<?xml version="1.0" encoding="utf-8" ?>
        <rss version="2.0" 
        xml:base="https://www.jagonews24.com/" 
        xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" 
        xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" 
        xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
        xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
        <channel>
            <title>jagonews24.com | rss Feed</title>
            <link>https://www.jagonews24.com/rss/</link>
            <description>A RSS news feed containing the latest Jago News articles.</description>
            <atom:link href="https://www.jagonews24.com/rss/rss.xml" rel="self" type="application/rss+xml" />
            <dc:language>bn-bd</dc:language>
            <dc:creator>Jago News (info@jagonews24.com)</dc:creator>
			<dc:rights>Copyright 2026 jagonews24.com</dc:rights>
			<dc:date>2026-06-05T04:41:33+06:00</dc:date>
            <item>
                <title>দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ঢাকা এখনো পুরোপুরি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়নি</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124978</link>
                <description>দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ঢাকা এখনো পুরোপুরি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় এ মন্তব্য করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও নগরবাসীকে পরিবেশ সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। এর অংশ হিসেবে প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলেই বিনামূল্যে দেওয়া হয় গাছের চারা। অনুষ্ঠানে মহাখালী ও আশপাশের এলাকা থেকে গাছপ্রেমীরা বোতল জমা দিয়ে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ নিয়ে যান। এছাড়া শিশুরাও এসে বোতল জমা দিয়ে গাছ নেয়।
কর্মসূচিতে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দূষণমুক্ত নগরী গঠনে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত ঢাকাকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ঢাকা এখনো পুরোপুরি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়নি। বায়ুদূষণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব ও কার্যকর পরিকল্পনা।
আরও পড়ুনজামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার হাইপ তৈরি হয়েছিল, মানুষ বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ 
পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করেই পরিবেশ আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। প্রতিটি ভবনে ছাদবাগান গড়ে তোলা, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
বছরে অন্তত একদিন ‘যানবাহনমুক্ত দিবস’ পালনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ওইদিন যান্ত্রিক যানবাহনের পরিবর্তে সাইকেল ও পায়ে হাঁটার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগই একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রধান উপায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর যুব-ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত। ঢাকা মহানগরী উত্তর যুব-ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি ড.মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, যুব বিভাগের সহ-সভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানা আমির মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।
আরএএস/কেএসআর</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:38:41 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124978</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tree-jamat-mq0sikau3y4i3at-20260605163841.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ঢাকা এখনো পুরোপুরি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় এ মন্তব্য করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী।</p>
<p>বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও নগরবাসীকে পরিবেশ সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। এর অংশ হিসেবে প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলেই বিনামূল্যে দেওয়া হয় গাছের চারা। অনুষ্ঠানে মহাখালী ও আশপাশের এলাকা থেকে গাছপ্রেমীরা বোতল জমা দিয়ে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ নিয়ে যান। এছাড়া শিশুরাও এসে বোতল জমা দিয়ে গাছ নেয়।</p>
<p>কর্মসূচিতে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দূষণমুক্ত নগরী গঠনে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত ঢাকাকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।</p>
<p>তিনি বলেন, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে ঢাকা এখনো পুরোপুরি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়নি। বায়ুদূষণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব ও কার্যকর পরিকল্পনা।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার হাইপ তৈরি হয়েছিল, মানুষ বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে " href="https://www.jagonews24.com/politics/news/1124686" rel="nofollow">জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার হাইপ তৈরি হয়েছিল, মানুষ বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে </a><br /><a title="টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ " href="https://www.jagonews24.com/national/news/1124966" rel="nofollow">টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ </a></p>
<p>পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করেই পরিবেশ আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। প্রতিটি ভবনে ছাদবাগান গড়ে তোলা, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।</p>
<p>বছরে অন্তত একদিন ‘যানবাহনমুক্ত দিবস’ পালনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ওইদিন যান্ত্রিক যানবাহনের পরিবর্তে সাইকেল ও পায়ে হাঁটার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।</p>
<p>কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগই একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রধান উপায়।</p>
<p>অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর যুব-ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত। ঢাকা মহানগরী উত্তর যুব-ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি ড.মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, যুব বিভাগের সহ-সভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানা আমির মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।</p>
<p><em>আরএএস/কেএসআর</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>স্বাদে নতুনত্ব আনতে বাড়িতে বানান টমেটো রাইস</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124977</link>
                <description>অনেকেই ভাত খেতে খুব পছন্দ করেন, কিন্তু প্রতিদিন একই স্বাদের ভাত খেতে খেতে একঘেয়েমি চলে আসে। এই একঘেয়েমি দূর করতে চাইলে সহজেই তৈরি করা যায় টমেটো রাইস। ভাতের সঙ্গে টমেটো ও বিভিন্ন মসলার মিশেলে এই খাবার শুধু সুস্বাদুই নয় বরং স্বাস্থ্যকরও।
টমেটো রাইস হজমে সহায়ক এবং স্বাদ পরিবর্তনের জন্য খুবই উপযোগী। টমেটোতে থাকা লাইকোপেন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট শরীরের জন্য উপকারী, বিশেষ করে এটি হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এখন ধীরে ধীরে ফিউশন খাবারের দিকে ঝুঁকছে। বিভিন্ন ধরনের মসলা ও উপকরণ ব্যবহার করে ভাত রান্না করলে তা নতুন স্বাদ এনে দেয়। টমেটো রাইসও তেমনই একটি খাবার, যা সহজে রান্না করা যায় এবং খেতেও খুবই মজাদার।
আসুন জেনে নেওয়া যাক টমেটো রাইস কীভাবে বাড়িতে তৈরি করবেন-

উপকরণ

পোলাও বা বাসমতি চাল ১ কাপ
পাকা টমেটো ২টি
পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ
রসুন কুচি ১ চা চামচ
কাঁচামরিচ ২-৩টি
তেজপাতা ও দারুচিনি ১টি করে
হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ
মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ
ঘি ২ টেবিল চামচ
লবণ স্বাদমতো
ধনেপাতা কুচি সাজানোর জন্য


প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে একটি পাত্রে পরিমাণমতো তেল বা ঘি গরম করুন। তেল গরম হয়ে এলে তাতে তেজপাতা ও দারুচিনি দিয়ে ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি ও কাঁচামরিচ যোগ করে হালকা বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে টমেটো কুচি দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে টমেটো রান্না করুন, যাতে তা ভালোভাবে গলে মসলার সঙ্গে মিশে যায়। এরপর হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও গরম মসলা দিয়ে মসলা ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল ছেড়ে এলে ধুয়ে রাখা চাল যোগ করুন এবং ২ থেকে ৩ মিনিট মসলার সঙ্গে নেড়ে ভেজে নিন। এতে চালের সঙ্গে মসলার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যাবে।
এরপর প্রয়োজনমতো গরম পানি ও স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিন। পানি ফুটে উঠলে চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে পাত্র ঢেকে দিন। ধীরে ধীরে চাল সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে এলে ভাত ঝরঝরে হয়ে যাবে। ভাত পুরোপুরি রান্না হয়ে গেলে ওপরে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। কয়েক মিনিট দমে রেখে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
গরম গরম টমেটো রাইস ঠান্ডা রায়তা, সালাদ বা ভাজা পাপড়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন। টক-ঝাল-মসলার মিশেলে এই টমেটো রাইস দুপুর বা রাতের খাবারে এনে দেবে ভিন্ন স্বাদ।

আরও পড়ুন:গরুর মাংসের স্বাদ বাড়াবে কালাই ডালের ছোঁয়া কলিজা দিয়েই বানিয়ে নিন ঝটপট কাঠি কাবাব 

এসএকেওয়াই</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:35:04 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124977</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/to-mq0s70xygsoratj-20260605163143.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>অনেকেই ভাত খেতে খুব পছন্দ করেন, কিন্তু প্রতিদিন একই স্বাদের ভাত খেতে খেতে একঘেয়েমি চলে আসে। এই একঘেয়েমি দূর করতে চাইলে সহজেই তৈরি করা যায় টমেটো রাইস। ভাতের সঙ্গে টমেটো ও বিভিন্ন মসলার মিশেলে এই খাবার শুধু সুস্বাদুই নয় বরং স্বাস্থ্যকরও।</p>
<p>টমেটো রাইস হজমে সহায়ক এবং স্বাদ পরিবর্তনের জন্য খুবই উপযোগী। টমেটোতে থাকা লাইকোপেন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট শরীরের জন্য উপকারী, বিশেষ করে এটি হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।</p>
<p>বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এখন ধীরে ধীরে ফিউশন খাবারের দিকে ঝুঁকছে। বিভিন্ন ধরনের মসলা ও উপকরণ ব্যবহার করে ভাত রান্না করলে তা নতুন স্বাদ এনে দেয়। টমেটো রাইসও তেমনই একটি খাবার, যা সহজে রান্না করা যায় এবং খেতেও খুবই মজাদার।</p>
<p><strong><span style="color: #008080;">আসুন জেনে নেওয়া যাক টমেটো রাইস কীভাবে বাড়িতে তৈরি করবেন-</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008080;"><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/south-indian-tangy-tomato-rice--20260605162949.jpg" alt="JAGO" width="100%" height="auto" /></span></strong></p>
<h2>উপকরণ</h2>
<ul>
<li>পোলাও বা বাসমতি চাল ১ কাপ</li>
<li>পাকা টমেটো ২টি</li>
<li>পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ</li>
<li>রসুন কুচি ১ চা চামচ</li>
<li>কাঁচামরিচ ২-৩টি</li>
<li>তেজপাতা ও দারুচিনি ১টি করে</li>
<li>হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ</li>
<li>মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ</li>
<li>গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ</li>
<li>ঘি ২ টেবিল চামচ</li>
<li>লবণ স্বাদমতো</li>
<li>ধনেপাতা কুচি সাজানোর জন্য</li>
</ul>
<h2><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ecipes-tomato-ri-20260605163034.jpg" alt="JAGO" width="100%" height="auto" /></h2>
<h2>প্রস্তুত প্রণালি</h2>
<p>প্রথমে একটি পাত্রে পরিমাণমতো তেল বা ঘি গরম করুন। তেল গরম হয়ে এলে তাতে তেজপাতা ও দারুচিনি দিয়ে ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি ও কাঁচামরিচ যোগ করে হালকা বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।</p>
<p>পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে টমেটো কুচি দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে টমেটো রান্না করুন, যাতে তা ভালোভাবে গলে মসলার সঙ্গে মিশে যায়। এরপর হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও গরম মসলা দিয়ে মসলা ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল ছেড়ে এলে ধুয়ে রাখা চাল যোগ করুন এবং ২ থেকে ৩ মিনিট মসলার সঙ্গে নেড়ে ভেজে নিন। এতে চালের সঙ্গে মসলার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যাবে।</p>
<p>এরপর প্রয়োজনমতো গরম পানি ও স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিন। পানি ফুটে উঠলে চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে পাত্র ঢেকে দিন। ধীরে ধীরে চাল সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে এলে ভাত ঝরঝরে হয়ে যাবে। ভাত পুরোপুরি রান্না হয়ে গেলে ওপরে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। কয়েক মিনিট দমে রেখে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।</p>
<p>গরম গরম টমেটো রাইস ঠান্ডা রায়তা, সালাদ বা ভাজা পাপড়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন। টক-ঝাল-মসলার মিশেলে এই টমেটো রাইস দুপুর বা রাতের খাবারে এনে দেবে ভিন্ন স্বাদ।</p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন:</strong><br /><strong><a title="গরুর মাংসের স্বাদ বাড়াবে কালাই ডালের ছোঁয়া" href="https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124066" rel="follow">গরুর মাংসের স্বাদ বাড়াবে কালাই ডালের ছোঁয়া</a> </strong><br /><strong><a title="কলিজা দিয়েই বানিয়ে নিন ঝটপট কাঠি কাবাব" href="https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1123772" rel="follow">কলিজা দিয়েই বানিয়ে নিন ঝটপট কাঠি কাবাব</a> </strong></li>
</ul>
<p><em>এসএকেওয়াই</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>পরিদর্শনের সুযোগ দিলেও ইউরেনিয়ামের তথ্য গোপন করছে ইরান: আইএইএ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/international/news/1124976</link>
                <description>চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএ-এর পরিদর্শকদের বুশেহর পারমাণবি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের বিষয়ে পরিদর্শকদের দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে মোজতবা খামেনির ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।
আইএইএর মতে, বুশেহর সফরকে স্বাগত জানানো হলেও ইরানের অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ১০-১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট এই ইউরেনিয়াম মজুতের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্লুমবার্গের হাতে আসা আইএইএর ১০ পৃষ্ঠার গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শকরা বুশেহরে তিন দিনের সফর করলেও ইরানের ঘোষিত অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটি কোনো তথ্য পায়নি।
সংস্থার পরিদর্শকরা তাদের পরীক্ষার কাজ যাতে আবার শুরু করতে পারে তাই আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিনো গ্রোসি পুনরায় ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
গ্রোসি বলেন, একটি টেকসই, যাচাইযোগ্য এবং কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে হবে।
গত বছর ইরান নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করলে আইএইএর পরিদর্শন কার্যক্রম অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। এর পেছনে ছিল জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধ। সে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
এখনও পর্যন্ত পরিদর্শকরা ক্ষতিগ্রস্ত ফোর্দো-ইস্ফাহান এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে পরীক্ষা চালাতে পারেননি। এসব স্থানে সর্বশেষ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৬ কেজি নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান দেখা গিয়েছিল।
প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিত দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে এমন নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে যা আগে ছিল না। তাদের মতে, যত বেশি সময় এই পারমাণবিক উপাদান আইএইএর সুরক্ষা ও তদারকির বাইরে থাকবে, ততই তা অশান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন এই ইউরেনিয়াম মজুদের ওপর প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনাতে ৮ জুন আইএইএর গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না সেদিকে আন্তর্জাতিক মহল ও বাজারের নজর রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইএইএ ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এমন ইঙ্গিত পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। একইভাবে গত জুনে আইএইএর বোর্ড ইরানকে পরিদর্শকদের সঙ্গে অসহযোগিতার জন্য তিরস্কার করার একদিন পরই নতুন হামলা শুরু হয়েছিল।
কেএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:27:58 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/international/news/1124976</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/nusher-mq0s2jgz5jnzn9x-20260605162758.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএ-এর পরিদর্শকদের বুশেহর পারমাণবি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের বিষয়ে পরিদর্শকদের দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে মোজতবা খামেনির ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।</p>
<p>আইএইএর মতে, বুশেহর সফরকে স্বাগত জানানো হলেও ইরানের অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ১০-১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য যথেষ্ট এই ইউরেনিয়াম মজুতের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।</p>
<p>ব্লুমবার্গের হাতে আসা আইএইএর ১০ পৃষ্ঠার গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শকরা বুশেহরে তিন দিনের সফর করলেও ইরানের ঘোষিত অন্যান্য পারমাণবিক কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটি কোনো তথ্য পায়নি।</p>
<p>সংস্থার পরিদর্শকরা তাদের পরীক্ষার কাজ যাতে আবার শুরু করতে পারে তাই আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিনো গ্রোসি পুনরায় ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।</p>
<p>গ্রোসি বলেন, একটি টেকসই, যাচাইযোগ্য এবং কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে হবে।</p>
<p>গত বছর ইরান নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করলে আইএইএর পরিদর্শন কার্যক্রম অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। এর পেছনে ছিল জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধ। সে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।</p>
<p>এখনও পর্যন্ত পরিদর্শকরা ক্ষতিগ্রস্ত ফোর্দো-ইস্ফাহান এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে পরীক্ষা চালাতে পারেননি। এসব স্থানে সর্বশেষ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৬ কেজি নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান দেখা গিয়েছিল।</p>
<p>প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিত দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে এমন নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে যা আগে ছিল না। তাদের মতে, যত বেশি সময় এই পারমাণবিক উপাদান আইএইএর সুরক্ষা ও তদারকির বাইরে থাকবে, ততই তা অশান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে।</p>
<p>অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করে আসছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন এই ইউরেনিয়াম মজুদের ওপর প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনাতে ৮ জুন আইএইএর গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না সেদিকে আন্তর্জাতিক মহল ও বাজারের নজর রয়েছে।</p>
<p>প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইএইএ ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এমন ইঙ্গিত পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। একইভাবে গত জুনে আইএইএর বোর্ড ইরানকে পরিদর্শকদের সঙ্গে অসহযোগিতার জন্য তিরস্কার করার একদিন পরই নতুন হামলা শুরু হয়েছিল।</p>
<p><em>কেএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>সম্পর্ক গভীর হলেই দূরত্ব বাড়ে কেন?</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124975</link>
                <description>প্রেমের সম্পর্কে নানা রকম ঝামেলা দেখা যায়। সম্পর্কের শুরুতে যে মানুষটির মেসেজে ফোনের স্ক্রিন আলো হয়ে উঠত, যার সঙ্গে রাতের পর রাত কেটে যেত কথোপকথনে, হঠাৎই একদিন সে যেন বদলে যায়। কাছাকাছি আসার আগেই তৈরি হয় দূরত্ব। আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় এই অদ্ভুত মানসিক আচরণের নাম এখন আলোচনায়, পাফার-ফিশিং। নামটি নতুন হলেও এর সঙ্গে মাছ বা সমুদ্রের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি মানুষের সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাফার-ফিশিং কী?
পাফার ফিশ যেমন বিপদ অনুভব করলে নিজের শরীর ফুলিয়ে নেয় এবং নিজেকে রক্ষা করার জন্য গুটিয়ে যায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কিছু মানুষ ঠিক একই আচরণ করেন। সম্পর্ক যখন ধীরে ধীরে গভীর বা সিরিয়াস হতে শুরু করে, তখন তারা আবেগগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন।
এই অবস্থায় তারা হঠাৎ যোগাযোগ কমিয়ে দেন, এড়িয়ে চলেন, কিংবা একেবারে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। আধুনিক ভাষায় এটিকে অনেক সময় ঘোস্টিংও বলা হয়। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ে, তাদের মধ্যে অস্বস্তি ততই বাড়তে থাকে, ফলে তারা নিজেরাই দূরত্ব তৈরি করেন।

এই ধারণার উৎস
‘হোয়াই ডু আই কিপ ডুইং দিস?’ বইয়ের লেখিকা কেটি মর্টন এই ধারণাকে জনপ্রিয় করেন। তিনি জানান, তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি প্রথম এই শব্দের সঙ্গে পরিচিত হন। তখন তার সম্পর্কগুলোও স্থিতিশীল ছিল না। তার থেরাপিস্ট তাকে বুঝিয়েছিলেন, সে আসলে পাফার ফিশের মতো আচরণ করছে। যখনই কেউ তার খুব কাছে আসে এবং সম্পর্ক গভীর হয়, তখনই সে আবেগ প্রকাশের ভয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। এই আচরণের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ করার ভয় এবং অতীত অভিজ্ঞতা।
যেভাবে বোঝা যায়
শুরুতে এই ধরনের মানুষদের চেনা প্রায় অসম্ভব। কারণ সম্পর্কের প্রথম দিকে তারা খুবই যত্নশীল, আবেগপ্রবণ এবং মনোযোগী হন। তারা এমন আচরণ করেন যেন সম্পর্কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সমস্যা শুরু হয় যখন সম্পর্ক ধীরে ধীরে ক্যাজুয়াল থেকে সিরিয়াস দিকে যায়। তখন তাদের মধ্যে হট অ্যান্ড কোল্ড আচরণ দেখা যায়। অর্থাৎ একদিকে তারা খুব কাছাকাছি আসেন, আবার পরক্ষণেই দূরে সরে যান।ছোটখাটো বিষয়েও তারা অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন, সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করেন এবং অনেক সময় অকারণেই এড়িয়ে চলেন। সিরিয়াস কোনো আলোচনা এলে তারা চুপ হয়ে যান বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর আবার এমনভাবে ফিরে আসেন, যেন কিছুই ঘটেনি।

সমস্যার জন্য যে দায়ী
মনোবিশ্লেষকদের মতে, এই আচরণের পেছনে অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা কাজ করে। যেসব মানুষ এমন পরিবেশে বড় হন যেখানে আবেগের গুরুত্ব ছিল না, বা ভালোবাসা ছিল শর্তসাপেক্ষ, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা এক ধরনের ভয় তৈরি করে। তারা মনে করতে পারেন যে, আবেগ প্রকাশ করলেই তারা আঘাতপ্রাপ্ত হবেন বা নিয়ন্ত্রিত হবেন। তাই তারা অজান্তেই দূরত্ব তৈরি করেন। তবে এর মানে এই নয় যে কেউ একটু স্পেস চাইলে তিনি পাফার ফিশ। সুস্থ সম্পর্কে স্পেস থাকে, কিন্তু সেখানে বোঝাপড়া এবং যোগাযোগ বজায় থাকে।
তারা কি খারাপ মানুষ?
একেবারেই নয়। সম্পর্ক এড়িয়ে চলার প্রবণতা থাকলেই কেউ খারাপ মানুষ হয়ে যান না। অনেক সময় মানুষ নিজের আবেগ নিজেই বুঝতে পারেন না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তবে সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এই আচরণ বারবার সম্পর্ক ভেঙে দেয় এবং অপর পক্ষ মানসিকভাবে কষ্ট পায়। তখন সম্পর্কটি ধীরে ধীরে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
সমাধানের যেসব পথ রয়েছে
এই ধরনের মানসিক আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মবিশ্লেষণ। কেন ভয় তৈরি হচ্ছে, কোথা থেকে এই অস্বস্তি আসছে-তা বুঝতে হবে। পালিয়ে না গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
প্রয়োজনে থেরাপি নেওয়া, নিজের অনুভূতিকে বুঝতে শেখা এবং খোলামেলা যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক মানে শুধু ভালো সময় নয়, বরং কঠিন অনুভূতির মধ্যেও একে অপরকে বোঝা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার এড়িয়ে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পাফার-ফিশিং আমাদের শেখায়,আধুনিক সম্পর্ক শুধু আবেগের খেলা নয়, বরং মানসিক নিরাপত্তা ও বোঝাপড়ার একটি জটিল সমীকরণ। দুর্বলতা প্রকাশ করা কোনো বিপদের সংকেত নয়। বরং সেটিই হতে পারে সত্যিকারের সম্পর্কের ভিত্তি।
সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে, এনডিটিভি ও অন্যান্য

আরও পড়ুনযে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায় নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে 

এসএকেওয়াই</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:18:50 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124975</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/675-1-mq0rgflgv31lp17-20260605161015.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>প্রেমের সম্পর্কে নানা রকম ঝামেলা দেখা যায়। সম্পর্কের শুরুতে যে মানুষটির মেসেজে ফোনের স্ক্রিন আলো হয়ে উঠত, যার সঙ্গে রাতের পর রাত কেটে যেত কথোপকথনে, হঠাৎই একদিন সে যেন বদলে যায়। কাছাকাছি আসার আগেই তৈরি হয় দূরত্ব। আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় এই অদ্ভুত মানসিক আচরণের নাম এখন আলোচনায়, পাফার-ফিশিং। নামটি নতুন হলেও এর সঙ্গে মাছ বা সমুদ্রের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি মানুষের সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।</p>
<h2><strong>পাফার-ফিশিং কী?</strong></h2>
<p>পাফার ফিশ যেমন বিপদ অনুভব করলে নিজের শরীর ফুলিয়ে নেয় এবং নিজেকে রক্ষা করার জন্য গুটিয়ে যায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কিছু মানুষ ঠিক একই আচরণ করেন। সম্পর্ক যখন ধীরে ধীরে গভীর বা সিরিয়াস হতে শুরু করে, তখন তারা আবেগগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন।</p>
<p>এই অবস্থায় তারা হঠাৎ যোগাযোগ কমিয়ে দেন, এড়িয়ে চলেন, কিংবা একেবারে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। আধুনিক ভাষায় এটিকে অনেক সময় ঘোস্টিংও বলা হয়। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ে, তাদের মধ্যে অস্বস্তি ততই বাড়তে থাকে, ফলে তারা নিজেরাই দূরত্ব তৈরি করেন।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/gemini-generated-image-zgd7zzgd7zzgd7zz-20260605160918.png" alt="jago" width="100%" height="AUTO" /></p>
<h2><strong>এই ধারণার উৎস</strong></h2>
<p>‘হোয়াই ডু আই কিপ ডুইং দিস?’ বইয়ের লেখিকা কেটি মর্টন এই ধারণাকে জনপ্রিয় করেন। তিনি জানান, তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি প্রথম এই শব্দের সঙ্গে পরিচিত হন। তখন তার সম্পর্কগুলোও স্থিতিশীল ছিল না। তার থেরাপিস্ট তাকে বুঝিয়েছিলেন, সে আসলে পাফার ফিশের মতো আচরণ করছে। যখনই কেউ তার খুব কাছে আসে এবং সম্পর্ক গভীর হয়, তখনই সে আবেগ প্রকাশের ভয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। এই আচরণের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ করার ভয় এবং অতীত অভিজ্ঞতা।</p>
<h2>যেভাবে বোঝা যায়</h2>
<p>শুরুতে এই ধরনের মানুষদের চেনা প্রায় অসম্ভব। কারণ সম্পর্কের প্রথম দিকে তারা খুবই যত্নশীল, আবেগপ্রবণ এবং মনোযোগী হন। তারা এমন আচরণ করেন যেন সম্পর্কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>সমস্যা শুরু হয় যখন সম্পর্ক ধীরে ধীরে ক্যাজুয়াল থেকে সিরিয়াস দিকে যায়। তখন তাদের মধ্যে হট অ্যান্ড কোল্ড আচরণ দেখা যায়। অর্থাৎ একদিকে তারা খুব কাছাকাছি আসেন, আবার পরক্ষণেই দূরে সরে যান।<br />ছোটখাটো বিষয়েও তারা অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন, সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করেন এবং অনেক সময় অকারণেই এড়িয়ে চলেন। সিরিয়াস কোনো আলোচনা এলে তারা চুপ হয়ে যান বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর আবার এমনভাবে ফিরে আসেন, যেন কিছুই ঘটেনি।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/5t-20260605160956.png" alt="jago" width="100%" height="AUTO" /></p>
<h2><strong>সমস্যার জন্য যে দায়ী</strong></h2>
<p>মনোবিশ্লেষকদের মতে, এই আচরণের পেছনে অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা কাজ করে। যেসব মানুষ এমন পরিবেশে বড় হন যেখানে আবেগের গুরুত্ব ছিল না, বা ভালোবাসা ছিল শর্তসাপেক্ষ, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা এক ধরনের ভয় তৈরি করে। তারা মনে করতে পারেন যে, আবেগ প্রকাশ করলেই তারা আঘাতপ্রাপ্ত হবেন বা নিয়ন্ত্রিত হবেন। তাই তারা অজান্তেই দূরত্ব তৈরি করেন। তবে এর মানে এই নয় যে কেউ একটু স্পেস চাইলে তিনি পাফার ফিশ। সুস্থ সম্পর্কে স্পেস থাকে, কিন্তু সেখানে বোঝাপড়া এবং যোগাযোগ বজায় থাকে।</p>
<h2>তারা কি খারাপ মানুষ?</h2>
<p>একেবারেই নয়। সম্পর্ক এড়িয়ে চলার প্রবণতা থাকলেই কেউ খারাপ মানুষ হয়ে যান না। অনেক সময় মানুষ নিজের আবেগ নিজেই বুঝতে পারেন না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তবে সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এই আচরণ বারবার সম্পর্ক ভেঙে দেয় এবং অপর পক্ষ মানসিকভাবে কষ্ট পায়। তখন সম্পর্কটি ধীরে ধীরে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।</p>
<h2>সমাধানের যেসব পথ রয়েছে</h2>
<p>এই ধরনের মানসিক আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মবিশ্লেষণ। কেন ভয় তৈরি হচ্ছে, কোথা থেকে এই অস্বস্তি আসছে-তা বুঝতে হবে। পালিয়ে না গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।</p>
<p>প্রয়োজনে থেরাপি নেওয়া, নিজের অনুভূতিকে বুঝতে শেখা এবং খোলামেলা যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক মানে শুধু ভালো সময় নয়, বরং কঠিন অনুভূতির মধ্যেও একে অপরকে বোঝা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার এড়িয়ে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।</p>
<p>পাফার-ফিশিং আমাদের শেখায়,আধুনিক সম্পর্ক শুধু আবেগের খেলা নয়, বরং মানসিক নিরাপত্তা ও বোঝাপড়ার একটি জটিল সমীকরণ। দুর্বলতা প্রকাশ করা কোনো বিপদের সংকেত নয়। বরং সেটিই হতে পারে সত্যিকারের সম্পর্কের ভিত্তি।</p>
<p><strong><span style="color: #808080;">সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে, এনডিটিভি ও অন্যান্য</span></strong></p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><strong><a title="যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়" href="https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1064012" rel="follow">যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়</a> </strong><br /><strong><a title="নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে" href="https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1097444" rel="follow">নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে</a></strong> </li>
</ul>
<p><em>এসএকেওয়াই</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>পিরোজপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অটোরিকশা চালকের মৃত্যু</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124974</link>
                <description>পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৬ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল নেছারাবাদ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল গনি মিয়ার মেজ ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে অটোরিকশার চার্জারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনাটি দেখর পর স্থানীয়রা নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানায়, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মো. তরিকুল ইসলাম/এএইচ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:15:47 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124974</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/electrified-20260605161547.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে।</p>
<p>শুক্রবার (৬ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল নেছারাবাদ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল গনি মিয়ার মেজ ছেলে।</p>
<p>স্থানীয়রা জানায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে অটোরিকশার চার্জারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটে।</p>
<p>স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনাটি দেখর পর স্থানীয়রা নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।</p>
<p>নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানায়, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।</p>
<p><em>মো. তরিকুল ইসলাম/এএইচ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>সীমান্তে পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124973</link>
                <description>কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে পালাক্রমে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রাও।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। তারই অংশ হিসেবে এমন ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে।
৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবিলালমনিরহাটে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবিএবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।

দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভারত থেকে মানুষজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনো মেনে নেবো না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।’
এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘এইসময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এজন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
আল-মামুন সাগর/এসআর/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:12:45 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124973</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/bd-1-20260605161245.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে পালাক্রমে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রাও।</p>
<p>স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।</p>
<p>পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। তারই অংশ হিসেবে এমন ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে।</p>
<p>৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন:</strong> <br /><a title="নওগাঁয় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124950" rel="follow">নওগাঁয় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি</a><br /><a title="লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবি" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124935" rel="follow">লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবি</a><br /><a title="এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124750" rel="follow">এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা</a></p>
<p>বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/bd-2-20260605161154.jpg" alt="সীমান্তে পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী" width="100%" height="auto" /></p>
<p>দৌলতপুর সীমান্তের চিলমারী চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভারত থেকে মানুষজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনো মেনে নেবো না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।’</p>
<p>এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি।’</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’</p>
<p>বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘এইসময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এজন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’</p>
<p><em>আল-মামুন সাগর/এসআর/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>আজ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশ ‘নীরব এলাকা’: ডিএনসিসি প্রশাসক</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124972</link>
                <description>হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
শুক্রবার (৫ জুন) গুলশান-২ গোল চত্বরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে যৌথভাবে শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশ ও শোভাযাত্রা আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন,পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ থেকে এই এলাকা নীরব এলাকা থাকবে। এখানে কোনো শব্দ দূষণ থাকবে না। কেউ যদি আইন অমান্য করে তাহলে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, গুলশান ,বনানী, নিকেতন ও বারিধারা নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষিত এবং এসব এলাকার সোসাইটির সহযোগিতায় নগরবাসীর জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে। আমরা যদি আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হই এবং যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন, তাদের সহযোগিতায় কিছুটা হলেও শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
আরও পড়ুনটেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ বান্দরবানে চলন্ত গাড়িতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১১ পর্যটক 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি সফলভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সমাবেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে পিভিসি প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতা প্রদানের পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ব্যাপকভাবে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে এবং এর সুফল নগরবাসী ধীরে ধীরে পাবেন।
সমাবেশে গুলশান সোসাইটি, নিকেতন সোসাইটি, বনানী সোসাইটি ,বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 
এমএমএ/কেএসআর</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:12:32 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124972</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/dncc-mq0rkejcagvog6i-20260605161231.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) গুলশান-২ গোল চত্বরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে যৌথভাবে শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশ ও শোভাযাত্রা আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন,পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।</p>
<p>সমাবেশে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ থেকে এই এলাকা নীরব এলাকা থাকবে। এখানে কোনো শব্দ দূষণ থাকবে না। কেউ যদি আইন অমান্য করে তাহলে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে।</p>
<p>তিনি বলেন, গুলশান ,বনানী, নিকেতন ও বারিধারা নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষিত এবং এসব এলাকার সোসাইটির সহযোগিতায় নগরবাসীর জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে। আমরা যদি আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হই এবং যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন, তাদের সহযোগিতায় কিছুটা হলেও শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ " href="https://www.jagonews24.com/national/news/1124966" rel="nofollow">টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ </a><br /><a title="বান্দরবানে চলন্ত গাড়িতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১১ পর্যটক " href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124946" rel="nofollow">বান্দরবানে চলন্ত গাড়িতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১১ পর্যটক </a></p>
<p>সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি সফলভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।</p>
<p>সমাবেশে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে পিভিসি প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।</p>
<p>ঢাকা মেট্রোপলটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতা প্রদানের পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ব্যাপকভাবে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে এবং এর সুফল নগরবাসী ধীরে ধীরে পাবেন।</p>
<p>সমাবেশে গুলশান সোসাইটি, নিকেতন সোসাইটি, বনানী সোসাইটি ,বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। </p>
<p><em>এমএমএ/কেএসআর</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বায়ুদূষণ মোকাবিলায় চীনের চমক: দূষিত শহর থেকে নীল আকাশের পথে</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/international/news/1124971</link>
                <description>একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল চীনের রাজধানী বেইজিং। প্রায় দুই দশক আগে শহরটি ‘স্মগের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর নীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে চীন আজ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিককে সামনে রেখে চীন প্রথমবারের মতো বড় আকারে দূষণ নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী পদক্ষেপ নেয়। পরে ২০১৩ সালে দেশটি পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চালু করে।
এই পরিকল্পনার আওতায় কয়লাভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ করা, গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, শিল্পকারখানায় প্রযুক্তিগত সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হয়।
চীনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল পিএম২.৫ নামের সূক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রা কমানো।
পিএম২.৫ হলো ২.৫ মাইক্রনের সমান বা তার চেয়ে ছোট কণা, যা সহজেই মানুষের ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। ফলে এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বায়ুদূষণ উপাদানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুন>বিশ্বের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ’ থেকে কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ
বেইজিংয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু নির্গমন কমানোই নয়, বরং দূষণ পূর্বাভাস ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চালু করা হয়। পাশাপাশি জনবসতি এলাকা থেকে কারখানা সরিয়ে নেওয়া, কৃষকদের ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে বিরত রাখতে প্রণোদনা দেওয়া এবং দূষণকারী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি করা হয়।

