেমা তৈয়ব&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;এই কলেমার মন্ত্র হল, &quot;লা ইলাহা ইল্লাল্লা, মহম্মদুর রসুলুল্লা”, অর্থাৎ আল্লা ব্যতীত উপাস্য নেই, মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসূল। কাজেই এই কলেমায় বিশ্বাস স্থাপন করার অর্থ হল, একেশ্বর আল্লায় বিশ্বাস এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে মহম্মদের নবীত্বে বিশ্বাস করা। এই কারণেই এই কলেমার গুরুত্ব এত অপরিসীম। এই কলেমাতে অবিশ্বাসী হলে কোন মুসলমান আর মুসলমান থাকবে না, তৎক্ষণাৎ কাফের হয়ে যাবে। এই কারণেই আল্লা কোরানে বলেছেন, &quot;আল্লা ও তাঁর রসুলের অনুগত হও”&amp;nbsp;أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ (৩/৩২) এবং &quot;যারা আল্লা ও তাঁর রসুলকে অমান্য করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, যেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে&quot; (৭২/২৩)। কাজেই সেই ব্যক্তিই ঈমানদার, যে আল্লাকে তার প্রভু, ইসলামকে তার ধর্ম ও মহম্মদকে রসুলরূপে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছে। এই কলেমায় এটাও পরিষ্কার হচ্ছে যে, শুধু আল্লায় বিশ্বাস করলেই কেউ মুসলমান হতে পারে না। মহম্মদ যে আল্লার রসুল, সেটা বিশ্বাস করাও জরুরি।&amp;nbsp;“মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” সরাসরি এসেছে সূরা আল-ফাতহ ৪৮:২৯ আয়াতে।&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;&lt;b&gt;কলেমা শাহাদাৎঃ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;এই কলেমার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, &quot;আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লা ছাড়া কোন উপাস্য নেই; তিনি এক এবং তাঁর কোন অংশী নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নিশ্চয়ই মহম্মদ তাঁর বান্দা ও রসুল।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;&lt;b&gt;কলেমা তৌহীদ:&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;এর বাংলা অর্থ হল, &quot;(হে আল্লা) আপনি ভিন্ন কোন উপাস্য নেই, আপনি অদ্বিতীয় এবং আপনার কোন অংশী নেই। রসুল মহম্মদ ধর্মভীরুগণের নেতা এবং বিশ্বপালক কর্তৃক প্রেরিত।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p class=&quot;isSelectedEnd&quot;&gt;&lt;b&gt;কলেমা তামজীদ:&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই কলেমার বাংলা অর্থ হল, “(হে আল্লা) আপনি ভিন্ন কোন উপাস্য নেই। আপনি জ্যোতির্ময় আল্লা এবং আপনি আপনার জ্যোতি দ্বারা যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। হজরত মহম্মদ প্রেরিত পুরুষগণের মধ্যে অগ্রগণ্য ও শেষ নবী।&quot; প্রথম কলেমার পরেই এই চতুর্থ কলেমার গুরুত্ব। কারণ এই কলেমায় ইসলামের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে আর তা হল, মহম্মদ নবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। মুসলমানদের মধ্যে কেউ নিজেকে নবী বলে ঘোষণা করলে এই কলেমার বলেই তাকে কাফের বলে চিহ্নিত করা হয় এবং হত্যা করা হয়। পরবর্তীকালে একজন দরবেশ মীর্জা আহম্মদ নিজেকে নবী বলে প্রচার করায় তাকে হত্যা করা হয় এবং সমগ্র আহম্মদী সম্প্রদায়কে কাফের বলে চিহ্নিত করা হয়। আজও এই সম্প্রদায়ের লোকেরা পাকিস্তানে কাফের ও অ-মুসলমান বলে গণ্য ও পরিত্যক্ত। অথচ মীর্জা আহম্মদ নবী মহম্মদকে কখনই অস্বীকার করেননি, বরং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নবী বলে মেনে নিয়েছিলেন। এই কলেমার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এই যে, এর ফলেই কোরান এবং হাদিসের কোন সংশোধন সম্ভব নয়। আর নবী না জন্মালে কে সংশোধন করবে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;কলেমা রদ্দে কুফর&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর বাংলা অর্থ হল, &quot;(হে আল্লা) আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন কাউকে আপনার শরীক না করি। আমার জ্ঞানের গোচর ও জ্ঞানের অগোচর সমস্ত পাপের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুতাপ (তওবা) করছি। আমি আপনার উপর বিশ্বাস স্থাপন করছি এবং বলছি যে, আল্লা ভিন্ন উপাস্য নেই এবং মহম্মদ আল্লার প্রেরিত রসুল।&quot; এই কলেমা সম্পর্কে দু একটি কথা বলার আছে। এতে বান্দা আল্লার কাছে প্রতিজ্ঞা করছে যে, সে আল্লার অংশী বা শরীক সৃষ্টি করবে না। এই কারণেই মুসলমানরা বলে যে, এক আল্লা ছাড়া আর কারও কাছে&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারা মাথা নত করে না বা সিজদা করে না। এই কলেমার জন্যই তারা দেশ-মাতৃকাকে প্রণাম করে না এবং &quot;বন্দে মাতরম্&quot; গাইতে অস্বীকার করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;“কলেমা রদ্দে কুফর” ইসলামী সমাজে প্রচলিত একটি দোয়া/কলেমা হিসেবে পরিচিত। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— এটি কোরআনের সরাসরি আয়াত নয় এবং সহীহ হাদিসে “ইসলামের বাধ্যতামূলক ছয় কলেমা” হিসেবে একত্রে উল্লেখও পাওয়া যায় না। ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মশিক্ষার অংশ হিসেবে এগুলো বেশি প্রচলিত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEhZPfSNBCLy2C-ZxVKVhl6mzXjL2wqffTahQe8PG2yP4-L9bXspcd0R3oOXHgHSn4-9WWLT1vbWNo5D5yLV8csGMFccn-ByFaqb0XvDHdHrMnF7nQ1WhRepAGt0F7gHu0Rq8HHzZj29XWaJmgv4Yk1PEMXnCLzkA5_B1mMzuCBJj9vX4GCy7BAx4n4NxuGa&quot; style=&quot;clear: right; float: right; margin-bottom: 1em; margin-left: 1em;&quot;&gt;&lt;img alt=&quot;ইসলামের পাঁচস্তম্ভ&quot; data-original-height=&quot;1116&quot; data-original-width=&quot;1409&quot; height=&quot;240&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEhZPfSNBCLy2C-ZxVKVhl6mzXjL2wqffTahQe8PG2yP4-L9bXspcd0R3oOXHgHSn4-9WWLT1vbWNo5D5yLV8csGMFccn-ByFaqb0XvDHdHrMnF7nQ1WhRepAGt0F7gHu0Rq8HHzZj29XWaJmgv4Yk1PEMXnCLzkA5_B1mMzuCBJj9vX4GCy7BAx4n4NxuGa&quot; title=&quot;ইসলামের পাঁচস্তম্ভ&quot; width=&quot;303&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;প্রচলিত “কলেমা রদ্দে কুফর” হলোঃ&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;blockquote&gt;&lt;p&gt;“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আন উশরিকা বিকা শাইওঁ ওয়া আনা আ’লামু বিহি, ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আ’লামু বিহি, তুবতু আনহু ওয়া তাবাররাতু মিনাল কুফরি ওয়াশ্ শিরকি ওয়াল কিযবি ওয়াল গীবাতি ওয়াল বিদআতি ওয়ান্ নামীমাতি ওয়াল ফাওয়াহিশি ওয়াল বুহতানি ওয়াল মা’আসী কুল্লিহা, ওয়া আসলামতু ওয়া আকুলু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”&lt;/p&gt;&lt;/blockquote&gt;&lt;p&gt;বাংলা অর্থঃ&lt;br /&gt;“হে আল্লাহ! আমি জেনে-বুঝে আপনার সঙ্গে কাউকে শরীক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আর না জেনে যে গুনাহ করেছি তার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাই। আমি কুফর, শিরক, মিথ্যা, গীবত, বিদআত, চোগলখোরি, অশ্লীলতা, অপবাদ ও সব পাপ থেকে তওবা করছি। আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং বলছি— আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কোরআনের আয়াতঃ&lt;/p&gt;&lt;p&gt;📖 শিরক সম্পর্কে&lt;br /&gt;“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না…”&lt;br /&gt;— সূরা আন-নিসা ৪:৪৮&lt;/p&gt;&lt;p&gt;📖 তওবা সম্পর্কে&lt;br /&gt;“তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”&lt;br /&gt;— সূরা আন-নূর ২৪:৩১&lt;/p&gt;&lt;p&gt;📖 একত্ববাদ সম্পর্কে&lt;br /&gt;“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।”&lt;br /&gt;— সূরা ইখলাস ১১২:১&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অর্থাৎ “কলেমা রদ্দে কুফর”-এর মূল বিষয়গুলো— শিরক থেকে বাঁচা, তওবা করা, এবং তাওহীদের ঘোষণা— কোরআন ও ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পুরো কলেমাটি নিজে কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;কলেমা তাহমীদ:&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর বাংলা অর্থ হল, &quot;পবিত্র ও সর্বশক্তিমান আল্লাতায়লাকে সকল প্রশংসার সাথে স্মরণ করছি। তাঁর পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি এবং আমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর পর রয়েছে দুটো বিশ্বাসের শপথ যার মাধ্যমে বান্দা আল্লা, তাঁর রসুল, ধর্মশাস্ত্র, কেয়ামত ইত্যাদি সব কিছুর উপর বিশ্বাসের শপথ গ্রহণ করে। দুটো শপথ বাক্যের নাম (১) ঈমান মুজমাল ও (২) ঈমান মুফাচ্ছল। ঈমান মুজমালের বাংলা করলে দাঁড়ায়, &quot;আমি সর্ববিধ নাম ও গুণবিশিষ্ট আল্লার উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং তাঁর আদেশ ও বিধানসমূহ মেনে নিলাম।” ঈমান মুফাচ্ছল এর বাংলা অর্থ, &quot;আমি আল্লা, তাঁর ফেরেস্তাগণ, তাঁর কেতাবসকল, তাঁর প্রেরিত রসুলগণ, কেয়ামত, তকদীর (ভাগ্য) এবং মৃত্যুর পর পুনর্জীবন লাভ ইত্যাদি সকল বিষয়ের উপর ঈমান আনলাম, বিশ্বাস স্থাপন করলাম।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত কলেমাগুলি থেকে এটা পরিষ্কার হচ্ছে যে, শুধু আল্লায় বিশ্বাস করলেই মুসলমান হওয়া যায় না, সেই সঙ্গে সঙ্গে এটাও বিশ্বাস করতে হবে যে, মহম্মদ আল্লার রসুল। অন্যদিক দিয়ে দেখতে গেলে, সে কোন আল্লায় বিশ্বাস করলে হবে না, মহম্মদ যে আল্লার রসুল সেই আল্লাতেই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। অনেক সময় আল্লায় বিশ্বাস করার চাইতে মহম্মদের নবীত্বে বিশ্বাস স্থাপন করাটাই বেশী জরুরী বলে মনে হয়। কারণ মহম্মদের মতে সে ব্যক্তি এখনও প্রকৃত বিশ্বাসী হয়ে ওঠেনি যে নাকি নিজের সন্তান-সন্ততি, বাবা-মা, তথা সমগ্র মানবসমাজের থেকেও মহম্মদকে বেশী ভাল না বাসে (মুসলীম-৭১)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হিন্দু ধর্ম মানুষের নৈতিক চরিত্রের উপরই সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। হিন্দু ধর্মমত অনুসারে আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির মূল সোপানই হল নৈতিক চরিত্র। কিন্তু ইসলাম সে কথা বলে না। ইসলামী মতে যে কলেমা গ্রহণ করে ঈমান এনেছে বা মুসলমান হয়েছে, নৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত অধঃপতিত হলেও তার অক্ষয় স্বর্গবাস সুনিশ্চিত। এই দিক দিয়ে দেখতে গেলে কলেমার গুরুত্ব অপরিসীম এবং শুধুমাত্র &quot;লা ইলাহা ইল্লাল্লা........&quot; কলেমা গ্রহণ করার জন্যই কেয়ামতের দিন মহম্মদ তাঁর ৭০ হাজার উম্মত সহ সকলের আগে স্বর্গে প্রবেশ করবেন (মুসলীম-৬৬৬৮)। মহম্মদ বলতেন যে, একদিন ফেরেস্তা জিব্রাইল এসে তাঁকে বললেন, &quot;আপনার উন্মত (শিষ্য)-দের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লার কোন খোঁজ-খবর রাখে না সেও স্বর্গে প্রবেশ করবে।&quot; একদিন তাঁর এক উন্মত আবুজার তাঁকে প্রশ্ন&#39; করল, &quot; সে ব্যক্তি যদি চোর কিংবা ব্যভিচারী হয় তাহলেও কি সে স্বর্গে প্রবেশ করবে?&quot; মহম্মদ বললেন, হ্যাঁ, তাহলেও সে স্বর্গে প্রবেশ করবে&quot; (&lt;b&gt;মুসলীম&lt;/b&gt;-১৭১)। এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন যে, চুরি করা ও ব্যভিচার করা ইসলামে ঘোরতর পাপ এবং তার শাস্তি হল, চোরের ডান হাত কেটে ফেলা এবং ব্যভিচারীকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এ সব ব্যাপারে ইসলামী সিদ্ধান্ত হল, &quot;আল্লার দৃষ্টিতে সব থেকে গুরুতর পাপ হল আল্লার অংশী সৃষ্টি করা, তারপর গুরুতর পাপ হল আপন শিশু সন্তানকে হত্যা করা এবং তার পরের গুরুতর পাপ হল (মুসলমান) প্রতিবেশীর পত্নীর সঙ্গে ব্যভিচার করা&quot; (ঐ ১৫৬)। কাজেই একজন অংশীবাদী কাফের যত ভাল কাজই করুক না কেন, আল্লার অংশী সৃষ্টি করার পাপের জন্য তার সমস্ত পুণ্যের কাজই নিষ্ফল হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে একজন মুসলমান যত পাপই করুক না কেন, অংশীবাদের পাপে লিপ্ত না হবার দরুন তার কোন পাপই পাপ বলে গ্রাহ্য হবে না। এই কারণেই মুসলমানরা বলে থাকে যে, গান্ধীর চাইতে একজন অধঃপতিত মুসলমানও শ্রেষ্ঠ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামী মতে পথটাই আসল, ভুল পথে চলে পুণ্য করা অসম্ভব। কলেমায় বিশ্বাস করে ঈমান আনাই সঠিক পথ এবং সেই সঠিক পথের পথিক না হলে শত পুণ্যের কাজ কোন কাজে আসবে না। একদিন মহম্মদের এক পত্নী বিবি আয়েশা তাঁকে বললেন যে, তার এক পৌত্তলিক আত্মীয় আছে যে গরীব-দুঃখীদের খাওয়ায় এবং আরও অনেক ভাল ভাল কাজ করে। এইসব ভাল কাজ কেয়ামতের দিন তার কি কোন কাজে আসবে? মহম্মদ জবাব দিলেন, &quot;না, কোন কাজে আসবে না” (ঐ-৪১৬)। আল্লার অংশী সৃষ্টি করার পাপের জন্য মহম্মদ তাঁর বাবা, মা ও নিকট আত্মীয়দের প্রতিও ছিলেন সমান কঠোর এবং বলতেন যে, &quot;তারা সবাই নরকের আগুনে রয়েছে” (ঐ-৩৯৮,৪১৭)। কোন পৌত্তলিক যদি তার অংশীবাদী ধর্ম ত্যাগ করে কলেমার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার পুরাণো পাপ ধুয়ে যায় কিন্তু পুণ্যটা থেকে যায় (ঐ-২২০,২২৩)। অর্থাৎ অংশীবাদী থাকার ফলে যে পুণ্যের কাজ আল্লা এতদিন কবুল করতে পারছিলেন না, কলেমা গ্রহণ করার সাথে সাথে তিনি তা কবুল করবেন। কারণ সে ব্যক্তি এখন সঠিক পথের পথিক হয়েছেন। ঠিক সেই রকম এমন অনেক কাজ আছে যা পৌত্তলিক অবস্থায় করলে পাপ হয়, কিন্তু কলেমা গ্রহণ করে মুসলমান হবার পর করলে পাপ হয় না। যেমন লুঠপাঠ করে অপরের জিনিস অংশীবাদী অবস্থায় গ্রহণ করলে তাতে পাপ হয়, কিন্তু কলেমা গ্রহণকারী মুসলমানের ক্ষেত্রে আল্লা তা পবিত্র ও বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন (৮/৬৯)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামের ধর্মীয় রীতিনীতিগুলোকে একত্রে শরীয়ৎ বলা হয় এবং এই বিধিবিধানগুলোকে গুরুত্ব অনুসারে দশ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন (১) ফরজ, (২) ওয়াজেব, (৩) সুন্নত, (৪) নফল, (৫) মোস্তাহাব, (৬) মোবাহ, (৭) হারাম, (৮) হালাল, (৯) মরুহ ও (১০) মোফসেদ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফরজ হল অবশ্য-পালনীয় বিধি-বিধান। আল্লাতায়লা কোরান শরীফের আয়াৎ অবতীর্ণ করে যে সমস্ত বিধি-বিধান নির্দেশ করেছেন সেগুলোই ফরজ। কিন্তু কোরান শরীফে আল্লাতায়লা এমন কিছু কিছু নির্দেশ দিয়েছেন যা সবার পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়। যেমন জিহাদ করা বা কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসলামের রাজত্ব কায়েম করা। শিশু, বালক, বৃদ্ধ ও মহিলাদের পক্ষে জিহাদে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই ধরনের ফরজের নাম ফরজে কৈফায়া। এ ছাড়া অন্যান্য ফরজ, যেমন নামাজ, রোজা, অজু, গোসল (স্নান), যা সবাই করতে পারে, তাকে বলে ফরজে আয়েন। ফরজে আয়েন পালন না করলে বা তাতে অবিশ্বাস করলে সে আর মুসলমান থাকবে না, কাফের হয়ে যাবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;[“নামাজ” কোরআনের শব্দ নয়, কিন্তু মুসলিম সমাজে “সালাত” (الصلاة) -এর স্থানীয় ভাষাগত রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।]&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ওয়াজেব হল সেই সমস্ত বিধি-নিষেধ, যা কোরান শরীফে আছে এবং করা উচিত বা করতে পারলে ভাল। কিন্তু না করতে পারলে কাফের হতে হয় না। যেমন-ঈদের নামাজে যোগ দেওয়া, ঈদের দিন ফিত্রা বা ভিক্ষা দেওয়া বা ইদুজ্জোহার দিন পশু কোরবানী দেওয়া, ইত্যাদি। সুন্নত বলতে বোঝায় সেই সমস্ত বিধি-বিধান যা নবী নিজে পালন করতেন এবং অন্য বান্দাদেরও করতে পরামর্শ দিতেন। সুন্নতগুলো পালন করলে পুণ্য হবে, পালন না করলে পাপ হবে এবং তার জন্য শাস্তি পেতে হবে। এর মধ্যে সে সমস্ত সুন্নত মহানবী নিয়মিত করতেন সেগুলোকে বলে সুন্নত মোয়াক্কাদা। আর যেগুলো মহানবী মাঝে মাঝে করতেন তাকে বলে সুন্নত গায়ের মোয়াক্কাদা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুসলমানদের ছয়টি বিশেষ সুন্নত হল (১) খৎনা দেওয়া, (২) গোঁফ কামানো, (৩) বগলের চুল কামানো, (৪) মাথার চুল মুড়িয়ে ফেলা বা ঘাড়ের উপর পর্যন্ত রেখে দেওয়া, (৫) হাত ও পায়ের নখ কাটা এবং (৬) নাভির নীচের কেশ কামানো বা পাকি করা। লিঙ্গাগ্রের চামড়া ছেদন করার নাম খৎনা দেওয়া। মহম্মদের অনেক আগে নবী হজরৎ ইব্রাহীম (বাইবেলের আব্রাহাম) আশি বছর বয়সে, নিজ হাতে কুঠার দিয়ে এই প্রথার প্রবর্তন করেন। কালে এই প্রথা শুধু ইহুদীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। মদিনা বাসকালে মহম্মদ মুসলমানদের মধ্যে এই প্রথার প্রবর্তন করেন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই যে, নবী মহম্মদ নিজের খৎনা করেছিলেন কি না তা রহস্যময়। মৃত্যুর পর মহম্মদের মৃতদেহকে যখন স্নান করানো হয় তখন আকাশ থেকে দৈববাণী হয় যে, মহম্মদের নগ্ন দেহ যে দেখবে সে মারা যাবে বা তার চোখ অন্ধ হবে। (5)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, খৎনা প্রথা শুধুমাত্র পুরুষ মুসলমানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু কায়রো&#39;র আল আঝর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ গদ আল-হক্ আলি গদ আল-হক এর ফতোয়ার জোরে মিশরে মেয়েদেরও খৎনা করা হয় এবং তাদের যৌনাঙ্গের ক্লিটোরিস অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়। এই অস্ত্রোপচার করার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে প্রতি বছর বেশ কিছু বালিকা সেখানে প্রাণ হারায়। গত ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকার সি এন এন (CNN)-এর টেলিভিশানে এই রকম একটি অস্ত্রোপচার সারা পৃথিবীময় প্রচার করার ফলে মিশরের পার্লামেন্টে এই নিয়ে প্রবল বাদ-বিতণ্ডার সূচনা হয়। মিশরের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু বা মুফতি ঐ প্রথা বন্ধ করার পক্ষে মত দেন। কিন্তু উপরিউক্ত শেখ আলি গদ আল-হক-এর ফতোয়াকেই পার্লামেন্ট বজায় রাখে। তাই আজও এই প্রথা মিশরের মেয়েদের মধ্যে চালু রয়েছে।(6)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলা প্রয়োজন। প্রাক্ ইসলামী যুগে আরবদের মধ্যে একটা প্রথা চালু ছিল-দেবতার নামে উৎসর্গ করে কিছু কিছু পশু ছেড়ে দেওয়া হত এবং বিশেষভাবে চিহ্নিত করার জন্য ঐ সব পশুর কান ফুটো করে দেওয়া হত। পরে আল্লা এই প্রথার নিন্দা করেন এবং তাঁর সৃষ্টিকে বিকৃত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে কোরানের বাণী অবতীর্ণ করেন (৪/১১৯)। কাজেই খৎনার মাধ্যমে তাঁর সর্বাপেক্ষা প্রিয় সৃষ্টি মানুষের এই অঙ্গ বিকৃতির প্রতি আল্লার উদাসীনতা সত্যিই বিস্ময়কর। তবে কেয়ামতের দিন আল্লা সবাইকে খৎনাবিহীন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তৎকালীন আরবের লোকেরা অন্য সকলের মতই দাড়ি কামিয়ে গোঁফ রাখত। কিন্তু মদিনাবাসকালে মহানবী তার উম্মতদের গোঁফ কামিয়ে দাড়ি রাখতে পারামর্শ দিলেন। এর ফলে সুবিধা হল এই যে, মুসলমানদের চেনা সহজ হল এবং ভুলক্রমে মুসলমানের দ্বারা মুসলমান নির্যাতিত হওয়া বন্ধ হল। নবী অবশ্য বললেন যে, এর সাহায্যে মুসলমানদের মধ্যে হৃদ্যতার প্রসার ঘটবে (মুসলীম-৫০০)। ঠিক একই কারণে মুসলমান রমণীদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করার জন্য পর্দার প্রচলন করা হল (৩৩/৫৯)। কাজেই বিশ্বব্যাপী মুসলমান সমাজের পুরুষরা যে গোঁফ কামিয়ে দাড়ি রাখেন তার পিছনে কোন আধ্যাত্মিক কারণ নেই। সহজে সনাক্ত করার জন্যই এই প্রথা।&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(5) Life of Mahomet, Sir W. Muir, Ch. 34, P-501&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(6) The Statesman-26-8-96.&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মোস্তাহাব হল সেই সমস্ত বিধি-নিয়ম যা করলে পুণ্য আছে কিন্তু না করলে পাপ নেই। যেমন দোয়া, মোনাজাত ইত্যাদি পবিত্র আরবী ভাষায় করা। মোবাহ হল সেই সমস্ত বিধি-নিয়ম যা করলে পুণ্য নেই এবং না করলে পাপ নেই। যেমন-সঙ্গতি অনুসারে ভাল পোশাক-আসাক করা, ভাল খাওয়া-দাওয়া করা ইত্যাদি। যে সব কাজ হারাম বলে চিহ্নিত তা ইসলামে ভীষণভাবে নিষিদ্ধ, যেমন সুদ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া, চুরি করা, ব্যভিচার করা, অন্য কোন মুসলমানকে হত্যা করা ইত্যাদি। আর হালাল হল সেই সমস্ত কাজ যা ইসলামে বৈধ। যেমন গনিমত বা লুঠের মাল একজন অ-মুসলমানের জন্য হারাম, কিন্তু একজন মুসলমানের জন্য হালাল। সজ্ঞানে কেউ হারাম কাজ করলে সে কাফের হয়ে যাবে। তবে আজকাল অনেক মুসলমানই অনেক হারাম কাজ করছেন এবং সেই কারণে কাফের হচ্ছেন না। যেমন মদ্যপান, গান-বাজনা করা, ছবি আঁকা ইত্যাদি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যে সব কাজ সম্পূর্ণ নিধিদ্ধ বা হারাম নয়, কিন্তু দোষাবহ, না করলেই ভাল, তাকে মকরুহ বলে। যেমন খালি গায়ে নামাজ পড়া, অজুর সময় কথা বলা, কাঁকড়া-চিংড়ি খাওয়া ইত্যাদি। শরীয়তের বিধান-বিরোধী কাজকে মোফসেদ বলে, যেমন নামাজের সময় কথা বলা, শব্দ করে হাসা বা কাঁদা ইত্যাদি। রোজার সময়, দিনের বেলায় সজ্ঞানে পানাহার করলে বা স্ত্রী সহবাস করলেও মোফসেদ হয়। তবে এ সব ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যেও যথেষ্ট মতভেদ বিদ্যমান।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যে সমস্ত কাজ করলে পুণ্য আছে কিন্তু না করলে পাপ নেই তাকে নফল বলে। যেমন, জীবনে একবার মক্কায় গিয়ে হজ করা ফরজ। কিন্তু কেউ যদি একাধিক বার হজ করে তবে তা নফল হজ হবে। তেমনি দিনে পাঁচ বার নামাজ আদায় করা ফরজ-এর অতিরিক্ত নামাজ নফল নামাজ হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নামাজ একটি ফার্সী শব্দ এবং আরবীতে এর নাম “সালাত” (الصلاة / সালাহ্)। &lt;b&gt;নামাজ শব্দের তিনটি অর্থ হয়, যথা-বিনয়, সিজদা ও উপাসনা।&lt;/b&gt; কাজেই ধর্মীয় রীতি হিসাবে নামাজকে বলা চলে সিজদা সহকারে বিনয়পূর্বক উপাসনা। পানিতে গোসল করলে যেমন শরীরের বাইরেটা পরিষ্কার হয়, তেমনি নামাজের ফলে পাপ ধুয়ে গিয়ে অন্তর সাফ হয়। নামাজের ফলে মানুষের পাপ শীতকালের গাছের পাতার মতই নিঃশব্দে ঝরে যায়। নবুয়ত বা নবীত্ব লাভের পর স্বয়ং ফেরেস্তা জিব্রাইল মহানবীকে নামাজ শিক্ষা দিয়েছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এই নামাজ পালন করার কতকগুলি পূর্ব শর্ত আছে। নামাজের আগে শরীরকে পাক বা পবিত্র করার জন্য অজু অথবা গোসল অথবা তায়াম্মুম্ করা ফরজ। এ ছাড়াও আছে আজান এবং এক্কামত। অল্প পানি দিয়ে হাতের কবজি পর্যন্ত এবং মুখ, ঘাড় ও পায়ের পাত, ধুয়ে ফেলার নাম অজু করা। নবী মহম্মদ যেভাবে অজু করতেন আজও মুসলমানরা ঠিক একইভাবে অজু করে থাকেন। প্রথমে দু হাত তিনবার ধুয়ে ফেলা। তারপর তিনবার মুখ ধোয়া, ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার এবং বাঁ হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে ফেলা। এর পর ভিজে হাতটা মাথায় বুলিয়ে নেওয়া এবং গোড়ালি পর্যন্ত প্রথমে ডান পা ও পরে বাঁ পা ধুয়ে ফেলা (মুসলীম-৪৩৬)। ইসলামের জন্মস্থান আরবে পানীর বড়ই অভাব। আজও সেখানে পেট্রলের চাইতে পানীর দাম বেশী। তাই সেখানে অল্প পানি দিয়ে অজু করার এই রীতি চালু হয়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই যে, আমাদের দেশের মুসলমানরাও অল্প জল দিয়ে অজু করাকে ধর্মীয় রীতি হিসাবে অনুকরণ করে চলেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যেখানে অজু করার মত সামান্য জলও পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে মাটি দিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করে নেওয়াকে তায়াম্মুম বলে। আরবে গোসল বা স্নান করা বিলাসিতা। তাই সপ্তাহে মাত্র একদিন, জুমআ বা শুক্রবার দুপুরের নামাজের আগে গোসল করে পাক সাফ হওয়া ফরজ। গোসল, অজু অথবা তায়াম্মুম, যা করেই হোক না, শরীরকে শুদ্ধ করে না নিলে আল্লা নামাজ কবুল করেন না। কিছু কিছু অপবিত্রতা বা জুনুব-এর পরেও গোসল করে পাক সাফ হওয়া ফরজ যেমন স্ত্রী সহবাস বা জিমা, স্বপ্নস্খলন বা ইতিলাম, মেয়েদের ঋতুকাল বা হায়েজ এবং প্রসব বা নিফাস। ঘুম থেকে উঠে তিনবার নাক ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলাও ফরজ কারণ ঘুমালে শয়তান নাকের ভিতর আশ্রয় নেয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আজান কথার অর্থ হল নামাজের জন্য আহ্বান। নামাজের আগে মসজিদ থেকে এই আজান দেওয়া হয় এবং যিনি আজান দেন তাঁকে মুয়াজ্জীন বলে। আজকাল মাইকের দৌলতে এই আজান শুনতে আমরা অভ্যস্থ হয়েছি কিন্তু আরবী ভাষায় কি বলে বুঝতে পারি না। তাই &lt;b&gt;আজানের কথা ও তার বাংলা অর্থ &lt;/b&gt;তুলে দেওয়া হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(১) &quot;আল্লাহু আকবার&quot; (৪বার),&amp;nbsp;الله أكبرُ অর্থ আল্লাই সর্বশ্রেষ্ঠ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(২) &quot;আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ&quot; (২ বার),&amp;nbsp;أشهدُ أن لا إلهَ إلا اللهُ&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অর্থ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লা ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৩) &quot;আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ&quot; (২ বার),&amp;nbsp;أشهدُ أنَّ محمداً رسولُ اللهِ&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অর্থ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহম্মদ আল্লার রসুল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৪) &quot;হাইয়া ‘আলাস সালাহ&quot; (২ বার),&amp;nbsp;حيَّ على الصلاةِ অর্থ নামাজের জন্য এসো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৫) &quot;হাইয়া ‘আলাল ফালাহ&quot; (২ বার),&amp;nbsp;حيَّ على الفلاحِ অর্থ মঙ্গলের জন্য এসো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৬) &quot;আল্লাহু আকবার&quot; (২ বার)।