এর ফলে ২০১৭ সালের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত এলাকাগুলোতে দূষণের মাত্রা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে যায়।
২০১৩ সালে বেইজিংয়ের গড় পিএম২.৫ ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭২ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬ মাইক্রোগ্রামে। ২০২৪ সালে আরও কমে হয় ২৯.৩ মাইক্রোগ্রাম।
যদিও এটি এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ৫ মাইক্রোগ্রাম মানদণ্ডের অনেক ওপরে, তবুও দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বেইজিংয়ে গড় পিএম২.৫ ঘনত্ব আরও কমে ২৪.৯ মাইক্রোগ্রামে নেমে এসেছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও চীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বন্ধ করেনি। বরং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট দূষণ সীমিত করা, পরিচ্ছন্ন শিল্পপ্রযুক্তি ব্যবহার, ইস্পাত উৎপাদন কমানো, পুরোনো যানবাহন বাতিল করা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এসব উদ্যোগের ফলে একসময় পরিবেশ দূষণের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বেইজিং এখন নগর বায়ু মান উন্নয়নের সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটির গড় বার্ষিক পিএম২.৫ ঘনত্ব ২৯ মাইক্রোগ্রামে নেমে আসে। একই সময়ে ৩৩৯টি শহরে বছরে গড়ে ৩১৬ দিন ‘ভালো বায়ুমান’ বজায় ছিল।
আরও পড়ুন>বিশ্বের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ’ থেকে কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ
বিশ্বের অনেক দেশে যখন পিএম২.৫ দূষণ বাড়ছিল, তখন চীনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বৈশ্বিক বায়ুদূষণ হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং-তিয়ানজিন-হেবেই অঞ্চলে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পিএম২.৫ মাত্রা ৪৪.২ শতাংশ কমেছে।
একই সময়ে সালফার ডাই-অক্সাইড ৭৬.৩ শতাংশ এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ৩৪.৮ শতাংশ কমেছে। ভালো বায়ুমানের দিনের হার বেড়ে ৬৩.১ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের পরিবেশ নীতিমালা শিল্পখাতকে দূষণ কমাতে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি।
চীন বিশ্বের বৃহত্তম নতুন জ্বালানি শিল্প শৃঙ্খল গড়ে তুলেছে, যা শুধু দেশের ভেতরে নয়, বৈশ্বিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন ৭৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে পিএম২.৫ দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বায়ুদূষণ শুধু জলবায়ুর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর জন্য বায়ুদূষণ দায়ী।
‘এয়ার পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের পর চীনের বায়ুর গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। ওজোন ছাড়া প্রায় সব ধরনের প্রধান বায়ুদূষকের মাত্রা কমতে শুরু করে।
বায়ুর মান উন্নত হওয়ার ফলে কোটি কোটি মানুষ দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা পেয়েছে। এতে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে।
একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও কমিয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুবিধা বা ‘কো-বেনিফিট’ হিসেবে কাজ করেছে।
বায়ুর মান আরও উন্নত করতে চীন ২০১৮ সালে ‘থ্রি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান টু উইন দ্য ব্লু স্কাই ডিফেন্স ওয়ার’ চালু করে।
এরপর ২০২৩ সালে ‘এয়ার কোয়ালিটি কন্টিনিউয়াস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়ন শুরু হয়। এই ধারাবাহিক জাতীয় কর্মসূচিগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’ নামে অভিহিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’ শুধু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি চীনের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখছে।

চীনের ঘোষিত ‘ডুয়াল-কার্বন’ লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে পরে তা ধীরে ধীরে কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিরপেক্ষতার দিকে অগ্রসর হওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের যে সমন্বিত অগ্রগতি হয়েছে, তা এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
গবেষকদের মতে, ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’-এর সাফল্য মূল্যায়ন শুধু বায়ুর মান উন্নয়নের প্রভাব বোঝার জন্য নয়, বরং চীনের স্বল্প-কার্বনভিত্তিক অর্থনীতি ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২০ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন দেশটির উচ্চাভিলাষী জলবায়ু কৌশণা ঘোষণা করেন, তখন বিশ্বজুড়ে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন প্রতিশ্রুতি দেয় যে, ২০৬০ সালের মধ্যে তারা ‘নেট জিরো’ বা কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করবে।
দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়া একটি দেশের জন্য এই লক্ষ্যকে অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে এখন ক্রমেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, চীন শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নয়, বরং তার আগেই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
চীনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশবিষয়ক কর্মী ওয়াং শাই মনে করেন, চীন ২০৬০ সালের আগেই কার্বন নিরপেক্ষতায় পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে।
তিনি বলেন, চীন শুধু ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করবে না, বরং সম্ভবত আরও আগেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।
চীনের অন্যতম বৃহৎ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ভ্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ওয়াং শি এই আশাবাদের পেছনে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটির জ্বালানি চাহিদাও তুলনামূলক কম হবে।
দ্বিতীয়ত, অনেক বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে চীনের বাইরে তাদের কারখানা স্থানান্তর করছে। এতে শিল্পখাত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণও কমে আসতে পারে।
ওয়াং শি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে চীন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তা বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করে।
তার ভাষায়, অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা যায়, চীন যখন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেটি বাস্তবায়নও করে। দেশটি বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা রাখে।
এমএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:07:37 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/international/news/1124971</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/china3-mq0f4pc5e71n7ag-20260605102610.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>একসময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল চীনের রাজধানী বেইজিং। প্রায় দুই দশক আগে শহরটি ‘স্মগের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর নীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে চীন আজ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।</p>
<p>২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিককে সামনে রেখে চীন প্রথমবারের মতো বড় আকারে দূষণ নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী পদক্ষেপ নেয়। পরে ২০১৩ সালে দেশটি পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চালু করে।</p>
<p>এই পরিকল্পনার আওতায় কয়লাভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ করা, গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, শিল্পকারখানায় প্রযুক্তিগত সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া হয়।</p>
<p>চীনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল পিএম২.৫ নামের সূক্ষ্ম বস্তুকণার মাত্রা কমানো।</p>
<p>পিএম২.৫ হলো ২.৫ মাইক্রনের সমান বা তার চেয়ে ছোট কণা, যা সহজেই মানুষের ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। ফলে এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বায়ুদূষণ উপাদানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong>><br /><a href="https://www.jagonews24.com/international/news/1124853">বিশ্বের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ’ থেকে কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?</a><br /><a href="https://www.jagonews24.com/national/news/1124850">দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ</a></p>
<p>বেইজিংয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু নির্গমন কমানোই নয়, বরং দূষণ পূর্বাভাস ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চালু করা হয়। পাশাপাশি জনবসতি এলাকা থেকে কারখানা সরিয়ে নেওয়া, কৃষকদের ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে বিরত রাখতে প্রণোদনা দেওয়া এবং দূষণকারী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি করা হয়।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/china-20260605102355.jpg" alt="" width="100%" height="auto" /></p>
<p>এর ফলে ২০১৭ সালের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত এলাকাগুলোতে দূষণের মাত্রা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে যায়।</p>
<p>২০১৩ সালে বেইজিংয়ের গড় পিএম২.৫ ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭২ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬ মাইক্রোগ্রামে। ২০২৪ সালে আরও কমে হয় ২৯.৩ মাইক্রোগ্রাম।</p>
<p>যদিও এটি এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ৫ মাইক্রোগ্রাম মানদণ্ডের অনেক ওপরে, তবুও দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।</p>
<p>সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বেইজিংয়ে গড় পিএম২.৫ ঘনত্ব আরও কমে ২৪.৯ মাইক্রোগ্রামে নেমে এসেছে।</p>
<p>কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও চীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বন্ধ করেনি। বরং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট দূষণ সীমিত করা, পরিচ্ছন্ন শিল্পপ্রযুক্তি ব্যবহার, ইস্পাত উৎপাদন কমানো, পুরোনো যানবাহন বাতিল করা এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।</p>
<p>এসব উদ্যোগের ফলে একসময় পরিবেশ দূষণের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বেইজিং এখন নগর বায়ু মান উন্নয়নের সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।</p>
<p>চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশটির গড় বার্ষিক পিএম২.৫ ঘনত্ব ২৯ মাইক্রোগ্রামে নেমে আসে। একই সময়ে ৩৩৯টি শহরে বছরে গড়ে ৩১৬ দিন ‘ভালো বায়ুমান’ বজায় ছিল।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong>><br /><a href="https://www.jagonews24.com/international/news/1124853">বিশ্বের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ’ থেকে কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?</a><br /><a href="https://www.jagonews24.com/national/news/1124850">দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ</a></p>
<p>বিশ্বের অনেক দেশে যখন পিএম২.৫ দূষণ বাড়ছিল, তখন চীনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বৈশ্বিক বায়ুদূষণ হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।</p>
<p>এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং-তিয়ানজিন-হেবেই অঞ্চলে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পিএম২.৫ মাত্রা ৪৪.২ শতাংশ কমেছে।</p>
<p>একই সময়ে সালফার ডাই-অক্সাইড ৭৬.৩ শতাংশ এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ৩৪.৮ শতাংশ কমেছে। ভালো বায়ুমানের দিনের হার বেড়ে ৬৩.১ শতাংশে পৌঁছেছে।</p>
<p>বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের পরিবেশ নীতিমালা শিল্পখাতকে দূষণ কমাতে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি।</p>
<p>চীন বিশ্বের বৃহত্তম নতুন জ্বালানি শিল্প শৃঙ্খল গড়ে তুলেছে, যা শুধু দেশের ভেতরে নয়, বৈশ্বিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।</p>
<p>২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন ৭৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে পিএম২.৫ দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।</p>
<p>বায়ুদূষণ শুধু জলবায়ুর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর জন্য বায়ুদূষণ দায়ী।</p>
<p>‘এয়ার পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের পর চীনের বায়ুর গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। ওজোন ছাড়া প্রায় সব ধরনের প্রধান বায়ুদূষকের মাত্রা কমতে শুরু করে।</p>
<p>বায়ুর মান উন্নত হওয়ার ফলে কোটি কোটি মানুষ দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা পেয়েছে। এতে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে।</p>
<p>একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলো কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও কমিয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুবিধা বা ‘কো-বেনিফিট’ হিসেবে কাজ করেছে।</p>
<p>বায়ুর মান আরও উন্নত করতে চীন ২০১৮ সালে ‘থ্রি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান টু উইন দ্য ব্লু স্কাই ডিফেন্স ওয়ার’ চালু করে।</p>
<p>এরপর ২০২৩ সালে ‘এয়ার কোয়ালিটি কন্টিনিউয়াস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়ন শুরু হয়। এই ধারাবাহিক জাতীয় কর্মসূচিগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’ নামে অভিহিত করা হয়।</p>
<p>বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’ শুধু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি চীনের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/china2-20260605102427.jpg" alt="" width="100%" height="auto" /></p>
<p>চীনের ঘোষিত ‘ডুয়াল-কার্বন’ লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে পরে তা ধীরে ধীরে কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিরপেক্ষতার দিকে অগ্রসর হওয়া।</p>
<p>বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের যে সমন্বিত অগ্রগতি হয়েছে, তা এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।</p>
<p>গবেষকদের মতে, ‘ক্লিন এয়ার অ্যাকশন’-এর সাফল্য মূল্যায়ন শুধু বায়ুর মান উন্নয়নের প্রভাব বোঝার জন্য নয়, বরং চীনের স্বল্প-কার্বনভিত্তিক অর্থনীতি ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>২০২০ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন দেশটির উচ্চাভিলাষী জলবায়ু কৌশণা ঘোষণা করেন, তখন বিশ্বজুড়ে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন প্রতিশ্রুতি দেয় যে, ২০৬০ সালের মধ্যে তারা ‘নেট জিরো’ বা কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করবে।</p>
<p>দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়া একটি দেশের জন্য এই লক্ষ্যকে অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে এখন ক্রমেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, চীন শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নয়, বরং তার আগেই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।</p>
<p>চীনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশবিষয়ক কর্মী ওয়াং শাই মনে করেন, চীন ২০৬০ সালের আগেই কার্বন নিরপেক্ষতায় পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে।</p>
<p>তিনি বলেন, চীন শুধু ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করবে না, বরং সম্ভবত আরও আগেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।</p>
<p>চীনের অন্যতম বৃহৎ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ভ্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ওয়াং শি এই আশাবাদের পেছনে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন।</p>
<p>প্রথমত, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটির জ্বালানি চাহিদাও তুলনামূলক কম হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, অনেক বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে চীনের বাইরে তাদের কারখানা স্থানান্তর করছে। এতে শিল্পখাত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণও কমে আসতে পারে।</p>
<p>ওয়াং শি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে চীন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তা বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করে।</p>
<p>তার ভাষায়, অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা যায়, চীন যখন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেটি বাস্তবায়নও করে। দেশটি বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা রাখে।</p>
<p><strong>এমএসএম</strong></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>কারাগারে আইভীকে গান শোনাতেন মমতাজ, নিষেধ ছিল একটি গান</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/entertainment/news/1124970</link>
                <description>নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগারে থাকার সময় নিয়মিত গানের আসর বসতো, আর সেই আসরের প্রধান শিল্পী ছিলেন সংগীতশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজ বাসভবনে জেলজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন আইভী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে স্কুলজীবনের কয়েকজন পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে আলাপকালে আইভী জানান, কারাগারে প্রায়ই সাংস্কৃতিক পরিবেশে সময় কাটতো। সেখানে মমতাজ বেগম বিভিন্ন গান পরিবেশন করতেন এবং বন্দিদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করতেন।
তবে একটি নির্দিষ্ট গান গাইতে মমতাজকে বারণ করেছিলেন আইভী। ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ গানটি শুনলেই তার মনে পড়ে যেত সদ্যপ্রয়াত ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিপন। এরপর এক মাসের ব্যবধানে গ্রেফতার হন আইভী।
আরও পড়ুনকারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আইভী, ধন্যবাদ দিলেন সরকারকে
আইভী জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর স্মৃতি এতটাই তীব্র ছিল যে ওই গান শুনলেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তেন। তাই তিনি মমতাজকে বলেছিলেন, কারামুক্তির দিন চাইলে গানটি গাইতে পারবেন। কাকতালীয়ভাবে তার মুক্তির দিন বিকেলেই কারাগারের গানের আসরে মমতাজ সেই গানটি পরিবেশন করেন। তখনও আইভী জানতেন না, কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
জেলজীবনে তিনি একটি কবিতাও লিখেছেন বলে জানা গেছে। সেই কবিতায় সুর দিয়েছেন মমতাজ বেগম। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত সময়ে গানটি জনসমক্ষে পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবিতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী হেসে বলেন, ‘আমি আবার কী কবিতা লিখি! খুব সাধারণ কিছু লেখা। মমতাজ আপা গুণী শিল্পী বলেই সেটাকে গান বানানোর চেষ্টা করেছেন।’
এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আইভীর বাসভবনে দেখা করতে যান সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আইভী। একসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এমআই/বিএ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:04:48 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/entertainment/news/1124970</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ivy-momtaz-mq0rb5oj04cf48q-20260605160448.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগারে থাকার সময় নিয়মিত গানের আসর বসতো, আর সেই আসরের প্রধান শিল্পী ছিলেন সংগীতশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজ বাসভবনে জেলজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন আইভী।</p>
<p>বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে স্কুলজীবনের কয়েকজন পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে আলাপকালে আইভী জানান, কারাগারে প্রায়ই সাংস্কৃতিক পরিবেশে সময় কাটতো। সেখানে মমতাজ বেগম বিভিন্ন গান পরিবেশন করতেন এবং বন্দিদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করতেন।</p>
<p>তবে একটি নির্দিষ্ট গান গাইতে মমতাজকে বারণ করেছিলেন আইভী। ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ গানটি শুনলেই তার মনে পড়ে যেত সদ্যপ্রয়াত ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিপন। এরপর এক মাসের ব্যবধানে গ্রেফতার হন আইভী।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আইভী, ধন্যবাদ দিলেন সরকারকে" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124561" rel="follow">কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আইভী, ধন্যবাদ দিলেন সরকারকে</a></p>
<p>আইভী জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর স্মৃতি এতটাই তীব্র ছিল যে ওই গান শুনলেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তেন। তাই তিনি মমতাজকে বলেছিলেন, কারামুক্তির দিন চাইলে গানটি গাইতে পারবেন। কাকতালীয়ভাবে তার মুক্তির দিন বিকেলেই কারাগারের গানের আসরে মমতাজ সেই গানটি পরিবেশন করেন। তখনও আইভী জানতেন না, কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।</p>
<p>জেলজীবনে তিনি একটি কবিতাও লিখেছেন বলে জানা গেছে। সেই কবিতায় সুর দিয়েছেন মমতাজ বেগম। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত সময়ে গানটি জনসমক্ষে পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবিতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী হেসে বলেন, ‘আমি আবার কী কবিতা লিখি! খুব সাধারণ কিছু লেখা। মমতাজ আপা গুণী শিল্পী বলেই সেটাকে গান বানানোর চেষ্টা করেছেন।’</p>
<p>এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আইভীর বাসভবনে দেখা করতে যান সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আইভী। একসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।</p>
<p><em>এমআই/বিএ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>ময়মনসিংহে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, দ্বিতীয় দিনেও চলছে ১৪৪ ধারা</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124969</link>
                <description>ময়মনসিংহের নান্দাইলের খারুয়া বাজারে জমি দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকেও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাহারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১টা থেকে খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। এর কিছুক্ষণ আগে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিরোধে জড়ানো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, খারুয়া এলাকার শওকত মাস্টার ও রব মহাজনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে খারুয়া বাজার এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে হামলা, পাল্টা হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে উপজেলা প্রশাসন জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময় এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং চার বা ততোধিক লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।
হোসাইন সুলভ/এএইচ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:03:47 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124969</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/mymensingh-police-1-20260605160347.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>ময়মনসিংহের নান্দাইলের খারুয়া বাজারে জমি দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকেও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।</p>
<p>নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাহারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।</p>
<p>এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১টা থেকে খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। এর কিছুক্ষণ আগে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিরোধে জড়ানো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/mymensingh-police-2-20260605160310.jpg" alt="ময়মনসিংহে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, দ্বিতীয় দিনেও চলছে ১৪৪ ধারা" width="100%" height="auto" /></p>
<p>পুলিশ জানায়, খারুয়া এলাকার শওকত মাস্টার ও রব মহাজনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে খারুয়া বাজার এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে হামলা, পাল্টা হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।</p>
<p>সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে উপজেলা প্রশাসন জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময় এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং চার বা ততোধিক লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।</p>
<p><em>হোসাইন সুলভ/এএইচ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি, চার সাক্ষীর ভুল ধারণা</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/religion/islam/1124968</link>
                <description>আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ডা. জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হয়, ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারীর কাছে এটি প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দাবি করা এবং তারপর ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া কি অযৌক্তিক নয়?
উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন,
অনেক মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসলামি আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মানুষ মূলত ব্যভিচার বা জিনার (সম্মতিপূর্ণ অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক) অভিযোগ প্রমাণের শর্তের সাথে ধর্ষণের বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নির্দোষ নারীর বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, তবে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হবে। যদি সে চারজন সাক্ষী আনতে না পারে, তবে উল্টো অভিযোগকারীকে ৮০টি দোররা বা বেত্রাঘাত করা হবে। সুতরাং, এই চারজন সাক্ষীর শর্তটি কেবল ব্যভিচারের অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি কেউ দাবি করে যে অমুক পুরুষ বা নারী ব্যভিচার করেছে, তবে তা প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী লাগবে।
কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও এমন নয়; কারণ ধর্ষণ এবং জিনা বা ব্যভিচার পুরোপুরি আলাদা বিষয়। জিনা বা ব্যভিচার সংঘটিত হয় উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে, পক্ষান্তরে ধর্ষণের ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কটি একজনের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়।
এ ধরনের জোরপূর্বক অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদগণ পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। যেখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং জমিনে ফাসাদ বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড, অথবা ক্রুশবিদ্ধকরণ, অথবা বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা, অথবা দেশান্তর/নির্বাসন।
কোরআনের এই আয়াতটিতে মূলত ‘হিরাবাহ’ বা নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন অস্ত্রের মুখে বা ভয় দেখিয়ে কাউকে জিম্মি করা। ইসলামি আইনবিদদের মতে, ধর্ষণ জমিনে নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। কারণ ধর্ষণের ক্ষেত্রেও একজন নারীকে অস্ত্রের মুখে, ভয় দেখিয়ে বা যে কোনোভাবে বাধ্য করে জোরপূর্বক জিনা বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
ধর্ষণের অপরাধ যদি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে প্রমাণি হয়, তবে অপরাধীর শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড (Capital Punishment)। হিরাবাহর ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর কোনো প্রয়োজন নেই, দুইজন সাক্ষীই যথেষ্ট। এমন কি এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণও (Circumstantial Evidence) আমলে নেওয়া হয়। সমস্ত প্রমাণাদি বিবেচনা করে বিচারক যদি শতভাগ নিশ্চিত হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটিই ধর্ষক, তবে সে মৃত্যুদণ্ড পাবে।
আর যদি বিচারক শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারেন, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কিছু নমনীয় শাস্তি দেওয়া যেতে পারে; যেমন কারাদণ্ড, দোররা মারা বা অন্য কিছু। তবে এই ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য কোরআনে মৃত্যুদণ্ড বা ক্রুশবিদ্ধকরণের মতো কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিচারক যদি মনে করেন সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, তবে অপরাধীকে ক্রুশবিদ্ধও করা যেতে পারে। ক্রুশবিদ্ধ করার দুটি উপায় রয়েছে; একট হলো তাকে প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে লাশটি জনসম্মুখে কোনো খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখা যাতে মানুষ তা দেখে শিক্ষা নিতে পারে, অথবা জীবন্ত অবস্থায় খুঁটিতে বেঁধে রাখা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এ ছাড়া শাস্তির অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা (যেমন ডান হাত ও বাম পা) অথবা নির্বাসন ও কারাদণ্ড। কিন্তু অপরাধ যদি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তি কেবলই মৃত্যুদণ্ড এবং এই ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণই যথেষ্ট, চারজন সাক্ষীর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ইমাম মালেক (রহ.) ও ইমাম শাফেঈর (রহ.) অভিমত হলো, ধর্ষককে নির্ধারিত শারীরিক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে তার মর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত মোহর বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং সুফিয়ান সাওরীর (রহ.) মতে, অপরাধীর জন্য নির্ধারিত আইনি শাস্তিই যথেষ্ট, আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই। মতামত ভিন্ন হলেও ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষী যে কোনো শর্ত নয়—এ ব্যাপারে সবাই একমত। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট।
স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে মদিনায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। এক নারী অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে এক ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে ধর্ষণ করে। নারীটি চিৎকার ও সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন, কিন্তু ধর্ষক অপরাধ শেষে পালিয়ে যায়। এরপর অন্য এক ব্যক্তি সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী নারী তাকে বলেন যে একজন তার সম্ভ্রমহানি করে ওই দিকে পালিয়ে গেছে। সেই ব্যক্তি তখন ধর্ষককে ধরার জন্য তার পিছু নেন।
এদিকে ওই নারী অন্য একদল মানুষের কাছে গিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার কথা বলেন। তখন সেই লোকেরা গিয়ে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরবারে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী নারীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ওই ব্যক্তিকে দেখে বলেন, ‘হ্যাঁ, এই লোকটাই আমাকে ধর্ষণ করেছে।’ কিন্তু সে প্রকৃত অপরাধী ছিল না। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে যাবেন, তখন প্রকৃত অপরাধী নিজে থেকে সামনে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তাকে ধর্ষণ করেছি।’
তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দোষ লোকটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী নারীকে বলেন, ‘তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন।’ কারণ ভুলবশত তিনি প্রথম ব্যক্তিকে ধর্ষক মনে করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না বা তিনি স্বেচ্ছায় এটি করেননি। আর যিনি প্রকৃত ধর্ষক ছিলেন এবং নিজে এসে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিন্তু ভুক্তভোগী নারীর কাছে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী দাবি করেননি। এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট ছিল, যদিও রায় কার্যকরের আগেই প্রকৃত অপরাধী নিজে এসে দোষ স্বীকার করে তওবা করেছিল।
সুতরাং, রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমল থেকেই এটি স্পষ্ট যে, ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আনা বাধ্যতামূলক নয়। এটি কিছু মানুষের ভুল ধারণা। ধর্ষণের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদিই যথেষ্ট এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য অপরাধের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, অন্যথায় অপরাধের সন্দেহ বা অস্পষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি কিছুটা শিথিল হতে পারে।
সূত্র: হুদা টিভি, ইউটিউব
ওএফএফ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 16:00:35 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/religion/islam/1124968</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/zakir-naik-mq0qvl9yjxyuz8x-20260605155401.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-weight: 400;">আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ডা. জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হয়, ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারীর কাছে এটি প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দাবি করা এবং তারপর ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া কি অযৌক্তিক নয়?</span></p>
<p><strong>উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন,</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অনেক মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসলামি আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মানুষ মূলত ব্যভিচার বা জিনার (সম্মতিপূর্ণ অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক) অভিযোগ প্রমাণের শর্তের সাথে ধর্ষণের বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নির্দোষ নারীর বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, তবে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হবে। যদি সে চারজন সাক্ষী আনতে না পারে, তবে উল্টো অভিযোগকারীকে ৮০টি দোররা বা বেত্রাঘাত করা হবে। সুতরাং, এই চারজন সাক্ষীর শর্তটি কেবল ব্যভিচারের অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি কেউ দাবি করে যে অমুক পুরুষ বা নারী ব্যভিচার করেছে, তবে তা প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী লাগবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও এমন নয়; কারণ ধর্ষণ এবং জিনা বা ব্যভিচার পুরোপুরি আলাদা বিষয়। জিনা বা ব্যভিচার সংঘটিত হয় উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে, পক্ষান্তরে ধর্ষণের ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কটি একজনের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ ধরনের জোরপূর্বক অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদগণ পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। যেখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং জমিনে ফাসাদ বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড, অথবা ক্রুশবিদ্ধকরণ, অথবা বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা, অথবা দেশান্তর/নির্বাসন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোরআনের এই আয়াতটিতে মূলত ‘হিরাবাহ’ বা নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন অস্ত্রের মুখে বা ভয় দেখিয়ে কাউকে জিম্মি করা। ইসলামি আইনবিদদের মতে, ধর্ষণ জমিনে নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। কারণ ধর্ষণের ক্ষেত্রেও একজন নারীকে অস্ত্রের মুখে, ভয় দেখিয়ে বা যে কোনোভাবে বাধ্য করে জোরপূর্বক জিনা বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ধর্ষণের অপরাধ যদি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে প্রমাণি হয়, তবে অপরাধীর শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড (Capital Punishment)। হিরাবাহর ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর কোনো প্রয়োজন নেই, দুইজন সাক্ষীই যথেষ্ট। এমন কি এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণও (Circumstantial Evidence) আমলে নেওয়া হয়। সমস্ত প্রমাণাদি বিবেচনা করে বিচারক যদি শতভাগ নিশ্চিত হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটিই ধর্ষক, তবে সে মৃত্যুদণ্ড পাবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আর যদি বিচারক শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারেন, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কিছু নমনীয় শাস্তি দেওয়া যেতে পারে; যেমন কারাদণ্ড, দোররা মারা বা অন্য কিছু। তবে এই ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য কোরআনে মৃত্যুদণ্ড বা ক্রুশবিদ্ধকরণের মতো কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিচারক যদি মনে করেন সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, তবে অপরাধীকে ক্রুশবিদ্ধও করা যেতে পারে। ক্রুশবিদ্ধ করার দুটি উপায় রয়েছে; একট হলো তাকে প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে লাশটি জনসম্মুখে কোনো খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখা যাতে মানুষ তা দেখে শিক্ষা নিতে পারে, অথবা জীবন্ত অবস্থায় খুঁটিতে বেঁধে রাখা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এ ছাড়া শাস্তির অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা (যেমন ডান হাত ও বাম পা) অথবা নির্বাসন ও কারাদণ্ড। কিন্তু অপরাধ যদি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তি কেবলই মৃত্যুদণ্ড এবং এই ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণই যথেষ্ট, চারজন সাক্ষীর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইমাম মালেক (রহ.) ও ইমাম শাফেঈর (রহ.) অভিমত হলো, ধর্ষককে নির্ধারিত শারীরিক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে তার মর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত মোহর বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং সুফিয়ান সাওরীর (রহ.) মতে, অপরাধীর জন্য নির্ধারিত আইনি শাস্তিই যথেষ্ট, আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই। মতামত ভিন্ন হলেও ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষী যে কোনো শর্ত নয়—এ ব্যাপারে সবাই একমত। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে মদিনায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। এক নারী অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে এক ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে ধর্ষণ করে। নারীটি চিৎকার ও সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন, কিন্তু ধর্ষক অপরাধ শেষে পালিয়ে যায়। এরপর অন্য এক ব্যক্তি সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী নারী তাকে বলেন যে একজন তার সম্ভ্রমহানি করে ওই দিকে পালিয়ে গেছে। সেই ব্যক্তি তখন ধর্ষককে ধরার জন্য তার পিছু নেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এদিকে ওই নারী অন্য একদল মানুষের কাছে গিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার কথা বলেন। তখন সেই লোকেরা গিয়ে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরবারে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী নারীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ওই ব্যক্তিকে দেখে বলেন, ‘হ্যাঁ, এই লোকটাই আমাকে ধর্ষণ করেছে।’ কিন্তু সে প্রকৃত অপরাধী ছিল না। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে যাবেন, তখন প্রকৃত অপরাধী নিজে থেকে সামনে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তাকে ধর্ষণ করেছি।’</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দোষ লোকটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী নারীকে বলেন, ‘তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন।’ কারণ ভুলবশত তিনি প্রথম ব্যক্তিকে ধর্ষক মনে করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না বা তিনি স্বেচ্ছায় এটি করেননি। আর যিনি প্রকৃত ধর্ষক ছিলেন এবং নিজে এসে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিন্তু ভুক্তভোগী নারীর কাছে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী দাবি করেননি। এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট ছিল, যদিও রায় কার্যকরের আগেই প্রকৃত অপরাধী নিজে এসে দোষ স্বীকার করে তওবা করেছিল।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সুতরাং, রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমল থেকেই এটি স্পষ্ট যে, ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আনা বাধ্যতামূলক নয়। এটি কিছু মানুষের ভুল ধারণা। ধর্ষণের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদিই যথেষ্ট এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য অপরাধের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, অন্যথায় অপরাধের সন্দেহ বা অস্পষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি কিছুটা শিথিল হতে পারে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400; color: #999999;">সূত্র: হুদা টিভি, ইউটিউব</span></p>
<p><em><strong>ওএফএফ</strong></em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>গ্রামে হারিয়ে যাচ্ছে বড় ও পুরোনো গাছ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/agriculture-and-nature/article/1124967</link>
                <description>একসময় গ্রামাঞ্চলে দেখা যেত প্রাচীন ও বিশাল আকৃতির গাছ। এসব গাছ শুধু গাছই ছিল না, ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে চারদিকে বিস্তার করতো ডালপালা। সেই ছায়া ঢেকে রাখতো বিশাল জায়গা। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে যখন সূর্যের প্রখর তাপে মাটি যেন পুড়ে যেত; তখন গ্রামের কৃষকসহ সব বয়সের মানুষ এসব গাছের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতেন। ক্লান্ত শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। এটাই ছিল সবচেয়ে প্রিয় স্থান। কেউ বসে গল্প করতো, কেউ আড্ডায় মেতে উঠতো আর শিশুরা হাসি-খেলায় মুখর করে তুলতো চারপাশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
গ্রাম মানেই বিশাল গাছের ছায়ায় মোড়া সবুজ পৃথিবী। গ্রামের প্রবেশমুখে, রাস্তার মোড়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে, ঈদগাহে, পুকুরপাড়ে কিংবা বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো আম, জাম, কাঁঠাল, বট, পাকুড়, শিমুলসহ নানা ধরনের গাছ। এর মধ্যে অনেক গাছের বয়স ছিল ৫০ বছরেরও বেশি। এসব গাছ শুধু প্রকৃতির অংশ ছিল না; তারা ছিল গ্রামীণ জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। তাদের ছায়া ছিল আশ্রয়, ডালপালা ছিল খেলার অংশ আর নীরব উপস্থিতি ছিল এক ধরনের নিরাপত্তার প্রতীক।
গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটলে তখন রোদ আর মানুষের মাঝে একটি প্রাকৃতিক বিরতি তৈরি করতো গাছের ছায়া। দূরের কোনো গ্রামে যেতে হলে পথের ধারে থাকা পুরোনো বটগাছ ছিল এক ধরনের মাইলফলক। কোনো পথচারী ক্লান্ত হলে সেখানেই একটু থেমে বিশ্রাম নিতেন। কৃষকেরাও কৃষিকাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে মাথার ঘাম মুছতেন এবং শীতল বাতাসে কিছুটা স্বস্তি পেতেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠেও ছিল বড় বড় গাছ। ক্লাসের বিরতিতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে ছুটে যেত সেই গাছের নিচে। কেউ দৌড়াতো, কেউ লুকোচুরি খেলতো, কেউ আবার গাছের ডালে উঠে দূরের মাঠ দেখতো। কেউ গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে স্বপ্ন দেখতো। গ্রীষ্মের দুপুরে যখন চারদিক উত্তপ্ত হয়ে উঠতো; তখন সেই গাছগুলোই ছিল শান্তির একমাত্র আশ্রয়। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষ অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলে শিক্ষকরাও গাছের ছায়ায় বসেও পাঠদান করতেন।

ঈদগাহ বা খোলা মাঠের বড় ও পুরাতন গাছগুলো ছিল সামাজিক মিলনস্থল। ঈদের সময় মানুষ এসব গাছের ছায়ায় আরাম করে নামাজ আদায় করতেন। অন্য সময়ে কৃষকরা মাঠে কাজের ফাঁকে সেখানে বসে বিশ্রাম নিতেন। শুধু কৃষকরাই নন; শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সের মানুষই গাছতলাকে মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অনেকে গাছের ডালে দোলনা বেঁধে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতেন। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে সেখানে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হতো।

আরও পড়ুনবিশ্বে চরম তাপমাত্রার দেশ হবে বাংলাদেশ 

গ্রীষ্মের প্রখর রোদে গ্রামের প্রবীণরা এসব গাছের ছায়ায় বসে নানা বিষয়ে গল্প-আড্ডা দিতেন। গ্রামের বিচার-সালিশও বসতো গাছতলায়। অন্যদিকে শিশুরা বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতে উঠতো। তাদের হাসি-আনন্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠতো। বিশেষ করে পুকুরপাড়ের গাছগুলো কিশোরদের কাছে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তারা সুযোগ পেলেই গাছে উঠে ডালপালায় বসে গল্প করতো এবং পুকুরের পানিতে লাফিয়ে পড়তো। গরমের দিনে এমন দৃশ্য ছিল খুবই সাধারণ।
গ্রামের মোড়ের বড় গাছগুলোর নিচে থাকতো ছোট ছোট দোকান। সেই দোকানের বেঞ্চে বসে চলতো আড্ডা, রাজনীতি, গল্প, হাসি আর জীবনের নানা আলোচনা। অনেক এলাকায় বড় গাছের নিচেই বসতো হাট-বাজারের অস্থায়ী দোকান। গাছের ছায়াই ছিল তাদের দোকানের ছাদ।
তবে দিনদিন গ্রামাঞ্চলের সেই বৃহৎ ও ছায়াঘেরা গাছগুলোর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বাড়িঘর নির্মাণ, রাস্তা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার জন্য অসংখ্য পুরোনো ও বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, বজ্রপাত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বহু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত বা উপড়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মানুষের হাতেই।
দুঃখজনক বিষয় হলো, বড় গাছ কাটা বা নষ্ট হওয়ার হার যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় নতুন করে বড় ও ছায়াদানকারী গাছ রোপণের উদ্যোগ খুবই সীমিত। বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংগঠন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এসব গাছ পর্যাপ্ত ছায়া দিতে পারে না। কিছু গাছ কেবল উচ্চতায় বাড়ে, কিন্তু বিস্তৃত ডালপালা ও ঘন ছায়া সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ থাকলেও গরমের দিনে পথচারীরা কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পান না। সব মিলিয়ে এসব গাছ পুরোনো বট, পাকুড়, রেইনট্রি কিংবা অন্যান্য বৃহৎ গাছের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।
ফলে বর্তমানে তপ্ত রোদের মধ্যে পথচারীদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছায়াঘেরা গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গরমের দিনে গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটলে আগের মতো শীতল ছায়ার দেখা মেলে না। চারদিকে খোলা রোদে রাস্তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পথচলা কষ্টকর হয়ে পড়ে। একসময় যেসব গাছ মানুষকে স্বস্তি, শীতলতা ও প্রশান্তি দিতো, তাদের অভাব আজ গ্রামীণ পরিবেশ ও জনজীবনে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

আরও পড়ুনপরিবেশ বাঁচান, সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ুন 

শুধু গাছ নয়, বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রাও। আগে মানুষ বেশি সময় বাইরে কাটাতো। এখন অনেকেই ঘরের ভেতরে মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনে বেশি সময় ব্যয় করে। আগে যেখানে গ্রামের মোড়ে গাছের নিচে আড্ডা হতো, এখন সেখানে গড়ে উঠেছে দোকান বা সিমেন্টের কাঠামো। শিশুদের খেলাধুলার জায়গাও কমে গেছে। গাছের ডালে উঠে খেলার সেই শৈশব এখন অনেকটাই হারিয়ে যাওয়া গল্প।
তবুও সবকিছু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এখনো দেশের কিছু গ্রামে পুরোনো ও বড় গাছ দেখা যায়, যেখানে মানুষ বসে। এখনো কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুকুরপাড়ে পুরাতন ও বড় গাছ আছে। যেখানে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করে। তপ্ত রোদে গরম কমানো এবং মানুষের আরাম নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এমন গাছ লাগাতে হবে যা দীর্ঘস্থায়ী, ছায়াদানকারী এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

পুরোনো ও বৃহৎ গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতো না বরং গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। মানুষের বিশ্রাম, বিনোদন, মিলনমেলা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। তাই গ্রামের এসব ছায়াঘেরা গাছ ছিল মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এসইউ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:57:43 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/agriculture-and-nature/article/1124967</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tree-top-mq0qv536v45dimp-20260605155743.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>একসময় গ্রামাঞ্চলে দেখা যেত প্রাচীন ও বিশাল আকৃতির গাছ। এসব গাছ শুধু গাছই ছিল না, ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে চারদিকে বিস্তার করতো ডালপালা। সেই ছায়া ঢেকে রাখতো বিশাল জায়গা। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে যখন সূর্যের প্রখর তাপে মাটি যেন পুড়ে যেত; তখন গ্রামের কৃষকসহ সব বয়সের মানুষ এসব গাছের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতেন। ক্লান্ত শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। এটাই ছিল সবচেয়ে প্রিয় স্থান। কেউ বসে গল্প করতো, কেউ আড্ডায় মেতে উঠতো আর শিশুরা হাসি-খেলায় মুখর করে তুলতো চারপাশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।</p>
<p>গ্রাম মানেই বিশাল গাছের ছায়ায় মোড়া সবুজ পৃথিবী। গ্রামের প্রবেশমুখে, রাস্তার মোড়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে, ঈদগাহে, পুকুরপাড়ে কিংবা বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো আম, জাম, কাঁঠাল, বট, পাকুড়, শিমুলসহ নানা ধরনের গাছ। এর মধ্যে অনেক গাছের বয়স ছিল ৫০ বছরেরও বেশি। এসব গাছ শুধু প্রকৃতির অংশ ছিল না; তারা ছিল গ্রামীণ জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। তাদের ছায়া ছিল আশ্রয়, ডালপালা ছিল খেলার অংশ আর নীরব উপস্থিতি ছিল এক ধরনের নিরাপত্তার প্রতীক।</p>
<p>গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটলে তখন রোদ আর মানুষের মাঝে একটি প্রাকৃতিক বিরতি তৈরি করতো গাছের ছায়া। দূরের কোনো গ্রামে যেতে হলে পথের ধারে থাকা পুরোনো বটগাছ ছিল এক ধরনের মাইলফলক। কোনো পথচারী ক্লান্ত হলে সেখানেই একটু থেমে বিশ্রাম নিতেন। কৃষকেরাও কৃষিকাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে মাথার ঘাম মুছতেন এবং শীতল বাতাসে কিছুটা স্বস্তি পেতেন।</p>
<p>শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠেও ছিল বড় বড় গাছ। ক্লাসের বিরতিতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে ছুটে যেত সেই গাছের নিচে। কেউ দৌড়াতো, কেউ লুকোচুরি খেলতো, কেউ আবার গাছের ডালে উঠে দূরের মাঠ দেখতো। কেউ গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে স্বপ্ন দেখতো। গ্রীষ্মের দুপুরে যখন চারদিক উত্তপ্ত হয়ে উঠতো; তখন সেই গাছগুলোই ছিল শান্তির একমাত্র আশ্রয়। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষ অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলে শিক্ষকরাও গাছের ছায়ায় বসেও পাঠদান করতেন।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tree-in-1-20260605155534.jpg" alt="tree" width="100%" height="auto" /></p>
<p>ঈদগাহ বা খোলা মাঠের বড় ও পুরাতন গাছগুলো ছিল সামাজিক মিলনস্থল। ঈদের সময় মানুষ এসব গাছের ছায়ায় আরাম করে নামাজ আদায় করতেন। অন্য সময়ে কৃষকরা মাঠে কাজের ফাঁকে সেখানে বসে বিশ্রাম নিতেন। শুধু কৃষকরাই নন; শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সের মানুষই গাছতলাকে মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অনেকে গাছের ডালে দোলনা বেঁধে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতেন। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে সেখানে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হতো।</p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a href="https://www.jagonews24.com/agriculture-and-nature/article/1118918">বিশ্বে চরম তাপমাত্রার দেশ হবে বাংলাদেশ </a></li>
</ul>
<p>গ্রীষ্মের প্রখর রোদে গ্রামের প্রবীণরা এসব গাছের ছায়ায় বসে নানা বিষয়ে গল্প-আড্ডা দিতেন। গ্রামের বিচার-সালিশও বসতো গাছতলায়। অন্যদিকে শিশুরা বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতে উঠতো। তাদের হাসি-আনন্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠতো। বিশেষ করে পুকুরপাড়ের গাছগুলো কিশোরদের কাছে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তারা সুযোগ পেলেই গাছে উঠে ডালপালায় বসে গল্প করতো এবং পুকুরের পানিতে লাফিয়ে পড়তো। গরমের দিনে এমন দৃশ্য ছিল খুবই সাধারণ।</p>
<p>গ্রামের মোড়ের বড় গাছগুলোর নিচে থাকতো ছোট ছোট দোকান। সেই দোকানের বেঞ্চে বসে চলতো আড্ডা, রাজনীতি, গল্প, হাসি আর জীবনের নানা আলোচনা। অনেক এলাকায় বড় গাছের নিচেই বসতো হাট-বাজারের অস্থায়ী দোকান। গাছের ছায়াই ছিল তাদের দোকানের ছাদ।</p>
<p>তবে দিনদিন গ্রামাঞ্চলের সেই বৃহৎ ও ছায়াঘেরা গাছগুলোর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বাড়িঘর নির্মাণ, রাস্তা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার জন্য অসংখ্য পুরোনো ও বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, বজ্রপাত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বহু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত বা উপড়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মানুষের হাতেই।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tree-in-2-20260605155600.jpg" alt="tree" width="100%" height="auto" />দুঃখজনক বিষয় হলো, বড় গাছ কাটা বা নষ্ট হওয়ার হার যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় নতুন করে বড় ও ছায়াদানকারী গাছ রোপণের উদ্যোগ খুবই সীমিত। বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংগঠন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এসব গাছ পর্যাপ্ত ছায়া দিতে পারে না। কিছু গাছ কেবল উচ্চতায় বাড়ে, কিন্তু বিস্তৃত ডালপালা ও ঘন ছায়া সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে রাস্তার পাশে সারি সারি গাছ থাকলেও গরমের দিনে পথচারীরা কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পান না। সব মিলিয়ে এসব গাছ পুরোনো বট, পাকুড়, রেইনট্রি কিংবা অন্যান্য বৃহৎ গাছের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।</p>
<p>ফলে বর্তমানে তপ্ত রোদের মধ্যে পথচারীদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছায়াঘেরা গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গরমের দিনে গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটলে আগের মতো শীতল ছায়ার দেখা মেলে না। চারদিকে খোলা রোদে রাস্তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পথচলা কষ্টকর হয়ে পড়ে। একসময় যেসব গাছ মানুষকে স্বস্তি, শীতলতা ও প্রশান্তি দিতো, তাদের অভাব আজ গ্রামীণ পরিবেশ ও জনজীবনে স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।</p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a href="https://www.jagonews24.com/agriculture-and-nature/article/1108088">পরিবেশ বাঁচান, সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ুন</a> </li>
</ul>
<p>শুধু গাছ নয়, বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রাও। আগে মানুষ বেশি সময় বাইরে কাটাতো। এখন অনেকেই ঘরের ভেতরে মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনে বেশি সময় ব্যয় করে। আগে যেখানে গ্রামের মোড়ে গাছের নিচে আড্ডা হতো, এখন সেখানে গড়ে উঠেছে দোকান বা সিমেন্টের কাঠামো। শিশুদের খেলাধুলার জায়গাও কমে গেছে। গাছের ডালে উঠে খেলার সেই শৈশব এখন অনেকটাই হারিয়ে যাওয়া গল্প।</p>
<p>তবুও সবকিছু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এখনো দেশের কিছু গ্রামে পুরোনো ও বড় গাছ দেখা যায়, যেখানে মানুষ বসে। এখনো কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুকুরপাড়ে পুরাতন ও বড় গাছ আছে। যেখানে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করে। তপ্ত রোদে গরম কমানো এবং মানুষের আরাম নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এমন গাছ লাগাতে হবে যা দীর্ঘস্থায়ী, ছায়াদানকারী এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tree-in-3-20260605155649.jpg" alt="tree" width="100%" height="auto" /></p>
<p>পুরোনো ও বৃহৎ গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতো না বরং গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। মানুষের বিশ্রাম, বিনোদন, মিলনমেলা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। তাই গ্রামের এসব ছায়াঘেরা গাছ ছিল মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p>
<p><em>এসইউ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতে সহায়ক সৌরবিদ্যুৎ, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124966</link>
                <description>জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দূষণ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।  
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। আগামী দিনের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এ খাতে সুফল পেতে প্রয়োজন সরকারের কার্যকরী উদ্যোগ।  

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এসব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এসব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বায়ুদূষণ বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।  
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সময় বায়ু, পানি বা মাটিতে দূষণ ছড়ানোর ঝুঁকিও অত্যন্ত কম। এ কারণে পরিবেশ সুরক্ষায় সৌরবিদ্যুৎকে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  
আরও পড়ুনজলবায়ুর অভিঘাতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ অকাল মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ 
পরিবেশবিদরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটলে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপও কমবে।  
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বছরে ৩০০ দিনের বেশি পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং ব্যবস্থা, সৌর সেচ পাম্প এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে।

আমাদের ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। এটাকে অবহেলা করা মানে সুইসাইড করা। আমাদের নিজস্ব এনার্জি সিকিউরিটির জন্য ওইদিকে যেতে হবে, যেহেতু এতে দূষণ হয় না।— ড. ইজাজ হোসেন, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ু, বায়োগ্যাস, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।  
তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সৌর প্রকল্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জমি, প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চয় প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি নীতিগত সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, কর সুবিধা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।  
আরও পড়ুনসৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বড় বাধা উচ্চ শুল্কহার সৌর বিদ্যুতে নেট মিটারিং কী, কতটা লাভবান হবেন গ্রাহক বিশ্ববাজারে দাপট, তবু কেন দেউলিয়া হচ্ছে চীনের সোলার কোম্পানিগুলো? 
পরিবেশবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ করা সময়ের দাবি।  
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। এটাকে অবহেলা করা মানে সুইসাইড করা। আমাদের নিজস্ব এনার্জি সিকিউরিটির জন্য ওইদিকে যেতে হবে, যেহেতু এতে দূষণ হয় না।  
তিনি বলেন, আশা করছি আসন্ন বাজেটে সরকার ভালো একটা উদ্যোগ নেবে। সেই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এর আগের সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নানান কথা বলেছে, কাজের কাজ কেউই করে না। এই বাজেটেই বোঝা যাবে সরকার কতটা সিরিয়াস। 
এনএস/কেএসআর</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:49:25 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124966</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/solar-mq0qofzi1mirfnb-20260605154924.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দূষণ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।  </p>
<p>বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। আগামী দিনের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এ খাতে সুফল পেতে প্রয়োজন সরকারের কার্যকরী উদ্যোগ।  </p>
<blockquote>
<p>বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এসব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।</p>
</blockquote>
<p>বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এসব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বায়ুদূষণ বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।  </p>
<p>বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সময় বায়ু, পানি বা মাটিতে দূষণ ছড়ানোর ঝুঁকিও অত্যন্ত কম। এ কারণে পরিবেশ সুরক্ষায় সৌরবিদ্যুৎকে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  </p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="জলবায়ুর অভিঘাতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ" href="https://www.jagonews24.com/feature/article/1124953" rel="nofollow">জলবায়ুর অভিঘাতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ</a> <br /><a title="দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ অকাল মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ " href="https://www.jagonews24.com/health/news/1124880" rel="nofollow">দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ অকাল মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ </a><br /><a title="দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ " href="https://www.jagonews24.com/national/news/1124850" rel="nofollow">দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ </a></p>
<p>পরিবেশবিদরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটলে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপও কমবে।  </p>
<p>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বছরে ৩০০ দিনের বেশি পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং ব্যবস্থা, সৌর সেচ পাম্প এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে।</p>
<blockquote>
<p>আমাদের ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। এটাকে অবহেলা করা মানে সুইসাইড করা। আমাদের নিজস্ব এনার্জি সিকিউরিটির জন্য ওইদিকে যেতে হবে, যেহেতু এতে দূষণ হয় না।— ড. ইজাজ হোসেন, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক </p>
</blockquote>
<p>জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ু, বায়োগ্যাস, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।  </p>
<p>তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সৌর প্রকল্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জমি, প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চয় প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি নীতিগত সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, কর সুবিধা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।  </p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বড় বাধা উচ্চ শুল্কহার " href="https://www.jagonews24.com/economy/news/1120781" rel="nofollow">সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বড় বাধা উচ্চ শুল্কহার </a><br /><a title="সৌর বিদ্যুতে নেট মিটারিং কী, কতটা লাভবান হবেন গ্রাহক " href="https://www.jagonews24.com/economy/news/1121362" rel="nofollow">সৌর বিদ্যুতে নেট মিটারিং কী, কতটা লাভবান হবেন গ্রাহক </a><br /><a title="বিশ্ববাজারে দাপট, তবু কেন দেউলিয়া হচ্ছে চীনের সোলার কোম্পানিগুলো? " href="https://www.jagonews24.com/international/news/1123937" rel="nofollow">বিশ্ববাজারে দাপট, তবু কেন দেউলিয়া হচ্ছে চীনের সোলার কোম্পানিগুলো? </a></p>
<p>পরিবেশবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ করা সময়ের দাবি।  </p>
<p>বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। এটাকে অবহেলা করা মানে সুইসাইড করা। আমাদের নিজস্ব এনার্জি সিকিউরিটির জন্য ওইদিকে যেতে হবে, যেহেতু এতে দূষণ হয় না।  </p>
<p>তিনি বলেন, আশা করছি আসন্ন বাজেটে সরকার ভালো একটা উদ্যোগ নেবে। সেই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এর আগের সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নানান কথা বলেছে, কাজের কাজ কেউই করে না। এই বাজেটেই বোঝা যাবে সরকার কতটা সিরিয়াস। </p>
<p><em>এনএস/কেএসআর</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বেরিং প্রণালির নিচ দিয়ে ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’ নির্মাণে চুক্তি সই আজ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/international/news/1124965</link>
                <description>বেরিং প্রণালির নিচ দিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানেল নির্মাণ প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হবার কথা রয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রয়েভ।
দিমিত্রয়েভ বলেন, মস্কো ও ওয়াশিংটন এখনো দুই দেশকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হবে। টানেল প্রকল্প সম্পর্কে আগামীকাল নতুন খবর পাওয়া যাবে। আমরা টানেলের নকশা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করছি।
দিমিত্রিয়েভ আরও জানান, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরিড কুশনার-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে উইটকফ বা কুশনার কেউই প্রকাশ্যে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাত্র গতকালই এই ফোনালাপ হয়েছে এবং এতে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং অব্যাহত উসকানি ও মুখোমুখি অবস্থান এড়িয়ে ইউক্রেনকে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে বলছে।
দিমিত্রিয়েভ জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য লাভজনক এমন বিভিন্ন প্রকল্পে, বিশেষ করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, মস্কো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
পেসকভ আরও বলেন, ইউক্রেন যদি প্রকৃত শান্তি আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে থাকে তাহলে রাশিয়া তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই আপস করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা এখনো খুবই ক্ষীণ।
কেএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:47:59 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/international/news/1124965</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/t-p-mq0qlgvvz5uq01o-20260605154758.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>বেরিং প্রণালির নিচ দিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানেল নির্মাণ প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হবার কথা রয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রয়েভ।</p>
<p>দিমিত্রয়েভ বলেন, মস্কো ও ওয়াশিংটন এখনো দুই দেশকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘পুতিন-ট্রাম্প টানেল’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/b-11-20260605154453.jpg" alt="" width="100%" height="auto" /></p>
<p>তিনি বলেন, এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হবে। টানেল প্রকল্প সম্পর্কে আগামীকাল নতুন খবর পাওয়া যাবে। আমরা টানেলের নকশা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করছি।</p>
<p>দিমিত্রিয়েভ আরও জানান, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরিড কুশনার-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে উইটকফ বা কুশনার কেউই প্রকাশ্যে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/b-2-20260605154616.jpg" alt="" width="100%" height="auto" /></p>
<p>রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাত্র গতকালই এই ফোনালাপ হয়েছে এবং এতে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।</p>
<p>রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং অব্যাহত উসকানি ও মুখোমুখি অবস্থান এড়িয়ে ইউক্রেনকে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে বলছে।</p>
<p>দিমিত্রিয়েভ জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে।</p>
<p>তিনি বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য লাভজনক এমন বিভিন্ন প্রকল্পে, বিশেষ করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছি।</p>
<p>এর আগে চলতি সপ্তাহে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, মস্কো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।</p>
<p>পেসকভ আরও বলেন, ইউক্রেন যদি প্রকৃত শান্তি আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে থাকে তাহলে রাশিয়া তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।</p>
<p>অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভ উভয়ই আপস করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা এখনো খুবই ক্ষীণ।</p>
<p><em>কেএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>মদনে পুলিশের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124964</link>
                <description>নেত্রকোনার মদনে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা শামীমের অনুমোদনে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় মদন সরকারি কলেজ এলাকায় বাস যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। যাত্রীরা হয়রানির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ তাকে চলে যেতে বললে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডাসহ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখা থাকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, হামলায় ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর সৈয়দ মিঠুকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এইচ এম কামাল/এএইচ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:45:31 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124964</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/netro-20260605154531.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>নেত্রকোনার মদনে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা শামীমের অনুমোদনে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p>
<p>বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।</p>
<p>স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় মদন সরকারি কলেজ এলাকায় বাস যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। যাত্রীরা হয়রানির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ তাকে চলে যেতে বললে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডাসহ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।</p>
<p>এদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখা থাকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’</p>
<p>পুলিশ জানায়, হামলায় ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর সৈয়দ মিঠুকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।</p>
<p><em>এইচ এম কামাল/এএইচ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বিএনপি নেতার লাথিতে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের অভিযোগ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124963</link>
                <description>নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ছাগল ও কুকুর নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিএনপি নেতার লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আশা আক্তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন।
অভিযোগ রয়েছে, মারধরের সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার গর্ভপাত হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আশা আক্তার বলেন, ‘ভাইকে বাঁচাতে গেলে ফেরদৌস মিয়া আমার পেটে লাথি মারে। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করেছিল। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিচার করার আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি থানার সিসি ক্যামেরা চেক করলেই পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অভিযোগ প্রত্যাহার করিনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পরীক্ষায় ওই নারীর গর্ভপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুয়াইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা জামিল স্বপন বলেন, ‘শুনেছি ওই নারীর আগেই গর্ভপাত হয়েছিল। এখন মারামারির ঘটনায় ফেরদৌসকে জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত নই।’
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, ‘নারীকে হেনস্তার কারণে অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছ।’
এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:42:13 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124963</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/thana-20260605154213.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ছাগল ও কুকুর নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিএনপি নেতার লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।</p>
<p>বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।</p>
<p>অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।</p>
<p>ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আশা আক্তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, মারধরের সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার গর্ভপাত হয়েছে।</p>
<p>এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>আশা আক্তার বলেন, ‘ভাইকে বাঁচাতে গেলে ফেরদৌস মিয়া আমার পেটে লাথি মারে। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’</p>
<p>ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করেছিল। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিচার করার আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি থানার সিসি ক্যামেরা চেক করলেই পাওয়া যাবে।</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অভিযোগ প্রত্যাহার করিনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’</p>
<p>মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পরীক্ষায় ওই নারীর গর্ভপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’</p>
<p>তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুয়াইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা জামিল স্বপন বলেন, ‘শুনেছি ওই নারীর আগেই গর্ভপাত হয়েছিল। এখন মারামারির ঘটনায় ফেরদৌসকে জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত নই।’</p>
<p>এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।</p>
<p>উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, ‘নারীকে হেনস্তার কারণে অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছ।’</p>
<p><em>এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশ বলছে অন্য স্থান</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124962</link>
                <description>কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সহযোগী যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের ব্যানারে চিটাগাংরোড টু ডেমরা সড়কের গলাকাটা এলাকার এ মিছিল হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঝটিকা মিছিলটিতে অন্তত ১৮-২০ জনের এক গ্রুপকে আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। মিছিলকারীরা ডেমরা সংলগ্ন গলাকাটার দিক থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ স্লোগান দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাস্থ শিমরাইলের দিকে এগোতে দেখা যায়। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটন ও সেচ্ছাসেবক লীগের জহিরুল ইসলাম।
এদিকে মিছিল সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে হয়নি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেছি মিছিল সিদ্বিরগঞ্জ এরিয়ায় হয়নি। এ এলাকায় মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। মিছিল করার মতো দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
মো.আকাশ/এএইচ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:39:02 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124962</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/sid-20260605153902.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সহযোগী যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের ব্যানারে চিটাগাংরোড টু ডেমরা সড়কের গলাকাটা এলাকার এ মিছিল হয়।</p>
<p>সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঝটিকা মিছিলটিতে অন্তত ১৮-২০ জনের এক গ্রুপকে আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। মিছিলকারীরা ডেমরা সংলগ্ন গলাকাটার দিক থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ স্লোগান দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাস্থ শিমরাইলের দিকে এগোতে দেখা যায়। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটন ও সেচ্ছাসেবক লীগের জহিরুল ইসলাম।</p>
<p>এদিকে মিছিল সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে হয়নি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।</p>
<p>তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেছি মিছিল সিদ্বিরগঞ্জ এরিয়ায় হয়নি। এ এলাকায় মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। মিছিল করার মতো দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।</p>
<p><em>মো.আকাশ/এএইচ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>নেইমারকে ক্যাম্পে রেখে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে ব্রাজিল</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/sports/football/1124961</link>
                <description>ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার দলের শেষ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে যাচ্ছেন না। শনিবার মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য প্রীতি ম্যাচের জন্য দলের সঙ্গে সফর করবেন না তিনি।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে একাধিক চোটে ভোগা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে পায়ের কাফের সমস্যায় আক্রান্ত। এ কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে রেখেই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।
গত মাসে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করার সময় প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে হোয়াও পেদ্রোর মতো কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়েন।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের অভিযান শুরু করবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর গ্রুপ পর্বে তারা ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সামনে রেখে তাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
এমএমআর</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:38:50 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/sports/football/1124961</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/neymar-mq0qecickv0warx-20260605153850.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার দলের শেষ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে যাচ্ছেন না। শনিবার মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য প্রীতি ম্যাচের জন্য দলের সঙ্গে সফর করবেন না তিনি।</p>
<p>ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে একাধিক চোটে ভোগা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে পায়ের কাফের সমস্যায় আক্রান্ত। এ কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে রেখেই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না।</p>
<p>গত মাসে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করার সময় প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে হোয়াও পেদ্রোর মতো কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়েন।</p>
<p>বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের অভিযান শুরু করবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর গ্রুপ পর্বে তারা ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।</p>
<p>নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সামনে রেখে তাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।</p>
<p><span style="color: #808080;"><em>এমএমআর</em></span></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে: আমিন খান</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1124960</link>
                <description>বকেয়া পারিশ্রমিক, চুক্তিপত্র না পাওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব। এমন একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ বয়কট করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। শুক্রবার ক্রিকেটারদের বয়কটে অগ্রনী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচ ওয়াকওভার দেয় ব্রাদার্স। ক্রিকেটারদের দাবি, মৌসুমজুড়ে অপেক্ষা, অনুরোধ ও যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দলগতভাবে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিকেটারদের একজন বলেন, ‘এগুলো আমাদের সঙ্গে, প্লেয়ারদের সঙ্গে যে অবিচার তৈরি হচ্ছে কি না, সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। আর এখন আমরা যা করছি, নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা অবিচার করছি। এটা বুঝতে পেরেই আমরা এখানে থেমেছি।’
ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মূলত আমিন খান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, ‘আজকে আমিন খান এসেছিল। আমাদের সাথে সবকিছু আমিন খানই ডিল করেছে। আমিন খানই আমাদেরকে বলছে যে, তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে।’
এ সময় মাশরুর হোসাইনের প্রসঙ্গও আসে। ক্রিকেটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মাশরুর হোসাইন...উনি এখন মনে হয় সেক্রেটারি, ক্রিকেট ডিপার্টমেন্টের। আর উনি তো বিসিবিতে আছেন লজিস্টিক হিসেবে।’
ক্রিকেটারদের অভিযোগ, কম টাকায় দল গড়তে গিয়ে খেলোয়াড়দের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলে আনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদেরই। তিনি বলেন, ‘যেই তিন টাকার প্লেয়ার, আমরা কিন্তু তাকে এক টাকায় নিয়েছি। ব্যাপারটা এরকম। এবার সেকেন্ড ডিভিশনে সব প্লেয়ারের কন্ট্রাক্ট কম। তো ওই হিসাব করেই আমরা সব প্লেয়ারদেরকেই পেমেন্ট অনেক কম কম টাকায় সাইন করিয়েছি। এখন যেই টাকার, ওই প্লেয়ার আসলে ওই টাকার না, কিন্তু ও আরও বেশি পায়। ওইখান থেকে ওই টাকায় আমরা কথার মাধ্যমে, আমাদের প্লেয়ারদের মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে ও কনভিন্স হয়ে আমাদের কথায় খেলেছে। আলটিমেটলি আমরাই সাফার করছি।’
তাদের দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত মৌসুমেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা, ‘সত্যি কথা বলতে আমরা কয়েকজন তো গত বছরও ব্রাদার্সে খেলেছি। তখনও আমরা সাফার করেছি। এখন কন্টিনিউয়াসলি আমি যদি কোনো ফিডব্যাক না পাই, আমি প্রতি বছর কি এরকম করে ভর্তুকি দিয়ে বাবার ঘর থেকে টাকা এনে ক্রিকেট খেলবো? এভাবে সম্ভব নাকি?’
ঈদের আগে আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩০টা ফ্যামিলি, ঈদের আগে আমাদের নিয়ে তাদের কোনো রকম মাথাব্যথাই ছিল না। আমরা ৩০টা ফ্যামিলি ঈদের আগে কোনো রকম টাকা পয়সা পাই নাই, ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে। আমরা কিভাবে ঈদ করবো তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। এভাবে তো হয় না।’
ক্রিকেটারদের দাবি, তারা বিষয়টি বিসিবি সভাপতির কাছেও পৌঁছে দিয়েছিলেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলাম। ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ইশরাক ভাইয়ের পর্যন্ত জানিয়েছিল, মেসেজগুলো পৌঁছানো হয়েছিল। এমনকি ইশরাক ভাই আমাদের মাঠে এসে ঈদের আগে বলেছিল যে, তোমাদের সব ব্যাপার আমি দেখবো, কোনো টেনশন করো না। এতটুকুই।’
তবে সেই আশ্বাসের পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। ওই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে আমরা অফিসিয়ালি আর কোনো ফিডব্যাক বা ম্যাসেজ পাইনি। এমনকি আমরা ইশরাক ভাইয়ের সঙ্গে কন্টাক্ট করার জন্য উনার পিএ, সিএ সবার সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কোনো রকম রেসপন্স পাই নাই।’
তারা জানান, মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। বরং ক্লাবকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু হার্ডলাইনে খুব তাড়াতাড়ি যাইনি, আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি। এমনকি গতকাল রাতে আমরা আমাদের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে প্রত্যেকটা প্লেয়ারকে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি যে, আপনারা যদি ৮০% পেমেন্ট এবং কন্ট্রাক্ট পেপার সহ মাঠে না আসেন, আমরা খেলবো না।’
মাঠে যাওয়ার পরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানান তারা, ‘মাঠে আসার পরেও আমরা আমাদের অফিশিয়ালদের বলেছি যে আমাদের ফুল কন্ট্রাক্ট পেপারটা দেন, আমরা অন্তত এতটুকু নিশ্চিত হই যে আমার কন্ট্রাক্টটা হয়েছে এবং আমি কন্ট্রাক্ট পেপারটা পেয়েছি। তাহলে আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারবো যদি পেমেন্ট নাও পাই। সেটাও তারা করেন নাই। তো আমরা আর কি করবো?’
পেমেন্টের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘প্রথম থেকে আমাদের পেমেন্ট উনারা ২০% দিয়েছিল। এটা ঈদের আগে দেওয়ার কথা ছিল। পরে ২০% পাওয়ার পরে আমাদের কমিটমেন্ট করেছিল যে ৩০% আমরা ঈদের আগে পাবো। ঈদের আগে আমাদের ৩০% এর জন্য ২৩ তারিখে লাস্ট ম্যাচ হয়। আমাদের টিকেট ২৩ তারিখে ক্যান্সেল করা হয়। পরে ২৪ তারিখে উনারা আমাদেরকে ঢাকায় নিয়ে যায়। এক ছোট ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বলে এখানে নিয়ে এসেছিল যে আমাদের টাকা দিবে। আমরা যাওয়ার পর আমাদেরকে এখানে ১০-১৫ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। আমরা ওটা রিটার্ন ব্যাক করে চলে এসেছিলাম।’
ঈদের পরও প্রতিশ্রুতি মিলেছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের, ‘ঈদের পর উনারা কমিটমেন্ট করেছিল যে উনি এসে সব প্রবলেম সলভ করবে।’
এরপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ ম্যাচের আগেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘গত ম্যাচে যখন আমরা ইনফরমেশন পাই যে কমিটমেন্ট করে আমাদেরকে দুই তারিখের ম্যাচে মোটামুটি একটা পেমেন্ট দেওয়া হবে, তারপরেও যখন দেখলাম আমাদেরকে পেমেন্ট কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। সেইম রিকোয়েস্টটা গত ম্যাচেও যেটা করেছে, এই ম্যাচেও আগে থেকে করছিল। কিন্তু আমরা গতকালের আগের দিন থেকেই এই জিনিসটা উনাদেরকে ম্যাসেজ করে দিয়েছি যে আমাদের কন্ট্রাক্ট পেপার এবং আমাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী ১০০% পেমেন্ট যদি না দেন, আমরা মাঠে নামবো না।’
তাদের দাবি, ক্লাবের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে খেলোয়াড়রা না খেললেও দল মাঠে নামবে, ‘এমনকি তারা আগে থেকেই আমাদেরকে জানিয়েছে, উনারা আমাদেরকে রিটার্ন ব্যাক দিয়েছে, তোমরা যদি না খেলতে চাও, কোনো সমস্যা নাই, টিম নেমে যাবে। তো আমাদের আর কী করার?’
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা খেলা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন, ‘আমরা আমাদের সাইড থেকে চেষ্টা করলাম। এমনকি অফিসিয়াল থেকে কোনো রকম রেসপন্স বা ফিডব্যাক নেই। আমাদের অফিসিয়াল মাঠে আসেননি। আমরা উনাদের সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছি। আমরা টসের আগ পর্যন্ত ওয়েট করেছি, আমরা সবাই মাঠে গিয়েছি। আমরা ডিসিশন নিয়েছি আমরা খেলবো না।’
চুক্তিপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করে ওই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের কন্টাক্ট পেপার দেন। আমাদের অ্যাটলিস্ট এতটুকু নিশ্চিত করেন যে আমরা আমাদের কন্টাক্ট পেপারটা পেয়েছি। আমাদের কন্টাক্ট পেপারও আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। আর পেমেন্ট তো ২০% কাউকে, কেউ ১৭% পেয়েছে, কেউ ১২% পেয়েছে। এরকম ভেঙে ভেঙে ব্যাপারটা করা হয়েছে।’
মাঠের বাইরের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রিকেটাররা। আরেক ক্রিকেটার বলছিলেন, ‘না, আমরা নিজেদের গাড়িতে ফিরছি। বাস দিয়েছে একটা মালঞ্চ নন-এসি বাস, ওইটাতে আমরা কোনোকালে উঠতাম তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। একটা অকেজো বাস। এসি বাস নাই, কিছু নাই। এই গরমের মধ্যে প্লেয়াররা খেলে ওই বাসে করে আসা যাওয়া করবে। একটা ডাব থাকে না মাঠে। ফ্রুটস দেয়, শসা, আনারস, আম। আর খাওয়া দাওয়ার কথা তো বাদই দিলাম। এটা হয় না।’
সবশেষে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, খেলার কারণে অনেকভাবেই নিজেদের থেকে চেষ্টা করেছি। আর পারছি না দেখেই আমরা গিভ আপ করেছি। যেহেতু আমরা সবাই টিমে ভুক্তভোগী এবং আমরা সবাই একসাথে স্টেপ ডাউন করেছি, তাই স্পেসিফিকলি এখানে একজনের নাম মেনশন না করাটাই ভালো। আমরা এভাবেই এগোচ্ছি। যেহেতু আমরা সব প্লেয়াররা একসাথে আছি এবং আমরা যে ডিসিশন নিয়েছি, আমরা সবাই একসাথেই স্টেপ ডাউন করেছি। এখানে তো ক্রিকেট ১১ জনের খেলা।’
এসকেডি/আইএন</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:38:16 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/sports/cricket/1124960</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/brothers-union-mq0qe9epsplcqc7-20260605153816.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>বকেয়া পারিশ্রমিক, চুক্তিপত্র না পাওয়া, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব। এমন একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ বয়কট করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। শুক্রবার ক্রিকেটারদের বয়কটে অগ্রনী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচ ওয়াকওভার দেয় ব্রাদার্স। ক্রিকেটারদের দাবি, মৌসুমজুড়ে অপেক্ষা, অনুরোধ ও যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দলগতভাবে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা।</p>
<p>জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিকেটারদের একজন বলেন, ‘এগুলো আমাদের সঙ্গে, প্লেয়ারদের সঙ্গে যে অবিচার তৈরি হচ্ছে কি না, সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। আর এখন আমরা যা করছি, নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা অবিচার করছি। এটা বুঝতে পেরেই আমরা এখানে থেমেছি।’</p>
<p>ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে মূলত আমিন খান তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, ‘আজকে আমিন খান এসেছিল। আমাদের সাথে সবকিছু আমিন খানই ডিল করেছে। আমিন খানই আমাদেরকে বলছে যে, তোমরা খেললে খেলো, না খেললে টিম নেমে যাবে।’</p>
<p>এ সময় মাশরুর হোসাইনের প্রসঙ্গও আসে। ক্রিকেটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মাশরুর হোসাইন...উনি এখন মনে হয় সেক্রেটারি, ক্রিকেট ডিপার্টমেন্টের। আর উনি তো বিসিবিতে আছেন লজিস্টিক হিসেবে।’</p>
<p>ক্রিকেটারদের অভিযোগ, কম টাকায় দল গড়তে গিয়ে খেলোয়াড়দের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলে আনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদেরই। তিনি বলেন, ‘যেই তিন টাকার প্লেয়ার, আমরা কিন্তু তাকে এক টাকায় নিয়েছি। ব্যাপারটা এরকম। এবার সেকেন্ড ডিভিশনে সব প্লেয়ারের কন্ট্রাক্ট কম। তো ওই হিসাব করেই আমরা সব প্লেয়ারদেরকেই পেমেন্ট অনেক কম কম টাকায় সাইন করিয়েছি। এখন যেই টাকার, ওই প্লেয়ার আসলে ওই টাকার না, কিন্তু ও আরও বেশি পায়। ওইখান থেকে ওই টাকায় আমরা কথার মাধ্যমে, আমাদের প্লেয়ারদের মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে ও কনভিন্স হয়ে আমাদের কথায় খেলেছে। আলটিমেটলি আমরাই সাফার করছি।’</p>
<p>তাদের দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত মৌসুমেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা, ‘সত্যি কথা বলতে আমরা কয়েকজন তো গত বছরও ব্রাদার্সে খেলেছি। তখনও আমরা সাফার করেছি। এখন কন্টিনিউয়াসলি আমি যদি কোনো ফিডব্যাক না পাই, আমি প্রতি বছর কি এরকম করে ভর্তুকি দিয়ে বাবার ঘর থেকে টাকা এনে ক্রিকেট খেলবো? এভাবে সম্ভব নাকি?’</p>
<p>ঈদের আগে আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩০টা ফ্যামিলি, ঈদের আগে আমাদের নিয়ে তাদের কোনো রকম মাথাব্যথাই ছিল না। আমরা ৩০টা ফ্যামিলি ঈদের আগে কোনো রকম টাকা পয়সা পাই নাই, ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে। আমরা কিভাবে ঈদ করবো তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। এভাবে তো হয় না।’</p>
<p>ক্রিকেটারদের দাবি, তারা বিষয়টি বিসিবি সভাপতির কাছেও পৌঁছে দিয়েছিলেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলাম। ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ইশরাক ভাইয়ের পর্যন্ত জানিয়েছিল, মেসেজগুলো পৌঁছানো হয়েছিল। এমনকি ইশরাক ভাই আমাদের মাঠে এসে ঈদের আগে বলেছিল যে, তোমাদের সব ব্যাপার আমি দেখবো, কোনো টেনশন করো না। এতটুকুই।’</p>
<p>তবে সেই আশ্বাসের পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। ওই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘এর পরবর্তীতে আমরা অফিসিয়ালি আর কোনো ফিডব্যাক বা ম্যাসেজ পাইনি। এমনকি আমরা ইশরাক ভাইয়ের সঙ্গে কন্টাক্ট করার জন্য উনার পিএ, সিএ সবার সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কোনো রকম রেসপন্স পাই নাই।’</p>
<p>তারা জানান, মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। বরং ক্লাবকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু হার্ডলাইনে খুব তাড়াতাড়ি যাইনি, আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি। এমনকি গতকাল রাতে আমরা আমাদের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে প্রত্যেকটা প্লেয়ারকে ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি যে, আপনারা যদি ৮০% পেমেন্ট এবং কন্ট্রাক্ট পেপার সহ মাঠে না আসেন, আমরা খেলবো না।’</p>
<p>মাঠে যাওয়ার পরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানান তারা, ‘মাঠে আসার পরেও আমরা আমাদের অফিশিয়ালদের বলেছি যে আমাদের ফুল কন্ট্রাক্ট পেপারটা দেন, আমরা অন্তত এতটুকু নিশ্চিত হই যে আমার কন্ট্রাক্টটা হয়েছে এবং আমি কন্ট্রাক্ট পেপারটা পেয়েছি। তাহলে আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারবো যদি পেমেন্ট নাও পাই। সেটাও তারা করেন নাই। তো আমরা আর কি করবো?’</p>
<p>পেমেন্টের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘প্রথম থেকে আমাদের পেমেন্ট উনারা ২০% দিয়েছিল। এটা ঈদের আগে দেওয়ার কথা ছিল। পরে ২০% পাওয়ার পরে আমাদের কমিটমেন্ট করেছিল যে ৩০% আমরা ঈদের আগে পাবো। ঈদের আগে আমাদের ৩০% এর জন্য ২৩ তারিখে লাস্ট ম্যাচ হয়। আমাদের টিকেট ২৩ তারিখে ক্যান্সেল করা হয়। পরে ২৪ তারিখে উনারা আমাদেরকে ঢাকায় নিয়ে যায়। এক ছোট ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার কথা বলে এখানে নিয়ে এসেছিল যে আমাদের টাকা দিবে। আমরা যাওয়ার পর আমাদেরকে এখানে ১০-১৫ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। আমরা ওটা রিটার্ন ব্যাক করে চলে এসেছিলাম।’</p>
<p>ঈদের পরও প্রতিশ্রুতি মিলেছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের, ‘ঈদের পর উনারা কমিটমেন্ট করেছিল যে উনি এসে সব প্রবলেম সলভ করবে।’</p>
<p>এরপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ ম্যাচের আগেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘গত ম্যাচে যখন আমরা ইনফরমেশন পাই যে কমিটমেন্ট করে আমাদেরকে দুই তারিখের ম্যাচে মোটামুটি একটা পেমেন্ট দেওয়া হবে, তারপরেও যখন দেখলাম আমাদেরকে পেমেন্ট কোনো কিছুই দেওয়া হয়নি। সেইম রিকোয়েস্টটা গত ম্যাচেও যেটা করেছে, এই ম্যাচেও আগে থেকে করছিল। কিন্তু আমরা গতকালের আগের দিন থেকেই এই জিনিসটা উনাদেরকে ম্যাসেজ করে দিয়েছি যে আমাদের কন্ট্রাক্ট পেপার এবং আমাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী ১০০% পেমেন্ট যদি না দেন, আমরা মাঠে নামবো না।’</p>
<p>তাদের দাবি, ক্লাবের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে খেলোয়াড়রা না খেললেও দল মাঠে নামবে, ‘এমনকি তারা আগে থেকেই আমাদেরকে জানিয়েছে, উনারা আমাদেরকে রিটার্ন ব্যাক দিয়েছে, তোমরা যদি না খেলতে চাও, কোনো সমস্যা নাই, টিম নেমে যাবে। তো আমাদের আর কী করার?’</p>
<p>শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা খেলা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন, ‘আমরা আমাদের সাইড থেকে চেষ্টা করলাম। এমনকি অফিসিয়াল থেকে কোনো রকম রেসপন্স বা ফিডব্যাক নেই। আমাদের অফিসিয়াল মাঠে আসেননি। আমরা উনাদের সাথে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেছি। আমরা টসের আগ পর্যন্ত ওয়েট করেছি, আমরা সবাই মাঠে গিয়েছি। আমরা ডিসিশন নিয়েছি আমরা খেলবো না।’</p>
<p>চুক্তিপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করে ওই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের কন্টাক্ট পেপার দেন। আমাদের অ্যাটলিস্ট এতটুকু নিশ্চিত করেন যে আমরা আমাদের কন্টাক্ট পেপারটা পেয়েছি। আমাদের কন্টাক্ট পেপারও আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। আর পেমেন্ট তো ২০% কাউকে, কেউ ১৭% পেয়েছে, কেউ ১২% পেয়েছে। এরকম ভেঙে ভেঙে ব্যাপারটা করা হয়েছে।’</p>
<p>মাঠের বাইরের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রিকেটাররা। আরেক ক্রিকেটার বলছিলেন, ‘না, আমরা নিজেদের গাড়িতে ফিরছি। বাস দিয়েছে একটা মালঞ্চ নন-এসি বাস, ওইটাতে আমরা কোনোকালে উঠতাম তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। একটা অকেজো বাস। এসি বাস নাই, কিছু নাই। এই গরমের মধ্যে প্লেয়াররা খেলে ওই বাসে করে আসা যাওয়া করবে। একটা ডাব থাকে না মাঠে। ফ্রুটস দেয়, শসা, আনারস, আম। আর খাওয়া দাওয়ার কথা তো বাদই দিলাম। এটা হয় না।’</p>
<p>সবশেষে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, খেলার কারণে অনেকভাবেই নিজেদের থেকে চেষ্টা করেছি। আর পারছি না দেখেই আমরা গিভ আপ করেছি। যেহেতু আমরা সবাই টিমে ভুক্তভোগী এবং আমরা সবাই একসাথে স্টেপ ডাউন করেছি, তাই স্পেসিফিকলি এখানে একজনের নাম মেনশন না করাটাই ভালো। আমরা এভাবেই এগোচ্ছি। যেহেতু আমরা সব প্লেয়াররা একসাথে আছি এবং আমরা যে ডিসিশন নিয়েছি, আমরা সবাই একসাথেই স্টেপ ডাউন করেছি। এখানে তো ক্রিকেট ১১ জনের খেলা।’</p>
<p><em>এসকেডি/আইএন</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাশুড়ি-বউয়ের মৃত্যু</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124959</link>
                <description>কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গোয়ালঘরে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখড়াশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উখড়াশাল গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর মিয়ার মা মোছা. মেহেরা খাতুন (৫০) ও স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩২)।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরে শাশুড়ি ও বউ একসঙ্গে বাড়ির গোয়ালঘরে কাজ করতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ঘরের ভেতরে থাকা বিদ্যুতের লাইনে স্পৃষ্ট হন তারা। পরে পরিবারের লোকজন তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, জুমার নামাজের কিছু সময় আগে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যুর খবরটি আসে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এসকে রাসেল/এএইচ/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:33:59 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124959</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/kisorgonj-20260605153358.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গোয়ালঘরে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখড়াশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।</p>
<p>নিহতরা হলেন- উখড়াশাল গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর মিয়ার মা মোছা. মেহেরা খাতুন (৫০) ও স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩২)।</p>
<p>পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরে শাশুড়ি ও বউ একসঙ্গে বাড়ির গোয়ালঘরে কাজ করতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ঘরের ভেতরে থাকা বিদ্যুতের লাইনে স্পৃষ্ট হন তারা। পরে পরিবারের লোকজন তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।</p>
<p>আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, জুমার নামাজের কিছু সময় আগে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যুর খবরটি আসে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।</p>
<p><em>এসকে রাসেল/এএইচ/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124958</link>
                <description>রংপুরের পীরগাছায় পুকুরে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- এলাকার সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) ও শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪)। সম্পর্কে তারা চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইবোন।
স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১০টার দিকে দুই শিশু একসঙ্গে খেলতে বের হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জিতু কবীর/এএইচ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:31:18 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124958</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/rang-20260605153118.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রংপুরের পীরগাছায় পুকুরে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।</p>
<p>নিহতরা হলো- এলাকার সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) ও শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪)। সম্পর্কে তারা চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইবোন।</p>
<p>স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১০টার দিকে দুই শিশু একসঙ্গে খেলতে বের হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করেন।</p>
<p>পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।</p>
<p><em>জিতু কবীর/এএইচ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>অনুমোদনহীন টোল আদায়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত চর আষাড়িয়াদহ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124957</link>
                <description>রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বিদিরপুর ও ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাটে জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে বিদিরপুর ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিবাদকারীরা ঘাটের দিকে অগ্রসর হলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর আষাড়িয়াদহ, আলাতুলি, ভগবন্তপুর, বড়গাছি, বিদিরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ প্রতিদিন এসব ঘাট ব্যবহার করে পদ্মা পারাপার হন। শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা করে টোল আদায় শুরু করলে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মাইকিং করে প্রতিবাদের ঘোষণা এবং ঘাটের দিকে অগ্রসর হন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বড়গাছি-পেটাও বিদিরপুর এবং ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাট দুটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। ফলে ঘাট দুটি ইজারা না হওয়া পর্যন্ত খাস আদায়ের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আদায়কৃত অর্থ প্রতি মাস শেষে জেলা পরিষদের অনুকূলে জমা দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ঘাট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপরও কিছু ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে টোল আদায় করছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘যারা টাকা আদায় করেছে, তাদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কাউকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেইনি।’
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘ঘাট দুটি চলতি অর্থবছরে ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো দরপত্র পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী বর্তমানে খাস আদায়ের দায়িত্ব আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সরাসরি টোল আদায়ের অনুমতি দেয়নি। চেয়ারম্যানের অনুমোদিত প্রতিনিধি বা ইউনিয়ন পরিষদের মনোনীত ব্যক্তিরাই কেবল খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’
মনির হোসেন মাহিন/এএইচ/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:30:05 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124957</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/raj1-20260605153004.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বিদিরপুর ও ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাটে জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে বিদিরপুর ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিবাদকারীরা ঘাটের দিকে অগ্রসর হলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।</p>
<p>স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর আষাড়িয়াদহ, আলাতুলি, ভগবন্তপুর, বড়গাছি, বিদিরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ প্রতিদিন এসব ঘাট ব্যবহার করে পদ্মা পারাপার হন। শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা করে টোল আদায় শুরু করলে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মাইকিং করে প্রতিবাদের ঘোষণা এবং ঘাটের দিকে অগ্রসর হন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়।</p>
<p>এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বড়গাছি-পেটাও বিদিরপুর এবং ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাট দুটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। ফলে ঘাট দুটি ইজারা না হওয়া পর্যন্ত খাস আদায়ের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p>
<p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আদায়কৃত অর্থ প্রতি মাস শেষে জেলা পরিষদের অনুকূলে জমা দিতে হবে।</p>
<p>স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ঘাট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপরও কিছু ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে টোল আদায় করছে।</p>
<p>চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘যারা টাকা আদায় করেছে, তাদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কাউকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেইনি।’</p>
<p>এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘ঘাট দুটি চলতি অর্থবছরে ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো দরপত্র পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী বর্তমানে খাস আদায়ের দায়িত্ব আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সরাসরি টোল আদায়ের অনুমতি দেয়নি। চেয়ারম্যানের অনুমোদিত প্রতিনিধি বা ইউনিয়ন পরিষদের মনোনীত ব্যক্তিরাই কেবল খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’</p>
<p><em>মনির হোসেন মাহিন/এএইচ/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124956</link>
                <description>পাহাড়ি ঢলে তিন বছর আগে ধসে যায় বেইলি ব্রিজ, এরপর থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার থেকে জেলা সদরের ভাই-বোন ছড়া ইউনিয়নের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ সড়কটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ছড়া পেরিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে পোমাং পাড়া হয়ে ভাই-বোন ছড়া পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সড়কটির ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হলেও বাকি অংশ ইট সলিং করা। তবে দুটি ব্রিজের অভাবে সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