&amp;nbsp;الله أكبرُ &lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৭) &quot;লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ&quot; (১বার),&amp;nbsp; لا إلهَ إلا اللهُ  অর্থ আল্লাই একমাত্র উপাস্য।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;৬২২ খ্রীস্টাব্দে&amp;nbsp;ﷺ  মহম্মদ যখন মদিনায় এলেন তখন সেখানে মুসলমানের সংখ্যা হাতে গোনা যেত। তাই নামাজের জন্য তাদের আহ্বান করার প্রয়োজন হত না। কিন্তু মুসলমানের সংখ্যা যখন বাড়তে থাকল তখন নামাজের সময় ঘোষণা করা জরুরী হয়ে পড়ল। কেউ খ্রীস্টানদের মত ঘণ্টা বাজাবার কথা বলল, কেউ ইহুদীদের মত শিঙা বাজাবার কথা বলল, আবার কেউ বা পারস্যের অগ্নি উপাসকদের মত আগুন জ্বালাবার পরামর্শ দিল। কিন্তু নবী মহম্মদ কাউকে নকল করা পছন্দ করলেন না এবং মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ নূতন, আজান দেওয়ার প্রথা চালু করলেন। বিলাল নামে মহম্মদের একজন কাফরী অনুচর ছিল যে খুব জোরে চিৎকার করতে পারত। প্রথম জীবনে বিলাল উমাইয়া বিন খালাল নামে এক ব্যক্তির ক্রীতদাস ছিল। মুসলমান হবার জন্য কোরেশরা যখন তার উপর অত্যাচার শুরু করল তখন মহম্মদের ধনী বন্ধু আবু বকর তাকে কিনে মুক্ত করেন ও মদিনায় নিয়ে আসেন। মহম্মদ এই বিলালকে আজান দেবার কাজে নিযুক্ত করলেন এবং সেই হিসাবে বিলাল হলেন মুসলীম জগতের প্রথম মুয়াজ্জীন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আজান শুনলে প্রত্যেক মুসলমানকে তার জবাব দিতে হয়। মনে মনে বলতে হয় যে, আল্লা যেন মহম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গকে স্বর্গের ওয়াসিলা নামক শ্রেষ্ঠ স্থানে জায়গা করে দেন (মুসলীম- ৭৪৭,৮০৭,৮০৮)। যে বান্দা আজান শুনে আল্লাকে তার উপাস্য, মহম্মদকে তার রসুল ও ইসলামকে তার দ্বীন (ধর্ম) ভেবে খুশী হয়, আল্লা তার সব গোনাহ মাফ করে দেন। আজানের শব্দ কানে গেলে মসজিদের নামাজে যোগ দেওয়া সব মুসলমানের ফরজ। নামাজের জন্য লোক ডাকা ছাড়াও আজানের আরও কিছু কিছু উপকারিতা আছে। আজান শুনলে শয়তান সেখান থেকে অনেক দূরে পালিয়ে যায়। মহম্মদ বলতেন যে, মদিনায় আজান দিলে শয়তান সেখান থেকে ৩৬ মাইল দূরে রহুয়ায় পালিয়ে যায়। মহম্মদের জীবিত কালে আজানের আরও একটা উপকারিতা ছিল। তিনি যখন কোন কাফের জনগোষ্ঠীকে আক্রমণ করতেন তখন তা খুব ভোর বেলায় করতেন। সেই সময় দূর থেকে যদি ফজরের আজান ভেসে আসত তাহলে নবী বুঝতে পারতেন যে, সেখানকার সবাই কাফের নয় এবং তাই আর আক্রমণ করতেন না (ঐ-৭৪৫)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সবাই মসজিদে এসে গেলে এক্কামত পাঠ হয়। এক্কামত আর কিছুই নয়, আজানে যা বলা হয় এতেও তাই বলা হয়, শুধু &quot;হাইয়া আ&#39; লাসসালাহ্&quot; র বদলে &quot;কাদকা মাতিছ সালাহ্&quot;, বা নিশ্চয়ই নামাজ আরম্ভ হল, বলতে হয়। তবে আজানের মত অত উচ্চ স্বরে না বলে এক্কামত অনেক আস্তে বলা হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কথিত আছে যে, ৬২১ খ্রীস্টাব্দের রজব মাসের ২৭ তারিখে আল্লাতায়লা ফেরেস্তা জিব্রাইলকে মহম্মদের কাছে পাঠান এবং তিনি নবীকে বোরাক নামক এক দ্রুতগতি বাহনে করে সপ্ত স্বর্গ ভ্রমণ করিয়ে আল্লার কাছে নিয়ে যান। বোরাক হল গাধার থেকে বড় কিন্তু খচ্চরের থেকে ছোট এক স্বর্গীয় জন্তু বিশেষ। মুসলমানদের মতে সমস্ত নবীগণের মধ্যে একমাত্র মহম্মদই ফেরেস্তা জিব্রাইলকে স্বচক্ষে এবং স্বরূপে দেখার সৌভাগ্য লাভ করেন এবং তাও একবার নয়, দুবার। প্রথম তিনি জিব্রাইলকে দেখেন যেদিন কোরান প্রথম নাযেল (অবতীর্ণ) হয় সেদিন। দ্বিতীয়বার তিনি জিব্রাইলকে দেখেন এই মেরাজ বা স্বর্গ ভ্রমণের দিন। ঐ দিন&amp;nbsp;ﷺ  মহম্মদ, একখানি ধনুক যতখানি দীর্ঘ, আল্লার ততখানি কাছে যান (অর্থাৎ আল্লার সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতা স্থাপিত হয়)। মুসলমানদের মতে সেদিন তিনি আল্লার দর্শন লাভ করেন। এই দিনই আল্লা বিশ্বাসীদের জন্য দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কথিত আছে যে, আল্লা প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন এবং স্বর্গ থেকে ফেরার পথে মহম্মদ যখন চতুর্থ স্বর্গে পূর্ববর্তী নবী হজরৎ মুসার (Moses) সঙ্গে দেখা করেন তখন মুসা বলেন যে, বিশ্বাসীদের পক্ষে দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা খুবই কঠিন কাজ হবে। তাই তিনি মহম্মদকে আল্লার কাছে ফিরে যেতে এবং নামাজের ওয়াক্ত কমাবার আর্জি পেশ করতে পরামর্শ দেন। আল্লার কাছে ফিরে গিয়ে মহম্মদ তাঁর অভিপ্রায় জানালে আল্লা প্রথমে কিছুতেই রাজী হতে চাইলেন না বরং বললেন যে, তাঁকে উপাসনা করাই তো মানুষের একমাত্র কাজ আর এই কাজের জন্যই তো তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তিনি নামাজের ওয়াক্ত কিছু কম করলেন। কিন্তু হজরৎ মুসা তাতেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন এবং মহম্মদকে আবার আল্লার কাছে পাঠালেন। এইভাবে তিনবার যাতায়াতের পর আল্লাতায়লা বিরক্ত হয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করলেন এবং বললেন যে, এই পাঁচেই পঞ্চাশের কাজ হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;[পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ 📚 সহীহ বুখারি হাদিস নং: ৩৪৯, ৭৫১৭ 📚 সহীহ মুসলিম হাদিস নং: ১৬২]&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই থেকে অনেকের মনে ধারণা হতে পারে যে, আল্লা তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন না বা মানুষের অনুরোধে তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের হেরফের করেন। ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। মহম্মদের অনুরোধে তাল্লা শুধু এটুকুই করলেন যে, বিশ্বাসীদের এক নামাজকে দশ নামাজের সমান করে দিলেন। অর্থাৎ বিশ্বাসীদের পাঁচ নামাজ আল্লার কাছে পঞ্চাশ নামাজই থাকল। মহম্মদের নবীত্বে বিশ্বাস করার মত তাঁর এই মেরাজ বা স্বর্গভ্রমণের ঘটনাও বিশ্বাসীদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, অন্যথায় সে কাফের হয়ে যাবে। যাইহোক, আল্লাতায়লা শেষ পর্যন্ত যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করলেন তা হল- (১) ফজর, (২) যোহর, (৩) আসর, (৪) মাগ্রিব ও (৫) এশা।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভোরবেলা চারিদিক ফর্সা হয়ে গেছে, অন্ধকার দূর হয়ে গেছে, কিন্তু পুবের আকাশে তখনও লাল সূর্যের উদয় হয়নি, এই সময়টা ফজরের নামাজের সময়। সূর্য উঠে গেলে আর ফজরের নামাজ পড়া যাবে না। মধ্যাহ্নের সূর্য সবে পশ্চিমে ঢলতে শুরু করেছে, তখন যোহরের সময়। বিকালের পড়ন্ত বেলায়, যখন আর কিছুক্ষণ পরেই সূর্য ডুবতে শুরু করবে, তখন আসরের সময়। সূর্য ডুবে গেছে কিন্তু তখনও আলো আছে, সেই সময়টা মাগ্রিবের সময় এবং সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত যে কোন সময় এশার ওয়াক্ত। উপরিউক্ত নামাজের সময়কালে কেউ যদি ঘুমে, বা ভুল বশত বা দরকারী কাজে আটকে যাবার দরুন সঠিক সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করতে না পারে তাহলে নামাজ কাজা হয়ে যায়। এই কাজা নামাজ যত শীঘ্র সম্ভব আদায় করে নেওয়া কর্তব্য। যে পর্যন্ত মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান থাকে ততক্ষণ যোহরের সময় হয় না। বিকালে মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের থেকে বড় হওয়া থেকে শুরু করে সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত আসরের সময় থাকে। সূর্যের লাল রঙ লুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত মাগ্রিবের সময় হয় না এবং মধ্যরাত্র পার হয়ে গেলে এশার সময় শেষ হয়ে যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সব মুসলমানেরই ফরজ। এছাড়াও নামাজ পড়া যায় এবং তাকে নফল কিংবা সুন্নত নামাজ বলে। প্রকৃতপক্ষে ফরজ বহির্ভূত সমস্ত নামাজই নফল এবং স্বয়ং রসুলুল্লা যে যে সময় নফল নামাজ আদায় করতেন সেগুলোই হল সুন্নতনামাজ। সুন্নত নামাজগুলোর মধ্যে পড়ে গভীর রাতের নামাজ ও শেষরাতে তাহাজ্জুদ-এর নামাজ। মহানবী তাঁর উম্মতদের তাহাজ্জুদ-এর নামাজ পড়তে বিশেষ করে উপদেশ দিতেন। ফজরের নামাজের ঠিক আগেই তাহাজ্জুদের সময়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নামাজ একা একা বাড়ীতে অথবা মহল্লার মসজিদে কিংবা বড় বড় জামে মসজিদের জামাতের নামাজে অংশগ্রহণ করেও আদায় করা যায়। তবে আজানের শব্দ কানে গেলে সব বান্দারই মসজিদের নামাজে যোগ দেওয়া ফরজ। যে ব্যক্তি আজান শুনেও একা একা ঘরে নামাজ পড়ে আল্লা তার নামাজ কবুল করেন না। শারীরিক দিক থেকে অক্ষম না হওয়া সত্বেও যে ব্যক্তি আজান শুনে জামাতের নামাজে যোগ দেয় না, রসূলুল্লা তার ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেবার কথা বলতেন। একা একা বাড়ীতে নামাজ পড়লে যে সওয়াব বা পুণ্য হয়, মহল্লার মসজিদে পড়লে তার ২৫ গুণ সওয়াব হয়, বড় জামে মসজিদে পড়লে তার ৫০০ গুণ, জেরুজালেমের মসজিদে আকসা বা বায়তুল মোকাদ্দেসে পড়লে তার হাজার গুণ, মদিনার মসজিদ নবীতে পড়লে তার পঞ্চাশ হাজার গুণ এবং মক্কার কাবা শরীফ বা মসজিদুল হারামে পড়লে তার লক্ষ গুণ সওয়াশয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গরীব মুসলমানের কাছে জামাতের নামাজ হজ স্বরূপ। জামাতের নামাজে সুন্দরভাবে সারিবেঁধে দাঁড়ানোটাও একটা সুন্নত এবং রসুলুল্লা এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। জামাতের নামাজের পর ইমাম বা নামাজ পরিচালক যে খুৎবা বা ধর্মীয় ভাষণ দেন তা শেষ না হলে নামাজের স্থান ত্যাগ করা উচিত নয়। একদিন মদিনার মসজিদ নবীতে রসুলুল্লা যখন খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন সেখানে এক ফেরিওয়ালা এসে হাজির হয় এবং উম্মতরা খুৎবা ছেড়ে ফেরিওয়ালার কাছে ভীড় করে। এইজন্য আল্লা কোরানের বাণী অবতীর্ণ করে তাদের তিরস্কার করেন (৬২/১১)। রসুলুল্লা যখন খুৎবা দেবার জন্য মিম্বারে (খুৎবা দেবার বিশেষ আসনে) উঠতেন তখন তাঁর মুখমণ্ডল রক্তবর্ণ হয়ে উঠতো, গলা চড়ে যেত এবং ক্রোধ বেড়ে যেত- যেন শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক করছেন (মুসলীম-১৮৮৫)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একদিন খুৎবা দিতে উঠে রসূলুল্লা হঠাৎ চিৎকার করে বলতে শুরু করলেন, &quot;তুই চলে যা, তোকে অভিশাপ দিচ্ছি। তোর কাছ থেকে আমি আল্লার আশ্রয় নিচ্ছি।&quot; (&lt;span class=&quot;hover:entity-accent entity-underline inline cursor-pointer align-baseline&quot;&gt;Sahih Muslim&lt;/span&gt; — হাদিস ৫৪২) পরে সবাই যখন তাঁর এই অস্বাভাবিক ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞাসা করল, তিনি বললেন যে, শয়তান ইবলিস আগুন নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিল। তিনি তাকে একরকম ধরেই ফেলেছিলেন, কিন্তু পূর্ববর্তী নবী সুলেমান (Solomon) এসে বাধা দেওয়ায় তিনি নিজেকে সংযত করেছেন। তা না হলে তিনি অবশ্যই সেদিন শয়তানকে বন্দী করতেন এবং মদিনার বাচ্চাদের খেলার বস্তুতে পরিণত করতেন (ঐ-১১০৬)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নামাজের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল জুমআ বা শুক্রবারের জামাতের নামাজ। ইসলামে শুক্রবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জুমআর দিনই আল্লা হজরৎ আদমকে সৃষ্টি করেন এবং তাকে স্বর্গে প্রবেশ করান। এই জুমআর দিনই তিনি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন এবং এই দিনই ইন্তেকাল (মৃত্যুবরণ) করেন। এই দিনই মহানবী হিজরৎ করে মদিনাতুন্নবী বা নবীর নগরী মদিনায় উপস্থিত হন। এই দিন এমন একটা মুহূর্তআছে যে সময় যে কোন বান্দা আল্লার কাছে (হারাম বস্তু ছাড়া) যা চাইবে তাই পাবে। সর্বোপরি এই জুমআর দিনই স্বর্গীয় শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং কেয়ামত সংঘটিত হবে। আল্লা বনি ইস্রায়েলদের শনিবার এবং ঈশায়ীদের রবিবার দিয়েছেন। কিন্তু মুসলমানদের তিনি সবথেকে বেশী ভালবাসেন তাই তাঁর প্রিয় শুক্রবার তিনি তাদের দিয়েছেন। এইজন্য কেয়ামতের দিন মুসলমানরা সকলের আগে থাকবে এবং আল্লার কাছ থেকে বেশী করে রহমৎ বা দয়া পাবে। ঐ একই কারণে মুসলমানরা সকলের আগে জান্নাতে (স্বর্গে) প্রবেশ করবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জুমআর দিন যোহরের আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ করে নামাজের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। গোসল করে পাক সাফ হয়ে পরিষ্কার জামা-কাপড় পরে, গায়ে সুগন্ধি লাগিয়ে জামাতের মসজিদে হাজির হতে হবে। মেয়েরা জামাতের নামাজে যোগ দিতেপারে তবে তারা সুগন্ধি লাগাতে পারবে না। ছেলেদের পিছনে তাদের দাঁড়াতে হবে এবং সিজদার পর ছেলেদের আগে মাথা তুলতে হবে, যাতে ছেলেদের মাথা তোলার আগে বেশবাস ঠিক করে নেবার সুযোগ পায়। কুমারী ও পর্দানসীন মেয়েদের জামাতের নামাজে যোগ দেওয়া নিষেধ এবং ঋতুকালে কোন মসজিদেই তারা ঢুকতে পারবে না। মেয়েদের পক্ষে ঘরে বসে নামাজ আদায় করে নেওয়াই ভাল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যে বান্দা জুমআর দিন পাক সাফ হয়ে সবার আগে মসজিদে হাজির হয়, সে একটা উট কোরবানীর সোয়াব পায়। তারপর যে বান্দা হাজির হয় সে একটা বকরা বা বাছুর কোরবানীর সোয়াব পায়। তারপর যে বান্দা আসে সে একটা দুম্বা ও তারপর যে আসে সে একটা মোরগ কোরবানীর সোয়াব পায়। জুমআর দিন ইমাম যখন তাঁর খুৎবা পাঠ করেন তখন আল্লার জিকির শোনার জন্য ফেরেস্তারা সেখানে হাজির হন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জুতো পরে নামাজে যোগ দেওয়া চলতে পারে। নামাজ আদায় করার সময় আকাশের দিকে তাকালে চোখ খুবলে নেওয়া হবে। বিনা কারণে খালি মাথায় নামাজ পড়া এবং নামাজের সময় আঙুল মটকানো, ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক দেখা, কুকুরের মত বসা বা মোরগের মত ঠকাঠক করে তাড়াতাড়ি করে সিজদা করা নিষেধ। না-পাক অবস্থায় বা না-পাক জায়গায় নামাজ পড়লে নামাজ মরুহ হয়ে যায়। কাপড়ে শুক্র লেগে থাকলে&amp;nbsp;ﷺ  রসুলুল্লা শুধু সেটুক ধুয়েই নামাজে যোগ দিতে যেতেন, কাপড়ে তখন দাগ বোঝা যেত (মুসলীম-৫৭০)। খালি পেটে অথবা প্রস্রাব ও পায়খানার বেগ চেপে নামাজ করলেও নামাজ দোষযুক্ত হয়। নামাজের সময় কোরান শরীফ হাতে নিয়ে পাঠ করাও নিষেধ। নামাজে দাঁড়িয়ে সামনে থুথু ফেলা নিষেধ, কারণ সামনে আল্লা আছেন। ডানদিকেও নিষেধ কারণ ডানদিকে সব পুণ্য জমা হয়। বাঁ দিকে কিংবা বাঁ পায়ের নীচে থুথু ফেলা চলতে পারে কারণ বাঁ দিকে সব পাপ জমা হয়। কেউ নামাজ পড়ছে সেই সময় তার সামনে দিয়ে কেউ যাওয়া-আসা করলে তার খুব গোনাহ হয়। তবে নামাজী যদি কোন একটা জিনিস, অন্ততপক্ষে তার লাঠিটা সামনে রেখেও নামাজ করে তবে তার গোনাহ্ হবে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বয়স সাত বছর হলেই ছেলেকে নামাজ শিক্ষা দিতে হবে এবং সতের বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও যদি সে ঠিকমত নামাজ আদায় না করে তবে তাকে লাঠি দিয়ে পিটতে হবে এবং একলা ঘরে শুতে দিতে হবে। নেশা করে অথব্য কাঁচা পেঁয়াজ রসূন খেয়ে নামাজে যোগ দেওয়া নিষেধ, কারণ ফেরেস্তারা কাঁচা পেঁয়াজ রসূনএর গন্ধ ভালবাসেন না। মেয়েদের জন্য জুমআর নামাজ ফরজ নয় এবং তাদের পক্ষে জামাতের নামাজে যোগ দেওয়া মরুহ। তসবির বা ছবিঅলা জামা গায়ে দিয়ে নামাজে যোগ দেওয়া ভীষণভাবে নিষিদ্ধ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুসলমানদের পক্ষে জীবজন্তু, গাছপালা বা মানুষের ছবি এঁকে আল্লার সৃষ্টির নকল করতে যাওয়া ভীষণ অন্যায়। যারা এইসব করবে কেয়ামতের দিন আল্লা ঐ সব ছবি তাদের সামনে উপস্থিত করে আদেশ দেবেন, &quot;রুহ ফুঁকে এদের জীবিত কর&quot;। তারা নিশ্চিতভাবেই তা পারবে না। তখন আল্লা বলবেন, &quot;আমার সৃষ্টির নকল করে আল্লা হবার দুঃসাহস করেছিলে? যাও এবার নরকের আগুনে পুড়ে সে পাপের প্রায়শ্চিত্ত কর।&quot; আঁকা তো দূরের কথা, আল্লার সৃষ্টির নকল করা কোন ছবি ঘরে রাখা বা তা দেখা কতখানি দোষের দু একটা উদাহরণ দিলে তা ভাল বোঝা যাবে। একবার বিবি আয়েশা পাখীর ছবিঅলা বালিশের ওয়াড় তৈরি করেন। রসুলুল্লা দরজার চৌকাঠ থেকে তা দেখতে পেয়ে ঘরে ঢুকতেই অস্বীকার করলেন। আগে আয়েশা ঐসব সরিয়ে ফেললেন তবে তিনি ঘরে ঢুকলেন (মুসলীম-৫২৫৫)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইয়মন প্রদেশের নাজরান নামক জায়গায় খ্রীস্টানদের বাস ছিল। মহম্মদ তাদের চিঠি দিলেন যে, হয় ইসলাম গ্রহণ কর নতুবা জিজিয়া দাও। তখন তারা ভয় পেয়ে তিনজন পাদ্রীকে মদিনায় পাঠালো। মহম্মদকে খুশি করার জন্য তারা যে সব উপঢৌকন এনেছিল তার মধ্যে একটা কার্পেট ছিল। কিন্তু কার্পেটে ছবি থাকার জন্য মহম্মদ তা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিলেন (৭)। মহম্মদের কতিপয় অনুচর ঐ কার্পেটের প্রতি লোভ করেছিল বলে আল্লা তাদের জন্য নদী, সুরা ও পবিত্র সঙ্গিনী সমন্বিত স্বর্গের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোরানের বাণী অবতীর্ণ করেন (৩/১৫)। নাজরানবাসীরা বছরে দু হাজার হুল্লা (বস্ত্র বিশেষ) এবং দু হাজার রৌপ্যমুদ্রা জিজিয়া দেবে বলে রফা হয়। চুক্তিপত্রে এও লেখা ছিল যে, এখন থেকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সমুদায় সম্পত্তির মালিক আল্লা ও তাঁর রসূল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, ছবিতেই যখন এই অবস্থা তখন মূর্তির ক্ষেত্রে কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়, কারণ সকলেই স্বীকার করবেন যে ছবির থেকে মূর্তিতে আল্লার সৃষ্টিকে অনেক বেশি নকল করা হয়। তাই ইসলামে মূর্তি শুধু ভাঙবার জন্য, গড়বার জন্য নয়। এই কারণেই মক্কা দখল করার পর কাবার অভ্যন্তরস্থ ৩৬০টি মূর্তি ভেঙে ফেলা হয় এবং সমস্ত আরব জুড়ে মূর্তি ভাঙার তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। সাফা ও মারোয়া পর্বতের উপর স্থাপিত আসাফ ও নয়লার মূর্তি ভাঙা হয় এবং মহম্মদ তাঁর কিছু অনুচরকে শাবল, কোদাল ও গাঁইতি সহ তায়েফে পাঠালেন সেখানকার বিশাল রাব্বা&#39;র মূর্তি ভেঙে ফেলার জন্য। এই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই দিল্লীর মুসলমান শাসকরা ভারতের হাজার হাজার মন্দির ও মূর্তিধ্বংস করে এবং এই ঐতিহ্য কাশ্মীরে আজও বজায় আছে। গত ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বরের ঘটনার পর বাংলাদেশে ৩৫০০ মন্দির ও তার মূর্তি ধ্বংস করা হয়। (৮) ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৭) খাবার পথে (২য় খণ্ড), আব্দুল আজিজ আল আমান (হরফ), পৃঃ ১৬৯।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৮) লজ্জা, শ্রীমতী তসলিমা নাসরিণ (পার্ল পাবলিকেশন), পূঃ ৫৬।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এতেকরে আল্লার সম্মান ও মর্যাদা হয়তো রক্ষা হল, কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্য উঠে গেল। তাদের জন্য থাকল শুধু অলঙ্করণ করে আরবী ভাষায় কোরানের বাণী লেখার শিল্প, যাকে ক্যালিগ্রাফী বলে। আর থাকল মসজিদ তৈরি করার স্থাপত্য। এই সব মসজিদ অলঙ্করণ করতেও যে সব চিত্রকলার ব্যবহার হয় তাতে আল্লার সৃষ্টির অনুকরণ সযত্নে এড়িয়ে চলা হয়। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে যে, ইসলামে গান-বাজনা করাও নিষিদ্ধ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহম্মদের পূর্ববর্তী নবী হজরৎ লুৎ তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের অভিযুক্ত করে এক জায়গায় বলেন যে, তারা সমকামিতা ছাড়াও অন্য অনেক অবৈধ কাজে লিপ্ত রয়েছে (২৯/২৯)। মুসলমান ভাষ্যকারদের মতে ঐ সব অবৈধ কাজের মধ্যে গালি দেওয়া, শিস দেওয়া, ঢিল ছোঁড়াছুঁড়ি করা, মদ্যপান, মানী ব্যক্তিদের উপহাস করার সাথে গান-বাজনা করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। (৯) ইসলামী মতে গান-বাজনা করা শয়তানের কাজ এবং শুধু মাত্র একটা হাদিসে নবীকে এ ব্যাপারে একটু নরম মনোভাবাপন্ন দেখা যায়। হাদিসটি বলছে, কোন এক ঈদের দিন দুটি শিশু বিবি আয়েশার ঘরে গান করছিল। এমন সময় আবু বকর ও মহম্মদ ঘরে প্রবেশ করলে আবু বকর তাদের গান থামাতে বলেন এবং শয়তানের কাজ করছে বলে ধমক দেন। তখন মহম্মদ বলেন, &quot;ওদের যা করছে করতে দাও&quot;। পরক্ষণেই বিবি আয়েশা চোখের ঈশারায় তাদের চলে যেতে বলেন এবং তারা চলে যায় (মুসলীম- ১৯৩৮, ১৯৪২)। কাজেই মুসলমান সমাজের মধ্যে যারা আজ সঙ্গীত চর্চা করেন, তারা শরীয়ৎ উল্লঙ্খন করেই তা করে থাকেন। এই সমস্ত ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মানুষকে সভ্যতার পথে অগ্রসব হতে সাহায্য করে, না প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে তা সুধী জনের বিচার্য। এই সব বিধিকে অনুসরণ করেই আফগানিস্তানের তালিবান সরকার সমস্ত রকম চারুকলার চর্চা সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বর্তমান প্রসঙ্গে এটাও স্মরণ করা প্রয়োজন যে, সম্রাট হবার পর আওরঙ্গজের ভারতে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন (১০)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান যে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন তাকে কিবলা বলে। মক্কার কাবা গৃহ মুসলমানদের কিবলা। মক্কা ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত, তাই আমাদের দেশের মুসলমানরা পশ্চিমমুখী হয়ে নামাজ আদায় করেন। মুসলীম ধর্মীয় জীবনে এই কিবলার ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কিবলার দিকে মুখ করে মলমূত্র ত্যাগ করা নিষিদ্ধ তো বটেই, এমন কি, কিবলার দিকে পিছন ফিরে মলত্যাগ করাও মুসলমানদের বারণ। কেউ মারা গেলে দাফন করার সময় ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(৯) কোরান শরীফ, শ্রী গিরিশচন্দ্র সেন (হরফ), পৃঃ ৫৬।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(১০) Sri R.C. Mojumdar, Advanced History of India (Macmillan) 1980, P. 594&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লাশ উত্তর দিকে মাথা, দক্ষিণ দিকে পা রেখে কিবলামুখী করে শোয়াতে হবে। এইভাবে শোয়াবার পরই দোয়া, দরুদ ও জানাজার নামাজ আদায় করতে হবে। কোরবাণীর ঈদের সময় যে পশু কোরবাণী করবে তাকেও কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং কোরবাণী করতে হবে। তবে কবরে জিয়ারত করার সময় কিবলাকে পিছনে এবং কবরকে সামনে রেখে দোয়া পাঠ করার নিয়ম। চলন্ত ট্রেনে, জাহাজে কিংবা স্টীমারে নামাজ পড়ার সময় নামাজীর কিবলা ভ্রষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে নিয়ম হল, নামাজ শেষ হবার মুখে কিবলামুখী হয়ে তা শেষ করতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামের শৈশবে জেরুজালেমের মসজিদ আকসা বা বায়তুল মোকাদ্দেশ মুসলমানদের কিবলা ছিল। পরে মদিনা বাসকালে মহম্মদ মক্কার কাবাকে কিবলা করার জন্য আদিষ্ট হন (2 * j&#39; &amp;gt; 88) * I কথিত আছে যে, মক্কায় থাকাকালীন মহম্মদ নামাজের সময় এমন ভাবে দাঁড়াতেন যাতে কাবা ও বায়তুল মোকাদ্দেশ একই দিকে থাকে। কিন্তু মদিনায় আসার পর তা আর সম্ভব হল না, কারণ মদিনার উত্তরে বায়তুল মোকাদ্দেশ ও দক্ষিণে কাবা। হিজরীর দ্বিতীয় বছরে রজব (মতান্তরে শাবান) মাসের ১৫ তারিখে, মদিনা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কোবা নামক স্থানে সালামা গোত্রের লোকজনের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কথাবার্তা সারতে মহম্মদ সেখানে যান। ইতিমধ্যে যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যায় এবং মহম্মদ স্থানীয় একটি মহল্লার মসজিদে নামাজের ইমামতি শুরু করেন। নামাজ অর্ধেক হয়েছে, এমন সময় ফেরেস্তা জিব্রাইল কিবলা পরিবর্তনের প্রত্যাদেশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন (২/১৪৪)। সঙ্গে সঙ্গে মহম্মদ তাঁর মুখ মক্কার দিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং তাঁর দেখাদেখি নামাজীরাও মক্কার দিকে মুখ ঘোরালো। মহম্মদের এক নিকট অনুচর ওমর অনেকদিন আগেই মহম্মদকে কিবলা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিল, যার মধ্যে মক্কার কোরেশদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার রাজনীতি জড়িত ছিল। এই রকম আরও দুটো ব্যাপারে আল্লা ওমরের সিদ্ধান্তকে আয়াত অবতীর্ণ করে সমর্থন করেন। ওমর বদর যুদ্ধের বন্দীদের কৎল করতে এবং মদিনার মুসলমান রমণীদের পর্দাবৃত করতে সুপারিশ করেছিলেন। তাঁর এই দুটো সুপারিশই আল্লা কোরানের আয়াৎ অবতীর্ণ করে সমর্থন করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নামাজের সময় জায়নামাজ বা নামাজের জায়গায় দু হাত দুপাশে ঝুলিয়ে, দুপায়ের মধ্যে দু ইঞ্চির মত ফাঁক রেখে শুদ্ধ মনে দাঁড়াতে হবে এবং মনে মনে চিন্তা করতে হবে যে আল্লা তাকে দেখছেন। দাঁড়ানোটা অবশ্যই কিবলামুখী হবে। এরপর ঐভাবে দাঁড়িয়ে নিম্নলিখিত দোয়া পাঠ করতে হবে&quot; নিশ্চয়ই আমি আসমান-জমিন সৃষ্টিকারীর দিকে মুখ করলাম এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।