‘‌সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন\'

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এই সড়কে দুটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিকদার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পরও নিরাপত্তা জনিত কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অপারগতা প্রকাশ করায় নির্মাণ কাজের বাজেট মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়।
আরও পড়ুন:চাচার কোলে শিশুর মরদেহ, মৃত্যুসনদ পেতে দৌড়ঝাঁপ বাবারসিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থাআইলার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁধের অপেক্ষায় ১৭ বছরঅস্তিত্ব সংকটে রাজশাহী সিল্ক, ভরসা এখন বিদেশি সুতা
সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ার মানুষের একমাত্র চলাচল পথের সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
পাহাড়ি ঢলে ধসে ড়েঝে বেইলি ব্রিজ/ ছবি: জাগো নিউজ
স্থানীয়রা জানায়, বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ ৫-৬টি গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ জুম চাষ ও পাহাড়ি কৃষির উপর নির্ভরশীল। যাতায়াতের একমাত্র সড়কের সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মাথায় করে পরিবহন করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে কৃষিপণ্য, গাছ, বাঁশ পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ হয় এবং জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয় বলে জানান সাধারণ মানুষ ও একাধিক কৃষক।
তাছাড়া, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
বিষ্ণু কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা চিরনজোতি ত্রিপুরা বলেন, সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

‌‌‘ব্রিজ দুটি না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও স্কুল রয়েছে, এতে সর্বস্তরের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে এবং সেতুটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’

হাজাপাড়ার বাসিন্দা রতি ত্রিপুরা (৬০) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে যেতে পারি না। কবে ব্রিজটি হবে জানি না, এখন আর হাঁটতে পারি না। খুব কষ্ট করে দিন পার করছি।
বিষ্ণু কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, সেতু না থাকায় আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারি না, পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে খুবই অসুবিধা এবং ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে গরিব কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

‘বিষ্ণু কার্বারী পাড়া খুবই দূর্গম পাহাড়ী এলাকা। এখানে পাহাড়ের ঝুম চাষ, পাহাড় থেকে বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রি করে এখানের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু ব্রিজ না থাকায় তাদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে দূর্গম কয়েকটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ’

আরও পড়ুন:খাল খননের সুযোগে চলছে গাছ কাটার মহোৎসবআইনের বেড়াজালে আটকে গেছে নদী দখল উচ্ছেদবিলীনের পথে অলওয়েদার সড়ক, দায় এড়াতে ব্যস্ত এলজিইডি-পাউবোইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে
দুর্ভোগে নিয়েই চলাচল করতে হয় পাহাড়ের বাসিন্দাদের/ ছবি: জাগো নিউজ
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ভূবন মোহন ত্রিপুরা বলেন, বিষ্ণু কার্বারী পাড়া খুবই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। এখানে পাহাড়ের জুম চাষ, পাহাড় থেকে বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রি করে এখানের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। তবে ব্রিজ না থাকায় দুর্গম কয়েকটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারের কাছে আবেদন- সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করলে উপকার হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিগত ২১-২২ অর্থবছরে ব্রিজ দুটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করার পর অজ্ঞাত কারণে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি, সড়ক থাকলেও ব্রিজ না থাকায় সড়কটি মানুষের কাজে লাগে না। তবে সেতু দুটি নির্মাণের জন্য আমরা পুনরায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ব্রিজ দুটি না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। এই অঞ্চলের জন্য সেতুটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেতুটি পুনরায় নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনএইচআর/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:25:10 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124956</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/khagrachari-20260605152510.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>পাহাড়ি ঢলে তিন বছর আগে ধসে যায় বেইলি ব্রিজ, এরপর থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার থেকে জেলা সদরের ভাই-বোন ছড়া ইউনিয়নের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ সড়কটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ছড়া পেরিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।</p>
<p>জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে পোমাং পাড়া হয়ে ভাই-বোন ছড়া পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সড়কটির ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হলেও বাকি অংশ ইট সলিং করা। তবে দুটি ব্রিজের অভাবে সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।</p>
<blockquote>
<p>‘‌সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন'</p>
</blockquote>
<p>এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এই সড়কে দুটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিকদার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পরও নিরাপত্তা জনিত কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অপারগতা প্রকাশ করায় নির্মাণ কাজের বাজেট মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন:</strong><br /><a title="চাচার কোলে শিশুর মরদেহ, মৃত্যুসনদ পেতে দৌড়ঝাঁপ বাবার" href="https://www.jagonews24.com/health/news/1122903" rel="follow">চাচার কোলে শিশুর মরদেহ, মৃত্যুসনদ পেতে দৌড়ঝাঁপ বাবার</a><br /><a title="সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থা" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1122640" rel="follow">সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থা</a><br /><a title="আইলার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁধের অপেক্ষায় ১৭ বছর" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1122263" rel="follow">আইলার ক্ষত বুকে নিয়ে বাঁধের অপেক্ষায় ১৭ বছর</a><br /><a title="অস্তিত্ব সংকটে রাজশাহী সিল্ক, ভরসা এখন বিদেশি সুতা" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1121486" rel="follow">অস্তিত্ব সংকটে রাজশাহী সিল্ক, ভরসা এখন বিদেশি সুতা</a></p>
<p>সরেজমিনে দেখা যায়, বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ার মানুষের একমাত্র চলাচল পথের সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/khagrachari-2-20260605152439.jpg" alt="সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ" width="100%" height="auto" /><br /><em>পাহাড়ি ঢলে ধসে ড়েঝে বেইলি ব্রিজ/ ছবি: জাগো নিউজ</em></p>
<p>স্থানীয়রা জানায়, বিষ্ণু কার্বারী পাড়া, হাজা পাড়াসহ ৫-৬টি গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ জুম চাষ ও পাহাড়ি কৃষির উপর নির্ভরশীল। যাতায়াতের একমাত্র সড়কের সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মাথায় করে পরিবহন করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে কৃষিপণ্য, গাছ, বাঁশ পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ হয় এবং জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয় বলে জানান সাধারণ মানুষ ও একাধিক কৃষক।</p>
<p>তাছাড়া, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।</p>
<p>বিষ্ণু কার্বারী পাড়ার বাসিন্দা চিরনজোতি ত্রিপুরা বলেন, সেতু না থাকায় উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত খুবই অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।</p>
<blockquote>
<p>‌‌‘ব্রিজ দুটি না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও স্কুল রয়েছে, এতে সর্বস্তরের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে এবং সেতুটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’</p>
</blockquote>
<p>হাজাপাড়ার বাসিন্দা রতি ত্রিপুরা (৬০) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে যেতে পারি না। কবে ব্রিজটি হবে জানি না, এখন আর হাঁটতে পারি না। খুব কষ্ট করে দিন পার করছি।</p>
<p>বিষ্ণু কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, সেতু না থাকায় আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারি না, পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে খুবই অসুবিধা এবং ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে গরিব কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।</p>
<blockquote>
<p>‘বিষ্ণু কার্বারী পাড়া খুবই দূর্গম পাহাড়ী এলাকা। এখানে পাহাড়ের ঝুম চাষ, পাহাড় থেকে বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রি করে এখানের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু ব্রিজ না থাকায় তাদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে দূর্গম কয়েকটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষ’</p>
</blockquote>
<p><strong>আরও পড়ুন:</strong><br /><a title="খাল খননের সুযোগে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1121236" rel="follow">খাল খননের সুযোগে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব</a><br /><a title="আইনের বেড়াজালে আটকে গেছে নদী দখল উচ্ছেদ" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1119603" rel="follow">আইনের বেড়াজালে আটকে গেছে নদী দখল উচ্ছেদ</a><br /><a title="বিলীনের পথে অলওয়েদার সড়ক, দায় এড়াতে ব্যস্ত এলজিইডি-পাউবো" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1119161" rel="follow">বিলীনের পথে অলওয়েদার সড়ক, দায় এড়াতে ব্যস্ত এলজিইডি-পাউবো</a><br /><a title="ইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে" href="https://www.jagonews24.com/economy/news/1119058" rel="follow">ইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে</a></p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/khagrachari-3-20260605152455.jpg" alt="সেতুর অভাবে দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ" width="100%" height="auto" /><br /><em>দুর্ভোগে নিয়েই চলাচল করতে হয় পাহাড়ের বাসিন্দাদের/ ছবি: জাগো নিউজ</em></p>
<p>স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ভূবন মোহন ত্রিপুরা বলেন, বিষ্ণু কার্বারী পাড়া খুবই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। এখানে পাহাড়ের জুম চাষ, পাহাড় থেকে বিভিন্ন ফসল বাজারে বিক্রি করে এখানের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। তবে ব্রিজ না থাকায় দুর্গম কয়েকটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারের কাছে আবেদন- সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করলে উপকার হবে।</p>
<p>স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিগত ২১-২২ অর্থবছরে ব্রিজ দুটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করার পর অজ্ঞাত কারণে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি, সড়ক থাকলেও ব্রিজ না থাকায় সড়কটি মানুষের কাজে লাগে না। তবে সেতু দুটি নির্মাণের জন্য আমরা পুনরায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।</p>
<p>দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ব্রিজ দুটি না থাকায় স্থানীয় জনগণ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। এই অঞ্চলের জন্য সেতুটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেতুটি পুনরায় নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।</p>
<p><em>এনএইচআর/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>শহরের প্রবেশমুখে ৩০ বছরের বিষাক্ত ভাগাড়</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124955</link>
                <description>ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্রের খুব কাছেই চর কালীবাড়ি। একসময় আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন পরিচিতি পেয়েছে অন্য এক নামে, ‘ময়লাকান্দা’। প্রায় তিন দশক ধরে নগরীর হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য এবং সিটি করপোরেশনের হাজার হাজার টন গৃহস্থালি আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। ফলে এলাকাটি এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী ভাগাড়ে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান সড়কের পাশজুড়ে বিশাল এলাকা দখল করে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। ট্রাক ও ভ্যানে করে দিনের বিভিন্ন সময়ে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে সেখানে। ময়লার স্তূপে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর, গবাদিপশু ও অসংখ্য মাছি। কিছু নারী ও শিশু জীবিকার তাগিদে সেই আবর্জনার মধ্যেই খুঁজছেন প্লাস্টিক ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী।
আরও পড়ুন- ঢাকার খালে টয়লেটের লাইন, পাড়ে নাক চেপে বসবাসগুলশান-বনানী-বারিধারার ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকেআলীকদমে অবাধে বন উজাড়, কমছে বন্যপ্রাণী
পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ চপে চলতে দেখা গেছে। অনেক যানবাহনের চালকও দ্রুত এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষায়, গরম ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

‘ময়লার গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সবকিছুই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। উন্নয়নের কথা অনেক শুনি, কিন্তু এই সমস্যা আজও রয়ে গেছে।’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের প্রায় ৩০০ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য নিয়মিত এখানে আনা হয়। এসব বর্জ্যের মধ্যে থাকে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, স্যালাইনের পাইপসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো খোলা অবস্থায় পড়ে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘দুর্গন্ধ এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান দেখতে পাইনি।’
একই অভিযোগ করেন গৃহিণী হাফেজা খাতুন। তিনি বলেন, ‘ময়লার গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সবকিছুই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। উন্নয়নের কথা অনেক শুনি, কিন্তু এই সমস্যা আজও রয়ে গেছে।’

‘স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ময়লার দুর্গন্ধে প্রায়ই তার বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় মাথাব্যথা নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়ছে।’

শুধু বড়রাই নয়, দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশুদেরও। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে সামাদ জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ময়লার দুর্গন্ধে প্রায়ই তার বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় মাথাব্যথা নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, মেডিকেল বর্জ্য দীর্ঘদিন উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখার কারণে মাটি, পানি ও বাতাস একসঙ্গে দূষিত হয়। এর মাধ্যমে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী শিশু এবং বর্জ্য সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক।
আরও পড়ুন- হাতিরঝিলে এখনো যত্রতত্র ময়লা, পড়ে আছে গবাদিপশুর মলমূত্রওখাতা-কলমে নদ, বাস্তবে নর্দমা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের বর্জ্য প্রথমে নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়। পরে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়। তবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

‘এভাবে বছরের পর বছর বর্জ্য জমতে থাকলে মিথেনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়ে।’

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি এবং পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) ডা. মো. শাহাব উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। অথচ আমরা এখনো সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশকে দূষিত করছি। মেডিকেল বর্জ্য কখনোই সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলা উচিত নয়। দ্রুত আধুনিক শোধনাগার ও বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এভাবে বছরের পর বছর বর্জ্য জমতে থাকলে মিথেনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়ে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জাগো নিউজকে বলেন, কাঁচা বর্জ্য পচনের কারণেই দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার পর নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
এফএ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:25:02 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124955</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/mym-1-20260605152502.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্রের খুব কাছেই চর কালীবাড়ি। একসময় আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন পরিচিতি পেয়েছে অন্য এক নামে, ‘ময়লাকান্দা’। প্রায় তিন দশক ধরে নগরীর হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য এবং সিটি করপোরেশনের হাজার হাজার টন গৃহস্থালি আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। ফলে এলাকাটি এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী ভাগাড়ে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।</p>
<p>সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান সড়কের পাশজুড়ে বিশাল এলাকা দখল করে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। ট্রাক ও ভ্যানে করে দিনের বিভিন্ন সময়ে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে সেখানে। ময়লার স্তূপে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর, গবাদিপশু ও অসংখ্য মাছি। কিছু নারী ও শিশু জীবিকার তাগিদে সেই আবর্জনার মধ্যেই খুঁজছেন প্লাস্টিক ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন-</strong> <br /><a title="ঢাকার খালে টয়লেটের লাইন, পাড়ে নাক চেপে বসবাস" href="https://www.jagonews24.com/national/news/1115620" rel="follow">ঢাকার খালে টয়লেটের লাইন, পাড়ে নাক চেপে বসবাস<br /></a><a title="গুলশান-বনানী-বারিধারার ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে" href="https://www.jagonews24.com/national/news/1114785" rel="follow">গুলশান-বনানী-বারিধারার ৮৫ শতাংশ বাড়ির পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে<br /></a><a title="আলীকদমে অবাধে বন উজাড়, কমছে বন্যপ্রাণী" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1114516" rel="follow">আলীকদমে অবাধে বন উজাড়, কমছে বন্যপ্রাণী</a></p>
<p>পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ চপে চলতে দেখা গেছে। অনেক যানবাহনের চালকও দ্রুত এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষায়, গরম ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।</p>
<blockquote>
<p>‘ময়লার গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সবকিছুই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। উন্নয়নের কথা অনেক শুনি, কিন্তু এই সমস্যা আজও রয়ে গেছে।’</p>
</blockquote>
<p>বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের প্রায় ৩০০ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য নিয়মিত এখানে আনা হয়। এসব বর্জ্যের মধ্যে থাকে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, স্যালাইনের পাইপসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো খোলা অবস্থায় পড়ে থাকে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/mym-2-20260605152258.jpg" alt="শহরের প্রবেশমুখে ৩০ বছরের বিষাক্ত ভাগাড়" width="100%" height="auto" /></p>
<p>স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ‘দুর্গন্ধ এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান দেখতে পাইনি।’</p>
<p>একই অভিযোগ করেন গৃহিণী হাফেজা খাতুন। তিনি বলেন, ‘ময়লার গন্ধে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সবকিছুই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। উন্নয়নের কথা অনেক শুনি, কিন্তু এই সমস্যা আজও রয়ে গেছে।’</p>
<blockquote>
<p>‘স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ময়লার দুর্গন্ধে প্রায়ই তার বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় মাথাব্যথা নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়ছে।’</p>
</blockquote>
<p>শুধু বড়রাই নয়, দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশুদেরও। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে সামাদ জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ময়লার দুর্গন্ধে প্রায়ই তার বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় মাথাব্যথা নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়ছে।</p>
<p>পরিবেশবিদদের মতে, মেডিকেল বর্জ্য দীর্ঘদিন উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখার কারণে মাটি, পানি ও বাতাস একসঙ্গে দূষিত হয়। এর মাধ্যমে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী শিশু এবং বর্জ্য সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন-</strong> <br /><a title="হাতিরঝিলে এখনো যত্রতত্র ময়লা, পড়ে আছে গবাদিপশুর মলমূত্রও" href="https://www.jagonews24.com/national/news/1123688" rel="follow">হাতিরঝিলে এখনো যত্রতত্র ময়লা, পড়ে আছে গবাদিপশুর মলমূত্রও<br /></a><a title="খাতা-কলমে নদ, বাস্তবে নর্দমা" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1117731" rel="follow">খাতা-কলমে নদ, বাস্তবে নর্দমা</a></p>
<p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের বর্জ্য প্রথমে নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়। পরে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হয়। তবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।</p>
<blockquote>
<p>‘এভাবে বছরের পর বছর বর্জ্য জমতে থাকলে মিথেনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়ে।’</p>
</blockquote>
<p>প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি এবং পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) ডা. মো. শাহাব উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। অথচ আমরা এখনো সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশকে দূষিত করছি। মেডিকেল বর্জ্য কখনোই সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলা উচিত নয়। দ্রুত আধুনিক শোধনাগার ও বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/mym-3-20260605152312.jpg" alt="শহরের প্রবেশমুখে ৩০ বছরের বিষাক্ত ভাগাড়" width="100%" height="auto" /></p>
<p>তিনি আরও বলেন, এভাবে বছরের পর বছর বর্জ্য জমতে থাকলে মিথেনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়ে।</p>
<p>তবে অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জাগো নিউজকে বলেন, কাঁচা বর্জ্য পচনের কারণেই দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার পর নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।</p>
<p><em>এফএ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>ঢাকা উত্তরে সবুজ বিপ্লব, দক্ষিণে ‘ধু ধু মরুভূমি’</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124954</link>
                <description>
তিন বছরে ৪ লাখ ৩১ হাজার গাছ লাগিয়েছে উত্তর সিটি
গাছ কাটা পড়েছে অনেক, লাগানোর উদ্যোগ নেই দক্ষিণ সিটির

প্রগতি সরণির নর্দ্দা থেকে নতুনবাজার। সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সারি সারি সবুজ গাছ। অল্প কদিনেই দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। কাঠবাদাম গাছগুলো যেন একেকটি ছাতা। নিচে কেউ চা বিক্রি করছে, কেউ ঘুমাচ্ছে অঘোরে। তপ্ত রোদে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে কোনো শ্রমজীবী মানুষ। বেড়েছে পাখপাখালির ওড়াউড়ি।
এই তো বছর তিনেক আগের কথা। খাঁ খাঁ করতো ফুটপাত। বৃষ্টি কিংবা রোদে হঠাৎ দাঁড়িয়ে আশ্রয় নেওয়ার মতো জায়গা ছিল না। সিটি করপোরেশনের যত্নে কাঠবাদাম, ছাতিম, বকুল গাছগুলো চোখের পলকে মানুষ ও প্রাণীদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আগের লাগানো কিছু গাছ রীতিমতো মূল সড়ক পর্যন্ত ছায়া দিচ্ছে।
প্রগতি সরণির সড়ক বিভাজকের গাছগুলো মাথা উঁচু করে ছায়া দিচ্ছে/জাগো নিউজ
কংক্রিটের এই শহরে চোখের জন্যও গাছগুলো হয়েছে স্বস্তি। গাছগুলো দেখলে মনে পড়ে বনফুলের বিখ্যাত অনুগল্প নিমগাছের কথা। একটি গাছ যে এই পৃথিবীর সৃষ্টিকুল কতভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তা অকল্পনীয়। বিনিময়ে সে নেয় খুব কম। বিলিয়ে যাওয়াই যেন তার কাজ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যখন প্রগতি সরণির কিছু অংশের মতো নির্ধারিত এলাকায় সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছে তখন দক্ষিণ সিটি বানিয়েছে ‘ধু ধু মরুভূমি’। মরুভূমি বলা হচ্ছে এ কারণে যে গোটা শহর যখন অতি গরমে পুড়েছে, তখন তারা কোনো গাছ লাগানোর উদ্যোগ তো নেয়ইনি বরং পার্কসহ অনেক এলাকার গাছ নিধন করেছে।
রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে নগরজীবন। তিন বছর আগে হিট অফিসার নিয়োগসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় ডিএনসিসি। নগরে শীতল জায়গা বাড়াতে চার লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেয়। ওই কর্মসূচি অনুযায়ী নগরের ফুটপাত, সড়ক বিভাজক, লেক ও খাল পাড়ে হরেক রকম গাছ লাগিয়েছিল সংস্থাটি।
দক্ষিণ সিটির এসব গাছ কাটা পড়লেও লাগানো হয়েছে ছোট ফুলের গাছ
এখন ঢাকা উত্তরের অধিকাংশ সড়ক বিভাজক-ফুটপাত ফল, ফুল, ঔষধি গাছে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। খাল-লেক বা ঝিলের পাড় সবুজে ছেয়ে গেছে। এসব গাছে মধু সংগ্রহে ফুলে ফুলে উড়ছে অসংখ্য মৌমাছি ও প্রজাপতি। বাতাসে মিলছে ফুলের ঘ্রাণ। বাসা বাঁধছে পাখপাখালি। আশ্রয় নিচ্ছে ছিন্নমূলসহ সব শ্রেণির মানুষ।
ডিএনসিসির এ উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নাগরিকরা। তারা জানান, নগরায়ণের ফলে ক্রমেই শহর থেকে সবুজ গাছ হারিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে গেছে ঋতুচক্র। গ্রীষ্মের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও এখন বইছে তাপপ্রবাহ। উন্নত বিশ্বের সব শহরে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ আছে। তারা গাছের মর্যাদা দিতে জানে। ডিএনসিসিতে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকলেও এদিক দিয়ে বেশকিছুটা এগিয়েছে।
আরও পড়ুন

দেশের প্রথম শব্দনিরোধক পার্ক গুলশানে
সবুজ হারাচ্ছে ঢাকার পার্ক
গাছ কেটে ছায়া খুঁজি

বিশেষ করে চলার পথে তপ্ত রোদে হাঁটতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ এই শহরে সত্যি প্রশান্তি দেয়। তাই এখনো নগরের যেসব স্থানে গাছ লাগানোর সুযোগ আছে, সেখানে পর্যাপ্ত গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
ঢাকা উত্তরে সবুজায়নের ছোঁয়া লাগলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। নগর সবুজায়নে তাদের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।
ডিএনসিসিতে যেভাবে সবুজ বিপ্লব
২০২৩ সালের মে মাসের শেষ দিকে ঢাকায় গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়। তখন ৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজধানীতে শীতল জায়গা বাড়াতে দুই লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ফুটপাত ছাড়াও সড়ক বিভাজকের মাঝে, খাল-লেক পাড়ে গাছ লাগানো শুরু হয়।
 উত্তর সিটির ফুটপাতের গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন বাইকচালক/জাগো নিউজ
তখন এ কর্মসূচির আওতায় কোন ধরনের গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছিল ডিএনসিসি। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সড়কের পাশের ফুটপাতে লাগানো হবে ছাতিম, বকুল ও কাঠবাদাম গাছ। ফুটপাতের যে অংশে জায়গা কিছুটা বড় থাকবে সেখানে লাগানো হবে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু।
আর সড়ক বিভাজকে কাঁটা মেহেদী, রঙ্গন, করবী, বাগানবিলাস ও বামন জারুল লাগানো হবে। পাশাপাশি পাখিদের আকৃষ্ট করতে রসকোগাছের চারাও রোপণ করার কথা ছিল। এছাড়া খালের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন আম, জাম, কাঁঠাল ও ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আতিকুল ইসলামের ওই ঘোষণার মাসখানেক পর মোহাম্মদপুরের বসিলার লাউতলা খালের দুই পাড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির দুই হাজার ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ।

নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।-ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে বসিলা সেতু যেতে হাতের ডান পাশেই লাউতলা খাল। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালের দু’পাড় সবুজে ঘেরা। সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে হরেক রকমের ফল, ফুল, ঔষধি গাছ। বাতাসে মিলছে ফুলের ঘ্রাণ। নিশ্বাসেও যেন অন্যরকম প্রশান্তি। কয়েকটি কদম গাছও বেশ বড় হয়েছে। যেখানে শালিক, টুনটুনি, ঘুঘু, বুলবুলি, দোয়েল পাখির কলরব শোনা যায়।
সবুজে ভরা ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক বিভাজক/জাগো নিউজ
লাউতলা খাল পাড়ের বাসিন্দা আলী আকরাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘লাউতলা খালের যে অংশে ডিএনসিসি সবুজায়ন করেছে, আগে সেখানে বড় একটি ট্রাকস্ট্যান্ড, আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবন, গ্যারেজ ও দোকাপাট ছিল। এগুলো দখলমুক্ত করে ডিএনসিসি বৃক্ষরোপণ করে নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এখন সেখানে হাঁটলে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।’
মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণপাশ থেকে আড়ংয়ের সামনে হয়ে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত সড়কটি তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোড হিসেবে পরিচিত। চার বছর আগে এ সড়কটি সংস্কার করে ডিএনসিসি। তখন প্রায় চার ফুট উঁচু ও চার ফুট চওড়া কংক্রিটের সড়ক বিভাজক নির্মাণ করে সংস্থাটি। এ বিভাজকের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন ফুট জায়গা ফাঁকা রাখা হয়।
পরে এ ফাঁকা জায়গায় মাটি ফেলে হাজারো ফুল, ফল, ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এখন একেকটি গাছ ডাল-পালা ছেড়ে ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে ছায়া দিচ্ছে। একই সময় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনের বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এছাড়া মহাখালী উড়াল সড়ক থেকে গুলশান-১, বনানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং বিজয় সরণির মোড় থেকে ফার্মগেট, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের সড়ক বিভাজকেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগায় ডিএনসিসি।
উত্তর সিটির ফুটপাতের গাছের নিচে বিশ্রাম/জাগো নিউজ
একইভাবে গুলশান-১ থেকে গুলশান-২, গুলশান-১ থেকে মহাখালী, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, প্রগতি সরণির নর্দ্দা, নতুনবাজার, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের ফুটপাতে হাজারও গাছ লাগানো হয়। এতে একদিকে সড়কের সৌন্দর্য বেড়েছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টা। আকাশে তপ্ত রোদ, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন রোদ থেকে বাঁচতে মহাখালী টিভি গেটের বিপরীত পাশের ফুটপাতে একটি কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় দাঁড়ান মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ সোহেল। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আগে রাস্তার দিকে তাকালে শুধু কংক্রিট আর যানজট দেখা যেত। এখন গাছপালা থাকায় পরিবেশ অনেক প্রাণবন্ত মনে হয়। অধিকাংশ গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দেয়।’
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীত পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বাড্ডা লিংক রোডে যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রাশেদা বেগম। তপ্ত রোদে তিনিও একটি কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন। রাশেদা বেগম বলেন, ‘গরমের দিনে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় এখন কিছুটা স্বস্তি পাই। গাছগুলো বড় হলে আরও উপকার হবে বলে মনে করি।’
গত ১৮ মে উত্তরা দিয়াবাড়ী ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্বপাশে গ্রিনবেল্ট চিহ্নিত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএনসিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে ঢাকা শহরের বায়ু, পানি ও মাটি দূষণের প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।
সবুজে ভরা ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক বিভাজক-ফুটপাত/জাগো নিউজ
ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে এর আগে একই স্থানে ফেজ–১ (চেইনেজ ০–১৫০ মিটার) অংশে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণের কাজ ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গত ১৫ জানুয়ারি সময়ে সম্পন্ন করা হয়। এখন ফেজ–২ ও ফেজ–৩ অংশে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হবে, যেখানে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এ বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রি নীতিমালা অনুসরণ করে উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল সূত্র জানায়, গত তিন বছরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় চার লাখ ৩১ হাজার ৭৭৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফলদ, বনজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাতীয় এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ রয়েছে। চলতি বছর আরও ৫৫ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে বনায়নের মাধ্যমে ১৪ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং ৩৯ হাজার ৪শ গাছ রোপণের কাজ চলমান। এছাড়া সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সবুজায়ন কার্যক্রম চলছে।
জানতে চাইলে ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিএনসিসি আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও নগর তাপদ্বীপ প্রভাব মোকাবিলায় কাজে দেবে।’
নগর সবুজায়নে নজর নেই দক্ষিণ সিটির
৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ডিএসসিসি গঠিত। এর মধ্যে বড় একটি অংশ পুরান ঢাকা, যা ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে ঘিঞ্জি এলাকা। এখানে নর্থসাউথ রোড, ইংলিশ রোড, জনসন রোড, ধোলাইখাল রোড ছাড়া চওড়া কোনো সড়ক নেই। ফলে পুরো পুরান ঢাকায় গলি সড়ক দিয়েই মানুষ চলাচল করেন। এসব গলিতে ফুটপাত নেই।
বড় গাছ কেটে এমন ছায়া না দেওয়া ফুল গাছ লাগিয়েছে দক্ষিণ সিটি
এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণের যেসব সড়ক রয়েছে, সেগুলোর সড়ক বিভাজকের মধ্যে বাগানবিলাসসহ কিছু গাছ শোভা পেয়েছে। কিন্তু কোথাও পথচারীদের ছায়া দেবে বা পথচারীদের চোখের প্রশান্তি দেবে, এমন কোনো গাছ সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে নেই। যদিও রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন দক্ষিণ সিটিতে পড়েছে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নানান কারণে বিভিন্ন সময়ে উজাড় করা হয়েছে অসংখ্য গাছ। এছাড়া মেগাপ্রকল্পের নামে পান্থকুঞ্জ পার্কের বেশ বড় বড় কিছু গাছ কাটা পড়েছে।

দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ রাস্তা সরু। ফুটপাতও তেমন চওড়া নয়। ফলে পথচারীদের ছায়া দেবে, এমন গাছ লাগানোর সুযোগ কম। তবে বড় সড়কগুলোর বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর কার্যক্রম চলছে।-ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) রাজীব খাদেম

এরই মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা যখন বেড়ে চলেছে তখন গাছ না লাগিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিলে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে ধানমন্ডির একটি সড়ক বিভাজকের প্রায় দুই হাজার গাছ কেটে ফেলে ডিএসসিসি। প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে সেখানে বাগানবিলাসসহ কিছু ফুলগাছ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ না করায় তার অধিকাংশই মারা যায়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাতমসজিদ রোডে সড়ক বিভাজকের ওপর রঙ্গন, কামিনী, বাগানবিলাস গাছ রয়েছে। কিন্তু সড়ক বিভাজকে চলার পথে পথচারী বা যানবাহনে থাকা যাত্রীদের ছায়া দেবে এমন কোনো গাছ দেখা যায়নি।
গাছ কেটে সাফ করা হয়েছে পান্থকুঞ্জ পার্কের
ঝিগাতলার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘ফুটপাতের সবুজায়ন শহরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বস্তিও বাড়ায়। কিন্তু এ সবুজায়নের কাজটা সিটি করপোরেশন করছে না। উল্টো তিন বছর আগে সাতমসজিদ রোডের হাজারো গাছ তারা কেটে ফেলেছে।’
গত ১৫ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়ালে প্রায় ১৩শ ৫০ ফুট বিভিন্ন রঙে গ্রাফিতি আঁকা হয়। এসব গ্রাফিতিতে গ্রামীণ ঐতিহ্যসহ নানা ধরনের ফুল আঁকা হয়েছে। আর ফুটপাতের ওপর রাখা হয়েছে কিছু টবের গাছ।
জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) রাজীব খাদেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ রাস্তা সরু। ফুটপাতও তেমন চওড়া নয়। ফলে পথচারীদের ছায়া দেবে, এমন গাছ লাগানোর সুযোগ কম। তবে বড় সড়কগুলোর বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর কার্যক্রম চলছে।’
এমএমএ/এএসএ/এমএফএ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:24:58 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124954</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tree-mpy7k4h5sl2e2vq-20260603213544.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<ul>
<li><span style="color: #800000;"><strong>তিন বছরে ৪ লাখ ৩১ হাজার গাছ লাগিয়েছে উত্তর সিটি</strong></span></li>
<li><span style="color: #800000;"><strong>গাছ কাটা পড়েছে অনেক, লাগানোর উদ্যোগ নেই দক্ষিণ সিটির</strong></span></li>
</ul>
<p>প্রগতি সরণির নর্দ্দা থেকে নতুনবাজার। সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সারি সারি সবুজ গাছ। অল্প কদিনেই দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। কাঠবাদাম গাছগুলো যেন একেকটি ছাতা। নিচে কেউ চা বিক্রি করছে, কেউ ঘুমাচ্ছে অঘোরে। তপ্ত রোদে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে কোনো শ্রমজীবী মানুষ। বেড়েছে পাখপাখালির ওড়াউড়ি।</p>
<p>এই তো বছর তিনেক আগের কথা। খাঁ খাঁ করতো ফুটপাত। বৃষ্টি কিংবা রোদে হঠাৎ দাঁড়িয়ে আশ্রয় নেওয়ার মতো জায়গা ছিল না। সিটি করপোরেশনের যত্নে কাঠবাদাম, ছাতিম, বকুল গাছগুলো চোখের পলকে মানুষ ও প্রাণীদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আগের লাগানো কিছু গাছ রীতিমতো মূল সড়ক পর্যন্ত ছায়া দিচ্ছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/3-20260603211336.jpg" alt="ঢাকায় সবুজ বিপ্লব" width="100%" height="Auto" /><em>প্রগতি সরণির সড়ক বিভাজকের গাছগুলো মাথা উঁচু করে ছায়া দিচ্ছে/জাগো নিউজ</em></p>
<p>কংক্রিটের এই শহরে চোখের জন্যও গাছগুলো হয়েছে স্বস্তি। গাছগুলো দেখলে মনে পড়ে বনফুলের বিখ্যাত অনুগল্প নিমগাছের কথা। একটি গাছ যে এই পৃথিবীর সৃষ্টিকুল কতভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তা অকল্পনীয়। বিনিময়ে সে নেয় খুব কম। বিলিয়ে যাওয়াই যেন তার কাজ।</p>
<p>ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যখন প্রগতি সরণির কিছু অংশের মতো নির্ধারিত এলাকায় সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছে তখন দক্ষিণ সিটি বানিয়েছে ‘ধু ধু মরুভূমি’। মরুভূমি বলা হচ্ছে এ কারণে যে গোটা শহর যখন অতি গরমে পুড়েছে, তখন তারা কোনো গাছ লাগানোর উদ্যোগ তো নেয়ইনি বরং পার্কসহ অনেক এলাকার গাছ নিধন করেছে।</p>
<p>রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে নগরজীবন। তিন বছর আগে হিট অফিসার নিয়োগসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় ডিএনসিসি। নগরে শীতল জায়গা বাড়াতে চার লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেয়। ওই কর্মসূচি অনুযায়ী নগরের ফুটপাত, সড়ক বিভাজক, লেক ও খাল পাড়ে হরেক রকম গাছ লাগিয়েছিল সংস্থাটি।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-1-20260603211645.jpg" alt="ঢাকা সবুজ বিপ্লব" width="100%" height="auto" /><em>দক্ষিণ সিটির এসব গাছ কাটা পড়লেও লাগানো হয়েছে ছোট ফুলের গাছ</em></p>
<p>এখন ঢাকা উত্তরের অধিকাংশ সড়ক বিভাজক-ফুটপাত ফল, ফুল, ঔষধি গাছে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। খাল-লেক বা ঝিলের পাড় সবুজে ছেয়ে গেছে। এসব গাছে মধু সংগ্রহে ফুলে ফুলে উড়ছে অসংখ্য মৌমাছি ও প্রজাপতি। বাতাসে মিলছে ফুলের ঘ্রাণ। বাসা বাঁধছে পাখপাখালি। আশ্রয় নিচ্ছে ছিন্নমূলসহ সব শ্রেণির মানুষ।</p>
<p>ডিএনসিসির এ উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নাগরিকরা। তারা জানান, নগরায়ণের ফলে ক্রমেই শহর থেকে সবুজ গাছ হারিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে গেছে ঋতুচক্র। গ্রীষ্মের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও এখন বইছে তাপপ্রবাহ। উন্নত বিশ্বের সব শহরে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ আছে। তারা গাছের মর্যাদা দিতে জানে। ডিএনসিসিতে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকলেও এদিক দিয়ে বেশকিছুটা এগিয়েছে।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong></p>
<ul>
<li><strong><a href="https://www.jagonews24.com/national/news/921248">দেশের প্রথম শব্দনিরোধক পার্ক গুলশানে</a></strong></li>
<li><strong><a href="https://www.jagonews24.com/national/news/943136">সবুজ হারাচ্ছে ঢাকার পার্ক</a></strong></li>
<li><strong><a href="https://www.jagonews24.com/national/news/939430">গাছ কেটে ছায়া খুঁজি</a></strong></li>
</ul>
<p>বিশেষ করে চলার পথে তপ্ত রোদে হাঁটতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ এই শহরে সত্যি প্রশান্তি দেয়। তাই এখনো নগরের যেসব স্থানে গাছ লাগানোর সুযোগ আছে, সেখানে পর্যাপ্ত গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।</p>
<p>ঢাকা উত্তরে সবুজায়নের ছোঁয়া লাগলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। নগর সবুজায়নে তাদের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।</p>
<h2>ডিএনসিসিতে যেভাবে সবুজ বিপ্লব</h2>
<p>২০২৩ সালের মে মাসের শেষ দিকে ঢাকায় গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়। তখন ৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজধানীতে শীতল জায়গা বাড়াতে দুই লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ফুটপাত ছাড়াও সড়ক বিভাজকের মাঝে, খাল-লেক পাড়ে গাছ লাগানো শুরু হয়।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-3-20260603211832.jpg" alt="ঢাকার সবুজ বিপ্লব" width="100%" height="auto" /> <em>উত্তর সিটির ফুটপাতের গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন বাইকচালক/জাগো নিউজ</em></p>
<p>তখন এ কর্মসূচির আওতায় কোন ধরনের গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছিল ডিএনসিসি। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সড়কের পাশের ফুটপাতে লাগানো হবে ছাতিম, বকুল ও কাঠবাদাম গাছ। ফুটপাতের যে অংশে জায়গা কিছুটা বড় থাকবে সেখানে লাগানো হবে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু।</p>
<p>আর সড়ক বিভাজকে কাঁটা মেহেদী, রঙ্গন, করবী, বাগানবিলাস ও বামন জারুল লাগানো হবে। পাশাপাশি পাখিদের আকৃষ্ট করতে রসকোগাছের চারাও রোপণ করার কথা ছিল। এছাড়া খালের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন আম, জাম, কাঁঠাল ও ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।</p>
<p>আতিকুল ইসলামের ওই ঘোষণার মাসখানেক পর মোহাম্মদপুরের বসিলার লাউতলা খালের দুই পাড়ে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির দুই হাজার ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ।</p>
<blockquote>
<p><strong>নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।-ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম</strong></p>
</blockquote>
<p>মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে বসিলা সেতু যেতে হাতের ডান পাশেই লাউতলা খাল। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় আধা কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালের দু’পাড় সবুজে ঘেরা। সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে হরেক রকমের ফল, ফুল, ঔষধি গাছ। বাতাসে মিলছে ফুলের ঘ্রাণ। নিশ্বাসেও যেন অন্যরকম প্রশান্তি। কয়েকটি কদম গাছও বেশ বড় হয়েছে। যেখানে শালিক, টুনটুনি, ঘুঘু, বুলবুলি, দোয়েল পাখির কলরব শোনা যায়।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-5-20260603212011.jpg" alt="সবুজে ভরা ঢাকার ফুটপাত" width="100%" height="auto" /><em>সবুজে ভরা ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক বিভাজক/জাগো নিউজ</em></p>
<p>লাউতলা খাল পাড়ের বাসিন্দা আলী আকরাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘লাউতলা খালের যে অংশে ডিএনসিসি সবুজায়ন করেছে, আগে সেখানে বড় একটি ট্রাকস্ট্যান্ড, আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবন, গ্যারেজ ও দোকাপাট ছিল। এগুলো দখলমুক্ত করে ডিএনসিসি বৃক্ষরোপণ করে নান্দনিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এখন সেখানে হাঁটলে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।’</p>
<p>মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণপাশ থেকে আড়ংয়ের সামনে হয়ে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত সড়কটি তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোড হিসেবে পরিচিত। চার বছর আগে এ সড়কটি সংস্কার করে ডিএনসিসি। তখন প্রায় চার ফুট উঁচু ও চার ফুট চওড়া কংক্রিটের সড়ক বিভাজক নির্মাণ করে সংস্থাটি। এ বিভাজকের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন ফুট জায়গা ফাঁকা রাখা হয়।</p>
<p>পরে এ ফাঁকা জায়গায় মাটি ফেলে হাজারো ফুল, ফল, ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এখন একেকটি গাছ ডাল-পালা ছেড়ে ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে ছায়া দিচ্ছে। একই সময় আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনের বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এছাড়া মহাখালী উড়াল সড়ক থেকে গুলশান-১, বনানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং বিজয় সরণির মোড় থেকে ফার্মগেট, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের সড়ক বিভাজকেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগায় ডিএনসিসি।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-11-20260603212139.jpg" alt="ঢাকায় সবুজ বিপ্লব" width="100%" height="auto" /><em>উত্তর সিটির ফুটপাতের গাছের নিচে বিশ্রাম/জাগো নিউজ</em></p>
<p>একইভাবে গুলশান-১ থেকে গুলশান-২, গুলশান-১ থেকে মহাখালী, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, প্রগতি সরণির নর্দ্দা, নতুনবাজার, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের ফুটপাতে হাজারও গাছ লাগানো হয়। এতে একদিকে সড়কের সৌন্দর্য বেড়েছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব।</p>
<p>বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টা। আকাশে তপ্ত রোদ, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন রোদ থেকে বাঁচতে মহাখালী টিভি গেটের বিপরীত পাশের ফুটপাতে একটি কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় দাঁড়ান মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ সোহেল। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আগে রাস্তার দিকে তাকালে শুধু কংক্রিট আর যানজট দেখা যেত। এখন গাছপালা থাকায় পরিবেশ অনেক প্রাণবন্ত মনে হয়। অধিকাংশ গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দেয়।’</p>
<p>ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপরীত পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বাড্ডা লিংক রোডে যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রাশেদা বেগম। তপ্ত রোদে তিনিও একটি কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন। রাশেদা বেগম বলেন, ‘গরমের দিনে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় এখন কিছুটা স্বস্তি পাই। গাছগুলো বড় হলে আরও উপকার হবে বলে মনে করি।’</p>
<p>গত ১৮ মে উত্তরা দিয়াবাড়ী ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্বপাশে গ্রিনবেল্ট চিহ্নিত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সর্ববৃহৎ মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএনসিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে ঢাকা শহরের বায়ু, পানি ও মাটি দূষণের প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-21-20260603212248.jpg" alt="উত্তর সিটিতে সবুজ বিপ্লব" width="100%" height="auto" /><em>সবুজে ভরা ঢাকা উত্তর সিটির সড়ক বিভাজক-ফুটপাত/জাগো নিউজ</em></p>
<p>ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে এর আগে একই স্থানে ফেজ–১ (চেইনেজ ০–১৫০ মিটার) অংশে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণের কাজ ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গত ১৫ জানুয়ারি সময়ে সম্পন্ন করা হয়। এখন ফেজ–২ ও ফেজ–৩ অংশে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হবে, যেখানে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।</p>
<p>মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এ বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রি নীতিমালা অনুসরণ করে উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।</p>
<p>ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল সূত্র জানায়, গত তিন বছরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় চার লাখ ৩১ হাজার ৭৭৩টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফলদ, বনজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাতীয় এবং শোভাবর্ধনকারী গাছ রয়েছে। চলতি বছর আরও ৫৫ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে বনায়নের মাধ্যমে ১৪ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং ৩৯ হাজার ৪শ গাছ রোপণের কাজ চলমান। এছাড়া সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে সবুজায়ন কার্যক্রম চলছে।</p>
<p>জানতে চাইলে ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডিএনসিসি আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।’</p>
<p>তিনি বলেন, ‘নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও নগর তাপদ্বীপ প্রভাব মোকাবিলায় কাজে দেবে।’</p>
<h2>নগর সবুজায়নে নজর নেই দক্ষিণ সিটির</h2>
<p>৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে ডিএসসিসি গঠিত। এর মধ্যে বড় একটি অংশ পুরান ঢাকা, যা ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে ঘিঞ্জি এলাকা। এখানে নর্থসাউথ রোড, ইংলিশ রোড, জনসন রোড, ধোলাইখাল রোড ছাড়া চওড়া কোনো সড়ক নেই। ফলে পুরো পুরান ঢাকায় গলি সড়ক দিয়েই মানুষ চলাচল করেন। এসব গলিতে ফুটপাত নেই।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-2-20260603212359.jpg" alt="দক্ষিণ সিটি মরুভূমি" width="100%" height="auto" /><em>বড় গাছ কেটে এমন ছায়া না দেওয়া ফুল গাছ লাগিয়েছে দক্ষিণ সিটি</em></p>
<p>এর বাইরে ঢাকা দক্ষিণের যেসব সড়ক রয়েছে, সেগুলোর সড়ক বিভাজকের মধ্যে বাগানবিলাসসহ কিছু গাছ শোভা পেয়েছে। কিন্তু কোথাও পথচারীদের ছায়া দেবে বা পথচারীদের চোখের প্রশান্তি দেবে, এমন কোনো গাছ সড়ক বিভাজক ও ফুটপাতে নেই। যদিও রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন দক্ষিণ সিটিতে পড়েছে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নানান কারণে বিভিন্ন সময়ে উজাড় করা হয়েছে অসংখ্য গাছ। এছাড়া মেগাপ্রকল্পের নামে পান্থকুঞ্জ পার্কের বেশ বড় বড় কিছু গাছ কাটা পড়েছে।</p>
<blockquote>
<p><strong>দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ রাস্তা সরু। ফুটপাতও তেমন চওড়া নয়। ফলে পথচারীদের ছায়া দেবে, এমন গাছ লাগানোর সুযোগ কম। তবে বড় সড়কগুলোর বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর কার্যক্রম চলছে।-ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) রাজীব খাদেম</strong></p>
</blockquote>
<p>এরই মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা যখন বেড়ে চলেছে তখন গাছ না লাগিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিলে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে ধানমন্ডির একটি সড়ক বিভাজকের প্রায় দুই হাজার গাছ কেটে ফেলে ডিএসসিসি। প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে সেখানে বাগানবিলাসসহ কিছু ফুলগাছ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ না করায় তার অধিকাংশই মারা যায়।</p>
<p>সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাতমসজিদ রোডে সড়ক বিভাজকের ওপর রঙ্গন, কামিনী, বাগানবিলাস গাছ রয়েছে। কিন্তু সড়ক বিভাজকে চলার পথে পথচারী বা যানবাহনে থাকা যাত্রীদের ছায়া দেবে এমন কোনো গাছ দেখা যায়নি।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/dhk-cover-20240519084010-20260603212922.jpg" alt="ঢাকার গাছ" width="750" height="390" /><em>গাছ কেটে সাফ করা হয়েছে পান্থকুঞ্জ পার্কের</em></p>
<p>ঝিগাতলার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘ফুটপাতের সবুজায়ন শহরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বস্তিও বাড়ায়। কিন্তু এ সবুজায়নের কাজটা সিটি করপোরেশন করছে না। উল্টো তিন বছর আগে সাতমসজিদ রোডের হাজারো গাছ তারা কেটে ফেলেছে।’</p>
<p>গত ১৫ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়ালে প্রায় ১৩শ ৫০ ফুট বিভিন্ন রঙে গ্রাফিতি আঁকা হয়। এসব গ্রাফিতিতে গ্রামীণ ঐতিহ্যসহ নানা ধরনের ফুল আঁকা হয়েছে। আর ফুটপাতের ওপর রাখা হয়েছে কিছু টবের গাছ।</p>
<p>জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেল) রাজীব খাদেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ রাস্তা সরু। ফুটপাতও তেমন চওড়া নয়। ফলে পথচারীদের ছায়া দেবে, এমন গাছ লাগানোর সুযোগ কম। তবে বড় সড়কগুলোর বিভাজকে ফুলগাছ লাগানোর কার্যক্রম চলছে।’</p>
<p><em>এমএমএ/এএসএ/এমএফএ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>জলবায়ুর অভিঘাতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/feature/article/1124953</link>
                <description>অভিলাষ মাহমুদ
বাংলাদেশ প্রকৃতিগতভাবেই নদীমাতৃক ও দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে মাত্রায় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, তা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক কাঠামোকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। জলবায়ুর অভিঘাতে বাংলাদেশ আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।
একসময় ঋতুভিত্তিক আবহাওয়া ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্তের স্বাভাবিক চক্র মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করত। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কখনো তীব্র তাপপ্রবাহ, কখনো অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, আবার কখনো দীর্ঘস্থায়ী খরা জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়েছে। কৃষিজমি হারাচ্ছে উর্বরতা, মিঠা পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে, আর জীবিকা হারিয়ে অনেক মানুষ বাধ্য হচ্ছে অন্যত্র চলে যেতে। ফলে জলবায়ুজনিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ছে।
নদীভাঙনও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। একদিকে নদী গিলে খাচ্ছে জনপদ, অন্যদিকে নতুন চর জেগে উঠলেও সেখানে টেকসই বসতি গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। নদীভাঙনের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও অনেক মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
কৃষিখাত জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর একটি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা এবং ঘূর্ণিঝড় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক এলাকায় ধান, গম ও সবজির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের বাড়ছে উৎপাদন খরচ, কমছে লাভের পরিমাণ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়ছে।
স্বাস্থ্য খাতেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। আবার বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগও নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
জলবায়ুর প্রভাব শুধু গ্রামাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। শহরাঞ্চলেও এর অভিঘাত ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নগরজীবন কঠিন হয়ে উঠছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সবুজের সংকোচন এবং জলাধার ভরাটের ফলে নগরাঞ্চল আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বাংলাদেশ অভিযোজনের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, নদী ও জলাশয় রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন আজ শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি উন্নয়ন, অর্থনীতি, মানবাধিকার এবং টিকে থাকার প্রশ্ন। প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার লক্ষ্যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

আরও পড়ুন২০০ বছর আগের এক দুর্ঘটনা থেকেই দেয়াশলাইর আবিষ্কারজলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