&quot; তারপর সেই ওয়াক্তের নামাজের জন্য নির্ধারিত নিয়ত বা সংকল্পবাক্য পাঠ করতে হবে। যেমন ফজরের নামাজের নিয়ত হল, আমি আল্লার উদ্দেশে কাবামুখী হয়ে ফজরের দু রাকাত নামাজের সংকল্প করছি। আল্লাহু আকবর।&quot; তারপর আল্লাহু আকবর বলে ডান হাতের বুড়ো আঙুল ও কনিষ্ঠা দিয়ে বাঁ হাতের কবজির উপর খুব কষে ধরতে হবে। একে তাহরিমা বাঁধা বলে। এইভাবে নিম্নলিখিত দোয়া বা প্রার্থনা পাঠ করতে হবে&quot; হে আল্লা, আমরা আপনারই গুণগান করছি, আপনার নামই কল্যাণপ্রদ, আপনার গৌরবই সর্বাধিক এবং আপনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্টকারিতা থেকে রক্ষা করতে হে আল্লা আমরা আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর পর &quot;বিসমিল্লা রহমানির রহিম&quot; বা পরম করুণাময় আল্লার নামে আরম্ভকরছি, এই বলে কোরান শরীফের প্রথম সুরা বা সুরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে। পবিত্র কোরান শরীফ বা কালামপাকে মোট ১১৪ টি সুরা বা অধ্যায় আছে এবং প্রতিটি সুরা কতকগুলি বাক্য বা আয়াতে বিভক্ত। সুরা ফাতিহা খুবই ছোট সুরা এবং এতে মাত্র সাতটি আয়াৎ আছে যার বাংলা অর্থ &quot;সমস্ত প্রশংসা নিখিল জগতের প্রতিপালক আল্লাতায়লারই জন্য। যিনি অনন্ত করুণাময় ও পরম দয়ালু: বিচারের দিনের প্রভু। (হে আল্লা) আমরা কেবল আপনারই উপাসনা করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আপনি আমাদের সরল ও সঠিক পথে পরিচালনা করুন, তাদের পথে যারা সৎপথ ও করুণাপ্রাপ্ত; তাদের পথে নয়, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট।&quot; এর পর অন্য আরেকটি সূরা বা পবিত্র কোরান শরীফের কমপক্ষে তিনটি আয়াত পাঠ করতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তারপর মাথা নত করে, দুই হাতে দুই হাঁটু কষে ধরে, আল্লাহু আকবর বলে রুকু করতে হবে। &lt;span style=&quot;background-color: #fff2cc;&quot;&gt;দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা নীচু করে প্রণাম করাকে রুকু বলে।&lt;/span&gt; ঐ রুকু অবস্থায় বলতে হবে, &quot;আমার মহান প্রতিপালক অতি পবিত্র এবং আল্লার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনতে পান।&quot; এই বলতে বলতে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং তারপর আল্লাহু আকবর বলে সিজদা করতে হবে। সিজদা করতে করতে বলতে হবে &quot;আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” এইভাবে আল্লাহু আকবর বলে দ্বিতীয়বার সিজদা করতে হবে এবং সিজদা শেষে আল্লাহু আকবর বলে উঠে দাঁড়াতে হবে। এইভাবে এক রাকাত নামাজ পূর্ণ হবে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তে এই রকম সতের রাকাত নামাজ ফরজ। ফজরে ২ রাকাত, যোহরে ৪ রাকাত, আসরে ৪ রাকাত, মাগ্রিবে ৩ রাকাত এবং এশায় ৪ রাকাত। জুমআর দিনে যোহরের ৪ রাকাতের বদলে জুমআর ২ রাকাত ফরজ এবং এই কারণে ঐ দিন ১৭ রাকাতের বদলে ১৫ রাকাত ফরজ। এর পর নামাজীরা আল্লার কাছে নিজ নিজ দোয়া ও মোনাজাত পেশ করেন। এই সব দোয়া ও মোনাজাত বান্দারা &#39;মাতৃভাষাতেও করতে পারে তবে যে পবিত্র ভাষায় কোরান শরীফ নাযেল (অবতীর্ণ) হয়েছে, যে পবিত্র ভাবায় স্বয়ং রসুলুল্লা দোয়া মোনাজাত করতেন, সেই পবিত্র আরবী ভাষায় করাটাই মোস্তাহাব বা ভাল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর মুয়াজ্জীন খুৎবার আজান দেবেন এবং ইমাম তাঁর খুৎবা দেবেন। অনেকের ধারণা থাকতে পারে যে, যেহেতু এই খুৎবা এক ধর্মস্থান থেকে দেওয়া হচ্ছে এবং তা একজন ধার্মিক ব্যক্তি বা ইমাম দিচ্ছেন, তাই তা নিশ্চয়ই প্রেম. মৈত্রী ও আধ্যাত্মিক ভাবে পরিপূর্ণ। সেই কারণে সর্বাপেক্ষা খুশির ও প্রেম মৈত্রীর উৎসব বলে পরিচিত &quot;ঈদুল ফিত্র&quot;-এর পবিত্র ছানি খুৎবার অংশ বিশেষ নীচে দেওয়া গেল। &quot;.........হে আল্লা, ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের চিরকাল জয়যুক্ত করুন, আর অবাধ্য কাফের, বেদআতী ও মোশরেকদের সর্বদা পদানত ও পরাস্ত করুন। হে আল্লা, যে বান্দা আপনার আজ্ঞাবহ হবে তাব রাজ্য চির অক্ষয় রাখুন। তিনি রাজার পুত্র হউন কিংবা খাকান পুত্র খাকান হউন, স্থল বা নদীভাগের অধিকর্তা হোন, কিংবা দুই সাগরের মালিক হোন তিনি পবিত্র মক্কা ও মদিনার সেবক হোন, কিংবা আল্লার পথে জেহাদ ও সংগ্রামকারী হোন, তিনি যদি মুসলীম রাজা হ&#39;ন আল্লা তাঁর রাজ্য ও অধিকৃত সাম্রাজ্যকে চির অক্ষয় রাখুন। তাঁরই তরবারি দ্বারা বিদ্রোহী, মহাপাতকী ও অবাধ্যদের (কাফেরদের) মস্তকচ্ছেদন করে নিশ্চিহ্ন করে দিন। হে আল্লা আপনি ধ্বংস করুন কাফেরদের, বেদাআতী মোশরেকদের। হে আল্লা, তাদের দল ও সংঘকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিন। হে আল্লা, তাদের ঐক্যের মধ্যে মতানৈক্য আনয়ন করুন। হে আল্লা, তাদের দেশসমূহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিন।.....&quot; (১১)। কাজেই যে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্ম সমন্বয়কারী হিন্দুরা ঈদের দিন মুসলমানদের সঙ্গে কোলাকুলি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, আশা করা যায় যে, এই খুৎবা পড়ার পর তারা আর ততখানি উৎসাহ বোধ করবেন না। খুৎবা শেষ হলে মুয়াজ্জীন আল্লাহু আকবর বলে নামাজের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে জামাতের নামাজ শেষ হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কোন মহিলা কোন দিন কোন জামাতের নামাজে ইমামতি করতে পারবেন না। কোন বজ্জাৎ (জারজ) ব্যক্তি ইমামতি করার অযোগ্য। ইসলাম ধর্ম ও তার হকিকৎ, শরীয়ৎ ইত্যাদি ব্যাপারে আলিম (জ্ঞানী) ব্যক্তিই ইমামতি করার যোগ্য। নামাজের সময় সর্বদা ইমামকে অনুসরণ করতে হবে; সে সিজদা করলে সিজদা করতে হবে, সে রুকু করলে রুকু করতে হবে। যে ব্যক্তি ইমামের আগেই সিজদা থেকে মাথা তোলে আল্লা তার মাথা গাধার মাথা করে দেন। আল্লাহু আকবর ধ্বনি দেবার সময়ও ইমামের গলার সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে হবে, তার চেয়ে জোরে চীৎকার করা যাবে না। প্রয়োজনবোধে ইমাম তাঁর পছন্দমত ব্যক্তিকে ইমামতি&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(১১) মুসলীম পঞ্জিকা (১৪০০ বঙ্গান্ধী, হরফ, পৃঃ ১৬৯।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;করতে বলতে পারেন। জীবনের শেষ কয়েকদিন রসুলুল্লা অসুস্থ হলে আবু বকর তার বদলে মদিনার মসজিদ নব্বীর নামাজে ইমামতি করেছিলেন। তিনজন ব্যক্তি নামাজের জন্য একত্র হলেই তাদের মধ্য থেকে একজনকে ইমামতি করতে হবে। এ ছাড়াও নামাজের আরও অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে যা বাহুল্যবোধে বর্জিত হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;তৃতীয় স্তম্ভ রোজা&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরবী বারমাসের নাম যথাক্রমে, মহরম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। নবম মাস রমজানে রোজা পালন করা হয়। রমজান মাস পবিত্র কারণ এ মাসে মানুষের দিশারী, সৎপথের নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী বা ফোরকান রূপে আসমানী কেতাব কোরান শরীফ নাযেল হয়েছে। আল্লাতায়লার ইচ্ছা ছিল যে, যে রাতে কোরান নাযেল হয়েছে সেই পবিত্র সবে কদর-এর রাত মানুষের কাছে গোপন থাকুক। তাই রমজান মাসের ঠিক কত তারিখে কোরান নাযেল হয়েছিল তা আল্লার রসুল ভুলে যান। তিনি শুধু এটুকু মনে করতে সক্ষম হন যে, রমজান মাসের শেষ দশদিনের কোন বেজোড় তারিখে সবে কদর হয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;[“রোজা” ফারসি শব্দ, আর আরবিতে “সাওম” (صوم)]&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই কারণে মুসলমানদের মধ্যে রমজান মাসের শেষ দশদিন শুদ্ধ অবস্থায় মসজিদে কাটানোর রীতি আছে। একে এতেক্কাফ বলে। আল্লার রসুল জীবনের শেষ বছর বিশদিন এতেকাফে কাটান। এতেকাফকারীর সুন্নত হল, সে জানাজা নামাজে বা মৃতের জন্য কল্যাণ কামনার নামাজে অংশ গ্রহণ করবে না, প্রাকৃতিক প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদের বাইরে যাবে না এবং কোন স্ত্রীলোককে স্পর্শ করবে না। রসুলুল্লা যে মজ্জিদে এতেকাফ করতেন সেখান থেকে বিবি আয়েশার ঘর দেখা যেত এবং তিনি ঐ কদিন বিবি আয়েশাকে জানালা খুলে রাখতে বলতেন (মুসলীম-৫৮৪)। রোজাদার ছাড়া কেউ এতেক্কাফ করতে পারে না এবং জামে মসজিদ ছাড়া এতেক্কাফ হয় না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রমজান মাসের পুরো একমাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, রোগী ও মুসাফির (পর্যটক) ব্যতীত সকল মুসলমানের রোজা রাখা বা পানাহার পরিত্যাগ করা ফরজ। রমজানের আক্ষরিক অর্থ হল পুড়িয়ে ফেলা। একমাস ব্যাপী উপবাসের দ্বারা মুসলমানরা তাদের পাপ ও অকল্যাণ পুড়িয়ে ফেলে। রোজা সংযম শিক্ষা দেয়, এই কারণে এর আর এক নাম সিয়াম বা সংযম। তবে এক নাগাড়ে উপবাস বা সিয়াম এ ওয়াসিলা ইসলামে নিষিদ্ধ। মহম্মদ দয়া করে তাঁর উম্মতদের জন্য কষ্টকর সিয়াম এ ওয়াসিলা নিষিদ্ধ করে গেছেন। কেউ অসুস্থ হবার ফলে বা প্রবাসে যাবার ফলে রোজা বিঘ্নিত হলে অন্য সময় রোজা রেখে তা পূরণ করে নেওয়া চলতে পারে। যার পক্ষে রোজা রাখা দুঃসাধ্য তাকে প্রতিদিন একজন দরিদ্র (মুসলমান)-কে অন্ন দান করতে হবে। স্বামীর যত্নের জন্য আল্লা স্ত্রীর রোজা মাফ করেছেন। পাছে রসুলুল্লার অযত্ন হয় এই কারণে তাঁর নয়জন পত্নী ও চারজন দাসী রক্ষিতার কেউ রোজা রাখতেন না। স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন রমণীর পক্ষে রোজা রাখা বা কোন মাহারাম ব্যক্তিকেও ঘরে প্রবেশ করানো উচিত নয়। খুবই নিকট আত্মীয়, যাদের সঙ্গে বিবাহ কোরান দ্বারা অবৈধ এবং যাদের সামনে পর্দার প্রয়োজন নেই, সেই সব পুরুষকে মাহারাম বলে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামের আগে, জাহেলিয়াৎ বা অন্ধকারময় অজ্ঞতার যুগেও আরবের লোকেরা রমজান মাসে রোজা পালন করতো এবং ঐ মাসে কোন যুদ্ধবিগ্রহ বা রক্তপাত করতো না। নবী মহম্মদের পিতামহ আব্দুল মোত্তালেব পুরো রমজান মাস হেরা পর্বতের এক গুহায় জপতপের মধ্যে কাটাতেন। তখনকার দিনে আরবের লোকেরা ঐ একমাস স্ত্রী-সংসর্গও বর্জন করতো। ইসলামের আমলে আল্লা কোরান শরীফের আয়াৎ অবতীর্ণ করে স্ত্রী-সংসর্গ বৈধ ঘোষণা করেন (২/১৮৭)। তবে দিনের বেলায় উপবাসের সময় তা অবৈধই থাকল। এই সময় দিনের বেলায় স্ত্রী-সংসর্গ করলে তার প্রায়শ্চিত্য হল, হয় একজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেওয়া, নতুবা দু মাসের রোজা রাখা, নতুবা ষাটজন গরীব (মুসলমান)-কে খাওয়ানো।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;background-color: #fff2cc;&quot;&gt;আরবে চান্দ্র মাস ও চান্দ্র বছর গণনা করা হয়। তাই অমাবস্যার পরদিন, অর্থাৎ শুক্লা প্রতিপদে নতুন মাস শুরু হয়।&lt;/span&gt; এই কারণে রোজার নিয়ম হল, রমজান মাসে প্রথম চাঁদ দেখার আগে রোজা রাখতে নেই এবং শওয়াল মাসের প্রথম চাঁদ দেখার আগে তা বন্ধ করতে নেই। যদি শওয়াল মাসের প্রথম দিনের চাঁদ দেখা না যায় তবে আরও একদিন বেশী রোজা রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে যে, চান্দ্র মাস ও চান্দ্র বছর গণনার ফলে আরবের মাস কখনও ২৯ দিনের কম এবং ৩০ দিনের বেশী হয় না। এবং ৩৬৫ দিনে বছর না হয়ে ১০ দিন কম বা ৩৫৫ দিনে বছর হয়। এই কারণে সমস্ত ইসলামী উৎসবই প্রতি বছর ১০ দিন করে এগিয়ে আসে এবং ৩ বছরে ১ মাস এগিয়ে আসে। ফলে কোন বছর যদি গরম কালে ঈদ হয় তবে ১০ বছর পরে তা প্রায় ৩ মাস এগিয়ে আসবে এবং শীতকালে ঈদ হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;লুঠপাট করে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ধনসম্পত্তি অবৈধভাবে অধিকার করাকে জিহাদ বলে এবং এই জিহাদের সময় আল্লা রোজা মাফ করে দিয়েছেন। রমজান মাসে মুসলমানদের সঙ্গে পৌত্তলিক কোরেশদের বদর যুদ্ধ হয়। রোজা রাখা দুর্বল লোকজন দ্বারা যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। তাই মহম্মদ প্রথমে রোজা ভাঙেন এবং উম্মতদেরও তাই করতে বলেন। তবে জিহাদের সময় যে বান্দা একদিন রোজা রাখবে আল্লা একদিনের জন্য তার কাছ থেকে নরকের আগুনকে ৭০ বছর দূরে রাখবেন। অর্থাৎ ৭০ বছর ক্রমাগত হেঁটে যে দূরত্ব অতিক্রম করা যায়, ঠিক ততটা দূরে রাখবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হিজরীর ২য় বছরের ১৮ই রমজান, মদিনা থেকে ৩০ মাইল ও মক্কা থেকে ১২০ মাইল দূরে বদর নামক প্রান্তরে যে যুদ্ধ হয় তাই বদর যুদ্ধ নামে খ্যাত। ঐতিহাসিকদের মতে পলাশীর যুদ্ধ বা ওয়াটারলুর যুদ্ধের মতই এই যুদ্ধ ঐতিহাসিক&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এর কয়েকদিন আগে মহম্মদ ৩১৩ জন মুসলমান, ৭০ টি উট ও ২টি ঘোড়ার এক বাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে রওনা হন। উদ্দেশ্য ছিল আবু সুফিয়ান নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সীরিয়া থেকে মক্কায় প্রত্যাবর্তণকারী এক বাণিজ্য কাফেলাকে মাঝপথে লুঠপাট করা। কিন্তু মহম্মদের উদ্দেশ্য টের পেয়ে বাণিজ্য কাফেলা অন্যপথে মক্কায় চলে যায় এবং মক্কা থেকে ১০০০ সৈন্য, ৭০ (মতান্তরে ২০০) ঘোড়া ও অসংখ্য উট সহ এক বিশাল কোরেশ বাহিনী এসে মহম্মদের গতি রোধ করে। কিন্তু মুসলমানবাহিনী আশ্চর্যজনকভাবে এই অসম যুদ্ধে জয়লাভ করে। কোরেশবাহিনী জয় নিশ্চিত মনে করে তেমন গুরুত্ব সহকারে যুদ্ধ না করার ফলেই তাদের পরাজয় হয়। যদি কোরেশবাহিনী বদর যুদ্ধে জয়লাভকরতো তবে সেই দিনই দুনিয়া থেকে ইসলাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। অপর দিকে বদর যুদ্ধে জয়লাভ মুসলমানদের কাছে একটা চিরন্তন প্রেরণা হয়ে আছে। এই বদর যুদ্ধের আস্বাভাবিক সাফল্যকে স্মরণ করেই আমাদের দেশের মুসলমান মাঝি মাল্লারা বদর বদর বলে নৌকা ছাড়ে। ওমর এই বদর যুদ্ধের বন্দীদেরই কোৎল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা পরে আল্লা সমর্থন করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ঊষার কিছু পূর্বে খেয়ে নেওয়া এবং দিনের শেষে কিছু খেয়ে নিয়ে এফতার বা উপবাস ভঙ্গ করা আল্লা পছন্দ করেন। ইহুদী ও খ্রীস্টানরা উপবাসের সময় অনেকরাত থাকতে খায় এবং আকাশে তারা দেখা না গেলে এফতার করে না। কিন্তু মুসলমানদের সে রকম করা নিষেধ। অনেক সময় নবীর এমন হত যে, স্ত্রী-সহবাস জনিত অপবিত্র অবস্থাতেই ভোর হয়ে যেত। তখন তিনি আর খাবার সময় পেতেন না। গোসল করেই রোজা রাখতেন। রোজার মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী-গমন অবৈধ হলেও চুম্বন, আলিঙ্গন ইত্যাদি বৈধ। নবী রোজা অবস্থায় স্বীয় পত্নীদের চুম্বন করতেন। রোজার সময় থুথু গিলে ফেলাও নিষেধ, তবে ভুলক্রমে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা নষ্ট হয় না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রমজান মাসে আল্লার আদেশে জান্নাতের সকল রজা খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখ বা নরকের সব দরজা বন্ধ রাখা হয়। এই মাসে শয়তান শৃঙ্খলিত থাকে, অর্থাৎ শয়তানের দ্বারা কুপথে চালিত হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। জান্নাতে আটটি দরজার মধ্যে একটির নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন ঐ দরজা শুধু রোজাদারদের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ফেরেস্তারা ডাক দেবেন, &quot;প্রিয় রোজাদারেরা কোথায়?&quot; তখন রোজাদারেরা উঠে দাঁড়াবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। ঐ দরজা দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এবং রোজাদারেরা ঢুকে গেলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা বা অন্যান্য কুকর্ম ত্যাগ না করে পানাহার ত্যাগ করে রোজা রাখে, আল্লা তার কোন খোঁজ-খবর নেওয়া প্রয়োজন মনে করেন না। যে ব্যক্তি রোগ, ব্যাধি বা অন্য কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া একদিনও রোজা বন্ধ করে, সারা জীবন রোজা রাখলেও তার সে ক্ষতি পূরণ হয় না। আল্লা গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদাত্রী জননীর জন্য রোজা মাফ করেছেন এবং মুসাফির (প্রবাসী)-দের জন্য নামাজের অর্ধেক ও রোজা পুরো মাফ করেছেন। বাসস্থান থেকে কমপক্ষে ৩০ মাইল দূরে না গেলে কোন ব্যক্তি মুসাফির বলে গণ্য হবে না। আল্লা বলেন, &quot;রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার পুরস্কার প্রদান করব, কারণ বান্দা আমার জন্যই তার প্রবৃত্তিকে দমন করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।&quot; রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লার কাছে মৃগনাভির থেকেও উৎকৃষ্ট। মিশর থেকে চলে আসার পর এবং দশ প্রত্যাদেশ (Ten commandments) অবতীর্ণ হবার প্রাক্কালে আল্লা পূর্ববর্তী নবী হজরৎ মুসাকে ২০ দিন রোজা রাখতে বলেন এবং ২০ দিন রোজা রাখার পর মুসা মুখ ধুয়ে ফেলেন। এতে ফেরেস্তারা হায় হায় করে ওঠে এবং বলে &quot;এ আপনি কি করলেন? অপনার মুখে মৃগনাভির গন্ধ হয়েছিল তা নষ্ট করে ফেললেন!&quot; এই কারণে মুসাকে আরও ১০ দিন অতিরিক্ত রোজা রাখতে হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রমজানের রোজা ছাড়াও ১০ই মহরম ইহুদীদের উৎসব আসু&#39;র দিনেও মুসলমানদের উপবাস করার রীতি আছে। ইসলামের আগে আরও কিছু কিছু দিনে উপবাস করার রেওয়াজ আরবের লোকদের মধ্যে ছিল। তবে ইসলামী মতে এই সব উপবাস করলেও চলে, না করলেও চলে। একবার আসুরের দিনে মহম্মদ বিবি আয়েশার কাছ থেকে খাবার চেয়ে খান এবং বলেন যে, এই সব উপবাস হল সঙ্কা (ভিক্ষা)&#39;র জন্য কিছু টাকা আলাদা করে রাখার মত। পরে সেটা ভিক্ষা দেওয়াতেও খরচ করা চলে আবার নিজের জন্য খরচ করাও চলে (মুসলীম-২৫৭৩)। ঈদের দিন কোন মুসলমানের পক্ষেই রোজা রাখা উচিত নয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;চতুর্থ স্তম্ভ জাকাত&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরবী জাকাত শব্দের অর্থ শুদ্ধিকরণ। আয়ের ৪০ ভাগের ১ ভাগ দরিদ্রদের জন্য জাকাত হিসাবে দান করে প্রত্যেক সঙ্গতিসম্পন্ন মুসলমানের শুদ্ধ হওয়া ফরজ (৯২/১৮-২১)। জাকাত&amp;nbsp; আয়ের ২.৫% কিন্তু এটি মোট “আয়ের” উপর নয়; নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চিত সম্পদ (নিসাব) এক চান্দ্র বছর পূর্ণ হলে তার উপর প্রযোজ্য। কাজেই এটা অনেকটা আজকের আয়করের সমতুল্য বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক। এইজন্য রসুলুল্লা দরিদ্র মুসলমানগণকে ধনীদের পাপ মোচন কারী রুমাল রূপে বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লার দেওয়া ধন থেকে জাকাত দেয় না, পরলোকে ঐ ধন বিষধর সাপের আকার ধারণ করে দু গাছা মালার মতন তার গলা বেষ্টন করবে। অথবা কেয়ামতের দিন ঐ অভিশপ্ত ধনসম্পদ কেশহীন সাপের আকার ধারণ করে তার মালিককে অনুসরণ করবে এবং দংশন করবে। সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বাহান্ন তোলা রূপার মালিকহয়েও যে ব্যক্তি ন্যায্য জাকাত দেয় না, কেয়ামতের দিন তার জন্য অগ্নি শলাকা থাকবে। ঐ শলাকা দোজখের আগুনে পুড়িয়ে তার কপালে ও পিঠেদাগ দেওয়া হবে। বিচার যতদিন শেষ না হবে ততদিন এই শাস্তি চলতে থাকবে এবং তখনকার একদিন হবে আজকের পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যে ন্যায্য জাকাত দেয় না তার ধন বৃদ্ধি না পেয়ে হ্রাস পায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;[ “দান আত্মশুদ্ধির মাধ্যম” — এই ধারণার কারণ “يتزكى / তাযাক্কা” শব্দের অর্থই পবিত্রতা বা আত্মশুদ্ধি অর্জন করা &lt;a href=&quot;https://quran.com/92?startingVerse=18&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;কু০ ৯২।১৮&lt;/a&gt; ٱلَّذِى يُؤْتِى مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ١٨]&lt;/p&gt;&lt;p&gt;শাক-সবজি ও তরিতরকারী, পাঁচ ওসক (২৮ মণ বা ১০৩৬ কেজি)-এর কম শস্য, ভারবাহী পশু, ঘোড়া, গাধা ও ক্রীতদাসের জন্য কোন জাকাত নেই। যে সব জমি বৃষ্টি, ঝরণা বা নদী-নালার জল দ্বারা স্বাভাবিক ভাবে সিঞ্চিত হয়, তার উৎপন্ন শস্যের (অবশ্যই ৫ ওসকের বেশী হলে) এক-দশমাংশ জাকাত দিতে হবে। যার আয় পাঁচ উকিয়া (সাড়ে ৫২ তোলা) রূপা, পাঁচটি উট বা পাঁচ ওসক শস্যের কম, তার কোন জাকাত নেই। এক বছর পার না হলে কারও সঞ্চিত ধনের উপর জাকাত ধার্য হবে না। জাকাত ব্যতীত আল্লা ঈমান ও নামাজ কবুল করেন না। জাকাত দেওয়ার মধ্যেই ইসলামের পরিপূর্ণতা ও পাপের পরিত্রাণ। কোন বান্দা রোজা পালন করলে বেহেস্তের পথের এক-তৃতীয়াংশ পার হয়, নামাজের দ্বারা সে বাকী এক-তৃতীয়াংশ পার হয় এবং জাকাত তাকে বাকী এক-তৃতীয়াংশ পার করে জান্নাতে পৌঁছে দেয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জাকাত সম্পর্কে এতক্ষণ যা বলা হল তাতে এটা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে এটা অত্যন্ত মানবিক ব্যবস্থা যার লক্ষ্য হল ধনী ও দরিদ্রের মধ্যেকার ব্যবধান কমিয়ে আনা। এই কারণে জাকাতের উৎপত্তির ইতিবৃত্ত কিছুটা জানা আবশ্যক। প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে, এই জা&#39;কাত শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং দরিদ্রকে জাকাত দেওয়া বলতে শুধু দরিদ্র মুসলমানকেই দেওয়া বোঝায়। কাজেই এর মধ্যে বৃহত্তর বা উদার মানসিকতার কোন ব্যাপার নেই। এর সঙ্গে পাঠক কমিউনিস্টদের মানোভাবের মিল খুঁজে পাবেন। কারণ তাদের মতেও সব গরীবই গরীব নয়। যেই গরীব তাদের সমর্থক তারাই প্রকৃত গরীব। এই মনোভাবের দ্বারা চালিত হয়েই পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট সরকার দণ্ডকারণ্য থেকে আগত শত শত গৃহহীন উদ্বাস্তুকে মরিচঝাঁপিতে গুলি করে মেরে ফেলতে পেরেছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহম্মদ হিজরৎ করে মদিনায় আসার পর তাঁর যে সমস্ত উম্মত মক্কা থেকে মদিনায় চলে আসে তাদের বলা হত মুহাজির বা উদ্বাস্তু। এদের প্রায় সকলেই ছিল অত্যন্ত গরীব। মদিনার মুসলমানদের অনুগ্রহ ও দানের দ্বারাই তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহ হত। মদিনার এইসব মুসলমানদের বলা হত অম্লার বা সাহায্যকারী। প্রথম দিকে এই সাহায্যের ব্যাপারটা ছিল নিতান্তই ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। এবং এর জন্য কোন রকম বাধ্যবাধকতার ব্যাপার ছিল না। তখন এই সাহায্যের নাম ছিল সক্কা বা দান। আজও মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ এই সদ্‌স্কার রীতি চালু আছে। সক্কা হিসাবে সংগৃহীত অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হবে সে ব্যাপারে আল্লা বলছেন, &quot;সক্কা (দান) কেবলমাত্র নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য; যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য এবং দাসমুক্তি ও ঋণ-গ্রস্তের এবং আল্লার পথ ও পথিকের জন্য&quot; (৯/৬০)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অর্থাৎ সক্কা হিসাবে সংগৃহীত অর্থের একটা অংশ&#39; ব্যয় হবে দরিদ্র মুসলমানদের জন্য এবং যারা ঘুরে ঘুরে সক্কা আদায় করে তাদের ভরণপোষণের জন্য। দ্বিতীয় অংশ ব্যয়িত হবে যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা দরকার তাদের জন্য। এই দলে দু রকমের লোক পড়ে। প্রথমতঃ, যারা এখনও মুসলমান হয়নি সেইসব গরীব লোকদের টাকার লোভ দেখিয়ে মুসলমান বানানোর জন্য। দ্বিতীয়তঃ, যারা সদ্য মুসলমান হয়েছে তাদের মধ্যে যাদের ইসলাম ত্যাগ করার সম্ভাবনা আছে, তাদের টাকা দিয়ে ইসলামের প্রতি অনুরক্ত রাখার জন্য। অনুগত মুসলমানদের না দিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত মুসলমানদের টাকা দেওয়ার উপর আল্লার রসুল&amp;nbsp;ﷺ  বেশী জোর দিতেন এবং বলতেন যে, এদের একটু বেশী দেওয়া দরকার যাতে এরা আবার আগুনে (অর্থাৎ পুরাণো পৌত্তলিক ধর্মে) ফিরে না যায় (মুসলীম-২৩০০)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত (৯/৬০) আয়াতের পরবর্তী অংশে মদিনায় মুসলমানের সংখ্যা বাড়াবার পন্থা-পদ্ধতিগুলো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। প্রথমতঃ, কোন ক্রীতদাসকে তার মুক্তি পণ দিয়ে প্রভুর কাছ থেকে মুক্ত করে মুসলমান করা। দ্বিতীয়তঃ, কোন ঋণগ্রস্ত গরীব মানুষকে ঋণের দায় থেকে মুক্ত করে মুসলমান করা। আল্লার পথে ও আল্লার পথের পথিকের জন্য সদকা ব্যয় করার অর্থ হল জিহাদ ও জিহাদে অংশগ্রহণকারী মুহাজিরদের জন্য ব্যয় করা। আগেই বলা হয়েছে যে, জিহাদ বলতে বোঝায় লুঠতরাজ, দাঙ্গা, অতর্কিতে আক্রমণ ইত্যাদির মাধ্যমে বিধর্মীদের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে ইসলামের রাজত্ব কায়েম করা। আমাদের দেশের অনেক পণ্ডিত (?) জিহাদের অর্থ ধর্মযুদ্ধ করেন এবং এ ধারণা ভুল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামের প্রসার ও সমৃদ্ধির পিছনে এই জিহাদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই ঘোড়া সহ অন্যান্য উপকরণ বা অস্ত্রশস্ত্র, যা জিহাদের কাজে লাগে, তার পিছনে ব্যয়কেই আল্লার পথে ব্যয় বলা হয়েছে। কালে মদিনায় মহম্মদ&amp;nbsp;ﷺ  ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের জোর বাড়লে এই ঐচ্ছিক সক্কাই বাধ্যতামূলক জাকাতে রূপান্তরিত হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সঙ্কা সম্বন্ধে মহম্মদ ﷺ  বলতেন যে, যে ব্যক্তি গোপনে সক্কা দেয়, এমনভাবে দেয় যে ডান হাত জানে না যে বাঁ হাত কি করছে, আল্লা সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করেন। সদ্‌ক্কা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিয়ে দেওয়া উচিত, কারণ কেয়ামতের আগে এমন একদিন আসবে যখন সক্কা দেবার বা দান খয়রাৎ করার লোক পাওয়া যাবে না। আল্লার মহত্ত্ব কীর্তন করলেও তা সদকা বলে গণ্য করা চলে। এমন কি স্ত্রী-সহবাসকালে বীর্যপাতও এক ধরনের সক্কা। মহম্মদ নিজে কখনও সক্কা দিতেন না এবং বলতেন, &quot;সক্কা আমাদের জন্য নয়&quot; (মুসলীম-২৩৪০)। একদিন বারিরা নামে এক মহিলাকে মহম্মদের এক স্ত্রী কিছুটা মাংস সক্কা দেন। পরে বারিরা সেই মাংস মহম্মদকে উপহার দিতে চাইলে মহম্মদ জেনে বুঝেও তা গ্রহণ করলেন এবং বললেন, &quot;সঙ্কা ওদের জন্য আর উপহার আমাদের জন্য&quot; (মুসলীম-২৩৫১)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সক্কা যখন বাধ্যতামূলক জাকাতে পরিণত হল তখন তা বেশীরভাগ আরববাসীর অসন্তোষের কারণ হল। বিশেষ করে মরুবাসী বেদুইনদের মধ্যে এই অসন্তোষ চরমে উঠল। কারণ তারা জাকাত দিত কিন্তু তার ফল ভোগ করার সুযোগ পেত না (৯/৯৮, ৯৯/১০১)। অর্থাৎ জাকাতের টাকায় যে জিহাদ হত তাতে তাদের যোগ দেবার সুযোগ না থাকায় তারা জিহাদের লুঠের মাল বা গনিমতের ভাগ পেত না। মহম্মদ মক্কাজয়ের পর জাকাত আদায়ের জন্য চতুর্দিকে লোক পাঠালেন। তখন বনি তামিম গোষ্ঠীর কিছু লোক জাকাত দিতে অস্বীকার করল। মহম্মদ তখন ৫০ জন অশ্বারোহী-বিশিষ্ট একটা দলকে সেখানে পাঠালেন তাদের শায়েস্তা করার জন্য এবং তারা বনি তামিমের লোকজনদের বন্দী করে নিয়ে এল। মহম্মদ মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দিলেন বটে তবে এই ঘটনার ফলে জাকাত আদায় নির্বিঘ্ন হল। মহম্মদের মৃত্যুর পর জাকাতের প্রতি আরববাসীদের এই অসন্তোষ প্রবল আকারে আত্মপ্রকাশ করল এবং তা বিদ্রোহের রূপ নিল। বহু লোক ইসলাম ত্যাগ করল। তখন খলিফা আবু বক্র ইয়েমেন থেকে মুসলমান নিয়ে এসে সেই বিদ্রোহ দমন করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, যে জাকাত দেবার জন্য মহম্মদ সবাইকে উপদেশ দিতেন, না দিলে নরকের ভয় দেখাতেন এবং বল প্রয়োগ করে তা আদায় করতেন, সেই মহম্মদ নিজে জাকাত দিতেন না এবং বলতেন যে তিনি ও তাঁর পরিবারের উপর জাকাত নেই (মুসলীম-২৩৪০)। তাঁর এই পরিবার বলতে বোঝাত চাচা আব্বাস ও হারিস এবং চাচাত ভাই আলি, আকিল ও জাফরের পরিবার ও তাদের বংশধরগণ। উপরিউক্ত ব্যক্তিগণের মধ্যে মহম্মদের চাচাতভাই আলির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইনি মহম্মদের চাচা আবু তালেব-এর পুত্র। এর সাথে মহম্মদ তাঁর কন্যা ফতেমার বিবাহ দেন। আট বছর বয়সে আলি মুসলমান হন। আক্রমণ, লুণ্ঠন ও হত্যা ইত্যাদি ব্যাপারে ইনি নবীর দক্ষিণ হস্ত ছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহম্মদের মৃত্যুর পর আবু বকর, ওমর ও ওসমানের পরে আলি ৬৫৫ খ্রীস্টাব্দে মুসলীম জগতের চতুর্থ খলিফা হন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একবার মহম্মদ তাঁর অনুচর ওমরকে জাকাত সংগ্রহের কাজে লাগান। কিন্তু খালেদ বিন ওয়ালেদ নামে এক ব্যক্তি এবং মহম্মদের চাচা আব্বাস জাকাত দিতে অস্বীকার করলে ওমর মহম্মদকে তা জানালেন। যুদ্ধ বিগ্রহের ব্যাপারে উপরিউক্ত খালেদ বিন ওয়ালেদও মহম্মদের প্রধান অনুচরদের একজন ছিলেন। পরবর্তী কালে খয়বর অভিযানের সময় ইনি দ্বিতীয় প্রধান সেনাপতি নির্বাচিত হন এবং মক্কা বিজয়ের পর খালেদ নাখল নামক স্থানের বিখ্যাত আল উজ্জার মূর্তি ধ্বংস করেন। যাই হোক ওমরের অভিযোগ শোনার পর মহম্মদ বললেন, &quot;খালেদের কাছে জাকাত চেয়ে তুমি অন্যায় করেছ কারণ সে আল্লার জন্য অস্ত্রশস্ত্র মজুদ রাখে। আর আব্বাসের ব্যাপারটা আমি দেখছি। তবে স্মরণ রেখো যে, কোন ব্যক্তির কাছে তার চাচা পিতৃতুল্য (মুসলীম-২১৪৮)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহম্মদের মৃত্যুর অল্প কিছুকালের মধ্যেই জাকাত তার প্রাধান্য হারিয়ে ফেলল এবং গনিমত বা লুঠের মাল সে স্থান দখল করে নিল। এই লুঠের মাল কিভাবে বন্টন করা হবে আগে তার কোন নিয়ম-কানুন ছিল না। বদর যুদ্ধে মুসলমানরা কোরেশদের যে বিপুল সম্পদ দখল করল তা কিভাবে ভাগাভাগি হবে তা নিয়ে উম্মতদের মধ্যে বেশ অনিশ্চয়তা ছিল। অনেকে ভেবেছিল এবং মনে মনে আশা করেছিল যে এই লুঠের মালের যারা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে তারাই পাবে। এমন সময় আল্লা কোরানের বাণী (৮/১) অবতীর্ণ করে জানিয়ে দিলেন যে সমুদায় লুঠের মাল মালিক হলেন আল্লা ও তাঁর রসুল। এই বাণীর দ্বারা আল্লা এটাই সবাইকে বুঝিয়ে দিলেন যে, লুঠের মালের আসল মালিক হলেন আল্লার রসুল মহম্মদ। কাজেই তিনি যে ভাবে ইচ্ছা লুঠের মাল বণ্টন করতে পারেন। এর পর আল্লা বাণী অবতীর্ণ করলেন যে, লুঠের মালের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লার রসূলের প্রাপ্য (৮/৪১) এবং সেই অনুসারে মহম্মদ এক-পঞ্চমাংশ নিজে রেখে বাকীটা উম্মতদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। এই এক-পঞ্চমাংশকে বলে পবিত্র খুম। এর পর থেকে এই নিয়মই চলতে থাকল এবং লুটের মালের এক পঞ্চমাংশ পবিত্র খুম হিসাবে নবী পেতে থাকলেন। এই পবিত্র খুম কিভাবে ব্যয় করবেন তা পুরোপুরি আল্লার রসুলের ইচ্ছাধীন। প্রথমতঃ তা থেকে তিনি তাঁর নিজের ও তাঁর পরিবারের খরচ খরচা চালাবেন এবং বাদবাকীটা নিম্নলিখিত চার ভাগে খরচ করবেন। (১) গরীব মুসলমানদের জাকাত দিতে, (২) অনুচরদের উপহার দিতে, (৩) বিধর্মী দরিদ্রদের টাকা দিয়ে মুসলমান করতে এবং বাকীটা আল্লার পথে। আল্লার পথে খরচ করা বলতে অস্ত্রশস্ত্র ও জিহাদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ কেনার খরচ বোঝায়। উপহার তিনি সেই সব অনুচরদের দিতেন যারা সদ্য মুসলমান হয়েছে এবং এ ব্যাপারে তিনি বলতেন &quot;যারা কিছুদিন আগেও অবিশ্বাসী ছিল আমি মাঝে মাঝে তাদের উপহার দিই যাতে তারা সত্যের প্রতি আকৃষ্ট হয় (মুসলীম-২৩০৩)। অনেক সময় নবীর এই উপহার দেওয়া নিয়ে উম্মতদের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হত। হুনাইন যুদ্ধের পর নবী সমস্ত ভাল ভাল ও দামী গনিমতের মাল নতুন মুসলমান হয়েছে এরকম কোরেশ নেতা ও বেদুইন দলপতিদের দিয়ে দিলেন। এদের মধ্যে ছিল ইসলাম ও মহম্মদের চির শত্রু আবু সুফিয়ান। পরে মক্কা বিজয়ের পর আবু সুফিয়ান মহম্মদের প্রিয় পাত্র হন এবং তাঁর মেয়ে উম্মে হাবিবাকে নবী বিবাহ করেন। যখন এদের সকলকে ১০০ টা করে উট দেওয়া হল তখন আর এক অনুচর আবদুল্লা বিন যায়েদ তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করল এবং মহম্মদ তখন তাকেও ১০০টা উট দিলেন (মুসলীম- ২৩০৩, ২৩০৪)। এই শেষোক্ত আবদুল্লা বিন যায়েদ ছিলেন মহম্মদের পালিত পুত্র যায়েদের ছেলে এবং যায়েদের স্ত্রী জয়নবকে নবী বিবাহ করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একবার গনিমতের মাল হিসাবে আলি ইয়েমেন থেকে কিছু সোনা পাঠান এবং তার বণ্টনের বেলায়ও আল্লার রসুল পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। নবী তখন রেগে গিয়ে বললেন, &quot;আমি আল্লার রসুল, সকাল বিকাল আমার কাছে আল্লার বাণী আসে, তবুও তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে না!&quot; তখন খোয়ারু [যুল খুওয়াইসিরা” (ذو الخويصرة) ] নামে এক ব্যক্তি বলল, &quot;আল্লার রসুল, আল্লাকে ভয় করুন ও ন্যায় বিচার করুন।&quot; নবীর অনুচর ওমর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, &quot;আল্লার রসুল, অনুমতি করুন এই কপটের মুণ্ডটা এখনই ধড় থেকে নামিয়ে দিই।&quot; যাই হোক, মহম্মদ তাকে প্রাণে মারলেন না বটে, তবে সেই থেকে খোয়ারু ও তার বংশধরেরা-ঘৃণিত কপট বলে চিহ্নিত হল (মুসলীম-২৩১৬, ২৩২৭)। উপরিউক্ত ওমর পরে মুসলীম জগতের দ্বিতীয় খলিফা হন এবং এঁর আমলে মুসলমান সাম্রাজ্য খুবই বিস্তৃতি লাভ করে। ঐ সময় বিজিত দেশগুলি থেকে এত গনিমতের মাল আসতে শুরু করে যে আরবের একটি সদ্যোজাত শিশুও তার ভাগ পেতে থাকে। ওমরের বিধবা কন্যা হাফসাকে মহম্মদ বিবাহ করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এ প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলা দরকার। জিহাদ না করে, শুধু ভয় দেখিয়ে বিধর্মীদের ধনসম্পদ হস্তগত করাকে ফেই বলে। যেহেতু জিহাদকারীদের মধ্যে তা বিতরণের কোন প্রশ্ন নেই তাই এর পুরোটাই আল্লার রসুলের প্রাপ্য। মদিনার উপকন্ঠে বনি নাজির, বনি কানুইকা ও বনি কুরাইজা নামে ইহুদী গোষ্ঠীর লোকেরা বসবাস করত। নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তি ও কর্মকুশলতায় আরবের বেদুইনদের থেকে উন্নত হবার ফলে এরা বেশ সচ্ছল ও ধনসম্পত্তির মালিক ছিল। এইসব ধন সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে আল্লা বাণী অবতীর্ণ করলেন, &quot;আরও বহু সম্পদ আল্লা তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন, যা এখনও তোমাদের অধিকারে আসে নাই, তবে আল্লার নিকট গচ্ছিত আছে&quot; (৪৮/২১)। মহম্মদ শুধু ভয় দেখিয়ে বনি নাজির গোষ্ঠীকে মদিনা থেকে বিতাড়িত করলেন। তারা পরিবার পিছু এক উটের পিঠে যতটা মাল ধরে তাই নিয়ে মদিনা ত্যাগ করতে বাধ্য হল এবং মদিনার উত্তরে খয়বর নামক স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করল। কাজেই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, বাংলাদেশ বা পূর্বপাকিস্তান থেকে যে হিন্দু বিতাড়ন হয়েছে বা হচ্ছে, নবী তাঁর জীবিত কালেই তার সূচনা করে গেছেন। এখানে আরও একটা লক্ষ্য করার বিষয় হল এই যে, বিশ্বাসীরা যাতে শিক্ষায় দীক্ষায় নিজেদের উন্নত করে সচ্ছল ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারে এরকম কোন প্রেরণা ইসলামে অনুপস্থিত। পক্ষান্তরে বলপূর্বক ও অন্যায়ভাবে পরের দ্রব্য আত্মসাৎ করাতেই ইসলাম প্রেরণা যুগিয়ে আসছে। যাই হোক, যেহেতু জিহাদ না করেই বনি নাজির গোষ্ঠীর জমিজায়গা, ধন সম্পত্তি হস্তগত করা সম্ভব হল তাই এই সমুদায় সম্পত্তি পবিত্র ফেই হিসাবে নবীর মালিকানায় চলে এল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামের আগে বেদুইনদের মধ্যে এই রীতি ছিল যে, দস্যুতা করে যে সম্পদ পাওয়া যেত তার চার আনা দলপতি পেত এবং বাকী বার আনা শাকরেদদের মধ্যে ভাগ হত। যে চার আনা দলপতি গ্রহণ করতো তাকে সফি বলা হত। বনি নাজির গোষ্ঠীর যে বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হাতে এল মুসলমানরা ভাবল তাও এইভাবে ভাগ বাঁটোয়ারা হবে। কিন্তু আল্লা কোরানের বাণী (৫৯/৭) “ما أفاء الله على رسوله ... فلله وللرسول ... অর্থাৎ: “আল্লাহ যে সম্পদ তাঁর রাসূলকে দিয়েছেন ... তা আল্লাহ ও রাসূলের জন্য...” অবতীর্ণ করে সমুদায় সম্পত্তি ফেই হিসাবে আল্লার রসুলের প্রাপ্য বলে ঘোষণা করলেন। এতে করে আল্লার রসুল এক বিশাল ভূ-সম্পত্তির মালিক হলেন। এরই একটা অংশে একটা বাগানবাড়ী তৈরি করিয়ে নবী তাঁর মিশরীয় ও খ্রীস্টান রক্ষিতা মেরী বা মারিয়াকে রাখেন। মেরী ক্রীতদাসী ছিল। অষ্টম হিজরীতে এর গর্ভে মহম্মদের পুত্র ইব্রাহীম জন্মগ্রহণ করে কিন্তু ১৮ মাস বয়সে মারা যায়। মৃত্যুকালে মহম্মদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে একমাত্র কন্যা ফতেমা জীবিত ছিলেন এবং তিনিও মহম্মদের মৃত্যুর ৬ মাস পরে, ১১ হিজরীতে মারা যান। মহম্মদের মৃত্যুর পর মেরীর ইতিবৃত্ত রহস্যাবৃত। অনেকের মতে সে আবার মিশরে ফিরে গিয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বর্তমান প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলা প্রয়োজন। বদর যুদ্ধে মুসলমানরা সর্বপ্রথম গনিমতের মাল দখল করে। কিন্তু তা ভোগ করতে তাদের মধ্যে কিছুটা সঙ্কোচ দেখা দেয়। কিন্তু আল্লা অপরাধী মনোভাব দূর করে মহানন্দে তা ভোগ করতে আদেশ দেন এবং বলেন, &quot; যে গনিমতের মাল তোমরা পেয়েছ তা বৈধ ও উত্তম জেনে ভোগ কর&quot; (৮/৬৯)। মুসলমানদের নৈতিক উন্নতির বদলে তার অধঃপতন ঘটাতে আল্লা কতখানি উৎসাহী তা উপরিউক্ত আয়াৎটিতে পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে, যুদ্ধবন্দী মানুষও ইসলামে লুঠের মাল বলে গণ্য এবং নারী যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে যৌনক্রিয়া বৈধ। হুনাইন যুদ্ধের সময় যে সমস্ত নারী যুদ্ধবন্দীকে গনিমতের মাল হিসাবে নিয়ে আসা হয়, প্রথম দিকে মুসলমানরা কাফের হলেও সেই সব সধবা রমণীদের ভোগ করতে সঙ্কোচ করে। তখন আল্লা বাণী অবতীর্ণ করলেন, &quot;তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের অধিকার করেছে (অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী ও দাসী) তারা ব্যতীত অন্য কোন সধবা রমণী তোমাদের জন্য বৈধ নয়&quot; (৪/২৪)। এইভাবে আল্লা তাদের সঙ্কোচ দূর করলেন এবং বিশ্বাসীরা বৈধ কর্মে লিপ্ত হল (মুসলীম-৩৪৩২)। শ্রীমতী তসলিমা নাসরিন এর লজ্জা উপন্যাসের মায়াকে গনিমতের মাল হিসাবেই অপহরণ করা হয়েছিল এবং আল্লার উপরিউক্ত বাণীগুলোর জন্যই অপহরণকারীদের মনে কোন পাপ বোধ জাগ্রত হয় নি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গনিমতের মালের প্রলোভনই মুসলমান জিহাদকারীদের সর্বপ্রধান প্রেরণা এবং আজও এই প্রেরণাই বাংলাদেশ থেকে হিন্দু বিতাড়নের মূল কারণ। লুটের মালের ভাগ পাবার লোভে অনেক সময় অনেক অ-মুসলমান কাফেরও মহম্মদের কাছে জিহাদকারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রার্থনা জানাত। একবার একজন লোক মহম্মদের কাছে এসে বলল যে, সে জিহাদে যোগ দিয়ে লুটের মালের ভাগ পেতে ইচ্ছুক। মহম্মদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, &quot;তুমি কি আল্লা ও তাঁর রসুলে বিশ্বাস কর?&quot; লোকটি জবাব দিল &quot;না&quot;। তখন মহম্মদ তাকে বললেন &quot;আগে ভুল রাস্তা ঠিক কর (অর্থাৎ মুসলমান হও)&quot; (মুসলীম-৪৪৭২)। তবে প্রয়োজন বোধ করলে আল্লার রসুল কাফেরদের সাহায্য নিতে কুণ্ঠিত হতেন না। কুজমান ও সাফোয়ান বিন উমায়া নামে দুই জন পৌত্তলিক কাফের ওহুদ ও হুনাইনের যুদ্ধে মুসলমানদের হয়ে যুদ্ধ করেছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাইহোক, মহম্মদের মৃত্যুর কুড়ি বছরের মধ্যে ইসলামের সাম্রাজ্য এত বিস্তার লাভ করল এবং সেই সব বিজিত দেশগুলো থেকে লুঠের মাল ও রাজস্ব হিসাবে এত টাকা আরবে আসতে শুরু করল যে জাকাত প্রায় উঠেই গেল। অর্থাৎ আরবের লোকদের কাছ থেকে জাকাত আদায় করে রাজকোষ পূর্ণ করার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল। বরং বিদেশ থেকে আগত টাকা পয়সা জাকাত (ভিক্ষা) হিসাবে দরিদ্র আরবদের মধ্যে বিলি হতে থাকল। মহম্মদের মৃত্যুর পর আবু বকর ইসলাম জগতের প্রথম খলিফা হন, এবং তাঁর আমলের প্রথম বছরে মক্কা ও মদিনার মুসলমানরা মথাপিছু ৯ দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা) করে জাকাত পেল। এর পর দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে ২০ দিরহামে দাঁড়ায়। ৬৩৪ সালে আবু বকর স্বেচ্ছায় খলিফার পদ ত্যাগ করলে ওমর দ্বিতীয় খলিফা হন ও মিশর ও ইরান জয় করেন। এইসকল কারণে মহম্মদের মৃত্যুর প্রায় দুই দশকের মধ্যেই এই জাকাত বা বাৎসরিক ভাতা অবিশ্বাস্য রকম বৃদ্ধি পায়। মহম্মদের প্রত্যেক বিধবা পত্নী সর্বোচ্চ বাৎসরিক ১২০০০ দিরহাম, যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল সেই সম্মানীয় বদরীরা বাৎসরিক ৫০০০ দিরহাম, বদর যুদ্ধের আগে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তারা বাৎসরিক ৪০০০ দিরহাম এবং তাদের বংশধরেরা বাৎসরিক ২০০০ দিরহাম হিসাবে জাকাত পেতে থাকল। এইভাবে রাজস্ব হিসাবে যে জাকাতের উদ্ভব হয়েছিল, আরবভূমি থেকে তা লুপ্ত হয়ে গেল। আজ মুসলীম সমাজে জাকাত বলতে বোঝায় ভিখারীকে ভিক্ষা দেওয়া।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত ভাতা বণ্টনের চিত্র থেকে দেখা যায় যে মহম্মদের বিধবা পত্নীর&#39; সর্বাপেক্ষা সন্মানীয়া ছিলেন এবং তার পরেই ছিল বদরীদের স্থান। এই বদরীদের এত সম্মান ছিল যে, মহম্মদের সর্বকনিষ্ঠা পত্নী বিবি আয়েশার কুৎসাকারী হয়েও আবু বকরের মাসতুতো ভাই হজরৎ মিসতা শুধু বদরী হবার জন্য রেহাই পেয়েছিলেন। মহম্মদের বিধবা পত্নীদের বাৎসরিক ভাতার পরিমাণ থেকে এটা সহজেই অনুমান করা চলে যে তাঁরা সকলেই বেশ সচ্ছল জীবন যাপন করতেন। অবশ্য মহম্মদের জীবিত কালেই তাঁরা একরকম বিলাসবহুল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন এবং এর সপক্ষে একটা উদাহরণ দেওয়া চলতে পারে। আগেই বলা হয়েছে যে, মহম্মদ শুধু ভয় দেখিয়ে বনি নাজির গোষ্ঠীর ইহুদীদের মদিনা থেকে বিতাড়িত করেন। তারা তখন মদিনার উত্তরে খয়বর নামক স্থানে চলে যায়। কিন্তু এতেও তারা রেহাই পেল না। মহম্মদ তাদের উৎপন্ন শস্যের পঞ্চাশ শতাংশ কর ধার্য করলেন। এই কর থেকে যা পাওয়া যেত তার এক পঞ্চমাংশ নবী পেতেন। নবী তাঁর এই প্রাপ্য অংশ থেকে প্রত্যেক স্ত্রীকে বাৎসরিক ৮০ ওয়াসক খেজুড় ও ২০ ওয়াসক বার্লি দিতেন (মুসলীম-৩৭৫৯)। এক ওয়াসকের পরিমাণ প্রায় ২০৭ কেজি। কাজেই সেই হিসাবে প্রত্যেক পত্নী বছরে ১৬৬ কুইন্টাল খেজুড় ও ৪১ কুইন্টাল বার্লি পেতেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;পঞ্চম স্তম্ভ হজ&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরবী হজ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল বহির্গমন করা বা যাত্রা করা, যার সঠিক ইংরাজী প্রতিশব্দ হল to set out। বিশেষ অর্থে হজ বলতে বোঝায় তীর্থভ্রমণৈ যাত্রা। সঙ্গতিসম্পন্ন মুসলমানদের জন্য সর্বপ্রধান উপাসনালয় মক্কার কাবা শরীফ এবং নবীর পুণ্য &#39;স্মৃতি বিজড়িত মদিনা নগরী ও সেখানকার মসজিদ নবী তীর্থ দর্শন করা ফরজ। তবে হজ শুধু তীর্থভ্রমণই নয়। মক্কা মদিনা সহ ইসলামের অন্যান্য পবিত্র স্থান দর্শন করা এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ কিছু ধর্মীয় রীতি নীতি পালন করাকেই একত্রে হজ বলে। সারা জীবনে একবার মাত্র হজ করা ফরজ এবং একাধিক বার করলে তা নফন? হজ বলে গণ্য হবে। আর্থিক দিক দিয়ে সম্ম হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ করে না আল্লা তার খোঁজ-খবর রাখা প্রয়োজন মনে করেন না এবং সে ব্যক্তি ইহুদী হয়ে মারা গেল না খ্রীস্টান হয়ে মারা গেল তাতেও আল্লার কোন মাথাব্যথা থাকে না। বিত্তবানদের জন্য হজ ফরজ এবং তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে রাখাই ভাল, কারণ কে যে কখন ইন্তেকাল করবে কেউ বলতে পারে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরবী বছরের শেষ তিন মাস, শওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ, হজের জন্য নিয়রিত. তবে আজকাল শুধু শেষ মাস জিলহজেই এই হজক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই জিলহজ মাসের ১০ তারিখেই পূর্ববর্তী নবী হজরৎ ইব্রাহীম (বাইবেলের Abraham) তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে আল্লার কাছে কোরবানী করতে নিয়ে যান এবং সেই ঘটনার পুণ্য স্মৃতি হিসাবেই ঐ দিন বিশ্বের সমস্ত মুসলমান কোরবানীর ঈদ ঈদুজ্জোহা বা ইদ উল্ আজহা পালন করেন। যারা হজ করতে যান সেই সব হাজীরাও ঐ দিন থেকে তাদের হজের কোরবানী শুরু করেন এবং পরবর্তী তিন দিন ধরে তা চলতে থাকে। ইসলামের ওমরাও বলে আরও একটা বিশেষ পালনীয় ব্রত আছে। নিয়ম-নীতির দিক দিয়ে হজ ও ওমরাওর মধ্যে কোন প্রভেদ নেই। শুধু হজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে করলে হজ এবং বছরে? অন্য সময় করলে তা ওমরাও।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হজে যাবার আগে সমস্ত ঋণ মিটিয়ে দেওয়া উচিত, সমস্ত গচ্ছিত ধন ফেরত দেওয়া উচিত এবং হজ শেষ করে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে আসা উচিত। তিন ব্যক্তি আল্লার মেহমান বা নিমন্ত্রিত-এরা হল গাজী বা জিহাদে নিহত ব্যক্তি, হাজী বা হজ পালন করেছেন এমন ব্যক্তি এবং তৃতীয় জন হলেন ওমরাও পালনকারী। এঁরা যা প্রার্থনা করেন আল্লা তা কবুল করেন এবং আহ্বান করলে আল্লা তার জবাব দেন। এঁরা যা ব্যয় করেন তার বদলে আল্লা তাদের দশ হাজার দিরহাম পুরস্কার দেন। ইসলামে সর্ব প্রধান পুণ্যের কাজ হল আল্লা ও তাঁর রসুলের প্রতি ঈমান রাখা। পরবর্তী পুণ্যের কাজ হল আল্লার পথে জিহাদ করা এবং তার পরের পুণ্যের কাজ হল হজ পালন করা। বৃদ্ধ, স্ত্রীলোক ও দুর্বল ব্যক্তি, যাদের পক্ষে জিহাদ করা সম্ভব নয়, তাদের কাছে হজই জিহাদ। হজের সময় স্ত্রী সংসর্গ নিষিদ্ধ এবং হজ একবার শুরু করলে তা অবশ্যই শেষ করা কর্তব্য। ইসলামের আগেও আরবদের মধ্যে হজ করার প্রথা ছিল। সে সময়কার পৌত্তলিকরা অনেক সময় হজ শুরু করে তা শেষ না করেই বাড়ী ফিরে আসত এবং পিছনের দরজা দিয়ে বাড়ীতে ঢুকত। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, এভাবে বাড়ীতে ঢুকলে হজ শেষ না করার পাপ মাফ হয়ে যায়। পরে আল্লা কোরানের বাণী অবতীর্ণ করে এ প্রথার নিন্দা করেন (২/১৮৯)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হজযাত্রীদের যে সমস্ত ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে হয় তার মধ্যে সর্বপ্রথম হল ইহরাম বন্ধন করা বা সেলাইবিহীন কাপড় পরা। দু টুকরো সাদা কাপড় থাকে, তার মধ্যে এক টুকরো পরতে হয় এবং অন্যটা গায়ে জড়াতে হয়। আমাদের দেশ বা পূর্ব দিক থেকে যারা হজ করতে যান, লোহিত সাগরের তীরে এল্মলম্ পর্বতে পৌছাবার আগেই তাদের ইহরাম বন্ধন করে নেবার নিয়ম। যে সব হাজীরা জাহাজে যান তারা এল্যুলম্ পর্বতে পৌঁছুবার আগেই ইহরাম পরে নেন। আর যাঁরা বিমানে যান তাঁর। বিমানে ওঠার আগেই ইহরাম পরে নেন। এই রকম উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিশিষ্ট কতকগুলি স্থান আছে যেখানে তারা ইহরাম বন্ধন করেন। ইহরাম পরিহিত হাজীকে মুহরীম বলে। বিগত দশম হিজরীতে নবী মহম্মদ তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ সম্পন্ন করেন যা বিদায় হজ বা হজ্জাতুল বিদা নামে খ্যাত। আজকের হজের ব্যাপারে কর্তবা, অকর্তব্য, নিয়মরীতি, সব কিছুর আদর্শ এই বিদায় হজ। ঐ সময় মহানবী মদিনা থেকে যাত্রা শুরু করে জুলহুলাইয়া নামক স্থানে ইহরাম বন্ধন করেছিলেন এবং সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আজও যারা মদিনা বা উত্তর দিক থেকে হজ করতে আসেন তারা এই জুলহুলাইয়াতেই ইহরাম বন্ধন করেন। ইহরাম বন্ধন করে নেবার পর হাজীরা হজের জন্য বিশেষ নামাজ আদায় করেন এবং তালবিয়া পাঠ করেন। এই তালবিয়া হল, &quot;লব্বাইক আল্লাহুম্মা লব্বাইক, লব্বাইক লা শরীফ লব্বাইক; ইন্নাল হামদা অন্নিয়মাতা লাকা অল মুলক, লা শরীকা লাক&quot;- অর্থাৎ, আমি হাজির, প্রভু আপনার আহ্বানে আমি হাজির, আপনার কোন অংশী নেই, সকল প্রশংসা আপনার এবং আপনি সকল কিছুর প্রভু, আপনার কোন শরীক নেই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইহরাম বন্ধন অবস্থায় গায়ে সুগন্ধি লাগানো নিষেধ এবং শিকার করা নিষেধ (৫/৯৪)। তবে অন্য কেউ শিকার করে দিলে তার মাংস গ্রহণ করতে বা খেতে কোন নিষেধ নেই। একবার এক ব্যক্তি একটা বন্য গাধা শিকার করে তার কিছু মাংস মহম্মদকে দেন এবং তিনি মুহরীম অবস্থায় তা গ্রহণ করেন এবং রান্না করা হলে খান। মুহরীম অবস্থায় শিকার করা নিষেধ বলে মনে করার কোন কারণ নেই যে হাজীরা তখন পুরোপুরি অহিংস থাকবেন। প্রয়োজন পড়লে মুহরীম কিছু কিছু জঘন্য প্রাণী মারতে পারেন, যেন কাক, চিল, ইঁদুর ও কুকুর। একবার এক উম্মত মহম্মদকে জিজ্ঞাসা করল যে, একজন মুহরীম সাপ মারতে পারে কিনা। আল্লার রসুল বললেন, &quot;তা মারতে পারে&quot; (মুসলীম-২৭১৭)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিছু হাদিস মতে মুহরীম অবস্থায় বিয়ে করা কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ (মুসলীম-৩২৮১)। কিন্তু হিজরীর সপ্তম বছরে মহম্মদ মুহরীম অবস্থায় বিবি মায়মুনাকে বিবাহ করেছিলেন। ঐ বছর মক্কার কোরেশরা নবীকে তিনদিন মক্কায় থেকে হজ করার অনুমতি দেয় এবং সেই সময় তিনি মুহরীম অবস্থায় হারিস নামক এক ব্যক্তির বিধবা মেয়ে মাইমুনাকে নিকা করেন। মুসলমান ভাষ্যকারদের মতে মক্কার কোরেশদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যই নবী এই নিকা করেছিলেন। কিন্তু যতদূর মনে হয় নবীর এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হয়নি। কারণ মহম্মদ যখন মক্কায় আর একদিন বেশী থাকার আবেদন জানালেন এবং বদলে মক্কাবাসীদের বিয়ের ভোজ খাওয়াবার লোভ দেখালেন, কোরেশরা তাতে আমল তো দিলই না এবং তৎক্ষণাৎ তাঁকে মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য করল। (১২)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর পর হাজীরা মক্কার কাবা শরীফে নামাজ পড়েন এবং কাবা শরীফকে ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(১২) Mahammad Encyclopacdia, Seerah Fomdation, London. Vol-2, P-201&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন। সাতবার প্রদক্ষিণ করলে একবার তাওয়াফ সম্পূর্ণ হয়। আগে শুধু পায়ে হেঁটেই তাওয়াফ করার রীতি ছিল, কিন্তু একবার হজরতের এক পত্নী বিবি উম্মে সালামা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তাকে পাল্কী করে তাওয়াফ করতে বলেন এবং সেই থেকে রুগ্ন, বৃদ্ধ ও শাবীরিক দিক থেকে অক্ষম বা পঙ্গু ব্যক্তিদের পাল্কী করে তাওয়াফ করার রীতি চালু হয়। বিদায় হজের সময় এত লোকের ভীড় হয়েছিল যে, হেঁটে তাওয়াফ করা নবীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং তিনি তাঁর প্রিয় উট আল কাসোয়ায় চড়ে তাওয়াফ করেন। মেয়েদের পক্ষে ঋতুকালে তাওয়াফ করা নিষেধ। তবে ঋতুকাল উত্তীর্ণ হলে প্রয়োজনীয় তাওয়াফ সেরে নেওয়া যায় এবং তাতেও সমান পুণ্য হয়। বিদায় হজের সময় বিবি আয়েশা ঋতুমতী হলে নবী তাকে হজের আর সমস্ত ক্রিয়াকলাপ যথারীতি করতে বলেন, শুধু তাওয়াফ করতে নিষেধ করেন। ইসলামের আগে, জাহেলিয়াতের যুগে একমাত্র কোরেশ ছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ করার রীতি প্রচলিত ছিল। বিদায় হজের ঠিক আগের বছর আল্লা কোরানের আয়াৎ অবতীর্ণ করে এ প্রথার বিলুপ্তি ঘটান (৭/৩১)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মক্কা বিজয়ের সময় আল্লার রসুল তাঁর উম্মতদের বীরের মত বুক ফুলিয়ে হেলে দুলে, অনেকটা don&#39;t care ভাবে তাওয়াফ করতে নির্দেশ দেন। একে তাওয়াফে রমল বলে। মক্কাবাসীদের ভয় দেখানোই এর উদ্দেশ্য ছিল। পরে সবাই মুসলমান হয়ে গেলে এ প্রথা আপনা-আপনিই বন্ধ হয়ে যায়। তবে রসূলুল্লা করেছিলেন সেই সুন্নত হিসাবে এখনও কেউ কেউ তাওয়াফে রমল করেন। প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, কাবা শরীফে তাওয়াফ কখনও বন্ধ হয় না। যখনই সেখানে যাওয়া যাবে তখনই দেখা যাবে যে কেউ না কেউ তাওয়াফ করছে। মুসলমানদের বিশ্বাস যে এমন কোন পার্থিব শক্তি নেই যা কাবা শরীফে তাওযাফ বন্ধ করতে সক্ষম। তবে কেয়ামতের কিছু পূর্বে এক স্থূলকায় কলো হাবসী কাবা ধ্বংস করবে এবং সেই দিনই তাওয়াফ বন্ধ হবে। (১৩)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে হজের ব্যপারে তো বটেই, তা ছাড়া কিবলার মধ্যে দিয়ে ইসলামে কাবার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃত পক্ষে মক্কার কাবাই ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু। মুসলমানদের মতে মক্কার কাবা পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এর ঠিক উপরেই আছে স্বর্গের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত স্বর্গীয় উপাসনাগার বায়তুল মামুর। অর্থাৎ সেই বায়তুল মামুর থেকে যদি একটা দড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া যায় তবে তা মক্কার কাবাকে স্পর্শ করবে। এমন কি, সেই দড়ি বেয়ে যদি কেউ উপরে উঠতে শুরু করে তবে সে স্বর্গের বায়তুল মামুরে পৌঁছে&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(১৩) কোরান শরীফ, শ্রী গিরিশচন্দ্র সেন, হরফ, পৃঃ ৪৬৭&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাবে, তবে সময় লাগবে ৫০০ বছর। তবে এই দূরত্ব আসা-যাওয়া করতে ফেরেস্তা জিব্রাইলের মাত্র একদিন সময় লাগে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হজরৎ আদম যতদিন স্বর্গে ছিলেন ততদিন তিনি বায়তুল মামুরেই আল্লার উপসনাদি করতেন। কিন্তু স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে পৃথিবীতে আসার পর থেকে উপাসনাগারের অভাবে তাঁর খুব অসুবিধা হতে থাকল এবং এই মর্মে আল্লার কাছে আর্জি পেশ করতে থাকলেন। আল্লা তখন ফেরেস্তা জিব্রাইলকে মক্কায় পাঠালেন এবং সে তখন তার নূরের ডানা দিয়ে মাটিতে ঝাপটা মারতে লাগল। এতে করে বিশাল এক খাদের সৃষ্টি হল যার গভীরতা পৃথিবীর সপ্তম তলে গিয়ে পৌঁছালো। তারপর অন্যান্য ফেরেস্তাগণ বেশ, জুদী, তুর ও লেবাননের পর্বত থেকে পাথর এনে সেই খাদে ফেলতে থাকল। অচিরেই সেই খাদ ভর্তি হয়ে গেল এবং এই ভাবেই বর্তমান কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপিত হল। (১৪) কাজেই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে কাবার ভিত খুবই মজবুত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ভিত অত মজবুত হল বটে, কিন্তু কাবার কাঠামো অত মজবুত হল না, কারণ হজরৎ আদম ও তাঁর তৃতীয় পুত্র শীশ শুধু কাদা দিয়ে পাথর গেঁথে প্রথম কাবাগৃহ নির্মাণ করলেন। এই কারণেই নূহের প্লাবনের সময় তা ভেসে গেল এবং কালক্রমে তা একটা বালির ঢিবিতে পরিণত হল। হজরৎ হুদের সময় আরবের লোকেরা এই বালির ঢিবিকেই কাবা বলে মানত এবং সেখানেই তারা আল্লার উপাসনা করতো। কিন্তু কালক্রমে কাবার সেই চিহ্নও লুপ্ত হয়ে যায়। এখানে বলে রাখা দরকার যে, আরবী কাবা শব্দের অর্থ ঘনক বা ইংরাজীতে কিউব (cube)। কাজেই এমন হতে পারে যে, পরবর্তীকালে এই আরবী কাবা থেকেই ইংরাজী cube শব্দ এসেছে। তবে পৃথিবী সৃষ্টি করার দু হাজার বছর আগে আল্লা কাবার একটা অনুকৃতি বা মডেল তৈরি করে স্বর্গে রেখেছিলেন এবং তার অনুকরণেই হজরৎ আদম কাবাগৃহ তৈরি করেছিলেন। প্রথম সেই কাবাগৃহের শুধু চারদিকে দেয়াল ছিল, ছাদ ছিল না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর প্রায় খ্রীঃ পূর্ব ২০০০ সালে নবী ইব্রাহীম কাবা পুনর্নিমাণের জন্য আল্লা কর্তৃক আদিষ্ট হন (২/১২৬,১২৭)। ইসলামী মতে হজরৎ ইব্রাহীম হজরৎ আদমের ২০তম বংশধর এবং আনুমানিক সম্রাট হামুরাবির রাজত্বকালে ব্যাবিলনে জন্মগ্রহণ করেন (১০)। ইব্রাহীম যখন আল্লা কর্তৃক আদিষ্ট হলেন তখন তিনি শামদেশ বা বর্তমান সীরিয়ায় ছিলেন এবং ফেরেস্তা জিব্রাইল তাঁকে বোরাক বাহনে করে মক্কায় নিয়ে আসেন। মতান্তরে শাকীনা নামে এক প্রবল বাতাস তাঁকে শামদেশ থেকে উড়িয়ে মক্কায় নিয়ে আসে। ঐ সময় আকাশে একখণ্ড মেঘ উড়ে আসে এবং তার ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(১৪) কাবার পথে, ১ম খণ্ড, ১১তম অধ্যায়।&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(১৫) H. G. Wells. A Shorts History of The World (Pelican), P-84.&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ছায়া শুধু কাবার ভিতের উপর পতিত হয়। ফলে ইব্রাহীম কাবার ভিতকে সনাক্ত করতে সক্ষম হন। অন্য মতে ফেরেস্তা জিব্রাইল কাবার ভিতের চারিদিকে দাগ কেটে দেয় এবং তার ফলেই ইব্রাহীম তা চিনতে পারেন (১৬)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অনতিবিলম্বে ইব্রাহীম পুত্র ইসমাইলকে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহ নির্মাণে হাত দিলেন এবং তিনিও কাদা দিয়ে পাথর গেঁথে কাবার দেয়াল তুললেন। তখনও কাবার ছাদ তৈরি করা সম্ভব হল না। যখন কাবা তৈরি শেষ হল তখন ইব্রাহীমের বয়স দাঁড়াল ১০০ বছর। তারপর আল্লা সবাইকে কাবায় হজ করতে ডাকার জন্য ইব্রাহীমকে আদেশ করলেন (২২/২৬,২৭)। কিন্তু ইব্রাহীম বললেন যে, তার ডাক তো বেশীদূর পর্যন্ত পৌঁছাবে না। তখন আল্লা বললেন, &quot;আমি তোমাকে ডাকতে বলছি, তাই তোমার কাজ হল ডাকা। বাকীটা আমি দেখছি।&quot; ইব্রাহীম তখন আবু করিশ পাহাড়ের উপর উঠে সবাইকে হজ করার জন্য ডাকতে লাগলেন। অন্যমতে ইব্রাহীম যখন সবাইকে ডাকার জন্য একটা পাথরের উপর উঠলেন তখন এক অলৌকিক শক্তিতে তা আকাশে উঠে গেল এবং তাঁর আহ্বানে দূর-দূরান্ত থেকে কাতারে কাতারে লোক আল্লাহুম্মা লব্বাইক আল্লাহুম্মা লব্বাইক বলতে বলতে হজ করতে আসতে শুরু করল এবং এই ভাবে বর্তমান হজ ক্রিয়ার সূচনা হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এরপর মহম্মদের যৌবনকালে মক্কার কোরেশরা ইব্রাহীম নির্মিত কাবাগৃহ ভেঙে নতুন করে কাবা তৈরি করে যা ইব্রাহীম নির্মিত কাবার চাইতে কিছুটা ছোট আকারে করা হয়। মহম্মদের মৃত্যুর পর হিজরীর ৬৪ সনে আবদুল্লা বিন যুবায়ের ঐ কাবাকে ভেঙে ফেলে ইব্রাহীম-নির্মিত কাবার মাপে আবার কাবা নির্মাণ করেন এবং এর মাত্র দশ বছর বাদে, ৭৪ হিজরীতে হাজ্জাশ বিন ইউসুফ সেই কাবাকে ভেঙে মহম্মদ যেই কাবা দেখে গেছেন ঠিক সেই আকারে কাবা নির্মাণ করেন। এই ইউসুফ-নির্মিত কাবাই বর্তমানে রয়েছে যার মাপ হল- দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ৩৫ ফুট ও উচ্চতা ৫০ ফুট। ইব্রাহীম-নির্মিত কাবার চাইতে বর্তমান কাবা প্রস্থে কম হবার জন্য পুরাণো কাবার কিছুটা অংশ বাইরে চলে যাওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় ব্যাপারে তা কাবার অভ্যন্তর বলে গণ্য হয়ে থাকে। একে হাতীম বলে এবং কেউ হাতীমে নামাজ পড়লে সে কাবার ভিতরে নামাজ পড়ার ফল পায়। কাবার ছাদ থেকে বৃষ্টির জল পড়ার জন্য একটা নল আছে যার নাম মীজাবে রহমৎ। বৃষ্টির জল মীজাবে রহমৎ দিয়ে হাতীমে পতিত হয়। এই জল মুসলমানদের কাছে খুবই পবিত্র।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কাবার চারটি কোণের বিশেষ নাম আছে। সীরিয়ার দিকের কোণের নাম রুে শামী, ইয়েমেনের বা দক্ষিণ দিকের কোণের নাম রুকনে ইয়ামানী, ইরাকের দিকের কোণের নাম রুকনে ইরাকী এবং কাবার যেই কোণে পবিত্র কৃষ্ণ প্রস্তর হাজরে&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(১৬) কোরান শরীফ, গিরিশচন্দ্র সেন (হরফ), পৃঃ ৫১৩।&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আসোয়াদ রয়েছে সেই কোণের নাম রুকনে আসোয়াদ। কাবাগৃহ তৈরির মধ্যে কোন উন্নত স্থাপত্যের নিদর্শন বা শৈল্পিক উৎকর্ষ নেই এবং খুবই মোটা দাগের কাজ। এবড়ো খেবড়ো অমসৃণ পাথরের চাঁই ইয়েমেনী সুরকী দিয়ে গেঁথে তৈরি। একটা কালো কাপড়ের ঢাকনা বা গিলাফ দিয়ে কাবাগৃহ ঢাকা থাকে এবং গিলাফে কোরানের বাণী উৎকীর্ণ করা থাকে। হজের সময় বছরে একবার গিলাফ পাল্টানো হয়। কাবা শরীফে একটা মাত্র দরজা আছে। বছরের অন্য সময় এই দরজা তালাবন্ধ থাকে, শুধু হজের মরশুমে খুলে দেওয়া হয়। হজের সময় হাজীরা কাবার ভিতরে যেয়ে হাজরে আসোয়াদকে চুম্বন করেন। এই সময় ভীড়ের চাপে খুব কম হাজীই ভিতরে যেয়ে হাজরে আসোয়াদকে চুম্বন করতে সুযোগে পান এবং যারা তা পারেন না তাঁরা বাইরে থেকে সাঙ্কেতিক চুম্বন করেন। হজ্জাতুল বিদার সময় আল্লার রসুল লাঠির সাহায্যে হাজরে আসোয়াদকে প্রতীকি চুম্বন করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কাবার দক্ষিণ পূর্ব কোণে, ভূমি থেকে প্রায় ৪ বা ৫ ফুট উপরে এই হাজরে আসোয়াদ রক্ষিত আছে। প্রায় ৭ ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট প্রায় গোলাকৃতি (oval) এই হাজরে আসোয়াদ ডজনখানেক ছোট ছোট কালো পাথরের টুকরো রক্তাভ সিমেন্ট দিয়ে জুড়ে তৈরি। কথিত আছে যে, হজরৎ আদম কাবাগৃহ তৈরি করলে পর ফেরেস্তা জিব্রাইল স্বর্গ থেকে হাজরে আসোয়াদকে নিয়ে আসেন এবং সেখানে স্থাপন করেন। তখন এর রঙ দুধের মত সাদা ছিল এবং কালক্রমে মানুষের পাপ শোষণ করতে করতে এর রঙ কালো হয়ে যায়। নূহের প্লাবনের সময় কাবাগৃহ ভেঙে পড়লে ফেরেস্তাগণ হাজরে আসোয়াদকে নিকটবর্তী আবু কুবায়েশ পর্বতের কোন এক স্থানে সুরক্ষিত করে রাখেন। এর পর হজরৎ ইসমাইল যখন কাবাগৃহ নির্মাণ করছিলেন তখন একদিন বিশেষ একটি পাথরের সন্ধানে ইসমাইল আবু কুবায়েশ পর্বতে যান এবং তখন জিব্রাইল হাজরে আসোয়াদকে ইসমাইলের হাতে ফেরত দেন। ইসলাম ঘোরতর ভাবে পৌত্তলিকতা-বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও কাবা ও তার অভ্যন্তরস্থ হাজরে আসোয়াদকে ঘিরে মুসলমানরা যে ঘোরতর পৌত্তলিক মনোভাবের পরিচয় দিয়ে থাকেন তা বিস্ময়কর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, এর পর হাজীরা কাবার নিকটবর্তী সাফা ও মারোয়া পর্বতে যান এবং দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে সায়ী বা দৌড়াদৌড়ি করেন। সাতবার সায়ী কাবার নিয়ম, চারবার যাওয়া, তিনবার আসা। কথিত আছে যে, পূর্ববর্তী রসুল ইব্রাহীমের দুই পত্নী ছিল, বিবি সারা ও বিবি হাজেরা। ইব্রাহীমের মিশর ভ্রমণকালে সেখানকার ফেরাউন বিবি সারার সেবা যত্ন করার জন্য হাজেরাকে ক্রীতদাসী হিসাবে দান করেন। বিবি সারার কোন সন্তান না হওয়ায় তিনি নিজেকে বন্ধ্যা মনে করে হাজেরার সঙ্গে ইব্রাহীমের বিবাহ দেন। কিন্তু হাজেরা গর্ভবতী হলে সারার মনে সপত্নীসুলভ বিদ্বেষভাব দেখা দেয় এবং পুত্র ইসমাইল ভূমিষ্ঠ হলে সেই বিদ্বেষ প্রবল আকার ধারণ করে। বিবি সারা তখন পুত্র ইসমাইল সহ হাজেরাকে পরিত্যাগ করার জন্য ইব্রাহীমকে প্ররোচিত করতে থাকেন। কিছুদিন পর আল্লা বিবি সারার পরামর্শকে অনুমোদন করলে ইব্রাহীম শিশুপুত্র ইসমাইল ও বিবি হাজেরাকে নির্বাসিত করলেন।(১৭) আজ যেখানে মক্কা নগরী সেই সময় তা ছিল এক জনমানবহীন মরু প্রান্তর। ইব্রাহীম ইসমাইল ও হাজেরাকে সেখানে রেখে এলেন। সঙ্গে রেখে এলেন এক মশক জল ও কিছু খেজুর।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সেই পানি ও খেজুর ফুরিয়ে গেল। পানির অভাবে হাজেরার বুকের দুধও শুকিয়ে গেল। তৃষ্ণায় মৃতপ্রায় শিশু ইসমাইলকে বাঁচাবার জন্য হাজেরা তখন উন্মত্তের মত আশেপাশে জন বসতির খোঁজ করতে লাগলেন। একবার তিনি সাফা পর্বতে ওঠেন, জনবসতির খোঁজ করেন। আবার পরক্ষণেই মারোয়া পর্বতে ওঠেন। দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা নিয়ে এইভাবে সাতবার তিনি সাফা ও মারোয়া পর্বতের মধ্যে ছোটাছুটি করেন এবং এই ঘটনার স্মরণেই হাজীরা সাফা মারোয়ায় সায়ী করেন। এই সায়ী করার সময় হাজীরা বলেন, &quot;আল্লা ব্যতীত উপাস্য নেই। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন, সেবক মহম্মদকে শক্তিশালী করেছেন এবং তিনি একাই অসংখ্য অংশীবাদীকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, সাতবার ছোটাছুটি করে মা হাজেরা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তখন ফেরেস্তা জিব্রাইল সেখানে উপস্থিত হলেন এবং পায়ের ক্ষুর দিয়ে বালি সরিয়ে এক কূপের সৃষ্টি করেন। এই কূপের নামই হল বিখ্যাত জমজম কূপ, যার পানি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র শরাবান তহুরা বা স্বর্গীয় সুধা। হাজীরা হজ শেষ করে ফেরার সময় পাত্রে করে এই পবিত্র পানি নিয়ে আসেন। হাজীরা সায়ী করে ক্লান্ত হবার পর এই পানি পান করেন। জাহেলিয়াতের যুগে মহম্মদের পিতামহ আব্দুল মোত্তালেব ও তাঁর পরিবারের উপর দায়িত্ব ছিল হাজীদের জমজমের পানি পান করাবার। মক্কা বিজয়ের পর মহম্মদ তাঁর আর এক চাচা আব্বাস ও তাঁর পরিবারের উপর এ দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং আজও সেই বংশের লোকেরাই এই মহান দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। জাহেলিয়াতের যুগে পৌত্তলিক কোরেশরা সাফা পর্বতের উপর দেবী আসাফ ও মারোয়া পর্বতের উপর দেবী নয়লার মূর্তিস্থাপন করেছিল যা মুসলমানরা মক্কা দখল করার পর ভেঙে ফেলে। প্রকৃতপক্ষে সাফা মারোয়া পর্বতও আজ পায় কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছে। শুধু প্রতীক হিসাবে কিছুটা অংশ রেখে দেওয়া হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরবে জলের খুবই অভাব এবং যেখানে জল পাওয়া যায় সেই জলের ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(১৭) কোরান শরীফ, শ্রীগিরিশচন্দ্র সেন (হরফ), পৃঃ ২৭৫&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উৎসকে কেন্দ্র করেই জনবসতি গড়ে ওঠে। সেই একই ভাবে জমজম কূপকে ঘিরে জনবসতির সূত্রপাত হল এবং এইভাবে মক্কা নগরীর সৃষ্টি হল। পরবর্তীকালে এই জমজম কূপ হারিয়ে যায়। একবার মক্কায় অত্যধিক জলকষ্ট হলে আব্দুল মোত্তালেব প্রতিজ্ঞা করলেন যে, জমজম কূপ আবিষ্কার করতে পারলে তিনি তাঁর দশ (মতান্তরে বার) পুত্রের মধ্যে একজনকে আল্লার কাছে কোরবানী দেবেন। ভাগ্যক্রমে তিনি জমজম কূপ আবিষ্কার করতে সক্ষম হলেন এবং কোন ছেলেকে কোরবানী দেবেন তা স্থির করার জন্য লটারী করলে ছেলে আবদুল্লার নাম উঠল। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সকলে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাকে নিরস্ত করল। এবং আবদুল্লার বদলে ১০০টা উট কোরবাণী করা হল। এই আবদুল্লা ছিলেন মহম্মদের পিতা। আবদুল কথার অর্থ দাস। আবদুল ও আল্লা, এই দুই শব্দ মিলে আবদুল্লা হয়। কাজেই আবদুল্লা বলতে বোঝায় আল্লার দাস। কাজেই যদি ইব্রাহীম দ্বারা ইসমাইলের কোরবানী সফল হতো তবে মহম্মদের বংশের উৎপত্তি হত না। আবার আবদুল মোত্তালেব দ্বারা আবদুল্লার কোরবানী সফল হলে মহম্মদের জন্ম হত না। কারণে মহম্মদকে অনেক সময় দুই কোরবানীর পুত্র বলা হয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;জমজম কূপের জল স্বাভাবিক ভাবেই পবিত্র, উপরন্তু মক্কা বিজয়ের পর আল্লার রসুল ঐ জলকে তাঁর থুথুর দ্বারা চিরকালের জন্য পবিত্র করে রেখে যান। নবীর থু থু খুবই পবিত্র এবং বহুবার বহু পরিস্থিতিতে নবী তাঁর এই পবিত্র থুথুর প্রয়োগ করেন।&amp;nbsp;আসমা বিনতে&amp;nbsp;&lt;span style=&quot;background-color: #fff2cc;&quot;&gt;আবু বকরের বড় মেয়ে আসমার ছেলে হলে সে তাকে নবীর কাছে নিয়ে আসে এবং নবী সেই সদ্যোজাত শিশুকে তাঁর থুথু খাইয়ে পবিত্র করেন,&amp;nbsp;&lt;/span&gt;ইসলামী পরিভাষায় এটিকে “&lt;a href=&quot;https://sunnah.com/muslim%3A2146b?utm_source=chatgpt.com&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;তাহনিক&lt;/a&gt;” (تحنيك) বলা হয়&lt;span style=&quot;background-color: #fff2cc;&quot;&gt;।&lt;/span&gt; ওহুদ যুদ্ধের সময় তাঁর এক অনুচর চোখে আঘাত পায় এবং নবী তার চোখে থুথু দিলে তা ভালো হয়ে যায়। খয়বর অভিযানের সময় নবীর চাচাত ভাই তথা জামাতা আলির চোখে প্রদাহ হয় এবং নবীর থুথুতে তা আরোগ্য হয়। আবদুল্লা বিন উবাইয়া নামে এক অনুচর মারা গেলে নবী মৃত আবদুল্লার মুখে থুথু দিয়ে তার পরলোকের পথ প্রশস্ত করেন (মুসলীম ৬৬৭৯,৬৬৮০)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাইহোক, সায়ী করার ফলে ক্লান্ত হাজীরা জমজমের পানি পান করে সুস্থ হয়ে মক্কার নিকটবর্তী মিনা নামক স্থানে যান এবং সেখানে রাত্রি যাপন করেন। আজকাল হাজীদের রাত্রিবাস করার জন্য সৌদি সরকার অসংখ্য তাঁবুর ব্যবস্থা করে থাকে এবং গত ১৯৯৭ সালে এই তাঁবুতে আগুন ধরে যায় এবং অনেক হাজী মারা যান। হজের অঙ্গ হিসাবে এই রাত্রিবাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রাতকে আরাফত-এর রাত বলে এবং মুসলমানদের কাছে এই রাত সহস্র লায়লাতুল কদর অপেক্ষাও পবিত্র। এই লায়লাতুল কদরের অন্য নাম শবে কদর। এই রাত খুবই পবিত্র কারণ এই রাতেই সৎপথের দিশারী হিসাবে আসমানী কেতাব কোরণ শরীফ নাযেল হয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যারা এই পবিত্র আরাফতের রাত্রে বিশেষ নামাজ, দোয়া, মোনাজাত ইত্যাদি করে আল্লা তাদের কেয়ামতের দিন পর্যন্ত জীবিত রাখেন, তাদের সব গোনাহ মাফ করেন এবং তাদের জন্যে দোজখ (নরক) এর আগুনকে হারাম করেন (অর্থাৎ নরকের আগুন তাদের পোড়াতে পারে না)। এই রাতে যে বান্দা চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আল্লা তার সব প্রার্থনা কবুল করেন। এই কারণে ধর্মপ্রাণ ও নিষ্ঠাবান মুসলমানরা এই আরাফতের রাতটা বিশেষ নামাজ, দোয়া ইত্যাদি করেই কাটান এবং পরদিন সকালে তারা আরাফত নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরাফতের প্রান্তর আদি পিতা হজরৎ আদম ও মা হাওয়ার পূণ্য স্মৃতি বিজড়িত। মক্কা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে দয়ার পাহাড় জবলে রহমৎ এবং তার পাশেই আরাফা পর্বত। আরাফা পর্বতের গা ঘেঁষেই এই আরাফৎ প্রান্তর অবস্থিত। আরাফৎ শব্দের অর্থ মিলন। স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হবার পর হজরৎ আদম ও মা হাওয়া অনেক দিন বিচ্ছিন্ন ভাবে কাটান এবং তারপর আল্লার ইচ্ছায় এই আরাফৎ প্রান্তরেই তাদের মিলন সংঘটিত হয়। তাই এই প্রান্তর আরাফৎ বা মিলনের প্রান্তর। মিলিত হবার পর এই প্রান্তরে তাঁরা মিলিতভাবে যে প্রার্থনা করেছিলেন তাতে সন্তুষ্ট হয়েই আল্লাতায়লা তাদের গন্দমবৃক্ষের ফল খাবার পাপ মাফ করে দেন। এই কারণে এই প্রান্তরে যে নামাজ পড়ে সে অনেক বেশী করে আল্লার রহমৎ পায়। আরাফতের দিন সমস্ত হাজীরা যখন এই প্রান্তরে সমবেত হয়, আল্লা তখন ফেরেস্তাগণকে সঙ্গে করে আকাশের সব থেকে নীচের আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের প্রার্থনা কবুল করেন। তিনি তখন তাঁর ফেরেস্তাগণকে বলেন, দেখ, আমার জন্যে আমার বান্দারা এখানে মিলিত হয়ে প্রার্থনা করছে। তোমরা সাক্ষী থাক, আমি এদের সব গোনাহ মাফ করে দিলাম।&quot; এইদিন আল্লা তাঁর জাহান্নমের সব দরজা খুলে দেন এবং সর্বাধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নমের আগুন থেকে মুক্তি দেন। এখানে বলে নেওয়া দরকার যে, ইসলামী মতে সাত রকমের নরক আছে যার মধ্যে জাহান্নম নামক নরক শুধু মুসলমানদের জন্যই সংরক্ষিত। এই নরকের আগুনের দাহিকা শক্তিও অন্য নরকের থেকে অনেক কম। আল্লা জাহান্নমের দরজা খুলে দেবেন বলতে বোঝায় যে, ঐ দিন শুধু মুসলমান নরকবাসীরাই নরক থেকে স্বর্গে যাবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রসুলুল্লার জীবনের শেষ বছর আরাফতের মাটি তাঁর কদম মুবারক চুম্বন করোছিল। ঐ দিন তিনি বিদায় হজ সমাপন করে লক্ষাধিক মুসলমানের এক বিশাল সমাবেশে তাঁর বিদায় ভাষণ দেন এবং এর মধ্য দিয়ে ইসলামের মূল নীতিগুলো ব্যাখ্যা করেন। এই ভাবেই তিনি &quot;কুল্লে মুসলেমীন ইথুয়াতুন&quot; বা বিশ্বব্যাপী মুসলীম ভ্রাতৃত্বের নীতিও ব্যাখ্যা করেন। এই সমস্ত কারণে আরাফতের এই পবিত্র কুদুম ইলাকায় প্রবেশ করলে বা কিছুক্ষণ অবস্থান করলে মানুষ আপানিই হাজী হয়ে যায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নবম হিজরীতে, মক্কা বিজয়ের ঠিক পরে পরেই আল্লা পবিত্র কোরানের সুর&#39; নসর (১১০নং সুরা), অবতীর্ণ করে বললেন, &quot;যখন আল্লার সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লার দ্বীনে (ধর্মে) প্রবেশ করতে দেখবে, তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার দ্বারা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর&quot;। প্রকৃতপক্ষে মক্কা বিজয়ের পর মহম্মদ হলেন সমগ্র জাজীরা তুল আরবের একচ্ছত্র অধিপতি। দলে দলে লোক তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার মাধ্যমে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করল এবং মুসলমানের সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুত হারে বাড়তে লাগল। ঠিক এই সময় আল্লাতায়লার উপরিউক্ত বাণী অবতীর্ণ হওয়াতে আল্লার রসুল স্থির করলেন যে আরবের সমস্ত মুসলমানদের একত্র করে এক বিশাল জমায়েত করবেন। সঙ্গে সঙ্গে এটাও স্থির করলেন যে, এরকম একটা বিশাল জমায়েৎ করার জন্য হজই হল সর্বোৎকৃষ্ট পথ।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু অসুবিধা রইল একটাই, অ-মুসলমানদের জন্য তখনও কাবায় হজ করতে যাওয়া নিষিদ্ধ হয়নি। নবীর অভিপ্রায় অনুধাবন করতে আল্লার বিলম্ব হল না এবং তিনি অংশীবাদী কাফেরদের জন্য কাবার পবিত্র এলাকায় প্রবেশ ও হজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন (৯/৩)। কাজেই এটা নিশ্চিত হল যে, হজের জন্য জমায়েত শুধু আল্লার দ্বীনে প্রবেশকারীদেরই জমায়েত হবে। আল্লা ইতিমধ্যে নগ্ন হয়ে তাওয়াফ করাকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন (৭/৩১)। আল্লার এই দুই নিষেধাজ্ঞা কাবায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য সেই বছর নিজে না গিয়ে আবুবকর ও আলির নেতৃত্বে ৩০০ মুসলমানের একটি দলকে মক্কায় হজ করতে পাঠালেন এবং পরের বছর নিজে যাবেন স্থির করলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;div class=&quot;separator&quot; style=&quot;clear: both; text-align: center;&quot;&gt;&lt;a href=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEieQspOZg0oZM_KbtSDMHtz14xiRoVYA6xtxIS6XVj23e3xBnDImbLKtKmSw1FLHhwXorJsSalClZ79WYsO1hKFuitPS_YcVlWhTQ_Ii8RYZV9cG0GyGelDr73vWnuO3TMxWNWrW4rA1R_e4Z0WQh-0BHKUL_ZWP6G5VEVsRcCxV9kJL704rV8K0dYeQHb1&quot; style=&quot;clear: right; float: right; margin-bottom: 1em; margin-left: 1em;&quot;&gt;&lt;img alt=&quot;ইসলামের পাঁচস্তম্ভ&quot; data-original-height=&quot;1122&quot; data-original-width=&quot;1402&quot; height=&quot;320&quot; src=&quot;https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEieQspOZg0oZM_KbtSDMHtz14xiRoVYA6xtxIS6XVj23e3xBnDImbLKtKmSw1FLHhwXorJsSalClZ79WYsO1hKFuitPS_YcVlWhTQ_Ii8RYZV9cG0GyGelDr73vWnuO3TMxWNWrW4rA1R_e4Z0WQh-0BHKUL_ZWP6G5VEVsRcCxV9kJL704rV8K0dYeQHb1=w400-h320&quot; title=&quot;ইসলামের পাঁচস্তম্ভ&quot; width=&quot;400&quot; /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;পরের বছর আরবের সমস্ত গোষ্ঠী পতিদের কাছে হজে যোগ দেবার অনুরোধ জানিয়ে খবর পাঠানো হল। গোষ্ঠীপতিরাও বুঝতে পারলেন যে, এ শুধু অনুরোধ নয়, তার চেয়ে কিছু বেশী এবং দলবল নিয়ে হজে যোগ না দিলে ভবিষ্যতে তার জন্য অবশ্যই খেসারত দিতে হবে। দশম হিজরীর ২৬শে জিলকদ, শনিবার প্রিয় আল কাসোয়া উষ্ট্রীতে চেপে আল্লার রসুল মদিনা ত্যাগ করলেন। মদিনা থেকে যাত্রা করার সময় তাঁর সঙ্গী হল প্রায় ৭০ হাজার মুসলমান। পথের দুপাশ থেকে আরও কাতারে কাতারে লোক এসে যোগ দিতে লাগল এবং মক্কায় পৌঁছে এই লোকসংখ্যা দাঁড়াল প্রায় সোয়া লক্ষ। এর সঙ্গে মক্কার মুসলমানদের যোগ করে মোট লোকসংখ্যা প্রায় দু লক্ষে পৌঁছালো। ক্রীতদাসী ও রক্ষিতা বাদে এই সময় নবীর নয়জন বিবি ছিল এবং তাঁরা হলেন, সৌদা, আয়েশা, হাফসা, উম্মে সালমা, জয়নব, জয়েরিয়া, উম্মে হাবিবা, সফিয়া ও মায়মুনা। (১৮) এই পত্নীরাও নবীর সঙ্গে মক্কায় গিয়েছিলেন এবং নবী সঙ্গে নিয়েছিলেন কোরবানী করার জন্য ১০০ উট।