কেএসকে</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:22:26 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/feature/article/1124953</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/climate-mq0pslfdvqdt638-20260605152226.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p><span style="color: #0000ff;"><strong>অভিলাষ মাহমুদ</strong></span></p>
<p>বাংলাদেশ প্রকৃতিগতভাবেই নদীমাতৃক ও দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে মাত্রায় দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, তা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক কাঠামোকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। জলবায়ুর অভিঘাতে বাংলাদেশ আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।</p>
<p>একসময় ঋতুভিত্তিক আবহাওয়া ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্তের স্বাভাবিক চক্র মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করত। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কখনো তীব্র তাপপ্রবাহ, কখনো অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, আবার কখনো দীর্ঘস্থায়ী খরা জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে।</p>
<p>বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়েছে। কৃষিজমি হারাচ্ছে উর্বরতা, মিঠা পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে, আর জীবিকা হারিয়ে অনেক মানুষ বাধ্য হচ্ছে অন্যত্র চলে যেতে। ফলে জলবায়ুজনিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ছে।</p>
<p>নদীভাঙনও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। একদিকে নদী গিলে খাচ্ছে জনপদ, অন্যদিকে নতুন চর জেগে উঠলেও সেখানে টেকসই বসতি গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। নদীভাঙনের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও অনেক মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।</p>
<p>কৃষিখাত জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোর একটি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা এবং ঘূর্ণিঝড় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক এলাকায় ধান, গম ও সবজির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের বাড়ছে উৎপাদন খরচ, কমছে লাভের পরিমাণ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়ছে।</p>
<p>স্বাস্থ্য খাতেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। আবার বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগও নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।</p>
<p>জলবায়ুর প্রভাব শুধু গ্রামাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। শহরাঞ্চলেও এর অভিঘাত ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নগরজীবন কঠিন হয়ে উঠছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সবুজের সংকোচন এবং জলাধার ভরাটের ফলে নগরাঞ্চল আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।</p>
<p>তবে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বাংলাদেশ অভিযোজনের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।</p>
<p>বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, নদী ও জলাশয় রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর।</p>
<p>বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন আজ শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি উন্নয়ন, অর্থনীতি, মানবাধিকার এবং টিকে থাকার প্রশ্ন। প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার লক্ষ্যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।</p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><strong><a title="২০০ বছর আগের এক দুর্ঘটনা থেকেই দেয়াশলাইর আবিষ্কার" href="https://www.jagonews24.com/feature/article/1123369" rel="follow">২০০ বছর আগের এক দুর্ঘটনা থেকেই দেয়াশলাইর আবিষ্কার</a></strong><br /><strong><a title="জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়" href="https://www.jagonews24.com/feature/article/1124893" rel="follow">জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়</a></strong></li>
</ul>
<p><em>কেএসকে</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বিমানবন্দর বন্ধ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/international/news/1124952</link>
                <description>ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট লিওতোবি লাকি লাকিতে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এতে আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডালি ছড়িয়ে পড়েছে এবং একটি স্থানীয় বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির জাতীয় আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এ সময় প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার উচ্চতায় আগ্নেয় ছাই ও অন্যান্য উপাদান ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির জন্য ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের চারপাশে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা আরও জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাত হলে আশপাশের নদীগুলোতে আগ্নেয়গিরি থেকে নেমে আসা ছাই, পাথর ও কাদার মিশ্রণে সৃষ্ট বিপজ্জনক লাহার (আগ্নেয় বন্যা) দেখা দিতে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের প্রধান পার্তাহিয়ান পানজাইতান জানান, এর ফলে অন্তত পাঁচটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়েছে।
ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘লাকি-লাকি’ শব্দের অর্থ ‘পুরুষ’। ১ হাজার ৫৮৪ মিটার উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরির পাশেই রয়েছে অপেক্ষাকৃত শান্ত আরেকটি আগ্নেয়গিরি, যার নাম পেরেম্পুয়ান। পেরেম্পুয়ান শব্দের অর্থ ‘নারী’।
গত বছরের জুলাই মাসে লেওতোবি লাকি-লাকি থেকে ১৮ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাইয়ের বিশাল স্তম্ভ তৈরি হয়েছিল। সে সময় পর্যটন দ্বীপ বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:12:31 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/international/news/1124952</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/laki-laki-mq0pf9mgn6gvycf-20260605151231.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট লিওতোবি লাকি লাকিতে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এতে আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডালি ছড়িয়ে পড়েছে এবং একটি স্থানীয় বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।</p>
<p>দেশটির জাতীয় আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এ সময় প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার উচ্চতায় আগ্নেয় ছাই ও অন্যান্য উপাদান ছড়িয়ে পড়ে।</p>
<p>বর্তমানে লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির জন্য ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের চারপাশে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।</p>
<p>আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা আরও জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাত হলে আশপাশের নদীগুলোতে আগ্নেয়গিরি থেকে নেমে আসা ছাই, পাথর ও কাদার মিশ্রণে সৃষ্ট বিপজ্জনক লাহার (আগ্নেয় বন্যা) দেখা দিতে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।</p>
<p>অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।</p>
<p>বিমানবন্দরের প্রধান পার্তাহিয়ান পানজাইতান জানান, এর ফলে অন্তত পাঁচটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়েছে।</p>
<p>ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘লাকি-লাকি’ শব্দের অর্থ ‘পুরুষ’। ১ হাজার ৫৮৪ মিটার উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরির পাশেই রয়েছে অপেক্ষাকৃত শান্ত আরেকটি আগ্নেয়গিরি, যার নাম পেরেম্পুয়ান। পেরেম্পুয়ান শব্দের অর্থ ‘নারী’।</p>
<p>গত বছরের জুলাই মাসে লেওতোবি লাকি-লাকি থেকে ১৮ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাইয়ের বিশাল স্তম্ভ তৈরি হয়েছিল। সে সময় পর্যটন দ্বীপ বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।</p>
<p>প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।</p>
<p><em>সূত্র: এএফপি</em></p>
<p><em>এমএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বজ্রপাতে মাঠেই প্রাণ গেলো কৃষকের</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124951</link>
                <description>বরগুনা সদরে মাঠে কাজের সময় বজ্রপাতে মো. মহিউদ্দিন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুকটানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মহিউদ্দিন ওই এলাকার মো. সেকান্দারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মহিউদ্দিন জমিতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
পরে প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান জানান, বৃষ্টির সময় মহিউদ্দিন মাঠে কাজ করছিলেন। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। বিকট শব্দে একটি বজ্রপাত হলে সে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু চিকিৎসক মহিউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নুরুল আহাদ অনিক/এএইচ/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:10:27 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124951</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/borguna-20260605151027.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>বরগুনা সদরে মাঠে কাজের সময় বজ্রপাতে মো. মহিউদ্দিন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তুকটানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।</p>
<p>নিহত মহিউদ্দিন ওই এলাকার মো. সেকান্দারের ছেলে।</p>
<p>স্থানীয়রা জানায়, সকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মহিউদ্দিন জমিতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।</p>
<p>পরে প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।</p>
<p>নিহতের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান জানান, বৃষ্টির সময় মহিউদ্দিন মাঠে কাজ করছিলেন। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। বিকট শব্দে একটি বজ্রপাত হলে সে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু চিকিৎসক মহিউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।</p>
<p>বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।</p>
<p><em>নুরুল আহাদ অনিক/এএইচ/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>নওগাঁয় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124950</link>
                <description>নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয় তারা।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। সংবাদ পাওয়ার পর হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে ভারতীয় শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে শনাক্ত করা হয়। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্য রেখায় অবস্থান করছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সংবাদ পাওয়ার পরে ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরমান হোসেন রুমন/কেএইচকে/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:05:52 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124950</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/naogaon-20260605150551.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয় তারা।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।</p>
<p>নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। সংবাদ পাওয়ার পর হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে ভারতীয় শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে শনাক্ত করা হয়। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্য রেখায় অবস্থান করছে।</p>
<p>নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সংবাদ পাওয়ার পরে ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।</p>
<p><em>আরমান হোসেন রুমন/কেএইচকে/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124949</link>
                <description>
ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ
শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে
২৩ বছরে ২৭ বার আগুন

নানান সমস্যায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট—এ দুই কারণেই বনের প্রাণ-প্রকৃতি মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় মনুষ্য সৃষ্ট কাণ্ডে বেশি হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবন। প্রাকৃতিকভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলো বনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধন করছে। এর সঙ্গে রয়েছে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব।
ফারাক্কার কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লবণাক্ততা কুঁড়ে খাচ্ছে সুন্দরবনকে। রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন সুন্দরবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বন বিভাগ, পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অসংখ্য নদী-খাল রয়েছে। এসব নদী-খালে রয়েছে মাছের প্রাচুর্যতা। কিন্তু অতি মুনাফালোভী জেলেরা এসব খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন। এতে মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিষমিশ্রিত মাছ খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সেইসঙ্গে বিষমিশ্রিত পানি বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এই পানি পান করছে বনের পশু-পাখী। ফলে হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবনের প্রাণীকূল।

‘সুন্দরবন দিয়ে প্রবাহমান পশুর নদী দূষণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে। সরকারি সংস্থা সিইইজিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশুর নদীর পানিতে বিষাক্ত সিসার (মার্কারি) পরিমাণ বাড়ছে। নদীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ মার্কারি বেড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর ক্ষতি ও বায়ু দূষণে মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে’

শিল্প দূষণে সুন্দরবনের ক্ষতিও কোনো অংশে কম নয়। সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) শিল্পায়ন গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে। আর পশুর নদীর জোয়ার-ভাটায় তা প্রবেশ করছে বনের অভ্যন্তরে। আর এতে বনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের শিকারও সুন্দরবন। সম্প্রতি এক গবেষণায় সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা, পশুর ও রুপসা নদীর ১৭ প্রজাতির মাছে মাইক্রো প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। এই মাইক্রো প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি মিলেছে সুন্দরবনের হরিণা চিংড়িতে। এ মাছে মানবদেহে ক্যানসার ও লিভার ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি ব্রাজিলের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র বলছে, সুন্দরবনের বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী পাচারে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এসব অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারা। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) গবেষণা অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী অপরাধের মাত্র ৩০ শতাংশ আসামি গ্রেফতার হন। মামলায় সাজা কম ও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। তাই মামলা শেষে আবার তারা অপরাধে জড়াচ্ছেন।

‘সুন্দরবনের নদীতে তেল, কয়লা, সার ও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজডুবিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। নৌযানের ঢেউয়ে বনে ভাঙন ধরছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে গাছপালা। নৌযানের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে ডলফিনের অভয়াশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’

সুন্দরবনের ৫৫ ভাগ এলাকাই অভয়াশ্রম। সেই অভয়াশ্রমও এখন আর নিরাপদ নেই বলছেন গবেষকরা। নিষিদ্ধ অভয়াশ্রমে এক শ্রেণির অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সহায়তায় সারা বছরই মাছ শিকার করেন অসৎ জেলেরা। ফলে অভয়াশ্রমও ধ্বংস হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে দস্যুতায় ফিরছেন আত্মসমর্পণকারীরা, নেপথ্যে দুই কারণসুন্দরবনে ‘বনবাস’ যেন এক অনন্ত শান্তিমিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেক সুন্দরবনসুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের উদ্যোগফের চালুর উদ্যোগ, কর্মসংস্থান হবে হাজারো মানুষেরসুন্দরবনে নষ্ট হচ্ছে জব্দ হাজারো নৌকা-ট্রলার
সুন্দরবনের নদীতে তেল, কয়লা, সার ও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজডুবিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। নৌযানের ঢেউয়ে বনে ভাঙন ধরছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে গাছপালা। নৌযানের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে ডলফিনের অভয়াশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। এতে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি, প্রজনন সমস্যা ও প্রাণীকূলের সুপেয় পানির আধার বিনষ্ট হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ না থাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে বনের অনেক গাছপালা মারা যাচ্ছে। বনের প্রাণীকূলের ওপরও এ প্রভাব পড়ছে।

সুন্দরবন দিয়ে প্রবাহমান পশুর নদী দূষণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে। সরকারি সংস্থা সিইইজিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশুর নদীর পানিতে বিষাক্ত সিসার (মার্কারি) পরিমাণ বাড়ছে। নদীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ মার্কারি বেড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর ক্ষতি ও বায়ু দূষণে মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে।

‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও বন নির্ভরশীলদের জীবন-জীবিকা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বন অপরাধ দমনে সোচ্চার আছি। বনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাউকেই বন ঘিরে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করতে দেওয়া হবে না’—বন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) তথ্যমতে, সুন্দরবনের মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বাঘ, ভোঁদড়, শকুন ও কচ্ছপ। বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বানর, মেছোবিড়াল ও উইদ বিড়াল। আর সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বনবিড়াল, বাগডাশ, ইরাবতি ডলফিন ও শুশুক।
২৩ বছরে ২৭ বার আগুন
সুন্দরবনে একের পর এক আগুন লাগায় বনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে আসছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন লেগেছে। যার সব কটিই পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় এবং লোকালয়-সংলগ্ন ভোলা নদীর পাশের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চলে।
এসব আগুনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বেশির ভাগ আগুন লেগেছে জেলে-মৌয়ালদের অসাবধানতায়। যদিও এ নিয়ে বনজীবীদের দ্বিমত আছে। আগুনে অন্তত ৭০ একর বনভূমি পুড়েছে।
‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গর্বিত অভিভাবক আমরা। সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।’
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ‘সুন্দরবনে ধ্বংসযজ্ঞ অনেকদিন ধরেই চলমান। এর বিশালতার কারণে আমরা খালি চোখে সরল চিন্তায় এখনো এই অপূরণীয় ক্ষতি বুঝতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বেপরোয়া শিল্পায়নকে সঠিকভাবে পুনরায় পরিকল্পিত টেকসই শিল্পায়নে রূপান্তর করতে হবে।’

বন সংক্রান্ত অপরাধ দমনে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের অধিক তৎপরতার কারণে এবার চলতি শুষ্ক মৌসুমে বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখনো ঘটেনি। এছাড়া পর্যটকদের মাধ্যমে যে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ হচ্ছিল, সেটাও আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আর বড় একটা দূষণ হচ্ছে মোংলা বন্দরের পিকনিক কর্নার থেকে। সেখানে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ ঘটছে। এটা বন্দর কর্তৃপক্ষের দেখা প্রয়োজন। শিল্প দূষণে যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর।’
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মোংলা বন্দরে যেসব শিল্প কলকারখানা রয়েছে তা দিয়ে কোনো তরল বর্জ্য বের হয় না। এলপিজি ফ্যাক্টরিগুলো দিয়ে তেমন দূষণ হয় না। আর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তারপরও প্রতিবছর ও ছয় মাস পর পর ওই এলাকার বায়ু পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফ্যাক্টরিগুলোকে বিভিন্ন বিধিনিষেধের আওতায় আনা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে জাহাজ চলাচলে যে দূষণ হচ্ছে, সেটিকে রোধ করতে গেলে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। দূষণ রোধে আমরা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে সতর্কও করছি।’

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের অর্জন হলো বিগত ২৩ বছরে বনে ২৭ বার আগুন লেগেছে, এবার কিন্তু লাগেনি। কারণ বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিষ দেওয়া দুর্বৃত্ত যে জোনে ধরা পড়বে, সেই জোনের বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের সঙ্গে লোকালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। খাল খনন ও ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্বৃত্ত বনে প্রবেশ করতে না পারে এবং বন্যপ্রাণী যেন লোকালয়ে আসতে না পারে। এতে অপরাধ কমার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা হবে।’
বন বিভাগের কঠোরতায় বন অপরাধও কমে আসছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দস্যুতা নির্মূল করা হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতায় অনেক দস্যু আটক হয়েছে। একটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে এবার জুন, জুলাই ও আগস্টের নিষিদ্ধ সময়ে শুধু করমজলে পর্যটক পরিবহন চালু রাখা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও বন নির্ভরশীলদের জীবন-জীবিকা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বন অপরাধ দমনে সোচ্চার আছি। বনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাউকেই বন ঘিরে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করতে দেওয়া হবে না।’
এএইচএস/এসআর/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:04:43 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124949</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ban-1-20260605150443.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<ul class="bulletshow">
<li>ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ</li>
<li>শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে</li>
<li>২৩ বছরে ২৭ বার আগুন</li>
</ul>
<p>নানান সমস্যায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট—এ দুই কারণেই বনের প্রাণ-প্রকৃতি মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় মনুষ্য সৃষ্ট কাণ্ডে বেশি হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবন। প্রাকৃতিকভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলো বনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধন করছে। এর সঙ্গে রয়েছে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব।</p>
<p>ফারাক্কার কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লবণাক্ততা কুঁড়ে খাচ্ছে সুন্দরবনকে। রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন সুন্দরবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ban-2-20260605150222.jpg" alt="বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন" width="100%" height="auto" /></p>
<p>বন বিভাগ, পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অসংখ্য নদী-খাল রয়েছে। এসব নদী-খালে রয়েছে মাছের প্রাচুর্যতা। কিন্তু অতি মুনাফালোভী জেলেরা এসব খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন। এতে মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিষমিশ্রিত মাছ খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সেইসঙ্গে বিষমিশ্রিত পানি বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এই পানি পান করছে বনের পশু-পাখী। ফলে হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবনের প্রাণীকূল।</p>
<blockquote>
<p>‘সুন্দরবন দিয়ে প্রবাহমান পশুর নদী দূষণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে। সরকারি সংস্থা সিইইজিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশুর নদীর পানিতে বিষাক্ত সিসার (মার্কারি) পরিমাণ বাড়ছে। নদীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ মার্কারি বেড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর ক্ষতি ও বায়ু দূষণে মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে’</p>
</blockquote>
<p>শিল্প দূষণে সুন্দরবনের ক্ষতিও কোনো অংশে কম নয়। সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) শিল্পায়ন গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে। আর পশুর নদীর জোয়ার-ভাটায় তা প্রবেশ করছে বনের অভ্যন্তরে। আর এতে বনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়তই।</p>
<p>প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের শিকারও সুন্দরবন। সম্প্রতি এক গবেষণায় সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা, পশুর ও রুপসা নদীর ১৭ প্রজাতির মাছে মাইক্রো প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। এই মাইক্রো প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি মিলেছে সুন্দরবনের হরিণা চিংড়িতে। এ মাছে মানবদেহে ক্যানসার ও লিভার ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি ব্রাজিলের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ban-3-20260605150243.jpg" alt="বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন" width="100%" height="auto" /></p>
<p>সূত্র বলছে, সুন্দরবনের বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী পাচারে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এসব অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারা। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) গবেষণা অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী অপরাধের মাত্র ৩০ শতাংশ আসামি গ্রেফতার হন। মামলায় সাজা কম ও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। তাই মামলা শেষে আবার তারা অপরাধে জড়াচ্ছেন।</p>
<blockquote>
<p>‘সুন্দরবনের নদীতে তেল, কয়লা, সার ও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজডুবিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। নৌযানের ঢেউয়ে বনে ভাঙন ধরছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে গাছপালা। নৌযানের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে ডলফিনের অভয়াশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’</p>
</blockquote>
<p>সুন্দরবনের ৫৫ ভাগ এলাকাই অভয়াশ্রম। সেই অভয়াশ্রমও এখন আর নিরাপদ নেই বলছেন গবেষকরা। নিষিদ্ধ অভয়াশ্রমে এক শ্রেণির অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সহায়তায় সারা বছরই মাছ শিকার করেন অসৎ জেলেরা। ফলে অভয়াশ্রমও ধ্বংস হচ্ছে।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন:</strong> <br /><a title="সুন্দরবনে দস্যুতায় ফিরছেন আত্মসমর্পণকারীরা, নেপথ্যে দুই কারণ" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1114050" rel="follow">সুন্দরবনে দস্যুতায় ফিরছেন আত্মসমর্পণকারীরা, নেপথ্যে দুই কারণ</a><br /><a title="সুন্দরবনে ‘বনবাস’ যেন এক অনন্ত শান্তি" href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1113352" rel="follow">সুন্দরবনে ‘বনবাস’ যেন এক অনন্ত শান্তি</a><br /><a title="মিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেক সুন্দরবন" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1103764" rel="follow">মিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেক সুন্দরবন</a><br /><a title="সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের উদ্যোগ" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1061730" rel="follow">সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের উদ্যোগ</a><br /><a title="ফের চালুর উদ্যোগ, কর্মসংস্থান হবে হাজারো মানুষের" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1057789" rel="follow">ফের চালুর উদ্যোগ, কর্মসংস্থান হবে হাজারো মানুষের</a><br /><a title="সুন্দরবনে নষ্ট হচ্ছে জব্দ হাজারো নৌকা-ট্রলার" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1056832" rel="follow">সুন্দরবনে নষ্ট হচ্ছে জব্দ হাজারো নৌকা-ট্রলার</a></p>
<p>সুন্দরবনের নদীতে তেল, কয়লা, সার ও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজডুবিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। নৌযানের ঢেউয়ে বনে ভাঙন ধরছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে গাছপালা। নৌযানের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে ডলফিনের অভয়াশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।</p>
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। এতে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি, প্রজনন সমস্যা ও প্রাণীকূলের সুপেয় পানির আধার বিনষ্ট হচ্ছে।</p>
<p>পরিবেশবিদরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ না থাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে বনের অনেক গাছপালা মারা যাচ্ছে। বনের প্রাণীকূলের ওপরও এ প্রভাব পড়ছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ban-4-20260605150304.jpg" alt="বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন" width="100%" height="auto" /></p>
<p>সুন্দরবন দিয়ে প্রবাহমান পশুর নদী দূষণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে। সরকারি সংস্থা সিইইজিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশুর নদীর পানিতে বিষাক্ত সিসার (মার্কারি) পরিমাণ বাড়ছে। নদীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ মার্কারি বেড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর ক্ষতি ও বায়ু দূষণে মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে।</p>
<blockquote>
<p>‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও বন নির্ভরশীলদের জীবন-জীবিকা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বন অপরাধ দমনে সোচ্চার আছি। বনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাউকেই বন ঘিরে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করতে দেওয়া হবে না’—বন প্রতিমন্ত্রী</p>
</blockquote>
<p>আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) তথ্যমতে, সুন্দরবনের মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বাঘ, ভোঁদড়, শকুন ও কচ্ছপ। বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বানর, মেছোবিড়াল ও উইদ বিড়াল। আর সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বনবিড়াল, বাগডাশ, ইরাবতি ডলফিন ও শুশুক।</p>
<h2>২৩ বছরে ২৭ বার আগুন</h2>
<p>সুন্দরবনে একের পর এক আগুন লাগায় বনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে আসছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন লেগেছে। যার সব কটিই পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় এবং লোকালয়-সংলগ্ন ভোলা নদীর পাশের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চলে।</p>
<p>এসব আগুনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বেশির ভাগ আগুন লেগেছে জেলে-মৌয়ালদের অসাবধানতায়। যদিও এ নিয়ে বনজীবীদের দ্বিমত আছে। আগুনে অন্তত ৭০ একর বনভূমি পুড়েছে।</p>
<p>‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গর্বিত অভিভাবক আমরা। সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।’</p>
<p>‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ‘সুন্দরবনে ধ্বংসযজ্ঞ অনেকদিন ধরেই চলমান। এর বিশালতার কারণে আমরা খালি চোখে সরল চিন্তায় এখনো এই অপূরণীয় ক্ষতি বুঝতে পারছি না।’</p>
<p>তিনি বলেন, ‘রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বেপরোয়া শিল্পায়নকে সঠিকভাবে পুনরায় পরিকল্পিত টেকসই শিল্পায়নে রূপান্তর করতে হবে।’</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ban-6-20260605150353.jpg" alt="বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন" width="100%" height="auto" /></p>
<p>বন সংক্রান্ত অপরাধ দমনে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।</p>
<p>তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের অধিক তৎপরতার কারণে এবার চলতি শুষ্ক মৌসুমে বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখনো ঘটেনি। এছাড়া পর্যটকদের মাধ্যমে যে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ হচ্ছিল, সেটাও আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আর বড় একটা দূষণ হচ্ছে মোংলা বন্দরের পিকনিক কর্নার থেকে। সেখানে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ ঘটছে। এটা বন্দর কর্তৃপক্ষের দেখা প্রয়োজন। শিল্প দূষণে যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর।’</p>
<p>পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মোংলা বন্দরে যেসব শিল্প কলকারখানা রয়েছে তা দিয়ে কোনো তরল বর্জ্য বের হয় না। এলপিজি ফ্যাক্টরিগুলো দিয়ে তেমন দূষণ হয় না। আর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তারপরও প্রতিবছর ও ছয় মাস পর পর ওই এলাকার বায়ু পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফ্যাক্টরিগুলোকে বিভিন্ন বিধিনিষেধের আওতায় আনা হচ্ছে।’</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে জাহাজ চলাচলে যে দূষণ হচ্ছে, সেটিকে রোধ করতে গেলে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। দূষণ রোধে আমরা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে সতর্কও করছি।’</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ban-5-20260605150417.jpg" alt="বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন" width="100%" height="auto" /></p>
<p>এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের অর্জন হলো বিগত ২৩ বছরে বনে ২৭ বার আগুন লেগেছে, এবার কিন্তু লাগেনি। কারণ বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিষ দেওয়া দুর্বৃত্ত যে জোনে ধরা পড়বে, সেই জোনের বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের সঙ্গে লোকালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। খাল খনন ও ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্বৃত্ত বনে প্রবেশ করতে না পারে এবং বন্যপ্রাণী যেন লোকালয়ে আসতে না পারে। এতে অপরাধ কমার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা হবে।’</p>
<p>বন বিভাগের কঠোরতায় বন অপরাধও কমে আসছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দস্যুতা নির্মূল করা হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতায় অনেক দস্যু আটক হয়েছে। একটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে এবার জুন, জুলাই ও আগস্টের নিষিদ্ধ সময়ে শুধু করমজলে পর্যটক পরিবহন চালু রাখা হয়েছে।’</p>
<p>প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও বন নির্ভরশীলদের জীবন-জীবিকা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বন অপরাধ দমনে সোচ্চার আছি। বনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাউকেই বন ঘিরে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করতে দেওয়া হবে না।’</p>
<p><em>এএইচএস/এসআর/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>লাফায়েতে স্ট্রবেরি পিকিং: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পর্যটনের অনন্য অভিজ্ঞতা</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/travel/article/1124948</link>
                <description>গ্রীষ্মের উজ্জ্বল দুপুর। ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক একটা ছুঁয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের লাফায়েত শহরের উপকণ্ঠে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তরের মাঝে অবস্থিত একটি স্ট্রবেরি খামারের দিকে আমাদের যাত্রা। শহরের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে গাড়ি যখন গ্রামীণ সড়ক ধরে এগিয়ে চলছিল; তখন দুপাশে চোখে পড়ছিল সুবিশাল ভুট্টাক্ষেত, সয়াবিনের সবুজ সমারোহ এবং পরিচ্ছন্ন কৃষিজমি। মনে হচ্ছিল, আধুনিক আমেরিকার শিল্প ও প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি আমেরিকা, যার প্রাণস্পন্দন কৃষির মাটিতে। খামারের প্রবেশপথে পৌঁছাতেই দেখা গেল নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য গাড়ি। পরিবার, বন্ধু ও শিশুদের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি জানিয়ে দিচ্ছিল যে স্ট্রবেরি মৌসুম এখানে বিশেষ উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। ক্ষেতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল সারি সারি স্ট্রবেরি গাছ। যতদূর দৃষ্টি যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে টুকটুকে লাল ফল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল যেন সবুজ গালিচার ওপর ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য লাল মুক্তা।
স্ট্রবেরি মূলত নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার ফল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্ট্রবেরি উৎপাদনকারী দেশ। যদিও ক্যালিফোর্নিয়া এই উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়, তবুও ইন্ডিয়ানা, মিশিগান এবং অন্যান্য মধ্যপশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্ট্রবেরি চাষ হয়। সাধারণত মে মাসের শেষভাগ থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ অঞ্চলে স্ট্রবেরি সংগ্রহের মৌসুম থাকে। ফলে সময়টিকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার খামারে বেড়াতে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্রবেরি পিকিং একটি জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক বিনোদন, যা সাধারণত মে মাসের শেষভাগ থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, ওহাইও ও ইলিনয়সহ মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়। খামারগুলো তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৌসুমের খবর প্রকাশ করে।

এই খামারে দর্শনার্থীদের জন্য ছিল ‌‘ইউ পিক’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ ক্রেতারা নিজেরাই ক্ষেত থেকে পছন্দের ফল তুলে নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের কৃষিভিত্তিক পর্যটন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি শুধু একটি বিনোদনমূলক কার্যক্রম নয়, বরং কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি কার্যকর উপায়। এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে খাদ্য উৎপাদনের পেছনের শ্রম, সময় এবং যত্নের গল্প।
ফল তোলার সময় সবুজ বোঁটাসহ হালকা মোচড় দিয়ে তুলে নিতে হয়, যাতে গাছের কোনো ক্ষতি না হয়। আমরাও হাতে ঝুড়ি নিয়ে সারি সারি গাছের মাঝখানে হাঁটতে শুরু করলাম। কখনো পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বড় একটি ফল চোখে পড়ছে, কখনো আবার নিচু হয়ে খুঁজে বের করতে হচ্ছে সবচেয়ে পাকা স্ট্রবেরিটিকে। চারদিকে নানা বয়সের মানুষের আনন্দমুখর উপস্থিতি যেন পুরো ক্ষেতটিকে প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত করেছিল। ছোট ছোট শিশুরা লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি মুখে পুরে আনন্দে দৌড়াচ্ছে। তাদের হাসি আর উচ্ছ্বাসে চারপাশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছিল। আমার ছোট্ট নাতনি বাঁশরীও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একের পর এক পাকা স্ট্রবেরি মুখে দিয়ে তার গোলাপি মুখমণ্ডল যেন আরও রক্তিম হয়ে উঠেছিল।

সেই নির্মল আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব সুখ বুঝি এই ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে। এদিকে আমার বেয়ান বিউটি মণ্ডল চারদিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, ‘এখানে কি কোনো বাঙালি নেই?’ তার কথা শুনে আমরাও চারপাশে চোখ বোলালাম। কিন্তু সত্যিই, শত শত মানুষের ভিড়েও একজন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের দেখা মিলল না। চারদিকে শুধু ইংরেজি কথোপকথন, শিশুদের হাসি আর উৎসবের কোলাহল। মুহূর্তেই মনে হলো, প্রবাসে মানুষ অজান্তেই খুঁজে ফেরে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি আর পরিচিত মুখের ছায়া। লাল স্ট্রবেরির বিশাল ক্ষেতের মাঝেও যেন হঠাৎ বাংলার মাটির গন্ধ ভেসে এলো। তখন উপলব্ধি করলাম, দেশ থেকে দূরে থাকলে মাতৃভূমির প্রতি টান আরও গভীর হয়ে হৃদয়ের ভেতর নিঃশব্দে বেঁচে থাকে।
প্রতিটি ফল তুলতে তুলতে মনে হচ্ছিল যেন মাটির বুক থেকে ছোট ছোট লাল রত্ন সংগ্রহ করছি। চারদিকে শিশুদের হাসি, পরিবারের উচ্ছ্বাস আর পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস মিলেমিশে দুপুরটিকে করে তুলেছিল অনন্য, আনন্দময় ও স্মরণীয়। গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা পাকা ফলগুলো খুঁজে বের করার মধ্যে ছিল এক ধরনের শৈশবের উত্তেজনা। প্রতিটি ফল তুলতে গিয়ে অনুভব করছিলাম প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সংযোগ। সুপার মার্কেটের ঝকঝকে প্যাকেটের ভেতরে থাকা ফলের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এখানে প্রতিটি ফল যেন সরাসরি মাটি, রোদ, বৃষ্টি আর কৃষকের পরিশ্রমের গল্প বলে। খামারের পরিবেশ ছিল প্রাণবন্ত। কোথাও ছোট ছোট শিশুরা আনন্দে ফল তুলছে, কোথাও পরিবারগুলো ছবি তুলছে, আবার কেউ কেউ গাছের পাশেই বসে সদ্য তোলা ফলের স্বাদ নিচ্ছে। কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ আমাদের দেশের গ্রামীণ ফল উৎসবের কথা মনে করিয়ে দিলেও এখানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যটনের ছোঁয়া।

স্ট্রবেরি শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে তাই এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। খামারের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ক্রেতারা সরাসরি ক্ষেত থেকে ফল সংগ্রহ করায় পরিবহন ও সংরক্ষণের খরচ কমে যায়, একই সঙ্গে কৃষকেরাও ন্যায্য মূল্য পান। কৃষির এই মডেল স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এদিকে আমাদের ঝুড়িও ধীরে ধীরে লাল ফলের ভারে পূর্ণ হয়ে উঠছিল। প্রতিটি স্ট্রবেরির উজ্জ্বল রং যেন দুপুরের সূর্যালোককে আরও দীপ্তিময় করে তুলছিল। মাঝেমধ্যে ফল মুখে দিয়ে স্বাদ নিচ্ছিলাম। বাজারের স্ট্রবেরির তুলনায় এর স্বাদ ছিল অনেক বেশি মিষ্টি, রসালো এবং সতেজ। তখন মনে হচ্ছিল, প্রকৃতির কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া উপহার সত্যিই অন্যরকম।
ফেরার সময় সংগ্রহ করা স্ট্রবেরির ঝুড়িটি ওজন করে মূল্য নির্ধারণ করা হলো। আমাদের ঝুড়িভর্তি লাল ফলের দাম পড়ল মাত্র ১০ ডলার। বিষয়টি জেনে সবাই বেশ মজা পেলাম। কারণ খামারের নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষেতের ভেতরে ঘুরে ঘুরে যে স্ট্রবেরিগুলো আমরা খেয়েছি, তার জন্য কোনো আলাদা মূল্য দিতে হয়নি। সাত সদস্যের আমাদের পরিবার মনের আনন্দে যে পরিমাণ স্ট্রবেরি খেয়েছে, তার হিসাব যদি করা হতো, তাহলে হয়তো ঝুড়ির দামের চেয়েও বেশি হয়ে যেত। এই ছোট্ট বিষয়টিও পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিল।

বিকেলের আলো যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল; তখন আমরা খামার ছাড়ার প্রস্তুতি নিলাম। ফিরে তাকিয়ে শেষবারের মতো দেখলাম লাল আর সবুজের সেই মনোমুগ্ধকর সমারোহ। মনে হলো, এটি শুধু একটি ফল সংগ্রহের অভিজ্ঞতা নয়; বরং আধুনিক কৃষি, প্রকৃতি এবং মানুষের আন্তরিক সম্পর্ককে কাছ থেকে দেখার অনন্য সুযোগ। লাফায়েতের উপকণ্ঠের সেই স্ট্রবেরি খামার থেকে ফেরার পথে মনে হচ্ছিল, সভ্যতার সব অর্জনের মাঝেও মানুষের প্রকৃত আশ্রয় শেষ পর্যন্ত মাটিতেই। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু মাটির গন্ধ, পাকা ফলের স্বাদ এবং কৃষকের ঘামে জন্ম নেওয়া ফসলের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আজও মানুষের হৃদয়কে সবচেয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করে। সেই বিকেলের স্মৃতি তাই শুধু চোখে দেখা কোনো দৃশ্য নয় বরং প্রকৃতি ও কৃষির প্রতি নতুন করে ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা অনির্বচনীয় অনুভূতি।

আরও পড়ুনইন্ডিয়ানার বিকেল পেরিয়ে আটলান্টার আলোকিত নিশীথে চন্দ্রজয়ের ইতিহাস আজও জাগ্রত পারডুর বুকে সেলেরি বগ লেকপাড়ে ফিরে দেখা দুই বছর ওয়েস্ট লাফায়েতে দশ দিন, যুক্তরাষ্ট্রকে কাছ থেকে দেখা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ: বাংলাদেশি গবেষকের হৃদয়বিদারক ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াবাশ নদীর তীরে শান্তির ঠিকানা 