&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরবে উট খুবই মূল্যবান এবং সেই কারণে কোরবানীর উটের সংখ্যা থেকে নবীর তৎকালীন আর্থিক সচ্ছলতার একটা চিত্র পাওয়া যায়। এর চার বছর আগে, হুদাইবিয়ার চুক্তির বছর, তিনি কোরবানীর জন্য সঙ্গে নিয়েছিলেন ৭০টি উট। এই সমৃদ্ধির উৎস হল জিহাদ-লব্ধ গণিমতের মালের পবিত্র খুম এবং ফেই। এর আগে নাজির গোষ্ঠীর সমুদায় সম্পত্তি যে ফেই হিসাবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল তা আগেই বলা হয়েছে। খয়বর থেকে কর হিসাবে যা আসত তার ১/৫ অংশ যে নবী পেতেন তাও আগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বনি কুরাইজা, বনি কানুইকা, বনি হারিস ইত্যাদি গোষ্ঠীর ইহুদীদের কাছ থেকে যে বিপুল গণিমতের মাল পাওয়া যায় তার এক-পঞ্চমাংশও নবী খুম হিসাবে পেয়েছেন। এছাড়া ছোটখাট জিহাদের দ্বারা লব্ধ গণিমতের মাল তো ছিলই।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহম্মদ মোট দশ বছর মদিনায় বাস করেন এবং এই সময়ের মধ্যে মুসলমানরা মোট ৮২টি আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালায় যার মধ্যে ২৬টি ছিল গাজোয়াৎ এবং বাকীগুলো ছিল সরিয়া। যে সমস্ত আক্রমণ ও লুষ্ঠনে স্বয়ং নবী অংশগ্রহণ করতেন সেগুলোকে গাজোয়াৎ বলে। কাজেই এই সমস্ত অভিযান থেকে খুম হিসাবে নবী কত ধন সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন তা সহজেই অনুমান করা চলে। এই সব গণিমতের মালের মধ্যে যে সব যুদ্ধবন্দী থাকত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যেকার সক্ষম পুরুষদের হত্যা করা হত। যে সব নারী ও শিশুদের রেহাই দেওয়া হত তাদের মধ্যে সুন্দরী নারীরা নবী কিংবা তাঁর প্রিয় অনুচরদের হারেমে স্থান পেত এবং বাদবাকীদের ক্রীতদাসী হিসাবে বিক্রী করা হত। এই ক্রীতদাসী বিক্রী থেকেও ভালই আয় হত। মহানবী বনি মুস্তালেকদের বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে গণিমতের মাল হিসাবে জয়েরিয়াকে লাভ করেন এবং খয়বর অভিযানকালে ইহুদী দলপতির কন্যা সফিয়াকে লাভ করেন। সফিয়ার প্রকৃত নাম ছিল জয়নব। সাধারণত গণিমতের মালের শ্রেষ্ঠ বস্তুকে সফিয়া বলে। খয়বর থেকে লব্ধ গণিমতের মালের মধ্যে জয়নব শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয় যার ফলে তার নাম হয়ে যায় সফিয়া। এ প্রসঙ্গে এটাও বলা প্রয়োজন যে, গণিমতের মাল ভাগাভাগির সময় সফিয়া অংশটা আল্লার রসুলেরই প্রাপ্য হত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, বিদায় হজের সময় নবী আল কাসোয়ায় চড়ে তাওয়াফ করেন এবং লাঠির সাহায্যে হাজরে আসোয়াদকে প্রতীকি চুম্বন করেন। এই সময় হজক্রিয়ার&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(১৮) Mahammad Encychopacdia, Seera Foundation (London). Vol-2. p-206&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আরও কিছু কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়। তখন সাফা ও মারোয়া পর্বতে আসাফ ও নয়লার মূর্তি ছিল বলে প্রথম প্রথম উম্মতরা সায়ী করতে কুণ্ঠিত হচ্ছিল। তখন আল্লা কোরানের আয়াৎ অবতীর্ণ করে সায়ী করাকে হজের অন্তর্ভুক্ত করেন (২/১৫৮)। আগে হজের কালে স্ত্রী-সংসর্গ পাপ বলে বিবেচিত হত এবং এই সময় নবী তা বৈধ বলে ঘোষণা করেন (বুখারী-১৪৪৩)। আগে কাবার ভিতরে ৩৬০ রকমের মূর্তি থাকায় নবী কাবার ভিতরে নামাজ আদায় করতেন না। এই বিদায় হজের সময়ই তিনি জীবনে প্রথম কাবার অভ্যন্তরে নামাজ পড়েন। আগে কোরেশ বংশীয়রা তাদের বংশ মর্যাদার কারণে আরাফতে গিয়ে সকলের সঙ্গে রাত্রি যাপন করতো না। মুজদালিফা পর্যন্ত যেয়ে ফিরে আসতো। বিদায় হজের সময় নবী তাদেরও আরাফতে যেয়ে রাত্রি যাপন করতে আদেশ দেন (২/১৯৮, ১৯৯)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর পর রসুলুল্লা ৯ই জিলহজ আরাফৎ প্রান্তরে তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় ভাষণ দেন। এই ভাষণের সারবস্তু তিনটি (১) &quot;কুল্লে মুসলেমীন ইখুয়াতুন&quot; বা সব মুসলমান ভাই ভাই এবং এই বাণী থেকেই বর্তমান মুসলীম বিশ্বভ্র। তৃত্ব বা ইসলামী উম্মা জন্ম লাভ করে। (২) তিনি মারা যাবার পর আর কোন নবী জন্মাবে না এবং (৩) মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে কোরানকে অবলম্বন করে থাকলে কেউ তাদের ধ্বংস করতে পারবে না। এ ছাড়া তিনি তাদের নিয়মিত নামাজ, রোজা ইত্যাদি করে যেতে বলেন। সবশেষে তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করলেন, &quot;আমি কি তোমাদের মধ্যে আল্লার বাণী পৌঁছে দিতে পেরেছি?&quot; সমবেত জনতা তখন সমস্বরে বলে উঠল, &quot;নিশ্চয়ই আল্লার রসুল, নিশ্চয়ই আপনি পেরেছেন।&quot; এবং ভাষণ শেষ হল। এই একই ভাষণ তিনি পরের দিন মিনা&#39;য় দেন এবং ১১ই কিংবা ১২ই জিলহজ আইয়াম্&#39;এ দেন। বিদায় ভাষণের দিন যোহরের নামাজের অনেক দেরী হয়ে যায় এবং আসরের ওয়াক্ত প্রায় সমাগত হয়ে পড়ে। এই কারণে আল্লার রসুল ঐ দিন সবাইকে যোহর ও আসরের নামাজ একই সঙ্গে সেরে ফেলতে বলেন। এই সুন্নত হিসাবে হাজীরা আজও আরাফতের দিন যোহর ও আসরের নামাজ এক সঙ্গে আদায় করেন। (১৯)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এর পর হাজীরা আবার মিনাতে ফিরে আসেন এবং শয়তানের উদ্দেশে রমি করার জন্য নিকটবর্তী জুমরা নামক স্থানে যান। জুমরা শব্দের অর্থ কাঁকর বা পাথরের টুকরো এবং রমি করার অর্থ নিক্ষেপ করা। রমি করার জন্য হাজীরা আগে থেকেই মিনার মুহাস্সীর অঞ্চল থেকে কাঁকর-পাথর সংগ্রহ করে রাখেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথমে তাঁরা জুমরাতুল আকাবা বা বড় শয়তানকে পাথর ছোঁড়ার জায়গায় যান এবং পাথর ছোঁড়েন। তারপর জুমরাতুল উস্তায় গিয়ে মেজো শয়তানকে পাথর&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(১৯) কাবার পথে, আব্দুল আজিজ আল আমান (হরফ), ১ম খণ্ড,পৃঃ ২৯৪&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ছোঁড়েন। এই তিনটি জায়গাই খুব কাছাকাছি এবং প্রত্যেক জায়গাতেই একটা স্তম্ভবানিয়ে রাখা আছে এবং হাজীরা ঐ স্তম্ভগুলিকে উদ্দেশ করে রমি করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কথিত আছে যে, আল্লা একদিন নবী ইব্রাহীমকে স্বপ্নাদেশ করেন তাঁর সব থেকে প্রিয় বস্তুটি আল্লার উদ্দেশে কোরবানী করতে। পরদিন ইব্রাহীম ১০০ উট কোরবানী করলেন কিন্তু তা সত্ত্বেও ঐ একই স্বপ্ন দেখলেন। এইভাবে তৃতীয় দিন ১০০ উট কোরবানী করা স্বত্ত্বেও যখন তিনি ঐ একই স্বপ্ন দেখলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে আল্লার বিশেষ কোন অভিপ্রায় আছে। ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করতে করতে বুঝতে পারলেন যে তাঁর সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু হলেন পুত্র ইসমাইল এবং আল্লা তাকেই কোরবানী করার কথা বলছেন। এই কথা ইসমাইলকে জানালে যোগ্য পিতার যোগ্যপুত্র হজরৎ ইসমাইল সঙ্গে সঙ্গে রাজী হয়ে গেলেন এবং বললেন, &quot;আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন।&quot; ইব্রাহীম তখন ইসমাইলকে নিয়ে মিনাতে রওনা হলেন। এই শুভ কাজ থেকে বিরত করবার জন্য শয়তান তাকে তিনবার তিন জায়গায় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং প্রতিবারই তিনি পাথর ছুঁড়ে তাকে নিরস্ত করেন। অথবা বড় শয়তান ইব্রাহীমকে, মেজো শয়তান ইসমাইলকে এবং ছোট শয়তান মা হাজেরাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং সব জায়গাতেই বিফল হয়ে সে অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়ে। যাই হোক, শয়তানের এই ঘৃণ্য আচরণকে স্মরণ করেই হাজীরা ঘৃণাভরে তার প্রতি রমি করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিনাতে পৌঁছে ইব্রাহীম নিজের চোখ বাঁধলেন এবং ইসমাইলকেও চোখ বেঁধে শুইয়ে দিলেন। তারপর ইব্রাহীম বিসমিল্লা বলে ইসমাইলের গলায় ছুরি চালালেন, কিন্তু সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও জবেহ করতে পারলেন না। এমন সময় দৈববাণী হল, &quot;হে ইব্রাহীম, তুমি তোমার স্বপ্নকে সাকার করেছ।&quot; চোখ খুলে ইব্রাহীম দেখেন যে একটি বেহেস্তী (স্বর্গীয়) দুম্বা জবেহ্ হয়ে পড়ে আছে আর পুত্র ইসমাইল হাসিমুখে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেদিন ছিল জিলহজ মাসের দশ তারিখ। এই ঘটনাটিকে স্মরণ করেই সমগ্র মুসলীম জগৎ জিলহজ মাসের দশ তারিখে কোরবানীর ঈদ ঈদুজ্জোহা বা ঈদুল আজহা পালন করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;রমি করা হয়ে গেলে হাজীরা আবার মিনাতে ফিরে আসেন এবং কোরবানীর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করতে যান। মিনা শব্দের অর্থ প্রবাহিত। সম্ভবত কোরবানীর দিন এখানে লক্ষ লক্ষ পশুর কোরবানীর রক্ত প্রবাহিত হয় বলেই হয়তো এর নাম মিনা। কোরবানী সম্পর্কে শরীয়তের বিধান হল, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ইদুজ্জোহার নামাজের পর থেকে ১২ তারিখের সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানী করা যাবে। যে সমস্ত বিত্তবানদের উপর জাকাত, ফিৎরা (ভিক্ষা) ইত্যাদি বাধ্যতামূলক কর্তব্য বলে ধরা হয়েছে, তাদের অবশ্যই কোরবানী করতে হবে। উট, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি হালাল পশুই কোরবানী করা যাবে এবং তা সবল ও সুস্থ হওয়া চাই। কান-কাটা বা শিঙ-ভাঙা এরকম খুঁতযুক্ত পশু কোরবানীর অযোগ্য। ছাগল, ভেড়ার এক বছর, গরুর দু বছর এবং উটের পাঁচ বছর বয়স হওয়া চাই। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা একজনের জন্য এবং গরু, মোষ বা উট সাতজনের জন্য বোরবানী করা চলে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উটকে দাঁড় করিয়ে জবেহ করার নিয়ম। এ ব্যাপারে আল্লা বলছেন, &quot;আমি উস্ট্রকে আল্লার নিদর্শন স্বরূপ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের জন্য ওতে কল্যাণ আছে, সুতরাং সারিবদ্ধ ভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় ওদের জবেহকালে তোমরা আল্লার নাম লও, যখন ওরা কাৎ হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা উহা হতে আহার কর এবং আহার করাও&quot; (২২/৩৬)। অবশ্য জবেহ করার সময় উটের পা বেঁধে নেওয়া নিয়ম। অন্য পশুদের শুইয়ে জবেহ করতে হবে এবং জবেহকারীর ডানদিকে মাথা রেখে কিবলামুখী করে শোয়াতে হবে। তারপর জবেহকারী কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন এবং ডান পা দিয়ে পশুর গর্দান চেপে ধরে &quot;বিসমিল্লাহ্ আল্লাহু আকবর&quot; বলে ছুরি চালাবেন। ছুরি চালাবার সময় বলতে হবে, &quot;আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লা, আল্লাহু আকবর, আল্লাহুম্মা মেন্কা অ অলয়কা&quot;-অর্থাৎ &quot;আল্লাই সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লা ব্যতীত উপাস্য নাই, হে আল্লা, তোমা হতে আগমন ও তোমার দিকে প্রতিগমন।&quot; রাতের বেলায় কোরবানী নিষেধ এবং যার নামে কোরবানী তিনি নিজে হাতে জবেহ করলেই উত্তম। আগেকার দিনে হাজীরা কোরবানী রক্তে কাবার দেয়ালে মাখানো হজ ক্রিয়ার অঙ্গ বলে মনে করতো। পরে আল্লা কোরানের বাণী অবতীর্ন করে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন (২২/৩৭)। ছুরি দিয়ে পশুর শ্বাসনালী ছিন্ন করাকে জবেহ করা বলে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;বর্তমানে মিনাতে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে একটা নির্দিষ্ট স্থান কোরবানীর জন্য সংরক্ষিত করে রাখা আছে। পশু ব্যবসায়ীরা সেখানে লক্ষ লক্ষ উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি মজুদ করে রাখে এবং হাজীরা দামদস্তুর করে তাদের কাছ থেকে পশু কেনেন। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোরবানী করার লোকও প্রস্তুত হয়ে আছে। কোরবানী কথার অর্থ বলিদান এবং আল্লা ইব্রাহীমকে প্রিয়বস্তু কোরবানী করার মধ্য দিয়ে সম্ভবত ত্যাগের মহান আদর্শের কথাই বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই আদর্শের খুব সামান্যই আজ অবশিষ্ট আছে এবং প্রকৃতপক্ষে এটা বর্তমানে একটা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও বীভৎস যান্ত্রিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জনাব আব্দুল আজীজ আল আমান সাহেব তাঁর &quot;কাবার পথে&quot; গ্রন্থে কোরবানীর বীভৎসতার যে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ দিয়েছেন, তার কিছুটা উদ্ধৃতি দেওয়া চলতে পারে। তিনি লিখছেন, &quot; কোরবানীর জায়গায় এসে অবাক হয়ে গেলাম। এতখানি দুর্লভ বিস্ময় যে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে তা জানা ছিল না। নির্দিষ্ট ইলাকায় প্রবেশ করেই দেখতে পেলাম কয়েক হাজার পশু জবেহ্ হয়ে পড়ে আছে, অধিকাংশই আবার একটির উপর আর একটি। এই সব দুম্বা, বকরী তল করে, দলিত মথিত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে অনেকটা দূরে। যেতে যেতে দেখলাম মিনা আজ রক্তস্রোতে সত্যই &quot;মিনা&quot; (প্রবাহিত) হয়ে উঠেছে। যাঁরা কোরবানী করেছেন, কেউ কেউ দু-একটা রান ছাড়িয়ে কেটে নিয়ে গেছেন, কেউ বা সিনহা থেকে নিয়েছেন কিছুটা গোস্ত, বাদবাকী সবটাই পড়ে আছে।(১০)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;মরা পশুর উপর দিয়ে পদচারণা, সে এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। চামড়ার উপরে পা দিয়ে বহুবার পিছলে পড়তে পড়তে টাল সামলে এবং বার কয়েক আছাড় খেয়ে হাতে পায়ে রক্তে মাখামাখি হয়ে অবশেষে কোরবানীর ইলাকা পার হয়ে মুক্ত মাটিতে পা রাখলাম। সম্মুখে ভীষণ জটলা, হাজার হাজার গরু, ভেড়া, দুম্বা, বকরী কেনা-বেচা হচ্ছে।... দাম-দস্তুর মিটে গেলেই কোরবানী করার লোক প্রস্তুত হয়ে এগিয়ে আসবেন। এরা কসাই, কোরবানীর দিন কোরবানীও করেন।... দাম-দস্তুর মিটে গেলেই কোরবানীর পশুটি এইসব লোকগুলোর হাওলায় চলে যাচ্ছে। তারা কান ধরে হিড় হিড় করে টানতে টানতে এনে কখনও বা ফাঁকা জমিনে, অধিকাংশ সময় কোরবানী দেওয়া পশুর উপরই ফেলে দেয় এবং মুহূর্তমাত্র দেরী না করে গলায় ছুরি চালাতে শুরু করে। জবাই শেষ হল কি না হল, কোরবানীর পশু ছেড়ে দিয়ে তারা পারিশ্রমিকের জন্য হাত বাড়ায়। মর্মান্তিক ভাবে লক্ষ্য করলাম একটি বকরী সম্পূর্ণ জবেহ্ হয়নি, সেই অবস্থায় তাকে ফেলে দিয়ে ২ জন কসাই পারিশ্রমিকের জন্য ছুটে এসে মালিককে পাকড়াও করছে। এদিকে আধজবাই হওয়া বকরীটি তার রক্তাক্ত ঘাড় তুলে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। এ রকম পাশবিকতা, এ দৃশ্য চোখে দেখা যায় না। (২১)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু এই পাশবিকতা দেখার পর কি আল আমান সাহেব তাঁর কোরবানীর সঙ্কল্প ত্যাগ করে চলে এলেন? না, কারণ কোরবানী না করে চলে আসলে যে হজ করতে এত কষ্ট স্বীকার করে তিনি মক্কায় গেছেন তা সম্পূর্ণ হবে না। তাই তিনি মধ্যম আকারের দুটো বকরী কিনলেন, একটি নিজের জন্য অন্যটি তাঁর স্ত্রীর জন্য। আল আমান সাহেবের সন্দেহ হচ্ছিল যে, পয়সার বিনিময়ে যে কসাইরা কোরবানী করছিল তারা, কোরবানী নিয়ত তো দূরের কথা, বিসমিল্লা, আল্লাহু আকবর টুকুও বলছিল না। তাই তিনি নিজের হাতেই কোরবানী করবেন মনস্থ করলেন। বকরী&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২০) &lt;b&gt;&lt;a href=&quot;https://dn790008.ca.archive.org/0/items/in.ernet.dli.2015.456818/2015.456818.Kabar-Pathe.pdf&quot; target=&quot;_blank&quot;&gt;কাবার পথে&lt;/a&gt;&lt;/b&gt;, আব্দুল আজিজ আল আমান, ১ম খণ্ড (হরফ), পৃঃ ৩৬২&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২১) ঐ, পৃঃ ৩৬৩&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দুটি ছাড়া একটি গরুও কিনলেন তাঁর পরিচিত সাত ব্যক্তির নামে কোরবানী করা: জন্য। গরুটিকে অবশ্য একজন মৌলবীর হাতে ছেড়ে দিলেন কোরবানী করার জন্য। এর পরের অংশ তাঁর নিজের মুখ থেকে শুনলেই ভাল হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;আল্লার আদেশ পালনের জন্যই আমি এই পুণ্যভূমিতে হাজির হয়েছি। বকরী দুটির দিকে সস্নেহে তাকালাম, গায়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দিলাম কয়েকবার। আর কি আশ্চর্য, সেই বধ্যভূমিতে আশ্চর্য দুটি মায়াভরা হরিণ-চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল তারা। মুহূর্তে মমতায় ভালবাসায় এই অবোধ পশু দুটির কাছে বাঁধা পড়ে গেলাম আমি। এক পলক তাকিয়ে তাদের কানে কানে যেন কথা কইলাম: এখনি মহান প্রভুর নামে কোরবানী করব তোমাদের, বল রাজি? অবোধ পশু দুটি মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, যেমন পিতার জিজ্ঞাসায় সম্মতি জানিয়েছিল ইসমাইল। ... ধীরে ধীরে অত্যন্ত আদরের সাথে তাদের সঙ্গে নিয়ে মাত্র কয়েক হাত দূরে একেবারে কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দাঁড়ালাম। কুরবানীর পশুকে এভাবেই আনা দরকার। পশুর প্রতি পুত্রাধিক স্নেহ থাকা প্রয়োজন।... আমি নিজে হাতে কুরবানী করব এটা বুঝতে পেরে কিনারা থেকে এক হাজি সাহেব নেমে এলেন। তিনি একটি বকরীকে শুইয়ে ফেলে জবেহ করার উপযুক্ত করে ধরলেন, হাতে ছুরি নিয়ে বিসমিল্লা বলে নিচু হয়ে আমি প্রস্তুত। দেখলাম আমার হাত কাঁপছে, এই সুন্দর জিনিসটাকে আমি হত্যা করব?” (২২)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আল আমান সাহেব ভাতে জলে বাঙালী। কিন্তু তাঁর নাম বাংলা ভাষায় রাখা হয়নি। কোন এক কালে তাঁর কোন্ পূর্বপুরুষ বাংলা ভাষার নাম পারিত্যাগ করে আরবী নাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছিলেন তা তিনি আজ আর মনে করতে পারেন না। আজ একজন বাঙালী অ-মুসলমান মুসলমান হলেও তার বাংলা ভাষার নাম ত্যাগ করতে হবে আর সেই সঙ্গে সঙ্গে ত্যাগ করতে হবে পিতৃপুরুষের পরিচয়। এভাবে আজ থেকে হয়তো কয়েক শ&#39;বছর আগে কোন এক দুর্যোগের রাতে আল আমান সাহেব তাঁর পূর্বপুরুষের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন। সেই কারণে তিনি আর তাঁর এই সুজলা-সুফলা বাংলা দেশকে পুণ্যভূমি বলে মনে করতে পারছেন না। মরুময় যে আরব ভূমিতে তিনি হজ করতে গেছেন সেটাই তাঁর পুণ্যভূমি এবং আল্লার আদেশে সেই পুণ্যভূমিতেই তিনি হজ পালন করতে গেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু সেই মরুময় পুণ্যভূমি আরব দেশের সঙ্গে তাঁর নিজের দেশের তো কোন মিল নেই। আর যে মানব সমাজে তাঁর পবিত্র আল্লার দ্বীন জন্ম লাভ করেছে সেই মানব সমাজের সঙ্গেও তো বাঙালী সমাজের মিল নেই। আরব সমাজ পশু পালকের সমাজ। সেখানে পশুহত্যা করে তার মাংস খাওয়া জীবন ধারণের ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(২২) কাবার পথে। আব্দুল আজিজ আল আমান, ১ম খণ্ড (হরফ), পৃঃ ৩৬৪&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অঙ্গ। কিন্তু কৃষিভিত্তিক বাঙালী সমাজে তো সেই পশুহত্যার প্রয়োজন নেই। আল আমান সাহেব হয়তো স্মরণ করতে পারবেন যে, ইসমাইল ও মা হাজেরাকে পরিত্যাগ করার পর হজরৎ ইব্রাহীম যখন পুনরায় মক্কা গিয়েছিলেন তখন ইসমাইলের স্ত্রী তাঁকে কি বলেছিলেন? ইসমাইল তখন ঘরে ছিলেন না। ইব্রাহীম তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, &quot; তোমরা কী খাও?&quot; ইসমাইলের স্ত্রী জবাব দিল, &quot;শুধু মাংস আর জল খেয়ে বেঁচে আছি।” সমস্ত বাংলাদেশ ঘুরেও কি আল আমান সাহেব কোন এক গৃহবধূর কাছ থেকে এ সংবাদ পাবেন যে, সে শুধু মাংস আর জল খেয়ে বেঁচে আছে? আরব সমাজে পশুহত্যা করা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, একটা জীবনধারণের উপায়। কিন্তু তাঁর জন্মভূমি সুজলা-সুফলা এই বাংলাদেশের রীতি তো তা নয়। তাই তাঁর মনে পশুর প্রতি দয়া আছে, মায়া আছে এবং তাকে হত্যা করতে ছুরি ধরলেও হাত কাঁপে। যত সহজে একজন আরববাসী পশু জবেহ করতে পারে তিনি তো তা পারেন না। কিন্তু আল আমান সাহেব ধর্মের মধ্য দিয়ে সেই পশুপালক আরব্য সংস্কৃতিকে গ্রহণ করেছেন, তাই অন্তরের মায়া-মমতা ইত্যাদি সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে রুক্ষ আরববাসীদের মতই তাঁকে পরিত্যাগ করতে হবে। বিবেককে হত্যা করতে হবে। তাই এবার তিনি পশুপালক সমাজের আদর্শ ও নিষ্ঠুরতার নিদর্শন খুঁজতে শুরু করলেন। পশুপালকের দৃষ্টান্ত ছাড়া নিষ্ঠুর পশু পালকের কাজ তিনি কেমন করে করবেন?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&quot;সামান্য একটা বকরির গলায় ছুরি চালাতে যদি এত দ্বিধা, হজরৎ ইব্রাহীম কেমন করে নিজ হাতে পুত্রকে শুইয়ে খঞ্জর চালিয়েছিলেন তাঁর গলায়? দ্বিধা জাগে নি? হাত কাঁপেনি তাঁর? সামনে ছিল প্রভুর আদেশ। (২৩) সেই আদেশে সব কিছু জয় করেছিলেন তিনি। আমার উপরও তো সেই আদেশ বর্তমান। আল্লার আদেশের চেয়ে আর কোন কিছু বড় হতে পারে না। জীবন গেলেও না।...... আমার মনের দ্বিধা কেটে গেল, বকরী তো বকরী- আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য এই মুহূর্তে আমি নিজেকে কুরবানী করতে প্রস্তুত হয়ে উঠলাম। বিসমিল্লা বলে ছুরি ধরে বিনম্র কন্ঠে উচ্চারণ করলাম: ইন্না সালাতি অনুসকি অ মাহইয়া। .... এক দিকে ছুরি চালাচ্ছি কঠিন হাতে আর এক দিকে বিনীত কণ্ঠে নিজেকে নিবেদন করছি আল্লার কাছে।.... রক্তপাতের মধ্য দিয়ে অতুলনীয় এই আত্মনিবেদন। কুরবানী তাই নিছক একটা জীবহত্যা নয়, আত্মোৎসর্গের এক মহান উদ্বোধন।&#39; (২৪)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একটা পশুপালক সমাজকে আল্লা কখনই পশু কোরবানী করতে নিষেধ করে না খেয়ে উপবাসে মরতে বলতে পারেন না। তাই আরব্য সমাজকে তিনি পশু&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২৩) কোরান শরীফ-(৫/২), (২২/৩৪, ৩৬), (৩৭/১০০-১১০) ইত্যাদি&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২৪) কাবার পথে, (১ম খণ্ড), পৃঃ ৩৬৪, ৩৬৫&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কোরবানী করতে বলবেনই। কিন্তু তাঁর সেই আদেশ কি কৃষিজীবী বাঙালী সমাজের উপরও সমান ভাবে প্রযোজ্য হতে পারে? পারে না। আরবে জলের অভাব তাই আল্লা তাদের তায়াম্মুম করে শুদ্ধ হবার বিধান দিয়েছেন। তাই বলে নদী-নালার দেশ এই বাংলাদেশেও কি তায়াম্মুমের বিধান প্রযোজ্য হবে? জলের অভাবের জন্য আল্লা আরবের লোকদের সপ্তাহে মাত্র একদিন গোসল ফরজ করেছেন? সেই হিসাবে এই বাংলার মুসলমানরাও কি শুধু শুক্রবার স্নান করবেন? আল আমান সাহেবের রসুল আরববাসী ছিলেন এবং তাই তাঁর মাতৃভাষা আরবীতে কোরান অবতীর্ণ হয়েছিল। সেই কারণে আল আমান সাহেবের মাতৃভাষা বাংলার চেয়ে আরবী ভাষাকি তাঁর কাছে বেশী পবিত্র হতে পারে? পারে না। কিন্তু শিশুকালে তিনি তাঁর মাকে যে ভাষায় মা বলে ডেকেছেন তার চেয়ে পবিত্র আর কোন ভাষা হতে পারে না। যে দেশের মাটিতে তিনি ভূমিষ্ঠ হয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোন দেশের মাটি তাঁর কাছে বেশী পবিত্র হতে পারে না। যে দেশের নদী-নালার জল আকণ্ঠ পান করে তিনি ছোট থেকে বড় হয়েছেন, এখনও জীবনধারণ করে বেঁচে আছেন, সে দেশের জল ও মাটি থেকে অন্য কোন দেশের জল-মাটি তাঁর কাছে বেশী পবিত্র হতে পারে না। তাঁর দেশের লোকজন যারা তাঁর সঙ্গে তাঁর মাতৃভাষা বাঙলায় কথা বলে, তাদের থেকে আরবীভাষী বা উর্দুভাষী লোক কখনই তাঁর বেশী আপন হতে পারে না। সর্বোপরি যে গাছের কাণ্ডটা রয়েছে বাংলাদেশে, তার শিকড় যদি থাকে শুষ্ক ও বন্ধ্যা আরব দেশে, তাহলে সে গাছ কোনদিনই সুস্থ সবল হয়ে বেড়ে উঠতে পারে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এ প্রসঙ্গে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, আল্লাতায়লা তাঁর দ্বীন অনুসরণকারী বিশ্বাসীদের শুধু পশু কোরবানীর আদেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি। অ-মুসলমান বিধর্মী কাফেরদের উদ্দেশে তিনি এ আদেশও দিয়েছেন- &quot;অতঃপর নিষিদ্ধ মাস সমূহ বিগত হলে অংশীবাদীদের যেখানে পাবে বধ করবে। তাদের বন্দী করবে, অবরোধ করবে এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওৎ পেতে থাকবে ...(৯/৫)।&quot; &quot;যেখানেই তাদের পাবে হত্যা করবে এবং যে স্থান (বিশেষ অর্থে মক্কা) হতে তারা তোমাদের বহিষ্কার করেছে, তোমরাও সেই স্থান হতে তাদের বহিষ্কার করবে” (২/১৯১)। &quot;....... তাদের গ্রেপ্তার কর এবং যেখানে পাও তাদের হত্যা কর এবং তাদের মধ্য হতে বন্ধু ও সাহায্যকারী গ্রহণ করো না&quot; (৪/৮৯)। যদি তারা তোমাদের নিকট হতে চলে না যায় এবং তাদের হস্তসংবরণ না করে তবে তাদের যেখানেই পাবে হত্যা করবে, গ্রেপ্তার করবে (৪/৯১)&quot;। &quot;অবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা তোমার নিকটবর্তী, তাদের সাথে যুদ্ধ কর এবং ওরা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখুক (৯/১২৩)। &quot; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কর যতক্ষণ না অশান্তি দূর হয় ও আল্লার ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয় (৮/৩৯)।” &#39;অতএব যখন তোমরা অবিশ্বাসীদের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের মোকাবিলা কর তখন তাদের গর্দানে আঘাত কর (৪৭/৪)&quot;। &quot;যারা আল্লা ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি উৎপাদন করে, নিশ্চয়ই তাদের শাস্তি হল এই যে, তাদের হত্যা কর কিংবা তাদের শূলবিদ্ধ কর অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক হতে কর্তন কর (৫/৩৩)&quot;। &lt;span style=&quot;background-color: #fff2cc;&quot;&gt;(হস্তপদ বিপরীত দিক থেকে কর্তন করার অর্থ হল, হয় ডান হাত ও বাঁ পা কাটা অথবা বাঁ হাত ও ডান পা কেটে ফেলা।)&lt;/span&gt; &quot;ওরাই অভিশপ্ত এবং ওদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই ধরা হবে এবং নির্দয়ভাবে হত্যা করা হবে (৩৩/৬১)।&quot;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কাজেই আশা করা যায় যে, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে আল আমান সাহেব আল্লার উপরিউক্ত আদেশগুলো পালনের ব্যাপারেও সমান নিষ্ঠা ও তৎপরতা দেখাবেন, কারণ, &quot;আল্লার আদেশের চেয়ে আর কোন কিছুই বড় হতে পারে না।