এসইউ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:02:43 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/travel/article/1124948</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tour-top-20260605150243.JPG"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>গ্রীষ্মের উজ্জ্বল দুপুর। ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক একটা ছুঁয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের লাফায়েত শহরের উপকণ্ঠে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তরের মাঝে অবস্থিত একটি স্ট্রবেরি খামারের দিকে আমাদের যাত্রা। শহরের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে গাড়ি যখন গ্রামীণ সড়ক ধরে এগিয়ে চলছিল; তখন দুপাশে চোখে পড়ছিল সুবিশাল ভুট্টাক্ষেত, সয়াবিনের সবুজ সমারোহ এবং পরিচ্ছন্ন কৃষিজমি। মনে হচ্ছিল, আধুনিক আমেরিকার শিল্প ও প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেকটি আমেরিকা, যার প্রাণস্পন্দন কৃষির মাটিতে। খামারের প্রবেশপথে পৌঁছাতেই দেখা গেল নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য গাড়ি। পরিবার, বন্ধু ও শিশুদের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি জানিয়ে দিচ্ছিল যে স্ট্রবেরি মৌসুম এখানে বিশেষ উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। ক্ষেতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল সারি সারি স্ট্রবেরি গাছ। যতদূর দৃষ্টি যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে টুকটুকে লাল ফল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল যেন সবুজ গালিচার ওপর ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য লাল মুক্তা।</p>
<p>স্ট্রবেরি মূলত নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার ফল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্ট্রবেরি উৎপাদনকারী দেশ। যদিও ক্যালিফোর্নিয়া এই উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়, তবুও ইন্ডিয়ানা, মিশিগান এবং অন্যান্য মধ্যপশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্ট্রবেরি চাষ হয়। সাধারণত মে মাসের শেষভাগ থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ অঞ্চলে স্ট্রবেরি সংগ্রহের মৌসুম থাকে। ফলে সময়টিকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার খামারে বেড়াতে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্রবেরি পিকিং একটি জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক বিনোদন, যা সাধারণত মে মাসের শেষভাগ থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, ওহাইও ও ইলিনয়সহ মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়। খামারগুলো তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৌসুমের খবর প্রকাশ করে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tour-in-1-20260605150058.jpg" alt="tour" width="100%" height="auto" /></p>
<p>এই খামারে দর্শনার্থীদের জন্য ছিল ‌‘ইউ পিক’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ ক্রেতারা নিজেরাই ক্ষেত থেকে পছন্দের ফল তুলে নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের কৃষিভিত্তিক পর্যটন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি শুধু একটি বিনোদনমূলক কার্যক্রম নয়, বরং কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি কার্যকর উপায়। এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে খাদ্য উৎপাদনের পেছনের শ্রম, সময় এবং যত্নের গল্প।</p>
<p>ফল তোলার সময় সবুজ বোঁটাসহ হালকা মোচড় দিয়ে তুলে নিতে হয়, যাতে গাছের কোনো ক্ষতি না হয়। আমরাও হাতে ঝুড়ি নিয়ে সারি সারি গাছের মাঝখানে হাঁটতে শুরু করলাম। কখনো পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বড় একটি ফল চোখে পড়ছে, কখনো আবার নিচু হয়ে খুঁজে বের করতে হচ্ছে সবচেয়ে পাকা স্ট্রবেরিটিকে। চারদিকে নানা বয়সের মানুষের আনন্দমুখর উপস্থিতি যেন পুরো ক্ষেতটিকে প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত করেছিল। ছোট ছোট শিশুরা লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি মুখে পুরে আনন্দে দৌড়াচ্ছে। তাদের হাসি আর উচ্ছ্বাসে চারপাশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছিল। আমার ছোট্ট নাতনি বাঁশরীও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একের পর এক পাকা স্ট্রবেরি মুখে দিয়ে তার গোলাপি মুখমণ্ডল যেন আরও রক্তিম হয়ে উঠেছিল।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tour-in-2-20260605150121.jpg" alt="tour" width="100%" height="auto" /></p>
<p>সেই নির্মল আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব সুখ বুঝি এই ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে। এদিকে আমার বেয়ান বিউটি মণ্ডল চারদিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, ‘এখানে কি কোনো বাঙালি নেই?’ তার কথা শুনে আমরাও চারপাশে চোখ বোলালাম। কিন্তু সত্যিই, শত শত মানুষের ভিড়েও একজন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের দেখা মিলল না। চারদিকে শুধু ইংরেজি কথোপকথন, শিশুদের হাসি আর উৎসবের কোলাহল। মুহূর্তেই মনে হলো, প্রবাসে মানুষ অজান্তেই খুঁজে ফেরে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি আর পরিচিত মুখের ছায়া। লাল স্ট্রবেরির বিশাল ক্ষেতের মাঝেও যেন হঠাৎ বাংলার মাটির গন্ধ ভেসে এলো। তখন উপলব্ধি করলাম, দেশ থেকে দূরে থাকলে মাতৃভূমির প্রতি টান আরও গভীর হয়ে হৃদয়ের ভেতর নিঃশব্দে বেঁচে থাকে।</p>
<p>প্রতিটি ফল তুলতে তুলতে মনে হচ্ছিল যেন মাটির বুক থেকে ছোট ছোট লাল রত্ন সংগ্রহ করছি। চারদিকে শিশুদের হাসি, পরিবারের উচ্ছ্বাস আর পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস মিলেমিশে দুপুরটিকে করে তুলেছিল অনন্য, আনন্দময় ও স্মরণীয়। গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা পাকা ফলগুলো খুঁজে বের করার মধ্যে ছিল এক ধরনের শৈশবের উত্তেজনা। প্রতিটি ফল তুলতে গিয়ে অনুভব করছিলাম প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সংযোগ। সুপার মার্কেটের ঝকঝকে প্যাকেটের ভেতরে থাকা ফলের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এখানে প্রতিটি ফল যেন সরাসরি মাটি, রোদ, বৃষ্টি আর কৃষকের পরিশ্রমের গল্প বলে। খামারের পরিবেশ ছিল প্রাণবন্ত। কোথাও ছোট ছোট শিশুরা আনন্দে ফল তুলছে, কোথাও পরিবারগুলো ছবি তুলছে, আবার কেউ কেউ গাছের পাশেই বসে সদ্য তোলা ফলের স্বাদ নিচ্ছে। কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ আমাদের দেশের গ্রামীণ ফল উৎসবের কথা মনে করিয়ে দিলেও এখানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যটনের ছোঁয়া।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tour-in-3-20260605150143.jpg" alt="tour" width="100%" height="auto" /></p>
<p>স্ট্রবেরি শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে তাই এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। খামারের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ক্রেতারা সরাসরি ক্ষেত থেকে ফল সংগ্রহ করায় পরিবহন ও সংরক্ষণের খরচ কমে যায়, একই সঙ্গে কৃষকেরাও ন্যায্য মূল্য পান। কৃষির এই মডেল স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এদিকে আমাদের ঝুড়িও ধীরে ধীরে লাল ফলের ভারে পূর্ণ হয়ে উঠছিল। প্রতিটি স্ট্রবেরির উজ্জ্বল রং যেন দুপুরের সূর্যালোককে আরও দীপ্তিময় করে তুলছিল। মাঝেমধ্যে ফল মুখে দিয়ে স্বাদ নিচ্ছিলাম। বাজারের স্ট্রবেরির তুলনায় এর স্বাদ ছিল অনেক বেশি মিষ্টি, রসালো এবং সতেজ। তখন মনে হচ্ছিল, প্রকৃতির কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া উপহার সত্যিই অন্যরকম।</p>
<p>ফেরার সময় সংগ্রহ করা স্ট্রবেরির ঝুড়িটি ওজন করে মূল্য নির্ধারণ করা হলো। আমাদের ঝুড়িভর্তি লাল ফলের দাম পড়ল মাত্র ১০ ডলার। বিষয়টি জেনে সবাই বেশ মজা পেলাম। কারণ খামারের নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষেতের ভেতরে ঘুরে ঘুরে যে স্ট্রবেরিগুলো আমরা খেয়েছি, তার জন্য কোনো আলাদা মূল্য দিতে হয়নি। সাত সদস্যের আমাদের পরিবার মনের আনন্দে যে পরিমাণ স্ট্রবেরি খেয়েছে, তার হিসাব যদি করা হতো, তাহলে হয়তো ঝুড়ির দামের চেয়েও বেশি হয়ে যেত। এই ছোট্ট বিষয়টিও পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিল।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tour-in-4-20260605150216.jpg" alt="tour" width="100%" height="auto" /></p>
<p>বিকেলের আলো যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল; তখন আমরা খামার ছাড়ার প্রস্তুতি নিলাম। ফিরে তাকিয়ে শেষবারের মতো দেখলাম লাল আর সবুজের সেই মনোমুগ্ধকর সমারোহ। মনে হলো, এটি শুধু একটি ফল সংগ্রহের অভিজ্ঞতা নয়; বরং আধুনিক কৃষি, প্রকৃতি এবং মানুষের আন্তরিক সম্পর্ককে কাছ থেকে দেখার অনন্য সুযোগ। লাফায়েতের উপকণ্ঠের সেই স্ট্রবেরি খামার থেকে ফেরার পথে মনে হচ্ছিল, সভ্যতার সব অর্জনের মাঝেও মানুষের প্রকৃত আশ্রয় শেষ পর্যন্ত মাটিতেই। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু মাটির গন্ধ, পাকা ফলের স্বাদ এবং কৃষকের ঘামে জন্ম নেওয়া ফসলের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আজও মানুষের হৃদয়কে সবচেয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করে। সেই বিকেলের স্মৃতি তাই শুধু চোখে দেখা কোনো দৃশ্য নয় বরং প্রকৃতি ও কৃষির প্রতি নতুন করে ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা অনির্বচনীয় অনুভূতি।</p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1121889">ইন্ডিয়ানার বিকেল পেরিয়ে আটলান্টার আলোকিত নিশীথে </a><br /><a href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1121146">চন্দ্রজয়ের ইতিহাস আজও জাগ্রত পারডুর বুকে</a> <br /><a href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1120585">সেলেরি বগ লেকপাড়ে ফিরে দেখা দুই বছর </a><br /><a href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1119606">ওয়েস্ট লাফায়েতে দশ দিন, যুক্তরাষ্ট্রকে কাছ থেকে দেখা </a><br /><a href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1118461">যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ: বাংলাদেশি গবেষকের হৃদয়বিদারক ঘটনা </a><br /><a href="https://www.jagonews24.com/travel/article/1117664">যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াবাশ নদীর তীরে শান্তির ঠিকানা</a> </li>
</ul>
<p><em>এসইউ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>নেদারল্যান্ডস ফুটবল মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ‘টিম্বার ব্রাদার্স’</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/sports/football/1124947</link>
                <description>বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বমঞ্চে নতুন সব কীর্তি আর রোমাঞ্চকর গল্পের জন্ম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে আলাদা এক রোমাঞ্চের জন্ম দিতে যাচ্ছে ডাচ শিবির।
এবারের আসরে ডাচদের কমলারঙে রাঙাতে ফুটবল মাঠে একসাথে নামছেন দুই যমজ সহোদর — ইউরিয়েন টিম্বার ও কুইন্টেন টিম্বার। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞে একই দেশের জার্সি গায়ে যমজ দুই ভাইয়ের খেলার ঘটনা বেশ বিরল, আর তাই ফুটবলপাড়ায় এখন মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছেন এই ‘টিম্বার ব্রাদার্স।’
টিম্বার ব্রাদার্স বেশি আলোচনায় এ কারণে যে, এই নেদারল্যান্ডস দলেই ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে ছিলেন রেনে ও উইলি ভ্যান ডে কের্খফ নামের যমজ দুই ভাই। এরপর ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দলটিতে খেলেছেন দুই ভাই ফ্রাঙ্ক ডি বোর ও রোনাল্ড ডি বোর। ২৮ বছর পর সেই নেদারল্যান্ডস দলেই বিশ্বকাপে মাঠ মাতাতে নামবেন যমজ সহোদর।
টিম্বার ব্রাদার্সের জন্ম ২০০১ সালের ১৭ জুন। দুই ভাই শৈশব থেকেই একসঙ্গে ফুটবল খেলে আসছেন। তবে সময় যত গড়িয়েছে মাঠের পজিশনে এসেছে ভিন্নতা। ছোটবেলা থেকেই রক্ষণে দেয়াল তুলতে পটু ইউরিয়েন টিম্বার। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার ডাচ রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা। অন্যদিকে, কুইন্টেন টিম্বার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন চতুর ও গতিশীল মিডফিল্ডার হিসেবে। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দের হয়ে ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি নেদারল্যান্ডসের মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন।
​নেদারল্যান্ডসের এই তিন জোড়া যমজ ছাড়াও ফুটবল ইতিহাসে যমজ ভাইদের একসঙ্গে বিশ্বকাপ মাতানোর নজির আরো রয়েছে। মিশরের হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসানের মতো তারকারা অতীতে যমজ ভাই হিসেবে বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো টিম্বার ভাইদের নাম।
মাঠে দুই ভাইয়ের বোঝাপড়া নেদারল্যান্ডস দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে অনেকেই মনে করেন। ডিফেন্স থেকে ইউরিয়েনের নিখুঁত পাস আর মাঝমাঠে কুইন্টেনের আক্রমণাত্মক ফুটবল যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়ের কারণ হতে পারে। ডাচ সমর্থকরা আশা করছেন, ডি বোর ভাইদের পর এই টিম্বার ব্রাদার্সের হাত ধরেই ডাচ ফুটবলের সোনালী অতীত আবারও ফিরে আসবে বিশ্বমঞ্চে। এবার দেখার বিষয়, এই যমজ জুটির রসায়নে ভর করে কতদূর যেতে পারে কমলা শিবির।
বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস খেলবে ‘এফ’ গ্রুপে। তাদের গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো- জাপান, সুইডেন এবং তিউনিসিয়া। ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ মিশনে। ২০ জুন তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ সুইডেনের বিপক্ষে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচ ২৫ জুন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।
আরআই/আইএন</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 15:01:16 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/sports/football/1124947</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/sport-20260605151331.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বমঞ্চে নতুন সব কীর্তি আর রোমাঞ্চকর গল্পের জন্ম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে আলাদা এক রোমাঞ্চের জন্ম দিতে যাচ্ছে ডাচ শিবির।</p>
<p>এবারের আসরে ডাচদের কমলারঙে রাঙাতে ফুটবল মাঠে একসাথে নামছেন দুই যমজ সহোদর — ইউরিয়েন টিম্বার ও কুইন্টেন টিম্বার। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞে একই দেশের জার্সি গায়ে যমজ দুই ভাইয়ের খেলার ঘটনা বেশ বিরল, আর তাই ফুটবলপাড়ায় এখন মূল আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছেন এই ‘টিম্বার ব্রাদার্স।’</p>
<p>টিম্বার ব্রাদার্স বেশি আলোচনায় এ কারণে যে, এই নেদারল্যান্ডস দলেই ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে ছিলেন রেনে ও উইলি ভ্যান ডে কের্খফ নামের যমজ দুই ভাই। এরপর ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দলটিতে খেলেছেন দুই ভাই ফ্রাঙ্ক ডি বোর ও রোনাল্ড ডি বোর। ২৮ বছর পর সেই নেদারল্যান্ডস দলেই বিশ্বকাপে মাঠ মাতাতে নামবেন যমজ সহোদর।</p>
<p>টিম্বার ব্রাদার্সের জন্ম ২০০১ সালের ১৭ জুন। দুই ভাই শৈশব থেকেই একসঙ্গে ফুটবল খেলে আসছেন। তবে সময় যত গড়িয়েছে মাঠের পজিশনে এসেছে ভিন্নতা। ছোটবেলা থেকেই রক্ষণে দেয়াল তুলতে পটু ইউরিয়েন টিম্বার। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার ডাচ রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা। অন্যদিকে, কুইন্টেন টিম্বার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন চতুর ও গতিশীল মিডফিল্ডার হিসেবে। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দের হয়ে ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি নেদারল্যান্ডসের মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন।</p>
<p>​নেদারল্যান্ডসের এই তিন জোড়া যমজ ছাড়াও ফুটবল ইতিহাসে যমজ ভাইদের একসঙ্গে বিশ্বকাপ মাতানোর নজির আরো রয়েছে। মিশরের হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসানের মতো তারকারা অতীতে যমজ ভাই হিসেবে বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো টিম্বার ভাইদের নাম।</p>
<p>মাঠে দুই ভাইয়ের বোঝাপড়া নেদারল্যান্ডস দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে অনেকেই মনে করেন। ডিফেন্স থেকে ইউরিয়েনের নিখুঁত পাস আর মাঝমাঠে কুইন্টেনের আক্রমণাত্মক ফুটবল যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়ের কারণ হতে পারে। ডাচ সমর্থকরা আশা করছেন, ডি বোর ভাইদের পর এই টিম্বার ব্রাদার্সের হাত ধরেই ডাচ ফুটবলের সোনালী অতীত আবারও ফিরে আসবে বিশ্বমঞ্চে। এবার দেখার বিষয়, এই যমজ জুটির রসায়নে ভর করে কতদূর যেতে পারে কমলা শিবির।</p>
<p>বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস খেলবে ‘এফ’ গ্রুপে। তাদের গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো- জাপান, সুইডেন এবং তিউনিসিয়া। ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ মিশনে। ২০ জুন তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ সুইডেনের বিপক্ষে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচ ২৫ জুন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।</p>
<p><em>আরআই/আইএন</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বান্দরবানে চলন্ত গাড়িতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১১ পর্যটক</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124946</link>
                <description>বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকবাহী চলন্ত গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি নোহা গাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন গাড়ির চালকসহ ১১ পর্যটক।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় বান্দরবান- থানচি সড়কের চিম্বুক সাত মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, গাজিপুর থেকে বান্দরবান ভ্রমণে আসা পর্যটকের একটি দল সকাল ১০টায় নীলগিরির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সাত মাইল এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ গাড়িতে আগুন ধরে। এসময় গাড়িতে থাকা পর্যটকরা বের হতে পারলেও আগুনে গাড়িটি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভায়। গাড়ির ফুয়েল লিকেজ হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গাড়িটি আগুনে পুড়ে গেলেও পর্যটকরা ভালো আছে।
নয়ন চক্রবর্তী/এএইচ/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:56:40 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124946</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/bandarban-20260605145639.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকবাহী চলন্ত গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি নোহা গাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন গাড়ির চালকসহ ১১ পর্যটক।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টায় বান্দরবান- থানচি সড়কের চিম্বুক সাত মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।</p>
<p>ফায়ার সার্ভিস জানায়, গাজিপুর থেকে বান্দরবান ভ্রমণে আসা পর্যটকের একটি দল সকাল ১০টায় নীলগিরির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সাত মাইল এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ গাড়িতে আগুন ধরে। এসময় গাড়িতে থাকা পর্যটকরা বের হতে পারলেও আগুনে গাড়িটি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নেভায়। গাড়ির ফুয়েল লিকেজ হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p>
<p>বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গাড়িটি আগুনে পুড়ে গেলেও পর্যটকরা ভালো আছে।</p>
<p><em>নয়ন চক্রবর্তী/এএইচ/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর অব্যাহতির দাবি</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124945</link>
                <description>বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলী পার্কে নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে’ এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
দেশের ৩১টি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ব্রাইটার্সের সভাপতি ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম।
শুক্রবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং এর পেছনে থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফাকেন্দ্রিক কার্যক্রম। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানান উদ্যোগ নেওয়া হলেও টেকসই সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুনপরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে উদ্যোগ আছে, অগ্রগতি নেই নীরব ঘাতক বায়ুদূষণ, বেশি ঝুঁকিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়ে তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি উপকূল সুরক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান।

ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মোবিলাইজেশন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আলী, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সানজিদা রহমান, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিব রহমান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুকসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর জরুরি। বক্তারা সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ধরার সদস্য শাহরিয়ার শাওনের একটি মূকাভিনয় পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, বারসিক, ব্রাইটার্স, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, কোস্ট ফাউন্ডেশন, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি, ইআরডিএ, গ্লোবাল ল’ থিংকার সোসাইটি, গর্জন, হাওর অঞ্চলবাসী, কসমস, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নোঙর, ওএবি ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন, রিভার বাংলা, রিভারাইন পিপল, সচেতন নাগরিক সমাজ, সচেতন ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, স্বপ্নের সিঁড়ি, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এবং ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরএএস/কেএসআর</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:55:30 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124945</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/pctr-2-mq0otv0gzgwbltn-20260605145530.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলী পার্কে নাগরিক সমাবেশ, মূকাভিনয় ও পোস্টার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে’ এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।</p>
<p>দেশের ৩১টি পরিবেশ, উন্নয়ন, যুব ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ব্রাইটার্সের সভাপতি ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বদরুল আলম বলেন, জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং এর পেছনে থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফাকেন্দ্রিক কার্যক্রম। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানান উদ্যোগ নেওয়া হলেও টেকসই সমাধান হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে উদ্যোগ আছে, অগ্রগতি নেই " href="https://www.jagonews24.com/national/news/1124927" rel="nofollow">পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে উদ্যোগ আছে, অগ্রগতি নেই </a><br /><a title="নীরব ঘাতক বায়ুদূষণ, বেশি ঝুঁকিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ " href="https://www.jagonews24.com/international/news/1124906" rel="nofollow">নীরব ঘাতক বায়ুদূষণ, বেশি ঝুঁকিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ </a></p>
<p>ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হলেও দেশে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে করমুক্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানিয়ে তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।</p>
<p>সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি উপকূল সুরক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/pctr-3-20260605145246.jpeg" alt="jagonews24.com" width="100%" height="auto" /></p>
<p>ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড মোবিলাইজেশন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আলী, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সানজিদা রহমান, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিব রহমান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুকসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর জরুরি। বক্তারা সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জীবাশ্ম জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।</p>
<p>কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ধরার সদস্য শাহরিয়ার শাওনের একটি মূকাভিনয় পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিসংবলিত পোস্টার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।</p>
<p>কর্মসূচিতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, বারসিক, ব্রাইটার্স, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, কোস্ট ফাউন্ডেশন, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি, ইআরডিএ, গ্লোবাল ল’ থিংকার সোসাইটি, গর্জন, হাওর অঞ্চলবাসী, কসমস, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নোঙর, ওএবি ফাউন্ডেশন, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন, রিভার বাংলা, রিভারাইন পিপল, সচেতন নাগরিক সমাজ, সচেতন ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, স্বপ্নের সিঁড়ি, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এবং ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।</p>
<p><em>আরএএস/কেএসআর</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124944</link>
                <description>রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে ঢাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭০ শতাংশ।
গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে। আগামীকালের সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।
বিএ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:53:02 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124944</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/rain-dhaka-mq0opzxfxjddqag-20260605145302.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।</p>
<p>পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে ঢাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।</p>
<p>এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭০ শতাংশ।</p>
<p>গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।</p>
<p>আজ সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে। আগামীকালের সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।</p>
<p>আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।</p>
<p><em>বিএ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>নিজের মৃত্যু কামনা করা কি জায়েজ?</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/religion/islam/1124943</link>
                <description>প্রশ্ন: বিপদে পড়লে অনেকে অধৈর্য হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করে। এভাবে নিজের মৃত্যু কামনা করা কি জায়েজ? 
উত্তর: ইসলামে নিজের মৃত্যু কামনা করা নিষিদ্ধ। বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে তার রহমত প্রার্থনা করা ‍উচিত, সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত, মৃত্যু নয়।
রাসুল (সা.) নিজের মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না আর মৃত্যুর আগে সেজন্য দোয়াও করবে না। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মুমিনের জীবিত থাকা কল্যাণ বা নেকিই বৃদ্ধি করে। (সহিহ মুসলিম)
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎকর্মশীল লোক হয়, তবে বেঁচে থাকলে তার নেকি বাড়বে। আর যদি অন্যায়কারী হয়, তাহলে হয়ত সে তাওবা করার সুযোগ পাবে। (সহিহ বুখারি)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। পাশাপাশি যারা জীবনের ব্যাপারে বেশি নিস্পৃহ হয়ে যাবে, তাদের একটি দোয়াও শিখিয়ে দিয়েছেন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ কোনো বিপদে পড়ে যেন কোনোভাবেই মৃত্যু কামনা না করে। কেউ চাইলে বেশিরবেশি এভাবে দোয়া করতে পারে:
 اللهم أَحْيِنِي ما كانت الحياةُ خيرًا لي ، وتَوَفَّنِي إذا كانت الوفاةُ خيرًا لي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহয়িনি মা কানাতিল-হায়াতু খাইরান লি ওয়া তাওয়াফফানি ইযা কানাতিল-ওয়াফাতু খাইরান লি।
অর্থ: হে আল্লাহ! যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন, যখন আমার জন্য মৃত্যুই কল্যাণকর হয় তখন আমাকে মৃত্যু দিন। (সহিহ বুখারি)
ওএফএফ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:50:12 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/religion/islam/1124943</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/rainy-day-mood-cartoon-style-mq0o3c4irncehhl-20260605143457.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-weight: 400;"><strong>প্রশ্ন:</strong> বিপদে পড়লে অনেকে অধৈর্য হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করে। এভাবে নিজের মৃত্যু কামনা করা কি জায়েজ? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>উত্তর:</strong> ইসলামে নিজের মৃত্যু কামনা করা নিষিদ্ধ। বিপদে পড়লে <a href="https://www.jagonews24.com/religion/islam/1096692" rel="follow">আল্লাহর কাছে তার রহমত প্রার্থনা</a> করা ‍উচিত, সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত, মৃত্যু নয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসুল (সা.) নিজের মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না আর মৃত্যুর আগে সেজন্য দোয়াও করবে না। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মুমিনের জীবিত থাকা কল্যাণ বা নেকিই বৃদ্ধি করে। (সহিহ মুসলিম)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎকর্মশীল লোক হয়, তবে বেঁচে থাকলে তার নেকি বাড়বে। আর যদি অন্যায়কারী হয়, তাহলে হয়ত সে তাওবা করার সুযোগ পাবে। (সহিহ বুখারি)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। পাশাপাশি যারা জীবনের ব্যাপারে বেশি নিস্পৃহ হয়ে যাবে, তাদের একটি দোয়াও শিখিয়ে দিয়েছেন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ কোনো বিপদে পড়ে যেন কোনোভাবেই মৃত্যু কামনা না করে। কেউ চাইলে বেশিরবেশি এভাবে দোয়া করতে পারে:</span></p>
<p><strong> اللهم أَحْيِنِي ما كانت الحياةُ خيرًا لي ، وتَوَفَّنِي إذا كانت الوفاةُ خيرًا لي</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>উচ্চারণ:</strong> আল্লাহুম্মা আহয়িনি মা কানাতিল-হায়াতু খাইরান লি ওয়া তাওয়াফফানি ইযা কানাতিল-ওয়াফাতু খাইরান লি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>অর্থ:</strong> হে আল্লাহ! যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন, যখন আমার জন্য মৃত্যুই কল্যাণকর হয় তখন আমাকে মৃত্যু দিন। (সহিহ বুখারি)</span></p>
<p><strong><em>ওএফএফ</em></strong></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং!</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/international/news/1124942</link>
                <description>কিম জং উন -এর আমন্ত্রণে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। আগামী ৮-৯ জুন এই সফরে দিন ঠিক করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এই ঘোষণার পর শুক্রবার (৫ জুন) বেইজিং-পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীনা প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে শি জিনপিং সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
এই সফরটি গত সাত বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালের আগে ২০০৫ সালের পর কোনো চীনা নেতা উত্তর কোরিয়া সফর করেননি।
তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চীন তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র উত্তর কোরিয়াকে আবারও নিজের কূটনৈতিক পরিসরে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কিম জং উনও তার দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ও সহায়তাদাতা দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী।
এর আগে গত মে মাসে চীন সফর করে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা করতে চীনে যান রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন-শি-এর ওই বৈঠকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেন।
কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছেন পুতিন। এর ফলে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওই সফরে শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ না করার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেন শি জিনপিং। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী। এর আগের মেয়াদে কিমের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন ট্রাম্প।
যদিও পিয়ংইয়ং মস্কোর আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে তবুও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এবং কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনদাতা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কমিটি অন নর্থ কোরিয়া-এর ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮৫ শতাংশই চীনের ওপর নির্ভরশীল।
শি সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে কিম ও পুতিনকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত এপ্রিল মাসে পিয়ংইয়ং সফর করেছিলেন। ওই সফরে তিন বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমন্বয় জোরদার এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত। তবে, বেইজিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার জ্যামিতিক হারে সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষক হং মিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বেইজিং উত্তর কোরিয়ার অত্যন্ত দ্রুতগতির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।
তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। উত্তর কোরিয়া যদি উসকানিমূলক ও সংঘাতমুখী আচরণ করে, তাহলে তা আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যা চীনের স্বার্থের পরিপন্থি।
অতীতে দক্ষিণ কোরিয়াও আশা প্রকাশ করেছে যে, উত্তর কোরিয়া ও চীনের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেইজিং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
কেএম </description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:49:42 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/international/news/1124942</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/xi-kim-mq0ol868ms40whc-20260605144941.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>কিম জং উন -এর আমন্ত্রণে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। আগামী ৮-৯ জুন এই সফরে দিন ঠিক করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।</p>
<p>প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এই ঘোষণার পর শুক্রবার (৫ জুন) বেইজিং-পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীনা প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে শি জিনপিং সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।</p>
<p>এই সফরটি গত সাত বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালের আগে ২০০৫ সালের পর কোনো চীনা নেতা উত্তর কোরিয়া সফর করেননি।</p>
<p>তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চীন তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র উত্তর কোরিয়াকে আবারও নিজের কূটনৈতিক পরিসরে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কিম জং উনও তার দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ও সহায়তাদাতা দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী।</p>
<p>এর আগে গত মে মাসে চীন সফর করে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা করতে চীনে যান রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন-শি-এর ওই বৈঠকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেন।</p>
<p>কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছেন পুতিন। এর ফলে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওই সফরে শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ না করার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেন শি জিনপিং। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী। এর আগের মেয়াদে কিমের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন ট্রাম্প।</p>
<p>যদিও পিয়ংইয়ং মস্কোর আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে তবুও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এবং কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনদাতা।</p>
<p>ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কমিটি অন নর্থ কোরিয়া-এর ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮৫ শতাংশই চীনের ওপর নির্ভরশীল।</p>
<p>শি সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে কিম ও পুতিনকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।</p>
<p>চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত এপ্রিল মাসে পিয়ংইয়ং সফর করেছিলেন। ওই সফরে তিন বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমন্বয় জোরদার এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত। তবে, বেইজিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি।</p>
<p>বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার জ্যামিতিক হারে সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।</p>
<p>দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষক হং মিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বেইজিং উত্তর কোরিয়ার অত্যন্ত দ্রুতগতির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।</p>
<p>তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। উত্তর কোরিয়া যদি উসকানিমূলক ও সংঘাতমুখী আচরণ করে, তাহলে তা আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যা চীনের স্বার্থের পরিপন্থি।</p>
<p>অতীতে দক্ষিণ কোরিয়াও আশা প্রকাশ করেছে যে, উত্তর কোরিয়া ও চীনের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেইজিং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।</p>
<p><em>কেএম</em> </p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>৬৫০০এমএএইচ ব্যাটারিসহ আরও যা যা থাকছে মটোরোলার নতুন ফোনে</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/technology/article/1124941</link>
                <description>স্মার্টফোন বাজারে নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে মটোরোলা এডজ ৭০ প্রো+। শক্তিশালী ব্যাটারি, ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরা সেটআপ, এআই-চালিত ফিচার এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের সমন্বয়ে ডিভাইসটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। একাধিক আধুনিক ফিচারের পাশাপাশি প্রথম সেলেই থাকছে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ।
ফোনটির অন্যতম বড় আকর্ষণ ৬৫০০এমএএইচ ক্ষমতার বিশাল ব্যাটারি। দীর্ঘক্ষণ গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এই ব্যাটারি সহজেই সারাদিনের বেশি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য রয়েছে ৯০ওয়াট ট্রুবো পাওয়ার ফাস্ট চার্জিং এবং ১৫ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট।
ডিসপ্লের ক্ষেত্রেও কোনো আপস করেনি মটোরোলা। ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬.৮ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা ১৪৪হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ৫২০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস সাপোর্ট করে। ফলে রোদে কিংবা ঘরের বাইরে স্ক্রিন দেখতেও সমস্যা হবে না। স্ক্রিন সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কোর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই।
ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ফোনটিতে রয়েছে চারটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। পিছনে ৫০এমপি প্রধান ক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে ৫০এমপি পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, ৫০এমপি আল্ট্রা-ওয়াইড ও ম্যাক্রো সেন্সর। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে অটোফোকাস সমর্থিত ৫০এমপি ফ্রন্ট ক্যামেরা।
পারফরম্যান্সের জন্য ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০ এক্সট্রিম চিপসেট। সঙ্গে রয়েছে ১২ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইউএফএস ৪.১ স্টোরেজ। দীর্ঘ সময় গেমিংয়ের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেওয়া হয়েছে ৪৬০০ মিমি² বাষ্প চেম্বার শীতলীকরণ ব্যবস্থা।
স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬-ভিত্তিক মটোরোলা-এর নতুন হ্যালো ইউআই-এ চলবে। পাশাপাশি মোটো এআই ২.০ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবেন একাধিক স্মার্ট এআই ফিচার। পানি ও ধুলার বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য ফোনটি IP68 এবং IP69 রেটিংও পেয়েছে। মটোরোলা এডজ ৭০ প্রো+ এর ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম ভারতীয় বাজারে ৪৭ হাজার ৯৯৯ টাকা।
সূত্র: গিজমোচায়না আরও পড়ুনস্মার্টফোন দামি হলেই কি ভালো?গরমে যেভাবে স্মার্টফোনের যত্ন নিলে কমবে বিস্ফোরণের ঝুঁকি
কেএসকে</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:49:41 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/technology/article/1124941</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/motorola-mq0omxzgoryr76g-20260605144941.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>স্মার্টফোন বাজারে নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে মটোরোলা এডজ ৭০ প্রো+। শক্তিশালী ব্যাটারি, ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরা সেটআপ, এআই-চালিত ফিচার এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের সমন্বয়ে ডিভাইসটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। একাধিক আধুনিক ফিচারের পাশাপাশি প্রথম সেলেই থাকছে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ।</p>
<p>ফোনটির অন্যতম বড় আকর্ষণ ৬৫০০এমএএইচ ক্ষমতার বিশাল ব্যাটারি। দীর্ঘক্ষণ গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এই ব্যাটারি সহজেই সারাদিনের বেশি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য রয়েছে ৯০ওয়াট ট্রুবো পাওয়ার ফাস্ট চার্জিং এবং ১৫ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট।</p>
<p>ডিসপ্লের ক্ষেত্রেও কোনো আপস করেনি মটোরোলা। ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬.৮ ইঞ্চির ১.৫কে অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা ১৪৪হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ৫২০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস সাপোর্ট করে। ফলে রোদে কিংবা ঘরের বাইরে স্ক্রিন দেখতেও সমস্যা হবে না। স্ক্রিন সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কোর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই।</p>
<p>ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ফোনটিতে রয়েছে চারটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। পিছনে ৫০এমপি প্রধান ক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে ৫০এমপি পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, ৫০এমপি আল্ট্রা-ওয়াইড ও ম্যাক্রো সেন্সর। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে অটোফোকাস সমর্থিত ৫০এমপি ফ্রন্ট ক্যামেরা।</p>
<p>পারফরম্যান্সের জন্য ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০ এক্সট্রিম চিপসেট। সঙ্গে রয়েছে ১২ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইউএফএস ৪.১ স্টোরেজ। দীর্ঘ সময় গেমিংয়ের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেওয়া হয়েছে ৪৬০০ মিমি² বাষ্প চেম্বার শীতলীকরণ ব্যবস্থা।</p>
<p>স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬-ভিত্তিক মটোরোলা-এর নতুন হ্যালো ইউআই-এ চলবে। পাশাপাশি মোটো এআই ২.০ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবেন একাধিক স্মার্ট এআই ফিচার। পানি ও ধুলার বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য ফোনটি IP68 এবং IP69 রেটিংও পেয়েছে। মটোরোলা এডজ ৭০ প্রো+ এর ১২ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম ভারতীয় বাজারে ৪৭ হাজার ৯৯৯ টাকা।</p>
<p><strong>সূত্র: গিজমোচায়না</strong><br /> <br /><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><strong><a title="স্মার্টফোন দামি হলেই কি ভালো?" href="https://www.jagonews24.com/technology/article/1117628" rel="follow">স্মার্টফোন দামি হলেই কি ভালো?</a></strong><br /><strong><a title="গরমে যেভাবে স্মার্টফোনের যত্ন নিলে কমবে বিস্ফোরণের ঝুঁকি" href="https://www.jagonews24.com/technology/article/1119204" rel="follow">গরমে যেভাবে স্মার্টফোনের যত্ন নিলে কমবে বিস্ফোরণের ঝুঁকি</a></strong></p>
<p><em>কেএসকে</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>পঞ্চগড়ে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, মুখোমুখি অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124940</link>
                <description>পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের কাঁটাতারের বেড়া পার করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের বাধা দেয় বিজিবি। দুপুরের দিকে পুশইন চেষ্টা করা ভারতীয় নাগরিকরা উভয় দেশের সীমান্তের জিরোলাইনে অবস্থান করছিল।
এ ঘটনায় সীমান্তের জিরো লাইনে বিএসএফ-বিজিবি পতাকা বৈঠক চলছিল। এ নিয়ে সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সজাগ রয়েছি। সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী পুরুষসহ দশজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজেপি সদস্যরা তাদের ঠেকায়। বর্তমানে ওই ১০ জন সীমান্তের জিরো লাইন অবস্থান করছে এবং বিজিবি পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
বড়বাড়ি এলাকার আবু সাঈদ বলেন, গতকাল রাতে বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিএসএফ নারী শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত পার করে দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবির টল-দল খবর পেয়ে তাদেরকে বাধা দেয়। এরপর থেকে বিজিবি এবং বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। তারা পতাকা বৈঠক করছে। এ নিয়ে আমাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সফিকুল আলম/কেএইচকে/এএসএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:48:32 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124940</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/panchagarh-20260605144832.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদের কাঁটাতারের বেড়া পার করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) ভোরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের বাধা দেয় বিজিবি। দুপুরের দিকে পুশইন চেষ্টা করা ভারতীয় নাগরিকরা উভয় দেশের সীমান্তের জিরোলাইনে অবস্থান করছিল।</p>
<p>এ ঘটনায় সীমান্তের জিরো লাইনে বিএসএফ-বিজিবি পতাকা বৈঠক চলছিল। এ নিয়ে সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।</p>
<p>নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সজাগ রয়েছি। সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী পুরুষসহ দশজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজেপি সদস্যরা তাদের ঠেকায়। বর্তমানে ওই ১০ জন সীমান্তের জিরো লাইন অবস্থান করছে এবং বিজিবি পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।</p>
<p>বড়বাড়ি এলাকার আবু সাঈদ বলেন, গতকাল রাতে বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিএসএফ নারী শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত পার করে দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবির টল-দল খবর পেয়ে তাদেরকে বাধা দেয়। এরপর থেকে বিজিবি এবং বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। তারা পতাকা বৈঠক করছে। এ নিয়ে আমাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।</p>
<p><em>সফিকুল আলম/কেএইচকে/এএসএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>ত্বক পরিষ্কার করতে সাবান নাকি বডি ওয়াশ কোনটি বেশি ভালো</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124939</link>
                <description>রাস্তায় যাতায়াত বা মাঠে-ঘাটে কাজ করার পর সাবান দিয়ে গোসল করলে শরীর একদম পরিষ্কার ও হালকা লাগে। ঘাম, ধুলাবালি আর ময়লা সহজেই দূর হয়ে যায়। সাবানের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি সাশ্রয়ী এবং অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সাবান এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিষ্কারক।
তবে সাবানের সমস্যা হলো এটি ব্যবহার করার পর অনেকের ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হয়ে যায়। কারণ সাবান শুধু ময়লাই নয়, ত্বকের ভেতরের প্রাকৃতিক তেলও কিছুটা দূর করে দেয়। এই তেল ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখে, তাই তা কমে গেলে ত্বক টানটান বা রুক্ষ অনুভূত হতে পারে।