&quot; পশু কোরবানীর সময় বকরীদুটোর মায়াভরা হরিণ-চোখ দেখে তাঁর মন যেমন দুর্বল হয়েছিল, কোন কাফেরের মায়াভরা চোখ দেখেও হয়তো তাঁর মন দুর্বল হতে পারে। প্রতিবেশী বা পরিচিত কোন কাফেরের গলায় ছুরি চালাতে তাঁর মন দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারে। তাঁর হাত কাঁপতে পারে। কিন্তু তাতে থেমে গেলে তো আল্লার আদেশ কার্যকর হবে না। পরক্ষণেই তিনি তাঁর দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠবেন, আল্লার কথামত কঠোরতা দেখাবার জন্য প্রস্তুত হবেন এবং বিসমিল্লা বলে ছুরি হাতে তুলে নেবেন। তারপর একদিকে কঠিন হাতে সেই কাফেরের গলায় ছুরি চালাবেন আর এক দিকে বিনীত কণ্ঠে নিজেকে আল্লার কাছে নিবেদন করবেন। কাফেরের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটবে আর তিনি বিনম্র চিত্তে, অশ্রুসজল চোখে আল্লার কাছে নিজকে সমর্পণ করতে থাকবেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রথমেই হয়তো কোন কাফেরের গলায় ছুরি চালাতে বিশ্বাসীদের অসুবিধা হতে পারে, তাই আল্লা হাতে খড়ি হিসাবে এই পশু কোরবানীর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাই প্রত্যেকটি মুসলমানের উচিত প্রাথমিক শিক্ষার এই সুযোগ পূর্ণভাবে গ্রহণ করা। প্রতিটি মুসলমানের তাই উচিত নিজে হাতে কোরবানী করা, স্বচক্ষে কোরবানীর রক্ত প্রবাহিত হতে দেখা, যাতে কাজের সময় হাত না কাঁপে বা কাফেরের প্রতি দয়াপরবশ না হয়ে পড়ে। তাই আল আমান সাহেব লিখছেন, &quot;ত্যাগ ও সমর্পণের সঙ্গে বীরের ধর্মে দীক্ষা দেয় এই কুরবানী। কখনও বা সংসার জীবনে, কখনও বা জাতীয় সঙ্কট মুহূর্তে যখন তখন যে কোন বিপর্যয় এসে যেতে পারে এবং সংঘর্ষের সেই মারাত্মক মুহূর্তে আমরা যেন ভেঙে না পড়ি, কাতর না হই।.....এ জন্য কুরবানীতে যে রক্ত প্রবাহিত হয় তা প্রতিটি মুসলমানের স্বচক্ষে দেখা উচিত। এই পবিত্র রক্তপ্রবাহ, প্রবাহিত রুধিরস্রোত মানুষের অগোচরে মানুষকে পীরোচিত ধর্মে দীক্ষা দেয়। তার দেহ থেকে ভীরুতার খোলস ছাড়িয়ে তাকে বীরের ধর্মে সজ্জিত করে। সুতরাং কুরবানী একদিকে আত্মসমর্পণ অন্যদিকে আত্মসজ্জা, এক দিকে ভক্তিপ্লুত নিবেদন অন্যদিকে নব শক্তির বহ্নিমান উদ্বোধন। কুরবানীর মাধ্যমে তাই ইসলাম নতুন রূপে জিন্দা হয়ে ওঠে। সমর্পণ ও জাগরণের এ এক আশ্চর্য উৎসব। পৃথিবীর আর কোন ধর্মে এমনটি দেখা যায় না।” (২৫) বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, জাতীয় বিপর্যয় বলতে আল আমান সাহেব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথাই বলতে চেয়েছেন, কোন বৈদেশিক আক্রমণ নয়, এবং সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যই কোরবানীর রক্ত প্রত্যেকটি মুসলমানের স্বচক্ষে দেখা উচিত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, কিছুক্ষণ আগে আল আমান সাহেব হাজার হাজার কোরবানী করা পশু দলিত-মথিত করে যাবার সময়, বা কসাইদের কোরবানী করার নিষ্ঠুরতা দেখার সময় অথবা আধাআধি জবেহ্ হওয়া বকরীটির রক্তাক্ত ঘাড় তুলে দাঁড়াতে দেখার সময় মনে যে ব্যথা ও মমতা অনুভব করেছিলেন তা কোন কাজের কথা নয়। বরঞ্চ এই হত্যা, এত রক্ত দেখার ফলে তাঁর উপকারই হয়েছে। তাঁর বীরের ধর্মে দীক্ষা পরিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর দেহের ভীরুতার খোলস ছাড়িয়ে ফেলতে এবং তার বদলে বীরের বর্মে সজ্জিত করতে এই সব দৃশ্য তাঁকে অনেক সাহায্য করেছে। তিনি নতুন রূপে জিন্দা হয়ে উঠেছেন। অন্য কোন ধর্ম অনুসরণ করলে এটা নিশ্চিত যে এত পাশব হত্যা ও এত নিষ্ঠুরতা তিনি কোন মতেই দেখতে পেতেন না। কারণ পশুপালক নিষ্ঠুর আরব সমাজে একমাত্র ইসলামই জন্ম লাভ করেছে। তাই ইসলামের মত এমন বীরোচিত ধর্ম আল আমান সাহেব আর পাবেন কোথায়?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কোরবানীর প্রসঙ্গ শেষ করার আগে আরও কয়েকটা কথা বলা প্রয়োজন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আগেই বলা হয়েছে যে, বিদায় হজের সময় আল্লার রসুল কোরবানীর জন্য মদিনা থেকে ১০০টা উট সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। কোরবানীর দিন সেগুলোকে মিনায় আনা হয়। নবীর ইচ্ছা ছিল যে, ঐ ১০০ উট তিনি নিজে হাতে জবেহ করেন। কিন্তু ৬৩টা উট জবেহ করার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং বাকীগুলিকে জামাতা ও চাচাত ভাই আলির হাতে তুলে দেন এবং সে ঐগুলিকে জবেহ করে। নবীর এই একনাগাড়ে ৬৩টা উট জবেহ করার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে আল আমান সাহেব লিখছেন, &quot;এটা বিস্ময়কর হিম্মতের কাজ। (২৬) কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই যে, আল্লার রসুল আরও যে সব হিম্মতের কাজ করেছিলেন তা তাঁর গ্রন্থেই স্থান পেল না কেন?&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২৫) কাবার পথে, ১ম খণ্ড, (হরফ), পৃঃ ৩৬৫&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২৬) ঐ, পৃঃ ৩৬৬&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;একবার উকল গোত্রের কয়েকজন লোক মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করলে নবী তাদের উপর খুব সদয় হন। সংখ্যায় এরা আটজন ছিল (মুসলীম ৪১৩০ ও ৪১৩২)। কিন্তু মদিনার জলবায়ু সহ্য না হওয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল এবং নবী&amp;nbsp;ﷺ  তখন তাদের উটের দুধ ও প্রস্রাব খেতে পরামর্শ দিলেন। এই উদ্দেশ্যে নবী একটা উটের আস্তাবলে তাদের থাকার বন্দোবস্ত করে দেন। কিছুদিনের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে উঠল এবং এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসল। একদিন সেই উটের আস্তাবলের দারোয়ানকে খুন করে উটগুলো নিয়ে পালাল এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম ত্যাগ করল। সব শুনে নবী খুবই ক্রুদ্ধ হলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর অনুচরেরা তাদের ধরে এনে নবীর সামনে হাজির করল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তিনটি গুরুতর অপরাধে তারা অপরাধী ছিল। ইসলামী আইন অনুযায়ী কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে হত্যা করলে প্রাণদণ্ডের সাজা হয়। এ ছাড়া ইসলাম ত্যাগ করলে বা মোরতাদ হলে এবং নবীর বদনাম বা কুৎসা করলেও প্রাণদণ্ড হয়। প্রাণদণ্ড সব সময় শিরচ্ছেদ করে দেওয়াই বিধেয়, আগুনে পুড়িয়ে নয়। আগুনে পুড়িয়ে মারার অধিকারী একমাত্র আল্লা(বুখারী ১২১৯)। কাজেই উপরিউক্ত ব্যক্তিরা দারোয়ানকে হত্যা করার অপরাধে এবং ইসলাম ত্যাগ করার অপরাধে প্রাণদণ্ডের যোগ্য। উপরন্তু উট চুরি করার অপরাধে তাদের ডানহাত কেটে ফেলা উচিত। অপরাধ এত গুরুতর হওয়ায় নবী তাদেরকে এক দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেবেন স্থির করলেন এবং সেই সাজা নিজে হাতে দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আল্লার রসুল প্রথমে দুটো লোহার শিক চেয়ে নিলেন এবং সেগুলোকে লাল করে গরম করে অপরাধীদের চোখে ঢুকিয়ে দিলেন। তারপর একটা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হাত-পা কেটে আলাদা করে ফেললেন এবং ঐ অবস্থায় দুপুরের খাড়া রোদে মরুভূমির তপ্ত বালির উপর শুইয়ে রাখলেন। তারা জল খেতে চাইলে নবী তা দিতে সবাইকে নিষেধ করে দিলেন। এভাবে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তারা মারা গেল (বুখারী ৬৩৩৩-৬৩৩৬)। অনেকের মতে নবী হাত-পা কেটে পট্টী বাঁধেন নি বলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তারা মারা যায় (মুসলীম ৪১৩০-৪১৩২)। উপরিউক্ত ঘটনা থেকে ইসলামের জন্মভূমি আরবদেশের লোকচরিত্র সম্পর্কেও কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। এইভাবে শাস্তি দিতে নবীকে অবশ্যই অনেক বেশী হিম্মতের পরিচয় দিতে হয়েছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আগেই বলা হয়েছে যে, মদিনার উপকণ্ঠে নজির, কানুইকা, কুরাইজা ও হারিস গোষ্ঠীর ইহুদীরা বসবাস করত এবং নবী শুধু ভয় দেখিয়ে নজির গোষ্ঠীকে মদিনা থেকে বিতাড়িত করেন এবং তারা খয়বর নামক স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে ওমর খলিফা হয়ে এদের খয়বর থেকে উৎখাৎ করে আরবের বাইরে বার করে দেন। আল্লার রসুল বলতেন, “لَأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ حَتَّى لاَ أَدَعَ إِلاَّ مُسْلِمًا” অর্থাৎ &quot;একমাত্র মুসলমান ছাড়া ইহুদী খ্রীস্টান সবাইকে আমি আরব ছাড়া করব (মুসলীম ৪৩৬৬)।&quot; আবু হোরায়রা বর্ণনা করছেন যে, একদিন আল্লার রসুল সঙ্গীসাথীদের নিয়ে ইহুদীদের এলাকায় গিয়ে চীৎকার করে বলতে থাকলেন, &quot;ওরে ইহুদীর দল, ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে তোদের কোন বিপদ হবে না।&quot; এ প্রস্তাবে তারা সম্মত না হলে আল্লার রসুল বললেন, &quot;তোরা হয়তো জানিস না এই পৃথিবীর মালিক আল্লা ও তাঁর রসুল এবং আমার ইচ্ছা এই দেশ থেকে তোদের বিদায় করি (মুসলীম ৪৩৬৩)।&quot; মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও আল্লার রসুল বলেন, &quot;পৌত্তলিকদের আরব থেকে তাড়াও (মুসলীম ৮০১৮)।” ইহুদীরা আর্থিক দিক থেকে বলবান ছিল বলে নবী&amp;nbsp;ﷺ  তাদের একসাথে উৎখাৎ করতে ভয় পেয়েছিলেন, তাই এক এক করে বিতাড়নের কাজ শুরু হয়েছিল। নাজির গোষ্ঠীর পর এল কুরাইজা গোষ্ঠীর পালা এবং খন্দক বা পরিখার যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই কাজ শুরু হয়ে গেল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;খন্দক যুদ্ধ শেষ করে ঘরে ফিরে নবী&amp;nbsp;ﷺ  সবেমাত্র পাকসাফ হয়েছেন, এমন সময় ফেরেস্তা জিব্রাইল দাহইয়ায়ে কালবী নামক এক ব্যক্তির রূপ ধরে নবীর সামনে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, &quot;আপনি অস্ত্র ত্যাগ করেছেন? কিন্তু আল্লার কসম, আমি অস্ত্র ত্যাগ করিনি।&quot; নবী&amp;nbsp;ﷺ  তখন জিজ্ঞাসা করলেন, &quot;কোথায় যেতে হবে?&quot; জিব্রাইল তখন বনি কুরাইজাদের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, &quot;এদিকে” (মুসলীম ৪৩৬৪, বুখারী ২৬০৩)। আল্লার রসুল তৎক্ষণাৎ সবাইকে অস্ত্রসস্ত্র সহ বনি কুরাইজাদের দিকে অগ্রসর হতে হুকুম জারি করলেন। কুরাইজা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এই যে, খন্দক যুদ্ধের সময় তারা মুসলমানদের সাহায্য না করে শত্রু কোরেশ বাহিনীকে সাহায্য করেছিল এবং তাদের সঙ্গে গোপন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল। তবে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, সব থেকে বড় অপরাধ ছিল এই যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করে নবীর আনুগত্য করেনি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মুসলমান বাহিনীকে আসতে দেখে বনি কুরাইজারা তাদের দুর্গে আশ্রয় নিল &#39;এবং নবী&amp;nbsp;ﷺ  তাদের দুর্গ অবরোধ করলেন। দীর্ঘ একমাস (মতান্তরে ৪৫ দিন)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অবরোধের পর দুর্গের ভিতরে সঞ্চিত সমস্ত খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে গেল এবং কি করা হবে এই নিয়ে জোর তর্ক বিতর্ক হল। এক পক্ষ মত দিল যে, আত্মসমর্পণ করলেও মুসলমানদের হাতে মরতে হবে। তার চেয়ে যুদ্ধ করে মরাই ভাল। অন্য পক্ষ মত দিল যে, অল্প কিছু লোক হলে মুসলমানরা তাদের মেরে ফেলতো তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে যেহেতু তারা সংখ্যায় অনেক তাই এতগুলো নিরস্ত্র মানুষকে মুসলমানরা কখনও মারবে না, কারণ মুসলমান হলেও তারা তো মানুষ। হয়তো তাদের ধনসম্পদই শুধু কেড়ে নেবে, প্রাণে মারবে না। যাই হোক, এই শেষোক্ত মতই গৃহীত হল এবং পরদিন সকালে কুরাইজারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করল। সক্ষম পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে নিরস্ত্র করে বন্দী করা হল এবং দুর্গ থেকে সমস্ত ধন-সম্পদ বাইরে এনে স্তূপীকৃত করে সাজানো হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মহানবী&amp;nbsp;ﷺ  এর পর কাব ইবনে মুয়াজ নামে এক ব্যক্তির উপর কুরাইজাদের উপর আরোপিত অভিযোগের বিচারের ভার ন্যস্ত করলেন। এখানে বলে রাখা ভাল যে, কাব ইবনে মুয়াজ কুরাইজা গোত্রের মিত্র আউস গোত্রের দলপতি ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছিলেন। ইনি একজন বদরী ছিলেন এবং খন্দক যুদ্ধে যে আঘাত পেয়েছিলেন তাতেই পরে তাঁর মৃত্যু হয়। কাজেই বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, একজন আল্লার বান্দা ও রসুলের অনুগত ব্যক্তির উপর বিচারের ভার দিলে সেই বিচারের রায় কাদের পক্ষে যাবে। তবুও বিচারের প্রহসন হল এবং বিচারক রায় দিলেন, &quot;সব পুরুষকে হত্যা করা হবে, নারী ও শিশুদের ক্রীতদাস হিসাবে বিক্রী করা হবে এবং গণিমতের মাল মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করা হবে।&quot; এই বিচার সম্পর্কে বলা যায় যে, আওরঙজেব যেমন দারাকে নিজে হাতে খুন করেননি, কাজীর বিচার অনুসারেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল অথবা জিয়া উল হক্ যেমন নিজের হাতে ভুট্টোকে খুন করেননি, বিচারকে র রায় অনুসারেই তাকে ফাঁসীতে ঝোলানো হয়েছিল, তেমনি বিচারকের বিচার অনুসারেই কুরাইজাদের হত্যা করা হয়েছিল। বিচারের পর একটা বড় গুদাম ঘরে কুরাইজাদের বন্দী করে রাখা হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সেইদিন রাত্রেই মদিনার বাজারে ৮০০ লোককে মাটি চাপা দেবার মত এক বিশাল গর্ত খোঁড়া হল এবং পরদিন ফজরের নামাজের পরই কোতল পর্ব শুরু হয়ে গেল। পিছনে হাত-বাঁধা অবস্থায় ৫ থেকে ৬ জন করে বন্দীকে সেই গুদাম ঘর থেকে আনা হতে থাকল এবং আলি ও নবীর আর এক চাচাত ভাই যুবায়ের (২৭) তাদের গলা কেটে পরিখার মধ্যে ফেলতে থাকল। গুদাম ঘরে বন্দীরা প্রথম দিকে বুঝতে পারেনি যে, কয়েকজন করে ডেকে ডেকে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে ব্যক্তি ডেকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিল, একজন বৃদ্ধ ইহুদী তাকে জিজ্ঞাসা। করল, &quot;ডেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?&quot; তখন সে বলল, &quot;এখনও মাথায় ঢোকেনি? যাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তারা কি আর ফিরে আসছে? তারা তখন বুঝতে পারল এবং এক অসহায় করুণ ক্রন্দনে সে গুদাম ঘর ভরে গেল। এরা সংখ্যায় কতজন ছিল সে সম্বন্ধে মতভেদ আছে। সর্বনিম্ন সংখ্যা ৬০০ এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা ৯০০&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;(২৭) &lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;প্রথম জীবনে যুবায়ের খুব গরীব ছিলেন এবং আবু বকরের বড় মেয়ে আসমাকে বিবাহ করেন। পরে গণিমতের মালের দৌলতে আরবের সর্বাপেক্ষা ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন এবং ১০০০ ক্রীতদাসের মালিক হন।&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;হিসাবে বর্ণিত আছে। তবে বেশীর ভাগ বর্ণনার ৮০০ সংখ্যা থাকাতে W. Muir সহ অন্যান্য ঐতিহাসিকরা ৮০০-কেই সঠিক সংখ্যা বলে ধরে নিয়েছেন। নারী ও শিশু মিলে ১০০০ সংখ্যা ছিল এবং নিতান্ত শিশুদের আলাদা করে সংখ্যা ধরা হয়নি, মায়ের সঙ্গেই গোনা হয়েছিল। মেয়ে বন্দীদের মধ্যে রিহানা নামে এক সুন্দরীকে নবী&amp;nbsp;ﷺ  নিজের জন্য পছন্দ করে রাখলেন। বাকীদের মধ্যে কিছুকে নবী তাঁর সঙ্গী সাথীদের হারেমে পাঠিয়ে দিলেন এবং অবশিষ্টদের বিক্রীর জন্য নেজদ এ পাঠিয়ে দেওয়া হল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এই হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করতে Sir W.Muir লিখেছেন - &quot;The butchery&lt;/p&gt;&lt;p&gt;began in the morning, lasted all day, and continued by torch light till the evening. Having thus drenched the market place with the blood of seven to eight hundred victims and having given command for the earth to be smoothed over their remains, Mohammad returned from the horried spectacle to solace himself with the charms of Rihana, whose husband and all her male relatives had just perished in the mas-sacre.&quot; (২৮)&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কথিত আছে যে, রিহানা ইসলাম গ্রহণ করতে বা মহম্মদের&amp;nbsp;ﷺ  বিবাহিত পত্নী হতে অস্বীকার করেন এবং সেই কারণে নবীর রক্ষিতা হিসাবে থাকতেই বাধ্য হন এবং নবীর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে মারা যান। অনেকের মতে মৃত্যুর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। যাই হোক, সকলেই স্বীকার করবেন যে, ঠাণ্ডা মাথায় ৮০০ নিরস্ত্র মানুষের বীভৎস শিরচ্ছেদ ক্রিয়া সারাদিন ধরে সামনে বসে পর্যবেক্ষণ করতে নবীকে আরো অনেক বেশী হিম্মতের পরিচয় দিতে হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই যে, আল আমান সাহেব তাঁর গ্রন্থে উপরিউক্ত হত্যাকাণ্ডকে নবীর হিম্মতের কাজ না বলে, মদিনার সর্বাপেক্ষা কলঙ্কময় ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, ভারতীয় ধর্মগুরুদের মধ্যে এরকম হিম্মতের কাজ একেবারেই লক্ষ্য করা যায় না। এবং এটা খুবই সত্যি কথা যে, আল আমান সাহেব তাঁর নিজের মাতৃভূমির ধর্ম প্রচারকদের মধ্যে এরকম হিম্মতের অনুসন্ধান করলে খুবই হতাশ হবেন। তাঁদের মধ্যে জিহাদ করে পরের ধন সম্পত্তি লুটপাট করা, লুট করা গণিমতের মাল ভাগবাঁটোয়ারা করে নিজের অংশ বুঝে নেওয়া, বন্দী করে আনা মাতৃজাতিকে কলুষিত করা বা ক্রীতদাসী হিসাবে তাদের বিক্রী&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(২৮) W. Muir, Life of Mahinet, Voice of India, P-319.&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;করে দেওয়া ইত্যাদি হিম্মতের কাজ একেবারেই অনুপস্থিত। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হল, তাঁদের আরাধ্য ঈশ্বরও এই সমস্ত হিম্মতের কাজে উৎসাহ দেন না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, কোরবানী পর্ব শেষ হলে প্রত্যেকটা উটের শরীর থেকে কিছুটা করে গোস্ত কেটে নিয়ে নবী&amp;nbsp;ﷺ  তা রান্না করতে হুকুম দিলেন। রান্না হয়ে গেলে তিনি, আলি ও অন্যান্য অনুচরেরা সেই মাংস ও ঝোল খেলেন। এর পর নবী ইহরাম খুলে ফেললেন, গায়ে সুগন্ধি লাগালেন(২১) এবং নাপিতের কাছে মস্তক মুণ্ডন করতে বসলেন। প্রথমে মাথার ডানদিকের চুল কামানো হল এবং তারপর যথারীতি বাঁ দিকের চুল কামানো হল। এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে হাজিরা আজও ডানদিকের চুল আগে কামান পরে বাঁ দিকের।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;নবীই হলেন ইসলামের আদর্শ স্থল। ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য পবিত্র, অপবিত্র সব কিছুরই দৃষ্টান্ত স্থল হলেন নবী ﷺ । নবী&amp;nbsp;ﷺ  গোঁফ কামিয়ে দাড়ি রাখতে বলেছেন, তাই গোঁফ কামিয়ে দাঁড়ি রাখতে হবে। জমজমের পানি ছাড়া নবী&amp;nbsp;ﷺ  দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন, তাই দাঁড়িয়ে পানি পান করা যাবে না। খাওয়ার পর নবী&amp;nbsp;ﷺ  হাত চেটে পরিষ্কার করতেন তাই হাত চেটে পরিষ্কার করতে হবে। পাজামার ঝুল গোড়ালী ঢেকে ফেললে নবী তাকে অহমিকার প্রকাশ বলে মনে করতেন, তাই খাটো ঝুলের পাজামা পরতে হবে। নবী&amp;nbsp;ﷺ  বলতেন যে, যে দাবা খেলে তার হাত শূয়োরের রক্তে মাখামাখি হয়, তাই দাবা খেলা যাবে না। কেউ মারা গেলে কান্নাকাটি করা নবী পছন্দ করতেন না, তাই তা করা যাবে না, শুধু নীরবে চোখের জল ফেলা যাবে। তাও মেয়েরা একমাত্র স্বামী ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে তিনদিনের বেশী পারবে না।(৩০) নবী শুধু বিনা প্রতিবাদে বিশ্বাস পছন্দ করতেন, তর্ক পছন্দ করতেন না, তাই তর্ক করা চলবে না। নবী কুকুর পছন্দ করতেন না, তাই কুকুর পোষা চলবে না। (৩১) সেই রকম নবী মনে করতেন যে, মানুষের পুণ্য ডানদিকে জমা হয় আর পাপ বাঁদিকে জমা হয়, তাই সব শুভ কাজ ডানহাতে করতে হবে বা ডানদিক থেকে শুরু করতে হবে। এর অবশ্য অন্য আরেকটা কারণও আছে। ফেরেস্তারা সব কাজ ডানহাতে করে কিন্তু শয়তান বাঁহাতে করে। তাই শুধু ডানহাতেই খাওয়া&lt;span&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/span&gt;~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(২৯) আয়েষা বলতেন নবী&amp;nbsp;ﷺ  তিনটি জিনিস পছন্দ করেন, নারী, সুগন্ধি ও ভাল খাবার (W. Muir, ibid, P-528).&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(৩০) নবীর&amp;nbsp;ﷺ  পদ্মী উম্মে হাবিবার পিতা আবু সুফিয়ান মারা গেলে তিন দিন পর তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও গালে সুগন্ধি লাগিয়ে শোকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন (মুসলীম-৩৫৩৯, ৩৫৫২)।&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;i&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;(৩১) নবীর&amp;nbsp;ﷺ  আদেশে মদিনার সব কুকুর মেরে ফেলা হয় (মুসলীম-৩৮১০, ৩৮১১)। নবী বলতেন যে, যে সব কুকুরের চোখের উপরে দাগ আছে তারা শয়তানের প্রতিমূর্তি (মু৩৮১৩)।&lt;/span&gt;&lt;/i&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;দাওয়া করতে হবে। যে বাঁহাতে খায় সে শয়তানকে অনুসরণ করে। (৩২) তাই প্রস্রাব করার সময় পুরুষাঙ্গ ডানহাতে ধরা যাবে না, বাঁহাতে ধরতে হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আমাদের মত বিধর্মীর কাছে নবীর অনেক কাজ অপবিত্র, নিষ্ঠুর বা অত্যন্ত গর্হিত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একজন মুসলমানের দেখার দৃষ্টিভঙ্গী সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর কাছে নবীই হলেন পাপ-পুণ্য, পবিত্র-অপবিত্র, ন্যায়-অন্যায়, সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। কাজেই নবী যা করেছেন তাই পবিত্র, তাই ন্যায় এবং তাতেই পুণ্য। নবী যা করেননি বা করতে নিষেধ করেছেন তাই পাপ, অপবিত্র ও অন্যায়। যিনি আল্লার রসুল, যার কাছে দিনে-রাত্রে আল্লার বাণী অবতীর্ণ হয়, তিনি পাপ, অপবিত্র বা অন্যায় কাজ কখনই করতে পারেন না। যেমন আল্লা কোরানে বলেছেন, &quot;ঋতুর সময় মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাক (২/২২২)।&quot; কিন্তু আল্লার রসূল ঋতুমতী আয়েশার সঙ্গে এক বিছানায় শুতেন এবং তাঁর কোলে মাথা রেখে কোরান আবৃত্তি করতেন। মুসলমান ভাষ্যকারদের মতে নবী এক বিছানায় শুলেও মাঝখানে একটা চাদর রাখতেন (মুসলীম ৫৮০,৫৯১)। তাছাড়া অন্যান্য ঋতুমতী স্ত্রীদের তিনি চুম্বন, আলিঙ্গন ইত্যাদি করতেন (মুসলীম ৫৭৭)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামে মদ্যপান নিষিদ্ধ। নবীর জীবিতাবস্থায় এই অপরাধের সাজা ছিল ৪০ ঘা বেত এবং ওমর খলিফা হবার পর তিনি তা ৮০ঘা বেত করেন। কিন্তু কাঁচা-পাকা খেজুর গেঁজিয়ে তৈরি নাধিজ নামে একপ্রকার পানীয় নবী নিয়মিত পান করতেন। সকালের তৈরি নাবিজ রাত্রে বা তার পরদিন অথবা রাত্রের তৈরি নাবিজ পরদিন পান করতেন। বিদায় হজের সময় জমজমের পবিত্র পানি পান করার পর নবী নাবিজ পান করেন। (৩৩) ইসলামী আইন অনুসারে কোন একজনের পক্ষে অন্য কারও লজ্জাস্থান দেখা নিষেধ। কিন্তু সহবাসের পর নবী যখন স্ত্রীদের সঙ্গে এক সঙ্গে গোসল করতেন তখন হয়তো এই নিষেধের উল্লখ্যন হত। (৩৪) যেমন সাধারণ মুসলমানের ক্ষেত্রে অপবিত্র বা জুনুব অবস্থায় মসজিদে গেলে পাপ হয়, কিন্তু নবী বলতেন যে, তিনি এবং আলি জুনুব অবস্থায় মসজিদে গেলে পাপ হয় না (তিরমিজি (২) ১৫৮৪)। যেমন নবী বলতেন যে তিনি অভিশাপ দেবার জন্য প্রেরিত হন নি, বরং শুধু দয়া প্রকাশের জন্যই প্রেরিত হয়েছেন। কিন্তু তিনি অভিশাপ দিয়ে বলতেন, &quot;হে আল্লা, ইউসুফের (বাইবেলের জোসেফ) সময় যেমন করেছিলেন তেমনি ওদের (অর্থাৎ পৌত্তলিকদের) জন্য সাতবার দুর্ভিক্ষ আনয়ন&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(৩২) বাঁ হাতি মুসলমানদের জন্য কি ব্যবস্থা?&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(৩৩) মুসলীম-৪৯৭১, ৪৯৭৭, ৬৬৭&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: x-small;&quot;&gt;&lt;i&gt;(৩৪) মুসলমান ভাষ্যকারদের মতে গাঢ় অন্ধকারে এই গোসলপর্ব সম্পন্ন হত।&lt;/i&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;করুন যাতে ওরা ক্ষুধার জ্বালায় মরা পশুর মাংস, চামড়া খেতে বাধ্য হয় (মুসলীম ৬৭১৯, ১৪২৮, ১০৮২ এবং কোরান ৩৩/৬৮)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;প্রতিটি মুসলমানের একান্ত কর্তব্য হল আল্লার রসুলে বিশ্বাস স্থাপন করা, বিচার করা নয়। কারণ আল্লা বার বার বলেছেন, &quot;আল্লা ও তাঁর রসুলকে অনুসরণ কর (৪/৮০,৮/২০,৮/২৭, ৮/৪৬) এবং তা না হলে নরকের মর্মন্তদ শাস্তি অপেক্ষা করে আছে (৯/৬৩)। কিন্তু সব ক্ষেত্রে আল্লার রসুলকে অনুসরণ করা সম্ভব নয় এবং সেই ক্ষেত্রে মুসলীম সমাজে ঘোরতর বিশৃঙ্খলা দেখা দেবার আশঙ্কা আছে। যেমন আগেই বলা হয়েছে যে মুহরীম অবস্থায় নবী বিবি মাইমুনাকে বিবাহ করেছিলেন। নবীর এই সুন্নত অনুসরণ করে আজকের লক্ষ লক্ষ হাজীরা মক্কায় হজ করার সময় যদি একটা করে বিবাহ করবেন স্থির করেন তাহলে কি ধরনের গোলমাল শুরু হবে তা সহজেই অনুমান করা চলে। এই রকম আরও অনেক দৃষ্টান্ত দেওয়া চলতে পারে, যে সব কাজ নবী করে গেছেন উম্মতরা তা সুন্নত হিসাবে অনুকরণ করতে গেলে অসুবিধার সৃষ্টি হবে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;তেমনি এমন কিছু কিছু ব্যাপার আছে যা নবী করেননি কিন্তু মুসলমানদের জন্য ফরজ করে গেছেন, যেমন জাকাত। এমন কি যে খৎনা প্রথা তিনি সমস্ত বিশ্বাসীদের জন্য পবিত্র ছয়টি সুন্নতের মধ্যে একটি বলে নির্ধারিত করে গেছেন, সেই খৎনা সম্ভবত নিজে করেননি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে কর্তব্য অকর্তব্য নিয়ে বিচার করতে গেলে পথ হারিয়ে ফেলার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। কাজেই ইসলামে বিচার-বিবেচনা, যুক্তি-তর্ক নিষিদ্ধ। যা কিছু বিচার বিবেচনা সবই তো স্বয়ং নবী করে গিয়েছেন। তাঁর চেয়ে বেশী জ্ঞানী কে হতে পারে? তার উপরে রয়েছে কোরান শরীফ, স্বয়ং আল্লার বাণী। তাকে প্রশ্ন করবে কে? কাজেই বুদ্ধিবৃত্তিকে স্তব্ধ করে রাখতে হবে। আরবের একজন বেদুইন যতখানি মস্তিষ্ক চালনা করতে পারে তার বেশী মস্তিষ্ক চালনা করা যাবে না। আর কতদিন ভারতের মুসলীম সমাজ বুদ্ধিবৃত্তির এই দাসত্ব করবে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত বিশ্বাসের ব্যাপারে বর্তমান লেখকের ধারণা হল এই যে, ঐ বিশ্বাসের প্রেরণা বা প্রয়োজনীয়তা লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। একটা আঙুরের গুচ্ছ যতই সুদৃশ্য হোক না কেন, ঝুলে থাকে ক্ষীণ একটা বোঁটার উপর নির্ভর করে। সেই রকম ইসলামের পুরো কাঠামোটা ঝুলে আছে একটা বিশ্বাসের ওপর। কলেমা তৈয়ব বা লা ইলাহা ইল্লাল্লা, মহম্মদুর রসুলুল্লার ওপর। যদি এই বিশ্বাসে চিড় ধরে তবে সমগ্র ইসলাম মুখ থুবড়ে পড়বে এবং সেই কারণে এই বিশ্বাসকে সযত্নে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যেমন সৌখিন এবং ভঙ্গুর একটা কাঁচের জিনিসকে অতি সাবধানে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। যে সমস্ত কারণে এই বিশ্বাসে চীড় ধরতে পারে তাকে দূরে রাখতে হবে। যে সমস্ত বই পড়লে এই বিশ্বাসে চীড় ধরতে পারে সে সমস্ত পুস্তককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। যে সমস্ত লোকের কথা শুনলে বিশ্বাসে চীড় ধরতে পারে তাদের হত্যা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল আমান সাহেবের একটা মন্তব্য স্মরণ করা চলতে পারে। তিনি তাঁর &quot;কাবার পথে&quot; গ্রন্থে এক জায়গায় লিখেছেন, &quot;আমাদের আছে এক আল্লা, এক নবী, এক কোরান এক কাবা.....।&quot; অর্থাৎ এর যে কোন একটার উপর বিশ্বাস নষ্ট হলে ইসলামের পক্ষে যে টিকে থাকা মুশকিল হবে, তাঁর উপরিউক্ত মন্তব্য থেকে এই নির্মম সত্যটাই বেরিয়ে আসে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যাই হোক, মস্তক মুণ্ডন শেষ হলে নবী তাঁর কেশ মুবারকের প্রধান অংশ উপহার হিসাবে আবু তালহা ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইমাকে দান করলেন। কিছু অংশ তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে বিতরণ করলেন। Sir W. Muir-এর মতে এই কেশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। কাশ্মীরের হজরৎবাল দরগায় নবীর যে পবিত্র কেশ রক্ষিত আছে তা মাথার চুল নয়, দাড়ি (বর্তমান ১৭/১১/৯৩)। এরপর নবী আরও তিনদিন মক্কায় অবস্থান করলেন, শয়তানের উদ্দেশে রমি করলেন, সাফা মারোয়ায় সায়ী করলেন, কাবা শরীফে তাওয়াফ নামাজ করলেন এবং এইভাবে আজকের হাজীরাও তিন দিন মক্কায় অবস্থান করে রমি, সায়ী, তাওয়াফ ইত্যাদির পর জমজমের পানি পান করার মধ্য দিয়ে হজ ক্রিয়া সমাপ্ত করেন। এরপর অনেকে মদিনায় নবীর পুণ্য স্মৃতি বহনকারী কিছু কিছু স্থান দর্শন করতে যান, তবে তা হজ ক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এ প্রসঙ্গে আরও একটা কথা হল, হজ ক্রিয়া সহ অন্যান্য ধর্মাচরণের মধ্যে মুসলমান সমাজ কাবাকে যে প্রাধান্য দেন তা কি পৌত্তলিকতা নয়? আগের ৩৬০টি প্রতিমার বদলে কাবার কাঠামোটাই কি প্রতিমার রূপ নেয়নি? শুধু মানব-মানবীর আকৃতিবিশিষ্ট প্রতিমা একটা চৌকো ঘরের আকার নিয়েছে এইমাত্র। একটা হিন্দুর ঘরের দক্ষিণেশ্বর বা কালীঘাটের মন্দিরের ছবি আর মুসলমানের ঘরের কাবা বা মসজিদ নব্বীর ছবির মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? ইসলামের নবীদের ইতিহাসে দেখা যায় যে, নবীরা সেই অতীত কাল থেকে মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আসছেন এবং এটাই তাদের একমাত্র কাজ। বহুবার বহু নবী মূর্তিপূজা বন্ধ করেছেন কিন্তু মানুষ আবার মূর্তিপূজা শুরু করেছে। এই কারণে বারে বারে নবী পাঠাবার প্রয়োজন হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এ থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, মূর্তিপূজা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং একে দমন করা সম্ভব নয়। খ্রীস্টধর্মে মূর্তিপূজা করা নিষেধ, কিন্তু খ্রীস্টানরা ঈশা ও মা মেরীর মূর্তিপূজা করছেন। নবী মহম্মদ মূর্তিপূজা বন্ধ করেছেন তাই মুসলমানরা মানব মানবীর মূর্তির বদলে কাবাগৃহের পূজা করছেন। মানুষের মূর্তিপূজার প্রবৃত্তি উচুঁতে রাখা জলের মত, কোন না কোন ভাবে, চুঁইয়ে হোক, গড়িয়ে হোক, নীচে নেমে আসবেই। একে রোধ করার ক্ষমতা কারও নেই। প্রিয়জনের ফটো ঘরে রাখা কি কেউ বন্ধ করতে পারবে? তাহলে ফটোগ্রাফী শিল্পকেই বিদায় জানাতে হবে। কিন্তু প্রিয়জনের ছবি রাখার এবং মূর্তিপূজার প্রেরণা একই। তাই একে রোধ করা অসম্ভব। এ প্রসঙ্গে হাজীদের হাজরে আসোয়াদ পূজন ও হিন্দুর শিবলিঙ্গ বা শালগ্রাম শিলা পূজনের মধ্যেকার সাদৃশ্যও লক্ষ্য করার বিষয়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;উপরিউক্ত হজ ক্রিয়া সম্পর্কে আরও দু-একটি কথা বলা প্রয়োজন। যে হজ ক্রিয়া আজ অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে তা ইসলামের অবদান নয়। মক্কা দখলের আগে হুদাই বিয়ার চুক্তির মাধ্যমে প্রাক্-ইসলামী হজ ক্রিয়াকে অটুট রাখা হয়েছে। শুধু হাজরে আসোয়াদ বাদে অন্য ৩৬০টি মূর্তিকেধ্বংস করা হয়েছে। যে কেউ এই হজ ক্রিয়াকে একটু ভালভাবে লক্ষ্য করলে এর মধ্যে কিছু ভারতীয় বা হিন্দু প্রথার অস্তিত্ব দেখতে পাবেন। হাজরে আসোয়াদের মধ্য দিয়ে শিবলিঙ্গ পূজন ছাড়াও, সেলাই বিহীন কাপড় পরা (হইরাম বন্ধন), মস্তক মুণ্ডন করা এক কাবাকে প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) করা ইত্যাদি প্রথাগুলি প্রাক্-ইসলামী আরবে হিন্দু সংস্কৃতির অস্তিত্বের কথাই প্রমাণ করে। সুতরাং যে সব ভারতীয় মুসলমানরা দিন-রাত হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির নিন্দা করেন, তাঁরা সেই হিন্দু রীতি পালন করতেই মক্কায় হজ করতে যান এতে কোন সন্দেহ নেই।&lt;/p&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class=&quot;z-0 flex justify-end&quot;&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/feeds/8976204765468113791/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/2026/05/TheFivePillarsofIslam.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default/8976204765468113791'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default/8976204765468113791'/><link rel='alternate' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/2026/05/TheFivePillarsofIslam.html' title=' ইসলামের পাঁচস্তম্ভ'/><author><name>Unknown</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" url="https://blogger.googleusercontent.com/img/a/AVvXsEiihdmKgf97847KZqHWYJoGZtwJ3Os5OsiTbztDOR-XZq3jzzc_lO_-wTWhwvyXW351osjL7u-cdBTwcqREejc8n3QhpD9ad3VOiZVQ4HyE3M9JHFMOuI7CzhvKGfK9ibZ-Mz97OpdDUC4yvbMaAZyyDYgJ7ra_HNm-2Z8iCIVOmkWFNmn44vTqgdm7Uvpx=s72-w320-h320-c" height="72" width="72"/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-7221434730492019409.post-1616583232748908323</id><published>2026-05-07T10:29:00.000+05:30</published><updated>2026-06-08T10:29:32.376+05:30</updated><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="ইসলাম"/><category scheme="http://www.blogger.com/atom/ns#" term="কোরান"/><title type='text'>কুরআনিক প্রশ্নের প্রস্তাবিত সমাধান</title><content type='html'>&lt;p&gt;&lt;strong&gt;কুরআনিক ভূগোল: কুরআনে উল্লিখিত ভৌগোলিক তথ্যসমূহের সমীক্ষা ও মূল্যায়ন, এবং বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশ্নের প্রস্তাবিত সমাধান&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;লেখক: ড্যান গিবসন&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;সাস্কাটুন, কানাডা: Independent Scholars Press, ২০১১।&lt;br /&gt;হার্ডকভার মূল্য: ৩৫ ডলার; পিডিএফ: ১৫ ডলার (&lt;a href=&quot;http://www.stpt.xn--ca--euh/&quot;&gt;www.stpt.ca-এ&lt;/a&gt; উপলব্ধ)।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ মক্কায় ইসলাম প্রচার করেছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ ইসলামি গবেষক এবং বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই মতবাদ গ্রহণ করেন। তবে এই বিবরণ কুরআনে নয়, বরং ইবন ইসহাক (মৃ. ১৫০ হি./৭৬৮ খ্রি.)-এর &lt;em&gt;সীরাত রাসূল আল্লাহ&lt;/em&gt; গ্রন্থে পাওয়া যায়, যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে কেবল ইবন হিশাম (মৃ. ২২৩ হি./৮৩৮ খ্রি.) কর্তৃক নবম শতকে সম্পাদিত সংস্করণের মাধ্যমে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সীরাহ-সাহিত্যের পূর্ববর্তী ইসলামি রচনার স্বল্পতা কিছু গবেষককে এই প্রচলিত বর্ণনার সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান করেছে। তবে গিবসনের বইটি কোনো বিতর্কমূলক সংশোধনবাদী (revisionist) রচনা নয়; বরং তিনি প্যাট্রিসিয়া ক্রোন এবং মাইকেল কুকের &lt;em&gt;হ্যাগারিজম&lt;/em&gt; (Hagarism) তত্ত্ব থেকে নিজেকে পৃথক রেখেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবসনের দাদাই প্রাচীন নিকটপ্রাচ্য (Ancient Near East) সম্পর্কে তাঁর পরিবারের আগ্রহের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর পিতা এদোম (Edom) ও হিকসোস (Hyksos) জাতি নিয়ে গবেষণা করে সেই আগ্রহকে এগিয়ে নিয়ে যান। গিবসনের আন্তরিক ও গভীর অনুরাগের প্রমাণ পাওয়া যায় এই সত্য থেকে যে তিনি প্রায় ২০ বছর ওই অঞ্চলে বসবাস করেছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ জর্ডানের বেদুইনদের সঙ্গে তিন বছর কাটিয়েছেন, আরবি ভাষা শিখেছেন এবং &lt;em&gt;Gibson&#39;s Bible Chronology&lt;/em&gt;, &lt;em&gt;Nabataeans: the Builders of Petra&lt;/em&gt; ও এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;em&gt;Qur&#39;anic Geography&lt;/em&gt; শিরোনাম থেকেই বোঝা যায় যে এই গ্রন্থে কুরআনে উল্লিখিত স্থানসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কুরআনে সর্বাধিক উল্লেখিত স্থান-সংশ্লিষ্ট জাতিগুলি হলো—সামূদের জাতি (২৪ বার), আদ জাতি (২৩ বার) এবং মাদইয়ানের জাতি (৭ বার)। মদিনা, তুব্বা এবং আর-রাস—প্রতিটি দু&#39;বার করে উল্লেখিত হয়েছে; আর হিজর, বাক্কা এবং মক্কার উপত্যকা—প্রতিটি একবার করে উল্লেখিত হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যদিও কুরআনে সেই তিন আরব জাতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের কাছে আল্লাহ নবী প্রেরণ করেছিলেন এবং সেখানে বাক্কা/মক্কার উপত্যকারও উল্লেখ রয়েছে, তবে সেখানে বলা হয়নি যে আল্লাহ মুহাম্মদ (মৃ. ১০/৬৩২)-কে মক্কায় প্রেরণ করেছিলেন। গিবসন এই তিন প্রাক্-ইসলামি আরব জাতির অবস্থান এবং মদিনা ও মক্কার পবিত্র নগরীগুলির অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থটি সাতটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে ভূমিকা রয়েছে এবং সপ্তম ভাগে পাঁচটি পরিশিষ্ট রয়েছে। দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ ভাগে কালানুক্রমিকভাবে আদ, মাদইয়ান ও সামূদ জাতি এবং পরে যথাক্রমে মদিনা ও মক্কা নগরী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবসন যে প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করেছেন তা হলো—এই প্রাচীন আরব জাতিগুলি কোথায় বিকশিত হয়েছিল? তাঁর উত্তর হলো, তারা সকলেই পেত্রার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এই সিদ্ধান্ত থেকেই তিনি মনে করেন যে পেত্রাই সম্ভবত ইসলামের আদি পবিত্র নগরী ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবসন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রত্নতাত্ত্বিক, মানচিত্রগত, আলোকচিত্রভিত্তিক, ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন; তবে এখানে তাঁর যুক্তির কেবল বিস্তৃত রূপরেখাই পর্যালোচনা করা যেতে পারে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;যদিও তিনি প্রাথমিক উৎসসমূহের একটি বিস্তৃত টীকাসহ গ্রন্থতালিকা এবং গৌণ উৎসসমূহের একটি গ্রন্থতালিকা প্রদান করেছেন, তাঁর অধিকাংশ প্রমাণ চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস থেকে সংগৃহীত: কুরআন, ইবন হিশামের &lt;em&gt;সীরাত রাসূল আল্লাহ&lt;/em&gt;, আল-বুখারীর &lt;em&gt;সহীহ&lt;/em&gt; এবং আল-তাবারীর &lt;em&gt;তারীখ আল-রুসুল ওয়াল-মুলূক&lt;/em&gt;। মক্কা সম্পর্কে আদ জাতির তুলনায় অনেক বেশি প্রমাণ আলোচনা করা হয়েছে; আবার আদ জাতি সম্পর্কে সামূদ, মদিনা ও মাদইয়ানের তুলনায় অনেক বেশি প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;এদোমীয়রা ছিলেন ইবরাহিমের পুত্র ইসহাকের পুত্র এসাউ-এর বংশধর। তিনি তাঁর ভাই ইয়াকুবের কানআন ভূমির অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে উজ দেশের সেয়ির অঞ্চলে দক্ষিণে চলে যান এবং পরে হোরীয়দের স্থানচ্যুত করেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আইয়ুব ছিলেন দ্বিতীয় এদোমীয় রাজা, যিনি ওয়াদি আরাবার পূর্বদিকে এবং পেত্রার উত্তরে অবস্থিত বোসরা নগরে বাস করতেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ইহুদিদের মিসরে বন্দিত্বকালে যাযাবর এদোমীয়রা উত্তর আরবের গোত্রসমূহকে একত্রিত করে। ঘোড়া, রথ এবং যৌগিক ধনুক ব্যবহারে তাদের দক্ষতার মাধ্যমে তারা তাদের ভূখণ্ড পূর্বদিকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত, দক্ষিণে মধ্য আরব পর্যন্ত এবং পশ্চিমে মিসর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মিসরীয়দের কাছে তারা হিকসোস নামে পরিচিত ছিল। তারা ফেরাউন হিসেবে মিসর শাসন করেছিল, যতক্ষণ না খ্রিস্টপূর্ব ১৫৮০ সালে তাদের বহিষ্কার করা হয়। এরপর তারা পেত্রার চারপাশের পর্বতমালায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে এবং দ্রুত কৃষির বিকাশ ঘটায়।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ফেরাউন হিসেবে তাদের শাসনকাল পেত্রার সেই স্থাপনাগুলির ব্যাখ্যা দিতে সাহায্য করে, যেগুলিতে “ফেরাউনের প্রাসাদ” এবং “ফেরাউনের ভাণ্ডার” শিরোনাম খোদাই করা রয়েছে।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;আদ জাতির জন্য ব্যবহৃত আরবি পরিভাষা (عاد) হিব্রু “উজ” শব্দের আরবি লিপ্যন্তরের সমতুল্য বলে গিবসন মনে করেন। অতএব তাঁর মতে, পেত্রার নিকটবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী এই আরবদের কাছেই আল্লাহ তাঁর প্রথম আরব নবী হূদকে প্রেরণ করেছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মাদইয়ান জাতি ওয়াদি সিরহান বরাবর বসতি স্থাপন করেছিল, যা আম্মান থেকে পেত্রাকে সংযোগকারী রেখার পূর্বদিকে তির্যকভাবে বিস্তৃত। এই জনগোষ্ঠী খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৩৫০ সালে, অর্থাৎ ইয়াহশূয়া ইসরাইলীয়দের প্রতিশ্রুত ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার ঠিক পূর্বে, উত্তর আরবের গোত্রগুলিকে একত্রিত করেছিল। শুয়াইব ছিলেন সেই নবী, যাঁকে আল্লাহ মাদইয়ান জাতির কাছে প্রেরণ করেছিলেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;সালিহ ছিলেন সেই নবী, যাঁকে সামূদ জাতির কাছে খ্রিস্টপূর্ব ৭২০ থেকে খ্রিস্টীয় ৫৫১ সালের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে প্রেরণ করা হয়েছিল। “সামূদ” কোনো আরবি শব্দ বা নাম নয়; বরং এটি “থাম” এবং “উদ” শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক শব্দ, যার অর্থ আদ জাতির পরবর্তী জনগণ। আমাদের কাছে নাবাতীয় নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী খ্রিস্টের যুগের কাছাকাছি সময়ে বোসরা, হিজর/মাদাইন সালিহ এবং পেত্রা নগরীগুলি কঠিন শিলা কেটে নির্মাণ করেছিল। সামূদ জাতি ছিল অত্যন্ত সক্রিয় বণিক সম্প্রদায়; তারা গোপন জলসরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল এবং নক্ষত্র দেখে পথনির্ণয়ের কৌশলে দক্ষতা অর্জন করেছিল। তাদের প্রভাব সুদূর চীন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তারাও উত্তর আরববাসীদের একত্রিত করেছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবসনের যুক্তি হলো, ইসলাম-পূর্ব তিনজন আরব নবীকেই পেত্রার নিকটবর্তী উত্তর আরববাসীদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। এই তিন স্থানের উল্লেখ কুরআনে মোট ৫৪ বার এসেছে, যা কুরআনে উল্লিখিত ৬৩টি স্থান-উল্লেখের বিপুল অংশ গঠন করে। তাই কুরআন এই স্থানগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। প্রথম দুই জনগোষ্ঠীর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুব কম পাওয়া যায়, কারণ তারা ছিল যাযাবর এবং/অথবা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বাবিলীয় বিজয়ের ফলে তাদের চিহ্ন বিলুপ্ত হয়েছে। তবে পেত্রা আজও পরিদর্শন করা যায়। এই জনগোষ্ঠীগুলি শুধু বহু আরব গোত্রকে একত্রিতই করেনি, আরব উপদ্বীপের বাইরেও তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল; তারা প্রকৃতপক্ষে আরব সাম্রাজ্য ছিল। সুতরাং ইসলাম-পূর্ব আরবকে কেবল অজ্ঞতার যুগ (জাহিলিয়্যা) হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না এবং মুহাম্মদকে প্রথম আরব নবী হিসেবেও গণ্য করা যায় না—এমনটাই গিবসনের মত।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মদিনার অবস্থান নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এটি ছিল একটি মরূদ্যান, যেখানে ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম ধ্বংস হওয়ার পর ইহুদিরা আশ্রয় নিয়েছিল এবং ৫৪২ খ্রিস্টাব্দে মারিব বাঁধ ভেঙে বন্যা হওয়ার পর ইয়েমেনিরাও সেখানে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;মক্কার প্রাচীন অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, কারণ এর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১২২ হিজরি/৭৪০ খ্রিস্টাব্দের &lt;em&gt;Continuatio Byzantia Arabica&lt;/em&gt; গ্রন্থে এবং ২৮৭ হিজরি/৯০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে কোনো মানচিত্রে এর অবস্থান দেখানো হয়নি। কাবার উল্লেখ কুরআনে বহুবার এসেছে, কিন্তু এর অবস্থান নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে আমরা জানি, মুহাম্মদের জীবনের শেষ পর্যায়ে নামাজের দিক পরিবর্তিত হয়েছিল। গিবসনের দাবি, প্রথম হিজরি শতকে নির্মিত এবং বর্তমান পর্যন্ত টিকে থাকা সব মসজিদ পেত্রার দিকে মুখ করে নির্মিত ছিল; পরবর্তী শতকে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়; আর দ্বিতীয় হিজরি শতকের পর নির্মিত সব মসজিদ মক্কার দিকে মুখ করে নির্মিত হয়। এছাড়া বর্তমানে টিকে থাকা কোনো মসজিদ জেরুজালেমমুখী নয়, যদিও চতুর্থ শতাব্দীর আগে জেরুজালেমকে কিবলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। অধিকাংশ প্রাচীন মসজিদের আকাশচিত্রে পেত্রা ও মক্কা—উভয় দিকই চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিভ্রান্তির শতাব্দীটি ৬৪ হিজরি/৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে কাবা ধ্বংস ও কালো পাথর অপসারণ, ৮৫ হিজরি/৭০৮ খ্রিস্টাব্দে মিহরাব প্রবর্তন এবং ৯৪ হিজরি/৭১৩ খ্রিস্টাব্দে ভূমিকম্পে পেত্রা ধ্বংস হওয়ার ঘটনার পরপরই সংঘটিত হয়। হিজাজি পাণ্ডুলিপিগুলিতে সূরা ২ অন্তর্ভুক্ত নেই; এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৪৩-১৪৫ নম্বর আয়াতই কিবলা পরিবর্তনের একমাত্র আলোচনা করে। কেবল আব্বাসীয় যুগে এবং তার পরে কুরআনে সূরা ২ পাওয়া যায়—এমন দাবিও গিবসন করেছেন।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অন্যান্য প্রমাণও পেত্রাকে ইসলামের আদি পবিত্র নগরী হিসেবে সমর্থন করে বলে তিনি মনে করেন। দক্ষিণ জর্ডানের ওয়াদি রুমে দেবী আল-লাতের উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি মন্দির রয়েছে, আর একটি নাবাতীয় রাশিচক্রচিত্রে দেবী আল্লাতের (মেসোপটেমীয় বিকল্প বানান) প্রতিচিত্র দেখা যায়, যাঁর উল্লেখ কুরআনের ৫৩:১৯ আয়াতে আছে। পেত্রা যে বহুদিন ধরে ধর্মীয় তীর্থযাত্রার কেন্দ্র ছিল, তা সুপরিচিত। মক্কার প্রচলিত বর্ণনাগুলি—যেমন বাণিজ্যপথের কেন্দ্র হওয়া, রোমান স্নানাগার থাকা, ১০,০০০ সৈন্যের বাহিনী গঠন করতে সক্ষম হওয়া, পাহাড়বেষ্টিত উপত্যকায় অবস্থিত হওয়া যেখানে হেরা গুহা রয়েছে, উঁচু ও নিচু অংশবিশিষ্ট প্রাচীরঘেরা নগরী হওয়া যার মধ্য দিয়ে একটি জলধারা প্রবাহিত হয়, এবং দোআঁশ মাটিতে ঘাস, বৃক্ষ ও আঙুরের উন্নত বৃদ্ধি হওয়া—এসব বৈশিষ্ট্য মক্কার তুলনায় পেত্রার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেন। পেত্রা থেকে ৩০ মাইল দূরের হুমাইমা গ্রাম, মক্কা নয়, কুরাইশ বংশোদ্ভূত প্রথমদিকের দুই আব্বাসীয় খলিফার আবাসস্থল ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;em&gt;Qur&#39;anic Geography&lt;/em&gt; একটি সমৃদ্ধ অলঙ্কৃত গ্রন্থ, যাতে বহু সারণি ও মানচিত্র রয়েছে (যদিও অধিকাংশে শিরোনাম নেই)। সম্পূর্ণ শিরোনাম সংযোজন এবং কয়েকটি সূচি যুক্ত হলে গ্রন্থটি আরও উপকারী হতো। যদিও গিবসনের গ্রন্থে অসংখ্য মানচিত্র রয়েছে, তবুও একটি পূর্ণাঙ্গ রঙিন ও স্কেলযুক্ত মানচিত্র থাকলে পাঠ অনুসরণ করা আরও সহজ হতো। পরিশিষ্ট ‘এ’-তে ৫৫০ থেকে ১০৯৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির কালপঞ্জি দেওয়া হয়েছে; একইভাবে ইসলাম-পূর্ব আরব নবী এবং যেসব জাতির কাছে আল্লাহ তাঁদের প্রেরণ করেছিলেন, তাদের সম্পর্কেও একটি কালপঞ্জি উপকারী হতো। গিবসনের দাবি, কারমাতিরা ৩১৯ হিজরি/৯৩১ খ্রিস্টাব্দে কালো পাথর অপসারণ করেছিল, কারণ তারা পেত্রা থেকে মক্কায় কিবলা পরিবর্তনের বিরোধিতা করত। কিন্তু পাঠকদের বিশ্বাস করাতে হলে তাঁকে এই দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে, যাতে বোঝা যায় যে তারা জেরুজালেম থেকে মক্কায় কিবলা পরিবর্তনের কারণে, সুন্নি আচার বা আব্বাসীয় রাজনীতির বিরোধিতার কারণে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কিংবা অন্য কোনো সম্ভাব্য কারণে এই কাজ করেনি।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবসনের উপস্থাপিত প্রমাণসমূহ যেন প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানায়। প্রকৃতপক্ষে লেখক নিজেই পাঠকদের আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁর উপস্থাপিত প্রমাণের আরও ভালো কোনো ব্যাখ্যা আছে কি না তা বিবেচনা করতে। বইয়ের ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, “এই প্রকাশনার মাধ্যমে আমি অন্যদের আহ্বান জানাই, আমি এখানে যা উপস্থাপন করেছি তা অধ্যয়ন ও আলোচনা করার জন্য।” আবার ৩৭৯ নম্বর পৃষ্ঠার শেষ দুই বাক্যে তিনি লিখেছেন, “আমি আরও জানতে এবং প্রাচীন আরবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল তা আবিষ্কার করতে আগ্রহী। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ইসলামি পণ্ডিতেরা এই গ্রন্থে উপস্থাপিত উপাদান অধ্যয়ন করবেন এবং এর উত্তর অনুসন্ধান করবেন।”&lt;/p&gt;&lt;p&gt;গিবসন নিজেকে কেবল বিতর্কপ্রবণ সংশোধনবাদীদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি, বরং তিনি কুরআন, সীরাহ, আল-বুখারীর সহীহ এবং আল-তাবারীর তারীখ—সবকটির প্রতিই গভীর সম্মান প্রদর্শন করেছেন। নিঃসন্দেহে, তাঁর উপস্থাপিত প্রমাণসমূহের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁর বিশ্লেষণের জবাব প্রদানকারী একটি গভীরভাবে চিন্তিত গ্রন্থ তিনি প্রাপ্য।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;রিক ওকস&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;&lt;p&gt;&lt;b&gt;নর্থ-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, পচেফস্ট্রুম, দক্ষিণ আফ্রিকা।&lt;/b&gt;&lt;/p&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/feeds/1616583232748908323/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/2026/06/blog-post.html#comment-form' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default/1616583232748908323'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='https://www.blogger.com/feeds/7221434730492019409/posts/default/1616583232748908323'/><link rel='alternate' type='text/html' href='https://www.xn--45baaj2aiao5xbdb.com/2026/06/blog-post.html' title='কুরআনিক প্রশ্নের প্রস্তাবিত সমাধান'/><author><name>Unknown</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='https://img1.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>