বডি ওয়াশের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে?
বর্তমানে অনেকেই লিকুইড বডি ওয়াশ ব্যবহার করছেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে গোসলের পর ত্বক খুব বেশি শুষ্ক বা খসখসে লাগে না।
বডি ওয়াশ সাধারণত বোতলে থাকে, তাই এটি ব্যবহার করা অনেক বেশি হাইজেনিক। পরিবারের একাধিক সদস্য সহজে আলাদা করে ব্যবহার করতে পারেন। আধুনিক স্কিনকেয়ার রুটিনে এটি এখন খুবই জনপ্রিয় একটি পণ্য।
তবে বডি ওয়াশের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। এটি সাবানের তুলনায় কিছুটা ব্যয়বহুল। পাশাপাশি ব্যবহার করার জন্য লুফা বা স্ক্রাবার লাগে, যা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে জীবাণু জমে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

সাবান নাকি বডি ওয়াশ, কোনটা আপনার জন্য ভালো?
সত্যি বলতে, সাবান এবং বডি ওয়াশ, দুটিই ত্বক পরিষ্কারের কাজে কার্যকর। কিন্তু কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, তা নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও পরিবেশের ওপর।
যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়, বেশি ঘাম হয় বা আপনি বাইরে বেশি কাজ করেন, তাহলে সাবান আপনার জন্য ভালো হতে পারে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে দেয়। তবে এ ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন গ্লিসারিন যুক্ত বা মাইল্ড সাবান ব্যবহার করতে, যাতে ত্বক খুব বেশি শুকিয়ে না যায়।
অন্যদিকে, যদি আপনার ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়, তাহলে বডি ওয়াশ আপনার জন্য বেশি উপযুক্ত। এটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় বডি ওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকে আরাম পাওয়া যায়।
গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম ও ময়লা হলে সাবান ব্যবহার করে ভালো পরিষ্কার পাওয়া যায়। আর শীত বা শুষ্ক মৌসুমে বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য বেশি উপকারী।
সাবান বা বডি ওয়াশ যেটাই হোক দুটিরই আলাদা উপকারিতা আছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার ত্বকের ধরন বোঝা এবং সেই অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচন করা। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দুটোই ত্বক পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই অন্ধভাবে ট্রেন্ড না মেনে নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।
সূত্র: ভোগ, দ্যা বেটার বাথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:সারারাতের স্লিপিং মাস্কেই মিলতে পারে সতেজতা কোরিয়ান স্কিন কেয়ার কি সবার জন্য ভালো? 

এসএকেওয়াই</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:41:08 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124939</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/jatr-mq0mxyyzdgqzuwb-20260605140348.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রাস্তায় যাতায়াত বা মাঠে-ঘাটে কাজ করার পর সাবান দিয়ে গোসল করলে শরীর একদম পরিষ্কার ও হালকা লাগে। ঘাম, ধুলাবালি আর ময়লা সহজেই দূর হয়ে যায়। সাবানের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এটি সাশ্রয়ী এবং অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সাবান এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিষ্কারক।</p>
<p>তবে সাবানের সমস্যা হলো এটি ব্যবহার করার পর অনেকের ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হয়ে যায়। কারণ সাবান শুধু ময়লাই নয়, ত্বকের ভেতরের প্রাকৃতিক তেলও কিছুটা দূর করে দেয়। এই তেল ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখে, তাই তা কমে গেলে ত্বক টানটান বা রুক্ষ অনুভূত হতে পারে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/gemini-generated-image-tge3e7tge3e7tge3-20260605140256.png" alt="jago" width="100%" height="auto" /></p>
<h2>বডি ওয়াশের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে?</h2>
<p>বর্তমানে অনেকেই লিকুইড বডি ওয়াশ ব্যবহার করছেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে গোসলের পর ত্বক খুব বেশি শুষ্ক বা খসখসে লাগে না।</p>
<p>বডি ওয়াশ সাধারণত বোতলে থাকে, তাই এটি ব্যবহার করা অনেক বেশি হাইজেনিক। পরিবারের একাধিক সদস্য সহজে আলাদা করে ব্যবহার করতে পারেন। আধুনিক স্কিনকেয়ার রুটিনে এটি এখন খুবই জনপ্রিয় একটি পণ্য।</p>
<p>তবে বডি ওয়াশের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। এটি সাবানের তুলনায় কিছুটা ব্যয়বহুল। পাশাপাশি ব্যবহার করার জন্য লুফা বা স্ক্রাবার লাগে, যা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে জীবাণু জমে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/frg-20260605140330.webp" alt="jago" width="100%" height="auto" /></p>
<h2>সাবান নাকি বডি ওয়াশ, কোনটা আপনার জন্য ভালো?</h2>
<p>সত্যি বলতে, সাবান এবং বডি ওয়াশ, দুটিই ত্বক পরিষ্কারের কাজে কার্যকর। কিন্তু কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, তা নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও পরিবেশের ওপর।</p>
<p>যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়, বেশি ঘাম হয় বা আপনি বাইরে বেশি কাজ করেন, তাহলে সাবান আপনার জন্য ভালো হতে পারে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে দেয়। তবে এ ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন গ্লিসারিন যুক্ত বা মাইল্ড সাবান ব্যবহার করতে, যাতে ত্বক খুব বেশি শুকিয়ে না যায়।</p>
<p>অন্যদিকে, যদি আপনার ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়, তাহলে বডি ওয়াশ আপনার জন্য বেশি উপযুক্ত। এটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় বডি ওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকে আরাম পাওয়া যায়।</p>
<p>গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম ও ময়লা হলে সাবান ব্যবহার করে ভালো পরিষ্কার পাওয়া যায়। আর শীত বা শুষ্ক মৌসুমে বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য বেশি উপকারী।</p>
<p>সাবান বা বডি ওয়াশ যেটাই হোক দুটিরই আলাদা উপকারিতা আছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার ত্বকের ধরন বোঝা এবং সেই অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচন করা। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দুটোই ত্বক পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই অন্ধভাবে ট্রেন্ড না মেনে নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।</p>
<p><span style="color: #808080;">সূত্র: ভোগ, দ্যা বেটার বাথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য</span></p>
<ul>
<li><strong>আরও পড়ুন:</strong><br /><strong><a title="সারারাতের স্লিপিং মাস্কেই মিলতে পারে সতেজতা" href="https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124412" rel="follow">সারারাতের স্লিপিং মাস্কেই মিলতে পারে সতেজতা</a> </strong><br /><strong><a title="কোরিয়ান স্কিন কেয়ার কি সবার জন্য ভালো?" href="https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/1124379" rel="follow">কোরিয়ান স্কিন কেয়ার কি সবার জন্য ভালো?</a> </strong></li>
</ul>
<p><em>এসএকেওয়াই</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবি</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124938</link>
                <description>রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বরকল উপজেলার সুবলং বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, যাত্রীবাহী নৌকায় শিশুসহ ১২ যাত্রী ছিল। হ্রদে পানি কম থাকায় এবং আশপাশে নৌকা থাকায় দ্রুতই সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা বলেন, সকালে একটি লঞ্চ মাইনী থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে বরকলগামী যাত্রীবাহী নৌকাকে ধাক্কা দিলে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় থাকা সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, নৌকা ডুবির ঘটনায় সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার কর হয়েছে। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া কোনো ক্ষতি হয়নি।
আবু দারদা খান আরমান/এএইচ/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:40:55 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124938</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/rangamati0-20260605144054.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বরকল উপজেলার সুবলং বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।</p>
<p>স্থানীয়রা জানান, যাত্রীবাহী নৌকায় শিশুসহ ১২ যাত্রী ছিল। হ্রদে পানি কম থাকায় এবং আশপাশে নৌকা থাকায় দ্রুতই সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/rangamati-20260605143946.jpg" alt="jagonews24" width="100%" height="auto" /></p>
<p>বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা বলেন, সকালে একটি লঞ্চ মাইনী থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে বরকলগামী যাত্রীবাহী নৌকাকে ধাক্কা দিলে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় থাকা সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।</p>
<p>বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, নৌকা ডুবির ঘটনায় সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার কর হয়েছে। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া কোনো ক্ষতি হয়নি।</p>
<p><em>আবু দারদা খান আরমান/এএইচ/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124937</link>
                <description>চট্টগ্রাম নগরের সার্কিট হাউস-সংলগ্ন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
শুক্রবার (৫ জুন) জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে জাদুঘরটি আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা হবে। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি জানান, সংস্কারকাজের সুবিধার্থে জাদুঘরের কয়েকটি কক্ষ বর্তমানে খালি রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আহমেদ আযম খান বলেন, মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছেন। তার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সংস্কারের পর তার ব্যবহৃত সামগ্রী ও স্মৃতিচিহ্ন যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুন১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্বোধন রোববার দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে 
মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, বীর উত্তম খেতাব অর্জন, সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন— সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তার সেই অবদান সংরক্ষণ ও তুলে ধরতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসংলগ্ন জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটিকে আবার ‘জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স’ হিসেবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জাদুঘর ও জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে এসব স্থাপনার সংরক্ষণ প্রয়োজন। জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কারণে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে এটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআরএএইচ/কেএসআর</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:32:27 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124937</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/ahmed-azam-mq0nz8dw96rv40y-20260605143227.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>চট্টগ্রাম নগরের সার্কিট হাউস-সংলগ্ন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।</p>
<p>মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে জাদুঘরটি আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা হবে। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।</p>
<p>তিনি জানান, সংস্কারকাজের সুবিধার্থে জাদুঘরের কয়েকটি কক্ষ বর্তমানে খালি রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।</p>
<p>সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আহমেদ আযম খান বলেন, মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছেন। তার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সংস্কারের পর তার ব্যবহৃত সামগ্রী ও স্মৃতিচিহ্ন যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্বোধন রোববার " href="https://www.jagonews24.com/education/news/1124915" rel="nofollow">১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্বোধন রোববার </a><br /><a title="দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124876" rel="nofollow">দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে</a> </p>
<p>মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, বীর উত্তম খেতাব অর্জন, সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন— সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।</p>
<p>তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তার সেই অবদান সংরক্ষণ ও তুলে ধরতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।</p>
<p>কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসংলগ্ন জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটিকে আবার ‘জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স’ হিসেবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।</p>
<p>এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জাদুঘর ও জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে এসব স্থাপনার সংরক্ষণ প্রয়োজন। জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কারণে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে এটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।</p>
<p>পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p><em>এমআরএএইচ/কেএসআর</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>আজকের কৌতুক: পুত্রের পকেটে সিগারেট</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/bangla-jokes/article/1124936</link>
                <description>পুত্রের পকেটে সিগারেট
বিল্টুর বাবা বিল্টুর ঘরে এসে কিছু একটা খুঁজছিলেন। হঠাৎ বিল্টুর একটি কোট দেখে সেটির পকেটে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পেলেন সিগারেট আর মেয়েদের ফোন নম্বর! বাবা প্রশ্ন করলেন—বাবা: কবে থেকে এসব চলছে।বিল্টু: বাবা এই কোটটা তোমার।
****
ছেলের বুদ্ধি দেখে বাবা অবাক
বাচ্চা: বাবা আমাদের নতুন প্রতিবেশী খুব গরিব?বাবা: তুমি জানলে কীভাবে?বাচ্চা: ওদের ছেলে এক টাকার কয়েন গিলে ফেলেছে, কাঁদতে কাঁদতে মায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে!
****
প্রেমিক যখন ভাই
প্রেমিক-প্রেমিকা পার্কে বসে গল্প করছে। এমন সময় প্রেমিকার কয়েকজন বান্ধবী হাজির। এসেই প্রশ্ন করতে লাগলো—বান্ধবী: এটা কে রে?প্রেমিকা: আমার ভাই।বান্ধবী: কেমন ভাই? চাচাতো, মামাতো, খালাতো না ফুফাতো?প্রেমিকা: না, এসব কিছুই না।বান্ধবী: তাহলে কী ভাই, বলবি তো?প্রেমিকা: ও আমার ভালোবাসাতো ভাই!
কেএসকে</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:32:22 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/bangla-jokes/article/1124936</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/jokes-3-mq0nytzyrwo9hwa-20260605143222.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<h2><span style="color: #800000;">পুত্রের পকেটে সিগারেট</span></h2>
<p>বিল্টুর বাবা বিল্টুর ঘরে এসে কিছু একটা খুঁজছিলেন। হঠাৎ বিল্টুর একটি কোট দেখে সেটির পকেটে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পেলেন সিগারেট আর মেয়েদের ফোন নম্বর! বাবা প্রশ্ন করলেন—<br />বাবা: কবে থেকে এসব চলছে।<br />বিল্টু: বাবা এই কোটটা তোমার।</p>
<p>****</p>
<h2><span style="color: #0000ff;">ছেলের বুদ্ধি দেখে বাবা অবাক</span></h2>
<p>বাচ্চা: বাবা আমাদের নতুন প্রতিবেশী খুব গরিব?<br />বাবা: তুমি জানলে কীভাবে?<br />বাচ্চা: ওদের ছেলে এক টাকার কয়েন গিলে ফেলেছে, কাঁদতে কাঁদতে মায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে!</p>
<p><strong>****</strong></p>
<h2><span style="color: #800080;">প্রেমিক যখন ভাই</span></h2>
<p>প্রেমিক-প্রেমিকা পার্কে বসে গল্প করছে। এমন সময় প্রেমিকার কয়েকজন বান্ধবী হাজির। এসেই প্রশ্ন করতে লাগলো—<br />বান্ধবী: এটা কে রে?<br />প্রেমিকা: আমার ভাই।<br />বান্ধবী: কেমন ভাই? চাচাতো, মামাতো, খালাতো না ফুফাতো?<br />প্রেমিকা: না, এসব কিছুই না।<br />বান্ধবী: তাহলে কী ভাই, বলবি তো?<br />প্রেমিকা: ও আমার ভালোবাসাতো ভাই!</p>
<p><em>কেএসকে</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবি</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124935</link>
                <description>লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্তে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় এ অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে পুশইনের এ চেষ্টা করে বিএসএফ।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, পাটগ্রাম সীমান্ত (১০ জন), শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল কামাত পানিসালা (পয়ষট্টি বাড়ী) সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর ১/২ এস-এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা এ চেষ্টা চালায়। এছাড়া হাতীবান্ধা সীমান্ত (১১ জন) ফকিরপাড়া সীমান্তে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১১ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
আদিতমারী সীমান্ত (১২ জন) দীঘলটারি সীমান্তে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা হয়। এর মধ্যে ৯২৫ মেইন পিলারের কাছে ৫ জন এবং ৯২৫/৭ সাব পিলারের কাছে ৭ জনকে দেখা যায়। এর বিপরীতে রয়েছে বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পদ্মা ক্যাম্প এবং বিএসএফের ৩ ব্যাটালিয়নের মদনাকুড়া ক্যাম্প।

এদিকে পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তীব্র বাধা দিলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পুশইনের শিকার হওয়া এ ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগার আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বিবি (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬) এবং একটি শিশু। তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউপি সদস্য মোস্তাকিন আলী বলেন, ভারতীয় বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের বিজিবি সেটি কঠোরভাবে সেটিকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে ৷ বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে।
এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এ পুশইনের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে আমাদের টহল দল উপস্থিত ছিল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এটি প্রতিহত করে। ওই নাগরিকদের বর্তমানে ইন্টারভিউতে রাখা হয়েছে এবং তারা জিরোলাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।
তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:30:46 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124935</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/lalmonirhat-20260605143045.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্তে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় এ অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।</p>
<p>বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে পুশইনের এ চেষ্টা করে বিএসএফ।</p>
<p>স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, পাটগ্রাম সীমান্ত (১০ জন), শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল কামাত পানিসালা (পয়ষট্টি বাড়ী) সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর ১/২ এস-এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা এ চেষ্টা চালায়। এছাড়া হাতীবান্ধা সীমান্ত (১১ জন) ফকিরপাড়া সীমান্তে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১১ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।</p>
<p>আদিতমারী সীমান্ত (১২ জন) দীঘলটারি সীমান্তে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা হয়। এর মধ্যে ৯২৫ মেইন পিলারের কাছে ৫ জন এবং ৯২৫/৭ সাব পিলারের কাছে ৭ জনকে দেখা যায়। এর বিপরীতে রয়েছে বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পদ্মা ক্যাম্প এবং বিএসএফের ৩ ব্যাটালিয়নের মদনাকুড়া ক্যাম্প।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/lalmonirhat-2-20260605143034.jpg" alt="লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিলো বিজিবি" width="100%" height="auto" /></p>
<p>এদিকে পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তীব্র বাধা দিলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পুশইনের শিকার হওয়া এ ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগার আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বিবি (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬) এবং একটি শিশু। তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।</p>
<p>দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউপি সদস্য মোস্তাকিন আলী বলেন, ভারতীয় বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের বিজিবি সেটি কঠোরভাবে সেটিকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে ৷ বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে।</p>
<p>এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এ পুশইনের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে আমাদের টহল দল উপস্থিত ছিল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এটি প্রতিহত করে। ওই নাগরিকদের বর্তমানে ইন্টারভিউতে রাখা হয়েছে এবং তারা জিরোলাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।</p>
<p>তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।</p>
<p><em>মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>দৌলতদিয়ায় ফেরি থেকে পড়ে যাওয়া বাস উদ্ধার</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124934</link>
                <description>রাজবাড়ী দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে কবরী ফেরিতে উঠার সময় ফেরির র‌্যাম ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।
এদিকে ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় কাজ করে।
মেহেরপুরের গাঙনি থেকে প্রায় ৪০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্সের যাত্রীবাহি বাসটি ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে অবস্থানরত কবরী ফেরিতে উঠার আসে সব যাত্রীকে নামিয়ে ফেরিতে উঠতে যায়। এসময় পন্টুনে উঠার আগে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র‌্যাম ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় চালকের সহকারী লাফ দিয়ে নেমে যান এবং পরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় চালককে। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৌলতদিয়ায় অবস্থানরত বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ডুবরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বাসটিকে টেনে উপরে তোলা হয়।
আরও পড়ুন: দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে
যাত্রীরা বলেন, বাস থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজ পারভীন বলেন, সচেতনতার বিকল্প নেই। ফেরিতে উঠার আগে সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
এর আগে ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠার সময় পন্টুন থেকে নদী পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।
রুবেলুর রহমান/এএইচ/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:27:02 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124934</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/raj-20260605142702.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রাজবাড়ী দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।</p>
<p>এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে কবরী ফেরিতে উঠার সময় ফেরির র‌্যাম ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।</p>
<p>এদিকে ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় কাজ করে।</p>
<p>মেহেরপুরের গাঙনি থেকে প্রায় ৪০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার গাবতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্সের যাত্রীবাহি বাসটি ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে অবস্থানরত কবরী ফেরিতে উঠার আসে সব যাত্রীকে নামিয়ে ফেরিতে উঠতে যায়। এসময় পন্টুনে উঠার আগে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র‌্যাম ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় চালকের সহকারী লাফ দিয়ে নেমে যান এবং পরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় চালককে। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৌলতদিয়ায় অবস্থানরত বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ডুবরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বাসটিকে টেনে উপরে তোলা হয়।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন:</strong> <a title="দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124876" rel="follow">দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে</a></p>
<p>যাত্রীরা বলেন, বাস থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছি।</p>
<p>রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজ পারভীন বলেন, সচেতনতার বিকল্প নেই। ফেরিতে উঠার আগে সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।</p>
<p>এর আগে ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠার সময় পন্টুন থেকে নদী পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।</p>
<p><em>রুবেলুর রহমান/এএইচ/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>হাটহাজারীতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, আটক ১</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124933</link>
                <description>চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাংবাদিক পরিচয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মঞ্জু (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ধলই ইউনিয়নের শফিনগর গ্রামের গোল আরব চৌধুরী বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক মঞ্জু ওই এলাকার নুরুল আলম চৌধুরীর ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মঞ্জুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি ট্রাফিক পুলিশের কাছে চাঁদা দাবি এবং পরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করতেন তিনি।
আটক ব্যক্তিকে শুক্রবার (৫ জুন) আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমআরএএইচ/জেএইচ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:23:42 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124933</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/untitled-1-25-20260605093735-mq0nkuc76hib28p-20260605142342.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাংবাদিক পরিচয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী মঞ্জু (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।</p>
<p>বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ধলই ইউনিয়নের শফিনগর গ্রামের গোল আরব চৌধুরী বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।</p>
<p>আটক মঞ্জু ওই এলাকার নুরুল আলম চৌধুরীর ছেলে।</p>
<p>পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।</p>
<p>হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।</p>
<p>হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মঞ্জুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি ট্রাফিক পুলিশের কাছে চাঁদা দাবি এবং পরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়।</p>
<p>পুলিশের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করতেন তিনি।</p>
<p>আটক ব্যক্তিকে শুক্রবার (৫ জুন) আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p>
<p><em>এমআরএএইচ/জেএইচ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আহত দুই, আতঙ্কে রোগীরা</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/country/news/1124932</link>
                <description>টাঙ্গাইলের সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে এক শিশু ও তার মা কিছুটা আহত হন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত শিশুটির মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছেলের হাতে ক্যানোলা ছিল। হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। সরাসরি রোগীদের উপরে পড়লে মারাও যেতে পারতো।

ফরিদা আক্তার নামের এক নারী বলেন, পাশের সিটে শিশু নিয়ে এক মহিলা শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ঢালাইয়ের পলেস্তারা কারও পায়ে লেগেছে, কারও হাতে লেগেছে। আমার পায়ে লেগেও সামান্য ব্যথা পেয়েছি।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ভবনটি প্রায় ৩৫-৪০ বছরের পুরোনো। নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ছাদের ভাঙা অংশ মেরামতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এএইচ/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:22:47 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/country/news/1124932</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tangail--20260605142246.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>টাঙ্গাইলের সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে এক শিশু ও তার মা কিছুটা আহত হন।</p>
<p>বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।</p>
<p>আহত শিশুটির মা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছেলের হাতে ক্যানোলা ছিল। হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। সরাসরি রোগীদের উপরে পড়লে মারাও যেতে পারতো।</p>
<p><img src="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/tangail-2-20260605142226.jpg" alt="jagonews24" width="100%" height="auto" /></p>
<p>ফরিদা আক্তার নামের এক নারী বলেন, পাশের সিটে শিশু নিয়ে এক মহিলা শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ঢালাইয়ের পলেস্তারা কারও পায়ে লেগেছে, কারও হাতে লেগেছে। আমার পায়ে লেগেও সামান্য ব্যথা পেয়েছি।</p>
<p>সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ভবনটি প্রায় ৩৫-৪০ বছরের পুরোনো। নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ছাদের ভাঙা অংশ মেরামতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে।</p>
<p><em>আব্দুল্লাহ আল নোমান/এএইচ/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>বিটিভি, সময় টিভি ও টি স্পোর্টসে দেখা যাবে বিশ্বকাপের খেলা</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/sports/football/1124931</link>
                <description>দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), সময় টিভি এবং টি স্পোর্টস। বিশ্বকাপ সম্প্রচার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সময় টিভি ও টি স্পোর্টস বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিটিভি সূত্রও খেলা দেখানোর জটিলতা অবসানের কথা নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ১১ জুন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বিটিভি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তা শেয়ার করবে সময় টিভি ও টি স্পোর্টসের সঙ্গে।
দর্শকরা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, হাইলাইটস ও বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। বিটিভির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলা দেখা যাবে।এই সম্প্রচার বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খেলা দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলো ফুটবল ভক্তরা। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। তিন দেশে বিশ্বকাপ হওয়ার ঘটনাও প্রথম।
আরআই/আইএন</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:22:38 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/sports/football/1124931</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/wc-live-telecast-mq0np10tar248av-20260605142237.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), সময় টিভি এবং টি স্পোর্টস। বিশ্বকাপ সম্প্রচার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সময় টিভি ও টি স্পোর্টস বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিটিভি সূত্রও খেলা দেখানোর জটিলতা অবসানের কথা নিশ্চিত করেছে।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ১১ জুন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বিটিভি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তা শেয়ার করবে সময় টিভি ও টি স্পোর্টসের সঙ্গে।</p>
<p>দর্শকরা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, হাইলাইটস ও বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। বিটিভির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলা দেখা যাবে।<br />এই সম্প্রচার বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।</p>
<p>খেলা দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলো ফুটবল ভক্তরা। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।</p>
<p>প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। তিন দেশে বিশ্বকাপ হওয়ার ঘটনাও প্রথম।</p>
<p><em>আরআই/আইএন</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>অপূর্ব-নীহার ‘মায়া পাখি’ নিয়ে এত হইচই কেন, কী আছে এতে?</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/entertainment/news/1124930</link>
                <description>ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে আলোচিত নাটক ‘মায়া পাখি’। নাটকটি সিএমভির ব্যানারে নির্মিত; পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। এটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় ভরে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
নাটকে দেখানো হয়েছে করপোরেট জগতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পেশাদার জীবনের জটিল সমীকরণকে পর্দায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা।
মায়াকে কেন্দ্র করে নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে। নির্মাতার ভাষ্য, চরিত্রটিতে হুমায়ূন আহমেদের গল্পের নায়িকাদের আবহ আছে। একসময় মায়ার প্রেমে পড়েন সাদাত। পরে দুজন বিয়ে করেন। ভালোই চলছিল সংসার।
ক্যারিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার জন্য মায়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদাত ও মায়ার সংসারে চিড় ধরে। দুজনের দূরত্বটা বাড়তে থাকে।
ইউটিউবে নাটকটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন দর্শকেরা। নাটকটি মুক্তির সপ্তাহখানেকের মধ্যে ৮৩ লাখের বেশিবার দেখা গেছে। ১৪ হাজারের বেশি মন্তব্য পড়েছে।
একজন দর্শক লিখেছেন, ‘“মায়াপাখি” মাত্র দেখা শেষ করলাম। সত্যি বলতে, এখনো গভীর ঘোরে ডুবে আছি। কিছুতেই ঘোর থেকে বের হতে পারছি না। শেষ কবে নাটক দেখে এভাবে একটা ইমোশনাল গোলকধাঁধায় পড়ে গিয়েছিলাম, তা মনে নেই।’
অন্য এক দর্শক লিখেছেন, ‘নাটকের গল্প এমন হওয়া উচিত। নাটক শেষ হবার পরও কিছু সময় সেটার রেশ থেকে যাবে হৃদয়ে। “মায়াপাখি” নাটকটি ঠিক তেমন।’
এছাড়া নাটকের সমালোচনাও করেছেন কেউ কেই। একজন দর্শক নাটকটির রিভিউ দিয়ে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার ব্যাখায় উঠে এসেছে, একজন নারীকে এখানে অবমাননা কিংবা অযোগ্য প্রমাণ করা হয়েছে। তিনি সমাজকে এই নাটকের মাধ্যমে মিসোজিনিস্ট-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তার পোস্টে কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। ইতিবাচক আর নেতিবাচক সবটাই ছিল মন্তব্যের ঘরে।
এমআই/জেআইএম</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:18:55 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/entertainment/news/1124930</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/maya-20260605141855.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে আলোচিত নাটক ‘মায়া পাখি’। নাটকটি সিএমভির ব্যানারে নির্মিত; পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। এটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় ভরে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।</p>
<p>নাটকে দেখানো হয়েছে করপোরেট জগতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পেশাদার জীবনের জটিল সমীকরণকে পর্দায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা।</p>
<p>মায়াকে কেন্দ্র করে নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে। নির্মাতার ভাষ্য, চরিত্রটিতে হুমায়ূন আহমেদের গল্পের নায়িকাদের আবহ আছে। একসময় মায়ার প্রেমে পড়েন সাদাত। পরে দুজন বিয়ে করেন। ভালোই চলছিল সংসার।</p>
<p>ক্যারিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার জন্য মায়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদাত ও মায়ার সংসারে চিড় ধরে। দুজনের দূরত্বটা বাড়তে থাকে।</p>
<p>ইউটিউবে নাটকটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন দর্শকেরা। নাটকটি মুক্তির সপ্তাহখানেকের মধ্যে ৮৩ লাখের বেশিবার দেখা গেছে। ১৪ হাজারের বেশি মন্তব্য পড়েছে।</p>
<p>একজন দর্শক লিখেছেন, ‘“মায়াপাখি” মাত্র দেখা শেষ করলাম। সত্যি বলতে, এখনো গভীর ঘোরে ডুবে আছি। কিছুতেই ঘোর থেকে বের হতে পারছি না। শেষ কবে নাটক দেখে এভাবে একটা ইমোশনাল গোলকধাঁধায় পড়ে গিয়েছিলাম, তা মনে নেই।’</p>
<p>অন্য এক দর্শক লিখেছেন, ‘নাটকের গল্প এমন হওয়া উচিত। নাটক শেষ হবার পরও কিছু সময় সেটার রেশ থেকে যাবে হৃদয়ে। “মায়াপাখি” নাটকটি ঠিক তেমন।’</p>
<p>এছাড়া নাটকের সমালোচনাও করেছেন কেউ কেই। একজন দর্শক নাটকটির রিভিউ দিয়ে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার ব্যাখায় উঠে এসেছে, একজন নারীকে এখানে অবমাননা কিংবা অযোগ্য প্রমাণ করা হয়েছে। তিনি সমাজকে এই নাটকের মাধ্যমে মিসোজিনিস্ট-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।</p>
<p>তার পোস্টে কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। ইতিবাচক আর নেতিবাচক সবটাই ছিল মন্তব্যের ঘরে।</p>
<p><em>এমআই/জেআইএম</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
            <item>
                <title>সব যাত্রী আগেই নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানি হয়নি: মন্ত্রণালয়</title>
                <link>https://www.jagonews24.com/national/news/1124929</link>
                <description>রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি কবরীতে ওঠার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে ফেরির বিপরীত পাশের র‍্যাম ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
যাত্রী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে ফেরিতে ওঠার আগে বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার ফলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুনদৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে
এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পড়ে যাওয়া বাসটির উদ্ধার অভিযান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ও নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ফেরিঘাটে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান যেমন- ফেরিতে ওঠার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা, সব যাত্রী নামানো, যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পথ দিয়ে ফেরিতে ওঠা ইত্যাদি অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
আরএমএম/একিউএফ</description>
                <pubDate>Fri, 05 Jun 2026 14:18:08 +0600</pubDate>
                <guid isPermaLink="false">https://www.jagonews24.com/national/news/1124929</guid>
                <media:content medium="image" width="750" height="390" url="https://cdn.jagonews24.com/media/imgAllNew/BG/2023March/img-20260605-113646563-mq0niwlb60lg5v6-20260605141808.jpg"/>
                <content:encoded><![CDATA[<p>রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।</p>
<p>শুক্রবার (৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p>
<p>এতে বলা হয়, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি কবরীতে ওঠার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে ফেরির বিপরীত পাশের র‍্যাম ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।</p>
<p>যাত্রী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে ফেরিতে ওঠার আগে বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার ফলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানায় মন্ত্রণালয়।</p>
<p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।</p>
<p><strong>আরও পড়ুন</strong><br /><a title="দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে" href="https://www.jagonews24.com/country/news/1124876" rel="nofollow"><strong>দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ফের যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে</strong></a></p>
<p>এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।</p>
<p>মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পড়ে যাওয়া বাসটির উদ্ধার অভিযান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ও নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।</p>
<p>ফেরিঘাটে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান যেমন- ফেরিতে ওঠার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা, সব যাত্রী নামানো, যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পথ দিয়ে ফেরিতে ওঠা ইত্যাদি অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।</p>
<p><em>আরএমএম/একিউএফ</em></p>]]></content:encoded>
            </item>
        </channel>
        </rss>